• ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার ২৯ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

League

বিদেশ

বাংলাদেশে নতুন সমীকরণ, নির্বাচনের পরই খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জায়গায় আবার খুলতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ এর দলীয় কার্যালয়। ঢাকা সহ একাধিক জেলা ও উপজেলায় বন্ধ অফিস খুলে প্রবেশ করছেন নেতা কর্মীরা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ সময় পর কি আবার সক্রিয় হতে চলেছে দলটি এবং রাজনীতিতে নতুন করে ভূমিকা নিতে পারে কি না।নির্বাচনের পর তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার গঠন অনেককে চমকে দিয়েছে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা এবং কর্মীদের তৎপরতা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকেই জানতে চাইছেন, কর্মীরা কি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস খুলছেন, নাকি দলের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কোনও বোঝাপড়া রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।২০২৪ সালের অগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর মহম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। সেই কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। এই সময় বহু দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে শেখ মুজিবর রহমান এর ঐতিহাসিক বাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে।তবে নির্বাচন শেষ হতেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খুলে সেখানে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও আবার পাল্টা দখল ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দলটি হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, দলের কার্যালয় বাজেয়াপ্ত করা হয়নি এবং নেতা কর্মীদের সেখানে যাতায়াতে কোনও বাধা নেই। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এই আশাতেই তৃণমূলের কর্মীরা কার্যালয়ে ফিরছেন।দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিদেশে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া কয়েকটি জেলার নেতা কর্মীদের দাবি, নির্বাচনের আগে স্থানীয়ভাবে সমর্থন পাওয়ার আশায় বিরোধী শিবিরের কিছু নেতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার আশ্বাস দিয়েছিলেন।নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ে একটি কার্যালয়ের তালা খোলার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে এবং তা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনা সহ একাধিক জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কার্যালয়ে সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
বিদেশ

জিতে পরদিনই আওয়ামি লিগের অফিসের তালা খুললেন বিএনপি সাংসদ! পঞ্চগড়ে চমক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আবু দাউদ প্রধান। নির্বাচনে জয়ের পরদিনই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামি লিগ-এর একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলায়। আবু দাউদ প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিএনপির সভাপতি এবং সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর দেশের নানা প্রান্তে দলটির দপ্তরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভিন্ন ছবি দেখা গেল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পরদিন চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামি লিগের একটি অফিস খুলে দেন আবু দাউদ।এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ভিডিওতে স্থানীয় আওয়ামি লিগ নেতারা বলেন, এই পদক্ষেপ মহৎ উদ্যোগ। অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় নেতা শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দেন।আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি জানতে পারেন যে অফিসটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা না বাড়ানোর জন্যই তিনি তালা খুলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এটি দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শান্তি বজায় রাখার উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, কোনও দলই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, অফিসটি আগে অন্য একটি গোষ্ঠী তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন সেটি খুলে পরিষ্কার করা হচ্ছে। আপাতত সেখানে কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম হবে না বলেই জানানো হয়েছে।বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই পদক্ষেপ নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী দলের দপ্তর খুলে দেওয়ার ঘটনায় দেশে সহাবস্থানের নতুন ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
বিদেশ

রাজনৈতিক শত্রুকে আশ্বাস! ভোটের আগে বিএনপির মুখে চমকপ্রদ বার্তা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লিগ এবং বিএনপি চিরকালই একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই দুই দলের সম্পর্ক মানেই তীব্র সংঘাত। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এবার একেবারে ভিন্ন সুর শোনা গেল বিএনপির মুখে। আওয়ামী লিগের কর্মীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা কোনও অন্যায় করেননি, তাঁদের কোনও শাস্তি দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, নিরীহ আওয়ামী লিগ কর্মীদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বিএনপি তাঁদের পাশে থাকবে।প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আগের রাতেই ভোট হয়ে যেত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর সুযোগ এসেছে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা ভারতে চলে গিয়েছেন। তিনি সেখানে গিয়ে ভালোই করেছেন। কিন্তু এলাকার কর্মী-সমর্থকদের বিপদের মুখে ফেলে কেন চলে গেলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনওভাবেই শাস্তি দেওয়া হবে না।নিজের বক্তব্যে আবেগের সুরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এই এলাকারই ছেলে, এই এলাকারই ভাই। এর আগেও এই আসন থেকে ভোটে জিতেছেন, আবার হেরেছেনও। কিন্তু কখনও এলাকাবাসীকে ছেড়ে যাননি। বয়স ৭৮ হলেও এখনও নিজেকে তরুণ মনে করেন বলে জানান তিনি। সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান বলেও জানান বিএনপি প্রার্থী।একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমান-হিন্দু সবাইকে একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা করে থাকে না। সবাই একসঙ্গে বসবাস করে, একে অপরের উৎসবে অংশ নেয়। এই মিলন ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চায় বিএনপি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসবাইকে সমান নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগ। নির্বাচন কমিশনের তরফে দলটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কৌশিক যেন কামিন্দু! আইপিএলে দেখছেন ক্লার্ক

কৌশিক মাইতি যা পারেন তা তিনিও পারেন না। বক্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ডব্লিউটিসি ফাইনাল বা ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ নয়, ক্লার্ক রয়েছেন ইডেনের কমেন্ট্রি বক্সে। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের আসরে। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে তুলে ধরি কৌশিকে ক্লার্কের মুগ্ধতার কথা।কৌশিক মাইতি। দুই হাতেই বল করতে ও ঘোরাতে পারেন। এমনিতে ডানহাতি। তবে বাঁ হাতে ঠিক তেমন বোলিং অ্যাকশন দেখে অভিভূত ক্লার্ক। দোভাষী শ্রীবৎস গোস্বামীকে নিয়ে ক্লার্ক কথা বললেন কৌশিকের সঙ্গে। আরও পরিশ্রমের পরামর্শ দিয়ে বললেন, কৌশিক আইপিএলে খেলবেন। তাঁকে কেউ না নিলে অবাকই হবেন। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা যে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগ চালু করেছেন তার সার্থকতার অন্যতম উদাহরণ ক্লার্ক-কৌশিক কথোপকথন। উল্লেখ্য, আইপিএলের ইতিহাসে দু-হাতেই বল করতে পারেন এমন একমাত্র ambidextrous বোলার কামিন্দু মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কার এই প্লেয়ার আছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। ক্লার্কের ভবিষ্যদ্বাণী মিললে, কৌশিক ভারতের প্রথম ambidextrous বোলার হিসেবে আইপিএলে জায়গা করে নিতেই পারেন, যার মঞ্চ হবে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগ।না, ইডেনে ৫০-৬০ হাজার লোক এই লিগ দেখতে আসবেন সেই ভাবনা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়নি। দর্শক সব সময় স্বাগত, ইডেনের দ্বার অবারিত, বিনামূল্যে খেলা দেখার বন্দোবস্ত করেছে সিএবি। কিন্ত স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই লিগ চালু করেছেন বেশ কিছু লক্ষ্য সামনে রেখে। যার প্রথম হলো, বাংলার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের আবহের মধ্যে থেকে।এই লিগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টার স্পোর্টস ও ফ্যানকোডে সম্প্রচার। দুর্ধর্ষ কমেন্ট্রি টিম। মাইকেল ক্লার্ক, ঝুলন গোস্বামী, মহম্মদ কাইফ, মন্টি পানেসর, চেতন শর্মা, নিখিল চোপড়া, রোহন গাভাসকর, অশোক মালহোত্রারা রয়েছেন। সঞ্চালিকাদের মধ্যে আছেন ম্যাথু হেডেনের কন্যাও। না, দেশের আর কোথাও টি২০ লিগে এমন তারকাখচিত কমেন্ট্রি টিম নেই। এর আরেকটি কারণ, তারকাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে মূল্যবান টিপস নিয়ে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। যে উৎসাহ কৌশিক ক্লার্কের কাছ থেকে পেলেন, তা ইডেনের প্রতিটি আসন ভর্তি থাকলেও হতো না!আইপিএল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তির বিধান আছে তা আছে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগেও। ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফদের ম্যাচ সাসপেনশন বা জরিমানা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে না কোন নাম কত বড়। এই লিগে এমন ব্যবস্থাপনায় ক্রিকেটাররা খেলার স্পিরিট, শৃঙ্খলার বিষয়ে সজাগ থাকবেন, যাতে বড় মঞ্চে গিয়ে মানিয়ে নিতে অসুবিধা না হয়। হক আই টেকনোলজি-সহ ডিআরএস রয়েছে। এতে আম্পায়ারিংয়ের মানের উন্নতি হতে বাধ্য, হচ্ছেও। আগেরবারের তুলনায় এবার টুর্নামেন্ট এগোচ্ছে মসৃণভাবে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে খেলা চালানো যাচ্ছে মাঠ ঢেকে রাখা-সহ সিএবির উন্নতমানের পরিকাঠামোর জন্যেই।কথা হচ্ছিল এই লিগের শুরু থেকে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠের কাজে ২৪x৭ নিয়োজিত সিএবির ট্যুর অ্যান্ড ফিক্সচার ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাসের সঙ্গে। তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করলেন। আইপিএল, ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ নৈশালোকে হয়। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগও হচ্ছে নৈশালোকে। এতে সুবিধা ক্রিকেটারদের। কারণ, সিএবির সাদা বলের সব টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ নৈশালোকে করা সম্ভব নয়। এই লিগের খেলা দিনেও হচ্ছে, রাতেও হচ্ছে সমান তালে। ফলে নৈশালোকে খেলার অভিজ্ঞতাও বাড়ছে ক্রিকেটারদের। যা সর্বভারতীয় টুর্নামেন্ট খেলার সময় তাঁদের লাভবানই করবে।

জুন ২৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

বৃষ্টির মোকাবিলায় ইডেন সেরা, মাঠ ভরানোর আহ্বান মনোজের

আজও বৃষ্টিতে ব্যাহত বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের খেলা। কয়েক দিন ধরেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চলছে। যার জেরে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের খেলাগুলি পরিত্যক্ত হচ্ছে। ইডেনে বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলেও ফের অবিরাম বর্ষণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে গতকাল যা হলো তা অন্য কোথাও আর হতে পারতো না।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনাতেই ইডেনের গোটা মাঠ ঢেকে রাখার বন্দোবস্ত হয়েছে। উন্নতমানের কভার আনিয়ে। এমনকী ইডেনের মতো সল্টলেক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মাঠেও মাঠ ঢেকে রাখা হয় প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অনবদ্য টিম যার ফলে বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযুক্ত করে দিতে পারেন। ইডেনের এমন ব্যবস্থাপনা বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেও নেই। সুনীল গাভাসকর-সহ অনেকেই তাই বলে থাকেন মাঠ ঢাকার ব্যবস্থাপনায় ইডেনকে অনুসরণ করতে। এই ব্যবস্থাপনার সুফল মিলল আরও একবার। গতকাল বৃষ্টি একটু ধরতেই রাতে ৯ ওভারের ম্যাচ হলো। হারবার ডায়মন্ডস ৪০ রানে হারাল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সকে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে শহরে তাতে অন্য কোথাও এটা সম্ভব হতো না। হলো মাঠ ঢাকার ব্যবস্থা ছিল বলেই। হারবার ডায়মন্ডস অধিনায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি অনুরোধ করেছেন সকলকে কাজ সেরে মাঠে এসে তরুণ ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করার জন্য। এই লিগে বিনামূল্যে খেলা দেখা যায়। এমনকী হারবার ডায়মন্ডসের সমর্থকদের জল, ইলেক্টোরাল, কেক দেওয়ার কথাও মনোজ বলেছেন। তার কারণ ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করতে সমর্থকদের উপস্থিতি দরকার। গ্যালারির সিংহভাগ ফাঁকা থাকছে। যে লিগের সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে চলছে সেখানে এমন ফাঁকা গ্যালারি মোটেই ভালো বিজ্ঞাপন নয়।

জুন ১৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

প্রতিভা আর পারফরম্যান্স শেষ কথা, হা-হুতাশ ছেড়ে চাই জোরালো ফোকাস

বেঙ্গল প্রো টি২০ চলছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হা-হুতাশ শুরু করেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। টার্গেট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের টিম সিএবি, এমনকী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও অনেকে নিশানা করেন। এদের বলায় কিছু যায় আসে না। তবু সেই নিন্দুকেরা কি দেখছেন অভিষেক পোড়েল, শুভম দে, চন্দ্রহাসদের পারফরম্যান্স? ঈশান পোড়েল, সায়ন ঘোষদের পারফরম্যান্স। গরমের মধ্যেই আগুনে পারফরম্যান্স। নজর কেড়েছে লক্ষ্মী রতন শুক্লার পুত্র অগস্ত্য। এনসিসি যেমন জেলাভিত্তিক টুর্নামেন্ট করার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে তেমনভাবেই সিএবির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে দ্বিধা ছেড়ে এগিয়ে আসুন। ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করুন। এই ধরনের টুর্নামেন্ট শুরু স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা ছাড়া কে-ই বা ভাবতে পারেন? মনে রাখতে হবে, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হওয়ার পরেই এই লিগ শুরু হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি জোগাড় থেকে যাবতীয় ব্যবস্থাপনা তিনিই করেছেন। সঙ্গে তাঁর টিম। এবং অবশ্যই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।শুরুতেই সব সুপারহিট হয় না, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়। মুম্বইয়ে এবার হলো। আবার তামিলনাড়ুতে বেশ কয়েক বছর হচ্ছে। অনেক প্রতিভা পারফরম্যান্স দেখিয়ে জাতীয় দলেও ঢুকে পড়ছেন, আইপিএল কাঁপাচ্ছেন। সৌরভ, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়রা বাংলাতেও একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। যেমন ভিশন ২০২০ থেকেও কয়েকজন জাতীয় দলে ঢুকেছেন।ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার নিয়েই অনেকে গলা চড়িয়ে সিএবিকে টার্গেট করেছেন। আজব! বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেটাররা দেদার বিভিন্ন ক্লাবে এসে খেলছেন। সেই পারফরম্যান্স দেখে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা আকৃষ্ট হচ্ছে। সে তো কেকেআর বাংলার প্লেয়ারদের দীর্ঘদিন নেয় না। যদি এমন কেউ থাকেন যিনি যোগ্য হয়েও বঞ্চিত, জেনুইন কেস হলে তিনি সবার আগে স্নেহাশিস, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দের সহযোগিতা পাবেন। সব ক্ষেত্রেই যোগ্যতমকে দেখা হয়। তাই ভালোর শেষ নেই। যদি মনে হয় ভিনরাজ্যের প্লেয়ার কেন? নেতিবাচক ভাবনা ছেড়ে ভালো পারফরম্যান্স মাঠে উজাড় করে দিতে সেটিকেই মোটিভেশনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ক্রিকেটাররা। সচিন-পুত্র তো মুম্বই ছেড়ে গোয়ায় গিয়েছেন। অনেক তারকা তো বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসে বাংলায় বছরের পর বছর খেলেছেন। জাতীয় দলের দরজা খুলেছেন। সর্বোপরি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কেরিয়ারে চোখ রাখলেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পাওয়ার প্রচুর রসদ মিলবে। তাই বাইরের কচকচানিতে কান না দিয়ে ফোকাস ঠিক রাখুন ক্রিকেটাররা। তথাকথিত ভিনরাজ্যের প্লেয়ারদের চ্যালেঞ্জ মাঠেই ছোড়া হোক। বাকি কাজ নির্বাচকদের। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগে নজরকাড়াদের প্রেজেন্টেশন স্কাউটদের কাছেও পাঠায় সিএবি। সকলে নজর রাখেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় না থাকলে এই লিগ স্টার স্পোর্টস অবধি যেত না। প্রচুর স্পনসর, যার অন্যতম কারণ এক টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় মুখ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেই। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাল্যবন্ধু সঞ্জয় দাস এই টুর্নামেন্টের অগ্রগতির অন্যতম কারিগর।আজকালকার দিনে এক ক্লিকেই মেলে যাবতীয় তথ্য। মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার বা আকাশ দীপদের আকৃষ্ট করে সিএবির পরিকাঠামো। তাঁরা এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছেন ফোকাস ঠিক রেখে। এবারেও বাঙালিরা এই লিগেও ভালো খেলেছেন। বাঙালি, অবাঙালি বলে কিছু হয় না। প্রতিভা আর পারফরম্যান্স শেষ কথা। ফেসবুক গ্রুপের কচকচানি নাকি ক্রিকেটে ফোকাস রাখা, কোন বিকল্প বেছে নেবেন তাতেই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের উন্নতি। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের সেরা ক্রিকেটারদের কোচ হিসেবে রেখে সিএবি যে বয়সভিত্তিক দলের শিবির চালায় তার সুফল মিলবেই। আর যাঁরা এখনও এই লিগের প্রতি আন্তরিক নন, চাইব তাঁদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক বাংলার ক্রিকেটের স্বার্থেই। আগে ক্রিকেট, তার উপর কিছু নেই।মনোজিৎ মৌলিক

জুন ১৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

রাহুলের জবাবে এক জোড়া তরুণ তুর্কীর ব্যাটিং আস্ফালন দেখল দিল্লি

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম দেখল এক অসাধারণ ক্রিকেট ম্যাচের সাক্ষী থাকলো। দিনটা শুরু হোল রাহুলের ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দিয়ে। শেষ করল গিল-সুদর্শনের এক ক্লাসিক যুগলবন্দী দিয়ে। এ বারের আইপিএলে এক অন্য রাহুল কে দেখা যাচ্ছে। অনেক বেশী দায়ীত্ব নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছেন। বদলে ফেলেছেন তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন। কাজে এল না রাহুলের অসাধারণ শতরান। কিন্তু মাঠে দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করতে করতে রাহুলের সেই ক্লাসিক ব্যাটিং থেকে শিক্ষা নিয়ে মাত করল গুজরাত টাইটান্স। ভারতের ভবিষ্যতের অধিনায়ক শুভমন গিল ও সাই সুদর্শনের ওপেনিং জুটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কী ভাবে রান তাড়া করতে হয়। তাঁদের ঘরের মাঠে গুজরাটকে হারিয়ে এবারের আইপিএলের প্রথম দল হিসাবে প্লে-অফে উঠল গুজরাত।দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইপিএল ২০২৫-এর ৬০তম ম্যাচে গুজরাট টাইটানস (GT) দিল্লি ক্যাপিটালসকে (DC) ১০ উইকেটে পরাজিত করে প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দিল্লি ক্যাপিটালস প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান সংগ্রহ করে। উল্লেখযোগ্য, অধিনায়ক কেএল রাহুল ৬৩ বলে অপরাজিত ১১২ রান করেন।গুজরাট টাইটানস জবাবে, ওপেনার সাই সুদর্শন ৬১ বলে অপরাজিত ১০৮ রান এবং শুভমান গিল ৫৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রান করেন। তারা ১৯ ওভারে ২০৫ রান করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয়। গুজরাট টাইটানসের এই ১০ উইকেটের জয় আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে উইকেট না হারিয়ে জয়ের রেকর্ড। মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতিতে দিল্লির বোলিং আক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়ে, যা গুজরাটের ব্যাটসম্যানদের সহজে রান করতে সাহায্য করে।এই জয়ের মাধ্যমে গুজরাট টাইটানস প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করে, যেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং পাঞ্জাব কিংসও ইতিমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই পরাজয়ের ফলে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন। অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল দলের ফিল্ডিং এবং বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মে ১৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

প্রয়োজনীয় সময়ে জলে উঠলেন রাহুল, দিল্লি ক্যাপিটালসের সম্মান যোগ্য রান

সাময়ীক ক্ষরা কাটিয়ে রানে ফিরলেন এই মুহুর্তে ভারতীয় দলের মিস্টার ডিপেন্ডেবেল লোকেশ রাহুল। আইপিএলের শেষ কয়েকটি ম্যাচে বড় রান করতে না পারায় কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ডু অর ডাই ম্যাচে রাহুলের ব্যাটের ওপর ভর করেই সম্মানযোগ্য রান দিল্লির। ৬০ বলে শতরান করলেন তিনি। চলতি মরসুমে এটিই রাহুলের প্রথম শতরান।রবিবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালস ও গুজরাট টাইটানসের মধ্যকার ম্যাচে কেএল রাহুল অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। তিনি ৬৫ বলে অপরাজিত ১১২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১৪ টি চার ও ৪টি ছয়। আজকের শতরান ধরে রাহুল আইপিএলে তার পঞ্চম শতক পূর্ণ করেন এবং তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে শতরান করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেনপাঞ্জাব কিংস, লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং দিল্লি ক্যাপিটালস ।এছাড়াও, তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৮,০০০ রান পূর্ণ করে সবচেয়ে দ্রুততম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিরাট কোহলির রেকর্ড ভেঙেছেন। কোহলি এই মাইলফলক অর্জন করেছিলেন ২৪৩ ইনিংসে, সেখানে রাহুল তা করেছেন মাত্র ২২৪ ইনিংসে । এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রাহুল আইপিএলে শতকের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন, সেই তালিকায় তার উপরে রয়েছেন বিরাট কোহলি (৮), জস বাটলার (৭) এবং ক্রিস গেইল (৬)।কে এক রাহুলের আজকের এই ইনিংসটি দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি একটি মাস্ট-উইন ম্যাচ ছিল এবং রাহুলের এই পারফরম্যান্স দলকে ১৯৯/৩ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে । আবারও কেএল রাহুল প্রমাণ করেছেন যে তিনি আইপিএলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান।

মে ১৮, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

১০ জনে খেলেও প্রথমবার আইএসএল লিগ-শিল্ড চাম্পিয়ান মোহনবাগান

ইতিহাস তৈরি করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আইএসএল প্রতিযোগিতার দশ বছরের ইতিহাসে মোহনবাগান এই প্রথম লিগ-শিল্ড জিতল মোহনবাগান। বাংলা নববর্ষের দিন বার পুজো করে দ্বিতীয় দিনেই সাফল্য। সোমবার কোলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের মহারণে মুম্বই সিটি এফসি-কে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দিল। মোহনবাগানের হয়ে গোল দুটি করেন লিস্টন কোলাসো এবং জেসন কামিংস।খেলার শেষ মুহুর্তে মুম্বই এফসির একমাত্র গোলটি করেন লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের। ২০২৩ এ আইএসএলের ট্রফি মোহনবাগান জয়লাভ করলেও লিগ-শিল্ড কখনও জেতেনি তারা। আন্তোনিয়ো হাবাসের দলের অধরা স্বপ্নও পূরণ হয়ে গেল ২০২৪ এ। মোট ২২ টি ম্যাচ খেলে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ-শিল্ড শেষ করল তারা। আইএসএল ট্রফি জিতে ডাবল করার সুযোগ এখন মোহনবাগানের সামনে।খেলার শুরু থেকেই বারবার আক্রমণে উঠে মোহনবাগান রক্ষণভাগকে বিব্রত করতে থাকে মুম্বাই এফসি। আক্রমনের চাপে বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করে নিয়েছে মুম্বাই। খেলার ১৭ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন শুভাশিস।LISTON COLACO SENDS THE CROWD CRAZY!!! 🔥🔥🔥Watch #ISL 2023-24 live on @JioCinema , @sports18 @vh1india 👉 https://t.co/lCKd3AbGTl#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন #ISL10 #LetsFootball #ISLonJioCinema pic.twitter.com/97oz51PuGo Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) April 15, 2024২৮ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে খেলার প্রথম গোলটি করেন লিস্টন কোলাসো। মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে মোহনবাগান ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাবাসের দল। বক্সের বাঁদিকে বল পেয়েছিলেন কোলাসো। তাঁর সামনে ছিলেন মুম্বাইয়ের বিপিন সিংহ। বিপিনকে এক ঝটকায় ডানদিকে মচ্র দিয়ে বাঁদিক দিয়ে বল কাটিয়ে নিয়েই সোজা জালে জড়িয়ে দেন লিস্টন।খেলার প্রথম দিকেই গোল পেয়ে যাওয়ায়, যুবভারতীর মোহন সমর্থদের প্রবল হর্ষ ধ্বনিতে তখন কান পাতা দায়। সবুজ-মেরুনে সমর্থকে ভরা যুবভারতী তখন মোহনবাগানের ঘরের মাঠ। আনুমানিক ৪৬ হাজার ফুটবল প্রেমী এদিন যুবভারতী স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে হাজিত হয়েছেন। বলাবাহুল্য তাঁরা সকলেই ছিলেন মোহনবাগান সমর্থক।গোল খেয়ে পেছিয়ে গিয়েও হাল ছাড়েনি মুম্বাই এফসি। বারবার প্রতি আক্রমণে এসে বিব্রত করতে থাকে বাগানিদের। এই রকমই এক আক্রমণ থেকে গোল করার সুযোগ পেয়ে যায় তারা। গোলের সিজোগ নষ্ট করে মুম্বইয়ের ছাংতে। মুম্বাইয়ের পেরেদা দিয়াজ় বল ভাসিয়েছিলেন মোহনবাগানের বক্সে ছাংতের উদ্দেশে। কিন্তু সেই ছাংতে বলের আন্দাজ বুঝতে পারেননি। ছাংতে বলে ঠিক মতো পা লাগাতে না পারায় কোনও অঘটন ঘটেনি।খেলায় গতি আনতে মুম্বই এফ সি খেলোয়াড় বদল করে। তারা তিরিকে বসিয়ে সেই জায়গায় নামলেন ইয়াকুব ভজতাস।৬১ মিনিটে মোহনবাগান ও দু - দুটি বদল করে, সবুজ-মেরুন সাদিকু এবং কাউকোকে তুলে নেয়। তদের জায়গায় হাবাস নামান কামিন্স এবং হামিল-কে।CHECKMATE ♟️🃏Watch #ISL 2023-24 live on @JioCinema, @sports18 @vh1india 👉 https://t.co/lCKd3Ab93N#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন #ISL10 #LetsFootball #ISLonJioCinema pic.twitter.com/1XnEdAeicz Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) April 15, 2024গোলের ব্যবধান কম থাকায় দুদলই মাঝমাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টায় মরীয়া হয়ে ওঠে। মুম্বাইয়ের আক্রমণের ঝাঁঝ প্রতিহত করতে খেলার গতিকে মন্থর করে দিতে হাবাসে মোহনবাগান নানা আছিলায় সময় নষ্টের চেষ্টা করছে। এক গোলে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিতে তারা গতি মন্থরতার স্ট্রেটেজি নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা। এদিকে মুম্বাই ও খেলার ঝাঁজ বাড়াতে প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে গেছে বারবার। কিন্তু মোহনবাগানের জমাট রক্ষণে প্রতিহত হয়ে ফিরে এসেছে সেই সমস্ত আক্রমণ।দুই দলের দুজন হলুদ কার্ড দেখেন! মোহনবাগানের দীপক টাংরি এবং মুম্বইয়ের ভান নিফ। খেলার ৮০ মিনিটে আবার গোল মোহনবাগানের। বাগানের হয়ে গোল করলেন পরিবর্ত খেলোয়াড় জেসন কামিন্স। মুম্বইয়ের মাঝমাঠে বল পেয়েছিলেন পেত্রাতোস, তিনি বল বাড়ান কামিন্সকে লক্ষ্য করে। কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে মুম্বইয়ের রক্ষণভাগ তখন অনেকটাই ওপরে উঠে এসেছে। কামিন্স বল ধরে তাড়াহুড়ো না করে, দেখে শুনে বল জালে জড়িয়ে দেন। মহোনবাগান এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হবার ১ মিনিট আগে ৮৯ মিনিটে মুম্বই এফ সি ১ টি গোল শোধ করে। মুম্বাইয়ের হয়ে গোলটি করেন ছাংতে। কর্নার থেকে আসা বলে গোল করেন ছাংতে।

এপ্রিল ১৫, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

কৃষ্ণার পরিবর্ত হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারকে নিল এটিকে মোহনবাগান

রবিবারই রয় কৃষ্ণার বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তার ২৮ ঘন্টার মধ্যেই রয় কৃষ্ণার বিকল্প খঁুজে নিল এটিকে মোহনবাগান। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারকে সই করিয়ে চমক বাগান কর্তাদের। সামনের মরশুমে সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে ২০১৮ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা স্ট্রাইকার দিমিত্রি পেত্রাতোসকে সই করাল এটিকে মোহনবাগান।রয় কৃষ্ণ ও ডেভিড উইলিয়ামস এই মরসুমে দল ছেড়েছেন। এই দুজন দল ছাড়ায় একজন ভালমানের স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিলেন বাগান কর্তারা। যিনি আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন। দিমিত্রি পেত্রাতোসকে দিয়ে কাজ সিদ্ধ করতে পারবেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। এই অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ছাড়া ফরোয়ার্ডেও খেলতে পারদর্শী। সৌদি আরবের ক্লাব আল ওয়েদা থেকে দিমিত্রি পেত্রাতোসকে সই করাল এটিকে মোহনবাগান। যদিও গত মরসুমে তিনি আল ওয়েদার জার্সিতে খেলেননি। আল ওয়েদা থেকে তিনি লোনে এ লিগের ক্লাব ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সে খেলেছিলেন।২০১০-১১ মরসুমে সিডনি ফুটবল ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলজীবন শুরু করেন দিমিত্রি। এরপর যোগ দেন মালয়েশিয়ার ক্লাব কেলান্তানে। ২০১২১৩ মরশুম কেলান্তানের হয়ে খেলার পর এ লিগের দল ব্রিসবেন রোয়ার তাঁকে সই করায়। ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ব্রিসবেনের হয়েই খেলেন দিমিত্রি। ২০১৭ সালে কোরিয়া লিগের দল উলসান হুন্ডাই সই করায় তাঁকে। ৬ মাস খেলে ওই বছরই দিমিত্রি যোগ দেন নিউক্যাসেল জেটসে। ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত নিউক্যাসেল জেটসে খেলার পর তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল ওয়েদায় সই করেন। সেখান থেকেই গত বছর লোনে খেলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সে। সিডনি থেকে এবার তিনি এটিকে মোহনবাগানে।He comes from Australia, hes played in Korea and Saudi Arabia! 🤩Mariners, give a warm welcome to Dimitrios Petratos, our new number 9! 💚️#ATKMohunBagan #JoyMohunBagan #AmraSobujMaroon pic.twitter.com/WBuLoc00Rh ATK Mohun Bagan FC (@atkmohunbaganfc) July 18, 2022অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সিনিয়র দলে তাঁর অভিষেক হয় ২০১৮ সালে। এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি ম্যাচ তিনি খেলেছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে ২৩ জনের দলে থাকলেও প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি। তাঁর বাবা অ্যাঞ্জেলো খেলেছেন সিডনি অলিম্পিক্স এফসির হয়ে। ইতিমধ্যেই নতুন মরসুমের জন্য পাঁচ বিদেশি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এটিকে মোহনবাগানে। ষষ্ঠ বিদেশি হিসেবে এলেন দিমিত্রি। নিজের দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারে ক্লাবের জার্সিতে হোক কিংবা দেশের হয়ে স্ট্রাইকার, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার বিভিন্ন পজিশনে খেলেছেন তিনি।

জুলাই ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

তিরির বিকল্প খুঁজে নিল এটিকে মোহনবাগান, আসছেন এ–লিগ কাঁপানো ডিফেন্ডার

চুক্তি নিয়ে এখনও ডামাডোল চলছে ইস্টবেঙ্গলে। ইমামির সঙ্গে জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। সামনের মরশুমের জন্য দলগঠন প্রক্রিয়া অথৈ জলে। এই অবস্থায় নিজেদের আরও গুছিয়ে নিচ্ছে এটিকে মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামসদের বিকল্পর সন্ধান চললেও তিরির পরিবর্ত খুঁজে নিল। সামনের মরশুমে সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ব্রেন্ডন মাইকেল হামিলকে। এশিয়ান কোটার বিদেশি হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হচ্ছে। হামিলের সঙ্গে সবুজমেরুণ কর্তাদের কথাবার্তা চূড়ান্ত শুধুমাত্র চূক্তিপত্রে সই হওয়া বাকি।এটিকে মোহনবাগানের হয়ে এএফসি কাপে গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার তিরি। ২০২৩এর জানুয়ারির আগে তাঁকে আর পাওয়া যাবে না। এই মরশুমে আইএসএলে তাঁকে আর পাওয়া যাবে না ধরে নিয়েই তিরির বিকল্প ফুটবলারের সন্ধানে ছিলেন বাগান কর্তারা। বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডারের বায়োডাটা দেখে তাঁরা যোগাযোগ করেন ব্রেন্ডন হামিলের এজেন্টের সঙ্গে। এটিকে মোহনবাগানের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান হামিল।২৯ বছর বয়সী ব্রেন্ডন হামিলের জন্ম সিডনিতে। ২০১০ সালে মেলবোর্ন হার্ট এফসিতে পেশাদার ফুটবলজীবন শুরু করেন। এই ক্লাবের জার্সি গায়ে ২ বছর কাটান। তারপর যোগ দেন কোরিয়ার কেলিগের ক্লাব সিগনাম এফসিতে। ২০১৩ সালে সই করেন কেলিগেরই গাংওয়ান এফসিতে। পরের বছর আবার নিজের দেশে ফিরে আসেন ব্রেন্ডন হামিল। যোগ দেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সে। টানা ৫ বছর এই ক্লাবের জার্সি গায়ে খেলেন। ২০১৯এ আবার ক্লাব বদল। এবার ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স ছেড়ে সই করেন ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড এফসিতে। গতবছর জুলাইতে যোগ দেন মেলবোর্ন ভিকট্রিতে। সেখান থেকেই এটিকে মোহনবাগানে আসছেন ব্রেন্ডন মাইকেল হামিল।

জুন ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

তাচ্ছিলের জবাব, ‘‌লিস্টন সাইক্লোনে’‌ উড়ে গেল বসুন্ধরা কিংস

ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোর মুখে এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে শোনা গিয়েছিল তাচ্ছিল্যের সুর। জয়ের ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ভাবছিলেন কত ব্যবধানে জিতবেন, সেই কথাই। তাঁর সেই কথা যে ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কিছুই ছিল না, এদিন প্রমাণ হয়ে গেল। কলকাতায় সাইক্লোনের মতো বসুন্ধরার ওপর বয়ে গেল সাইক্লোন। এই সাইক্লোনের নাম লিস্টন সাইক্লোন। যার দাপটে এটিকে মোহনবাগানের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে বসুন্ধরা কিংস। ৪০ ব্যবধানে জিতে এএফসি কাপে আঞ্চলিক পর্বের সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। দুরন্ত হ্যাটট্রিক লিস্টন কোলাসোর।এদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে ম্যাচ ছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ঝড়ের তান্ডব। উড়ে যায় যুবভারতীর ছাউনির বেশ কিছুটা জায়গা। রেফারি খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। ম্যাচ আদৌও হবে কিনা, তা নিয়ে একসময় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। ঝড় থামার পরও আকাশে মেঘের ঘনঘটা। তার মাঝেই দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর আবার খেলা শুরু হয়। আর তারপরই বসুন্ধরার ওপর সবুজমেরুণ ঝড়।Weather Update:Its raining goals at VYBK tonight 🌧#ATKMohunBagan #JoyMohunBagan #AmraSobujMaroon #AFCCup2022 #MarinersInAsia pic.twitter.com/8eVdxJDTPx ATK Mohun Bagan FC (@atkmohunbaganfc) May 21, 2022প্রথম ম্যাচে গোকুলাম এফসির কাছে হার এবং বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোর তাচ্ছিল্য হয়তো তাতিয়ে দিয়েছিল সবুজমেরুণ ব্রিগেডকে। পরের পর্বে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না এটিকে মোহনবাগানের সামনে। মরণবাঁচন ম্যাচে দারুণভাবে জ্বলে উঠলেন জুয়ান ফেরান্দোর দলের ফুটবলাররা। বৃষ্টিস্নাত যুবভারতীতে বসুন্ধরা কিংসকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেন লিস্টন কোলাসোরা।শুরু থেকেই এদিন আক্রমণে ঝড় তুলেছিল এটিকে মোহনবাগান। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল বসুন্ধরা বক্সে। ম্যাচের ২৪ মিনিটে গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন লিস্টন। ৩৪ মিনিটে তিনিই ব্যবধান বাড়ান। দ্বিতীয়ার্ধেও সবুজমেরুণের দাপট অব্যাহত ছিল। প্রথমার্ধের মতো সেই একই ছবি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে দলকে ৩০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিস্টন। একই সঙ্গে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন। তিন গোল হজম করার পরও ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি বসুন্ধরা কিংস। বরং দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু সবুজমেরুণ ফুটবলাররা সেই সুযোগ দেননি। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামস বাগানের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন।

মে ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

গোকুলামের কাছে হেরে আই লিগ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ মহমেডান স্পোর্টিংয়ের

মোহনবাগানের পর কলকাতার দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে আই লিগ জেতার সুযোগ ছিল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সামনে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না। গোকুলাম এফসির কাছে ২১ ব্যবধানে হেরে আই লিগ জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল সাদাকালো ব্রিগেডের কাছে। ভারতীয় ফুটবলে কেরালা আবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।মহমেডানের কাছে কাজটা অবশ্য সহজ ছিল না। ১৭ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে মহমেডানের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল গোকুলাম এফসি। অন্যদিকে, মহমেডানের পয়েন্ট ছিল ১৭ ম্যাচে ৩৭। গোকুলামকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ড্র করলেই চলত। অন্যদিকে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না মহমেডানের সামনে। মহমেডান জিতলে গোকুলামের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হত। কিন্তু মুখোমুখি সাক্ষাতের বিচারে তারা চ্যাম্পিয়ন হত। এই আশা পূরণ হল না মহমেডানের।প্রথমবার আই লিগ জেতার স্বপ্নে এদিন হাজার হাজার সাদাকালো সমর্থক যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন। বাংলার দলকে সমর্থন জানাতে হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গলমোহনবাগান সমর্থকরাও। ম্যাচের শুরু থেকেই মহমেডানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোকুলাম এফসি। ম্যাচের ৩ মিনিটে একটা ফ্রিকিকও আদায় করে নেয়। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ২ মিনিট পর মহমেডানও একটা ফ্রিকিক পেয়েছিল। কিন্তু মার্কাস জোশেফের প্রয়াস ব্যর্থ হয়।২০ মিনিটের পর আস্তে আস্তে খেলায় ফেরে মহমেডান। বেশ কয়েকটি আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে। ২৩ মিনিটে মার্কাস জোশেফের একটা হেড বাইরে যায়। ২ মিনিট পরেই জোশেফ ও মনোজ মহম্মদের যুগলবন্দীতে সুযোগ এসে গিয়েছিল মহমেডানের সামনে। কিন্তু গোকুলামের ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করে দেন। ২৮ মিনিটে সফিউল রহমানের সেন্টার মার্সাস জোশেফ হেড করতে ব্যর্থ হলে বল যায় নিকোলা স্টোনাজোভিচের কাছে। কিন্তু তিনি বল তিন কাঠির মধ্যে রাখতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে আস্তে আস্তে খেলায় ফেরে গোকুলাম এফ সি। ৪০ মিনিটে আব্দুল হাক্কুর সেন্টার লুকা মাজসেন বুক দিয়ে নামিয়ে জোরালো ভলি করলে বল বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় মহমেডান। মহমেডান গোলকিপার জোথানমাউইয়াকে এগিয়ে আসতে দেখে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে শট করেছিলেন রোনাল্ডো ফ্লেচার। বল অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোকুলাম এফসি। আক্রমণে ঝড় তুলে ৪৯ মিনিটে এগিয়েও যায়। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে মাঝমাঠ থেকে ডানদিকে রশিদকে বল বাড়ান লুকা মাজসেন। গতিতে মহমেডানের তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রশিদ। লিড অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি গোকুলাম এফসি। ৫৭ মিনিটে গোকুলামের বক্সের বাঁদিকে ফ্রিকিক পায় মহমেডান। মার্কাস জোশেফের ফ্রিকিক আজহারউদ্দিন মল্লিকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়।তিন মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় গোকুলাম। সেই প্রথম গোলের অ্যাকশন রিপ্লে। আবার প্রতি আক্রমণে উঠে এসে মাঝমাঠ থেকে ডানদিকে বল বাড়ান লুকা মাজসেন। এমিল বিনি বল ধরে এগিয়ে গিয়ে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে ২১ করেন। ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মহমেডান। মার্কাস জোশেফের দুর্বল হেড গোকুলাম গোলকিপারের হাতে যায়। বাকি সময়ে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। আই লিগ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় সাদাকালো ব্রিগেডের।

মে ১৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে মহমেডান কি পারবে ইতিহাস গড়তে?‌

ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে মহমেডান স্পোর্টিং। অধরা মাধুরী স্পর্শ করার হাতছানি। ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার আই লিগ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। সামনে শুধু একটা ধাপ। শনিবার গোকুলাম এফসিকে হারালেই আই লিগ ঘরে তুলবে সাদাকালো ব্রিগেড। প্রথম দিকে দুরন্ত ছন্দে এগোলেও মাঝে হঠাৎ ছন্দপতন হয়েছিল মহমেডানের। লিগ জয়ের দৌড় থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। তারপর আবার ছন্দে ফেরে। তবে আগের ম্যাচে শ্রীনিধি ডেকানের কাছে গোকুলাম এফসির পরাজয়ই মহমেডানের সামনে চ্যাম্পিয়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। শনিবার গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে মহমেডানের ম্যাচ কার্যত ফাইনাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে মহমেডানকে জিততেই হবে। অন্যদিকে, আই লিগ খেতাব ধরে রাখতে গেলে ড্র করলেই চলবে গোকুলাম এফসি। আন্দ্রে চেরনিসভ দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের পরিবেশই বদলে দিয়েছেন। তাঁর কোচিংয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় মহমেডান। অল্পের জন্য ডুরান্ড কাপে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। চেরনিসভের হাত ধরেই এবার আই লিগ জেতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করছেন সাদাকালো সমর্থকরা। গোকুলামের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে মহমেডান কোচ চেরনিশভ বলেন, চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে নতুন করে সুযোগ পাওয়াটা একেবারেই আমাদের জন্য সহজ ছিল না। গোকুলামন আমাদের থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। আমরা ক্রমগত চেষ্টা করে গেছি এই ব্যবধান কমিয়ে নিয়ে আসার। শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে খেতাব জয়ের সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৈরি। শেষ ম্যাচে আই লিগের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হচ্ছে, এটা ভারতীয় ফুটবলের জন্যও ভাল বিজ্ঞাপন। প্রথম পর্বে গোকুলামের সঙ্গে ১১ ড্র করেছিল মহমেডান। এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মহমেডান কোচ। কারণ এবার যুবভারতীতে প্রায় ৪০ হাজার দর্শকের সমর্থন থাকবে মহমেডানের দিকে। সাদাকালো কোচ বলেন, সমর্থকদের সামনে খেলাটা আমাদের কাছে অবশই একটা বড় সুবিধা। গোকুলামের জন্য কখনওই এত সংখ্যক মহমেডান সমর্থকের সামনে খেলাটা সহজ হবে না। এত বড় সংখ্যক সমর্থকের সামনে হোম টিমের বিরুদ্ধে খেলেটা কোনও দলের কাছেই খুব একটা সহজ বিষয় নয়। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আমাদের ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।

মে ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মহমেডানের দুরন্ত জয়ে মার্কাস জোসেফের স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিট

খেলা শেষ হতে তখন মিনিট চারেক বাকি। শ্রীনিধির এক ফুটবলার বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করায় পেনাল্টি পায় মহমেডান স্পোর্টিং। ২১ ২ গোল করে হ্যাটট্রিকের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কাস জোসেফ। হ্যাটট্রিকের হাতছানি উপেক্ষা করে এগিয়ে দিলেন সতীর্থ আন্দেলো রুডোভিচকে। পেনাল্টি থেকে গোল করে মহমেডানকে ৩১ গোলে জেতালেন রুডোভিচ। সাদাকালো ব্রিগেডের জয়ের থেকেও নজির থেকে গেল মার্কাস জোসেফের স্পোর্টসম্যান স্পিরিট।আই লিগে দুরন্ত ছন্দে এগোচ্ছে সাদাকালো ব্রিগেড। আগের দুটি ম্যাচে জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচেও শ্রীনিধিকে হারাল মহমেডান। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিল সাদাকালো ব্রিগেড। টানা তিন ম্যাচে জয়। আগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মার্কাস জোসেফ। এদিনও জোড়া গোল করে তিনি মহমেডানের জয়ের নায়ক।এদিন ম্যাচের ১৬ মিনিটে ডেভিড কাস্তানেদা গোল করে এগিয়ে দেন শ্রীনিধি এফসিকে। পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মহমেডান স্পোর্টিং। শ্রীনিধির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। তার ফলও পায় হাতেনাতে। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরায়। সৌজন্যে নিকোলামার্কাস জুটি। নিকোলার দুরন্ত সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন মার্কাস জোসেফ।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে মহমেডান স্পোর্টিং। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসতে থাকেন নিকোলা, মার্কাসরা। ৫১ মিনিটে সেই মার্কাস জোসেফের গোলে এগিয়ে যায় সাদাকালো ব্রিগেড। ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান মার্কাস। এগিয়ে গিয়ে গোল বাড়ানোর জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মহমেডান। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও তিনকাঠি ভেদ করতে পারেননি মার্কাস, আন্দেলো রুডোভিচরা। অবশেষে ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রুডোভিচের গোল। টানা ৩ ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে মহমেডান।

মার্চ ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে এটিকে মোহনবাগানের, কেন?

এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সরাসরি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। তাঁর সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল ওডিশা এফসি। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানকে আটকে দিয়ে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিল।আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা দল সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল খেলে এএফসি কাপের প্লে অফ। আর আই লিগের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এবছর আইএসএলে লিগের শীর্ষস্থান না পেলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পাবে না এটিকে মোহনবাগান। ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে ড্র অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে সবুজমেরুন শিবিরকে। বৃহস্পতিবার জিতলে লিগের শীর্ষে থাকার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে যেত জুয়ান ফেরান্দোর দল। ওডিশা ম্যাচের পর ১৭ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের ঝুলিতে ৩১ পয়েন্ট। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসি-র ১৮ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর এফসি। তাদের ঝুলিতে ১৬ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট। এটিকে মোহনবাগান রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। সমসংখ্যক ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট কেরালা ব্লাস্টার্সের। মুম্বই ও কেরালা এখনও প্লে অফের লড়াইয়ে দারুনভাবেই রয়েছে। বেঙ্গালুরুর আশাও এখনও শেষ হয়নি। ফলে এটিকে মোহনবাগানের কাজ সহজ হবে না। ২৭ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরু এফসি, ৩ মার্চ চেন্নাইয়িন এফসি ও ৭ মার্চ জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের।একেই ওডিশা এফ সি-র কাছে হার, তার ওপর লালকার্ড দেখেছেন রয় কৃষ্ণা। বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা লিস্টন কোলাসো ওডিশা এফ সি ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছেন। ফলে এটিকে মোহনবাগানকেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। ফলে চিন্তা মাথায় নিয়ে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে জুয়ান ফেরান্দোকে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

২৯ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় লালহলুদ জার্সি গায়ে ৫ বছর কাটানো লালরিনডিকা রালতে

১৩ বছরের পেশাদার ফুটবলজীবন। তারমধ্যে ৫ বছরই কাটিয়েছেন লালহলু্দ জার্সি গায়ে। একসময়ের লালহলুদের নয়নের মনি লালরিনডিকা রালতে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই বুটজোড়া তুলে রাখলেন। শনিবারই পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন মিজোরামের এই মিডফিল্ডার। পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু করেছিলেন চার্চিল ব্রাদার্সের হয়ে। তারপর যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। আই লিগে তাঁর দুর্দান্ত ফুটবল সুযোগ করে দেয় আইএসএলে খেলার। মুম্বই সিটি এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড, অ্যাটলেটিকো কলকাতা ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন। ২০১৬ সালে অ্যাটলেটিকো কলকাতা আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সেই চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন লালরিনডিকা রালতে। অ্যাটলেটিকো কলকাতাকে আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই মিজো মিডফিল্ডার। ২টি গোল করেছিলেন। আর তাঁর পাস থেকে এসেছিল ৫টি গোল। মুম্বই সিটি এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড ও অ্যাটলেটিকো কলকাতার জার্সি গায়ে আইএসএলে মোট ৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন লালরিনডিকা রালতে।কেন হঠাৎ থেকে ফুটবল থেকে অবসর নিলেন এই মিজো মিডফিল্ডার? দায়ী করছেন করোনা পরিস্থিতিকে। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লালরিনডিকা রালতে লিখেছেন, প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলাম, যতটা দীর্ঘসময় ধরে খেলতে পারি খেলব। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য ফুটবলাররা বায়ো বাবলের মধ্যে থেকে খেলতে বাধ্য হচ্ছে। মাঠে দর্শকও থাকছে না। আগের মতো পরিবেশ নেই। এইরকম পরিস্থিতিতে খেলে নিজেকে অনুপ্রানিত করতে পারছি না। আমার কোচও আমাকে খেলা চালিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু আমি পরিস্থিতির জন্য ফুটবল থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।রালতে আরও বলেছেন, আমার বাবা দুবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমার ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রালতে লিখেছেন, আমার হৃদয় ও আত্মা ফুটবলে নিয়োজিত করেছিলাম। ফুটবলই আমাকে পরিচিতি দিয়েছে। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে চ্যাপ্টার শেষ করলাম। এবার নতুন আর একটা জীবন শুরু করব। বছরের পর বছর ধরে যারা আমার পাশে থেকেছে, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।১৩ বছরের পেশাদার ফুটবলজীবনে লালহলুদ জার্সি গায়েই অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন লালরিনডিকা রালতে। পাঁচপাঁচটি বছর খেলেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। তবে পেশাদার ফুটবলজীবন শুরু করেছিলেন চার্চিল ব্রাদার্সের হয়ে। আইএসএল ঘুরে ২০১৮তে দ্বিতীয় দফায় সই করেন। দুই মরশুম লালহলুদ জার্সি গায়ে কাটিয়ে ২০২১ সালে রিয়েল কাশ্মীরে যোগ দেন রালতে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মহাবিপর্যয় লালহলুদের, সম্মানটুকুও হয়তো বাঁচবে না এসসি ইস্টবেঙ্গলের

এই এসসি ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যত কী? ফুটবলাররা তো দূরের কথা, কর্তারাও জানেন না। হারতে হারতে একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কবেই শেষ। সম্মানটুকুও হয়তো বাঁচবে না। ওড়িশা এফসি-র কাছে আবার হার। তবে প্রথম পর্বের মতো ৬ গোল হজম করতে হয়নি। এটাই যা রক্ষা। তবে ২-১ ব্যবধানে হেরে প্লে-অফের লড়াইয়ে ধুকতে থাকা ওড়িশা এফসি-কে নতুন করে অক্সিজেন জোগান দিল লাল-হলুদ। এই নিয়ে ১৬ ম্যাচের মধ্যে আটটিতে হারল এসসি ইস্টবেঙ্গল।ঢিমেতালে ম্যাচ শুরু করেছিল দুদল। আস্তে আস্তে ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ওড়িশা। ২৩ মিনিটে এগিয়ে যায়। জাভি হার্নান্দেজ একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের ধার থেকে ফার পোস্টে পাস বাড়ান অরক্ষিত জোনাথাস ক্রিস্টিয়ানের লক্ষ্য করে। ছোট্ট টোকায় বল গোলে পাঠান জোনাথাস। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায় ডিফেন্সের। কোনও ডিফেন্ডারই নিজেদের পজিশনে ছিলেন না। প্রথমার্ধে কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছলেও সমতা ফেরাতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি বজায় ছিল। প্রথমার্ধের প্রথম দশ মিনিট ছাড়া পুরোটাই খেলল ওড়িশা এফসি। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনছিলেন জাভি-আইজ্যাকরা। প্রতি আক্রমণে এসে বিশ্বমানের গোল করে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরায় অ্যান্তোনিও পেরোসেভিচ। ফ্রাঞ্জো পর্চের লব করে দেওয়া বল ধরে বাম পায়ের দুরন্ত প্লেসিং-এ দলকে সমতায় ফেরান পেরোসেভিচ। পেরোসেভিচের গোলের কিছু আগে ড্যারেন সিডোলের প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুরন্ত ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ঠ হয়।পেরোসেভিচের গোলের মর্যাদা দিতে পারেনি ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। ৭৫ মিনিটে পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জাভি হার্নান্ডেজের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান জোনাথাস। সতীর্থের দেওয়া শট থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। যদিও বলটি জালে জড়ানোর আগে লাল-হলুদের এক ফুটবলারের পায়ের চেটোয় লেগে দিক পরিবর্তন করে। এই ম্যাচে হেরে ১৬ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের দশ নম্বরে থাকল এসসি ইস্টবেঙ্গল।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ওগবেচেকে আটকাতে পারবেন? কী বলছেন সবুজমেরুন কোচ জুয়ান ফেরান্দো

শেষ ৪ ম্যাচে ৩টিতে ড্র। ডার্বি জয়ের পরপর দুম্যাচে আটকে গিয়েছে এটিকে মোহনবাগান। ১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট পেয়ে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে সবুজমেরুন শিবির। মঙ্গলবার সামনে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসি। জিতলেই প্লে অফের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে এটিকে মোহনবাগান। কাজটা কিন্তু সহজ হবে না জুয়ান ফেরান্দোর দলের কাছে। কারণ সবুজমেরুন ডিফেন্সকে সামলাতে হবে এই আইএসএলের সবথেকে ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার বার্থেলেমিউ ওগবেচেকে। হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এটিকে মোহনবাগানের কাছে স্বস্তির খবর ছোট সরিয়ে রয় কৃষ্ণার পুরো সুস্থ হয়ে ওঠা। তবে এই ম্যাচেও তাঁকে শুরু থেকে খেলানো হবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। আইএসএলের শুরু থেকেই রক্ষণ সমস্যায় ভুগছে এটিকে মোহনবাগান। সমস্যা মেটাতে সন্দেশ ঝিঙ্গানকে সই করিয়েছে। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সবুজমেরুন জার্সি গায়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতে চলেছে সন্দেশের। বার্থেলেমিউ ওগবেচেকে আটকানোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের কাছে। এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো অবশ্য শুধু বার্থেলেমিউ ওগবেচেকে নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর চিন্তা গোটা হায়দরাবাদ টিম। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, শুধু ওগবেচেকে আটকানোর পরিকল্পনা করলেই হবে না। ওদের দলে আরও ভাল ভাল ফুটবলার আছে। তাঁদের নিয়েও পরিকল্পনা করতে হবে। ওগবেচে দুর্দান্ত স্ট্রাইকার। সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ওর পেছনে গোটা দল আছে। তাদের আটকাতে হবে। গোটা হায়দরাবাদ দলকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন জুয়ান ফেরান্দো। প্রথম পর্বের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাত ছাড়া হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানের। এবার ৩ পয়েন্ট তুলতে মরিয়া।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Kolkata Football League : ‌৪০ বছর পর আবার কলকাতা লিগের রং সাদাকালো

১৯৮১ সালে লিগের শেষ ম্যাচে রাজস্থানকে হারিয়ে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহমেডান। তারপর বেশ কয়েকবার খেতাবের কাছাকাছি এসেও হাতছাড়া হয়েছে। ৪০ বছর ধরে দাপট দেখিয়ে এসেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। দুএকবার অন্য দলও যে চ্যাম্পিয়ন হয়নি, এমন নয়। কিন্তু মহমেডানের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। অবশেষে ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। ৪০ বছর পর কলকাতা লিগের রং আবার সাদাকালো। ফাইনালে রেলওয়ে এফসিকে ১০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন মহমেডান। মরশুমে প্রথম ট্রফি জয়। এই নিয়ে ১২ বার কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হল মহমেডান।গ্রুপ লিগে এই রেলওয়ে এফসির বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়ে ২০ ব্যবধানে জিতেছিল মহমেডান। ফাইনালে কিন্তু যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল সাদাকালো ব্রিগেডকে। যদিও এদিন ফেবারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নেমেছিল মহমেডান। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিলেন মহমেডান ফুটবলাররা। ৩ মিনিটেই গোল তুলে নেয়। ডানদিক দিকে বল নিয়ে ঢুকে শেখ ফৈয়াজ রেলওয়ে এফসির বক্সের কাছে পৌঁছে পাস বাড়ান ফ্র্যাঙ্কি বুয়ামকে। ফ্র্যাঙ্কি বুয়াম সেই বল ধরে বক্সের মধ্যে মার্কাস জোশেফের উদ্দেশ্যে পাঠান। ডানপায়ের শটে মহমেডানকে এগিয়ে দেন মার্কাস জোশেফ।শুরুতে পিছিয়ে পড়েও হতদ্যোম হয়ে পড়েননি রেলওয়ে এফসি ফুটবলাররা। বরং বারবার আক্রমণে উঠে এসে মহমেডান রক্ষণকে পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়। ৩৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দারুণ শট নিয়েছিলেন সুকুরাম সর্দার। মহমেডান গোলকিপার মিঠুন সামন্ত অসাধারণ দক্ষতায় দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন। ম্যাচের বাকি সময় মহমেডানের আধিপত্য থাকলেও গোল সংখ্যা বাড়াতে পারেনি।মার্কাস জোশেফই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন। ম্যাচের পর তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু আকিনকে এই জয় উৎসর্গ করছি। ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। দীর্ঘদিন পর মহমেডানের ট্রফির খরা কাটাতে পেরে খুশি মার্কাস। লিগের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন মহমেডানের মিঠুন সামন্ত। লিগের সেরা ফুটবলার হয়েছেন মহমেডান অধিনায়ক শেখ ফৈয়াজ।

নভেম্বর ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

তৃণমূলের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা কাকলির, "ভালো তৃণমূল" নিয়ে জোর চর্চা

তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে তিনি মহিলা শাখার জাতীয় সভাপতির পদ-সহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় ভালো তৃণমূল নিয়ে। ইস্তফাপত্রে কাকলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছেন। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং দলের ওপর ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার বিবেক গভীরভাবে পীড়িত।আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে সেখানে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান কাকলি। তবে সাংগঠনিক পদ ছাড়লেও আপাতত দল ছাড়ছেন না তিনি। সাধারণ কর্মী হিসেবেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ।উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলীয় আপত্তি উপেক্ষা করে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এর মধ্যেই তাঁর ইস্তফা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মে ২৮, ২০২৬
রাজনীতি

সোশাল মিডিয়া তোলপাড় ভালো তৃণমূল খারাপ তৃণমূলে, এই তত্বে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা

ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূলে তোলপাড় সোশাল মিডিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসে ভালো কিছু আছে বলে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা কোনওভাবেই মানতে নারাজ। তাই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে কোনও ভাবে সমর্থন করছে না তাঁরা। তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতি বা অন্যায়ের সঙ্গে যারা যুক্ত নন তাঁরা কবে দড়জায় কড়া নাড়বেন, সেকথাই বলেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাতেই ভালো তৃণমূল তত্ব ভেসে ওঠে। বিগত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর। খুন, ধর্ষণ থেকে বাড়ি-ঘর ভেঙে তছনছ করে পুড়িয়ে দেওয়ার মত আক্রমণের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল বাংলা। এমনকী গত পাঁচ বছরে ৩২১ জন বিজেপি কর্মী তৃণমূলের হাতে শহিদ হয়েছেন বলে রাজ্য বিজেপির দাবি। বগটুই থেকে আরজিকরের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে এই রাজ্যে। একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন মন্ত্রী থেকে নেতারা। শেষমেশ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্যে গিরগিটিও যেন হার মানবে। টিভি শো থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের যে নেতৃত্ব বিজেপিকে গালমন্দ না করে মুখে অন্ন তোলেনি তারা এখন মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। ভাবটা এমন যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের থেকেও তারা অত্যাচারিত ছিল। অথচ দিনের পর দিন তারা ক্ষমতার অলিন্দে থেকে সবরকম ভোগ বিলাস করেছেন। তৃণমূল জমানার কোনও ঘটনা নিয়ে টু শব্দটি করেননি। বরং বিজেপিকে যতটা বেশি কোনঠাসা করা যায় ততটাই করেছেন। এখন তারা ভালো তৃণমূল সাজতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে। সঙ্গে আরও বহু সামগ্রী। এরা এখন পরিস্থিতির চাপে পড়ে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মন ভোলানো সুর তুলেছেন। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে এদের এই রূপ কিছুতেই দেখতে পেত না বাংলার মানুষ। টিভি চ্যানেলে দিনের পর দিন বিজেপি বক্তাদের অবহেলা, অবজ্ঞা, অপমান করেছেন, ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। এখন তারা ভালো তৃণমূলের দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। বিজেপি কর্মী সর্থকরাই বলছেন এভাবে ভালো তৃণমূল বাছলে তারা আবার খারাপ না হয়ে যান। তাঁদের বক্তব্য়, ২০২৬-এর ভোটে জয় বিজেপির লড়াই ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই সম্ভব হয়েছে। ওই ভালো তৃণমূলীরা বিজেপিকে পদদলিত করতে চেয়েছিল। নির্বাচনে হেরে গেলে জীবন বিপন্ন হয়ে যেতে নীচুতলার বিজেপি কর্মীদের। তাই তারা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন করছেন, এই ভালো তৃণমূল খোঁজার নামে দলকে বিপদগামী করবেন না। বাস্তবে একটা পচা আলু গোটা বস্তার আলুকে পচিয়ে দেয়। তাতে দলের কর্মীরা হতাশ তো হবেনই পাশাপাশি সামনের দিন বাংলায় বিজেপির শাসন দরকার। ভোট বলে বিষয়বস্তু কিন্তু থাকবে। সাংসদ রাহুল সিনহা বলেছেন, বিজেপি আগামী ২৫ বছর থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন আগামী ৫০ বছর তৃণমূল থাকবে। মানুষ কিন্তু সব মনে রাখে। সময়ের অপেক্ষায় থাকে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, বিজেপি সাধারণের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে অথবা পরবর্তীতে যাতে কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ না থাকে তার জন্য এই তত্ব ছেড়েছে। এখন দেখার বিষয় বিজেপির কাছে ভালো তৃণমূল কারা, খারাপ তৃণমূল কারা।

মে ২৮, ২০২৬
রাজ্য

সীমান্তে ফের লম্বা লাইন! আতঙ্কে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করলেন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীরা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরগরম হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর প্রশাসনিক তৎপরতাও অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এরই মধ্যে বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় ফের দেখা গেল চাঞ্চল্যকর ছবি। সীমান্তের কাছে বহু মহিলা, পুরুষ ও যুবককে ছোট ছোট ব্যাগ নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এদের অনেকেই সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, যারা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।কয়েক মাস আগেও একই ধরনের ছবি দেখা গিয়েছিল। তখনও সীমান্ত এলাকা দিয়ে বহু মানুষ বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নির্মাণ শ্রমিক, মাছের ভেড়িতে কাজ কিংবা দৈনিক মজুরির বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।সোমবার দুপুরে হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, দালালচক্রের মাধ্যমে এক থেকে দেড় বছর আগে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং নজরদারি বাড়ায় তাঁরা ফের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি অনেকটাই বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।যদিও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে প্রশাসনের একাংশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

মে ২৬, ২০২৬
রাজ্য

শুভেন্দুর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ! বাংলার রাজনীতিতে বড় চমক কাকলির উপস্থিতিতে

বাংলার রাজনীতিতে এক বিরল ছবি দেখা গেল মঙ্গলবার। কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়করা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চায় বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি।মঙ্গলবার সকালে বৈঠক শুরুর আগেই সভাস্থলে পৌঁছে যান কাকলি। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমন্ত্রণ পেয়েছি, তাই এসেছি। প্রশাসনটা কারও একার নয়। এটা কোনও দলীয় সভা নয়।শুধু কাকলি নন, এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের আরও তিন বিধায়ক। হাজির ছিলেন দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান, হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিন এবং স্বরূপনগরের বিধায়ক বীণা মণ্ডল।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ছবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের সাধারণত দেখা যেত না। সেই জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিন বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। তাই এখানে এসেছি।এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ছিল। লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে লিখেছিলেন, চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।এরপর তাঁর বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। গত রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কাকলি জানান, তিনি সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিচ্ছেন। আর তার মধ্যেই শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

মে ২৬, ২০২৬
দেশ

সীমান্তে বড় অভিযান! বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের নীতি এখন আরও কঠোর। ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট নীতিকে সামনে রেখেই দেশজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চার রাজ্যে সফরে বের হচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে অমিত শাহের এই সীমান্ত সফর। প্রথমে তিনি যাবেন রাজস্থানের বিকানেরে। সেখানে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্ত লাগোয়া জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।আগামী ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের কাজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন তিনি। সীমান্ত এলাকার একটি বিএসএফ পোস্টেও যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। এছাড়াও সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ।রাজ্য ইতিমধ্যেই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তার মধ্যেই অমিত শাহের এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএসএফকে একযোগে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।কেন্দ্রের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

মে ২৬, ২০২৬
কলকাতা

“আমাকে গ্রেপ্তার করুন!” নিউটাউনের রাস্তায় টলোমলো পায়ে বিডিওর কাণ্ডে তোলপাড়

সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন এবার নতুন বিতর্কে জড়ালেন। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় বেপরোয়া আচরণ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ নিউটাউনের সারচি সিগন্যালের সামনে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় এক বাইকচালককে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত বর্মন। ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন ওই বাইক আরোহী। পরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা প্রতিবাদ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত বিডিও রাস্তাতেই চিৎকার শুরু করেন এবং প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে নানা হুমকি দেন। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে কখনও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে কটাক্ষ করতে, আবার কখনও চড় মারার হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে।ভিডিওতে আরও দেখা যাচ্ছে, এক সময় তিনি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে টলোমলো পায়ে পুলিশকে বলছেন, আমাকে গ্রেপ্তার করুন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিধাননগর কমিশনারেটের ইকো পার্ক থানার পুলিশ অভিযুক্ত বিডিওকে আটক করে নিয়ে যায়।যদিও ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মে ২৬, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভার নোটিসের মাঝেই অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুলিশ! হঠাৎ তৎপরতায় বাড়ছে জল্পনা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি এবং বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙা নিয়ে কলকাতা পুরসভার দেওয়া নোটিস ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার ছিল পুরসভার দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন। তার আগেই সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরসভা আরও ১০ দিনের সময় দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই আবহেই সোমবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ি শান্তিনিকেতন-এ পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি দল। আর তাতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সম্পত্তির মধ্যেই পড়ে অভিষেকের এই বাড়ি। তৃণমূল জমানায় এই সংস্থাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। ফলে পুরসভার নোটিসের পর আচমকা পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ মনে করছেন, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংক্রান্ত কোনও বিষয়েই নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। আবার কারও মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই পুলিশের এই সফর।যদিও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি পুলিশ আধিকারিকরা। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।উল্লেখ্য, গত সোমবারই কলকাতা পুরসভার তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বাড়ির অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে শান্তিনিকেতন-এর বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি অভিষেকের ১৭টি সম্পত্তিও নজরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কয়েক দিন আগেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। পুরসভার নোটিস নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতেই প্রথমে কোনও উত্তর দেননি তিনি। পরে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেন, বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, আমি উত্তর দেব।সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে এবার সময় বাড়ানোর আবেদন এবং পুরসভার সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

হাওয়ায় দুলছে মেসির বিশাল মূর্তি! আতঙ্কে লেকটাউন, রাতেই ভাঙার সিদ্ধান্ত?

লেকটাউনে তৈরি হওয়া বিশাল লিওনেল মেসির মূর্তি ঘিরে এবার আতঙ্ক ছড়াল স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, হাওয়ায় প্রবলভাবে দুলছে মূর্তিটি। যে কোনও সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, মূর্তিটির নীচের অংশের মাটি বসে গিয়েছে। চারপাশে পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। ফলে গোটা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হাওয়ায় মূর্তিটি দুলতে থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।মূর্তিটির ঠিক নীচেই রয়েছে একটি জায়ান্ট স্ক্রিন। সন্ধ্যার সময় সেখানে ভিড় করেন বহু মানুষ। আইপিএলের ম্যাচ দেখার জন্য প্রতিদিনই জমায়েত হয় স্থানীয়দের বড় অংশ। সেই সময় যদি মূর্তিটি ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জানা গিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিচার করে সোমবার রাতেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি কলকাতা সফরে এলে ভার্চুয়ালি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত তাঁর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল মূর্তিটি।

মে ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal