• ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার ০৪ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Kolka

কলকাতা

আর মাত্র ৭ দিন! কলকাতার দুই বড় সেতুর নিচে যা হতে চলেছে, জানতেই চমকে উঠবেন

কলকাতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুরসভা। এবার নজরে এসেছে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং সুকান্ত সেতুর নিচের বেআইনি দখল। শনিবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে এই দুই জায়গায় নোটিস টাঙিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি দোকান ও দখল সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুরসভার নোটিসে জানানো হয়েছে, যাদবপুর ও সন্তোষপুরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে বাজার ও হকারদের দোকান বসে আসছে। একইভাবে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর নিচেও বহু দোকান ও বড় বাজার গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, এই সবই অনুমতি ছাড়া দখল করে তৈরি হয়েছে। তাই এবার ওই সমস্ত জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাস-সহ শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনের আশপাশের অবৈধ দোকানও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন বস্তি এলাকাও খালি করার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দখল করে গড়ে ওঠা ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। শুধু অস্থায়ী ঘর নয়, বহু পাকা ও দোতলা বাড়িও তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই সেই এলাকাও খালি করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ফলে শহরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

রিষড়ায় স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীর মর্মান্তিক পরিণতি! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

হুগলির রিষড়ায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি ওই মহিলার স্বামী। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার সকালে রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বত্রিশ বছরের মণিকা ওঝার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার সময় পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই তাঁরা মহিলার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার শব্দ শোনা গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকা দীপঙ্কর সরকার কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধান শুরু করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, মহিলার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। পরে তাঁর পরিচয় জানতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি রিষড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দীপঙ্কর সরকার। এরপর থেকেই দুই ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে দীপঙ্করের মনে সন্দেহ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে দম্পতির ছয় বছরের শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত! এক মাসের জন্য থামছে বহুতল নির্মাণ, বাতিল হতে পারে অনুমোদন!

গার্ডেনরিচ ও তারাতলার মতো একের পর এক দুর্ঘটনার পর আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। সেই কারণেই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতল নিয়ে। আগামী এক মাস কলকাতা-সহ একাধিক পুর এলাকায় পাঁচ তলার বেশি বাণিজ্যিক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে বিশেষ অডিট কমিটি প্রতিটি নির্মাণের নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বহুতলের অনুমোদন পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নগরায়ণ থামানো সরকারের উদ্দেশ্য নয়। তবে কোনওভাবেই মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হবে না।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী এক মাস কলকাতা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালিতে নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের কাজ বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই এগারো সদস্যের একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই কমিটি প্রথমে বহুতলের নকশা নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করবে। এরপর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তাও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।সরকার জানিয়েছে, যেখানে সামান্য ত্রুটি থাকবে সেখানে নির্মাণ সংস্থাকে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে বহুতলের অনুমোদন সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।অডিট কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে নব্বই দিন। তবে যে সব বহুতল নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, সেগুলির নির্মাণকাজ আগামী এক আগস্ট থেকে আবার শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।সরকার আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারের কাজে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না। ফলে আগামী এক মাস নিজের বাড়ির নির্মাণ বা মেরামতির কাজ স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

জুন ২৬, ২০২৬
কলকাতা

কালো মেঘে ঢাকল আকাশ, বজ্রপাতের দাপট! আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বড় সতর্কবার্তা

দুপুর গড়াতেই কালো মেঘে ঢেকে গেল কলকাতার আকাশ। দিনের আলো ম্লান হয়ে অনেকটাই রাতের আবহ তৈরি হয় শহরে। তারপরই শুরু হয় বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া। শুধু কলকাতাই নয়, সংলগ্ন একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির খবর মিলেছে। আবহাওয়া দপ্তর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মেনেই বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন দেখা গেল।কয়েক দিন আগেই প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরাও।

জুন ২৫, ২০২৬
কলকাতা

‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর নায়ককে সম্মান, কলকাতায় রাস্তার নাম বদলে চমক

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি কলকাতা পৌরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানোর সময় এসেছে।গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে বেশি পরিচিত, কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের পরিবারের একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় কসাই হওয়ায় তিনি গোপাল পাঁঠা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পর কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত। সেই সময় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গোপাল পাঁঠাকে ঘিরে প্রচলিত বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়, তিনি নিজের দলবল নিয়ে আক্রান্ত হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই অনেকের কাছে তিনি সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।গত বছর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এ নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মিছিলে তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। পরে আলিপুরে গোপাল পাঁঠার একটি মূর্তিরও উন্মোচন করা হয়েছিল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।উল্লেখ্য, গোপাল পাঁঠার জীবন ও ১৯৪৬ সালের কলকাতার ঘটনাবলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমানসে কৌতূহল রয়েছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা বিতর্কও। তবে নতুন করে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত তাঁকে আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা থেকেই বদলে গেল ভারতের নৌ-শক্তির ছবি! একসঙ্গে জলে নামল তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

ভারতের নৌ-সামর্থ্যে যুক্ত হল আরও তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ। কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার শ্যামাপ্রসাদ বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধজাহাজ তিনটি ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেন। এই তিন জাহাজ হল আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা এমন এক ভূমি, যা ভারতকে সমুদ্রপথে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাঁর মতে, দেশের পুনর্জাগরণ ও অগ্রগতিতে বাংলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন বাংলার মাটিতে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।মোদী বলেন, একটি শক্তিশালী দেশের জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমুদ্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয় এবং বিভিন্ন দেশের তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কও সমুদ্রের নীচ দিয়েই বিস্তৃত।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যে দেশের সমুদ্র শক্তি যত বেশি উন্নত হবে, সেই দেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানও তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভারত সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলি আত্মনির্ভর ভারতের বড় সাফল্যের প্রতীক।মোদীর দাবি, ভারত এখন শুধু উৎপাদনকারী দেশ নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দেশ হিসেবেও উঠে আসবে। তিনি জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার বিপুল আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।তাঁর কথায়, আত্মনির্ভরতা থেকেই প্রকৃত শক্তির জন্ম হয়। আগামী দিনে ভারত সমুদ্র শক্তির ক্ষেত্রে আরও বড় উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

মেসিকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ! কলকাতা পুলিশকে চিঠি, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেসিকে ঘিরে বিতর্কে ফের নতুন মোড়। এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠালেন আর্জেন্টিনার মহাতারকার ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিনিধিরা। সেই চিঠিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, মেসির মাঠে উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা বিধি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও বিশেষ অতিথি বা ভিআইপির থাকার অনুমতি ছিল না। শুধুমাত্র কয়েকজন অনুমোদিত ক্যামেরা কর্মী উপস্থিত থাকতে পারতেন। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।ম্যানেজমেন্ট টিমের দাবি, নির্ধারিত তালিকার বাইরে একাধিক ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি অনেক অননুমোদিত ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা কর্মীকেও সেখানে দেখা যায়। এর ফলে মাঠের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পরিকল্পিত কিছু কর্মসূচি বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন মেসি এবং তাঁর দলের সদস্যরা।এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, মেসির সফরের পরামর্শদাতা ও প্রতিনিধি পুলিশকে পাঠানো ইমেলে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, মাঠে বহু অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই কারণেই সফরের কিছু অংশ বাতিল করতে হয়েছিল।শতদ্রু দত্ত আরও দাবি করেছেন, এতদিন যেসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছিল, সেই চিঠি নাকি তারই সমর্থন করছে। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী এই অভিযোগগুলির কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মেসি। সেই আবহের মধ্যেই এই চিঠি সামনে আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ফুটবল মহল থেকে রাজনৈতিক মহলসব জায়গাতেই এখন আলোচনা একটাই, যুবভারতীতে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসার পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তদন্ত ও আলোচনার দাবি উঠেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৭, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলে বদলাবে আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

খাতায়-কলমে বর্ষা ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার প্রভাব এখনও সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলের পর আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সম্ভাবনাআবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চারের ফলে কালবৈশাখী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিকেল গড়াতেই আকাশের চেহারা বদলাতে পারে। ঝড়বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।নদিয়া-মুর্শিদাবাদেও বৃষ্টির পূর্বাভাসশুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। ফলে বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ফের অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।কলকাতার আকাশে কি মিলবে স্বস্তির ছোঁয়া?গত কয়েকদিন ধরে গরম ও গুমোট আবহাওয়ায় নাজেহাল কলকাতাবাসী। মঙ্গলবার শহরের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর থেকে মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে কলকাতার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। যদিও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবুও এই বৃষ্টি শহরবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট অব্যাহতদক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির অপেক্ষায়, তখন উত্তরবঙ্গে বর্ষা কার্যত পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।ধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কাপাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।এক নজরে আজকের আবহাওয়া* পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পুরুলিয়ায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা।* ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।* নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বা।* কলকাতায় বিকেল বা সন্ধ্যায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।* দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।* পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা।বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও তার পূর্ণ প্রভাব দেখা যায়নি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে গরমে নাজেহাল মানুষের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে।

জুন ১৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে কালীঘাটে ‘পুলিশি অভিযান’! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, ছুটে গেলেন মমতা

কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোররাতের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সব মিলিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একাধিক পুলিশ গাড়ি কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়। শালবনি থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং মহিলা পুলিশকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকেরা।এরপর শুরু হয় বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই তৎপরতা। বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং পুলিশি তল্লাশির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সকাল ৮টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। সমস্ত কিছু রেকর্ড করা রয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক তদন্তমূলক মামলায় অভিষেককে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ভবানী ভবনে টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।এদিকে শুক্রবারও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছেছিল সিআইডি। একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গোয়েন্দাদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি সই জাল-কাণ্ডে ১৪ জুন ফের সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছে ইডি। ফলে একের পর এক তদন্তকারী সংস্থার নোটিস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে শনিবার ভোরের এই পুলিশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের প্রকৃত কারণ ও অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

জুন ১৩, ২০২৬
কলকাতা

তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকল পুলিশ, ঘর থেকে টেনে বের করা হল তৃণমূল কাউন্সিলরকে

কলেজ স্ট্রিটে রবিবার ভোর থেকে চলে টানটান উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার নাটকীয় অভিযানের পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও তিনি দরজা খোলেননি।পুলিশের দাবি, কাউন্সিলর বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। তবুও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত চাবিওয়ালাকে ডাকা হয়। সদর দরজা ও একাধিক কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এরপর ঘর থেকে কাউন্সিলরকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বের করার সময় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সমর্থকেরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিক্ষোভে সামিল হন। কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং জমায়েত সরাতে বাহিনী তৎপর হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এক নাবালিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে পকসো আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় কাউন্সিলর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের নাম ছিল। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিতার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।শনিবার নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই তরুণীকে একা পেয়ে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন প্রথমে কটূক্তি করে। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আক্রান্ত তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর আশপাশের একাধিক নজরদারি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার সকালে পুলিশ কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালায়।দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কাউন্সিলরসহ মোট দুই জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জুন ০৭, ২০২৬
কলকাতা

ইস্তফা কি সত্যিই দিচ্ছেন ফিরহাদ? দু’দিন পরেও মিলল না উত্তর

কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতে চলেছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। তবে দুদিন ধরে নানা জল্পনা চললেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি মেয়রের পদ ছাড়তে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম?সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, ফিরহাদ হাকিম দলনেত্রীর কাছে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না এবং সেই কারণেই ইস্তফা দিতে চান। কুণালের দাবি অনুযায়ী, এই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও জানানো হয়েছিল।কিন্তু সেই মন্তব্যের পর কয়েক দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত ইস্তফা সংক্রান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বরং এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলবেন না।এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। গত কয়েক দিনে একাধিক সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। পরিবেশ দিবসের কর্মসূচিতেও তাঁকে কলকাতা পুরনিগমের কমিশনারের সঙ্গে দেখা যায়।শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিয়মিত বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে মেয়রকে। পুর প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়েও তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ফলে ইস্তফার জল্পনার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে আসছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি সত্যিই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা সে ধরনের কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না।ফলে মেয়র পদ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ফিরহাদ হাকিম শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে এখন কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে। তবে সরকারি ভাবে কিছু ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক ও জল্পনা যে চলতেই থাকবে, তা বলাই যায়।

জুন ০৫, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বুধে' ই 'নব তৃণমূল'-র আত্মপ্রকাশ? বিধানসভায় বিরোধী কারা? জল্পনায় উত্তাল বঙ্গরাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বুধবারই বিধানসভায় সংখ্যার জোর দেখিয়ে নতুন শিবিরের অস্তিত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে এসেছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতা দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সেই আবহেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।মঙ্গলবার বিধানসভা চত্বরে ঋতব্রতের উপস্থিতি ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, প্রায় ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনপত্র তিনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারেন। যদিও দিনভর সেই জল্পনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজেই বিধানসভায় এসেছিলেন এবং কোনও চিঠি জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁর জানা নেই।শুধু তাই নয়, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে গোপন বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছিল, সেটিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তিনি বলেন, আমি আজকে বিশ্বাস করি। আগামীকাল কী হবে, তা এখনই বলতে পারব না। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার খোরাক জুগিয়েছে।সূত্রের দাবি, বুধবার পরিস্থিতি অন্য মোড় নিতে পারে। খবর অনুযায়ী, ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে একটি পৃথক পরিষদীয় গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে বিধানসভায় একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে। যদি এমনটা ঘটে, তবে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।তবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠে আসছে। কেবলমাত্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন থাকলেই কি কোনও গোষ্ঠী নিজেকে মূল দলের উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করতে পারে? দলীয় প্রতীক, সংগঠনের সম্পত্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সরল নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিধায়কদের সংখ্যা নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের সমর্থন এবং অন্যান্য একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কয়েক ডজন বিধায়কের সমর্থন পাওয়া গেলেও দলীয় প্রতীক বা সংগঠনের মালিকানা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বুধবার যদি সত্যিই কোনও নতুন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটে, তবে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন নজর বিধানসভার দিকেসেখানে সংখ্যার অঙ্ক কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক জল্পনা, তার উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।বঙ্গ রাজনীতির চলমান অস্থিরতার আবহে নতুন তৃণমূল ঘিরে এই জল্পনা এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক বিষয়। বুধবারের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে এই আলোচনা শুধুই গুঞ্জন হয়ে থাকে, নাকি তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দেয়।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

কলেজের আলমারিতে লুকিয়ে ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ সবার

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রহস্যজনকভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের ইউনিয়ন রুমের একটি পুরনো আলমারি থেকে উঁই ধরা অবস্থায় টাকা ভর্তি একাধিক বাক্স উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মঙ্গলবার কলেজ চত্বরে এই ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। এরপর ইউনিয়ন রুম থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ও বাক্সগুলি উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। তবে ঠিক কত টাকা পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নোটগুলির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আলমারিতে পড়ে থাকার কারণে উঁইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কলেজের ইউনিয়ন রুমে কীভাবে এল, কে বা কারা সেখানে টাকা রেখে গিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে তা জমা রাখা হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, এর সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না এবং কতদিন ধরে ওই টাকা সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কলকাতার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রহস্যময় এই টাকার উৎস খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

ধর্মতলায় মমতার ধরনা ঘিরে বড় ধাক্কা! শেষ মুহূর্তে অনুমতি দিল না পুলিশ

ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে মঙ্গলবার ধরনায় বসার ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা। দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।তবে ধরনার একদিন আগে সামনে এসেছে বড় জটিলতা। সূত্রের খবর, রানি রাসমণি রোডে এই কর্মসূচির জন্য এখনও পুলিশের অনুমতি মেলেনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ওই স্থানে ধরনার অনুমতি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে এখনও সম্মতি দেওয়া হয়নি বলে সূত্রের দাবি। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এবং কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অতীতে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। সে সময় অনুমতি না মেলায় তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।অন্যদিকে, ধরনা বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁরা দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে একদিকে ধরনা বিতর্ক, অন্যদিকে দুই বিধায়কের বহিষ্কার সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভার নোটিসের মাঝেই অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুলিশ! হঠাৎ তৎপরতায় বাড়ছে জল্পনা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি এবং বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙা নিয়ে কলকাতা পুরসভার দেওয়া নোটিস ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার ছিল পুরসভার দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন। তার আগেই সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরসভা আরও ১০ দিনের সময় দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই আবহেই সোমবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ি শান্তিনিকেতন-এ পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি দল। আর তাতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সম্পত্তির মধ্যেই পড়ে অভিষেকের এই বাড়ি। তৃণমূল জমানায় এই সংস্থাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। ফলে পুরসভার নোটিসের পর আচমকা পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ মনে করছেন, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংক্রান্ত কোনও বিষয়েই নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। আবার কারও মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই পুলিশের এই সফর।যদিও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি পুলিশ আধিকারিকরা। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।উল্লেখ্য, গত সোমবারই কলকাতা পুরসভার তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বাড়ির অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে শান্তিনিকেতন-এর বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি অভিষেকের ১৭টি সম্পত্তিও নজরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কয়েক দিন আগেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। পুরসভার নোটিস নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতেই প্রথমে কোনও উত্তর দেননি তিনি। পরে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেন, বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, আমি উত্তর দেব।সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে এবার সময় বাড়ানোর আবেদন এবং পুরসভার সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

নেপাল থেকে চাকরির টোপ, শেষে সোনাগাছিতে বিক্রি! কলকাতায় ভয়ঙ্কর নারী পাচার চক্র ফাঁস

কলকাতায় ফের সামনে এল নারী পাচারের ভয়ঙ্কর চক্র। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেপাল থেকে কলকাতায় এনে তিন তরুণীকে সোনাগাছিতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম শোভা তামাং। তিনি সোনাগাছির একটি বাড়ির দেখভাল করতেন। ওই বাড়িতে বহু নেপালি যৌনকর্মী থাকতেন বলেই জানা গিয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই নেপাল থেকে তরুণীদের কলকাতায় আনার ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে পুলিশের সন্দেহ।অভিযোগ, কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালের তিন তরুণীকে কলকাতায় আনা হয়। কিন্তু শহরে পৌঁছনোর পর তাঁদের সোনাগাছিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার বিকেলে অভিযান চালায় লালবাজারের গোয়েন্দারা। প্রথমে সন্দেহভাজন বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়। পরে সেখানে হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় তিন তরুণীকে। গ্রেপ্তার করা হয় শোভা তামাংকে।পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, নেপালের কোন এলাকা থেকে ওই তরুণীদের আনা হয়েছিল এবং কার মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কীভাবে এই পাচার চক্র কাজ করছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই নেপালের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে লালবাজার।তদন্তকারীদের অনুমান, নারী পাচার চক্রের সদস্যরা নেপালের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাজের লোভ দেখিয়ে মেয়েদের এই রাজ্যে নিয়ে আসছে। তারপর তাঁদের জোর করে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, প্রায় আট মাস আগে বড়তলা থানা এলাকাতেও বড়সড় নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছিল। তখন একটি বাড়ি থেকে ৯ নাবালিকা-সহ মোট ১১ জনকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ফের একই ধরনের ঘটনার সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শহরে।এই চক্রের সঙ্গে এ রাজ্যের আর কারা জড়িত, ভিনরাজ্যের কোনও বড় পাচারচক্রের যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত মহিলাকে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের হদিস! জুতোর ব্যবসার আড়ালে চলত ভয়ঙ্কর খেলা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের বড় পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজকে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।জানা গিয়েছে, কলকাতায় জুতোর ব্যবসা করত জাফর। তার দুটি কারখানাও ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই চলত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ। নিজের নামে সিম কার্ড তুলে তা পাকিস্তানের গোয়েন্দা অফিসারদের হাতে পৌঁছে দিত সে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফরের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা রাবিয়া জাফফার নামে এক মহিলার সঙ্গে। বিয়ের পর ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা কলকাতাতেই থাকত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তারা লাহোরেই পড়াশোনা করছে।২০১২ সালে একটি পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে স্ত্রীকে লাহোরে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে। এরপর থেকেই পাকিস্তানে তার যাতায়াত বাড়তে থাকে। এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টাও করছিল বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে দাবি, এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নামানো হয় জাফরকে।পরবর্তীতে কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে প্রথমে দিল্লি এবং পরে পঞ্জাবে ঘাঁটি গাড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযানকারী দল জাফর ও তার সহযোগী মহম্মদ শামশেদকে গ্রেফতার করে। ধৃত শামশেদ বিহারের মধুবনির বাসিন্দা।তদন্তকারীদের দাবি, জাফর ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সামরিক দফতর এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে তার ওটিপি পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত।সেই নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুপ্তচররা সুন্দরী মহিলাদের ছবি দিয়ে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করত। এরপর ভারতীয় সেনার জওয়ানদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলত। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল মাথাদের অন্যতম ছিল জাফর।বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং গোটা নেটওয়ার্ক কতটা বড়, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মে ২১, ২০২৬
রাজ্য

মাঝরাতে সরকারি হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যসচিবের! দেখে হতবাক চিকিৎসকরা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন মোডে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার গভীর রাতে শহরের পাঁচটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ করেই পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। এই আকস্মিক সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় হাসপাতালগুলিতে। স্বাস্থ্যদপ্তরের বার্তা স্পষ্ট, শুধু নির্দেশ নয়, এবার বাস্তবে কাজ দেখতে চায় নতুন সরকার।শনিবার রাত প্রায় বারোটার সময় নীল রঙের টি-শার্ট পরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন স্বাস্থ্যসচিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ মানসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় এবং সহকারী সুপার দৈপায়ন বিশ্বাস। ট্রমা কেয়ার থেকে শুরু করে জেনারেল মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি বলেন, কোথাও যেন ময়লা না থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করারও নির্দেশ দেন তিনি।এরপর রাতেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম হাসপাতালেও যান স্বাস্থ্যসচিব। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যেসব রোগী বেড না পেয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বেডের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।স্বাস্থ্যসচিব আরও নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালগুলিতে লাইভ বেড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সেই স্ক্রিনে কোন হাসপাতালে কত বেড খালি রয়েছে, তা দেখা যাবে। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের খালি বেডের তথ্যও সেখানে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালগুলিতে পানীয় জলের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি জানতে চান, রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দেওয়া জল আদৌ পানযোগ্য কি না। প্রতি মাসে সেই জলের মান পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাকে প্রতি সপ্তাহে পানীয় জলের গুণমান পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।উল্লেখ্য, শুক্রবার এসএসকেএমের একাডেমিক ভবনে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দালালরাজ বন্ধ করা, রোগীদের রেফার কমানো এবং কাউকে যেন চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে না হয়, সেই বিষয়ে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই স্বাস্থ্যসচিবের এই রাতের পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

মে ১৭, ২০২৬
কলকাতা

‘গল্প নয়, সবই সত্যি!’ — আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি, দুর্নীতি ও জমি-চক্রে শান্তনুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস-কে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখলচক্র, পুলিশি প্রভাব খাটানো এবং অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাঁতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, ঘটনাপ্রবাহ শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তদন্তে উঠে আসা প্রতিটি তথ্যই প্রমাণসাপেক্ষ এবং চার্জশিট পেশের সময় তার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।শুক্রবার বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় শান্তনুকে। সওয়াল-জবাবের শেষে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল এবং বেআইনি সম্পত্তি কারবারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কুখ্যাত সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে শান্তনুর গভীর যোগাযোগ ছিল। শুধু যোগাযোগই নয়, পুরো চক্র পরিচালনায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেই দাবি ইডির।কী ভাবে চলত জমি দখলের কারবার?আদালতে ইডি জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট জমি চিহ্নিত করার পর প্রথমে মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা শুরু হত। এরপর পুলিশি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মালিককে চাপে ফেলা হত। যদি মালিক জমি কম দামে বিক্রি করতে রাজি না হতেন, তবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কিংবা দুষ্কৃতীদের দিয়ে ভয় দেখানোর মতো কৌশল নেওয়া হত।ইডির বক্তব্য, এই চক্রে পুলিশের ক্ষমতা এবং অপরাধী জগতদুই দিককেই ব্যবহার করা হত। জমি মালিকদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং শেষে জমি হাতিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সোনা পাপ্পু। আর প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ শান্তনুর বিরুদ্ধে।পুলিশ বদলি থেকে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তৃত অভিযোগের তালিকাতদন্তকারী সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, শান্তনুর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানায় অফিসার বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত কার্যকর হত। বিশেষত কালীঘাট ও হেয়ার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তিনি প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।ইডির আরও অভিযোগ# স্ত্রী ও পুত্রের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন শান্তনু# রাজ্যের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁর পরিবার# ওই ব্যবসায় পুলিশের আরও কিছু কর্তার অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে# কান্দিতে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে# একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে# মোবাইল চ্যাটে প্রতিদিন পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে# তদন্ত চলাকালীন ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য গোপন এবং অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে# ইডির দাবি, জয় কামদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এই যোগসাজশের প্রমাণ বহন করছে।সিন্ডিকেট না দিলে এক জন মেথরও কাজ করতে পারতেন নাসবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন নির্মাণ প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত। ইডির ভাষায়, এই অর্থ না দিলে এলাকায় এক জন মেথরও কাজ শুরু করতে পারতেন না।তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগও ব্যবহার করা হত। উদ্ধার হওয়া নথিতে আগের সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।শান্তনুর পাল্টা দাবি আমি উত্তরাধিকারসূত্রে ধনীসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তনু। আদালতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।তাঁর বক্তব্যজয় কামদার আমাকে টাকা দেয়নি, বরং আমি ওকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই ফ্ল্যাট কেনা হয়নি।তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিনের সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী। জয় কামদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল পারিবারিক সূত্রে। স্ত্রী ও ছেলেকে দেওয়া উপহারকে দুর্নীতি বলে দেখানো হচ্ছে, অথচ সেগুলি নিছক সৌজন্য বিনিময়।সোনা পাপ্পুকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ইডির দাবি করা বিপুল মূল্যের উপহার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ওগুলোর মোট দাম ৬৫ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে, এক কোটি নয়।আমার ছেলেকেও টানা হচ্ছেশান্তনুর অভিযোগ, ইডি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অন্যায় ভাবে চাপে ফেলছে।তিনি আদালতে বলেনঃসমন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইডিকেও জানিয়েছিলাম কখন হাজির হব। তবুও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এখন আমার মেধাবী ছেলেকেও তদন্তে টানা হচ্ছে।এই মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কলকাতা পুলিশের অন্দরের অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অপরাধচক্র সব মিলিয়ে এই মামলার জাল কত দূর বিস্তৃত, সেটাই এখন দেখার।

মে ১৬, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টি! কোন জেলায় অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা?

বর্ষার মরশুমে প্রথম বড় আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন একই এলাকায় অবস্থান করে আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। এর প্রভাবেই শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একাধিক জেলায় জারি হয়েছে হলুদ (Yellow Alert) এবং কমলা (Orange Alert) সতর্কতা।নিম্নচাপের জেরে বাড়বে বৃষ্টির দাপটআবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।শুক্রবার কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।শনিবার দুই জেলায় কমলা সতর্কতাশনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।রবিবার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এই জেলাগুলিতেরবিবার নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে।অতিভারী বৃষ্টির (৭০২০০ মিমি) সম্ভাবনা রয়েছেপশ্চিম মেদিনীপুরঝাড়গ্রামবাঁকুড়াপুরুলিয়াএই চার জেলার জন্য জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।এছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।সোমবারও মিলবে না স্বস্তিসোমবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারেপূর্ব মেদিনীপুরপশ্চিম মেদিনীপুরদক্ষিণ ২৪ পরগনাপশ্চিম বর্ধমানবাঁকুড়াপুরুলিয়াবীরভূমকবে থেকে কমবে বৃষ্টি?আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে বুধবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটতে সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।মৎস্যজীবীদের জন্য জরুরি সতর্কতাবঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকার আশঙ্কায় সোমবার পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্রে প্রবল বাতাস এবং উঁচু ঢেউয়ের কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের পরামর্শপ্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে জলাবদ্ধ এলাকায় যাতায়াত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখারও আবেদন করা হয়েছে।বর্ষার শুরুতেই তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকে নজর রয়েছে আবহাওয়াবিদদের। আগামী চার দিন রাজ্যের আবহাওয়া যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং যান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

জুলাই ০৩, ২০২৬
রাজ্য

এবার আর রক্ষা নেই! নিম্নচাপের দাপটে বাংলায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা, কোন কোন জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিতে?

জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও জুলাইয়ের শুরুতেই বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় পঞ্চাশ থেকে ষাট কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুতেরও আশঙ্কা রয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও একদিনে প্রায় দুইশো মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার কলকাতার জন্যও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এই বৃষ্টি একদিকে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হতে পারে।নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণে শুক্রবার থেকে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সুন্দরবন উপকূল এলাকায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছে। যাঁরা আগে থেকেই মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির জেরে নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে। বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ডাঙ্গি এলাকার নদীতীরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চলের একের পর এক গাছ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে বাড়িঘর, চাষের জমি এবং বনাঞ্চলের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে একই সময়ে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুলাই ০৩, ২০২৬
বিদেশ

পাঁচ দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে! শেষমেশ যা করল ছোট্ট কুকুরটি, চোখে জল নেটদুনিয়ার

ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মাঝেই সামনে এল এক আশ্চর্য ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা প্রায় পাঁচ দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হল জিসেল নামে একটি পোষ্য কুকুর। সেই উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভাসছে সমাজমাধ্যম।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবাল্লেদা এলাকা থেকে জিসেলকে উদ্ধার করেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। গত বুধবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই বিপর্যয়ে বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে এবং প্রাণ হারান এক হাজার নয়শোরও বেশি মানুষ।উদ্ধারের পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনতেই উদ্ধারকারী দলের এক সদস্যের মুখ চেটে দেয় জিসেল। আনন্দে লেজ নাড়াতে থাকে সে। এরপর তাকে জল খাওয়ানো হয় এবং তার শরীরে কোনও গুরুতর আঘাত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা।উদ্ধারের এই ভিডিও ভাগ করে নিয়ে একটি আবেগঘন বার্তা দেন এল সালভাদরের রাষ্ট্রপতি নায়িব বুকেলে। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর জিসেলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবেদন করেন, যদি কেউ কুকুরটির মালিক হন, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। অসংখ্য মানুষ জিসেলের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, উদ্ধারকারীদের প্রতি ছোট্ট প্রাণীটির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।একজন লিখেছেন, একটি অবলা প্রাণীর ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার মতো নির্মল অনুভূতি খুব কমই দেখা যায়। আবার আরেকজনের মন্তব্য, মানুষের উচিত প্রাণীদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার শিক্ষা নেওয়া। আরও একজন লেখেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কত নিরীহ প্রাণী আটকে রয়েছে, সেই কথা ভাবলেই মন ভারী হয়ে যাচ্ছে। জিসেলের এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি উদ্ধার নয়, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
রাজ্য

ভোর হতেই বড় অভিযান! শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফেতে বুলডোজার, মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল সব

মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন। আগেই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে অভিযান চালায়।ভোর থেকেই ক্যাফের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও রাখা হয় ঘটনাস্থলে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রথমে বুলডোজার দিয়ে ক্যাফের প্রধান প্রবেশদ্বার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর একে একে ভেঙে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের বিভিন্ন নির্মাণ এবং সাজানো বাগানের অংশ।এর কয়েক দিন আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাফে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। নোটিসের পর ক্যাফে থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ভাঙা হয়নি। এরপরই প্রশাসন আইন অনুযায়ী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এই ভাঙার কাজ ক্যানিং পূর্বের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমির উপর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজ উদ্যোগে নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনেই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এই ক্যাফে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করা হল।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

মহুয়াকে ঘিরে হামলার অভিযোগ, এবার পাশে সিপিএমের বিকাশ! এক মন্তব্যেই শুরু নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

কালীগঞ্জে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালেন সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বুধবার কালীগঞ্জে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সেই সময় বৈঠক চলাকালীন বাইরে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী ঘরের জানালা লক্ষ্য করে ডিম, কাদা এবং গোবর ছুড়তে শুরু করেন। পাশাপাশি চোর বলে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় মহুয়া সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, জানালা দিয়ে একের পর এক ডিম ছোড়া হচ্ছে এবং তা ঘরের ভিতরেও এসে পড়ছে। এই ঘটনার জন্য দলের একাংশের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য লেখেন, মহুয়া মৈত্র তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তাই যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, তা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সকল সচেতন মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় নিজের অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রয়োজনে আদালতে দাঁড়াতেও আপত্তি নেই বলে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।এদিকে কালীগঞ্জের ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকলেও কালীগঞ্জের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

তিলোত্তমা মামলায় বিস্ফোরণ! ভিসেরা নমুনা নষ্টের অভিযোগে সামনে চাঞ্চল্যকর চিঠি, আদালতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের সামনে এল নতুন বিতর্ক। এবার রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য রাখা নমুনা নষ্ট ও বদলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তিলোত্তমার পরিবার। এই অভিযোগের ভিত্তি একটি চিঠি, যা সম্প্রতি তিলোত্তমার বাবার কাছে পাঠিয়েছেন এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিক।পরিবারের দাবি, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক তিলোত্তমার ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছেন। আরও অভিযোগ, তিলোত্তমার লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরে বদলে ফেলা হয়। এই নমুনাগুলির মাধ্যমে তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন, তিলোত্তমার শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না বা তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল কি না। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই গুরুত্বপূর্ণ নমুনা আর আগের অবস্থায় ছিল না।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগার থেকে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর সময়ও ভিসেরা নমুনা বদলে দেওয়া হয়। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজ হয়েছে বলেও ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।তিলোত্তমার পরিবারের সিদ্ধান্ত, এই চিঠি শিয়ালদহ আদালতে বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে, যাতে অভিযোগগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে খুন হওয়া বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও একই তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুলাই ০২, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, কেউই রেহাই পাবেন না! এক নতুন বিলে বদলে যেতে পারে দেশের রাজনীতি

দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী গুরুতর অপরাধের মামলায় টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে তাঁকে পদ ছাড়তে হতে পারে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকা সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আবারও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনেই এই বিল নিয়ে আলোচনা এবং পাসের উদ্যোগ নিতে পারে কেন্দ্র।জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটি এই বিল নিয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে পারে। সেই রিপোর্টে বিতর্কিত ধারাটি বহাল থাকতে পারে বলেই খবর। প্রস্তাব অনুযায়ী, যে সব অপরাধে পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিধান রাখা হতে পারে।তবে আইন যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কিছু সুরক্ষামূলক সুপারিশ রিপোর্টে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনেই বিলটি সংসদে তোলা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তামিলনাড়ুর তৎকালীন মন্ত্রী ভি সেন্থিল বালাজি গ্রেফতার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ঘটনার পরই গত বছর এই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।বিরোধীদের প্রবল আপত্তির জেরে বিলটি সরাসরি পাস না করে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে একত্রিশ সদস্যের একটি কমিটি বিলটি খতিয়ে দেখছে। তবে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং ডিএমকে এই কমিটিতে যোগ দেয়নি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান সংসদীয় সমীকরণে সরকার এই বিল পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। তাই আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।উল্লেখ্য, এই বিল এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই এটি কার্যকর হতে পারে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

এক সপ্তাহও টিকল না রক্ষাকবচ! পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেফতার দেবরাজ, সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রক্ষাকবচ খারিজ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ অভিযান বাহিনী। তোলাবাজি ও হিংসার মামলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।দেবরাজ চক্রবর্তী একসময় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার যুব নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। পাশাপাশি রাজারহাট, নিউটাউন ও বাগুইআটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। বহুদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের একাংশও এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে সুজিত বসুর সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ান। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পান।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এলাকার প্রোমোটারদের হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি এবং অর্থ আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দেবরাজের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।দেবরাজের স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির নামও এখন আলোচনায়। অভিযোগ, বিধায়ক থাকাকালীন এলাকায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের বড় অংশই সামলাতেন দেবরাজ। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অদিতি মুন্সির কোনও ভূমিকা বা তথ্য ছিল কি না। প্রয়োজনে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রের দাবি।এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং আগেই অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদতেই দেবরাজ উত্তর চব্বিশ পরগনায় দুর্নীতির বিস্তৃত জাল গড়ে তুলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনও আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ সামনে আসেনি।অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। দেবরাজের গ্রেফতারের পর এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেবরাজের সম্পত্তির একটি অংশ অদিতি মুন্সির নামেও ছিল। পাশাপাশি তিনি আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখার দাবি জানান।উল্লেখ্য, আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি। চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার করা হল তাঁকে। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুলাই ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal