• ৫ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Il

রাজ্য

 উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশি আসন জেতানোই এখন আমাদের লক্ষ্যঃ গুরুং

নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমাদের সমস্যা সমাধানের। কিন্তু কোনও কিছু হয়নি। রবিবার শিলিগুড়ির গান্ধী ময়দানে জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে এই মন্তব্য করলেন বিমল গুরুং। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অনেকবার আলোচনা হয়েছে, ফল শূন্য। গোর্খাদের কথা ভাবেইনি কেউ। গত ১২ বছরে পাহাড়ে বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। এবার রাজু বিস্তা, দিলীপ ঘোষদের বুঝিয়ে দেব, গোর্খাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে ফল কী হয়। পাশাপাশি, তিনি আরও বলেন, আমরা সবরকমভাবে তৃণমূলের হয়ে কাজ করব এখানে। আপনারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিততে সাহায্য করুন। উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশি আসন জেতানোই এখন আমাদের লক্ষ্য। এছাড়াও তিনি বলেন, একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্র দুর্নীতি করছে। রাজু বিস্তাকে সাড়ে চার লাখ ভোটে জিতিয়েছি পাহাড় থেকে। অথচ আমাদের দাবি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। রবিবারের সভা়মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন গুরুং। শীঘ্রই দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পং, মিরিকে জনসভা করবেন বলে তিনি ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন ঃ চোরের মায়ের বড় গলা, নাম না করে রাজীবকে কটাক্ষ অরূপ রায়ের রবিবার, বিনয়দের বিরুদ্ধে সরাসরি জিটিএ-র অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ করলেন। বললেন, কী ভাবে খরচ হচ্ছে জিটিএর টাকা, তার উত্তর চাই। এর জবাব আমরা বুঝে নেব। প্রসঙ্গত চলতি বছর দুর্গাপুজোর পঞ্চমীতে কলকাতায় দেখা দিয়েছিলেন একদা পাহাড়ে দাপুটে মোর্চা নেতা বিমল গুরুংকে। সল্টলেকের গোর্খা ভবনে ঢুকতে বাধা পেয়ে কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপিকে কার্যত তুলোধোনা করেন তিনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অকুণ্ঠ সমর্থন করেন গুরুং। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে অঘোষিত জোটে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২০
রাজনীতি

দিদিমণিকে দেখে মায়া হয়ঃ দিলীপ

মোদিজি কৃষকদের কষ্ট বোঝেন। সেই কারণেই আলুর সহায়ক মূল্য বাড়িয়েছেন। রবিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের মুকুন্দপুরে কিষাণ মোর্চার সভায় যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে এদিন ফের তিনি বলেন, আলুর কাটমানির টাকা যাচ্ছে কালীঘাটের টালির ছাদের নিচে। সব ওখানে জমছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে বলেন, দিদিমণি সব কিছুরই বিরোধিতা করেন। কারণ উনি মানুষের কথা ভাবেন না। তিনি বলেন, যেখানে যা হচ্ছে উনি চিংড়ি মাছের মতো লাফাচ্ছেন। চিন্তায় দিদিমণি শুকিয়ে যাচ্ছেন। দেখে মায়া হয়। উনি ক্ষমতায় থেকেও এই অবস্থা। আর আমরা ক্ষমতায় না থেকেও দিব্যি আছি। সব পাচার বন্ধ। কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্তে নেমেছে। সব সত্য এবার প্রকাশ্যে আসবেই। আরও পড়ুন ঃ শুভেন্দু অধিকারী চলে গেলে দলে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবেঃ রাজীব এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুরে চা চক্রের আসরে শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, অনেক আম পেকেছে তৃণমূলে। শুধু পাড়ার অপেক্ষা। গাছ পাকা আমই ভাল। কার্বাইডে পাকানো আম ভাল নয়। এদিন সকালে চা চক্রে সুদীপ্ত সেনের চিঠি নিয়ে তিনি বলেন, যে চিঠি দিয়েছেন, সিবিআই তার সত্যতা যাচাই করবে দিল্লিতে। সবটাই সিবিআইএর হাতে। তাতে যদি কেউ দোষী হয়ে থাকেন তবে তার বিচার হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সভা প্রসঙ্গে বলেন, লোকজন হবে না মুখ্যমন্ত্রীর সভায়। সেরকম হলে আমরা লোক পাঠিয়ে সহযোগিতা করতে পারি। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন , তৃণমূল হারছে। বিদায় হয়ে যাচ্ছে। তাই শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে। সুশান্ত ঘোষ কোর্টের নির্দেশে ঘরে ফিরছেন। আগে যা হয়েছে, সেটা ভুলে লোকের কাছে প্রায়শ্চিত্ত করুক। ক্ষমা চান, নতুন করে রাজনীতি শুরু করুন।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২০
রাজ্য

সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ সিআইডির

কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাস খুনের মামলায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল সিআইডি। শনিবার এটি আদালতে জমা পড়েছে। খুনের ষড়যন্ত্রে মুকুল রায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১২০ বি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুকুল রায় ছাড়াও এই খুনের ঘটনায় রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বিরুদ্ধে আগেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পণ্ডারি ও আরও একজনের সঙ্গে খুনের আগে ও পরে ফোনে কথা বলেছিলেন জগন্নাথ। জগন্নাথ সরকার এই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ সিআইডির। এফআইআরে নাম ছিল মুকুলের। সন্দেহভাজন হিসেবে আগে জমা দেওয়া চার্জশিটে নাম ছিল মুকুলের। আরও পড়ুন ঃ মেদিনীপুর থেকেই রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করবেন শুভেন্দু অধিকারীঃ দিলীপ এদিন মুকুল রায় বলেন, সত্যজিত বাচ্চা ছেলে। আমি এই খুনের ব্যাপারে জানি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো পুলিশমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশেই তো এই চার্জশিট হয়েছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, বুকে হাত দিয়ে বলুন , মুকুল কি খুন করতে পারেন ? তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা আছে। আমার আইনের উপর ভরসা আছে। আইনের পথেই লড়ে নেব। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি গুলি করে খুন করা হয় সত্যজিত বিশ্বাসকে। সেই খুনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তখন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল আদালত। তবে আদালত জানিয়েছিল, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করতে হবে। নদিয়া জেলায় যেতে পারবেন না তিনি।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
রাজনীতি

জানুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবেঃ কৈলাস বিজয়বর্গীয়

ধর্মের কারণে অত্যাচারের শিকার হয়ে যাঁরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এদেশে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু করবে মোদী সরকার। জানুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, শনিবার বারাসতে আর নয় অন্যায় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি আরও বলেন, মোদি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেটা তারা অবশ্যই পালন করবে। রাজ্য সরকার বিরোধিতা করলেও নাগরিকত্ব দেওয়া থেকে আটকে রাখতে পারবে না। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার শুধু ৩০ শতাংশ মানুষকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের দিকে তাকাচ্ছেই না। আরও পড়ুন ঃ পূর্ব মেদিনীপুরের দুই ব্লক সভাপতিকে সরিয়ে দিল তৃ্ণমূল নেতৃত্ব কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই কৃষকদের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার চলছে। সিন্ডিকেট রাজ চলছে এখানে। কৃষকদের উপর শোষণ চলছে। বাংলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি শোষিত। এই তৃণমূল সরকারের উপর রাজ্যবাসী নারাজ। বাংলার মানুষের সমর্থনে আছে বিজেপি। তাঁর কথায়, এই সরকারের উপর মন্ত্রীরাও নারাজ। বর্ষীয়ান নেতারা অসন্তুষ্ট। শুভেন্দু-ই তার উদাহরণ। পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, সংখ্যালঘুরাও বাংলায় তৃণমূল সরকারের উপর নারাজ। কারণ কেউ দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচারকে সমর্থন করে না। এছাড়াও তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করেন। হাতে হাতে লিফলেট দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
রাজ্য

মেদিনীপুর থেকেই রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করবেন শুভেন্দু অধিকারীঃ দিলীপ

পূর্ব মেদিনীপুর থেকেই বাংলায় পরিবর্তনের সূত্রপাত হবে বলে দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে বালিঘাইতে প্রাতঃভ্রমণ ও চা চক্র করেন তিনি। সেখানে দিলীপবাবু বলেন, বিজেপিতে অনেকে এসেছেন। এসে পদ পেয়েছেন। এমএলএ, এমপি করেছি। মুকুল রায়কে এমপি সহ অনেক পদ দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে বেশি লাফালাফি করলে ওখানে চাকরবৃত্তি করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মেদিনীপুর থেকেই রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করবেন শুভেন্দু অধিকারী। আরও পড়ুন ঃ আসানসোলের বারাবনিতে তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষ , আহত ২ এদিন নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, কোলে চড়া নেতারা ছড়ি ঘোরাবে, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এদিন দিলীপবাবু এগরায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে পাঁচটি বাড়িতে গৃহসম্পর্ক অভিযান করেন তিনি। এদিকে , এদিন সকালে দিলীপ ঘোষের চা চক্র উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছিল একটি মঞ্চ। তার উপর দাঁড়িয়ে দলীয় পতাকা হাতে নিতেও দেখা যায় তাঁকে। সেই সময় তাঁকে মঞ্চের উপরে ছিলেন বেশ কিছু স্থানীয় নেতা। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই দেখা যায় সবাইকে নিয়ে নীচের দিকে বসে পড়েছে মঞ্চ। যদিও মঞ্চ খুব উঁচু না হওয়ায় তেমন কেউ চোট পাননি। এই ঘটনার পরই মাইক হাতে নিয়ে বসে যাওয়া মঞ্চে দাড়িয়েই দিলীপের কটাক্ষ, আজ মঞ্চ ভাঙল। মে মাসে সরকারটাই ভেঙে যাবে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
রাজ্য

তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ জেলা সাধারণ সম্পাদকের

শাসক দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে অভিযুক্ত মহম্মদ সেলিমকে গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও হল বর্ধমানে। আর সেই থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খোদ তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস। ঘন্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশি আশ্বাসে ঘেরাও কর্মসূচি উঠে যায়। আরও পড়ুন ঃ হাওড়ায় নতুন পুর কমিশনার ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। বর্ধমানের লোকো কলোনীতে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় । এই ঘটনায় দুই গোষ্ঠীরই বেশ কয়েকজন জখম হয়। বর্ধমানের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসেছিল। সেখানেই ক্যাম্পের দখলদারি নিয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস ও ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিমের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ , শিবু ঘোষ তার বৌদি ও স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। তখন মহম্মদ সেলিমের অনুগামীরা খোকন দাসের অনুগামী শিবু ঘোষকে মারধর করে। এরপর এলাকার একটি বাড়িতে শিবু ঘোষ আশ্রয় নিলে সেখানেও ঢুকে মারধর করা হয়। পাশের দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয় ও ভাঙচুর চালানো হয়। খোকন দাস পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন যদি বিকেলের মধ্যে অভিযুক্তদের না ধরা হয়, তাহলে তারা থানা ঘেরাও করবেন। পুলিশ প্রশাসন ঠিক মত কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিম বলেন, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে হাজির হয়ে শিবু ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকজন দাদাগিরি করছিল। এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে প্রথমে বাদানুবাদ হয়।পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের তাড়া করলে ছুটে পালাতে গিয়ে কেউ আহত হতে পারে। কেউ তাদের মারধর করেনি। আর ওখানে কোন তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস নেই। শিবু ঘোষের দাবি, সেলিমের নেতৃত্বে একদল যুবক তাঁদের উপর হামলা করে। ব্যাপক মারধর করেছে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
কলকাতা

ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ধর্মতলা

টেট উত্তীর্ণদের বলপূর্বক অবস্থান থেকে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বিধানভবন থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করল ছাত্র পরিষদ। সেই সময়ই ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। গার্ড রেল দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। ধর্মতলা চত্বরে পুলিশ মিছিল আটকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও পড়ুন ঃ নিয়োগপত্র সত্ত্বেও কাজে যোগ দিতে বাধা, আলিপুর চিড়িয়াখানায় বিক্ষোভ প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার আপার প্রাইমারির ১৪৩৩৯ পদে নিয়োগের দাবিতে পথে নামে টেট উর্ত্তীর্ণরা। বিকাশভবন অভিযানে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। ফলে স্কুল শিক্ষা কমিশনের দপ্তরের সামনে অবস্থানে বসেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বিকাশ ভবনে গিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাও করেন। কিন্তু বৈঠকে জট কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। তারা অবস্থানরত চাকরিপ্রার্থীদের তুলে দেন। তাদের শিয়ালদহ স্টেশনে পৌছে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন ছাত্র পরিষদ এই কর্মসূচি গ্রহণ করে।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২০
রাজনীতি

যারা বিজেপির ঝান্ডা খুলেছে, তাদের ঘাড় ধরে দলে নিয়ে আসবঃ দিলীপ

দুয়ারে সরকারের নামে বাইক মিছিল বের করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন নাকি তারা দুয়ারে দুয়ারে যাবেন। শুক্রবার জোকায় চা চক্রে হাজির হয়ে এই মন্তব্য করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন এক সভা থেকে তিনি আরও বলেন, কলকাতায় বিজেপি নেই যারা বলছে তাদের চোখে ন্যাবা হয়েছে। এবার কোনও চালাকি খাটবে না। সব ঔষধ তৈরি আছে। দিদিমনি এবার হারবে। গঙ্গার ওপারে তৃণমূল কে ঝান্ডা তুলতে দেব না। পুরসভার ভোট আমাদেরই করতে হবে। প্রার্থী পাবেন না। এজেন্ট পাবেন না। আমাদের সাথে যা যা করেছেন আমরা তাই তাই করব। দিদিকে ৫০ টা সিটে আটকে রাখব। আরও পড়ুনঃ ফের মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ দিলীপ ঘোষের তিনি দাবি করেন, বিজেপি শক্তিশালী হচ্ছে তাই সিন্ডিকেট বন্ধ হচ্ছে। নতুন সময় নতুন বাংলা আমরা গড়ব। যারা বিজেপির ঝান্ডা খুলেছে, তাদের ঘাড় ধরে বিজেপিতে নিয়ে আসব। অভিষেকের নাম না করে তিনি বলেন, খোকাবাবু আমাকে গুন্ডা বলেছে। এই সমস্ত বন্ধ করতে গুন্ডামি করব। তার দাবি, অর্ধেক কাউন্সিলর লাইন দিয়ে রেখেছে বিজেপিতে আসার জন্য। পুলিশও এখন বিজেপিকে চাইছে। পুলিশকে আমরা তাঁদের সন্মান ফিরিয়ে দেব। উর্দির সন্মান ফিরিয়ে দেবে বিজেপি। যোগ্য সন্মান ও প্রতিষ্ঠা দেবে বিজেপি। তার দাবি, বিজেপির চিৎকার- চেঁচামেচির পর ডিএ বেড়েছে। কৃষক প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, কৃষকদের শোষণ করা হচ্ছে এ রাজ্যে। কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী ৬ হাজার টাকা করে দিচ্ছে। কিন্তু এই রাজ্যের কৃষকরা তা পাচ্ছে না। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তার মন্তব্য, হাসপাতালে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। কোনও ডাক্তার, নার্স নেই। আয়ুস্মান প্রকল্প চালু করলে মানুষ চিকিৎসা করাতে সুবিধা পেত। বাইরে গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারত। দিদিমনির কাছে টাকা এলে গরিব মানুষ সেই টাকা পাবে না।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২০
রাজনীতি

যারা বিজেপির ঝান্ডা খুলেছে, তাদের ঘাড় ধরে দলে নিয়ে আসবঃ দিলীপ

দুয়ারে সরকারের নামে বাইক মিছিল বের করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন নাকি তারা দুয়ারে দুয়ারে যাবেন। শুক্রবার জোকায় চা চক্রে হাজির হয়ে এই মন্তব্য করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন এক সভা থেকে তিনি আরও বলেন, কলকাতায় বিজেপি নেই যারা বলছে তাদের চোখে ন্যাবা হয়েছে। এবার কোনও চালাকি খাটবে না। সব ঔষধ তৈরি আছে। দিদিমনি এবার হারবে। গঙ্গার ওপারে তৃণমূল কে ঝান্ডা তুলতে দেব না। পুরসভার ভোট আমাদেরই করতে হবে। প্রার্থী পাবেন না। এজেন্ট পাবেন না। আমাদের সাথে যা যা করেছেন আমরা তাই তাই করব। দিদিকে ৫০ টা সিটে আটকে রাখব। আরও পড়ুনঃ ফের মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ দিলীপ ঘোষের তিনি দাবি করেন, বিজেপি শক্তিশালী হচ্ছে তাই সিন্ডিকেট বন্ধ হচ্ছে। নতুন সময় নতুন বাংলা আমরা গড়ব। যারা বিজেপির ঝান্ডা খুলেছে, তাদের ঘাড় ধরে বিজেপিতে নিয়ে আসব। অভিষেকের নাম না করে তিনি বলেন, খোকাবাবু আমাকে গুন্ডা বলেছে। এই সমস্ত বন্ধ করতে গুন্ডামি করব। তার দাবি, অর্ধেক কাউন্সিলর লাইন দিয়ে রেখেছে বিজেপিতে আসার জন্য। পুলিশও এখন বিজেপিকে চাইছে। পুলিশকে আমরা তাঁদের সন্মান ফিরিয়ে দেব। উর্দির সন্মান ফিরিয়ে দেবে বিজেপি। যোগ্য সন্মান ও প্রতিষ্ঠা দেবে বিজেপি। তার দাবি, বিজেপির চিৎকার- চেঁচামেচির পর ডিএ বেড়েছে। কৃষক প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, কৃষকদের শোষণ করা হচ্ছে এ রাজ্যে। কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী ৬ হাজার টাকা করে দিচ্ছে। কিন্তু এই রাজ্যের কৃষকরা তা পাচ্ছে না। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তার মন্তব্য, হাসপাতালে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। কোনও ডাক্তার, নার্স নেই। আয়ুস্মান প্রকল্প চালু করলে মানুষ চিকিৎসা করাতে সুবিধা পেত। বাইরে গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারত। দিদিমনির কাছে টাকা এলে গরিব মানুষ সেই টাকা পাবে না।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২০
রাজনীতি

ফের মুখ্যমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

ফের বেলাগাম বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার বালিগঞ্জে দলীয় সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, আমি নিউটাউনে থাকি। রোজ প্রাতঃভ্রমণে বেরোই। একদিন ভাবলাম সিলিকন ভ্যালিতে যাই। সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে দেখে এসেছি দিদিমণির কাটআউট উল্টে পড়ে রয়েছে। ঘাস হয়ে রয়েছে। ছাগল চড়ছে। ঢপের চপ খেয়ে খেয়ে আমাদের পেট ফুলে গেল। আপনার কথা আর কেউ বিশ্বাস করে না। আরও পড়ুন ঃ আর কোনও কথা নয়, শুভেন্দুকে হোয়াটসঅ্যা্পে জবাব সৌগতর এখানে পুজো হয়, মেলার উদ্বোধন হয়। কারখানার উদ্বোধন করেছেন? খেলা, মেলা, লীলা দিদির দায়িত্ব। তিনি বলেন, ২০২০ শেষ হলে করোনা আর তৃণমূল দুই মহামারীই যাবে। তৃণমূলের বহিরাগত তত্ত্বের জবাব দিতে গিয়ে এদিন ফের প্রশান্ত কিশোর, শাহরুখ খানের প্রসঙ্গ টানেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। বলেন, এরা বহিরাগত নয়।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২০
রাজ্য

সাড়ে ৯ লক্ষ পড়ুয়াকে ট্যাব দেবে সরকারঃ মমতা

করোনা পরিস্থিতির জেরে অনলাইনে চলছে ক্লাস। কিন্তু যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। এবার সেই সমস্যার সমাধানে কল্পতরু হয়ে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে রাজ্যের সাড়ে ৯ লক্ষ দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াকে বিনামূল্যে ট্যাব দেবে রাজ্য সরকার। সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়াদের এই ট্যাব দেবে সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নে সরকারি কর্মী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সেখানেই একথা জানান তিনি। আরও পড়ুন ঃ জানুয়ারিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের তিন শতাংশ ডিএ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যের ৯ লক্ষ পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে ট্যাব। তাতে কারও বাড়িতে স্মার্টফোন না থাকলেও সে অনায়াসেই করতে পারবে অনলাইন ক্লাস। এছাড়াও রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্কুলে ট্যাব কিংবা কম্পিউটার দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। যার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব হবে। অতিমারী পরিস্থিতিতে কমল বেসরকারি ল্যাবে আরটি-পিসিআর টেস্টের খরচ। এবার থেকে মাত্র ৯৫০ টাকাতেই করা যাবে পরীক্ষা। তার ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত যে যথেষ্ট উপকৃত হবেন, তাতে কোনও দ্বিমত নেই।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২০
রাজনীতি

শুভেন্দুকে নিয়ে সেমসাইড গোল হয়ে গেছে তৃণমূলেরঃ দিলীপ

সাইডলাইনের বাইরে ছিলেন। এখন সেমসাইড গোল হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের। শুভেন্দুকে নিয়ে মাস্টারমশাই এমন ঝটকা খেয়েছেন যে চুপ মেরে গিয়েছেন। প্রাইভেট কোম্পানির চেয়েও খারাপ অবস্থা টিএমসির। শুভেন্দু অধিকারী ইস্যুতে সৌগত রায়ের নাম না করে কটাক্ষ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার তিনি ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন। এদিন শুভেন্দু প্রসঙ্গে দিলীপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কিছু বলার নেই। বৈঠকেরও এখনও পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, এখানে দাঁড়িয়ে আল্টিমেটাম দিচ্ছি, মানুষকে অত্যাচার করবেন না, শুধরে যান। মে মাসের পর সব হিসেব হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিচ্ছে হাসপাতাল সেই কার্ড নেয় না। হাসপাতাল হয়েছে, কিন্তু সেখানে আগে টাকা পরে ডাক্তার। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, এখানে কোথাও চাকরি নেই সব যাচ্ছে বাংলার বাইরে। দুয়ারে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি নিয়ে তার বক্তব্য, দুয়ারে সরকার করছে। বিডিও নাকি বাড়িতে আসবে? কেউ বিশ্বাস করে এই কথা? কত রকম সাথী কত রকম শ্রী! টাকা আসছে কোথা থেকে? কেন্দ্র নাকি টাকা দেয় না! এরা বাড়ি এলে ছাড়বেন না নারকেল গাছে বেঁধে জবাব চাইবেন! তার কটাক্ষ, জঙ্গলমহলে তিনদিন বসেছিল দিদিমণি। কেউ খেতে ডাকেনি কেউ দেখা করতেও আসেনি। এবার বসার জন্য অন্তত একটা খাটিয়া পেয়েছে এরপরে চাটাই ও পাবেন না। আরও পড়ুন ঃ শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এলে স্বাগতঃ মুকুল অভিষেককে কটাক্ষ করে তার মন্তব্য, ভাইপোকে কি ভাগ্নে বলব? আদর করে বলতাম এত রাগ করার কী আছে? তিনি তৃণমূল নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, প্রত্যেক নেতা রাত হলেই পার্টি, বোতল। সবকটা নেতার চেহারা দেখুন, টাকা কোথা থেকে এলো? হয় সিন্ডিকেটের টাকা না হলে পঞ্চায়েতের ঝাড়া টাকা। সবকটাকে কোমরে দড়ি পরিয়ে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাব। সব নেতাদের নীল-সাদা বাড়ি গাড়ি। এই বাড়ি গাড়ি মে মাসের পরে ভোগ করতে দেব না। সব অকশন করব। কে কিনবেন ভেবে রাখুন। বুধবার থেকেই ইকো পার্কে তৃণমূল কর্মীরা সব বেচে দে টি-শার্ট পরে শরীরচর্চা করতে শুরু করেন। ঠিক দিলীপ ঘোষ যেখানে রোজ হাঁটতে যান, তার উল্টো দিকে দাঁড়িয়েই তৃণমূল এই কর্মসুচি পালন করছে। আজ দিলীপবাবু বলেন, এটা রাজনীতি করার জায়গা নয়, শরীরচর্চা করার জায়গা। ওরা সব সিন্ডিকেট করে। মোদীজির ফিট ইন্ডিয়া আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে ওরা শরীরচর্চা করছেন। যদিও ইকো পার্কে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে ঘোরা উচিত কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিউটাউনের যে অঞ্চলে দিলীপ ঘোষ আজ চা-চক্র করেন, সেই এলাকায় সিন্ডিকেটের রমরমা বলে বারবার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাই দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বারবার সিন্ডিকেট ইস্যু ঘুরে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে মিহির, নিশীথকে নিয়ে দিলীপ জানান, ওরা গতকাল রাতে এসেছিলেন। দিল্লি থেকে ফিরে উনারা আমার সঙ্গে কথা বলেন। দলীয় কাজকর্ম শুরু করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, আপার প্রাইমারি আন্দোলনকারীদের নিয়ে তুলে দেওয়া নিয়ে তার বক্তব্য গোটা রাজ্যে ১৪৪ করা হচ্ছে। কাউকে মিটিং মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না। মাদ্রাসার টিচারদেরও আন্দোলনের আগে তুলে নেওয়া হয়। মদন মিত্রের প্যাক আপ পোস্ট নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, সন্তুষ্ট করতে এসব কাজ করছেন। পার্টি ও সরকারে নতুন পদ তৈরি করা হচ্ছে। আগে এই কারণে পুরষ্কার চালু করেছিলেন।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২০
রাজ্য

আর নয় অন্যায় কর্মসূচির ঘোষণা বিজেপির

রাজ্য সরকারের দুয়ারে দুয়ারে কর্মসূচির পালটা আর নয় অন্যায় কর্মসূচির ঘোষণা করল বিজেপি। বুধবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে বলেন, সকলের সামনে তৃণমূলের দুর্নীতি, অত্যাচার, স্বৈরাচারের কথা তুলে ধরা হবে। জানালেন, ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। ওইদিন থেকে সব বুথে বুথে এই অভিযান শুরু হবে। ১ কোটির বেশি মানুষের কাছে যাবে বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এদিন তিনি বলেন, আমফানের টাকা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ত্রাণের টাকা পায়নি, শুধুমাত্র তৃণমূলের লোকেরাই ত্রাণের টাকা পেয়েছে। তেমনি করোনার সময় মাস্ক, স্যানিটাইজার নিয়েও দুর্নীতি করেছে এই সরকার। এছাড়াও ২০০৯ সালে আয়লা এসেছিল তখন পাঁচ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র থেকে আসে কিন্তু তখনও সেই টাকা নিয়ে দুর্নীতি হয়। দিলীপের দাবি, আমফানের তদন্তের সাথে সাথে আয়লারও তদন্ত করা হোক। আরও পড়ুন ঃ ভাতা নয় চাকরি চাই , এই দাবিতে যুবশ্রীদের বিক্ষোভ বর্ধমানে দুয়ারে একুশের ভোট। তাই ডিসেম্বরের পয়লা তারিখ থেকেই মানুষের দুয়ারে সরকার। নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত ১২ প্রকল্প-সহ অভাব, অভিযোগ, সমস্যা শুনতে মঙ্গলবার থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকায় দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লকের সমস্ত পরিকাঠামো নিয়ে প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আগামী দুমাস ধরে চারটি পর্যায়ে হবে শিবির। এখান থেকে ১২টি পরিষেবা সংক্রান্ত প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা কার্যত ঘরের দুয়ারে গিয়ে হাতে হাতে পৌঁছে দেবে প্রশাসন। সেই সঙ্গে জনসাধারণের অভাব, অভিযোগ ও সমস্যার কথাও শুনবেন প্রশাসনের কর্মীরা। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর হোয়াটসঅ্যাপ প্রসঙ্গে সৌগত রায়কে কটাক্ষ করে বলেন, শুভেন্দুকে খুশি করতে বুড়ো খোকারা নেমেছিলেন। কাল রাতে আমার কাছে ফোন এল শুনলাম সব ঠিক হয়ে গেছে। সকলের হাসিমুখ। আবার শুনছি এসব। যুবকরা কিছুতেই তৃণমূলের বুড়ো খোকাদের কথা শুনছে না।

ডিসেম্বর ০২, ২০২০
কলকাতা

বাংলার উন্নয়নে বাঙালিদের থেকে অবাঙালিদের ভূমিকা বেশি, বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের

বাংলার উন্নয়নে বাঙালিদের থেকে অবাঙালিদের ভূমিকা বেশি রয়েছে। বুধবার এমনই মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে রোজগারের জন্য বাইরে থেকে বাংলায় আসছেন মানুষ। গঙ্গার পাড়ে জুটমিলে বেশিরভাগ বাংলার বাইরের মানুষ কাজ করতেন। বাংলায় যা উন্নয়ন হয়েছে তাতে বাঙালিদের থেকে অবাঙালিদের অবদান বেশি। রাজ্যে কাজ করা বিহারীরা যদি বহিরাগত হয় তাহলে পিকে কে? প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি শাহরুখ খান বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর হওয়া নিয়েও রাজ্যকে কটাক্ষ করেন। আরও পড়ুন ঃ উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজ্যপাল এছাড়াও এদিন ক্যানিং স্ট্রিটের চায়ে-পে-চর্চায় দিলীপ ঘোষ বলেন, এতদিন তৃণমূলে গৃহযুদ্ধ চলছিল, এখন মানভঞ্জন চলছে। এখানেই শেষ নয়, সরকারি মঞ্চ থেকে দুয়ারে সরকারের নামে দলের প্রচার হলে আইনের দ্বারস্থ হতে হবে। নির্বাচন কমিশনেও যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি বাবুয়া বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, কে গুন্ডা , সবাই জানে। এছাড়াও প্রতিদিনের মতো এদিন সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি যখন যোগাভ্যাস করছিলেন ঠিক সেই সময় কিছুটা দূরে রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আফতাবউদ্দিন কয়েকজন কর্মী নিয়ে সব বেচে দে গেঞ্জি পরে অভিনব কায়দায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখান। এই প্রতিবাদের বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এতদিন দিদির অনুপ্রেরণায় সবকিছু কেনাবেচা করছিলেন, এখন দাদার অনুপ্রেরণায় যোগাভ্যাস করছেন। আমি বলছি ওয়েলকাম, খুব ভালো কথা। কে কাকে বেচছে সে তো সবাই জানে। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার আগে সব বেচে দে। চলুন সব বিক্রি করুন। এরপর হবে সব কিনে নে। এই যে কেনা বেচার যে ব্যবসা , এটা পশ্চিমবাংলায় আর চলবে না।

ডিসেম্বর ০২, ২০২০
রাজনীতি

পিকে'র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরেও নিজের অবস্থানে অনড় শীলভদ্র

শীলভদ্র দত্তের বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধিরা। কিন্তু বরফ গলল না। অনড় রইলেন নিজের অবস্থানে। জানিয়ে দিলেন, আর তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। তবে ২০২১-এ দলের জয় নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী । বলেন, তৃণমূল ২০০টি আসন পাবে। প্রশান্ত কিশোরের দুই প্রতিনিধিকে তিনি জানিয়ে দেন, আমি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। আরও পড়ুনঃ আমিও বাংলা হরফে লিখে গুজরাতি ভাষা বলতে পারি, নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ মমতার প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধিরা তাঁকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়ানোর কথা বলতেই তিনি সরাসরি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন জাহাজ ডুবতে চলেছে। কিন্তু আমি মনে করি ২০২১-এর নির্বাচনে তৃণমূল ২০০টি আসন পাবে। কারণ তৃণমূলের আসল মানুষ তো দলে রয়েছেন।

ডিসেম্বর ০১, ২০২০
কলকাতা

তৃণমূল নেতৃ্ত্বকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ বিজেপি সাংসদের

তৃণমূল এখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়েদের মতো বুড়ো খোকাদের বার করেছেন সোনার বাক্স থেকে। ওটা বুড়োদের পার্টি হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ ফের শাসক দলের নেতৃত্বের উদ্দেশে আক্রমণ শানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ওটা বুড়োদের পার্টি হয়ে গিয়েছে। মাঝখানে যত নেতা ছিল হয় পালিয়েছে, নয় চুপ করেছে, আর সবে মুখ খুলতে শুরু করেছে। দিন কয়েক আগে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেছিলেন, যাঁরা দল (তৃণমূল) ছেড়ে পালাচ্ছেন তাঁরা ইঁদুর। এই প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদের খোঁচা, বাকিরা ইঁদুর হলে সৌগতবাবু কি মোষ? ওঁকে কেউ দলে নেবে না। তাই উনি তৃণমূলে পড়ে রয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কলকাতায় জিততে পারেননি বলে কাঁথি গেছেন। তৃণমূল অর্থবদের দলে পরিণত হয়েছে। যাঁরা নেতা ছিল তাঁরা হয় পালিয়ে গিয়েছেন, নয়তো চুপ করে গিয়েছেন। যাঁদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাঁরাই ওই দলে পড়ে রয়েছেন। আরও পড়ুন ঃ বাংলায় আমদানি করা গব্বর সিংদের মানুষ মেনে নেবে নাঃ ইন্দ্রনীল সেন আজ, মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তৃণমূল সরকারের দুয়ারে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি- সরকার এই ধরণের অনেক প্রকল্প ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষ কিছু পায়নি। পার্টির লোকেরা কাটমানি পেয়েছেন। এগুলো সব স্ট্যান্ট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্টান্ট হচ্ছে। আর কিছু না। একবার রাস্তায় নেমে জিজ্ঞেস করুন কে স্বাস্থ্যসাথী সুবিধা পেয়েছে, সব লোককে বোকা বানানোর রাস্তা। বাংলার লোক আর বোকা হতে রাজি নন। আগের যে সমস্ত কার্ড দিয়েছিল সেগুলো কোথায় গেল তার হিসাব দিতে হবে আর কেউ ভুলবে না। এদিন তাঁর নিশানায় ছিল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরও। তিনি বলেন, বাইরে থেকে লোক এসে কোন নেতা কী পড়বেন, কী খাবেন, কখন ওষুধ খাবেন-সব ঠিক করে দিচ্ছেন। বাংলায় এমন রাজনীতি আগে ছিল না। এই রাজনীতি বাংলার মানুষ মানতে পারবেন না। তিনি জানান, গুণ্ডা মন্তব্যের জেরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে তার কোনও জবাব এখনও মেলেনি।

ডিসেম্বর ০১, ২০২০
কলকাতা

বাংলায় আমদানি করা গব্বর সিংদের মানুষ মেনে নেবে নাঃ ইন্দ্রনীল সেন

বিজেপির সঙ্গে বাংলার আত্মিক যোগাযোগ নেই। সোমবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন, বাংলার জন্য বিজেপির আন্তরিকতা নেই। কিন্তু তৃণমূল বাঙালি অবাঙালি ভাগ করে না। যে গব্বর সিংগুলিকে বাংলায় আমদানি করা হচ্ছে তাদের বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। সেটা সিনেমাতেই ভালো লাগে। ইন্দ্রনীল সেন আরও বলেন, লোকশিল্পীদের পাশে কোনও বিজেপি নেতা দাঁড়ায়নি। লোকশিল্পীদের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। আরও পড়ুনঃ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিশ দিলীপ ঘোষের আইনজীবীর রাজ্যের প্রকল্প পৌঁছে দিতে দুয়ারে দুয়ারে সরকার-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, রাজ্যের প্রকল্প অনুকরণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু কেন্দ্র নয়, অন্য রাজ্যও বাংলাকে অনুকরণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিন তিনি তিনি নাম না করে দিলীপ ঘোষকে মিস্টার বিন বলে উল্লেখ করেন। গুন্ডা শব্দ নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছে সে বিষয়ে ইন্দ্রনীল বলেন, অভিষেক ব্যানার্জীর সৎসাহস আছে তাই মঞ্চ থেকে এ কথা বলতে পেরেছেন। বলেন, গুন্ডামি মানুষ সিনেমায়, যাত্রায় বা নাটকে দেখতে ভালবাসে কিন্তু এলাকায় দেখতে অভ্যস্ত নন। বাংলার মানুষ গুন্ডাদের এখানে আমদানিও করবেন না।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
কলকাতা

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিশ দিলীপ ঘোষের আইনজীবীর

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিশ পাঠালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের আইনজীবী। তাঁর পক্ষের আইনজীবী পার্থ ঘোষ সোমবার আইনি নোটিশ পাঠিয়ে তৃ্ণমূল সাংসদকে মন্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেছেন। আগামী তিনদিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছেন। অন্যথায় অন্য পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পার্থ ঘোষ আরও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে তাঁর মক্কেলের সম্মানহানি করা হয়েছে। আরও পড়ুনঃ আলুর দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কেটে নির্বাচনী টাকা তুলছে তারাঃ দিলীপ প্রসঙ্গত, রবিবার সাতগাছিয়ার সভা থেকে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষ গুন্ডা, মাফিয়া। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন ক্ষমতা থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার। এরপর সোমবার দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারি দেন, আমি সাধারণ মানুষের জন্য আমি কাজ করছি। এটা যদি গুন্ডামো হয়, তাহলে তা আরও করব।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
রাজ্য

শিলিগুড়িতে একই মঞ্চে ডান - বাম উভয় পক্ষ

মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি উন্মোচনের মঞ্চে একই সারিতে দেখা গেল তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস জনপ্রতিনিধিদের। সোমবার শিলিগুড়ি কোর্ট মোড় লাগোয়া এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য, মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক শঙ্কর মালাকার সহ অনেকেই। পুরমন্ত্রী জানান, মানুষের হৃদয় থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম মুছবে না। একই সঙ্গে রাজ্যপাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পদ অলংকৃত করার মতো ব্যক্তি উনি কি না তা জানি না। বলতে চাই ভগবান ওঁকে ক্ষমা করুন। কী বলছেন তা উনি নিজেও জানেন না। তিনি আরও বলেন, চায়ে পে চর্চা আসলে বিজেপির খরচা । দিলীপ ঘোষ কাকে কী সম্বোধন করছেন তা তাঁর রুচি ও সংস্কৃতির বিষয়। আমার নয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই লড়াই নীতির লড়াই। ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই নয়। আরও পড়ুন ঃ সেবক হিসেবে বরাবর আপনাদের সঙ্গে থাকবঃ শুভেন্দু অশোকবাবু জানান, তারা পুরসভার তরফ থেকে সরকারি কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পুর-প্রশাসনের শীর্ষে থাকা পুরমন্ত্রী আসায় তাঁরা খুশি বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রাজনীতি নেই বলে দাবি তাঁর। মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেছেন, অতীতে তাঁকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠা্নে ডাকা হত না। এখন তৃ্ণমূলের হুঁশ ফিরেছে। আগামীদিনে সেই হুঁশ রেখে তৃণমূল সরকার চললে সকলেরই ভাল হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
রাজনীতি

ভাইপোকে খোকাবাবু বলে কটাক্ষ দিলীপের

কে গুন্ডা সে তো পঞ্চায়েত নির্বাচনেই আমরা দেখেছি। সোমবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে অভিষেকের গতকালের মন্তব্যের পালটা আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অভিষেক ৭ কোটি টাকার বাড়িতে থাকে, কনভয়ে ২৫টা গাড়ি ও আরও অনেক কিছু থাকে তাই কে মাফিয়া বোঝাই যাচ্ছে। হতাশা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলে এসব বলছেন। আদর করে ভাইপো বললে আপত্তি কোথায়। আমি ভাইপো বলি না। আমি খোকাবাবু বলছি। ওঁকে খোকাবাবু বলব না তো কী! উনি কোলে চড়ে রাজনীতিতে এসেছেন, এখনও কোলেই আছেন। দিল্লিতে যুবরাজকে পাপ্পু বলা হয়। পাপ্পু বলা হবে। ভাইপো বললে ক্ষতি কি হয়েছে? চিৎকার চেঁচামিচি করে কিছু হবে না। লোক জানেন সব কিছু। আরও পড়ুন ঃ তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করে কোনও লাভ নেইঃ সুজিত তিনি আরও বলেন, যে লোকেরা পার্টির জন্য প্রাণ দিল তারা আজ ব্রাত্য আর উনি কোলে চড়ে এসে সাংসদ হয়ে গেলেন। বিগত ১০ বছরে প্রাইভেট প্রপাটি বানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের কালিঘাট থেকে বের করে জায়গা দখল করা হয়েছে। আমাকে গুন্ডা, মস্তান বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য যা করছি তা যদি গুন্ডামি হয় তবে তাই। আমি সবে গুন্ডামি শুরু করেছি। গুন্ডামির কিছুই দেখেননি এখনও। অভিষেকের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা আইনজীবীরা দেখছেন। তবে ক্ষমতায় এসে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। মানুষ সব দেখছেন ও বুঝছেন। মানুষ তুলতেও পারে-ফেলতেও পারেন।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 66
  • 67
  • 68
  • 69
  • 70
  • 71
  • 72
  • ...
  • 76
  • 77
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারত

ক্রাইস্টচার্চে চার উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় টিম ইন্ডিয়ার, শেষ মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিলেন নমন ধীর। তবে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েও বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে পারল না ভারত।সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারতনিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতেই রুদ্ধশ্বাস জয় ভারতের। গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২২৫ রানের পাহাড় গড়েও শেষরক্ষা হল না কিউয়িদের। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো অর্ধশতরান এবং শ্রেয়স আইয়ারের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর শেষবেলায় ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন নমন ধীর। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেলেন সূর্যকুমার যাদবরা।নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ফিলিপ্সের দাপটটস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে এগোতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করতে না পারায় ক্রমশ হাত খুলে খেলার সুযোগ পান কিউয়ি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলে স্বাগতিক দল। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নজিরও গড়ে নিউজিল্যান্ড।কিউয়িদের ইনিংসের মূল আকর্ষণ গ্লেন ফিলিপ্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। ৪৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপ্স। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের সম্ভার। ইনিংসের শেষ বলেও সুইচ হিটে চার মেরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এই কিউয়ি তারকা।ফিলিপ্সকে যোগ্য সঙ্গত দেন ফিন অ্যালেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। এ ছাড়া বেভন জ্যাকবসের ৩১ এবং ড্যারিল মিচেলের ২৮ রানের ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ও ময়াঙ্ক যাদব একটি করে উইকেট নেন। তবে রান আটকানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেষের দিকে কিউয়ি ব্যাটারদের আগ্রাসন সামলাতে পারেননি তাঁরা।সঞ্জুর বিধ্বংসী শুরু, পাওয়ার প্লে থেকেই চাপে কিউয়িরা২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার। সঞ্জুর ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যায় দ্রুত বাড়তে থাকে ভারতের রান। মাত্র ২৩ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে কিউয়ি বোলারদের কোনও সুযোগই দিতে চাননি ভারতীয় ওপেনার।অভিষেক শর্মাও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে দলের রানকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ফলে পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমেনি ভারতের। সপ্তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান সঞ্জু। আট ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১১২।কিন্তু এই ঝোড়ো শুরুই শেষ পর্যন্ত সহজ জয় এনে দিতে পারেনি ভারতকে। স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই বদলাতে থাকে ম্যাচের ছবি। ব্রেসওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক। এরপর তিলক বর্মার ব্যাট থেকেও প্রত্যাশিত রান আসেনি। ১১ বলে মাত্র ছয় রান করে আউট হন তিনি।এর মধ্যেই স্যান্টনারের বলে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংসে আটটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিলেও ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি এই ওপেনার।মাঝের ওভারেই পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্রসঞ্জু আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিংয়ে চাপ বাড়তে থাকে। তিন নম্বরের পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে নামা ঈশান কিষাণও ব্যর্থ হন। মাত্র তিন বল খেলে এক রান করে ফেরেন তিনি। একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান তুলে ফেলা ভারত অল্প সময়ের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।এরপর অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২৪ রান করে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ম্যাচের রাশ ক্রমশ কিউয়িদের হাতে চলে যাচ্ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। ২৮ বলে ৪২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হন শ্রেয়স।শেষ ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। চাপের মুখে ম্যাচ তখন কার্যত দোলাচলে। এমন পরিস্থিতিতেই ক্রিজে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন নমন ধীর। দ্রুত রান তুলে ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। কিউয়ি বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ভারতকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেন এই ব্যাটার।শেষ ওভারে নমনের বিস্ফোরণ, জয় ভারতেরশেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল আট রান। উত্তেজনায় টানটান ম্যাচে তখন সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। কিন্তু নমন ধীর কোনওরকম স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েননি। বরং সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নমন।মাত্র ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। সঞ্জুর বিধ্বংসী সূচনা এবং শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর নমনের এই ফিনিশিং ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনে দেয়। বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসও নিঃসন্দেহে বাড়াবে এই জয়।কিউয়িদের ফিল্ডিং ব্যর্থতাও ভারতের জয়ের বড় কারণতবে ভারতের জয়কে সহজ করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচটি ক্যাচ ফেলে দেন কিউয়ি ফিল্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা ম্যাচে টিকে থাকার পাশাপাশি রান তোলার গতি বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতার মূল্য দিতে হয় স্বাগতিক দলকে।যদিও ভারতের ফিল্ডিংও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। দুই দলের ফিল্ডিংয়েই একাধিক ভুল চোখে পড়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে জয় এলেও ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল বোলিংম্যাচ জিতলেও ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা কম। ২০ ওভারে ২২৫ রান খরচ করে কিউয়িদের বড় স্কোরে পৌঁছতে দেওয়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়াবে টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা ভারতের দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।বড় রান তাড়া করে জয় পাওয়ার নজির আগেও রয়েছে ভারতের। তবে এই ম্যাচে ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি সামলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, বোলারদের কাছ থেকেও তেমনই কার্যকর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করবে দল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে সেই ঘাটতি মেটানোই হবে ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।সব মিলিয়ে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি ভারতের কাছে একদিকে স্বস্তির জয়, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং, শ্রেয়স আইয়ারের লড়াই এবং নমন ধীরের অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ম্যাচ জিতিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে না পারলে পরের ম্যাচগুলিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে নজর থাকবে সেই দিকেই।ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফলনিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২২৫/৪ভারত: ১৯.৪ ওভারে ২৩০/৬ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ীসঞ্জু স্যামসন: ৩৩ বলে ৬৭শ্রেয়স আইয়ার: ২৮ বলে ৪২নমন ধীর: ১৫ বলে অপরাজিত ৪২গ্লেন ফিলিপ্স: ৪৮ বলে অপরাজিত ৮২

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইস্টবেঙ্গলের ঘরে নতুন লগ্নির আলো! উৎসবেই কি চমক, বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে আসছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম?

ইমামির বিদায়ের পর লাল-হলুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনায় নতুন আশার সঞ্চারইমামি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিনিয়োগকারী হিসেবে সম্পর্কের অবসানের পর থেকেই নতুন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধানে ছিল ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার লাল-হলুদের বিনিয়োগকারী হওয়ার দৌড়ে উঠে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) নাম। সূত্রের খবর, ক্লাব ও সংস্থার মধ্যে কথাবার্তা বেশ কিছুটা এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে উৎসবের মরশুমেই নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারে ইস্টবেঙ্গল। যদিও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া শুধুমাত্র আর্থিক সংস্থানের প্রশ্ন নয়, আগামী দিনের ফুটবল পরিকল্পনার সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দল গঠন, ভালো মানের ফুটবলারদের ধরে রাখা, নতুন প্রতিভা তুলে আনা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নসব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অর্থের জোগান প্রয়োজন। সেই জায়গায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক লাল-হলুদ শিবিরকে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সংস্থাকে ঘিরে প্রত্যাশাহলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপ (টিসিজি)। এই সংস্থা হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রধান উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, সংস্থাটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও অংশীদারি রয়েছে। ফলে এই সম্ভাব্য সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।তবে শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্লাবের সম্ভাব্য সম্পর্কের গুরুত্ব যতই থাকুক, চুক্তির আর্থিক কাঠামো এবং পরিচালন সংক্রান্ত শর্তগুলি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন বিনিয়োগকারী ক্লাবের দৈনন্দিন পরিচালনায় কতটা ভূমিকা নেবে, ফুটবল দলের বাজেট কতটা বাড়বে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, সে সবই এখন দেখার বিষয়।ইমামির বিদায়েই শুরু নতুন অধ্যায়গত ২৫ অগস্ট বিবৃতি দিয়ে ইমামি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের ভূমিকার অবসান ঘটছে। গত আইএসএল মরশুম শেষ হওয়ার পর থেকেই এই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ইমামির জায়গায় লাল-হলুদের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবে কোন সংস্থা?চলতি মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জার্সিতে ছোট আকারে ফিরে আসে ইমামির লোগো। তার আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে গেলেও ক্লাবের সঙ্গে স্পনসর হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী সংস্থাটি।পরে ইমামির বিবৃতিতেও সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, বিনিয়োগকারী ও পরিচালন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরে এলেও স্পনসর হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকবে তারা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, বিনিয়োগের অধ্যায় শেষ হলেও লাল-হলুদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার পথে হাঁটেনি ইমামি।আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটানোর অপেক্ষানতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফুটবলারদের বেতন বকেয়া থাকার খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। নতুন মরশুমে দল গঠন, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য খরচের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।এই পরিস্থিতিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসা লাল-হলুদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলতে পারে।তবে নতুন বিনিয়োগকারী এলেই যে সমস্ত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ, অর্থ প্রদানের সময়সূচি, ক্লাব পরিচালনায় অংশীদারিত্ব এবং ফুটবল বিভাগের জন্য বরাদ্দপ্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শর্তগুলির উপরেই নির্ভর করবে নতুন সমীকরণে ইস্টবেঙ্গল কতটা লাভবান হবে।উৎসবের মরশুমেই কি লাল-হলুদে নতুন সূর্যোদয়?ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী পাওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। ঐতিহ্য, বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী এবং সাফল্যের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক ফুটবলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক ভিত। সেই ভিত মজবুত করার লক্ষ্যেই এখন নজর নতুন বিনিয়োগকারীকে ঘিরে।সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে থাকায় উৎসবের মরশুমে ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না চুক্তি সম্পূর্ণ হচ্ছে এবং ক্লাব বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসছে, ততক্ষণ বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখতে হবে।শেষ পর্যন্ত হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া বাঁধা হলে তা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই ঘোষণাই স্পষ্ট করবে, নতুন বিনিয়োগের হাত ধরে লাল-হলুদ শিবির কতটা নতুন পথে এগোতে পারে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর পুজোর আগেই আগাম প্রস্তুতি! শ্যামপুরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। শ্যামপুরে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, নদীবাঁধ মেরামতি, কর্মসংস্থান ও আবাস যোজনা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি।শ্যামপুর: উৎসবের আনন্দের মধ্যে চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় যে বেদনার ছায়া নেমে এসেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চায় রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের পুজোয় যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজ্যের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দিন বিশেষ গুরুত্ব পায় চোরবাগানের দুর্ঘটনা। প্রথম সপ্তমীর রাতে ওই ঘটনায় প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বেদনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ঘটনার তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপর্যয় আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। বাকি ছটি পরিবারের সঙ্গে ২৩ ও ২৪ তারিখের মধ্যে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনহারা পরিবারের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি।শ্যামপুরের অতীত প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণবিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের কয়েক বছর আগের অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এক সময়ে যাঁরা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, তাঁদেরই এখন প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর আরও মন্তব্য, যাঁরা দুর্গাঠাকুর ভেঙেছিলেন, তাঁদের মা দুর্গাই ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।১৪ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে ১০০ শয্যারশ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এলাকায় ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার আশ্বাস দেন তিনি। শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নদীবাঁধের ভাঙন রোধে উদ্যোগ, কাঠের সেতুর বদলে পাকা ব্রিজপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে শ্যামপুরের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই এলাকায় নদীবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকা কাঠের সেতুগুলিকে পাকা সেতুতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।শ্যামপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।আগামী ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও এ দিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে কোন কোন দপ্তরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং তার বিস্তারিত সময়সূচি কী, সে বিষয়ে এ দিনের বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজের নির্দেশ, আবাস যোজনায় আরও ২৫ লক্ষ বাড়িগ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি-জিরামজি প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে আগামী ছমাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১২৫ দিনের কর্মসূচিতে ৩৭০ ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে আরও ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।চোরবাগানের দুর্ঘটনা এ দিনের অনুষ্ঠানে শোক ও সতর্কতার বার্তা নিয়ে এলেও, একই মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং আবাসন নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্পগুলির কতটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
দেশ

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে ‘না’, জামিনের শর্তে কী মুচলেকা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা?

এক সপ্তাহ তিহাড়ে কাটিয়ে মুক্তি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনজ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় দুই নেতা।এক সপ্তাহ জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। বুধবার বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তবে মুক্তির পথ একেবারে শর্তহীন ছিল না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনুমতি ছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচি না করা এবং শান্তিভঙ্গকারী কোনও কাজে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়েছে দুই নেতাকে। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন তাঁরা।প্রশাসনের নির্ধারিত বিধি উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর অভিযোগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরেও সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশি পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে দুই নেতার জেলযাত্রা।জামিনের শর্তে কী জানালেন দুই নেতা?জামিনের শুনানিতে আশুতোষ ও সৌরভের বক্তব্য ছিল, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা।প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনে চলার এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।তিন দিনের অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদন খারিজসূত্রের খবর, আশুতোষ ও সৌরভকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বুধবার বিকেলে জামিনের নির্দেশ দেওয়ার পর রাতের দিকে তাঁদের তিহাড় জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফলে প্রায় এক সপ্তাহের বন্দিজীবনের অবসান ঘটে দুই নেতার।জেল থেকে বেরিয়েও অবস্থান বদল নয়জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি আশুতোষ ও সৌরভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দুই নেতাকে স্লোগান দিতেও দেখা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের মুখে শোনা যায়, ভারতমাতা কি জয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ-এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান।অন্যদিকে, জেলজীবন নিয়ে আশুতোষের মন্তব্যও নজর কেড়েছে। মুক্তির পর তিনি জানিয়েছেন, তিহাড় জেলের খাবার বেশ ভালো। তবে জেলবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা জামিনের শর্তকোনও কিছুই যে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিতে প্রভাব ফেলেনি, তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগানে সেই বার্তাই স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, জামিনে মুক্তি পেলেও ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতার আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। একদিকে জামিনের শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানএই দুইয়ের মধ্যে আগামী দিনে তাঁরা কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal