• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Hyderabad

বিদেশ

বন্ডি হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় যোগ! হায়দরাবাদের পরিবার বহু আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল জঙ্গির সঙ্গে

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর এবার সামনে এল হামলাকারীদের ভারতীয় যোগের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বন্ডি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সাজিদ আক্রম ও তাঁর ছেলে নবিদ আক্রমের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বহু বছর আগেই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছিল। হায়দরাবাদের পুরনো শহরে থাকা পরিবারের সদস্যদের দাবি, সাজিদ একজন খ্রিস্টান মহিলাকে বিয়ে করার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজিদ আক্রম আদতে পুরনো হায়দরাবাদের বাসিন্দা। এখনও সেখানে তাঁর দুই ভাইসহ কিছু আত্মীয় থাকেন। তবে পরিবারের দাবি, ২০০৯ সালে বাবার মৃত্যু হলেও সাজিদ ভারতে আসেননি। এমনকি অসুস্থ মায়ের খোঁজও নেননি তিনি।রবিবার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের উৎসব হানুকা চলাকালীন ভয়াবহ হামলা চালায় সাজিদ ও তাঁর ছেলে নবিদ। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল ১০ বছরের এক শিশু এবং নাৎসি জার্মানির হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ৮৭ বছরের এক বৃদ্ধ। এই হামলাকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্তে জানা গেছে, হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেই সাজিদ ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে নবিদ অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার করছিলেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে একাধিকবার হায়দরাবাদে এসেছিলেন সাজিদ। শেষবার তিনি ভারতে এসেছিলেন ২০২২ সালে।ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মারা যান সাজিদ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর ছেলে নবিদ। হায়দরাবাদে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নজরদারি শুরু করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো ঘটনার আন্তর্জাতিক যোগ ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

কলকাতায় বিতশ্রদ্ধ, হায়দরাবাদে হাসিমুখ মেসি! কেন এত ফারাক?

ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) দেখে হাসিতে ভরে উঠল হায়দরাবাদ। মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে বল পাস করার চেষ্টা, মাঠ জুড়ে হাঁটাহাঁটি, দর্শকদের দিকে শট, খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানোসব মিলিয়ে আবেগে ভাসলেন মেসি। এমন দৃশ্য কলকাতাতেও দেখা যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। যে শহর ফুটবলের পাগল বলে পরিচিত, সেই কলকাতাই মেসিকে (Lionel Messi) হাসিমুখে ফিরিয়ে দিতে পারল না। উল্টো দিকে হায়দরাবাদ দেখাল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সন্ধে ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ পৌঁছন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ল্যুই সুয়ারেজ় এবং রড্রিগো ডিপল। প্রথমে তাঁরা ভিআইপি বক্সে বসে প্রদর্শনী ম্যাচ উপভোগ করেন। এরপর মাঠে নামেন মেসি (Lionsl Messi)। সঙ্গে ছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। মুখ্যমন্ত্রী পুরো ফুটবল জার্সি পরে মাঠে নামেন। মেসির দিকে বল পাস করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। অন্যদিকে সহজ ভঙ্গিতেই গোল করেন এলএম১০। তখন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস।মাঠে নেমে এক গাল হাসি নিয়ে গোটা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন মেসি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলান। দর্শকদের দিকে শট মারেন। গ্যালারিতে বসে থাকা প্রায় ৪০ হাজার দর্শক তখন আবেগে ভেসে যান। হাততালি, চিৎকারে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। মেসির মুখে ছিল ম্যাচ জেতার পরের সেই চওড়া হাসি ।কলকাতায় এই ছবিটা দেখা যায়নি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড়ের ঠেলাঠেলি, বিশৃঙ্খলা আর ভাঙচুরের জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় মেসির গোট ট্যুরে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েও পড়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে হয়। কারণ ততক্ষণে যুবভারতী ছাড়েন মেসি। স্টেডিয়ামের ভিতরে তখন ভাঙচুর চলছিল।কলকাতা থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছলেও মেসির মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। বরং কলকাতার তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিতে ও খুশি দেখায় তাঁকে। কারণ সেখানে অনুষ্ঠান ঘিরে কোনও হুড়োহুড়ি বা অযথা ভিড় ছিল না। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে তিনি মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভিড় করেননি। বরং ছোট ফুটবলার বা শিশুদের আগে জায়গা করে দেন। পরে তাঁকে মেসির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। তাঁর এই সৌজন্য সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।কলকাতায় যেখানে রাজনৈতিক নেতা ও অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলার ভিড়েই ঢেকে গিয়েছিল মেসিকে দেখার সুযোগ, সেখানে হায়দরাবাদে দর্শকরাই ছিলেন কেন্দ্রবিন্দুতে। কলকাতায় অনেক দর্শক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করেও মেসির মুখটুকু দেখতে পাননি। হায়দরাবাদে দর্শকরা পেয়েছেন মাঠের মেসিকে, হাসি, শট আর আবেগে ভরা মুহূর্ত (Lionesl Messi)।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মেসির হায়দরাবাদ সফর অনেক আগে থেকে ঠিক ছিল না। কলকাতা, মুম্বই বা দিল্লির মতো শহরের তালিকায় প্রথমে ছিল না হায়দরাবাদ। শেষ মুহূর্তে সংযোজন হয় এই শহরের নাম। তবুও ভিড় সামলে, সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করে নজির গড়ল নিজামের শহর। আর কলকাতা? সেই ছবি ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্ব দেখে ফেলেছে।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

কলকাতার হোঁচট, হায়দরাবাদের সাফল্য: মেসিকে ঘিরে দুই শহরের দুই ছবি

বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে শনিবার একই দিনে ভারতের দুই শহরে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সকালে কলকাতায় যেখানে বিশৃঙ্খলা, ভিড় ও নিয়ন্ত্রণহীনতার ছবি উঠে এল, সন্ধ্যায় হায়দরাবাদ সেখানে তুলে ধরল পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এক আদর্শ মডেল। ফুটবলপ্রেমে পিছিয়ে না থেকেও আয়োজনের দিক থেকে কলকাতা যে বড়সড় প্রশ্নের মুখে, তা স্পষ্ট করে দিল এই দুই অনুষ্ঠান।শনিবার সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতি ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। অতিরিক্ত লোকজন, ছবি তোলার হুড়োহুড়ি, নিরাপত্তার ঘাটতিসব মিলিয়ে মেসিকে ঠিকমতো দেখতেই পাননি বহু দর্শক। সেই ঘটনার পর দেশের অন্য শহরগুলিতে মেসির কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের পর সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিল হায়দরাবাদ।নির্ধারিত সময় মেনেই মেসি পৌঁছন নিজ়ামের শহরে। কলকাতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে হায়দরাবাদে ছিল কড়া ও সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়ামপ্রতিটি ধাপে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা। সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে উপ্পল স্টেডিয়ামে পৌঁছন মেসি। তখন মাঠে প্রদর্শনী ম্যাচ চলছিল। ভিভিআইপি বক্স থেকে সতীর্থ লুই সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডিপলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেই ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি।রাত ৮টা ১০ মিনিটে মাঠে নামতেই গোটা স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে মেসি, মেসি ধ্বনিতে। কিন্তু সেই উন্মাদনার মধ্যেও ছিল স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ। মাঠে মেসির চারপাশে রাখা হয়েছিল যথেষ্ট খোলা জায়গা, যাতে দর্শকেরা নির্দ্বিধায় তাঁকে দেখতে পারেন। কোথাও ঠেলাঠেলি নেই, নেই ক্যামেরার বন্যা কিংবা অযথা ভিড়।মাঠের মাঝখানে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির সঙ্গে বল পাসিং, দুএকটি লম্বা শটে গোল, বল পায়ে নাচানোসব মিলিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট খোলা মনে ফুটবল উপভোগ করালেন মেসি। মাঝেমধ্যেই গ্যালারির দিকে বল পাঠিয়ে দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। মুখে ছিল স্বচ্ছন্দ হাসিযা কলকাতার অনুষ্ঠানে বারবার অনুপস্থিত ছিল।সবচেয়ে বড় পার্থক্য ছিল মেসির চারপাশের ব্যবস্থাপনায়। কলকাতায় যেখানে প্রায় ২৫০-৩০০ জন সারাক্ষণ তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন, হায়দরাবাদে সেই সংখ্যা সীমিত ছিল ৫০-৬০ জনের মধ্যে। কাউকেই নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও মেসির ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রেখেছেন।অনুষ্ঠানের শেষে গোট কাপ-এর ট্রফি তুলে দেন মেসি। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি তাঁর নাম লেখা আর্জেন্টিনার জার্সিতে সই করিয়ে নেন এবং স্মারক উপহার দেন। মাইক হাতে মেসি, মেসি ধ্বনি তুললে পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায় বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে।মেসি স্পেনীয় ভাষায় বলেন, ভারতে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের ভালবাসা আমি আজীবন মনে রাখব। হায়দরাবাদের মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি সত্যিই আপ্লুত।ঠিক রাত ৮টা ৫০ মিনিটে দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে মাঠ ছাড়েন ফুটবলের রাজপুত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় হায়দরাবাদের এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই আক্ষেপ ধরা পড়ে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মনে। আবেগ ছিল, ভালবাসা ছিলকিন্তু পরিকল্পনার অভাব সব কিছু মাটি করে দিল। যে শহর নিজেকে ফুটবলের রাজধানী বলে গর্ব করে, সেখানেই মেসিকে ঠিকমতো উপভোগ করা গেল না।হায়দরাবাদ দেখিয়ে দিলবড় তারকা মানেই বড় আয়োজন নয়, দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা।আর কলকাতা? সে রইল প্রশ্নের মুখেভালবাসা থাকলেই কি যথেষ্ট?

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

হায়দরাবাদের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: একাধিক হতাহতের আশঙ্কা

আজ সকালে হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে একটি বাণিজ্যিক এলাকায় গুলজ়ার হাউস নামের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় একাধিক দমকল ইঞ্জিন।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভিতরে তখন বহু মানুষ আটকে পড়েন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দমকল কর্মীরা জানায়, ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। পাশাপাশি ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার কাজেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ ভবনের ছাদে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন, যাদের একে একে নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।হায়দরাবাদ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবার প্রতি ২ (দুই) লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার প্রতি ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি।

মে ১৮, ২০২৫
দেশ

মহাসমারোহে পালিত হল হায়দ্রাবাদ কালীবাড়ি'র ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বর্ষপুর্তি উৎসব

বঙ্গ সংস্কৃতির ইতিহাস অতি প্রাচীন। কথায় আছে, কয়েকজন বাঙালি একজোট হলেই, হয় একটা পুজো করে, নাহলে একটা নাটক, নিদেন পক্ষে কোনও গানবাজনার আসর তো বসবেই। প্রবাসী বাঙালি একাত্মবোধ একটু বেশী। কর্মসুত্রে বাঙালিকে বহু দুর দুড়ান্তে যেতে হয়েছে, কখনও কখনও দেশে বাইরেও। যেখানেই তাঁরা গিয়েছে সেখানে কোনও না কোনও নিদর্শন রেখে এসেছেই। বাঙালীর দিল্লী ভ্রমণ মানে যেমন চিত্তরজ্ঞন পার্ক কালি বাড়ি সে লিস্টে থাকবেই। মুম্বাইয়ে তো একাধিক বাঙ্গালী অ্যাসোসিয়েশন অতি জনপ্রিয়। সেরকমই এক বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন হায়দ্রাবাদ কালি বাড়ি। শহরটার নাম শুনলেই মনে আসে সম্রাট নিজামুদ্দিন র নাম। মহান সম্রাটের সেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালি পুজোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির উদাসীনতা কেবল বাঙ্গালি-ই দেখাতে পারে।১৯৭২-রে কয়েকজন বাঙালি যাঁদের অধিকাংশই সেনাবাহিনী এবং রেলওয়ের কর্মী ছিলেন তাঁরা বিবেকানন্দপুরম, সৈনিকপুরীতে দেবী কালীর মন্দির স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরা ১৯৭৪ এর ১১ আগস্ট ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সেই মন্দিরটি ২৮ আগস্ট ১৯৭৬ রে হায়দ্রাবাদ কালীবাড়ি নামে দেবী কালীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এই সংগঠনটিক মূলত সেখানকার বসবাসকারী বাংলাভাষি বাঙালি সম্প্রদায়ের জন্য একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক পীঠস্থানে পরিণত হয়েছেঅমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বিশেষ পূজার পাশাপাশি প্রত্যহ তিনবার প্রতিমার পূজার্চনাও করা হয়ে থাকে। প্রত্যেক বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে ভাবে দুর্গাপূজা ও কালীপূজা করা হয়। এছাড়াও আরও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজার্চনা করা হয় যেমন, লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, সরস্বতীপূজা। এছাড়া সারা বছর বাঙ্গালী বিভিন্ন উৎসব সাড়ম্বরে পালন করা হয়ে থাকে। বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্র জয়ন্তীও এই মন্দির প্রাঙ্গণে পালিত হয়। সেই সব বিশেষ দিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রিয়াংশী রায়, অহনা মজুমদার, শিক্ষা জানা, রাজন্যা ব্যানার্জী২৮ আগস্ট হায়দ্রাবাদ কালীবাড়ির ৪৬ তম বর্ষপুর্তি পালন করা হল মহাসমারোহে। সঙ্গীত, নৃত্যনুষ্ঠান সহ নানা অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয় এই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সমাবেশে। অনেক অনুষ্ঠানের মধ্যে নজর কারে শিব তান্ডব নৃত্য নাটক। নৃত্য বিশারদ মধুশ্রী রায়চৌধুরি তাঁর ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে এই নৃত্যনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই ধরনের বিষয়ে তাঁর উদ্ভাবনীতা ও পোষাক নির্বাচন সত্যিই মনে দাগ কেটে যায়। নৃত্য পারদর্শিতায় যে নাম গুলো প্রথমেই মনে আসে তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রিয়াংশী রায়, অহনা মজুমদার, শিক্ষা জানা, রাজন্যা ব্যানার্জী, তেজস্বিনী সেনগুপ্ত ও চাতুর্য। নাম গুলো পড়ে আপনাদের মনে হতেই পারে এ যেন বাংলার কোনও এক যায়গার কোনও অনুষ্ঠান। এখানেই বাঙালির মাহাত্য। সেটা নিউ জার্সী হোক বা হায়দ্রাবাদ বাঙ্গালিয়ানায় ভরপুর।

আগস্ট ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হারের হ্যাটট্রিক হায়দরাবাদের, জিতে প্লে অফের লড়াই জমিয়ে দিল দিল্লি

জয়ের সরণিতে ফেরা হল না সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এই নিয়ে টানা ৩ ম্যাচে হার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। অন্যদিকে, জিতে প্লে অফের লড়াই জমিয়ে দিল দিল্লি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হারল ২১ রানে। দিল্লির ২০৭/৩ রানের জবাবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তোলে ১৮৬/৮।বড় রানের লক্ষ্য নিয়ে জিততে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। এদিন সেটাই করতে পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দ্বিতীয় ওভারেই ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মাকে তুলে নিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে প্রথম ধাক্কা দেন খলিল আহমেদ। ৬ বলে মাত্র ৭ রান করে আউট হন অভিষেক। ২ ওভার পর আবার ধাক্কা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এবার আনরিখ নরটিয়ের শিকার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ১১ বলে ৫ রান করে তিনি উইকেটের পেছনে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রাহুল ত্রিপাঠি ও এইডেন মার্করাম। আগের ম্যাচে রান পাননি রাহুল ত্রিপাঠি। এদিনও দলকে টানতে ব্যর্থ হন। ১৮ বলে ২২ রান করে মিচেল মার্শের বলে আউট হন। ৭ ওভারের মধ্যে ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।Undefeated at Brabourne, and the 𝒋𝒐𝒔𝒉 continues to be 𝒉𝒊𝒈𝒉 🙌#YehHaiNayiDilli | #IPL2022 | #DCvSRH#TATAIPL | #IPL | #DelhiCapitals pic.twitter.com/ZPPO8NlHEt Delhi Capitals (@DelhiCapitals) May 5, 2022এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মার্করাম। কুলদীপ যাদবের ওপর বেশি নির্দয় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৪২ রান করে তিনি খলিল আহমেদের বলে আউট হন। নিকোলাস পুরান আউট হতেই জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। ৩৪ বলে ৬২ রান করেন পুরান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৮৬/৮ তোলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন খলিল আহমেদ।এদিন টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরুটা ভাল হয়নি দিল্লির। বোর্ডে কোনও রান যোগ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরে যান এদিন প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া মনদীপ সিং। মাত্র ৫ বল খেলে তিনি কোনও রান না করে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। মিচেল মার্শও (১০) ব্যর্থ। ক্রিজে নেমে ঝড় তুলেছিলেন ঋষভ পন্থ। ১টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি শ্রেয়স গোপালের বলে বোল্ড হন।এরপর বাইশ গজে দাপট ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের। উমরান মালিকরা গতি দিয়ে কাবু করতে পারেননি এই দিল্লির এই দুই ব্যাটারকে। এই দুজনের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন উমরান মালিক, কার্তিক ত্যাগীরা। ওয়ার্নার ও পাওয়েল জুটিতে ওঠে ১২২ রান। ৫৮ বলে ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ওয়ার্নার অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ৩টি ছয়। রভম্যান পাওয়েল। ৩৫ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাওয়েল মারেন ৩টি চার ও ৬ টি ছয়। এদিন ৪ ওভারে ৫২ রান দেন উমরান মালিক। ঝুলিতে কোনও উইকেট ভরতে পারেননি।

মে ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ওয়ার্নার-পাওয়েল, বড় রান তুলে হায়দরাবাদকে চ্যালেঞ্জ দিল্লির

এদিন আইপিএলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ক্যাপিটালস। দুই দলের কাছেই ছিল জয়ের সরণিতে ফেরার লড়াই। ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের দাপটে বড় রান তুলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল দিল্লি ক্যাপিটালস। নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলল ২০৭/৩।দুই দলই এদিন প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল। দিল্লি ক্যাপিটালস দলে আজ ৪ পরিবর্তন। পৃথ্বী শ, অক্ষর প্যাটেল, চেতন সাকারিয়া ও মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় মনদীপ সিং, খলিল আহমেদ, রিপল প্যাটেল ও আনরিখ নরকিয়া। অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদে তিনটি পরিবর্তন। মার্কো জানসেন, ওয়াশিংটন সুন্দর ও টি নটরাজনের পরিবর্তে খেলছেন কার্তিক ত্যাগী, শন অ্যাবট ও শ্রেয়স গোপাল।এদিন টস জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পৃথ্বী শ-র জায়গায় ওপেন করতে নেমে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না মনদীপ সিং। মাত্র ৫ বল খেলে তিনি কোনও রান না করে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। মিচেল মার্শও (১০) দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। শন আবটের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন মার্শ। ক্রিজে নেমে ঝড় তুলেছিলেন দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। কিন্তু তাঁর ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি শ্রেয়স গোপালের বলে বোল্ড হন। একের পর এক উইকেট পড়লেও রানের গতি কমেনি দিল্লি ক্যাপিটালসের। আর সেটা ডেভিড ওয়ার্নার ও রভম্যান পাওয়েলের দাপটে। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা পুষিয়ে দেওয়ার জন্যই যেন এদিন মাঠে নেমেছিলেন ওয়ার্নার। শন আবট, উমরান মালিকরা গতি দিয়ে কাবু করতে পারেননি এই অসি ওপেনারকে। রভম্যান পাওয়েলও অন্যপ্রান্তে ঝড় তোলেন। দিল্লির এই দুই ব্যাটারের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন উমরান মালিক, কার্তিক ত্যাগীরা। ওয়ার্নার ও পাওয়েল জুটিই দিল্লিকে বড় রানে পৌঁছে দেয়। এই জুটিতে ওঠে ১২২ রান। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না ওয়ার্নার। ৫৮ বলে ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ৩টি ছয়। অন্যদিকে, ওয়ার্নারের থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন রভম্যান পাওয়েল। ৩৫ বলে ৬৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। পাওয়েল মারেন ৩টি চার ও ৬ টি ছয়। এদিন ৪ ওভারে ৫২ রান দেন উমরান মালিক। ঝুলিতে কোনও উইকেট ভরতে পারেননি। ১টি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার ও শ্রেয়স গোপাল।

মে ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত উমরানের ৫ উইকেট, তবু দলকে জেতাতে ব্যর্থ

গুজরাট টাইটান্সের গতিকে টেক্কা দিলেও বাজিমাত করতে পারল না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আইপিএলের ফিরতি সাক্ষাৎকারেও শেষ হাসি গুজরাট টাইটান্সর। আইপিএলে জীবনের প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েও দলকে জেতাতে পারলেন না উমরান মালিক। গুজরাট ৫ উইকেটে হারাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। প্রথম পর্বের হারের মধুর প্রতিশোধ। গতি দিয়ে গুজরাটের ব্যাটারদের নক আউট করে দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারলেন না উমরান মালিক। ২৫ রানে ৫ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৯৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল গুজরাট টাইটান্স। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে তুলে ফেলে ৫৯। অষ্টম ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় গুজরাট। গতিতে পরাস্ত করে দ্বিতীয় বলে শুভমান গিলকে তুলে নেন উমরান মালিক। ২৪ বলে ২২ রান করে বোল্ড হন শুভমান। এক ওভার পরেই হার্দিককেও (৬ বলে ১০) ফেরান উমরান। পরপর ২ উইকেট হারালেও লড়ে যান ঋদ্ধিমান সাহা। আগের ম্যাচগুলোতে ব্যর্থ হলেও ঋদ্ধি এদিন জ্বলে ওঠেন। ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। উমরান মালিকের ১৫৩ কিমি গতির ডেলিভারি ঋদ্ধির স্টাম্প ছিটকে দেয়। ১১ টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৮ বলে ৬৮ রান করে আউট হন ঋদ্ধি। ডেভিড মিলারও (১৯ বলে ১৭) উমরানের বলে বোল্ড হন। মিলারের আউটের ধাক্কা সামলাতে পারেনি গুজরাট। পরের ওভারেই অভিনব মনোহরকে (০) তুলে নেন উমরান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য গুজরাটের দরকার ছিল ২২ রান। মার্কো জনসেনের প্রথম বলে ৬ মারেন রাহুল তেওয়াটিয়া। পরের বলে ১ রান। তৃতীয়, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে তিনটি ৬ মেরে দলকে জেতান রশিদ খান (১১ বলে অপরাজিত ৩১)। ২১ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন রাহুল তেওয়াটিয়া। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎকারে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রতিশোধের ম্যাচে টস জিতে হায়দরাবাদকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের (৫) অফ স্টাম্প ছিটকে দেন মহম্মদ সামি। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে আবার ধাক্কা সামির। এবার তুলে নেন ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা রাহুল ত্রিপাঠীকে (১০ বলে ১৬)। এরপরই রুখে দাঁড়ান অভিষেক শর্মা ও এইডেন মার্করাম। দারুণ ছন্দে রয়েছেন অভিষেক শর্মা। চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করে তিনি দলকে বড় ইনিংসের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেন। মার্করামের সঙ্গে জুটিতে তোলেন ৯৬। আলজেরি জোশেফ দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসে জুটি ভাঙেন। তুলে নেন অভিষেককে। ৬টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৬৫ রান করে তিনি আউট হন।এদিনও ব্যর্থ পুরান (৫ বলে ৩)। মহম্মদ সামির বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে লং অনে শুভমান গিলের হাতে ধরা পড়েন। পরের ওভারেই মার্করামকে তুলে নেন যশ দয়াল। ৪০ বলে ৫৬ রান করে তিনি ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চোট সারিয়ে এদিন প্রথম একাদশে ফিরেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ব্যাট হাতে তিনিও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। মাত্র ৩ রান করে তিনি রান আউট হন। শেষ ওভারে ঝড় তোলেন শশাঙ্ক সিং। ৬ বলে ২৫ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। গতি দিয়ে এদিন হায়দরাবাদের ব্যাটারদের কাবু করতে পারেননি সামি (৩/৩৯), জোশেফ (১/৩৫), ফার্গুসনরা (০/৫২)।

এপ্রিল ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সামিদের গতিকে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত সানরাইজার্স হায়দরাবাদের

গতির বিরুদ্ধে গতির লড়াই। একদিকে মহম্মদ সামি, লকি ফার্গুসন, আলজেরি জোশেফ। অন্যদিকে উমরান মালিক, মার্কো জানসেন, টি নটরাজনরা। শুরুতে ধাক্কা দিয়েও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বড় রান আটকাতে পারলেন মহম্মদ সামিরা। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। মহম্মদ সামিদের গতিকে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত অভিষেক শর্মা, এইডেন মার্করাম, শশাঙ্ক সিংদের।দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎকারে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বুধবার মাঠে নামার আগে চলতি আইপিএলে ওই একটা ম্যাচেই হারতে হয়েছিল হার্দিক পান্ডিয়ার গুজরাট টাইটান্সকে। প্রতিশোধের ম্যাচে টস জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। গুজরাট এদিন উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখলেও প্রথম একাদশে একটা পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল। জগদীশ সুচিথের জায়গায় ওয়াশিংটন সুন্দর।ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের (৫) অফ স্টাম্প ছিটকে দেন মহম্মদ সামি। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে আবার ধাক্কা সামির। এবার তুলে নেন ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা রাহুল ত্রিপাঠীকে (১০ বলে ১৬)। এরপরই রুখে দাঁড়ান অভিষেক শর্মা ও এইডেন মার্করাম। দারুণ ছন্দে রয়েছেন অভিষেক শর্মা। চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করে তিনি দলকে বড় ইনিংসের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেন। মার্করামের সঙ্গে জুটিতে তোলেন ৯৬। আলজেরি জোশেফ দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসে জুটি ভাঙেন। তুলে নেন অভিষেককে। ৬টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৬৫ রান করে তিনি আউট হন।এবছর নিলামে নিকোলাস পুরানের পেছনে বড় অর্থ লগ্নি করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেভাবে অবদান রাখতে পারছেন না। এদিনও ব্যর্থ পুরান (৫ বলে ৩)। মহম্মদ সামির বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে লং অনে শুভমান গিলের হাতে ধরা পড়েন। পরের ওভারেই মার্করামকে তুলে নেন যশ দয়াল। ৪০ বলে ৫৬ রান করে তিনি ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চোট সারিয়ে এদিন প্রথম একাদশে ফিরেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ব্যাট হাতে তিনিও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। মাত্র ৩ রান করে তিনি রান আউট হন। শেষ ওভারে ঝড় তোলেন শশাঙ্ক সিং। ৬ বলে ২৫ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। গতি দিয়ে এদিন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটারদের কাবু করতে পারেননি সামি (৩/৩৯), জোশেফ (১/৩৫), ফার্গুসনরা (০/৫২)।

এপ্রিল ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ভেঙে গেল রহস্য মেয়ের হৃদয়, ছবি ভাইরাল, কে সেই রহস্যময়ী?‌

সোমবার আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ চলছিল। ক্রমশ পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ডাগ আউটে বাড়ছিল হতাশা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দল যখন নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে, তখন টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ছিল এক মহিলার করুণ মুখ। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে।কে এই মহিলা? সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কী? এই নিয়ে সকলের দারুণ কৌতুহল। এই মহিলা কিন্তু যে সে মহিলা নন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অন্যতম মালিক কাব্য মারান। সান গ্রুপের কর্ণধার কালানিধি মারানের মেয়ে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারানের ভাতিজি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অন্যতম মালিক। দলের সিইও। কাব্য মারান নিজে সান মিউজিকের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮ সালের আইপিএলে তাঁকে প্রথম ক্রিকেট মাঠে দেখা যায়। নিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চিয়ার করার সময় তাঁকে প্রথম টিভিতে দেখা যায়। চেন্নাই থেকে এমবিএ শেষ করার পর কাব্য মারান তাঁর বাবা কালানিধি মারানের ব্যবসায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ক্রিকেটকে দারুণ ভালোবাসেন কাব্য। এছাড়া তিনি দলের সিইওর দায়িত্বও পালন করেন।Bechari bacchi ko engineering churwa kar ipl team ke peeche phasa diya 😢. #FamilyPressure #SRHvsLSG #TATAIPL pic.twitter.com/1hWMWVCzxk Shivansh𓃵 ( KEI STAN 𓃵❤️) (@sher_singh_18) April 4, 2022গতবছর আইপিএলে একেবারেই ভাল ফল করতে পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এবছরও শুরুটা যথেষ্ট হতাশাজনক। দুটি ম্যাচে এখনও জয় পায়নি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। সোমবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ ছিল লখনউও সুপার জায়ান্টেস সঙ্গে। হায়দরাবাদের পরাজয়ের পর দলের সমর্থকরা দারুণ হতাশ। দলের অন্যতম মালিকের একটা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হতাশায় একটা মেয়ের মুখের করুণ অবস্থা।সোমবার লখনউও সুপার জায়ান্টের সঙ্গে দারুণ লড়াই করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। একটা সময় মনে হচ্ছিল জিতেও যেতে পারে। কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে মোড় ঘুরে যায়। শেষ ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে লখনউও সুপার জায়ন্টসকে ১২ রানে ম্যাচ জেতান ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। এই পরাজয়ের পর কাব্য মারানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হচ্ছে।কাব্য যখনই মাঠে থাকেন, টিভি ক্যামেরা তাঁর দিকে তাক করে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচেও তেমনই ঘটেছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দল যখন নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে, তখন টিভি ক্যামেরায় কাব্যর করুণ মুখ ধরা পড়েছিল। কাব্যর এই করুণ মুখ দেখে তাঁর ভক্তরাও হতাশ হয়ে পড়েছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দল যতক্ষণ লড়াইয়ে ছিল, তাঁকে খুশি দেখাচ্ছিল। কিন্তু দল যতই পরাজয়ের কাছাকাছি আসে, তাঁর মুখও করুণ হতে শুরু করে। কাব্যের করুণ মুখ মোটেও পছন্দ হয়নি ভক্তদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাব্যের এক ভক্ত লিখেছেন, তিনি অবশ্যই আরও ভালোর যোগ্য। কেন উইলিয়ামসন, আব্দুল সামাদ, অভিষেক শর্মা, উমরান মালিক, নিকোলাস পুরান, রাহুল ত্রিপাঠি, এইডেন মার্করাম, দয়া করে কাব্যকে খুশি করুন।

এপ্রিল ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কেন জরিমানার কবলে উইলিয়ামসন?‌ তাঁর আউট নিয়ে তীব্র বিতর্ক

গত বছর আইপিএলে একেবারেই ভাল করতে পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এবছর ভাল দল গড়ে সাফল্য পাওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হারতে হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। সঞ্জু স্যামসনের রাজস্থান রয়্যালস সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬১ রানে। হারের পাশাপাশি আরও একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের মন্থর বোলিংয়ের জন্য ১২ লক্ষ টাকা জরিমানা হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের।এবারের আইপিএলে অবশ্য কেন উইলিয়ামসনকে প্রথম জরিমানার কবলে পড়তে হয়নি। এর আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মারও মন্থর বোলিংয়ের জন্য জরিমানা হয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে পারেনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তাই দলের অধিনায়ককে জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক উইলিয়ামসনও একই অপরাধে অভিযুক্ত।আইপিএলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৯ মার্চ পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে আইপিএল ২০২২এর ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা করা হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। ন্যূনতম ওভার রেটের ব্যাপারে যেহেতু এটা দলের প্রথম ভুল তাই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে ১২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার আবার একই অপরাধ হলে, আরও বড় শাস্তি পেতে হবে উইলিয়ামসনকে।এদিকে, রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে উইলিয়ামসনের আউট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর ক্যাচ নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও উইলিয়ামসনকে যেভাবে আউট দিয়েছেন আম্পায়ার, বেশ অসন্তুষ্ট হায়দরাবাদ শিবির। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে উইলিয়ামসনের ক্যাচ ধরার জন্য ঝাঁপিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। বল তাঁর গ্লাভস থেকে বেরিয়ে যায়। সেই বল ধরেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, দেবদত্তর হাতে জমা পড়ার আগে বল মাটি স্পর্শ করেছে।উইলিয়ামসনের বিতর্কিত ক্যাচের ব্যাপারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ হেড কোচ টম মুডি বলেন, উইলিয়ামসনকে আউট দেওয়ায় আমরা অবাক হয়ে যাই। টিভিতে রিপ্লে দেখার পর সন্দেহ আরও ওটা আউট নয়। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটা সবাই দেখেছে।

মার্চ ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌গত বছরের মতোই প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা, বদলায়নি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

গত বছর আইপিএলে ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য ডুবতে হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। সময় গড়িয়েছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদে কিন্তু কোনও পরিবর্তন হয়নি। এবারও আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই ডুবতে হল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। রাজস্থান রয়্যালসের কাছে প্রথম ম্যাচে হারতে হল ৬১ রানে। বোলারদের পাশাপাশি জ্বলে উঠতে ব্যর্থ ব্যাটাররাও। টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১০ রান তোলে রাজস্থান। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন হাফসেঞ্চুরি করলেও বাকি ব্যাটাররাও দলের বড় ইনিংসে অবদান রাখেন। দারুণ শুরু করে ছিলেন দুই ওপেনার জস বাটলার ও জস্বশ্বী জয়সোয়াল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে জুটিতে ওঠে ৫৮। এরপরই আউট হন জয়োসোয়াল (১৬ বলে ২০)। তাঁকে তুলে নেন রোমারিও শেফার্ড। জস বাটলার ২৮ বলে করেন ৩৫। ২৯ বলে ৪১ রান করে আউট হন দেবদত্ত পাড়িক্কল।আগের বছরের ফর্ম ধরে রেখেছেন অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। তিনি ২৭ বলে ৫৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ঝড় তোলেন শিমরণ হেটমায়ের। ১৩ বলে ৩২ রান করে তিনি টি নটরাজনের বলে বোল্ড হন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে টি নটরাজন ও উমরান মালিক ২টি করে উইকেট নেন। ভুবনেশ্বর কুমার ও রোমারিও শেফার্ড ১টি করে উইকেট পান। এবছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং শক্তি খুব একটা খারাপ নয়। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, রাহুল ত্রিপাঠী, নিকোলাস পুরান, এইডেন মার্করামের মতো ব্যাটাররা রয়েছেন। তা সত্ত্বেও প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতা। আসলে সামনে বড় রানের টার্গেট চাপে ফেলে দিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। তার ওপর ট্রেন্ট বোল্ট, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণদের দুরন্ত বোলিং। শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে। পরপর ফিরে যান উইলিয়ামসন (২), রাহুল ত্রিপাঠী (০), নিকোলাস পুরান (০), অভিষেক শর্মা (৯), আব্দুল সামাদ (৪), রোমারিও শেফার্ডরা (২৪)। একসময় ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারায় সানরাইজার্স। এরপর রুখে দাঁড়ান মার্করাম ও ওয়াশিংটন সুন্দর। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ওয়াশিংটন সুন্দর ১৪ বলে করেন ৪০। মার্করান ৪১ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। যুজবেন্দ্র চাহাল ২২ রানে ৩টি, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ১৬ রানে ২টি ও ট্রেন্ট বোল্ট ২৩ রানে ২টি উইকেট নেন।

মার্চ ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কাট্টিমনির বিশ্বস্ত হাতই আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন করল হায়দরাবাদকে

দরকার ছিল মিনিট দশেক রক্ষণ সামলে গোল ধরে রাখা। তাহলে এবারের আইএসএল খেতাব চলে আসত কেরালা ব্লাস্টার্সের দখলে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। প্রথমে এগিয়ে গিয়ে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। টাইব্রেকারে তিনতিনটি শট বাঁচিয়ে হায়দরাবাদ এফসিকে আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন করলেন লক্ষ্মীকান্ত কাট্টিমনি। টাইব্রেকারে ৩১ ব্যবধানে জিতল হায়দরাবাদ এফসি। আইএসএল পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই খেতাব জিতল হায়দরাবাদ এফসি। চলতি বছর আইএসএল পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন। ২০১৬ সালের পর ফের টাইব্রেকারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হলো আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের আইএসএলে ফাইনালে উঠেও এটিকের কাছে পরাস্ত হয়েছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। হায়দরাবাদ এফসি এবারই প্রথম আইএসএল ফাইনাল খেলল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় খেলার ফল ছিল ১-১। অবশেষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে বাজিমাত হায়দরাবাদের।ফতোরদার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এদিন ফাইনাল দেখতে হাজির ছিলেন সাড়ে ১১ হাজার ফুটবলপ্রেমী। এদিনের ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। আক্রমণ তুলে আনার নিরিখে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও হায়দরাবাদ এফসির রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। আদ্রিয়ান লুনা, আলভারো ভাজকেজ ও জর্জ দিয়াজের যুগলবন্দিই কেরালার হয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু গোলমুখ খোলেনি। ৩৯ মিনিটে ভাজকেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে জেভিয়ার সিভেরিওর হেড দারুণভাবে বাঁচান কেরালার গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল।Laxmikant Kattimani is the Hero of the Match for @HydFCOfficial after saving 3️⃣ penalties during the penalty shootout! 🧤🏆#HFCKBFC #HeroISLFinal #FinalForTheFans #HeroISL #LetsFootball pic.twitter.com/KCYnkybf0s Indian Super League (@IndSuperLeague) March 20, 2022দ্বিতীয়ার্ধে কেরালা ব্লাস্টার্সকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় হায়দরাবাদ এফসি। ৫৫ মিনিটে বার্থোলোমিউ ওগবেচের একটি প্রয়াস অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৮ মিনিটে রাহুল কেপির গোলে এগিয়ে যায় কেরালা। জ্যাকসন সিংয়ের পাস থেকে গোল করেন তিনি। ৭৬ মিনিটে ওগবেচের আরেকটি প্রয়াস রুখে দেন কেরালার গোলকিপার। কেরালা যখন আর কয়েক মিনিট পেরোলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছে তখনই সমতা ফেরায় হায়দরাবাদ এফসি। তার ঠিক আগেই ৮৬ মিনিটের মাথায় খাসা কামারা নামতেই হায়দরাবাদের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ৮৮ মিনিটের মাথায় সাহিল তাভোরার দর্শনীয় গোলে সমতা ফেরায় হায়দরাবাদ এফসি।বাকি সময়ে আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দাপট দেখায় কেরালাই। একটি শট পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ওগবেচের গোলমুখী শটে গোলকিপার গিল পরাস্ত হলেও বল গোললাইন পার হওয়ার ঠিক আগে অনবদ্য দক্ষতায় বাঁচান মার্কো লেসকোভিচ। লুনা, চেঞ্চোরাও গোলের জন্য মরিয়া প্রয়াস চালান কিন্তু অতিরিক্ত সময়েও খেলার ফল ১১ থাকে। টাইব্রেকারে মার্কো লেসকোভিচ, নিশু কুমার ও জিকসন সিংয়ের শট বাঁচিয়ে দেন হায়দরাবাদ গোলকিপার কাট্টিমনি।

মার্চ ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হল না এটিকে মোহনবাগানের

৩ গোলের ব্যবধান মুছে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন এটিকে কোচ জুয়ান ফেরান্দো। স্বপ্ন দেখেছিলেন ৯০ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে দলকে আইএসএলের ফাইনালে তোলার। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও স্বপ্নপূরণ হল না সবুজমেরুণ ব্রিগেডের। দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে ১০ ব্যবধানে জিতেও ফাইনালে ওঠা হল না এটিকে মোহনবাগানে। স্বপ্ন আটকে গেল হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনির হাতে। দুই পর্ব মিলিয়ে ৩২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে চলে গেল হায়দরাবাদ এফসি।জয়ের জন্য মরিয়া এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো এদিন ৩৫২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন। একেবারে সামনে রেখেছিলেন রয় কৃষ্ণা ও কিয়ান নাসিরিকে। কিয়ানকে নামিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন সবুজমেরুণ কোচ। কিয়ান ও কৃষ্ণার পেছনে হুগো বোমাস, লিস্টন কোলাসো, জনি কাউকো, শুভাশিস বসু ও কার্ল ম্যাকহিউ। ৩ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, প্রবীর দাস ও প্রীতম কোটাল।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল এটিকে মোহনবাগান। ৭ মিনিটে একটা হাফ চান্স এসে গিয়েছিল সবুজমেরুণের সামনে। প্রবীর দাস একক প্রয়াসে ঢুকে গিয়েও গোল করতে পারেননি। ১৪ মিনিটে প্রবীর দাসের সেন্টারে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। একের পর এক আক্রমণ তুলেনিয়ে এলেও গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না এটিকো মোহনবাগান স্ট্রাইকাররা। খেলার গতির বিরুদ্ধে ৩৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল হায়দরাবাদ এফসির সামনে। ইয়াসির মহম্মদের কর্ণারে ৬ গজ বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও গোল করতে পারেননি অনিকেত যাদব। মিনিট তিনেক পরেই এটিকে মোহনবাগানের সামনে গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল। প্রবীর দাসের সেন্টার নিজের আয়ত্বে নিয়ে এসেই তিন কাঠে ভেদ করতে পারেননি হুগো বোমাস। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে জনি কাউকোর একটা শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল এটিকে মোহনবাগানের। ৫০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। ডানদিক থেকে উঠে গিয়ে দুর্দান্ত নীচু সেন্টার করেছিলেন প্রবীর দাস। সামনে শুধু হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনিকে পেয়েও গোল করতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। তাঁর পুশ দারুণ দক্ষতায় বাঁচান কাট্টিমনি। ৬০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক জায়গায় ফ্রিকিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। ৬৪ মিনিটে হুগো বোমাসের সেন্টারে কিয়ান নাসিরির হেড সরাসরি কাট্টিমনির হাতে চলে যায়।৬৯ মিনিটে সন্দেশকে তুলে মনবীর সিংকে নামিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জুয়ান ফেরান্দো। ফলও পান হাতে নাতে। ৭৯ মিনিটে গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা। শেষ দিকে আক্রমণের চাপ বাড়িয়েও আর গোল তুলে নিতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই কাট্টিমনির হাতেই আটকে গেল সবুজমেরুণের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

মার্চ ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌‘‌৯০ মিনিটে ৩ গোল সম্ভব’‌, ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো

আইএসএলের প্রথম পর্বের সেমিফাইনালে হায়দরাবাদ এফসির কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন মরীচিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটিকে মোহনবাগানের সামনে। তবু স্বপ্ন দেখেই চলেছেন সবুজমেরুণ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ফাইনালে যেতে গেলে এটিকে মোহনবাগানকে কমপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধানে জিততেই হবে। ফেরান্দোর বিশ্বাস, তাঁর দলের সেই ক্ষমতা আছে। ৯০ মিনিটের মধ্যে ৩ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। অনেকের কাছে মনেই হতেই পারে, অলীক স্বপ্ন দেখছেন সবুজমেরুণ কোচ। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে, ফুটবলে সবই সম্ভব। ৩ গোলে পিছিয়ে পড়েও যেমন ম্যাচে ফেরা যায়, আবার ৩ গোলের ব্যবধানেও জেতা যায়। সবকিছুই নির্ভর করে ফুটবলারদের সেই দিনের পারফরমেন্সের ওপর। জুয়ান ফেরান্দোর মতে, সবদিন খারাপ যেতে পারে না। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনালে তাঁর দল ঘুরে দাঁড়াবেই। ম্যাচের আগের দিন সবুজমেরুণ কোচ বলেন, ফুটবলে সব কিছুই সম্ভব। তবে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে আমাদের কাজটা সোজা নয়। তবে একেবারে অসম্ভবও মনে করছি না। জিততে গেলে আক্রমণাত্মক খেলা ছাড়া রাস্তা নেই এটিকে মোহনবাগানের সামনে। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, অতিআক্রমণাত্মক হতে গিয়ে আবার গোল খেয়ে না বসে। তাই সবদিক মাথায় রেখেই পরিকল্পনা তৈরি করতে হচ্ছে জুয়ান ফেরান্দোকে। তিনি বলেন, আক্রমণাত্মক খেলতে গেলে আমাদের ডিফেন্ডারদের বাড়তি চাপ নিতে হবে। তবে হায়দরাবাদ কীভাবে খেলে সেটাও দেখতে হবে। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনার ওপর বেশি জোর দিতে হবে। নিজেদের খেলার ওপর বাড়তি ফোকাস করতে হবে। ডেভিড উইলিয়ামস, হুগো বোমাস, মনবীর সিংরা পুরো ফিট নন। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য রয় কৃষ্ণা, লিস্টন কোলাসোদের দিকেই তাকিয়ে এটিকে মোহনবাগান কোচ। আগের ম্যাচে রয় কৃষ্ণাকে উইঙ্গারে খেলিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনালেও সেই পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ডেভিড উইলিয়ামসকে সামনে এগিয়ে দিতে পারেন সবুজমেরুণ কোচ। ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ফেরান্দো বলেন, নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। ৯০ মিনিটে ৩ গোল হতেই পারে। এই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

মার্চ ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌জুয়ান ফেরান্দোর ভুলেই ফাইনালে রাস্তা কঠিন হয়ে গেল এটিকে মোহনবাগানের

লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হাতছাড়া করে এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো পাখির চোখ করেছিলেন আইএসএল জেতা। তাঁর সেই স্বপ্নে কাঁটা বিছিয়ে দিল হায়দরাবাদ এফসি। আইএসএল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথম পর্বের ম্যাচে নিজামের শহরের এই দলের কাছে ৩১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের রাস্তা কঠিন হয়ে গেল এটিকে মোহনবাগানের কাছে। কোচ জুয়ান ফেরান্দোর একটা ভুলই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিল সবুজমেরুণ শিবিরকে।জুয়ান ফেরান্দো চেয়েছিলেন প্রথম পর্বের ম্যাচেই ফাইনালের রাস্তা পরিস্কার করতে। সেই লক্ষ্যেই শুরু করেছিল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ম্যাচের শুরু থেকেই এটিকে মোহনবাগানের প্রাধান্য ছিল। সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি জনি কাউকো, রয় কৃষ্ণারা। তবে গোলের জন্য সবুজমেরুণকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে বাঁদিকে লম্বা বল বাড়ান জনি কাউকো। বল ধরে বাঁদিক ধরে এগিয়ে গিয়ে নীচু সেন্টার করেন লিস্টন কোলাসো। বাঁপায়ের ফ্লিকে বল জালে পাঠান রয় কৃষ্ণা। চলতি মরশুমে তেমন ছন্দে না থাকলেও আসল সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ফিজির এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আধিপত্য থাকলেও গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান। অন্যদিকে হায়দরাবাদ এফসি সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু সবুজমেরুণের আঁটোসাঁটো রক্ষণের জন্য সফল হতে পারছিল না। অবশেষে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সবুজমেরুণ ডিফেন্সের ক্ষনিকের মনোসংযোগের অভাবে সমতা ফেরায় হায়দরাবাদ এফসি। কর্ণার থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়ে চার ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে গোল করে সমতা ফেরান সেই বার্থোলোমিউ ওগবেচে। বিরতিতে যাওয়ার আগে এই গোলটাই মনোবল বাড়িয়ে দেয় হায়দরাবাদ এফসির। দ্বিতীয়ার্ধে এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দোর একটা ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচে ফেরায় হায়দরাবাদ এফসিকে। লেনি রডরিগেজকে তুলে নেওয়ায় মাঝমাঠে অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই সুযোগটা দারুণ ভাবে কাজে লাগায় হায়দরাবাদ। ৫৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে সিভেরিওর উদ্দেশ্যে বাড়ান ওগবেচে। তিরি ও সন্দেশের যৌথ ট্যাকেলে বল ছিটকে যায় মহম্মদ ইয়াসিরের কাছে। বাঁপায়ের দুরন্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির। মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় হায়দরাবাদ এফসি। বাঁদিক থেকে ইয়াসিরের কর্ণারে হেডে ৩১ করেন সিভেরিও। ৭৫ মিনিটে হুগো বোমাসের মাইনাস থেকে গোল করার সুযোগ এসেছিল জনি কাউকোর সামনে। কিন্তু তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। শেষদিকে ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান।

মার্চ ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ভয় ওগবেচেকে, প্যারিস সাঁ জাঁ–র এই প্রাক্তন স্ট্রাইকারকে নিয়ে কী পরিকল্পনা জুয়ান ফেরান্দোর?‌

স্বপ্ন ছিল আইএসএলের লিগ শিল্ড জিতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার ছাড়পত্র জোগাড় করা। লিগের শেষ ম্যাচে জামশেদপুর এফসির কাছে হেরে সে স্বপ্নের জলাঞ্জলি। সামনে আইএলএল খেতাব। আপাতত এটাই পাখির চোখ করছে এটিকে মোহনবাগান শিবির। সেই লক্ষ্য নিয়ে শনিবার হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের সেমিফাইনালে নামছে সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ফাইনালে ওঠার জন্য দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচের ওপর নির্ভর করতে চান না এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর লক্ষ্য প্রথম পর্বের সেমিফাইনালেই ফাইনালের রাস্তা পরিস্কার করে নেওয়া।হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের সেমিফাইনালে নামার আগে লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে জামশেদপুর এফসির কাছে হার মাথায় রাখছেন না জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর কাছে ওই ম্যাচ এখন অতীত। অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকাতে চান এটিকে মোহনবাগান কোচ। লিগ পর্যায়ে হায়দরবাদ এফসি একটা ম্যাচেও হারাতে পারেনি এটিকে মোহনবাগানকে। এমনকি সেই দুটি ম্যাচের কথাও মাথায় রাখছেন না জুয়ান ফেরান্দো। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, ওরা লিগে দুটো ম্যাচে আমাদের হারাতে পারেনি বলে আমরা বাড়তি সুবিধা নিয়ে মাঠে নামব, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। আমার মনে হয় না আগের ম্যাচগুলিতে কেমন খেলেছি তার প্রভাব সেমিফাইনালে পড়বে। হায়দরাবাদ আমাদের হারাতে পারেনি বলে তার কোনও সুবিধা আমরা পাব না। একটা ভাল দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।আইএসএলে লিগ টেবিলের শীর্ষে না পৌঁছতে পারলেও ফুটবলারদের মোটিভেশনের অভাব হবে না বলে মনে করছেন জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, লিগশিল্ড এখন আমাদের কাছে অতীত। এখন সেমিফাইনাল ও পরে ফাইনাল আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। পরে এএফসি কাপ আছে। ফলে ফুটবলারদের মোটিভশনের অভাব নেই। ফাইনালে ওঠার জন্য দুই পর্বের সেমিফাইনালে লড়তে হবে। এই প্রসঙ্গে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটো ম্যাচ। প্রতি ম্যাচই জিততে হবে, এমনই মানসিকতা রয়েছে আমাদের দলে। দুটো ম্যাচে আলাদা পরিকল্পনা নেই। দুটো ম্যাচই আমাদের জিততে হবে, এমনই ভাবনা আছে। এমন নয় যে সামনে কুড়িটা ম্যাচ আছে সামলে নেওয়া যাবে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে মনংযোগ নিখুঁত থাকতে হবে এবং সারা ম্যাচে ফোকাসড থাকাটা খুবই জরুরি। দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন বিপক্ষ শিবিরের একসময় প্যারিস সাঁ জাঁয় খেলা বার্থোলোমিউ ওগবেচে। এই মুরুত্তে ১৭ ম্যাচে ১৭ গোল করে আইএসএলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তাঁকে আটকাতে আলাদা পরিকল্পনা করেছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, ওকে নিয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেটা এখন বলা যাবে না। তবে সত্যি বলতে, আমরা শুধু নিজেদের খেলা নিয়েই ভাবছি। কী ভাবে নিজেদের পায়ে বল রাখতে হবে, জায়গা বের করতে হবে, আক্রমণে উঠতে হবে। কালকের ম্যাচে আমাদের পরিকল্পনা এ রকমই। তবে নিজের দলের স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতা ভাবাচ্ছে জুয়ান ফেরান্দোকে। একটাই স্বস্তি, সেমিফাইনালে হায়দররাবাদের বিরুদ্ধে হুগো বোমাসকে তিনি পাবেন।

মার্চ ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

টানা ২ ম্যাচ জিতে রনজির নক আউটে কার্যত নিশ্চিত বাংলা

বিগত কয়েক বছর ধরে বোলিংই বাংলার মূল শক্তি। ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বোলারদের দাপটেই জয় এসেছে। কয়েকবছর ধরে এই ছবিটা দেখা বাংলার ক্রিকেটে। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। রনজির প্রথম ম্যাচে বরোদার বিরুদ্ধে জয় এসেছিল বোলারদের দাপটেই। হায়দরাবাদের দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢেকে দিলেন বোলাররা। বোলারদের দাপটেই হায়দরাবাদকে ৭২ রানে হারিয়ে রনজির নক আউট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলা। কটকে অনুষ্ঠিত হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয় সত্ত্বেও বাংলা প্রথম ইনিংসে তোলে ২৪২। জবাবে বাংলার জোরে বোলারদের দাপটে ২০৫ রানে শেষ হয়ে যায় হায়দরাবাদের প্রথম ইনিংস। ৩৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলা। শেষ পর্যন্ত অনুষ্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আমেদের সৌজন্যে ২০১ রানে পৌঁছয়। হায়দরাবাদের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩৯। তৃতীয় দিনেই ম্যাচের ভবিতব্য অনেকটাই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বাংলার জোরে বোলারদের দাপটে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল হায়দরাবাদ। চতুর্থদিন সকালেই হিমালয় আগরওয়ালকে (০) তুলে নিয়ে হায়দরাবাদকে কোনঠাসা করে দেন আকাশ দীপ। তিলক ভার্মা ও প্রতীক রেড্ডি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। প্রতীককে (১৯) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন শাহবাজ আমেদ। রাহুল বুদ্ধিকে (১৭) আকাশ দীপ। একসময় ৮৫ রানে ৬ উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। শেষ দিকে রবি তেজা ও তিলক ভার্মা লড়াই করেন। রবি তেজাকে (২৩) শাহবাজ আমেদ তুলে নিতেই আবার ধস। শেষ পর্যন্ত ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদের দ্বিতীয় ইনিংস। তিলক ভার্মা ৯০ রান করে আউট হন। এটাই ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোর। বাংলার হয়ে আকাশ দীপ ৪১ রানে ৪টি, শাহবাজ আমেদ ৪১ রানে ৩টি ও মুকেশ কুমার ৪৯ রানে ২টি উইকেট নেন। ঈশান পোড়েল ২০ রানে নেন ১ উইকেট। ম্যাচের সেরা হয়েছেন শাহবাজ আমেদ।পরপর দুটি ম্যাচ জিতে বাংলার পয়েন্ট ১২। শেষ ম্যাচে বাংলা খেলবে চন্ডীগড়ের বিরুদ্ধে। আর হায়দরাবাদ খেলবে বরোদার বিরুদ্ধে ২ ম্যাচে হায়দরাবাদের পয়েন্ট ৬। নক আউট পর্বে যেতে গেলে বোনাস পয়েন্টসহ জিততে হবে হায়দরাবাদকে। আর বরোদার বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ যদি বোনাস পয়েন্টসহ না জেতে তাহলে বাংলা পরের রাউন্ডে পৌঁছে যাবে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌৭৫ লক্ষ বেস প্রাইস থেকে ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ!‌ নিলামে চমক দেখানো শেফার্ড কে?‌

রোমারিও শেফার্ডকে চেনেন? নামটা শুনে হয়তো ঘাবড়ে যাচ্ছেন। কে এই রোমারিও শেফার্ড। হঠাৎ করে এই ক্রিকেটারের নাম কেন উঠে আসছে। আসলে আইপিএলের নিলামে চমক দেখিয়েছেন এই ক্যারিবিয়ান জোরে বোলার। ব্যাটের হাতটাও খারাপ নয়। ইতিমধ্যেই সফল অলরাউন্ডারের তকমা সেঁটে গেছে শেফার্ডের গায়ে। এবারের আইপিএলের মেগা নিলামে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ক্রিকেটার। ৭৫ লক্ষ টাকা বেস প্রাইস ছিল রোমারিও শেফার্ডের। নিলামে এই অলরাউন্ডারের নাম উঠতেই লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস প্রথম দর হাঁকায়। এরপরই লড়াইয়ে নামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। লক্ষ্ণৌ ও মুম্বইয়ের মধ্যে যখন তীব্র লড়াই চলছিল, তখন যোগ দেয় চেন্নাই সুপার কিংস। পরে লড়াইয়ে সামিল হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালসও। এরপর লড়াই জমে ওঠে। পাঁচ দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় তাঁকে তুলে নেয়। টি২০ ক্রিকেট লিগে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের আলাদা গুরুত্ব আছে। আসলে তাঁরা সারা বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে টি২০ লিগ খেলে বেড়ান। তাই আইপিএলের নিলামে অন্য দেশের ক্রিকেটারদের তুলনায় ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা বেশিই দর পান। শিমরণ হেটমায়ের, ওডিয়েন স্মিথ, জেসন হোল্ডার, নিকোলাস পুরানরা এবারের নিলামে দারুণ দর পেয়েছেন। যেমন জেসন হোল্ডারকে ৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। নিকোলাস পুরান ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ দর পেয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছ থেকে। বেশি দর পাওয়ার তালিকায় নতুন সংযোজন রোমারিও শেফার্ড। জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি শেফার্ড। ১০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আর টি২০ খেলেছেন ১৪টি। ১৪ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১২টি। রান করেছেন ১১৭। আর টি২০ লিগে খেলেছেন ৪৪ টি ম্যাচ। ৫৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান করেছেন ৩১৫। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭২। গতবছর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্স করেছেন শেফার্ড। ৯ ম্যাচে তুলে নিয়েছিলেন ১৮ উইকেট। রান করেছিলেন ১০৯। সেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এইরকম ক্রিকেটারকে যে কোনও দলই দলে নিতে চাইবে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌হায়দরাবাদকে হারিয়ে চার নম্বরে উঠে এল এটিকে মোহনবাগান

হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে এটিকে মোহনবাগানের ম্যাচ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলেই প্রথম চারে উঠে আসার সুযোগ। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগাল সবুজমেরুণ শিবির। হায়দরাবাদ এফসিকে ২১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে রইল জুয়ান ফেরান্দোর দল। প্রায় প্রতি ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছেন মনবীর সিং। অথচ দীর্ঘদিন গোল পাননি। তবুও এই স্ট্রাইকারের ওপর ভরসা হারাননি। রয় কৃষ্ণা, কিয়ান নাসিরির মতো স্ট্রাইকার থাকা সত্ত্বেও মনবীরের ওপর ভরসা রেখেছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। কোচের আস্থার মর্যাদা দিলেন মনবীর। গোল করে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দিলেন। আইএসএলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না এটিকে মোহনবাগানের। বিপক্ষে ছিলেন বার্থেলেমেউ ওগবেচের মতো স্ট্রাইকার। তা সত্ত্বেও গুটিয়ে থাকেনি সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ম্যাচের শুরু থেকেই হায়দরাবাদ এফসির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৮ মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত এটিকে মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শট নেন হুগো বোমাস। তাঁর সেই শট ততোধিক তৎপরতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন হায়দরাবাদ গোলকিপার লক্ষীকান্ত কাট্টিমানি। ২৪ মিনিটে বার্থেলেমেউ ওগবেচের শট বাঁচিয়ে এটিকে মোহনবাগানের পতন রোধ করেন অমরিন্দার সিং। প্রথমার্ধে জুয়ান ফেরান্দোর দলের আধিপত্য বেশি থাকলেও হায়দরাবাদ এফসি গোল করার মতো সুযোগ বেশি পেয়েছিল। তবে কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিল। ৫১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত হায়দরাবাদ এফসি। রোহিত দানুর শট বারে লেগে গোললাইনের সামনে পড়ে বেরিয়ে যায়। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ৫৬ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। ডেভিড উইলিয়ামসের কাছ থেকে অনেকটা এগিয়ে গিয়ে কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে দেন লিস্টন কোলাসো। ৩ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ায় এটিকে মোহনবাগান। জনি কাউকোর কাছ থেকে বল পেয়ে তিনি ২০ করেন। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান কমায় হায়দরাবাদ এফসি। জোয়াও ভিক্টরের দুরপাল্লার শট এটিকে মোহনবাগান অমরিন্দার সিংয়ের হাত থেকে বেরিয়ে এলে সেই বল জালে ঠেলে দেন জোয়েল চিয়ানিস। সমতা ফেরানোর জন্য ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় হায়দরাবাদ। সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। হায়দরাবাদকে হারিয়ে ১৩ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এল এটিকে মোহনবাগান।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal