শ্রদ্ধা ওয়াকারের ঘটনার স্মৃতি ফেরাল গুয়াহাটি! স্ত্রীকে খুন করে মুণ্ডু ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখল স্বামী
গুয়াহাটিতে এক তরুণীকে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনায় সন্দেহের তির তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামীর দিকে। তবে এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ বছরের রিয়া তালুকদারের সঙ্গে রামানুজনের বিয়ে হয়েছিল। তাঁরা গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকায় থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা তীব্র আকার নেয়। এরপর রাত আটটা নাগাদ রামানুজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।পরের দিন রাতের দিকে ওই বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। তখন ফ্রিজের ভিতর কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়া অবস্থায় রিয়ার মাথা পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর হাতের কয়েকটি আঙুলও কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।এই ঘটনার পর থেকেই রামানুজনের দিকে সন্দেহের তির ঘুরেছে। তবে এখনও তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রামানুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।জানা গিয়েছে, রিয়া ফ্যান্সি বাজারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাজারে কাজ করতেন। তাঁর মা-বাবা কেউই জীবিত নেই। পরিবারের বলতে এক ভাই রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।এই ঘটনা সামনে আসতেই ২০২২ সালের শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের কথাও মনে পড়ছে। ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লির মেহরৌলিতে শ্রদ্ধাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর প্রেমিক আফতাবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, হত্যার পর শ্রদ্ধার দেহ একাধিক টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।শ্রদ্ধা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে আফতাবের সঙ্গে দিল্লিতে চলে এসেছিলেন। পরে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি এর আগে আফতাবের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছিলেন শ্রদ্ধা বলে জানা যায়।গুয়াহাটির বর্তমান ঘটনার সঙ্গে শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনও যোগ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার ভয়াবহতার কারণে পুরনো সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নতুন করে ফিরে এসেছে। গুয়াহাটির ঘটনায় এখন মূল সন্দেহভাজন রামানুজনের সন্ধানেই জোর দিচ্ছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।

