গতকাল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের আই টি সেলের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই বলে নানান পোস্টার ব্যানার দেওয়া হয়। সেইসব ব্যানার পোস্টারে হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই বলে তেলের দাম ও গ্যাসের দাম নিয়ে সরব হয় তৃণমূলের আইটি সেল। বুধবার তার পাল্টা হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে বিধান নগর জুড়ে হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই বলে একাধিক পোস্টার দেওয়া হয়। যেখানে কোথাও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোথাও রাজ্যের বেড়ে চলা হিংসা নিয়ে আবার কোথাও বেআইনি নির্মাণসহ রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা নিয়ে পোস্টার ও ব্যানার দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের লম্ফঝম্ফই সার। বাংলাদেশের বাঘ যে ভারতের সামনে পড়লে বিড়াল হয়ে যায় তা আবার প্রমানিত। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় পেল ভারত। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৪৯.৪ ওভারে ১০ উইকেটে তুলেছিল ২২৮ রান। জবাবে ২১ বল (৪৬.৩ ওভারে) বাকি থাকতেই ভারত জেতার জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। ভারতের অন্যতম ওপেনার শুভমান গিল ১২৯ বলে ৯টি চার এবং ২টি ছয়-সহ ১০১ রানে ও কেএল রাহুল ৪৭ বলে ১টি চার এবং ২টি ছয়-সহ ৪১ রানে অপরাজিত থেকে যান।শুভমান বৃহস্পতিবার তাঁর ক্যারিয়ারের ৮ম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন ১২৫ বলে। ভারতের এই ওপেনারের কাছে এইরকম দুর্দান্ত ইনিংসের আশায় তাঁকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে রাখা হয়েছে। এর আগে দলের ১৪৪ রানের মাথায় ভারতের ৪র্থ উইকেটের পতন হয়। রিশাদ হোসেনের বলে তাঁর হাতেই ধরা পড়েন গৌতম গম্ভীরের নতুন তাস অক্ষর প্যাটেল। অক্ষর বিশেষ সফল হননি, তিনি ১২ বলে ১টি চার-সহ ৮ রান করেছেন। মধ্যম বর্গীয় ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়ার তাঁর নামের প্রতি সুবিছার করতে পারেননি। তিনি তুলে মারতে গিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন। শ্রেয়স ১৭ বলে ২টি চার-সহ ১৫ রান করেছেন। খাতা খুলতে ১০টি বল নিলেও ক্রমশ নিজেকে পিচের সাথে মানিয়ে নিচ্ছিলেন। ঠিক যখনই মনে হতে শুরু হচ্ছিল যে, আজ বিরাট বড় রান করবে ঠিক তখনি রিশাদ হোসেনকে কাট করতে গিয়ে বল হাওয়ায় ভেসে সোজা চলে গেল সৌম্য সরকারের হাতে। তাঁর আগে ৩৮ বলে ১টি চার-সহ ২২ রান করেছেন কোহলি। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা তাসকিন আহমেদের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন। ৩৬ বলে ৭টি চার-সহ ৪১ রান করেছেন রোহিত।𝗖.𝗛.𝗔.𝗠.𝗣.𝗜.𝗢.𝗡.𝗦 🏆#TeamIndia 🇮🇳 HAVE DONE IT! 🔝👏ICC Mens T20 World Cup 2024 Champions 😍#T20WorldCup | #SAvIND pic.twitter.com/WfLkzqvs6o BCCI (@BCCI) June 29, 2024চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভারত-বাংলাদেশ এই গ্রুপ ম্যাচে টস জিতে বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১০ উইকেটে ৪৯.৪ ওভারে তোলে ২২৮ রান। অনবদ্য সেঞ্চুরি করেন তৌহিদ হৃদয়। ১১৪ বলে ৬টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে তিনি সেঞ্চুরি করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১১৮ বলে ১০০ রান করে আউট হন। হর্ষিত রানার বলে মহম্মদ শামির হাতে ধরা পড়েন। এর আগে তৌহিদ ব্যাটসম্যান জাকির আলির সঙ্গে যৌথভাবে বড় পার্টনারশিপ গড়ে বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক স্কোর থেকে রক্ষা করেন।ম্যাচে মহম্মদ শামির বলে শ্রেয়স আইয়ারের হাতে ধরা পড়েন তাসকিন আহমেদ। ৬ বলে ৩ রান করেন তাসকিন। মহম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। তিনি ৪ বল খেলে বিনা রানেই আউট হয়েছেন। হর্ষিত রানার বলে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েন রিশাদ হোসেন। তিনি ১২ বলে ১টি চার এবং ২টি ছয়-সহ ১৮ রান করেন। মহম্মদ শামির বলে বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়লেন জাকির আলি। তিনি ১১৪ বলে ৪টি চার-সহ ৬৮ রান করেছেন। তানজিদ হাসানকে ফিরিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেল। তানজিদের ক্যাচ ধরেন কেএল রাহুল। ২৫ বলে ৪টি চার-সহ ২৫ রান করেছেন তানজিদ।এক দিনের বিশ্বকাপে ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন মহম্মদ শামি। আইসিসি প্রতিযোগিতায় ফিরেই আবার ছন্দে তিনি। আজ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচে পড়শি দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়েছেন শামি। এক দিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে এই কীর্তি গড়েছেন ভারতীয় দ্রুত গতির বোলার।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নামার আগে শামির ঝুলিতে ১৯৭ উইকেট ছিল। ২০০ উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছতে শামির দরকার ছিল ৩ টি উইকেট। জাকের আলিকে আউট করে ২০০ উইকেটে পৌঁছে যান শামি। ২০০ উইকেট নিতে ৫১২৬ বল করেছেন শামি। বিশ্বে এত কম বলে কোনও বোলার ২০০ উইকেট নিতে পারেননি। এত দিন এই রেকর্ড ছিল মিচেল স্টার্কের দখলে। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের ২০০ উইকেট নিতে ৫২৪০ বল করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়ন এর তরফ থেকে UDMA দফ্তর অভিযান। একাধিক দাবf নিয়ে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দেখায় নগরায়ন দফতরের সামনে। অবিলম্বে পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে, কর্মরত অবস্থায় কোন কর্মীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান, ষাটোর্ধ্ব কোন কর্মী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে অবসরকালীন ভাতা দিয়ে অবসর গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, সরকারি সব ছুটি, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ইএস আই-র আওতায় আনতে হবে। এই সকল দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের নগরায়ন দফতরের UDMA অভিযান। অভিযানের ডাক দেয় পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়ন।
এক বছর এক মাস। অভিযোগের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। গলসি থানায় অভিযোগ হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ ছিল, ১৭ বছরের নাবালিকা মেয়ে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গলসি থানাতে একটি মামলা রুজু হয়। ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্নভাবে মেয়েটিকে গলসি থানার তদন্তকারী অফিসার খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও তদন্তকারী অফিসাররা হাল ছাড়েননি।গত ৪ ডিসেম্বর পুলিশ সুপারের অনুমতি নিয়ে রাজস্থান এর উদেশ্যে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ টিম রওনা দেয়। গত ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় পালরি- এম থানার সহায়তায় যোধপুর স্টেশন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পোশালিয়া গ্রাম থেকে তদন্তকারী অফিসাররা ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। আজ, মঙ্গলবার নাবালিকা এবং আসামিকে পূর্ব বর্ধমানে ফিরিয়ে আনা হয়। আগামীকাল, বুধবার আসামি এবং উক্ত নাবালিকাকে পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এবার ভারতের সমস্ত টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। মামলাকারীরা বাংলাদেশের অশান্তির নেপথ্যে ভারতের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলির ভূমিকা দেখতে পাচ্ছে। তবে এদিন ওই মামলার শুনানি হয়নি। আদালত সূত্রের খবর, আগামীকাল বুধবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। ২০০৬ সালের কেবল টেলিভিশন নেওয়ার্ক আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী ভারতের সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার জন্য এদিন হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন, আইনজীবী এখলাসউদ্দিন ভূঁইয়া। ভারতের সব টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি সিরিয়ালের জন্য বিখ্যাত বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের মন্দির, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাঠ, খুন, জখম, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। বিশ্ব ব্যাপী সমালাচোনার ঝড় বয়ে চলেছে মহম্মদ ইউনুস সরকারের। বাংলাদেশ সরকার গ্রেফতার করেছে সংখ্যালঘু আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে। তিনি এখন জেলবন্দী। তার পাশাপাশি বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চলছে। এই দাবিতে বাংলাদেশেও মিছিল, মিটিং প্রতিবাদ হচ্ছে। বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে ইসকন প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নেমেছে। ভারতেও হিন্দুত্ববাদীরা বাংলাদেশে নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে। বিক্ষোভ দেখিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশে ডেপুটি হাইকমিশনে। এবার টিভি চ্যানেল বন্ধ করার আবেদন বাংলাদেশের আদালতে। অথচ বাংলাদেশের সংবাদপত্রে বলিউডের কাহিনী এখনও কদর পাচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। গন্ডগোলের রেশ গড়িয়েছে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য় সড়কে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিজয়ার অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অশান্তি ও দ্বন্দ্বে চলতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নিজে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান। নিজে পথে নেমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষমেশ ভাতার হাউজিং মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। কোনওপ্রকারে অনুষ্ঠান শুরু হলেও উত্তেজনা চলতেই থাকে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক হাজরাকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ অশোকবাবুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মঞ্চের আশপাশে কর্মীদের একাংশ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। মঞ্চে অশান্তি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দিয়ে বিজয়া সম্মিলনী শেষ করে দিতে বাধ্য হন নেতারা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, বিজয়া সম্মিলনী একটা মিলনের অনুষ্ঠান। আনন্দের বিষয়। তাই আমরা প্রথম থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব বলে ঠিক করেছিলাম। বক্তৃতা পর্ব রেখে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্য বিধায়ক এড়িয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর সাফাই, বাইরে কি ঘটেছে সঠিক জানি না। অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ভাতারে দলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে দলের একাংশের মনোমালিন্য চলছে। বিশেষ করে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অশোকবাবুর প্রভাব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরের কিছু সমস্যা এমনিতেই চলছিল। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও অশোক হাজরার দাবি, বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে তারপর সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।
আরজি কর কাণ্ডের আনহে এবার দিনের বেলায় রাস্তায় কিশোরীকে পর পর ছুরির কোপ। প্রাণভয়ে ছুটে পালাতে গিয়েও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই কিশোরী। না যেন কোন অ্যাকশন সিনেমার সিন। বেলঘরিয়ায় ভরদুপুরে এমনই হাড়হিম ঘটনায় শিউরে উঠলেন আশেপাশের মানুষজন। কিছুটা সামলে নিয়েও তারা ধাওয়া করে ওই কিশোরকে ধরে ফেলেন। এরপর চলে গণপ্রহার। পরে পুলিশ এসে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কিশোরীকে আহত অবস্থায় স্থানীয় এক নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বেলঘরিয়ার প্রফুল্ল নগরে প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুল ফেরত ছাত্রীকে ছুরির কোপ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কোন কিছু নিয়ে ওই কিশোর ও কিশোরীর মধ্যে শুরু হয় বচসা। এর জেরে ওই কিশোরের গালে সপাটে চড় কষান কিশোরী। এতেই মেজাজ হারিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরপর কোপ মারে অভিযুক্ত কিশোর। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই কিশোরী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কিশোর পালানোর চেষ্টা করে। তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই শুরু হয় মারধর। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে। মহিলা নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশের সঙ্গে বচসাও বেধে যায় স্থানীয়দের। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েকদিন আগে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে কিশোরী তা নাকচ করে দেয়। এরপরই প্রতিশোধ নিতেই ঘটনার দিন দুপুরে ওই কিশোরীর পথ আটকায় অভিযুক্ত কিশোর। বচসা থেকে হাতাহাতি এরপর পকেট থেকে ছুরি বের করে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে ওই কিশোরীকে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত আটক করা হয়েছে কিশোরকে। জানা গিয়েছে কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটারেরর নাম বললেই প্রথমে উঠে আসবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। কিন্তু, সেরার তালিকায় অবশ্যই থাকবে এমএস ধোনির নাম, মত অ্যাডাম গিলক্রিস্টের। তাঁর মতে, এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই থাকবেন ভারতের এমএস ধোনি। তৃতীয় স্থানে থাকবেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ক্রিকেটার মনে করেন, এই তালিকায় একনম্বরে থাকবেন তাঁর দেশের সাবেক উইকেটরক্ষক রডনি মার্শ। তিনিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, মত গিলক্রিস্টের।তাঁর জীবনে একাধিক রেকর্ড করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে গিলক্রিস্ট এমএস ধোনিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এবং কুমার সাঙ্গাকারাকে তৃতীয় সেরা বলে উল্লেখ করেছেন। রডনি মার্শকে তাঁর আইডল হিসাবে বর্ণনা করে, গিলক্রিস্ট কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের কায়দা অনুকরণ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। মাঠে ধোনি যেভাবে শান্ত থাকেন, তারও প্রশংসা করেছেন গিলক্রিস্ট। ঠান্ডা স্বভাবের জন্যই তিনি ধোনির প্রশংসা করেছেন। কুমার সাঙ্গাকারার বিষয়ে, গিলক্রিস্ট শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের ব্যতিক্রমী দক্ষতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক সাঙ্গাকারা টপ অর্ডার ব্যাটিং থেকে উইকেট কিপিং পর্যন্ত সবদিক দিয়েই পারদর্শী।
জেলে গিয়েও তৃণমূল মন্ত্রীদের চাকরি যায়নি। বরং সরাতে সময় লেগেছে। দলের পদ যায়নি। মন্ত্রীকে এভাবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ করার নির্দেশ তা একেবারে নজিরবিহীন। ২০১১-এ ক্ষমতায় আসার পর এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। কারমন্ত্রী অখিল গিরি জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। কিন্তু বিরোধীরা চাইছেন, কারামন্ত্রীকে মহিলা সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে অসভ্য ব্যবহার করার জন্য় গ্রেফতার করা হোক। এদিকে এদিনই অখিল গিরি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবেকবান হতে বলেছেন। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের বিবেক কোথায়? রাতের অন্ধকারে ২২টি দোকান ভেঙে দিয়েছে বনবিভাগ। এদিনও বিনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন অখিল গিরি। রবিবার দুপুর কাঁথিতে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে অখিল জানান, মুখ্য়মন্ত্রী গতকাল সারাদিন এই ঘটনাটি দেখেছেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে আমি অনুতপ্ত নই। আমি মন্ত্রী হয়েছি ২০২১ সালে। মন্ত্রিত্ব আমার কাছে কোনও বড় কথা নয়। আমার কাছে বড় কথা, আমার এলাকার মানুষকে নিয়ে যতটুকু লড়াই করা দরকার, আগামীদিনে আমার লড়াই চলবে। আমি সবসময় দলের অনুগত সৈনিক। দল যখন যা নির্দেশ দিয়েছে, তখন সেইমতোই কাজ করেছি দলে থেকে। এখনও করব। আমি নিজে জনপ্রতিনিধি হিসাবে লড়াই করব। আমার কাছে যদি কোনও পদ না থাকে, আমার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লড়াই করে যাব। সরকারি অফিসারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। বলেছেন, অখিল গিরি।অখিল গিরি বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসারকে বলেছেন, বেশি দিন থাকতে পারবেন না। আপনার আয়ু সাত দিন, দশ দিন। বিধানসভায় ফাঁস করে দেব বনবিভাগের কর্মকান্ড। এর ভেতরে যদি আপনি আসেন তাহলে আপনি ফিরে যেতে পারবেন না, আমি দায়িত্ব নিলাম। বেশি কথা বলবেন না। সরকারি কর্মচারি মাথা নীচু করে কথা বলুন। বেয়াদপ, জানোয়ার রেঞ্জার অফিসার। ভদ্র ভাবে হবে না। যে ঠাকুর যে ফুলে সন্তুষ্ট হয়। ডাঙ দিয়ে পেটাব না তখন বুঝবেন। এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়।
রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর হুমকি দিলেন বনদফতরের রেঞ্জার মহিলা অফিসারকে। বেয়াদপ, জানায়োর বলতেও ছাড়লেন না। মন্ত্রীর হুমকি প্রয়োজনে ডান্ডা দিয়ে পেটাবেন। এমনকী অফিসারের আয়ু কতদিনের তাও বলে দিলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী। অখির গিরির এই হুমকির ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। রাজ্যের এক মন্ত্রী এই ভাষায় কথা বলতে পারে কারও সঙ্গে? বঙ্গ বিজেপি মমতার মন্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। ভিডিওতে মন্ত্রীর সঙ্গে রেঞ্জারের কথপোকথন শোনা যাচ্ছে। মন্ত্রী মশাইকে রাগে গজরাতে দেখা যাচ্ছে। অখিল গিরির টানা হুমকি, বেশি দিন থাকতে পারবেন না। আপনার আয়ু সাত দিন। বিধানসভায় ফাঁস করে দেব। এর ভেতরে যদি আপনি আসেন তাহলে আপনি ফিরে যেতে পারবেন না, আমি দায়িত্ব নিলাম। বেশি কথা বলবেন না। সরকারি কর্মচারি মাথা নীচু করে কথা বলুন। বেয়াদপ, জানোয়ার রেঞ্জার অফিসার। ভদ্র ভাবে হবে না। যে ঠাকুর যে ফুলে সন্তুষ্ট হয়। ডাল নিয়ে পেটাব না তখন বুঝবেন। রাজ্যের কারামন্ত্রীর এই হুমকিতে তোলপাড়া রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপি সহ বিরোধীরা কারামন্ত্রীর গ্রেফতার দাবি করেছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যে সর্বত্র ছি ছি রব উঠেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কেও কুমন্তব্য করেছিলেন অখিল গিরি।
লোকসভার ফল বের হওয়ার পর বর্ধমান দুর্গাপুরের বিজেপির বিজেপির প্রার্থীর বক্তব্যে আগুন ঝড়ছিল। দলে তাঁর বিরুদ্ধে কাঠি করা হয়েছে। তাঁর জয়ী আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিলীপের বক্তব্যের নিশানায় কে ছিলেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী না সুকান্ত মজুমদার? তা নিয়ে কম জল্পনা ছড়ায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার নিজের জন্মদিনে সটান গিয়ে হাজির হয়েছেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে এর আগে এদিন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। দুজনের সাক্ষাৎ হয়েছিল সল্টলেকে এমএলএ-এমপি আদালতে।দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় গেলেন দিলীপ ঘোষ। শুভেন্দুর ঘরেই পালন করা হয় দিলীপ ঘোষের জন্মদিন। দিলীপ ঘোষের গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দেন শুভেন্দু। নিজে হাত দিয়ে শুভেন্দু মিষ্টি খাইয়ে দেন দিরীপ ঘোষকে। দিলীপবাবুও মিষ্টি মুখ করান শুভেন্দুকে। রীতিমতো স্লোগান দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষের নামে। তবে কি শুভেন্দু-দিলীপ ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান ঘটল? এই সাক্ষাতের মধ্যে ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। দুবছরের মধ্যে লোকসভা নির্বাচন। সেদিকে প্রধান লক্ষ্য বিজেপির। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন সাংসদ তথা গেরুয়া দলের লড়াকু নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। লকেট লিখেছেন, লড়াকু নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শ্রী দিলীপ ঘোষ মহাশয়ের জন্মদিনে প্রণাম এবং শুভেচ্ছা জানাই।এদিকে আজ সকালেই সল্টলেকে MLA-MP কোর্টে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা হয় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের। দুজনেই সেখানে গিয়েছিলেন হাজিরা দিতে। দিলীপ ঘোষকে দেখে এগিয়ে যান কুণাল। দুজনকে করমর্দন করতেও দেখা যায়। বিজেপি নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তবে বিধানসভায় শুভেন্দুর ঘরে দিলীপের সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের।
রাজ্যপালকে শপথের জন্য প্রয়োজন পড়ল না। অবশেষে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রেয়াত হোসেন সরকার। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় উপনির্বাচনে জয়ী দুই তৃণমূল বিধায়ককে শপথ বাক্য পাঠ করান বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দুই বিধায়কের শপথ গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। তবে এদিন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নন, দুই তৃণমূল বিধায়ককে শপথ বাক্য পাঠ করাতে দেখা গিয়েছে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আশিসবাবু জানিয়েছিলেন তিনি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন না। মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা এবং কলকাতা লাগোয়া বরানগর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হন রেয়াত হোসেন সরকার এবং সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জয়ের পরেও বেশ কিছুদিন তাঁদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়নি। বহু বিতর্কের শেষে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দুই বিধায়কের শপথ গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে।ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার এবং বরানগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, অধ্যক্ষ বিধানসভায় হাজির থাকতে তিনি শপথ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি নিজেই অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুই বিধায়ককে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য আবেদন করেন।রাজ্য বিধানসভায় দুই তৃণমূলের বিধায়কের শপথ গ্রহণের সময় জয় বাংলা স্লোগান তুলতে দেখা যায় তৃণমূলের বিধায়কদের। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিধানসভার অধিবেশন চালু রয়েছে। তাই বিধায়কদের শপথ গ্রহণের ব্যাপারে চিঠিতে যে নির্দেশ রাজ্যপাল দিয়েছিলেন তা এদিন মান্যতা পায়নি। বিধানসভার রুলস অফ বিজনেসের ২ নম্বর অধ্যায়ের ৫ নম্বর ধারা মেনে তিনি জয়ী বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। যদি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই শপথ অনুষ্ঠানকে বেআইনি বলে দাবি করেছেন।
God today can appear before the hungry people only in the form of breadMahatma Gandhiপরমাত্মা হওয়ার বা সাজার তার মধ্যে এক প্রধানতম সমস্যা হল সাধারণ মানুষকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান জোগানো। কারণ পরমাত্মার কাছে হাপিত্যেশি মানুষের এগুলিই হয় মূলত প্রধান চাহিদা। গান্ধীজির রুটির যদি আভিধানিক অর্থ ধরা হয় তাহলে ভুল হবে। কারণ রুটির চাহিদা মানে তার সঙ্গে উল্লিখিত বিষয়গুলিও জড়িয়ে থাকে। পরমাত্মা আর রুটির সম্পর্ক বলতে গেলে যে ছবির কথা এক নিশ্বাসে সামনে আসে তার হল Leonardo Da Vinci র The Last Supper। সেই ছবি তে পরমাত্মা শিষ্যদের সঙ্গে শেষ ভোজে বসেছেন, সেই ভোজে ও শুধু রুটি নেই। আনুসঙ্গিক আরও কিছু আছে। ধর্মশাস্ত্রে এই আনুসঙ্গিকের অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। বাস্তবিক জীবনেও রুটি ও তার আনুসঙ্গিক চাহিদার বিস্তৃতি অনেক। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে ফল দেখে কথা গুলো মনে হল তাই বলে ফেললাম।২০১৯য়ের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩ টি আসন। এবারে পেয়েছে ২৪০ টি আসন। অর্থাৎ বিজেপির ৬৩টি আসন কমেছে । গেরুয়া ভাঁড়ারে এই টানাটানি শহর বা শহরাঞ্চলে নয় মূলত গ্ৰাম ভারতে। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি গ্ৰামীন ও সংলগ্ন লোকসভা কেন্দ্র গুলির মধ্যে ২৫৩টি আসন জিতেছিল। এবার ওই আসনগুলির মধ্যে জিতেছে ১৯৩টি আসন। অর্থাৎ ৬৩টি হারা আসনের মধ্যে ৬০ টি আসন রয়েছে গ্ৰামাঞ্চলে। প্রচার ও নির্বাচন পর্ব মিলিয়ে প্রায় ৮০টই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে পরমাত্মা প্রেরিত দূত বলে দাবি করেন। নির্বাচনী ফল বলছে গ্ৰামীন ভারত সেই পরমাত্মা কে হৃদয়ে ঠাঁই দেয়নি।এখনও ভারতের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ গ্ৰামে বাস করেন। NSO র Household expenditure survey (2022-23) বলছে গ্ৰামীন জনতার মাসিক per capita expenditure ৩৭৭৩ টাকা। যদি গড়ে একটি পরিবারে চার থেকে পাঁচ জন সদস্য থাকে তাহলে মাসিক ব্যায় দাঁড়ায় আনুমানিক ষোলো থেকে কুড়ি হাজার টাকা। গ্ৰামে রাস্তা ঘাট, শৌচাগার, আবাস, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উন্নতি যে হয়নি তা নয়। কিন্তু গ্ৰামাঞ্চলে মানুষের আয় বা উপার্জন বাড়ে নি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে সব পরিবার কৃষির সঙ্গে যুক্ত তাদের আর্থিক অবস্থার একটু বেশি ই অবনতি হয়েছে। Ministry of statistics and implementation য়ের ২০২৩-২৪ অর্থ বর্ষের দেখা যাচ্ছে দেশে কৃষি ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১.৪ শতাংশ। অথচ দেশের সার্বিক আর্থিক বৃদ্ধির হার বলা হচ্ছে ৮.২ শতাংশ। এই হিসাব অনুযায়ী সার্বিক, আর্থিক উন্নয়নের হার বাড়লেও দেশের ৪৫.৮ শতাংশ মানুষ যার সঙ্গে যুক্ত সেই কৃষিতে বৃদ্ধি মাত্র ১.৪ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে শুধু রেশনে বিনামূল্যে পাঁচ কেজি চাল বা আটা দিয়ে এই ছিদ্র যে বোজানো যাবে না সেই বার্তাই ভোটে দিয়েছে গ্ৰামীন ভারত। আরো বুঝিয়ে দিয়েছে শুধু freebies বিলোলে হবে না দিতে হবে দুহাতে কাজ এবং সম্মান। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পরে বাপু কে ভারত আত্মা চিনিয়ে ছিল গ্ৰাম। এক ই গোলার্ধে সম্পুর্ন বিপরীত মতাদর্শে মাও সেতুং কে লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্ৰাম দিয়ে শহর ঘিরতে হয়েছিল। এবার দেশে নির্বাচনের সামনে প্রশ্ন ছিল সংবিধান নিয়ে, গনতন্ত্র নিয়ে, বেকারি, দারিদ্র্য ও সম্প্রীতি নিয়ে। পরমাত্মার নির্মাণ, তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণের হাতছানি সরিয়ে রেখে ভোটে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে গ্ৰামীন ভারত।
সাইবার প্রতারণার শিকার খোদ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পুরী বেড়াতে যাওয়ার জন্যে অনলাইনে হোটেল বুক করে প্রতারণার শিকার বিচারপতি সোমশুভ্র ঘোষাল। ঘটনার তদন্ত শুরু করে রাজস্থান ও আরামবাগ থেকে মূল অভিযুক্ত সহ দুজনকে গ্রেফতার করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০২২-এর ৮ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোমশুভ্র ঘোষাল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে পুরীতে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে অনলাইন মাধ্যমে একটি ৫ তারা হোটেল বুকিং করার চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁকে সেই হোটেলের বুকিং প্রসিডিউরের জন্যে একজন ফোন করে। সেখানে তাঁকে হোটেলে বুকিং করার জন্যে টাকা জমা করতে বলা হয় এবং একটি একাউন্ট ডিটেলস দেওয়া হয়। তিনি সেই একাউন্টে ৯২ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন। তবে কিছুদিন পরে ওই হোটেলে খোঁজ নিলে জানতে পারেন তাঁর নামে ওই হোটেলে কোনও বুকিং হয়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, ওই হোটেলের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে এই প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল। এরপরই টাকা কোন অ্য়াকাউন্টে জমা পড়েছে সেই সূত্র ধরে রাজস্থানের ভরতপুর এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রেম চাঁদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরামবাগ থেকে আরও এক প্রতারক স্বর্ণদীপ রায়কে গ্রেফতার করা হয়।
ছোটবেলায় শুনতাম বিজ্ঞজনেরা বলতেন, খেলার মাঠে রাজনীতি ঢুকলে sportsman spirit নষ্ট হয় । Spirit বলতে তাঁরা বোধহয় নৈতিকতার কথা বোঝাতেন। রাজনীতি তে নৈতিকতার ভাগ কবে থেকে কমতে শুরু করেছে আর এখন তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত কিনা তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সে যাই হোক, চলমান লোকসভা ভোটের আবহে প্রসঙ্গটা হঠাৎ ই মনে এলো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেমন ধুরন্ধর strategy র জন্য ক্ষুরধার মাথার কোচেরই থাকেন তেমনই একদল দক্ষ পেশাদারের প্রবেশ ঘটেছে রাজনীতিতে। যারা ভোটের প্রচার কৌশল থেকে নেতা নেত্রীর ভাবমূর্তি তৈরির কারিগর। ভোট যুদ্ধে নেপথ্যে থেকে এরা সেই কাজ করে যান।সাত দফা লোকসভা ভোটের পাঁচ দফার অন্তিম যাত্রা শেষ। ভোট শুরুর আগে একরকম প্রচার, প্রথম দফার ভোটের আগে অন্য রকম এবং দ্বিতীয় দফার ভোট থেকে বিজেপির প্রচারে বিভিন্ন সুর। প্রচারের এই নানা স্তর নিয়ে বিতর্ক এবং মতামতের স্রোত বয়ে চলেছে। বিরোধীরা বলছেন ভোট যত এগোচ্ছে তত ই স্নায়ুর চাপ বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের। তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচারে বারবার বক্তব্য বদলাচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় সেই বক্তব্য পরস্পর বিরোধী। আমি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। বিজেপি এখন বিশ্বের সেরা পেশাদার রাজনৈতিক দল। তাই তাদের প্রচারে বিভিন্ন মুখ যে সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে দেবে কি দেবে না তার উত্তর আমার জানা নেই। ভোট শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে ছিল তাঁর সরকারের সাফল্য আর বিশ্ব শক্তির নিরিখে ভারতের দৃঢ় অবস্থান। ভোট শুরুর মুখে এলো স্ংকল্প পত্র। যা বহু কল্যানময় প্রকল্পের রূপায়নে মোদী কি গ্যারান্টি বললেই ভালো হয়। আবার ভোটের দ্বিতীয় দফা থেকে চিরাচরিত গেরুয়া রঞ্জিত হিন্দু মুসলিম বিভাজন। কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারকে নিশানা করে চলছে এই মেরুকরণ। প্রধানমন্ত্রী বলছেন সব সংরক্ষণ মুসলিমদের দেওয়া হবে, অন্য পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর ভাগ কমে যাবে। কংগ্রেস হিন্দু নারীদের মঙ্গলসূত্রও ছিনিয়ে নেবে। এরই সঙ্গে রয়েছে হিন্দুত্ব বনাম সংখ্যালঘুর কড়া dose.বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানে, ২০১৪ এবং ২০১৯শে প্রচারে স্বপ্ন দেখানোর জমি এখন আর ঊর্বর নয়। দশ বছর শাসনের পরে শুধু সরকারের সাফল্য প্রচার করে যতটা চাই ততটা ভোট পাওয়া যাবে না। কারণ সেই সাফল্যে অনেক ছিদ্র রয়েছে। এই ছেঁড়া ফাটা সাফল্যের আকাশে নতুন স্বপ্নের তারা টাঙালে ভবি ভুলবে না। তাই বাউলের আলখাল্লার মতো প্রচারের পোশাকে নানান রঙের তালি। এই সবের পাশাপাশি একটি বিষয় বিজেপি কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সেটি হলো খাদ্য দ্রব্যের দামে severe heatwave. April মাস থেকে খাদ্য দ্রব্যের খুচরো এবং পাইকারি দামে inflation rate ঊর্ধ্বগামী। গত পাঁচ মাস ধরে আনাজের inflation rate ২৭.৫ শতাংশের উপরে। এছাড়াও pulse, cereals, মাছ, মাংস আর ফলের দাম বেড়েই চলেছে। সঙ্গে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। Crisilয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী বাড়িতে একজনের খাবারের থালার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকার ও বেশি। পেঁয়াজ, টমেটো আর আলুর দাম বাড়ার কারণে গৃহস্থের নাভিস্বাস উঠছে। কেন্দ্রের নিজস্ব পোর্টাল Agmarknet. Agmarknet দেখাচ্ছে টমেটোর খুচরো বাজারে দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। আলু আর পেঁয়াজের দাম ৫০% বেড়েছে। ১৯৮০তে জনতা সরকারের পতনে ইন্দিরার ক্ষমতায় ফেরা আর ১৯৮৯ তে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হারের পিছনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কাহিনী চালু আছে। এর সঙ্গে রয়েছে ২০০৪ সালের বাজপেয়ী সরকারের India Shining স্লোগানের ভরাডুবি। এই প্রেক্ষাপটে খালি পেটে অথবা বাজারের আগুন মুখে নিয়ে বুথে গেলে কি হবে কিচ্ছু বলা যায় না। এই আশঙ্কা থেকেই হয়তো মনহরা হিন্দু মুসলিম মেরুকরণের আদি পথেই ফিরলো বিজেপি।
রাজারহাট ডি আর আর স্টুডিওতে আগুন। জনপ্রিয় টিভি শো দিদি নম্বর ১ এবং দাদাগিরি শুটিং হয়। প্রথমে ষ্টুডিওর ভিতরে রাখা একটি মেকআপ (ভেনেটি) ভ্যানে আগুন লাগে। এরপর পাশে থাকা আরো একটি ভেনেটি ভ্যানে আগুন লাগে। পাশে থাকা একটি টিনের শেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ষ্টুডিও এর মধ্যে থাকা জলাশয় থেকে জল তুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায় ষ্টুডিও কর্মীরা। আগুনে দুটি গাড়ি পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে রাজারহাট থানার পুলিশ। দমকল এর একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। দমকল এর গাড়ি দেরিতে আসায় বিক্ষোভ দেখায় কর্মীরা।উল্লেখ্য, দিদি নম্বর ওয়ান টেলিভিশন শো-এর প্রধান অ্যাঙ্কার রচনা ব্যানার্জী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হুগলী লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর ধোয়া ধোঁয়া মন্তব্য নিমিষে ভাইরাল হয়ে যায়। এহেন অভিনেত্রীর বহুল প্রচারিত টেলিভিশন শো দিদি নম্বর ১-এ সেটেও লেলিহান আগুনের ধোঁয়ায় জেরবার। সুত্রে জানা গেছে এই মুহুর্তে ওখানে দিদি নম্বর ১-এর শুটিং ছিল না, তাই অভিনেত্রী ওখানে থাকার সম্ভাবনাও ছিল না।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করল। মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকাকে চিঠি দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের জেলাশাসক পদে চার জনের নাম অনুমোদন করল কমিশন। বৃস্পতিবার ওই চার জেলার জেলাশাসককে পদ থেকে সরায় নির্বাচন কমিশন।২০১০ ব্যাচের আইএএস জয়শী দাশগুপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নতুন জেলাশাসক হলেন। ঝাড়গ্রামের নতুন জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে মৌমিতা গোদারা বসুকে। মৌমিতা ২০০৭ ব্যাচের আইএএস। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কে রাধিকা আয়ারের নাম জেলাশাসক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বীরভূমে শশাঙ্ক শেঠিকে নতুন জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাধিকা ২০১১ এবং শশাঙ্ক ২০১০ ব্যাচের আইএস। চার নয়া জেলাশাসকই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এবং তারা প্রত্যকেই একাধিক বার জেলাশাসকের দায়িত্বভার পালন করেছেন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন, আগামিকাল, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে নবনিযুক্ত জেলাশাসকদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে কমিশনকে জানাতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই চার জেলার জেলাশাসকেরা কেউই আইএএস ক্যাডারের অফিসার নন। ৪ জনই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। সেই কারণেই তাঁদের জেলাশাসক পদ থেকে সরানো হয়েছে। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দেয় পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন। সেই আবেদনে চার জেলার জেলাশাসকের অপসারণের যে কারণ নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছেন সেই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন দাবি করেছে এই অপসারণ বৈষম্যমূলক। তাঁদের বক্তব্য যে কারণ দেখিয়ে ওই চার জেলার জেলাশাসকদের অপসারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আধিকারিকদের আবেগ, নীতিতে ধাক্কা দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতি সহ নানাবিধ বৈশিষ্টের ওপর ভর করে নানা রেজিমেন্টে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে যেমন মাদ্রাজ রেজিমেন্ট আছে তেমনই বিহার রেজিমেন্ট, রেজপুতানা রেজিমেন্ট, গোর্খা রেজিমেন্ট (রাইফেলস), রাজপুত রেজিমেন্ট সহ একাধিক রেজিমেন্ট আছে। বাংলা ভাষা ও বাঙালীর অধিকার রক্ষাকারি একমাত্র সংস্থা বাংলা পক্ষের দাবী বাংলা রেজিমেন্ট। বাংলা পক্ষ জানায়, বাঙালির রক্তে স্বাধীন হয় ভারতবর্ষ, আন্দামানের সেলুলার জেলের প্রত্যেকটা ইঁটে বাঙালি বিপ্লবীদের রক্ত লেগে আছে। পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে বাঙালি বীর সুভাষচন্দ্র বসু ও রাসবিহারী বসু তৈরি করেছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজ। কিন্তু দুঃখের কথা ভারতীয় সেনায় কোনো বাঙালি রেজিমেন্ট নেই। সুভাষ চন্দ্র বসুর মাতৃভাষা বাংলা ভাষায় সেনাবাহিনীর চাকরির পরীক্ষা দেওয়া যায় না।রাত পোহালেই ভারতবর্ষের ৭৫তম সাধারনতন্ত্র দিবস। তার প্রাক্কলে ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট ও সেনায় চাকরি পাওয়ার পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হল বাংলা পক্ষ। ভারতের বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব। বুধবার সংগঠনের ডাকে এক্স হ্যাণ্ডেল (সাবেক টুইটারে) তারা এর প্রচার করে। তার হ্যাশট্যাগ #BengaliRegimentInIndianArmy বাংলা পক্ষের আবেদন, বাংলা থেকে নির্বাচিত ৪২ জন সাংসদ যাতে সংসদে বাঙালি রেজিমেন্টের দাবিতে সরব হয় তা জানিয়ে সাংসদদের চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ও একটি চিঠি তাঁরা দিয়েছে।বাংলা পক্ষ সংগঠনের পক্ষে তাঁদের অন্যতম শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবি লোকসভায় উত্থাপন করার অনুরোধ জানিয়ে বাংলার সকল সাংসদকেই চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলা পক্ষর সাধারন সম্পাদক ডঃ গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বেশী রক্ত দিয়েছে বাঙালি, ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল আর্মি (Indian National Army) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরী করেছিলেন এক বাঙালি অথচ আজ স্বাধীন ভারতের সেনা বাঙালির কোন রেজিমেন্ট নেই, যেখানে বিহার, পাঞ্জাব, গাড়োয়াল, মারাঠা, গোর্খা রেজিমেন্ট আছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজনীতি করা হয় কিন্তু তাঁর মাতৃভাষায় সেনায় ভর্তি পরীক্ষা হয় না। বাংলা পক্ষ চায় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে বাংলা ভাষায় সেনার পরীক্ষা ও বাঙালি রেজিমেন্ট গঠন করুক যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। আগামীদিনে সেনার চাকরির স্বপ্ন দেখা বাঙালি যুবকদের স্বার্থে এই দুই দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর করা হবে বলে জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
বাংলা ও বাঙালীর আপন সংগঠন বাংলা পক্ষ তাঁদের ষষ্ট-তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এক অভিনব কর্মসূচি করল। ৭ই জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে উদযাপন করতে হুগলীর চুঁচুড়া থেকে ৯০ কিলোমিটার গঙ্গাবক্ষে অভিযান করল সংগঠনের সদস্যরা। ভাগীরথী নদীতে দুটি লঞ্চে প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্য উপস্থিত ছিলেন এই ভাসমান মিছিলে। নদী বক্ষে এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মহম্মদ শাহীন, মনন মন্ডল, সৌম্য কান্তি ঘোড়ই সহ বিভিন্ন জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, দর্পন ঘোষ, মামুদ আলি মণ্ডল, দেবাশীষ মজুমদার, প্রবাল চক্রবর্তী, অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত সাহা, সুতনু পণ্ডিত, ছাত্রপক্ষের রণ ভট্টাচাৰ্য সহ প্রমুখ ব্যক্তি।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানালেন, বাংলা পক্ষ তার গর্বের ৬ বছর অতিক্রম করল। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে সংগঠন ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করছে। বাংলার বুকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা বাংলা পক্ষই করেছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে বাঙালিকে বঞ্চিত করে এসেছে তা বাঙালির সামনে প্রথম তুলে ধরে বাংলা পক্ষ এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে বাংলা পক্ষ। তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষের বিভিন্ন সফলতার মধ্যে অন্যতম WBCS পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাংলা ভাষার বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা। বাংলার ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত করে বহিরাগতরা জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও কাস্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রাপ্য আধাসেনার চাকরি গুলো দখল করছিল সেই তথ্য প্রথম তুলে ধরে বাংলাপক্ষ। বাংলাপক্ষের আন্দোলন ও অভিযোগের ভিত্তিতে জাল ডোমিসাইল চক্রের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলা পক্ষের বহু পথ চলা বাকি। এবং বাংলাপক্ষের প্রতিটি সদস্য বিশ্বাস করে এক দিন বাংলার সব কিছু বাঙালির হবে এবং বাংলা পক্ষ তা করেই ছাড়বে। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশি পৌঁছোনোই আগামীর লক্ষ্য। গ্রামে সংগঠনে জোর দেবে সংগঠন।
শনিবার কলকাতায় মাতঙ্গিনী হাজরার মুর্তির পাদদেশে ৫০০ দিনে পড়েছে রাজ্য সরকারের গ্রুপ ডি চাকরি প্রার্থীদের ধর্ণা অবস্থান। চাকরি প্রার্থীদের তরফে আশিষ খামরাই জানান, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আমাদের জানিয়েছিলেন, গ্রুপ-ডি তে ৬০ হাজার পদে কর্মী নিয়োগ হবে। ২০১৭ তে ৬০০০ শূন্যপদে কর্মীনিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ও জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২৫ লক্ষ্য চাকরি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় বসেছিলেন প্রায় ১৯ লক্ষ্য প্রার্থী এবং পাশ করেন ১৮ হাজার পার্থী, সবশেষে ইন্টারভিউ নেওয়ার পর মাত্র ৫৪২২ জন প্রার্থীর মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৬০০০ শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি বেরোনোর পরও ৫৪২২ জনের মেধা তালিকা তৈরী হওয়ায় চাকরি প্রার্থীরা প্রতিবাদ স্বরূপ ধর্ণায় বসেন। বাকিদের মেধা তালিকায় নাম না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি ৫৪২২ জনের মেধা তালিকা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। এই উপলক্ষে তারা ধর্ণা স্থানে প্রতীকী হিসেবে ফাঁসির মঞ্চ তৈরী করেছেন। তারা আরও জানান যে, তারা রাজ্যপালের কাছেও স্মারকলিপিও জমা দেবেন এবং সেখানে প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করবেন - লেখাপড়া করে যে, অনাহারে মরে সে এই উক্তিটি। যতার্থই এই শিরোনাম তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।রাস্তায় জীবন কাটছে তাদের। রাস্তায় দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েও চাকরি জোগাড় না করতে পেরে হতাশা ও মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন তারা। অনেকেই ছোটোখাটো চাকরি করে জীবন যাপন করছেন।