• ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Choto Galpo

নিবন্ধ

Diary of a young girl: মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)

ফোনটা পেয়ে আই পি এস অফিসার সুকৃতী রায় নিজেই গেলেন ঘটনাস্থলে,সঙ্গে দুজন অধস্তন সহকর্মীকে নিয়ে।বুঝলেন মেয়েটার শরীরে তখনও প্রাণ আছে।নিজের গাড়িতেই তুলে নিয়ে ছুটলেন হাসপাতাল রেখে গেলেন সহকর্মীদের।ঘটনাস্থলে চারজনকে ধরা হয়েছে।হাসপাতাল পৌঁছে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আবার গেলেন ঘটনাস্থলে যদি কিছু পাওয়া যায়,মেয়েটির পরিচয়,আপনজন কারো কোনো খোঁজ।ঘরে চারিদিক খূঁজে একটা সেল ফোন পেলেন ।কিন্তু কেনো জানিনা আরো কিছু পাওয়ার আশায় খূঁজে দেখ্তে লাগলেন । পেয়েও গেলেন একটা ডায়েরি।দুটো জিনিস নিয়ে ফেরেন নিজের অফিসে।বারবার মেয়েটার মুখটা মনে পড়ছে; কতই বা বয়স হবে কুড়ি একুশ।মুখে যেন একটা অব্যক্ত কষ্ট আর আতঙ্ক ছিলো মেশানো।ভাবতে....ভাবতে মেয়েটার ফোনটা বের করে অন করলেন। বাহ নামটা বেশ ভালো মিঠি।লাস্ট কয়েকবার বাবাকে ফোন করেছিল।বোধহয় ফোনটা রিসিভ হয়নি।কিন্তু কেনো? কে এই মেয়ে? কেনো এতবার বাবাকে ফোন করেছিল? কি বলতে চেয়েছিল?এইসব নানান প্রশ্ন আসছে মাথায়।নিজের ফোন থেকেই বাবার নং টা ডায়াল করলেন--দু তিন বার রিং হওয়ার পরহ্যালো,কে?আমি লালবাজার থেকে বলছি।লালবাজার? কে কেনো? গলাটা যেন কেঁপে গেল মনে হলো সুকৃতীরহ্যাঁ , আপনার মেয়ে মিঠি দাস?মিঠি? কে মিঠি? আমি কোনো মিঠিকে চিনিনা। বলে ফোনটা কেটে দিল।সুকৃতী অবাক হয়ে কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল; সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।বেয়ারা কে ডেকে এক কাপ চা দিতে বলল।চা খেতে খেতে ডাযেরি টা খুলল...না রোজ লেখা নয়, হয়তো যে ঘটনা লিখে রাখতে মন হয়েছে সেটাই লিখে রেখেছে। মানে যে ঘটনা মিঠির মনে দাগ কেটেছে সেটা ও ওর লেখায় বন্দি করে রেখেছে।লেখা শুরু করেছে তখন ও ক্লাস নাইন। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন নতুন জানা বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার কথা লিখেছে।সুকৃতী পড়তে লাগল পাতা উল্টে, মিঠি নিজের প্রথম প্রেমের কথা লিখেছে।১২/০৮/২০০৯আমি এখন ক্লাস ইলেভেন এ পড়ি ।পড়ার বাইরে নাচ গান করতে আমার ভালো লাগে।স্কুলের স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রগ্রাম হবে। সেইজন্য এখন রোজ রিহার্সাল চলছে। কদিন থেকেই খেয়াল করছিলাম ক্লাস টুয়েলভের সুজয় কিছু বলতে চাইছে ।আজ ও বলেই ফেলল। খারাপ না ছেলেটা। আমারও ভালই লাগে।যদিও আজ আমি কোনো উত্তর দিই নি।আবার ১২/০৮/২০০৯আজ সুজয় কে হ্যাঁ বলেছি।কিন্তু ভয় করছে খুব। মা তো আমাকে দেখেই বুঝবে তখন আমি মা কে কি বলবো। মা যে আমার মুখ দেখেই সব বুঝতে পারে ।আমার পড়া নষ্ট করলে হবে না। তাহলে মা কষ্ট পাবে।এরপর আবার বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি । তারপর হঠাত্ লিখেছে মায়ের কি যেন হচ্ছে আমাকে ঠিক বলছে না। শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাবাও কদিন থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলছে।বাবা মায়ের সম্পর্কটা খুব ভালো লাগে।সুজয়কে বললাম মায়ের কথা।ও যেন একটু অন্যরকম। মায়ের কথাটা গুরুত্ব দিলনা । আমার ভালো লাগেনি ওর এই ব্যবহার।এরপর বেশ কিছু পাতায় রয়েছে মিঠির সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের কথা।মা মেয়ের মধ্যে যে একটা বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক সেটা বোঝা যায় ওর লেখায়।সুজয়ের সঙ্গে ওর ঝগড়া হয়ে গেছে।ছেলেটা খুব স্বার্থপর । ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না।এরপর ওর মায়ের অসুস্থতার কথা লেখা আছে।বাড়িতে ঝড় চলছে। ও বাবা মা কে যতটা পারছে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে।এই ভাবে ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলো। খুব আনন্দ সেদিন ওদের । বাবা তো ভীষণ খুশি ওর রেজাল্ট এ। ও যে ওর বাবার স্কুলেই পড়ে ।এরপর ওর জীবনের সব থেকে কষ্টের ঘটনাটা ঘটে। ওর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তার প্রায় একমাস পরে ও আবার লেখে...মা চলে গেছে একমাস হয়ে গেল।আমি খুব একা হয়ে গেছি। বাবার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মানুষটা যেন কেমন হয়ে গেছে। আমার তো এখং কলেজে যাওয়া আছে অনেকটা সময় কেটে যায় ওখানে। বাবা স্কুল যাচ্ছে না এখনো ।খুব চিন্তা হচ্চে বাবার জন্য।বাবা মেয়ের সংসার চলছে কোনোরকমে। কলেজে যাওয়ার পথে সুনন্দর সঙ্গে পরিচয় হয় মিঠির ।খুব helpful ছেলে টা । বেশ ভালো কথা বলে।এরপর আবার চোখ আটকে যায় সুকৃতীর... ১২/০৩/২০১২বাবা কাল বিয়ের কথা বলছিল কাকে যেন। মনে হলো কোনো বন্ধুর সঙ্গেই কথা বলছিল।আজ সুনন্দ কে সে কথা বললাম। ও বলল ভয় কি আমি তো আছি। কি জানি কি হবে আমার তো খুব ভয় করছে। মা এর পর একমাত্র সুনন্দর সঙ্গে সব কথা বলতে পারি । ও আমাকে বোঝে খুব ভালো।দেখ যাক কি হয়। নাহলে বাবা কে বলতেই হবে।জীবন বয়ে চলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে মানুষের মধ্যে।মিঠির মাতৃহারা একাকী জীবনেও সেরকম জুড়ে যায় সুনন্দ।বেশ কিছু পাতায় লেখা ওর আর সুনন্দর কাটান অনেক ভালো মুহূর্তের কথা। সেগুলো পড়ে সুকৃতী ভাবে বেশ ভালো একটা সঙ্গ পায় মিঠি।এরপর বেশ কিছুদিন কিছুই লেখেনি। তারপর হটাত লেখে২৫/১২/২০১২আজ একটু বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি বলে সুনন্দর সঙ্গে বেরিয়ে ছিলাম। বেশ ভালই কাটলো দিনটা; কিন্তু সন্ধ্যে বেলা বাড়ি ফিরে দেখি বাবার বন্ধু তিমির কাকু এসে বসে আছেন।তিমির কাকুর ছেলের সঙ্গেই আমার বিয়ের কথা হচ্ছে । ওনাকে দেখে আমার তো ভুত দেখার অবস্থা।যাই হোক রাতে কাকু আমাদের বাড়িতে থাকলেন আজ।২৬/১২/২০১২না আজ আর থাকতে পারলাম না। বাবাকে সব বললাম। সুনন্দর কথা শুনে বাবা তো কোনো কথা না বলে ঘরে চলে গেল। আর রাতে খেতেও উঠল না। আমি একটু আগে সুনন্দকে ফোনে সব বললাম ও দুদিন পর দেখা করবে বলল। এদিকে আমার পড়া মাথায় উঠেছে।আবার দুদিন পরে লেখা... ২৮/১২/২০১২আজ সুনন্দর সঙ্গে দেখা করলাম। ও যেটা বলছে আমি মানতে পারছিনা। ও বলছে বিয়ে করে নিতে। তারপর বাবা ঠিক মেনে নেবে। কিন্তু আমি এভাবে কিছু করতে চাই না। এদিকে সেদিনের পর থেকে বাবাও আমার সঙ্গে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আমি তবু বাবাকে বললাম একবার কথা বলতে সুনন্দর সঙ্গে। কিন্তু বাবা কোনো সাড়া দিল না। আজ মায়ের অভাব টা বড্ড বেশী করে অনুভব করছি।এভাবে বেশ কিছু দিন ওর মনের উদ্বেগের কথা লেখা। বাবার সঙ্গে এইনিযে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একা কি করবে ঠিক করতে পারছে না। সেরকম কোনো বন্ধুও ওর নেই যার সঙ্গে পরামর্শ করবে।তারপর প্রায় মাস খানেক পরে লেখা ১৩/০২/২০১৩আজ এক সপ্তাহ হলো আমি আর সুনন্দ বিয়ে করেছি । বাবা মেনে নেয়নি। আমরা ওর এক মাসির বাড়িতে আছি। ও এই মাসির কাছেই মানুষ হয়েছে। কারণ ছোটবেলায় ওর মা বাবা মারা যান। মাসি বেশ ভালো । আমাকে মায়ের মতই আগলে রাখেন।বেশ কাটছে দিন গুলো।কিন্তু বাবার জন্য খুব মন খারাপ হয়। সুনন্দ তখন বোঝায় আমাকে।এরপর বেশ কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ওদের সুখের কথাই লেখা।আবার... ১৫/০৮/২০১৩আমরা কলকাতার একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে এলাম। সুনন্দর কাজের সুবিধার জন্য।মাসি এলেন না ওনার বাড়ি ছেড়ে।আমাদের দিন গুলো বেশ কাটছে। আমার ভিতর কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে মনে হয়। মাকে আমার খুব মনে পরে। মা থাকলে আজ বাবা ঠিক মেনে নিত। বাবা কে ফোনে চেষ্টা করেছি, বাবা ধরেনি।আমি কনফার্ম না হয়ে সুনন্দ কে কোনো কিছু বলতে পারছিনা। ঠিক এর দুদিন পরের লেখা পরে সুকৃতী চমকে ওঠে......মানুষের জীবনে কার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হয় আর কাকে কখন কিভাবে কাজে লেগে যায় কেউ মনে হয় জানে না।সুকৃতীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো।যেখান টা পড়তে গিয়ে চমকে গেলো সেই ঘটনা মনে পরে গেল ওর---- মাস দু তিন আগে একদিন খুব প্রয়োজনে একটি শপিং মলে যায় সুকৃতী ।একদম অন্য ভাবে কাস্টমার হিসাবেই যায়।কিন্তু অবাক হয় একটি অল্পবয়সি বিবাহিত মেয়ে ওর কাছে এসে যখন ওর সঙ্গে কথা বলতে চাইল এবং বলল ও সুকৃতীর কথা পড়েছে কাগজে । সুকৃতীর বেশ ভালো লাগল। ঐ বয়সী মেয়েরা সাধারণত সিনেমার জগতের খবর রাখে । এই মেয়েটা যেন একটু আলাদা । তারপর ওর ফোন নং চাইলে সেটা দেয় মেয়েটা কে।এই যে সেই মেয়ে বুঝতেই পারেনি।ডায়েরি তে সেদিনের কথা লেখা আছে সব।এরপর চমক আর চমকনা কোনো তারিখ নেইআজ লিখছি যদিও ঘটনা কাল ঘটেছে,জা আমাকে আহত করেছে মানসিক ভাবে ।কাল একটা কিট এনে টেস্ট করি এবং খুব আনন্দের সঙ্গে সুনন্দকে রাতে খবরটা যখন দিলাম ও তো রীতিমত বিরক্ত হলো। আমি আকাশ থেকে পড়লাম ওর ব্যবহার দেখে। ও চায় না আমি মা হই। যেভাবে ও সেটা বলল মনে হলো যেন সব ভুল আমার। তারপর অবাক হলাম বেশ অনেকটা রাতে কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছিল,মনে হলো যেন এই ব্যাপারেই বলছে।পরের লেখার তারিখ ২০/০৮/২০১৩আজ আমার জীবনের এমন একটা দিন যা আমাকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে এরকম ভুল কেউ মনে হয় করে না। আমার ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিয়েছি । আজ ঈশ্বর আমাকে সেই শাস্তি দিচ্ছে।।সুনন্দর মনে কি আছে বুঝতে পারছি বলে মনে হচ্ছে; কিন্তু কোনো প্রমান না পেলে আমি কাকে কি বলবো?? আজ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। জোর করে অ্যাবরেশন (abortion) টা করিয়ে দিল।সুনন্দ যে কোনো অফিসে কাজ করে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। ও যে জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত বুঝলাম ওর রাতে ফোনে কথা শুনে। ও বুঝতেই পারেনি যে আমি জেগে আছি।তাই ওর দলের কাউকে বলছিল আর না মালটা কে অনেকদিন সহ্য করলাম এবার দিয়ে দিতে হবে। শালা ভেবেছিলাম বাপটা মেনে নিলে কিছু মালকড়ি ঝেড়ে তারপর মালটাকে বিক্রী করবো। ধুর বাপটা শালা এখনো ডাকল না। এবার তো একদম সংসার করে ফেললাম। আর না এবার মালটা কে পথে নামাতে হবে। এসব শোনার পর আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। কিছুক্ষণ ভাবলাম কি করবো এখন? কি ভাবে বাঁচব এবার এর হাত থেকে? হটাত মনে পরলো সুকৃতী ম্যাডামের কথা। মেসেজ করলাম ওনাকে ।এবার শুরু হয়েছিল সুকৃতীর সঙ্গে মিঠির যোগযোগ। না বেশিদিন না কারণ সুনন্দর তাড়া ছিল। আর আজ সেটাই ঘটল।মিঠি সুকৃতীর কথা মতোই সুনন্দর কথা গুলো রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয় ।এগুলো কিছুই সুনন্দ জানতে পারে না। আজ যে সুনন্দ মিঠিকে ওদের মতো করে ব্যবহার করতে চলেছে মিঠি সেটা বুঝে সুকৃতী কে জানায় আর এটাও বলে যে দেরি হলে ওর জীবন সংশয়।আজ সুনন্দ বন্ধুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে মিঠিকে নিয়ে বের হয়। তারপর নিয়ে যায় বেশ কিছুটা দুরে একট বাগান বাড়িতে । সেখানে তিন চার জন ছিলো। বেরনোর ঠিক আগে সুযোগ বুঝে ফোনটা নিয়ে নিয়েছিল মিঠি। ওখানে গিয়ে সব বুঝতে পারে তারপর কোনো ভাবে সুকৃতীকে ফোনটা করেছিল।শেষ মুহুর্তে ওরা পৌঁছে সব কটাকে হাতে নাতে ধরে।সুকৃতী মেয়েটার সাহস দেখে সত্যি অবাক হয়েছিল।বারবার এই কাজে যে কতটা রিস্ক আছে বুঝিয়ে ছিলো । বলেছিল ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু মেয়েটার একটা কথা ওকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল-- ম্যাডাম আর যেন কেউ আমার মতো ওদের কাছে বোকা না হয়। আমাকে পারতেই হবে।তখন সুকৃতী ওকে একটা জিনিস দেয় জুতোর নিচে পরে রাখতে বাইরে যাবার সময়। সেই মতো মিঠি সব করেছিল। কিন্তু ও যে সঙ্গে করে মারাত্বক বিষটা সঙ্গে নেবে ভাবেনি। সুকৃতীর পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে যায় রাস্তায় জ্যাম থাকায়।আর তাতেই মেয়েটা শেষে এই পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।সুকৃতী নিজেকেই দায়ী করে কিছুটা।মিঠির ডায়েরির কথা শেষ। তারপরেও কিছু ঘটনা থেকে যায় যেটা না বললে ডায়েরিটা যে কি ভাবে কাজে আসলো সেটা না বললে সম্পূর্ণ হয়না।ডায়েরিটা পড়ে সুকৃতীর মনটা বড়োই উতলা হয়ে উঠলো। পড়া হয়ে গেলে আবার ফোন করে মিঠির বাবাকে।হ্যালো প্লিস ফোনটা কাটবেন না। কিছু কথা আছে আপনার সঙ্গে।ও বলুনআপনার মেয়ে মিঠি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। ও শেষ মুহুর্তে আপনার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য ফোন করেছিল।ওদিকে কোনো সাড়া না পেয়েহ্যালো শুনতে পাচ্ছেন??......হ্যাঁ বলুন বলুন,কোথায় আছে ও? আমাকে ঠিকানা তা দিন।সুকৃতী তখন ওনাকে ঠিকানা দিলেও ওখানকার পুলিশ স্টেশনে ফোন করে ।সেখানে ওর চেনা একজন অফিসার আছে। তাকে বলে মিঠির বাবা কে পৌঁছে দিতে ।আর ওনাকে ঐ অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে বলে রেখে দেয়।এরপর আবার হাসপাতাল যায়, মিঠির খবর নিতে।তখনো জ্ঞান ফেরেনি।ডাক্তার বাহাত্তর ঘন্টা সময় দিয়েছে।সুকৃতী বারবার ভাবে আর একটু যদি আগে পৌঁছাতে পারত তাহলে আজ মেয়েটার এই অবস্থা হতো না।এবার ফোনে খবর নেয় ধরা পড়া দলের। এই দলটা কে বেশ কিছুদিন ধরেই ধরার চেষ্টা চলছিল কিন্তু কিছুতেই পারছিল না ।আজ মিঠির সাহসের কারণে সম্ভব হল।অথচ মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারল না।এইসব ভাবছে হসপিটাল করিডোরে দাঁড়িয়ে এমন সময় উদ্বেগপুর্ণ কন্ঠ কানে এলো।মিঠির বাবা চলে এসেছেন।আমার মেয়েটা কেমন আছে? কোথায় সে? কি হয়েছে? বলতে বলতে এগিয়ে আসে সুকৃতীর দিকে।সুকৃতী বলে আপনি শান্ত হয়ে বসুন।ও এখন এখানেই আছে ।চিন্তা করবেন না ।সব ঠিক হয়ে যাবে।সুকৃতীর হাতটা ধরে কেঁদে ফেলেন । আমায় মেয়ের প্রাণ টা ফিরিয়ে দাও ।আর আমি কিছু চাই না মা।তুমি শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও।তুমিও আমার মেয়ের মতো ।আমি খুব ভুল করেছি । আমি যে বাবা, আমার দরজা ওর জন্য চিরকাল খোলা সেটা বলতে ভুলে গেছিলাম।সুকৃতীর মনে পরে গেলো নিজের বাবার কথা।আজ বাবা নেই,কিন্তু বাবাও ঠিক এই কথাটাই বলতেন।আমাদের অভিভাবকদের কাজ ভালো মন্দ টা বলে দেওয়া।তারপর সন্তান কোনটা বেছে নেবে সেটা তার ব্যাপার। ভুল করে যদি ভুল পথে যায় ও আমাদের দরজা সব সময় খোলা সন্তানের জন্য।আমরা যে বাবা মা।ভুল বুঝে যদি ফিরে আসতে চায় তাকে সাদরে গ্রহণ করা বাবা মায়ের কাজ।সুকৃতীর চোখটা ভিজে গেলো ।পুলিশ হলেও মনটা তো আছে ।এরপর মিঠি সুস্থ হয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ি গেলো আর সুনন্দ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা জেলে।জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দিয়েছে সুকৃতী।শাস্তি ওরা পাবেই।পরিশেষে বলি মিষ্টি কথায় ভুলতে নেই। ভুল ধরা পড়লে এইভাবে সাহসের সঙ্গে এগোতে হয়।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ০৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

মস্কোয় ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার আটক! জোর করে রুশ সেনায় যোগ দেওয়ানোর অভিযোগ, কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রীর আর্জি

মস্কোয় আটক ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার চন্দন গুপ্তা। তাঁর স্ত্রী স্নেহা গুপ্তার দাবি, কোনও অপরাধ না করেও তাঁর স্বামীকে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে। তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্নেহা। তবে ঠিক কী কারণে চন্দনকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।জানা গিয়েছে, চন্দন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। স্ত্রী স্নেহা এবং ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই মস্কোয় থাকছিলেন তিনি। রবিবার দুপুরে মস্কো পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে পরিবারের দাবি। এর পরেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন স্নেহা।সেই ভিডিওতে স্নেহা জানান, চন্দন নয়ডার একটি সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেন। চাকরির সূত্রেই সংস্থাটি তাঁকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। পরে বৈধ কাজের ভিসা নিয়ে স্ত্রী এবং সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মস্কোয় যান চন্দন। সেখানে থাকার সময়ই তাঁকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ।স্নেহার দাবি, তাঁর স্বামী কোনও অন্যায় করেননি। তা সত্ত্বেও তাঁকে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেই বিষয়ে পরিবারকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি বলেও দাবি তাঁর।এরই মধ্যে আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্নেহা। তাঁর দাবি, চন্দনকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।স্বামীকে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে চন্দনের পরিবার। স্নেহার কথায়, ১০ বছরের সন্তানকে নিয়ে তিনি মস্কোয় কার্যত অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি রুশ ভাষা বুঝতে পারেন না। ফলে তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটছে, কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা জানতেও সমস্যায় পড়ছেন।কান্নায় ভেঙে পড়ে স্নেহা আবেদন জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। অন্য দিকে, চন্দনকে ঠিক কোন অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর স্ত্রীর করা রুশ সেনায় যোগ দেওয়ানোর অভিযোগও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গোটা বিষয়টি নিয়ে পরিবারের তরফে সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
দেশ

শ্রদ্ধা ওয়াকারের ঘটনার স্মৃতি ফেরাল গুয়াহাটি! স্ত্রীকে খুন করে মুণ্ডু ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখল স্বামী

গুয়াহাটিতে এক তরুণীকে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনায় সন্দেহের তির তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামীর দিকে। তবে এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ বছরের রিয়া তালুকদারের সঙ্গে রামানুজনের বিয়ে হয়েছিল। তাঁরা গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকায় থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা তীব্র আকার নেয়। এরপর রাত আটটা নাগাদ রামানুজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।পরের দিন রাতের দিকে ওই বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। তখন ফ্রিজের ভিতর কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়া অবস্থায় রিয়ার মাথা পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর হাতের কয়েকটি আঙুলও কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।এই ঘটনার পর থেকেই রামানুজনের দিকে সন্দেহের তির ঘুরেছে। তবে এখনও তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রামানুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।জানা গিয়েছে, রিয়া ফ্যান্সি বাজারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাজারে কাজ করতেন। তাঁর মা-বাবা কেউই জীবিত নেই। পরিবারের বলতে এক ভাই রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।এই ঘটনা সামনে আসতেই ২০২২ সালের শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের কথাও মনে পড়ছে। ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লির মেহরৌলিতে শ্রদ্ধাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর প্রেমিক আফতাবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, হত্যার পর শ্রদ্ধার দেহ একাধিক টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।শ্রদ্ধা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে আফতাবের সঙ্গে দিল্লিতে চলে এসেছিলেন। পরে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি এর আগে আফতাবের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছিলেন শ্রদ্ধা বলে জানা যায়।গুয়াহাটির বর্তমান ঘটনার সঙ্গে শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনও যোগ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার ভয়াবহতার কারণে পুরনো সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নতুন করে ফিরে এসেছে। গুয়াহাটির ঘটনায় এখন মূল সন্দেহভাজন রামানুজনের সন্ধানেই জোর দিচ্ছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
দেশ

সত্য নিকেতনে ছ’তলা বাড়ি ভেঙে মৃত্যু ৭ জনের! চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির মালিক আটক

দিল্লির সত্য নিকেতনে ছতলা একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর রাজস্থানের বিওয়াড়ি থেকে বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে আটক করেছে পুলিশ।দুর্ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিকের খোঁজ শুরু করেছিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকালেই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। এর পর বাড়ির মালিকের সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলিতে তল্লাশি চালাতে একাধিক দল তৈরি করা হয়। তিন-চারটি দল বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালায়। তাঁর মালিকানাধীন একটি হার্ডওয়্যারের দোকানেও পুলিশ যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, গত দুদিন ধরে দোকানটি বন্ধ ছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিরাম গুপ্ত এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেক্টর ২৩ এবং পালাম বিহার এলাকায় তাঁর পরিবারের একাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছের এই এলাকায় বহু বাড়ি মেস বা পিজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ বাড়ির নিচেই রয়েছে বেসমেন্ট। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়া বাড়িটির নিচে জল জমেছিল। সেই সময় বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। এর ফলে বাড়িটির ভিত দুর্বল হয়ে গিয়ে ধস নামতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বাড়িটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরসভার দাবি, আবাসিক বাড়ির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭ দশমিক ৫ মিটার হতে পারে। কিন্তু ধসে পড়া বাড়িটির উচ্চতা তার চেয়ে বেশি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্মাণের সময় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছতলা বাড়িটি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরে আরও ইঞ্জিন পাঠানো হয়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ।স্থানীয়দের দাবি, ওই বাড়িতে বহু পড়ুয়া পিজি হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন। পাশের একটি বাড়ির এক পড়ুয়াও জানান, ধসের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কয়েক জনের আর্তনাদের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।এই ভয়াবহ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নেমেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও দুর্ঘটনা নিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি পড়ুয়ার জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।সত্য নিকেতনের এই বাড়ি ধসের ঘটনায় এখন একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বেসমেন্টে নির্মাণকাজ, জল জমা, বাড়িটির উচ্চতা এবং নির্মাণের সময় নিয়ম মানা হয়েছিল কি নাসব দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যেই বাড়ির মালিককে রাজস্থান থেকে আটক করায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৩ অক্টোবর একই দিনে দুই দেশে ভারতের দুই ম্যাচ! ক্রিকেট ইতিহাসে কি প্রথম বার এমন কাণ্ড?

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সামনে ঠাসা সূচি। আর সেই সূচির জেরেই ৩ অক্টোবর তৈরি হতে পারে এক বিরল পরিস্থিতি। একই দিনে দুই আলাদা দেশে ভারতের দুটি ম্যাচ হতে পারে। একটি ওয়ানডে, অন্যটি টি-টোয়েন্টি। দুই ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কোনওটিতেই দ্বিতীয় সারির দল নামানোর সুযোগ থাকবে না।সূচি অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। তার পর ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ভারত। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকে এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর এবং তৃতীয় ম্যাচ ৩ অক্টোবর হওয়ার কথা।অন্য দিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হবে এশিয়ান গেমস। ক্রিকেট হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ভারত এই প্রতিযোগিতার গত বারের চ্যাম্পিয়ন। পাশাপাশি অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রেও এশিয়ান গেমস গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারত এই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী দল নিয়েই নামতে চাইবে।এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনাল হওয়ার কথা ১ অক্টোবর। ফাইনাল ৩ অক্টোবর। ভারত সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ফলে অন্তত সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সেমিফাইনালে জিতলে ৩ অক্টোবর ফাইনাল খেলতে হবে ভারতকে। আর সেমিফাইনালে হারলেও একই দিনে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ রয়েছে। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে ভারত সেমিফাইনালে উঠলেই ৩ অক্টোবর আবার মাঠে নামতে হবে।এই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছে সমস্যা। কারণ ৩ অক্টোবরই পঞ্জাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের তৃতীয় ওয়ানডে হওয়ার কথা। অর্থাৎ একই দিনে ভারতের একটি দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে খেলতে পারে, অন্য একটি দল জাপানে এশিয়ান গেমসের ম্যাচ খেলতে পারে।ভারতের এশিয়ান গেমসের দল ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলে একাধিক পরিচিত ক্রিকেটার রয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের দল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে একই দিনে দুই দেশে ম্যাচ হলে কোন ক্রিকেটার কোন দলে থাকবেন, তা নিয়েও তৈরি হবে বড় প্রশ্ন।এশিয়ান গেমসের দলে থাকা শ্রেয়স আইয়ার, জশপ্রীত বুমরাহ, হর্ষিত রানা এবং অক্ষর পটেলরা ওয়ানডে দলেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। স্বাভাবিক ভাবেই একই সময়ে দুই দেশে তাঁদের খেলানো সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচকদের সামনে দল বাছাই নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ৩ অক্টোবর ভারতীয় ক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল একটি দিন হয়ে উঠতে পারে। একই দিনে দুই আলাদা দেশে, দুই আলাদা ফরম্যাটে ভারতের দুই দল মাঠে নামতে পারে। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পালাবদলের পর প্রথম পুজোতেই বড় ঘোষণা! ক্লাবগুলিকে কত টাকা অনুদান, হবে কি কার্নিভ্যাল?

পালাবদলের পর বাংলায় এ বার প্রথম দুর্গাপুজো। তাই পুজো কমিটিগুলির অনুদান, পুজোর উদ্বোধন এবং কার্নিভ্যাল হবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই নানা জল্পনা ছিল। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পরেই দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুজোর জন্য বিদ্যুৎ এবং দমকলের কোনও খরচ দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। অনুদানের জন্য কী ভাবে আবেদন করতে হবে, সেই বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির জন্য আলাদা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, আর্থিক ভাবে সক্ষম বড় পুজো কমিটিগুলি যেন সরকারি অনুদান না নেয়। সেই সব কমিটিকে তিনি ধন্যবাদ জানাবেন বলেও জানান।এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে প্রতি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। পরবর্তী সময়ে সেই অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। পালাবদলের পর এ বার অনুদানের পরিমাণ নিয়ে তাই বিশেষ নজর ছিল পুজো উদ্যোক্তাদের।পুজোর উদ্বোধন নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েক বছর ধরে মহালয়ার আগেই বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এ বার মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।এ বার আর দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালও হবে না। তার বদলে সরকারের তরফে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক ক্ষেত্রে বদল আসতে চলেছে।বিসর্জন নিয়েও এ দিন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পুজো কমিটিগুলির অনুদান থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ, পুজোর উদ্বোধন, কার্নিভ্যাল এবং বিসর্জনএকাধিক বিষয়ে সোমবারের বৈঠক থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে বড় সুখবর! প্যারাটিচার থেকে শিক্ষাবন্ধু, একসঙ্গে বহু কর্মীর বেতন বাড়াল রাজ্য

নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একাধিক স্তরের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, বিশেষ শিক্ষাকর্মী, ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকে ও এমএসকে-র সহায়ক কর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বন সহায়ক এবং ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।প্যারাটিচারদের বেতন প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক, দুই স্তরেই ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এত দিন প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচাররা মাসে ১১ হাজার ৯৪১ টাকা করে বেতন পেতেন। এবার তা বেড়ে হবে ১৬ হাজার ৯৪১ টাকা। উচ্চ প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচারদের বেতন ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার ৫২৩ টাকা। এই বেতন বৃদ্ধি ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিক স্তরের ২০ হাজার ৩৪৩ জন এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ২১ হাজার ৮৪৯ জন প্যারাটিচার উপকৃত হবেন। অর্থাৎ দুই স্তর মিলিয়ে বহু প্যারাটিচারের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।শিক্ষাবন্ধুদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু উপকৃত হবেন। বিশেষ শিক্ষাকর্মীদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, বন দফতরের কর্মীদের জন্যও ঘোষণা করা হয়েছে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কথা। বন সহায়কদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এছাড়াও ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকের সহায়ক এবং এমএসকের সহায়ক কর্মীদের বেতনও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্তরে কাজ করা কর্মীদের একাংশের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ভাতা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের বদলি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পারস্পরিক বদলির জন্য বিধিবদ্ধ কাঠামো তৈরি করতে নতুন বিল আনা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।ফলে একদিকে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের বদলির জন্য নতুন আইনি কাঠামোদুই ক্ষেত্রেই এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

বাল্যবিবাহ করলেই এবার কড়া শাস্তি! বাড়ি বাড়ি অভিযান, পুরোহিত-কাজিদের নিয়েও বড় বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঠেকাতে বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। নাবালিকার বিয়ে দেওয়া, বিয়েতে সাহায্য করা বা বিয়ে সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যে পরিবার নাবালিকার বিয়ে দেবে, সেই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকবেন না।রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে নাবালিকা বধূর সন্ধান মিলেছে, সেই পরিবারের পাশাপাশি তাঁদের স্বামীদের কাছেও শোকজ নোটিস পাঠানো হতে পারে। স্ত্রী বিয়ের সময় ১৮ বছর বয়স পার করেছিলেন কি না, তা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে।বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে স্কুলের শংসাপত্র, আধার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র-সহ সরকারি নথি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়স সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণ দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।শুধু বিয়ে দেওয়া পরিবার বা স্বামীর বিরুদ্ধেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত এবং কাজিদের নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নাবালিকার বিয়েতে কেউ সাহায্য করলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন দেশে বহু বছর ধরেই রয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছরের আগে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।বাংলায় বাল্যবিবাহ রুখতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সময় থেকেই সামাজিক আন্দোলন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশে একাধিক আইন করে এই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এখনও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে কিছু সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় এই সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে।এবার সেই কারণেই বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কোনও পরিবারে নাবালিকার বিয়ে হয়েছে কি না, বিয়ের সময় তাঁর বয়স কত ছিল এবং বিয়ের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে।নাবালিকা বধূর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের নজর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতালেও বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে। নাবালিকার ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বা শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।প্রশাসনের বার্তা, নাবালিকার বয়স ১৮ বছরের কম হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে পৃথক ভাবেও আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।ফলে রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি অভিযান, বয়সের নথি যাচাই এবং বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাএই তিন দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal