• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Butler

খেলার দুনিয়া

শেন ওয়ার্নের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে মরিয়া রাজস্থান রয়্যালস

২০০৮ সালে শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে প্রথম আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। মাঝে ১৩ বছর আইপিএলের ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এবছর আবার খেতাব জয়ের হাতছানি। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে রাজস্থান শিবিরে আবার ভেসে উঠছে শেন ওয়ার্নের নাম। প্রথমন অধিনায়কের জন্যই আবার খেতাব জিততে মরিয়া রাজস্থান রয়্যালস।রাজস্থান রয়্যালস আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তিন বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনের। এখন তিনিই দলের নেতৃত্বে। গুজরাটের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার আগে সঞ্জু স্যামসন, ২০০৮ সালে রাজস্থান রয়্যালসকে যখন খেতাব জেতান শেন ওয়ার্ন, সোহেল তনবীররা তখন আমি কেরলে একটা জায়গায় অনূর্ধ্ব ১৬ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলছিলাম। এবার শুরু থেকে আমরা শেন ওয়ার্নের জন্যই জিততে চাইছি। আমরা লক্ষ্য থেকে আর এক কদম দূরে। ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হলেও আমরা এবারের আইপিএলে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। দলে ভালো ক্রিকেটাররা থাকায় আমার কাজটাও সহজ হয়েছে। প্রথমদিকে সকলের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চরিত্র সম্পর্কে ধারণা করার চেষ্টা করেছি। টিম হোটেল থেকে ড্রেসিংরুমে আমাদের দলে বেশ মজাদার কয়েকজন ক্রিকেটার থাকায় জৈব সুরক্ষা বলয়ের জীবনও কঠিন মনে হয় না। নেতৃত্বও উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জু।টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই হয়তো ভাবেননি এই দুই দল শেষ পর্যন্ত খেতাবি লড়াইয়ে থাকবে। তবে, যে ভাবে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটান্স এবং সঞ্জু স্যামসনের নেতৃত্বাধীন রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তাতে দুই শিবিরের শক্তির প্রকাশ পায়। চলতি আইপিএলে এই দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে দুবার মুখোমুখি হয়েছে এবং দুটিতেই জয় পেয়েছে গুজরাট টাইটান্স।ফাইনালে কোন দল এগিয়ে? পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করলে বিশ্লেষণ করলে খেতাব জয়ের ক্ষেত্রে ফেভারিট আইপিএল-এ সদ্যজাত গুজরাট টাইটান্স। এই দুই দলের বিগত সাক্ষাতের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে হার্দিকের দল। তবে, রাজস্থানকে এই ম্যাচে সব রকম প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াইয়ে রাখবে এক এবং অদ্বিতীয় জস বাটলরারের বিধ্বংসী ফর্ম। কমলা টুপি দখলে করে নেওয়া বাটলারেরর ব্যাট প্রত্যাশা মতো কথা বললে খালি হাতে ফিরতে হতেই পারে গুজরাটকে। শেষ ম্যাচেই অপরাজিত শতরান পান জস। তবে, মনে রাখতে হবে ফাইনাল ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা, এখানে লড়াই হবে খেতাব জয়ের জন্য। ফলে এই ম্যাচে কেউই এগিয়ে নয়, কেউই পিছিয়ে নয়। যে কোনও পরিস্থিতি থেকে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেতে পারে।

মে ২৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মিলার হয়ে উঠলেন ‘‌কিলার’, রাজস্থানকে উড়িয়ে ফাইনালে গুজরাট টাইটান্স

জস বাটলারের দুরন্ত ইনিংস ম্লান হয়ে গেল ডেভিড মিলারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে। তাঁর দাপটেই প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে অভিষেক আইপিএলেই ফাইনালে পৌঁছে গেল গুজরাট টাইটান্স। ৩ বল বাকি থাকতে ১৯১/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। ট্র্যাজিক হিরো হয়েই থেকে গেলেন বাটলার।বাটলারের দাপটে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান তুলে গুজরাট টাইটান্সের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল সঞ্জু স্যামসনের দল। বড় রান তাড়া করতে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। সেটাই হয়নি গুজরাট টাইটান্সের। আগের বেশ কয়েকটা ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে বড় রান তুলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমান গিল। ঘরের মাঠে এদিন প্রত্যাশার চাপ পূরণ করতে পারেননি ঋদ্ধি। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তিনি উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। নিজের আঁতুর ঘরে খালি হাতেই ফিরতে হল ঋদ্ধিকে। বল হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মহম্মদ সামি। ৪ ওভারে দিয়েছিলেন ৪৩। মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে আরও এক ঘরের ক্রিকেটার হতাশ করেন।বোর্ডে কোনও রান ওঠার আগেই ঋদ্ধি আউট। মনে হচ্ছিল ট্রেন্ট বোল্টদের সামনে ভেঙে পড়বে গুজরাট টাইটান্স। তা কিন্তু হয়নি। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে রাজস্থান বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেন শুভমান গিল ও ম্যাথু ওয়েড। ৭ ওভারেই পৌঁছে যায় ৬৮ রানে। ওয়েডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে শুভমান আউট। ২১ বলে ৩৫ রান করেন শুভমান। এরপরই ছন্দপতন। দশম ওভারের তৃতীয় বলে ওয়েডকে তুলে নেন ওবেদ ম্যাকক। ৩০ বলে ৩৫ রান করেন ওয়েড।ওয়েড আউট হওয়ার পর গুজরাটের হাল ধরেন ডেভিড মিলার ও হার্দিক পান্ডিয়া। এই দুজনই দলকে টেনে নিয়ে যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৬ রান দরকার ছিল গুজরাট টাইটান্সের। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার প্রথম তিন বলে তিনটি ৬ মেরে দলকে ফাইনালে তোলেন মিলার। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৭ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক পান্ডিয়া।প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুটা ভাল হয়নি রাজস্থান রয়্যালসেরও। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায়। যশ দয়ালের আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল (৩)। এরপর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন সঞ্জু স্যামসন। জস বাটলার এদিন শুরু থেকেই ছিলেন সতর্ক। শুরুর দিকে খুব বেশি আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি। ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তারপরই ঝড় তোলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৬ বলে ৮৯ রান করে রান আউট হন। ২৬ বলে ৪৭ রান করেন সঞ্জু স্যামসন। এই দুজনের দাপটেই গুটরাজ টাইটান্সের সামনে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। ২০ বলে ২৮ রান করেন দেবদত্ত পাড়িক্কল।

মে ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ক্রিকেটের নন্দনকাননে ‘‌বাটলার শো’, গুজরাটকে বড় রানের চ্যালেঞ্জ রাজস্থানের

আগের তিনটি ম্যাচে রান পাননি। ক্রিকেটের নন্দনকাননে তিন ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে আবার জ্বলে উঠলেন জস বাটলার। তাঁর দাপটেই প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল রাজস্থান রয়্যালস। নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলল ১৮৮/৬। ক্রিকেটের নন্দনকানন মাতালেন জস বাটলার।চলতি আইপিএসে টস ভাগ্য একেবারে সহায় ছিল না সঞ্জু স্যামসনের। লিগ পর্বে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতেই টসে হারতে হয়েছিল। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও ভাগ্য সহায় হল না। হার্দিক পান্ডিয়ার কাছে আবারও টসে হার। এবং প্রথমে ব্যাট করার ডাক। ব্যাট করতে নেমে এদিন দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। যশ দয়ালের বলে উইকেটের পেছনে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল (৩)। এরপর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। আগের তিন ম্যাচে রান না পাওয়া জস বাটলার এদিন শুরু থেকেই ছিলেন সতর্ক। খুব বেশি আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি। ঝড় না তুলে ইনিংস গড়ার দিকে নজর দেন। দুজনের জুটিতে ওঠে ৬৮ রান। সাই কিশোরকে ৬ মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে গিয়ে লং অন বাউন্ডারির ধারে আলজেরি জোশেফের হাতে ধরা পড়েন সঞ্জু। ২৬ বলে তিনি করেন ৪৭ রান।সঞ্জু আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে রাজস্থানের রানের গতি ধরে রাখেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। ২০ বলে ২৮ রান করে তিনি হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হন। রাজস্থান ব্যাটাররা এদিন রশিদ খানের ওপর খুব বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। কোনও উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন রশিদ। রশিদ খানের কোটা শেষ হওয়ার পরেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন বাটলার। ৩৮ বলে তাঁর রান ছিল ৩৯। সেখান থেকে ৪২ বলে তিনি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই নিয়ে চলতি আইপিলে চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি করলেন বাটলার। হেটমায়ার এদিনও দলকে ভরসা দিতে পারলেন না। ৭ বলে মাত্র ৪ রান করে তিনি মহম্মদ সামির বলে রাহুল তেওয়াটিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। বাটলার শো অবশ্য অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৬ বলে ৮৯ রান করে রান আউট হন। গুজরাটের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন সামি, যশ দয়াল সাই কিশোর ও হার্দিক।

মে ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ইডেনে সামিদের বিরুদ্ধে কেন বাটলারের দিকে তাকিয়ে রাজস্থান?‌

ইডেনে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলতে নামছে রাজস্থান রয়্যালস। শিমরন হেটমায়ার, সঞ্জু স্যামসনরা থাকতেও জস বাটলারের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে রাজস্থান টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ কয়েকটা ম্যাচে নিজের সেরা ছন্দের ধারেকাছে দেখা যায়নি বাটলারকে। ফাইনালে ওঠার জন্য ইংল্যান্ডের এই ওপেনারের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় রাজস্থান। নিজেকে মেলে ধরার জন্য তৈরি বাটলারও। চলতি আইপিএলের লিগের প্রথম পর্বের ফর্মই তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।চলতি আইপিএলে লিগ পর্বে ১৪ ম্যাচে ৬২৯ রান করে অরেঞ্জ টুপি নিজের দখলে রেখেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৪৭। সেঞ্চুরি করেছেন তিনটি, হাফ সেঞ্চুরিও তিনটি। কিন্তু শেষ তিনটি ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি বাটলার। শেষ তিন ইনিংসে দুঅঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি, তাঁর সংগ্রহ ২, ২ ও ৭। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথম কোয়ালিফায়ারে তাঁর দিকে তাকিয়ে দল।ক্রিকেটের নন্দনকাননে কি জ্বলে উঠতে পারবেন জস বাটলার? হার্দিক পান্ডিয়াদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে তাঁকে। চলতি আইপিএলে নিজের ফর্ম নিয়েও দারুণ খুশি তিনি। এদিন বাটলার বলেন, এবারের আইপিএলে নিজের ফর্ম নিয়ে আমি খুশি। তবে শেষ তিন ম্যাচের পারফরমেন্সে খুবই হতাশ। আইপিএলের প্রথম পর্বে আমার জীবনের অন্যতম সেরা ক্রিকেট খেলেছি। প্লে অফে মাঠে নামার আগে প্রথম পর্বের পারপরমেন্স আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।জস বাটলারের পাশাপাশি রাজস্থান রয়্যালসকে প্লে অফে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ১৪ ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ২৪ উইকেট। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাঁর দিকেও তাকিয়ে দল। এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি গায়ে চাপানোটা চাহালের কাছে দারুণ ব্যাপার। কারণ এই দলকেই আইপিএলের প্রথম মরশুমে শেন ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তী স্পিনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে চাহাল বলেন, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে এটাই আমার প্রথম বছর। কিন্তু মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দলে খেলছি। মানসিকভাবে খুব রিল্যাক্স আছি।চাহাল আরও বলেন, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলাটা আমার কাছে আরও স্পেশাল, কারণ শেন ওয়ার্ন স্যার এই দলে খেলেছিলেন। আমার মনে হচ্ছে ওনার আশীর্বাদ আমার ওপরে রয়েছে। ওপর থেকে তিনি আমার ওপর নজর রাখছেন। শুধু বাটলার কিংবা চাহাল নয়, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দিকেও তাকিয়ে রাজস্থান। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও বেশ কয়েকটা ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন অশ্বিন।

মে ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লখনউকে হারিয়ে প্লে অফের দিকে আরও এগিয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস

প্লে অফের স্বপ্ন এখনও পূরণ হল না লোকেশ রাহুলদের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হেরে অপেক্ষার প্রহর এখনও বেড়ে গেল লখনউ সুপার জায়ান্টসের। এদিন লখনউকে ২৪ রানে হারিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি প্লে অফের দিকে আরও এগিয়ে গেল রাজস্থান রয়্যাল। রাজস্থানের জয়ের নায়ক ট্রেন্ট বোল্ট। দুরন্ত বোলিং করে দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। প্রথমে ব্যাট করে লখনউর সামনে জয়ের জন্য ১৭৯ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল রাজস্থান। শুরুতে ধাক্কা খেলেও দীপক হুডা ও ক্রূণাল পান্ডিয়া জুটির হাত ধরে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। তখনই ধাক্কা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। অশ্বিনের বল তুলে মেরেছিলেন ক্রূণাল। লং অফ বাউন্ডারি থেকে অনেকটা দৌড়ে বল তালুবন্দী করেন জস বাটলার। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে যখন বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করছিলেন, বল ছুঁড়ে দেন রিয়ান পরাগের উদ্দেশ্যে। সেই বল তালুবন্দী করেন রিয়ান। সাজঘরের পথে ক্রূণাল। এই উইকেটটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জয়ের রাস্তা থেকে দুরে সরে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস।লখনউর শুরুটাও ভাল হয়নি। তৃতীয় ওভারের প্রথম ও দ্বিতীয় বলে কুইন্টন ডিকক (৭) ও আয়ুষ বাদোনিকে (০) তুলে নিয়ে লখনউকে চাপে ফেলে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ষষ্ঠ ওভারে অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে (১৯ বলে ১০) ফেরান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। এরপর বিপর্যয় সামলে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দীপক হুডা ও ক্রূণাল পান্ডিয়া। তখনই ধাক্কা অশ্বিনের। ২৫ রান করে আউট হন ক্রূণাল। ২ ওভার পরেই দীপক হুডাকে তুলে নিয়ে লখনউর আশা একেবারে শেষ করে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন হুডা। ১৭ তম ওভারে ২ বলের ব্যবধানে জেসন হোল্ডার (১) ও দুষ্মন্ত চামিরাকে (০) ফেরান ওবেদ ম্যাককয়। ১৭ বলে ২৭ রান করেন মার্কাস স্টয়নিস। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ তোলে লখনউ। দুরন্ত বোলিং করে ৪ ওভারে ১৮ রানে ২ উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও ওবেদ ম্যাককয়ও নেন ২টি করে উইকেট।জস বাটলারের ব্যর্থতা সত্ত্বেও এদিন লখনউর সামনে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল রাজস্থান। তৃতীয় ওভারে আবেশ খানের বলে বোল্ড হন বাটলার (২)। ধাক্কা সামলে দলকে টেনে নিয়ে যান যশস্বী জয়সোয়াল ও অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। ২৪ বলে ৩২ রান করে আউট হন সঞ্জু। তাঁকে তুলে নেন জেসন হোল্ডার। ২ ওভার পরেই ফেরেন যশস্বী জয়সোয়াল। ২৯ বলে তিনি করেন ৪১। ১৮ বলে ৩৯ রান করে তিনি রবি বিষ্ণোইয়ের বলে আউট হন দেবদত্ত পাড়িক্কল। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে জিমি নিশামও (১২ বলে ১৪) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। রিয়ান পরাগ ১৬ বলে করেন ১৭। ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ট্রেন্ট বোল্ট ৯ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউর হয়ে ২টি উইকেট নেন রবি বিষ্ণোই।

মে ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার ব্যর্থ বাটলার, তবু লখনউ–র সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল রাজস্থান

একদলের পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ১৬, অন্য দলের ১৪। দুই দলের সামনেই প্লে অফে যাওয়ার সুযোগ। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে জিতলেই এদিনই প্লে অফ নিশ্চিত লখনউ সুপার জায়ান্টসের, যারা ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, লখনউর বিরুদ্ধে জিতলে রাজস্থানের সামনেও প্লে অফের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার হাতছানি। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় রান তুলে লখনউর সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল রাজস্থান রয়্যালস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তুলল ১৭৮। এদিনও রান পেলেন না জস বাটলার। তাসত্ত্বেও বড় রান রাজস্থান রয়্যালসের। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। আগের ম্যাচে শিমরন হেটমায়ারের পরিবর্তে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিল রাজস্থান। নিজেকে একেবারেই মেলে ধরতে পারেননি ডুসেন। এদিন তাঁর পরিবর্তে জিমি নিশামকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেয় রাজস্থান টিম ম্যানেজমেন্ট। ডুসেনের ব্যর্থতা ছাড়াও বাইশ গজে ঘাসের কথা মাথায় রেখেছিল। এছাড়া কুলদীপ সেনের জায়গায় ওবেদ ম্যাককয়কে প্রথম একাদশে নেওয়া হয়।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। যার ওপর বেশি ভরসা, সেই জস বাটলার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধেও রান পেলেন না। তৃতীয় ওভারে আবেশ খানের বলে বোল্ড হন বাটলার। ৬ বলে করেন মাত্র ২ রান। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে টেনে নিয়ে যান যশস্বী জয়সোয়াল ও অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। জুটিতে ওঠে ৬৪। ২৪ বলে ৩২ রান করে আউট হন সঞ্জু। তাঁকে তুলে নেন জেসন হোল্ডার। ২ ওভার পরেই ফেরেন যশস্বী জয়সোয়াল। ২৯ বলে তিনি করেন ৪১। ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৩৯ রান করে তিনি রবি বিষ্ণোইয়ের বল ক্রূণাল পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। শিমরন হেটমায়ারের অভাব আবার ফুটে উঠল। ভ্যান ডার ডুসেনের পরিবর্তে এদিন সুযোগ পেয়ে জিমি নিশামও ব্যাট হাতে দলকে ভরসা দিতে পারেননি। ১২ বলে মাত্র ১৪ রান করে তিনি রান আউট হন। নিশাম আউট হওয়ার ৩ বল আগেই ফিরে যান রিয়ান পরাগ (১৬ বলে ১৭)। ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ট্রেন্ট বোল্ট ৯ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। লখনউর হয়ে ২টি উইকেট নেন রবি বিষ্ণোই।

মে ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ওয়ার্নার ও মার্শের দাপটে প্লে অফের লড়াইয়ে রইল দিল্লি ক্যাপিটালস

রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে উড়িয়ে প্লে অফের লড়াইয়ে দারুণভাবে ঢুকে পড়ল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির জয়ের নায়ক দুই অস্ট্রেলিয়ান তারকা মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। এই দুই ব্যাটারের সামনে উড়ে গেলেন রাজস্থানের বোলাররা।ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের সামনে এদিন জয়ের জন্য খুব বড় রানের টার্গেট দিতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ১৬০/৬। দিল্লির যা ব্যাটিং শক্তি তাতে ১৬১ রান তোলা খুব একটা কঠিন ছিল না। দ্বিতীয় বলে শিকর ভরতের উইকেট হারালেও সমস্যায় পড়তে হয়নি দিল্লিকে। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দেন মার্শ ও ওয়ার্নার। পৃথ্বী শর না থাকাটা যে কতটা ক্ষতি, বুঝতে পারছে দিল্লি টিম ম্যানেজমেন্ট। শিকর ভরত আর যাইহোক পৃথ্বীর বিকল্প হতে পারেন না। পরপর দুম্যাচে ব্যর্থ ভরত। এদিন তো কোনও রান না করেই ইনিংসের প্রথম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি দিল্লি। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের সৌজন্যে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। রাজস্থানের কোনও বোলারই দিল্লির এই দুই ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। ওয়ার্নারের থেকেও এদিন বেশি বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন মিচেল মার্শ। সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। চাহালকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে কুলদীপ সেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মার্শ। ৬২ বলে ৮৯ রান করেন তিনি। মার্শের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার ও ৭টি ছয়। এরপর ডেভিড ওয়ার্নার দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ৪১ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি। এদিন টস জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ইনিংসের শুরুতেই চেতন সাকারিয়ার বলে ১১ বলে মাত্র ৭ রান করে বাটলার শার্দূল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আর এক ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। ১৯ বলে ১৯ রান করে তিনি মিচেল মার্শের বলে ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাগ আউটে ফেরেন। শুরুতে বাটলার আউট হওয়ায় মনে হচ্ছিল খুব বড় রানে পৌঁছতে পারবে না রাজস্থান। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় রাজস্থান। জুটিতে ওঠে ৫৩। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে তিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কাজে লেগে গেল। ৩৮ বলে ৫০ রান করে অশ্বিন মিচেল মার্শের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (৬), রিয়ান পরাগরা (৯) ব্যর্থ হলেও দলকে টেনে নিয়ে যান পাড়িক্কল। ৩০ বলে ৪৮ রান করে তিনি আনরিচ নর্টিয়ের বলে কমলেশ নাগরকোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মে ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শুরুতে বাটলারকে হারিয়েও লড়াই করার মতো রান রাজস্থান রয়্যালসের

বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে জিতলেই প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতে জস বাটলারের মতো ব্যাটারকে হারিয়েও লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছল রাজস্থান রয়্যালস। রাজস্থানের মান বাঁচল রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের সৌজন্যে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬০ রান তুলল রাজস্থান।এদিন রাজস্থান রয়্যালস একটি পরিবর্তন করে মাঠে নামে। শিমরন হেটমায়ার সন্তানের জন্মের জন্য গায়ানা ফিরে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে প্রথম একাদশে আসেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুটি পরিবর্তন করে দিল্লি ক্যাপিটালস। রিপাল প্যাটেলের পরিবর্তে প্রথম একাদশে ফেরানো হয় ললিত যাদবকে। আর খলিল আমেদের জায়গায় প্রথম একাদশে ঢোকেন চেতন সাকারিয়া। তাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট যে কোনও ভুল করেনি, শুরুতেই জস বাটলারকে তুলে নিয়ে প্রমাণ করে দেন সাকারিয়া। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকলে ঝড় তুলে রাজস্থানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়এ যেতেন বাটলার। ইংল্যান্ডের এই ওপেনারকে সেই সুযোগ দেননি সাকারিয়া।টস জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ইনিংসের শুরু থেকেই চেতন সাকারিয়ার বোলিংয়ের সামনে অস্বস্তিতে ছিলেন বাটলার। শেষ পর্যন্ত সাকারিয়াকেই উইকেট উপহার দেন বাটলার। ১১ বলে মাত্র ৭ রান করে তিনি শার্দূল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আর এক ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। ১৯ বলে ১৯ রান করে তিনি মিচেল মার্শের বলে ললিত যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাগ আউটে ফেরেন। ৫৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও দেবদত্ত পাড়িক্কলের ব্যাটে ভর কর রুখে দাঁড়ায় রাজস্থান। জুটিতে ওঠে ৫৩। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে তিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কাজে লেগে গেল। ৩৮ বলে ৫০ রান করে অশ্বিন মিচেল মার্শের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (৬), রিয়ান পরাগরা (৯) ব্যর্থ হলেও দলকে টেনে নিয়ে যান পাড়িক্কল। ৩০ বলে ৪৮ রান করে তিনি আনরিচ নর্টিয়ের বলে কমলেশ নাগরকোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মে ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে প্লে অফের অক্সিজেন পেল নাইট রাইডার্স

টানা ৫ ম্যাচ জয়ের মুখ দেখেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্লে অফের সম্ভাবনাও থেকেও অনেকটাই দুরে সরে গিয়েছিল। অবশেষে জয়ের মুখ দেখল শ্রেয়স আয়ারের দল। মরণবাঁচন ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্লে অফের অক্সিজেন পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। জয়ের জন্য ১৫৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ৫ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নিল। বোলারদের দাপটে এদিন রাজস্থান রয়্যালকে কম রানে বেঁধে রেখেছিল নাইটরা। জয়ের জন্য সামনে লক্ষ্য ছিল ১৫৩। খুব একটা কঠিন লক্ষ্য ছিল না। তবু পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যে অ্যারন ফিঞ্চ ও বাবা ইন্দ্রজিৎকে হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল নাইট রাইডার্স। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ও নীতিশ রানা চাপ কাটিয়ে দলের জয়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেন। ১০ ম্যাচ খেলা হয়ে গেল, এখনও সঠিক কম্বিনেশন নাইট টিম ম্যানেজমেন্ট বেছে নিতে পারল না। খারাপ ফর্মের জন্য এদিন ভেঙ্কটেশ আয়ারকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে বাবা ইন্দ্রজিৎকে ওপেন করতে পাঠানো হয়। দুই ওপেনারই এদিন দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই অ্যারন ফিঞ্চকে (৭ বলে ৪) তুলে নেন কুলদীপ সেন। ২ ওভার পরেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শিকার বাবা ইন্দ্রজিৎ। ১৬ বলে ১৫ রান করে তিনি আউট হন। ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইট রাইডার্স। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ও নীতিশ রানা। জুটিতে ওঠে ৬০ রান। শ্রেয়সকে (৩২ বলে ৩৪) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট। এরপর রাজস্থান রয়্যালসের বোলারদের আর কোনও সুযোগ দেননি নীতিশ রানা ও রিঙ্কু সিং। তাঁদের ৬৬ রানের জুটি নাইট রাইডার্সকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। ৫ বল বাকি থাকতে ১৫৮/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় নাইট রাইডার্স। ৩৭ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন নীতিশ রানা। ২৩ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের শুরুটাও ভাল হয়নি। নাইট বোলারদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল জস বাটলারের ঝড় আটকানো। সেই লক্ষ্যে সফল উমেশরা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (২) তুলে নেন উমেশ। নবম ওভারের তৃতীয় বলে বাটলারকে তুলে নেন টিম সাউদি। ২৫ বলে তিনি ২২ রান করে আউট হন। আগের ম্যাচগুলোর মতো দাপট দেখাতে পারেননি বাটলার। এরপর অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন করুণ নায়ার। ১৩ বলে ১৩ রান করে অনুকূল রায়ের বলে রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। রিয়ান পরাগ ১২ বলে করেন ১৯। দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। ৪৯ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। শেষদিকে ঝড় তুলে ১৩ বলে ২৭ রান করে রাজস্থানকে ১৫২/৫ রানে পৌঁছে দিয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ার। ৪৬ রানে ২ উইকেট নেন সাউদি। ১ টি করে উইকেট পান উমেশ যাদব, অনুকূল রায় ও শিবম মাভি।

মে ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাটলার আটকে যেতেই বড় রানের স্বপ্ন শেষ রাজস্থানের, মান বাঁচালেন সঞ্জু

প্লে অফের ছাড়পত্র আসবে কিনা সেকথা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও খুব বেশি আশাবাদী নন। সম্মান বাঁচানোই এখন মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল শ্রেয়সরা। জস বাটলার, সঞ্জু স্যামসন সমৃদ্ধ রাজস্থান রয়্যালসকে আটকে রাখল মাত্র ১৫২/৫ রানে। দারুণ বোলিং করলেন উমেশ যাদব, সুনীল নারাইনরা। বাটলার আটকে যেতেই বড় রানের স্বপ্ন শেষ রাজস্থানের। ডু অর ডাই ম্যাচে এদিন প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। খারাপ ফর্মের জন্য প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ের গতবছর দলকে প্লে অফে তোলার নায়ক ভেঙ্কটেশ আয়ার। তাঁর পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছেন অনুকূল রায়। এছাড়াও প্রথম একাদশে নেওয়া হয় শিবম মাভিকে। অন্যদিকে, ড্যারিল মিচেলের জায়গায় করুণ নায়ারকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। টস জিতে এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। উমেশ যাদবদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল জস বাটলারের ঝড় আটকানো। নাইট বোলাররা সেই কাজে সফল। এদিন দারুণ শুরু করেছিলেন উমেশ যাদব। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (২) তুলে নেন। ৭ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। বাটলার ও সঞ্জু স্যামসন দলকে টেনে নিয়ে গেলেও সেই দাপট ছিল না। নবম ওভারের তৃতীয় বলে বাটলারকে তুলে নেন টিম সাউদি। ২৫ বলে তিনি ২২ রান করে আউট হন। এরপর অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন করুণ নায়ার। প্রথম একাদশে এদিন সুযোগ পেয়েও নিজেকে অবশ্য ভালভাবে মেলে ধরতে পারলেন না করুণ নায়ার। ১৩ বলে ১৩ রান করে তিনি অনুকূল রায়ের বলে রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। রিয়ান পরাগ ১২ বলে ১৯ রান করে সাউদির বলে আউট হন। একের পর এক উইকেট পেলেও দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। ৪৯ বলে ৫৪ রান করে তিনি শিবম মাভির বলে রিঙ্কু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সুনীল নারাইন, উমেশ যাদবরা এদিন একেবারেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার সুযোগ দেননি সঞ্জুকে। শেষদিকে ঝড় তুলে ১৩ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন শিমরন হেটমায়ার। তাঁর সৌজন্যেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫২/৫ রানে পৌঁছয় রাজস্থান রয়্যালস। ৪৬ রানে ২ উইকেট নেন সাউদি। ১ টি করে উইকেট পান উমেশ যাদব, অনুকূল রায় ও শিবম মাভি।

মে ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হ্যাজেলউডের দাপটে ব্যর্থ বাটলার, বড় রানে ব্যর্থ রাজস্থান

বড় রানের জন্য রাজস্থান রয়্যালস তাকিয়েছিল স্বপ্নের ফর্মে থাকা জস বাটলারের দিকে। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টকে হতাশ করলেন রাজস্থানের এই বিধ্বংসী ব্যাটার। জস হ্যাজেলউডের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া শর্ট বল মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন বাটলার। মিড অনে সিরাজের হাতে সহজ ক্যাচ। রাজস্থান রয়্যালসের বড় রানের স্বপ্নের সেখানেই সলিলসমাধি। বাকিরা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৪/৮ রানের বেশি তুলতে পারল না রাজস্থান রয়্যালস। দুরন্ত বোলিং করেন জস হ্যাজেলউড।নৈশালোকে ম্যাচ হলে টস জিতে বিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠানো ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে সব দলের কাছেই। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। চতুর্থ বলে দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (৭) তুলে নেন মহম্মদ সিরাজ। এদিন পিঞ্চ হিটার হিসেবে তিন নম্বরে নামানো হয়েছিল রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। ভালোই শুরু করেছিলেন এই বর্ষীয়ান অফ স্পিনার। কিন্তু চতুর্থ ওভারে সিরাজের শেষ বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯ বলে ১৭ রান করে আউট হন অশ্বিন। পরের ওভারেই হ্যাজেলউড বাটলারকে তুলে নিয়ে রাজস্থানকে সবথেকে বড় ধাক্কা দেন।এরপর মনে হচ্ছিল অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে রাজস্থান। ভাল শুরুও করেছিলেন সঞ্জু। শাহবাজ আমেদের বলে পরপর দুটি ছক্কাও হাঁকান। কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। ১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ২১ বলে ২৭ রান করেন সঞ্জু। এরপরই রানের গতি কমে যায় রাজস্থানের। ড্যারেল মিচেল নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ২৪ বলে মাত্র ১৬ রান করে আউট হন। শিমরন হেটমায়ারও এদিন ব্যর্থ। ৭ বলে মাত্র ৩ রান করে হাসারাঙ্গার বলে তিনি আউট হন।একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় বড় রানের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় রাজস্থানের। একা লড়াই করেন রিয়ান পরাগ। এই তরুণ ব্যাটারের দাপটেই মান বাঁচায় রাজস্থান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তোলে ১৪৪/৮। ৩১ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন রিয়ান পরাগ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন জস হ্যাজেলউড ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ মেডেন সহ ১৯ রানে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি।

এপ্রিল ২৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার সেঞ্চুরি!‌ স্বপ্নের ফর্মে বাটলার, উড়ে গেলেন কুলদীপরা

আবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন জস বাটলার। এদিন ওয়াংখেড়েতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে পেলেন চলতি আইপিএলের তৃতীয় শতরান। সেই সঙ্গে আইপিএলে তাঁর মোট শতরানের সংখ্যা দাঁড়াল ৪। বাটলার স্পর্শ করলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসনকে। নিজের শেষ ৮ আইপিএল ইনিংসের চারটিতেই শতরান হাঁকালেন বাটলার।রাজস্থান রয়্যালস ও দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে লড়াইটা ছিল মূলত রাজস্থানের ব্যাটারদের সঙ্গে দিল্লির বোলারদের লড়াই। কুলদীপ যাদব, মুম্তাফিজুর রহমান, অক্ষর প্যাটেলদের নক আউট করে দিয়ে রীতিমতো দাপট দেখিয়ে গেলেন বাটলারদেবদত্ত পাড়িক্কলরা। এই দুই ওপেনারের সৌজন্যেই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বড় রান রাজস্থান রয়্যালসের। এদিন টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ভেবেছিলেন ১৫০১৬০ রানের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসকে আটকে রাখতে পারবেন। ভরসা করেছিলেন দলের সেরা লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদবের ওপর। কিন্তু দিল্লি বোলারদের কোনও রকম সুযোগ দেননি রাজস্থানের দুই ওপেনার জস বাটলার ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। চলতি আইপিএলে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন বাটলার। এদিন ললিত যাদবের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের এই ওপেনার। দেবদত্ত পাড়িক্কলও নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন। তাঁর হাফ সেঞ্চুরি আসে ৫০ বলে। রাজস্থানের বাটলার ও দেবদত্তর এই দুই ওপেনার সবথেকে বেশি নির্দয় ছিলেন কুলদীপ যাদবের ওপর। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৫৪ রান করে খলিল আমেদের বলে এলবিডব্লুউ হন দেবদত্ত পাড়িক্কল।প্রথম দিকে বাটলার খুব বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন না। হাফ সেঞ্চুরি করার পর রীতিমতো ঝড় তোলেন। পরের ৫০ আসে ২২ বলে। অর্থাৎ ৫৭ বলে সেঞ্চুরি। আইপিলে মোট ৪ সেঞ্চুরির মালিক হলেন বাটলার। চলতি মরশুমে ৩টি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ১১৬ রান করে তিনি মুস্তাফিজুরের বলে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সঞ্জু স্যামসনও ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন। ১৯ বলে ৪৬ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২২২ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস।

এপ্রিল ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাটলারের ঝড়, চাহালের ঘূর্ণিতে বেসামাল কলকাতা নাইট রাইডার্স

ব্যাটে দাপট জস বাটলারের। দুরন্ত সেঞ্চুরি। বল হাতে জ্বলে উঠলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। হ্যাটট্রিকসহ নিলেন ৫ উইকেট। এই দুজনের দাপটেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ৭ রানে জিতল রাজস্থান।টস জিতে এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দারুণ ছন্দে থাকা জস বাটলার। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রাজস্থান তুলে ফেলে ৬০। এর মধ্যে বাটলারেরই একার ছিল ৪৬, দেবদত্ত পাড়িক্কলের অবদান মাত্র ৮। প্যাট কামিন্সসহ কোনও বোলারকেই নিস্তার দেননি বাটলার। ২৯ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন বাটলার। নাইট রাইডার্সকে ব্রেক থ্রু এনে দেন দলের জার্সি গায়ে ১৫০ তম আইপিএল ম্যাচ খেলা সুনীল নারাইন। দশম ওভারের চতুর্থ বলে তুলে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কলকে। ১৮ বলে ২৪ রান করে আউট হন পাড়িক্কল। এরপর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। বাটলারের তান্ডবও অব্যাহত ছিল। ১৯ বলে ৩৮ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে শিবম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সঞ্জু। তিনি আউট হওয়ার পরপরই প্যাট কামিন্সের বলে ৬ মেরে চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাটলার। তাঁর সেঞ্চুরি আসে ৫৯ বলে। প্যাট কামিন্সের ওই ওভারেই বরুণ চক্রবর্তীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাটলার। ৬১ বলে তিনি করেন ১০৩। বাটলারের ইনিংসে রয়েছে ৯টি ৪ ও ৫টি ৬। বাটলার আউট হওয়ার পরপরই ফিরে যান রিয়ান পরাগ (৫)। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৭ তোলে রাজস্থান রয়্যালস। ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকতেন শিমরন হেটমায়ের। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তন করেছিল নাইট রাইডার্স। ভেঙ্কটেশ আয়ারের পরিবর্তে এদিন ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়েছিল সুনীল নারাইনকে। একবলও খেলার সুযোগ পাননি নারাইন (০)। প্রথম বলেই হেটমায়ারের দুরন্ত থ্রোতে রান আউট হন। এরপর নাইটদের টেনে নিয়ে যান অ্যারন ফিঞ্চ ও অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। দুজনের জুটিতে ওঠে ১০৭। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে দারুণ ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৫৮ রান করে তিনি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে আউট হন। ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টানছিলেন নীতিশ রানা। ১১ বলে ১৮ রান করে তিনি যুজবেন্দ্র চাহালের বলে আউট হন। রাসেলও (০) ১ বলের বেশি স্থায়ী হননি। তাঁকে ফেরান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পরপর ২ উইকেট হারালেও চাপে পড়েননি নাইট অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৭ ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল। হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট তুলে নেন। প্রথম বলে ফেরান ভেঙ্কটেশ আয়ারকে (৬), চতুর্থ বলে তুলে নেন শ্রেয়সকে (৫১ বলে ৮৫)। পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে ফেরান শিবম মাভি (০) ও প্যাট কামিন্সকে (০)। উমেশ যাদব (৯ বলে ২১) শেষ দিকে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন। নাইটদের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে শেলডন জ্যাকসন (৮) ও উমেশকে তুলে নিয়ে রাজস্থানকে জয় এনে দেন ওবেদ ম্যাকয় (২/৪১)। ১৯.৪ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নাইটদের ইনিংস। ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন চাহাল।

এপ্রিল ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

১৬ দিনের ব্যবধানে আবার সেঞ্চুরি!‌ কোহলিদের রেকর্ড স্পর্শ বাটলারের

মাত্র ১৬ দিনের ব্যাবধানে দুদুটি সেঞ্চুরি! চলতি আইপিএলে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের জস বাটলার। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করার সঙ্গে সঙ্গে স্পর্শ করে ফেললেন বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইলদের রেকর্ড। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের এই ওপেনার। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে আবার জ্বলে উঠলেন। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২১৭/৫ রান তুলল রাজস্থান রয়্যালস। বাটলারের আগে ৫ জন ব্যাটার একটা আইপিএলে দুদুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এরা হলেন বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, শিখর ধাওয়ান, হাসিম আমলা ও শেন ওয়াটসন। তালিকায় নতুন সংযোজন জস বাটলার। আইপিএলে বাটলারের এটা তৃতীয় সেঞ্চুরি। ২০১১ সালে গেইল দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন ১৫ দিনের ব্যবধানে। ২০১৭ আইপিএলে দুটি সেঞ্চুরি করেন হাসিম আমলা, পরের মরশুমে দুটি সেঞ্চুরি করেন শেন ওয়াটসন। ২০২০ আইপিএলে দুদুটি সেঞ্চুরি করে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ফাইনালে তুলেছিলেন শিখর ধাওয়ান। আর চলতি আইপিএলে ১৬ দিনের ব্যবধানে দুদুটি সেঞ্চুরি করলেন বাটলার।টস জিতে এদিন রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। ফিল্ডিং নেওয়ার সময় দুটি বিষয় মাথায় রেখেছিলেন শ্রেয়স। এক, রাতের দিকে শিশির ও দুই, মাঠের একদিকের ছোট বাউন্ডারি। এতে রান তাড়া করতে সুবিধা হবে। সঞ্জু স্যামসনেরও পরিকল্পনা ছিল টস জিতলে ফিল্ডিং নেওয়া। কিন্তু তাঁর সেই সৌভাগ্য হয়নি। তবে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থানকে তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দারুণ ছন্দে থাকা জস বাটলার। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রাজস্থান তুলে ফেলে ৬০। এর মধ্যে বাটলারেরই একার ছিল ৪৬, দেবদত্ত পাড়িক্কলের অবদান মাত্র ৮। প্যাট কামিন্সসহ কোনও বোলারকেই নিস্তার দেননি বাটলার। ২৯ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন বাটলার। নাইট রাইডার্সকে ব্রেক থ্রু এনে দেন দলের জার্সি গায়ে ১৫০ তম আইপিএল ম্যাচ খেলা সুনীল নারাইন। দশম ওভারের চতুর্থ বলে তুলে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কলকে। ১৮ বলে ২৪ রান করে আউট হন পাড়িক্কল। এরপর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। বাটলারের তান্ডবও অব্যাহত ছিল। ১৯ বলে ৩৮ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে শিবম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সঞ্জু। তিনি আউট হওয়ার পরপরই প্যাট কামিন্সের বলে ৬ মেরে চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাটলার। তাঁর সেঞ্চুরি আসে ৫৯ বলে। প্যাট কামিন্সের ওই ওভারেই বরুণ চক্রবর্তীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাটলার। ৬১ বলে তিনি করেন ১০৩। বাটলারের ইনিংসে রয়েছে ৯টি ৪ ও ৫টি ৬। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৭ তোলে রাজস্থান রয়্যালস।

এপ্রিল ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌বাটলারের তান্ডবে উড়ে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

এবছর আইপিএলে শুরুটা ভাল হল না মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হার রোহিত শর্মার দলের। শনিবার রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হার ২৩ রানে। বাটলার ঝড়ে উড়ে গেল মুম্বই। এদিন রোহিতদের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন রাজস্থান রয়্যালসের এই উইকেটকিপার ব্যাটার। টস জিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান রোহিত শর্মা। শুরুটা ভাল হয়নি রাজস্থান রয়্যালসের। তৃতীয় ওভারে আউট হন জশ্বস্বী জয়সোয়াল। তাঁকে ফেরান যশপ্রীত বুমরা। মাত্র ১ রান করে আউট হন জয়সোয়াল। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের ষষ্ঠ বলে দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (৭) তুলে নেন টাইমল মিলস। এরপর বাটলারের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। জুটি ওঠে ৮২। ২১ বলে ৩০ রান করে কায়রণ পোলার্ডের বলে আউট হন সঞ্জু। সঞ্জু আউট হওয়ার পর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন শিমরণ হেটমায়ের। ৩টি ৪ ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৪ বলে ৩৫ রান করে তিনি যশপ্রীত বুমরার বলে আউট হন। হেটমায়ের আউট হওয়ার ২ বল পরেই আউট হন বাটলার। তার আগে অবশ্য তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেছিলেন। বাটলারে সেঞ্চুরি আসে ৬৬ বলে। মারেন ১১টি ৪ ও ৫টি ৬। ওভারের শেষ বলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ফেরান বুমরা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৯৩ রান করে রাজস্থান রয়্যালস। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন বুমরা। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন টাইমল মিলস। চলতি আইপিএলে এখনও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারলেন না মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মা। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মাত্র ১০ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন। তাঁকে ফেরান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। আনমোলপ্রীত সিংও (৫) রান পাননি। ৪ ওভারে ৪০ রান তোলার ফাঁকে ২ উইকেট হারায় মুম্বই। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ঈশান কিশান ও তরুণ তিলক ভার্মা। তাঁর ব্যাটিং দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি জীবনের দ্বিতীয় আইপিএল ম্যাচ খেলছেন। ঈশানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ১২.৫ ওভারে ১২১ রানও তুলে ফেলেছিল মুম্বই। ট্রেন্ট বোল্ট ঈশান কিশানকে (৪৩ বলে ৫৪) তুলে নিতেই ধস মুম্বই ইনিংসে। পরপর ফিরে যান তিলক ভার্মা (৩৩ বলে ৬১), টিম ডেভিড (১(১), ড্যানিয়েল সামস (০)। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন পোলার্ড (২৪ বলে ২২)। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭০ তোলে মুম্বই। রাজস্ঝানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন নভদীপ সাইনি ও যুজবেন্দ্র চাহাল।

এপ্রিল ০২, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal