সরকার নির্ধারিত নূন্যতম মজুরি দিচ্ছেনা এজেন্সি। অবিলম্বে তাদের প্রাপ্য টাকা তাদের ফেরত দিতে হবে।এই দাবীতে জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাল পূবর্ব বর্ধমান জেলা স্কাভেনজার্স সিকিউরিটি ও ঠিকাশ্রমিক সংগঠন। তাদের আরও অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই এজেন্সি। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই এজেন্সি ৮.৩৩ শতাংশ হারে বোনাস তুললেও তাদের নির্ধারিত হারে বোনাস দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ।এই অভিযোগের দ্রুত নিস্পত্তি চেয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাল সংগঠনের সদস্যরা। দ্রত তাদের সমস্যার সমাধান না হলে তারা আরও বৃহৎ আন্দোলনে সামিল হবেন বলে জানিয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরের ঘট উত্তোলন মাধ্যমেই মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। দুবছর কোভিড বিধির সরকারী নির্দেশিকা মেনেই পুজোর আয়োজন করতে হয়ছিল। এবছর সেরকম কোনও করোনা বিধি নেই। সোমবার কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী থেকে ঘট উত্তোলন করে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট আনার প্রাচীন প্রথা রয়েছে। কথিত আছে বর্ধমানের বাহিরসর্ব্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায় সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোল নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি।সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের মহারাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে গিয়ে সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু করেন।দেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট স্থাপনঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্ব্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারো মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যা দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপোর সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে, বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। সেই বোর্ডের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তার পর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে আসছে।মায়ের মন্দির থেকে ঢাক, ক্লাব ব্যান্ড ও ব্যান্ড সহযোগে ঘোড়ার গাড়ি করে বিসি রোড হয়ে রাজবাড়ি সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা পৌঁছায় কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাটে। সেখানে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা সিংলা, স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস, ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ, প্রাক্তন সম্পাদক বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডঃ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ সকল কাউন্সিলার। অগনিত ভক্ত সমাগমে ঘট ভরা সম্পন্ন হয়।
বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরন সহ দশ দফা দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে সামিল হলেন বর্ধমান এসবিএসটিসি ডিপোর শতাধিক ড্রাইভার, টিকিট কালেকটর সহ অন্যান্য বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে আজ সকাল থেকেই বাতিল হয়েছে বর্ধমান কলকাতা ও বর্ধমান করুণাময়ী রুটের এসবিএসটিসি বাস। সকাল থেকেই এই অস্থায়ী কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের পাতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। ডিপোর সামনে বিক্ষোভে দেখাচ্ছেন তারা। অর্ধেকেরও বেশি বাস বাতিল হয়েছে তাদের এই আন্দোলনের ফলে। সমস্যা না মিটলে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।পুজোর মুখে এই কর্মবিরতিতে বিপাকে পরেছেন নিত্যযাত্রী সহ ক্ষূদ্র ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই ১৫ই সেপ্টম্বর থেকে রাতের ও সকালের শহরের মধ্য দিয়ে যে এসবিএসটিসি বাসগুলি চলত তার যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী থাকাই নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে আজ থেকে এই অবরোধের ফলে খুবই বিপাকে পরছেন বাসযাত্রীরা।
বর্ধমানের স্টেশনের সামনে টোটো চালকদের পথ অবরোধ। তাঁদের দাবি না মানলে টোটো চলাচল বন্ধ থাকবে। টোটো চলাচল না করায় সমস্যায় পড়েছে নিত্যযাত্রী থেকে রোগীরা। ঘটনাস্থলে বর্ধমান থানার আইসি এবং ডিএসপি হেডকোয়ার্টার। তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন টোটোচালকরা। দাবি না মিটলে লাগাতার অবরোধ করা হবে বলে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন।পৌরসভার পক্ষ থেকে টোটো চালকদের রুট ভাগ করার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন বর্ধমানের টোটো চালকরা। চার পাঁচ দিন আগে শহরে টাউন সার্ভিস বাস ছাড়া অন্য কোন বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। দক্ষিণ দামোদর এলাকার বাস শহরে না ঢোকায় এমনিতেই সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছে। তার উপর সোমবার সকাল থেকে শহরে টোটো চলাচল না করায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে অফিস কর্মী ঘেকে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের। যাতায়াতের জন্য পযাপ্ত যানবাহন না পেয়ে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। টোটো চালকের দাবী, প্রশাসন তাদের জন্য সিফট ভাগ করে দিয়েছে। কিন্তু এখন রুট ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা রুট ভাগ মানবেন না। এই দাবীতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় টোটো চালকরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
বর্ধমানে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ইংরাজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের রহস্য মৃত্যু ঘিরে শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত ছাত্রের নাম সৌমেন মুর্মু (২০)। সকালে হস্টেলের নীচ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই হস্টেলের আবাসিক ছিলো সৌমেন মুর্মু। আজ সকালে সে হস্টেলে আসে। আসার কিছুক্ষণ পরই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হস্টেলের নীচে পরে থাকতে দেখা যায়। তার মাথায় ও চোখে রুমাল জড়ানো ছিলো বলে জানিয়েছেন হস্টেলের আবাসিক ও স্থানীয়রা। কি ভাবে তার মৃত্যু হল খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।সৌমেন পূর্ব-বর্ধমান জেলার মেমারি থানার পাল্লা রোডের কাছে সাহাপুর গ্রামের বাড়ি। তার বাবা মুনু মুর্মু। ঘটনার ঘটার কিছু পরেই বর্ধমান থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তী অকুস্থলে পৌছে যান। তাঁর তত্বাবধানে চদন্ত চলছে।
আজও অচলাবস্থা বর্ধমানের ডেন্টাল কলেজে। গত সোমবার থেকে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন ওই কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের দাবি; হোস্টেলের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা অনড় থাকবেন এদিকে তাদের বিরুদ্ধে সিনিয়র ডাক্তারদের আটকে রাখার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তারা। বর্ধমানের ডেন্টাল কলেজের ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছেন আজ চারদিন। তাদের দাবি; এই হাসপাতালে অবিলম্বে হোস্টেল চাই তাদের জন্য। রীতিমতো শ্লোগান দিয়ে তারা ধরণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই ডেন্টাল কলেজ ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই কলেজের কোনোও হোস্টেল নেই। নতুন নতুন নার্সিং থেকে মেডিকেল কলেজ সবার হোস্টেল আছে।শুধু তাদের নেই। তাদের আরো বক্তব্য হোস্টেল না থাকায় তাদের বাইরের মেস বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতে হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তার বা ছাত্র হিসেবে এই সুযোগ তাদের প্রাপ্য। যদি কোনো ব্যবস্থা না হয় তারা বড় আন্দোলনে নামবেন। তাদের কথায়; তারা জেলা এবং রাজ্যস্তরে জানিয়েছেন।কোনো ফল হয় নি তাতে। তাদের দাবি; আউটডোর সহ রোগীর পরিষেবা সব চালু রেখেছেন তারা।অভিযোগ উঠেছে তারা কলেজে স্যারদের আটকে রাখছেন। তারা জানান; ১০ টা থেকে ৪ টে ডিউটি না করে কেউ ২ টোয় চলে গেলে সেটা তারা মানবেন না। আন্দোলনকারী শিবকুমার বিশ্বাস ও সৃঞ্জনা কর্মকার জানিয়েছেন ; হোস্টেলের কাজ শুরু হলেই তারা থামবেন।শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য জুড়ে আন্দোলন-আদালত-গ্রেফতার তার সাথে কোটি কোটি কালো টাকা উদ্ধার দেখতে দেখতে রাজ্যের মানুষ ক্লান্ত অবসন্ন। তার মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো আপার প্রাইমারী চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলন। বুধবার বর্ধমান শহরে বঞ্চিত আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থীরা বর্ধমান ইউনিট জেলা প্রাইমারির সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ডেপুটেশন প্রদান করেন।তাদের দাবি, ২০১৪ তে নোটিফিকেশন জারি হয় এবং ২০১৫ তে পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষার ফলাফল বের হয় ২০১৬ তে, সেই লিস্টের ভিত্তিতে ইন্টারভিউ হয়। সেই ইন্টারভিউ প্যানেল ২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বাতিল হয়। তাদের আরও অভিযোগ পরবর্তীকালে আবার প্যানেল ঘোষণা করা হয়, তাতে দেখা যায় যাঁরা কম নাম্বার পেয়েছিল তাঁদের নাম উঠেছে যোগ্য পার্থিদের নাম বাদ দিয়ে, পিছনে থাকা প্রার্থীদের নাম ঢোকানো হয়। তারা এই সভা থেকে দাবি তোলেন গত আট বছরের সমস্ত সিট আপডেট করে পুর্বতন ইন্টারভিউ লিস্টকে মান্যতা দিয়ে সমস্ত শূন্য পদে আপার প্রাইমারি চাকরি প্রার্থী নিয়োগ করতে হবে।
আইন অমান্য কর্মসূচি চলাকালীন বর্ধমান শহরের কার্জন গেটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক খোকন দাসের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় ধৃত সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাষ রায়চৌধুরি, এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ রায়চৌধুরি সহ ৩১ জনের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করল সিজেএম আদালত।ধৃতদের মঙ্গলবার বর্ধমান সংশোধনাগার থেকে আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের হয়ে বামপন্থী আইনজীবী সংগঠনের সদস্যরা সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের সওয়াল করেন। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন। দুপক্ষের সওয়াল শুনে সপ্তাহে ২দিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, অনুমতি ছাড়া আদালতের এলাকা না ছাড়া, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম চন্দা হাসমত। শর্ত লঙ্ঘন করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিআরপিসির ৪৩৭(৫) ধারা অনুযায়ী জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম।উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট সিপিএমের আইন অমান্য কর্মসূচি চলাকালীন কার্জন গেট চত্বরে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়। পুলিসের উপর হামলা চালানো হয়। পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। কার্জন গেটে বিধায়কের অফিসেও ভাঙচুর করা হয়। তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস লাঠি চার্জ করে। তাতে কাজ না হওয়ায় কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। এমনকি জলকামান ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান থানার আইসির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু হয়। বিধায়কের অফিসে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় তৃণমূল নেতা শেখ নুরুল আলম অভিযোগ দায়ের করেন। এনিয়ে পৃথক একটি মামলা রুজু হয়। পুলিসের দায়ের করা মামলায় আগেই ধৃতদের জামিন মেলে। সিপিএম অবশ্য ঘটনার জন্য পুলিসকে দায়ী করেছে। পুলিসই দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায় বলে সিপিএমের পাল্টা অভিযোগ।
আজ বর্ধমান জেলা কার্যালয়ে বাঘার ১নং অঞ্চলের মাহিনগর গ্ৰামের সাতজন তৃণমূল সহ অন্য দলের সৎ, আদর্শবান, সশক্ত কর্মী ভারতীয় জনতা পার্টির বিচার ধারায় উদ্ভুত হয়ে এবং তৃণমুল নেতামন্ত্রীদের দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে স্ব-ইচ্ছায় ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করার আগ্রহ প্রকাশ করলে, জেলা পদাধিকারী ও মন্ডল সভাপতির উপস্থিতিতে তাঁদের সকলকে বিজেপির পতাকা ধরিয়ে এবং উত্তেরীয় দিয়ে বরণ করে নিলেন মাননীয় জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা মহাশয়।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাল্টি খেয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে গেল যাত্রীবাহী বাস। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ায়দিঘী থানার ভিটা রাইপুর এলাকায়। দুর্ঘটনায় বাসের প্রায় ১৫ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দশ জনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বাকিদের কুড়মুন প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা করা হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল ৪টা নাগাদ বর্ধমানের দিক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস করিমপুর যাচ্ছিল। দ্রুত গতিতে যাবার সময় রাস্তায় একটি মোটর সাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টি খেয়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে পড়ে যায় বাসটি। আচমকা এই দুর্ঘটনায় বাসের একাধিক যাত্রী জখম হয়েছেন বলে খবর। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
অতি মহামারী কোভিড শিথিল হলেও তার প্রভাব এখনো ছত্রে ছত্রে রয়ে গেছে। গত দুবছর লকডাউন ও কোভিডের যাঁতাকলে পড়ে দুর্গাপুজো বেশ ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু এখনও সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বর্ধমানের মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পী পাপ্পু পাল বলেন, পুজোর জন্য দুর্গা প্রতিমার বায়না যে হচ্ছে না তা নয়, তবে প্রতিমার বাজেট বাড়াতে চাইছে না কেউই। আসলে মানুষের হাতে পয়সা নেই।পুজোর আর মাস খানেক হাতে আছে। শিল্পীরাও থেমে নেই। জোরকদমে শহরের পালপাড়া থেকে পার্কাস রোড কিংবা নীলপুরে মৃৎশিল্পীরা সৃষ্টিতে মগ্ন। আবহাওয়া এবার তেমন খারাপ না থাকায় মূর্তি বানানোর কাজে তেমন ব্যাঘাত ঘটছে না। গত কয়েক বছরে হুহু করে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বাজারে।তার থেকে বাদ যায়নি মৃৎশিল্পীরাও। প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে দেদার। মাটি থেকে খড় কিংবা বাঁশ থেকে দড়ি সবক্ষেত্রেই দাম উর্দ্ধমুখী। কিন্তু পুজো কমিটিগুলো বর্তমানে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে।সাধারণত অগাষ্টের মধ্যেই বায়নাপত্র হয়ে যায়। কিন্তু এবছর যেন উল্টো চিত্র। অগাষ্ট মাসের শেষের দিকেও তেমন বায়নাপত্র হয়নি।
ফ্লেক্স লেখা আছে যে সব চাকরিপ্রার্থীরা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বা সরকারি আধিকারিকদের টাকা দিয়েও চাকরি পান নি। তারা জেলা সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নির্দেশে তাদের বিজেপির দলীয় কার্যালয় যোগাযোগ করলে তারা দায়িত্ব নিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।সম্প্রতি বর্ধমানে দলীয় কর্মসূচিতে এসেছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বর্ধমানের বড়নীলপুর এলাকায় একটি পথসভা হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিন, যারা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি তারা জেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুক। তাদের নাম গোপন রাখা হবে। সেই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে সেই টাকা তাদের ফিরিয়ে দিতে দেওয়া হবে। এই দায়িত্ব নিতে হবে।এ প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানিয়েছেন জেলা সভাপতি নির্দেশেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানিয়েছেন, কারোর এই ধরনের সমস্যা হলে তারা তো প্রশাসনের কাছে যাবে, পুলিশের কাছে যাবে, বিজেপি অফিসে যাবে কেন।
বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় গ্রেফতার হল আরও দুজন। যার মধ্যে একজনের জামিন হলেও অপর জনের তিন দিনের পুলিশি হেভফাজত হয়েছে। পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর চার দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত পাওয়া ৭ জনের আবার তিন দিনের পুলিশি আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। গত ৩১ আগষ্ট বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় পুলিশ ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল। ধৃতদের মধ্যে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায় চৌধুরী রয়েছে। এই ঘটনায় বাকি ৩৪ জনের ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে রয়েছে।বুধবার বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচি ঘিরে এই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। পুলিশের সাথে সিপিএম কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। ভাঙচুর করা হয় বিশ্ববাংলা লোগো লাগানো গ্লোব, রাস্তার দুই পাশে থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো একাধিক গ্লোসাইন। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটর সাইকেলে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আন্দোলনকারীদের মারে আহত হয়। আন্দোলনকারীদের বাগে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
বর্ধমানে তৃণমূলের সভা থেকে সিপিএমকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক খোকন দাস। শনিবার বিকেলে বর্ধমানের কার্জনগেট চত্বরে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি, ইডি ও সিবিআইয়ের আগ্রাসী মনোভাব ও সিপিএমের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, প্রদীপ মজুমদার ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।গত ৩১ আগষ্ট বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে বর্ধমানের কার্জনগেট চত্বরে। সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে বামকর্মী সমর্থকরা।এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলে। জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বাম কর্মী সমর্থকদের সরাতে গেলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহেরা নেয়। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়। তারপর দুদিনে বর্ধমানের নীলপুর ও দেওয়ান দীঘি এলাকায় দুটি সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।এদিনের সভায় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, আমাদের নেত্রী শান্তির প্রতীক। কলকাতা থেকে আমাদের নেতা অভিষেক ব্যানার্জী শান্ত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, কোন গণ্ডগোল ও অশান্তি করতে মানা করেছেন। বাংলা অশান্তি চায় না। তা নাহলে বর্ধমান শহরের সিপিএমের সব পার্টি অফিস গুড়িয়ে দিতে পাঁচ মিনিট সময় লাগতো না। সিপিএম নতুন খেলা শুরু করেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রাজ্যের যেখানে যাচ্ছেন সেখানে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। ৩১ আগষ্ট জেল ভরো আন্দোলনের নামে বর্ধমানে ভাঙচুর করে সিপিএম। গোটা শহরে একটা ইটের টুকরো পাবেন না। কিন্তু সেদিন বস্তা বস্তা ইটের ঢিল ছোড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রকল্পগুলির ছবি কার্জনগেট চত্বরে টাঙানো হয়েছিল পৌরসভার পক্ষ থেকে। কিন্তু সিপিএম উন্নয়ন চায় না। ৩৪ বছরে রাজ্যে কোন উন্নয়ন করে নি।অন্যদিকে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, হাঁটা শুরু করলে সিপিএমকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সিপিএমের আমলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বেছে বেছে সিপিএমের লোকেদের।
গরুপাচার, কয়লা চুরির উপর থেকে নজর ঘোরাতেই তৃণমূল ও সিপিএম যৌথ ভাবে আইন অমান্য আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করেছে। সিপিএমকে এগিয়ে দিয়ে পিছন থেকে মদত দিয়েছে তৃণমূল। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ তুললেন পূর্ব বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা। যেভাবে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশকে আক্রমণ করা হয়েছে সে বিষয়েও কড়া ভাষায় নিন্দা করেন তিনি। এভাবে সিপিএমকে এগিয়ে দিয়ে বিজেপিকে রোখা যাবে না বলে জানান তিনি।অভিজিৎ তা বলেন, একটা গরীবের দল কর্জনগেট এলাকার গরীব ফল বিক্রেতাদের দোকানে আন্দোলনের নামে ফল লুট করেছে। তিনি বলেন, এটা কোনও আইন অমান্য কর্মসূচি নয়। এটা লুটতরাজের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আচরণ নিয়েও অভিজিৎ প্রশ্ন তুলেছেন। যেভাবে পুলিসকে তাড়া করে রাস্তায় ফেলে মারা হয়েছে, তাতে প্রশাসনকে অসহায় লেগেছে। তিনি বলেন, সেই বাম আমল থেকে এই সরকার অবধি পুলিস যে অসহায়, তা আরও একবার প্রমান হল বর্ধমানে।পূর্ব বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা পুলিসের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বলেছেন, পুলিস আপনার আমার বাড়িরই কোনও সদস্য, তাঁদেরকে যেভাবে সিপিএম পিঠ ব্যগে করে ইঁট নিয়ে এসে ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেরেছে, সেটা আন্দোলনের অংশ হতে পারে না।অভিজিৎ তা মিটিংয়ে আসার পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে বললেন, যেকোনও রাজনৈতিক দলকেই সভা সমাবেশে যেতে গেলে গণপরিবহণের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু বিজেপির মিটিংয়ে কোনও পাবলিক বাস মালিকই বাস ভাড়া দিতে চান না। কারণ তাঁরা বিজেপিকে বাস ভাড়া দিলে সেই বাসমালিক ও তাঁর কর্মচারীদের নানা ভাবে হেনস্তার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, এইবারের মিটিংয়ে আসার জন্য বাস সংক্রান্ত কোনও সমস্যায়ই পড়তে হয়নি বামেদের। অভিজিৎ তা মনে করেন, তৃণমূলের একটা অংশ (বিক্ষুদ্ধও হতে পারে) পরোক্ষে এই মিটিংয়ে আসার জন্য বাসের ব্যাপারে তাঁদের সাহায্য করেছেন। তিনি এই আন্দোলনকে সিপেমূল-এর আন্দোলন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আবারও সিপিএম পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বর্ধমান শহরের নীলপুর এলাকায় ২ নম্বর এরিয়া সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। পার্টি অফিসের বাইরে শহীদ বেদীতেও ভাঙচুর করার পাশাপাশি অফিসার তালা ভেঙে অন্য তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় সিপিএম সমর্থকেরা। তাঁরা জানান, দুস্কৃতিরা জানালা, দরজা ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।প্রসঙ্গত, বুধবার বামেদের আইন অমান্য অভিযানের রাতে হাটুদেওয়ান এলাকাতেও একটি সিপিএমের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। জেলা সিপিএমের অভিযোগ ৩১শে আগষ্ট আইন অমান্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালাচ্ছে।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়েছে। জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানান, কোন পার্টি অফিসে হামলার ঘটনাই ঠিক নয়। তবে এর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন যোগ নেই। সিপিএম নিজেরাই এই কাজ করতে পারে। ৩১শে আগষ্ট সিপিএম তান্ডব চালিয়ে বিশ্ববাংলা লোগো থেকে শুরু করে বিধায়কের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। দলের নির্দেশে আমরা শান্ত আছি। এর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন যোগ নেই।
জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১ ব্যক্তির মৃত্যু। বর্ধমানে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১ জনের। দুর্ঘটনায় আহত হয় ১ জন। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পরে ২নং নম্বর জাতীয় সড়কের দুর্গাপুরগামী লেন।জাতীয় সড়কের লাকুর্ডি কোড়া পাড়া এলাকার দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ অকুস্থলে পৌছয়। শুক্রবার ভোরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের লাকুর্ডি কোড়াপাড়া এলাকায় পরপর দুর্ঘটনার কবলে পরে একটি ভলভো বাস, একটি ডাম্পার ও দুটি ট্রাক। দুর্ঘটনার জেরে ২ জনকে গুরুতরভাবে জখম অবস্থায় বর্ধমান ,মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়,আহত আর ১ ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
বুধবারের বামেদের আইন অমান্য কি ঘিরে যে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যায় তাতে ৫০ জনের উপর বাম কর্মীকে সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বর্ধমান শহর সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় রাতে পুলিস কাস্টডি করে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করে তাদের আদালতে পেশ করা হয়।বাম কর্মী সমর্থকদের হয়ে আদালতে সাওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কমল দত্ত। তিনি জানান বর্ধমান কোর্টে ২টি কেস ফাইল করা হয়। একটি কেস নং ১০০৪ অপরটি ১০০৫। ১০০৪ কেসটি প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে, কেস নং ১০০৫ তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। সিপিএম রজ্য নেতৃত্ব সহ জেলার নেতাদের নামে এই কেস দুটি করা হয়েছে। তিনি জানান, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম, আভাস রায়চৌধুরি, অচিন্ত্য মল্লিক,অমল হালদার, তাপস সরকার সহ ছাত্র নেতৃত্ব শ আরও অনেকের নামে কেস ফাইল করা হয়েছে।কমল দত্ত জানান, কেস নং ১০০৪ এ ৫৭ জনের নাম আছে। আর ১০০৫ কেসে ১১ জনের নাম আছে। ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০৭,৩৭৯, ৩৫৩, ৩৩২, ৩৩৩ এছাড়াও ৩৪ বিপি অ্যাক্ট ও আরও কিছু উপধারাতে এই কেসদুটি করা হয়েছে। তিনি জানান, মোট ৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তিনজন আশিতিপর ও দুইজন বয়স ১৯ নিচে। জেল কাস্টডি দেওয়া হয়েছে মোট ৩৪ জনকে। ৭ জনকে পুলিস রিমান্ডে তিন দিনের জন্য অ্যালাও করেছে কোর্ট। তাঁরা হলেন, অর্নিবান রায় চৌধুরী (এসএফআই জেলা সম্পাদক),সৌমেন্দ্র নাথ মালিক, তারক নাথ চ্যাটার্জী, মহসীন সেখ, সাহাবুল ইসলাম, সঞ্জয় মৃধা, আনারুল সেখ
বাংলার দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতির জন্য বৃহস্পতিবার বর্ধমানে বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। ছৌ নৃত্য, মহিলা ঢাকি,রণপা, আদিবাসী নৃত্য সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পদযাত্রা শেষ হয় টাউনহলে। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, বিধায়ক খোকন দাস, সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু, পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার, পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনও অংশগ্রহণ করেপদযাত্রায় শহরের দুর্গাপুজো কমিটি গুলিও অংশ নেয়। তারাও বিভিন্ন সুসজ্জিত ট্যাবলো নিয়ে পদযাত্রায় হাঁটে। পাশাপাশি শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়ারাও এদিনের পদযাত্রায় ছিল। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পদযাত্রায় শহরের ছোট বড় দুর্গাপুজো কমিটি ও ক্লাবের সদস্যরাও এদিন অংশ নিয়েছেন।
বুধবার বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় পুলিশ মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলো। বর্ষিয়ান বাম নেতা কমঃ আভাস রায় চৌধুরী কেউও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। প্রথমে তাদের বর্ধমান থানা নিয়ে যাওয়া হয়, পড়ে স্থানাভাবে তাদের বিভিন্ন থানায় ভাগ করে রাখা হয়। বাম কর্মীদের দেওয়ানদিঘি, রায়না, মেমারি,গালসি থানায় রাতে রাখা হয়। তাদেরকে আজ সকাল থেকেই বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্ধমান থানা থেকে নাম লিখে নিয়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের প্রাথমিক মেডিকেল চেকআপ করে বর্ধমান আদালতে তোলার পক্রিয়া শুরু হয়েছে।সুত্র মারফত জানা যাচ্ছে বাম কর্মীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হচ্ছে। যাতে ৪৬ জন সি পি এম কর্মী সহজে জামিন না পায়।