• ১৩ মাঘ ১৪৩২, বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Birbhum

রাজ্য

তারাপীঠে প্রার্থনার আগে ভোটের টার্গেট, বীরভূমে অভিষেকের হুঙ্কার

বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারাপীঠে গিয়ে প্রার্থনা করবেন বলেও জানান তিনি। এ আবার জিতবে বাংলা নামের প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার বীরভূমে যান অভিষেক। সেখানে দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এবার আসন সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।গত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এদিন অভিষেক বলেন, এবার আর ১০টিতে থেমে থাকলে চলবে না। বীরভূমের মানুষকে সব কটি আসনেই তৃণমূলকে জেতাতে হবে। তাঁর কথায়, এবার লক্ষ্য হবে ১১-০।লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, যে ব্যবধানে তৃণমূলের দুই প্রার্থীকে জিতিয়েছেন, তাতে প্রমাণ হয়ে গেছে, এই পবিত্র মাটিতে বিরোধীদের কোনও জায়গা নেই। অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুনেছেন কেষ্টদা তারাপীঠে গিয়ে ২৩০টি আসনের প্রার্থনা করেছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, এবার লক্ষ্য ২৫০ আসন।এদিন দলের কর্মীদের উদ্দেশে বুথভিত্তিক ভোট বাড়ানোর নির্দেশও দেন অভিষেক। তিনি বলেন, যেখানে ৫০টি ভোট পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ৫১ করতে হবে। যেখানে ১০০ ভোট ছিল, সেখানে ১১০ করতে হবে। আর যেখানে ৩০০ ভোট ছিল, সেখানে ৪০০ ভোট করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে শূন্য করতে হবে এবং বুঝিয়ে দিতে হবে যে পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে।এই সভায় পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় অভিষেকের। হেলিকপ্টারের সমস্যার কারণে তাঁকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছ থেকে হেলিকপ্টার নিয়ে বীরভূমে আসতে হয় বলে জানা গেছে।

জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
রাজ্য

চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওচা–পাঁচামিতে পাথর উত্তোলনের বরাত বাতিল, নতুন দরপত্রে বিতর্ক

চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওচাপাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প এলাকায় পাথর উত্তোলনের কাজের বরাত বাতিল করল রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ একর জমিতে পাথর উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা মেসার্স পাচামি ব্যাসল্ট মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের দাবি, সংস্থাটি চুক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানেনি বলেই এই পদক্ষেপ।রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ৩১৪ একর জমিতে পাথর উত্তোলনের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, দেওচাপাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকার আসলে ধোঁয়াশা তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার সিউড়িতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার একটি বড় শিল্প প্রকল্পও বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। অথচ দেওচাপাঁচামিকে দেশের বৃহত্তম কয়লাখনি বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আসন্ন শিল্প সম্মেলনের আগে বরাত বাতিল ও নতুন দরপত্র ডেকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, নতুন দরপত্রে কোথাও কয়লাখনি স্থাপনের উল্লেখ নেই। বরং আগামী ১৫ বছরের জন্য শুধুমাত্র পাথর উত্তোলনের কথাই বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর থেকেই স্পষ্ট যে আপাতত কয়লা উত্তোলনের কোনও পরিকল্পনাই রাজ্যের নেই। যদিও গত অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক স্তরে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ নকশা বা প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েনি। পাশাপাশি আদিবাসীদের জমি নেওয়া হলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা স্থায়ী কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিকে রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে দাবি করছে বিরোধীরা।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

ছুটির দিনে গোপন বৈঠক! নানুরে SP–কে নিয়ে রহস্যে ঢাকল বীরভূম—ভোটের আগে তুঙ্গে জল্পনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: বীরভূমে ছুটির দিনে হঠাৎই জেলা পুলিশের এসপির গোপন বৈঠক ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রবিবার বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটার মধ্যে সার্কিট হাউসে এই বৈঠক হয়। ঠিক কী কারণে এমন একান্ত বৈঠক করা হল, তা নিয়ে নানুর জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, সামনে বিধানসভা ভোট। ভোটের আগে পুলিশ সুপারের এমন গোপনীয় সভা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এসআইআর নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কারণ, আগের দিনই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ কেষ্ট মণ্ডল একটি সভায় কেন্দ্রীয় নীতি নিয়ে কড়া বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বীরভূমে কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নেই এবং এখানে এসআইআর বা এনআরসি কোনও ভাবেই কার্যকর হবে না। কেষ্টের ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসপির সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় নতুন করে জল্পনা আরও বেড়েছে।এদিকে, নানুরে সম্প্রতি তৃণমূলের এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হন এক স্থানীয় নেতা। অভিযোগ উঠেছে, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ওই নেতাকে হত্যা করেছে কাজল শেখের গোষ্ঠী। খুন হওয়া নেতা ছিলেন কেষ্ট মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। তাই এই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।ঘটনা নিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, এই বৈঠকে খুনের পরিকল্পনাও হতে পারে। তাঁর দাবি, কে কাকে খুন করল এবং পুলিশ কীভাবে তাকিয়ে বসে থাকে, সেই নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।ছুটির দিনে এমন গোপন বৈঠক হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে রহস্য আরও গভীর হয়েছে। বীরভূমে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে এখনই নতুন চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

বীরভূমে নজির: ১৭ দিনেই প্রায় শতভাগ ফর্ম আপলোড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন মহিলা বি এল ও-র

বীরভূমের লাভপুরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে কাজে অভূতপূর্ব সাফল্য। বিধানসভা ১৬৬ নম্বর অংশের মহিলা বি এল ও পূজা ঘোষ মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে ৯৯.৯১% ফর্ম অনলাইন আপলোড করে জেলার নজর কেড়েছেন। প্রশাসনিক মহলে এই উদ্যোগকে উদাহরণযোগ্য বলে প্রশংসা করা হচ্ছে।পূজার আওতায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,০১৭। এর মধ্যে ১,০১৪ জনের ফর্ম অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তিনজনের ক্ষেত্রে অনলাইন নট ফাউন্ড দেখানোর কারণে আপলোড সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে এবং পরে ফর্মগুলি আপলোড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নিজের কাজের পদ্ধতি নিয়ে পূজা জানান, প্রতিদিন একটা লক্ষ্য ঠিক করতাম যে ১৫০টা ফর্ম আপলোড করব। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩-৪টে পর্যন্ত কাজ করেছি। রাতের দিকে সার্ভার ভালো থাকত, তাই দ্রুত কাজ করতে পেরেছি।চাপ থাকলেও মানসিক শক্তিই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে। যে কোনও কাজে চাপ থাকে। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে চাপ কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, বলেন তিনি।সহকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা আরও স্পষ্ট, ভেঙে পড়লে চলবে না। চাপ হচ্ছে, পারব না এই মানসিকতা দূরে রাখতে হবে। লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোলে কাজ যে সম্ভব, সেটাই দেখিয়েছি।প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, অত্যাধুনিক ডিজিট্যাল সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে যেখানে অনেকেই হিমশিম খান, সেখানে পূজা ঘোষের পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি ও নিষ্ঠা ডিজিট্যাল ওয়ার্কফ্লোর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। জেলা জুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই তরুণী বিএলও-র অধ্যবসায়।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

দিল্লি বিস্ফোরণের জের! বাংলায় রেড অ্যালার্ট, বীরভূমে ধরা পড়ল ২০ হাজার জিলেটিন স্টিক

দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর গোটা দেশ জুড়েই চরম সতর্কতা। আর তারই জের টানল এবার বাংলা। রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট, সতর্ক করা হয়েছে প্রতিটি থানাকে। জোর দেওয়া হয়েছে নাকাতল্লাশি ও সীমান্ত নজরদারিতে। আর সেই তল্লাশি চালাতেই মঙ্গলবার রাতে বীরভূমে আটক হল বিস্ফোরক বোঝাই এক গাড়ি।পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা ওই গাড়িটি আটক হয় বীরভূমের নলহাটি থানার অন্তর্গত সুলতানপুরনলহাটি রোডে। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশ আধিকারিকদের উদ্ধার হয় প্রায় ২০ হাজার জিলেটিন স্টিক! প্রতিটি বস্তা ভর্তি বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক। গাড়িটি থেকে কোনও বৈধ নথিও পাওয়া যায়নি।ধৃত একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অবৈধভাবে ওই বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই বিপুল পরিমাণ জিলেটিন স্টিক কোথায় পাঠানো হচ্ছিল এবং কেন।সূত্রের দাবি, এর পেছনে থাকতে পারে আন্তঃরাজ্য চক্র। কারণ, ঝাড়খণ্ড-বীরভূম সীমান্ত বরাবর এই রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি বিস্ফোরক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে পুলিশের একাংশের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদানে এই জিলেটিন স্টিক ব্যবহৃত হয়। তাই এই গাড়িটি সেই কাজের জন্যই যাচ্ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে সময়টা যেভাবে দিল্লি বিস্ফোরণের ঠিক পরেই, তাতে এই উদ্ধারকে হালকাভাবে নিচ্ছে না গোয়েন্দারা। বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওডিশা জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।বীরভূম পুলিশ ইতিমধ্যেই গাড়ির মালিকানা, ফোন রেকর্ড ও যাত্রাপথ বিশ্লেষণ শুরু করেছে। পাশাপাশি, ধৃত ব্যক্তির জেরাতেও উঠে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আপাতত বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং নলহাটি থানায় মামলা রুজু হয়েছে।দেশজুড়ে যখন জঙ্গি মডিউল ও বিস্ফোরক চক্র নিয়ে তোলপাড়, তখন বাংলার মাটিতে এমন বিপুল বিস্ফোরক ধরা পড়া স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনে।

নভেম্বর ১২, ২০২৫
দেশ

অভিনব প্রতারণা, বীরভূমের বিভাস অধিকারী গ্রেফতার, ধৃত পুত্র-সহ আরও পাঁচ

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় পুলিশকে চমকে দিয়ে ফাঁস হল এক অভিনব প্রতারণা চক্র। মূল অভিযুক্ত বীরভূমের বাসিন্দা বিভাস অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত হয়েছে তাঁর পুত্র-সহ মোট ছয় জন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা নয়ডায় এক ভুয়ো থানা গড়ে তুলেছিল। পুলিশি পোশাক, ব্যাজ, নকল সিলমোহর, সরকারি কাগজপত্রসবকিছু সাজানো হয়েছিল আসল থানার মতো করে। এই থানা থেকেই চাকরি পাইয়ে দেওয়া, মামলার সমাধান এবং ব্যবসায়িক অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা টাকা হাতানো হত।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নয়ডা পুলিশ গত সপ্তাহে হানা দেয় ওই স্থানে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নকল পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র, পুলিশি পোশাক, সরকারি সিল, নগদ অর্থ এবং কম্পিউটার সেটআপ।পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই প্রতারণা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চলছিল। শুধু নয়ডা নয়, দিল্লি ও এনসিআর এলাকাতেও এদের যোগাযোগ ছিল।তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রতারণা চলছিল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একাধিক অভিযোগ হাতে আসার পর শুরু হয় গোপন নজরদারি। এরপরই গত সপ্তাহে হানা দিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে নয়ডা পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে নকল পরিচয়পত্র, ভুয়ো নিয়োগপত্র, পুলিশি পোশাক, সরকারি সিল, নগদ অর্থ এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি রাজ্য-স্তরে এদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১০, ২০২৫
কলকাতা

অনুব্রত কলকাতায় তৃণমূলের বৈঠকে, তাঁকে কি নির্দেশ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের?

এদিন কলকাতায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে হাজির ছিলেন বীরভূমের দলের প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। এসেছিলেন জেলা পরিষদের সভাপতি কাজল শেখ। এই দুই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল। লড়াই মূলত অনুব্রত ও কাজলের মধ্যে। তাঁরা বিবৃতিও দেন প্রকাশ্য। সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসিকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে অনুব্রত মন্ডল। তাতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। সমাজের সর্ব স্তর থেকে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।তৃণমূলের একাংশের রোষানলে পড়েন অনুব্রত। দলীয় নির্দেশ মেনে সেই ঘটনার পর তড়িঘড়ি ক্ষমাও চেয়ে নেন কেষ্ট। তারপর অবশ্য এআই তত্ব সামনে আসে। এবার শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেদলের ঐক্য রক্ষা করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এবং নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বকে দূরে সরিয়ে দলীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনুব্রত মন্ডলকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্য়তে এমন কাজ করলে দল বরদাস্ত করবে না।

জুন ১৫, ২০২৫
রাজনীতি

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেস, এবার কাজল শেখের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতির

বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকলহ যেন কিছুতেই কমছে না। বরং বাড়ছে। আইসিকে গালাগাল দেওয়ার অডিও ভাইরাল হতেই অনুব্রত ও কাজল গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। নাম না করে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ সাবের আলি। তাঁর বক্তব্য, দলকে ভাঙিয়ে কেউ কেউ ব্যবসা করছে। তাঁর অভিযোগ, সভাধিপতি দলে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। বিষয়টি কোর কমিটির কাছে জানাবেন বলে জানিয়েছেন সাবের আলি।এআইকে যতই দোষারোপ করা হোক না কেন কুকথা কাণ্ডে বিদ্ধ বীরভূম জেলার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। মুষড়ে পড়েছিলেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠরা। এরই মাঝে উৎসাহিত হয়ে কাজল ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট সভা করেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের অফিসে হাজিরা দিয়ে পরের দিন দলীয় কার্যালয়ে হাজির হন অনুব্রত। এরপর থেকেই ফের উৎসাহিত হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁইথিয়া ব্লকের হরিসরা গ্রামে সভা করেন সাবের আলি। সভায় তিনি বলেন, বীরভূম জেলায় ১১ টি বিধানসভার সিটে জয়ী করতে পারেন একমাত্র অনুব্রত মণ্ডল। কারণ তিনিই জেলায় সংগঠনকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন।সাবের আলির অভিযোগ, বীরভূম জেলা পরিষদ সাঁইথিয়া ব্লকে কোন উন্নয়ন করেনি। আর সাঁইথিয়া ব্লকের একজন উপপ্রধানকে ডেকে দলে বিভাজনের সৃষ্টি করছেন। ভাঁওতাবাজি করে তাকে বলা হচ্ছে তোমার এলাকার উন্নয়নে যত টাকা লাগবে দেব। শুধুমাত্র দলে বিভাজন করতে এসব করছেন সভাধিপতি। সরাসরি সভাধিপতিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই ব্লকে একমাত্র অবজারভার রানা সিং সভা ডাকতে পারেন। সভাধিপতি পারেন না। মাঠপলসা অঞ্চলে সভাধিপতি নোংরামি করেছে। বনগ্রাম অঞ্চল নিয়ে নোংরামি করছে। দলটা সভাধিপতির বাড়ির সম্পত্তি নয়। কাউকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে জেলা পরিষদে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করুন। দলকে বিভাজন করতে কাউকে পার্টি অফিসে ডেকে পাঠিয়ে আলোচনা করবেন না। কোর কমিটির কাছে মুখোশ খুলে দেব। এ বিষয়ে কাজল শেখের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুন ০৭, ২০২৫
রাজ্য

শান্তিনিকেতন থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি অনুব্রত মন্ডল

অবশেষে পুলিশি জেরার মুখোমুখি বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। সাত দিন পর তিনি বোলপুরের এসডিপিও অফিসে যান। ওই চত্বটরে শান্তিনিকেতন থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলে। বিকেল ৩ টে ২০ মিনিট নাগাদ অনুব্রত সেখানে আসেন। এর আগে পুলিশ ২বার বোলপুর তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির ওই সদস্যকে তলব করে। অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বোলপুরের আইসি লিটন হালদারকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। সেই অডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় বয়ে যায়। এদিকে বোলপুরের আইসির দুটো মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কে ভাইরাল করল ওই অডিও তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। প্রথম দফায় অনুব্রত ক্ষমা চেয়েছেন, সেই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে অনুব্রতর আইনজীবী এআইয়ের অডিও বলে দাবি করেন। অনুব্রত অনুগামীরা বোলপুর আইসির তুলোধোনা করেন। আপাতত শান্তুনিকেতন থানায় অনুব্রত।

জুন ০৬, ২০২৫
রাজ্য

আইসিকে কদর্য ভাষা অনুব্রতর, FIR, শেষমেশ ক্ষমা প্রার্থনা

তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে যায়। সেই অডিওর শোনা যাচ্ছে, বীরভূম জেলা তৃণমূল কোর কমিটির অন্যতম সদস্য অনুব্রত মণ্ডল বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। দুদিন আগে এই অডিও ক্লিপটি যে কোনও কারণেই ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরেই জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার বোলপুর রানা মুখোপাধ্যায় বৈঠক ডেকে আইসি লিটন হালদারকেও ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর এসডিপিও রিকি আগরওয়াল সহ চার পুলিশ কর্তা। উল্লেখ্য, গতকালই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নাগরিক কমিটির ডাকে বোলপুর থানায় এক বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা। অভিযোগ, আইসি লিটন হালদার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তোলাবাজি অর্থ দাবি করেন। অনুব্রত মণ্ডলকেও, এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে দেখা যায়। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশের তরফে কোন বক্তব্য জনসমক্ষে আসেনি। অনুব্রতর কদর্য বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই তীব্র নিন্দা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি বিজেপির রাজ্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব শাসকদলকে আক্রমণ করার হাতিয়ার পেয়ে যায়। একইসঙ্গে তৃণমূল দল থেকে নিজস্ব হ্যান্ডেলে অনুব্রত মণ্ডলের ঘটনার নিন্দা করা হয়। বলা হয় যে, অনুব্রত মণ্ডল একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন তার সঙ্গে আমাদের দল সম্পূর্ণ দ্বিমত প্রকাশ করছে। এবং এই মন্তব্যকে ও সমর্থন করছে না। পাশাপাশি, দল তাকে নির্দেশ দেয় যে আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে দল শোকজ নোটিশ জারি করবে। ইতিমধ্যে, পুলিশের তরফে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি এসে পৌঁছায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। অন্যদিকে, বোলপুর থানায় বিএনএস এর ৭৫, ১৩২, ২২৪ ও ৩৫১ ধারায় অনুব্রতর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। পাশাপাশি, অডিও ক্লিপটি কিভাবে ভাইরাল হল তা নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান, বীরভূমের পুলিশ সুপার আমানদীপ সিং। অবমাননাকর মন্তব্যের তদন্ত শুক্রবার বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডল একটি ভিডিও বার্তায় সকলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, যে নানুরের শিঙ্গিতে তার এক দলীয় কর্মীর পা ভেঙে গুড়ো করে দেওয়া হয় সে ব্যাপারে তিনি আইসিকে দেখার অনুরোধ করেন। অনুব্রত বলেন, যে নুরুল নামে সেই দলীয় কর্মী গুরুতর অবস্থায় আহত হন। তারপর সেখান থেকে তাকে ফোন করা হয়। রাত্রি দশটায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ফোনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর, তিনি আইসিকে বলেন যে, ওই আহত ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য আপাতত হাসপাতালে ভর্তি করুন। একইভাবে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ও আইসিকে অনুরোধ করেন। কিন্তু আইসি তাকে একটি খারাপ কথা বলেন। যেটা তিনি আর বলতে চাইছেন না। তার পক্ষে (অনুব্রতর) এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত হয়নি। তিনি ক্ষমা চাইছেন।

মে ৩০, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে মোবাইল প্রাপ্তি পুন্যার্থীদের, পুজো দিতে গিয়ে খোয়া গিয়েছিল

তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে এসে কারও মোবাইল হয় চুরি হয়ে গিয়েছিল। নয় তো গিয়েছিল হারিয়ে। এমন প্রায় ৩১ টি মোবাইল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই মোবাইল পুন্যার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিল তারাপীঠ থানার পুলিশ। ওই মোবাইলগুলির অনেকগুলো আবার সুদূর কলকাতা, হাওড়া, হুগলী এমনকি বিহারের পুন্যার্থীদের। রয়েছে মন্দিরের পূজারীর মোবাইলও। খোয়াও যাওয়া মোবাইল ফেরত পেয়ে খুশি সকলেই।সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ এখন রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্রের জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে বিহার, ঝাড়খণ্ডের বেশি সংখ্যক মানুষ তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশেষ দিনে সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ভাদ্রমাসের কৌষিকী অমাবস্যায় সেই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছে যায়। পুন্যার্থীরা যখন মা তারার দর্শনের জন্য ব্যস্ত থাকেন সেই সুযোগে হাত সাফাই করে একদল দুষ্কৃতী। ফলে পুণ্য করতে এসে মোবাইল খুইয়ে হতাস হয়ে ফিরে যান পুন্যার্থীরা। মোবাইল খুইয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন, আর তা ফিরে পাবেন না। কিন্তু পুলিশের সাইবার সেল এবং তারাপীঠ থানার উদ্যোগে তা সম্ভব হওয়ায় সকলেই খুশি। তাঁদেরই একজন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা রাজীব নেহার। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে তারাপীঠে এসেছিলাম। মন্দির সংলগ্ন আঘোর আশ্রমে উঠেছিলাম। রাত্রে জানালা থেকে দুটো মোবাইল চুরি হয়ে যায়। একটা মোবাইল অনেক পুরনো তাই কোন কাগজ ছিল না। আরেকটা একদম নতুন ছিল। সেই কারণে একটি মোবাইল চুরির অভিযোগ করেছিলাম। ফোনটা যে ফিরে পাব ভাবিনি। কিন্তু তারাপীঠ থানার সহযোগিতায় ফোনটা ফিরে পেলাম।মন্দিরের সহযোগী পূজারী চন্দন কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মাস চারেক আগে তারাপীঠের রাস্তা থেকে মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারাপীঠ থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সেই ফোন ফিরে পেলাম। পুলিশের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।বীরভূম জেলা পুলিশ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রাপকের হাতে ফিরিয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় কয়েক বছর আগে। ফিরিয়ে দেওয়া অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল প্রাপ্তি। সেই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই ৩১ জনের মোবাইল প্রাপ্তি হল শনিবার। মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশকে সাধহুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

মে ২৫, ২০২৫
রাজ্য

ধৃত জঙ্গি আব্বাসের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানযোগ, তদন্তে এসটিএফ

জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আব্বাস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে পাকাস্তিন ও বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুক্রবার জঙ্গি সন্দেহে ধৃতদের সম্পর্কে বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে এমনটাই জানিয়েছে স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স। এদিন ধৃত তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ মে জেএমবি জঙ্গি সন্দেহে বীরভূমের নলহাটি থানার বানিওর গ্রাম পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আজমল হোসেন, মুরারই থানার চাতরা গ্রাম থেকে সাহেব আলি খান এবং পরদিন দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ড হারবার থেকে আব্বাস উদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স। তাদের প্রত্যেককে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার ফের তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাতি বলেন, ধৃত আব্বাস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এর সঙ্গে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে তদন্তকারী অফিসার আদালতকে জানিয়েছেন। বিচারক তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মে ২৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

বোলপুরে এসে অভিভূত সৌরভ, বললেন, কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি

বোলপুর পুরসভা ও বীরভূম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত বোলপুর শহরে রবিবার আসেন বাংলার মহারাজ। গত ৯ মে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বোলপুরে আসার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। এদিন বোলপুরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মঞ্চে উঠে সৌরভ বলেন, এই প্রথম বোলপুরে এলাম। এখানে রবীন্দ্র সঙ্গীত নৃত্য ও পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে ভলি, বাস্কেট, ক্যারাটে সহ বিভিন্ন খেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। তাঁদের সম্বর্ধনা দেওয়া হল। বীরভূম থেকে বহু খেলোয়াড় সিএবি যায়। সিএবি তাদের সাহায্য করে থাকে। সেটাই তাদের কাজ। এদিন ঝুলন গোস্বামী সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের আইকন ঝুলন গোস্বামী। ঝুলন যদি নদিয়ার একটি সাধারণ ঘরের মেয়ে হয়ে এই জায়গায় পৌঁছাতে পারে, বীরভূম কেন পারবে না? নিশ্চয় পারবে। শুধু পরিশ্রম করতে হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সৌরভের কাছে অনুব্রত মণ্ডল অনুরোধ করেন বোলপুরে একটি ক্রিকেট কোচিং সেন্টার চালু করার। সৌরভ অবশ্য অনুব্রতর অনুরোধ রাখার কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। এদিন বোলপুর সাংসদ অসিত মালকে ধন্যবাদ জানিয়ে সৌরভ বলেন, অসিত মাল ৪ কোটি টাকা দিয়েছেন স্টেডিয়ামের উন্নয়নে। তাঁকে ধন্যবাদ। এদিন অসিত মাল ছাড়াও সুদীপ্ত ঘোষ এবং অনুব্রত মণ্ডলকে ধন্যবাদ জানান বাংলার মহারাজ।

মে ১৮, ২০২৫
রাজ্য

বিশ্বভারতীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, ফের পুরনো নিয়মে ফিরছে রবি ঠাকুরের প্রতিষ্ঠান

কোভিড কাল থেকে অবরুদ্ধ ছিল রবি ঠাকুরের বিশ্বভারতী। তবে এবার সেই অবরুদ্ধ দ্বার খুলে যেতে চলল। এবার থেকে পর্যটকরা আশ্রম ক্যাম্পাসে ঘুরতে পারবেন। নতুন উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ শান্তি নিকেতনে কাজে যোগ দিয়ে এমন নির্দেশ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেয়েছিলেন অচলায়তনের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। তা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছিল। আপাতত সেই বিতর্ক মিটতে চলেছে। অবরুদ্ধ দরজা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এই সিদ্ধান্তে খুশি প্রবীন আশ্রমিকরা। প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুপ্রিয় ঠাকুররা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বর্তমান উপাচার্য এবং আমি একই এগ্রিকালচারাল কলেজের ছাত্র। তিনি আমার থেকে দশ বছরের জুনিয়র। খুব ভালো লাগছে, তিনি এই কথা বলেছেন। পর্যটনকে এই হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাঁচিল দিয়ে অবরুদ্ধ করা সহজ। কিন্তু রবীন্দ্র ভাবনার উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। ছাত্রদের যেমন এখানে রবীন্দ্র স্টাডিজ পড়তে হয়। কিন্তু যারা এখানে বাইরে থেকে পড়াতে আসেন, তাদেরকে পড়তে হয় না। একথা প্রাক্তন উপাচার্য সুজিত বসুকে বলেছিলাম। সব থেকে যেটা দরকার উপযুক্ত পরিকাঠামো। পর্যটকদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, বাথরুম। কোথায় পার্কিং হবে, কোথায় হবে না তার নোটিশ দরকার। নোংরা হবে বলে, কাউকে ঢুকতে দেব না, তালা মেরে দেব, এটা সহজ কথা। হেরিটেজ সাইট মানুষকে দেখতে দিতে হবে। ৬ বছর পর পর্যটকদের জন্য খুলে গেল বিশ্বভারতীর সমস্ত এলাকা। তাতে বিভিন্ন মহলে খুশির হাওয়া। গত ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষা করতে অতি সতর্ক বিশ্বভারতী এতদিন পর্যটক থেকে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল। এবার সবার জন্য আশ্রমের দরজা উন্মুক্ত হলো। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ থাকবে।শুক্রবার শান্তি নিকেতন, আ ইউ নেসকো ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইট, ট্যুরিজম বিষয়ে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। এদিন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, একটি পরিকল্পনা করে হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে ট্যুরিজম লিংক আপ করা হবে। অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। তবে রবীন্দ্র ভাবনা তাঁর আদর্শ এবং স্থান ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে আশ্রম উন্মুক্ত করা হবে। গত পরশু জয়েন করে আমি জানিয়ে দিয়েছি। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বা অতীতের মতো যে তিনি চলবেন না, তাঁর প্রথম সিদ্ধান্তে তিনি তা বুঝিয়ে দিলেন। স্বাভাবিক ভাবে বিশ্বভারতী তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চলেছে। বিশ্বভারতীর দ্বার উন্মুক্ত হলে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছে শিক্ষানুরাগীরা। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বৃদ্ধি পাবে।

মার্চ ২১, ২০২৫
কলকাতা

দেউচা পাঁচামি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সল্টলেকে, এবার কি বাড়বে প্রকল্পের গতি?

দেউচা পাঁচামি কয়লখনির অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল সল্টলেকে। বুধবারের এই বৈঠকে বীরভূমের জেলাশাসক ছাড়া আদিবাসী সংগঠনের নেতৃত্ব হাজির ছিলেন। আদৌ প্রকল্পে কি কাজ করা হবে তা নিয়ে অবগত করা হয় আদিবাসী সমাজের নেতৃত্ববর্গকে। এই কয়লাখনি নিয়ে ইতিমধ্যে আদিবাসীদের একাংশ সেখানে বিরোধিতায় নেমেছে। ডব্লিউবিপিডিসিএলের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিবি সেলিম জানিয়েছেন, দেউচা পাঁচামি নিয়ে বাইরের কিছু লোক ভুল তথ্য দিচ্ছেন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সেটাকে ক্লারিফাই করার জন্য রাজ্যের আদিবাসী যে বড় সংগঠন রয়েছে তাদের ১০ জন প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। মাইনিং নিয়ে যারা টেকনিক্যাল এক্সপার্ট রয়েছেন তারাও ছিলেন এই বৈঠকে। কিভাবে মাইনিং করতে চাইছে,দেউচা পাঁচামি নিয়ে কি পরিকল্পনা রয়েছে, সেই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানানো হলো। এই বৈঠকে করে বুঝলাম অনেক কিছু ভুল ধারণা, মিথ্যা ধারণা তৈরি হয়েছে প্রকল্প নিয়ে। সেগুলো পরিস্কার করতে পেরেছি। ওখানে ওপেন কাস্ট মাইনিং হচ্ছে না, যখন এটা হচ্ছে না তখন উচ্ছেদের কোন প্রশ্ন নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, আপাতত ৩২৬ একরে কাজ হবে, তার মধ্যে ১২ করে কাজ শুরু হয়েছে। এই ৩২৬ একরে না কোন বসতি না কোন জঙ্গল আছে। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং হবে। এই আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং এমন হবে যাতে উচ্ছেদ কোন না হয় এটা পরিষ্কার করে দেওয়া হল।এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বীরভূমের জেলশাসক বিধান রায়। তিনি জানিয়েছেন, আদিবাসী সংগঠনের একটা ইউনাইটেড ফোরাম আছে তাদেরকে নিয়ে আমরা বসে ছিলাম। তার কারণ, চারিদিকে এটা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। যে উচ্ছেদ হয়ে যাবে আদিবাসীদের এখানে অত্যাচার করা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সব মিথ্যা, সেগুলো নিয়ে আজকে ইউনাইটেড ফোরাম এসেছিল আমাদের কাছে। প্রাথমিক যে ফার্স্ট ফেজ, সেটা ৩২৬ একর। যেখানে ১০৪ একর হচ্ছে আমাদের ভেস্টেড ল্যান্ড আর বাকি ২২২ এখন হচ্ছে প্রাইভেট ল্যান্ড। প্রাথমিক কাজ ১২ একর দিয়ে শুরু হয়েছে। এই ৩২৬ একরের মধ্যে ফার্স্ট ফেজে কোন ধরনের কোন বনভূমি নেই, কোথাও কোনো বসতি নেই সুতরাং উচ্ছেদের যে বিষয়গুলি মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেগুলো সরবই বা মিথ্যা। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং হবে সেটা আমরা বুঝিয়ে দিলাম উনারাও বুঝেছেন।ইউনাইটেড ফোরাম অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনের কর্ণধার রামদাস কিসকু জানান, আজ এখানে আসার উদ্দেশ্য একটাই ছিল। সরকার যে কয়লা খনিটা করতে চাইছেন সেটা ওপেন না আন্ডারগ্রাউন্ড, বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে আরম্ভ করে কিভাবে হচ্ছে তার ডিটেলস জানার জন্য আজকে এখানে এসেছিলাম। সরকারি অর্ডার সহ সরকার কি করতে চাইছেন, সেটা পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে ছিল না। সেটা জানার জন্যই এসেছিলাম। আমাদের মনের মধ্যে যে প্রশ্ন একটা খনি করতে গেলে আদিবাসী উচ্ছেদ বা গ্রাম উচ্ছেদ হচ্ছে কিনা কি কি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এগুলো আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ভাবে প্রশ্ন করেছি, আধিকারিকরা উত্তর দিয়েছেন। কাগজ এবং বাস্তব দুটো আলাদা, আমরা ওই এলাকায় আবার ভিজিট করব এলাকার মানুষ কি বলতে চাইছেন, আজকে যেটা শিখলাম সেটা আমরা বলব, ওনাদের বক্তব্য আমরা শুনবো তারপরে সে সিদ্ধান্ত মানুষই বলবে।বিতান চন্দ্র টুড (ওয়ার্কিং কনভেনার) জানান, বাইরে যেভাবে আমরা শুনেছি, আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে যেভাবে আমাদের কাছে বিষয়টা এসেছে আর এখানে এসে যা তথ্য পাচ্ছি তার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। সুতরাং কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটা স্পটে গিয়েই আমরা বুঝতে পারবো।

মার্চ ১৯, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে বিশেষ লাইনে পুন্যার্থী, হস্তক্ষেপ প্রশাসনের, কবে মিটবে এই বিতর্ক?

তারাপীঠ মন্দিরের জটিলতা মেটাতে অফিসে সেবায়েতদের ডেকেছিলেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক। তাঁদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবায়েতরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ। তাঁদের দাবি শাসক দলের নির্দেশে চলছেন মহকুমা শাসক। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি সেবায়েতদের একাংশের। সোমবার চারজন পুন্যার্থীকে বিশেষ লাইনে ঢুকিয়ে পুজো করানো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। ওইদিন তারাপীঠ মন্দিরের পালাদার ছিলেন কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায়। মন্দির কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে প্রশাসনের নির্দেশে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের জন্য দুটি লাইন কড়া হয়েছে। একটি ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। অন্যটি সাধারণ পুন্যার্থীদের জন্য। একটি আছে প্রোটোকল লাইন। যে লাইনে প্রশাসনিক আধিকারিক, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, রাজনৈতিক দলের প্রধানরা লাইন না দিয়েই সরাসরি মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সেই প্রোটোকল লাইন দিয়ে সোমবার কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায় চারজন নিকট আত্মীয়কে ঢুকিয়ে ছিলেন। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় মন্দিরে। মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবি প্রোটোকল লাইনে চার পুন্যার্থীদের ঢোকানোর প্রতিবাদ করেন। এনিয়ে মন্দিরেই বচসা বাধে। এরপর রবিবাবু মন্দিরের সেবাইত, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, সুকুমারবাবু মন্দিরের অফিস ঘরে বসে মন্দির থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেন। বন্ধ করে দেন ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। ফলে সোমবার রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত অরক্ষিত ছিল মন্দির। এতেই মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ ক্ষোভ ফেটে পড়ে। যেখানে মন্দিরের আয়ের টাকায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে পালাদারদের বা মন্দির কমিটিকে না জানিয়ে মন্দিরকে সারাদিন অরক্ষিত করে দেওয়া হল কেন? তাছাড়া সুকুমার মুখোপাধ্যায় একজন মন্দিরের সেবায়েত। তিনি কিসের বলে নিরাপত্তারক্ষী তুললেন?কুণালবাবুর বক্তব্য, তারাপীঠ মন্দিরে সারাদেশের ভাবাবেগ জড়িয়ে। যেখানে দেশের প্রধান থেকে হাজার হাজার হিন্দুধর্মালম্বী মানুষ ভিড় করেন। সেখানে তৃণমূলের একজন ব্লক সভাপতি কিভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিতে পারে? এনিয়ে রামপুরহাট মহকুমা শাসক আমাদের অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। কিন্তু অন্যায়ভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার বিষয়ে কর্ণপাত করলেন না। আমাদের মনে হয়েছে মহকুমা শাসক তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করছেন।এদিকে মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আরেক সেবায়েত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মন্দিরে শাসক দলের রাজত্ব চলছে। ১৫ বছর ধরে মন্দির কমিটির কোন নির্বাচন হয়নি। ফলে একনায়কতন্ত্র চলছে। তিনমাস ধরে বিশেষ লাইনের কয়েক কোটি টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় রয়েছে কেউ জানে না। মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে ২০২২ সালে দুবার মহকুমা শাসকের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোন উত্তর মেলেনি। এখন শাসক দলের সঙ্গে প্রশাসন যোগসাজশ করে চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।এবিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে আমরা মন্দির শান্তিশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করতে চাইছি। কিন্তু কিছু সেবায়েত নিয়ম ভেঙে মন্দির চালাচ্ছেন। এনিয়ে গণ্ডগোলের জেরেই লাইন থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে তারা ছিলেন মন্দিরের আশেপাশেই।সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, কোন সেবায়েত যদি নিরাপত্তারক্ষীকে না মানে, মন্দিরের দায়িত্বে থাকা প্রধানকে যদি না মানে তাহলে নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন কি? নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার পরিবার মন্দিরের সমস্ত রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের জন্যই মন্দিরে অশান্তি হচ্ছে।রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, আমি মন্দিরের সমস্যা নিয়ে জানতে ওনাদের ডেকেছিলাম। ওনাদের বলে দেওয়া হয়েছে কোনওরকম নিয়ম ভাঙা যাবে না। ওনারা যে অভিযোগ করছেন সেটা ঠিক নয়। তবে লজ নিয়ে কোন অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত করে দেখব। হঠাৎ করে মন্দিরে থেকে নিরাপত্তারক্ষী কেন তুলে নেওয়া হল সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান মহকুমা শাসক।ধ্রুব সাহা বলেন, শাসক দলের মদতে মন্দির চলছে। চলছে ব্যাপক অরাজকতা। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। আবার মন্দিরের টাকাও উন্নয়ন খাতে খরচ দেখানো হচ্ছে। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে নোংরা জলের ট্রাংক নির্মাণ করা হচ্ছে। সমস্ত অনিয়ম হচ্ছে মহকুমা শাসকের ইন্ধনে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।

মার্চ ১৯, ২০২৫
রাজ্য

খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগে কান ধরে উঠবস! ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার ব্যবসায়ীরা

খাবারে রং মেশানোর অভিযোগে কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করার অভিযোগ উঠল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।ঘটনাটি ঘটেছে, সাঁইথিয়া থানার আহমদপুরে। বৃহস্পতিবার ওই এলাকার খাবারের দোকানে পরিদর্শনে যান জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে বেশ কিছু দোকানের ফ্রিজে দু-তিন দিনের পুরনো মাংস, মিষ্টি, তেলে ভাজা দেখতে পান। আধিকারিকরা সেই সমস্ত জিনিস নষ্ট করে দেন। এরপর লক্ষ্য করেন খাবারে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের রং। যে রং খাবারে মেশানো হচ্ছে সেটা মানুষের শরীরে ক্ষতিকারক। ক্ষতিকারক রং হাতেনাতে ধরা পড়ার পর কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ঘটনার বিরোধিতা করা হয়েছে।ব্যবসায়ী সুভাষ সাহু বলেন, আমার দোকানে কামধেনু রং পেয়েছিল। সেই অপরাধে আমাকে বেশ কয়েকবার কান ধরে উঠবস করিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, বেশ কয়েকজন দোকানিকে একই শাস্তি দিয়েছে।সিউড়ি মারচেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, খাবারে কোন রং মিশিয়ে থাকলে দোকানদারকে জরিমানা করতে পারেন। নোটিশ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজে হাতে কোন শাস্তি দিতে পারেন না। বিষয়টি আমরা নিন্দা করছি। সঠিক জায়গায় আমরা অভিযোগ জানাব।জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেঞ্জিত বটব্যাল বলেন, যে ভাবে মানুষের শরীরে রং ঢুকছে তাতে মানুষের শরীরের ক্যান্সার এবং অসংক্রমিত রোগ বাসা বাঁধছে। ওই দোকানি আমাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তারা বলতে থাকে দামী রং দিতে পারব না। লোক চাইছে তাই কমা রং দিয়েই খাবার তৈরি করব। আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। প্রথম সাবধান করা হচ্ছে। পরে তাদের নোটিশ করা হবে। তারপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রী মৃত্যুর পরও ভোট দিয়ে চলেছেন! পরিচিয়পত্রহীন স্বামীর ভিক্ষেই সম্বল

স্ত্রী মারা গিয়েছেন বছর পাঁচেক আগে। কিন্তু ভোটার তালিকায় গত লোকসভা পর্যন্তও ছিলেন জীবিত। ফলে ভোটের সময় ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোটও দিতে এসেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। কিন্তু জীবিত থেকেও ভোটাধিকার নেই স্বামীর। বঞ্চিত সরকারি সুবিধা থেকেও। সরকারি সুবিধা পাবেন কিভাবে! কাগজকলমে মৃত কি ভাবে সুবিধা পাবেন! মৃত মানুষ ভোট দিয়ে যেতে পারেন! তবে সরকারি সুবিধা কখনই নয়!এমনই অদ্ভুত ভুতুড়ে ভোটার তালিকার হদিশ মিলল বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভার নারায়নপুর পঞ্চায়েত কানাইপুর সংসদে। ওই সংসদের হতদরিদ্র ধীরেন মাল জানতে পারেন তিনি মৃত। প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘোরাফেরা করেও তিনি নিজেকে জীবিত প্রমান করতে পারেননি। ফলে এখন ভিক্ষাকে জীবিকা করে কোনওরকমে মৃতপ্রায় হয়ে চলাফেরা করছেন। তবে বছর পাঁচেক আগে মৃত স্ত্রী ভাসানি মাল ভোটার তালিকায় ২০২৪ সাল পর্যন্তও ছিলেন জীবিত। ভোটের সময় আসেন, আর ভোট দিয়ে চলে যান।এদিকে মৃত স্ত্রীর নামে বার্ধক্য ভাতাও ঢুকছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু টাকা তোলা যাচ্ছে না। এদিকে ধীরেন মালকে মৃত ঘোষণা করায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে বার্ধক্য ভাতা পান না। চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর। এই বয়সে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। ভিক্ষাকে জীবিকা করে কোনওরকমে জীবন-মরণের লড়াই চালাচ্ছেন। ধীরেন মলের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার ভোটার তালিকায় নাম বাদ দিয়েছে, গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ভোটার কার্ড নিয়ে ভোট দিতে গেলে তাকে বুথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ জানতে গেলে বলা হয় তিনি মৃত। তাই তার ভোটার তালিকায় নাম নেই। অথচ তাঁর স্ত্রী মৃত্যু হলেও তার নাম ছিল ওই ভোটার তালিকায়। বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বলেও এখনও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। ধীরেন মালের নাম যাতে ভোটার তালিকায় ওঠে তার ব্যবস্থার নেওয়ায় আস্বাস দিয়েছে প্রশাসন থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব।তৃণমূলের নারায়নপুর অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, বিষয়টা আমরা জানি না। হয়তো স্ত্রীর নাম বাদ দিতে গিয়ে স্বামীর নাম বাদ দিয়েছে। তবে তাঁর নাম যাতে ভোটার তালিকায় ওঠে সেই ব্যবস্থা করব। একই সঙ্গে যাতে বার্ধক্য ভাতা পায় সেই বিষয়টাও দেখা হবে।বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, ভোটার তালিকায় গড়মিলের বিষয়টি আমরাই প্রথম অভিযোগ করেছি। মৃত মানুষের ভোটেই তো তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তাছাড়া কানাইপুর সংসদ বিজেপি অধ্যুষিত। ফলে পরিকল্পিত ভাবে ধীরেনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

মার্চ ১৩, ২০২৫
রাজ্য

শেষমেশ চড়কা কেটে আন্দোলন শুরু দেউচায়, ৩ দিন বন্ধ খননের কাজ

অবেশেষে চড়কা কেটে আন্দোলন শুরু করে দিল আদিবাসীরা। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে টানা ৩ দিন ধরে খননের কাজ বন্ধ দেউচা-পাঁচামির। ইতিমধ্যে সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে আদিবাসী নেতাদের। তবে এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ প্রশাসনিক কর্তারা।আন্দোলনের জেরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজ টানা তিন দিন বন্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ স্থানীয় আদিবাসীরা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, আমরা শিল্পের বিরোধী নই। তবে শিল্পের নামে আদিবাসীদের জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, চাকরি থেকে বঞ্চিত করে রাজ্যসভার সাংসদ তাঁর নিজের লোকেদের ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। কয়লা শিল্পের নামে পাথর তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য আদিবাসী সমাজের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই আন্দোলন যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে দেউচা-পাচামিতে কয়লা খনির খনন কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও জল, জঙ্গল, জমির অধিকার ছাড়তে নারাজ স্থানীয় মানুষজন৷ বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা৷ বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই আদিবাসী। কোনওরকমে বিক্ষোভ সামাল দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে মুখ্যমন্ত্রীর মান বাঁচাতে শুরু হয় দেউচায় খনন কাজ। কিন্তু আন্দোলনের জেরে ফের বন্ধ হল খনন প্রক্রিয়া। এই দেউচা-পাচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই লড়াই-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ কারণ, এখানে ৩৪০০ একর জমিজুড়ে মজুত রয়েছে কয়লা৷ এই কয়লা উত্তোলন করতে হলে প্রায় ২০ টি গ্রামকে অন্যত্র সরাতে হবে। কমপক্ষে ২১ হাজার মানুষকে পুর্নবাসন দিতে হবে। যার মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। এছাড়া, কয়লা খনি হলে ধ্বংস হবে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি, চারণভূমি। ভারসাম্য হারাবে পরিবেশের। তাই খনির জন্য ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা।

মার্চ ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে অশান্তিতে গ্রেফতার বিজেপি নেতৃত্ব, কি নিয়ে এত গন্ডগোল?

তারাপীঠে অশান্তি যেন কিছুতেই কমছে না। বরং তা বেড়েই চলেছে। এর আগের শ্মশানে রিজার্ভার নির্মানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। এবার বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করে শ্মশানের মধ্যে নোংরা জল মজুতের বিরোধিতা করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক নেতা কর্মীকে। দলীয় সভাপতি এবং নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তারাপীঠ থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পরে অবশ্য সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।সূত্রের খবর, বীরভূমের তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দুপাশের এবং পাণ্ডা পাড়ার নোংরা জল মজুত করার জন্য তারাপীঠ শ্মশানে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সেই জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলার কথা। পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ওই কাজ করা হচ্ছিল বলে জানান তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে রিজার্ভার নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপির পক্ষ থেকে শ্মশানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মাটি ফেলে কিছুটা বন্ধ করে দেওয়া হয় রিজার্ভারের গর্ত। ওইদিন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা হুঁশিয়ারি দেন ফের কাজ শুরু হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে দল। বিজেপির হুঁশিয়ারিকে আমলা না দিয়ে দিন দুয়েক থেকে একই জায়গায় ফের মাটি কাটার কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, জেলা সহ সভানেত্রী রুপা মণ্ডল, জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল, বিজেপি মোর্চার জেলা সভানেত্রী রশ্মি দে। সকলে মিলে কোদাল ধরে গর্তে মাটি ভরাট করতে শুরু করেন। এরপরেই তারাপীঠ থানার পুলিশ গিয়ে ধ্রুব সাহা সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। বিজেপি থানাতেও বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি, ধৃতদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর সকলকে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে বিজেপি নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের পরেই শ্মশানের সাধু সন্তরা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে খনন কাজের কাছে জমায়েত হন। তারা বিজেপির পতাকা খুলে ফেলে দেন। ছিঁড়ে ফেলেন পোস্টার। সাধুদের দাবি, নোংরা জলকে পরিশ্রুত করে নদীতে ফেলার জন্য এই নির্মাণ হচ্ছে। এটা ভালো কাজ। বিজেপির নোংরা রাজনীতিকে আমরা ধিক্কার জানাই।যদিও ধ্রুব সাহার বক্তব্য, সাধুদের আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অধিকাংশ সাধু আমাদের সঙ্গে আছেন। কিছু সাধু তৃণমূলের কাছে সুবিধা পেয়ে এসব করছেন। তারা সাধু নন। সাধু হলে সনাতনী সমাধি ধ্বংসের প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল আমাদের আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য দলীয় অফিসে মস্তান জমায়েত করেছিল। পুলিশ তাদের সরাতে না পেরে আমাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। কোন মতে শ্মশানে নির্মাণ কাজ করতে দেব না।শ্মশানে নোংরা জলের রিজার্ভার নির্মাণের প্রতিবাদ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বৈরাগী বৈষ্ণব সমিতির রাজ্য সম্পাদক শ্যামা পদ দাস বলেন, বিষয়টি খুব চিন্তার। এভাবে বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করা উচিত নয়। আমরা এই নির্মাণের বিরোধিতা করছি।তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, এই কাজ করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। পবিত্র মহাশ্মশানে এবং দ্বারকা নদীতে যাতে দুষিত জল না পরে সেই জন্য রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জমা হওয়া জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে। এর ফলে দ্বারকার জলে দূষণ হবে না। এই নির্মাণ করতে গিয়ে একটিও গাছ কাটা হবে না। ধ্বংস করা হবে না সমাধি।প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর জয়দীপ মুখোপাধ্যায় তারাপীঠের দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৮ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়ে আদালত ৭০ টি হোটেললজকে চিহ্নিত করে জরিমানা করে। সেই সঙ্গে দূষণ রোধে সরকারকে একাধিক নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই ওই নির্মাণ বলে জানান সুকুমার মুখোপাধ্যায়।

মার্চ ০৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বিতর্কে কড়া হাইকোর্ট! রাজ্যকে বেঁধে দেওয়া হল সময়

বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরেই কাঁটাতার বসানো নিয়ে সমস্যা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তের বড় অংশ এখনও সুরক্ষিত করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর করা মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর জন্য জমির টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য কেন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে জমি অধিগ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি নেওয়া যায়। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে কেন সেই ধারা প্রয়োগ করা হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিচারপতি পার্থসারথী সেন বলেন, একটি রাজ্য যদি আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার হয়, তা হলে তারা নিজেরা কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, তা সত্যিই আশ্চর্যের।আদালত জানায়, যে জমির জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে এবং অধিগ্রহণও হয়েছে, সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে। এই ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।রাজ্য এখনও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকলে জেলা শাসক সরাসরি আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবীও জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ ধারায় সেই সুযোগ রয়েছে।মামলায় ২০১৬ সাল থেকে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের প্রসঙ্গও তোলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিকবার রাজ্যকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণ রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ৪০ ধারা প্রয়োগ করা যায় না বলেই রাজ্যের অবস্থান। রাজ্য আরও জানায়, যেসব জমির টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেগুলি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। কিছু জেলায় এক-দু মাস সময় বেশি লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুন মাসে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩০ শতাংশের ইঙ্গিত করে সতর্কতা! কাদের উদ্দেশে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

ভোটের আগে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সরাসরি সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পরে প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলায় কেউ কেউ ইচ্ছে করেই গোলমাল পাকাতে চাইছে। সেই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। যদি কোনও একটি বড় অংশ রাস্তায় নেমে ঝগড়া শুরু করে, তা হলে প্রতিদিন অবরোধ, বিক্ষোভ হবে। তাঁর কথায়, এতে প্রশাসনের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তফশিলি জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। আদিবাসীদের ওপর সামান্য কিছু ঘটলেও ট্রেন অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু তিনি চান না এমন কিছু হোক। তাঁর ইচ্ছা, সবাই নিজের মতো শান্তিতে থাকুক, কেউ কারও বিষয়ে নাক না গলাক।ভোটের সময় কিছু মানুষ ইচ্ছে করে অশান্তি ছড়াতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোট আসে আর যায়, কিন্তু তাঁকে তো সারা বছর রাজ্য চালাতে হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে থাকার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ৩০ শতাংশের কথা বললেও, কোনও সম্প্রদায়ের নাম নেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনি সংখ্যালঘুদের কথাই ইঙ্গিতে বলেছেন। কারণ বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট বড় ভূমিকা নেয়। এই ১৪৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির ১৪টি এবং আইএসএফের একটি আসন। আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে, আর ৭২টি বিধানসভায় তা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ।এর মধ্যেই রাজ্য বিজেপিতে নেতৃত্ব বদলের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপি সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে মুসলিম ভোট চান না। তিনি শুধু বলেছেন যে তিনি সংখ্যালঘুদের ভোট পান না। তাঁর দাবি, অপরাধীর কোনও জাত বা ধর্ম হয় না, আর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিএম। দলের নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, যদি পুলিশ-প্রশাসন তৃণমূলকে দেখলে ভয় পায়, তাহলে অশান্তি কে আটকাবে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও তৃণমূলদুপক্ষই ধর্ম ও জাতের রাজনীতি করছে, আর তার ফলেই রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বলিউডে ভূমিকম্প! প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণা অরিজিৎ সিংয়ের, চমকে গেলেন অনুরাগীরা

তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল। সেই অরিজিৎ সিংই আর ছবির জন্য গান গাইবেন নাএমন ঘোষণায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কার্যত চমকে গিয়েছেন অনুরাগীরা। সোশাল মিডিয়ায় নিজেই সেই ঘোষণা করেছেন জনপ্রিয় গায়ক।নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে তাঁকে ভালোবাসার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। এরপরই তিনি জানান, এখন থেকে আর নতুন কোনও ছবিতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করবেন না। এই অধ্যায় থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, এই যাত্রাটা ছিল ভীষণ সুন্দর।সেই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ঈশ্বর তাঁর প্রতি খুবই সদয় ছিলেন। তিনি নিজেকে ভালো সঙ্গীতের একজন ভক্ত বলেই মনে করেন। ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবেই আরও শিখবেন, আরও কাজ করবেন। অনুরাগীদের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গান তৈরি করা তিনি বন্ধ করছেন না। কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে, সেগুলি শেষ করবেন। তাই এই বছর শ্রোতারা কিছু নতুন গান পেতেও পারেন।এই ঘোষণার পর থেকেই মনখারাপ অনুরাগীদের। আচমকা এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সত্যিই কি অরিজিৎ এমন ঘোষণা করলেনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল জন্ম অরিজিৎ সিংয়ের। একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। গত বছরই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি।২০০৫ সালে ফেম গুরুকুল-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম নজর কাড়েন অরিজিৎ। যদিও সেই প্রতিযোগিতায় তিনি বিজয়ী হননি। কিন্তু তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মার্ডার ২ ছবিতে গাওয়া ফির মহব্বত গান দিয়েই বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু। তারপর একের পর এক সুপারহিট গান। ধীরে ধীরে বলিউডের পুরুষ প্লেব্যাক কণ্ঠ মানেই অরিজিৎএমন ধারণা গড়ে ওঠে।মাত্র ৩৮ বছর বয়স অরিজিতের। এখনও চল্লিশ পেরোননি। সকলেরই ধারণা ছিল, সামনে তাঁর আরও দীর্ঘ সোনালি পথ পড়ে রয়েছে। কিন্তু সেই সময়েই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, ছবিতে গান গাইবেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গীতচর্চা থামছে না। অন্যভাবে তিনি গান নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।তাহলে কি অন্য কোনও বড় পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছেন অরিজিৎ? সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে। তবে আপাতত তাঁর অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নকেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠ?

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

চোখের জলে ভাসলেন চিরঞ্জিত! টিকিট চাইতে আবেগঘন বার্তা তৃণমূল বিধায়কের

দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। কে টিকিট পাবেন, কে বাদ পড়বেনএই প্রশ্নে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময়েই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ভাষণ দিতে গিয়ে কার্যত চোখে জল চলে আসে তাঁর। বলেন, মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন, এখনও অনেক কাজ বাকি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আবার তাঁকে টিকিট দেন, তবে সেই অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করবেনএই আশ্বাসও দেন তিনি।গত ১৫ বছর ধরে বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। কিন্তু ২০২৬ সালের ভোটের আগে বারাসতে কানাঘুষো শুরু হয়েছিল, তিনি আদৌ টিকিট পাবেন কি না। কারণ, রাজনীতির ময়দানে তাঁকে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায় না বলেই অভিযোগ। শাসকদলের বড় মিছিল বা আন্দোলনেও সচরাচর তাঁকে দেখা যায় না। এরই মধ্যে বারাসতের অলিগলিতে ঘুরছে নতুন নামসাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে, চিকিৎসক বৈদ্যনাথ দস্তিদারের।এই জল্পনার মধ্যেও চিরঞ্জিত জানান, তাঁর ভরসা একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর উপরই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা হয়তো তিনিও বুঝতে পেরেছেন, তাই আবেগে ভেসে গিয়েছেন। যদিও চিরঞ্জিত নিজে বলেন, তিনি রাজনীতি বোঝেন না, মানুষ বোঝেন। তাঁর দাবি, এত বছর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেছিলেন, অপশাসন সরাতে কিছু আসন দরকার। তখন নেত্রীর বিশ্বাস ছিল, তিনি যেখানে দাঁড়াবেন, হারবেন না।চিরঞ্জিত এ দিন বলেন, তিনি মিছিল করতে পারেন না, স্লোগান দিতে পারেন না, চিৎকার করতেও পারেন না। কিন্তু মানুষের কাজ করতে পারেন। আক্ষেপের সুরে জানান, বারাসতে একটি অডিটোরিয়াম তৈরির ইচ্ছে ছিল তাঁর। কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সেই কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। সুযোগ পেলে সেটাও শেষ করতে চান তিনি।শেষে চিরঞ্জিত বলেন, নেত্রী যদি মনে করেন তাঁকে আবার থাকতে হবে, তখন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তিনি এগোবেন। আপাতত সব উত্তরই মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিদেশ

শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ জেনারেলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ! কাঁপছে বেজিং

চিনা সেনার অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কার্যত গোটা চিনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চিনা সেনার পরমাণু বোমা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন নথি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনা সেনার এক শীর্ষ জেনারেল গোপনে সেই টপ সিক্রেট নথি আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন। এর ফলে চিনের পরমাণু অস্ত্র তৈরির বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নাকি পৌঁছে গিয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে।অভিযুক্ত ওই সেনাকর্তার নাম ঝ্যাং ইউঝিয়া। বয়স ৭৫। তিনি চিনা সেনার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিযোগ, চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প সংক্রান্ত কোর টেকনিক্যাল ডেটা তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আমেরিকাকে পাচার করেছেন। শুধু তাই নয়, জেনারেল থেকে আরও উঁচু পদে পৌঁছতে উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।একসময় ঝ্যাং ছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ ওঠায় বেজিংয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিন সরকার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানালেও, আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, এই তদন্ত আসলে লোকদেখানো। ভিতরে ভিতরে ঝ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা চলছে বলেও জল্পনা।ঝ্যাং সেই সরকারি সংস্থার শীর্ষকর্তা ছিলেন, যারা চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পের দেখভাল করে। ওই সংস্থাই পরমাণু বোমার গবেষণা, উন্নয়ন এবং সরঞ্জাম সংগ্রহের দায়িত্বে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঝ্যাং এই সমস্ত গোপন তথ্য আমেরিকার হাতে তুলে দেন। সেই অর্থ আবার নিজের পদোন্নতির জন্য ঘুষ হিসেবেও ব্যবহার করতেন।চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা চিনা দূতাবাস এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বিবিসির দাবি, ঝ্যাংকে ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাত সদস্যের ওই কমিশনে এখন নাকি মাত্র দুজন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ ওঠায় তাঁদের সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে।এই কমিশনের আর এক সদস্য লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। ঝ্যাং এবং লিউএই দুই শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় চিনা সেনার উচ্চমহলে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই প্রথম শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোনও সেনাকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তদন্ত শুরু হল।ঝ্যাং এবং লিউ দুজনেই সত্তর ও আশির দশকে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে ৬১ বছরের লিউ পিপলস লিবারেশন আর্মির জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন। এই বিভাগই চিনা সেনার প্রশিক্ষণ, অপারেশন এবং গোয়েন্দা কাজের দায়িত্বে থাকে।গত দুবছর ধরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চিনা সেনার অন্দরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চলছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, সেই অভিযানের ফলেই এই ভয়াবহ দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। ১৯৮০ সালে গঠিত সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন চিনা সেনার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। লক্ষ লক্ষ সেনার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু সেই কমিশনের সদস্য সংখ্যা এখন মাত্র দুজনে নেমে আসায়, তাইওয়ান প্রশ্নে চিনের সামরিক পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেই মত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন! তিন আধিকারিকের বদলি ঘিরে কড়া চিঠি, বেঁধে দেওয়া সময়

নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও তীব্র হল। রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কেন তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে এই বদলির নির্দেশ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি বুধবার বিকেল তিনটের মধ্যে রাজ্যকে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর। অথচ সেই সময়েই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে, যা কমিশনের মতে সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন স্মিতা পাণ্ডে, যিনি পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের দায়িত্বে ছিলেন, অশ্বিনী কুমার যাদব, যিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর দেখতেন, এবং রণধীর কুমার, যাঁর দায়িত্বে ছিল উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর। এই তিন আধিকারিকের বদলির ক্ষেত্রেই কমিশনের কাছ থেকে কোনও আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বদলি তাদের স্পষ্ট নির্দেশের লঙ্ঘন। সেই কারণেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত জবাব চাওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার বিকেলের মধ্যে রাজ্য সরকারকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন কবি জয় গোস্বামী

পদবি সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া গোলযোগ এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি দায়ের করেছেন কবি জয় গোস্বামী নিজেই। এত দিন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ কবি। ফলে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকায় রয়েছে তাঁর মেয়ের নামও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা তুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।এই বিষয়টি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো এসআইআরের লাইনে দাঁড় করানো হত।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে এবং তাতে গোটা প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবী জানান, বাংলায় পদবীর নানা রকম বানানের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন মুখার্জি ও মুখোপাধ্যায়এই ধরনের পার্থক্যের জন্যই অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি আধার কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারিই এই মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ আগেই যে দিন ধার্য ছিল, সেই দিনেই বিষয়টি শুনবে শীর্ষ আদালত।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরের শুনানিতে ত্বহা সিদ্দিকী! বেরিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ভোটে জবাবের হুঁশিয়ারি

এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস থেকে বাদ পড়লেন না ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীও। মঙ্গলবার শুনানিতে হাজির হয়ে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ত্বহার দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও আধিকারিকরা সেগুলি দেখে শুধু মুচকি হেসেছেন। তাঁর কথায়, শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এই হয়রানির জবাব যে ভোটেই মিলবে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।শুনানির নোটিস পেয়ে এ দিন নির্ধারিত সময়েই হাজির হন ত্বহা সিদ্দিকী। বাইরে বেরিয়ে তিনি বলেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে, আর রাজনৈতিক দলগুলি পরস্পরের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। তাঁর মন্তব্য, বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরোধী হলেও বাস্তবে তারা একই খেলায় নেমেছে। একজন কামড়াচ্ছে, আর একজন সেই কামড় সারানোর ভান করছেএভাবেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন তিনি।পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে ত্বহা বলেন, তাঁর পরিবারের ইতিহাস শুধু এই রাজ্য নয়, দেশের বাইরেও বহু মানুষ জানেন। তবুও তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুসলিমদের লক্ষ্য করেই বেশি করে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কারণ বিজেপির ধারণা, মুসলিমরা তাদের ভোট দেয় না। ত্বহার দাবি, তাঁরা কোনও দলকেই অন্ধভাবে সমর্থন করেন না। যে দল উন্নয়ন করে, তার পাশেই থাকেন।ত্বহা আরও বলেন, ভোটের আগে রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের খুব কাছে এসে যান, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই তাঁদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই জবাব কোন দল পাবে, বিজেপি না তৃণমূলসে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পীরজাদা।শুনানির অভিজ্ঞতা নিয়ে ত্বহা জানান, তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁর কথায়, তিনি সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক রেখেই শুনানিতে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা নথি দেখে শুধু হাসছিলেন, কোনও প্রশ্নই করেননি। ত্বহার দাবি, আধিকারিকরাও চাপে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই গোটা পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal