• ৬ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bike

কলকাতা

ফিরে এল পাঁচ বছর আগের স্মৃতি! তৃণমূল কর্মীর বাইকে সওয়ার হলেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রায় পাঁচ বছর আগে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৈদ্যুতিক স্কুটারে চড়ে নজর কেড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ছবি ফের যেন ফিরে এল এবারের ভোট প্রচারে। শনিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার দমদম উত্তর কেন্দ্রে রোড শো করতে গিয়ে হঠাৎই দলীয় কর্মীর বাইকে চড়ে প্রচার সারলেন তিনি।দমদম উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সমর্থনে এদিন বিরাটির বণিক মোড় থেকে বিরাটি মোড় পর্যন্ত রোড শো ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে তিনি গাড়িতে করে বিরাটি মিনি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছন। তারপর কিছুটা রাস্তা হেঁটে এগোন। এরপর আচমকাই এক দলীয় কর্মীর বাইকে উঠে পড়েন তিনি। বাইকে চড়েই বাকি পথ পাড়ি দেন এবং সেইভাবেই জনসংযোগ করেন।এই দৃশ্য দেখে রাস্তার দুপাশে ভিড় জমে যায়। সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। অনেকেই বলছেন, এইভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর আলাদা পরিচয়।দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচার জোরকদমে চলছে। তৃণমূল নেতৃত্ব একাধিক জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন। কখনও হুগলি, কখনও উত্তর ২৪ পরগনা, আবার সন্ধ্যায় কলকাতাএভাবেই টানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন তাঁরা। তারই মাঝে এই বাইক যাত্রা নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।উল্লেখ্য, একুশ সালের আগে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি গাড়ি নয়, বৈদ্যুতিক স্কুটারে করে নবান্নে যাবেন। সেই মতো কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্কুটিতে চড়ে তিনি নবান্নে পৌঁছেছিলেন। এবার আবার ভোটের মাঝেই বাইকে চড়ে প্রচারে নামায় সেই পুরনো ঘটনার স্মৃতি উসকে দিল।

এপ্রিল ২৫, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরে রেসিং বাইকের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু পথচারীর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রেসিং বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক পথচারীর। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম জয়ন্ত মন্ডল (৫০)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারুইপুর থানার অন্তর্গত বিশালক্ষী তলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জয়ন্তবাবু। সেই সময় পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসে একটি রেসিং বাইক। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে ওই পথচারীকে। প্রবল আঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বাইকচালক পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা সক্রিয় হয়ে তাঁকে ঘাতক বাইকসহ ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে বারুইপুর থানার পুলিশ বাইকচালককে আটক করে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অকস্মাৎ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানান, জয়ন্তবাবু শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। রোজকার মতো বাজার সেরে ফিরছিলেন, তখনই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় প্রায়ই বেপরোয়া বাইক দৌড় চলে। প্রশাসন এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ঘটনা রোখা সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁদের।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে রাস্তায় রেসিং বাইকের দৌরাত্ম্য নিয়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারও গাফিলতি ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
দেশ

হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্তের সঙ্গে দেউলটি–কোলাঘাটে বাইকের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শতাধিক যাত্রী

শুক্রবার দুপুরে হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেসে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। দেউলটি ও কোলাঘাট স্টেশনের মাঝপথে হঠাৎই রেললাইনে উঠে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা খায় ট্রেন। অল্পের জন্য রক্ষা পান শতাধিক যাত্রী।চোখের সামনে দৃশ্যটা ছিল শিউরে ওঠার মতো। বেলা সাড়ে ১১টার পর এক বাইক আরোহী নির্ধারিত লেভেল ক্রসিং এড়িয়ে সরাসরি লাইনের ওপর দিয়ে পার হচ্ছিলেন। আচমকাই বাইক আটকে যায় রেলের মাঝে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসে হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেস। মুহূর্তের মধ্যে বাইকটিকে ধাক্কা মারে ট্রেন। স্ফুলিঙ্গ বেরোতে দেখা যায় সংঘর্ষে। আতঙ্কে যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। তবে সৌভাগ্যবশত ট্রেনের ইঞ্জিনে বড় কোনও ক্ষতি হয়নি।সংঘর্ষের পর ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা থেমে থাকে। ইঞ্জিনিয়াররা জরুরি পরীক্ষা চালান। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় দুরন্ত। যাত্রীরা খানিকটা স্বস্তি পেলেও আতঙ্ক কাটেনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় নজরদারির অভাব রয়েছে। বহু জায়গায় রেল ফেন্সিং ভাঙা বা অকার্যকর। প্রতিদিনই অবৈধ পারাপার হয়, অথচ রেলওয়ে কড়া ব্যবস্থা নেয় না। একজন যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এভাবে বাইক নিয়ে লাইনে ওঠা মানে শত যাত্রীর জীবন নিয়ে খেলা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এতবছর দেশে শতাধিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রেললাইনে অবৈধ পারাপার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতনতা কর্মসূচি ও জরিমানার ব্যবস্থা চালু করলেও বাস্তবে কার্যকারিতা খুব সীমিত।দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের সূত্রে খবর, এই ঘটনা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরপিএফ ও জিআরপি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। দেউলটি-কোলাঘাটের এই অঘটন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখালরেললাইনে অবৈধ পারাপার কেবল বিপজ্জনকই নয়, একেকটা মুহূর্তে তা শত শত প্রাণের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।

আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজ্য

এভাবেও স্বপ্ন সত্যি হয়! ১০ টাকার কয়েন জমিয়ে মোটরবাইক কিনলেন লটারি বিক্রেতা

ভাবতেও যেন ভাললাগা আছে। লক্ষ্য স্থির থাকলে তা পূরণ হবেই। নিজের স্বপ্নকে সত্যি করলেন এক লটারি বিক্রেতা। এক বছর ধরে দশ টাকার কয়েন জমিয়ে লক্ষধিক টাকার বিনিময়ে কিনে ফেলেছেন একটি মোটরবাইক। লটারি বিক্রেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের খবর ছড়িয়ে পরতেই ভিড় জমে বীরভূমের মল্লারপুরের হিরো গাড়ির শো-রুমে। অবশ্যই লটারি বিক্রেতার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে এগিয়ে এসেছেন শো-রুমের কর্ণধার টুটুল মণ্ডল।জানা গিয়েছে, ভারতের তামিলনাড়ুতে দশ টাকার কয়েন জমিয়ে চার চাকার গাড়ি কিনে তাক লাগিয়েছিলেন এক যুবক। নদিয়ার এক যুবক এভাবে কয়েন জমিয়ে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বাইক কিনেছিলেন। এবার বাংলার বীরভূমের রামপুরহাট থানার চাকপাড়া গ্রামের যুবক লটারি বিক্রেতা তাপস লেট। লটারি বিক্রেতা তাপস লেট জানান, লটারি বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিদিন বেশ কিছু ৫ ও ১০ টাকার কয়েন দিতেন। তখনই মনে হয়েছিল ১০ টাকার কয়েন জমিয়ে একটি মোটরবাইক কিনব। সেই মতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। জমাতে শুরু করি কয়েন। সেই স্বপ্ন এতদিনে বাস্তবে রুপ দিতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে পছন্দের গাড়ি কিনতে পেরে।বীরভূমের মল্লারপুরের বাহিনা মোড়ের জয় জগন্নাথ হিরো শো-রুমে থেকে মোটরসাইকেল কেনেন তাপস। শো-রুমের কর্ণধার টুটুল মণ্ডল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাপস আমাদের শো-রুমে ফোন করছিলেন। জানিয়েছিলেন লাল রঙের হিরো গ্ল্যামার ক্লাসিক গাড়ি নেবেন। কিন্তু টাকা নিতে হবে সব দশ টাকার কয়েন। প্রথমে লক্ষাধিক টাকার কয়েন নিতে অস্বীকার করি। তাপস ফের জানায় এটা তার স্বপ্ন। এরপরেই তার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে কয়েন নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করি। এরপরেই হাসি মুখে ঝোলা ভর্তি করে দশ টাকার কয়েন নিয়ে শো রুমে হাজির তাপসবাবু

নভেম্বর ৩০, ২০২৩
রাজ্য

১২টি মোটর বাইক সহ তিন দুস্কৃতিকে গ্রেফতার করলো আউসগ্রাম থানার পুলিশ

গোপন সূত্রে খবর শনিবার আউসগ্রাম থানার পুলিশ আউসগ্রামের ভালকি এলাকা থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ এক দুস্কৃতিকে আটক করে। ধৃতের বাড়ি গলসি এলাকায় হলেও সে আউসগ্রামের ভালকি অঞ্চলে থাকতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান জেলা পুলিশের ডিএসপি ডিএনটি বীরেন্দ্র কুমার পাঠক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুই দুস্কৃতিকে গ্রেফতার করে আউসগ্রাম থানার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১২ টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে আউসগ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এখনই ধৃতদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদের হেফাজতে নিয়ে আরও চোরাই বাইক উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
রাজ্য

ডাম্পার ও বাইকের দুর্ঘটনায় বর্ধমানের জামালপুরে মৃত্য হল এক যুবকের

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাইক আরোহীর। ঘটনা কে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের থানা মোড় সংলগ্ন এলাকায়। বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কা মোটরসাইকেলে। আরোহী ছিটকে পড়েন রাস্তায়। তারপরেই ডাম্পারের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মর্মান্তিক পরিনতি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে। ঘাতক ডাম্পারটিকে আটক করেছে পুলিশ। চালক ও খালাসি পলাতক। মৃত বাইক আরোহীর নাম উজ্জ্বল কোটাল। বয়স ২৩ বছর। বাড়ি হুগলীর খানাকুলের রঘুনাথপুর এলাকায়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ বর্ধমান মর্গে।জানা গেছে, সুজিপুর থেকে জামালপুর হয়ে খানাকুল ফিরছিলেন উজ্জ্বল কোটাল বাইকে। সে সময় জামালপুর নেতাজী মাঠ এলাকায় থানা মোড় সংলগ্ন রাস্তায় বেপরোয়া ডাম্পার পিছন থেকে বাইকে ধাক্কা মারলে বিপত্তি ঘটে। কিছুক্ষণের জন্য মেমারী তারকেশ্বর রাস্তায় ব্যহত হয় যান চলাচল। জামালপুর থানার পুলিশ দ্রুত হাজির হয় ঘটনাস্থলে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। ঘাতক ডাম্পারের চালক খালাসি র খোঁজ চলছে ।

অক্টোবর ২৮, ২০২২
রাজ্য

দামোদরের জলস্তর হটাৎ বৃদ্ধি হওয়ায়, অল্পের জন্য প্রান বাঁচল দুই যুবকের

দামোদর নদের জল হটাৎ বাড়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো দুই যুবক। ঘটনা টি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ নম্বর ব্লকের হিজলনার বামুনিয়া ফেরিঘাটে। বেশ কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জল বেড়েছে দামোদর নদের। কিন্তু শনিবার বিকেলে হঠাৎ করেই জলস্তর বেড়ে যায়। ফেরিঘাট পারাপারের সময় বাঁশের অস্থায়ী সেতু জলের তোড়ে ভেঙে যাওয়ার কারণেই ঘটে বিপত্তি। তিন কিলোমিটার মোটরবাইক নিয়ে ভাসমান অবস্থায় যাওয়ার পর, ফেরি ঘাটের মালিক ও স্থানীয় মানুষজন নৌকা নিয়ে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে চঞ্চল্য ছড়ায়।উল্লেখ্য প্রতি বছরই বর্ষার আগেই এই আস্থায়ী সেতু গুলো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় ফেরী ঘাট গুলিকে, আবার অক্টোবরের শেষের দিকে সরকারি অনুমতি নিয়ে সেতু গুলি পুনঃনির্মান করা হয়। এখন স্থানীয় মানুষজনের প্রশ্ন স্ম্যসীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেতু চালু ছিলো কি করে? দামোদর ভ্যালী কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার আগে দামোদর উপকুলবর্তি সকল ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিকে নোটিশ করে। সেক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পিছনে দায়িত্বে অবহেলাকেই প্রথমিক কারন হিসাবে ধরা হচ্ছে।

আগস্ট ২১, ২০২২
রাজ্য

মানবিক মুখ সরকারি আধিকারিকের, অঙ্গহানি থেকে রক্ষা দুর্ঘটনাগ্রস্তের

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে রাজ্য জুড়ে নানাবিধ অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্যের সরকার, কখনো অভিযোগের তীর বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিকে তো, কখনো সরকারি কর্মচারীদের দিকে। কয়েকদিন আগেই পুর্ব-বর্ধমান জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সাথী সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে নিজে সরজমিনে তদন্তে যান। আবার উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে পুর্ব-বর্ধমান জেলার বর্ধমান-১ ব্লকে। বর্ধমান-১ ব্লকের বিডিও অভিরুপ ভট্টাচার্য তাঁর সামাজিক মাধ্যমে জানান, রায়ান-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাড়ানদিঘী গ্রামের বাসিন্দা এক প্রতিবন্ধী মা শিখা মণ্ডল তাঁর কাছে কাতর আবেদন নিয়ে আসেন যে, ওঁর পুত্র রণজিৎ মণ্ডল মোটরবাইক দুর্ঘটনায় একটি হাত (বাম হাত) গভীর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যদি সঠিক সময়ে অপারেশন না করা যায় তাহলে হয়ত তাঁর হাত টি শরীর থেকে বাদ দিতে হবে।আরও পড়ুনঃ বর্ধমান বিষমদকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৮অভিরুপ ভট্টাচার্য খোঁজ নিয়ে জানেন যে সঞ্চিতা মণ্ডলের পরিবারের কোনও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই। তিনি কালবিলম্ব না করে নিজে উদ্যোগ নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য সাথী দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। এবং জেলা স্বাস্থ্য সাথী দপ্তর পরিস্থিতি গুরুত্ব পর্যালোচনা করে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয়পত্র ক্ষতিয়ে দেখে ইউ আর এন জেনারেট করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বিডিও-র হাতে তুলে দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যাতে তাঁরা যেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় আহত রঞ্জিত মণ্ডলের অপারেশন অতি বিলম্বে শুরু করেন।সোশ্যাল পোস্ট ও স্বাস্থসাথী কার্ডরণজিৎ মণ্ডলের স্ত্রী সঞ্চিতা মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, বিডিও সাহেব না থাকলে হয়ত আমার স্বামীর হাত ফিরে পেতো না, আমার তরফে তাঁকে অনেক ধন্যবাদ। তিনি যে ভাবে নিজে দায়িত্ব নিয়ে আমাদের সাহায্য করলেন, সারাজীবন আমরা তাঁর কথা মনে রাখবো। সোমবার তিনি যখন জনতার কথা র সাথে কথা বলছিলেন তখন রণজিৎ মণ্ডলের বাম হাতের সেলাই কাটা হচ্ছিল। সঞ্চিতা জানান, ডাক্তার বাবু বললেন এই মুহুর্তে আমার স্বামী বিপদমুক্ত, কিন্তু আগামী ছয় মাস কোনও রকম কাজ সেই হাতে করতে পারবেন না। আমরা চিন্তায় আছি আমার স্বামী রাজমিস্ত্রী-র কাজ করে, সেই একমাত্র বাড়িতে কাজের মানুষ। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকার জন্য আমি বা আমার শাশুড়ি কেউই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুদান পায় না।আরও পড়ুনঃ আপনি কি বিছানার চাদরের নিচে সাবান রেখে শুচ্ছেন? একটু চেষ্টা করে দেখুনঅভিরুপ ভট্টাচার্য তাঁর সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দপ্তরের সাথে জড়িত ব্লক অফিস ও জেলার সকল সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে আরও জানিয়েছেন আক্রমনাত্মক ভাবে, সক্রিয় থেকে, দৃঢ় পদক্ষেপে সঠিক পথে সামান্য চেষ্টা করলে, অনেক ভাল জিনিস ঘটতে পারে। তিনি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য উল্লেখ করে লিখেছেন আপনি অন্যদের মধ্যে যে পরিবর্তন দেখতে চাইছেন সেটা আগে নিজের মধ্যে আনুন।

জুলাই ১১, ২০২২
রাজ্য

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমরাল দিঘী এলাকায়। দীঘিতে মাছ ধরার জন্য জাল টানা হলে দিঘির জলে কোথাও একটা জায়গায় বারবার জাল আটকে যেত। শনিবার ফের জাল নামানোর আগে দিঘির চাষিরা নিজেরা জলের তলায় সেই জায়গাটিতে নেমে দেখেন কেন বারবার এই জায়গায় জাল আটকে যায়। তারপর তারা দেখেন কোন একটা ভারী বস্তু জলের তলায় পড়ে রয়েছে। চাষীরা সেই বস্তুটি সঙ্গে রসার দড়ি বেঁধে জলের তলা থেকে দিঘির পারে টেনে তোলে দেখেন আস্ত একটি মোটর বাইক জলের তলায় পড়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা খণ্ডঘোষ থানায় খবর দেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মোটরবাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তবে কিভাবে জলের তলায় মোটরবাইক এল, কেনই বা এল, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।লকাই ঘোষ বলেন, মোটর বাইকটি কেন দিঘীর জলে ফেলে দিল তা নিয়ে রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক ঘোষ বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয় বাইকটি কার নামে আছে।তবে গ্রামের বাসিন্দাদের ধারণা এটা চোরাই বাইক।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
রাজ্য

পকেটে ড্রাইভিং লাইন্সেন্স না থাকলে ৫,০০০ টাকা ফাইন, ভুল করলেই হাজার হাজার টাকা জরিমানা

২০১৯ এ কেন্দ্রীয় সরকার যে মোটর ভিকেল আইন সারা দেশে লাগু করেছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাধারণ মানুষের ঘাড়ে করের বোঝা লঘু করার জন্য সে নিয়ম তখন এরাজ্যে চালু করেনি। অবশ্যই শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে সাধারণ মানুষের ধারনা। অবশেষে রাজ্যে চালু হতে চলেছে সেই সংশোধিত আইন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই এবার মোটা টাকা জরিমানা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। রাজ্যে বুধবার থেকেই এই নয়া ট্রাফিক আইন কার্যকর করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে আগের ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হত, এখন থেকে সেটা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে,এখন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে, যা আগে ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য পরিবহণ দফতর একথা জানিয়েছে। গতকাল থেকে রাজ্য জুড়ে রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয়ে গিয়েছে ধরপাকড়। বিভিন্ন জেলাগুলিতেও ট্রাফিক আইন অবমাননাকারীদের মোটা টাকা জরিমানা ধার্য করা শুরু করেছে পুলিশ।পূর্ববর্তী জরিমানার থেকে বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘাড়ে বিশাল ফাইনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সাধরণ মানুষজন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত (BIS) হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বেড়োলেই এবার বাইক আরোহিককে ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আগে সেই জরিমানার পরিমান ছিল মাত্র ১০০ টাকা, যা প্রায় ১০গুন বেড়েছে। এর আগে হেলমেটে বিহীন বাইক যাত্রীকেও (পিছনে থাকা আরোহীকে) ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হতো। এবার থেকে সেই জরিমানা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ হাজার টাকা।দুই চাকার পাশাপাশি চার চাকার গাড়িরতেও এবার নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। আগে চারচাকার গাড়ি চলমান অবস্থায় সিট বেল্ট না পরলে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হতো। সেটা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫০০ টাকা, মানে পাচগুন বেড়েছে। এছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য নতুন নিয়ম অনেক কড়াকড়ি করা হয়েছে যাতে শহরে দুর্ঘটনা অনেক নিয়ন্ত্রনে থাকে। বিভিন্ন রাস্তার যে নির্দিষ্ট গতি থাকে তার থেকে বেশী গতিতে গাড়ি চালালে আগে জরিমানা দিতে হতো ১০০ টাকা, এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ৫০০০ টাকা, অর্থাৎ ৫০ গুন বাড়ানো হয়েছে।এছাড়াও গাড়িতে যদি প্রয়োজনীয় নথি না থাকে এখন থেকে আপনাকে ২০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। পুর্বে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল ৪০০ টাকা। চার চাকা গাড়ির প্রয়োজনীয় পারমিট না থাকলে ১০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে, সাইলেন্ট জোন অঞ্চলে হর্ণ বাজালে ৪০০০টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এইরকম মোট ২৬টি মোটর আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। মোটর ভিকেল-র এক আধিকারিক জানান, নতুন নির্দেশিকাটি কার্যকর হলে সমস্ত জাইগায় গাড়ি দুর্ঘটনার সংখ্যা কমবে। সমস্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্মী এবং মোটর ভিকেল দপ্তরের পরিদর্শকরা এই জরিমানা আদায় করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, একদিকে যেমন এই বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোষাগারে রাজস্ব ভরবে, অন্যদিকে জনগণ এই নিয়ম সঠিক ভাবে মেনে চললে দূর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
রাজ্য

লরি বাইক সংঘর্ষের জেরে আগুনে পুড়লো দুটি গাড়ি, মৃত্যু দুই বাইক আরোহীর

লরি ও বাইকের সংঘর্ষের কারণে ধরে যাওয়া আগুনে পুড়লো দুটি গাড়ি। মৃত্যু হল বাইকে সওয়ার থাকা দুই আরোহীর। মঙ্গলবার বিকালে ভয়াবহ এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির মানিক বাজার মোড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাইক আরোহী দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীরা যদিও দাবি করেছেন দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই বাইক আরোহী দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি বাইক পুলিশ আটক করেছে। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে গলসি থানার পুলিশ বাইক আরোহী দুই ব্যক্তির নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় জানা গিয়েছে, এদিন বিকালে বাইকে চেপে দুই ব্যক্তি গলসির ঝাড়ুল গ্রাম থেকে জাতীয় সড়ক ক্রস করে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। জাতীয় সড়কে প্রথম লেন পেরিয়ে তারা মাঝখানে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় লেনে দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে ফলে বর্ধমান থেকে দুর্গাপুরগামী একটি বারো চাকা লরি তাদের ধাক্কা মারে। লরির গতী বেশি থাকায় আরোহী সহ বাইকটিকে বেশ কিছু দূরে হিঁচড়ে নিয়ে যায় লরিটি। তখন মোটর বাইকের দুই আরোহী রাস্তায় পরে যায়।তারই মধ্যে ঘর্ষণের ফলে লরির তলায় থাকা বাইকে আগুন লেগে যায়।সেই আগুন লরিতেও ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় উপরেই বাইক ও লরিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

Road Collision: ডাম্পার-বাইকের সংঘর্ষে কেতুগ্রামে, মৃত ১,আহত ১

ডাম্পার ও বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক বাইক আরোহীর। জখম হয়েছে বাইকের অপর আরোহী। রবিবার বেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের কাছে কেতুগ্রাম- বোলপুর রোডে। মৃতের নাম আল্লারাখা শেখ(১৮)। তাঁর বাড়ি কেতুগ্রামের কাজীপাড়া এলাকায়। জখম বাইক আরোহী রবিউল শেখকে উদ্ধার করে কেতুগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালকসহ ঘাতক ডাম্পারটি আটক করে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি মোটরবাইকে চড়ে এদিন বেলায় আল্লারাখা শেখ ও রবিউল শেখ কেতুগ্রাম- বোলপুর রোড ধরে কেতুগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। বাইক চালাচ্ছিল রবিউল। কেতুগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের কাছে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি ডাম্পারের সঙ্গে বাইক আরোহীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখনই বাইক চালকের পিছনে বসে থাকা আল্লারাখা ডাম্পারের চাকার নিচে পড়েগিয়ে পিষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জখম হয় বাইক চালক রবিউল শেখ।স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কেতুগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
দেশ

নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে বাইক ব়্যালিতে ‘না’ কমিশনের

নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে বাইক ব়্যালি করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনও চলবে না বাইক ব়্যালি । সোমবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল অরোরা জানিয়েছিলেন, এবার বাইক মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একসঙ্গে পাঁচটির বেশি বাইক এক জায়গা দিয়ে যেতে পারবে না।চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন শুরু হচ্ছে। আর এই নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতম পছন্দ বাইক ব়্যালি। এমনকী, প্রার্থীর মনোনয়য় জমা করার সময় দলীয় নেতাকর্মীরা বাইক ব়্যালি করে থাকেন। কিন্তু এবার কোভিড পরিস্থিতি একাধিক নিয়মকানুন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ব়্যালি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। এদিন কমিশন জানিয়েছে, বেশকিছু এলাকায় দুষ্কৃতীরা বাইক ব়্যালি করছে। তারা ভোটারদের ভয় দেখাতেই ভোটের দিন এবং ভোটের আগে বাইক ব়্যালি করে। উল্লেখ্য, বাংলায় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা সমর্থকরা পাল্লা দিয়ে বাইক ব়্যালি করেছেন। এমনকী, অসমে বিজেপির প্রচার শুরু করতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাইক ব়্যালি করেছে। এই ঘটনাবলির দিকে নজর রাখছিল কমিশন। এবার কড়া ব্যবস্থা নিল কমিশন।

মার্চ ২২, ২০২১
কলকাতা

ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ির সামনে বোমাবাজি, গ্রেপ্তার ৬

রাজ্যের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনায় চলছে ধরপাকড়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও ৩টি বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বুধবার রাত আটটা নাগাদ ইন্দ্রনীল সেন বাড়িতে ছিলেন না। সেই সময় তিনি ছিলেন চন্দননগরে। অভিযোগ, তারই মাঝে বাইকে চেপে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী আসে। কসবায় মন্ত্রীর বাড়ির কাছে দিল্লি পাবলিক স্কুলের বিপরীতে একটি মুদিখানা দোকানের পাশ থেকে বোমা ছোঁড়ে ওই দুষ্কৃতীরা। বিকট শব্দে বোমা ফাটে। কসবার মতো এলাকায় বোমাবাজির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সকলে। হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। চন্দননগর থেকে ফেরার পর এই ঘটনার কথা জানতে পারেন ইন্দ্রনীল সেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জেরা শুরু করে। খতিয়ে দেখা হয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। ধৃতদের নাম হল গৌতম মণ্ডল, অশোক বৈদ্য, সোনু সাউ, রাহুল রায়, ভোলা পাসোয়ান। ধৃতদের কাছ থেকে কিছু পরিমাণ বোমা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তিনটি মোটর বাইকও। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

জানুয়ারি ২৮, ২০২১
রাজ্য

সেবক হিসেবে বরাবর আপনাদের সঙ্গে থাকবঃ শুভেন্দু

আপনাদের সেবক শুভেন্দু বরাবর আপনাদের সঙ্গে ছিল, থাকবে। নন্দীগ্রামে রাস উৎসবের সূচনা করে এই মন্তব্য করেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর সোমবার প্রথম তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু। সেখানে তিনি প্রথমে পুজোপাঠ করেন। এদিনের অরাজনৈ্তিক সভায় তিনি বলেন, আমি নন্দীগ্রামে সব অনুষ্ঠানে আসি। বড়দিন থেকে ইদ, সবসময় আমি আসি। দীপাবলিতেও এসেছি। তাঁর অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তুলে ধরেন রাস উৎসবের মাহাত্ম্যের কথা। এর পাশাপাশি প্রত্যেকের করোনামুক্ত জীবনেরও কামনা করেছেন। এদিন তিনি বক্তব্য শেষে হরেকৃষ্ণ ধ্বনি দেন। রবিবার মহিষাদলের মতোই এদিনও তার মুখে কোনও রাজনৈতিক কথা শোনা যায়নি। আরও পড়ুন ঃ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু সম্পর্কে যা বলছেন, তা ঠিক নাঃ শিশির এদিন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃ্ত্বে রেয়াপাড়া থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত হলুদ পতাকা নিয়ে বাইক মিছিল হয়। শয়ে শয়ে বাইক এদিনের মিছিলে অংশ নেন। তৃণমূলের বহু কর্মী এদিনের এই মিছিলে অংশ নেন। নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লক তৃণমূলের ব্লক সভাপতিও এদিনের এই মিছিলে অংশ নেন। সেই পতাকায় ওঁ চিহ্ন ছিল। এই চিহ্নকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈ্তিক জল্পনা। দলীয় কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
ভ্রমণ

বিপদসংকুল ও ভয়ঙ্কর সাচ পাস অভিযানের অভিজ্ঞতা

জীর্ণতাকে চ্যালেঞ্জ করে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ধসে পড়লো পাহাড়টা মানুষের ভাষায় ল্যান্ড স্লাইড। অক্টোবরের ১৪ আজ... সামনের পথ বন্ধ। চারিদিকে পাহাড়চূড়ার দল দাঁড়িয়ে আছে নির্ভেদ্য অহঙ্কার নিয়ে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোষ তারা পোষে না। দ্বিধাহীন থ্রোটলে বিশ্বাসের হাত রেখে চলছিলাম। ওডোমিটার দেখিয়ে চলেছিল দূরত্বের হিসাব। তাকেও থামতে হলো প্রকৃতির এই নির্দেশে। গাড়ি থেকে নেমে জ্যাকেট নামালাম। হিসাব করলাম আজকের গন্তব্য চিল্লি এখনও ১২ কিলোমিটার দূরে। শুরু হলো এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ভাব জমাতে শুরু করলাম অন্যান্য অপেক্ষমান মানুষগুলোর সাথে। তাঁদের যেমন বিভিন্ন আচার, তেমনি তাদের নানাবিধ প্রয়োজন। হিমালয়ের পাহাড়ি টানে লন্ডন থেকে ছুটে আসা ম্যাডক সাহেবের সঙ্গে চলল একপ্রস্থ আড্ডা। স্থানীয়দের থেকে তথ্য নিয়ে বুঝলাম রাস্তা আজ আর পরিষ্কার হবে না। এক শিক্ষক বাতলে দিলেন অন্য পথ -- যা ৫০ কিলোমিটার বেশি দূরত্ব। তবে তা নিশ্চিতভাবেই চাম্বা থেকে চিল্লি পৌঁছে দেবে। হাঁটালাম গাড়ি, ঘুরপথে...। টান্ডি কিশওর রোড সোজা পথে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ৯ই অক্টোবর, ২০১৯, সকাল-সকাল; মোটরসাইকেল, লাগেজ, সঙ্গী-সাথী আর একমাথা বৃষ্টি নিয়ে। উদয়নারায়ণপুর থেকে শুরু করে তারকেশ্বর হয়ে বর্ধমান পর্যন্ত বৃষ্টিই ছাতা হয়ে রইল আমাদের। আমরা ছজন। এক্স-ব্লেড নিয়ে আমি উৎসব; আমার পিঠে, মানে পিলিয়ন সীটে পিতৃসম দাসুদা, অযান্ত্রিক লিবেরোয় সওয়ার ক্যাপ্টেন গোপীকাকু, শাইন-সঙ্গে বিবেক স্যার, সঙ্গে অ্যাভেঞ্জার-এ কাকু অরিন্দম, আর পালসার-সাথে অসীমদা ভিলেজ বাইকার্স-এর এক ছোট্ট ইউনিট। বড় ট্যুরে সকলেরই কমবেশি অভিজ্ঞতা থাকলেও আমি এখানে একেবারেই কোরা কাগজ। কানপুর, আগ্রা, পাঠানকোট হয়ে নিঃশ্বাস নিলাম দুনেরা-তে। ৫ দিন কেটেছে। কোরা কাগজে নানা বর্ণের দাগও পড়তে শুরু করেছে। গুরুদোয়ারা, আশ্রম, খোলা মন্দিরে রাত কাটানো থেকে শুরু করে হাইওয়েতে চক্ষুযুগলের তীব্র ঘুমের আকুতি সবই রেকর্ড হচ্ছে। আপাতত গেস্ট হাউসে অসীমদার হাতের সুস্বাদু চিকেনকারীর জাদুতে সরগরম ডাইনিং টেবিলে চলছে কনকনে ঠাণ্ডা সাচ পাস-এর প্ল্যানিং। চিকেনের রসনাতৃপ্তি অবশ্যম্ভাবীভাবে এনে দিল একটা কোয়ালিটি ঘুম আর অনেকটা এনার্জি। ভোর-ভোর উঠে গাড়ি স্টার্ট করলাম সাড়ে পাঁচটায়। গন্তব্য চিল্লি। আর তার মাঝেই এই বিপত্তি, বা বলা ভালো ল্যান্ডস্লাইডের চ্যালেঞ্জ, যা দিয়ে আমাদের স্বাগত জানালো পীরপাঞ্জাল। ঝুপ করে নামল সন্ধে। স্ট্রীটলাইটের পাহারা নেই এখানে। বন্ধুর পাহাড়ি রাস্তায় ক্লান্তিহীন দুটো চাকা গড়াতে শুরু করলো।সঙ্গী পাঁচজনের সঙ্গে আরও একজন, স্থানীয় রমজান ভাই। দুর্ভেদ্য অন্ধকারে পাহাড়ি নদী রাগিণীর আহ্বানের কাছে গাড়ির শব্দ আর আলো দুটোই কেমন ফিকে হয়ে আসছিল। উঁচু পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে সাজানো বাড়িগুলোর মিটিমিটি আলো মিশে গিয়েছিলো তারাদের সাথে। আমি তফাৎ করতে পারিনি। এটাকেই কি ধর্ম বলো তোমরা? আমি বাই-ডিফল্ট হিন্দু, যে আমাদের গাইড করছে এই অন্ধত্বের অন্ধকারে তার গায়ে মুসলিম ট্যাগ, আর এর দুদিন আগে যে আমি গুরুদোয়ারার প্রার্থনা কক্ষে বসে প্রার্থনা করে এলাম! আমি তফাৎ করতে পারিনি ...। ধারালো এলইডি বীমের তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে অন্ধকার কেটে ছুটে চললাম। পাহাড়ি সর্পিল পথের বাঁকে বাঁকে বহুদিন ধরে সাধনা করতে থাকা সন্ন্যাসীর জটার মতো ঝোপ। এরই একটা আশ্রয় হয়েছে অপেক্ষারত দুটো হলুদ পাথুরে ঠাণ্ডা চোখের। লেপার্ড, দৃষ্টি আটকালো আমার। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মেপে নিচ্ছে অন্ধকারের অভিযাত্রীদের। শিরদাঁড়ার ঠাণ্ডা স্রোত নামতে নামতে পৌঁছে গেলাম চিল্লি। ঠাণ্ডাটা তুলনা করলাম। শিরদাঁড়ারটা যেন বেশি ছিল। সে দিনের পথে পায়ের ছাপ রেখে এসেছিলাম স্বপ্নের খাজিয়ার-এর সবুজ গালিচায়। খাজিয়ার হিমাচলের মিনি সুইজারল্যান্ড, যা সুইস রাজধানী বার্ন থেকে মাত্র ৬১৯৪ কিলোমিটার দূরে। পট বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্বেতশুভ্র স্মৃতিভরা এই দিনটা এক স্বপ্নের মতো। ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯। প্রায় এগারো বছর আগে বাবার হাত ধরে প্রথম সাইকেলে চড়া শেখা। তখন ছেলেটা ভাবেনি এসব, ভাবতেও শেখেনি। ক্লাস সেভেনে প্রথম বাইকে হাত, বাবার হাত ধরেই। উন্মাদনার অহরহ সঙ্গী ছিল আছাড়। তবে, এবারে আর নয়। ইন্ডিয়ান আর্মি চেকিং সেরে সকাল সাড়ে এগারোটায় ২২ বছর ১১ মাস বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে ছেলেটা অতিক্রম করল সাচ পাস (৪৫০০ মিটার)। পৃথিবীর এক সর্বাধিক বিপদসংকুল আর ভয়ঙ্কর রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছানো জায়গাটা স্বর্গের কিছুটা কাছাকাছি। দেখতে স্বপ্নের মতো। মুখে দুবার অক্সিজেন স্প্রে করে বুঝলাম যে এটা স্বপ্ন নয়। আসলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় চিমটি কাটার সামর্থ্য হয়নি। মহাদেবের আশীর্বাদ নিয়ে এগিয়ে পড়লাম। হালকা স্নোফলে মুখ ভিজিয়ে দিনের যাত্রা শেষ করলাম কিল্লার-। এশিয়ার উচ্চতম সেতু চিচাম বেড়ানো আসলে শেখা। এটা অনেক জীবন দর্শনের একটা বিশাল সমাহার, যা আমাদের প্রতি মুহূর্তে আরও বড় হতে শেখায়। যেমনটা আনন্দের মাঝে থাকে বেদনার করুন সুর। এর পরের দিন। একটু বেদনার, বিচ্ছেদসম্পৃক্ত। সময় আর কর্তব্যে জড়ানো বিবেক স্যার, অসীমদা আর কাকু অরিন্দমকে বিদায় জানাতে হল। কোকসার থেকে মানালির পথে থ্রোটল-আপ করলো তিনজন; আর বাকি তিনমূর্তি আটকে গেল স্পিতির ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায়। পৃথিবীর উচ্চতম ডাকঘর পাইলট করতে শুরু করলো ক্যাপ্টেন। পিছনে আমি দক্ষ ফলোয়ার, সঙ্গে লাইভ গাইড দাসুদা। মাঝে মাঝে এগিয়ে পড়তে মন্দ লাগছিল না। চন্দ্রভাগার দেখানো পথে বেশ কড়া পাকের অফ্-রোডিং করতে করতে পেরোতে থাকলাম একের পর এক ঝরনা আর ওয়াটারক্রস। হাড় কাঁপানো হিমালয়ের বাতাসকে সঙ্গী করে বাতাল পেরিয়ে পৌঁছলাম কুনজুম পাস। শহরের ঘিঞ্জিতে বেশ কয়েকটা মন্দির চোখে পড়েছিল; এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে মন্দির যেন এখানেই হওয়া উচিত। কনকনে ঠান্ডায় অনুভূতির ক্ষমতা হারিয়েছি আগেই। বৌদ্ধ স্তুপ-এর সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা কী করেছিলাম মনে নেই, তবে মাথা নত করে ছিলাম শিশুর মতো। আজ পাহাড় আমার দেবতা। তার কোলে আসতে পারাটাই এক সাধনা। গাড়ি ঘোরালাম চন্দ্রতাল লেকের পথে। এক কিলোমিটার ট্রেকিং-এর পর অপার্থিব সৌন্দর্যে হারিয়ে ফেললাম নিজেকে। মোহাবিষ্ট মন শুধু অনুভব পেল এক বিশালত্ত্বের, পাথুরে স্নেহের। সীমার মাঝে অসীমের মায়াবী স্মৃতি বুকে আঁকড়ে রাতের পাড়ি জমালাম লোসার-এ। লাংজার বুদ্ধ মূর্তি সকালে উঠে দেখি বাইকের সিটের উপর বরফ অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বুঝতে পারলাম সব। বুঝতে পারলাম রাত্রে কেন চারটে ব্ল্যাঙ্কেট-এর কফিনে শুয়েও হচ্ছিল না, কিংবা, রুটি তরকারি খেয়ে হাত কেন ধুতে পারিনি, মুছতে হয়েছিল। সকাল আটটায় চলতে শুরু করেও আধঘন্টা পর দাঁড়াতে হলো। নিজের আঙুলের উপর কোনো অধিকার নেই যে ... সব কাঠের মতো মনে হচ্ছে! এটাই তো সেই আদি অকৃত্রিম প্রকৃতি। যতই যন্ত্রদানবের হুংকার ছোটাই তার ওপর, শেষে মাথানত করতেই হয় যে। মাতা-পিতা সকল সত্ত্বা একই গঠনে -- এটাই তার স্নেহ, এটাই তার তিরস্কার। তিনিই রক্ষক, তিনিই সংহারক। তিনি শিল্পী। তার পাগলামো তো সহ্য করতেই হয়। বাইকের একজস্টে হাত একটু গরম করে আগুন জ্বালালাম। কিছু সময় আগুন পোহানোর পর শুরু হলো আবার গাড়ি ছোটানো। ডেজার্ট মাউন্টেনের রঙিন সাম্রাজ্যে পরম যত্নে সাজানো বায়ুর ক্ষয়কার্যের অপরূপ নিদর্শনগুলো দেখতে দেখতে চলে এলাম মান্ডি জেলায় অবস্থিত এশিয়ার উচ্চতম সেতু চিচাম-এ (৪১৪৫ মিটার)। তারপর কি মনাস্ট্রি হয়ে পৌঁছলাম লাংজার বুদ্ধ মূর্তির পাদদেশে। ধ্যানমগ্নতার আবহের মধ্যে স্থানীয় ভাষা অর্ধেক বুঝে আর অর্ধেক না বুঝে বেশ লাগছিল। লাংজা গ্রাম যেন সেই আদি অনন্তকাল থেকে ধ্যানমগ্ন; আর তাদের সবার পিতা এই বিশালাকায় বুদ্ধ। পেয়ে হারানোর বেদনা নয় এটা, এটার অবগাহন এক সুখ, যা পরিতৃপ্তি বয়ে নিয়ে যায় শিরায় শিরায়। মোটোরেবল রোড দিয়ে সংযুক্ত পৃথিবীর উচ্চতম গ্রাম কোমিক আমাদের স্বাগত জানালো বিকেল-বিকেল। স্থানীয় গোম্ফা ঘুরে দেখে চাকা গড়ালাম হিক্কিমের পথে। ওঁ মণিপদ্মে হুঁ উচ্চারণ করতে করতে পৃথিবীর উচ্চতম ডাকঘর-এর গ্রামে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগলো না। শেষ বিকেলে ভেড়ার পালের ধুলো সঙ্কেত দিল সূর্যাস্তের ঘন্টা বেজে গেছে। কাজায় রাত্রিবাস সমাপন করে পরের দিন মামির সাথে দেখা করলাম। মামি , মানে মমি, সাধক সাঙ্ঘা তেনজিং-এর প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি পুরানো সেল্ফ-মামিফায়েড মমি। ধানখড়, তাবো আর নাকো লেক, সঙ্গে নাকো মনাস্ট্রিতে একটা জমজমাট বিয়ের অনুষ্ঠান -- আপন করে নিলো সবাই। নতুন আত্মীয়দের আবেগকে মনে ভরে নিলাম। ব্যাগে আলাদা করে আর জায়গা ফাঁকা নেই। যা ছিল এতক্ষনে সব আপেলে ভর্তি করে ফেলেছি। মুখটাও যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে। প্রেয়ার হুইল ঘুরিয়ে বিদায় জানালাম উৎসবমুখর পরিবেশটা আর তার সাথে একাত্মতাকে। পৃথিবীর উচ্চতম গ্রাম কোমিক পরদিন কল্পা, রিকং পিও আর সুইসাইড পয়েন্ট পেরিয়ে তরী, থুড়ি, গাড়ি ভিড়ালাম সারহানের ভীমাকালী মন্দিরের গেস্টহাউসে। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, দাসুদার মতে এখানের সব জায়গাই সুইসাইড পয়েন্ট, কোনো একটা জায়গার এরকম নাম দেবার কোনও মানেই হয় না! থেমে থাকলে তো আর চলে না বন্ধু। সেকেন্ডের কাঁটার সেই সিনেম্যাটিক টিক্-টিক্ শব্দ যেন কানের কাছে তাড়া দেয়। অফিসের পেনের খস্-খস্ আওয়াজ, পাতা উল্টানোর অবয়ব ভেসে আসতে থাকে অগোচরে। সেসব থেকে এখনও আমি লক্ষ যোজন দূরে। এক সপ্তাহ পর মোবাইলটা নেটওয়ার্ক ফিরে পেলো ...। রোহড়ু, মিনাস পেরিয়ে নামতে শুরু করলাম উত্তরাখণ্ডের জংলি সবুজ পথ ধরে। বাইকের গতিকে প্রতিমুহূর্তে পরাজিত করছে প্রাণচঞ্চল খরস্রোতারা। পাথররাশির এবড়োখেবড়ো সম্পত্তির অনায়াস দখল নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাদের প্রাণস্পন্দনের সূক্ষ্ম অনুভূতির তুফান। গারাম্ফু বটকল কাজা রোড বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বৃষ্টি, দিল্লি অঞ্চলের তীব্র রোদ আর গরম, আর হিমালয়ের উল্টানো কর্ণেটোর কোনের মাথায় বরফের টুপি দেখার পর ফেরার পথে উত্তরপ্রদেশে ঢুকে আবার সার্কেল-অফ-লাইফ কমপ্লিট হতে শুরু করলো বৃষ্টি দিয়ে। দুদিন ধরে ফিরলাম রায়বেরিলি থেকে দুর্গাপুর; রাত্রিবাস এক কাকুর কোয়ার্টারে। রাজকীয় খাওয়াদাওয়া সেরে কুম্ভকর্ণ স্তরের একপিস ঘুম দিয়ে বেরোলাম পরদিন সকাল ৯ টায়। শক্তিগড়ের ল্যাংচা নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলাম দুপুরে; হ্যাঁ, আমার নিজের বাড়িতে, বেরোনোর পর ১৮ দিনের মাথায়। একরাশ পাহাড়ি সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত আর স্বপ্নের ক্লিফহ্যাঙ্গারগুলো পেরিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। বেরিলিতে ঝুমকোর খোঁজ করাটা বাকি রয়ে গেল যে! হারানোর হিসেব আজ নয়, আর কখনোই নয়; কারন, যা পেয়েছি তা হারানোর নয়। আঠারো দিনের মুসাফিরানা শেষে মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সেই রক্তাক্ত সঙ্গমস্থলে নাড়ি ছেঁড়া শিশুর কান্না আর শতদ্রুর স্রোতের সিম্ফনি বাজতে শুনি -- সফর খুবসুরত হ্যায় মঞ্জিল সে ভী.....। উৎসব সিনহা (ভিলেজ বাইকার্স)

নভেম্বর ২৮, ২০২০
কলকাতা

বাইক বুক করে চালকের হাতে হেনস্থার শিকার বাঙালি যুবক

র্যাপিডো নামক একটি কোম্পানিতে বাইক বুক করে হেনস্থার শিকার হলেন বিন মহম্মদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বালুরঘাটের বাসিন্দা। মহাষ্টমীর দিন তিনি ওই সংস্থা থেকে বাইক বুক করেছিলেন। পুরো ঘটনায় অভিযোগের তির সংস্থার চালক আদর্শ কুমারের বিরুদ্ধে। বিন মহম্মদের কাছে এসে ওই চালক হিন্দিতে জানতে চাইল কোথায় যাবো ? তারপর জানতে চাইল কত ভাড়া দেখাচ্ছে ? তারপর চালক বলল, সে যাবে না। কারণ জানতে চাইলে সে বলল আমি এত কম ভাড়াতে যাই না। বিন মহম্মদ ওই চালককে বলল , আপনি আপনার কোম্পানিকে বলুন আমাকে বললে হবে। তখন সে বলল আপনি রাইডটা বাতিল করুন। উনি বললেন , আমি কেন করব আপনার অসুবিধা আপনি করুন। আরও পড়ুনঃ অষ্টমীর সন্ধ্যায় বুদ্ধদেবের বাড়ি গেলেন সস্ত্রীক ধনকড় তখন আদর্শ কুমার বিন মহম্মদকে রাইডটি বাতিল করার জন্য চাপ দিতে থাকে। নাহলে বিন মহম্মদকে কোনওভাবেই সে ছাড়বে না। কিছুক্ষন পরে আদর্শ কুমার যাত্রীকে বলে, ভাড়া বেশি দিলে তবেই যাবে তখন পাশের একটি অটোস্ট্যান্ডে এক চালকের কাছে গিয়ে বিন মহম্মদ বলেন, দাদা আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমি বিপদে পড়েছি। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে র্যাপিডো সংস্থার চালক। বিস্তারিত শোনার পর অটোচালক বিন মহম্মদকে সাহায্য করে। তার কিছুক্ষন পরেই ওই সংস্থার অফিস থেকে ইন্টারনেট কল আসে বিন মহম্মদের কাছে। বিন মহম্মদ তাদের ঘটনাটি বিস্তারিত জানিয়ে বলল, কলকাতা পুলিশে এই বিষয়ে অভিযোগ করবেন। তার কিছুক্ষণ পরেই ওই সংস্থার চালক ফোন করে গালাগালি ও হুমকি দিতে থাকে বিন মহম্মদকে। সমস্ত কথা ওই চালক হিন্দিতে বলেছে। বিন মহম্মদ হিন্দি বলেননি। আদর্শ কুমারকে বাংলা বলতে বললে সে তখন বিন মহম্মদকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তখন বিন মহম্মদ পুরো বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে বাংলা পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাংলা পক্ষের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। অবশ্য যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্য অভিযুক্ত চালককে সংস্থা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও সংস্থার তরফ থেকে বিন মহম্মদের কাছে ইমেল পাঠিয়ে ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়েছে। এই আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে , ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

অক্টোবর ২৬, ২০২০

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal