• ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bhagirathi

রাজ্য

ভাগীরথী সেতুতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, লরির চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু রোগীর

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ভাগীরথী সেতুর উপর ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বুধবার দুপুরে চলন্ত লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম হরেন মণ্ডল (৬৩)। তিনি ঝাড়খণ্ডের পাকুর জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।জানা গিয়েছে, বুধবার সকালেই অসুস্থতা জনিত কারণে হরেন মণ্ডলকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুত্রবধূ। দুপুরে বৌমা ফুলতলা বাজারে ফল কিনতে গেলে অনেকক্ষণ কেটে গেলেও তিনি না ফেরায়, চিন্তায় পড়ে বৃদ্ধ খুঁজতে বের হন। খুঁজতে খুঁজতে উঠে পড়েন ভাগীরথী সেতুর উপর। সেই সময় এক চলন্ত লরির সামনে পড়ে যান তিনি। অসাবধানতাবশত লরির চাকায় পিষ্ট হন হরেন মণ্ডল। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ ও রঘুনাথগঞ্জ সদর ট্রাফিক গার্ড। কিছু সময়ের জন্য সেতুর উপর যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, লরি চালকের গাফিলতি ছিল কিনাতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরেও কি ভাবে রাজ্য সড়কে পৌছালো ঐ রুগী তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে একলাবাসীর মধ্যে।

জুন ১৮, ২০২৫
রাজ্য

প্রতিষ্ঠা দিবসে ভাগীরথী নদী বক্ষে বাংলা পক্ষর এক অভিনব মিছিল

বাংলা ও বাঙালীর আপন সংগঠন বাংলা পক্ষ তাঁদের ষষ্ট-তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এক অভিনব কর্মসূচি করল। ৭ই জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে উদযাপন করতে হুগলীর চুঁচুড়া থেকে ৯০ কিলোমিটার গঙ্গাবক্ষে অভিযান করল সংগঠনের সদস্যরা। ভাগীরথী নদীতে দুটি লঞ্চে প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্য উপস্থিত ছিলেন এই ভাসমান মিছিলে। নদী বক্ষে এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মহম্মদ শাহীন, মনন মন্ডল, সৌম্য কান্তি ঘোড়ই সহ বিভিন্ন জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, দর্পন ঘোষ, মামুদ আলি মণ্ডল, দেবাশীষ মজুমদার, প্রবাল চক্রবর্তী, অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত সাহা, সুতনু পণ্ডিত, ছাত্রপক্ষের রণ ভট্টাচাৰ্য সহ প্রমুখ ব্যক্তি।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানালেন, বাংলা পক্ষ তার গর্বের ৬ বছর অতিক্রম করল। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে সংগঠন ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করছে। বাংলার বুকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা বাংলা পক্ষই করেছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে বাঙালিকে বঞ্চিত করে এসেছে তা বাঙালির সামনে প্রথম তুলে ধরে বাংলা পক্ষ এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে বাংলা পক্ষ। তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষের বিভিন্ন সফলতার মধ্যে অন্যতম WBCS পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাংলা ভাষার বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা। বাংলার ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত করে বহিরাগতরা জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও কাস্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রাপ্য আধাসেনার চাকরি গুলো দখল করছিল সেই তথ্য প্রথম তুলে ধরে বাংলাপক্ষ। বাংলাপক্ষের আন্দোলন ও অভিযোগের ভিত্তিতে জাল ডোমিসাইল চক্রের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলা পক্ষের বহু পথ চলা বাকি। এবং বাংলাপক্ষের প্রতিটি সদস্য বিশ্বাস করে এক দিন বাংলার সব কিছু বাঙালির হবে এবং বাংলা পক্ষ তা করেই ছাড়বে। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশি পৌঁছোনোই আগামীর লক্ষ্য। গ্রামে সংগঠনে জোর দেবে সংগঠন।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৪
রাজ্য

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তৈরি হল রহস্য

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগীরথী নদীতে স্মান করতে নেমে এক ছাত্রের মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তৈরি হল রহস্য । মৃত ওই ছাত্রের নাম রিক রায়(১৬)।তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনার সুবর্ণনগর কলোনীতে।সে স্থানীয় বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল ।ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে রিক তলিয়ে যায় বলে তাঁর বন্ধুরা দাবি করলেও ছাত্রের পরিবার তা মানতে চায়নি। আর তার কারণেই ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য । ময়নাতদন্তের জন্য ছাত্রের মৃতদেহ শনিবার পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশের দাবি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই ছাত্রের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে । তার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুপুরে ছাত্র রিক তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যায়।পরে সে বাড়ির ওই বন্ধুদের সঙ্গেই আবার কালনার ভাগীরথী নদীতে স্নানও করতে যায়।বন্ধুদের দাবি স্নান চলাকালীন অবস্থায় রিক নদীর জলে তলিয়ে যায় ।যদিও ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ রিকের বন্ধুরা এই ঘটনার কিছুই তাঁদের বাড়িতে জানায় নি । সব চেপে যায় । অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা নদীতে গিয়ে রিকের খোঁজ চালান। পাশাপাশি বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের টিমও ভাগীরথীতে রিকের খোঁজ চালায়।কিন্তু ওই দিন রিকের কোন হদিশ মেলে নি । শনিবার সকালে ফের ভাগীরথীতে রিকের খোঁজ চালানো শুরু হয় । বেলা ১০ টা নাগাদ উদ্ধার হয় ছাত্র রিকের মৃতদেহ।মৃত ছাত্রের বাবা গোপাল রায় এদিন বলেন,বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি বলে রিক বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল ।বন্ধুরা পরে যে যার বাড়ি ফিরে গেলেও রিকের ব্যাপারে তাঁরা কোন খবর তাঁদের জানায়নি। পরে একজন বয়স্ক লোকের কাছ থেকে তাঁরা রিকের ব্যাপারে খবর পান ।গোপালবাবু বলেন , বন্ধুরা কেন সব ঘটনা চেপে গেল সেটাই তাঁদের কাছে রহস্য জনক লাগছে । তাই ঘটনার বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে আভিযোগ জানানোর দিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
রাজ্য

Ganga Water Level: ভাগীরথীর জল ছুঁইছুঁই ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন, বিপত্তি পূর্বস্থলীর গ্রামে

কয়েকদিনের নাগাড়ে বৃষ্টিপাত ও তার সঙ্গে জলাধার থেকে ছাড়া জলে ফুলেফেঁপে উঠেছে ভাগিরথী নদী। আর তাতেই ঘটেছে বিপত্তি ।ভাগীরথীর জল ছুঁইছুঁই ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার। সেই কারণে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের ঝাউডাঙা পঞ্চায়েতের ঝাউডাঙ্গা এবং হালতাচড়া গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই দুই গ্রামের দেড়শোটি পরিবার। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দপ্তরে দরবার করেও সুরাহা না মেলায় ক্ষোভে ফুঁষছেন গ্রামবাসীরা।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়াভাগীরথীর একপাড়ে পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রাম। এই গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে ভাগীরথীর অপর পাড়ের নদিয়ার বেথুয়াডহরি থেকে। এলাকার বাসিন্দা প্রহ্লাদ ঘোষ শনিবার জানান, ভাগীরথীর দুই পাড়ে পোলে ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার টানা হয়েছে। ভাগীরথী এখন জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুতের তার ভাগীরথীর জলে ঠেকতে আর হাত কয়েক বাকী। সেই কারণেই গ্রামের লাইনে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে বিদ্যুৎ দফতর। এরফলে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামের দেড়শটি পরিবার সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে।অপর বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডল বলেন, ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎতের তার যখন টানা হয় তখনই গাফিলতি ছিল। তার উঁচু করে টানা হয়নি। সেই জন্য ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামে বিদ্যুৎ আসার পর থেকে প্রতি বছর বর্ষায় গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। ১১হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার অ্যাঙ্গেলের সাহায্যে উঁচু করার জন্য বহুবার দুই গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ দফতরে দরবার করেছিল। কিন্তু কোন ফল হয়নি। শুক্রবারও নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে বিদ্যুৎ দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় হালতাচড়া এবং ঝাউডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের শনিবার গ্রামে লাইন ঠিক করতে আসার কথা ছিল। কিন্তু কেউ আসেনি। এইভাবেই প্রতি বছর বর্ষায় ভোগান্তি চলছেই। তার বিরাম ঘটছে না। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রাম। দুর্ভোগের অবসান কবে ঘটবে তা জানা নেই পূর্বস্থলীর এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের। দুই গ্রামের অনেকেই টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।টোটোয় চার্জ না থাকায় সেই টোটোগুলিও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমে গ্রামের কয়েকশো মানুষ ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। গ্রামের ছাত্র আশিষ ঘোষ জানায়, এখন তাঁদের অনলাইনে পড়াশুনো চলছে। কারেন্ট না থাকায় মোবাইল ফোনে চার্য দেওয়ার সূযোগ না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে রয়েছে। তাই লাটে উঠেছে অনলাইনে পড়াশুনা। সন্ধ্যা নামলে লম্ফ অথবা হ্যারিকেনের আলোয় কোনরকমে রাত কাটাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতর দ্রুত ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার টেনে উুঁচু করার ব্যবস্থা করে দুর্ভোগ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করুক, এমনটাই দাবি দুই গ্রামের পড়ুয়াদের।আরও পড়ুনঃ শনিবার দিনভর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসএই বিষয়ে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভাগীরথী জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুতের তার নদীর জল ছুঁইছুই হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ওই তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত থাকলে ভয়ানক বিপদ ঘটে যাবে বলে বিদ্যুুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নদীর জল না কমা পর্যন্ত কিছু করার নেই। ওই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতেই হবে।

আগস্ট ০৭, ২০২১
নিবন্ধ

নদী কে জায়গা দিনঃ প্রসঙ্গ গঙ্গা ভাঙ্গন

বর্ষা শুরু হলেই আতঙ্কের প্রহর গোনা শুরু হয় মানুষ গুলোর। ঝুপ ঝাপ নদী পাড়ের মাটি খসে পড়া নতুন নয় এদের কাছে। তবে বর্ষার বিপুল জলরাশির যোগানে উন্মত্ত নদী যখন বিঘের পর বিঘে জমি, বাস্তু ভিটে, রাস্তা থেকে শুরু করে সভ্যতার সব নিদর্শন মুছে দিতে উদ্যত হয়, তার প্রলয়ঙ্করী রূপে মানুষ আতঙ্কিত হয়, জীবন হানিও ঘটে। নদী ভাঙন এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম, কিন্ত এই ভাঙনের কবলে পড়ে যখন মানুষ বিপর্যস্ত হয় তখন তা বিপর্যয় রূপে দেখা দেয়। দিশেহারা, সর্বহারা মানুষের হাহাকারে ভারী হয়ে যায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাতাস। এরা সেই মানুষ গুলো যাদের সাথে নদীর যুগযুগ ধরে আত্মীয়তার সম্পর্ক। নদীর তীরে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জীবনে নদী যেমন আশীর্বাদ স্বরূপ ঠিক তেমনই আতঙ্কের কারণ। নদীমাতৃক ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রাচীন কাল থেকেই নদীর তীরবর্তী অঞ্চল মানুষের বসবাসের স্থান হিসাবে খুব জনপ্রিয়।তার অন্যতম কারণ গুলি হলো সুলভ উর্বর জমি, পরিবহনের সুবিধা, বানিজ্যিক আদান প্রদান, মাছ ধরা সহ নানা রকমের জীবিকার সুযোগ। গাঙ্গেয় সভ্যতা সংস্কৃতি অতি প্রাচীন, সেটা সন্দেহাতীত, কিন্ত ব-দ্বীপে গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ নিয়ে যথেষ্ঠ মত পার্থক্য আছে। রাধাকমল মুখার্জি, কাননগোপাল বাগচী এবং ওল্ডহ্যাম, রিকস, শেরউইল প্রমূখ ব্রিটিশ নদী বিশেষজ্ঞরা ভাগীরথী কেই গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেচ বিশেষজ্ঞ উইলককস তাঁর ধারণার কথা বলতে গিয়ে ভাগীরথী কে সেচের জন্য কাটা খাল বলে উল্লেখ করেছিলেন, বিভিন্ন মানচিত্র বিশ্লেষণ করে অনেকেই তাঁর মত সমর্থন করেন এবং পদ্মাকেই গঙ্গার আদি প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেন। প্রাচীনত্বের দিক থেকে গঙ্গা বা ভাগীরথী যেটিই হোক কিন্ত জনবসতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র হিসেবে ভাগীরথীর উপত্যকা বেশি প্রাচীণ তা এর তীরে ছড়িয়ে থাকা তাম্রলিপ্ত, কর্ণ সুবর্ণ, চন্দ্রকেতুগড় ইত্যাদি স্থান গুলি প্রমাণ করে।গগঙ্গা নদী বাংলায় প্রবেশ করেছে রাজমহল পাহাড়ের পাশ দিয়ে। প্রাচীণ যুগে গারো-রাজমহল গ্যাপ নামক ভূপ্রাকৃতিক খাতটি পলি সঞ্চয়ের ফলে বর্তমানে এই সমভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই পলি শুধুমাত্র হিমালয় থেকে নিয়ে আসা সূক্ষ্ গঙ্গা বাহিত পলি নয়। দামোদর, অজয় সহ একাধিক নদ নদী, ছোটনাগপুরের মালভূমি থেকে মোটা দানার বালি মিশ্রিত পলি নিয়ে এসে প্রাথমিক ব- দ্বীপ গঠনের কাজ করেছিলো যাকে বলে প্যারা ডেল্টা। এর উপর সঞ্চিত হয়েছে গঙ্গার পলি। বালি মিশ্রিত নিম্নভাগে র পলির অভ্যন্তরীণ বাঁধন আলগা হওয়ার জন্য নদীর জলের প্রবল চাপে তা সহজেই আলগা হয়ে ধুয়ে যায়।উপরের কাদা মিশ্রিত পলি স্তর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে না পেরে খসে পড়ে। এটিই পাড় ভাঙার প্রক্রিয়া। নদীর প্রস্থ বরাবর একটি নির্দিষ্ট অংশে পর্যা়ক্রমিকভাবে এই ভাঙাগড়ার কাজ চলে, ভূগোলের পরিভাষায় যাকে বলে meander belt বা রিচ পয়েন্ট। এর মধ্যে নদীর চলাচল এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম।এটা ঘটবেই।রাজমহল থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ৭২ কিমি পথে বামদিক থেকে অনেক শাখানদী এসে মিশেছে, যেমন কালিন্দী, ফুলহার, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী ইত্যাদি। সম্ভবত ১৫৭৫ এ গৌড় এর ধ্বংসের আগে পর্যন্ত কালিন্দী, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী বরাবর ছিল গঙ্গার প্রবাহ পথ। কিন্ত ১৫৭৫ এর পর গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন ঘটে যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৭৭৯ এর J. D. Rennell এর মানচিত্রে যেখানে গঙ্গার অবস্থান গৌড়ের অনেকটা দক্ষিণে। রাধাকমল মুখোপাধ্যায় তাঁর The Changing Face of Bengal গ্রন্থে এই কালিন্দী কেই গঙ্গার মূলস্রোত বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদুনাথ সরকারের রচনা The History of Bengal (Muslim Period) থেকে ধারণা করা যায় যে সেই সময় রাজমহলের পর গঙ্গা একাধিক শাখায় বিভক্ত হতো। একটি কালিন্দী- মহানন্দার পথে, অপরটি গঙ্গা -পদ্মার খাত ধরে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার মিঠিপুর গ্রামের কাছে গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে, একটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আর ভাগীরথী দক্ষিণমুখী হয়ে প্রায় ৫০০কিমি পথ অতিক্রম করে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হওয়ার পর হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। গঙ্গার থেকে ভাগীরথীর যে উৎস মুখ তা বিগত কয়েক শতাব্দী তে বার বার পরিবর্তীত হয়েছে, বিভিন্ন গবেষণা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রমান পাওয়া যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাগীরথীর খাতটি পদ্মার তুলনায় কম বেশি এক মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এরফলে একমাত্র বর্ষা কাল ছাড়া ভাগীরথী তে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আসা সম্ভব নয়। ফিডার ক্যানেল এর মাধ্যমে সারা বছর জলের ধারা অব্যাহত রাখা ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখার জন্য ফারাক্কা বাঁধের পরিকল্পনা করা হয়। প্রকৃতিকে আয়ত্তে আনতে গিয়ে হিমালয় থেকে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয়ের ব্যাপারটা পরিকল্পনার ফাঁক হিসাবে থেকেই যায়। সূত্র বলছে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৬৪ কোটি টন পলি রাজমহল ও ফারাক্কার মাঝে গঙ্গা বক্ষে জমা হয়। গঙ্গা নদী প্রবাহ পথ আঁকাবাঁকা এবং ফারাক্কা ব্যারেজ নদীটির গতিশীল ভারসাম্য বিঘ্নিত করেছে এবং নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত করেছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে বাম দিকে এবং ফারাক্কা বাঁধের নিচের ডান প্রান্তের দিকে নদী প্রবাহের একটি সাধারণ প্রবণতা রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে পলিতে আবদ্ধ গঙ্গা পাড় ভেঙে নতুন পথের সন্ধান করছে।বাঁধ নির্মাণের পূর্বে এই ভাগীরথী তে জলের যোগান যা ছিল, পরবর্তীকালে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পলি উজানে সঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ফলে ভার মুক্ত নদী প্রবাহ নিচের অংশেও ভাঙন ঘটাচ্ছে। নদী প্রবাহিত হয় প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে। গাঙ্গেয় ব -দ্বীপের যে অংশে গঙ্গা ও ভাগীরথী বয়ে চলেছে সেটি মূলত মৃতপ্রায় ব -দ্বীপের অন্তর্গত। এই পর্যায়ে নদীর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় বলে অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। জলের চাপে অবতল দিকের পাড় ভাঙতে থাকে, অপর দিকে নতুন ভূমি জেগে ওঠে উত্তল দিকে। ক্রমাগত পলি সঞ্চয়ের ফলে ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী তার পুরোনো খাত পরিত্যাগ করে নতুন পথে চলে। এসবের ফলশ্রুতি হিসেবে দেখা যাই এক বৃহৎ অংশের মানুষ এই নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েন প্রতি বছর। এবছরও তার ব্যাতীক্রম ঘটে নি।পাড় ভাঙনের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে গঙ্গা বক্ষে গজিয়ে ওঠা চরের ভাঙ্গনের করুণ অধ্যায়। গঙ্গার ভাঙনের সাথে চর সৃষ্টি, অবলুপ্তি, পুনরাই জেগে ওঠার সম্পর্ক বেশ যে প্রাচীন তার প্রমান কিছুটা পাওয়া যায় Major Henry Thomas Colebrooke, W. W. Hunter (1876), Captain W. Sherwill দের বর্ণনায়। ভূতনির চর ও নিরমল চরে মানুষের জীবনযাপন চলে আবাস তৈরি, বাস্তুচুতি ও আবাস পুনর্নির্মাণের চক্রাকার আবর্তে।নদী মানুষের দ্বন্দ্বে অনেক ক্ষেত্রেই গঙ্গা বক্ষের চর গুলি হয়ে উঠেছিল মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা ও জীবনযাপনের রসদ।কিন্ত নদীর পাড় ভাঙ্গনের সুবাদে এবছর সেগুলিও সঙ্কটে।গঙ্গা তথা ভাগীরথীর তীরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার এক বৃহৎ অংশের মানুষের বাস যারা প্রতি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরম দুর্দশার সম্মুখীন হন। ফি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনে গড়ে ৮ বর্গ কিমি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যায় আমাদের রাজ্যে। ফারাক্কা ব্যারেজের প্রবাহের উজানে ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মালদা জেলায় গঙ্গার বাম তীরের ভাঙনের ফলে ৪.৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মনিচাকের ২২ মৌজা, কালিয়াচক-১ এবং কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩, রতুয়া-১ এবং রতুয়া-২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদী গর্ভে চলে গেছে। কালিয়াচক-২ ব্লকের ভূতনির চর ও পঞ্চানন্দপুরের মধ্যে নদীর বাম তীরের অঞ্চলটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এই বছর ভাঙনের কবলে মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বিপর্যস্ত। ওই দুই পঞ্চায়েতের নয়া বিলাইমারি, খাকচাবনা, টিকলিচর ও জঞ্জালিটোলা গ্রামগুলিতে গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়েছে।মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গার তীরেও প্রায় কয়েক কোটি মানুষ বাস করেন। ফারাক্কা ব্যারাজের নীচ থেকে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার ডান তীরে ৯৪ কিমি ব্যাঙ্কলাইন রয়েছে এবং ফারাক্কা, সামশেরর গঞ্জ, সুতি-১, সুতি-২, রঘুনাথগঞ্জ-২, লালগোলা, ভগবানগোলা-১, ভগবানগোলা-২, রাণী নগর-১, রাণী নগর-২ এবং জলঙ্গী প্রভৃতি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের এই সমস্ত এলাকায় তীব্র পাড় ভাঙন ঘটে। ফারাক্কার কুলদিয়ার চর সহ হোসেনপুর চর এই বছরে ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। গঙ্গা ও ফুলহার নদী দিয়ে ঘেরা এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার দুই নদীর মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে উর্বর কৃষিভূমি ও বিশাল গো চারণ এলাকা। তাই জীবন জীবিকা নির্বাহে গঙ্গা তীরের এই জায়গা ছেড়ে কেউ যেতে চান না। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব কষ্টসাধ্য, বন্যা ও ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা জমি, ভিটে মাটি হারানো সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দারা বংশানুক্রমে এখানেই থাকতে চান। অনেকেই আবার পরিনত হন নথিহীন নব্য শরণার্থী বা রুটি রুজির তাগিদে মুম্বাই গুজরাতের কোন পরিযায়ী শ্রমিকে।গঙ্গা নদী ভাগীরথী নাম নিয়ে দক্ষিণ বাহিনী হয়ে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হয়ে, হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এই অংশেও নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত। এর ফলে নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের পুর্বস্থলী ১ ও ২, কালণা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। পুর্বস্থলী ১নম্বর ব্লকের নসরতপুর, জালুইডাঙা সবচয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। নসরত পুরের কিশোরীগঞ্জ, মনমোহনপুরের বাসিন্দাদের অনেকের বাড়ি, চাষের জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে এই বছরেই। পুর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের মেরতলা, কুটুরিয়া, গোপীপুর, তামাঘাটা এবং অগ্রদ্বীপ এর বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গনের কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া-2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মঠপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাগীরথী নদীর ভাঙ্গনে এই বছর বহু মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।কালনার ধাত্রীগ্রাম পঞ্চায়েতের কালিনগর, যার কাবাডি গ্রাম হিসেবে খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। গ্রামের অনেকেই কাবাডিতে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনের জেরে বহু ঘরবাড়ি, জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। মানুষ যখন ভেবে ফেলে নদী কেবল তার বেঁচে থাকার খোরাক জোগানোর উপকরণ মাত্র মুশকিলটা হচ্ছে ঠিক তখনই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথেসাথে, বাস্তু জমি, চাষের উপযোগী জমি সব কিছুর চাহিদা বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। শুধু তাই নয়, মানুষ উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কে জয় করতে চেষ্টা করছে। ঠিক যেমন হয়েছে ফারাক্কা ব্যারেজের ক্ষেত্রে। উত্তর বঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ থেকে শুরু করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা স্বাভাবিক রাখা, ব্যবসা বানিজ্য সবকিছুই ফারাক্কা ব্যারেজের প্রস্তাবনা বা রূপায়ণের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে। এর সাথে আছে বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা নদীর তীরে বসবাস করেন, নদীর বুকে জেগে ওঠা চর গুলিও বাদ থাকে না। অপরিকল্পিত ভাবে নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে দিনের পর দিন চলে মাটি পাচার, গজিয়ে ওঠে ইট-ভাটা। এই সবের সাথেই নদী হারিয়ে ফেলেছে তার চলার স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্ত নদীকেও তো তার স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে জায়গা দিতে হবে। এর মধ্যে মানুষ তার সভ্যতা গড়ে তুললে, নদীর দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ যদি থাকে সেটা আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার।বছর দুয়েক আগে ট্রেনে যাবার পথে পরিচয় হওয়া এক সাধারণ মালদা বাসীর সাথে এই নদী ভাঙ্গনের কথা, ফারাক্কা ব্যারেজের কথা প্রসঙ্গে তার দেওয়া একটা সাধারন উপমার কথা বেশ ভালো লেগেছিল।তিনি বলেন নদীর চলার পথ ঠিক সাপের মতো, আর সাপ কে যদি তার মাথার কাছে চেপে ধরে সে গোটা শরীর আরো বেশী আঁকাবাঁকা করে নিজেকে মুক্ত করার জন্য। এই ফারাক্কা বাঁধ হলো সেই সাপের মাথার মতো, যা চেপে ধরেছে গঙ্গার স্বচ্ছন্দ গতিকে। আর নদী ক্রমশ চেষ্টা করে চলেছে তার মুক্তির পথ খোঁজার। নদীর তীরে বসবাসের সুযোগ যেমন অনেক, তেমনই ঝুঁকির কথাটাও ভুলে গেলে চলবেনা। স্রোতের সঠিক ঘাত প্রতিঘাত বিশ্লেষণ না করে অবৈজ্ঞানিক বাঁধ নির্মাণ, বোল্ডার ফেলা, বিদেশী ঘাসের চাষ, গাছ লাগানো, তার জালির ব্যবস্থা ইত্যাদি হয়তো সাময়িক ভাবে ক্ষতের মলম দিতে পারে কিন্ত তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। নদীর পাড়ে বসবাসকারী বিপুল মানুষের পুনর্বাসন করা হয়েতো কঠিন কাজ, কিন্ত দূরসংবেদন ও ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) র সঠিক প্রয়োগ এর কিছুটা সমাধান করতে পারে। ভাঙন প্রবন নদীর তীর গুলির মানচিত্র প্রস্তুত করে, কত বছরের মধ্যে সম্ভাব্য ভাঙন কবলিত হতে পারে তার ভিত্তিতে যদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাহলে প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে হাজার হাজার পরিবেশ-গত উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা কিছুটা হলেও হয়তো কমানো যাবে।তথ্য সূত্রঃ১। বাংলার নদীকথা কল্যাণ রুদ্র, ২০০৮২। বাংলাদেশের নদ নদী ও পরিকল্পনা কপিল ভট্টাচার্য, ১৯৫৯৩। The Changing Face of Bengal রাধাকমল মুখোপাধ্যায়, ১৯৩৮৪। Rivers of Bengal(সঙ্কলিত) কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, ২০০১৫। https://bn.m.wikipedia.org৬। No voice, no choice: Riverine changes and human vulnerability in the chars of Malda and Murshidabad, জিনিয়া মুখার্জী, ২০১১(http://idsk.edu.in/wp-content/uploads/2015/07/OP-28.pdf)৭। Time Streams: History and Rivers in Bengal, Graham P. Chapman Kalyan Rudra, ২০১৫ ডঃ কুণাল চক্রবর্তী, সহকারী অধ্যাপকশম্ভুনাথ কলেজ, লাভপুর, বীরভূম ওডঃ ইন্দ্রাণী মুখার্জী, সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ, পূর্ব বর্ধমান

নভেম্বর ০২, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

হুমায়ুন গ্রেফতার, অধীরের অবস্থান! রেজিনগর উপনির্বাচনে দিনভর তপ্ত রাজনীতি, "জিতবে বিজেপিই" - শুভেন্দু

রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। শাসক দলের বিরুদ্ধে বুথ দখল, ভোট লুট এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস। অভিযোগের প্রতিবাদে বহরমপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভও হয়। গ্রেফতার করা হয় আজপ নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে ভোটের দিন সকালেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গ্রেপ্তারি। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ রেজিনগর উপনির্বাচনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। সকালে শক্তিপুরে নিজের বাড়ির কাছের বুথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দেন হুমায়ুন। বুথ থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে কুকুর বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, কুকুরকে কীভাবে মুগুর মেরে শায়েস্তা করতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। প্রয়োজনে পাল্টা অ্যাটাকের কথাও বলেন তিনি।এরপর রেজিনগর পার্টি অফিসে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছে যায় রেজিনগর থানার আইসি। হুমায়ুনকে পার্টি অফিস ছেড়ে চলে যেতে বলা হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পরে আইসির নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোটের দিন এভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করা যায় না, একথা একজন বিধায়কের জানা দরকার বলে জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে আমাদের ব্যবধান অনেকটা বাড়বে। গতবারের থেকে ৫থেকে ৬ গুন তো বাডডবেই। মার্জিন কম হলেও রেজিনগরে আমরা জিতবো। মুসলিম যুবক ও মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, রেজিনগরে নিশ্চুপ সন্ত্রাস ও ভোট লুট চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ বিজেপির ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে এবং কংগ্রেস এজেন্টদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হুমায়ুনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে অধীর বলেন, তাঁকে দিয়ে নাটক করানো হচ্ছে এবং তিনি বিজেপির গেস্ট আর্টিস্ট।মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল ইসলাম চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দিয়ে বুথ দখল করেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। যদিও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বন্যপ্রাণী সপ্তাহে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে ফিটনেস ও পরিবেশ সচেতনতার পাঠ

ফিট ইন্ডিয়া থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপদশরীরচর্চা, কুইজ ও বন্যপ্রাণী পরিচিতির মাধ্যমে দিনভর শিক্ষামূলক কর্মসূচিবর্ধমান: শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, আর পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতাদুই বার্তাকেই সামনে রেখে বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল একাধিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। ফিট ইন্ডিয়া ভাবনায় শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে গিয়ে পরিবেশ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব নন্দীর উদ্যোগে প্রথমে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যালয়ের মাঠে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনে অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কাঠের ডাম্বেল দিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম ও ক্রীড়ামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছোটদের বোঝানো হয়, কীভাবে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে ফিট রাখা যায়।এরপর আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দূরত্বের দৌড়। শেষপর্বে দল তৈরি করে ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয় কাবাডি খেলায়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত মানসিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, ফিটনেস কোনও সাময়িক বিষয় নয়, এটি ধারাবাহিক কর্তব্য। ছোট বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি করতে বিদ্যালয় বিশেষভাবে যত্নশীল।মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতার পাঠঅন্যদিকে, চলতি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সেখানে গিয়ে প্রথমেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশ নেয় পড়ুয়ারা।বিজ্ঞানীরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার কীভাবে জীবজগতের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে সচেতন নাগরিক হিসেবে ছোটদের কী ভূমিকা থাকা উচিত, সেই বিষয়েও দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।এরপর বিভিন্ন বিষয়ের উপর আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সঠিক উত্তর দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পুরস্কারও অর্জন করে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অয়নাংশু পুরস্কার পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানায়।প্রকৃতিকে কাছ থেকে চেনার সুযোগসেমিনার ও কুইজের পর রমনার বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় পড়ুয়াদের। সেখানে সায়েন্স সেন্টারের আধিকারিকরা বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে তাদের পরিচয় করান। প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য, পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।শিক্ষক সামিম মণ্ডলের কথায়, ছোটদের কাছে আজকের শিক্ষামূলক ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত আনন্দের। একইসঙ্গে তারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত সায়েন্স সেন্টারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও অর্জন করে। বন্যপ্রাণী সপ্তাহে সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলার এই প্রচেষ্টা জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ফিটনেস, পরিবেশ সচেতনতা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাকে একসঙ্গে সামনে রেখে দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, হয়ে উঠল বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার এক অভিনব পাঠ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি লিপিবদ্ধ করেন দীপ্ত সুন্দরবাবু।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরে নাম বাদ? এবার ফের ভোটার তালিকায় ওঠার সুযোগ! কী করতে হবে, জানাল কমিশন

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম ফের তোলার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর সিইও দফতর এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর তরফে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা এএসডিডি তালিকায় থাকা কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।অর্থাৎ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লেও কেউ যদি এখনও ভোটার হওয়ার যোগ্য হন, তা হলে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বিএলও-র কাছে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাও রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না দেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে।পাশাপাশি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাও নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুই পথেই আবেদন করার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ এসআইআরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি প্রথম বার ভোটার হতে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্যও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিইও দফতরের প্রকাশিত তথ্যেও এএসডিডি তালিকা এবং বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা দেখে যোগ্য ভোটারদের দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালীন যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, অথচ তাঁরা যোগ্য ভোটার, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।এদিকে বাংলায় বেশ কিছু ভোটারের নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি বা মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ চলছে।তবে নতুন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার শেষ তারিখের কথা মঙ্গলবারের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে, তাঁদের দ্রুত নিজেদের নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় রয়েছে কি না দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর এই নতুন প্রক্রিয়ায় এখন নজর থাকছে পরবর্তী নির্দেশের দিকে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশকে সরানোর দাবি, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ রাহুল-মমতারা! চিঠিতে কী লিখল ইন্ডি জোট?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চাইছে ইন্ডি জোট। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জোটের নেতারা। বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে যে কোনও সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই চিঠির কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলগুলি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইন্ডি জোটের একাধিক নেতা। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়েছে। এর আগে ইন্ডি জোটের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন।রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা, শরদ পওয়ার, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডি জোটের একাধিক দলের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই চিঠি পাঠানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মিছিল মাঝপথে আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ধর্নায় বসেন।মিছিল আটকে দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে গাছের তলায় বসে অবস্থান শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন বিরোধী নেতা সেখানে যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও পরে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।প্রায় নঘণ্টা ধরে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে মিছিলের সময়ও একাধিক বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়েছিল।তবে এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে আনুষ্ঠানিক আবেদন কমিশনে পৌঁছয়নি। ফলে বিরোধীরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য ইন্ডি জোটের আবেদন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠির জবাব কবে আসে এবং রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

২৫ বছর একটানা সরকারের শীর্ষে মোদী! তাঁকে নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এল যে ১০ বড় দিক

সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবারের সেই প্রস্তাবে শুধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখই নয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রিসভার দাবি, দেশ সবার আগে, নাগরিক সবার আগে নীতিকে সামনে রেখেই এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এগিয়েছে।২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদী। তার পর গুজরাটে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী সময়ে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গও মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এসেছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটে নেওয়া কিছু উদ্যোগ পরে জাতীয় স্তরেও প্রয়োগ করা হয়েছে।এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে গুজরাটের স্বাগত কর্মসূচি। নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চালু হয় প্রগতি। বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় করে আটকে থাকা প্রকল্পের সমস্যা মেটানো এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। গুজরাটের কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পৃথক ব্যবস্থা তৈরির জ্যোতিগ্রাম প্রকল্পের অভিজ্ঞতাকেও জাতীয় স্তরে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ কোটি জনধন হিসাব খোলা হয়েছে, চার কোটির বেশি বাড়ি তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানগুলি মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।মহিলা, কৃষক, যুবসমাজ এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও রয়েছে প্রস্তাবে। কেন্দ্রের হিসাবে, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মহিলা লাখপতি দিদি কর্মসূচির আওতায় আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন। আইনসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের সাংবিধানিক ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ ভাবে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জনমন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।সংস্কারের প্রসঙ্গও বিশেষ ভাবে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। পণ্য ও পরিষেবা কর চালু, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পুরনো ঔপনিবেশিক আইন বদলের মতো পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল লেনদেন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।পরিকাঠামো ও উৎপাদন ক্ষেত্রের অগ্রগতির দাবিও রয়েছে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, সরকারি মূলধনী ব্যয় ২০০১ সালের প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণও প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে।প্রযুক্তির ব্যবহারকেও মোদীর ২৫ বছরের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছে মন্ত্রিসভা। জনধন হিসাব, আধার এবং মোবাইল সংযোগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেনে নতুন পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার প্রসঙ্গ রয়েছে প্রস্তাবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব কোভিড টিকা তৈরি এবং চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণকে ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রেও কাজ এগোনোর কথা বলা হয়েছে।সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে গুজরাটের প্রশাসন থেকে জাতীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পর্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প, মহিলা ও কৃষকের ক্ষমতায়ন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং প্রশাসনিক সংস্কারএই বিভিন্ন ক্ষেত্রকেই সেই দীর্ঘ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্না, শেষে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটক!

ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত থাকল রাজধানী দিল্লি। সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর একের পর এক নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত আকাশবাণী ভবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্নায় বসে থাকার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও অন্যান্য বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। মিছিল আটকে দেওয়া হলে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।এর পরেও থামেননি রাহুল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কয়েক জন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে একটি গাছের তলায় বসেই ধর্না শুরু করেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা তা মানেননি। নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানান।সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধর্নার পরিসরও বাড়ে। রাতের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন নেতা সেখানে পৌঁছে ধর্নায় যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও লখনউ যাওয়ার পথে ফিরে এসে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর রাতে পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢোকে। একে একে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করে বাসে তোলা হয়। ডেরেক ওব্রায়েনকেও ফের আটক করা হয়। এর আগে দিনের প্রথম পর্বে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিলের সময়ও তাঁকে আটক করা হয়েছিল।তবে এই বিক্ষোভের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে আলাদা দাবি সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দল আগাম কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। ফলে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক না হওয়ার প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।দিনভর ব্যারিকেড, আটক, আকাশবাণী ভবনে ধর্না এবং পরে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের পাল্টা বক্তব্যদুই মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট, কিন্তু উঠল ‘ভোটলুট’-এর অভিযোগ! নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে কী ঘটল?

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের ভিড়। ভোটের হারও নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই কেন্দ্রেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তবে ভোটের হার বেশি হলেও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে দিনভর উত্তপ্ত থেকেছে দুই কেন্দ্র। বিরোধী দলগুলির একাংশ ভোটে অনিয়ম ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।রেজিনগরে ভোট শুরু হওয়ার পরই উত্তেজনা তৈরি হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর পুলিশের বিরুদ্ধে ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসার পর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের তরফেও এই ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।হুমায়ুনের গ্রেফতারির পর রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বেশ কিছু বুথে তাঁদের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। কংগ্রেসের তরফে এই দাবিতে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।নন্দীগ্রামেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কয়েকটি বুথে দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের তরফে কোথাও কোথাও ভোটে অনিয়ম এবং এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাম ও আইএসএফের তরফেও অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগকে বিজেপি নস্যাৎ করেছে।অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এবারের ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা যেতে পারে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর আগের জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই দাবি ফল প্রকাশের পরেই যাচাই হবে। নন্দীগ্রামে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়ায় উপনির্বাচনের নিরিখে ভোটদানের হার নিয়ে বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে।রেজিনগরেও ভোটের হার ৭৮ শতাংশের বেশি। বিপুল ভোট পড়ার পাশাপাশি বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ার পর এবং রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেওয়ার কারণে উপনির্বাচন হয়। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নজর শুক্রবারের ফলাফলের দিকে। তার আগে দুই কেন্দ্রে বিপুল ভোটের হার এবং বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবিদুই-ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

‘এত তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা কেন তুলে নেওয়া হল?’ অভিষেকের মামলা শুনে প্রশ্ন বিচারপতির

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে হোমগার্ড ছাড়া তাঁর সঙ্গে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই। এই মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের কারণ-সহ বিস্তারিত তথ্য রাজ্যকে জানাতে হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।আদালতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ জানান, ২০১৩ সালে অভিষেককে ওয়াই শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস করা হয়। ২০১৫ সালে জেড এবং ২০১৬ সালে জেড প্লাস শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর ১০ মে আচমকাই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার পরে নিরাপত্তার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। তাঁর দাবি, মাত্র দুজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যেই সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে আদালতে জানানো হয়। তার পরেও আরও কয়েকটি হামলার অভিযোগ ওঠে। বিমানবন্দর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয়কে ঘিরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আইনজীবী আদালতে দাবি করেন। অতীতে অভিষেকের চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাও ঘটেছিল বলে সওয়ালে উল্লেখ করা হয়।শুনানির সময় নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালত জানতে চায়, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে এত দ্রুত নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একাধিক হামলার অভিযোগ ওঠার পর ভবিষ্যতে কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। পাথর ছোড়ার মতো ঘটনায় কারও গুরুতর আঘাত লাগতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করে।এর আগে অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে মামলার বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়। আদালত সেই রিপোর্ট তলব করেছে। আগামী ১৩ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত, তার ভিত্তি এবং পরবর্তী সময়ে অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal