• ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২, সোমবার ০২ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman,

রাজ্য

Suspended Festival: করোনা আবহে স্থগিত বর্ধমান পৌরসভার বার্ষিক উৎসব

করোনা আবহে আপাতত বর্ধমানে বর্ধমান পৌর উৎসব স্থগিত ঘোষণা করে দিল বর্ধমান পৌরসভা। আবার কবে এই উৎসব হবে তা এখনও জানায়নি পৌর কতৃপক্ষ। জানুয়ারিতেই বর্ধমান পৌর উৎসব হওয়ার কথা ছিল, মেলার জন্য ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি দিন ধার্য্য করা হয়েছিল। মেলা পরিচালনা জন্য যোগ্য সংস্থার কাছে থেকে দরপত্র নেওয়ার পদ্ধতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেলার বিষয়ে মতামত নেওয়ার জন্য গত ২২ ডিসেম্বর বংশগোপাল টাউন হলে শহরের নাগরিক বৃন্দ ও বিশিষ্ট মানুষদের নিয়ে এক সভা আয়োজন করা হয় বর্ধমান পৌরসভার পক্ষ থেকে।বর্ধমানের উপ-পৌরপ্রশাসক আইনুল হক বলেন, করোনার বিধিনিষেধ জারি রয়েছে রাজ্যে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করা খুব জরুরি। আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে এই উৎসব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা যাবে। এই মুহুর্তে মানুষের স্বাস্থ্যই পৌরসভার কাছে মূল প্রাধান্য।এই মুহুর্তে বর্ধমান শহর ও সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় করোনা আক্রান্তের খবর আসছে। মনে করা হচ্ছে করোনা-র তৃতীয় ঢেউ যেভাবে সারা বিশ্বে আছড়ে পরেছে তাঁর থেকে এই শহরও বাদ যাবে না। উপ-পৌরপ্রশাসক আইনুল হক বলেন, আমাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, মাস্ক না পড়ে বাইরে বেরোবেন না, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। শরীর খারাপ বুঝলে পৌর-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

Ladakh on a Bicycle: কালনার দুই যুবকের মহতী উদ্যোগ, করোনা সচেতনায় সাইকেল নিয়ে লাদাখ পাড়ি

দেশজুড়ে ফের বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের প্রভাব। নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন বহু মানুষ। মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলা ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তা কেউই সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এমনকি পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এত কিছুর পরেও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে মাস্ক পরা ও বিধি নিষেধ মেনে চলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না দেশের একটা বড় সংখ্যক মানুষ। তাই আর ঘরে বসে না থেকে করোনা নিয়ে দেশবাসীকে সচেতন করতে মঙ্গলবার সাইকেলে চড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো পূর্ব বর্ধমানের কালনার কালনার কাঠিগঙ্গা ও মহাপ্রভুপাড়ার দুই যুবক প্রণব সাহা ও সৌরভ দাস। এই যুবকদের একজন চালান অটো। আপরজন ইলেকট্রিকের কাজ করার পাশাপাশি ছোট মুদিখানা দোকান চালান। যুবকরা সামান্য ১০০-২০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে সচেতনতা প্রচার চালাবে এমনটা নয়। করোনা নিয়ে সচেতনতা জাগাতে কালনার এই দুই যুবক জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখ পর্যন্ত যাবে সাইকেলে চড়ে। দুই যুবকের এই মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কালনার মহকুমা শাসক সুরেশ কুমার জগৎ ও সহ কালনার বিশিষ্ঠজন।মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ বলেন, করোনা মহামারীর কারণে ইতিমধ্যেই দেশে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তও হয়েছে বহু মানুষ। এখন ফের আবার উর্ধ্বমুখী হচ্ছে করোনা আক্রান্তের গ্রাফ। সংক্রমণ বৃদ্ধি রোখার জন্য রাজ্য প্রশাসনের তরফে নানা বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পলিশ কর্মীরা পথে বিধি মানানোর জন্য নজরদারি চালাচ্ছেন, সচেতনতার প্রচারও চালাচ্ছেন। তবুও অনেক মানুষজন বেপরোয়া মনোভাবদেখিয়ে বিধি মানছেন না।মাস্ক পড়ছেন না। এইসবের কারণে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে দেশের মানুষজনকে করোনার সংক্রমণ নিয়ে সচেতন করতে কালনার দুই যুবক সাইকেলে চেপে লাদাখের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। যুবকদের এমন মহতি কর্মকাণ্ড নিশ্চিৎ ভাবেই প্রশংসার দাবি রাখে।কালনা শহরের ঐতিহ্যশালী স্থান সেখানকার ১০৮ শিবমন্দির। সেই শিবমন্দিরের সামনে গিয়ে সর্বশক্তিমান দেবতাকে প্রণাম জানিয়ে এদিন প্রণব ও সৌরভ সাইকেলে চেপে রওনা হয়। প্রণব সাহা ও সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাঁরা করোনার ভয়বহতা সম্পর্কে মানুষজনকে সচেতন করার সংকল্প নিয়ে সাইকেল কালনা থেকে রওনা দিচ্ছে।বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি,পঞ্জাব হয়ে তাঁরা জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখে পৌঁছাবে। পথে সরকারি জায়গা অথবা অন্য কোনও স্থানে রাত্রিবাস করবেন। সেই কারণে সাইকেলে তাঁবুর পাশাপাশি সচেতনতা প্রচারের ব্যানারও সঙ্গে নিয়েছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে ও শরীর ঠিকঠাক থাকলে ২০-২৪ দিনের মাথায় তাঁরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেন বলে আশা করছেন। আসা ও যাওয়া মিলে প্রায় পাঁচ হাজার পথ সাইকেল চালাতে হবে। প্রণব সাহা ও সৌরভ দাস এও বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তা সত্বেও এখনও অনেক সচেতন নন। তাই সবাইকে করোনা অতিমারির ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন করতেই তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে যুবকরা জানিয়েছেন।

জানুয়ারি ০৪, ২০২২
রাজ্য

Kanyashree: 'মনগড়া' রিপোর্ট জমা দেওয়ায় কন্যাশ্রী ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছাত্রী

বিয়ে না হওয়া সত্ত্বেও কনাশ্রী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারী বিবাহিত বলে মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে দেন বুথ লেবেল অফিসার। আর সরকারী দফতরে জমা পড়া এমন ভুয়ো রিপোর্টের জন্যই কন্যাশ্রী ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হল এক ছাত্রী। সরকারি কাজে আধিকারিকের গাফিলতির এমন নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। ঘটনার বিহিত চেয়ে ছাত্রী মণিমালা মণ্ডল নিজেই বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ পাবার পরেই নড়ে চড়ে বসেছেন ব্লক প্রসাসনের কর্তারা। শুরু হয়েছে ভুল শুধরে ওই ছাত্রীকে কন্যাশ্রী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া। ছাত্রী মণিমালা মণ্ডলের বাড়ি জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতর উত্তর মোহনপুর গ্রামে। তাঁর বাবা বিশ্বনাথ মণ্ডল পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। মা পূর্ণিমাদেবী সাধারণ গৃহবধূ। দাদা মহাদেব মণ্ডল টোটো চালান। এমন অভাবী পরিবারের মেয়ে মণিমালা ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়ার প্রতি অত্যন্ত সচেতন। জামালপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে সফল ভাবে মাধ্যমিক পাশ করার পর সে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ার জন্য জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর মণিমালা এখন জামালপুর মহাবিদ্যালয়ে বি.এ প্রথম বর্ষে পাঠরত। কন্যাশ্রী ভাতা পাবার জন্য ২০২০ সালে সে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করে। সহপাঠীরা সকলে কন্যাশ্রী ভাতা পেয়ে গেলেও বঞ্চিত থাকে মণিমালা। কি কারণে কন্যাশ্রী ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হল তা জানতে কয়েকদিন আগে মণিমালা বিডিও অফিসে যায়। ব্লকের কন্যাশ্রী আধিকারিকের মুখ থেকে সব ঘটনা শোনার পর তাঁর মাথায় হাত পড়ে যায়।বিডিওকে লিখিত ভাবে মণিমালা জানিয়েছে, ২০২০ সালে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সে কন্যাশ্রী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করে। কিন্তু সে ভাতার টাকা পায়নি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে সে ২৭ ডিসেম্বর ব্লকের কন্যাশ্রী বিভাগের আধিকারিকের কাছে যায়।ওইদিন কন্যাশ্রী আধিকারিক তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাই সে আর কন্যাশ্রী ভাতা পাবে না। মণিমালা ওই দিনই বিডিওকে জানায়, তাঁর বিয়েই হয়নি। মিথ্যা রিপোর্ট তাঁর সম্পর্কে সরকারী দফতরে পেশ করা হয়েছে। রিপোর্ট যে সম্পূর্ণ মিথ্যা সেই কথা মণিমালার বাবা বিশ্বনাথ মণ্ডল ও এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য রুপালি বিশ্বাসও লিখিত ভাবে বিডিওকে জানিয়ে দিয়েছেন। পঞ্চায়েত সদস্য দাবি করেছেন, এমন রিপোর্ট কে, কি উদ্দেশ্যে দিয়েছে তার তদন্ত হওয়া দরকার। জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি অঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরাও বিদ্যালয়ের তরফে খোঁজ নিয়ে দেখেছি ছাত্রীটির আদৌ বিয়ে হয়নি। তা সত্ত্বেও কাদের মাধ্যমে এমন রিপোর্ট জমা পড়লো সেটাই আশ্চর্যের । বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, কন্যাশ্রী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারী ছাত্রী মণিমালা মণ্ডলের বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে বুথ লেবেল অফিসারের( বিএলও)তরফে রিপোর্ট জমা পড়ে।সেই কারণে ছাত্রীর আবেদন বাতিল হয়। তবে ছাত্রীর অভিযোগ জমা পড়ার পর বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গিয়েছে যে রিপোর্ট জমা পড়েছিল তা সঠিক নয়। ছাত্রীটি যাতে কন্যাশ্রী ভাতা পেতে পারে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

Suicide: ফসলের ক্ষতি, আরও এক চাষি আত্মঘাতী শস্যগোলায়, শুরু রাজনৈতিক তর্জা

জাওয়াদের প্রভাবে হওয়া অসময়ের বৃষ্টিতে ধান ও আলু চাষে ক্ষতি হয়ে যাওয়ার হতাশায় ফের পূর্ব বর্ধমানে আত্মঘাতী হলেন চাষি। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হল জেলার মেমারি ২ ব্লকের সাতগেছিয়া সংলগ্ন পাহারহাটি গ্রামের বছর ৫৩ বয়সী চাষি ভাস্কর মণ্ডলের মৃতদেহ। এই নিয়ে বিগত এক মাসের মধ্যে রাজ্যের শস্যগোলার পাঁচ জন চাষি আত্মঘাতী হলেন। যা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তর্জা। মৃত চাষি ভাস্কর মণ্ডলের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জাওয়াদের প্রভাবে দুদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়। তার করণে ভাস্করবাবুর পাকা ধান জমি ও আলু চাষের জমি জলে ডোবে। মৃতর ভাই অরুপ সরকার বলেন, তাঁর দাদার জমির পাকা ধান গাছ জলে ডুবে গিয়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও তাঁর দাদা যে বিঘে পাঁচেক জমিতে আলু বীজ বসিয়েছিল তাও জলে ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। চাষের জন্য মহাজনও ঋণ ছাড়াও অনেকের কাছে ভাস্কর বাবু দেনা করেছিলেন। কয়েক লক্ষ টাকা তাঁর দেনা ছিল। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন ভাস্করবাবু। দেনা কিভাবে শোধ করবেন তা বুঝে উঠতে না পেরে তিনি মানসিক হতাশা ও দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। মাঝে মধ্যেই আত্মহত্যা করব বলে বাড়ির লোকজনকে বলতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যারই পথ বেছে নিলেন। একই কথা বলেছেন মৃতর স্ত্রী রীণাদেবী। এদিনই মেমারি থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠায়। যদিও জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল দাবি করেছেন, চাষের কারণে ভাস্কর মণ্ডল আত্মঘাতী হননি। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন। একই দাবি করেছেন জেলার সহ কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।কৃষি আধিকারিক এমনটা দাবি করলেও কৃষি দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি হওয়া অসময়ের বৃষ্টিতে মেমারি ২ ব্লকে চাষের ভালোই ক্ষতি হয়েছিল। ১৭ হাজার হেক্টর আমন ধানের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ধান ক্ষতির মুখে পড়ে। এছাড়াও ৮৬০০ হেক্টরের আলু চাষের মধ্যে ৫২০০ হেক্টর আলু চাষের জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে মেমারি ২ ব্লকের পাহারহাটি এলাকায় ক্ষতির পরিমান ভালোই ছিল।এদিকে এই চাষির মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পোদ্দার বলেন, সাতগেছিয়া এলাকায় চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অথচ রাজ্য সরকারকে চাষিরা পাশে পেল না। তৃণমূলের মেমারি ২ ব্লকের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল অবশ্য বলেছেন, রাজ্য সরকার চাষিদের পাশে সবসময় রয়েছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

Picnic Accident: পূর্ব বর্ধমানে পিকনিকে ভয়ঙ্কর ঘটনা, দিঘির জলে তলিয়ে গেল কিশোর

দিঘির জলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল পিকনিকে যোগ দেওয়া এক কিশোরের। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতর নাম বিশ্বজিৎ দত্ত।তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোট থানার শীতলগ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ কিশোরের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতল গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ শনিবার নতুন বছর শুরুর দিন সকালে গ্রামের বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পিকনিক করতে বের হয়। গ্রাম থেকে ৮-১০ কিমি দূরে খুতরুন দিঘির পাড়ে তাঁরা পিকনিক করছিল। রান্নাবান্না শেষে সকলে মিলে দিঘির জলে স্নান করতে নামে। অভিযোগ দিঘিতে স্নান করতে নামার আগে বিশ্বজিৎ ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী মদ্যপান করে। এলাকা সূত্রে খবর পিকনিক করতে আসা কিশোররা দিঘিতে স্নান করতে নামার পর বেশ কিছুক্ষণ জলে দাপিয়ে বেড়ায়।তারপর পাড়ে উঠে তারা দেখে বিশ্বজিতের পোশাক পাড়ে পড়ে থাকলেও সে নেই। সঙ্গীরা ফের জলে নেমে তার খোঁজ চালায়। কিন্তু তারা খোঁজ পায় না। বেশ কিছুক্ষণ পর দিঘির জলে ভেসে ওঠে বিশ্বজিতের মৃতদেহ।

জানুয়ারি ০১, ২০২২
রাজ্য

Road Accident: কলকাতা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় জখম পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল বিধায়ক

বিশেষ কাজে কলকাতা যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জখম হলেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। বৃহস্পতিবার বেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হুগলীর বলাগড় থানা এলাকার করলা মোড়ে। দলীয় নেতৃত্বের কথায় জানা গিয়েছে, বিধায়কের চারচাকা গাড়ির সামনে একটি ডাম্পার যাচ্ছিল। ওই ডাম্পারটি হঠাৎ ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ায় বিধায়কের গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ডাম্পারটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মেরে বসে। বিধায়কের গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।এই দুর্ঘটনাতে জখম হন বিধায়ক। সেখানকার পুলিশ ডাম্পারটি আটক করে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কালনা ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায় জানিয়েছেন, এমএলএ স্টিকার লাগানো গাড়িতে চড়েই দেবপ্রসাদ বাবু এদিন কলকাতা যাচ্ছিলেন । হুগলীর বলাগড়ের করলা মোড়ে তাঁর গাড়ির সামনে থাকা চলন্ত ডাম্পারটি হঠাৎ দাড়িয়ে পড়তেই ঘটে দুর্ঘটনা। মাথায় চোট লাগায় কালনার একটি বেসরকারি ল্যাবে বিধায়কের মাথার সিটি স্ক্যান কারা হয়েছে। তাঁর অন্য কোনও সমস্যা নেই তবে মাথায় যন্ত্রণা করছে বলে বিধায়ক জানিয়েছেন। বিধায়কের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁকে কিছু দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রণববাবু এও বলেন, বিধায়কের গাড়ির আগে আগে যাওয়া ডাম্পারটি হঠাৎ কেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়লো সেটাই রহস্যের। প্রণববাবু ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গিয়েছেন দেবপ্রসাদ বাগ। ঈশ্বর তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন এই কামনা করি। বিধায়কের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Illegally Entering: অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হল এক বাংলাদেশী যুবক। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ সোমবার রাতে ভাতারের এওরা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃত যুবক পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁর নাম অজিত বিশ্বাস। বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার সাহিলকোপা এলাকায়। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বছর ৩০ বয়সী যুবক সোমবার রাতে ভাতারের এওড়া গ্রামের কাছে ঘোরাঘুরি। যুবককে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ওই যুবক স্বীকার করে সে আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। সাড়ে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে দালাল মারফত পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে বলে যুবক জানায়। যুবক আরও বলে ভারতে অনুপ্রবেশের পর সে কোনওভাবে ভাতার থানা এলাকায় চলে এসেছে। যুবক তাঁর যে নাম ঠিকানা জানিয়েছে তা সঠিক কিনা সেটা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কি উদ্দেশ্যে ওই যুবক ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Doctor BDO: রোগীদের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার বিডিও, গর্বের অন্ত নেই ভাতারবাসীর

ছোট বয়স থেকেই সরকারি আমলা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তাই ডাক্তারি পাশ করে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হওয়ার পরেও অরুণ কুমার বিশ্বাস সরকারী আমলা হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর সেই স্বপ্নও পূরণ হয়। তবে রোগীর চিকিৎসা করা থেকে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বিডিও অরুণ বিশ্বাস এখন ডাক্তার বিডিও নামেই স্বনামধন্য হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে ভাতারবাসীর গর্বের অন্ত নেই।আরও পড়ুনঃ মন্দির দর্শনে এসে পানা পুকুরে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু শিশু পুত্রেরমালদার মঙ্গলপুরে বাড়ি অরুণ কুমার বিশ্বাসের। তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০০৯ সালে ডাক্তারি পাশ করেন।তারপর এক বছর মানবাজার ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি করেন।অরুণবাবু জানান, চিকিৎসক হিসাবে মানবাজারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি করলেও আমলা হওয়ার বাসনা তিনি ত্যাগ করতে পারেননি। তাই হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। তবে ইউপিএসসি না পেলেও ১০১৭ সালে ডাব্লুবিসিএস পরীক্ষায় পাশ করেন। ২০১৯ সালে কাজে যোগ দেন। প্রথম পুরুলিয়ার ঝালদা ২ ব্লকের বিডিও হন। এখন তাঁর ঠিকানা ভাতার ব্লক। আমলা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ঠিকই তবে ছুটির দিনে তিনি রোগীদের চিকিৎসা করার কাজটাও সমানতালে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। ২০০২ সালে ২৬ ডিসেম্বর বিডিও সাহেবের মা হেমালিনিদেবী মারা যান। রবিবার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেই ভাতারের ব্লক অফিসের একটি ঘরে বসে রোগীর চিকিৎসা করার কাজ শুরু করেন বিডিও অরুণ বিশ্বাস। ওই দিন তিনি ২৬ জনের চিকিৎসা করেন। এখন থেকে সরকারি ছুটির দিনে রোগীর চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করবেন বলে বিডিও মনস্থির করেছেন। বিডিও অরুণ বাবু এদিন বলেন, প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব সামলে তবেই চিকিৎসা করবেন। যতটুকু সময় মিলবে ততটুকু সময় তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করতে চান। তাতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।আরও পড়ুনঃ শেষ হল জতুগৃহ-র শুটিংভাতারের কাঁচগোরিয়া গ্রামের মামনি ঘোষ ও বামশোর গ্রামের জিলাই শেখ এদিন বলেন, বিডিও সাহেব চিকিৎসা করবেন জেনে ব্লক অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন। বিডিও সাহেব ওষুধ লিখে দিয়েছেন। ডাক্তার বিডিও সাহেব চিকিৎসা করা শুরু করায় ভাতারবাসীর প্রভূত উপকার হবে বলে জিলাই শেখ মন্তব্য করেন।আরও পড়ুনঃ ২০ জন কাউন্সিলরেই পুরসভা বিধায়কের কব্জায়! বর্ধমানে কর্মীসভায় তৃণমূল নেতার বক্তব্যে ব্যাপক শোরগোলভাতার পঞ্চায়েত সমিতি সহ-সভাপতি সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের কর্মীদের শারীরিক অসুস্থতা হলে কাজের ফাঁকে বিডিও সহেব চিকিৎসার পরামর্শ দিতেন। এ বার তিনি ব্লকের রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া শুরু করায় অনেকেই উপকৃত হবেন। এর ফলে বিডিও সাহেবের ডাক্তারি-বিদ্যাতেও মরচে পড়বে না। মহকুমাশাসক (বর্ধমান উত্তর) তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনিক কাজ সামলে বিডিও তাঁর শিক্ষা প্রয়োগ করে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এটা সত্যি ভালো উদ্যোগ।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Murder: প্রেমিক যুবককে খুনের অভিযোগ ঘিরে হুলুস্থূল শক্তিগড়ে, ধৃত প্রেমিকার বাবা

প্রেমিক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠলো প্রেমিকা ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে। এমন অভিযোগ ঘিরে শনিবার দুপুরে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে। মৃত যুবকের পরিবার পরিজনসহ এলাকার বহু মানুষ এদিন অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে প্রথমে শক্তিগড় থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরে তাঁরা শক্তিগড় বাজারের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।বিক্ষোভ সামাল দিতে র্যাফ সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্থ এলাকাবাসীর চাপে পুলিশ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ১৭ বয়সী যুবক শেখ রফিকের বাড়ি শক্তিগড় থানার সন্তোষপুরে। যুবকের মা আমিরা বিবির অভিযোগ,গত বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎই নিঁখোজ হয়ে যায় তাঁর ছেলে রফিক। তার পর থেকে যুবকের আর কোন হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না।পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও যুবকের হদিশ পায়নি।পরিবারের সদস্যরা এদিন দাবি করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় রফিকের প্রেমিকা নিজেই রফিকদের বাড়িতে ফোন করে রফিকের খোঁজ নেয়। এরপরেই জিআরপি থেকে যুবকের বাড়িতে খবর আসে শক্তিগড় রেল স্টেশন সংলগ্ন ১ নম্বর কেবিনের পাশে পড়ে রয়েছে রফিকের মৃতদেহ। শেখ রফিকের মায়ের আরও অভিযোগ, এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর ছেলে রফিককে খুনের হুমকি দিয়েছিল পার্শ্ববর্তী গ্রাম মোল্লা পাড়া নিবাসী প্রেমিকার বাবা সেখ আমির। আমিরা বিবি এদিন দাবি করেন, তাঁর ছেলে রফিককে খুন করেছে প্রেমিকা ও তাঁর বাবা। যুবকের পরিবারের সদস্যরা এদিন বলেন, রফিকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাঁরা শক্তিগড় থানায় অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বিকার করে। শুধু অভিযোগ নিতে অস্বীকার করাই নয়, উল্টে প্রেমিকার বাড়ির চারিদিকে পুলিশ ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখে। মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা এদিন আরও জানান, প্রেমিকার বাবা শেখ আমির বড় বালি ব্যবসায়ী হওয়ায় তাঁর সঙ্গে শক্তিগড় থানার পুলিশের ঘনিষ্টতা বেশী। সেই কারণে রফিকের পরিবার প্রেমিকা ও তাঁর বালি কারবারী বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। রফিককে খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শক্তিগড় থানার পুলিশ যাতে অভিযোগপত্র জমা নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করে সেই দাবিতেই এদিন এলাকার সকলে পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে এলাকাবাসীরা বলেন। ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) অতনু ঘোষাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিকার বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাদ শুরু হয়েছে। শক্তিগড় থানার পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে এই অভিযোগ যদিও ডিএসপি মানতে চাননি।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২১
রাজ্য

Bhatar: পূর্ব বর্ধমানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তিন লক্ষ টাকার চেক চুরি, শ্রীঘরে জামাই

শ্বশুরবাড়ি এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৩ লক্ষ টাকার চেক চুরির দায়ে গ্রেফতার হল জামাই। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। ধৃত জামাইয়ের নাম সাইগন শেখ। তাঁর বাড়ি জেলার মেমারি থানার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। ভাতার থানার পুলিশ বুধবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তুলে পুলিশ তাঁকে ৫ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন জানায় । বিচারক ধৃতের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভাতারের বলগোনা গ্রামে সাইগন শেখের শ্বশুরবাড়ি। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই গ্রামের একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জনৈকা পম্পা গড়াই নামে এক মহিলা তাঁদের ৩ লক্ষ টাকার চেক চুরি যাওয়া বিষয়ে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই চেক ভাঙিয়ে কেউ গোষ্ঠির এ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়ছে বলেও ওই মহিলা পুলিশকে জানান। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে চেকের ওই ৩ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে মেমারি থানার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইগন শেখের ব্যাঙ্ক আ্যকাউন্টে। সাইগন শেখ ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠির এক মহিলার আত্মীয় বলে পুলিশ জানতে পারে। এরপর বুধবার রাতে মেমারির ডাঙ্গাপাড়ায় সাইগন শেখের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। গোষ্ঠীর চেক চুরি করে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আর কারও হাত রয়েছে কিনা তা জানতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৩, ২০২১
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানে সরকারি বাসে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক, কড়া তোপ সুকান্তর

সরকারি বাসে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ফায়দার জন্য মদত দেওয়ায় রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটছে। এর ফলে রাজ্যে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। রাজ্য়ের মানুষের কাছে এটা বড় আতঙ্কের কারণ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে কুলগড়িয়ায় দুর্গাপুরগামী সরকারি বাস থেকে ২০ টি ক্রুড বোমা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় কলকাতার নাজিরাল এলাকার যুবক সরফরাজ আনসারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাত্রী বোঝাই সরকারি বাস থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবককে বুধবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতা থেকে বাসটি দুর্গাপুর যাচ্ছিল। পানাগড় সেনা ছাউনির গোয়েন্দা বিভাগ মারফত খবর আসে সরকারি ওই যাত্রী বোঝাই বাসে বোমা পাচার হচ্ছে। সেই খবর পৌঁছায় গলসি থানার পুলিশের কাছে। সেনা গোয়েন্দারের খবরের সূত্র ধরে পুলিশ জাতীয় সড়কে নাকা চেকিং শুরু হয়। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্টীয় পরিবহণ সংস্থার দুর্গাপুরগামী বাসটিকে জাতীয় সড়কের কুলগড়িয়াতে আটকানো হয়। তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ বাসের সিটের নীচে থাকা একটি প্যাকেট উদ্ধার করে। বোমা গুলি রাখা ছিল প্যাকেটের মধ্যে। প্যাকেটে মোট ২০ টি ক্রুড বোমা ছিল। এরপর সিআইডির বোম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়। বুধবার বোম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা এসে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায় জানিয়েছেন, ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কি উদ্দেশ্যে, কোথায় বোমাগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।সরকারি বাসে এভাবে বোমা নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সরকারি বাসকে ব্যবহার করেছে অভিযুক্ত।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২১
রাজ্য

Municipal Administrator: বর্ধমানের পুর-প্রশাসক পদে প্রাক্তন সাংসদ, তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বর্ধমান পৌরসভার পুর-প্রসাশক পদে বদল। চিট-ফান্ড মামলায় বর্ধমান পৌরসভার পুর-প্রশাসক প্রনব চট্টোপাধ্যায়-এর সিবিআই গ্রেপ্তারির কারণে পুর-প্রসাশকের পদে বদল আনা হল। সোমবার আসানসোল সিজিএম আদালতে তোলার পর প্রনব চট্টোপাধ্যায়কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এই মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি মাসের ২৭ তারিখ হবে বলে জানানো হয়। মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বদলের কথা জানান। তবে বাকি সদস্যদের কোনও বদল হচ্ছে না এই মুহুর্তে।আরও পড়ুনঃ ভুঁইফোর বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মামলায় গ্রেফতার বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসকপ্রনব চট্টোপাধ্যায়পর জায়গায় নিয়ে আসা হল প্রক্তন সাংসদ মমতাজ সঙ্ঘমিতা-কে। মমতাজ সঙ্ঘমিতা পেশায় ডাক্তার ও অধ্যাপক। তিনি ২০১৪-২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বর্ধমানদুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মমতাজের স্বামী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। তাঁর স্বামী নুরে আলম চৌধুরি ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বীরভূম জেলার মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন।মমতাজ সঙ্ঘমিতামমতাজ সঙ্ঘমিতার পিতা ছিলেন মনসুর হবিবুল্লাহ, তিনি ব্রামফন্ট সরকার পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার এবং প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ছিলেন। ছোট থেকেই মার্ক্সবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পরই তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন।আরও পড়ুনঃ সোমবারের তুলনায় আরও নামল পারদ, মরশুমের শীতলতম মঙ্গলবারপ্রনবকে অপসারিত করে মমতাজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় মিশ্র পতিক্রিয়া শহরজুড়ে। সাধারণ মানুষের অনেকের-ই বক্তব্য প্রশাসক ও সহ-প্রসাশক দুটি পদেই বামফ্রন্ট-এর প্রক্তনীর লেবেল। তাহলে কি বর্ধমান শহরে আদি যোগ্য তৃণমূল নেতার অভাব? তৃণমূল নেতা সুজিত কুমার ঘোষকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জনতার কথা-কে বলেন, দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শেষকথা। আমরা দলের অনুগত সৈনিক, দলের আনুশাসন মেনেই আমরা চলব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর্থক জানান, এই সিদ্ধান্ত দলের বিরুদ্ধেই যাবে। সাংসদ হিসাবে তিনি চুড়ান্ত ব্যর্থ ছিলেন বলেই দ্বিতীয়বার তিনি পরাজিত হন বিজেপি পার্থীর কাছে। আবার দলের একাংশের বক্তব্য, মমতাজ সাংসদের দ্বায়িত্ব সামলে এসেছেন, বর্ধমান পৌরসভার কাজ করতে তাঁর কাছে খুব একটা সমস্যা হবে না।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২১
রাজ্য

Agriculture Act: কৃষি আইন বাতিল ঘোষণায় লাড্ডু বিতরণ বর্ধমানে

কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিল ঘোষণায় তৃণমূল সহ বিরোধী দলের নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কৃষকদের অভিনন্দন জানাতে সোমবার বর্ধমানের বড়নীলপুর মেড়ে মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়। এই তিন আইন বাতিল করার জন্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বর্ধমানের তৃণমূল নেতা সুজিত ঘোষ।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, আন্দোলনকারী কৃ্যক সংগঠন ও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্রমাগত প্রতিবাদের ফলেই এই তিন কৃষি আইন বাতিল ঘোষণা করেছেন তিনি। সোমবার তৃণমূল নেতা সুজিত ঘোষ বলেন, আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় কালা কৃষি আইনের টানা প্রতিবাদ করেছেন। পথে নেমে তৃণমূল আন্দোলন করেছে। কৃ্যকদের কোনও সমস্যা হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে ভাবে নির্দেশ দেবে সে ভাবেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আমরা কৃষকদের পাশে আছি। রাজ্য সরকার সবসময় কৃষকদের সঙ্গে থাকে। এদিকে দিল্লিতে আন্দোলনকারী কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছে, শুধু মুখে ঘোষণা করলে হবে না কৃষি আইন বাতিলের পক্ষে সংসদে বিল আনতে হবে মোদি সরকারকে।

নভেম্বর ২১, ২০২১
শিক্ষা

School Re-Open: অবশেষে রাজ্যে খুলছে স্কুলের দরজা, ছাত্র-ছাত্রীদের কলতানে মাতবে ক্লাসরুম

বাজলো ছুটির ঘণ্টা। দীর্ঘ প্রায় দুবছর হতে চলল ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের মুখ দেখেনি। অবশেষে বছর শেষে আজ, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের দরজা খুলতে চলেছে। স্কুলগুলিতে স্যানাটাইজারের কাজ শেষ। স্কুলে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। যদিও প্রথম দফায় নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হবে। তার মধ্যেও নানান নির্দেশিকা রয়েছে।রাজ্যের অন্য জেলার মত পুর্ব-বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্কুল আজ খুললো, সরকারি নির্দেশিকা ও কোভিড বিধি মেনে তাঁরা ছাত্রদের স্কুলে প্রবেশ করান। জেলার সিবিএসসি ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলে আজ ছাত্রদের গোলাপ ফুল দিয়ে নবীনবরন করে নেওয়া হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা-কে জানান অতিমারীর কারণে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আজ আবার স্কুল খুলতে চলেছে এবং ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে সন্তানদের ফিরে পেতে যাচ্ছি। শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের কাছে আবেদন দয়া করে ভুলে যাবেন না যে এই অবস্থার মধ্যে তাদের মনের মধ্যে অনেক চাপ গিয়েছে, হয় তো অনেকের মধ্যে কিছু খারাপ অভ্যাস জায়গা করে নিতে পারে। তাই তাদের সাথে সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করুন এবং তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য চরম ধৈর্য ধরে রাখার চেষ্টা করুন। আশা রাখছি খুব শীঘ্রই আমরা শিশুদেরও স্কুলে আসতে দেখব। এর থেকে ভালো দৃশ্য সমাজে আমরা কিছু আশা করতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও বাসের ভিতরে বাচ্ছারা মা-বাবা দের হাত ধরে স্কুল বাস/ক্যাব-র অপেক্ষায় যে কলতান করে তা কোনও সঙ্গীতের থেকে কম মধুর নয়। সকলের ভালো ও শুভ কামনা আশা করছি।যাত্রা শুরুএই সময় ছাত্রী-ছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাসে অভ্যস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ হয়নি লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার। শিক্ষামহল মনে করে, স্কুলে গিয়ে সরাসরি পড়াশুনার মজাটাই আলাদা। তাছাড়া স্কুলে গিয়ে না পড়লে প্রকৃত শিক্ষা সম্পূর্ণ হতে পারে না। বীরভূমের লাভপুরের শম্ভুনাথ কলেজের ভূগোল-র অধ্যাপক ডঃ কুনাল চক্রবর্তী জনতার কথাকে বলেন ছাত্রদের সাথে অফলাইনে ক্লাস নেওয়ার মজাই আলাদা। যে অনুভুতি সামনা-সামনি ক্লাস নিলে হয় তা কোনোদিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। আমরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা সঙ্গে যুক্ত, ছাত্রদের চোখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি তারা কতটা নিতে পারছে, সেটা কোনও দিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে, সেখানে ইন্টারনেট পরিসেবা ততটা উন্নত নয়, কেউ হয়তো অর্থনৈতিক অবস্থা কারনে মোবাইল কিনতে পারেনি। তবে অনলাইন ক্লাস একটা দিগন্ত খুলে দিল, এটা নিশ্চিত ভাবেই প্রমানিত যে কোনও কিছুই প্রতিবন্ধকতা নয়। মানুষ চাইলে সব কিছুকেই অতিক্রম করতে পারে। আশা রাখি খুব শীঘ্রই ছোটোদেরও স্কুল শুরু হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

U-19: সংসারে চরম অভাব–অনটন, দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্যে পূর্ব বর্ধমানের তরুণীর অদম্য লড়াই

দীর্ঘদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। মায়ের কাছে বেড়ে ওঠা। সেই মেয়ের চোখে একরাশ স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মেয়ে শ্রীলেখা রায়। স্বপ্নপূরণ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলার এই মহিলা ক্রিকেটার।ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই স্ত্রী ও কন্যাকে ছেড়ে চলে যান শ্রীলেখা রায়ের বাবা। মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। ৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছোট থেকেই মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে শ্রীলেখা। বাবাকে হারানোর পর রাস্তার ধারে ঘুঘনি বিক্রি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তবু খেলার নেশা তাকে কখনও ছাড়েনি। বাড়ির কাছে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখেই উৎসাহিত হয়েছিল ছোট্ট শ্রীলেখা। একদিন হাজির হয় অগ্রগামী ক্লাবে অনির্বান হাজরা ও নীলকন্ঠ পাঁজার কাছে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি শ্রীলেখা রায়ের। জেলা ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরমেন্সের পর জায়গা হয় দমদম বিডব্লুসিসি ক্লাবে। এখানেই শ্রীলেখা রায়কে ঘষে মেজে তৈরি করেন বাংলা মহিলা ক্রিকেটের দুই মুখ মিঠু মুখার্জি ও বিনীতা রায় মৌলিক। ২০১৫ সাল থেকেই এই কোচিং সেন্টারে প্রথাগত ক্রিকেট শিক্ষা শুরু।বাংলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ না পেয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলেখা পাড়ি দেয় মিজোরামে। দুটি মরশুম সেখানে কাটিয়ে আবার ফিরে আসে বাংলায়। এই মরশুমে বাংলার জার্সি গায়ে খেলছে শ্রীলেখা। তার নজরকাড়া পারফরমেন্সের সুবাদে এবছর মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়। চ্যালেঞ্জারে মোট চারটি দল অংশ নিয়েছিল। ভারত এ, বি, সি এবং ডি। ভারত এ দলে ছিল শ্রীলেখা। দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। একটা ম্যাচে ৩ ওভার এবং অন্য ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ এসেছিল। ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান করেছিল বাংলার এই অলরাউন্ডার।মা কলকাতায় বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে। সামান্য আয় দিয়েই মেয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শ্রীলেখা রায় বলছিল, যেদিন সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাব, সেদিনই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। অর্থের অভাবে খেলার সরঞ্জাম কিনতে পারে না শ্রীলেখা। চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি খেলে ফিরে আসার পর শ্রীলেখার বাড়িতে ছুটে গেছেন ভাতার থানার ওসি। তুলে দিয়েছেন খেলার সরঞ্জাম। ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীলেখার জন্য গর্বিত ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষকে আরও গর্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় শ্রীলেখা।

নভেম্বর ১৩, ২০২১
রাজ্য

NEET: পূর্ব বর্ধমানের ফুল বিক্রেতার ছেলের সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক ২৫০১, মুখ উজ্জ্বল বাংলার

ফিজিকস ১৮০ মধ্যে ১৪৬, কেমিস্ট্রিতে ১৮০ মধ্যে ১৬৫, বায়োলজিতে ৩৬০ এর মধ্যে ৩৫০। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার সেহারাবাজার সি কে ইনস্টিটিউশনের আকাশ পোদ্দারের সর্বসাকুল্যে প্রাপ্ত নম্বর ৭২০ মধ্যে ৬৬১। সর্বভারতীয় রেঙ্ক ২৫০১। পার্সেন্টাইল সর্বসাকুল্যে ৯৯.৮৪। হ্যাঁ নিট পরীক্ষায় আকাশের সাফল্যের খতিয়ান। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অবশ্যই আছে। কেননা, ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে আকাশের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭০০ মধ্যে ৬৭০, আর উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০ মধ্যে ৪৮৬।কেউ ভাবতেই পারেন আকাশের সাফল্য ব্যতিক্রমী কেন? অবশ্যই ব্যতিক্রমী! কেননা সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গেলে যে আনুষঙ্গিক অনুকূল পরিবেশের দরকার হয় আকাশের ক্ষেত্রে সেটা প্রায় ছিল না বললেই চলে! বাবা রায়নার সেহারাবাজার এর সামান্য একজন ফুল ব্যবসায়ী। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। দিনান্তে ফুল বিক্রি করে কটা টাকাই বা হয়। বিশেষ করে এই করোনাকালে সব অনুষ্ঠানই প্রায় বন্ধ। বন্ধ তাই ফুল কেনাও। বেঁচে থাকাটাই যাদের দুঃসহ ব্যাপার তাদের কাছে পড়াশোনা, সাফল্য এগুলো দিবাস্বপ্নের মতই। নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবার না বললেও, শাক আনতে মাছ পুরানো পরিবার বলাই যায়। একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ভাইয়ের খরচাও তো কম নয়। তবুও অসম্ভব জেদ সঙ্গী করে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড় টেনে সাফল্যের তীরভূমি তে পৌঁছে গেল আকাশ।পাঁচজনের দু-কামরা ঘরের একটি কোনই বরাদ্দ ছিল আকাশের পড়াশোনার জন্য। ইডেন গার্ডেন্সে যার খেলার ইচ্ছে তার প্র্যাকটিস ছোট্ট এক কানা গলিতে। একটি টিমটিমে লাইটের আলো, গোটা কতক পাঠ্যবই, জনা চারেক শিক্ষকের পরামর্শ আর বাবা মায়ের আশীর্বাদ পাথেয় করে আকাশের পথ চলা এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। নিশানায় অবিচল না থাকলে এই লক্ষ্যভেদ কখনোই সম্ভব নয়।বর্ধমান শহরের রাজা স্যার এবং সেহারাবাজার এর নীলlঙ্ক স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি, বাঁকুড়ার আকুই গ্রামের প্রসেনজিৎ স্যারের কাছে ফিজিকস এবং বর্ধমান শহরেরই ২০০৭ এর ডাক্তারী পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হওয়া কামিরুল ইসলামের শিক্ষিকা রুনু মুখোপাধ্যায়ের কাছে জুলজি ও বোটানি পড়েছে আকাশ। না, কোন অনলাইন বা অফলাইন কোচিং এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না সে। অর্থ ছিল না, ছিলনা মানসিকতাও। তার কথায়, চারজন টিউশনি স্যার এবং বিদ্যালয়ের স্যারদের সাহায্য নিয়েই এই সাফল্য। স্যাররা না থাকলে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নই দেখতে পারতাম না। প্রথমদিকে পড়াশোনা সময় কম দিলেও শেষের দিকে ভীষণ রকমের পরিশ্রম করেছি। কোন কিছুর হিসেব করে নয়। প্রয়োজন মতো। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, জেঠু জেঠিমা দের আশীর্বাদ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।ছাত্রের সাফল্যে স্বভাবতই খুব খুশি বায়োলজিক্যাল সাইন্স এর ম্যাডাম বর্ধমানের মালির বাগান এর রুনু মুখোপাধ্যায়। তিনি বললেন, হাই স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বেদনা অনুভব করি না এই আকাশ দের জন্য। প্রতিবছরই বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী আমাদের পরামর্শ মেনে পরিশ্রম করে ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্র যোগাড় করে। এদের পাশে দাঁড়াতে পেরে বেশ আনন্দ হয়। আকাশের সাফল্য নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত ছাত্র। ক্লাসের সময় শতকরা একশভাগ মনোযোগ দিত আর এটাই ওর সাফল্যের বড় দিক। ও অনেক বড় হবে। ওর কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন যেন সফল হয়!পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে যেত আকাশ। ক্যাপ্টেন হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি প্রথম পছন্দ হলেও, ক্রিকেটার হিসেবে তার আদর্শ ভারতীয় দলের হিটম্যান রোহিত শর্মা। প্রিয় গায়ক অরিজিত সিং এর গান শোনা এবং গাওয়া আকাশের আর এক শখ।প্রায় ৩৫ বছর আগে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে রোজগারের একমাত্র বাহন ছোট্ট ফুলের দোকানটি করেছিলেন বাবা। বিয়ের সিজনে বা বিভিন্ন ধরনের পুজো-অনুষ্ঠানের সময়ে মাঝেমধ্যে আকাশকেও বাবার দোকানে বসতে হতো। ফলের আসায় ফুল বিক্রি! দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য রোজগারে শিক্ষাদিক্ষা, খাওয়া পরা ও রোগ ব্যাধির ব্যালেন্স করা দুরূহ ব্যাপার। তাই জীবনটাকে অন্যরকমভাবে অনুভব করেছে সে।ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে পছন্দ করার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললো, আমি আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। আমাদের মত পরিবারগুলির কি কষ্ট আমরা জানি। চিকিৎসার খরচও প্রচুর। আমি চাই কোন গরিব মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। ডাক্তার হয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসবো। আর্থিক দারিদ্রতার মতো কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েই আমার এই ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েদের জন্য আমার বার্তা শুধু বই পড়ে যাও। স্কুলের স্যারেরা সাহায্য করবেনই। লক্ষ্যে স্থির থাকো। পরিশ্রম করে যাও। হতাশ নাহলে লক্ষ্যভেদ হবেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী তাহলে কার্ডিওলজি? অবশ্যই! ট্রাকে থাকছি। দৌড়ানো বন্ধ করছি না। আমাদের তো একটাই রাস্তা। আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিকূলতার মেঘ সরিয়ে ফুলের সুগন্ধের মতই আকাশের ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে পড়ল চতুর্দিকে।শ্রী অনিবার্য

নভেম্বর ০৭, ২০২১
রাজনীতি

Subrata Mukherjee: সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ছোটবেলা কেটেছে বর্ধমানে, শোকে পাথর জন্ম স্থানের গ্রাম

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল নাদনঘাটের নওপাড়া। অধুনা বর্ধমানের নওপাড়ায় ছোটবেলা কেটেছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। স্থানীয় সুষমা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি। তারপর বাবা চাকরিসূত্রে সপরিবারে নওপাড়া ছেড়ে বজবজে বসবাস শরু করেন। এখনও অনেকেরই অজানা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম স্থান পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের নওপাড়ায়। নওপাড়ায় বর্ষীয়াণ এই রাজনীতিকের মূর্তি স্থাপন করা হবে বলে এদিন ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।নওপাড়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের শৈশবের বন্ধুরা তাঁকে সন্টু বলে ডাকতেন। সেকথা জানালেন শামসুল শেখ, তিনকরি বৈরাগ্যরা। তাঁরা অতীতের পাতা থেকে স্মৃতি তুলে ধরলেন। প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময় পেয়ারা পারতে গিয়ে বোলতার কামড় খেয়েছিলেন সুব্রত, জানালেন তিনকরি। মন্ডা খেতে খুব ভালবাসেন। শামসুলের কথায়, খুব ভাল হাডুডু খেলতেন। এককথায় মন্ত্রী হলেও গ্রামকে কখনও ভোলেননি সুব্রত মুখোপাধ্যায়। গ্রামের জলপ্রকল্প, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নেও সুব্রতবাবুর ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।এখন মুখোপাধ্যায় পরিবারের ভিটে বলতে উঁচু মাটির ঢিভি। ঘর-বাড়ির কোনও চিহ্ন নেই। তাছাড়া গ্রামে তাঁদের কয়েক বিঘে চাষের জমি আছে। তা ভাগে চাষ চলছে বংশ পরম্পরায়। আগে ভাগের চাল নিতেন মুখোপাধ্যায় পরিবার। এই গ্রামেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বাবা শিক্ষক অশোক মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি বসেছে। গ্রামে রয়েছে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির। গ্রামে ঢোকার আগে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পুজো দিতেন সুব্রত। একথা জানালেন গ্রামের বাসিন্দারা। আজ নওপাড়ার বাসিন্দারা শোকে মুহ্যমান। তাঁর গ্রামের বন্ধুমহলও শোকে পাথর।

নভেম্বর ০৫, ২০২১
রাজ্য

Raina: পূর্ব বর্ধমানে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার সুপারি কিলার সহ ২

হেলমেটে মুখ ঢেকে দামি হাইস্পিড মোটর বাইকে চড়ে আগে আগে যাচ্ছে দুই যুবক। তাঁদেরই পিছন পিছন যাচ্ছে একটি চারচাকা গাড়ি। গত ২২ অক্টোবর বিকালে তাঁরা যাওয়ার সময়ে কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি ওই চারচাকা গাড়িতেই সওয়ার রয়েছে সুপারি কিলাররা। যে সুপারি কিলাররা ওইদিন সন্ধ্যায় নৃশংসভাবে খুন করে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার দেরিয়াপুরের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসা কলকাতার ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে। ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার অদূরে জামালপুরের হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সামনের রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল সেই ছবি। তারই সূত্র ধরে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার তদন্ত চালিয়ে এক সুপারি কিলার সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও নাগাল পেতে চাইছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শনিবার রাতে কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকা থেকে পুলিশ দুই জনকে ধরে। তাঁদের নাম জনিসর আলম ওরফে রিকি ও মহম্মদ সাদ্দাম। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, দুজনকে আটক করে প্রথমে রায়না থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার দুপুরে তাঁদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, নিহত ব্যবসায়ীর বাবার অভিযোগই সত্য। পারিবারিক শত্রুতার জেরেই খুন হতে হয়েছে ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে। সেই কারণেই সব্যসাচীকে খুনের ঘটনায় রিকি ৫০ লক্ষ টাকা সুপারি পেয়েছিল। খুনের ঘটনার পর রিকি নারকেলডাঙার বদলে আনন্দপুরের গুলশন কলোনীতে ডেরা নিয়েছিল।পুলিশ সেখান থেকেই তাঁকে ধরে। এরপরে ধরা হয় মহম্মদ সাদ্দামকে। এই সাদ্দামের চারচাকা গাড়িতে চেপেই অভিযুক্তরা ঘটনার দিন গিয়েছিল রায়নার দেরিয়াপুরে ব্যবসায়ী সব্যসাচীর দেশবাড়িতে। যে গাড়িটি গত দুমাস আগে সাদ্দাম কিনেছিল। সাদ্দাম ওই চারচাকা গাড়িটির ১৯তম মালিক। পুলিশ আরও জেনেছে গত ২২ অক্টোবর সব্যসাচীকে খুনের ঘটনার দিন ওই গাড়িতে সুপারি কিলার ও সাদ্দাম সহ আরো কয়েকজন ছিল।ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেই ফুটেজেই হাইস্পিড মোটর বাইকের পিছন পিছন চারচাকা ওই গাড়িটি যাওয়ার ছবি ধরা পড়ে। একই ছবি পুলিশ জামালপুরের মসাগ্রামের একটি দেকানের ও জানকুলির এক বাসিন্দার বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখতে পায়। পুলিশ পালসিট ও ডানকুনি টোল প্লাজা থেকেও ঘটনার দিনের রাতের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে।হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন দুপুর ২ টো ৩৯ মিনিট নাগাদ সব্যসাচী তাঁর গাড়িতে চেপে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স পার হয়ে সোজা রায়নার দিকের রাস্তা ধরে চলে যায়। এরপর ওইদিন বিকাল ৪ টে ৫৯ মিনিটে বাইক আরোহীদের পিছন পিছন একটি চারচাকা গাড়ি হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোলট্যাক্স অফিসের সামনে এসে দাঁড়ায়। সব্যসাচী তাঁর গাড়িতে চড়ে রায়নার দিকে সোজা চলে গেলেও ওই চারচাকা গাড়িটি সেই পথে যায় না। গাড়িটি টোল ট্যাক্স অফিসের ডান দিকে ঘুরে কালড়াঘাট ও জানকুলি গ্রামের রাস্তা ধরে এগিয়ে যায় দেরিয়াপুরের দিকে। এর খানিকটা বাদ সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিট নাগাদ রায়নার দিক থেকে এসে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স পেরিয়ে শুধুমাত্র বাইক আরোহীরা জামালপুরের দিকে সোজা চলে যায়। তারপর ওই সন্দেহজনক চারচাকা গাড়িটি রাত ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ দ্রুত গতিতে কালাড়াঘাট গ্রামের দিক থেকে ফিরে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের পিছনের রাস্তা দিয়ে রায়নার দিকে চলে যায়। তার খানিকটা বাদেই রাত ৮ টা ৫৯ মিনিট নাগাদ সব্যসাচী মণ্ডলের গাড়িটি প্রচণ্ড গতিতে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে জামালপুরের দিকে চলে যায়।সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া বাইকের পিছন পিছন চলা চারচাকা গাড়িটির বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। ওই গাড়িটির বিষয়ে খোঁজ চালাতে চালাতেই পুলিশ গাড়িটির মালিক মহম্মদ সাদ্দাম ও সুপারি কিলার রিকির কাছে পৌছে য়ায়।তদন্তকারীরা জেনেছেন, ঘটনার দিন রিকি সব্যসাচীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাকি যারা ওই চারচাকা গাড়িতে চড়ে গিয়েছিল তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সব্যসাচীকে খুন করে।নিহতের বাবা দেবকুমার মণ্ডল রায়না থানায় অভিযোগে জানিয়ে ছিলেন, তাঁর ছোট ভাই ও ভাইপোরা লোক লাগিয়ে সব্যসাচীকে খুন করিয়েছে। সুপারি কিলার ধরা পড়ার পর নিহতের বাবার সেই দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বহিরাগত সুপারি কিলারদের কারা রাস্তা দেখিয়ে সব্যসাচীর দেশবাড়ি রায়না দেরিয়াপুরে নিয়ে গেল? এই প্রশ্ন পুলিশকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে। সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
রাজ্য

Raids for Crackers: পূর্ব বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বাজি উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ৪

কালীপুজো ও দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো ও বিক্রি রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রচুর শব্দবাজি উদ্ধার করার পাশাপাশি ৪ জন বাজি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ আদালত যে কোনও ধরণের বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ করছে। শুধুমাত্র প্রদীপ অথবা মোমবাতি জ্বেলে দীপাবলি পালন করায়ছাড় দিয়েছে আদালত। আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর করতে শুক্রবার অভিযান আরও জোরদার করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মেমারি থানার পুলিশ মেমারির গৌরীপুরের একটি বাজি কারখানায় হানা দিয়ে দুটি বস্তায় মজুত করে রাখা ৫০ কেজি শব্দ ও আতসবাজি উদ্ধার করেছে।এছাড়াও ওই কারখানা থেকে ৫০ কেজির বেশি বাজি তৈরির উপকরণও পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবকিছু বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ অবৈধভাবে বাজি তৈরির অভিযোগে ওই কারখানার মালিক বাদল মুর্মুকে গ্রেপ্তার করেছে। একই দিনে শক্তিগড় থানার পুলিশ একটি দোকানে হানা দিয়ে ৫ কেজি শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগে পুলিশ জগন্নাথ খাঁ ও বনমালি হালদার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও জেলার মাধবডিহি থানার পুলিম বৃহস্পতিবার রাতে বিনোদপুর এলাকার নিতাই মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিয়ে ২ কেজি লঙ্কা বাজি, ১০টি গাছ বাজি, ২৫০টি শব্দবাজি ও ১৫টি তুবড়ি বাজি উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি, বাজি বিক্রি সংক্রান্ত বৈধ কোনও নথিপত্র ধৃতদের কেউই দেখাতে না পারার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ শুক্রবার ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় সিজেএম যদিও ধৃত সকলের জামিন মঞ্জুর করেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Covid Infection: উৎসব মিটতেই কোভিড সংক্রমণ উর্ধমুখী, বর্ধমানে নেওয়া হল কড়া পদক্ষেপ

শারদোৎসব মিটতেই পূর্ব বর্ধমান জেলায ক্রমশ উর্ধ্বমুখী হচ্ছে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ। নতুন করে বুধবার জেলায় ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ৭ জন বর্ধমান শহরেই বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধি রুখতে ফের আগের মতোই কড়া পদক্ষেপ নিল জেলার পুলিশ ও প্রশাসন।রাস্তায় নাকা চেকিং শুরু করার পাশাপাশি পুলিশ মাস্ক পড়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলাল এলাকার একাংশ গণ্ডিবদ্ধ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেন জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় বিধি লাগু করতে এদিন আশরে নামেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা।বিধি মেনে ওই গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় আগামী ৭ দিন সমস্ত দোকাণপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস ;বর্ধমান পৌরসভার সহ পুর-প্রশাসক আইনুল হক ,বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্তী সহ প্রশাসনের প্রতিনিধিরাএদিন গণ্ডিবদ্ধ এলাকা পরিদর্শে যান। তাঁরা সেখানকার মানুষকে সচেতন করেন। মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। এছাড়াও এলাকার সব দোকানপাট আগামী সাতদিন বন্ধ রাখার কথাও জানিয়ে দেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রশাসন সূত্রে খবর,এই মুহূর্তে বর্ধমান শহরে ৫৮ জন অ্যাক্টিভ কোভিড রোগী আছেন। তার মধ্যে ১৭ জনই শ্যামলাল এলাকার। তাই কঠোর ব্যবস্থা বলবত করার দিকেই যেতে হল প্রশাসনকে।বর্ধমান সদর মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিধি লাগু হওয়া এলাকা স্যানিটাইজ করা হবে। বাইরে থেকে লোক আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণে রুখতে এলাকায় পুলিশ পোস্টিং থাকবে । পৌরসভার সহ-প্রশাসক আইনুল হক জানিয়েছেন, আশাকর্মীরা এই এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করবেন। প্রয়োজনে বাসিন্দাদের আর টি পি সি আর টেস্ট করা হবে। কোন ভাবেই এলাকায় ভিড়বাড়তে দেওয়া হবে না। দোকান বাজার বন্ধ থাকলেও বাসিন্দাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কোনও জিনিসের অভাব হবে না। কোভিড আক্রান্তদের কাছে দুবেলা খাবার যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও এলাকার আক্রান্তদের বাড়ি থেকে বর্জ্যপদার্থ নিয়ে যাবে পুরসভার কর্মীরা।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

ইরানে ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন? ভারতের সামনে কি ভেঙে পড়ছে চাবাহার সমীকরণ!

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন। ইজরায়েলও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লিতে। কারণ খামেনেইয়ের মৃত্যু ভারতের কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের একাংশের।ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতে ভারত এতদিন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। শুধু শান্তির বার্তা দেওয়া ছাড়া কোনও পক্ষেই সরাসরি সমর্থন জানায়নি কেন্দ্র সরকার। কারণ ইজরায়েল ও ইরান দুই দেশই ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৌশলগত সঙ্গী। কাশ্মীর ইস্যুতেও অতীতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগও রয়েছে দুই দেশের মধ্যে।ইরানের সিস্তান বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বন্দরই ভারতের প্রধান ভরসা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানির জন্য এটি একটি বড় ট্রানজিট কেন্দ্র। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করেই ভারত এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। গত বছর পর্যন্তও নিয়মিত বিনিয়োগ চলেছে। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে এবং চিনের কৌশলের মোকাবিলায় ভারত এই বন্দরকে কেন্দ্র করে নিজস্ব করিডর গড়ে তুলতে চেয়েছিল।কিন্তু খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যদি ইরানে শাসন পরিবর্তন হয় এবং সেখানে আমেরিকা ঘনিষ্ঠ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধাক্কা খেতে পারে। মুসলিম বিশ্বে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে ইরানকে দেখত নয়াদিল্লি। নতুন সরকার যদি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে কাশ্মীর-সহ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে ইরানের অবস্থান বদলে যেতে পারে। এতে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎও তখন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এই পথ বন্ধ হলে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যেও প্রভাব পড়বে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি আমদানির পথ সংকুচিত হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইরানের পথেই সম্পন্ন হয়। সেখানে পরিবর্তন এলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আমেরিকার উপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা কূটনৈতিক দিক থেকে সবসময় সুবিধাজনক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে অস্থিরতা বাড়লে পাকিস্তান সুযোগ নিতে পারে। আমেরিকা যদি ইরান পরিস্থিতি সামলাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে ইসলামাবাদ কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। এতে পাকিস্তানে আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ইরানের এই অস্থিরতা ভারতের সামনে এক কঠিন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন নয়াদিল্লি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।মেটা বিবরণ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে বদলে যেতে পারে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ। চাবাহার বন্দর, রাশিয়া সম্পর্ক ও পাকিস্তান ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ।

মার্চ ০১, ২০২৬
রাজ্য

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নেই খোদ বিডিওর, উত্তরে তোলপাড় প্রশাসনিক মহল

দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পরই সামনে আসছে একের পর এক অসঙ্গতির অভিযোগ। এবার দেখা গেল, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নামই নেই ভোটার তালিকায়। ঘটনায় বিস্মিত প্রশাসনিক মহল এবং চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় স্তরেও।প্রসেনজিৎ কুণ্ডু আলিপুরদুয়ার পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। প্রায় দুবছর ধরে ময়নাগুড়িতে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং সহকারী রিটার্নিং আধিকারিকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর নামই বাদ পড়েছে। যদিও এই বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।আলিপুরদুয়ারের সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম ঘোষ বলেন, এতদিন প্রশাসনিক পদে থাকার পরও যদি এক জন আধিকারিকের নাম বাদ যায়, তা হলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাঁর মতে, তাড়াহুড়ো করে কাজ হওয়ার ফলেই এমন অসঙ্গতি সামনে আসছে।উল্লেখযোগ্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর। সেই সময় রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে এখন মোট ভোটার ৭ কোটি ০৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, নাম বাতিলের আবেদন জমা পড়ার পর প্রায় ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে। নতুন করে নাম যুক্ত হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের। ঠিকানাসহ সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে আরও ৬ হাজার ৬৭১ জন।ভোটার তালিকা নিয়ে এই নতুন বিতর্কে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে আরও কত অসঙ্গতি সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

মার্চ ০১, ২০২৬
কলকাতা

আতঙ্ক! দুবাইয়ের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে আটকে শুভশ্রী, পাশে ছোট্ট ইউভান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দুবাইয়ে আটকে পড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। ছেলে ইউভানের স্কুলে ছুটি পড়ায় তার ইচ্ছেতেই বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। এখন তিনি ও তাঁর ছেলে দুবাইয়েই একটি হোটেলে অবস্থান করছেন।অভিনেত্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শনিবারই তাঁরা দুবাই পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁরা পাম জুমেইরার একটি হোটেলে রয়েছেন। হোটেলের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানা গেছে। এর জেরে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সবাইকে ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রাজ জানান, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। ছেলে সঙ্গে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন তাঁরা। দুবাইয়ে তাঁদের পরিচিত ও আত্মীয়রা রয়েছেন, তাঁরাই প্রয়োজনে সাহায্য করছেন বলে জানা গেছে।মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পর্যটকদের উপরও। বহু ভারতীয় পর্যটক এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শুভশ্রী ও তাঁর ছেলে সুস্থ ও নিরাপদে দেশে ফিরবেন, সেই প্রার্থনাই করছেন অনুরাগীরা।

মার্চ ০১, ২০২৬
কলকাতা

বুট পরে নয়, চপ্পলেই পরীক্ষা! কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে, বাড়তি সতর্কতায় কমিশন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। এর আগে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলও প্রকাশিত হয়েছে। এবার পরীক্ষায় বসছেন শিক্ষাকর্মী পদপ্রার্থীরা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আগের পুরো প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নতুন করে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।আজ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন কোনও বাহিনী যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বুট পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। সাধারণ চপ্পল বা হাওয়াই চটি পরে আসতে হবে। স্বচ্ছ কলম এবং কাচের বোতলে জল নিয়ে আসার নির্দেশও বহাল রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রাজ্যজুড়ে মোট ১৬৯৩টি কেন্দ্রে এই লিখিত পরীক্ষা হচ্ছে। মোট শূন্যপদ রয়েছে ২৯৮৯টি। আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৪ হাজার। দুপুর ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন বহু পরীক্ষার্থী। এক প্রার্থী বলেন, আগে পরীক্ষা দিই, তারপর বোঝা যাবে কী হয়।২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে আগের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। সেই কারণেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ ডি পরীক্ষা। দীর্ঘ বিতর্কের পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।

মার্চ ০১, ২০২৬
বিদেশ

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক! ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘এবার আঘাত এলে নজিরবিহীন জবাব দেবে আমেরিকা’

ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইরান যদি আরও বড় আঘাত হানে, তা হলে আমেরিকা এমন জবাব দেবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান যদি হুমকি মতো খুব বড় আক্রমণ চালায়, তা হলে আমেরিকার পাল্টা আঘাত হবে নজিরবিহীন।এই হুঁশিয়ারির আগে ইরান জানিয়েছিল, ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সামরিক অভিযান শুরু করা হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই এই ঘোষণা করে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস জানায়, খুব শিগগিরই বড় আকারের অভিযান শুরু হবে।রবিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানায়, ইজরায়েল ও আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের নেগেভ ও ডেড সি অঞ্চলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। তেল আবিবে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়।ইরানের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডই বড় গণআন্দোলনের সূচনা করবে। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমও জানিয়েছে, তেহরানে নিজের বাসভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনেইয়ের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।হামলায় খামেনেইয়ের পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাই। পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মহম্মদ পাকপৌরও নিহত হয়েছেন বলে খবর।মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন সবার নজর, পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় ইরান ও আমেরিকা।

মার্চ ০১, ২০২৬
দেশ

বিশ্ব কাঁপানো সিদ্ধান্ত! হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, তেলের দামে আগুন লাগার আশঙ্কা

ইরান-আমেরিকার সংঘাত নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এবার সত্যি হল। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার জেরে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সাতটি দেশজর্ডন, কুয়েত, কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল হামলার দাবি করেছে তেহরান। এরই মধ্যে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী।ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের লেনদেনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাত্র প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার চওড়া এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় বিশ শতাংশ তেল আমদানি ও রফতানি হয়। বিশ্বে প্রতি পাঁচ ব্যারেল তেলের মধ্যে একটি ব্যারেল এই পথ ধরে আসে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার ও ইরানমধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব বড় তেল উৎপাদনকারী দেশই এই পথ ব্যবহার করে এশিয়ার বাজারে তেল পাঠায়। ভারত, চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই তেলের বড় ক্রেতা।হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় চাপে পড়তে পারে ভারতও। সূত্রের খবর, বর্তমানে ভারতের কৌশলগত তেল ভাণ্ডার দিয়ে প্রায় চুয়াত্তর দিন দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তার পর বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। তেল সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারেও।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্প্রতি তেল আমদানি বাড়িয়েছিল ভারত। গত বছরে যেখানে প্রায় বিশ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনা হয়েছিল, সেখানে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ছাব্বিশ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছয় আমদানি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই এসেছিল এই পথ ধরে। এর আগে সেই পরিমাণ ছিল প্রায় চল্লিশ শতাংশ।হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত পাইপলাইন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সরবরাহের পরিমাণ কম।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকেও আবার তেল কেনার কথা ভাবতে হতে পারে ভারতকে। কিন্তু তাতেও জটিলতা রয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আগে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ফলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। আমেরিকা চাইছে ভারত তাদের কাছ থেকে তেল কিনুক। পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও আঙ্গোলা, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে।

মার্চ ০১, ২০২৬
বিদেশ

কাবুল কাঁপাল বোমা ও গুলির শব্দ! পাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি তালিবানের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই পাক-আফগান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। চতুর্থ দিনে পড়ল দুই দেশের এই লড়াই। রবিবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তালিবান সরকারের অভিযোগ, মধ্য কাবুলের একাধিক এলাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে। পালটা জবাব দিয়েছে তালিবানও। শুরু হয়েছে গুলির লড়াই।সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আলো ফোটার আগেই কাবুলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। এখনও পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট খবর মেলেনি। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান আবারও রাজধানীতে বিমান হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি জানান। কাবুলবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ারও আবেদন করেন তিনি।এর আগে গত রবিবার পাকিস্তানের হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিবান প্রশাসনের বক্তব্য, পাকিস্তানের অন্তত বারোটি সামরিক পোস্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পাকিস্তানের বহু সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ মেলেনি। শুক্রবার পাকিস্তানও আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। রবিবারও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।তালিবান আরও দাবি করেছে, জালালাবাদ এলাকায় একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এমনকি এক পাক বায়ুসেনা কর্মকর্তাকে বন্দি করার কথাও জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দুই দেশের এই সংঘাত বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।

মার্চ ০১, ২০২৬
কলকাতা

দুবাই-দোহা-আবুধাবি রুট বন্ধ! মাঝআকাশের সংঘাতে নাজেহাল কলকাতার যাত্রীরা

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ল কলকাতায়। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার একের পর এক আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করা হয়েছে। কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিগামী একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে দুবাইগামী এমিরেটসের একটি উড়ান, দোহাগামী কাতার এয়ারওয়েজের একটি উড়ান, আবুধাবিগামী এয়ার আরবিয়ার একটি উড়ান এবং আবুধাবিগামী এতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। মোট চারটি উড়ান বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক সংঘাতের খবর শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু উড়ান বাতিল হওয়ার বিষয়ে আগাম কোনও বার্তা বা তথ্য তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার তরফে কোনও স্পষ্ট বার্তা না পেয়ে তাঁরা বিমানবন্দরে পৌঁছে জানতে পারেন পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে বহু যাত্রীকে।শনিবার সকালে তেহরানের উপর পরপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেন, ওই অভিযানে আমেরিকারও অংশগ্রহণ ছিল। ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর পরেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ইজরায়েল ছাড়াও সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলিতেও হামলার খবর সামনে আসে। এই সংঘাতের জেরেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং তার প্রভাব এসে পড়ে ভারতের বিমান পরিষেবাতেও।পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক উত্তেজনার আবহে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্চ ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal