• ৪ কার্তিক ১৪৩৩, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Afganistan

বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে হঠাৎ অনিশ্চয়তা! কেন সূচি বদলের আবেদন দিল্লি পুলিশের?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ব্রিকস সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত থাকবে। তাঁদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য দিল্লিতে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে কয়েক হাজার দর্শককে নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ।এই কারণেই ম্যাচের দিন বদলের জন্য দিল্লি ক্রিকেট সংস্থাকে অনুরোধ করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেঞ্জের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিডিসিএ-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকবে।পুলিশের আশঙ্কা, ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দেখতে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার দর্শক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আসতে পারেন। ফলে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের সঙ্গে সাধারণ দর্শকদের বিপুল ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং তার আশপাশের এলাকাতেও এমনিতেই যানবাহন ও পথচারীদের চাপ থাকে। ম্যাচের সময় অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল এবং বিভিন্ন জায়গায় পার্কিংয়ের চাপ বাড়লে রাস্তার জায়গা আরও কমে যেতে পারে। ফলে যানজটের আশঙ্কাও বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিশেষ করে বিএসজেড মার্গ, মাতা সুন্দরী কলেজ, রাজঘাট এবং বাল ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পার্কিং হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, ডিডিইউ মার্গ, মিন্টো রোড, কমলা মার্কেট এবং সংলগ্ন এলাকাতেও যান চলাচলের উপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুলিশের কাছে বড় চিন্তার বিষয়। ব্রিকস সম্মেলনের কারণে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের বহু কর্মীকে বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভিভিআইপি-দের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জায়গায় পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা সামলাতে হবে। তার মধ্যে হাজার হাজার দর্শকের ক্রিকেট ম্যাচ হলে বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।এই পরিস্থিতিতে ডিডিসিএ-কে ১৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সুবিধামতো অন্য কোনও দিনে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ম্যাচের সূচি বদলানো হলে সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়েই নিরাপত্তা ও যান চলাচল আরও ভালো ভাবে সামলানো সম্ভব হবে।এখন ডিডিসিএ এই অনুরোধে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের। ম্যাচের দিন বদলাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ব্রিকস সম্মেলনের কারণে ১৩ সেপ্টেম্বরের ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

কাবুলে রক্তাক্ত রাত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রশিদ খানরা

পবিত্র রমজান মাসে কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই হামলায় অন্তত চারশো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাসপাতালের বড় অংশ। আগুনে জ্বলতে থাকে পুরো এলাকা। এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফগানিস্তানের একাধিক ক্রিকেটার।রশিদ খান, মহম্মদ নবি এবং নবীন উল হক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে সোশ্যাল মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই ধরনের হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। রমজানের মতো পবিত্র মাসে এমন ঘটনা আরও বেশি কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তারা।নবীন উল হক এক পোস্টে লেখেন, তিনি ইজরায়েল এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখছেন না। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। রমজান মাসে মুসলিম দেশ হয়েও এমন হামলা চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।রশিদ খানও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, কাবুলের হাসপাতালে হামলার খবর শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির এই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।মহম্মদ নবি তার পোস্টে লেখেন, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ। তাদের উপর এই হামলা অত্যন্ত নিষ্ঠুর। তিনি জানান, অনেক মা তাদের সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু সেই সন্তানরা আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।উল্লেখ্য, এর আগেও পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা। এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিযোগিতাও বয়কট করা হয়েছিল।এই নতুন হামলার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক আদৌ বজায় রাখা হবে কি না। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২৬
বিদেশ

পাকিস্তানে ভয়াবহ ড্রোন হামলা! অপারেশন সিঁদুরে বিধ্বস্ত রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত। পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন। রবিবার গভীর রাতে এই হামলার কথা সরকারি ভাবে জানানো হয়।আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান যেভাবে আকাশপথে লাগাতার হামলা চালাচ্ছিল, তারই জবাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সফলভাবে আকাশ অভিযান চালিয়েছে আফগান বায়ুসেনা। পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দপ্তর ও ঘাঁটিকে নিশানা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও পাকিস্তান আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে একইভাবে জবাব দেওয়া হবে।পাকিস্তান আগেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। দুই পক্ষেই হতাহতের খবর মিলেছে, যদিও সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে পাক-আফগান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।নূর খান বিমানঘাঁটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ঘাঁটি। ইসলামাবাদ থেকে মাত্র পঁচিশ কিলোমিটার দূরে এই ঘাঁটির অবস্থান। কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগেও এই ঘাঁটি আক্রমণের মুখে পড়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বাহিনীর হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সেই ঘাঁটি মেরামত করা হয়।সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তালিবান প্রশাসন সামাজিক মাধ্যমে ড্রোন উড়ানের ভিডিও এবং হামলার ছবি প্রকাশ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নতুন করে এই হামলায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

মার্চ ০২, ২০২৬
বিদেশ

কাবুল কাঁপাল বোমা ও গুলির শব্দ! পাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি তালিবানের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই পাক-আফগান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। চতুর্থ দিনে পড়ল দুই দেশের এই লড়াই। রবিবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তালিবান সরকারের অভিযোগ, মধ্য কাবুলের একাধিক এলাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে। পালটা জবাব দিয়েছে তালিবানও। শুরু হয়েছে গুলির লড়াই।সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আলো ফোটার আগেই কাবুলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। এখনও পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট খবর মেলেনি। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান আবারও রাজধানীতে বিমান হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি জানান। কাবুলবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ারও আবেদন করেন তিনি।এর আগে গত রবিবার পাকিস্তানের হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিবান প্রশাসনের বক্তব্য, পাকিস্তানের অন্তত বারোটি সামরিক পোস্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পাকিস্তানের বহু সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ মেলেনি। শুক্রবার পাকিস্তানও আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। রবিবারও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।তালিবান আরও দাবি করেছে, জালালাবাদ এলাকায় একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এমনকি এক পাক বায়ুসেনা কর্মকর্তাকে বন্দি করার কথাও জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দুই দেশের এই সংঘাত বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।

মার্চ ০১, ২০২৬
বিদেশ

পাক–আফগান রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাকিস্তানের পাশেই আমেরিকা! ট্রাম্পের মন্তব্যে চাঞ্চল্য

ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাকআফগান সংঘাত। রক্তক্ষয়ী এই লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইসলামাবাদকেই সমর্থন করছে আমেরিকা। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো। এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করবেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একজন মহান নেতা এবং সে দেশের সেনা প্রধানকেও তিনি সম্মান করেন। পাকিস্তান ভালো কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের বক্তব্য, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের। তালিবান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন তালিবানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আমেরিকা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।সংঘাতের সূত্রপাত গত রবিবার। পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সীমান্ত পোস্ট এখন তাদের দখলে। সেই হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় পাল্টা আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। দুই পক্ষই সেনা মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।পাকিস্তানের দাবি, কান্দাহার আকাশে তাদের যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোবে দেশ। অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তালিবান তাদের আত্মঘাতী বাহিনী সক্রিয় করেছে বলেও খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিদেশ

সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, তালিবানের দাবি পঞ্চান্ন পাক সেনা নিহত, জবাবে ভয়ংকর বিমান হামলা

আফগানিস্তানের তালিবান সরকার জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের হামলার জবাব দিতেই তারা পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় তুমুল লড়াই শুরু হয়। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। তালিবান দাবি করেছে, সীমান্তের কাছে একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও উনিশটি পোস্ট দখল করা হয়েছে। চারটি পোস্ট ছেড়ে সরে গিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের হামলার জবাবে আকাশপথে পাল্টা আঘাত হেনেছে। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তালিবানের মুখপাত্র জ়াবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তানি সেনা কাপুরুষের মতো বিভিন্ন শহরে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে। তবে তাঁর দাবি, তাতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি রাত আটটা থেকে অভিযান শুরু হয়। সম্প্রতি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় মহিলা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, তারই প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকতিকা, খোস্ত, নানঘারহার ও কুনার সহ একাধিক সেক্টরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তালিবান সরকারের দাবি, মোট পঞ্চান্ন জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষে তালিবানের আট যোদ্ধা নিহত ও এগারো জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। নানঘারহারে পাকিস্তানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেরো জন আফগান নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি।তবে পাকিস্তানের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের দাবি, সংঘর্ষে মাত্র দুই জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন। উল্টে ছত্রিশ জন আফগান সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি দাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিদেশ

রমজান মাসে পাকিস্তানের বর্বর হামলা আফগানিস্তানে! নারী ও শিশুরা নিহত, ভারত সরব

পাকিস্তান বারবার নিজেকে ইসলামের ধারক-বাহক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও এবার রমজান মাসে আফগানিস্তানের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলা শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বেছে বেছে মসজিদ ও মাদ্রাসা লক্ষ্য করে পাকিস্তান গোলা ছুঁড়েছে।আফগান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে নাঙ্গারহার এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে জখম হয়েছেন আরও অনেকে। পাকিস্তান দাবি করেছে, এই হামলার উদ্দেশ্য আফগান সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গিঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা। তবে স্থানীয়রা বলছে, হামলার লক্ষ্য সরাসরি মসজিদ ও মাদ্রাসা। স্থানীয় আবদুল্লা জান, নাসিম গুল ও মহম্মদ জুবের জানিয়েছেন, এখানে কোনও সামরিক ঘাঁটি নেই। তবু পাকিস্তান আমাদের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে। অন্তত ১০ লাখ আফগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই আতঙ্কে কাঁপছে।তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, নিরীহ মহিলা ও শিশুদের হত্যার জবাব দেওয়া হবে এবং সময়মতো বদলা নেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, রমজান মাসে আফগানিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
বিদেশ

ফের পাক হামলা, এক রাতেই খুন ৯ শিশু! উত্তপ্ত আফগান সীমান্ত

আফগানিস্তানে ফের বোমা হামলা পাকিস্তানের। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা চিরে আচমকাই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল সীমান্তবর্তী এলাকা। সেই হামলায় প্রাণ গেল নয়-নয়টি শিশু এবং এক মহিলার। আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের বাড়িতে সরাসরি বোমা ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বালক এবং চারজন বালিকা। এক মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল কয়েকটি পরিবার।মুজাহিদ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ মানুষের ঘরে বোমা ফেলেছে। ৯ শিশু এবং এক মহিলা শহিদ হয়েছেন। আফগান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, কোনও সামরিক লক্ষ্য নয়, এই হামলা ছিল স্পষ্টভাবে বেসামরিকদের ওপর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে কাবুল।সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চার আফগান নাগরিক। তবে পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। সীমান্তেই যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে, তা আর আড়াল করা যাচ্ছে না।গত মাস থেকেই ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দুই দেশই একে অন্যকে দোষারোপ করছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এক্ষেত্রে পাকিস্তান চাইছে, সীমান্ত বরাবর একটি বাফার জোন তৈরি হোক।কাবুল অবশ্য টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তানের দাবিই অবৈধ। ফলে তিন দফা শান্তি বৈঠকেও কোনও সুরাহা আসেনি। আর তারই মাশুল আবারও দিতে হল নিরীহ মানুষকে।এই ঘটনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ভারত ফ্যাক্টর টেনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের হাতের পুতুল হয়ে নাচছে আফগানিস্তান। পাশাপাশি তালিবানকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেনআক্রমণ করলে তার ৫০ গুণ জবাব দেবে পাকিস্তান।ফলে সীমান্তে আগুন আরও জ্বলছে। আর দুই দেশের রাজনৈতিক অন্ধকারে একের পর এক নিশ্চিহ্ন হচ্ছে শিশুর মুখ, ঘরের আলো, অগণিত স্বপ্ন।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
বিদেশ

যুদ্ধে হার, এবার কি প্রতিশোধ? আফগানিস্তানে সরকার বদলের হুমকি দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমানায় উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু এবার যেন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বক্তব্য, যদি তালিবান সমঝোতার পথে না আসে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে, তবে কাবুলে সরকারবিরোধী শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেবে তারা।নিউজ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানপাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করা তুরস্কের আধিকারিকদের সামনেই পাকিস্তান এই কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, তালিবান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জায়গা করে দিচ্ছে। পাক সেনা চায়, টিটিপির সব নেতা হস্তান্তর করুক আফগানিস্তান, এবং সীমান্ত বরাবর ডুরান্ড লাইনে বাফার জোন তৈরি হোক।কিন্তু আফগানিস্তান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। কাবুলের বক্তব্য, টিটিপির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই, এবং তারা কখনওই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে নিজের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয় না। সেই অবস্থান থেকেই কোনো লিখিত চুক্তিতে যেতে রাজি হয়নি তালিবান সরকার। আর এই অচলায়তনের মধ্যেই পাকিস্তান প্রকাশ্যে হুমকি দিলএই সরকার না মানলে কাবুলে নতুন সরকার গঠনে তারা সক্রিয় ভূমিকা নেবে।শুধু কথাই নয়, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বহু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে। নাম রয়েছে হামিদ কারজাই, আশরাফ গনি, আহমেদ মাসুদ, এমনকি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা আব্দুল রশিদ দোস্তমেরও। আইএসআই-র তরফে তাঁদের পাকিস্তানে আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি। লক্ষ্য একটাইপাকিস্তানের মাটি থেকেই সরকারবিরোধী শক্তিকে উসকে তালিবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা।গত কয়েক মাসে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় তিন দফা বৈঠক হয়েছে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে। কিন্তু একটিও বৈঠক কাজে দেয়নি। পাকিস্তান দাবি জানিয়ে গিয়েছে, আর তালিবান জবাব দিয়েছে স্পষ্ট ভাষায়টিটিপিকে তারা আশ্রয় দেয়নি এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তানের দাবি মানা সম্ভব নয়।এই অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক এমন উত্তপ্ত জায়গায় পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
দেশ

লালকেল্লা বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’ চিকিৎসক আফগানিস্তানে? ইন্টারপোলের পাহারা বাড়াল ভারত

দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ডে নয়া মোড়। তদন্তে সামনে এসেছে দক্ষিণ কাশ্মীরের এক চিকিৎসকের নামমুজাফ্ফর রাঠার। তিনি এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর থেকেই পলাতক মুজাফ্ফর পাকিস্তান পেরিয়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে। তাকে ধরতেই এবার ইন্টারপোলের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। লক্ষ্যরেড কর্নার নোটিস জারি।মুজাফ্ফর রাঠার হলেন আরও এক অভিযুক্ত চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠারের ভাই। জানা গিয়েছে, দুজনেই দক্ষিণ কাশ্মীরের কাজিগান্দ এলাকার বাসিন্দা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখেছেন, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল মুজাফ্ফরের। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে তার নাম। পাশাপাশি সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য২০২১ সালে উমর নবি এবং মুজাম্মিলের সঙ্গে তুরস্কে গিয়েছিলেন মুজাফ্ফর। সেখানে গিয়েই তিনজনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার খবর মিলেছে তদন্তে।তদন্ত অনুযায়ী, গত আগস্ট মাস থেকেই দেশছাড়া মুজাফ্ফর। সেই থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নাম ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই জম্মুকাশ্মীর পুলিশ রেড কর্নার নোটিসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্তকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, বর্তমানে এই তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে এসআইএ-র হাতে। তাই রাজ্য পুলিশ সরাসরি ইন্টারপোলের কাছে যেতে পারে না। কেন্দ্রীয় সংস্থার মারফতই রেড কর্নার নোটিসের আবেদন পাঠানো হবে।এর মধ্যেই লালকেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ড আরও চাপ বাড়িয়েছে তদন্তকারীদের উপর। কয়েকদিন আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঐতিহাসিক লালকেল্লা চত্বর। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের। ঘটনার পর থেকেই একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কিছু চিকিৎসক। শুক্রবার বাংলা থেকেও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ।বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসা চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে আদিল আহমেদ রাঠার, মুজাফ্ফর আহমেদ, মুজাম্মিল শাকিল এবং শাহিন সইদের। ফলে তাঁরা আর ভারতে কোনও হাসপাতাল অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পেশা চালাতে পারবেন না। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিস্ফোরণ-কাণ্ডের নেপথ্যে সংগঠিত নেটওয়ার্ক ছিল, যার আঁতুড়ঘর কাশ্মীর থেকে বিদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
সম্পাদকীয়

অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন

অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! অমাবস্যায় চাঁদের উদয় এ আবার হয় নাকি? বাংলা সাহিত্যের পরম সম্পদ কালকুটের উপন্যাসে এই বিস্ময় জড়ানো প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। কালকুট লিখেছেন এ হল তান্ত্রিক বাউল সম্প্রদায়ের সাধনার এক স্তরে পৌঁছনোর পরের উপলব্ধি। । এ কথা এখন তোলা থাক। সোমবার থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন। ভিসা পেলেই সেই সম্মেলনে যোগ দিতে কূটনীতিকদের একটি দল পাঠাতে চায় আফগানিস্তান। যদিও জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার তালিকায় তারা ছয় নম্বরে। তবু, দুষনরোধে অংশ নিতে চায় তালিবান। সাম্প্রতিক এই খবরে চোখ পড়তেই কালকুটের ওই উপন্যাসের কথা মনে এল। দুদিন আগে আরও একটি তালিবানি খবর চোখ টেনেছিল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানের মেয়েদের জীবনযাপনে একের পর এক বেড়ি পরিয়ে চলেছে তালিবান সরকার। খবরে প্রকাশিত মেয়েদের ঘরে বা একান্তে অন্য মহিলার উপস্থিতিতে গলার স্বর যেন শোনা না যায়। কন্ঠ রোধের এই নয়া ফরমান জারি করেছে তালিবান। অনেক দিন আগেই মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, জনসমক্ষে পা রাখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এই ধর্মোন্মাদ গোষ্টী। এবার নিভৃতেও মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণে বারণ। স্বাধীন, সৃষ্টিশীল জীবন যাপনের স্বপ্ন শুধু মেয়েদের নয় সুস্থ বোধ সম্পন্ন সব মানুষের চোখ থেকেই মুছে দিয়েছে তালিবান। অন্ধ শাসনে নিষ্পেষিত হয়ে মানুষের নিভে যাওয়ার কাহিনীর পাহাড় জমছে আফগানিস্তানে। যে দেশে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার পরিবেশ উধাও সেই দেশ চলেছে বিশ্ব পরিবেশের উন্নয়নে। কালকুটের উপন্যাসে যে তন্ত্র সাধনায় চূড়ান্ত অমানিশা আর চন্দ্রকিরণের বৈপরীত্যের কথা বলা হয়েছে সেই বিপরীত অবস্থানের কথাই মনে করাচ্ছে তালিবান।দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন ছড়িয়ে রেখেছে তারা হঠাৎ কেন পরিবেশ দূষণ নিয়ে এত আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র তালিবান সরকারকে ব্রাত্য করে রেখেছে, তবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় আমরাও অংশ নিতে চাই । যে দেশে জন্মভিটেতেই মানুষ ব্রাত্য, যে ভূখণ্ডে মানুষ আকাশ, পাখি বা পতঙ্গের অবাধ বিচরণের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাদের এই উলটপুরণ আসলে ওই ব্রাত্য দশা ঘোচানোর আপ্রাণ চেষ্টা। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সই করেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু, তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এই সমস্যা নিয়ে তালিবান সরকারের এক আমলা বলেছেন, জলবায়ু সমস্যা সমগ্ৰ মানবজাতির সমস্যা। তাই রাজনীতি কে এই বিষয়েটি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। ঢাকার কুট্টি গাড়োয়ানদের কথা যারা জানেন তাদের মনে হতে পারে দেশের মানব সম্পদ কে আস্তাকুঁড়ে ফেলে মানবজাতির সমস্যা নিয়ে এই চিন্তা শুনে কুট্টিদের ঘোড়া রাত অট্টহাস্য করত না মুচকি হাসলো?

নভেম্বর ১২, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

TWO World Cup : আফগানদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ করল কিউয়িরা

নিউজিল্যান্ডআফগানিস্তান ম্যাচের দিকেই তাকিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদি কোনও ভাবে অঘটন ঘটে। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ হল না। রবিবার আবু ধাবিতে ১১ বল বাকি থাকতে আফগানিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় দল হিসেবে গ্রুপ ২ থেকে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল নিউজিল্যান্ড। আফগানিস্তানকে কিউয়িরা হারিয়ে দিতেই টি২০ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল ভারতের। ভারতের সঙ্গে ছিটকে গেল আফগানিস্তানও। নিউজিল্যান্ড জেতায় সোমবার নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ হয়ে দাঁড়াল নিয়মরক্ষার।রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান খেলতে নেমেছে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে। বাবর আজমের দল যদি স্কটল্যান্ডের কাছে না হারে, তাহলে গ্রুপ ২ থেকে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে যাবে দ্বিতীয় দল হিসেবে। সেক্ষেত্রে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড খেলবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। আর পাকিস্তান মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার।২০১৯ সালে একদিনের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই ছিটকে গিয়েছিল ভারত। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও কিউয়িদের কাছেই হারতে হয়েছে বিরাট কোহলির দলকে ভারত। টি২০ বিশ্বকাপ থেকেও বিরাট কোহলিদের ছিটকে দিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কেন উইলিয়ামসনদের জয়। টি২০ বিশ্বকাপসহ আইসিসি ট্রফি অধরাই থেকে গেল ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছে।টস জিতে এদিন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক মহম্মদ নবি। ৮ উইকেটে ১২৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি আফগানরা। ৪৮ বলে সর্বাধিক ৭৩ রান করেন নাজিবুল্লাহ জারদান। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার ও ৩টি ছয়। গুলবদিন নঈব ১৫ ও অধিনায়ক মহম্মদ নবি ১৪ রান করেন। ৪ ওভারে ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। দুর্দান্ত বোলিং করে তিনিই ম্যাচের সেরা। টিম সাউদি ৪ ওভারে ২৪ রানে ২ উইকেট নেন। অ্যাডাম মিলনে, জিমি নিশাম, ইশ সোধি ১টি করে উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের ২৬ রানের মাথায় আউট হন ড্যারিল মিচেল (১২ বলে ১৭)। ৮.৫ ওভারের মাথায় আউট হন মার্টিন গাপটিল। ২৩ বলে তিনি করেন ২৮। এরপর দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন কেন উইলিয়ামসন (৪২ বলে ৪০) ও ডেভন কনওয়ে (৩২ বলে ৩৬)। ১৮.১ ওভারে ১২৫/২ তুলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

নভেম্বর ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : আসিফের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে কার্যত প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পুরনো রোগ যে আর নেই, টি২০ বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যেরকম কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বার করে নিয়ে গেল, এক কথায় অসাধারণ। ম্যাচের নায়ক আসিফ আলি। ১৯ তম ওভারে ৪টি ৬ মেরে দলকে জেতালেন তিনি। এই নিয়ে টানা ৩ ম্যাচ জিতল পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল বাবর আজমের দল।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুটা ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় আফগানরা। হজরতুল্লা জাজাইকে (০) নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন ইমাদ ওয়াসিম। পরের ওভারেই অন্য ওপেনার মহম্মদ শাহজাদকে (৮) ফেরান ছন্দে থাকা শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপরই মাঠে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন আসগার আফগান ও গুরবাজ। কিন্তু তাঁদের সেই ঝড় একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। নিজের বলেই ক্যাচ ধরে আসগার আফগানকে (৭ বলে ১০) ফেরান হ্যারিস রউফ। পরের ওভারেই গুরবাজকে (৭ বলে ১০) তুলে নেন হাসান আলি। করিম জানাত (১৭ বলে ১৫) ও নাজিবুল্লাহ (২১ বলে ২২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।১২.৫ ওভারে ৭৬ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর ঝড় তোলেন অধিনায়ক মহম্মদ নবি ও গুলবাদিন। এই দুজনের দাপটে ২০ ওভারে ১৪৭ রানে পৌঁছয় আফগানিস্তান। অসমাপ্ত জুটিতে ওঠে ৮১। ৩২ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন নবি। অন্যদিকে ২৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন গুলবাদিন। পাকিস্তানের হয়ে ইমাদ ওয়াসিম ২৫ রানে ২ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফ, হাসান আলি ও সাদাব খান ১টি করে উইকেট পান।পাকিস্তানের যা ব্যাটিং শক্তি ১৪৮ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না। তৃতীয় ওভারে মহম্মদ রিজওয়ান (৮) আউট হওয়ার পর দলকে টেনে নিয়ে যান ফাকার জামান ও অধিনায়ক বাবর আজম। ২৫ বলে ৩০ রান করে ফাকার জামান আউট হন। মহম্মদ হাফিজ করেন ১০ বলে ১০। পাকিস্তানের হয়ে অ্যাঙ্করের ভুমিকা পালন করেন বাবর আজম। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৫১ রান করে রশিদ খানের বলে তিনি আউট হন।একসময় জয়ের জন্য ২৩ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৩৮। রশিল খানকে ছয় মেরে চাপ কমান শোয়েব মালিক। এরপরই আউট হল বাবর আজম। পরের ওভারে শোয়েব মালিককে (১৫ বলে ১৯) তুলে নেন নবীনউলহক। জেতার জন্য শেষ ১২ বলে ২৪ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ১৯ তম ওভারে করিম জানাতের প্রথম বলে ৬ মারেন আসিফ আলি। পরের বলে কোনও রান হয়নি। তৃতীয় বলে আবার ছক্কা। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেন আসিফ আলি। ১ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান (১৪৮/৫)। ৭ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আসিফ।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Afganistan Volleybal : তালিবানদের নৃশংসতা, শিরোচ্ছেদ আফগান মহিলা ভলিবল খেলোয়াড়ের

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পরপরই তালিবানরা ফতোয়া জারি করেছিল, মহিলারা কোনও ধরণের খেলায় অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু তালিবানরা যে এতটা নৃশংস হয়ে উঠবে, তা ছি কল্পনারও অতীত। তালিবানদের এক নারকীয় ঘটনা সামনে এসেছে। তাদের হাতই প্রাণ গেছে আফগানিস্তানের জাতীয় মহিলা জুনিয়র ভলিবল দলের এক খেলোয়াড়ের। তালিবানরা দেশের ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর থেকেই আতঙ্কিত আফগানিস্তানের মহিলা ক্রীড়াবিদরা। অনেকেই ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। যারা এখনও দেশে রয়েছেন, রীতিমতো উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। যে কোনও মুহূর্তে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা। যেমন শিরচ্ছেদ করা হয়েছে মাহজাবিন হাকিমির। দেশের হয়ে ভলিবল খেলার অপরাধেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পার্সিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় তাঁর হত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে।কাবুল মিউনিসিপ্যালিটি ভলিবল ক্লাবের হয়ে খেলতেন মাহজাবিন হিকিমি। দলের মধ্যে তিনিই ছিলেন সেরা। এই ক্লাবে খেলতে খেলতেই আফগানিস্তান জাতীয় জুনিয়র দলে সুযোগ পান। দেশের হয়ে রীতিমতো নজর কেড়েছিলেন। জাতীয় সিনিয়র দলে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তার আগেই দেশে পট পরিবর্তন। তালিবানরা ক্ষমতায় সেই মহিলেদের সব ধরণের খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মহিলা খেলোয়াড়দের খুঁজে বার করে তাঁদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এদের মধ্যে জাতীয় মহিলা ভলিবল দলের দুজন সদস্য রয়েছেন। মাহজাবিন হাকিমি পালাতে পারেননি। তাঁকে খুঁজে বার করে এই মাসের শুরুতে শিরোচ্ছেদ করেছে তালিবানরা।আফগানিস্তানের এক ভলিবল কোচ পার্সিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, এই মাসের শুরুর দিকে মাহজাবিনকে হত্যা করা হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দেয় তালিবানরা, যাতে এই ঘটনার কথা কাউকে না বলে। কিছুদিন আগে মাহজাবিনের নিথর দেহের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়আর পর সকলে জানতে পারে। আফগানিস্তানের মহিলা ভলিবল দলের ওই কোচ আরও বলেছেন, তালিবানরা আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পরপরই দুজন মহিলা ভলিবল খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। পালাতে না পেরে মাহজাবিনকে প্রাণ দিতে হয়েছে।আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর তালিবানরা মহিলা অ্যাথলিটদের সন্ধানে নেমেছে। এমনকী মহিলা খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদেরও সন্ধান চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের যেসব মহিলা ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের লোকজনদেরও খুঁজছে তালিবানরা। স্বাভাবিকভাবেই মহিলা ক্রীড়াবিদ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, কেউ কেউ আবার আত্মগোপন করে রয়েছেন। আফগানিস্তানের মহিলা ভলিবল দলের সদস্যরা দেশ ছাড়তে চেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য চেয়েও পাননি। আফগানিস্তানে ভলিবল মহিলাদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তায় আঘাত করতেই মাহজাবিনকে হত্যা করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে তালিবানরা।

অক্টোবর ২০, ২০২১
বিদেশ

Taliban: নতি স্বীকার আফগান সরকারের, গজনি দখল নিল তালিবানরা

পতন ঠেকাতে এ বার তালিবানকে ক্ষমতার ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির সরকার। সে দেশের সরকারের একটি সূত্রে এই খবর মিলেছে। ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারই গুরুত্বপূর্ণ গজনি শহরের দখল নিয়েছে তালিবান। শহরের পরিত্যক্ত সেনা ঘাঁটির ছবিও প্রকাশ করেছে তারা।আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার ডামাডোল, বোর্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বাবর আজমদেরগজনি প্রদেশের রাজধানী শহরের অবস্থান কাবুল থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সামরিক অবস্থানগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শহর। কাতারের রাজধানী দোহায় এর আগে একাধিক বার আমেরিকা এবং আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে শান্তি বৈঠক করেছেন তালিবান। শান্তি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী গুলাম ফারুক মাজরো বৃহস্পতিবার বলেন, এ বার সরকারের তরফে যুদ্ধ বিরতির জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তালিবান প্রতিনিধিদের। ক্ষমতার ভাগাভাগিই সেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের রাজধানী কাবুল তালিবানের দখলে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই গনি সরকারের দুজন মন্ত্রী দেশ ছেড়েছেন বলে পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কান্দাহর-কাবুল এক্সপ্রেসওয়ের উপর অবস্থিত গজনি তালিবানের দখলে আসায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে গনি সরকারের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।বিগত কয়েকদিনে আফগানিস্তানের ৩৪টির প্রদেশের মধ্যে নটি প্রদেশের রাজধানী দখল করে ফেলেছে তালিবান। সেগুলি হল, জাজওয়ান প্রদেশের শেবেরঘান, নিমরুজ প্রদেশের জারাঞ্জ, জাজওয়ান প্রদেশের তালেকান, সামাঙ্গান প্রদেশের আইবক সিটি, কুন্দুজ প্রদেশের কুন্দুজ শহর, সর-এ-পুল প্রদেশের সর-এ-পুল শহর, বাদাখশান প্রদেশের ফৈজাবাদ ,তাখার প্রদেশের তালুকান, ফারাহ প্রদেশের ফারাহ সিটি। আর এ বার গজনি। গতকালই পেন্টাগনের এক আধিকারিক রয়টার্সকে এক গোপন রিপোর্টের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের আশঙ্কা, তালিবান যে ভাবে এগোচ্ছে তাতে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠবে আর তিন মাসের মধ্যে কাবুল দখল করে ফেলবে।

আগস্ট ১২, ২০২১
বিদেশ

Taliban: আফগানিস্তানে আরও বিস্তার ঘটাল তালিবান

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা যত সরছে, ততই একের পর এক এলাকা দখল করছে তালিবান। শুক্রবার নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী জারঞ্জ শহরের দখল নিয়েছে তালিবান বাহিনী। প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর রোহ গুল খয়েরজাদ নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন। আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক গৃহযুদ্ধ পর্বে এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রাদেশিক রাজধানী দখল করল তালিবান। সম্প্রতি তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ দাবি করেছেন, তাঁরা এখন উত্তর আফগানিস্তানের বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরিফেরও উপকণ্ঠে পৌঁছে গিয়েছেন। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের ওই পঞ্চম বৃহত্তম শহর থেকে ইতিমধ্যেই কনস্যুলেট সরিয়ে নিয়েছে ভারত।আরও পড়ুনঃ লোকার গোজ গ্লোবাল-এ বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীরখয়েরজাদ শনিবার বলেন, ইরান সীমান্তের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তানের শহরটি কার্যত বিনা লড়াইয়ে তালিবান দখল করেছে। নেটমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং ভিডিওয় তালিবান জঙ্গিদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে জারঞ্জের রাস্তায়। সরকারি সূত্রের খবর, তালিবান বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিতেই কার্যত বিনা যুদ্ধে পালিয়ে যায় শহর রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত আফগান সেনা। মে মাসের শেষ পর্বে আমেরিকা সেনা আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করতেই দেশের বিভিন্ন এলাকার দখল নিতে শুরু করেছে তালিবান। বিশেষভাবে ইরান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা শহরগুলি বিশেষ ভাবে নিশানা করেছে তারা। সীমান্তবর্তী এই শহরগুলি আফগানিস্তানের জাতীয় আয়ের অন্যতম উৎস। তাই এগুলোকেই জঙ্গিরা বিশেষভাবে নিশানা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ০৭, ২০২১
দেশ

Photo Journalist: কান্দাহারে নিহত পুলিৎজার জয়ী ভারতীয় চিত্রসাংবাদিক

কান্দাহারে অশান্ত পরিস্থিতির ছবি তুলতে গিয়ে নিহত হলেন পুলিৎজার জয়ী ভারতীয় চিত্রসাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। কয়েক আগেই সেখানে গিয়ে আফগান সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকে কাজ করছিলেন তিনি। শুক্রবার সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কান্দাহারের স্পিন বোলডাক জেলায় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছেন দানিশ। তিনিই ভারতের প্রথম পুলিৎজার জয়ী চিত্রসাংবাদিক। ২০১৮ সালে সহকর্মী আদনান আবিদির সঙ্গে ফিচার ফোটোগ্রাফিতে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন দানিশ। ভারতের রয়টার্সের আলোকচিত্রীদের দলটির প্রধান ছিলেন দানিশ।আরও পড়ুনঃ ফের উত্তপ্ত শ্রীনগর, খতম ২ লস্কর জঙ্গিআন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রধান চিত্র সাংবাদিক ছিলেন দানিশ। টুইটারে এক সাংবাদিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতেই গুরুতর জখম হয়েছিলেন দানিশ। তিনি আফগান সেনা শিবিরেই ছিলেন। তাঁকে আহত অবস্থায় শিবিরে রেখেই আফগান সেনারা তালিবান বিরোধী অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে ফের তালিবানি হামলার মুখে পড়ে আফগান সেনারা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দানিশের। ওই সাংবাদিক নেট মাধ্যমে জানিয়েছেন, দানিশের দেহাবশেষের ছবিও এসেছে তাঁদের কাছে। কিন্তু তাঁরা তা প্রকাশ করছেন না। মুম্বইয়ে বাড়ি দানিশের। বয়স ৪০। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র ছিলেন তিনি। টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কেরিয়ার শুরু করলেও পরে চিত্র সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ২০১০ সালে রয়টার্সে শিক্ষানবীশ চিত্র সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। তার ছ বছরের মধ্যেই ইরাকের মসুলের যুদ্ধের ছবি তুলতে যান দানিশ। ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্পের ছবিও তোলেন। ২০১৯-২০তে হংকং প্রোটেস্ট, ২০২০ তে দিল্লির দাঙ্গার ছবিও তোলেন এই চিত্র সাংবাদিক।

জুলাই ১৬, ২০২১
দেশ

পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্দোলনের আগুন জ্বলেছে সারা দেশজুড়ে। ২০১৯ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এখনও কার্যকরী করতে পারেনি কেন্দ্র। তার মধ্যেই নয়া নির্দেশিকা দিয়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে চলেছে কেন্দ্র। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই মর্মে একাধিক জেলাশাসকদের অবগত করেছে কেন্দ্র।কেন্দ্র গুজরাতের মোরবি, রাজকোট, পাটনা, ভদোদরা, ছত্তিশগড়ের দূর্গ, বলোদাবাজার, রাজস্থানের জলোর, উদয়পুর, পলি, বার্মার, সিরোহি, হরিয়ানার ফরিদাবাদ, পঞ্জাবের জলন্ধরের জেলাশাসককে ৫ নং ধারায় নাগরিকত্বের আবেদন সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে। ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্জাব, হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রসচিবকেও এই মর্মে অবগত করেছে কেন্দ্র।নাগরিকত্বের আবেদন পদ্ধতি:১. নাগরিকত্বের আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনের করা যাবে।২.আবেদনপত্র যাচাই করবেন জেলাশাসক অথবা সচিব। এরপর তা কেন্দ্রের হাতে পাঠানো হবে।৩. কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হলে, সেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।৪, জেলাশাসক বা সচিব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নাগরিকত্ব দেবেন।উল্লেখ্য, এই নাগরিকত্ব প্রদান হবে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন ও ২০০৫ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ভিত্তিতে। কেন্দ্র এখনও ২০১৯ সালের নিয়ম বলবৎ করতে পারেনি। যেখানে জানানো হয়েছিল, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যেসব হিন্দু, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিস্টানরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে কেন্দ্র। সংসদে এই আইন পাশ হওয়ার পর একাধিক রাজ্য এক বিরোধিতা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গেরও রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, এই আইন বাংলায় কার্যকরী হবে না।

মে ২৯, ২০২১
বিদেশ

আফগানিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণ, মৃত ৩০ তালিবান জঙ্গি

মসজিদে চলছিল বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ। হাতে-কলমে সেটাই শেখানো হচ্ছিল। আর তখনই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের এই ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ৩০ তালিবানি জঙ্গি। এমনটাই জানানো হয়েছে আফগান সেনার পক্ষ থেকে।বিস্ফোরণের ঘটনায় আফগান সেনাবাহিনীর ২০৯ শাহিন কোরের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানেই জানানো হয়, গত শনিবার বিস্ফোরণে ৩০ তালিবান জঙ্গি মারা গিয়েছে। তাতে আবার ছয় জন বিদেশিও রয়েছে। এরাই মাইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেখানে অন্যদের বিস্ফোরক বানানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। জানা গিয়েছে, বালখ প্রদেশের দৌলতাবাদ জেলার কুলতাক গ্রামের একটি মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানেই ওই ছয় বিদেশির কাছ থেকে বিস্ফোরক বানানোর কৌশল শিখছিল জঙ্গিরা। তখনই আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। তার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ওই ছজনের পরিচয়ও জানা যায়নি। গোটা ঘটনায় ওই এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।দীর্ঘদিন ধরেই তালিবানের দৌরাত্ম্যে অশান্ত আফগানিস্তান। বছরখানেক ধরে শান্তি আলোচনা চলছে তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে। মধ্যস্থতায় রয়েছে মার্কিন প্রশাসনও। অথচ তার মধ্যেই নিয়মিত হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকী বাইডেন প্রশাসনও সম্প্রতি তালিবানের বিরুদ্ধে চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সে দেশে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তালিবান।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

ইস্টবেঙ্গলের ঘরে নতুন লগ্নির আলো! উৎসবেই কি চমক, বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে আসছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম?

ইমামির বিদায়ের পর লাল-হলুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনায় নতুন আশার সঞ্চারইমামি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিনিয়োগকারী হিসেবে সম্পর্কের অবসানের পর থেকেই নতুন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধানে ছিল ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার লাল-হলুদের বিনিয়োগকারী হওয়ার দৌড়ে উঠে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) নাম। সূত্রের খবর, ক্লাব ও সংস্থার মধ্যে কথাবার্তা বেশ কিছুটা এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে উৎসবের মরশুমেই নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারে ইস্টবেঙ্গল। যদিও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া শুধুমাত্র আর্থিক সংস্থানের প্রশ্ন নয়, আগামী দিনের ফুটবল পরিকল্পনার সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দল গঠন, ভালো মানের ফুটবলারদের ধরে রাখা, নতুন প্রতিভা তুলে আনা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নসব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অর্থের জোগান প্রয়োজন। সেই জায়গায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক লাল-হলুদ শিবিরকে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সংস্থাকে ঘিরে প্রত্যাশাহলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপ (টিসিজি)। এই সংস্থা হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রধান উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, সংস্থাটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও অংশীদারি রয়েছে। ফলে এই সম্ভাব্য সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।তবে শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্লাবের সম্ভাব্য সম্পর্কের গুরুত্ব যতই থাকুক, চুক্তির আর্থিক কাঠামো এবং পরিচালন সংক্রান্ত শর্তগুলি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন বিনিয়োগকারী ক্লাবের দৈনন্দিন পরিচালনায় কতটা ভূমিকা নেবে, ফুটবল দলের বাজেট কতটা বাড়বে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, সে সবই এখন দেখার বিষয়।ইমামির বিদায়েই শুরু নতুন অধ্যায়গত ২৫ অগস্ট বিবৃতি দিয়ে ইমামি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের ভূমিকার অবসান ঘটছে। গত আইএসএল মরশুম শেষ হওয়ার পর থেকেই এই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ইমামির জায়গায় লাল-হলুদের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবে কোন সংস্থা?চলতি মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জার্সিতে ছোট আকারে ফিরে আসে ইমামির লোগো। তার আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে গেলেও ক্লাবের সঙ্গে স্পনসর হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী সংস্থাটি।পরে ইমামির বিবৃতিতেও সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, বিনিয়োগকারী ও পরিচালন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরে এলেও স্পনসর হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকবে তারা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, বিনিয়োগের অধ্যায় শেষ হলেও লাল-হলুদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার পথে হাঁটেনি ইমামি।আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটানোর অপেক্ষানতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফুটবলারদের বেতন বকেয়া থাকার খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। নতুন মরশুমে দল গঠন, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য খরচের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।এই পরিস্থিতিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসা লাল-হলুদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলতে পারে।তবে নতুন বিনিয়োগকারী এলেই যে সমস্ত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ, অর্থ প্রদানের সময়সূচি, ক্লাব পরিচালনায় অংশীদারিত্ব এবং ফুটবল বিভাগের জন্য বরাদ্দপ্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শর্তগুলির উপরেই নির্ভর করবে নতুন সমীকরণে ইস্টবেঙ্গল কতটা লাভবান হবে।উৎসবের মরশুমেই কি লাল-হলুদে নতুন সূর্যোদয়?ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী পাওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। ঐতিহ্য, বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী এবং সাফল্যের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক ফুটবলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক ভিত। সেই ভিত মজবুত করার লক্ষ্যেই এখন নজর নতুন বিনিয়োগকারীকে ঘিরে।সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে থাকায় উৎসবের মরশুমে ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না চুক্তি সম্পূর্ণ হচ্ছে এবং ক্লাব বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসছে, ততক্ষণ বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখতে হবে।শেষ পর্যন্ত হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া বাঁধা হলে তা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই ঘোষণাই স্পষ্ট করবে, নতুন বিনিয়োগের হাত ধরে লাল-হলুদ শিবির কতটা নতুন পথে এগোতে পারে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর পুজোর আগেই আগাম প্রস্তুতি! শ্যামপুরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। শ্যামপুরে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, নদীবাঁধ মেরামতি, কর্মসংস্থান ও আবাস যোজনা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি।শ্যামপুর: উৎসবের আনন্দের মধ্যে চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় যে বেদনার ছায়া নেমে এসেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চায় রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের পুজোয় যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজ্যের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দিন বিশেষ গুরুত্ব পায় চোরবাগানের দুর্ঘটনা। প্রথম সপ্তমীর রাতে ওই ঘটনায় প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বেদনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ঘটনার তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপর্যয় আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। বাকি ছটি পরিবারের সঙ্গে ২৩ ও ২৪ তারিখের মধ্যে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনহারা পরিবারের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি।শ্যামপুরের অতীত প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণবিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের কয়েক বছর আগের অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এক সময়ে যাঁরা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, তাঁদেরই এখন প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর আরও মন্তব্য, যাঁরা দুর্গাঠাকুর ভেঙেছিলেন, তাঁদের মা দুর্গাই ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।১৪ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে ১০০ শয্যারশ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এলাকায় ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার আশ্বাস দেন তিনি। শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নদীবাঁধের ভাঙন রোধে উদ্যোগ, কাঠের সেতুর বদলে পাকা ব্রিজপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে শ্যামপুরের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই এলাকায় নদীবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকা কাঠের সেতুগুলিকে পাকা সেতুতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।শ্যামপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।আগামী ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও এ দিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে কোন কোন দপ্তরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং তার বিস্তারিত সময়সূচি কী, সে বিষয়ে এ দিনের বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজের নির্দেশ, আবাস যোজনায় আরও ২৫ লক্ষ বাড়িগ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি-জিরামজি প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে আগামী ছমাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১২৫ দিনের কর্মসূচিতে ৩৭০ ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে আরও ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।চোরবাগানের দুর্ঘটনা এ দিনের অনুষ্ঠানে শোক ও সতর্কতার বার্তা নিয়ে এলেও, একই মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং আবাসন নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্পগুলির কতটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
দেশ

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে ‘না’, জামিনের শর্তে কী মুচলেকা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা?

এক সপ্তাহ তিহাড়ে কাটিয়ে মুক্তি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনজ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় দুই নেতা।এক সপ্তাহ জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। বুধবার বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তবে মুক্তির পথ একেবারে শর্তহীন ছিল না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনুমতি ছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচি না করা এবং শান্তিভঙ্গকারী কোনও কাজে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়েছে দুই নেতাকে। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন তাঁরা।প্রশাসনের নির্ধারিত বিধি উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর অভিযোগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরেও সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশি পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে দুই নেতার জেলযাত্রা।জামিনের শর্তে কী জানালেন দুই নেতা?জামিনের শুনানিতে আশুতোষ ও সৌরভের বক্তব্য ছিল, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা।প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনে চলার এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।তিন দিনের অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদন খারিজসূত্রের খবর, আশুতোষ ও সৌরভকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বুধবার বিকেলে জামিনের নির্দেশ দেওয়ার পর রাতের দিকে তাঁদের তিহাড় জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফলে প্রায় এক সপ্তাহের বন্দিজীবনের অবসান ঘটে দুই নেতার।জেল থেকে বেরিয়েও অবস্থান বদল নয়জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি আশুতোষ ও সৌরভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দুই নেতাকে স্লোগান দিতেও দেখা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের মুখে শোনা যায়, ভারতমাতা কি জয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ-এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান।অন্যদিকে, জেলজীবন নিয়ে আশুতোষের মন্তব্যও নজর কেড়েছে। মুক্তির পর তিনি জানিয়েছেন, তিহাড় জেলের খাবার বেশ ভালো। তবে জেলবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা জামিনের শর্তকোনও কিছুই যে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিতে প্রভাব ফেলেনি, তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগানে সেই বার্তাই স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, জামিনে মুক্তি পেলেও ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতার আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। একদিকে জামিনের শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানএই দুইয়ের মধ্যে আগামী দিনে তাঁরা কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal