তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(২য় পর্ব)
প্রথম পর্বের পরঃ তখন আমরা ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি , সবাই নতুন। খুব একটা বন্ধু আমার তখনও ছিলোনা কলেজে। আমি বিক্রম সৃজা ছিলাম তিন বন্ধু আর ঐদিকে ঈশান, স্নেহাশিস আর রাহুল ছিল তিন বন্ধু। এদের মধ্যে ঈশান একটু অন্যরকম ছিল, বদমেজাজি, অহংকারী। আমি বেশ বুঝতে পেরেছিলাম এই দম্ভ ওর নিজের প্রতি প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস থেকে আসে। ক্লাসে পড়া ধরলে আমি সবসময় উত্তর দিতাম, ও কোনোদিনও দিতোনা, একটু কেমনভাবে যেন তাকিয়ে থাকতো যেন মনে মনে আমার এতো পরিশ্রমকে কোনো পাত্তা পর্যন্ত দিচ্ছেনা। আমিও ওতো বেশি ভাবতাম না যতদিন আমি ওর সবচেয়ে রাগী রূপটা দেখেছিলাম। সেদিন ক্লাসে হটাৎ রঞ্জিতের দলবল এসে চড়াও হয় সঞ্জয়ের উপর, কি দোষ না সঞ্জয় ইউনিয়নে গিয়ে সিনিয়রদের নামে কমপ্লেন করে এসেছে এই বলে যে সিনিয়ররা নাকি আমাদের উপর রাগ্গিং করে জেতা মিথ্যা মোটেই ছিলোনা তবু কারোর মুখ খোলার সাহস ছিলোনা। আমরা সবাই ভয়ে চুপচাপ বসেছিলাম আর দেখছিলাম কিভাবে রঞ্জিতদারা ক্লাসে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে সঞ্জয়কে, ওদের মধ্যে দুজন তো চড় পর্যন্ত মেরেছে। একটা সময়ে আমরাই আর এই অপমান নিতে পারছিলাম না ঠিক তখন উদয় হলেন ঈশান। সে আসলো আর শুধু বললো সঞ্জয়কে না ছাড়লে ফল ভালো হবেনা, সিনিয়ররা ওর এই কথায় খুব হেসেছিলো কিন্তু হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কারণ কিছুক্ষনেই ক্লাসে আসে ইউনিয়নের দাদারা যারা এরপর আমাদের সামনেও আমাদের সিনিয়রদের অকথ্য ভাষায় অপমান করে। পরে জানতে পারি যে সেই ফোনটা আসলে ঈশান করেছিল, ওই যথেষ্টই সাহসী আর জেদি ছিল। ওর ওই সাহস আমায় আরো বেশি ওর দিকে টানতো আমিও পাগলের মতো ছুটতাম। তখনও বুঝিনি পরে বুঝেছি, ভুল করেছি আমি।এতদূর বলে সায়নী থামলো, ওর চোখ ডাইনিং এর ওই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে, হয়তো ওখানেই এখনো ঈশান বসে। ওই চোখ ওই মুখ ওই হাসি। স্নেহাও ওর সাথে ঐদিকে তাকালো ভয়ে ভয়ে আর সায়নীকে বললো, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী, আচ্ছা স্নেহা তুই কাওকে চেয়ারে দেখতে পাচ্ছিস না সত্যি?স্নেহা আরো একবার পিছন ফিরে দেখলো, কোই কাওকে তো দেখা যায়না, কিন্তু সায়নীর এই কথাটা ওর মেরুদণ্ডে হিমশীতল স্রোত বয়ে আনে। স্নেহা, কে আছে পিছনে?সায়নী, ঈশান বসে আছে ওই একইভাবে। আমার দিকে তাকিয়ে।স্নেহা সায়নীর কাছে সরে আসে, মনে মনে সে হনুমান চল্লিশা জপ করতে শুরু করেছে আর সায়নীর বাম হাত বিছানার চাদরটাকে মুঠো করে ধরে আছে। হটাৎ ডাইনিং থেকে একটা স্টিলের গ্লাস পড়ার আওয়াজ হলো, দুজনের চমকে উঠে দুজনকে জাপ্টে ধরলো, যখন ভয়ের চরম সীমায় ওরা তখনই ওদের পোষ্য মিনি বেড়াল সুকু নিজের সুন্দর কণ্ঠে বলে উঠলো, মিওয়াওসুকুকে দেখে দুজনেরই ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এলো।অনেক কষ্টে স্নেহা বললো, তুই সত্যিই ওকে দেখতে পাচ্ছিস?সায়নী তখনও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাইনিং এর ওই চেয়ারটার দিকে, বেশ কিছুক্ষন এভাবে কাটার পর অবশেষে যেন সায়নী হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো আর মৃদু স্বরে বললো, ও চলে গেছে।সায়নীর কথা শুনে ভয়ে ভয়ে স্নেহা আবারও খাটে এসে বসলো, আচ্ছা ছেলেটা কি কোনোভাবে..... আর নেই?সায়নী এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলোনা, ওর মুখ থেকে যেন অনেকক্ষন কোনো কথা বেরোলোনা তারপর অবশেষে বললো, ওর মরে যাওয়ার কথা নয়, ওর বেঁচে থাকারই কথা, কি হচ্ছে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা। ওর মতো ছেলে এতো সহজে জীবনের কাছে হার মানতে পারে?স্নেহা, তুই মাথা ঠান্ডা করে পুরো গল্পটা আমায় বল, আগে আমায় এটা জানতে হবে ঠিক কি হয়েছিল ঈশানের সাথে, তোর সাথে, তবে আমি বুঝতে পারবো আমাদের কি করা উচিত এই মুহূর্তে।স্নেহার কথায় সায়নী সায় দিলো আর আবারও বলতে শুরু করলো-ঈশানের প্রতি আমার আকর্ষণ দিন দিন বাড়তে লাগল, ক্রমে সেইদিন এলো যখন আমাদের ফার্স্ট সেমেস্টারের রেজাল্ট এলো আর সবাই জানতো ঈশান প্রথম হবে আর সেটাই হয়। ঈশানের নাম সবার আগে উজ্জ্বল, সেইদিন আমার নামটা ছিল ঠিক ওর পরে, দ্বিতীয় স্থানে। কোনোদিনও আমি প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় হয়নি, সেদিন হয়েছিলাম প্রথমবার আর যার জন্য হয়েছিলাম তাকে আরো জানার ইচ্ছা তীব্র হলো আর ঐদিনই প্রথমবার ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম। ঈশানও দেখলাম আমার এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবে এগিয়ে এলো। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হলো, আমরা দুজন সবসময় একসাথে থাকতাম, সেটা লাইব্রেরি হোক বা ক্লাস বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঈশান থাকতো মেসে, আমি ওর পরিবারের বিষয়ে কোনোদিনও জিজ্ঞেস করিনি, তবে একদিন দেখেছিলাম ওদের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো না আর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলে ও। ওর ধ্যান ধারণা আমাদের মতো নয় ঠিক, ওকে আমি কোনোদিনও বলিনি আমি ওকে ভালোবাসি আর যার বাড়ির এই অবস্থা সে বেশি কি বা করতে পারতো, খুব জোর হলে হয়তো গ্রাম থেকে উঠে শহরে আসতো। কিন্তু আমার বাবা তো শহরে রাজ করছে তাও বহুবছর ধরে, আমাদের ব্যবসা থেকে যা আয় হয় তাতে আমার বাবা ওদের বাড়ি দুবার কিনে বেচে দেবে হয়তো, সেই বাড়ির ছেলের সাথে আর যাই হোক আমার প্রেম হতে পারেনা। আর আমি এই বিষয়ে খুবই বাস্তববাদী, আমি ওই সিনেমার নায়িকাদের মতো অবাস্তব জগতে বাঁচতে পারিনা। আমি সবসময় বন্ধু হয়ে থেকেছি আর সেইসময় আমি দেখতাম ওর মধ্যের অদ্ভুত পরিবর্তন। ওই আমাকে নিজের স্ত্রীর মতো দেখতো যেন, কোনো ছেলে আমায় স্পর্শ করলে তাকে এমন মারতো যে সে দুদিন কলেজে আসতে ভয় পেতো। সেইসময় রাহুল রাজনীতিতে ঢুকেছে, কলেজ রাজনীতিতে ওর দাপুটে উপস্থিতি, আর রাহুলের বন্ধু হওয়ার সূত্রে কারোর সাহস ছিলোনা ঈশানের সাথে শত্রুতা করার আর এই ব্যাপারটার সম্পূর্ণ সুযোগ তুলতো সে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সৃজাও তখন রাহুল বলতে অজ্ঞান আর ঈশানকে ওই নিজের ভাইয়ের মতোই দেখতো তাই আমি ওদের চাইলেও কিছু বলতে পারতাম না।স্নেহা, আচ্ছা তোর সাথে এই ঘটনা কবে থেকে ঘটছে? মানে কবে থেকে তুই ঈশানের এই অশরীরী উপস্থিতি বুঝতে পারছিস?সায়নী একটু ভেবে বললো, বেশিদিন না, মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওর গলার স্বর শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু দেখতে পেতাম না। ভাবতাম মনের ভুল, কিন্তু এখন ওকে আমি সামনেও দেখতে পাই, আর জানিনা এরপর কি হবে। আচ্ছা ওর সাথে কি কিছু খারাপ হয়েছে?স্নেহা, বুঝতে পারছিনা রে, এরকম ঘটনা আমি সিনেমায় দেখেছি, গল্পে পড়েছি কিন্তু আজ সত্যি দেখছি।সায়নী, জানিস একটা সময় এমনই আসে যখন ক্লাসের সবার সাথে ধীরে ধীরে ওই আমার সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়, আমায় দেখলে এমন একটা ব্যবহার করতে শুরু করে যেন আমি ক্লাসে থেকেও নেই, যেন আমি ঈশানের সম্পত্তি যেটার দিকে তাকানো উচিত নয়।স্নেহা, আচ্ছা তাই তোর কোনো পুরোনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই, আমি আগে ভাবতাম তুই পুরোনো মানুষদের কেন এতো এড়িয়ে চলিস এমন কি প্রথম যখন রাহুল এই কোম্পানিতে আসে তুই ওকেও এড়িয়ে চলতিস যতদিন না রাহুল নিজে এসে তোর সাথে কথা বলেছিলো।সায়নী স্নেহার এই কথায় সায় দেয়, বলে, খুব অদ্ভুত লাগতো, বিশেষত রাহুল ঈশানের খুব ভালো বন্ধু ছিল। তাই আমি আরোই এড়িয়ে চলতাম।স্নেহা, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী- ঈশানের ব্যবহার দিনদিন বদলাতে শুরু করলো, আগে ওই অন্যদের মারধর করতো, পরে একই দোষে ওই আমার গায়েও হাত তুলতে শুরু করে, আমি নিজের বাড়িতেও জানাতে ভয় পেতাম এই ভেবে যে যদিও বাবা একবার জানতে পারে তবে ঈশানের সব শেষ করে ছাড়বে। আমি চাইতাম ঈশান নিজের জায়গায় সফল হোক ব্যাস আমার জীবন থেকে দূরে চলে যাক। এইভাবেই সেমিস্টারের পর সেমেস্টার শেষ হতে থাকে আর আমরা শেষের পথে এগোতে থাকি। এইসবের মধ্যে বিক্রমও আমার থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছিলো, একটা সময়ে আমি আর না পেরে ওকে সব জানাই আর ওর সাহায্য চাই। বিক্রম প্রথমে রাজি হয়নি পরে অবশ্য আমার কথা ভেবেই হোক বা যে কারণেই হোক ওই রাজি হয়। আমি শেষ সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরেই ঈশানকে ব্লক করি। ওই আমায় হন্যে হয়ে খুঁজেছিলো তা আমি জানি আর যখন জানতে পারে বিক্রম আর আমি সম্পর্কে আছি তখন ওই বিক্রমের উপরেও একদিন চড়াও হয়েছিল। তারপর আর ওকে দেখিনি, অনেকবার চেষ্টার পর যেন হটাৎ নিঃস্তব্দতা। এদিকে প্লেসমেন্ট সিজন চলে এসেছিলো, আমাদের সবারই মোটামুটি চাকরি লেগে যায় আর আমি ছিলাম ক্লাসের টপার তাই আমি এই কোম্পানিতে খুব সহজেই চলে আসি, অথচ এই কোম্পানিতে আসা নাকি ঈশানের স্বপ্ন ছিল যে স্বপ্ন পূরণ করতে ওই কোনোদিনও এলোই না, কোনো প্লেসমেন্টে বসলোনা। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমায় ভাবিয়েছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয় ঠিক সেরকমই আমার জীবনেও পরিবর্তন আসে। আজ তিন বছর কেটে গেছে, হটাৎ এসব কেন হচ্ছে আমি জানিনা রে সত্যিই জানিনা।সায়নী নিজের গল্প শেষ করলো আর এতক্ষন স্নেহা সব শুনলো, সব শুনে সে বললো, আমার মনে হয় কাল তোর রাহুলের সাথে কথা বলা উচিত, কারণ ঈশানের কি হয়েছে জানলে একমাত্র ওই জানবে আর কেও না।সায়নী, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছি রে কিন্তু ওই কোনো সোজাসুজি উত্তর দেয়নি, কাল আমায় জানতেই হবে যেভাবেই হোক।স্নেহা, কালকেরটা নাহয় কাল দেখা যাবে, তবে আজ আমার আর সাহস হচ্ছেনা, আমরা আজ একসাথেই থাকি বরং।সায়নী, সেটাই বরং ভালো, আমারো খুব একটা ভালো লাগছেনা এইসব কিছু। আচ্ছা স্নেহা তোর কি মনে হয় এটা কি আমার মনের ভুল নাকি সত্যিই কিছু আছে, সত্যিই ও আমায় ভোলেনি?স্নেহা, যাই হোক আজ রাতে আর ভেবে কাজ নেই সায়নী, কারণ যদি তোর দ্বিতীয় কথা সত্যি হয় তবে আমরা কিন্তু বড্ড বিপদের মধ্যে রয়েছি।এরপর আর দুজনে কোনো কথা বলেনি, রাতের ডিনার শেষ করে একসাথেই শুয়ে ঘুমিয়েছে। পরেরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙে সায়নীর সে দেখে আজও স্নেহা তৈরী অফিস যাওয়ার জন্য।স্নেহা বেরোনোর আগে একবার সায়নীর পাশে বসে বললো, কাল রাতের তুই কি ওকে আবারও দেখেছিস?স্নেহার এই কথাটা শুনে সায়নী একটু অবাক হলো তারপর বললো, তুই কি করে জানলি?স্নেহা, স্বপ্নে বারবার ওর নাম বিড়বিড় করছিলি আর বলছিলি...সায়নী, কি বলছিলাম আমি?স্নেহা, সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি কিন্তু মনে হলো ঈশানকে শেষ করে দেবো এরকম কিছু বলছিলি।সায়নীর চোখে জল জমেছে বিন্দু বিন্দু, আর কি করবো, ওকে যে আমি কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না, সবসময় এই চিন্তাটাই মাথায় ঘুরতো কিভাবে ওর গল্প আমার জীবনে শেষ হবে আর দেখ হয়তো ওই চিন্তায় মাথায় কোনো গল্প তৈরী করেছে যেখানে আমারই মনে হচ্ছে ওই বেচে নেই, ভুত হয়ে আমায় তাড়া করছে। আমি সত্যি চাই ও বেঁচে থাকুক ভালো থাকুক।সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি রাহুলের সাথে কথা বলার, তবে সায়নী আজ ঠিকই করে রেখেছে আজ যেভাবেই হোক রাহুলের থেকে ঈশানের খবর জানতেই হবে। লাঞ্চ ব্রেক হলো দুপুর দুটোয়, সায়নী ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ালো ঠিক এমন সময় ওই বুঝতে পারলো ওর পাশে সৌভিকও যোগ দিয়েছে, কি গো কাল থেকে তো তোমার পাত্তাই নেই, কি হয়েছে, শরীর ঠিক আছে?সায়নী বিরক্তির সাথে বললো, সৌভিক প্লিজ আমায় একটু সময় দাও, আমার আশেপাশে এখন ঘুরঘুর করোনা মাথা গরম হয়ে গেলে কি বলে দেবো তার ঠিক থাকবেনা।সৌভিক, আরে সেটাই তো জানতে চাইছি তোমার হয়েছে টা কি, এরকম তো তুমি ছিলে না।সায়নী এবার ঝাঁঝালো স্বরে বললো, ছিলাম না এখন হয়ে গেছি, খুশি? এবার বিদেয় হও। তোমায় এক কথা ঠিক কতবার যে বলতে হয় জানিনা, আর তোমার কাজ নেই? সারাদিন মেসেজের পর মেসেজ করেই যাও, একটু একা থাকতে দাও না, আজব ছেলে তুমি একটা।এই বলে সায়নী আরো দ্রুত গতিতে ক্যান্টিনের দিকে এগোলো আর এদিকে সৌভিক বুঝে উঠতে পারলোনা কি হলো, এই মেয়েটার এই রূপ ও আগে কখনো দেখেনি।দু বছরের সম্পর্ক ওদের, এই দু বছরে সায়নীর থেকে ওই শুধুই ভালোবাসা পেয়েছে, এমন কি যখন দু বছর আগে এমপ্লয়ী অফ দা ইয়ার খেতাব পাচ্ছিলো তখনই প্রথমবার সায়নী এসে ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ওই বছর অনেকেই ভেবেছিলো সায়নীর কর্মদক্ষতায় এই খেতাব ওই পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতাব আসে সৌভিকের কাছে, সৌভিক আশাও করেনি সায়নীর তরফ থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু সায়নীর ওই স্বভাব ওকে সায়নীর প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সামনেই তো বিয়ের কোথাও বলবে ভেবেছিলো, বাড়িতেও জানাবে বলে ঠিক করেছিল আর এইসময় এইরকম ঘটনা সৌভিকের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো।ও আর ক্যান্টিনে খেতে যায়নি, বরং নিজের কেবিনেই গিয়ে বসলো, কিছুক্ষন পর কেবিনে এলো স্নেহা।ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

