• ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tab

বিদেশ

এ এক অনবদ্য শ্রদ্ধার্ঘ! জাকির হোসেনের সমাধিস্থলে উত্তরসূরি হিন্দোল

২০২৪-র ডিসেম্বরের ১৫তে ৭৩ বছর বয়সে প্রবাদ প্রতিম তবলিয়া ওস্তাদ জাকির হুসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর একটি হাসপাতালে পরলোক গমন করেন। তাঁর দেহ আমেরিকার ৩০১, টেনেসি ভ্যালি রোড, মিল ভ্যালি তে ফার্নউড কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। অসংখ্য গুণগ্রাহী ছাড়াও পৃথিবীর সমস্ত স্তরের সঙ্গীত শিল্পীরা শোকসন্তপ্ত হয়ে পরেন। ওস্তাদ জাকির হুসেন ১৯৫১ র ৯ই মার্চ ভারতের বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বই) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন প্রবাদ প্রতিম তবলা বাদক ওস্তাদ আল্লা রাখা। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে জাকির হোসেন তাঁর পিতার কাছে তবলা বাজানোর তালিম নেওয়া শুরু করেন।ভারতবর্ষ থেকে কয়েক হাজার যোজন দূরে এই মহামানবের সমাধিস্থল দর্শনের সৌভাগ্য খুব কম জনেরই হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ মে প্রথিতযশা তবলিয়া পণ্ডিত হিন্দোল মজুমদার তাঁর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধার্ঘ জ্ঞ্যাপন করতে যান। তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন তাতে দেখা যাচ্ছে হিন্দোল মজুমদার জাকির হোসেনের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তবলার বোল উচ্চাড়ন করে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ দিচ্ছেন। এই অভুতপূর্ব দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগ প্রবন হয়ে পরেন। প্রসঙ্গত, জাকির হোসেনের পিতা ওস্তাদ আল্লা রাখা এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন, জাকিরের জন্মের পর তাঁদের প্রথা মত পিতার সন্তানের কানে আজানের বানি শোনানোর পরিবর্তে আল্লা রাখা জাকিরের কানে তিনতালের বোল শুনিয়েছিলেন। হিন্দোলের এই শ্রদ্ধার্ঘ অনেককেই সেই নাস্টালজিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলো।তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আজ আমি ওস্তাদ জাকির হোসেন জির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি, কখনও ভাবিনি কিংবদন্তিকে এইভাবে দেখব, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে সঙ্গীতের জগৎ তাকে ছাড়া থাকবে - তাঁর আত্মা চির শান্তিতে বাস করুক-ওম শান্তি। হিন্দোল মজুমদার কে জাকিরজির সমাধিস্থলে নিয়ে আসার জন্য প্রতিভাবান সরোদ বাদক সৌরদীপ ভট্টাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।পণ্ডিত হিন্দোল মজুমদার জনতার কথাকে জানান, জাকির জি আমাদের মতো তবলিয়াদের কাছে একজন পথিকৃৎ বা মশিয়াহ। তাঁকে এবং পন্ডিত স্বপন চৌধুরী জি মত তবলিয়া কে সামনে রেখেই আমাদের বেড়ে ওঠা। তিনি জানান জাকির জি ছিলেন আমার খলিফা। আমার গুরু প্রয়াত পন্ডিত শঙ্খ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখার শিষ্য। তিনি আরও জানান তবলা কে যে উচ্চতায় জাকির জি নিয়ে গেছেন সেটা অনুধাবন করার মত সময় এখনো আসেনি। হিন্দোল মজুমদার আরও জানান, জাকির জি ও পণ্ডিত স্বপন চৌধুরী কে দেখেই তাঁদের সমসাময়িক তবলা শিল্পীরা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রচার ও প্রসারে আমেরিকা ও ইউরোপে এসে নারা বাঁধেন। সেই পরম্পরা আজও চলছে। আমরা তাঁদের দেখানো পথই অনুসরন করে চলেছি।তিনি জানান, জাকির জি বছরের বেশীরভাগ সময়ই পরিবারের সাথে আমেরিকাতে কাটাতেন, ২-৪ মাস ভারতে এসে বিভিন্ন কনসার্টে অংশগ্রহণ করতেন। আরও জানান, জাকির জির সাথে বহুবার সাক্ষাত হয়েছে। তাঁর মত গুরু, অগ্রজ, উদারমনা মানুষ বিরল। হিন্দোল মজুমদার বলেন, জাকির জির রসিকতা বোধ ও ছিলো অসাধরণ। তিনি আরও জানান জানান, জাকির জির মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই আমার গুরু পন্ডিত শঙ্খ চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত হন। পরপর দুটি ধাক্কা সামলানো খুব-ই কঠিন ছিলো আমার কাছে। অনেকদিন ধরেই জাকির জির সামাধি স্থল দর্শন করার ইচ্ছা ছিল, সেই সুযোগ পেলাম। তাঁকে তবলার বোল ছাড়া কি দিয়েই বা শ্রদ্ধা জানাতে পারি? তাই সমাধিস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে ওনার পিতা ওস্তাদ আল্লা রাখা জির কম্পোজিসন করা রুপক তালের ওপর একটি বোল পাঠ করি।পণ্ডিত হিন্দোল মজুমদার জাকির হোসেনের সামাধিস্থল ঘুরে এসে কিছুটা ব্যথিত-ও। তিনি জনতার কথা কে জানান, তাঁর মত মানুষের সমাধি এতটা মলিন, এটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। তিনি জানান, আমার স্থির বিশ্বাস তাঁর অগণিত গুনাগ্রাহী এই দৃশ্য দেখে ভীষণভাবে মর্মাহত হবেন। তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস এই সমাধি তাঁর জন্মস্থান ভারতে হলে সেটাই আজ একটা দর্শনীয় স্থানে পরিণত হত। তবে তিনি জানিয়েছেন জাকির জির পরিবারের সাথে কথা বলে জাকির প্রেমী মানুষজনকে নিয়ে কিছু একটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। অন্তত একটা সাইনেজ ও যেন লাগানো যায়, যাতে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে এসে জায়গাটাকে সঠিকভাবে সনাক্ত করতে পারেন।

মে ০৯, ২০২৫
রাজ্য

নতুন বছরের শুরু থেকে পূর্ব রেলওয়ের নতুন টাইম টেবিল, বাড়ছে ট্রেনের গতি

রেলওয়েতে নতুন টাইম টেবিল চালু হতে চলেছে নতুন বছরের শুরুর দিন থেকে। এর ফলে ট্রেন চালানোর অ্যালগরিদমের যথেষ্ট উন্নতির পাশাপাশি পথের অপ্টিমাইজেশনের ফলে ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা। ভ্রমণের সময় এই হ্রাস পরিচালনমূলক নমনীয়তা বৃদ্ধি করবে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ট্রেনের ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা করবে। কলকাতার পুরাতন কৈলাঘাট বিল্ডিং-এ তার সভা কক্ষে মঙ্গলবার প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার, ইস্টার্ন রেলওয়ে, উদয় শঙ্কর ঝা, এক সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ব রেলের নতুন টাইম টেবিলের বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করেন।উদয় শঙ্কর ঝা আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই উন্নতি হল সারা বছর ধরে পরিচালিত নিবেদিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলাফল এবং পূর্ব রেলের বিভিন্ন বিভাগে 3য়/4র্থ লাইন চালু করার ফলে যাত্রীরা দ্রুত এবং আরও উন্নতমানের ট্রেনযোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। যাত্রা অবকাঠামো এবং ট্র্যাকগুলির আপগ্রেডগুলি ভ্রমণের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, রেল ভ্রমণে আরও আকর্ষণীয় বিকল্পগুলি তৈরি করবে। মেল/এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার ট্রেন এবং লোকাল ট্রেনের সময়ে বড় পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন ট্রেনের প্রবর্তন, ডাইভারশন, সময় পরিবর্তন, ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি, ট্রেনের পুনঃসংখ্যা ইত্যাদি যা নতুন সময় সারণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রী ঝা যাত্রীদের সুবিধার জন্য আরও ভাল পরিষেবা বজায় রাখার জন্য বৈধ যাত্রার টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার জন্য যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান।নতুন টাইম টেবিলের প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে একটি নতুন কৃষ্ণনগর-রানাঘাট লোকাল এবং দুটি হাওড়া-সিঙ্গুর লোকালের (একটি তারকেশ্বর পর্যন্ত এবং অন্যটি হরিপাল পর্যন্ত) এর বর্ধিতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে যা যাত্রীদের শহরতলির বিভাগের প্রয়োজন অনুসারে। ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। অধিকন্তু, ৭২টি মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রার সময় ০৫ মিনিট থেকে কমিয়ে ৫৫ মিনিটে এবং ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানো হবে (EMU/MEMU/DEMU সহ) তাদের যাত্রার সময় ০৬ মিনিট থেকে ২০ মিনিটে কমবে।উল্লেখ্য যে, ৮৬টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন, ৪৪টি DEMU যাত্রী এবং ১৪৬টি MEMU যাত্রী একটি নতুন নম্বর দিয়ে চলবে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৪
রাজ্য

ট্যাবের টাকা কোথায়? মালদা থেকে সাইবার ক্যাফের মালিককে গ্রেফতার বর্ধমান পুলিশের

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের হাতে ধরা পড়লো মালদার সাইবার ক্যাফের এক মালিক। অভিযুক্ত যুবকের ট্যাব কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার ঘটনা জানাজানি হতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার কৃষ্ণপুর এলাকার বাড়ি থেকেই সাইবার ক্যাফের মালিক হাসেম আলীকে গ্রেফতার করে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার মালদা আদালতের মাধ্যমে ধৃতকে সাত দিনের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশকর্তারা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ট্যাব কেলেঙ্কারির পান্ডা এই হাসেম আলীর মাধ্যমে প্রচুর সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে। কারা এতদিন ধরে ছাত্রদের লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব করার পিছনে যুক্ত রয়েছে, সেটিও জানতে তৎপর তদন্তকারী পুলিশকর্তারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈষ্ণবনগর থানার কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা হাসেম আলী। তার বৈষ্ণবনগরের এমএলএ মোড়ে রাস্তার ধারে ছোট্ট একটি সাইবার ক্যাফের দোকান রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ ওই যুবক যে বিশেষ কায়দায় পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বিষয়ে পারদর্শী তা জানতে পেরেও হতবাক হয়েছে পুলিশ। ধৃত হাসেম আলীর কাছ থেকে তিন বছরের একটি কম্পিউটার সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ ।জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাস জানিয়েছেন, ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে গত জুলাই মাসে হাসেম আলি একটি মোবাইল ফোন মাধ্যমে বাংলার শিক্ষা পোর্টাল অ্যাকসেস করে। সাথে সাথে হাসেম নিজেও একটি অ্যাকাউন্ট মোডিফাই করেছিল। এই কাজে হাসেম যে মোবাইলটি ব্যবহার করতো সেটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনায় হাসেমের সঙ্গে আরও কিছু জন জড়িত থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। বর্ধমান জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে হাসেম আলী তার মোবাইল ফোনে বাংলা শিক্ষা পোর্টালে ঢুকে। এরপরই পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টের তথ্য বদলে দেয় বলে পুলিশ এখনও পর্যন্ত জানতে পেরেছে। তারপরে ধীরে ধীরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ধৃত হাসেম আলী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ট্যাব কেলেঙ্কারিতে শুধু হাসেম আলী একা জড়িত নয়। এর পিছনে অনেক বড় বড় মাথা রয়েছে। সেইসব পান্ডাদের সন্ধান পেতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালদা আদালতের কাছে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে বর্ধমান পুলিশ। ধৃত হাসেম আলির মা নুরজাহান বেগম বলেন, আমার ছেলেকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। ও যদি সত্যি এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে থাকত, তাহলে আজকে আমাদের আধা কাঁচা, আধা পাকা বাড়িতে থাকতে হত না। আমার ছেলের কোনওরকম বিলাসবহুল জীবনযাত্রাও ছিল না। সাদামাটা ভাবেই থাকতো। তারপরেও হঠাৎ করে পুলিশ এসে ছেলেকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ধরে নিয়ে গিয়েছে। আমার ছেলে নির্দোষ। উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় শতাধিক পড়ুয়ার পাশাপাশি মালদার গাজোল, হবিবপুর এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তিনটি বিদ্যালয়ের প্রায় দেড়শ জন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই মালদার জেলাশাসকের নির্দেশে শুরু হয় তদন্ত। তিনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নামে এফআইআর করে জেলা শিক্ষা দপ্তর। এরই মধ্যে সোমবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ মালদায় হানা দিয়ে ট্যাব কেলেঙ্কারিতে হাসেম আলী নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার সেই মোবাইল ফোনও।

নভেম্বর ১২, ২০২৪
রাজ্য

শিয়ালদা-সেক্টর ফাইভে সারাদিনে কত মেট্রো চলবে, কখন ছাড়বে, কত সময় অন্তর চলবে, জানুন সূচি

ইতিমধ্যে শিয়ালদা স্টেশন থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। মাঝে একটা দিন পর বৃহস্পতিবার শুরু হবে শিয়ালদা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে মেট্রোর ছোটার পালা। আইটি সেক্টর ছাড়াও হাজার হাজার অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে এই মেট্রো চালু হলে{ কলকাতা মেট্রো রেল এই পথের সূচিও প্রকাশ করেছে সাধারণের সুবিধার জন্য।বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মেট্রো রেলওয়ে কলকাতার জানিয়েছে, শিয়ালদা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত দিনে ১০০টি মেট্রো চলাচল করবে। ৫০টি আপ, ডাউনে থাকবে ৫০টি। তবে আপাতত রবিবার এই রুটে মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। শিয়ালদা স্টেশন থেকে আপ-এ সেক্টর ফাইভ অভিমুখে প্রথম মেট্রো ছাড়বে সকাল ৬.৫৫ মিনিটে। ডাউনে সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত প্রথম মেট্রো ছাড়াবে সকাল ৭টা থেকে। শিয়ালদা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের উদ্দেশ্যে দিনের শেষ মেট্রো রওনা দেবে রাত ৯.৩৫ মিনিটে। অন্যদিকে সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদার দিকে শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ৯.৪০ মিনিটে।প্রথম দু ঘন্টা অর্থাৎ সকাল ৬.৫৫-৮.৫৫ মিনিট, শিয়ালদা স্টেশন থেকে ২০ মিনিট অন্তর মেট্রো যাতায়াত করবে। তার পরের দুঘন্টা অর্থাৎ ৮.৫৫-১০.৫৫, মেট্রো উভয় দিক থেকেই ১৫ মিনিট অন্তর চলবে। ১০.৫৫ থেকে ৪.৫৫ পর্যন্ত ওই পথে মেট্রোর সময়ের ব্যবধান ফের সকালের মতো ২০ মিনিট হবে। অফিসয়াত্রীদের ফেরার সময় ৪.৫৫ থেকে ৭.৫৫ পর্যন্ত ফের মেট্রো চলবে ১৫ মিনিট। রাতে ৭.৫৫ থেকে ৯.৯৫ অবধি মেট্রোর চাকা গড়াবে ২০ মিনিট অন্তর অন্তর।

জুলাই ১২, ২০২২
দেশ

বায়ুসেনার ট্যাবলোয় শোভা বাড়ালেন রাফালের প্রথম মহিলা পাইলট শিবাঙ্গী সিং

৭৩ তম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এই বছরও রাজধানীর রাজপথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল। এই কুচকাওয়াজে দেশের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীর ট্যাবলো কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে। এইবার সেই কুচকাওয়াজেই অংশগ্রহণ করলেন ভারতের প্রথম মহিলা যুদ্ধবিমান ফাইটার যিনি রাফাল যুদ্ধবিমান উড়িয়েছেন। বুধবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় বায়ুসেনার ট্যাবলোতে অংশগ্রহণ করেন শিবাঙ্গী সিং। শিবাঙ্গী হলেন দ্বিতীয় মহিলা যুদ্ধবিমানের পাইলট যিনি বায়ুসেনার ট্যাবলোতে অংশ নিয়েছেন। এর আগে ভাবনা কান্ত বায়ুসেনার ট্যাবলোতে মহিলা যুদ্ধবিমান পাইলট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।The first woman fighter pilot on the Rafale combat aircraft, Flight Lieutenant Shivangi Singh at the Indian Air Force (IAF) tableau today.#RepublicDayParade pic.twitter.com/vXDFVlAI12 ANI (@ANI) January 26, 2022২০১৭ সালে শিবাঙ্গী সিং ভারতীয় বায়ুসেনা বাহিনীতে যোগদান করেন। তাঁকে ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা যুদ্ধবিমানের পাইলট দ্বিতীয় ব্যাচে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। রাফাল যুদ্ধবিমানের পাইলট হওয়ার আগে শিবাঙ্গী মিগ-২১ বাইসন বিমান উড়িয়েছিলেন। শিবাঙ্গী বারাণসীর বাসিন্দা। পঞ্জাবের আম্বালায় অবস্থিত আইএএফকে এর গোল্ডেন অ্যারোস স্কোয়াড্রনের অংশ তিনি। ২০২০ সালে, শিবাঙ্গী সিং একটি কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। এবং রাফাল পাইলট হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনিই প্রথম মহিলা পাইলট যিনি রাফাল যুদ্ধবিমানের পাইলট হন।

জানুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলো বাতিলের প্রতিবাদে হাওড়ায় বাংলা পক্ষর বিক্ষোভ কর্মসূচি

দিল্লিতে ২৬ শে জানুয়ারী সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাংলার তৈরি ট্যাবলো বাতিল করেছে বাঙালির শত্রু বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার। বিজেপি শাসিত দিল্লি সুভাষের শত্রু। বাংলা ও বাঙালির শত্রু বিজেপি। এর প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ হাওড়া জেলার পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি হল হাওড়ার রামরাজাতলায় কলাবাগান এলাকায় নতুন রাস্তার মোড়ে সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে।থ্রেডে যাও, ভোট দাও। #AntiNetajiBJP https://t.co/WTLVWScKpd বাংলা পক্ষ Bangla Pokkho (@BanglaPokkho) January 17, 2022বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দাবি ওঠে, বাংলাকে বঞ্চনা করা চলবে না। বাংলার ট্যাবলোকে দিল্লির কুচকাওয়াজে স্থান দিতে হবে। সুভাষচন্দ্র বসু সারা ভারতের, কিন্তু তিনি অনেকের কাছে রাজনীতির কাঁচামাল মাত্র। কিন্তু বাংলা ও বাঙালির কাছে হৃদয় সম্রাট তিনি। স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদান সবথেকে বেশি ছিল। তাই বাংলার তৈরি সুভাষ চন্দ্র বসু ও আজাদ-হিন্দ-ফৌজ কেন্দ্রিক ট্যাবলোর অনুমতি দিতে হবে। না-হলে লড়াই চলবে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২২
রাজ্য

"নেতাজি" সুভাষচন্দ্র বসু-র ট্যাবলো বাতিল করলো কেন্দ্র সরকার, প্রতিবাদে মুখর 'বাংলা পক্ষ'

একদিকে যখন বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করছে এই বছর ২৩ জানুয়ারি থেকেই সাধারণতন্ত্র দিবস পালন শুরু হবে, সরকার আরও জানিয়েছে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীকে মর্যাদা দিতেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ২০১৯ এ নেতাজির জন্মবার্ষিকীকে পরাক্রম দিবস হিসেবে পালন করার কথা ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার, এবং এই উপলক্ষে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল হলে এক মনোজ্ঞ অনুষ্টানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অদ্ভুত ভাবে সেই সরকারই ২৬ শে জানুয়ারী-র সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ উপলক্ষে বীর সুভাষ ও আজাদ-হিন্দ-ফৌজ-কে কেন্দ্র করে তৈরি বাংলার ট্যাবলো বাতিল করেছে। একই সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণে অবাক সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিদ্বজন।এই আচরণের তীব্র বিরোধিতা করে বাংলা পক্ষ। বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষি কোনও ঘটনার প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে এই বাংলা প্রেমী সংগঠন। তাঁরা তাদের টুইটার হ্যাণ্ডেল থেকে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। জনতার কথার প্রতিনিধি কে বাংলা পক্ষ জানিয়েছে, বাঙালির শত্রু বিজেপি শাসিত দিল্লির কেন্দ্র সরকার। বিজেপি ও হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্র সরকারের সর্বদাই বাংলা ও বাঙালি বিরোধী চরিত্র দেখি আমরা।আরও পড়ুনঃ নেতাজির জীবন নিয়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলেবাংলা পক্ষ-এর তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যখন বাঙালি বীর সন্তানরা ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিচ্ছে তখন আরএসএস ব্রিটিশের দালালি করতো। ইতিহাসক্রমেই বিজেপি ও আরএসএস (RSS) সুভাষ বিরোধী। এবার সাধারণতন্ত্র দিবসে সুভাষের নামাঙ্কিত বাংলার ট্যাবলো বাতিল হওয়ায় দিল্লির সুভাষ বিরোধিতা আরও প্রকট ভাবে প্রকাশিত হল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাঙালি বিরোধী বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকে ধিক্কার জানিয়ে ট্যুইটার প্রচার শুরু করেছে বাংলা পক্ষ। যদিও এবিষয়ে আরএসএসের কোনও মন্তব্য মেলেনি।বাংলা পক্ষর শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি জানিয়েছেন, বাঙালিদের তাঁরা আহ্বান জানাচ্ছেন #AntiNetajiBJP হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করে ট্যুইটারে ঝড় তোলার জন্য। এছাড়াও আরও একটি হ্যাসট্যাগ #BengalNetajibannedinDelhi তাঁরা ব্যবহার করছেন এই প্রচারে। হাজার হাজার ট্যুইটের মাধ্যমে সুভাষচন্দ্রের অমর্যাদার প্রতিবাদে গর্জে ওঠার আবেদন তাঁরা রাখছেন সমগ্র ভারতীয়দের কাছে। তাঁরা জানিয়েছেন সুভাষচন্দ্র শুধু বাঙালির গর্ব নয় সমগ্র ভারতবর্ষের অলঙ্কার।কৌশিক মাইতি আরও জানিয়েছেন, তাঁরা বাংলা পক্ষ এই ট্যুইটার প্রচারে আরও কয়েকটি দাবি রেখেছে সেগুলি হলঃ১. সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কিত সমস্ত ফাইল প্রকাশ করতে হবে।২. ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট চাই।৩. ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দেওয়ার সুযোগ চাই।

জানুয়ারি ১৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Drishyam 2 : 'দৃশ্যম ২' এর শুটিং শুরু হবে খুব শীঘ্রই

অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। খুশির খবর পেতে চলেছেম টাবুর ভক্তরা। অভিনেত্রী শীঘ্রই অজয় দেবগন, শ্রিয়া সরন এবং ইশিতা দত্তের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত হিন্দি সিক্যুয়েল দৃশ্যম ২ এর শ্যুট শুরু করবেন।দৃশ্যম এর প্রথম অংশে দেখা গেছে মীরা দেশমুখের ছেলে (টাবু) নিখোঁজ হলে অজয় দেবগনের পরিবার সন্দেহের মধ্যে পড়ে। টাবু একজন কঠোর পুলিশ এবং মায়ের ভূমিকায় অব্যাহত আছেন যিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য কোন খামতি রাখেন না। তার অভিনয় তার পর্যালোচনা, পুরস্কার, এবং দর্শকদের কাছ থেকে ভালোবাসা জিতেছে।এই বছরের মে মাসে কুমার মাঙ্গাত পাঠক এবং অভিষেক পাঠকের প্যানোরামা স্টুডিওস ইন্টারন্যাশনাল ঘোষণা করেছিল যে এটি মালায়ালাম হিট ছবি দৃশ্যম ২ - দ্য রিজাম্পশন এর হিন্দি রিমেক হতে চলেছে। দৃশ্যম ২ দ্য রিজাম্পশন, ২০১৩ সালের মালায়ালাম চলচ্চিত্র দৃশ্যম -এর সিক্যুয়েল প্রথম অংশের ঘটনার ছয় বছর পর সংঘটিত হচ্ছে। এটি জর্জকুট্টি (মোহনলাল) এবং তার পরিবারের সংগ্রামকে অনুসরণ করে যারা আবার পুলিশের মহাপরিদর্শকের নিখোঁজ ছেলের জন্য সন্দেহের কবলে পড়ে।দৃশ্যম ২ছাড়াও বিশাল ভরদ্বাজের ছবি খুফিয়া তে অভিনয় করতে দেখা যাবে টাবু কে। যে ছবিটি মুক্তি পাবে নেটফ্লিক্সে। হায়দার-এর পর বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে টাবু কে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Manika Batra : মনিকাকে হোটেলের ঘরে কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন সৌম্যদীপ রায়?‌

ভারতীয় টেবিল টেনিস দলের কোচ সৌম্যদীপ রায়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন অলিম্পিয়ান মনিকা বাত্রা। নিজের অ্যাকাডেমির ছাত্রীর সুবিধার জন্য ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সৌম্যদীপ নাকি হোটেলে মনিকার ঘরে গিয়েছিলেন। এমনই অভিযোগ করেছেন এই ভারতীয় মহিলা টেবিল টেনিস তারকা।টোকিও অলিম্পিক থেকেই বিতর্কে রয়েছেন মনিকা বাত্রা। অলিম্পিক চলাকালীন তিনি জাতীয় কোচ সৌম্যদীপ রায়ের সাহায্য নিতে অস্বীকার করেছিলেন। টোকিও থেকে দেশে ফেরার পর এই কারণে মনিকা বাত্রাকে শোকজ করেছিল ভারতের টেবিল টেনিস ফেডারেশন। তাঁর উত্তর দিতে গিয়েই মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন মনিকা। অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতেও তিনি প্রস্তুত।আরও পড়ুনঃ পিকনিক করতে গিয়ে রহস্য মৃত্যু যুবকের, আটক তিন বন্ধুসৌম্যদীপের বিরুদ্ধে এই রকম মারাত্মক অভিযোগ মেনে নিতে পারছেন না বাংলার টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব শর্মি সেনগুপ্ত। তিনি বলছিলেন, সৌম্যদীপ ৪ বছর দারুণ কাজ করছে। ওকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। সৌম্যদীপ এই ধরণের বোকামি করতে পারে বলে আমার মনে হয় না। অহেতুক কেন ও ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে যাবে বুঝতে পারছি না। যাইহোক, এটা সর্বভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশনের বিচারাধীন বিষয়। সঠিক তদন্ত করে আসল তথ্য বার করবে।মনিকা বাত্রার আচরণেও অবাক শর্মি সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, মনিকাকেও দীর্ঘদিন ধরে চিনি। খুবই ভাল মেয়ে। নিজের খেলা নিয়ে এতটাই মগ্ন থাকে, অন্য বিষয়ে মাথা গলায় না। মোবাইল পর্যন্ত নিজের কাছে রাখে না। খেলার প্রতি এতটাই ডেডিকেশন। সেই মেয়ে এই ধরণের অভিযোগ করছে, এটা ভাবার বিষয়। তবে অলিম্পিকে সৌম্যদীপকে বসতে বলে ঠিক করেনি।আরও পড়ুনঃ ফোনে কথা বলছেন নার্স, ভ্যাকসিন পড়ল পর পর ৩ ডোজ!ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন যে শোকজ করেছিল, তার জবাবে মনিকা বলেছেন, মার্চে দোহায় টোকিও অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ চলছিল। ওর অ্যাকাডেমির এক ছাত্রীকে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আমার হোটেলের ঘরে এসেছিলেন সৌম্যদীপ রায়। প্রায় ২০ মিনিট আমার ঘরে ছিলেন। আমি সেই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিই। ওটা আমার কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়েরই সামিল। অলিম্পিকে সৌম্যদীপের কাছে পরামর্শ নিতে গেলে ওই ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের ঘটনা মাথায় আসত। আমার খেলায় প্রভাব ফেলতে পারত। সেই কারণেই সৌম্যদীপকে কোচ হিসেবে বোর্ডের পাশে দেখতে চাইনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই ঘটনার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। যথাসময়ে প্রমাণ পেশ করার জন্য তিনি তৈরি।সৌম্যদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও ঠিক কোন ছাত্রীর জন্য তিনি ম্যাচ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান করা হচ্ছে সুতীর্থা মুখার্জির জন্য তিনি মনিকার কাছে যেতে পারেন। কারণ, সুতীর্থা সৌম্যদীপ রায়ের অ্যাকাডেমির ছাত্রী। অলিম্পিকের পর মনিকা বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে যে জল্পনা চলছিল তাঁর বিস্ফোরক চিঠি গোটা ঘটনাকেই অন্য মোড় দিল। মনিকার অভিযোগ সত্যি হলে তা প্রাক্তন অলিম্পিয়ান সৌম্যদীপের পক্ষেও কলঙ্কজনক অধ্যায়ই হবে। সৌম্যদীপ রায় অবশ্য এখনও মনিকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি। তাতে রহস্য বাড়ছে। মনিকার অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ফেডারেশনও। সৌম্যদীপের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। জাতীয় শিবিরে কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে সৌম্যদীপকে মনিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই উত্তর এলে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে ফেডারেশন।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Silver Medal: সোনার স্বপ্ন অধরা, ভাবনাবেনকে ৩ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দেবে গুজরাট সরকার

টোকিও অলিম্পিক দেশের টেবিল টেনিস তারকারা ব্যর্থ। শরৎ কমল, মনিকা বাত্রাদের সেই ব্যর্থতা প্যারালিম্পিকে ঢেকে দিয়েছেন ভাবনাবেন হাসমুখভাই প্যাটেল। প্রতিযোগিতা থেকে রুপো জিতে ইতিহাস রচনা করেছেন দেশের প্যারা অ্যাথলিট। ফাইনালে চীনের ইং ঝউয়ের কাছে স্ট্রেট সেটে হেরে রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ম্যাচের ফলাফল ৭-১১, ৫-১১, ৬-১১। সোনা অধরা থেকে গেলেও তাঁর সেই সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন। গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকেও আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ভাবনাবেনকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন।আরও পড়ুনঃ কাবুল বিমানবন্দরে আবারও হতে পারে সন্ত্রাসবাদী হামলা!গুজরাটের মেহসানা জেলার সন্ধিয়াতে থাকেন ভাবনাবেন প্যাটেল। তাঁর সাফল্যে গর্বিত গুজরাট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি অভিনন্দন জানিয়েছেন এই প্যারা আথলিটকে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ভাবনাবেনের সাফল্যে খুশি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৩ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে প্রথম, নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার ২ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি দুশ্যন্ত চৌতালাও ভাবনাবেনকে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, টোকিও প্যারালিম্পিকে রুপোজয়ী ভাবনা প্যাটেলকে আর্থিক পুরস্কার হিসেবে ৩১ লক্ষ টাকা দেবে ফে়ডারেশন। ভারতীয় প্যারা টেবিল টেনিস তারকার ইচ্ছাশক্তি, মানসিকতা ও মনের জোরের প্রশংসা করেছেন দুশ্যন্ত। ভাবনার আগামী দিনের সফলতাও কামনা করেছেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে সাফল্য পাননি টেবিল টেনিস তারকারা। শরথ কমল, মনিকা বাত্রা, জি সাথিয়ান, সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় মিক্সড ও সিঙ্গলস ইভেন্টে সবাই ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতা ভুলিয়ে টোকিও প্যারালিম্পিকে ভাবিনার রুপো দেশের অন্যান্য টেবিল টেনিস তারকার কাছে দৃষ্টান্ত বলে মনে করে দেশের ক্রীড়া মহল।আরও পড়ুনঃ পুলিশে আস্থা নেই, সিআইডি তদন্তের দাবি অপহৃত ব্যবসায়ী ও তাঁর গাড়ি চালকের পরিবারেরটোকিও প্যারালিম্পিকে মহিলাদের সিঙ্গলস ক্লাস ফোর ইভেন্টের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা পাঁচটি প্যারালিম্পিক সোনাজয়ী চিনের ইং ঝউয়ের কাছে স্ট্রেট সেটে হেরেও দেশের জন্য রুপো নিশ্চিত করেছেন ভাবিনা প্যাটেল। ম্যাচের ফলাফল ৭-১১, ৫-১১, ৬-১১। ম্যাচ হারলেও ভাবিনার লড়াইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুথ হয়েছে দেশের ক্রীড়া মহল।আরও পড়ুনঃ কয়লা-কাণ্ডে সস্ত্রীক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে তলব ইডি-রটোকিও প্যারালিম্পিক থেকে পাওয়া পদক দেশকে উৎসর্গ করেছেন ভাবনাবেন প্যাটেল। তবে তিনি স্বীকার রে নিয়েছেন, রবিবার তিনি নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না। ম্যাচ শুরুর আগে তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলেও জানিয়েছেন ভাবনাবেন। তাঁর কথায়, ফাইনালে নিজের গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আগামী দিনে দেশের হয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব।আরও পড়ুনঃ এজেন্সি লেলিয়ে না দিয়ে, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার হুংকার মমতারটোকিও প্যারালিম্পিকে রুপোজয়ী ভাবনাবেন প্যাটেলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। নিজের রাজ্য গুজরাতের পাডলারকে অনুপ্রেরণা বলে সম্বোধন করেছেন তিনি। ভাবনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, শচী তেন্ডুলকর, অভিনব বিন্দ্রা সহ গোটা দেশ।

আগস্ট ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sharath Kamal : অলিম্পিকের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় শরথ কমলের

অলিম্পিক থেকে পদক জিতে দেশে ফিরবেন। এই স্বপ্ন নিয়েই টোকিও গিয়েছিলেন। স্বপ্নপূরণ হল না শরথ কমলের। তৃতীয় রাউন্ডে চানের মা লংয়ের কাছে হেরে অলিম্পিক অভিযান শেষ এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার। ম্যাচের ফল ৪১। দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগালের থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়ার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন শরথ কমল। ৪২ ব্যবধানে জিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। এদিনও চীনের মা লংএর কাছে প্রথম গেম হেরে পিছিয়ে পড়েছিলেন। দ্বিতীয় গেমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেও শেষ রক্ষা হল না।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াপ্রথম গেমের শুরুতেই ৩৫ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছিলেন শরথ কমল। সমতা ফিরিয়ে ৫৫ করেন। এরপর টানা ৪টি পয়েন্ট তুলে নিয়ে ৯৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান মা লং। সেখান থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি শরথ কমল। ১১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন। দ্বিতীয় গেমে শুরু থেকেই লড়াই জমে ওঠে একসময় ৮৪ পয়েন্টে শরথ কমল এগিয়ে গেলেও সমতা ফেরান মা লং। ৮৮ অবস্থা থেকে টানা ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে গেম জিতে নেন শরথ।আরও পড়ুনঃ সুযোগ পেলেন অভিমন্যু, ভারতীয় টেস্ট দলে একসঙ্গে বাংলার ৩তৃতীয় গেমেও সেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিশ্বের ২ নম্বর তারকাকে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়েননি এই ভারতীয় টেবিল টেনিস তারকা। তবে তিনতিনবার গেম পয়েন্ট বাঁচিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি। ১৩১১ পয়েন্টে তৃতীয় গেম জিতে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে যান মা লং। চতুর্থ গেমে শরথ কমলকে একেবারেই দাঁড়াতে দেননি চীনের এই টেবিল টেনিস তারকা। ১১৪ ব্যবধানে গেম জিতে নেন। ৩১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায় শরথ কমলের। পঞ্চম গেমেও একেবারেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। ১১৪ ব্যবধানে উড়ে যান।

জুলাই ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sharath Kamal: ‌অলিম্পিক টিটি–র তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেলেন শরথ কমল

অলিম্পিকে পদকের স্বপ্ন নিয়েই এবার টোকিও পাড়ি। সেই স্বপ্নের দিকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছেন ভারতীয় টেবিল টেনিস তারকা শরথ কমল। পর্তুগালের থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়াকে ৪২ ব্যবধানে হারিয়ে পুরুষদের সিঙ্গলসের তৃতীয় রাউন্ডে পৌছে গেলেন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শরথ কমলের থেকে বেশ কয়েকধাপ পিছিয়ে পর্তুগালের থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়া। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শরথ কমল রয়েছেন ৩২ নম্বরে। অন্যদিকে, থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়া রয়েছেন ৫৬ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও শরথ কমলকে যথেষ্ট বেগ দিয়েছিলেন পর্তুগালের এই তারকা।প্রথম গেমে শরথ কমলকে দাঁড়াতেই দেননি থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়া। ১১২ পয়েন্টে গেম জিতে নেন। জড়তা কাটিয়ে দ্বিতীয় গেমে দারুণভাবে ফিরে আসেন শরথ কমল। ১১৮ ব্যবধানে জিতে নেন। তৃতীয় গেমেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শরথ কমল। ১১৫ পয়েন্টে তৃতীয় গেম জিতে নেন। চতুর্থ গেমে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন পর্তুগালের থিয়াগো অ্যাপোলোনিয়া। দুর্দান্ত লড়াই করে ১১৯ পয়েন্টে গেম জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান।ম্যাচে সমতা ফেরায় পরই যেন সম্বিত ফেরে শরথ কমলের। পঞ্চম গেমে আবার জ্বলে ওঠেন। ১১৬ পয়েন্টে জিতে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। ষষ্ঠ গেমে অবশ্য লড়াই দারুণ জমে উঠেছিল। একসময় স্কোর ছিল ৯৯। সেখান থেকে ১১৯ পয়েন্টে গেম জিতে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যান শরথ কমল। তৃতীয় রাউন্ডে তাঁর সামনে চীনের মা লং।২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে প্রথম খেলার সুযোগ পান শরথ কমল। সাফল্য পাননি। ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকেও সেই ব্যর্থতা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে খেলার ছাড়পত্র পাননি। এশিয়ান কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ইরানের নোশাদ আলামিনানকে হারিয়ে ২০১৬ রিও অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রোমানিয়ার আদ্রিয়ান ক্রিসানের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল শরথ কমলকে। ভাল প্রস্তুতি নিয়েই যে এবার টোকিও অলিম্পিকে গিয়েছেন শরথ কমল, প্রথম রাউন্ড থেকেই প্রমাম দিয়ে যাচ্ছেন।

জুলাই ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sutirtha Mukherjee : অলিম্পিক টিটি–র দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় বঙ্গতনয়া সুতীর্থার

প্রথম রাউন্ডে সুইডেনের লিসা বের্গাস্ট্রোয়েমকে হারিয়ে চমক দিয়েছিলেন সুতীর্থা মুখার্জি। দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগালের ফু ইউয়ের কাছে হেরে অলিম্পিক থেকে বিদায় নিলেন এই বাঙালি টেবিল টেনিস তারকা। ৪০ ব্যবধানে সুতীর্থাকে উড়িয়ে জিতলেন ফু ইউ। বয়স যে কোনও বাধা নয়, প্রমাণ করে দিলেন এই পর্তুগালের প্যাডলার। অভিজ্ঞতা দিয়ে বাজিমাত করে গেলেন ফু ইউ।আরও পড়ুনঃ টোকিও অলিম্পিকে প্রথম পদক ভারতেরপ্রথম রাউন্ডে বের্গাস্ট্রোয়েমকে হারিয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা বাড়িয়েছিলেন সুতীর্থা। আরও একটা অঘটনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে একেবারেই জ্বলে উঠতে পারলেন না। পর্তুগালের ফু ইউয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ। বলতে গেলে অভিজ্ঞতার কাছে হারতে হল সুতীর্থাকে। তার ওপর জীবনের প্রথম অলিম্পিক। চাপ তো ছিলই। সেই চাপ থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেননি এই বাঙালী টেবিল টেনিস তারকা।আরও পড়ুনঃ এরোটিক ভিডিয়ো মানে পর্ন নয় : শিল্পা শেট্টিম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল ফু ইউয়ের। প্রথম গেমে মাত্র ৩টি পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সমর্থ হন সুতীর্থা। তাও আবার তিনটি পয়েন্টই এসেছিল ফু ইউয়ের ভুলের জন্য। প্রথম গেম ১১৩ ব্যবধানে জিতে নেন ফু ইউ। দ্বিতীয় গেমেও সুতীর্থাকে দাঁড়াতেই দেননি ৪২ বছর বয়সী চীনা বংশোদ্ভুত এই পর্তুগালের টেবিল টেনিস তারকা। ১১৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে নেন।আরও পড়ুনঃ পোলিকারপোভাকে উড়িয়ে দারুণভাবে অলিম্পিক অভিযান শুরু করলেন সিন্ধুকোচ সৌম্যদীপ রায়ের পরামর্শ নিয়ে তৃতীয় গেমে শুরুর দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সুতীর্থা। কিন্তু তাঁকে কোনও সুযোগ দেননি। ফু ইউ। ১১৫ ব্যবধানে জিতে ৩০ গেমে এগিয়ে যান। চতুর্থ গেমেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ফু ইউ। ১১৫ পয়েন্টে গেম জিতে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যান বর্ষীয়ান এই টেবিল টেনিস তারকা। সুতীর্থা বিদায় নেওয়ায় টেবিল টেনিসে ভারতের আশা শুধু শরথ কমল ও মনিকা বাত্রা। কিন্তু মনিকা যেভাবে বিতর্কে জড়িয়ে ফোকাস হারাচ্ছেন, কতদূর এগোবেন বলা কঠিন।

জুলাই ২৬, ২০২১
বিনোদুনিয়া

ফের অপারেশন টেবিলে বিগ বি

ফের অপারেশন টেবিলে বিগ বিআবারও অস্ত্রোপচার হতে চলেছে বিগ বির। ব্লগে নিজেই এই খবর জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। কীসের অপারেশন, তার বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি। লিখেছেন, স্বাস্থ্যের পরিস্থিতিঅপারশনআর কিছু লিখতে পারছি না। ব্লগ দেখে বিগ বির দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেছেন তাঁর অজস্র অনুরাগী।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১
কলকাতা

ভোটের ভেট, ট্যাবের পর ফুটবল

একেই বলে ভোটের বালাই। বিধানসভা ভোটের আগে স্কুলে স্কুলে ফুটবল বিতরণের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে সাইকেল, বই, খাতা, পোশাক ও জুতো পায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাব কেনার জন্য সবাইকে ১০ হাজার করে টাকা পাঠানো হচ্ছে। এবার, ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলায় আরও বেশি করে উৎসাহ দিতে স্কুলে ফুটবল পাঠানোর কথা ভাবছে সরকার।করোনা অতিমারি সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাস থেকে টানা স্কুল বন্ধ। তবে প্রত্যেকের মিড-ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বিতরণে ছেদ পড়েনি। আগামী মাসে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা চলছে। রাজ্যের জেলবন্দি আসামিদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়। কেউ ছবি আঁকেন, কেউ ছেনি-হাতুড়ি হাতে স্থাপত্যকলায় মনোনিবেশ করেন। গান, আবৃত্তি, অভিনয়-সহ নানা সাংস্কৃতিক কাজেও আসামিদের উৎসাহ দেয় কারা দফতর। কিছুদিন আগে সংশোধনাগারের সদস্যরা এক লক্ষ ফুটবল তৈরি করেছেন। কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস জানিয়েছেন, সংশোধনাগারের সদস্যদের তৈরি ৫০ হাজার ফুটবল ইতিমধ্যে বিভিন্ন ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছে। বাকি ফুটবলগুলো পড়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেগুলো স্কুলে বিতরণের কথা ভাবা হচ্ছে। এই কারণে আসামিদের হাতে তৈরি ফুটবল স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে সরকার।

জানুয়ারি ৩১, ২০২১
রাজ্য

সাড়ে ৯ লক্ষ পড়ুয়াকে ট্যাব দেবে সরকারঃ মমতা

করোনা পরিস্থিতির জেরে অনলাইনে চলছে ক্লাস। কিন্তু যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। এবার সেই সমস্যার সমাধানে কল্পতরু হয়ে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে রাজ্যের সাড়ে ৯ লক্ষ দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াকে বিনামূল্যে ট্যাব দেবে রাজ্য সরকার। সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়াদের এই ট্যাব দেবে সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নে সরকারি কর্মী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সেখানেই একথা জানান তিনি। আরও পড়ুন ঃ জানুয়ারিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের তিন শতাংশ ডিএ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যের ৯ লক্ষ পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে ট্যাব। তাতে কারও বাড়িতে স্মার্টফোন না থাকলেও সে অনায়াসেই করতে পারবে অনলাইন ক্লাস। এছাড়াও রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্কুলে ট্যাব কিংবা কম্পিউটার দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। যার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব হবে। অতিমারী পরিস্থিতিতে কমল বেসরকারি ল্যাবে আরটি-পিসিআর টেস্টের খরচ। এবার থেকে মাত্র ৯৫০ টাকাতেই করা যাবে পরীক্ষা। তার ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত যে যথেষ্ট উপকৃত হবেন, তাতে কোনও দ্বিমত নেই।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২০

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal