• ২২ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Pakistan

বিদেশ

একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে আকাশপথের জট! রূপপুরের ইউরেনিয়াম নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান বাংলাদেশের পথে রওনা দিয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার পরে ফের শুরু হয়েছে এই জ্বালানি সরবরাহ। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারই বিশেষ বিমানটি ঢাকায় পৌঁছনোর কথা। এরপর কড়া নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কথা ছিল একটি বিশেষ কার্গো বিমানের। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় সেই যাত্রা পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশের এক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আসতে পারেনি। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিমান চলাচলের অনুমতি এবং রুট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার সঙ্গে যুক্ত।জটিলতা কাটার পরে রাশিয়া বিকল্প পথ ব্যবহার করে জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। রুশ পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একাধিক বিশেষ কার্গো বিমানে ধাপে ধাপে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছবে।বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট নয়টি চালানে রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছনোর কথা। এর মধ্যে সাতটি চালান দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এবং দুটি চালান প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার হবে। রসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট। রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরি এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ধাপে ধাপে পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। শেষ পর্যন্ত জট কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুরের জন্য জ্বালানি পাঠানো শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া! তিন দিন পরেই ভারত-পাকিস্তান মহারণ

২০২৭ সালের পুরুষদের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় বসবে এবারের ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২ অক্টোবর এবং ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। মোট ১৪টি দলকে নিয়ে হবে ৫৭টি ম্যাচ।এবারের বিশ্বকাপের শুরুটাই হবে অন্য রকম। ১৪টি দলের মধ্যে তিনটি দলকে নিয়ে প্রথমে হবে একটি বিশেষ সুপার সিরিজ। সেই পর্বের তিনটি ম্যাচ হবে ২, ৪ এবং ৬ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহোকে। এই পর্বের শীর্ষে থাকা দল মূল গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে।এর পর ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল। অন্য গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং আরও একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল।ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৭ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। ম্যাচটি হবে কেপটাউনে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আবারও বড় মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই দল।তার পরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। অর্থাৎ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই দেখা যাবে ভারত-পাকিস্তান মহারণ।ভারতের তৃতীয় ম্যাচ ১৪ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ হবে ত্শোয়ানে। এরপর ১৭ অক্টোবর যোগ্যতা অর্জনকারী একটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ ২৪ অক্টোবর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি হবে ভিক্টোরিয়া ফলসে।এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির একটি হল নতুন ফরম্যাট। গত কয়েকটি বিশ্বকাপের মতো সরাসরি একটি দীর্ঘ গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনালে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। প্রথমে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। তার পর ১২ দলের গ্রুপ পর্ব এবং শেষে সাত দলের সুপার সেভেন পর্ব।দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল সরাসরি সুপার সেভেনে যাবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে যে দল তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকবে, সেই দলও পরের পর্বে জায়গা পাবে। ফলে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।সুপার সেভেনে মোট সাতটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। এই পর্বে গ্রুপ পর্বের কোনও পয়েন্ট বহন করা হবে না। ২৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে সুপার সেভেনের ম্যাচগুলি। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।সেমিফাইনাল হবে ১৭ এবং ১৮ নভেম্বর। প্রথম সেমিফাইনাল হবে কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ত্শোয়ানে। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রয়োজনে ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে ফাইনালের সংরক্ষিত দিন।এবারের বিশ্বকাপ যৌথ ভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া। মোট ১২টি মাঠে হবে ৫৭টি ম্যাচ। আফ্রিকার মাটিতে ২৪ বছর পর ফিরছে পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপ।সব মিলিয়ে ভারতের জন্য বিশ্বকাপের শুরুতেই অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের মতো বড় প্রতিপক্ষ। তার পর আফগানিস্তান, একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের লড়াই। নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকায় শুরু থেকেই ভারতীয় দলের সামনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১০ অক্টোবর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ! লেজেন্ডস লিগে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আয়োজকদের?

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আগামী ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে লেজেন্ডস লিগের তৃতীয় সংস্করণ। চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট সাতটি দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের দল অংশ নিচ্ছে। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি এবার প্রথম বার খেলছে বাংলাদেশ।ভারতের দলে রয়েছেন যুবরাজ সিংয়ের মতো প্রাক্তন তারকারা। পাকিস্তানের দলেও রয়েছেন শাহিদ আফ্রিদি। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানকে এবারের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং ৩ অক্টোবর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হওয়ার কথা।সবচেয়ে বেশি নজর অবশ্য ১০ অক্টোবরের ম্যাচে। ওই দিন দুবাইয়ে মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারত এবং পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। আয়োজকদের সরকারি সূচিতে এই ম্যাচটি রাখা হয়েছে। ফলে পাকিস্তান অংশ নেবে না বা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হয়েছেএমন তথ্য বর্তমান সরকারি সূচির সঙ্গে মিলছে না।এর আগে দ্বিতীয় সংস্করণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় কিংবদন্তিদের দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ওয়াকওভার পেয়ে পরের পর্বে পৌঁছেছিল। সেই ঘটনার প্রভাব এবারের প্রতিযোগিতাতেও পড়বে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে আলোচনা ছিল।তবে তৃতীয় সংস্করণের বর্তমান সূচিতে ভারত ও পাকিস্তানকে একই প্রতিযোগিতায় রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুই দলের মধ্যে ম্যাচের দিনও নির্ধারিত হয়েছে। ফলে গতবারের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।এবারের প্রতিযোগিতার আরও একটি বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের অভিষেক। বাংলাদেশের কিংবদন্তি দল প্রথম বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। সেই দলের অন্যতম পরিচিত নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩ অক্টোবর প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।লেজেন্ডস লিগের তৃতীয় সংস্করণে মোট ২৪টি লিগ ম্যাচ হবে। শারজা এবং দুবাইয়ের মাঠে হবে ম্যাচগুলি। লিগ পর্বের পর ১৬ অক্টোবর সেমিফাইনাল এবং ১৮ অক্টোবর ফাইনাল হওয়ার কথা।ফলে পাকিস্তানকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার যে দাবি সামনে এসেছে, তা অন্তত বর্তমান সরকারি সূচি অনুযায়ী সঠিক নয়। বরং পাকিস্তান এবারের প্রতিযোগিতার অন্যতম অংশগ্রহণকারী দল এবং ১০ অক্টোবর ভারত-পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ম্যাচও সূচিতে রয়েছে। গতবারের বিতর্কের পর এবার সেই ম্যাচ সত্যিই মাঠে গড়ায় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বিদেশ

শাহবাজ রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতেই পাল্টা জবাব! ওসামা প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির কড়া বার্তা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তোলেন। কাশ্মীর, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর পরেই ভারতের তরফে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব পেটল গেহলট ভারতের হয়ে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্যকে তিনি অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্তদের তার পরিণতি ভুগতে হবে।ভারতের পাল্টা বক্তব্যে বিশেষ ভাবে উঠে আসে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ। পেটল গেহলট বলেন, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের সময় ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গও মনে রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে বসবাস করছিলেন।ভারতীয় প্রতিনিধির বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছর ভারত দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার জায়গা থাকবে না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও তিনি জানান। পাকিস্তানের সন্ত্রাসনীতি নিয়ে ভবিষ্যতে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও ছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ওই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে গত বছরের সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গও ফিরে আসে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওই সংঘাতের ফলাফল নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলেছেন। ভারত অবশ্য সেই দাবিগুলির পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এর আগে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই সময় জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কত দিন সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে যাবে। এই মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।ফলে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পর ভারতের পাল্টা জবাব ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল দিল্লি-ইসলামাবাদের তীব্র মতবিরোধ। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান যে এখনও পরস্পরের বিপরীত, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চের এই বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
বিদেশ

জঙ্গিকে ধরতে পুরস্কার বাড়ল, তবু কি ‘চোখে ধুলো’ পাকিস্তানের? মাসুদ আজহারকে ঘিরে রহস্য

ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা মাসুদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতেই কি এমন পদক্ষেপ করল ইসলামাবাদ?মাসুদ আজহার ভারতের একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। ওই আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের নেপথ্যে থাকা মাসুদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছে।২০২১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা মাসুদ আজহারকে গ্রেফতারির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের দাবি ছিল, জইশ প্রধান পাকিস্তানে নেই, আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাসুদ বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহ এলাকায় রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন রেড বুকে মাসুদের নাম রাখা এবং পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো পাকিস্তানের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।এর মধ্যেই পাকিস্তানের প্রকাশিত নতুন রেড বুক ঘিরেও চর্চা শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় অর্থ জোগান, হামলাকারীদের নৌকা ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে ১৯ জনের নাম সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তালিকায় থাকা ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের ছবি এবং তাঁদের কার্যকলাপের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও বাকি দুজনের ক্ষেত্রে শুধু নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব।ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপকে শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা হিসেবে দেখার আগে তার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাসুদ আজহারের অবস্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর ফারাক রয়েছে।এখন প্রশ্ন, এফএটিএফের বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের মাথার দাম ২০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। পাকিস্তান সত্যিই মাসুদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করে কি না, নাকি এটি কেবল আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল, তা নিয়েই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিদেশ

বৈধ ভারতীয় ভিসা, তবু মিলল না ছাড়পত্র! পাকিস্তানে হেনস্থা ১০৪ শিখ তীর্থযাত্রীকে

শিখ তীর্থস্থান পরিদর্শনের জন্য ভারতে গমনকারী মোট ১০৪ জন পাকিস্তানি শিখ তীর্থযাত্রী শুক্রবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে আটকে পড়েন, কারণ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে অতিরিক্ত ছাড়পত্রের নথি দাবি করে। ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁরা আটকে থাকেন। তীর্থযাত্রীদের মতে, প্রথমে ওয়াঘা-আটারি স্থল সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি, এরপর তাঁরা মোটা টাকা দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট কেনেন। ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কর্মকর্তারা তাদের থামিয়ে দেন এবং পাকিস্তান সরকার, স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে এনওসি দাবি করেন। ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে তীর্থযাত্রীরা শুক্রবার সারা রাতা তাদের টার্মিনালে কেটে যায়।বিমানবন্দরে নিজের ভিসার কাগজপত্র দেখিয়ে এক তরুণ তীর্থযাত্রী বলেন, আমাদের কাছে ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ ভিসা রয়েছে। কোনও বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত এনওসি প্রয়োজন হবে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের আগে থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। যদি সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনই থাকত, তাহলে শুরুতেই আমাদের এত দামী টিকিট কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কেন? ধর্ম এবং তীর্থযাত্রাকে রাজনৈতিক বিবাদ থেকে আলাদা রাখা উচিত। এই দলটি ভারতজুড়ে প্রধান শিখ তীর্থস্থানগুলিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিল, যার মধ্যে রয়েছে গুরুদ্বার শ্রী হেমকুন্ত সাহেব, অমৃতসরের শ্রী হরমন্দির সাহেব (গোল্ডেন টেম্পল) এবং দিল্লি ও পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক গুরুদ্বারগুলি।অবিলম্বে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে, প্রতিনিধিদলের নেতারা শ্রী আকাল তখত সাহেবের জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গারগাজ্জ, এসজিপিসি সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামি এবং দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটির (ডিএসজিএমসি) সভাপতি হরমীত সিং কালকাসহ বিশিষ্ট ভারতীয় শিখ ব্যক্তিত্বদের কাছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আবেদন জানান। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ধামি এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন: তীর্থযাত্রীদের থামানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই শিখ তীর্থযাত্রীরা, যাঁরা ইতোমধ্যেই ভারত সরকারের কাছ থেকে বৈধ ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁদের ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। যদি স্থলপথে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাঁদের আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত করা এই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৮.৪ ওভারেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারত, বোলিংয়ে ঝড়—তবু ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভাবাচ্ছে হরমনপ্রীতদের

দুবাইয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয় ভারতের। বোলারদের দাপটে ম্যাচ একতরফা হলেও মাত্র ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট হারানোয় প্রশ্ন উঠল ভারতের টপ অর্ডার নিয়ে। নকআউটের আগে এটাই এখন হরমনপ্রীতদের সবচেয়ে বড় চিন্তা।দুবাইয়ের আকাশে তখনও ম্যাচের উত্তাপ। কিন্তু মাঠে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই যেন ফলাফল লেখা হয়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৫। ভারতের সামনে লক্ষ্য ৫৬। ক্রিকেটের হিসাব বলছিল, এই রান তাড়া করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই।মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয় তুলে নিল ভারত। পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের দাপট আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।তবে এই জয় যতটা স্বস্তির, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা অস্বস্তি। কারণ, ৫৬ রানের মতো মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতেও ভারতের টপ অর্ডারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারশেফালি বর্মা, প্রতিকা রাওয়াল এবং স্মৃতি মন্ধানাদ্রুত ফিরে গেলেন। ম্যাচের গুরুত্বের নিরিখে যা হয়তো বড় সমস্যা নয়, কিন্তু নকআউটের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারতকে এই জায়গাটাই ভাবাবে।প্রথম বলেই ছক্কা, তারপরই থেমে গেল শেফালির ঝড়৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা। শেফালি বর্মা যেন শুরুতেই ঘোষণা করে দিলেনএই ম্যাচকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।কিন্তু সেই ঝড় স্থায়ী হল না।মাত্র ১২ রানেই শেফালিকে ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই পাকিস্তানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য লড়াইটা উপহার দিলেন।এরপর তিন নম্বরে নেমে প্রতিকা রাওয়ালও ব্যর্থ। জেমাইমা রদ্রিগেজের জায়গায় এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অপেক্ষায় থাকা প্রতিকা মাত্র ৪ রান করেই ফাতিমার শিকার। একই ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা ফিরিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কিন্তু সেই উত্তেজনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।মন্ধানার আউট নিয়েও রয়ে গেল প্রশ্নআগের ম্যাচে দুর্দান্ত শতরান। ফলে স্মৃতি মন্ধানার দিকে প্রত্যাশার চোখ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এ দিন শুরু থেকেই তাঁকে কিছুটা মন্থর দেখাচ্ছিল।৯ রানেই ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে গেলেন মন্ধানা। যদিও তাঁর আউট নিয়ে বিতর্কের জায়গা থাকল। বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু এই এশিয়া কাপে ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেননি হরমনপ্রীত ও দীপ্তি শর্মা।অভিজ্ঞতার ভারেই ম্যাচ শেষ করে দিল ভারতের মিডল অর্ডার। হরমনপ্রীত অপরাজিত থাকলেন ১৮ রানে, দীপ্তির অপরাজিত ইনিংস ১২ রানের। আর শেষটা এল অধিনায়কের ছক্কায়।৮.৪ ওভার। ৭ উইকেটের জয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটি সহজ সাফল্য।ভারত-পাকিস্তানফারাকটা ক্রমেই স্পষ্টমহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আধিপত্য যে কতটা একপেশে, এই ম্যাচ তারই আরেকটি উদাহরণ।দুদল এখনও পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫ বার, পাকিস্তান তিনবার। এশিয়া কাপে ছবারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পঞ্চম জয়। ২০২২ সালে পাকিস্তানের জয়টি এখনও এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাফল্য।অর্থাৎ পরিসংখ্যানের খাতাতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট অটুট। কিন্তু এ দিন ভারতের আসল শক্তি ব্যাট হাতে নয়বল হাতে।চার স্পিনার, ৯ উইকেটদুবাইয়ে ঘূর্ণির সামনে অসহায় পাকিস্তানটস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফাতিমা সানা। পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কারস্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে ভারতকে চাপে ফেলা।শুরুটাও মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার সাবধানে খেলছিলেন। প্রথম উইকেটে ২৭ রানও উঠে গিয়েছিল। তারপরই ম্যাচের চেহারা বদলে গেল।ভারতীয় স্পিনাররা বল হাতে আসতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং যেন হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলল। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবা আলিকে ফিরিয়ে শেফালি শুরু করলেন ধসের। তারপর একের পর এক উইকেট।পরের ১৩ ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের পতন ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। দুই ওপেনার বাদে কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারলেন না। মন্থর উইকেটে ভারতীয় স্পিনের মোকাবিলা করার কোনও উত্তরই যেন ছিল না পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানেই অল আউট পাকিস্তান।চরণি-রাওয়াতের ঘূর্ণিতে কাঁপল পাকিস্তানভারতের চার স্পিনার মিলে তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের নয়টি উইকেট। বাকি একটি রান আউট।সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ৩৪। আর দুটি উইকেট পেলেই এক বছরে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড তাঁর দখলে চলে আসবে।প্রেমা রাওয়াতও সমান বিধ্বংসী। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে তিন উইকেট।দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। শেফালি বর্মার ঝুলিতেও এসেছে একটি উইকেট।অর্থাৎ পাকিস্তানের ১০ উইকেটের মধ্যে নয়টিই ভারতীয় স্পিনের শিকার। এটাই সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ছবি।শুধু একটি জায়গাতেই অস্বস্তিবোলিং নিয়ে ভারতের চিন্তার কারণ প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে একটি ঘটনা নজরে পড়েছে। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় এবং নন্দিনী শর্মার বলে মুনিবা আলির ক্যাচ ফস্কেছেন প্রতিকা রাওয়াল। ক্যাচ দুটি ধরা পড়লে পেসারদের নামের পাশেও উইকেট থাকত।কোচ অমল মুজুমদারের কাছে সেটিও অবশ্যই নোট করার মতো বিষয়।তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন টপ অর্ডার।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগও কি নষ্ট হল?ম্যাচ যখন কার্যত হাতের মুঠোয়, তখন ভারত চাইলে রিচা ঘোষ বা ভারতী ফুলমালিদের আগে নামিয়ে কিছুটা পরীক্ষা করতে পারত। কম রান তাড়া করার ম্যাচে তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।ভারত অবশ্য সেই পথে হাঁটেনি।জয় এসেছে দ্রুত। কিন্তু নকআউটের আগে এমন ম্যাচেই তো বেঞ্চের শক্তি যাচাই করে নেওয়া যায়।আর এখানেই ভারতের সামনে প্রশ্নটা আরও স্পষ্টবোলিং যদি এতটাই শক্তিশালী হয়, ব্যাটিংয়ের প্রথম সারিও কি একই রকম ধারাবাহিক?নকআউটের আগে সতর্কবার্তাপাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বরং ভারতীয় স্পিনাররা যে ভয়ঙ্কর ছন্দে রয়েছেন, তা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সতর্কবার্তা।কিন্তু পাকিস্তানের মতো দুর্বল স্কোরের দলের বিরুদ্ধে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায়। বড় ম্যাচে সেই সুযোগ মিলবে না।আজ ৫৬ রান তাড়া করতে গিয়ে তিন উইকেট পড়েছেতবু জয় এসেছে অনায়াসে।কাল যদি লক্ষ্য হয় ১৫০ বা ১৬০, তখন?সেই কারণেই এই জয় ভারতের জন্য নিছক আর একটি জয় নয়। ৫৫ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়া যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই টপ অর্ডারের অনিয়মিত ছন্দ নকআউটের আগে হরমনপ্রীতদের কপালে সামান্য ভাঁজও ফেলবে।দুবাইয়ে পাকিস্তানের রাতটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ভারতের কাছে রাতটা ছিল স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই ভবিষ্যতের বড় ম্যাচের জন্য একটি প্রশ্ন রেখে গেল এই জয়স্পিনাররা পথ দেখাচ্ছেন, এবার কি ব্যাটাররা সেই পথ ধরে শেষ পর্যন্ত হাঁটতে পারবেন?

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হকি বিশ্বকাপে ফের পাকিস্তান-বধ, ৫-৩ গোলে উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীতের ভারত

হকি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ভারত। ১৯ অগস্ট নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ওয়াগনার হকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে ভারতীয় দল। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারত। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয় ভারত। ১১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনদীপ সিং। তাঁর গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও একই গতিতে আক্রমণ চালিয়ে যায় হরমনপ্রীতের দল।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চাপ আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের উপর। তবে হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা শুরু করে তারা। হন্নান শাহিদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন। এরপর কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে ম্যাচ। পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারত আক্রমণের ধার একেবারেই কমায়নি।২৪ মিনিটে ফের ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন অভিষেক। একসঙ্গে ৪-৫ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তাঁর অসাধারণ ফিনিশ ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। যদিও এরপরই পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন।দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথমার্ধে হরমনপ্রীতের জোড়া গোল, মনদীপের একটি গোল এবং অভিষেকের দুর্দান্ত ফিনিশে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে হন্নান শাহিদ ও সুফিয়ানের গোল অবশ্য তাদের ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে ভারত। আক্রমণাত্মক হকির পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রেখে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে হরমনপ্রীতের দল।চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল টিম ইন্ডিয়া।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
দেশ

পাকিস্তানকে আর কোনও ছাড় নয়! কার্গিল দিবসে রাজনাথের স্পষ্ট বার্তা ঘিরে তুমুল আলোচনা

কার্গিল দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কোনও আলোচনা হয়, তবে তা হবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই। তাঁর বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে তার একটি অংশ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের নীতির অংশ হয়ে উঠেছে।রাজনাথ সিং আরও বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশের কোনও চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অনুপ্রবেশ বা সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।তিনি অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সেই অভিযানে ভারতীয় সেনা নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় সেনা ভবিষ্যতেও একইভাবে সতর্ক থাকবে বলেও তিনি জানান।অবসরপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাক্তন কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তীও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁর দাবি, সীমান্তে বারবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ এবং সেই অবস্থান থেকে ভারত কখনও সরে আসবে না।

জুলাই ২৬, ২০২৬
দেশ

দু’মিনিটের সেই রহস্য! কীভাবে পাকিস্তানের আকাশে পৌঁছে গেল ভারতীয় বিমান?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেই পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল একটি ভারতীয় যাত্রীবাহী বিমান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অভিযুক্ত পাইলটকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।জানা গিয়েছে, বিমানটি দিল্লি থেকে অমৃতসরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু অবতরণের আগে আচমকাই নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। কিছু সময় পরে বিমানটি আবার ভারতের আকাশে ফিরে আসে।তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি দুমিনিটেরও কম সময় পাকিস্তানের আকাশসীমার মধ্যে ছিল। পাকিস্তানের বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পাঠানোর পর পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। অমৃতসরে অবতরণের পরিবর্তে বিমানটিকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর একই বিমান আবার অমৃতসরের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং গভীর রাতে নিরাপদে অবতরণ করে।বিমানবন্দর সূত্রে খবর, উড়ানের সময় বিমানের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই কারণেই বিমানটি নির্ধারিত রুট থেকে সরে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এক বিমানবন্দর আধিকারিকের দাবি, বিমানটি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমার প্রায় দেড় মাইল ভেতরে চলে গিয়েছিল।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পাইলটের সিদ্ধান্ত দুই দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন বিমানটি নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনে চলেনি এবং কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলটকে ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

জুন ২৫, ২০২৬
রাজ্য

‘বাংলা পাকিস্তানে চলে যেত!’ তারকেশ্বর থেকে বিস্ফোরক দাবি মোদীর, নিশানায় কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইতিহাস, রাজনীতি এবং বাংলার পরিচয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি, দেশভাগ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা। একইসঙ্গে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, দেশভাগের সময় গোটা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে কংগ্রেস ওই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। বরং আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।মোদীর বক্তব্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগ এবং আন্দোলনের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। কারণ পশ্চিমবঙ্গ দিবস শুধু একটি দিন নয়, বাংলার অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী উনিশশো ছেচল্লিশ সালের কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং নোয়াখালির ঘটনার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলা ভয়াবহ রক্তপাত ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, বহু পরিবার ভেঙে গিয়েছে। তবুও বাংলা নিজের পরিচয় এবং আত্মসম্মান রক্ষা করেছে।এরপর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের গঠনের প্রকৃত ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বাংলার মানুষের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছতে দেওয়া হয়নি।শুধু কংগ্রেস নয়, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর বাংলার উন্নয়নের বদলে ভোটের রাজনীতি এবং তোষণের রাজনীতি করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীদের ভূমিতে বাংলার নিজস্ব চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে সেই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।বক্তৃতার শেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের নতুন দিশা দেখাবে। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে তিনি নতুন ইতিহাস গড়ার অঙ্গীকারও করেন।

জুন ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

রিচাকে ওপেন করাতে চান হরমন! পাক-বধের পর ভারত অধিনায়কের অকপট স্বীকারোক্তি, দীপ্তির ঘূর্ণিতেই বিশ্বকাপে দুরন্ত সূচনা

ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দাপুটে জয় দিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ম্যাচ শেষে জয়ের নেপথ্যের নায়ক-নায়িকাদের প্রশংসায় ভাসালেন ভারত অধিনায়ক, আর ম্যাচসেরা দীপ্তি শর্মাও জানালেন তাঁর সাফল্যের মন্ত্র।ম্যাচের শুরুটা ভারতের পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল দল। তবে অভিজ্ঞ স্মৃতি মন্ধানা ও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ভারতকে বিপদমুক্ত করে। তাঁদের গড়া গুরুত্বপূর্ণ জুটিই ইনিংসের ভিত তৈরি করে দেয়।খেলা শেষে হরমনপ্রীত জানান, পিচ নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছিল, বাস্তবে তা অতটা কঠিন ছিল না। তাঁর মতে, শুরুতে অযথা চাপ নিয়ে ফেলেছিল ভারতীয় ব্যাটাররা। পরে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করায় দল ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।তবে ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শেষদিকে রান তোলার গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন তিনি। রিচার ব্যাটিংয়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন হরমনপ্রীত যে মজার ছলেই বলে ফেললেন, সুযোগ থাকলে তিনি রিচাকেই ইনিংসের প্রথম বল থেকে ব্যাট করতে পাঠাতেন।অধিনায়কের কথায়, রিচার ব্যাটিং দেখলে মনে হয় ওকে শুরু থেকেই নামানো উচিত। কিন্তু দলের কৌশল অনুযায়ী ওর একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। সেই ভূমিকায় ও অসাধারণ কাজ করছে।ভারতের জয়ের আর এক বড় কারিগর ছিলেন অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা।ম্যাচসেরা হওয়ার পর দীপ্তি জানান, উইকেটের চরিত্র বুঝে তিনি নিজের বোলিংয়ে সামান্য পরিবর্তন এনেছিলেন। বলের গতি কমিয়ে এবং স্টাম্প লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বল করাতেই সাফল্য এসেছে। তাঁর মতে, পিচও স্পিনারদের সাহায্য করেছে, ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে।শুধু বোলিং নয়, পাকিস্তানের ভালো শুরুর পর ভারতীয় দলের ফিল্ডিং ও ক্যাচ ধরার মানও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হরমনপ্রীত বলেন, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেট রানরেট পরবর্তী পর্যায়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই দল শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উৎসাহকেও বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি মন্ধানা ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংকে ভারতের জয়ের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট ও বলদুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল, শিরোপার দৌড়ে তারা অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। এখন দেখার, এই দুরন্ত ছন্দ আগামী ম্যাচগুলিতেও ধরে রাখতে পারে কি না হরমনপ্রীতের দল।

জুন ১৫, ২০২৬
দেশ

সন্ত্রাস বন্ধ না হলে জলও নয়! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের

পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা করবে না বলে রাষ্ট্রসংঘে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ এই মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, চুক্তির পবিত্রতার কথা বলার আগে পাকিস্তানকে মানব জীবনের মূল্য বুঝতে হবে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে। তাই তাদের আচরণ না বদলালে এই চুক্তি নিয়ে কোনও কথাবার্তা হবে না।ভারত জানায়, তারা সবসময় দায়িত্বশীল উজান অঞ্চলের দেশ হিসেবে আচরণ করেছে। কিন্তু এই দায়িত্ব একতরফা হতে পারে না। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদকে নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।এই অনুষ্ঠানে মূলত সবার জন্য নিরাপদ জল ও পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান সেখানে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করেছে।এরপরই পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পি হরিশ। তিনি বলেন, ভারত সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের মানসিকতা নিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধ এবং বহু সন্ত্রাসবাদী হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পাকিস্তান সমর্থিত হামলায় বহু নিরীহ ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে গত বছরের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকেই ভারত এই চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। ১৯৬০ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারতের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নিয়মভঙ্গ বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান।

মার্চ ২১, ২০২৬
বিদেশ

কাবুলে রক্তাক্ত রাত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রশিদ খানরা

পবিত্র রমজান মাসে কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই হামলায় অন্তত চারশো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাসপাতালের বড় অংশ। আগুনে জ্বলতে থাকে পুরো এলাকা। এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফগানিস্তানের একাধিক ক্রিকেটার।রশিদ খান, মহম্মদ নবি এবং নবীন উল হক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে সোশ্যাল মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই ধরনের হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। রমজানের মতো পবিত্র মাসে এমন ঘটনা আরও বেশি কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তারা।নবীন উল হক এক পোস্টে লেখেন, তিনি ইজরায়েল এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখছেন না। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। রমজান মাসে মুসলিম দেশ হয়েও এমন হামলা চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।রশিদ খানও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, কাবুলের হাসপাতালে হামলার খবর শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির এই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।মহম্মদ নবি তার পোস্টে লেখেন, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ। তাদের উপর এই হামলা অত্যন্ত নিষ্ঠুর। তিনি জানান, অনেক মা তাদের সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু সেই সন্তানরা আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।উল্লেখ্য, এর আগেও পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা। এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিযোগিতাও বয়কট করা হয়েছিল।এই নতুন হামলার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক আদৌ বজায় রাখা হবে কি না। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২৬
বিদেশ

কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলা, হাসপাতালে আগুনে পুড়ে মৃত্যু অন্তত চারশো মানুষের

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারই মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান একটি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় চিকিৎসক সহ অন্তত চারশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আড়াইশোরও বেশি মানুষ। সোমবার রাতে পরপর বিস্ফোরণে হাসপাতালটি কার্যত আগুনে পুড়ে যায়।আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাবুলের ওই হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা আফগানিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। এর আগে দুই হাজার একুশ সালে কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু এবার তার থেকেও বড় বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।গত মাস থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। আফগানিস্তানের অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই হাসপাতাল হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনও হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, জঙ্গি ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত সামরিক স্থাপনাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র কাবুলের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।আফগানিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় নয়টা নাগাদ এই হামলার ঘটনা ঘটে। যে হাসপাতালে হামলা হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল। সেই হাসপাতালেই এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহ উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে।এর আগেও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং কাবুলের বিভিন্ন এলাকায় হামলার কথা জানা গেছে। কান্দাহার শহরে তালিবান গোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই এখন নজর সকলের।

মার্চ ১৭, ২০২৬
বিদেশ

পাক–আফগান রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাকিস্তানের পাশেই আমেরিকা! ট্রাম্পের মন্তব্যে চাঞ্চল্য

ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাকআফগান সংঘাত। রক্তক্ষয়ী এই লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইসলামাবাদকেই সমর্থন করছে আমেরিকা। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো। এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করবেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একজন মহান নেতা এবং সে দেশের সেনা প্রধানকেও তিনি সম্মান করেন। পাকিস্তান ভালো কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের বক্তব্য, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের। তালিবান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন তালিবানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আমেরিকা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।সংঘাতের সূত্রপাত গত রবিবার। পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সীমান্ত পোস্ট এখন তাদের দখলে। সেই হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় পাল্টা আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। দুই পক্ষই সেনা মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।পাকিস্তানের দাবি, কান্দাহার আকাশে তাদের যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোবে দেশ। অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তালিবান তাদের আত্মঘাতী বাহিনী সক্রিয় করেছে বলেও খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ না থামালে বাঁচতেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

আবার অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করার পর এবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত যদি তিনি থামাতে উদ্যোগী না হতেন, তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেঁচে থাকতেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল।ওয়াশিংটনে মার্কিন ক্যাপিটলে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, তিনি মধ্যস্থতা না করলে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারত। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প সংখ্যার উল্লেখে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। আসলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ না হলে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারত।অপারেশন সিঁদুর নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এক সময় ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর মন্তব্যে পাকিস্তানপন্থী সুর শোনা গিয়েছিল বলে সমালোচনা হয়। তবে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়ে দেয়, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে তৃতীয় কোনও দেশের ভূমিকা ছিল না এবং পাকিস্তানের অনুরোধেই সংঘর্ষ থেমেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটার পর ট্রাম্পের বক্তব্যে আবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
দেশ

ভারতে বড় হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, দুই রাজ্য থেকে আট জঙ্গি সন্দেহভাজন গ্রেফতার

ভারতের বিরুদ্ধে বড়সড় সন্ত্রাসের ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জঙ্গি যোগে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে মোট আট সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশের চরমপন্থী গোষ্ঠীর মদতে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই ভারতে হামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে পুলিশের অনুমান।দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিজানুর রহমান, মহম্মদ শাবাদ, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ ও মহম্মদ উজ্জ্বল নামে ছয় অভিযুক্তকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার একটি পোশাক কারখানা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা থেকে আরও দুজনকে ধরা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তারা নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে ভারতে বসবাস করছিল। তদন্তে জানা গেছে, বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা চলছিল এবং বিদেশ থেকে তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল। ধৃতদের পরবর্তী জেরা ও তদন্তের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল জানিয়েছে, জঙ্গি কার্যকলাপ সমর্থনকারী অনলাইন পোস্ট নজরে আসার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়। এরপর তামিলনাড়ু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ অভিযানে কারখানা থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন ও ষোলোটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে গোটা চক্রের যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।কয়েক দিন আগে দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্কের বিভিন্ন জায়গায় উসকানিমূলক পোস্টার দেখা যায়। কাশ্মীর ইস্যু ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজক বার্তা লেখা ছিল ওই পোস্টারগুলিতে। সেই তদন্তে নেমেই তামিলনাড়ুর যোগসূত্র সামনে আসে এবং ধৃতদের জেরা করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
বিদেশ

ট্রাম্পকে ছাপিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের প্রশংসা মার্কিন অ্যাডমিরালের! চাপে পাকিস্তান

অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আমেরিকার মুখে ভারতের প্রশংসা শোনা গেল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান স্যামুয়েল জে পাপারো ভারতীয় সেনার সংযমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যে পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাম না করেও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।রবিবার এক সাক্ষাৎকারে পাপারো বলেন, এই ধরনের সামরিক অভিযান যে কোনও শান্তিপ্রিয় দেশের কাছেই উদ্বেগের বিষয়। তবে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারত যেভাবে সংযম দেখিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনার কৌশল ও পরিকল্পনা যথেষ্ট পরিণত এবং দায়িত্বশীল ছিল।সাক্ষাৎকারে তাঁকে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ও চিনা সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। যদিও তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি, তবে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগে থেকে প্রস্তুতি থাকা জরুরি। সব সময় সতর্ক থাকতে হয় এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায় স্পষ্ট, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই একমাত্র পথ।এর পাশাপাশি চিনকে রুখতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইঙ্গিতও দেন মার্কিন সেনা আধিকারিক। তিনি জানান, ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থ অনেকটাই এক। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ভারত মহাসাগরে ভারতের ভূমিকার জন্য আমেরিকা কৃতজ্ঞ বলেও জানান তিনি। সার্বভৌমত্ব, নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সমুদ্রের নিরাপত্তা এই নীতিগুলিতে দুই দেশই অটল বলে মন্তব্য করেন পাপারো।ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই অঞ্চলে বসবাস করেন। বিশ্বের মোট জিডিপির ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে এখান থেকে। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সামরিক শক্তির মধ্যে সাতটি এই অঞ্চলে অবস্থিত। তাই এখানে বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।সব মিলিয়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারতের সংযম ও কৌশলের প্রশংসা করে আমেরিকার এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিনকে ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমীকরণে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

অবাধ্য থেকে অবিশ্বাস্য! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানে জ্বলে উঠলেন ঈশান

একসময় তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। অবাধ্য, উচ্ছৃঙ্খলএমন অনেক বিশেষণই জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ঈশান কিষানের নামের সঙ্গে। জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে আবার নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছেন। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েই যেন আগুন ঝরালেন।ভারতের ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্রুত অভিষেক শর্মার উইকেট পড়ে যায়। কিন্তু সেখান থেকেই দায়িত্ব তুলে নেন ঈশান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। পাকিস্তানের বোলারদের উপর এক মুহূর্তের জন্যও চাপ কমতে দেননি। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শাদাব খান হোক বা শাহিন আফ্রিদি, কাউকেই রেয়াত করেননি।মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন ঈশান। দর্শকেরা অপেক্ষা করছিলেন, পরের বলটি কোন দিকে পাঠাবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ফেরেন। সাইম আয়ুবের বলে আউট হওয়ার সময় ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাঁর এই ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, এই ম্যাচ সব সময় আলাদা। এই জয় শুধু দলের জন্য নয়, দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পাকিস্তানের দলে কয়েকজন ভালো স্পিনার রয়েছে, তাই এই জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। পাশাপাশি জশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রশংসাও করেন তিনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বলেন, এই জয় দেশের জন্য।ঈশানের কাছে এই ইনিংস ব্যক্তিগতভাবেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ডবল সেঞ্চুরি করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর জায়গা স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে দল থেকে বাদ পড়েন। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে ভগবদ্গীতার প্রেরণা। বাবার কাছ থেকে গীতার শ্লোকের অর্থ জেনে তিনি ধীরে ধীরে সেই দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। ব্যাট ও গ্লাভসের পাশাপাশি গীতা হয়ে ওঠে তাঁর নিত্যসঙ্গী। কঠিন সময়েও সেই শিক্ষাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানের এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাটে। আর প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে বড় মঞ্চেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে পারেন।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, আটক নেতাদের মুক্তির আবেদনও! রবিবার কী শুনবে সুপ্রিম কোর্ট?

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনার আবহে রবিবার বিশেষ শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। শনিবারের আন্দোলন এবং তার আগে ও পরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে শীর্ষ আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। আদালত বন্ধ থাকার দিনেও এই মামলাগুলির শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি মামলা আদালত অবমাননার অভিযোগে, অন্যটি বিক্ষোভকারীদের আটক করার বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু একেবারে বন্ধ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও শনিবার একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ট্রেনের পরিষেবা নিয়েও বিধিনিষেধ জারি হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাতেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারাকে পক্ষ করা হয়েছে। শৈলেন্দ্রের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে বিচারাধীন। রবিবারের শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত, সেদিকেই নজর রয়েছে।অন্য মামলাটি করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। শনিবারের বিক্ষোভের সময় একাধিক বিরোধী নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য এ ভাবে আগাম আটক করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের আটক করার আইনি ভিত্তি কী, সেই বিষয়গুলিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুটি মামলারই শুনানি রবিবার বিশেষ বেঞ্চে হওয়ার কথা। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাগুলি ওঠার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। সিজেপির বিক্ষোভ, পুলিশের আটক করার পদক্ষেপ এবং মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগসব মিলিয়ে রবিবারের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে আদালত এখনও এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেনি।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, মুম্বইয়ে আটক ৪০০-র বেশি! তালিকায় অভিনেতা ইমরান খান

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বইয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হলেন চারশোর বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা ইমরান খানও। শনিবার শহরের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের চেষ্টা হলে অনুমতি ছাড়া জমায়েত করার অভিযোগে পদক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সকালে দক্ষিণ মুম্বইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী তুষার গান্ধীর সংগঠন হাম ভারত কে লগ-এর সদস্য এবং সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতেই তাঁরা জমায়েত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে শহরের অন্য এলাকাতেও ধরপাকড় চলে। সব মিলিয়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা চারশো ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় অভিনেতা ইমরান খানের নাম থাকায় ঘটনাটি ঘিরে বাড়তি চর্চা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা আরও বহু মানুষকেও পুলিশ আটক করে গাড়িতে তোলে। মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া জমায়েত করার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আগস্ট ক্রান্তি ময়দান ঘিরে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং ওই এলাকায় জমায়েত আটকাতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। অন্য দিকে, দক্ষিণ মুম্বইয়ে প্রকাশ আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ির কর্মী-সমর্থকেরাও বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যেও কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ার আবহে মুম্বইয়ের এই ধরপাকড় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেছে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
কলকাতা

মহালয়ার অনুষ্ঠানে ইডেনে তারকাদের ঢল! লাল শাড়িতে ইমন, মঞ্চে তসলিমা—আর কী ছিল বিশেষ?

মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করল রাজ্য সরকার। চোখধাঁধানো আলোর খেলা, গান, নাচ এবং ড্রোনের প্রদর্শনীতে জমে উঠল দুর্গার আগমনী। আকাশে ড্রোনের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হল দুর্গার মূর্তি, দেখা গেল পদ্মের ছবিও। একের পর এক শিল্পীর পরিবেশনায় উৎসবের মেজাজে মাতল কলকাতা। অনুষ্ঠানে গান গাইলেন শান, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী এবং অন্তরা মিত্র। সুরের দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু মৈত্র ও তাঁর দল। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্য শিল্পীরা। ঢাকের বোল, আদিবাসী নাচ এবং বাংলার নানা প্রান্তের লোকসংস্কৃতির পরিবেশনায় শুরু থেকেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুন মালিয়া, স্বপন দাশগুপ্ত, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ বহু পরিচিত মুখ। লাল শাড়িতে দেখা যায় শিল্পী ইমন চক্রবর্তীকে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তসলিমা নাসরিনও।রেড রোড থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে ইডেন গার্ডেন্সে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতিও তুলে ধরা হয়। এরপর ইডেনে আলো ও শব্দের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহালয়া থেকে শুরু করে দশমীর সিঁদুরখেলা পর্যন্ত দুর্গোৎসবের নানা মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। সবশেষে ড্রোনের প্রদর্শনীতে আকাশে ফুটে ওঠে দুর্গার অবয়ব ও পদ্মের ছবি। এ বারের দুর্গাপুজোর আগে মহালয়াকে ঘিরে রাজ্য সরকারের এই বিশেষ আয়োজন ঘিরে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। অনুষ্ঠানে গান, নাচ, আলোর খেলা এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ছিল মূল আকর্ষণ। তবে ইডেনের এই বড় আয়োজনের জেরে শহরের যান চলাচলেও জারি করা হয়েছিল বিশেষ বিধিনিষেধ।কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডের নির্দিষ্ট অংশে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী অংশেও জারি ছিল নিষেধাজ্ঞা। মহালয়ার অনুষ্ঠান ঘিরে শহরের একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আটক মমতা, এ বার কি সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীরা?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয় তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন-সহ দলের আরও কয়েক জন নেতাকে। পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে থানায় বসে অবস্থান করেন মমতা। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় তাঁকে দোলা সেন-সহ অন্যদের সঙ্গে উই শ্যাল ওভারকাম গান গাইতেও শোনা যায়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতেই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মমতার। রাত নটার বিমানের টিকিট থাকলেও তিনি সেই বিমান বাতিল করেছেন বলে সূত্রের দাবি। দিল্লিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সোমবারের কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা। সোমবার বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পরিকল্পনা এবং প্রধান বিচারপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও স্পষ্ট নয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, পিনারাই বিজয়ন-সহ একাধিক নেতা। দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের আটক করে। পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি ও নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা ছিল। অন্য দিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যোগ দিতে গিয়েও তাঁদের আটক করা হয়েছে। মমতাকে আটকের ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় ঘুরিয়ে নেত্রীকে কেন নিয়ে যাওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিরোধী জোটের তরফে এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বার সোমবারের কর্মসূচিতে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মমতা দিল্লিতে থেকে গেলে এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী কর্মসূচিতে যোগ দিলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আন্দোলন আরও কোন দিকে গড়ায়, তা স্পষ্ট হবে আগামী দিনে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

রবিবারের মধ্যে আটক নেতাদের মুক্তি না দিলে অনশন! সিজেপির আন্দোলন ঘিরে ফের বার্তা সোনমের

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে একের পর এক নেতাকে আটক করার ঘটনায় এ বার সরব হলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আটক ব্যক্তিদের রবিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রাও করবেন বলে জানিয়েছেন সোনম। তাঁর এই বার্তাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবর সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের কয়েক জন শীর্ষ নেতাও ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেন সোনম। তিনি জানান, আন্দোলনের আগে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এত জন নেতা-নেত্রী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়েছে জানতে পেরে তিনি উদ্বিগ্ন। সোনমের আশা, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে। তা না হলে রবিবারের মধ্যে অনশন শুরু করার কথা ভাববেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রার পথেও হাঁটতে পারেন বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মী। সোনমের বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে এ ভাবে পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন বলেও তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে। তবে এ দিনের বিক্ষোভে তিনি নিজে যোগ দেননি। লাদাখে হিমবাহ সংক্রান্ত কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তিনি কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন, যদিও আটক আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুক্তির দাবি তুলেছেন। গত জুলাই মাসেও ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন হয়। দীর্ঘ বিক্ষোভের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ বার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজধানী। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে সোনমের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

ভোটে হার, তার পরেই অরাজকতা? বিরোধীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, ভোটে হেরে বিরোধীরা দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। শুধু তা-ই নয়, বিরোধীদের আন্দোলনের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ দেননি নিতিন। শনিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে নিতিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের উন্নতি বিরোধীরা মেনে নিতে পারছেন না। সেই কারণেই তাঁরা দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ বিজেপি সভাপতির। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। এক দিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট, অন্য দিকে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত ককরোচ জনতা পার্টি। এই দুই গোষ্ঠীই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। নিতিনের অভিযোগ, বিরোধীদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছেকে বেশি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাঁর দাবি, ভোটে জনসমর্থন না পেয়ে বিরোধীরা মানুষের রায় মেনে নেওয়ার বদলে দেশে অশান্তি ছড়ানোর পথে হাঁটছেন। বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও কোন বিদেশি শক্তির কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিরোধীদের সতর্ক করে নিতিন বলেন, এ ধরনের চেষ্টা সফল হবে না। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং দেশের মানুষ এই ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেবেন। দেশে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হলে সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিজেপি কর্মীরাও মানুষের মধ্যে থেকে বিরোধীদের এই চেষ্টা ব্যর্থ করবেন বলে দাবি করেন নিতিন।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয় এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। সেই পরিস্থিতিতেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিতিন নবীনের এই আক্রমণ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

'ভোটচুরি’ বলে গণতন্ত্রকে প্রশ্নের মুখে ঠেলা হচ্ছে? বিরোধীদের নিশানা করে খোলা চিঠি ১২৪ প্রাক্তন আমলার

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি ও ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সরব বিরোধী শিবির। এই পরিস্থিতিতে ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা খোলা চিঠি লিখে অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আইএএস, আইএফএস এবং আইআরএস আধিকারিকেরা রয়েছেন। চিঠিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকা এবং বিহারের নির্বাচন নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।প্রাক্তন আমলাদের বক্তব্য, বারবার ভোটচুরি বা কারচুপির নির্বাচন শব্দ ব্যবহার করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অতীতে নির্বাচনে কারচুপির যে ছবি দেখা গিয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা প্রয়োজন।চিঠিতে তাঁরা অতীতের নির্বাচনে ব্যালট বাক্স লুট, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং বুথ দখলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এক সময় বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল যে তা বন্ধ করতে আইন করে এই কাজকে অপরাধ ঘোষণা করতে হয়েছিল।বিরোধীদের উদ্দেশে প্রাক্তন আমলাদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় অস্বচ্ছতা থাকলে তার সুবিধা সাধারণ ভোটারের নয়, বরং অসাধু ব্যক্তিদের হয়। একই নির্বাচন ব্যবস্থায় জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আর হারলে ভোটচুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, বিরোধীদের নিজেদেরই ভেবে দেখা উচিত, তাঁদের আপত্তি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে, নাকি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, বিহারে এ বার অত্যন্ত স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে।চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বাল এবং প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক আর ডি কাপুর, সমীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গোপালকৃষ্ণ, বিবেক ভরদ্বাজ ও নবনীত সেহগাল। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। চিঠিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই খোলা চিঠি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চিঠিতে প্রাক্তন আমলাদের বক্তব্য এবং বিরোধীদের অভিযোগদুইয়েরই মূল্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দাবির পক্ষে থাকা প্রমাণ ও তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোয় চূড়ান্ত প্রস্তুত শিয়ালদহ ডিভিশন, বিশেষ পরিকল্পনা রেলের , বিস্তারিত জানুন

দুর্গাপুজো ২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীদের বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এবং গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP)-এর পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের দিনগুলিতে কার্যকরভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজীব সাক্সেনা, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM), শিয়ালদহ ডিভিশন। সম্ভাব্য অতিরিক্ত যাত্রীসমাগম সামাল দিতে এবং স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট হোল্ডিং এরিয়া এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং যাত্রী চলাচল মসৃণ রাখতে প্ল্যাটফর্মগুলিতে যথাযথ পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে পর্যাপ্ত রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) কর্মী মোতায়েন নিয়েও আলোচনা হয়।অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন মেটাতে ২৭০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীর পরিষেবা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, রেলওয়ে প্রোটেকশন স্পেশাল ফোর্স (RPSF)-এর অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের সম্ভাবনা রয়েছে এমন লেভেল ক্রসিং গেটগুলিতে পর্যাপ্ত RPF কর্মী মোতায়েন করা হবে। এই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজ্য ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হবে।গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ফুট ওভার ব্রিজগুলিতেও RPF কর্মীদের পাশাপাশি স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস, সিভিল ডিফেন্স এবং সেন্ট জন অ্যাম্বুল্যান্সের স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে। তাঁরা যাত্রীদের সহায়তা করবেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবেন। যেসব স্টেশনে যাত্রীসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে চিকিৎসা সহায়তা বুথ ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা রাখা হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পান।সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমগ্র ডিভিশনকে বিভিন্ন স্টেশনগুচ্ছের ভিত্তিতে ১১টি নোডাল পয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডিভিশনের সমস্ত স্টেশনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ওয়ার রুম চালু রাখা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বা তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজনে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা শিয়ালদহ ডিভিশনের ওয়ার রুমের ৯১৪৭৯০৬৭৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে সমস্ত অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (ATVM) এবং মোবাইল UTS পরিষেবা সচল থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টিকিট বুকিং কাউন্টারও চালু করা হবে। উৎসবের সময় যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সমস্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন (ST), TRD, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং TRS বিভাগের মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ দলগুলি ১৬:০০ থেকে ২৪:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে প্রস্তুত থাকবে। এর ফলে যন্ত্রপাতির ত্রুটি বা রেল চলাচল সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীদের অসুবিধা কমবে।উৎসবের সময় সম্ভাব্য ভিড় ও যানজট এড়াতে ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা বন্ধ থাকবে। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের কাছে অনুরোধ, এই সময়ে গাড়ি শুধুমাত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর (ড্রপ-অফ ও পিক-আপ) কাজে ব্যবহার করুন এবং গাড়ি পার্ক করা থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে স্টেশনের আশপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হবে। এছাড়াও, ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শিয়ালদহ স্টেশনের ডিজিটাল লকার পরিষেবা বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের এই সময়ের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছেরাজীব সাক্সেনা বলেন, দুর্গাপুজোর সময় প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি। উৎসবের সময় যাত্রীরা যাতে নিরাপদ, মসৃণ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা পান, তা নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগেভাগেই সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।দুর্গাপুজো ২০২৬ উপলক্ষে সমন্বিত পরিকল্পনা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবার প্রস্তুতি এবং কার্যকর রেল পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ ও যাত্রীবান্ধব রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অক্টোবর ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal