• ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

ED

কলকাতা

ফাইল চুরির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা, নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চলেছে বিজেপি

I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় নথি চুরির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চায় বিজেপি। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না মেলায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে।এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আদালত বিজেপিকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। ফলে নবান্ন অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বাংলায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়লা পাচার মামলায় ইডি আধিকারিকরা I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ, তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী নথি নিয়ে বেরিয়ে যান এবং এতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে বাধা দেওয়া হয়।এই ঘটনার প্রতিবাদে নবান্নের বাইরে ধর্নায় বসার ঘোষণা করে বিজেপি। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়।এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, যারা কোনও দিন নবান্নের ভিতরে বসতে পারবে না, তারা বাইরে বসতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীই প্রথম ধর্নার ডাক দিয়েছিলেন। দেবাংশুর দাবি, বিজেপি নিজেদের সমীক্ষাতেই বুঝে গিয়েছে তারা এবার ৫০-৬০ আসনের বেশি পাবে না, তাই বাইরে বসে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করছে।এই I-PAC সংক্রান্ত মামলার রেশ গিয়ে পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও। ইডি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের বিরুদ্ধে মোট ১৭টি ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছে। ইডির অভিযোগ, বাজেয়াপ্ত করা বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ইডি অফিসারদের হাত থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগের সপক্ষে পিটিশনে ছবিও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।ইডির আরও দাবি, পঞ্চনামা রেকর্ড করতে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকরা বাধা দিয়েছেন এবং ইডি আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই কারণে তল্লাশির সমস্ত প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়নি। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও অনুমতি ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে নিজে হাতে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যান।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা নিয়ে নতুন মোড়! এবার আবাসনের বাসিন্দাদের তলব পুলিশের

আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি মামলা দায়ের করেছে এবং সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও আগাম সতর্কতা হিসেবে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির ঘটনা খতিয়ে দেখতে আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করল পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ভোর ছটা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় পর তাঁকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়। সেই ফাইলে কী ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।এই ঘটনার তদন্তে নামিয়ে লাউডন স্ট্রিটের ওই আবাসনের একাধিক বাসিন্দা এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ইডি তল্লাশির সময় তাঁরা কী শুনেছিলেন, অফিসাররা বাড়িতে ঢোকার পর কীভাবে চলাফেরা করছিলেন, তল্লাশির সময় কোনও অশান্তি হয়েছিল কি নাএই সব বিষয়েই তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মামলা দায়ের করেছিলেন এবং পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে যে মামলা রুজু করা হয়েছে, এই দুই মামলার ক্ষেত্রেই প্রতীক জৈনের আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করা হয়েছে।ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি বা অফিস থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও নথি বা প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ইডির হাতে থাকা দুটি সিসিটিভি ফুটেজে একটিতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ অফিসার সিআরপিএফ জওয়ানকে ধাক্কা দিচ্ছেন। অন্য ফুটেজে প্রতীক জৈনের বাড়ির সামনে বচসার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ফোন না ধরতেই সন্দেহ! প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছনোর পুরো কাহিনি বললেন মমতা

বৃহস্পতিবার ভোর ছটা নাগাদ আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সঙ্গে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময়েই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ইডির অভিযোগ, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।এই ঘটনার পরদিন ফের মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে তিনি পুরো ঘটনার খবর পেলেন এবং ঠিক কী হয়েছিল, তা নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, শুরুতে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একটি বার্তা পাঠালেও সেটি তিনি তখন দেখেননি। পরে টেলিভিশনের খবর দেখে জানতে পারেন যে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পৌঁছে গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তদন্তকারীরা হয়তো কথা বলতে এসেছেন। মমতা বলেন, সকালে কিছু একটা হচ্ছে এমন খবর পেয়েছিলেন, কিন্তু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারেন না। সেই কারণে অভিষেকের পাঠানো বার্তাটিও নজরে আসেনি।এরপর তিনি জানান, খবর পেয়ে প্রতীক জৈনকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু ফোন ধরেননি তিনি। তখনই তাঁর সন্দেহ হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁর মনে হয়েছিল দলের সমস্ত তথ্য নিয়ে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটাই আগে দেখা দরকার। মমতা বলেন, তিনি যেমন মানুষকে ভালবাসেন, তেমনই দলের প্রতীক জোড়া ফুলের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান। তাঁর বক্তব্য, দলকে রক্ষা না করলে মানুষের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর কাছেই আসে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় বিজেপির হয়েও আইপ্যাক কাজ করেছিল। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিলেন, এখন তিনি নেই। বর্তমানে প্রতীক জৈন সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের একমাত্র আইটি সেল এবং যাবতীয় তথ্যই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং কোনও অন্যায় করেননি। তাঁর অভিযোগ, ইডি সকাল ছটা থেকে তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং তিনি পৌঁছন সাড়ে এগারোটার সময়। এই পাঁচ ঘণ্টায় দলের সমস্ত তথ্য চুরি করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার আগুনে ঘি! জল জীবন মিশনের টাকা নিয়ে বড় অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার দুপুরে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তার আগেই এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশিকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায়। তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ছবি ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সেই অভিযোগেই ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি।শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাংলাকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজের বরাত পেয়েছিল একটি সংস্থা, যার মোট বরাতের অঙ্ক ছিল ১৭০ কোটি টাকা।বিরোধী দলনেতার দাবি, ওই সংস্থার কাছ থেকে কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ওই লেনদেনের চেক নম্বরও প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই টাকা দুর্নীতির টাকা।একই সঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী আদতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য নিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর মতে, যে প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকা মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তার কপি অনেকের কাছেই রয়েছে। আর যে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে কী তথ্য ছিল, তা কেউই জানে না।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আইপ্যাক রেড ইস্যুতে আগুন ঝরালেন অভিষেক! মতুয়াগড় থেকে মোদী-শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ

আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে একদিন আগেই তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এবার একই ইস্যুতে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরে মতুয়াগড়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেন অভিষেক। আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করেছিল আইপ্যাক, যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলেই সেই সংস্থার উপর ইডি নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শাস্তি হিসেবে একদিকে ইডি পাঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাকেই বিজেপির রাজনীতির ফর্মুলা বলে কটাক্ষ করেন তিনি।সভা মঞ্চ থেকে আরও চড়া সুরে অভিষেক বলেন, বিজেপির কাছে ক্ষমতা, টাকা ও কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে, কিন্তু মানুষের সমর্থন নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু না থাকলেও মানুষের ভালোবাসা আছে। শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা মিডিয়া ভোট দেয় না। ভোট দেয় শ্রমিক, কৃষক, মা-বোনেরা। বাংলার মানুষ এমন জবাব দেবে যে বিজেপির অহংকার চূর্ণ হয়ে যাবে।এই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ইডি, সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যত কেন্দ্রীয় সংস্থা, যত টাকা, যত ক্ষমতাই ব্যবহার করা হোক না কেন, বাংলার মানুষ দিল্লির শাসকদের কাছে মাথা নত করবে না।এসআইআর ও নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে। না হলে মোদী, শাহ ও শান্তনু ঠাকুরকে সরে যাওয়ার দাবি জানায় তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, এখন আওয়াজ তোলার সময়, পিছিয়ে থাকার সময় নয়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হাই প্রোফাইল মামলার মাঝেই বিস্ফোরণ! আদালতে দাঁড়িয়ে ফোন হ্যাকের অভিযোগ ইডি আইনজীবীর

আদালতে ছিল অত্যন্ত উচ্চপ্রোফাইল মামলা। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।তবে শুনানি স্থগিত হওয়ার আগেই আদালতের ভিতরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী এই মামলায় ইডির হয়ে সওয়াল করছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তার ঠিক আগে, দুপুর দেড়টা নাগাদ আচমকাই তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যায়।আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে ধীরজ ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, তাঁর ফোন সম্পূর্ণভাবে হ্যাক করা হয়েছে। ফোন করার চেষ্টা করলেও কাউকে ধরতে পারছিলেন না। হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও তিনি হঠাৎ লগ আউট হয়ে যান। পরে আবার লগ ইন করতে গেলে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট অন্য একটি নম্বরে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, যাঁদের ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কল অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিল। এমনকি কেউ কেউ ফোনের ওপার থেকে তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এই অভিযোগ বিচারপতির নজরে আনতে গেলে আদালতে উপস্থিত অপরপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে থামান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আগে মামলার শুনানি শুরু হোক, তার পরে এসব বিষয় বলা যেতে পারে। এর মধ্যেই আদালতকক্ষে ভিড় বাড়তে থাকে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ একাধিকবার কক্ষ ফাঁকা করার নির্দেশ দেন এবং কিছুটা সময়ও দেন। কিন্তু ভিড় না কমায় শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করে এজলাস ছেড়ে ওঠেন তিনি।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হাইকোর্টে তুলকালাম! আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বিশৃঙ্খলা, এজলাস ছেড়ে উঠলেন বিচারপতি

আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার শুনানির দিনেই আদালতে তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলা। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। পাল্টা ইডি-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসও মামলা করে। বৃহস্পতিবার এই দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এজলাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে উঠে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি ইডি ও তৃণমূলের মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।এদিন আদালত কক্ষে আইনজীবীদের পাশাপাশি প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। শুরু হয় হইচই ও চেঁচামেচি। শুধু এই মামলা নয়, তালিকাভুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানিও ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। আদালতের বাইরেও আইনজীবীদের ভিড় ছিল। ভিতরে থাকা অনেক আইনজীবী বেরোতে চাইছিলেন না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।এই অবস্থায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ অনুরোধ করেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন সবাই যেন এজলাস ছেড়ে বাইরে চলে যান। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকায় শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান। এর জেরে দিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ইডি-র তরফে একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছয়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরিয়ে নেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে দাবি ইডি-র।ইডি আরও জানায়, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দল বা দলীয় দফতরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। নির্বাচনের সঙ্গে এই তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাদের বক্তব্য, এটি আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলারই অংশ।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীকের বাড়ি থেকে আইপ্যাক—ED অভিযানে কেন এত ক্ষুব্ধ মমতা?

ভোটের মুখে বাংলা জুড়ে চরম উত্তেজনা। তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন নির্বাচনী নথি হাতিয়ে নিতেই আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।এই খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে। সেখানে দাঁড়িয়েই মমতা অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এসআইআর সংক্রান্ত নথি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ট্রান্সফার করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, ইডির এই অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক।মমতা জানান, রাজ্যে যখন এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলছে, ঠিক সেই সময় এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি ভেস্তে দিতেই এই পদক্ষেপ। এরপর আইপ্যাকের অফিসেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, নথি চুরির অভিযোগে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে বিধাননগর পুলিশ।আইপ্যাকের অফিসেই দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক বৈঠক সারেন তিনি। দফতর যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানান, প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত এবং অফিসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন।মমতা বলেন, আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে। পার্টির কাগজ, তথ্য, হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক নথি সব লুট করা হয়েছে। লড়াই করার সাহস নেই বলেই এখন লুট করতে নেমেছে। সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত আমি জীবনে দেখিনি।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোর থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। সকাল ছটা নাগাদ আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে আমরা মেনে নেব না। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, সেটা কি ঠিক হবে?এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ডাকও দেন মমতা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালেই রাজ্যের সব ব্লক এবং ওয়ার্ডে মিছিল হবে। তাঁর কথায়, এই লুটের বিরুদ্ধে তৃণমূল পথে নামবে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

তল্লাশিতে বাধা না ক্ষমতার অপব্যবহার? হাইকোর্টে বড় অভিযোগ ইডির

আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি চলাকালীন বাধা দেওয়া হয়েছেএই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়।ইডির তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ইডির কাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে ফাইল ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তল্লাশির সময় জোর করে একাধিক নথি বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তার জন্য অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানায় ইডি।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, এই মামলার শুনানি আগামী দিনেই শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনের খুঁটিনাটি, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইডিকে দিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।ইডির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। কলকাতার ছটি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। নগদ টাকা, হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে জানায় ইডি। পাশাপাশি, সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি বেআইনি ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা ঘোষণা করেন। পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানায় ইডিও। তার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন পর ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। প্রায় দু-তিন বছর ধরে কার্যত স্থগিত থাকা ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার তিনটি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। একটি দল পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, অন্য দলটি সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে এবং তৃতীয় দলটি পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ঢোকার সময় খালি হাতে গেলেও, বেরনোর সময় একটি সবুজ ফাইল হাতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ফাইলে নথিপত্রের পাশাপাশি একটি হার্ড ডিস্কও ছিল বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের নির্বাচনী পরিকল্পনা, সংগঠনের তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজের খুঁটিনাটি হাতিয়ে নিতেই ইডিকে দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।এর পরে তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে যান। সেখান থেকেও কয়েকটি নথিপত্র গাড়িতে তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেগুলি তৃণমূলের দলীয় কাগজপত্র। তাঁর অভিযোগ, ইডি সব তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহেই ইডি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দেয় এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত অফিসের সামনেই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করে এই অভিযান করিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইডি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে দেন।ইডি হানার খবর পেয়ে এ দিন সকালে প্রথমে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। ইডি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে অফিস থেকে বেরিয়ে মমতা স্পষ্ট করে জানান, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূলের স্বীকৃত টিম। সেই টিমের কাছ থেকে কাগজপত্র ও তথ্য নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই তাঁর দাবি।মমতা জানান, ইডি নির্বাচনের সম্পূর্ণ রণকৌশল নিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লড়াই করতে না পারলে এজেন্সি ব্যবহার করে দলের তথ্য লুঠ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ভাবে ডেটা, কৌশল এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তাঁর বার্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইডির ফরেন্সিক টিম অফিসে এসে হার্ড ডিস্ক ও বিভিন্ন তথ্য ট্রান্সফার করেছে। পরে তা অস্বীকার করা হলেও তিনি নিজে তা দেখেছেন বলে দাবি করেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নথি নিয়েও যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, তৃণমূল একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল, নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজনে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিল না। তখনই দলের সমস্ত ল্যাপটপ, ডেটা, নির্বাচনী কৌশল ও এসআইআর সংক্রান্ত নথি ট্রান্সফার করা হয়। তাঁর মতে, এটি সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা করে সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই শেষ হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এসআইআর প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি মহিলা ও তরুণদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে লক্ষ লক্ষ নাম মুছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা।এর আগেও প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে ফের বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করুন। ডেটা চুরি করে বা ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, বাংলা দেশের গেটওয়ে। বাংলা ঠিক না থাকলে কিছুই ঠিক থাকবে না।মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির অফিস বা তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় এই ধরনের অভিযান চালানো হলে কি তা মেনে নেওয়া হবে। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্র ও কাজ করার অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। তিনি জানান, ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির চুরি, ডাকাতি ও লুঠের বিরুদ্ধে পথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

দলের সমস্ত ডেটা ট্রান্সফার করে নিয়েছে ইডি! বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা ও ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করা হয়েছে। এই আবহেই একেবারে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় তৃণমূলনেত্রীকে।ED হানার খবর পেয়ে এদিন সকালে প্রথমে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুললেও, সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মমতা স্পষ্ট করে দেন, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃত ভোটকুশলী টিম। সেই টিমের অফিসে ঢুকে সব নথি নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই দাবি করেন তিনি।মমতা বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় দলের সমস্ত ডেটা, ল্যাপটপ, নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি, এমনকি SIR সংক্রান্ত কাজের কাগজও ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে এ ভাবে কাগজপত্র তুলে নেওয়া সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নতুন করে সব নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।এর পর কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তৃণমূল একটি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল। নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজন হলে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই শুধু বিরোধীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপিকে কখনও এই ভাবে নোটিস দেওয়া হয় না। টাকা ও পেশীশক্তির জোরে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।SIR প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলা ও তরুণরা। তিনি দাবি করেন, যুক্তিহীন অজুহাতে নাম কাটা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে। এখনও ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা চুপ করে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মমতা।সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নিজের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ED নির্বাচনের সমস্ত রণকৌশল, দলের তথ্য, প্রার্থিতালিকা কেড়ে নিয়ে গেছে। ভোটারদের ডেটা লুঠ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূলের সঙ্গে প্রতারণা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়েও তিনি বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করে জিততে হবে। দলের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরে হানা দিয়ে ডেটা হাতিয়ে নেওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

আইপ্যাক তল্লাশিতে রাজনীতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন মোড়

আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলাকালীন রাজ্য দেখল এক নজিরবিহীন ছবি। তল্লাশির মাঝেই প্রথমে সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোনও রকম দেরি না করে তিনি তড়িঘড়ি বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন।প্রায় পনেরো মিনিট পরে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে। সেই ফাইলে কী রয়েছে এবং কেন এই তল্লাশি, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বক্তব্য রাখেন তিনি। কথা বলতে গিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। তাঁর অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পাঠানো হয়েছে দলের আইটি ইনচার্জের সব হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করার জন্য। প্রার্থী তালিকা, দলের পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক কৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এটাই কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ তাঁর দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে নেওয়া? তিনি আরও বলেন, যিনি দেশ রক্ষা করতে পারেন না, তিনিই এই ধরনের কাজ করছেন।প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান আইপ্যাকের গডরেজ ওয়াটারসাইডের অফিসে। সেখানে দেখা যায়, একের পর এক ফাইল বের করে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সেই সব ফাইল ঘিরেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধে।সূত্রের খবর, কয়লা পাচার সংক্রান্ত কিছু নথি খতিয়ে দেখতেই ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পৌঁছন ডিসি সাউথ এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ইডির চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য, বালি পাচারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযুক্ত অরুণ শারফ-সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরুণ শারফের সংস্থা জিডি মাইনিংয়ের নামেও চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারভবনে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।গত ৬ নভেম্বর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অরুণ শারফ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম উপেক্ষা করে বালি তোলা এবং তা বিক্রি করা হত। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ রোজগার করা হয়েছে বলে ইডির দাবি। মোট ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অরুণ শারফ ছাড়াও তাঁর সংস্থার চার কর্মীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারের ৫৭ দিনের মাথায় এই চার্জশিট পেশ করল ইডি।এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বালি পাচার কাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন ঝাড়গ্রাম ও বেহালায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। সেই সময় জিডি মাইনিংয়ের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি হয়।ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সুবর্ণরেখা নদী থেকে নিয়ম না মেনে দেদার বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, এঁরা সকলেই অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

জঙ্গি ঘাঁটির অভিযোগে তোলপাড়! অর্থ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন মোড়। জেহাদি যোগ ও মানি লন্ডারিং অভিযোগে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গ্রেপ্তার করল ইডি। আর্থিক লেনদেনে বড় গরমিলের হদিশ।দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু হওয়ার পরই নজরে আসে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরমহল। জেহাদি কার্যকলাপের অভিযোগে আগে থেকেই বিতর্কে ছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার সেই সন্দেহ আরও গভীর করল তাদের আর্থিক লেনদেনের গরমিল। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইডি শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকে।দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় ছিল হরিয়ানার এই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজ প্রতিষ্ঠানটিকে সাসপেন্ডও করে। তার পরই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রতারণা এবং জালিয়াতির দুটি আলাদা এফআইআর দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ছাত্র ভর্তির নামে জাল ডকুমেন্ট, বেআইনি স্বীকৃতি এবং অন্যায় আর্থিক লেনদেন চলছিল বহুদিন ধরে।ঠিক সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সকালে ইডি একযোগে দিল্লি এবং আরও ২৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ সিদ্দিকিকে সারা দিন ধরে জেরা করা হয়। নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া এবং আর্থিক নথিতে অসংগতি ধরা পড়তেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি।এদিকে বিস্ফোরণের পর ফরিদাবাদে কয়েকজন চিকিৎসকের গ্রেপ্তারি এবং দেশজুড়ে জঙ্গি যোগে একাধিক ডাক্তার আটক হওয়ার পর আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আরও ঘনঘন সামনে এসেছে। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উল-নবির সঙ্গেও আল ফালাহর যোগ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যেখানে চিকিৎসক থেকে ছাত্রঅনেকেই যুক্ত ছিল।সব মিলিয়ে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহের মেঘ ঘনায়মান। আর্থিক জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, বেআইনি স্বীকৃতি, জেহাদি কার্যকলাপসব অভিযোগ একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। তদন্তের প্রথম পর্যায়েই প্রতিষ্ঠাতা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নভেম্বর ১৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

শুভমন-র 'শুভ' হলোনা ইডেন টেস্ট! এই টেস্টে আর মাঠে নামছেন না গিল, বিসিসিআইয়ের সরকারি ঘোষণা

যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাই সত্যি হল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে চলতি টেস্ট ম্যাচে আর খেলবেন না ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। রবিবার সকালেই বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজন পড়লেও আর মাঠে নামার মতো অবস্থায় নেই তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতী দিয়ে জানানো হয়েছে,কলকাতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন শুভমন গিল ঘাড়ে চোট পান। দিনের শেষে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং এই টেস্টে আর অংশ নিতে পারবেন না।হঠাৎ বেড়ে ওঠা ব্যথা, হাসপাতালে ভর্তি অধিনায়ক। শনিবার ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ঘাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন গিল। ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলেও তেমন আরাম মেলেনি। ব্যাট করতে নামার আগে এবং ম্যাচ চলাকালীনও ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের নিজের তৃতীয় বলেই সাইমন হারমারকে স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে ব্যথা ফের বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন দলের ফিজিয়ো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে বলা হয়।মাত্র তিন বল ক্রিজে থাকতে পেরেছিলেন গিল। ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে ঘাড় ঘোরাতেই সমস্যায় পড়ছিলেন তিনি।এমআরআই রিপোর্টে পুরনো চোটের মিল.সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে গিলকে দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তাঁর এমআরআই স্ক্যান করা হয়। রিপোর্টে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে গিল একই ধরনের চোট পেয়েছিলেন এবং সেই সময়কার রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্টের মিল পাওয়া গিয়েছে।২৬ বছর বয়সী হওয়ায় শরীরের সহনশক্তি ভালোচিকিৎসকেরা এটিকে পেন থ্রেশহোল্ড বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ বার ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি যে গিল তা সহ্য করতে পারছেন না। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে দলের সঙ্গে হোটেলে না রেখে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।গিলের পরবর্তী চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিসিসিআইয়ের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল প্যানেল।অধিনায়ক ছাড়াই কঠিন পরীক্ষায় ভারত, শনিবারই দলের অন্দরে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে পুরো ইডেন টেস্টই হয়তো গিলকে বাইরে বসে কাটাতে হবে। রবিবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। এখন কঠিন, বাউন্সি ও অনিশ্চিত ইডেন পিচে অধিনায়ককে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ভারতীয় দলকে।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান—ফাইভ-ফর নিয়ে ইডেনে নতুন অধ্যায় লিখলেন বুমরাহ

যেখানে দলেই থাকেন জসপ্রীত বুমরাহ, সেখানে অধিনায়কের চিন্তা যেন অর্ধেক কমে যায়। আবারও সে কথাই প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয় পেস সেনসেশন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেনে যেন আগুন ছুড়লেন তিনি। মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে একার হাতে গুছিয়ে দিলেন প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইন-আপকে। ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে টেস্টের প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়লেন বুমরাহ। ২০০৮ সালে আহমেদাবাদে এই কীর্তি করেছিল ডেল স্টেন। এবার ভারতীয় দর্শকরা সাক্ষী হলেন বুমরাহ ম্যাজিকের।ইডেনে শেষবার প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে, গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টে, ইশান্ত শর্মার হাতে। প্রায় ছয় বছর বাদে বুমরাহও সেই তালিকায় নিজের নাম খোদাই করে দিলেন। তার সঙ্গে গড়ে ফেললেন আরও একাধিক রেকর্ড।২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত টেস্টে সবচেয়ে বেশি বার ওপেনারদের আউট করার রেকর্ড এখন বুমরাহর দখলে। স্টুয়ার্ট ব্রডকে পিছনে ফেলে ১৩ বার প্রতিপক্ষের ওপেনিং ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। ম্যাচের ১১তম ওভারে রিকলটনকে ফেরান, যিনি তখন মারমুখী মেজাজে ব্যাট করছিলেন। এরপর ১৩তম ওভারে আবার আঘাতপরাস্ত হন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৩১ ও ২৩।এতেই শেষ নয়। রিকলটনকে বোল্ড করেই আরেকটি ভারতীয় রেকর্ড ভেঙে ফেললেন বুমরাহ। বোল্ড করে সবচেয়ে বেশি উইকেট তোলার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি। ১৫২ জন ব্যাটারকে বোল্ড করে এবার অশ্বিনকে (১৫১) ছাপিয়ে গেলেন। তার ওপরে রয়েছেন কিংবদন্তি কপিল দেব (১৬৭) এবং তালিকার শীর্ষে অনিল কুম্বলে (১৮৬)।ইডেনে বুমরাহ যেন নিজের আলাদা মঞ্চ তৈরি করলেন। একের পর এক নিখুঁত ইয়র্কার, বাউন্সার আর গতি পরিবর্তনের ঝড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ভেঙে চুরমার। আবারও প্রমাণ হলভারতের টেস্ট দলকে যতক্ষণ বুমরাহ বোলিং আক্রমণের সামনে রয়েছেন, ততক্ষণ যে কোনও প্রতিপক্ষই সতর্ক না হয়ে পারে না।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ক্রিকেটের নন্দনকানন সেজেছে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-র বিশ্বজয়ের কাটআউটে

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন সিএবির। ক্রিকেটের নন্দনকাননের সামনে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-কে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল কাটআউট লাগানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে জার্সির রংয়ের নীল আলো দিয়ে।সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় লন্ডনে থাকাকালীনই একাধিক পরিকল্পনা করেছেন। তিনি গর্বিত, তৃপ্ত। কারণ, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি, বিকাশের নেপথ্যে তো রয়েছে তাঁরই দূরদৃষ্টি।ম্যাচ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে যখন ভারতীয় ক্রিকেটে টালমাটাল পরিস্থিতি, ক্রিকেটপ্রেমীরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন সৌরভ। গড়েছিলেন টিম ইন্ডিয়া। বিদেশে জেতা যায়, এই বিশ্বাস এনে দিয়েছিলেন। প্রশাসক হিসেবেও তাঁর রয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান। যার অন্যতম দেশের মহিলা ক্রিকেটের বিকাশ। সৌরভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মেয়েদের ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আমি যখন ২০১৯ সালে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হই তখন মেয়েদের ক্রিকেটকে সিরিয়াসলি দেখা হতো না। খুব ভালো জায়গায় ছিল না। এখন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, হরমনপ্রীত কৌর, রেণুকা সিং, রিচা ঘোষদের দেখে খুব ভালো লাগে এই কারণে যে, আমরা যে কাজ করেছি তা সদর্থকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ডব্লিউপিএল একটা বড় স্টেপিং স্টোন, যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি ঘটিয়ে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। সৌরভের কথায়, বিভাগ আলাদা হলেও মহিলা ক্রিকেটাররা পুরুষদের সম-বেতন পাচ্ছেন। তাঁরা এর যোগ্য। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতছে ভারত। ছটি বিশ্বকাপ জেতা মেগ ল্যানিং-সহ অস্ট্রেলিয়া দলে তাবড় ক্রিকেটাররা রয়েছেন। তবে ভারত পিছিয়ে নেই খুব একটা। কমনওয়েলথ গেমস ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ভারত হারানোর পরিস্থিতিও তৈরি করে ফেলেছিল। তিন বছর আগেও কেউ ভাবতো না ভারতের মেয়েরা ইংল্যান্ডে গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন। খুব ভালো লাগে যখন ডাগ আউটে বসে দেখি শেফালি ভার্মা অবলীলায় ছয় মেরে বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছেন। সৌরভ মনে করেন, এ দেশে পুরুষদের চেয়ে মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি অনেক দ্রুত হয়েছে। আর তার অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর ডব্লিউপিএল চালু করা। সিএবির এক বিবৃতিতে সৌরভ বলেছেন, আজ থেকে কুড়ি বছর আগে যখন পরিকাঠামোর অভাবে মেয়েদের ক্রিকেট লড়াই চালাচ্ছিল, তখন এর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি লোক আশাবাদী ছিলেন না। সৌরভের কথায়, ক্রিকেটকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সকল মহিলা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যখন আমি বিসিসিআই সভাপতি হয়েছিলাম, তখন মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত হই এবং এর ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয় কেবল শুরু, এখান থেকে মেয়েদের ক্রিকেট আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।সৌরভ বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। তার কয়েক মাস পরেই করোনার ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। তাতেও মহিলা ক্রিকেট নিয়ে ভাবনা জারি রেখেছিলেন সৌরভ। আইপিএলের ধাঁচে মহিলাদের ক্রিকেট লিগ করার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছিল। ডব্লিউপিএল আসার আগে মহিলাদের টি২০ চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্ট করতো বিসিসিআই। সৌরভই বোর্ড সভাপতি হয়ে জানিয়েছেন, বছর চারেকের মধ্যে ডব্লিউপিএল শুরু হবে। করোনা প্রতিবন্ধকতা না হলে সৌরভ বোর্ড সভাপতি থাকাকালীনই ডব্লিউপিএল শুরু হয়ে যেত। তা হয় জয় শাহ বোর্ড সচিব ও রজার বিনি বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন। কোনও কিছু রাতারাতি হয় না। আইপিএলের ধাঁচে মেয়েদের ক্রিকেট করতে গেলে যত ভালো মানের ক্রিকেটার দরকার তা ২০১৯ সালে ভারতে ছিল না। সেজন্য দরকার ছিল পরিকাঠামো। তবে ডব্লিউপিএল প্রথমদিকে সাতটি দল নিয়ে করার কথা থাকলেও পাঁচটি দল নিয়ে শুরু হয়। ২০১৮ সালে মেয়েদের টি২০ চ্যালেঞ্জ হয়েছিল প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে। ২০১৯ সালে তা তিন দলের টুর্নামেন্ট হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে যাতে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা সাফল্য পান সে কারণে মূল দলের বিদেশ সফরের আগে মেয়েদের ভারতীয় এ দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও সৌরভেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। শুধু তাই নয়, বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন সৌরভ জোর দেন যাতে বিভিন্ন রাজ্য সংস্থাও প্রচুর পরিমাণে মহিলা ক্রিকেটারদের পুল তৈরি করতে পারে। সেটা সম্ভব হওয়াতেই ডব্লিউপিএলে বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেটাররা বিদেশিদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছেন, নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরতে পারছেন। বিদেশের লিগেও তাঁরা খেলছেন। সারা দেশে মেয়েদের টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে।বাংলার ঝুলন গোস্বামীর কথা বাদ দিন, হরমনপ্রীত কৌর এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন তাঁর কেরিয়ারে সৌরভের কতটা অবদান। ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে সৌরভ নিজে দিল্লি ক্যাপিটালস দলের সঙ্গে যুক্ত। সেই দলেরই জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি ভার্মারা ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর। বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন দীপ্তি শর্মা। উত্তরপ্রদেশের দীপ্তির ক্রিকেট কেরিয়ারের উত্থান কিন্তু বাংলা থেকেই। সেই সঙ্গে প্রথম বাঙালি হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন রিচা ঘোষ। রিচার বাড়ি শিলিগুড়িতে।সৌরভ বা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জোর দিয়েছেন বাংলার মেয়েদের ক্রিকেটেও। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সবরকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। ইডেনে ক্রিকেটারদের থাকারও বন্দোবস্ত করেছেন তাঁরা। সর্বভারতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে বাংলার মেয়েদের দল সাফল্যও পেয়েছে। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও জোর দিয়েছেন। জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করে এনে মেয়েদের জন্য ভিশন প্রজেক্টও চালু করেছে সিএবি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হয়ে প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারদের আরও বেশি সংগঠিত করে মেয়েদের ক্রিকেটে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।সচিন তেন্ডুলকর একটা সময় বলেছিলেন, কপিল দেবের নেতৃত্বে তিরাশির বিশ্বকাপ জিততে দেখে তিনি দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন তাড়া করতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে সচিন, সৌরভ হতে চেয়ে সারা দেশে কিটব্যাগ কাঁধে বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রচুর প্রতিভাকে মাঠমুখী হতে দেখা গিয়েছিল। বাণিজ্যিক সংস্থা আগ্রহী হতে থাকে। যার ফলশ্রুতি, আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতের পুরুষদের ক্রিকেট। হরমনপ্রীতদের এই বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রাণিত করবে এখনকার ছোট ছোট মেয়েদের বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তবে এত সাফল্যের মধ্যেও মনে রাখতে হবে দেশের মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতির ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও বিশ্বজুড়ে মহিলাদের ক্রিকেটের অগ্রগতি, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে যাঁর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। মনে পড়ে সেই কথা, বাংলাই কিন্তু পথ দেখায়।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
দেশ

অনিল অম্বানির ৩,০০০ কোটি বাজেয়াপ্ত, সিল বিলাসবহুল বাড়ি! ইডির মেগা অ্যাকশন, কাঁপছে কর্পোরেট দুনিয়া

নভেম্বরের প্রথম কাজের দিনেই বড়সড় চমক দেশের কর্পোরেট দুনিয়ায়। রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানির বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট অনুযায়ী তদন্ত চলা এক অর্থপাচার মামলায় তাঁর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। চারটি পৃথক অস্থায়ী আদেশ জারি করে এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।জানা যাচ্ছে, বাজেয়াপ্ত সম্পদের তালিকায় রয়েছে মুম্বাইয়ের অভিজাত পালি হিলের অনিল অম্বানির বিলাসবহুল বাসভবন। দিল্লির মহারাজা রঞ্জিত সিং মার্গের রিলায়েন্স সেন্টারের জমি সহ একাধিক বাণিজ্যিক সম্পত্তি সিল করেছে ইডি। শুধু তাই নয়, রিলায়েন্স গ্রুপের নয়ডা, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং পুনের সম্পত্তিও নজরবন্দি।এই মামলা মূলত রিলায়েন্স হোম ফাইনান্স লিমিটেড এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইনান্স লিমিটেডকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, এই দুই সংস্থার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীর টাকার দুর্ব্যবহার এবং তছরুপ হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাংক এই দুই প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষে সেই ঋণ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়।ইডির দাবি, অনিল অম্বানির বিভিন্ন সংস্থাযার মধ্যে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারও রয়েছেমোট ১৭ হাজার কোটিরও বেশি টাকা অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ ডাইভার্ট করা হয়েছে বিশাল অঙ্ক। চলতি বছরের অগস্টে অনিল অম্বানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তার আগে জুলাই মাসে তাঁর সংস্থার শীর্ষকর্তাদের বাড়ি-অফিস মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। মোট ৫০টি সংস্থা ও একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি হয়েছিল সেইসময়।উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্র সিবিআই-এর এক এফআইআর। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই ইডির পদক্ষেপ। আর এই মুহূর্তে স্পষ্টঅনিল অম্বানির আর্থিক সাম্রাজ্যে তীব্র চাপ নেমে এসেছে। নব-নভেম্বরেই যেন শুরু হল নতুন ঝড়।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ধর্নামঞ্চে নিঃসঙ্গ মমতা, বিদ্রোহীদের শক্তি বাড়ছে? তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনায় তপ্ত বাংলা রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নতৃণমূল কংগ্রেস কি বড় ধরনের ভাঙনের মুখে? বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাসও পূর্ণ হয়নি, তার আগেই দলের অন্দরে অসন্তোষ, সই-জালিয়াতি বিতর্ক, বিধায়কদের অনুপস্থিতি এবং বহিষ্কৃত নেতাদের সক্রিয়তা নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। কারণ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল মাত্র আটজন বিধায়ক এবং ছয়জন সাংসদকে। একসময় যে দল রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেই দলের শীর্ষ নেত্রীর কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের এই সীমিত উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।তৃণমূল সূত্রে দাবি, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই ধর্নার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্বকে ছাপিয়ে যায় উপস্থিতির হিসাব। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে কেন্দ্র করে পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে।ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখানো হচ্ছে, তৃণমূল ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।সই জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর দাবি, যাঁরা এখন নিজেদের সই অস্বীকার করছেন, তাঁদের স্বাক্ষরের ভিডিও প্রমাণ দলের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষারও দাবি জানান তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, এই বিতর্ককে সামনে এনে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া আটকে রাখা উচিত নয়।অন্যদিকে, বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট থাকলেও বর্তমান তৃণমূল তার পুরনো চরিত্র হারিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দল কর্পোরেট সংস্কৃতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং সাধারণ কর্মীদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সংখ্যার অঙ্কে। বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী তাপস রায়ের দাবি, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও ঋতব্রত প্রকাশ্যে সেই দাবি মানতে চাননি। তবুও বারবার উঠে আসছে একটি প্রশ্নযদি সত্যিই এত বড় একটি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে থাকে, তবে কি তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড়সড় ভাঙন আসন্ন?এদিকে তৃণমূলের তরফে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের এই অবস্থান জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান।পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বিধানসভার স্পিকারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া বিরোধী সদস্যদের কোনও চিঠি গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে এই অভিযোগও রাজনৈতিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি দাবি করেন, ধর্মতলার কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি অত্যন্ত কম ছিল এবং তৃণমূল এখন কার্যত সংগঠনগত সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি সই-জালিয়াতি ইস্যুতে তিনি কড়া ভাষায় প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ করেন।সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় চলছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির ক্রমশ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। সংখ্যার অঙ্ক এখনও প্রকাশ্যে না এলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে আগামী কয়েকদিনই নির্ধারণ করবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ পথচলা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা।

জুন ০২, ২০২৬
দেশ

দেশজুড়ে নম্বর বিতর্কের ঝড়! পদ থেকে সরানো হল সিবিএসই চেয়ারম্যান ও সচিবকে

সিবিএসইর অনস্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকে। পাশাপাশি অনস্ক্রিন মূল্যায়ন পরিষেবা সংক্রান্ত টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।সিবিএসই চেয়ারম্যান হিসেবে রাহুল সিং বোর্ডের পরীক্ষা, শিক্ষানীতি, পাঠক্রম, সংস্কার এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কাজের তদারকি করতেন। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও তাঁর উপর ছিল। অন্যদিকে সচিব হিমাংশু গুপ্তা বোর্ডের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় দেখাশোনা করতেন। দেশজুড়ে পরীক্ষার দৈনন্দিন পরিচালনা এবং বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।অনস্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পর থেকেই ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম নম্বর পেয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁদের উত্তরপত্রের কিছু অংশ মূল্যায়নই করা হয়নি। আবার অনেকের অভিযোগ, স্ক্যান করা উত্তরপত্র ঝাপসা ছিল। কোথাও নম্বর গণনায় ভুল ধরা পড়ে, কোথাও উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে।রিভিউ এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও একাধিক সমস্যা সামনে আসে। সার্ভার বিভ্রাট, অর্থপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতা এবং পোর্টালে প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগ করেন বহু পরীক্ষার্থী। গত পয়লা জুন পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা করলে অনেকেই দেখেন, সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।মঙ্গলবার নতুন করে পোর্টাল চালু হলেও সমস্যার অভিযোগ পুরোপুরি থামেনি। বহু পড়ুয়া লগইন সমস্যা, অর্থপ্রদান ব্যর্থ হওয়া এবং ওয়েবসাইট বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। জানা গিয়েছে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পোর্টালে পনেরো লক্ষেরও বেশি প্রবেশের চেষ্টা হয়। পাশাপাশি অনুমোদনহীন প্রবেশের চেষ্টাও ধরা পড়ে বিপুল সংখ্যায়।যদিও সিবিএসইর দাবি, সমস্ত চাপ এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পোর্টাল নিরাপদ ও সচল রয়েছে। আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য সেশনের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। বোর্ডের দাবি, এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

মমতার চোখের সামনে অসুস্থ কুণাল, তারপর যা করলেন নেত্রী!

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ধর্না কর্মসূচিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঘটনাকে ঘিরে ধর্নামঞ্চে সাময়িক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কুণাল অসুস্থ হয়ে পড়তেই তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে এবং সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করতে দেখা যায় নেত্রীকে।সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যে ছিলেন কুণাল ঘোষ। প্রথমে তিনি কালীঘাটে গিয়ে দলীয় বৈঠকে যোগ দেন। এরপর রানি রাসমণি রোডে যান এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে বিধানসভাতেও উপস্থিত হন। সেখান থেকে সরাসরি পৌঁছে যান ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে।ধর্নাস্থলে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে বসার এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান। হাতে যা ছিল, তা দিয়েই তাঁকে বাতাস করতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্নেহভরে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়েও দেন নেত্রী।কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর কুণাল ঘোষের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রচণ্ড গরম এবং সারাদিনের ব্যস্ততার কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ধর্নামঞ্চে কুণাল ঘোষের অসুস্থ হয়ে পড়া এবং তাঁর পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

সই জাল কাণ্ডে নতুন মোড়! ফের স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের, বাড়ল জল্পনা

সই জালিয়াতি বিতর্কের মধ্যেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে ফের চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানিয়েছেন। স্পিকারকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার চিঠি দিলেন অভিষেক।এর আগে প্রথম চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরাসরি চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন করা যায় না। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দলের পরিষদীয় বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে হয়। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ নথি বিধানসভায় জমা দিতে হয়।মঙ্গলবার পাঠানো দ্বিতীয় চিঠিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপ-বিরোধী দলনেতা করার দাবিও তুলেছেন।এদিকে সই জালিয়াতি বিতর্ক ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই ঘটনায় সরব হওয়ার পর ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় পঞ্চাশ জন বিধায়ককে ঘিরে দলীয় অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে তদন্তও এগোচ্ছে দ্রুত। সই জালিয়াতি মামলায় তিন তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিআইডি। বাহারুল ইসলাম, সুব্রত রায় এবং অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষা করতে চান তদন্তকারীরা। আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিচারকের সামনে উপস্থিত হয়ে নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের লেখা জমা দিতে হতে পারে। পরে সিআইডির হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞরা সেই নমুনার সঙ্গে বিতর্কিত স্বাক্ষরের মিল খতিয়ে দেখবেন। ফলে সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

কলেজের আলমারিতে লুকিয়ে ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ সবার

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রহস্যজনকভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের ইউনিয়ন রুমের একটি পুরনো আলমারি থেকে উঁই ধরা অবস্থায় টাকা ভর্তি একাধিক বাক্স উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মঙ্গলবার কলেজ চত্বরে এই ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। এরপর ইউনিয়ন রুম থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ও বাক্সগুলি উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। তবে ঠিক কত টাকা পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নোটগুলির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আলমারিতে পড়ে থাকার কারণে উঁইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কলেজের ইউনিয়ন রুমে কীভাবে এল, কে বা কারা সেখানে টাকা রেখে গিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে তা জমা রাখা হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, এর সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না এবং কতদিন ধরে ওই টাকা সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কলকাতার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রহস্যময় এই টাকার উৎস খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

ধর্নায় মমতা, কিন্তু কোথায় দলের বিধায়করা? জল্পনা তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। এই আবহেই ফের আন্দোলনের পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে বিরোধী নেত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে তাঁকে ধর্না ও আন্দোলনের মঞ্চে দেখা গিয়েছে। তবে এবারের ছবিটা অনেকটাই আলাদা।মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে পৌঁছতেই কিছু সমর্থকের ভিড় দেখা গেলেও অতীতের বিশাল জনসমাগমের সঙ্গে তার কোনও তুলনা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।বর্তমানে তৃণমূলের হাতে ৭৮ জন বিধায়ক এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৪১ জন সাংসদ রয়েছেন। কিন্তু ধর্নামঞ্চে দেখা গেল মাত্র কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে। এই উপস্থিতি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।মমতার পাশে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সাংসদদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ওব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তন্ময় ঘোষকে মমতার পাশে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন পুর প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, স্বপন সমাদ্দার-সহ আরও কয়েকজন।ধর্নামঞ্চে অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুন ০২, ২০২৬
রাজ্য

পঞ্চায়েত চত্বরে আধপোড়া আবাসের নথি! পালাবদলের পর বাঁকুড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাঁকুড়ার একটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত ভবনের শৌচালয়ের পাশে বিপুল পরিমাণ আধপোড়া সরকারি নথি পড়ে থাকতে দেখা যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া একাধিক নথিতে আবাস প্রকল্পের উল্লেখ থাকায় স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য গোপন করতেই এই নথিগুলি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে এলাকার কয়েকজন বিজেপি কর্মী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে দ্বারিকা গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যান। সেই সময় পঞ্চায়েত ভবনের শৌচালয়ের পাশেই পোড়া কাগজের স্তূপ দেখতে পান তাঁরা। পরে ছাই সরিয়ে বেশ কিছু আধপোড়া নথি উদ্ধার করা হয়। সেগুলির মধ্যে আবাস প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।এরপরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর অতীতের আবাস প্রকল্প সংক্রান্ত দুর্নীতির তথ্য ও প্রমাণ নষ্ট করতেই এই নথিগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেত্রী বৈশাখী বাগদী বলেন, আবাস যোজনার নথি কেন পোড়ানো হল, তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে বলেও জানান তিনি।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক লোহার বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও তাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, পুরনো ব্যানার, ফেস্টুন এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র পরিষ্কার করার সময় সেগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আবাস প্রকল্পের যে তালিকার কপি সেখানে ছিল, সেগুলি পুরনো কাগজ মাত্র। মূল তথ্য এখনও অনলাইনে সংরক্ষিত রয়েছে এবং যে কেউ চাইলে তা দেখতে পারবেন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আধপোড়া নথি ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

স্পিকারের দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে হাজির ঋতব্রত, শুরু নতুন জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দলের ভাঙন নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবার সেই জল্পনা আরও উসকে দিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে তিনি বিধানসভায় পৌঁছনোর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদিও এদিন স্পিকার দিল্লিতে থাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে বিধানসভার সচিবের কাছেই নথি জমা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ওই চিঠিতে নতুন নেতৃত্বের অধীনে তৃণমূলের একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের কথা উল্লেখ থাকতে পারে। এমনকি দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে ভবিষ্যতে দাবি তোলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।এই জল্পনার মধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে নিয়ে স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত। খেলা হবে। এই পোস্টের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।দুই দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিধায়ক বৈঠকে দলের অধিকাংশ বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র কুড়িজনের উপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলেছিল। এরপর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ও ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপির মতো পরিস্থিতি বাংলাতেও তৈরি হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দল ভাঙার কথা স্বীকার করেনি। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

জুন ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal