রাজনীতি
বীরভূম জেলা পরিষদে অনাস্থায় বিপাকে, ভোটের একদিন আগে ইস্তফা কাজল শেখের
শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই করলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করা হয়েছে। জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সভাধিপতির দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে কাজল শেখের পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে জেলা পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। বীরভূম জেলা পরিষদে মোট আসন ৫২টি। তার মধ্যে একটি আসন রয়েছে কংগ্রেসের দখলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজল শেখ সভাধিপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।এর পরেই অবশ্য পরিস্থিতির বদল শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের সঙ্গে কাজল শেখের দূরত্ব বাড়ে বলে দাবি। জেলা পরিষদে তাঁর যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকার সময় ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।গত ৪ আগস্ট কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য। তাঁরা বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে সেই প্রস্তাব জমা দেন। আগামী ২১ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত ছিল। তার ঠিক একদিন আগেই সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন কাজল শেখ।তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নবগোপাল বাউরির অভিযোগ, সভাধিপতি হওয়ার পর জেলা পরিষদের অফিসকে ‘হজ অফিসে’ পরিণত করেছিলেন কাজল শেখ। তাঁর দাবি, সেই কারণে অধিকাংশ সদস্য তাঁর চেম্বারে যেতেন না। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে জেলা পরিষদের কাজকর্মও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতেই বাধ্য হয়ে অনাস্থা আনা হয়েছিল বলে জানান নবগোপাল।অন্যদিকে, বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভাই-ভাইপোদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের সদস্যরাই যখন অনাস্থা এনেছেন, তখন অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। জেলা পরিষদে বিজেপির কোনও সদস্য না থাকলেও আগামী দিনে সরকারকে দিয়ে কাজল শেখের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পরবর্তী সভাধিপতি যিনিই হন, তাঁর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়ার কথাও বলেছেন উদয় শঙ্কর।
‘ককরোচ’ মন্তব্যে বিতর্কে দিলীপ, পাল্টা আক্রমণে শতরূপ, ইন্দাসকাণ্ডে বাড়ল উত্তাপ
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার ইন্দাসে। সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার জেরেই দলীয় কর্মী আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর বাবা শেখ মোহাম্মদ মাফিকের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় শেখ মোহাম্মদ মাফিকের। ওই বাড়িতে মৃতের ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই খুনের শেষ দেখে ছাড়বেন। পাশাপাষি তিনি ঘোষণা করেছেন এই ইস্যুতে বাঁকুড়ার জেলা বিজেপির কার্যলয়ে বিক্ষোভ দেখানো হবে। এদিকে ককরোচ জনতা পার্টিকে তীব্র কটাক্ষ করে মন্তব্য় করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাসে সিজেপি কর্মী আব্দুল হাফিজের বাড়িতে আচমকাই একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। বাড়িতে ঢুকে আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর বাবা শেখ মোহাম্মদ মাফিককে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় দুজনেই গুরুতর জখম হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাফিকের। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দিকে।ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয় সিজেপি। দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকে টেলিফোনে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পূর্ণাঙ্গ আইনি ও রাজনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তাঁর নির্দেশে সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল ইন্দাসে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে। অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে বিরোধী শিবিরও। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং নিহত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে সোমবার ইন্দাসে পৌঁছায় বামেদের একটি প্রতিনিধি দল। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।বামেদের ইন্দাস সফর এবং সিজেপির আত্মপ্রকাশ নিয়ে সরব হন রাজ্যের বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বামেদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওরা যেকোনো জায়গাতে যেতে পারেন। তবে ককরোচ রাতারাতি কোথা থেকে বেরিয়ে আসে? এইসব কমিউনিস্টদের মাথাতেই আসে, তারাই আরশোলা-ছারপোকা তৈরি করে। আর পরে তারাই সারা দুনিয়ায় উৎপাত করে।দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, বাংলায় শুভেন্দু অধিকারী সরকার শক্তিশালী আর দিল্লির রেখা গুপ্ত সরকার দুর্বল? মোদী-অমিত শাহ সরকার এই সিজেপির আন্দোলনেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে। সঙ্গে পুলিশ আছে বলেই এমন ভাষণ দিতে পারছে অনেকে।ইন্দাসের এই ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন সিজেপি ও বামেদের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, তেমনই বিজেপি ও বাম নেতৃত্বের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিমান বন্দর চত্বরে সৌগত রায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, উঠল ‘চোর-চোর’ ও গো ব্যাক স্লোগান
নিজের সংসদীয় এলাকাতেই বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। কলকাতা এয়ারপোর্ট ঢোকার মুখে তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভকারীদের তরফে চোর-চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। গাড়িতে চাপরও দেওয়া হয়। দেখানো হয় কালো পতাকা। বেশ কিছক্ষণ আটকে ছিলেন সৌগত রায়। গো ব্যাক স্লোগানও চলতে থাকে গাড়ি ঘিরে। ভাইরাল ভিডিওতে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি বিমান বন্দরে একটি বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।কিছু দিন আগে নিমতা থানা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একদল মানুষ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ওঠে চোর-চোর স্লোগান। এরপর ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ডিম সাংসদের গায়ে না লাগলেও গাড়িতে গিয়ে লাগে। এবার দমদমের তৃণমূল সাংসদের গাড়ি ঘিরে ফের বিক্ষোভ চলল। সৌগত রায়ের গাড়ি ঘিরে এই বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে তাঁর নিজের সংসদীয় এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দুবার এই তৃণমূল সাংসদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এবং কালো পতাকা দেখানো, গো ব্যাক অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের দাবি, প্রতিবার নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন সৌগত রায়। প্রতিবারই বলতেন জেশপ খুলবেন। উল্টে তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা জেসপ থেকে চুরি করে শেষ করে দিয়েছেন।
২১ জুলাইয়ের আগে তৃণমূলে বড় ধাক্কা! কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভা ছাড়া, মণীশ গুপ্তর সরে দাঁড়ানো ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে একের পর এক রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হচ্ছে। মদন মিত্রকে নিয়ে বিতর্কের আবহ এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তার মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের সাংসদ কোয়েল মল্লিক। একই সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মণীশ গুপ্ত। ফলে শাসক শিবিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের পর কোয়েল মল্লিকের বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে আরও কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাক্ষাতের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি তিনি রাজনৈতিকভাবে নতুন কোনও সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন? যদিও এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক বা বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তাই তিনি আদৌ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।অন্যদিকে, প্রাক্তন আমলা ও তৃণমূলের প্রবীণ নেতা মণীশ গুপ্তও দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তিনি এখনও তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেননি, তবুও তাঁর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের মতো বড় কর্মসূচির আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলের জন্য অস্বস্তিকর বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েল মল্লিকের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কোয়েল ভবিষ্যতে রাজ্যকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা রাখেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর এত দ্রুত রাজ্যসভা থেকে কোয়েলের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত মিলছে। শাসক দলের ভেতরে সাংগঠনিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী শিবিরের তৎপরতাসব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তবে কোয়েল মল্লিকের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, মণীশ গুপ্তর পরবর্তী পদক্ষেপ কিংবা তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াএসবের দিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
তৃণমূল নয়, বিজেপিও নয়! ‘অস্তিত্বহীন’ এনসিপিআই-তেই কেন আশ্রয় বিদ্রোহী সাংসদদের? নেপথ্যে আইনি কৌশল, রাজনৈতিক অঙ্ক ও ভবিষ্যতের হিসাব
রাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় মোড়ের মধ্যেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা শিবিরে বিদ্রোহ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ প্রায় ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহ ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হল তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলেন না কেন? আবার নিজেদের আসল তৃণমূল বলেও দাবি করলেন না কেন?তার বদলে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন এমন একটি রাজনৈতিক দলে, যার নাম কয়েক দিন আগেও দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক শোনেননি। সেই দলের নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় রাজনৈতিক বিদ্রোহের পর একটি প্রায় অচেনা ও অপ্রাসঙ্গিক দলের ছাতার তলায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে?রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আইনজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে চারটি বড় কৌশলগত কারণ।বিধানসভার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাপ্রথমত, বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের পরিস্থিতি লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সামনে এক ধরনের সতর্কবার্তা তৈরি করেছিল।বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি বলে দাবি করেন এবং পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত কোনও ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, তা নিয়ে মামলাও বিচারাধীন।এই পরিস্থিতি দেখে লোকসভার বিদ্রোহীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করলে দীর্ঘ আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে সরাসরি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে যাওয়ার পথই তাঁদের কাছে নিরাপদ বলে মনে হয়েছে।বিজেপির ছায়া, কিন্তু সরাসরি যোগ নয়দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজেপির ভূমিকা।বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে। বিশেষ করে ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনই এই রাজনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে।তবে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিজেপি এই সাংসদদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি। কারণ, সরাসরি দলবদল হলে দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারত। তার বদলে একটি পৃথক রাজনৈতিক সত্তা তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থন করানো অনেক বেশি সুবিধাজনক।ফলে বিজেপি রাজনৈতিক সমর্থন পেলেও আইনি দায় এড়িয়ে যেতে পারছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।তৃণমূলের দখল নেওয়া প্রায় অসম্ভববিদ্রোহী সাংসদদের সামনে আরেকটি বড় বাস্তবতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো।তৃণমূলের গঠনতন্ত্র চেয়ারপার্সন-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ দলের সাংগঠনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ বা বিধায়করা সংখ্যায় বেশি হলেও দলীয় প্রতীক, তহবিল, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি সাংগঠনিক নেতৃত্বের হাতেই থাকে।বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরই মমতা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করে নিজের অনুগতদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী সাংসদরা সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ পেলেও দলীয় প্রতীক বা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই তাঁরা তৃণমূলের নাম ব্যবহার না করে নতুন দলের পথে হাঁটেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।কংগ্রেসে তৃণমূলের সম্ভাব্য মিশ্রণও ছিল চিন্তার কারণরাজনৈতিক মহলে কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কংগ্রেসের বৃহত্তর সমঝোতা বা সাংগঠনিক একীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হত, তাহলে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে যেত। কারণ, তৃণমূল এবং কংগ্রেস একত্রিত হলে লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার হিসাব আমূল বদলে যেত। তখন দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় নিরাপদ অবস্থানে থাকতে আরও বেশি সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হত।আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সেই সম্ভাবনাকেও মাথায় রেখেই বিদ্রোহীরা আগেভাগে আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছেন।যে দলে যাচ্ছেন, সেই দল আদৌ কতটা পরিচিত?সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হল, যে এনসিপিআই-তে বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিয়েছেন, সেই দলটি কার্যত রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক।নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, দলটি একটি নিবন্ধিত হলেও অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তারা। সেই দুই প্রার্থীই পরাজিত হন এবং ভোটসংখ্যাও ছিল অত্যন্ত সীমিত।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এনসিপিআই এখানে মূলত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা আইনি আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকৃত লক্ষ্য হল সংসদে একটি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এনডিএ-কে সমর্থন করা।নতুন সমীকরণের সূচনা?লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙন শুধু দলীয় সংকট নয়, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সামনে এটি যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্যও এটি একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ কতটা স্থায়ী হবে, নতুন দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব কত দূর পর্যন্ত টিকবে এবং আইনি লড়াই কোন দিকে যাবে সেই উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত স্পষ্ট, তৃণমূলের বিদ্রোহীরা আবেগ নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও আইনি হিসাব কষেই অপরিচিত এনসিপিআই-এর ছাতার তলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিনোদুনিয়া
খেলাধুলা
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের প্রস্তুতি কতটা? কলকাতার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখল ব্রাজিল
কলকাতায় ব্রাজিল ফুটবল দলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রস্তুতি আরও জোরদার। অক্টোবরের শুরুতে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে বিভিন্ন পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে অনুশীলনের মাঠ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে ফুটবলারদের থাকার সম্ভাব্য হোটেলসবকিছুই পরিদর্শন করেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছয় ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত, প্রাক্তন ভারতীয় গোলকিপার সুব্রত পাল এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রথমে অনুশীলনের মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা। এরপর তাঁরা মূল স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ আয়োজনের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় একাধিক বিষয়ে বিশেষ নজর দেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, ড্রেসিংরুম, বাথরুম, গোলপোস্ট এবং মাঠের ঘাসের মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুঁটিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ শুধু ম্যাচ আয়োজনের মাঠ নয়, গোটা পরিকাঠামোই তাঁদের পরিদর্শনের আওতায় ছিল।এর আগে নিউটাউনে ফেডারেশনের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেও যান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে সম্ভাব্য অনুশীলন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তাঁরা। এরপর যুবভারতী সংলগ্ন একটি পাঁচতারা হোটেলও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে ব্রাজিল দলের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার Srgio Dimas de Oliveira, প্রশাসনিক আধিকারিক Vinicius Barrozo Costa, মার্কেটিং ও অপারেশন ম্যানেজার Jos Vitor Senatore de Paula Lima, ফিজিওলজিস্ট Guilherme Passos Ramos এবং নিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি Bruno Mazzei Reis। কলকাতার বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর তাঁরা ব্রাজিলে ফিরে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন।সূত্রের খবর, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের আশপাশে ব্যক্তিগত বিমানে কলকাতায় আসতে পারে ব্রাজিল দল। অক্টোবরের শুরুতেই যুবভারতীতে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। দর্শকদের বিশ্বকাপ স্তরের ম্যাচের অভিজ্ঞতা দেওয়াই লক্ষ্য। ফলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে কলকাতার ফুটবলমহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ।
টাই-ব্রেকারে বাজিমাত সবুজ-মেরুনের, যুবভারতীতে ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান
ডুরান্ড কাপ ফাইনাল ফের মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে খেতাব লড়াইয়ে জায়গা করে নিল সবুজ-মেরুন। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। টানা বৃষ্টির জেরে মাঠের হালও ছিল বেহাল।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নর্থইস্টের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায় মোহনবাগান। তবে নির্ধারিত সময়ে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে।টাইব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে সফলভাবে গোল করেন রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো এবং জেমি ম্যাকলারেন। অন্যদিকে নর্থইস্টের দুই পেনাল্টি আটকে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুর্দান্ত সেভই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের উঠল মোহনবাগান। আর ফাইনালেই অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল লাল-হলুদ। অর্থাৎ ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনাল হতে চলেছে একেবারে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের ম্যাচের অপেক্ষায় কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।0টুর্নামেন্টের শুরুটাও হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি দিয়ে। এবার ২৩ অগস্টের ফাইনালেও মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ডুরান্ড কাপের মঞ্চে আরও একবার দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত সবুজ-মেরুন বনাম লাল-হলুদের মহারণ।
গল দুর্গে ফাটল ভারতীয় স্পিনের ঘুর্নীতে, বিরাট রানে জয়! বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে বড় ধাক্কা শ্রীলঙ্কাকে, ম্যাচের নায়ক মানব সুতার
গল দুর্গে শেষ দিনে ভারতীয় স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারল না শ্রীলঙ্কা। টেস্টের প্রথম চার দিন লড়াই জমে উঠলেও পঞ্চম দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিল ভারত। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি ছটি উইকেট তুলে নিয়ে ১৬৫ রানে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত। আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার।জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে ছিল ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য। চতুর্থ দিনের শেষে তাদের স্কোর ছিল ৮৪ রানে ৪ উইকেট। ফলে শেষ দিনে ভারতের দরকার ছিল আর ছটি উইকেট, আর শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল আরও ২৮৮ রান। শেষ পর্যন্ত কোনওটাই করতে পারেনি তারা। ২০৬ রানেই শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস।এক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মানবপ্রথম টেস্টে সারাংশ জৈন নাকি মানব সুতারকাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পান মানব। আর সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন তিনি।দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে অভিষেক টেস্টেই নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন বাঁহাতি স্পিনার। বিশেষ করে পঞ্চম দিনে তাঁর বোলিংই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়।দীর্ঘক্ষণ উইকেটের জন্য অপেক্ষা করার পর রবীন্দ্র জাডেজা ধনঞ্জয় ডিসিলভাকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৫১ বলে ৫৯ রান করে ধনঞ্জয় মানবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর নিরোশান ডিকওয়েলাকে ১০ রানে তুলে নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।তবে ভারতের আসল আঘাত আসে মধ্যাহ্নভোজের পর।দিনুশার ৮৪-র লড়াইও শেষ মানবের হাতেশ্রীলঙ্কার হয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সোনাল দিনুশা। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বোলারদের যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন কেশর নুয়ান্তা। ভারতের কাছে তখন প্রতিটি রানই হয়ে উঠেছিল বড় উদ্বেগের কারণ।কিন্তু ৭৬তম ওভারের প্রথম বলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মানব। ৮৪ রানে থাকা দিনুশাকে ফেরান তিনি। সামনে এগিয়ে এসে শট খেলতে গিয়ে লেগ গালিতে ধ্রুব জুরেলের হাতে ক্যাচ দেন দিনুশা।এরপর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।ওই ওভারেই আরও দুই উইকেট তুলে নেন মানব। প্রভাত জয়সূর্যকে ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরান তিনি। এরপর লাহিরু কুমারা তিন বল খেলার পর মানবের ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দেন ঋষভ পন্থের হাতে।এক ওভারে তিন উইকেটএই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।এরপর জাডেজার ওভারে একটি রিভিউ নষ্ট করে ভারত। হাতে আর কোনও রিভিউ অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু তাতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি তারা। লড়াই চালিয়ে যাওয়া নুয়ান্তাকেও ৭৮তম ওভারে ফিরিয়ে দেন মানব। চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন নুয়ান্তা। সেই উইকেটের সঙ্গেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয়।১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মানবপ্রথম টেস্টে সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি মানব সুতার। দুই ইনিংসে মোট ১০ উইকেট নিয়ে তিনি শুধু ম্যাচের সেরা বোলারই নন, ভারতের জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠলেন।গলে একসময় বাঁহাতি স্পিনের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। এবার সেই গলেই ভারতীয় বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতারের দাপট দেখল শ্রীলঙ্কা।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল টপ অর্ডার১৬৫ রানের বড় জয় পেলেও ভারতীয় দলের জন্য সবকিছু স্বস্তির নয়। বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটিং ফর্ম।শুভমন প্রথম ইনিংসে করেন ১৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮। যশস্বীর দুই ইনিংসের সংগ্রহ ৩২ ও শূন্য। অর্থাৎ দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ টপ অর্ডার ব্যাটারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত রান আসেনি।তাঁদের ব্যর্থতার কারণে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের উপর চাপও তৈরি হয়েছিল। বড় রান তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়েছে দেবদত্ত পডিক্কলকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতীয় ব্যাটিং খুব একটা স্বস্তি দেয়নি।ফলে সিরিজের পরবর্তী টেস্টগুলিতে শুভমন-যশস্বীর ফর্ম ভারতীয় দলের জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই জয় শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, ভারতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানের জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভারতীয় শিবিরের।একদিকে মানব সুতারের দুরন্ত অভিষেক, অন্যদিকে জাডেজা-প্রসিদ্ধদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানসব মিলিয়ে গলে ভারত পেল দারুণ শুরু। তবে সিরিজ যত এগোবে, শুভমন গিল ও যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটে রান ফেরানোই ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।গলের দুর্গে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত তাই একদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে এগিয়ে গেল, অন্যদিকে নতুন স্পিন-নায়ক হিসেবে মানব সুতারের উত্থানেরও সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব।
হকি বিশ্বকাপে ফের পাকিস্তান-বধ, ৫-৩ গোলে উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীতের ভারত
হকি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ভারত। ১৯ অগস্ট নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ওয়াগনার হকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। হরমনপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে ভারতীয় দল। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারত। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয় ভারত। ১১ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনদীপ সিং। তাঁর গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও একই গতিতে আক্রমণ চালিয়ে যায় হরমনপ্রীতের দল।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের গোল করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চাপ আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের উপর। তবে হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা শুরু করে তারা। হন্নান শাহিদ পাকিস্তানের হয়ে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন। এরপর কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে ম্যাচ। পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারত আক্রমণের ধার একেবারেই কমায়নি।২৪ মিনিটে ফের ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন অভিষেক। একসঙ্গে ৪-৫ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তাঁর অসাধারণ ফিনিশ ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। যদিও এরপরই পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন।দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথমার্ধে হরমনপ্রীতের জোড়া গোল, মনদীপের একটি গোল এবং অভিষেকের দুর্দান্ত ফিনিশে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে হন্নান শাহিদ ও সুফিয়ানের গোল অবশ্য তাদের ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে ভারত। আক্রমণাত্মক হকির পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রেখে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে হরমনপ্রীতের দল।চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল টিম ইন্ডিয়া।
পেনাল্টি শুটআউটে নাটকীয় জয়, ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, প্রতিপক্ষ কে?
নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে এসসি দিল্লিকে হারিয়ে ২০২৬ ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় লাল-হলুদ। শুটআউটে ইস্টবেঙ্গলের পাঁচ শুটারই নিজেদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। শেষ পর্যন্ত রশিদের নিখুঁত স্পট-কিকেই নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট।টাইব্রেকারের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় এসসি দিল্লি। তাদের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে আসেন পেনা। তাঁর নেওয়া স্পট-কিক অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। শুরুতেই প্রতিপক্ষের পেনাল্টি রুখে দিয়ে দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দেন তিনি। দিল্লির দ্বিতীয় পেনাল্টিতে রদ্রিগুইনহো গোল করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন।ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন আনোয়ার আলি। চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর দিল্লির ডুভানও গোল করেন। ফলে টাইব্রেকারের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।লাল-হলুদের দ্বিতীয় স্পট-কিক নিতে আসেন দানু। তিনিও কোনও ভুল করেননি। তাঁর শট জালে জড়িয়ে যায়। দিল্লির হয়ে আইমেনও নিজের পেনাল্টি থেকে গোল করে লড়াই জিইয়ে রাখেন। এরপর ইস্টবেঙ্গলের তৃতীয় শট নিতে আসেন চুংনুঙ্গা। তাঁর শটও সফল হয়।চতুর্থ পেনাল্টিতে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দায়িত্ব নেন ক্রিস ইকোনোমিডিস। তাঁর নিখুঁত শটে ফের বল জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ফাইনাল থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে ছিল লাল-হলুদ।এরপর ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব এসে পড়ে রশিদের উপর। চাপের সেই মুহূর্তেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তিনি। অসাধারণ ঠান্ডা মাথায় স্পট-কিক নিয়ে বল গোলের বাঁ দিকের উপরের কোণে পাঠিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ইস্টবেঙ্গল শিবির। ৫-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ফাইনালে উঠে যায় আন্তোনিও হাবাসের দল।তবে পুরো ম্যাচে এসসি দিল্লিও যথেষ্ট লড়াই করেছে। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদের খেসারত দিতে হয়। প্রথমার্ধে রদ্রিগুইনহোর পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন গিল। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের রশিদ ও জেসিনের শট-সহ মোট তিনটি প্রচেষ্টা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা না মিললেও পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের স্নায়ুর জোর ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল। এখন ফাইনালে তাদের সামনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট অথবা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের চ্যালেঞ্জ।
স্বাস্থ্য
মস্তিষ্ক বড় হওয়ার নেপথ্যে কি শুধু মাংস? ৪০ লক্ষ বছরের বিবর্তনে ‘গ্লুকোজ’-এর চমকপ্রদ ভূমিকা
মানুষের মস্তিষ্ক আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তার গল্প শুধু বুদ্ধি, ভাষা কিংবা হাতিয়ার ব্যবহারের গল্প নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ জ্বালানির গল্পযেখানে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল গ্লুকোজ।প্রায় ৪০ লক্ষ বছরের মানব-বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের তুলনায় আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকার প্রায় তিন গুণ হয়েছে। আর শরীরের আকারের তুলনায় আধুনিক মানুষের মস্তিষ্ক প্রত্যাশিত আকারের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি বড়। তবে কেন এই বিশাল পরিবর্তন? এর একক উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় খরচ কোথায়?মস্তিষ্ক দেখতে শরীরের তুলনায় ছোট হলেও তার শক্তির চাহিদা বিপুল। মস্তিষ্কের কোষগুলির কাজ চালাতে অবিরাম শক্তি প্রয়োজন, আর সেই শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল গ্লুকোজ।বিশেষ করে মানুষের শৈশবের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও চমকপ্রদ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ ব্যবহারের হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ, শিশুর মস্তিষ্ক তখন শুধু আকারে বাড়ছে নাভেতরে ভেতরে বিপুল শক্তি খরচ করে তৈরি করছে স্নায়বিক সংযোগ, শেখার ক্ষমতা এবং জটিল চিন্তার ভিত্তি।অর্থাৎ, বড় মস্তিষ্কের জন্য শুধু কাঁচামাল নয়, দরকার ছিল নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ।তাহলে মাংসের ভূমিকা কোথায়?মানব-বিবর্তনের খাদ্যতালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। প্রাণীজ খাবার থেকে পাওয়া উচ্চমানের প্রোটিন, ফ্যাট এবং বিশেষ কিছু দীর্ঘ-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।কিন্তু এখানেই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।প্রোটিন মস্তিষ্ক তৈরির উপকরণ হতে পারে, কিন্তু সেই মস্তিষ্ককে চালানোর জন্য প্রয়োজন শক্তি।আর সেই জায়গাতেই গ্লুকোজের গুরুত্ব সামনে আসে।চিনি বললেই কি মিষ্টি খাবার?এখানে একটি ভুল ধারণা এড়ানো জরুরি।গবেষণায় মস্তিষ্কের গ্লুকোজের প্রয়োজন বলতে মূলত রক্তে থাকা গ্লুকোজকে বোঝানো হয়। তার অর্থ এই নয় যে, মানব-মস্তিষ্কের বিবর্তনের জন্য চিনি, মিষ্টি বা পরিশোধিত চিনি খাওয়া প্রয়োজন ছিল।শরীর ভাত, ফল, শস্য, আলু-সহ বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার হজম করে গ্লুকোজ তৈরি করতে পারে। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর নিজেও গ্লুকোজ তৈরি করতে সক্ষম।তাই গ্লুকোজ প্রয়োজন এবং বেশি চিনি খাওয়া ভালোএই দুই বক্তব্য এক নয়।বিবর্তনের আরেক রহস্যশরীর না মস্তিষ্ক?মানুষের বিবর্তনে একটি বড় প্রশ্ন হল, কীভাবে এত শক্তি-খরচ করা মস্তিষ্ককে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল, মানব-বিবর্তনের কোনও এক পর্যায়ে খাদ্য থেকে পাওয়া শক্তির ব্যবহার আরও দক্ষ হয়ে উঠেছিল। রান্না করা খাবার নিয়ে গবেষণায় এমন যুক্তিও সামনে এসেছে যে, রান্না খাবার হজম ও শক্তি আহরণকে সহজ করে দিয়ে বড় মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।অন্যদিকে, গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্ক ও পেশির শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিবর্তনগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা পাওয়া গিয়েছে। কিছু গবেষক নির্দিষ্ট গ্লুকোজ পরিবাহী জিনের পরিবর্তনকে মানুষের বড় মস্তিষ্কের বিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।অর্থাৎ, প্রশ্নটা শুধু মানুষ কী খেত?এতটা সরল নয়।প্রশ্নটা বরংমানুষ কীভাবে খাবারের শক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে শিখল, যাতে শরীরের একটি অংশের বিপুল শক্তির চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়?মস্তিষ্ক যেন শরীরের এনার্জি হগমানুষের মস্তিষ্ককে অনেকটা এমন একটি যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যা আকারে ছোট হলেও সারাক্ষণ বিদ্যুৎ খরচ করছে।শিশুকালে এই চাহিদা আরও বেশি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শৈশবে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ ব্যবহারের মাত্রা শরীরের বিশ্রামকালীন বিপাকীয় শক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। একই সময়ে শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর হয়ে যায়।এ যেন শরীরের বিবর্তনীয় বাজেটে একটি অদ্ভুত সমীকরণ:বড় মস্তিষ্ক = বেশি শক্তিবেশি শক্তি = আরও দক্ষ খাদ্যব্যবস্থাআর সেই শক্তির কেন্দ্রে = গ্লুকোজ।তবে কি গ্লুকোজই মানুষকে মানুষ করেছে?এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই।মানুষের মস্তিষ্ক কেন এত বড় হলএই প্রশ্নের কোনও একক উত্তর বিজ্ঞান এখনও পায়নি। খাদ্য, রান্না, বিপাকীয় পরিবর্তন, পরিবেশ, সামাজিক জীবন, শিকার, সহযোগিতা, দীর্ঘ শৈশব এবং জিনগত বিবর্তনএকাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও মস্তিষ্কের বিবর্তনের কারণ নিয়ে একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলছে।তাই নতুন ছবিটা হয়তো এমনমাংস মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি দিয়েছে, কিন্তু সেই মস্তিষ্ককে সচল রাখার জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল শক্তি। আর সেই শক্তির জোগানে গ্লুকোজ ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।৪০ লক্ষ বছরের বিবর্তনের গল্পে তাই চিনিকে নায়ক বলা হয়তো বাড়াবাড়ি হবে। তবে মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে গ্লুকোজ যে গল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।আর সবচেয়ে বড় বিস্ময় সম্ভবত এখানেইমানুষের বুদ্ধির বিবর্তনের গল্প যতটা নিউরনের, ঠিক ততটাই শক্তিরও।
ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মন ও পরিবারও
নিজস্ব প্রতিবেদন: মাসের কয়েকটি দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো নিছক কয়েকটি তারিখ, কিন্তু একজন নারীর শরীর ও মনের কাছে এই দিনগুলির অর্থ অনেক গভীর। কখনও তলপেটের অসহ্য ব্যথা, কখনও কোমর ও পিঠে টান, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাবতার সঙ্গে অকারণ মন খারাপ, বিরক্তি, কান্না পেতে থাকা, একা হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে কিংবা অদ্ভুত এক মানসিক অবসাদ। ঋতুস্রাবের সময় অনেক নারীর কাছেই শরীর যেন নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। আর সেই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন মিশে যায় মানসিক চাপ, তখন কয়েকটি দিন হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর পথচলা।এই সময়টিকে তাই শুধু মেয়েদের মাসিকের সমস্যা বলে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কারণ ঋতুস্রাব কেবল একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নয়; হরমোনের ওঠানামা, ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সামাজিক অস্বস্তি এবং নিজের শরীর নিয়ে নানা সংকোচসব মিলিয়ে এটি অনেকের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।কখনও মনে হয়, পৃথিবীটা যেন একটু বেশি শব্দ করছে। সামান্য কথাতেও বিরক্তি আসে। যে মানুষটি প্রতিদিন হাসিমুখে সংসার সামলান, অফিস করেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠান কিংবা জীবনের নানা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তিনিই হয়তো সেই কয়েকটি দিনে নিঃশব্দে নিজের ভিতরের ক্লান্তির সঙ্গে লড়াই করেন।এই লড়াইকে বুঝতে হবে। বিচার নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা।কেন ঋতুস্রাবের সময় মন খারাপ হয়?ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মেজাজের ওঠানামা, উদ্বেগ, বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি কিংবা বিষণ্ণতার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এর পাশাপাশি ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরোক্ষভাবে মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।কারও ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি তুলনামূলক হালকা। আবার কারও ক্ষেত্রে তা এতটাই তীব্র হতে পারে যে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। ঋতুস্রাবের আগে ও আশপাশের সময়ে যদি প্রতি মাসেই তীব্র মানসিক পরিবর্তনযেমন গভীর বিষণ্ণতা, প্রচণ্ড খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ বা আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যা দেখা দেয় এবং তা জীবনযাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে, তবে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) বা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে প্রিমেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (PMDD)-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।তবে প্রতিটি মন খারাপই যে PMS বা PMDD, তা নয়। আবার প্রতিটি শারীরিক কষ্টকেও স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়।শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে মানসিক অবসাদের যোগসূত্রঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প অনেক নারীর দৈনন্দিন জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে। কারও ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে বিছানা ছেড়ে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়ে। মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটের সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।এই শারীরিক অস্বস্তির সঙ্গে যখন কর্মক্ষেত্র বা পরিবারের প্রত্যাশা একই থাকে, তখন মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।আজ শরীরটা ভালো নেইএই কথাটি বলার অধিকার একজন নারীর আছে।শরীর যখন বিশ্রাম চায়, তখন বিশ্রাম নেওয়া দুর্বলতা নয়। বরং নিজের শরীরের সংকেতকে সম্মান করা সুস্থ থাকারই একটি অংশ।মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন নামানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাবের সময় মেজাজের পরিবর্তন হলে প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অযৌক্তিক বা নাটক বলে দমন না করে তা স্বীকার করা জরুরি। যদি প্রতি মাসে একই ধরনের সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে অন্তত দুই-তিনটি ঋতুচক্র ধরে নিজের উপসর্গের একটি ডায়েরি রাখা যেতে পারে।কোন দিনে মন খারাপ হচ্ছে, কতটা ব্যথা হচ্ছে, ঘুম কেমন হচ্ছে, ক্ষুধার পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কাজকর্মে কতটা সমস্যা হচ্ছেএসব লিখে রাখলে সমস্যার ধরন বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজন হলে গাইনোকলজিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করেও উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে উপসর্গ গুরুতর হলে শুধু মন শক্ত করুন বলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং বা ওষুধের সাহায্যও লাগতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথানিজে থেকে কোনও ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন এই কঠিন সময়?১. শরীরকে বিশ্রাম দিনঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে নিজের উপর অযথা চাপ দেবেন না। কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নিন। পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং পরবর্তী দিনগুলির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।২. হালকা শরীরচর্চা করুনশরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা, স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে মুড ভালো করতে এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তীব্র ব্যথা বা অসুস্থতা থাকলে জোর করে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওঋতুস্রাবের দিনগুলিতে মন খারাপ কেন? শরীরের যন্ত্রণার পাশে থাকুক মনও, পরিবারওসুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান। পর্যাপ্ত জল পান করুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, লবণ বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।৪. নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুনবই পড়া, গান শোনা, প্রিয় সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাযে কাজটি মনকে শান্ত করে, সেটি করার চেষ্টা করুন। মনকে ভালো রাখার জন্য সবসময় বড় কোনও আয়োজন প্রয়োজন হয় না। কখনও এক কাপ গরম চা আর জানালার পাশে কয়েক মিনিট নীরবতাও যথেষ্ট হতে পারে।৫. অনুভূতি প্রকাশ করুনআমি ভালো নেইএই কথাটি বলতে ভয় পাবেন না। মন খারাপ হলে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের কষ্টকে গোপন করে রাখলে অনেক সময় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।পরিবার ও বন্ধুরা কী করবেন?একজন নারীর ঋতুস্রাবের সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় সবসময় কোনও বড় সমাধান নয়অনেক সময় শুধু তাঁকে বোঝার চেষ্টা করাটাই যথেষ্ট।পরিবারের সদস্যরা যদি বলেন, তোমার শরীর খারাপ? তুমি একটু বিশ্রাম নাও, আজকের কাজটা আমি করে দিচ্ছিতাহলে সেই কথাটিই হয়তো একজন ক্লান্ত নারীর কাছে হয়ে উঠতে পারে এক মুঠো স্বস্তি।তাঁর মেজাজ খারাপকে উপহাস করবেন না। এগুলো সব মাসিকের অজুহাতএই ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলুন। তাঁর কথা শুনুন। প্রয়োজন হলে ঘরের কাজ ভাগ করে নিন। তাঁকে একা থাকতে চাইলে সেই ব্যক্তিগত পরিসরটুকু দিন, আবার তিনি কথা বলতে চাইলে মন দিয়ে শুনুন।বন্ধুরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বন্ধুর মন খারাপ বুঝলে জোর করে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা না করে পাশে থাকা, ফোন করা, একটু গল্প করা কিংবা প্রয়োজন হলে শুধু নীরবে শুনে যাওয়াএসবই অনেক সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে।মনে রাখতে হবে, মানসিক অবসাদ কোনও মেয়েলি দুর্বলতা নয়। এটি মানুষের অনুভূতিরই একটি অংশ। আর অনুভূতির যত্ন নেওয়া যেমন ব্যক্তিগত দায়িত্ব, তেমনই সামাজিক দায়িত্বও।কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?যদি প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের আগে বা সময়ে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, রাগ, হতাশা বা আবেগের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং তা কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অসহ্য ব্যথা, বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ কিংবা এমন শারীরিক সমস্যা যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থামিয়ে দেয়এসবকেও অবহেলা করা উচিত নয়।আর যদি কখনও গভীর হতাশা, নিজেকে আঘাত করার চিন্তা বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।নারীর শরীরকে বোঝার পাশাপাশি নারীর মনকেও বুঝতে হবেঋতুস্রাব কোনও লজ্জার বিষয় নয়। এটি জীবনের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। অথচ এখনও সমাজের বহু স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতা রয়েছে। সেই নীরবতাই অনেক সময় নারীর শারীরিক ও মানসিক কষ্টকে আরও একা করে দেয়।প্রখ্যাত লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ লিখেছিলেন, I would venture to guess that Anon, who wrote so many poems without signing them, was often a woman.নারীর অদৃশ্য কণ্ঠস্বরের প্রসঙ্গে তাঁর এই কথাটি যেন আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ বহু নারী এখনও নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ না করে নীরবে সহ্য করে যান।ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে তাই প্রয়োজন একটু বেশি মানবিকতা। প্রয়োজন প্রশ্নের বদলে বোঝাপড়া, উপহাসের বদলে সহানুভূতি, নির্দেশের বদলে পাশে থাকা।একজন নারী সেই কয়েকটি দিনে যদি বলেন, আজ আমার একটু বিশ্রাম দরকারতবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো মানে তাঁকে দুর্বল করে দেওয়া নয়। বরং তাঁর শক্তিকে সম্মান করা।কারণ প্রতিটি মাসে শরীরের ভিতর দিয়ে যে পরিবর্তনের স্রোত বয়ে যায়, তার সঙ্গে লড়াই করে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন অসংখ্য নারী। তাঁদের এই নীরব লড়াইকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোএটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে মানবিক দায়িত্ব।ঋতুস্রাবের দিনগুলি হয়তো মাসের কয়েকটি দিন। কিন্তু সেই কয়েকটি দিনে একজন নারীর পাশে থাকাতাঁর কাছে হয়ে উঠতে পারে সারা জীবনের এক গভীর আশ্বাস।
ভ্রমণ
সিকিমের অফবিট সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে জুলুক থেকে জোংগু, ঘুরে এলে মন চাইবে বারবার
ব্যস্ত শহরের কোলাহল, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপ থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম ভারতের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট অথচ অপরূপ সুন্দর রাজ্য সিকিমের উদ্দেশ্যে। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে বহুদিন ধরেই সিকিম আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল।শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে চড়ে যখন সিকিমের পথে যাত্রা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম এক অন্য জগতে প্রবেশ করতে চলেছি। তিস্তা নদী আমাদের পথসঙ্গী হয়ে বয়ে চলছিল। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর নদীর কলকল শব্দ যেন মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।গ্যাংটক পৌঁছে আমরা প্রথমেই শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল সিকিমের কিছু অফবিট বা কম পরিচিত স্থান ঘুরে দেখা। তাই পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম জুলুকের উদ্দেশ্যে। পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। পথে বিখ্যাত জিগজ্যাগ রোডের ৩২টি বাঁক দেখে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের রাস্তা দেখতে যেন বিশাল কোনো শিল্পকর্মের মতো লাগছিল।জুলুকের ঠান্ডা আবহাওয়া আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আমাদের মন জয় করে নিল। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার মেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ছিল অসাধারণ।পরের দিন আমরা গেলাম থাম্বি ভিউ পয়েন্টে। ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আলো যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা শৃঙ্গে পড়ল, তখন সেই দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সোনালি আলোয় ঝলমল করা পর্বতশ্রেণি আমাদের চোখে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।এরপর আমরা উত্তর সিকিমের এক সুন্দর অফবিট গ্রাম জোংগুতে পৌঁছালাম। এটি লেপচা সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করল। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, পাহাড়ি ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির মধ্যে কয়েকটি দিন কাটিয়ে মনে হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রত্যক্ষ করছি।জোংগু থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি অজানা ঝরনা এবং ছোট পাহাড়ি গ্রামে থামলাম। প্রতিটি স্থান যেন প্রকৃতির নিজস্ব হাতে সাজানো একেকটি চিত্রপট। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝরনার শব্দ, আবার কোথাও শুধুই নীরবতাসব মিলিয়ে সিকিমের প্রকৃতি যেন হৃদয়কে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।ভ্রমণের শেষ দিনে আমরা বুঝতে পারলাম, সিকিম শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি এক অনুভূতির নাম। এখানে পাহাড় শুধু চোখকে নয়, মনকেও ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এত কাছে এসে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।ফেরার পথে গাড়ির জানালা দিয়ে শেষবারের মতো পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সিকিম যেন নীরবে বলছেআবার এসো। আমরাও মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিলাম, এই অফবিট সৌন্দর্যের রাজ্যে আবার ফিরে আসব। কারণ সিকিমের মায়া একবার যার মনে জায়গা করে নেয়, তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় তার সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর মেঘের দেশে।
একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির
রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।
টেরাকোটার টানে বাংলার গর্বের শহর বিষ্ণুপুর, ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনভূমি
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শুধু একটি শহর নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার। মল্লরাজাদের রাজধানী হিসেবে বিষ্ণুপুর প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করে চলেছে। বিশেষ করে এর বিখ্যাত টেরাকোটা মন্দিরসমূহ আজও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।বিষ্ণুপুরের ইতিহাস-বিষ্ণুপুরের ইতিহাস মূলত মল্ল রাজবংশকে ঘিরে। প্রচলিত মতে, সপ্তম শতাব্দীতে রাজা আদিমল্ল মল্ল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এই রাজবংশের শাসকেরা বিষ্ণুপুরকে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজা বীর হাম্বীর এবং তাঁর উত্তরসূরিদের আমলে বিষ্ণুপুর সর্বাধিক সমৃদ্ধি লাভ করে। বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে এখানে অসংখ্য মন্দির নির্মিত হয়, যেগুলি আজও বাংলার স্থাপত্য ঐতিহ্যের গৌরব বহন করছে।টেরাকোটা শিল্পের ইতিহাস-বিষ্ণুপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল টেরাকোটা শিল্প। টেরাকোটা শব্দের অর্থ পোড়ামাটি। বাংলায় পাথরের অভাব থাকায় মন্দির নির্মাণে পোড়া ইট ও মাটির ফলক ব্যবহার করা হতো।মন্দিরের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যে ফুটে উঠেছে* রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি* কৃষ্ণলীলা* রাজদরবারের দৃশ্য* যুদ্ধ ও শিকার* সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাএই শিল্পকর্মগুলি শুধু ধর্মীয় নয় বরং তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল।দর্শনীয় স্থান-রাসমঞ্চ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত রাসমঞ্চ বিষ্ণুপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য। রাস উৎসবের সময় বিভিন্ন মন্দিরের বিগ্রহ এখানে এনে রাখা হতো।জোড়বাংলা মন্দিরবাংলার ঐতিহ্যবাহী দোচালা ঘরের আদলে নির্মিত এই মন্দির টেরাকোটা শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।শ্যামরায় মন্দিরপঞ্চরত্ন শৈলীর এই মন্দিরের গায়ে অসাধারণ কারুকাজ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।মদনমোহন মন্দিরবিষ্ণুপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব মন্দির। এখানকার টেরাকোটা অলংকরণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।দলমাদল কামানমারাঠা আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক কামান, যা আজও বিষ্ণুপুরের গৌরবের প্রতীক।ভ্রমণের জন্য কেন উপযোগী?বিষ্ণুপুর এমন একটি গন্তব্য যেখানে ইতিহাস, শিল্প, ধর্ম ও প্রকৃতি একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।* কলকাতা থেকে সহজে ট্রেন বা সড়কপথে পৌঁছানো যায়।* এক বা দুই দিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ।* ইতিহাসপ্রেমী, স্থাপত্যপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য স্বর্গতুল্য।* বিখ্যাত **বালুচরী শাড়ি** কেনার সুযোগ রয়েছে।* শীতকালে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং দর্শন আরামদায়ক হয়।কখন যাবেন?বিষ্ণুপুর ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিষ্ণুপুর মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। বাংলার ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর অবশ্যই আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকা উচিত। মল্লরাজাদের ইতিহাস, টেরাকোটা মন্দিরের অনবদ্য কারুকার্য, বালুচরী শাড়ির ঐতিহ্য এবং শান্ত পরিবেশ, সব মিলিয়ে বিষ্ণুপুর এক অনন্য ঐতিহাসিক ভ্রমণগন্তব্য। এখানে একদিন কাটালেই মনে হবে, যেন কয়েকশো বছর পিছিয়ে বাংলার গৌরবময় অতীতে ফিরে গেছেন।
কম খরচে কেরালা ভ্রমণ: ব্যাকওয়াটার থেকে পাহাড়, সবই হাতের নাগালে স্বর্গীয় সৌন্দর্য
ভারতের মানচিত্রে কেরালাকে বলা হয় Gods Own Country। আর এই উপাধির সবচেয়ে বড় কারণ তার অনন্য ব্যাকওয়াটার, সবুজ নারকেল বন, শান্ত গ্রাম আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। অনেকেই মনে করেন কেরালা ভ্রমণ মানেই প্রচুর খরচ, বিলাসবহুল হাউসবোট আর দামি রিসর্ট। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করলেই খুব কম খরচেও উপভোগ করা যায় কেরালার মনোমুগ্ধকর ব্যাকওয়াটার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।ভোরবেলা আলাপ্পুঝা (Alappuzha) বা আলেপ্পির ঘাটে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই একটি জলরঙের ছবি এঁকেছে। চারদিকে শান্ত জলরাশি, তার মাঝে ভেসে চলেছে ছোট ছোট নৌকা। দূরে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছের সারি, মাঝে মাঝে গ্রামের মানুষ নৌকায় করে বাজারে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার জন্য লাখ লাখ পর্যটক কেরালায় আসেন। অনেকেই হাউসবোট ভাড়া করেন, যার খরচ বেশ বেশি। কিন্তু কম খরচে ব্যাকওয়াটার উপভোগ করতে চাইলে সরকারি ফেরি বা স্থানীয় নৌকায় চড়া সবচেয়ে ভালো উপায়। মাত্র কয়েকশো টাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকওয়াটারের বুক চিরে ভ্রমণ করা যায়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রকৃত কেরালাকে কাছ থেকে দেখা যায়।নৌকা যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে, তখন দুপাশে চোখে পড়ে সবুজ ধানক্ষেত, ছোট্ট চার্চ, মন্দির এবং নদীর ধারে গড়ে ওঠা গ্রাম। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও আবার শিশুরা জলে খেলছে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে এই শান্ত পরিবেশ মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। কেরালার প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু ব্যাকওয়াটারেই সীমাবদ্ধ নয়। মুন্নারের পাহাড়ি অঞ্চলে গেলে দেখা যায় অসীম বিস্তৃত চা-বাগান। পাহাড়ের গায়ে সবুজের কারুকাজ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। সকালের কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া মুহূর্তেই মন জয় করে নেয়। কম খরচে থাকার জন্য এখানে অনেক হোমস্টে ও বাজেট হোটেল পাওয়া যায়।এছাড়া ভরকালা ও কোভালামের সমুদ্রসৈকতও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সূর্যাস্তের সময় আরব সাগরের বুকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকতে পারে। সৈকতে বসে শুধু প্রকৃতিকে উপভোগ করলেও কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। কেরালার স্থানীয় খাবারও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কলাপাতায় পরিবেশিত ভাত, সাম্বর, থোরান, মাছের কারি কিংবা আপ্পাম ও স্ট্যু স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি দামেও সাধ্যের মধ্যে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খেলে খাবারের খরচ অনেকটাই কমে যায়।কম খরচে কেরালা ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কোচি বা আলাপ্পুঝা পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছে স্থানীয় বাস ও ফেরি ব্যবহার করলে যাতায়াতের খরচ অনেক কম হয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি ভ্রমণের জন্য আদর্শ, কারণ তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে।কেরালার ব্যাকওয়াটারে সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশের রং জলের ওপর প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের সেরা রূপটি মেলে ধরেছে। শান্ত জল, নারকেল গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর গ্রামের সরল জীবনসব মিলিয়ে কেরালা শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, বরং এক অনুভূতির নাম। তাই যদি কম খরচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কয়েকটি স্মরণীয় দিন কাটাতে চান, তাহলে কেরালার ব্যাকওয়াটার আপনার জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য। একবার ঘুরে এলে মন বারবার ফিরে যেতে চাইবে সেই শান্ত, সবুজ আর জলময় স্বর্গরাজ্যে।
ট্রেন যাত্রার অগ্রিম সংরক্ষণের সময়সীমা কমিয়ে হল ৬০ দিন
এতদিন ধরে ১২০ দিনে কবে রিজারভেশন হবে এই নিয়ে মানুষের মনে একটি বিভ্রান্তি বা কনফিউশন থাকত, কিন্তু ভারতীয় রেল সেই কনফিউশন দূর করে ১২০ দিনের পরিবর্তে এবার ৬০ দিনে রিজারভেশন চালু করেছে যা যাত্রীদের জন্য একটি সুসংবাদ। এমন অনেক যাত্রী রয়েছেন যারা বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের যাত্রার অনেক আগে পরিকল্পনা করতে অসুবিধা বোধ করেন। যাত্রীসুবিধায় রেলওয়ে ট্রেন যাত্রার জন্য অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) ১২০ দিন থেকে কমিয়ে ৬০ দিন করেছে। সংশোধিত নতুন এআরপি নিম্নরূপ কার্যকর হবে:১. অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) হবে ৬০ দিন (যাত্রার দিন বাদে) যা ০১.১১.২০২৪ থেকে কার্যকর এবং সেই অনুযায়ী বুকিং করা হবে। তবে, ১২০ দিনের এআরপি-র অধীনে ৩১.১০.২০২৪ পর্যন্ত করা সমস্ত বুকিং বৈধ থাকবে।২. ৬০ দিনের এআরপি-র বাইরে করা আগের বুকিং থাকলে তা বাতিল করা যাবে।৩. তাজ এক্সপ্রেস, গোমতী এক্সপ্রেস ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট দিনের সময়ের এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না যেখানে অগ্রিম সংরক্ষণের জন্য নিম্ন সময়সীমা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।৪. বন্ধন এক্সপ্রেস ও মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো আন্তর্জাতিক ট্রেনে বিদেশি পর্যটকদের ৩৬৫ দিনের বুকিংয়ের সময়সীমার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না।
কলকাতা
ক্লাস নাকি জনগণনা? শিক্ষকদের নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের, কী বললেন বিচারপতি
শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। স্কুলের পঠনপাঠন এবং জনগণনার কাজদুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়, দিন ও জায়গা জানিয়ে দিতে হবে। একই সময়ে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তার ব্যবস্থাও করতে হবে।শিক্ষকদের জনগণনার কাজে দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই কাজই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। সেই সময়ে তাঁদের শিক্ষকতার কাজ করতে হবে না। তবে জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকরা সেই কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারবেন না।এর আগে রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, স্কুলের পঠনপাঠন যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্কুলের সময়ের পরে অথবা সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের দিয়ে জনগণনার কাজ করানো যেতে পারে। সেই নির্দেশিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। আদালতের প্রশ্ন ছিল, স্কুল ছুটির পর অন্য জায়গায় গিয়ে জনগণনার কাজ করতে হলে শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে কত রাত হবে?এই পরিস্থিতিতে পুরনো নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জনগণনার কাজকেও শিক্ষকদের সরকারি দায়িত্ব বা কর্তব্যের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফেও আগে জানানো হয়েছিল, শিক্ষকদের এমন ভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে স্কুলের পঠনপাঠন কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়।শুক্রবারের রায়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট করে দেন, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হলে আগে থেকেই তাঁদের নির্দিষ্ট সময়, দিন এবং কাজের জায়গা জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষকে পঠনপাঠন চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ জনগণনার কাজের জন্য শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্কুলের স্বাভাবিক পড়াশোনা বন্ধ রাখা যাবে না।জনগণনার দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্বকেই তাঁদের কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই সময় তাঁদের জনগণনার কাজই করতে হবে। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনও শিক্ষক তা অস্বীকার করতে পারবেন না। ফলে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় হাই কোর্টের এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সেবাশ্রয় দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি অভিষেকের, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপে হাইকোর্টের নিষেধ
সেবাশ্রয় দুর্নীতি-সহ তিনটি মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হবে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। সেই এফআইআরগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। এবার আরও তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন তিনি। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট আটটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে আদালতের সুরক্ষা রয়েছে।নতুন করে যে তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দুটি বিষ্ণুপুর থানায় এবং একটি রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগে ওই মামলাগুলি করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।শুক্রবার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যের তরফে অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মামলার নথি খতিয়ে না দেখে এই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জানান, অভিষেকের বিষয়ে শুধু এই এজলাসেই নয়, হাইকোর্টের অন্য এজলাসেও বিভিন্ন নির্দেশ হয়েছে। এমনকি বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গত মে মাস থেকে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি শুনতে গিয়ে অন্য মামলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল।এর আগে সই জাল সংক্রান্ত মামলাতেও অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সুরক্ষা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমতলায় অভিষেকের দলীয় কার্যালয় ভাঙার ক্ষেত্রেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নিয়েও অভিষেককে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তার পরেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়। সেই বিষয়েও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন অভিষেক।ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট। অনলাইনে কেওয়াইসি করা সম্ভব হলে অভিষেককে কেন সশরীরে ব্যাঙ্কে যেতে হবে, সেই প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরে বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশও দেওয়া হয়।সব মিলিয়ে একের পর এক মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি মামলাগুলির আইনি লড়াই এখনও জারি রয়েছে।
৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।
বিদেশ
অপরিচিত যুবকদের ঘোরাঘুরি, রানিনগরে পুলিশের জালে ৭ বাংলাদেশি, কেন এসেছিল এই দেশে?
মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশের অভিযোগে একসঙ্গে সাত বাংলাদেশিকে আটক করল পুলিশ। রানিনগর থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে কাহারপাড়া এলাকা থেকে ওই সাতজনকে আটক করে। বুধবার তাদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগেই তাদের আটক করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে রানিনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ওই সাত বাংলাদেশি বেআইনিভাবে এদেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত পেরনোর পর কাহারপাড়া এলাকায় তারা গা-ঢাকা দিয়ে ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু এলাকায় বেশ কয়েকজন অপরিচিত যুবকের গতিবিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রাই রানিনগর থানায় খবর দেন।খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় আটক ব্যক্তিরা দক্ষিণ ভারতে কাজের উদ্দেশ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কথা জানিয়েছে।এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কীভাবে ওই সাতজন এ দেশে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অথবা সীমান্ত পেরনোর ক্ষেত্রে কোনও দালাল বা চক্র তাদের সাহায্য করেছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।মুর্শিদাবাদ-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। যদিও পুলিশ-প্রশাসনের তরফে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তিদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আটক সাত বাংলাদেশিকে বুধবার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের আগে তাদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ-সহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভারতের ভোটের মডেল টেনে আমেরিকায় নতুন দাবি ট্রাম্পের, কী বদলাতে চান?
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় ভোটার পরিচয়পত্রের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে ফের সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ফোটো আইডি ছাড়া আমেরিকায় কী ভাবে নির্বাচন হয়।ট্রাম্পের দাবি, ভারতের শেষ লোকসভা নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক ভারতীয় ভোটারের কাছেই বৈধ ফোটো পরিচয়পত্র ছিল। আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থায়ও এমন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর যুক্তি দেখিয়ে সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।তবে আমেরিকায় ভোট দেওয়ার জন্য পরিচয়পত্রের নিয়ম সব রাজ্যে এক নয়। বর্তমানে ৩৬টি রাজ্যে ভোটকেন্দ্রে কোনও না কোনও ধরনের পরিচয়পত্র দেখানোর বিধান রয়েছে। পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য সরকারের দেওয়া আইডি বা পাসপোর্ট গ্রহণ করা হতে পারে। অন্যদিকে ১৪টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটারের স্বাক্ষর কিংবা ভোটার তালিকায় থাকা অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। কিছু রাজ্যে পরিচয়পত্র না থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।আমেরিকায় ভোটার আইডি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। রিপাবলিকানদের যুক্তি, ভোটার পরিচয় বাধ্যতামূলক হলে ভুয়ো ভোট বা অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে। ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা বক্তব্য, অতিরিক্ত কড়াকড়ি সাধারণ ভোটারদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হতে পারে।২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আমেরিকার ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট বা HAVA পাশ হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজ্য ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করে।ট্রাম্পের সমর্থন করা সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট-এ ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফোটো আইডির মতো শর্ত জোরদার করার প্রস্তাব রয়েছে। ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে। বিলটির লক্ষ্য আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটারের যোগ্যতা ও পরিচয় আরও কঠোরভাবে যাচাই করা।এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও রয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত SAVE America Act হাউসে পাশ হলেও সেনেটে তা নিয়ে বড় বাধা রয়েছে। কারণ, সেনেটে কোনও বিল পাশ করাতে সাধারণত ৬০টি ভোট প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্প ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ সামনে এনে চাপ বাড়ালেও প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করা এখনও সহজ নয়।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।
হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
সম্পাদকীয়
ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি: এক অবিস্মরণীয় রাষ্ট্রনায়ক
৬ জুলাই। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। আজ সেই মানুষটির জন্মদিন, যিনি স্বাধীন ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ এবং আপসহীন দেশপ্রেমিকড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।অনেকেই তাঁকে কেবল একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে রাখেন। কিন্তু তাঁর পরিচয় এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তিনি ছিলেন এক অসামান্য শিক্ষাবিদ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের ঐক্য, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কখনও আপস করেননি।ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির শিকড় জড়িয়ে রয়েছে বাংলার মাটির সঙ্গে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জিরাট। যদিও তাঁর জন্ম হয়েছিল কলকাতার ভবানীপুরে, তবুও জিরাট আজও গর্বের সঙ্গে বহন করে তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতি। এই বাংলার মাটিতেই তাঁর শৈশব-কৈশোরের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীকালে তাঁকে জাতীয় রাজনীতির এক দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন নির্ভীক। দেশভাগের সময় বাংলার হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর দৃঢ় অবস্থানের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে টিকে থাকেএমন মত বহু ঐতিহাসিক ও গবেষকের। স্বাধীনতার পরে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও দেশের স্বার্থে মতপার্থক্য দেখা দিলে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। নীতির সঙ্গে আপস না করার এই বিরল দৃষ্টান্ত আজও রাজনৈতিক মহলে অনুকরণীয়।ভারতের সংবিধানে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের প্রবর্তন এবং জম্মু-কাশ্মীরে পৃথক সংবিধান, পৃথক পতাকা ও পৃথক প্রধানমন্ত্রীর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত আহ্বানএক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান, দুই নিশান চলবে নাআজও জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত।১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে প্রবেশের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দি অবস্থায় রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুকে ঘিরে আজও বহু প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর মেলেনি। স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি এক বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে, বিশেষত তৎকালীন কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সরকারগুলির আমলে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নিএমন অভিযোগ বহু গবেষক, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরেছেন। পাঠ্যপুস্তক, সরকারি আলোচনা কিংবা জাতীয় স্মৃতিচর্চায় তাঁর ভূমিকা অনেকাংশেই আড়ালে থেকে যায় বলে সমালোচনা রয়েছে। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় জীবনে তাঁর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইতিহাসের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তথ্য, অবদান এবং কর্মের ভিত্তিতেরাজনৈতিক পক্ষপাতের ভিত্তিতে নয়।আজকের ভারত তাঁর স্বপ্নের বহু দিক বাস্তবায়নের সাক্ষী। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রশ্নে তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন শিক্ষাবিদ, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাসী নেতা এবং আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক হিসেবে তাঁর অবদান ভারতীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, এই বছর ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মদিনে রাজ্যজুড়ে এক পক্ষকাল ধরে স্কুল, কলেজ সহ নানা প্রতিষ্ঠানে গভীর শ্রদ্ধ নিবেদনের পালা চলছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে তাঁর জীবন আমাদের শেখায়আদর্শের জন্য সংগ্রাম করতে হয়, নীতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আর দেশকে ভালোবাসতে হলে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন; তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যাঁর স্মৃতি আগামী প্রজন্মকেও দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়ে যাবে।
ক্ষমতার শীর্ষ থেকে অনিশ্চয়তার কিনারায়, মমতা-অভিষেকের সামনে কঠিন প্রশ্ন
দেহপট সনে নট সকলি হারায় মঞ্চে বা পর্দায় যে নট-নটিরা অসংখ্য মানুষের চোখের পর্দায় বিচরণ করেন তাঁদের সম্পর্কে কবির এই নিদান। গ্ল্যামারের ছটায় যে সাফল্য আসে নট-নটিদের, তার জনমোহিনী আকর্ষণ শরীরে বয়স থাবা বসানোর সঙ্গে সঙ্গে অতি দূরের নির্জন দ্বীপের চেহারা নেয়। তবে, রাজনীতির মঞ্চে কালের এই নিয়ম আলাদা। সেখানে বয়স নয়, ক্ষমতার মসনদ ই মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষমতার মসনদের উপরে ও নিচে কোথায় অবস্থান তা নির্দিষ্ট করে দেয় খেলার নিয়ম। এই মুহূর্তে এই অনুভব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি কেউ বুঝছেন না। শুধু ক্ষমতা হারানো নয় ১৯৯৮ সালে যে দলটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই দলটাই তাঁর মুঠোয় আর থাকবে কি না সেই প্রশ্ন ই এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মমতার। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বলছে ব্যক্তি নির্ভর দলের বোধহয় এটাই ভবিতব্য। ইংরেজিতে একটা কথা আছে nothing succeeds like success। নতুন দল তৈরির পর থেকেই সাফল্যের মুখ দেখেননি মমতা। ধীরে ধীরে রাজ্যের বিরোধী পরিসরে তিনি জায়গা পেয়েছেন। অবশেষে, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম পর্ব পেরিয়ে ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ক্ষমতার বিন্দুর দিকে যাত্রা শুরু হয় মমতার। ২০০৯ এর লোকসভা, ২০১০ এর পুরসভা ও পৌরসভার নির্বাচন এর পরপর ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই বিন্দুর স্পর্শ পেয়েছেন তিনি। তারপরে তো দল এবং সরকারে তিনিই ছিলেন শেষকথা। ক্ষমতায় থাকার জন্য দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে মজবুত করতে নিচুতলার কর্মী থেকে নেতা - মন্ত্রীদের বেপরোয়া ক্ষমতার ব্যবহার ও দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, দলে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে একের পর এক ঘুঁটি সাজিয়েছেন। এই সবই ছিল ক্ষমতার মসনদে বসে থাকাকালীন সময়ের ঘটনা প্রবাহ। কিন্তু, ২০২৬ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। দলের টিকিটে ল্যাম্পপোস্ট দাঁড় করালেও মমতার নামে তিনি বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন - দলের মধ্যে এই যে myth তৈরি হয়েছিল তা আজ অতীত। এখন তো তাঁর নামে একটি কর্মসূচিতেও দলের নেতা কর্মীদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় মমতার থেকে ও অনেক অনেক বেশি কঠিন কঠোর বাস্তব এসে দাঁড়িয়েছে অভিষেকের সামনে। মমতার পক্ষে তাঁকে ব্রাত্য করা অসম্ভব হলেও দলের নেতা, বিধায়ক, কর্মীদের কাছে নয়। কারণ অভিষেক দলের মধ্যে যেখানে ছিলেন তা তাঁর রাজনৈতিক পরিশ্রমের ফল নয়। ক্ষমতার সোপানে পা রেখেই তাঁর যাত্রা শুরু। দলের নেতা, বিধায়ক ও কর্মীদের তা অজানা নয়। ফলে এখন পরীক্ষা অভিষেকের। এতদিন তিনি digital space এ রাজনীতি করে এসেছেন, এবার নামতে হবে রাজনীতির রুক্ষ মাঠে, রাস্তায়। এই রাস্তা, মাঠে তাঁর জন্য কোন বাস্তব অপেক্ষা করে আছে তা তিনি আঁচ পেয়েছেন সোনারপুরের রাস্তায়। তিনি কি দলের ভাঙন ঠেকাতে পারবেন? সাফল্যের নিচে যে অন্ধকার থাকে তার সঙ্গে কি মানিয়ে চলতে পারবেন? দলের মধ্যে যাঁরা মাঠে - ময়দানে লড়াইতে, অভিজ্ঞতায় তাঁর থেকে এগিয়ে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে পা মেলাতে পারবেন? এইগুলোই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের দরজায়।
বুলেট থেকে ব্যালট, সন্ত্রাস থেকে স্বপ্ন: মাওবাদ দমনের ভারতীয় মডেল
পরিবর্তন২০০৯ সাল । কেন্দ্রে ইউ পি এ সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লেফ্ট উইং এক্সট্রিমিজমকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় বিপদ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু, মাওবাদী সন্ত্রাসকে দমন করা যায় নি। বছর ঘুরতেই ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়ারাতে মাওবাদী সন্ত্রাসের ভয়াবহ চেহারা দেখেছিল ভারতবর্ষ। মাওবাদী আক্রমণে সেদিন ৭৬ জন সিআরপিএফ জোয়ান নিহত হন। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মাওবাদী সন্ত্রাস। দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা উধাও হয়ে যায়। স্বাধীন দেশে যে সরকারি শাসন থাকে তা ওই সমস্ত অঞ্চলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । ২০১৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। ক্ষমতায় আসার পরেই মাওবাদী সন্ত্রাস সম্পর্কে জিরো টলারেন্স নীতি নেয় সরকার। মাওবাদী দমনে কৌশলগত নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আসায় ক্রমশ মাওবাদীরা কোনঠাসা হতে থাকে। অবশেষে ২০২৬ সালের ৩০ শে মার্চ সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণায় যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয় তা হলো, মাওবাদী সন্ত্রাস দমনে কোন কৌশলী নীতির প্রয়োজন ছিল । সেই নীতি সফলভাবে রূপায়ণের জন্য কতটা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা প্রয়োজন ছিল। সেই দায়বদ্ধতার লক্ষ্য ছিল, মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যের সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথ কৌশল রচনা ও নিরাপত্তা অভিযানের সাফল্যকে সুসংগঠিত করে মাওবাদী দমনে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। এই সু-সংহত, নিবিড় ও নিপুণ কৌশলী পরিকল্পনার ফলেই মাওবাদী সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে দেশ।সাফল্যের সুচনাঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে, তামিলনাড়ু যেখানে যেখানে মাওবাদীরা ঘাঁটি গেড়েছিল সেখানে সেখানেই তাদের গতিবিধি সংকুচিত হতে থাকে। ক্রমশ তারা পালিয়ে কেন্দ্রীভূত হয় ছত্তিশগড়ে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের সু- কৌশলী নিরাপত্তা অভিযানে সেখানেও সাফল্য আসতে শুরু করে। ছত্তিশগড়ে ২০২৪ সালে ২,৭৬২ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২০২৫ এর ৩০শে মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান। ২০২৪ সাল থেকে দেশ জুড়ে ৪,৮৩৯ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ২০২৪-২০২৬ এই দুবছরে ২,২১৮ জন মাওবাদী গ্ৰেফতার হয়। ২০২৫ সালে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদী সন্ত্রাস মুক্ত হবে ভারত। ২০১৩ সালে দেশে ১২৬টি জেলা ছিল মাওবাদী অধ্যুষিত। তথাকথিত রেড করিডোর বিছিয়ে ছিল ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যার কিছু কিছু অঞ্চলে। ২০২১ সালে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার গভীরে ৪০৬টি নতুন সিআরপিএফ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরেই মাওবাদী দমন অভিযানে গতি আসে। একসময় এই এলাকাগুলোতে সরকারি প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকায় আইনের শাসন ছিল না। ফলে ওই সমস্ত এলাকায় মাওবাদীরা সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ছত্তিশগড়ের বস্তারে। বস্তারে প্রায় ৪২,০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মাওবাদীদের দাপট চলতে থাকে। কোর এলাকায় নতুন সিএপিফ ক্যাম্পের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণ, স্কুল স্থাপন এবং পাব্লিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম চালু হয়। রাস্তা তৈরি হওয়ায় খনির কাজেও গতি আসে। মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের নারায়নপুর থেকে বিজাপুরের খনি উত্তোলনের দ্রব্য নিয়ে ট্রাক চলাচল শুরু হয়। মা একসময় কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছিল। অতি দূর্গম ও অতি প্রান্তিক এলাকায় বাইরের জগতের এই টাটকা বাতাসের ঝলক পৌঁছতেই সেখানকার বদ্ধ জীবনেও আশা , আকাঙ্খা জাগতে শুরু করে। মাওবাদীদের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও জোরালো হতে থাকে। পুনর্বাসন২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ১৭,৫৮৯ কি মি রাস্তা তৈরি, ৩,৫০০০ মোবাইল টাওয়ার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। অতিদ্রুত সেই কাজ এগোতে থাকে। রাস্তা এবং মোবাইল সংযোগ বিস্তারের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ও পৌর এলাকায় পৌঁছনোর সুবিধা হয়ে যায়। এরফল পাওয়া যায় ২০২০ সাল থেকেই ছত্তিশগড় এলাকায় মাওবাদীদের অবাধ চলাচল বন্ধ হতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও অন্যান্য কমিটির বৈঠক এর সংখ্যা কমতে থাকে। মাওবাদীদের দুর্বলতা এবং কোনঠাসা অবস্থা বিচার করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন, মাওবাদীদের সম্পর্কে সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার। যারা সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করবে তাদের সঙ্গে কথা হতে পারে, কিন্তু, যারা বুলেটেই বিশ্বাস রাখবে তাদের উত্তর সরকার বুলেটেই দেবে । এরই পাশাপাশি, হিংসা ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরলে তাদের জন্য পুনর্বাসন নীতি ঘোষণা করে সরকার। নীতি অনুযায়ী সমর্পন করলে ৫০,০০০ টাকা এবং অবিবাহিতা ও বিধবা মাওবাদী সদস্যা দের জন্য এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়। এছাড়াও অস্ত্র সহ সমর্পন করলে অস্ত্রের মান অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের সাধারণ সম্পাদক বাসব রাজুর মৃত্যুর পাশাপাশি এই পুনর্বাসন নীতির ফলে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়তে থাকে।নতুন ভোরসম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ সংসদে জানিয়েছেন, ভারতবর্ষ এখন মাওবাদ মুক্ত। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের একগুচ্ছ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য হলো, যে অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে মাওবাদীর প্রভাব বাড়িয়েছিল তা দূর করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবে অন্য নামে, অন্য চেহারায় এই ভুল রাজনীতি আর ফেরার চেষ্টা না করতে পারে। সালিমা টেটে ও মমতা হাঁসদা, নাম দুটো আজ আমাদের অতিপরিচিত। সালিমা ঝাড়খন্ডের আর মমতা পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী কন্যা। এখন প্রথমজন ভারতীয় মহিলা হকি দলের এবং দ্বিতীয় জন ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা। দুজনেই প্রমাণ করেছেন জঙ্গল, পর্বত ঘেরা প্রত্যন্ত জায়গায় সুযোগ পৌঁছলে কি হতে পারে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় ওই সব অঞ্চলে উন্নয়নের ধারায় স্কুল, কলেজ, ক্রীড়া কেন্দ্র, মুক্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা, নিবিড় ঘরকন্না ও গর্বিত জীবনবোধ ছড়াতে থাকলেই সন্ত্রাস, হিংসা শেষ করে যে নতুন ভোর এসেছে তার আলো অন্ধকার দূর করে এগোতে থাকবে।
অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন
অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! অমাবস্যায় চাঁদের উদয় এ আবার হয় নাকি? বাংলা সাহিত্যের পরম সম্পদ কালকুটের উপন্যাসে এই বিস্ময় জড়ানো প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। কালকুট লিখেছেন এ হল তান্ত্রিক বাউল সম্প্রদায়ের সাধনার এক স্তরে পৌঁছনোর পরের উপলব্ধি। । এ কথা এখন তোলা থাক। সোমবার থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন। ভিসা পেলেই সেই সম্মেলনে যোগ দিতে কূটনীতিকদের একটি দল পাঠাতে চায় আফগানিস্তান। যদিও জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার তালিকায় তারা ছয় নম্বরে। তবু, দুষনরোধে অংশ নিতে চায় তালিবান। সাম্প্রতিক এই খবরে চোখ পড়তেই কালকুটের ওই উপন্যাসের কথা মনে এল। দুদিন আগে আরও একটি তালিবানি খবর চোখ টেনেছিল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানের মেয়েদের জীবনযাপনে একের পর এক বেড়ি পরিয়ে চলেছে তালিবান সরকার। খবরে প্রকাশিত মেয়েদের ঘরে বা একান্তে অন্য মহিলার উপস্থিতিতে গলার স্বর যেন শোনা না যায়। কন্ঠ রোধের এই নয়া ফরমান জারি করেছে তালিবান। অনেক দিন আগেই মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, জনসমক্ষে পা রাখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এই ধর্মোন্মাদ গোষ্টী। এবার নিভৃতেও মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণে বারণ। স্বাধীন, সৃষ্টিশীল জীবন যাপনের স্বপ্ন শুধু মেয়েদের নয় সুস্থ বোধ সম্পন্ন সব মানুষের চোখ থেকেই মুছে দিয়েছে তালিবান। অন্ধ শাসনে নিষ্পেষিত হয়ে মানুষের নিভে যাওয়ার কাহিনীর পাহাড় জমছে আফগানিস্তানে। যে দেশে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার পরিবেশ উধাও সেই দেশ চলেছে বিশ্ব পরিবেশের উন্নয়নে। কালকুটের উপন্যাসে যে তন্ত্র সাধনায় চূড়ান্ত অমানিশা আর চন্দ্রকিরণের বৈপরীত্যের কথা বলা হয়েছে সেই বিপরীত অবস্থানের কথাই মনে করাচ্ছে তালিবান।দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন ছড়িয়ে রেখেছে তারা হঠাৎ কেন পরিবেশ দূষণ নিয়ে এত আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র তালিবান সরকারকে ব্রাত্য করে রেখেছে, তবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় আমরাও অংশ নিতে চাই । যে দেশে জন্মভিটেতেই মানুষ ব্রাত্য, যে ভূখণ্ডে মানুষ আকাশ, পাখি বা পতঙ্গের অবাধ বিচরণের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাদের এই উলটপুরণ আসলে ওই ব্রাত্য দশা ঘোচানোর আপ্রাণ চেষ্টা। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সই করেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু, তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এই সমস্যা নিয়ে তালিবান সরকারের এক আমলা বলেছেন, জলবায়ু সমস্যা সমগ্ৰ মানবজাতির সমস্যা। তাই রাজনীতি কে এই বিষয়েটি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। ঢাকার কুট্টি গাড়োয়ানদের কথা যারা জানেন তাদের মনে হতে পারে দেশের মানব সম্পদ কে আস্তাকুঁড়ে ফেলে মানবজাতির সমস্যা নিয়ে এই চিন্তা শুনে কুট্টিদের ঘোড়া রাত অট্টহাস্য করত না মুচকি হাসলো?

