• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Urba Bardhaman

রাজ্য

এজলাসের লড়াইয়ে মধূসূদনকে হারিয়ে মামলায় জিতলেন 'মা কালি'

মা কালী একেবারে আদালতের দরজায়। আজ বর্ধমানের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে একটি খুবই অন্যরকম মামলা হয়। মামলাটি হয় মধূসূদন বিশ্বাস বনাম দেবীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে। মামলা হয় একটি জমিতে পুরনো পুজো চালানো নিয়ে। মামলায় জিতে পুজো চালিয়ে যাবার অধিকার পেলেন।এই পুজোটি প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার দেবীপুরে এই পুজোটি হয়ে আসছে ৭৫ বছর ধরে।গ্রামবাসীদের দাবি ওই পুজো অনেকদিনের। এখানে পুজো হয়। বড় মেলা বসে। মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে আছে ওই পুজোর সাথে। তাদের বক্তব্য, মধুসূদন বিশ্বাস একজন পরিচিত জমির দালাল। সে ওই দেবোত্তর জায়গাটি কোনোভাবে হাতিয়ে নিয়ে বিক্রি করতে চায়। সেজন্য আদালতে সে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল যাতে পুজো না হয়। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের দাবি; তারা ওখানে পুজো করতে চান। তাদের আর কোনো দাবি নেই। আদালতে বিচারক গ্রামবাসীদের বক্তব্য মেনে নেন। তিনি থানা ও ভূমি দপ্তরের কাছে এই নির্দেশ দেন যাতে এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে পুজো করতে পারেন। একইসাথে থানাকে নির্দেশ দেন যাতে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়।

অক্টোবর ২০, ২০২২
রাজ্য

রাস্তা ও সেতু সংস্কারের দাবিতে সড়কপথ অবরোধ, ব্যাপক উত্তেজনা এলাকায়

দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার অবস্থা বেহাল। আর রাস্তা ও সেতু সংস্কারের দাবিতে বুধবার পূর্ববর্ধমানের আউশগ্রামে পথ অবরোধ করলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। শেষে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।আউশগ্রাম কালীদহ রোডের সংস্কারের দাবিতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে গুসকরা ইলামবাজার সড়কপথ অবরোধ করেন। কালীদহ থেকে আউশগ্রাম আসার এই রাস্তাটি জেলাপরিষদের অধীনে । প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তায় রয়েছে একাধিক সেতুও। স্থানীয়রা জানান আউশগ্রামের কালীদহ, সিলুট, বসন্তপুর, বেরেণ্ডা, কুড়ুম্বা, সোমাইপুর প্রভৃতি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন এই রাস্তা দিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এই রাস্তাটি বহুকাল ধরেই সংস্কার হয়নি। রাস্তার ওপর বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেতুগুলির অবস্থাও বেহাল। ফলে যাতায়াত করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, কালীদহ আউশগ্রাম রাস্তায় কুনুর নদীর কাঁদরের ওপর সেতুরও বেহাল অবস্থা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেতুর ওপর থেকে যানবাহন নদীতে পড়ে গিয়েছে কিছুদিন আগে। এমন বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।অথচ বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তারই প্রতিবাদে এদিন শুরু হয় অবরোধ। দাড়িয়ে পড়ে বেশকিছু যানবাহন। আউশগ্রাম ১ নম্বর বিডিও অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় টেলিফোনে জানান জেলাপরিষদের অধীনে রয়েছে ওই রাস্তা। সংস্কারের আবেদন জানিয়ে আগেই জেলাপরিষদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ১৯, ২০২২
রাজ্য

রাজধানী অটকে পড়লো! দীর্ঘক্ষন লোকাল ট্রেনগুলিকে খানা তে আটকে রাখার প্রতিবাদে

যাত্রী বিক্ষোভের জেরে আটকে যায় রাজধানী এক্সপ্রেস। ডাউন রামপুরহাট বর্ধমান লোকালকে খানা জংশন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখায় ক্ষুদ্ধ যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। ফলে ডাউন নয়াদিল্লি হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস থেমে যায়।প্রতিদিন লোকাল ট্রেন খানা জংশন স্টেশনে আটকে রেখে মেল এক্সপ্রেস ট্রেন পার করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে রেল অবরোধ। ঘন্টা খানেক অবরোধ চলার পর রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর অবরোধ ওঠে।তারপর রাজধানী সহ সব ট্রেনের চলাচল শুরু হয়। অবরোধের জেরে ডাউন কাজিরাঙ্গা এক্সপ্রেস আটক পড়ে বনপাস স্টেশনে। খানা জংশন স্টেশনে আটকে ছিল একটি সেলুনকার।বর্ধমান স্টেশন থেকে ছাড়তে দেরী হয় আপ বর্ধমান রামপুরহাট লোকাল।

অক্টোবর ১৯, ২০২২
রাজ্য

বিজয়া সন্মিলনী ঘিরে গোষ্ঠি দ্বন্দ্ব চরমে বর্ধমানের মেমারীতে

শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মেলনে গড় হাজির পূর্ব বর্ধমানের মেমারী শহরের একাধিক নেতৃত্ব। শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির ইঙ্গিত পূর্ণ তির্যক মন্তব্যে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল।মেমারী শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান হলেও মেমারি পৌরসভার একাধিক নেতৃত্বর অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। এমন কি অনুপস্থিত ছিলেন মেমারী পৌরসভার পৌর প্রধান স্বপন বিষয়ী ও উপ পৌরপ্রাধান সুপ্রীয় সামন্ত।এ বিষয়ে মেমারি শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বপন ঘোষালের অভিযোগ, ২০২১ সালে যারা বিজেপি জিতবে বলে উল্লাস করেছিল, তারা আজকে অনুপস্থিত আছে। ২১ সালে যারা সিপিএম এবং বিজেপির সাথে টক্কর লাগিয়ে লড়াই করেছিল তারা সবাই আছে।কার্ডে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান এর নাম নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটা সাংগঠনিক ব্যাপার, এখানে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান নাম থাকার কোনো ব্যাপার নেই। পুরসভার কোন অনুষ্ঠান হলে অবশ্যই চেয়ারম্যান-ভাইস-চেয়ারম্যানের নাম থাকত। তিনি আরো বলেন, তৃণমূলের এই সম্মেলনকে আটকাবার জন্য আজকে যারা আসেনি তারা রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড করেছে। সিপিএমের আমলে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস কে ভোট দিতে যেমন বাধা দেওয়া হতো, আটকে দেওয়া হতো, ঠিক তেমনি ভাবে একটি সম্মেলনে না আসার জন্য আমাদের কর্মীদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে। যারা অনুপস্থিত তারাই ভয় দেখিয়েছে। তবে যারা আটকাচ্ছে তারা তৃণমূল কিনা জানি না। যারা বিজেপির সাথে আঁতাত করে ২১ সালে বিধায়ককে হারানোর চেষ্টা করেছিলেন তারাই আজকে ব্যারিকেড করেছে।যদিও এই বিষয়ে মেমরি পৌরসভার পৌর প্রধান ও উপ-পৌরপ্রধান কোন কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি একটু দেরিতে পৌঁছেছি এখানে, অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি তবে কারণ কি এখনও জানি না, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।গোটা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তোলাবাজদের দল। কোন নেতার সাথে থাকলে বেশি ভাগবাটোয়ারা পাওয়া যাবে সেই নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে কোন্দল আছে। সেকারণে সব নেতারা একসাথে থাকতে পারে না।শহর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মেমারীর কৃষ্টি প্রেক্ষা গৃহে মঙ্গলবার বিকেলে বিজয়া সম্মেলন ও দলীয় প্রবীণ নেতৃত্বদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, মেমারীর বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তবে মেমারী পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২জন কাউন্সিলর থাকলে ও গড়হাজির ছিলেন বাকি ১৪ জন কাউন্সিলর।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজ্য

কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি তালিকাভুক্ত করা হলে রাজ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি

কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি করার চেষ্টার প্রতিবাদর জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের কার্জনগেট চত্ত্বরে বিক্ষোভ দেখাল আদিবাসী কল্যাণ সমিতি । সমিতির অভিযোগ, এসটি হওয়ার নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে, অনৈতিকভাবে কুড়মী সম্প্রদায়কে এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি করা হলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। প্রয়োজনে রেল রোখা থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে জানালেন তারা, এবং আগামী লোকসভা ভোটে ভোটবাক্সের মধ্যে দিয়েও এর প্রতিবাদ হবে বলে জানান তারা। এদিন বিক্ষোভ শেষে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেয় আন্দোলনকারীরা।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজ্য

বিপুল পরিমাণের চোলাই মদ আটক, ধরা পড়ল দুই চোলাই কারবারি

জাতীয় সড়ক ধরে চারচাকা গাড়ি করে বিপুল পরিমাণের চোলাই মদ পাচার করার সময় পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশের হতে ধরা পড়ল দুই চোলাই কারবারি। ধৃতদের নাম সঞ্জয় সাউ ও সন্তোষ সাউ। বাড়ি বীরভূমের বোলপুরের হাটতলা এলাকায়।মঙ্গলবার ধৃতদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। মাস কয়েক আগে ভাতার থানার পুলিশের জালে মদ ভর্তি গাড়িসহ ধরা পড়েছিল ধৃতরা। বর্ধমান বোলপুর জাতীয় সড়কের ভাতারের ওড়গ্রামে রুটিনমাফিক নাকাচেকিং চালাচ্ছিল ভাতার থানার পুলিশ। সেই সময় সন্দেহজনক একটি চার চাকা গাড়িকে আটক করে। তল্লাশি শুরু করতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। গাড়ির মধ্যে পলিথিনের প্যাকেট ভর্তি বিপুল পরিমাণের মদ। এরপরই মদ ভর্তি গাড়ি সহ দুজনকে অটক করে পুলিশ।ভাতার থানার ওসি অরুন কুমার সোম জানিয়েছেন, বর্ধমান বোলপুর টু বি জাতীয় সড়কের রুটিন মাফিক নাকাচেকিংয়ের সময় একটি চারচাকা গাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে। গাড়িসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা জানান, বেশি গাড়ি ভাড়া ভাড়া পাওয়ার জন্য সিঙ্গুর থেকে বোলপুর অন্যজনের কাছে এই মদ বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজ্য

শখ করে ডিঙ্গী নিয়ে ভাসতে গিয়ে প্রান গেলো এক যুবকের

শখ করে ছোট নৌকায় দিঘির মাঝে ঘুরতে চলে যান যুবক। কিন্তু দিঘির মাঝখানে হাত থেকে হালটি ফস্কে যায়। সেটি জলে নেমে তুলতে গিয়ে দিঘির জলে তলিয়ে গেলেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের আলেফনগর গ্রামের বরকত আলি মল্লিক(৩১) নামে এক যুবক। সোমবার দুপুরের দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখনও ওই যুবকের হদিশ মেলেনি। খবর দেওয়া হয়েছে ডুবুরির দলকে।জানা যায় পেশায় রাজমিস্ত্রি বরকত আলি মল্লিক কেরলে থাকতেন।পাঁচদিন আগে বাড়ি আসেন। গ্রামের পাশে দিঘির পাড়ে ঘাস কাটতে গিয়ে দিঘিতে থাকা ছোট নৌকাটি নিয়ে জলে নেমে পড়েন।দিঘিতে মাছচাষ করেন যিনি তিনি ওই নৌকাটি করে মাছের খাবার ছড়ান। তার নজর এড়িয়ে নৌকা নিয়ে দিঘির মাঝে চলে যান ওই যুবক।এরপর গ্রামের লোকজন খবর পান। যুবকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজ্য

বালি বোঝাই ট্রাক্টারের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের

বর্ধমান শহরের বেড়মোড়ে বালি বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক স্কুল ছাত্রের। দুর্ঘনায় জখম হয় ছাত্রের বাবা।পূর্ব-বর্ধমানের খণ্ডঘোষের কেশবপুর থেকে বাবার সঙ্গে মোটরবাইকে করে বর্ধমানের গোলাহাটে যাওয়ার পথে বেড়মোড় এলাকায় একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর বাইকটিকে ধাক্কা মারলে মন্তাসীর সেখ (১১) রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। জখম বাবা আজমগীর সেখ ও বর্ধমান মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।মন্তাসীর সেখ বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল-র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। পুলিশ ঘাতক ট্রাক্টরটি ও চালককে আটক করেছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২২
রাজ্য

চায়না আলোর দাপটে ম্রিয়মাণ মাটির দীপাবলীর মাটির প্রদীপ

এক সময় পুজোর আগে থেকেই শুরু হত দীপাবলীর জন্য মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ। দুর্গা পুজো, লক্ষী পুজো পরপর পেরিয়ে গেলেও হুশ থাকতো না বর্ধমানের মৃত্শিল্পীদের। ঠিক সময় অর্ডারী মাল তৈরি করতে হবে। সেই জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে শুধু মূত্শিল্পীরা নন কার্যত গোটা পরিবার প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত থাকত। শুধুকি বর্ধমান শহর,শহর ছাড়িয়ে নীলপুরের মাটির প্রদীপ গোটা জেলায় এমন কি ভিন জেলাতেও পৌঁছে যেত। সময় বদলেছে,বদলেছে মৃতশিল্পীদের কাজের ধরণ। বদলেগেছে মানুষের চাহিদাও। ঝাচকচকে এলিডি টুনিতে মজেছে সকলো ব্রাত্য হয়ে পড়েছে মাটির প্রদীপ।এখন আর সেই রকম অর্ডার পাতি হয় না।চাহিদা কমে গেছে তবুও মৃত্শিল্পীরা প্রদীপ তৈরি করেন। বাপ-ঠাকুরদার পেশা কি করেই বা ছেড়ে অন্য পেশায় যাবে। তাই চাহিদা না থাকলেও প্রতি বছরই প্রদীপ তৈরি করেন। ছোট,পাতি,মাঝারি,সাজার সহ বিভিন্ন ধরণের প্রদীপ তৈরি করেন। এক সময় কালী পুজোর আগে নীলপুরের মৃৎশিল্পীদের উঠোনে পা ফেলার জায়গা থাকতো না। শরতের রোদ বৃষ্টি খেলার মাঝেই গোটা উঠোন জুড়ে দীপাবলীর প্রদীপ শুকানো হত। আগে গোটা পাড়ায় ৩০ ঘরের বেশী বাড়িতে প্রদীপ বানানো হত। চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন মাত্র তিন থকে চারটি বাড়িতে প্রদীপ তৈরি হয়। নতুন প্রজন্ম জীবিকার টানে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন সংকটে মৃৎশিল্পীরা। বাজারে সল্প মূল্যের রীন টুনির হরেকরেকমবা দাপটে পিছিয়ে পড়েছে কুমোর পড়ার গরুর গাড়ি থুরি মৃত্শিল্পীরা।

অক্টোবর ১৭, ২০২২
রাজ্য

শহরে জিটি রোডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক সিভিক ভলেন্টিয়ার

সাত সকালে সড়ক দুর্ঘটনা বর্ধমান শহরে। সোমবার সকালে জিটি রোডের বাদামতলায় ফুড কর্পোরেশন অফ ইণ্ডিয়ার একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে। স্থানীয় মানুষজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। ক্রেন এনে ট্রাকটিকে সরানো হয়। দুর্ঘটনার জেরে কার্জনগেটমুখী লেনে সাম্যীক ভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আহতদের মধ্যে একজন কর্মরত সিভিক ভলেন্টিয়ার।

অক্টোবর ১৭, ২০২২
রাজনীতি

বিস্ফোরক বিজেপি নেতা! কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত থেকে গা ঢাকা দিতে আমেরিকা গেছেন বলে অভিযোগ

ইডি, সিবিআইয়ের তদন্ত থেকে বাঁচতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ইউএসএ পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।রবিবার দুপুরে বাঁকুড়া থেকে কলকাতা যাবার পথে ক্ষনিকের জন্য বর্ধমান সদর বিজেপি কার্যালয়ে আসেন সৌমিত্র খাঁ। এখানে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি এক চোখের ছবি ঘুরে বেরাচ্ছে। উনি যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, সেই হাসপাতালে আমার এক বন্ধুকে দিয়ে খোঁজ নিয়েছি। তিনি শুধুমাত্র চোখ দেখিয়েছেন বলে জানতে পারছি। তিনি বলেন, ইডি,সিবিআই এর ইনট্রোগেশন থেকে বাঁচতে তিনি ইউএসএ পালিয়ে গেছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অভিষেক বাইরেই থাকবেন বলে মন্তব্য করেন সৌমিত্র খাঁ। অভিষেকের স্ত্রী ও শালিকার ডাক পরেছে, এর পর অভিষেকের ডাক হতো। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মানিক ভট্টাচার্যের যে চাকরি প্রার্থীদের লিস্ট পাওয়া যাচ্ছে তাতে বেশিরভাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশেই কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।শিবপুরে টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা ও বালি পাচার নগদ লেনদেনের মাধ্যমে হয়। তাই এখানে টাকা উদ্ধার হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মেট্রো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো শহরে এই ধরনের প্রজেক্ট করতে গেলে কিছু ক্ষতি হয়। তবে মেট্রোর নকশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এর আগেও বড় বাজারে ওভারব্রিজ ভেঙে কত মানুষের প্রান গেছে। একশো দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা আটকে যাওয়া প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁ জানান, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন একশো দিন ও আবাস যোজনার টাকা আমাদের দরকার নেই। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিজয় সম্মিলনী অনুষ্ঠানে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি বিজেপি নেতাদের গাছে বেঁধে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে সৌমিত্র বলেন, আমরা এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল ফল করবো। জেলা পরিষদে দেবু টুডু যে দূর্নীতি করেছেন তার তদন্ত হবে।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

জাল নোট সহ তিন ব্যক্তি গ্রেফতার বর্ধমান স্টেশনে

যৌথ ভাবে অভিযানে জালনোট সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করলো বর্ধমান থানা ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। ধৃতদের রবিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।পুলিশ গোপনসূত্রে খবর শনিবার সন্ধ্যায় বর্ধমান স্টেশন চত্বরে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে। বর্ধমান থানা ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকরা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ২৪ টি ২ হাজার টাকার জালনোট। ধৃত মহম্মদ রাজ ওরফে রাজুয়া ওরফে বসিরুদ্দিন, মহম্মদ আমিন হোসেন ওরফে আমান ও মহম্মদ মঈনুদ্দিন ওরফে গোবরা প্রত্যেকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায়।১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে ৩ জনকেই রবিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। কি উদ্দেশ্যে এই জালনোট নিয়ে স্টেশন চত্বরে ধৃতরা অপেক্ষা করছিলো তার তদন্ত শুরু করছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমান শহর জুড়ে তাল্লসী অভিযানে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে মোট ১৮ জন গ্রেফতার

দিপাবলীর আগে জুয়ার ঠেকে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করলো বর্ধমান থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজার ৯০ টাকা ধৃতদের রবিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বর্ধমান শহরের নাড়ি বেলবাগান ও সদরঘাটের ইডেন ক্যানেল পাড় এলাকায় জুয়ার ঠেকে অভিযান চালায় বর্ধমান থানার পুলিশ। জুয়া খেলার অভিযোগে দুটি জায়গা থেকে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিস। উদ্ধার হয় ১১ হাজার ৯০ টাকা ও বেশকিছু তাশের বাণ্ডিল।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

অভিষেক ব্যানার্জীর আরোগ্য কামনায় পুজোর আয়োজন করা হয় বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

সারা ভারত তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর আরোগ্য কামনায় পুজোর আয়োজন করা হয় বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাসের উদ্যোগে রবিবাসরীয় সকালে পুজোপাঠ ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। কয়েকদিন আগে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর বাঁ চোখে বিদেশে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি এখন কলকাতায় ফিরেছেন। বিধায়ক খোকন দাস বলেন, তাদের দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর চোখ যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয় তার জন্য মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।এখানে উল্লেখ্য কয়েক বছর আগে ২০১৬র নভেম্বর মাসে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী মুর্শিদাবাদ থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে কলকাতা ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে তার গাড়ি। হুগলির ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সিংহের ভেড়ি এলাকায় তার কনভয় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। সাংসদ অভিষেকের চোখ দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এদিন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বর্ধমান পৌরসভার বেশীর ভাগ কাউন্সিলর পুজোপাঠ আয়োজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান বিধায়ক খোকন দাস। তার ছবিকে সামনে রেখে মন্দিরের পুরোহিতরা যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন।তার চোখ দ্রুত সেরে ওঠার জন্য মা সর্বমঙ্গলার কাছে প্রার্থনা করা হয় বলে জানান খোকন দাস।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

গোপন সুত্রে খবর পেয়ে দুই ব্যক্তিকে আগ্নেয় অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার বর্ধমান পুলিসের

আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ গোদা হাইওয়ের কাছ থেকে রবিদাস নামে একজনকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি পাইকগান ও এক রাউণ্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রদীপ কুমার অধিকারী নামে আর এক ব্যক্তির খোঁজ পায় পুলিশ। তার বাড়ি শ্যামসুন্দর। রাতেই বর্ধমান থানা পুলিশ তার বাড়িতে যায় এবং তার কাছ থেকেও একটি পাইপ গান ও এক রাউণ্ড গুলি উদ্ধার করে। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয় দুজনকে। রবিদাসকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধৃত রবিদাসের বাড়ি বর্ধমানের বিসি রোড এলাকায় ও প্রদীপ কুমার অধিকারীর বাড়ি রায়না থানার শ্যামসুন্দর এলাকায়।

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজনীতি

দলের আস্থায়ী কার্যালয় থেকে বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য, দলীয় কোন্দল দাবী দুই গোষ্ঠীর

তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে তাজা বোম উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। পুলিশ জামালপুরের জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েত অমরপুর গ্রামের হিরু সেখের নির্মীয়মান বাড়ি থেকে ৯ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। জোৎশ্রীরাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কার্তিক ঘোষের দাবী দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে তাদেরকে হেনস্তা করার জন্যই বোমা রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের গোষ্ঠীর লোকজনই এখানে বোম রেখেছে তাদের বদনাম করার জন্য। তারা প্রদীপ পাল ও অরবিন্দ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দল করেন। তারা দলের পুরনো কর্মী।একই দাবী করেন জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েতের সদস্যা রেবা ধারা পঞ্চায়েত সদস্য গোষ্ঠ পাল। তারা বলেন, ব্লক সভাপতি মেহমুদ খানের অনুগামীরা এই ফাঁকা অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে বোম রেখেছে। এখানে বাচ্চারাও খেলে। নির্মীয়মান বাড়ি মালিক তৃণমূল কর্মী হিরু সেখ বলেন,এখানে বোম রেখে তাদের বদনাম করা হচ্ছে।বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম থেকেই গোষ্ঠী কোন্দল আছে। আর এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছে। নিজেদের মধ্যে বালির টাকার ভাগ নিয়ে অশান্তি করছে তৃণমূল নেতারা। তার ফল ভোগ করছে এলাকার বাসিন্দারা।রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দেবু টুডু বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে বলতে পারবো। তবে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

অক্টোবর ১৫, ২০২২
উৎসব

৪৮২ বছর ধরে পুজীত দেবী সিদ্ধেশ্বরী, আর কোনও কালী মুর্তীর পুজো হয় না এই গ্রামে!

সময়টা ছিল ১৫৪০ খৃষ্টাব্দ। ভূ-কৈলাসের রাজবংশের বংশধর দিগম্বর ঘোষাল মহাশয় গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড এবং রাজস্ব সংক্রান্ত ব্যাপারে শেরশাহের নির্দেশ মত কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য কংসানদী পথে প্রায়ই আসতেন। তিনি এক দিন কংসানদীর তীরে কোলসড়া গ্রামে রাত্রি নিবাস করেন। এবং এক রাতে মা সিদ্ধেশ্বরী তাঁকে পুজো করার জন্য স্বপ্নাদেশ দেন ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। তখন দিগম্বর ঘোষাল শেরশাহকে তাঁর স্বপ্নাদেশের কথা জানান। যানা যায় শেরশাহ ইসলাম সম্প্রদায় ভূক্ত হয়েও দিগম্বর বাবুর ইচ্ছা পুরন করার জন্য মা সিদ্ধেশ্বরী নামে একটি তাম্র ফলকের ওপর পাঁচশত বিঘা জমি একটি দলিল করে দান করেছিলেন।১৫৪০ থেকে আজ পর্যন্ত মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হয়ে আসছে জামালপুরের কোলসড়া গ্রামে। সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরটি নির্মান হয়েছে শ্মশানের ধারে।পঞ্চমুণ্ডের আসনের উপর দেবীর মূর্তি স্থাপন করা আছে এবং দেবীর মূর্তিটি একটি ত্রিশুলকে বেষ্টন করে তৈরী হয়েছে, তাই এই মূর্তিটি ঘরে ও বাইরে অক্ষত অবস্থায় বের করা যায় না। যখন সিদ্ধেশ্বরী কালীর অঙ্গহানী হয় তখন পাঁচজন পুরোহিত মূর্তিটি কে খণ্ডখণ্ড করে কেটে ঝুঁড়িতে ভরে পুকুরে নিরঞ্জন দেয়।ঘোষাল পরিবারের বর্তমান বংশধর সমীর ঘোষাল জানান ১৮২৯ পর্যন্ত সিদ্ধেশ্বরী কালী মায়ের পুজো ঘোষাল বাড়ির পুজো হিসাবেই গণ্য হত। তবে ১৮৩০ থেকে এই পুজো কোলসড়া গ্রামের সর্বজনীন পুজো হিসাবেই বিবেচিত হয়েছে। এই গ্রামে সিদ্বেশ্বরী কালীর একা পুজো হয়। এছাড়া দ্বিতীয় আর কোন কালীর মূর্তী পুজো হয় না। এখানে বলি দান প্রথা আছে। প্রতিবছর চৈত্রমাসের শুক্ল পক্ষে এবং কার্ত্তিক মাসে কালী পুজোর সময় মহা ধুমধাম সহকারে সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হয় কোলসড়া গ্রামে।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

বিদায়ী বর্ষার ব্যপক বর্ষনে সংকটে শস্যগোলা। চরম ক্ষতির শঙ্কায় চাষীরা

গত তিনদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের জেরে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের কয়েকটি এলাকায় ধানজমি জলমগ্ন হয়েছে। ফলে কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। জমিতে ধানগাছে থোর আসতে শুরু করেছে সেসব ধানগাছ জলমগ্ন হয়ে থাকলে গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার কৃষকরা। আউশগ্রামের সোমাইপুর ও আউশগ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় বেশকিছু ধানজমি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই এলাকায় পাঁচটি বড় নালা এক জয়গায় এসে মিশেছে। স্থানীয় এলাকায় পঞ্চগঙ্গা নামে পরিচিত ওই নিচু জলাভূমি এলাকা।গত তিনদিন দফায় দফায় বৃষ্টিপাতে পঞ্চগঙ্গা সহ তার আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। জলে ডুবে যায় প্রচুর ধানজমি। এছাড়া আউশগ্রামের কুনুর নদীর সংলগ্ন সিলুট, বসন্তপুর এলাকায় বেশকিছু ধানজমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। বৃষ্টির জেরে কুনুর নদীর জলও বেড়েছে। নদী ছাপিয়ে এলাকা প্লাবিত। ওই এলাকার কৃষকরাও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা আশিষ কুমার বারুই বলেন, এখনও পর্যন্ত যা বৃষ্টি হয়েছে তাতে ধানের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরঞ্চ সেচের জলের অভাবটা অনেকটাই মিটবে। কৃষকদের সুবিধা হবে বলে তিনি জানান।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

উধাও খোদ মহাদেব! বর্ধমানে চুরি গেলো শিবলিঙ্গ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

শিবলিঙ্গ চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে। শুক্রবার সকালে মাধবডিহির নরত্তমবাটি গ্রামের বাসিন্দারা দেখেন শিবলিঙ্গ নেই। কিভাবে শিবলিঙ্গটি উধাও হল তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না গ্রামের বাসিন্দারা। ধর্মীয় স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একটি শিব ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কথিত আছে এখানকার দেবাদিদেব মহাদেব নাকি কোন মন্দিরে নয় বরং খোলা জায়গাতেই থাকতে পছন্দ করেন। রাতের অন্ধকারে কোন ভাবে সেই শিবলিঙ্গের অর্ধেক অংশ উধাও হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। কিভাবে সেই শিবলিঙ্গটি উধাও হয়ে গেল সেই নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছেন তারা। এই ঘটনায় গ্রামের মানুষরা খুবই দুঃখিত। যেহেতু এই শিব ঠাকুরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাল্প কাহিনী রয়েছে তাই এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তারা। শিবলিঙ্গটিকে খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে মাধবডিহি থানার পুলিশ।সেবাইত শান্তিনাথ ব্যানার্জী বলেন, উপরের অংশ নিয়ে গেছে দুস্কৃতিরা।কিন্তু বাবাকে অর্থাৎ শান্তিনাথকে নিয়ে যেতে পারে নি।কারণ বাবা মহাদেব এখানে স্বপ্নাদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সুতরাং বানার আসল রূপ এখানে আছে।গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ বলেন, শিবলিঙ্গটি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা জয়রাম চক্রবর্তী বলেন, এটি কষ্টিক পাথরের শিবলিঙ্গ। হাজার বছরের পুরনো, বহু মূল্য। তার ধারণা কোন তান্ত্রিকের কাজ হতে পারে।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

বিরল আকৃতির গরুর জন্মানোই চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে

বিরল আকৃতির বাছুরের জন্ম ঘিরে চাঞ্চল্য ছাড়লো পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের খুরুল গ্রামে। ভাতারের খুড়ুল গ্রামের বাসিন্দা খোকন ঘোষ পেশায় গো-পালক। তাঁর গৃহপালিত গাভী একটি বিরল আকৃতির বাছুরের জন্ম নেয়। দুটি মাথা ও ছটি পা বিশিষ্ট বাছুরের জন্ম ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর ছড়াতেই খোকন বাবুর বাড়িতে এলাকার মানুষের ঢল নামে। যদিও বাছুরটি জন্মের কিছুক্ষণ পরই মারা যায়।গাভীর মালিক খোকন ঘোষ বলেন, সকাল থেকেই গাভিটি যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। স্থানীয় পশু চিকিৎসক এবং আমরা দুভাই মিলে বাছুরটিকে ভূমিষ্ঠ করার চেষ্টা করি। ঘন্টাখানেক চেষ্টার পর বাছুরটি ভূমিষ্ঠ হয়। যার দুটি মাথা ও ছটি পা। জন্মের ঘন্টাখানেকের মধ্যে বাছুরটি মারা যায়। স্বভাবতই মন খারাপ গোপালক খোকন ঘোষের।গ্রামবাসীরা জানান, বছর ত্রিশ পঁয়ত্রিশ আগে এই গ্রামে বিরল আকৃতির বাছুরের জন্ম হয়েছিল। এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার বিরল আকৃতির বাছুরের জন্ম হল ভাতারের খুড়ুলগ্রামে।

অক্টোবর ১৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal