• ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Student

রাজ্য

আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউণ্ড ও বাংকারে দিন কাটানো, তারপর টানা হাঁটা, বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলো দুই পড়ুয়া

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণে আন্ডারগ্রাউণ্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট সহ্য করেই দিন কাটছিল ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের। সেই কথা জানতে পারার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শেখ আকিব মহম্মদের বাবা মায়ের। অবশেষে অবসান হল উৎকণ্ঠার। রাশিয়ান সেনাদের হামলায় তছনছ হয়ে যাওয়া ইউক্রেনের খারকিভ থেকে শনিবার সকালেই বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে শেখ আকিব। ছেলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে আকিবের বাবা মায়ের। খুশি প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এদিনই আকিবের বাড়িতে পৌছে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পূর্বস্থলীর চুপি কালিতলা এলাকায় বাড়ি শেখ আকিব মহম্মদের। সে ২০১৮ সালে ইউক্রেণের খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। দিন দশেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণের খারকিভে আটকে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া এই বাঙালি যুবক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন আকিব সহ প্রায় পাঁচ শতাধীক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর ঠাঁই হয় সেখানকার আন্ডারগ্রাউন্ডে। আকিব জানিয়েছে,চেহারা মোটাসোটা হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় খাবারদাবার কিনে খাওয়াও সেখানে দুরহ হয়ে পড়ে। সামান্য কিছু শুকনো খাবার খেয়ে আতঙ্ক বুকে নিয়েই আন্ডারগ্রাউণ্ডে তাঁকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ মার্চ সকালে তাঁরা আন্ডারগ্রাউণ্ড থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তাঁরা পোলান্ড বর্ডারে পৌছান। ইন্ডিয়ান এম্বাসি পোলাণ্ড বর্ডার থেকে তাঁদেরকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ৪ মার্চ দিল্লিতে পৌছান। শনিবার সকালে দিল্লী থেকে পূর্বস্থলীর চুপির বাড়িতে ফেরেন। আকিবের বাবা শেখ আমজাদ বলেন, আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরতে পারেনি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ওইসব ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার। আকিমের মতোই এদিন ইউক্রেণ থেকে বর্ধমানের নারান দিঘীর বাড়িতে ফিরেছে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র রোহিত ভগত। বাংকারে কয়েকদিন কাটিয়ে তার পর সাত কিমি পথ হেঁটে পোল্যান্ড বর্ডারে পৌছায় রোহিত। সেখান থেকে ভারতীয় এম্বাসির ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে আসতে পারলেও স্বস্তিতে নেই রোহিত। কোর্সের ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে তাঁর আর তিন মাস বাকি ছিল। এই অবস্থায় শিক্ষাগত ডিগ্রীর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা ভেবেই রোহিতের দুশ্চিন্তা এখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। রোহিত জানিয়েছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ইউক্রেণে যান। বাকি ছিল ফোর্থ ইয়ারের আর তিন মাসের কোর্স। সামনের জুন মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া গোলা বারুদের আঘাত হানা শুরু করেদেয়। তার করণে সমগ্র ইউক্রেণ জুড়ে তৈরি হয়েযায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁদের কয়েক দিন বাংকারের মধ্যে কাটাতে হয়। কোনওক্রমে সেখান থেকে তাঁরা লিভিয়া পৌছান। পরে সাত কিলোমিটার হেঁটে সেখান থেকে পোলান্ড বর্ডারের নতুন চেকপোস্টে হাজির হন। যেটা খুলেছিল ভারতীয় এম্বাসি, সেই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় এম্বাসি থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের ইন্ডিয়ান এম্বাসির ভাড়া করা হোটেলে। সেটিকেও ক্যাম্প বলা যেতে পারে। ওই ক্যাম্পে ছশোর উপর ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ছিল। দেশে ফেরার জন্য সেখান থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয় ইন্ডিয়া এম্বাসি।শেষপর্যন্থ শনিবায় সকালে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে রোহিত জানান। ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি রোহিতের পরিবার। তবে ছেলের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যুর ছায়া বর্ধমানে, তুহিনার মৃত্যু নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিতে কংগ্রেস ও বামেরা

পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে মরতে হবে তিন বোনকে। পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়েই শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকা হয় হুমকি বার্তা দেওয়া এমন এক নজিরবিহীন ছবি। ওই ছবি আঁকানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ, কারও তরফেই পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত ওই ছবি মোছানোর কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি। তাই ওই ছবি এলাকায় দেওয়ালে রয়েই যায়। আর আঁকানো ছবির হুমকি মতোই কাণ্ড ২ মার্চ ঘটে শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকায়। পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সেখানকার তৃণমূল সমর্থক পরিবারের কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের(১৭) ঝুলন্ত দেহ। বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি শাসানি দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত কারার অভিযোগ উঠেছে সদ্য নির্বাচিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আর তুহিনার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এখন আমতার ছাত্র নেতা আনিসকে খুনের ঘটনার মতোই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তুহিনার খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধামান জেলা সভাপতি বিশ্বরুপ হাজরা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই শাসক দলের রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছাত্রী তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার মধেও তুহিনাদের বাড়ির ঠিক আগের একটি দেওয়ালে ছবি আঁকা হয় তিনটি মেয়ের দেহ ঝুলছে। এই ঘটনা অমানবিক ও আদিম হিংস্রতার চরম প্রকাশ বলে এসএফআই মনে করে। পুলিশের নির্দেশ পাওয়ার পরেও ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থী দেওয়াল লিখন মোছেননি। আমতার ছাত্র নেতা আনিস খানের মৃত্যু যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই দু্ঃখজনক। তাই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও এসএফআই বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবে বলে বিশ্বরুপ হাজরা এদিন জানিয়ে দেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে এদিন বিকালে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা বর্ধমান থানার সামনে ধরনায় বসেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনায় সকল দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ হাজরা।এসএফআইয়ের মতোই কংগ্রেস দলের নেতৃত্বও তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি নেপাল মাহাতো এদিন জেলা কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবুরবাগে আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের বাড়িতে যান। তিনি তুহিনার পরিবারের সদস্যদের মুখে দেওয়ালে হুমকি দেওয়া ছবি আঁকা ও ঘটনার দিনের কথা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান। কংগ্রেস নেতাদের কাছে তৃণমূল কাউন্সিলার বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তুহিনার পরিবার। এখনও বসির আহমেদ হুমকি দিচ্ছে বলে তারা কংগ্রেস নেতাদের কাছে অভিযোগে জানান। সব শুনে নেপাল বাবু জানান, ভোটের সময়ে ছবি এঁকে হুমকি দিয়ে এই ধরনের দেওয়াল লেখা চরম থেকে চরমতম অপরাধ। এটা একটা নক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচন চলাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেও এই ছবি মুছতে পারেনি। এর দ্বারাই বোঝা যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটা। পুলিশ গোটা বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বলেও নেপালবাবু অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে নেপাল মাহাতো জানিয়ে দেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন। যদিও বসির আহমেদ এদিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিআইডি দিয়ে ঘটনার তদন্ত হোক। তিনি চান আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক।তিন তরুণী গাছে ঝুলছে এমন ছবি পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়ে যাঁরা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকালো তাদের বিরুদ্ধে কি নির্বাচন কমিশন আইনগত কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক তথা পুর নির্বাচনী আধিকারিক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। তবে এই প্রসঙ্গে ডি এসপি (সদর) অতনু ঘোষাল বলেন, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা মিললে দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না ।

মার্চ ০৪, ২০২২
বিদেশ

পোলান্ড সীমান্তের কাছে গুলিবিদ্ধ ভারতীয় পড়ুয়া, ভর্তি হাসপাতালে

কিভ থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হলেন ভারতীয় পড়ুয়া। কিভ থেকে পোলান্ড সীমান্তের দিকে আসার পথে এই পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে মাঝ পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে কিভের একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিভের একজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে কিভের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।এর আগেও রুশ হামলার মুখে পড়ে প্রাণ হারান কর্নাটকের বাসিন্দা এক মেডিক্যাল পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত পড়ুয়ার নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৯টি বিমান চালাচ্ছে বায়ুসেনা এবং দেশের বিমান সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার থেকেই উদ্ধারকাজে নেমেছে এই বিমানগুলি। এদিকে যুদ্ধ কবলিত ভিন্ দেশ থেকে ঘরে ফেরার চেষ্টা। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে সর্বস্ব লুট। কনকনে শীতে গরম জামা-জুতো লুট করতেও কার্পণ্য করেনি লুটেরা। এমন অবস্থায় এক ইউক্রেনীয় পরিবারে তিন রাতের আশ্রয় মেলে। অবশেষে প্রবাসী বাঙালির সাহায্যে পোল্যান্ডের অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে সীমান্ত পার। জীবনের এমনই ঘটনাবহুল কয়েকটি দিন কাটিয়ে আজ, শুক্রবার পোল্যান্ড থেকে উড়ানে ফিরছেন অসমের গুয়াহাটির বাসিন্দা এক যুবক। ঘটনার আকস্মিকতায় বিধ্বস্ত যুবক পিছনের কটা দিন মনে করতেই বার বার আতঙ্কিত এবং উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার চার, এফআইআরে নাম কউন্সিলারেরও

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ উঠলো সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকলো বর্ধমান পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ এলাকা। বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার মৃত ছাত্রী তুহিনা খাতুন (১৭) এর দিদি কুহেলি বিবির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করে। মৃতার দিদির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হওয়া এফআইআরে সদ্য জয়ী হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশারও নাম রয়েছে। কাউন্সিলার সহ অভিযুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছে মৃতার পরিবার সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ গোলাম নবি ওরফে গোলাপ, তহমিনা বিবি ওরফে তসমিনা, সোনাহার বিবি ওরফে সোনা বিবি, মানোয়ারা বিবি ওরফে মিনু। ধৃতদের সকলের বাড়ি বাবুরবাগের পশ্চিমপাড়ায়। বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর, হুমকি, শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে গোলাম নবিকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সিজেএম গোলাম নবির ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকি ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৭ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।এদিন ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ বাড়িতে পৌছালে এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার বসির আহমেদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে মৃতদেহ রেখে এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। কাউন্সিলার বসির আহমেদকে তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেও এলাকার বাসিন্দারা এদিন সোচ্চার হন।বিক্ষোভমৃতার দিদি কুহেলি বিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য শেখ বসির আহমেদ টিকিট পান। তার পর থেকেই তিনি অনুগামীরাদের নিয়ে তুহিনা সহ তাঁদের পরিবারের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করে। অত্যাচার দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। কুহেলি জানান, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াের্ডে কাজ করেন। বুধবার ভোটের ফল বের হওয়ার পর বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির সামনে বোমা ফাটানো হয়। ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর বোন তুহিনা খাতুনকে প্রচণ্ড মারধর করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এমনকি তাঁদের পরিবারের অন্য মহিলাদের শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয়। এইসব সহ্য করতে না পেরেই ঘটনার পর বাড়িতে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁর বোন তুহিনা আত্মঘাতী হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কুহেলিদের বাড়ির কাছের একটি দেওয়ালে আঁকা হয় গাছে তিন মহিলার ঝুলন্ত দেহের ছবি। বসির আহমেদ ভোটে জিতলে কুহেলি ও তাঁর দুই বোনের ওই ছবির মতন দশা হবে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। ভোটে জেতার পরই বেলা ৩টে নাগাদ বাদশা সহ কয়েকজন কুহেলিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তুহিনাকে মারধর করা হয়।যদিও বসির আহমেদ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আদৌ ঘটনায় জড়িত নন। মিথ্যাভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিসি তদন্তে আসল তথ্য উঠে আসবে। বসির আহমেদ এমনটা দাবি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার যথেষ্টই বিড়ম্বনায় পড়ে গিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে কলেজ ছাত্রী আত্মঘাতী, সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযোগের আঙুল

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উতপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মৃতা তুহিনা খাতুন(১৮)-র বাড়ি বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ মসজিদ সংলগ্ন নতুনপল্লীতে। বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। তবে তুহিনার মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদ্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বসির আহমেদকেই (বাদশা) দায়ী করেছেন মৃতার পরিবার।মৃত ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁরা বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি মুক্তার মিঞার অনুগামী। জানা গিয়েছে, মুক্তার মিঞা সদ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বসির আহমেদের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর। সেই কারণে, বুধবার জয়ের পরেই বসির আহমেদ তুহিনার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। তার জেরেই তুহিনা আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসির আহমেদ। তিনি বলেন, কিভাবে এই ঘটনা ঘটল সেই বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সঠিক তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।তিন বোনের ছবি এঁকে হুঁশিয়ারীর অভিযোগজয়হিন্দ বাহিনীর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তার মিঞা বলেন, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বসির আহমেদ ওরফে বাদসা তুহিনাদের বাড়িতে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বাড়ির দেওয়ালে তুহিনা সহ তাঁদের তিন বোনের ছবি এঁকে দিয়েও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে দলবল নিয়ে বাদসা চড়াও হয় তুহিনাদের বাড়িতে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।সেই অপমানে তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। একই অভিযোগ করেন মৃতার দিদি ঝর্ণা বেগম। তিনি বলেন, বাদশা বরাবরই বির্তকে থাকেন। তাঁকে নিয়ে বহুবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কখনও রাজ কলেজের টিচার ইনচার্জকে চড় মারা তো কখনও কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক ঘরে করে রাখার মত ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। শুধুমাত্র শাসকদলের কাউন্সিলর হওয়ায় তিনি এইসব ঘটনা ঘটিয়েও বেঁচে গেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একচেটিয়া জয়ও দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আটকাতে পারেনি।

মার্চ ০৩, ২০২২
বিদেশ

ইউক্রেনীয় সেনার হাতে পণবন্দি ভারতীয় পড়ুয়ারা! চাঞ্চল্য

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরই সেই দেশ থেকে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে আটকে থাকা ভারতীয়দের। ইউক্রেনের এয়ারবেস বন্ধ থাকায়, প্রতিবেশী পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ার পথ ধরে বিশেষ বিমানের মাধ্যমে ভারতীয়দের উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। তবে সীমান্ত অবধি পৌঁছতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ভারতীয় পড়ুয়াদের। সম্প্রতিই পড়ুয়ারা অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সীমান্তে ইউক্রেনীয় সেনা মারধর করছে। এবার ভারতীয়দের পণবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল। বুধবারই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করে হয়, খারকিভে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে বন্দি করে রেখেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গতকালই একটি সাংবাদিক বিবৃতিতে বলেন, গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জোর করে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে খারকিভে আটকে রেখেছে। ওই পড়ুয়ারা ইউক্রেনের সীমান্ত পার করে বেলগার্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তাদের জোর করে বন্দি বানিয়ে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধারকার্যে সবরকমের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের উদ্ধার করে রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে ভারতের সামরিক বা উদ্ধারকারী বিশেষ বিমানে করে দেশে পাঠাতে আগ্রহী।উল্লেখ্য, গতকালই খারকিভে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের এই বার্তালাপের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এই বিবৃতি পেশ করা হয়।

মার্চ ০৩, ২০২২
বিদেশ

ভারতীয়দের রাতেই খারকিভ ছাড়ার সতর্কবার্তা দিল্লির

যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে রুশ বাহিনীর ফাইনাল অ্যাসল্ট। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের খারকিভে থেকে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকদের বুধবার সন্ধ্যার (স্থানীয় সময়) মধ্যে এলাকা ছাড়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠাল কিভের ভারতীয় দূতাবাস। রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে আজ অবধি প্রায় ২ হাজারেরও বেশি নাগরিক মারা গিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষের তরফে।URGENT ADVISORY TO ALL INDIAN NATIONALS IN KHARKIV.FOR THEIR SAFETY AND SECURITY THEY MUST LEAVE KHARKIV IMMEDIATELY.PROCEED TO PESOCHIN, BABAYE AND BEZLYUDOVKA AS SOON AS POSSIBLE.UNDER ALL CIRCUMSTANCES THEY MUST REACH THESE SETTLEMENTS *BY 1800 HRS (UKRAINIAN TIME) TODAY*. India in Ukraine (@IndiainUkraine) March 2, 2022টুইটারে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে দ্রুত খারকিভ ছাড়ুন। চূড়ান্ত সময়সীমা সন্ধ্যা ৬টা (আন্তর্জাতিক সময় রাত ৯টা)-র মধ্যে পিসোচিন, ববই বা বেজলিউদিভকা শহরে পৌঁছানো উচিত। প্রয়োজন হলে পায়ে হেঁটে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের নিকটতম শহর পিসোচিনের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার।যদিও খারকিভে আটক ভারতীয় পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, লাগাতার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানহানার মধ্যে পায়ে হেঁটে ১১ কিলোমিটার কার্যত অসম্ভব। প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যেই কিভের ভারতীয় দূতাবাসও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুশ বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র হানা এড়াতে সোমবারই খারকিভে আটক ভারতীয়দের ট্রেনে করে ইউক্রেনের পড়শি দেশগুলিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কারণ, গাড়িতে গেলে যুদ্ধবিমানের নিশানা হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু খারকিভ স্টেশনে আটক বহু ভারতীয় এখনও ট্রেনে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার খারকিভ শহরেই রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণে ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়া নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধরের মৃত্যু হয়েছিল।

মার্চ ০২, ২০২২
দেশ

রুশ বোমায় খারকিভে মৃত্যু ভারতীয় ছাত্রের, রুশ ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

ইউক্রেনে রুশ হামলার মুখে পড়ে নিহত ভারতীয় পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইতিমধ্যেই এই কথা জানিয়েছেন। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত ছাত্রের নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একটি টুইট বার্তায় জানান, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আজ সকালে খারকিভে বিস্ফোরণের ফলে একজন ভারতীয় পড়ুয়া প্রাণ হারিয়েছে। মন্ত্রণালয় তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই। টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।With profound sorrow we confirm that an Indian student lost his life in shelling in Kharkiv this morning. The Ministry is in touch with his family.We convey our deepest condolences to the family. Arindam Bagchi (@MEAIndia) March 1, 2022 রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণে ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়া নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধরের মৃত্যুর পরই কূটনৈতিক সক্রিয়তা শুরু করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির রুশ এবং ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।Deeply anguished that an Indian student, Naveen Gyanagoudar, has lost his life today in shelling in Kharkiv, Ukraine.My heartfelt condolences to his family and friends. Such tragedies numb us. Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 1, 2022বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, অবিলম্বে খারকিভ-সহ বিভিন্ন শহরে আটকে পড়া ভারতীয়দের ইউক্রেনের বাইরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পথ (সেফ প্যাসেজ) দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে যুধুধান দুই পক্ষকে। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিঙলা পৃথক ভাবে রুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করে এই বার্তা দেন।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি টুইটারে লিখেছেন, খারকিভ-সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলিতে যে ভারতীয় নাগরিকেরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিরাপদ নিষ্কাশনের পথ দিতে বিদেশ সচিব ফের রাশিয়া এবং ইউক্রনের রাষ্ট্রদূতের কাছে দাবি জানিয়েছেন।মঙ্গলবার, যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিঘাত বাড়িয়েছে রুশ সেনা। মরণপণ প্রতিরোধ করছে ইউক্রেন ফৌজও। এই পরিস্থিতিতে সেখানে আটক ভারতীয়, বিশেষত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নরেন্দ্র মোদী সরকার। নিহত নবীনের এক বন্ধু জানাচ্ছেন, খাবার আনতে বেরিয়ে ছিল তাঁর বন্ধু। বাকিরা হস্টেলে থাকলেও নবীন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাঁর ওই ফ্ল্যাটটি ঠিক গভর্নর হাউসের পিছনে। সেখানেই হামলা করেছে রুশ সেনা।

মার্চ ০১, ২০২২
দেশ

ইউক্রেন সীমান্ত পার করতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে ভারতীয় পড়ুয়ারা

প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই কোনও মতে ইউক্রেন থেকে দেশে ফিরেছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। তবে পড়াশোনার জন্য যে দেশে গিয়েছিলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে সেই দেশ ছেড়ে আসার সময় অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখদায়ক হল না অনেক ভারতীয় পড়ুয়ারই। দেশের মাটিতে পা রাখার পর অধিকাংশ পড়ুয়ার অভিযোগ, পোল্যান্ড সীমান্তে পৌঁছতেই বাধা দেয় ইউক্রেনীয় সীমান্তরক্ষীরা। উদ্ধারকারী বিমান ধরার জন্যই তারা সীমান্ত পার করছেন, এই কথা জানানোর পরও অনেককে সীমান্ত পার করতে দেননি। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তে আটকে থাকা পড়ুয়াদের হেনস্থার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে।সম্প্রতিই সামনে এসেছে এমনই একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক পড়ুয়া সুটকেস টেনে আনছেন। আচমকাই পিছন থেকে এক ইউক্রেনীয় সেনা এসে সুটকেসে লাথি মারেন। ওই পড়ুয়া ভারতীয়ই ছিলেন কিনা, সে সম্পর্কে জানা না গেলেও, ওই সীমান্তে আটকে থাকা বহু পড়ুয়াই অভিযোগ করেছেন যে ভারতীয়দের নিত্যদিন হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।Whatever at this point seeing the harrasment of unkrainian soldiers against Indian students (basically until yesterday they contributed to their GDP immensely).I cannot morally support such pedestrian people. Who harass ordinary citizens to create political pressure on govt.✌🏼 pic.twitter.com/ND62gGSoAY Prakash (@IamPrakashNaidu) February 27, 2022এনডিটিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মানসী চৌধুরী নামক ইউক্রেনে আটকে থাকা এক পড়ুয়া বলেন, প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এরা আমাদের উপর অত্যাচার করছে। ভারতীয় পড়ুয়াদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। ইউক্রেনের সেনারা আমাদের সীমান্ত পার করে পোল্যান্ডে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। প্রত্যেকটি মহিলা পড়ুয়াকে হেনস্থা করা হচ্ছে, আমাদের চুল ধরে টানা হচ্ছে, রড দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। বেশকিছু মহিলার গুরুতর আঘাত, এমনকি হাত বা পা ভেঙেও গিয়েছে।ওই ছাত্রী আরও যোগ করে বলেন, ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা আমাদের খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষীরা আমাদের পোল্যান্ডে যেতে দিচ্ছে না। গেলেই রড নিয়ে আক্রমণ করতে আসছে। গতকাল তো গুলিও চালিয়েছে।দীক্ষা পাণ্ডে নামক অপর এক পড়ুয়াও বিগত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতাকে বিভীষিকাময় বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন, তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েদের চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হচ্ছে। জানি না কেন এই ধরনের হিংসাত্নক রূপ ধরেছে সেনারা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

বিধ্বস্ত ইউক্রেন, ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন বর্ধমানের পরিবার

গোলা-গুলির লড়াইয়ে তপ্ত ইউক্রেন। রাশিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইউক্রেনও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে ততই ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেরও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এই রাজ্যের অনেক ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মসূত্রে যাওয়া মানুষ ইউক্রেনৈ আটকে পড়েছেন। যেমনটা ইউক্রেনের পলতভা শহরে আটকে রয়েছে বর্ধমানের রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতের নারায়ণদীঘি এলাকার বাসিন্দা তারাচরণ ভকতের ছেলে রোহিত ভকত। ছেলের কথা ভেবে এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছন ভকত পরিবারের সদস্যরা। রোহিতের মা গীতা ভকত শনিবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনে তাঁর ছেলে সারে তিন বছর আগে কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য যায়। আচমকা রাশিয়ান হামলা শুরু হয়ে যাওয়ায় গোটা ইউক্রেন জুড়ে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের লোকেরা সবাই নিজের নিজের দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তার ছেলে ও ছেলের সঙ্গীরা। সড়ক পথে প্রায় ৩০০কিলোমিটার দূরে হাঙ্গেরির সীমান্তে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়েও রাস্তা বন্ধ থাকায় সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। সেখান থেকেই প্লেনে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল ভারতীয় দূতাবাস।রোহিতের পরিবার জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁরা রীতিমত উদ্বেগে রয়েছেন। ছেলের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখছেন ফোনের মাধ্যমে। রোহিত তাদের বড় ছেলে। তাঁদের সাড়ে তিন বছরের আরেকটি পুত্র সন্তান আছে। বর্ধমান শহরের সিএমএস ( বি সি রোড) স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার জন্য রোহিতকে ইউক্রেনে পাঠানো হয় উচ্চ শিক্ষার জন্য। কিন্তু পড়াশোনার একদম শেষ পর্যায়ে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ক্যারিয়ারের কি হবে তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সব আশঙ্কাকে ছাপিয়ে এখন ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন মা, বাবা থেকে গোটা পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীরা।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার তিন ছাত্র, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ইউক্রেনে বেজে গিয়েছে যুদ্ধের দামামা। রাশিয়া ও ইউক্রেণের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে গুলি-গোলার লড়াই। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনের মধ্যেই প্রাণ গিয়েছে শতাধিক মানুষের। এমন যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একরাশ আতঙ্ক বুকে নিয়ে ইউক্রেনে আটকে রয়েছে বহু ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী। আটকে পড়াদের মধ্যে এই রাজ্যের পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার তিন বাঙালি পড়ুয়াও রয়েছে। সন্তানরা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে কিভাবে বাড়ি ফিরবে তা ভেবেই এখন চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন এই পড়ুয়াদের অভিভাবকরা।যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের খারকিভে আটকে রয়েছে কালনার পূর্বস্থলীর চুপি কালীতলা এলাকার ছাত্র শেখ আকিব মহম্মদ। এখন ছেলে ইউক্রেনে কি অবস্থার মধ্যে রয়েছে, কি ভাবে বাড়ি ফিরবে তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁর বাবা মা। ছেলের কথা ভেবে শুক্রবার সকাল থেকে বাবা মায়ের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গিয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকিব মহম্মদ ২০১৮ সালে ইউক্রেনে খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। তার পর থেকে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর বৃস্পতিবার থেকে আকিবকে রাখা হয়েছে আণ্ডারগ্রাউণ্ডে। সেখানে তাঁর সঙ্গেই রয়েছে পাঁচশোজন ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী। তাঁরা সবাই ডাক্তারি পড়ুয়া। সবাই সেখানে আতঙ্কে রয়েছে। চেহারা মোটা হওয়ায় আণ্ডারগ্রাউণ্ডের ভিতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে বলে আকিব তাঁর পরিবারকে জানিয়েছে। এছাড়াও সে তার পরিবারকে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এটিএম পরিষেবা। এখন তাঁর কাছে আছে কিছু শুকনো খাবার। এইসব জেনে পূর্বস্থলীর বাড়িতে আকিবের বাবা মা সহ পরিবারের সবাই চোখের জল ফেলে দিন কাটাচ্ছেন।আকিবের বাবা শেখ আমজাদ ও মা সুলতানা বেগম তাঁদের ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা চাইছেন, কেন্দ্রের সরকার যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেণনে আটকে থাকা সকল ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক।একই ভাবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পরিস্থিতিও যথেষ্ট ভয়াবহ। সেই কিয়েভে এখন আটকে রয়েছে কালনার মুক্তারপুর এলাকার একই পরিবারের দুই পড়ুয়া দীপক হালদার ও বিভাস হালদার। তাঁরা কম্পিউটার ডিপ্লোমা করতে ইউক্রেনে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এই পড়ুয়াদের পরিবার সদস্য ধনঞ্জয় হালদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুই ভাই হোস্টেল ছেড়ে ভারতীয় দূতাবাসে চলে গিয়েছে। ওই দিন অনলাইনে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়েছে। বিভাষ ও দীপক দুজনেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, ইউক্রেনের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। মুহুর্মুহু রাশিয়ান হামলায় ত্রস্ত হয়ে রয়েছে গোটা ইউক্রেন। তাই দুই ভাই সেখানে এখন শুকনো খাবার খেয়েই রয়েছে। ভারত সরকার দ্রুত দুই সন্তানকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করুক এই আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছে তাঁদের বাবা মা। পরিবারের সদস্যরা দিনরাত প্রার্থনা করছেন যাতে তাঁদের ঘরের ছেলেরা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসতে পারে।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, আমরাও এই খবর পেয়েছি। আকিব, বিভাস ও দীপককে দেশে ফেরানোর বিষয়ে রাজ্য সরকার সবরকম ব্যবস্থা করছে।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যে বাড়ছে ডাক্তারি পড়ুয়ার আসন

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে হাসপতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে ডাক্তারের সংখ্যার ঘাটতি মেটানোর দিকে একধাপ এগুলো রাজ্য।বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তর ডাক্তারি পড়ুয়াদের আসন সংখ্যা অনেকটা বাড়ছে। রাজ্যের ১৭ মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তর মোট ৬৫০টি আসন বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে এই আসন বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।স্বাস্থ্যভবন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি মেডিক্যাল কলেজগুলির কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরে। এই আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কী কী প্রযুক্তি ও বায়ো মেডিক্যাল সামগ্রী প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে হাসপাতালগুলিকে।স্বাস্থ্য সূত্রে খবর কলকাতা ন্যশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, এনআরএস, আরজি কর-সহ ১৭ কলেজে স্নাতকোত্তর স্তরে আসন বৃদ্ধি হচ্ছে। আসন বাড়ছে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ, ডায়মন্ড হারবার, পুরুলিয়া, রামপুরহাট, কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজেও। আসন বৃদ্ধির তালিকায় রাখা হয়েছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, উত্তরবঙ্গ ও রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজকে। আসনের নিরিখে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে জেলার মেডিক্যাল কলেজগুলিতে। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে বাড়বে ৮২ টি আসন, সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজে বাড়তে চলছে ৪৮টি আসন, মুর্শিদাবাদে বাড়তে চলছে ৬২টি আসন, মালদা, রামপুরহাট, পুরুলিয়ায়, রায়গঞ্জ ও কোচবিহারে ৮২ টি আসন বাড়ছে। মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ৪টি করে আসন বাড়ছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ৮টি করে আসন বাড়তে চলেছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ৪টি করে আসন বাড়তে চলেছে। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ, নীলরতনেও ৪টি করে আসন বাড়তে চলেছে। এসএসকেএম হাসপাতালে ১২ টি করে আসন বাড়তে চলেছে।শুক্রবার ৮টি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যভবনের বৈঠক রয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
দেশ

রেলে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে বনধের ডাক, অবরুদ্ধ একাধিক হাইওয়ে! সকাল থেকেই রণক্ষেত্র বিহার

রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত গোটা বিহার। আজ রাজ্যজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠন। সেই বনধ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত বিহার। বনধ সমর্থকরা সকাল থেকেই বিভিন্ন রাস্তা, হাইওয়ে অবরোধ করেছে। একাধিক জায়গায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের খবর পাওয়া গিয়েছে।Bihar: Protesters block roads in Patna in support of bandh called by various political parties over alleged discrepancies in RRB NTPC results pic.twitter.com/BKXMH3Kaxl ANI (@ANI) January 28, 2022চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের ২০২১ সালের নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটেগরির পরীক্ষার এখনও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে। তবে বিক্ষোভ ভয়ঙ্কর আকার নেয় সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন। গয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জও করে পুলিশ।বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের তরফে আজ বিহারজুড়ে বনধের ডাক দেওয়া হয়। এদিন সকাল থেকেই থমথমে পরিস্থিতি চোখে পড়ে রাজ্যজুড়ে। একাধিক সড়ক ও হাইওয়ে বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্র ও পরীক্ষার্থীরা। জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন দোকান। টায়ার ও রেলমন্ত্রীর কুশপুতুল জ্বালিয়েও রাস্তা আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়েই কড়া পুলিশি পাহারা মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, তদন্তকারী কমিটি গঠন করে রেলের নিয়োগ উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন না হওয়া অবধি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।রাজ্যজুড়ে হিংসা, বিশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবারই রেলওয়ে বোর্ডের তরফে আপাতত নন-টেকনিক্যাল পপুলার বিভাগ ও লেভেল-১ পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যাবতীয় বক্তব্য শোনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দুই পক্ষের বয়ান শোনার পর ওই কমিটি রেল মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। অন্যদিকে, রেল মন্ত্রকের তরফে অপর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা ভাঙচুর ও বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা রেলের চাকরি পাবেন না।

জানুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

স্কুল খোলার দাবিতে বর্ধমানে শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠন

বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন চালুর দাবীতে পথে নেমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। স্কুল খোলার দাবিতে মঙ্গলবার বর্ধমানের কার্জনগেট চত্ত্বরে যৌথ ভাবে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে নামে এবিটিএ,এবিপিটিএ, এসএফআই এবং বিএসপিএসের সদস্যরা। সেখানেই তারা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।সরকার দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে আইন অমান্য আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি এদিন দিয়েছেন এসএফআই নেতৃত্ব।আন্দোলনকারীরা এদিন অভিযোগ করেন, রাজ্যে মেলা,খেলা সবই চলছে। সর্বত্র স্বাভাবিক জীবনযাপনও চলছে। অথচ শুধু বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়গুলি। দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে এসএফ আই আইন অমান্য আন্দোলন করবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত গুপ্ত বলেন, আমরা চাই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হোক। আবার স্কুলমুখী হোক ছাত্রছাত্রীরা। পঠন পাঠন চালুর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে পূর্বের শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এটাই আমাদের মূল দাবি। সুদীপ্তবাবু আরও জানান, এবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনুপস্থিত থেকেছে। বেড়েছে ড্রপ আউটের সংখ্যা। অনেক মেয়ে আছে যাদের অল্প বয়সে এই সময়ের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। এরকম অবস্থা যদি চালু থাকলে আগামি দিনে শিক্ষাব্যবস্থা আরও চরম সংকটে পড়বে। তাই তাঁরা চান অবিলম্বে পঠন-পাঠন শুরু হোক বিদ্যালয় গুলিতে। এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক অনির্বাণ রায় চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি তুলেছে বামপন্থী শিক্ষক এবং ছাত্র সংগঠন গুলি। রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ও মানবসম্পদের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলতে হবে। এই দাবিতে আগামী ২৭ তারিখ গোটা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা আকাশের নিচে ওপেন এয়ার ক্লাসরুম করবেন।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
দেশ

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত বিজেপি বিধায়কের ছেলে-সহ ৭ ডাক্তারি পড়ুয়া, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বিজেপি বিধায়কের পুত্র-সহ আরও ৬ জনের।মৃতরা সকলেই ডাক্তারি পড়ুযা।সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওয়ার্ধা থেকে দেওলি অভিমুখে যাচ্ছিল গাড়িটি। সেই সময় সেলসুরার কাছে একটি সেতু থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা সাতজনেরই। তাঁরা সকলেই সাওয়াঙ্গি মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া।Maharashtra | 7 medical students, including BJP MLA from Tirora constituency Vijay Rahangdales son Avishkar Rahangdale, died after their car fell from a bridge near Selsura around 11.30 pm on Monday (January 24) pic.twitter.com/Hc9WC7sZvx ANI (@ANI) January 25, 2022ঘটনায় টুইটে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাশাপাশি, দুর্ঘটনাগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন নমো। টুইটেই জানিয়েছেন মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।Pained by the loss of lives due to an accident near Selsura in Maharashtra. In this hour of sadness, my thoughts are with those who have lost their loved ones. I pray that those injured are able to recover soon: PM @narendramodi PMO India (@PMOIndia) January 25, 2022দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে অন্যতম মহারাষ্ট্রের তিরোরা বিজেপি বিধায়ক বিজয় রাহাংদালের পুত্র আবিষ্কার রাহাংদালে। পবন শক্তি নামে আরও একজন ছিলেন প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। বাকি চারজন ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।PM @narendramodi announced that Rs. 2 lakh each from PMNRF would be given to the next of kin of those who have lost their lives in the accident near Selsura. Those who are injured would be given Rs. 50,000. PMO India (@PMOIndia) January 25, 2022

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

করোনাকালে পড়ুযাদের মানসিক চাপ কমাতে রাজ্যের বিশেষ উদ্যোগ

করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে নানাভাবে সমস্যায় পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে।স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তাকে নিরাময় করতে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর বিশেষ ওয়েবিনার সিরিজের আয়োজন করার কথা ঘোষণা করেছে। ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের সামিল করে উজ্জীবন চর্চা নামে বিশেষ ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা নির্বাচিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। রবিবার আয়োজিত হবে প্রথম ওয়েবিনারটি। কোভিডকালে শিক্ষার্থী মন নামক এই ওয়েবিনারের আলোচকমণ্ডলীতে থাকবেন বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ রিমা মুখার্জি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও থেরাপিস্ট শ্রীমতী পায়েল ঘোষ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও স্পেশ্যাল এডুকেটর শ্রীমতী পৌষালী দাস।অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করবেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতী পাপিয়া নাগ। শিক্ষক শিক্ষিকা-সহ একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকরা এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকরা এই ওয়েবিনারে অংশ নিতে পারবে। অন্যদিকে, দুপুর ১.৩০ থেকে ২.৩০-এর মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ওয়েবিনারে অংশ নিতে পারবেন।তৃতীয়বারের জন্য সারা দেশ জুড়ে মারণ থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। এহেন পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। ফের একবার অনলাইন ক্লাসেই ফিরে গিয়েছে পড়ুয়ারা। করোনার সময় স্কুলের ক্লাসরুম থেকে বঞ্চিত হওয়া পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য একগুচ্ছ ওয়েবিনার নিয়ে হাজির হল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
রাজ্য

খুদেদের পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি ছুটছেন শিক্ষকরা

কোভিডের কারণে দীর্ঘ প্রায় দুবছর ধরে বন্ধ রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়। খুদে পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বিমুখ থাকার কারণে পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। শুধু দূরত্ব তৈরী হওয়াই নয়, বইয়ের প্রতি অনীহাও বাড়ছে খুদে পড়ুয়াদের। এমনকি লেখাপড়া শেখার প্রতি শিশুরা আগ্রহও হারাতে বসেছে। শহর হোক কিংবা গ্রাম সর্বত্রই ধরা পড়ছে এমনই ছবি। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়াদের পাঠ্যপুস্তকের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে রাখতে আসরে নামলেন বর্ধমানের একদল মানুষ তৈরির কারিগর। শিক্ষকদের এই মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অবিভাবক ও বর্ধমানে শিক্ষানুরাগীরা।শহর বর্ধমানে শ্যামসায়র এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষিকারা দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন। তাঁরা পড়ুয়াদের অবিভাবকদের বোঝাচ্ছেন, যাতে করে পড়ুয়ারা বাড়িতে পড়াশুনার অভ্যাসের মধ্যে থাকে। পাশাপাশি এই শিক্ষকরা পাঠ্যপুস্তকের প্রতি ভালবাসা না হারানোর জন্য পড়ুয়াদেরও অনরোধ করে চলেছেন। শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠের পড়ুয়ারা মূলত শহর বর্ধমানের রসিকপুর, বাবুরবাগ, সুভাসপল্লী, খোসবাগান, পাওয়ার হাউসপাড়া সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় থাকে। এই সকল এলাকায় গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি পৌছে শিক্ষক শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের অভিভাবকদের প্রতিনিয়ত বোঝাচ্ছেন। বার্তা একটাই, বইয়ের বিকল্প নেই তাই পাঠ্যফুস্তক পড়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। একই সাথে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চলছে ছাত্রছাত্রীদের বই ও স্কুল ড্রেস দেবার কাজও।স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘদিন স্কুলে আসতে পারছে না। স্কুলের তরফে আমরা পড়ুয়াদের সাথে যোগাযোগ রাখাছি। ওদের পড়াশোনার অভ্যাসের মধ্যে রাখতে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা হয়েছে। তবে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে সরাসরি শিক্ষকদের কাছে শিক্ষাগ্রহণ আর সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ, এই দুটো যে এক নয় তা এক বাক্যে স্বীকার করে নেন পলাশ বাবু। তিনি আরও বলেন, আমরা স্কুলের সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা যৌথ ভাবে প্রচেষ্টা চালচ্ছি যাতে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার অভ্যাসের মধ্যে থাকে। সেকারণেই আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সাথে দেখা করছি। সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে বই, পোষাক, মিড ডে মিল, কম্পিউটার শিক্ষা সহ একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়, এই বিষয়গুলি নিয়েও অভিভাবকদের কাছে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হেমা চৌধুরী।শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছে অভিভাবকরা। করোনা আবহে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বইয়ের প্রতি অনীহা বেড়েছে বলে স্বীকার করেন অভিভাবকেরা। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগ দেখে তাঁর সন্তানকে বেসরকারি স্কুল থেকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। নরেশ ধীবর নামে এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়ছে স্কুল ছুটের সংখা, এমন সময়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই প্রয়াস সত্যিই প্রসংসার দাবি রাখে।

জানুয়ারি ১৬, ২০২২
রাজ্য

College Student: প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় কলেজ ছাত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি

প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় কলেজ ছাত্রীকে মারধর ও তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মেমারি থানার পুলিস। ধৃতের নাম রোহন বাগ। মেমারি থানার পূর্ব গন্তারে তার বাড়ি। বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিনই ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নিের্দশ দেন সিজেএম।পুলিস জানিয়েছে, মেমারি থানারই কবিরপুরে ওই ছাত্রীর বাড়ি। তিনি মেমারি কলেজের বিএ প্রথমবের্ষর ছাত্রী। সোমবার বিকেলে তিনি মেমারি থেকে টিউশন পড়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পূর্ব গন্তারে একটি ক্লাবের কাছে রোহন তাঁর পথ আটকায়। তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে সে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। ওই ছাত্রী পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে খুন করা হবে বলে ছাত্রীকে হুমকি দেয় রোহন। ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। রাতেই ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রী। এ ধরনের আচরণে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে অভিযোগে জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

Vaccination of 15-18: ১৫-১৮ বয়সীদের টিকাকরণে ব্রাত্য বেসরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা, উদ্বেগ অভিভাবকদের

দেশজুড়ে ফের বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের প্রভাব। নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন বহু মানুষ। সারা দেশের সঙ্গে এরাজ্যেও জোরকদমে চলছে টিকাকরন প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৬ ডিসেম্বর ঘোষণা করেন ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের করোনা প্রতিষেধক দেওয়া হবে এবং ৬০ বছরের উর্ধে যারা তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে ১৫ থেকে ১৮ টিকাকরণ চলছে।আরও পড়ুনঃ জীবনের সেরা বোলিং, শার্দূলের দুর্দান্ত প্রত্যাঘাতে ম্যাচে ফিরল ভারতবিভিন্ন সরকারি স্কুল-এ আস্থায়ী ক্যাম্প করে এই টিকাকরণ প্রকল্প চলছে। শিবিরেগুলিতে উপস্থিতির হার আশাব্যাঞ্জক। এই টিকাকরন থেকে শধু ব্রাত্য বেসরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রশ্নের মুখে জেরবার। বর্ধমান শহরের এক বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের প্রিন্সিপ্যালকে ভ্যাকসিন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জনতার কথাকে বলেন, আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত কোন নির্দেশিকা নেই। আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি, কোনও সুরাহা হলেই ছাত্রদের জানিয়ে দেওয়া হবে।আরও পড়ুনঃ করোনাকালে বাড়ি বাড়ি খাবার পাঠাবে রাজ্যবেসরকারি ইংরাজি মাধ্যমে পাঠরত ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকদের প্রশ্ন, সরকার বলছে স্কুলে স্কুলে টিকা দেওয়া হবে, আমরা স্কুলে গেলে তাঁরা এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলছেন। এখন আমরা কোথায় যাব? আমাদের ছেলে মেয়েরা বেসরকারি স্কুলে পরে বলে কি এই দেশের নাগরিক নয়? স্কুল খুলে দিয়ে ছেলেদের ভ্যাকসিন না দিয়ে ছেলে, মেয়েগুলোকে মত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া ছাড়া কিছু না। এটা বেসরকারি স্কুলে পড়া ছেলে মেয়েদের সঙ্গে চরম বিমাতৃসুলভ আচরণ।আরও পড়ুনঃ ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবজনতার কথা এবিষয়ে বর্ধমান জেলা করোনা ভ্যাকসিন-র নোডাল জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক ডিপিআরডিও (DPRDO) অনুপ মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি জানান, এখনও অবধি বেসরকারি স্কুলে ভ্যাকসিন দেওয়ার কোনও নির্দেশিকা নেই।আরও পড়ুনঃ নামল তাপমাত্রার পারদ, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে হতে পারে বৃষ্টিওঅভিভাবকদের প্রশ্ন, যখন বন্যার স্রোতের মত করোনা ধেয়ে আসছে তখন এই কচি-কাঁচাদের ভয়ঙ্কর দোটানায় ফেলে রাখার দায় কার? কোনওরকম পরিকল্পনা না করেই কি এই ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম চলছে? নাকি একশ্রেণির মানুষকে খুশি করতেই এই বিমাতৃসুলভ আচরণ?

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
দেশ

Minor's Vaccination: আজ থেকে শুরু ১৫-১৮ বছর বয়সিদের টিকাকরণ

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ১৫-১৮ বছর বয়সিদের টিকাকরণ। দেওয়া হচ্ছে কোভ্যাকসিন। কোউইন পোর্টালে জোরকদমে চলছে রেজিস্ট্রেশন। ভ্যাকসিনেশন হচ্ছে স্কুলে। কলকাতার ১৬টি স্কুল চূড়ান্ত করেছে পুরসভা। একইসঙ্গে ৩৭ কোভ্যাক্সিন সেন্টার থেকেও দেওয়া হবে প্রতিষেধক। তালিকায় নাম থাকা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আধার কার্ড নিয়ে যেতে হবে যারা স্কুলছুট বা স্কুলে পড়ে না, এমন ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের টিকা পুরসভার কেন্দ্রে পুরসভার ৩৯টি টিকাদান কেন্দ্রের যে কোনও একটিতে যেতে হবে।প্রসঙ্গত, যাঁরা স্কুল ছুট বা স্কুলে পড়ে না, এমন ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের টিকা পুরসভার কেন্দ্রে হবে। কলকাতা পুরসভার ৩৯ টি টিকাদান কেন্দ্রের যে কোনও একটি যাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তালিকায় নাম থাকা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আধার কার্ড নিয়ে যেতে হবে। সারদা ইন্সস্টিটিউশন ফর গার্লস, গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাস স্কুল ফর বয়েজ টাকি হাউজ, চেতলা গার্লস হাইস্কুল, সন্তোষপুর ঋষি অরবিন্দ বালিকা বিদ্যালয়, গার্ডেনরিচ নুটবিহারি গার্লস হাইস্কুল-সহ কলকাতার একাধিক স্কুলে টিকাকরণ হচ্ছে।বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, কোভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত সামান্য। বাচ্চাদের অল্প জ্বর আসতে পারে, গলা ব্যথা, গা হাত পা ব্যথা হতে পারে টিকা নেওয়া পর। তবে তাতে ভয় পাওয়া কিচ্ছু নেই বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। এগুলি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চলে যাবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভয় পেয়ে বাচ্চাদের ভ্যাকসিন না দেওয়ানো, অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত হবে বলে অভিভাবকদের সচেতন করেছেন চিকিৎসকরা।কো-উইন তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত সারা দেশের সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি ১৫-১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীরা টিকাকরণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মাণ্ডব্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে টিকাকরণের জন্য বয়সের ভিত্তিতে আলাদা আলাদাভাবে ভ্যাকসিন সেন্টার, সেশন সাইট, লাইন ও টিকাকরণ কর্মীদের টিম তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দেওয়া হবে কোভ্যাক্সিন।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্থায়ীকরণ ও ‘সমকাজে সমবেতন’-এর দাবিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দ্বারস্থ SACTWA, ইতিবাচক আশ্বাসে বাড়ল প্রত্যাশা

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মরত রাজ্য-সহায়তা প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (State Aided College Teachers Welfare Association - SACTWA)-এর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে SACT শিক্ষকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সমকাজে সমবেতন নীতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত SACT শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোরালো দাবি তোলা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও SACT শিক্ষকদের বেতন ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।এছাড়াও প্রতিনিধি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র নির্বাচনী সংকল্প পত্রে SACT শিক্ষকদের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানায়। সংগঠনের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব রূপ দেওয়া উচিত।সংগঠনের দাবি ও বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও মন্ত্রীর এই আশ্বাসে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দাস, জেলা সভাপতি নন্দন মান্না, মনোজ কুমার মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি অমিতাভ পাহাড়ি, পীযূষ দাস মহাপাত্র, সুব্রত ভট্টাচার্য-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SACT শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের পরই সিট গঠন, একের পর এক গ্রেপ্তার

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।রবিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই তদন্তে আরও গতি আসে। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এগারো বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে পথ অবরোধ করা হয়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। এর জেরে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় এবং একাধিক পুলিশ গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।এই ঘটনার জেরে বারুইপুর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে আক্রমণ, অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্নে প্রসাধনী বাছাইয়ে সতর্কতা, কী রাখবেন বিউটি কিটে?

এ বছর বর্ষার আগমন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে এখন বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় একদিকে যেমন মিলেছে স্বস্তি, অন্যদিকে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। এই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের ওপরও পড়ছে বিশেষ প্রভাব। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো এবং আর্দ্রতার কারণে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষাকালে সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন এবং নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে ত্বক ও চুলের নানাবিধ সমস্যা। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, ধুলো এবং বৃষ্টির জল মিলিয়ে এই সময়ে ত্বক হয়ে উঠতে পারে তৈলাক্ত, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় ব্রণ, র্যাশ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই বর্ষাকালে প্রসাধনী ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনীর বদলে হালকা, নন-কমেডোজেনিক (যা সহজে রোমছিদ্র বন্ধ করে না) এবং জলভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করাই ভালো। এতে ত্বক সতেজ থাকে এবং ব্রণের ঝুঁকিও কমে।বর্ষার বিউটি কিটে কী কী রাখবেন?১. মৃদু ফেসওয়াশ:দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ধুলো ও অতিরিক্ত তেল দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করাও ঠিক নয়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।২. হালকা ময়েশ্চারাইজার:অনেকেই মনে করেন বর্ষায় ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা জেল বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।৩. সানস্ক্রিন:মেঘলা আকাশ থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে উপযুক্ত এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।৪. ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ:বর্ষায় সাধারণ মেকআপ সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ কাজল, মাসকারা, আইলাইনার ও লং-লাস্টিং ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক থাকে।৫. হালকা লিপ বাম:বৃষ্টির সময়েও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁট নরম ও সুরক্ষিত থাকে।চুলের যত্নেও নজর দিনবর্ষায় চুলে আর্দ্রতার প্রভাব বেশি পড়ে। ফলে খুশকি, চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা বা অপরিষ্কার রাখা উচিত নয়।প্রসাধনী ব্যবহারে যেসব ভুল এড়াবেন* মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।* অন্যের মেকআপ বা প্রসাধনী ভাগ করে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।* ভেজা হাতে প্রসাধনীর পাত্রে বারবার হাত দেবেন না।* ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করুন।* সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণপ্রসাধনী ব্যবহার যতই হোক, পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমই ত্বক ও চুল ভালো রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। বর্ষায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী নির্বাচন করলেই এই মৌসুমেও সৌন্দর্য থাকবে অটুট।মনে রাখবেন: বাজারে নতুন কোনও প্রসাধনী কেনার আগে তার উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই নতুন পণ্য ব্যবহার করুন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

১৪ বছর পরও মেলেনি বিচার! বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবিতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

আরও একটি পাঁচ জুলাই। প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে হত্যার চৌদ্দ বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ তুলছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের তদন্তেও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে দাবি তাঁদের। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসুক এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক।দুই হাজার বারো সালের পাঁচ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে গুলিতে নিহত হন উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন। সুটিয়া গণধর্ষণ মামলায় তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যকে নাড়া দিয়েছিল।ঘটনার এত বছর পরেও মামলার পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মামলাটি আবার তদন্ত করে সমস্ত সত্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকীতে এদিন সুটিয়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকাজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে ব্যানার ও শ্রদ্ধার্ঘ্য দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিল, শোকসভা এবং তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন স্থানীয় মানুষ। উপস্থিত বক্তারা একটাই দাবি তোলেন, এত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সদস্য প্রমানন্দ কবিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। তাই নতুন করে তদন্ত করে সমস্ত সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দারের বক্তব্য, নতুন সরকার বিভিন্ন পুরনো ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে। তাই বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলাতেও নতুন তদন্ত শুরু হবে বলে তাঁদের আশা।বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।অন্যদিকে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, প্রতিবাদী মঞ্চের উদ্যোগে বসানো আবক্ষ মূর্তিটি বরুণ বিশ্বাসের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়। এই বিষয় নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
দেশ

দানবাক্সের চুরি বন্ধ হতেই অবিশ্বাস্য বদল! প্রতিদিন কোটি টাকার বেশী বাড়ছে রাম মন্দিরের

pরাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে নিয়মিত চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর বদলে গিয়েছে ছবিটা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার পরেই মন্দিরের দৈনিক নগদ আয়ে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ষোলো থেকে আঠারো লক্ষ টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় আট লক্ষ টাকা বেশি জমা পড়ছে।সূত্রের দাবি, বিশেষ উৎসব বা বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে অনুদানের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে সাধারণ দিনগুলিতেও এতদিন যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়ত, এখন তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের অনুদান গ্রহণের কাউন্টারগুলিতেও আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ষাট হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্কও বেড়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলেই সরকারি হিসাবে কম টাকা জমা পড়ছিল।শুধু নগদ অর্থ নয়, দানে পাওয়া সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়েও তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া সোনার কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায় এবং লুকিয়ে রাখা যায়।বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই মন্দিরে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দানে পাওয়া গয়না, মূল্যবান সামগ্রী, সংরক্ষণের নথি এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সরকারি টাঁকশালের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক এবং সরকারি টাঁকশালে পাঠানো সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাবও চাওয়া হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দানে পাওয়া সমস্ত সোনা ও মূল্যবান ধাতু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংরক্ষণ বা জমা করা হয়নি। এর একটি অংশ নগদ অর্থের সঙ্গে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের দানের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে সেই বৈঠকগুলিতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হত না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে পুলিশের জালে কুখ্যাত মিনি ফিরোজ! মাথায় ৩৭টি মামলা, ভোরে নাটকীয় গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হল গুলশন কলোনির কুখ্যাত দুষ্কৃতী মিনি ফিরোজ ওরফে মহম্মদ ফিরোজ খান। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সাজিদও। রবিবার ভোরে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছ থেকে গুন্ডাদমন শাখার বিশেষ অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের তপসিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে মোট সাঁইত্রিশটি মামলা রয়েছে। গুলিচালনা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, ভয় দেখানো, দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হয়েছে। বহুবার পুলিশের নজরে এলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।গত প্রায় এক দশক ধরে মধ্য কলকাতার গুলশন কলোনিতে মিনি ফিরোজের দাপট ছিল বলে অভিযোগ। গত বছর গুলিচালনার একটি ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। সেই সময় অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয় এবং পরে দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরও তাঁর দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ।তদন্তে উঠে এসেছে, মিনি ফিরোজ একা নয়, নিজের একটি দল নিয়েই এলাকায় সক্রিয় ছিল। সেই দলে মহম্মদ সাজিদ, মুস্তাফা-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। কসবার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এতদিন সবাই গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও পুলিশের নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলেনি।রাজ্যে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে চলা বিশেষ অভিযানের মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে অভিযান চালায় গুন্ডাদমন শাখা। সেখান থেকেই মিনি ফিরোজ এবং সাজিদকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তপসিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
উৎসব

রথযাত্রায় ঐতিহ্যের পাশে রাজ্য, ১০০-১৫০ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান; জেলাজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ নবান্নের

রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবগুলিকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা এবং উল্টোরথকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক (ডিএম)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় রথযাত্রার রুট এবং প্রধান জনসমাগমস্থলে সেবা শিবির (ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প) গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে হবে। প্রতিটি জেলার জন্য এই শিবির পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবা শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভক্তবান্ধব পরিষেবাও চালু করা যাবে।এছাড়াও, কোনও জেলার প্রশাসনের মতে যদি কোনও রথযাত্রা কমিটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিপুল জনসমাগম বা উৎসবের ব্যাপ্তির কারণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার যোগ্য হয়, তবে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উৎসবের আগেই জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, রথযাত্রার রুট ও সেবা শিবিরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে। পাশাপাশি, ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবিরে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।উৎসব শেষ হওয়ার পরে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে গৃহীত পদক্ষেপ, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ, উৎসাহ প্রদান এবং ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হল মাহেশ রথযাত্রা।মাহেশ রথযাত্রা (হুগলি),স্থান: মাহেশ,জেলা: হুগলী,শ্রীরামপুর মহকুমা,শুরু: আনুমানিক ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রতিষ্ঠাতা: ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী (Dhrubananda Brahmachari)-এর মাধ্যমে জগন্নাথদেবের পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়।বয়স: প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি (২০২৬ সালের হিসেবে)।বিশেষত্ব: এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, India-র অন্যতম প্রাচীন এবং Puri-র বাইরে সবচেয়ে বিখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রাগুলির একটি।ইতিহাসমাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে বহু শতাব্দী ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশাল কাঠের রথটি ১৯শ শতকে নতুনভাবে নির্মিত হলেও রথযাত্রার ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।উল্লেখযোগ্য প্রাচীন রথযাত্রামহেশ রথযাত্রা, শ্রীরামপুর (হুগলী জেলা)(Mahesh Rath Yatra) প্রায় ৬৩০+ বছরের ঐতিহ্য।গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা (হুগলী জেলা) Guptipara Rath Yatra প্রায় ২৭০৩০০ বছরের ঐতিহ্য; ভাণ্ডার লুঠ উৎসবের জন্য বিখ্যাত।ময়না রথযাত্রা, চিরঞ্জীবপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) Moyna Rath Yatra কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।মহিষাদল রথযাত্রা, (পূর্ব মেদিনীপুর) Mahishadal Rath Yatra রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক রথযাত্রা।পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক ঐতিহাসিক রথযাত্রা হিসেবে হুগলির মাহেশ রথযাত্রা-ই স্বীকৃত। এর ইতিহাস প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে ধরা হয়, ফলে এটি ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

পলাতক সুমিতকে খুঁজতে এবার বড় পদক্ষেপ! রাতভর জেরায় উঠে এল কোন নতুন সূত্র?

জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এখনও অধরা। তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সুমিতের সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরার সূত্র ধরেই পলাতক সুমিতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে দেবরাজ চক্রবর্তীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিত রায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই দেবরাজের কাছ থেকে সুমিতের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রথম সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। পাশাপাশি সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি করা হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।অন্যদিকে, সম্প্রতি তোলাবাজি, হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। বর্তমানে তিনি তদন্তকারীদের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে বাগুইআটি থানায় তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেবরাজের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সুমিত রায়ের কোনও যোগ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তোলাবাজির মাধ্যমে আদায় হওয়া টাকা সুমিতের কাছে পৌঁছত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ মনে করছে, দেবরাজের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এই মামলার আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই আগামী দিনেও তাঁকে ফের জেরা করা হতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal