• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Purba Bardhaman

রাজ্য

Ear Bitten: প্রতিবেশীর গোটা কান কামড়ে ছিঁড়ে নিল নেশা আশক্ত যুবক, চাঞ্চল্য গুসকরায়

নেশা করে বাড়ি ফিরে মা ও বোনকে মারধর করছিল ছেলে। তাঁদের রক্ষা করতে যাওয়া প্রতিবেশী পরিবারের যুবকের কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো নেশা আশক্ত বিশ্বজিৎ সরকার ওরফে বুলানের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বজ্রাপুকুর পাড় এলাকায়। কান খুইয়ে আক্রান্ত রাজা মাজি রবিবার বুলানের বিরুদ্ধে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজা মাজি গুসকরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বজ্রাপুকুর পাড় এলাকারই বাসিন্দা। পেশায় তিনি গুসকরা পৌরসভার সাফাই কর্মী। পুলিশকে রাজা মাজি জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ির পাশেই বিশ্বজিৎ সরকার ওরফে বুলানের বাড়ি। শনিবার রাতে বাড়ির কাছে ক্লাব ঘরে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে তাস খেলছিলেন। ওই রাতে নেশা করে বাড়ি ফিরে বুলান তাঁর মা ও বোনকে ব্যাপক মারধোর শুরু করে। অশান্তি থামিয়ে মা ও মেয়েকে রক্ষা করার জন্য তিনি বুলানের বাড়িতে যান। রাজা মাজির অভিযোগ, ওই সময়ে বুলান রডে করে তাঁকে মারধোর শুরু করে। পরে বুলান তাঁর বাঁ দিকের গোটা কানটি কামড়ে ছিঁড়ে নেয়। রাজা মাজি এদিন দাবি করেন, মদ ও ড্রাগেরআরও পড়ুনঃ মহামারী আইনে গ্রেফতার দেবাংশু-জয়া-সুদীপরা, ত্রিপুরা যাচ্ছেন অভিষেকনেশায় আশক্ত বিশ্বজিৎ সরকার তাকে খুন করতেও চেয়েছিল। তা না পেরে তাঁর কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে বুলান। স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ হাজরা জানিয়েছেন, এলাকায় নেশা আশক্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। নেশা আশক্ত বিশ্বজিৎ সরকার ওরফে বুলান নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যদিও গুসকরা ফাঁড়ির এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হযেছে। অভিযুক্তের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

আগস্ট ০৮, ২০২১
রাজ্য

Vandalizing : পুলিশের উপরে হামলা ও পুলিশ গাড়ি ভাঙচুরের দায়ে গ্রেপ্তার প্রৌঢ়

পুলিশে উপর হামলা ও পুলিশ গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক বৃদ্ধ। ধৃতের নাম বদরে আলম শেখ ওরফে মিঠু। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার মির্জাপুর গ্রামে। মেমারি থানার পুলিশ শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এদিনই ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। সিজেএম ধৃতকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ এবার দলের কর্মীদের দিয়ে পায়ে জুতো গলিয়ে বিতর্কে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কপুলিশ জানিয়েছে, গত ২৫ জুলাই মেমারি বড় পলাশন গ্রামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিট হয়। খবর পেয়ে পুলিস সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ জমায়েত সরানো ও দুপক্ষকে গণ্ডগোল থামানোর জন্য বলে।সেই কথা না শুনে উল্টে কয়েকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিসকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়া শুরু করে। ইটের ঘায়ে পুলিসের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর মেমারি থানার ওসি বিশাল পুলিশী বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার বিষয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, পুলিশের উপর হামলা চালানো ও সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সেই মামলায় বদরে আলম শেখ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল।

আগস্ট ০৮, ২০২১
রাজ্য

Bribery : বিল্ডিংয়ের নকশা পাশ করাতে মোটা টাকা ঘুষ, বর্ধমানে অভিযুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য

বিল্ডিং-এর নকশা অনুমোদনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অভিযুক্ত সদস্যা মিতা দাস।এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ তৃণমূলের এক কর্মীও মিতা দাসের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এলাকার তৃণমূল নেত্রী তথা পঞ্চায়েত সদস্য মিতা দাস ওই তৃণমূল কর্মীকেই তোলাবাজ আখ্যা দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ পূর্ব বর্ধমানে বজ্রপাতে মৃত ৩, জখম ৭বিল্ডিং এর নকশা অনুমোদনের জন্য যারা পঞ্চায়েত সদস্য মিতা দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিজয় সাঁই। ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচাঁদাইপুরে তাঁর ওষুধের দোকান। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ইতামধ্যেই বিজয় সাঁইকে ওই দোকান ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দিয়েছে। সেইজন্য তিনি তড়িঘড়ি এই দোকানের পিছনে থাকা জায়গায় আইন মেনে দোকানঘর তৈরির নকশা অনুমোদনের আবেদন করেন পঞ্চায়েতে। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর কাছ থেকে প্ল্যান পাশ করাতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন বৈকন্ঠপুর ২ পঞ্চায়েতের সদস্য মিতা দাস। তার অভিযোগ, আজ অবধি নকশা পাশ হয়নি। এলাকার তৃণমূলকর্মী মোজাম্মেল শাহের অভিযোগ, মিতা দাস এভাবেই ঘুষ নিয়ে থাকেন। তাঁকে টাকা দিয়েই বাড়ি কিংবা দোকান ঘর তৈরির জন্য প্ল্যান নিতে হয়। মিতা দাসকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছেন মোজাম্মেল শাহ।আরও পড়ুনঃ শনিবার দিনভর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসএই বিষয়ে মিতা দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ মিথ্যা। কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মোজ্জামেল শাহ-ই তোলাবাজ।উনি শিখিয়ে পড়িয়ে এই অভিযোগ করিয়েছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, প্ল্যান পাশ করাতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করাতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে দল ব্যবস্থা নেবে।

আগস্ট ০৭, ২০২১
রাজ্য

Lightning: পূর্ব বর্ধমানে বজ্রপাতে মৃত ৩, জখম ৭

বজ্রপাতে একই দিনে পূর্ব বর্ধমানে মৃত্যু হল তিন খেত মজুরের। জখম হয়েছেন আরও সাত জন। মৃতরা হলেন বনমালি ধারা (৬০) ও শুকুরমনি সরেন (২২) ও কালিরাম হাঁসদা (৩৫)। শনিবার বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বিল্বগ্রামে, রায়না ২ ব্লকে দিঘুরা ও মেমারির কাশিয়াড়া গ্রামে। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসনের কর্তারা।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়াপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের বিল্বগ্রাম নিবাসী বনমালি ধারা সহ রবি বাগদি, মমতা বাগদি, মঞ্জু বাগদি, জ্যোৎস্না বাগদি, শেফালি বাগদি প্রমুখরা একসঙ্গে স্থানীয় মাঠে ধান বোনার কাজ করছিলেন। ওই সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মাঠে বাজ পড়লে সেখানেই বনমালি ধারার মৃত্যু হয়। জখম হন বাকি পাঁচ খেত মজুর ।জখমদের সকলকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আরও পড়ুনঃ বাবাকে দেওয়া কথা রেখে ব্রোঞ্জ জিতলেন বজরং পুনিয়াবজ্রপাতে অপর মৃত শুকুরমনি সরেনের বাড়ি বর্ধমান ২ ব্লকের বড়শুলে। জেলার জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুর গ্রামে শুকুরমনির বাপের বাড়ি। খেত মজুরির কাজ করার জন্য তিনি রায়না ২ ব্লকে আরুই পঞ্চায়েতের নিলুট গ্রামে দিদির বাড়ি গিয়েছিলেন। এদিন দুপুরে শুকুরমনিসহ ওই এলাকার বাসিন্দা মণিকা মাণ্ডি, মানসী হেমব্রম স্থানীয় দিঘুরা গ্রামের মাঠে কাজ করছিলেন। এলাকার যুবক শেখ নজু জানান, দুপুরে হঠাৎই বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে মাঠেই মারা যান শুকুরমনি সরেন। জখম হন মণিকা মাণ্ডি, মানসী হেমব্রম। তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে মেমারির সাহানগর গ্রাম নিবাসী কালিরাম হাঁসদা মেমারির কাশিয়াড়া গ্রামে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করার সময়ে বজ্রপাতে মারা যান।

আগস্ট ০৭, ২০২১
রাজ্য

Ganga Water Level: ভাগীরথীর জল ছুঁইছুঁই ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন, বিপত্তি পূর্বস্থলীর গ্রামে

কয়েকদিনের নাগাড়ে বৃষ্টিপাত ও তার সঙ্গে জলাধার থেকে ছাড়া জলে ফুলেফেঁপে উঠেছে ভাগিরথী নদী। আর তাতেই ঘটেছে বিপত্তি ।ভাগীরথীর জল ছুঁইছুঁই ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার। সেই কারণে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের ঝাউডাঙা পঞ্চায়েতের ঝাউডাঙ্গা এবং হালতাচড়া গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই দুই গ্রামের দেড়শোটি পরিবার। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দপ্তরে দরবার করেও সুরাহা না মেলায় ক্ষোভে ফুঁষছেন গ্রামবাসীরা।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন পোস্টার বয় নীরজ চোপড়াভাগীরথীর একপাড়ে পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রাম। এই গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে ভাগীরথীর অপর পাড়ের নদিয়ার বেথুয়াডহরি থেকে। এলাকার বাসিন্দা প্রহ্লাদ ঘোষ শনিবার জানান, ভাগীরথীর দুই পাড়ে পোলে ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার টানা হয়েছে। ভাগীরথী এখন জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুতের তার ভাগীরথীর জলে ঠেকতে আর হাত কয়েক বাকী। সেই কারণেই গ্রামের লাইনে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে বিদ্যুৎ দফতর। এরফলে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামের দেড়শটি পরিবার সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে।অপর বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডল বলেন, ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎতের তার যখন টানা হয় তখনই গাফিলতি ছিল। তার উঁচু করে টানা হয়নি। সেই জন্য ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামে বিদ্যুৎ আসার পর থেকে প্রতি বছর বর্ষায় গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। ১১হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার অ্যাঙ্গেলের সাহায্যে উঁচু করার জন্য বহুবার দুই গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ দফতরে দরবার করেছিল। কিন্তু কোন ফল হয়নি। শুক্রবারও নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে বিদ্যুৎ দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় হালতাচড়া এবং ঝাউডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের শনিবার গ্রামে লাইন ঠিক করতে আসার কথা ছিল। কিন্তু কেউ আসেনি। এইভাবেই প্রতি বছর বর্ষায় ভোগান্তি চলছেই। তার বিরাম ঘটছে না। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রাম। দুর্ভোগের অবসান কবে ঘটবে তা জানা নেই পূর্বস্থলীর এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের। দুই গ্রামের অনেকেই টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।টোটোয় চার্জ না থাকায় সেই টোটোগুলিও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমে গ্রামের কয়েকশো মানুষ ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। গ্রামের ছাত্র আশিষ ঘোষ জানায়, এখন তাঁদের অনলাইনে পড়াশুনো চলছে। কারেন্ট না থাকায় মোবাইল ফোনে চার্য দেওয়ার সূযোগ না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে রয়েছে। তাই লাটে উঠেছে অনলাইনে পড়াশুনা। সন্ধ্যা নামলে লম্ফ অথবা হ্যারিকেনের আলোয় কোনরকমে রাত কাটাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতর দ্রুত ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার টেনে উুঁচু করার ব্যবস্থা করে দুর্ভোগ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করুক, এমনটাই দাবি দুই গ্রামের পড়ুয়াদের।আরও পড়ুনঃ শনিবার দিনভর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসএই বিষয়ে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভাগীরথী জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুতের তার নদীর জল ছুঁইছুই হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ওই তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত থাকলে ভয়ানক বিপদ ঘটে যাবে বলে বিদ্যুুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নদীর জল না কমা পর্যন্ত কিছু করার নেই। ওই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতেই হবে।

আগস্ট ০৭, ২০২১
রাজ্য

Indian Army: সেনা জওয়ানের বাড়িতে তালা ভেঙে সর্বস্ব চুরি

চুরির ঘটনার বিরাম নেই পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। এবার সেনা জওয়ানের বাড়ির দরজার তালা ভেঙে সর্বস্ব চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে চোর। ঘটনাটি ঘটেছে ভাতার বাজারের রামকৃষ্ণনপল্লী এলাকায় । সেনা জওয়ানে স্ত্রী তাপসী ঘোষ শুক্রবার দাবি করেছেন, নগদ টাকা, সোনার গহনাসহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী তাঁর ঘর থেকে নিয়ে গিয়েছে চোর। ঘটনার খবর পেয়েই সেনা জওয়ানের বাড়িতে তদন্তে যায় ভাতার থানার পুলিশ। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত চুরির ঘটনার কোনও কুলকিনারা করতে পারেনি।তাপসী ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ভারতীয় সেনা বাহিনীর জওয়ান। তিনি এখন অরুনাচল প্রদেশে ভারত-চীন সিমান্ত পাহারার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ভাতার বাজারের রামকৃষ্ণ পল্লী এলাকার বাড়িতে তাই একাই থাকেন তাপসীদেবী। তাঁর শ্বশুর বাড়ি ভাতারের এরুয়ার গ্রামে। তিনি জানান, তাঁর শ্বশুরবাডির এক আত্মীয় সম্প্রতি মারা যান। ওই আত্মীয়র পরলৌকিক কাজে যোগ দিতে দিন তিনেক আগে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তাপসীদেবী জানান, এদিন সকালে এক প্রতিবেশী তাঁকে ফোনে জানায় তাঁদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়েই তিনি তাঁর দাদার সঙ্গে নিজের বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে এসে দেখেন কলাপসিবল গেটের পাশাপাশি বাড়ির পিছনের গেটেরও তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুটি ঘরের দরজার তালাও ভাঙা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে দেখেন ঘরের সব জিনিসপত্র লন্ডভন্ড হয়ে রয়েছে। আলমারির তালা ভেঙে নগদ ২৫-৩০ হাজার টাকা, দামি দামি শাড়ি, ২০-২৫ ভরি সোনার গহনা কাঁসা পিতলের বাসনপত্র যা কিছু ছিল সব চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে তাপসীদেবী জানিয়েছেন।এলাকাবাসী জানিয়েছে, ইতিপূর্বে ভাতার বাজার এলাকায় একাধিক বাড়িতে এইভাবে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোনও চুরির ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এবার চোরেদের দৌরাত্ম্যের হাত থেকে দেশের সেনা জওয়ানের বাড়িও ছাড় পেল না।

আগস্ট ০৭, ২০২১
রাজ্য

সাঁতরে খড়ি নদি পেরিয়ে জমিতে যেতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন প্রৌঢ়

সাঁতরে ভরা খড়ি নদি পেরিয়ে চাষের জমিতে যাওয়ার সময়ে তলিয়ে গেলেন এক প্রৌঢ় চাষি। তাঁর নাম সাহাদাত মোল্লা (৭০)। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের শুশুনিয়া পঞ্চায়েতের ভোজপুর গ্রামে তার বাড়ি। এই খবর পেয়ে পুলিশ ও ব্লক বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের কর্তাদের পাশাপাশি এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌছান। তারই মধ্যে কালনা থেকে ডুবুরির দল এসে নদিতে নেমে সাহাদাত মোল্লার খোঁজ চালানো শুরু করে। যদিও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তার হদিশ মেলেনি। এই অবস্থায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন চাষি সাহাদাত মোল্লার পরিবার।আরও পড়ুনঃ এবার দলের কর্মীদের দিয়ে পায়ে জুতো গলিয়ে বিতর্কে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কপলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বরের খড়ি নদির পারেই রয়েছে ভোজপুরের বাসিন্দা সাহাদাত মোল্লার কৃষি জমি। বছরের অন্যান্য সময়ে নদিতে তেমন জল থাকে না বলে এলাকার আর পাঁচটা চাষির মতো তিনি তখন হেঁটে নদি পেরিয়ে জমিতে যেতেন। তবে বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে খড়ি নদিতে এখন কানায় কানায় জল । সহাদাত এদিন সকালে ভরা নদী সাঁতরে জমিতে যেতে গিয়ে তলিয়ে যান। ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এলাকার কয়েকজন নদীর জলে নেমে তাঁর খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু খোঁজ পান না। পরে ডুরিরা নদির জলে সন্ধান চালিয়েও তাঁর হদিশ পায়নি। প্রৌঢ় চাষির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

আগস্ট ০৬, ২০২১
রাজ্য

Damodar: জল কমতেই পূর্ব বর্ধমানের দামোদর পাড়ে ভাঙন আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে বাসিন্দাদের

কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও তার সঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলে ফুলেফেঁপে উঠেছিল দামোদর। তার জেরে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছিল প্লাবন পরিস্থিতি। আর এখন দামোদরের নদে জল কমতেই তার পাড় জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। রোয়া ধান জমি, সবজি চাষের জমি সবই দামোদরের গর্ভে চলে যেতে শুরু করায় মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের অমরপুর এলাকার চাষিদের। এই পরিস্থিতিতে কি ভাবে চাষ জমি রক্ষা করবেন সেকথা ভেবেই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অমরপুরের চাষিরা। তারা চাইছেন নদী পাড়ের ভাঙন আটকাতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক রাজ্য সরকার।আরও পড়ুনঃ প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে চালকের আসনে ভারতজামালপুর ব্লকের জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের বহু গ্রামই দামোদর লাগোয়া। এখানকার অমরপুর, শিয়ালী, কোড়া, মাঠ শিয়ালী প্রভৃতি গ্রামের সিংহভাগ বাসিন্দাই কৃষিজীবী। দামোদরের ধার বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে তাঁদের অনেকেরই চাষজমি। এখন অমরপুর এলাকায় দামোদরের পাড় জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এলাকার প্রবীন চাষি শেখ মোবারক বলেন, বিগত কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত ও ডিভিসির জলাধার থেকে ছাড়া জলে দামোদর ফুলেফেঁপে উঠেছিল। এখন সেই জল কমতেই অমরপুরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় দামোদরের পাড়জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। রোয়া ধান জমি, সবজি চাষের জমি সবই চলে যাচ্ছে দামোদরের গর্ভে। শেখ মোবারক আরও জানান, দামোদরের ধারে তাঁর ৩ একর ২৭ শতক চাষ জমি ছিল। দামোদরের পাড় ভাঙনে বিগত কয়েক বছরে তাঁর ১ একর জমি নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। এখন ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। এবার কতটা জমি দামোদরের গর্ভে তলিয়ে যাবে সেই দুশ্চিন্তায় তিনি এখন দিন কাটাচ্ছেন। এলাকার অপর চাষি সনাতন মাল, মৃত্যুন মাল প্রমুখরা বলেন, প্রতিবছর অমরপুর এলাকার চাষজমি দামোদরের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। চাষিরা জমিহারা হচ্ছে। অথচ নদী পাড়ের ভাঙন আটকানোর জন্য কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। দামোদরে জল বাড়লে নেতা, মন্ত্রিরা এলাকায় এসে ছবি তুলে চলে যায়। কাজের কাজ আর কিছুই হয় না।অমরপুরের চাষিরা জমিহারা হয়েই চলেছে।আরও পড়ুনঃ কলকাতাগামী ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস লিকেজ, ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল বর্ধমানেচাষিদের আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারেননি জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চল তৃণমূলের যুব সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অমরপুর এলাকায় যে ভাবে দামোদরের পাড় ভেঙে চাষ জমি নদী গর্ভে তা সত্যি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু জমি নদি গর্ভে তলিয়ে গেছে। এলাকায় হাইস্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। ভাঙন যে ভাবে বাড়ছে তা দেখে মনে হচ্ছে এইসব কিছুও দামোদরের গর্ভে চলে যাবে কি না! রফিকুলবাবু জানান, ১০ বছর ধরে তাঁরা পুরশুড়া ও চাপাডাঙার সেচ দপ্তরের অফিসে ভাঙনের বিষয়ে লিখিত ভাবে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও কোন সুরাহা হয়নি। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন এই প্রসঙ্গে জানান, অমরপুরে নদী পাড়ের ভাঙন তিনি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে এসেছেন। ভাঙন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একই কথা শুনিয়েছেন জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু নদী পাড়ের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

আগস্ট ০৬, ২০২১
রাজ্য

Gas leakage: কলকাতাগামী ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস লিকেজ, ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল বর্ধমানে

কাকভোরে ট্যাঙ্কার ফেটে কার্বন ডাই অক্সাইড লিক করে আতঙ্ক ছড়ায় বর্ধমানে। ২ নং জাতীয় সড়কের পাশে তেলিপুকুরে আন্ডারপাসের ওপর গ্যাসের ট্যাঙ্কারে বিপত্তি ঘটলে পুলিশ ও দমকলের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। জানা গিয়েছে, গাড়িটি কলকাতা যাচ্ছিল।শুক্রবার ভোরে লক্ষ্ণৌ থেকে কলকাতাগামী একটি ট্যাঙ্কারের হুইল কেটে বার্স্ট করে যায়। জানা গিয়েছে, এসআইসিজিআই এলের গাড়িটি কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা ছিল। মনে করা হচ্ছে, আগে থেকেই ট্যাঙ্কারে অল্প লিকেজ ছিল। জাতীয় সড়কের তেলিপুকুরে আন্ডারপাশের ওপর প্রশাসনিক ভবনের কাছে ট্যাঙ্কারটি বার্স্ট করে। গোটা এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয় পড়ে। ভয়ে মানুষজন সেখান থেকে দূরে সরে যান। খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত দমকল আর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। দমকলের দুটি এঞ্জিন গ্যাস রিলিজ করে গাড়িটিকে নিরাপদ দুরত্বে নিয়ে যায়। কাজে হাত লাগায় পুলিশও।এলাকার বাসিন্দা পাপন মিত্র জানান, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম আমরা। প্রশাসনে খুব ভালো কাজ করেছে।

আগস্ট ০৬, ২০২১
রাজ্য

Sucide: স্ত্রীকে খুন করে সেই ছুরিতে গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর, চাঞ্চল্য মেমারিতে

পারিবারিক সমস্যা নিয়ে বাকবিতন্ডা চালার সময়ে গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে স্ত্রীকে খুন করার পর নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলো স্বামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়ারা সোমেষপুর এলাকায়। মৃতার নাম সেরিনা বিবি(৩৩)। তাঁর স্বামী সাদ্দাম খান ওরফে জুমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূর মৃতদেহ এদিনই পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে । মৃতার বোন রাবিয়া বিবির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানার পুলিশ বধূ নির্যাতন ও খুনের ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এমন দাম্পত্য হিংসার ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত মেমারির বাসিন্দারা।আরও পড়ুনঃ এবার দলের কর্মীদের দিয়ে পায়ে জুতো গলিয়ে বিতর্কে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দম্পতির একটি নাবালক পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।দম্পতির মধ্যে বনিবনা ছিল না। সাদ্দাম খান কর্মসূত্রে বাইরের রাজ্যে থাকতেন। বৃহস্পতিবারই সাদ্দাম মেমারির কাশিয়াড়া সোমেষপুরের বাড়িতে ফেরেন। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে এদিন বিকাল সাড়ে ৫ টা নাগাদ সেরিনা বিবি ও তাঁর স্বামী সাদ্দাম খানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। ওই সময়ে হঠাৎই ধারালো ছুরি দিয়ে সাদ্দাম তাঁর স্ত্রী সেরিনার গালা কেটে দেয়। এমনকি সেরিনার পেটেও ছুরি ঢুকিয়ে দেয় সাদ্দাম। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সেরিনা বিবির। এরপর সাদ্দাম একই ছুরি দিয়ে নিজের গালা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে এই খবর পেয়ে মেমারি থানায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাদ্দামকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এমন দম্পত্য হিংসার ঘটনা দুই নাবালক সন্তানের সামনেই ঘটেছে বলে এলকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে।

আগস্ট ০৬, ২০২১
রাজ্য

Minor Marriage: চার হাত এক হওয়ার মুহূর্তে ব্যাকুল খুদে প্রেমিকার স্বপ্ন ভঙ্গ

বিয়ের বয়স না হলেও প্রেমিককেই জীবনসঙ্গী হিসাবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল খুদে প্রেমিকা। তাই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মণ্ডলহাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেমিকা সটান চলে আসে পুর্বস্থলীর হলদি-নপাড়া এলাকা নিবাসী প্রেমিকের বাড়িতে। তাঁদের বিয়ের সব আয়োজনও সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ওই রাতেই সেখানে পৌছে যাওয়ায় ছাদনাতলায় বসার আগেই স্বপ্নভঙ্গ হল প্রেমিকার। সাবালিকা হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসার জন্য প্রেমিকাকে এখন পার করতে হবে পাঁচ পাঁচটা বসন্ত।দুই পরিবারের কাছ থেকে তেমনই মুচলেখা আদায় করে নিয়েছে পুলিশ ও চাইল্ড লাইন কর্তৃপক্ষ । নবালিকা অবশ্য সেই শর্তেই শেষমেষ সন্মতি জানিয়েছে।আরও পড়ুনঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে এসএফআই-এর কনভেনশনপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার মণ্ডলহাট এলাকা নিবাসী নাবালিকার বয়স মাত্র ১৩ বছর। পূর্বস্থলীর হালদি-নপাড়া নিবাসী তাঁর প্রেমিকের বয়স কুড়ি। এই যুবককে বিয়ে করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল প্রেমিকা। তাই বুধবার সে সটান চলে আসে প্রেমিক যুবকের বাড়িতে।প্রেমিকাকে নিরাশ করতে না চেয়ে যুবকের পরিবার দুজনের চার হাত এক করার যাবতীয় আয়োজনও সম্পূর্ণ করে ফেলেন।আরও পড়ুনঃ পড়ুয়াদের জন্য সুখবর, বড় ঘোষণা মমতারসেই খবর গোপনে পৌছে যায় পূর্বস্থলী থানার পুলিশের কাছে। পাত্র পাত্রী ছাতনা তলায় বিয়ের পিড়িতে বসার আগেই পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে থানায় চলে যায়। পুলিশের তরফে খবর দেওয়া হয় চাইল্ড লাইনে। এদিন কাটোয়া থেকে চাইল্ড লাইনের টিম পূর্বস্থলী থানায় পৌছেয়া। ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই নাবালিকার বিয়ে দেওয়া যাবে না বলে দুই পরিবার চাইল্ডলাইনের কাছে মুচলেখা দেয়। তার পর তারা ছাড়া পায়।আরও পড়ুনঃ মঙ্গলকোটের তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনায় সিআইডির জালে কুখ্যাত দুস্কৃতিচাইল্ড লাইন আধিকারিক সুচেতনা ভট্টাচার্য বলেন, অল্প বয়সে ছেলে, মেয়েদের বিয়ে দিলে তাদের শারীরিক ও মানসিক কি ক্ষতি হতে পারে তা দুই পরিবারকে বোঝানো হয়। বিবাহ সংক্রান্ত বয়সসীমা মানার ব্যাপারে দুই পরিবার এদিন মুচলেখা দিয়েছেন। নাবালিকাকে তাঁর বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ০৬, ২০২১
রাজ্য

Murder: পর পর কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী

পর পর কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া বধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল স্বামী। ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ সরকার। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার গন্ধর্বপুরে। মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক শ্বশুর বাড়ির বাকি সদস্যরা। পুলিশ বুধবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও পালাতক অভিযুক্তদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম ধৃতকে ৫ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবকপুলিশ জানিয়েছে, কালনা থানার বেলকুলি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল কুমার ঘোষের মেয়ে শাশ্বতীর সঙ্গে ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় বিশ্বজিৎ-এর। শাশ্বতী কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর উপর নির্যাতন শুরু হয়। দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকে বধূ শাশ্বতীর উপর অত্যাচার আরও বাড়ে। অত্যাচার বন্ধের জন্য গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্থু অত্যাচার বন্ধ হয়নি। তারই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্বজিৎ শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ দেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাহাড়হাটি হাসপাতালে পৌছে শাশ্বতীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শাশ্বতীর কপালে গভীর ক্ষতচিহ্ন ও গলায় কালশিটে দাগ দেখে বাপের বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেন শাশ্বতীকে খুন করা হয়েছে। বধূর বাবা মেমারি থানায় তাঁর জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শাশ্বতীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে বধূ নির্যাতন ও পরিকল্পনা মাফিক খুনের ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।

আগস্ট ০৪, ২০২১
রাজ্য

Stabbed: যৌন লালসা পূরণে বাধা পেয়ে বিধবাকে ছুরিকাঘাত, গ্রেফতার নাবালক

যৌন লালসা পূরণে বাধা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে বিধবাকে জখম করার অভিযোগে গ্রেফতার হল এক নাবালক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার রসুলপুরে। জখম বছর ৪৩ বয়সী বিধবাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত নাবালককে গ্রেপ্তার করে এদিনই পেশ বর্ধমানের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে।আরও পড়ুনঃ বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবকপুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বছর ১৫ বয়সী ওই নাবালক বিধবার প্রতিবেশী। বুধবার ভোর রাত ৩ টে নাগাদ বিধবা তাঁর বাড়িতে একাই ছিলেন। যৌন লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওই সময়ে প্রতিবেশী পরিবারের নাবালক বিধবার ঘরে ঢোকে। অভিযোগ, যৌন লালসা পূরণে বাধা পেয়ে নাবালক ধারালো ছুরি জাতীয় কিছু দিয়ে বিধবার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করে। তাতে বিধবা মারাত্বক জখম হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। বিধবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালককে গ্রেফতার করে। নাবালকের এমন কু-কীর্তির কথা জেনে স্তম্ভিত রসুলপুরের বাসিন্দারা।

আগস্ট ০৪, ২০২১
রাজ্য

Rape: বধূকে ধর্ষণের পর সোনার গয়না ও টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক

গৃহবধূকে ধর্ষণ করার পর তাঁর সোনার গয়না ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃতের নাম ফজলুল হক শেখ। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার জুনাড়া গ্রামে।দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে ৩ দিন পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম সেই আবেদন মঞ্জুর করার পাশাপাশি ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ সাহসী পোশাকে আলুপোস্ত রেঁধে ভাইরাল রিম্পিপুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা বধূর বাড়ি জুনাড়া গ্রামেই। স্বামীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা হয় না। ভরণপোষনের দায়িত্ব নেবে বলে আশ্বাস দিয়ে ফজলুল ওই গৃহবধূকে তাঁর কাছে চলে আসার জন্য বলে। গৃহবধূ তাতে রাজি হয়ে ৮৬ হাজার টাকা ও ৩ ভরি সোনার গয়না নিয়ে মাসখানেক আগে শ্বশুরবাড়ি ছাড়েন।আরও পড়ুনঃ উদ্বেগ বাড়িয়ে ডেল্টার প্রভাবে ফের বাড়ছে সংক্রমণঅভিযোগ এরপর ফজলুল ওই গৃহবধূকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এমনকী সে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গৃহবধূকে সাদা কাগজে সইও করিয়ে নেয়। এর কয়েক দিন পরই গৃহবধূ বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ফজলুল তাঁর গয়না ও টাকা হাতিয়ে নিলেও তাঁকে বিয়ে করবে না বুঝে গৃহবধূ ফের শ্বশুর বাড়িতে ফিরে এসে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আগস্ট ০৪, ২০২১
রাজ্য

Big Breaking: ডেকরেটার্স ব্যবসার আড়ালে বেআইনি অস্ত্র কারখানা, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ, পলাতক অস্ত্র কারবারি

ডেকরেটার্স সামগ্রী ভাড়া দেওয়া ব্যবসার আড়ালে গোপনে বাড়িতেই অস্ত্র কারখানা চালাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী। তাও আবার মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালার বাড়িতে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌছায় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার পুলিশে কাছে। এরপর আর একমুহূর্ত দেরি না করে পুলিশ এবং ওএসজি গ্রুপ মঙ্গলবার ভোর রাতে অভিযান চালায় কাটোয়ার লোহাপোতা গ্রামের রমজন আলি শেখের মাটির বাড়িতে। সেখানেই মেলে অস্ত্র কারখানার হদিশ। উদ্ধার হয় সদ্য তৈরি হওয়া ৩ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, বেশ কয়েকটি অর্ধেক তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ তৈরির বেশকিছু সরঞ্জাম। যদিও বেআইনি অস্ত্র কারখানার মালিক রমজান আলি শেখকে পুলিশ ধরতে পারেনি। পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌছানোর আগেই সে পালিয়ে যায়। পুলিশ হন্যে হয়ে এখন আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি রমজান আলি শেখের খোঁজ চালাচ্ছে।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুপুলিশ জানিয়েছে, লোহাপোতা গ্রামে রয়েছে রমজান আলি শেখের মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালার তিন কুটুরি ঘর। গ্রামের লোকজন তাঁকে ডেকরেটার্স ব্যবসায়ী হিসাবেই জানে। বাড়িতে রয়েছেন রমজানের বামা, মা, স্ত্রী ও মেয়ে। বাড়ির সামনে চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য ডেকরেটার্স সামগ্রী রাখা রয়েছে। যা দেখে কারও ঘুণাক্ষরেও বোঝার উপায় নেই ওই বড়িতেই চলছিল আস্ত একটি অস্ত্র কারখানা।আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ তৈরির সরঞ্জামগোপন সূত্রে সেই খবর কাটোয়া থানায় পৌছাতেই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। মঙ্গলবার ভোর রাতে রমজান আলি শেখের মাটির বাড়িতে অভিযানে গিয়ে পুলিশ কর্তারা কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান । পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগেই যদিও রমজান আলি বেপাত্তা হয়ে যায়। পুলিশ মাটির বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে দেখতে পায় ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ, তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, গ্যাস সিলিন্ডার, লোহার পাইপ, স্প্রিং, স্ক্রু বহু সরঞ্জাম।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলরমজানের সঙ্গে বিহারের মুঙ্গেরের অস্ত্র কারবারীদের যোগাযোগ ছিল কিনা সেই বিষয়টিই এখন পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে। আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির জন্য রমজান আলি শেখের বাড়িতে বিহারের মুঙ্গেরের অস্ত্র কারবারীদের যাতায়াত ছিল কিনা সেই বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, লোহাপোতা গ্রামের রমজান আলি শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, কার্তুজ ইত্যাদি উদ্ধার হয়েছে। তবে রমজান আলি শেখ অভিযান শুরুর আগেই পালিয়ে যায়। তার সন্ধান চলছে। রমজানের পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

আগস্ট ০৩, ২০২১
রাজ্য

Party Office: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের জয়জয়কার, ’র‍্যাঙ্ক ডিমোশন' জামালপুর ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ের

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় অভাবনীয় জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃতীয়বারের জন্য বাংলায় সরকার গঠন করার পর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য ত্রিপুরা জয়। দলের এমন সাফল্যের মাঝেও র্যাঙ্ক ডিমোশন হল তৃণমূলের পার্টি অফিসের। শুধু র্যাঙ্ক ডিমোশন-ই নয়, বদল ঘটেছে পার্টি অফিসের কর্তৃত্বকরীদেরও। বিধানসভা ভোটের আগে যা ছিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় ভোটের পর তার র্যাঙ্ক ডিমোশন হয়েছে জামালপুর ২ তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়-এ। অর্থাৎ জামালপুর ২ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সৌজন্যেই ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের এই র্যাঙ্ক ডিমোশন বলে দাবি করেছেন ব্লকের একাংশ তৃণমূল নেতৃত্ব।আরও পড়ুনঃ নোরার হট ছবি, ইনস্টাগ্রামে ভাইরালবাম আমলে জামালপুর তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক পার্টি অফিস বলে কিছু তেমন ছিল না। বর্তমান ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খান পুলমাথা সংলগ্ন এলাকায় থাকা তাঁর বস্ত্র প্রতিষ্ঠানে বসেই তখন দলের কাজকর্ম চালাতেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যান্য বিধানসভার পাশাপাশি জামালপুর বিধানসভাতেও ঘাসফুল ফোটে। বিধায়ক নির্বাচিত হন উজ্জ্বল প্রামাণিক। এরপর ২০১৪ সালে জামালপুর বাস স্ট্যান্ডের গায়ে থাকা জায়গায় গড়ে তোলা হয় দ্বিতল তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস। তখন থেকেই ওই পার্টি অফিসের দেওয়ালে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়। বিধায়ক উজ্জ্বল প্রামাণিক সহ ব্লক তৃণমূলের তদানিন্তন সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্য ও বিধায়ক ঘনিষ্ট অন্য তৃণমূলের নেতা, কর্মীরা সেখানে বসেই দলের কাজকর্ম চালাতেন। অন্যদিকে একই সময়কালের মধ্যে পুলমাথা সংলগ্ন এলাকায় দলের নামে থাকা জমিতে পার্টি অফিস গড়ে ফেলেন তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খান। সেখানে বসেই আজও তিনি দলের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।আরও পড়ুনঃ কিশোর কুমারের জন্মদিনে নতুন চমক আনছেন পুত্র অমিতউজ্জ্বল প্রামাণিক বিধায়ক হওয়ার কয়েক বছর পর থেকে তাঁর সঙ্গে মেহেমুদ খানের সম্পর্কে টানাপড়েন শুর হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্বন্দ্বও বাড়ে। যার পরিণামে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুর বিধানসভা আসনে পরাজিত হন উজ্জ্বলবাবু। জয়ী হন বাম প্রার্থী সমর হাজরা। এরপর ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দল অরবিন্দ ভট্টাচার্যকে সরিয়ে জামালপুরের জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি শ্রীমন্ত রায়কে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করে। দল এবার উজ্জ্বল প্রামাণিককে আর জামালপুর বিধানসভার প্রার্থী করেনি। পরিবর্তে গলসির বিধায়ক অলোক মাঝিকে জামালপুর বিধানসভার প্রার্থী করে দল। তার পরেই শ্রীমন্ত রায়কে ব্লক তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে দল মেহেমুদ খানকে সভাপতি করে দেয়। মেহেমুদ খানের সাংগঠনিক শক্তিতে ভর করে অলোক মাঝি বিধায়ক নির্বাচিত হন।আরও পড়ুনঃ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাএর কিছুদিন পরেই র্যাঙ্ক ডিমোশন ঘটে যায় উজ্জ্বল প্রামাণিকের সাধের জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের। ওই কার্যালয়ের দেওয়ালে লেখা থাকা ব্লক শব্দটি মুছে দিয়ে সেখানে ২ লিখে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় এখন জামালপুর ২ অঞ্চল তৃণমূলের কার্যালয়ের রূপ পেয়েছে। পাশাপাশি বদল ঘটেছে ওই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের কর্তৃত্বকারীদেরও।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুএই বিষয়ে ব্লক তৃণমূলের পূর্বতন সভাপতি শ্রীমন্ত রায় কারও নাম মুখে না এনে জানান, ভোটের ফল বের হওয়ার কয়েকদিন পর দলেরই একাংশ তাঁদের পার্টি অফিসের দখল নিয়েছে। অন্যদিকে জামালপুরের শুড়েকালনার জেলা তৃণমূল নেতা প্রদীপ পাল এই ঘটনার জন্য সরাসরি ব্লক তৃণমূলের বর্তমান সভাপতি মেহেমুদ খান ও যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিককে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষনার পর মেহেমূদ খান ও ভূতনাথ মালিক দলবল নিয়ে তাঁদের জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসে কার্যালয়ের দখল নেয়। তারপর দেওয়ালের লেখা মুছে দিয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়কে জামালপুর ২ অঞ্চল অফিসে পরিণত করা হয়েছে। প্রদীপ পাল জানান, ঘটনা সবিস্তার লিখে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী সহ জেলা ও রাজ্য তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। দল এই বিষয়ে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। যদিও জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহেমুদ খান ও যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক দাবি করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। ওই পার্টি অফিসে আমরা যাই না। ওখানে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেই বিষয়ে ওয়াকিবহালও নই। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, কি ঘটনা ঘটেছে তা জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে জেনে তার পর মন্তব্য করব।

আগস্ট ০২, ২০২১
রাজ্য

Heavy Rain: টানা ভারি বৃষ্টিতে জলপ্লাবিত পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকা, তলিয়ে গেল কাঠের সেতু

কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টিপাতের জেরে পূর্ব বর্ধমানের বেশকিছু জায়গায় তৈরি হয়েছে প্লাবন পরিস্থিতি। কোথাও চাষের জমি ডুবেছে জলের তলায় ,আবার কোথাও রাস্তায় জমেছে হাঁটু সমান জল। অনেক গ্রামও জলপ্লাবিত হয়ে পড়েছে। জলের তোড়ে কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ঘটেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার গলসি , জামালপুর ও খণ্ডঘোষের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দা। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তারা।রাজ্যের অন্য জেলাগুলির পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও বিগত তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে। তার জেরে জল বেড়েছে দামোদর, দারকেশ্বর প্রভৃতি নদ নদীতে। রায়নার একলক্ষ্মীতে দ্বারকেশ্বর নদের সেতুর কাছের দেবখালের উপর থাকা কাঠের সেতুটি এদিন জলের তোড়ে ভেসে যায়। দ্বারকেশ্বরের উপরে থাকা ওই কাঠের সেতুর উপর দিয়েই গাড়িতে চড়ে, হেঁটে প্রতিদিন হুগলি ও বর্ধমান জেলার বহু মানুষ তাঁদের গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। জলের তোড়ে সেই কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে গিয়েছেন বাসিন্দারা। জল আরও বাড়লে এলাকার শ্মশানচুল্লিটি তলিয়ে যেতে পারে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।বৃহস্পতিবার বিকালে রায়না ২ ব্লকের বিডিও বিডিও অনিশা যশ, যুগ্ম বিডিও পার্থসারথি রায়চৌধুরী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্বতী ধাড়া মালিক প্রমুখরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃষ্টির জলের পাশাপাশি ডিভিসির সেচখালে ছাড়া জলে গলসি ২ ব্লকের চার-পাঁচটি গ্রামের মাঠ প্লাবিত হয়েছে। সদ্য রোয়া কাজ সম্পূর্ণ হওয়া হাজার হাজার একর আমন ধানের জমি এখন জলের তলায়। জমির এমন অবস্থা তৈরি হওয়ায় মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে এলাকার অধিকাংশ চাষিদের। গলসি ২ ব্লক কৃষি দপ্তরের প্রতিনিধি দল এদিন এলাকা পরিদর্শন করেন। চাষের জমিতে জল জমা ছাড়াও হাঁটু জলে ডুবেছে ভূঁড়ি থেকে ইটারু যাওয়ারর একাংশ রাস্তা। ওই রাস্তা দিয়ে এখন যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গ্রামে জল জমে থাকায় কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকটা একই রকম অবস্থা তৈরি হয়েছে জামালপুর ব্লকের জামালপুর ২ পঞ্চায়েত অধীন কানঘোষা এলাকায়। এখানকার প্রায় ২৫-৩০ টি পরিবার বসবাস করেন জামালপুর - রায়না সড়ক পথের ধারে। তাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি মাটির তৈরি।কয়েক দিনের লাগাতার বর্ষনে উপচে পড়ছে ওই বসতি এলাকা সংলগ্ন মাঠের জল। সেই জল ওইসব কাঁচা বাড়ির একেবারে দোরগোড়া পৌছাতেই বিপাকে পড়ে গিয়েছেন বাসিন্দারা। এদিন সেই খবর পেয়েই হতদরিদ্র ওই মানুষগুলির কাছে পৌছে যান জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন ও কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক। তাঁরা ওই পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রিপল ও অন্য সামগ্রী তুলে দেন। মেহেমুদ খাঁন ওইসব পরিবারের সমস্যদের আশ্বস্ত করেন, জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এখন যদি তারা অন্যত্র থাকতে চান তার ব্যবস্থা করা হবে । প্রয়োজনে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ ঘর বাসিন্দার খাওয়া-থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানিয়ে আসেন।আরও পড়ুনঃ করোনা আতিমারির জন্য অনাড়ম্বর ভাবে পালিত হল মোহনবাগান দিবসজেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু এই বিষয়ে জানান, কোথায় কোথায় রোয়া ধানের জমি জলে ডুবে গেছে সেই ব্যাপারে ব্লক প্রশাসন খোঁজ খবর রাখছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষজনের পাশে দাঁড়াচ্ছে সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তারা। সহয়তাও প্রদান করা হচ্ছে । ক্ষয়-ক্ষতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হবে।

জুলাই ২৯, ২০২১
রাজ্য

Raina: রায়নায় শুরু ’দুয়ারে কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদান’ কর্মসূচি

দুয়ারে সরকার কর্মসূচির অনুকরণে এবার শুরু হল দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান। পূর্ব বর্ধমানের রায়না বিধানসভার রায়না ২ ব্লকের ৩ হাজার জনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট ) পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রায়নার বিধায়ক তথা জেলাপরিষদ সভাধিপতি শম্পা ধাড়া দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র পৌছে দেওয়ার কর্মসূচী নেওয়ায় খুশি রায়নার বাসিন্দারা।আরও পড়ুনঃ নোরার হট ছবি, ইনস্টাগ্রামে ভাইরালবিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয় দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। রাজ্য সরকারের চালু করা এই কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর পর থেকেই দুয়ারে রেশন, দুয়ারে পুলিশ প্রভৃতি কর্মসূচি নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বিধায়ক শম্পা ধাড়া নিজে উদ্যোগ নিয়ে রায়নায় শুরু করলেন দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান কর্মসূচি। যা জানমানসে সাড়া ফেলে দিয়েছে।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?বিধায়ক শম্পা ধারা এদিন রায়না ২ ব্লকের আরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের আলমপুর গ্রাম থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। ব্লকের বিডিও অনিষা যশ জানান, এদিন ৩ হাজার জনের বাড়ি বাড়ি জাতিগত শংসাপত্র পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । বিধায়ক শম্পা ধাড়া বলেন,আগে কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য মানুষজনকে চূড়ান্ত হয়রানি হতে হত। দপ্তরে ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়েও মিলতো না কাস্ট সার্টিফিকেট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হওয়ায় কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জটিলতার দিন শেষ হয়। এখন ঘরে বসেই মানুষজন জাতিগত শংসাপত্র অর্থাৎ কাস্ট সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছেন। বাড়িতে বসেই কাস্ট সার্টিফিকেট পেয়ে রায়নার বাসিন্দারা খুশী বলে শম্পা ধারা দাবি করেন।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলআরুইগ্রামের বাসিন্দা তমাল রুইদাস বলেন, কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য বহুবার দপ্তরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন হতাশ হয়েই তাঁকে ফিরতে হয়। কিন্তু এদিন ঘরে বসেই কাস্ট সার্টিফিকেট পেয়ে যথেষ্টই খুশি বলে তমাল রুইদাস জানান। অপর বাসিন্দা সুমিত্রা দাস বলেন, যে কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন সেই কাস্ট সার্টিফিকেট একেবারে বাড়ির দুয়ারে এসে কেউ দিয়ে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারেননি। এ এক অভাবনীব কর্মসূচি বলে সুমিত্রা দাস মন্তব্য করেন।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াএদিনের দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান কর্মসূচিতে রায়নার বিধায়ক শম্পা ধাড়া ছাড়াও মহকুমাশাসক (দক্ষিণ) কৃষ্ণেন্দু কুমার মণ্ডল, বিডিও অনিশা যশ, যুগ্ম বিডিও পার্থসারথি রায় চৌধুরী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্বতী ধারা মালিক সহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২৯, ২০২১
রাজ্য

Tree Theft: মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানে গ্রেপ্তার ৫

বেআইনি ভাবে বহু লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পাঁচ ব্যক্তি। ধৃতদের নাম সুকুমার বিশ্বাস, মিলন বিশ্বাস, শেখ আব্বাসউদ্দিন ওরফে সাগর, নূর মহম্মদ শাহ ও শেখ সফিক ওরফে শম্ভু। ধৃতদের মধ্যে সুকুমার ও মিলনের বাড়ি ভাতার থানা এলাকায়। বাকি ধৃতদের বাড়ি জেলার গলসি থানার পারাজ, তেঁতুলমুড়ি ও মসজিদপুরে। গলসি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সুকুমার ও মিলনকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১০০টি গাছের লগ উদ্ধার হয়। এরপর তাদের নিয়ে পুলিশ আব্বাসউদ্দিনের কাঠের গোলায় হানা দেয়। সেখান থেকেও ২১০টি লগ উদ্ধার হয় বলে পুলিশের দাবি। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। আরও গাছ উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত বাকিদের হদিশ পেতে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সুকুমার, আব্বাসউদ্দিন, নূর মহম্মদ ও সফিককে ৫ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম ওই ৪ জনকে ৩ দিনের পুলিশি হেপাজত ও বাকি ধৃতদকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ কোটি টাকা মূল্যের গাছ চুরি কাণ্ডে নাম জড়াতেই তদন্ত চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল নেতাপুলিশ জানিয়েছে, গলসির মসজিদপুর পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে ফকিরচন্দ্র রায় রোড। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়কপথের দুপাশে সোনাঝুরি, শিরিষ, বাবলা প্রভৃতি গাছ লাগিয়েছিল পঞ্চায়েত। সেখানকার পুরানো ও মূল্যবান প্রায় ২ হাজার গাছ গত ৫ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে কেটে নিয়ে কয়েকজন পাচার করে দেয়।এলাকাবাসী প্রথমে মনে করেন পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। পরে তাঁরা পঞ্চায়েতে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন গাছ কাটার ব্যাপারে পঞ্চায়েত কাউকে কোনও অনুমতি দেয়নি । গাছ কাটা নিয়ে কোনও টেণ্ডারও পঞ্চায়েত ডাকেনি।এমনকি গাছ কাটার জন্য বনদপ্তরের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিডিওকে অভিযোগ জানান। বিডিও তদন্ত করে অভিযোগের সারবত্তা পেয়ে ২৫ জুলাই গলসি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে গলসি থানার পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

জুলাই ২৮, ২০২১
রাজ্য

Parents Murder: বৃদ্ধ বাবাকে ঘুম থেকে তুলে পিটিয়ে মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার মদ্যপ ছেলে

ভোর রাতে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘুম থেকে তুলে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল ছেলে।ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ হালদার। এই ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার কাকুরিয়া পঞ্চায়েতের মেদগাছি গ্রামে। কালনার বুলবুলিতলা ফাঁড়ির পুলিশ মৃতকুমুদরঞ্জন হালাদার(৭১)এর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই কালনা মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।আরও পড়ুনঃ নোরার হট ছবি, ইনস্টাগ্রামে ভাইরালপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনার মেদগাছি গ্রামে বাড়ি কুমুদরঞ্জন হালদারের। অসুস্থ সত্তর ঊর্ধ্ব এই বৃদ্ধ বুধবার ভোররাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ছেলে বিশ্বজিৎ তখনও বাড়ি না ফেরায় তাঁর মা অঞ্জলিদেবী না ঘুমিয়ে বাড়িতে ছেলের খাবার আগলে বসে ছিলেন। ভোর তিনটে নাগাদ মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে গুণধর ছেলে বিশ্বজিৎ। মদ খেয়ে কেন বাড়িতে বাড়িতে এসেছিস? এই প্রশ্ন মা অঞ্জলিদেবী করতেই মায়ের উপরে চড়াও হয় মদ্যপ ছেলে বিশ্বজিৎ । ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে বিশ্বজিৎ তাঁর মায়ের গলায় ঠেকালে মা প্রাণভয়ে ঘরছেড়ে পালায়। এরপর বিশ্বজিৎ তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে ঘুমন্ত অবস্থায় খাট থেকে তুলে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে। ছেলের মারে গুরুতর জখম হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন কুমুদরঞ্জন বাবু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথম গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কলনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বৃদ্ধ কুমুদরঞ্জন হালদার । ঘটনার খবর পেয়ে বুলবুলিতলা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছেলে বিশ্বজিৎ হালদার কে আটক করে থানায় নিয়ে যায় । জেরায় বাবাকে মারধোরের কথা কবুল করার পরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃদ্ধর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জুলাই ২৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • 29
  • 30
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal