• ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Fir

রাজ্য

বাইরনের বাড়িতে আগুনের নেপথ্যে কী? দুর্ঘটনা, না কি ইচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ড—তদন্তে পুলিশ

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাড়ির ভিতর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাইরনকে উদ্ধার করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ড কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির দোতলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বাইরনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।অগ্নিকাণ্ডে বাইরনের হাত ও পায়ের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শরীরের কতটা অংশ পুড়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর আঘাতের মূল জায়গা হাত ও পা বলেই জানা গিয়েছে।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে বাইরনের বাড়িতে আগুন লাগল? প্রাথমিক ভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও দমকল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একটি প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা বাড়ির সঙ্গে যুক্ত বিড়ি তৈরির কারখানা থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। ফলে এখনই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বা পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বলে নিশ্চিত করার মতো তথ্য সামনে আসেনি।তবে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাইরন সেই সময় বাড়ির ভিতরে কেন ছিলেন, আগুনের সূত্রপাত ঠিক কোথায় এবং কী ভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পিছনে দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট হবে না।বাইরন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাঁর আঘাত খুব গভীর নয় এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। অন্য দিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও দমকল। ফলে সাগরদিঘির বিধায়কের বাড়িতে এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র! বাংলার বুকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিরাট গ্রেফতারি

গাড়ি থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। তবে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কী ধরনের বা তার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে বাগদা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ভোটের পর অবশ্য তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন।২০২৪ সালে বিশ্বজিৎ দাসকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি করা হয়। পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে বিজেপির অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন বিশ্বজিৎ দাস। পরবর্তীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে তিনি দলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে অবস্থান নেন।প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিশ্বজিৎ দাসকে আরও আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল।অন্যদিকে, বনগাঁ পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, বিধায়ক থাকাকালীন বিশ্বজিৎ দাস একাধিক ব্যক্তিকে হেনস্থা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বোমা ও বন্দুকের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ তোলেন তিনি।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং সেটি কীভাবে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়িতে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় এসে বাঙালিকেই অপমান? বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে আইনের পথে কংগ্রেস

দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করল প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মানস সরকার থানায় অভিযোগ করেন। তিনি চৌরঙ্গির প্রার্থীও। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বলে জানা গিয়েছে।কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলায় এসে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এবং দুর্গাপুজো পালনের রীতি নিয়ে বাগেশ্বর বাবা মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, এ ভাবে বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করা অবমাননাকর। অভিযোগপত্রে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের কয়েকটি শব্দপ্রয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ দায়েরের সময় ভবানীপুর থানার সামনে কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকেরা জমায়েত করেন। সেখানে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভও দেখানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে এই অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এই বিতর্কের সূত্রপাত হাওড়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, সেখানে তিনি দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করেন। পুজোর সময়ে যাঁরা মাছ-মাংস খান, তাঁদের ধর্মীয় আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি তাঁদের ভণ্ড বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।বাঙালির পুজোর সময়ে কী খাওয়া উচিত, তা নিয়েও বাগেশ্বর বাবা মন্তব্য করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে।এই বিতর্কে বিজেপির কয়েক জন নেতাও বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের পক্ষেই সুর মিলিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ এবং শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, বাঙালি এত দিন যেভাবে দুর্গাপুজো পালন করে এসেছে, এ বারও সেভাবেই পালন করবে। কে মাছ-মাংস খাবেন আর কে নিরামিষ খাবেন, তা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় বলেই তাঁদের মত।তবে বিষয়টি এখানেই থামাতে চাইছে না কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, বাঙালি কী ভাবে দুর্গাপুজো পালন করবে বা কী খাবেন, সেই বিষয়ে বাইরে থেকে কোনও নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। মানস সরকারের অভিযোগপত্রেও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।কংগ্রেসের আরও দাবি, বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করুক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।দুর্গাপুজোয় আমিষ না নিরামিষএই বিতর্ক ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। তার মধ্যেই বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিতর্ক আরও নতুন মোড় নিল।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

নিউ মার্কেটের সেই আগুনের পর বদলে গেল নিয়ম? কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত ওই হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের পরেই কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে নবান্ন। কমিটির সদস্যরা শহরের ১৬টি ব্যুরোর আওতায় থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে অভিযান চালান। সব মিলিয়ে ৯৬২টি হোটেল ও গেস্ট হাউস পরিদর্শন করা হয়।অভিযানের পর কমিটি নবান্নে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসে অগ্নিসুরক্ষা বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ওই হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত সেগুলি বন্ধ থাকবে।এর নেপথ্যে রয়েছে নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগস্ট মাসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনে থাকা ওই আবাসিক হোটেলে গভীর রাতে আগুন লাগে। রাত আনুমানিক পৌনে দুটো নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলের ঘরগুলি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়।আগুন এবং ধোঁয়ার কারণে হোটেলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে বেশ কয়েক জন সমস্যায় পড়েন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েক জন জ্ঞান হারান বলেও জানা যায়।ভোররাতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হোটেল থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। আরও ৬ জন আহত হন।ঘটনার পরেই কলকাতার হোটেলগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন। সেই অভিযানের রিপোর্টেই উঠে আসে ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসে অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগ।রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই প্রশাসনের তরফে বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করে আপাতত সেগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওঙ্কার সিং মিনাকে। নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ছুটির দিন দুপুরে চিৎপুরে ভয়াবহ আগুন! বন্ধ রাসায়নিক কারখানা থেকে মুহূর্তে ছড়াল লেলিহান শিখা

ছুটির দিন দুপুরে কলকাতার চিৎপুরের নবাবপল্লি এলাকায় একটি বন্ধ রাসায়নিক কারখানায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে কারখানাটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায়।আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। প্রথমে পাঁচটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নামে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় আরও ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট দশটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে যুক্ত হয় বলে জানা গিয়েছে।চিৎপুরের নবাবপল্লি এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি। সেখানে পাশাপাশি একাধিক কারখানা এবং বসতি রয়েছে। ফলে একটি কারখানা থেকে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। দমকল কর্মীদেরও আগুন নেভাতে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে রাসায়নিক কারখানাটিতে প্রথম আগুন লাগে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে যায়। পাশের কারখানাগুলির কর্মীরাও তড়িঘড়ি করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরে বার করে আনার চেষ্টা করেন।ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকলের তরফে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নবাবপল্লি এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি জানান, কারখানাটি দোতলা। একতলায় রাসায়নিকের গোডাউন এবং দোতলায় জামাকাপড়ের গুদাম ছিল। কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে বলেও জানান তিনি।বিধায়ক আরও বলেন, আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্রচুর ধোঁয়া বের হওয়ায় আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা।চিৎপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানায় কীভাবে আগুন লাগল এবং কীভাবে তা এত দ্রুত আশপাশের কারখানাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের অফিসে ফের পুলিশ-দমকল! পাঁচ-ছ’তলায় কী মিলল, কেন সন্তুষ্ট নন আধিকারিকরা?

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সোমবার ফের পৌঁছলেন পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা। অফিসের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের পর সোমবার ফের পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।দমকলের আধিকারিকেরা জানান, নিয়ম মেনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাততলা ভবনটির একতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি তলায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ ও ছতলার অফিসে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার সময় কয়েকটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। অভিযোগ, স্প্রিঙ্কলার ব্যবহার করা যায়নি। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি আগুনের সতর্কবার্তা দেওয়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে জানা গিয়েছে।দমকলের এক আধিকারিক জানান, এই ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভবনের প্রতিটি তলায় একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলি কার্যকর থাকবে কি না, সেটিই মূলত পরীক্ষা করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, সাততলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পাঁচ ও ছতলায় থাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকদের কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।অন্য দিকে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদেরও নানা ভাবে নিশানা করা হচ্ছে।বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন এমন অবস্থানে ছিলেন যেন তিনি সকলের ঊর্ধ্বে। এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশ গিয়েছিল। বেআইনি বিলবোর্ড খোলার বিষয়কে কেন্দ্র করে সে দিন সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা অফিসে পৌঁছনোয় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
কলকাতা

নোটিস নয়, অনিয়ম দেখলেই হোটেল সিল! মির্জা গালিব স্ট্রিটের আগুনের পর বড় নির্দেশ অগ্নিমিত্রার

কলকাতায় বেআইনি হোটেল নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কয়েক দিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি হোটেল ও অতিথিশালা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলগুলি পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানান, শুধু নোটিস দিয়ে আর কাজ চালানো হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়া হবে।অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৬টি হোটেল সিল করেছে দমকল। আরও ২৫টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেল ঘুরে দেখেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই তিনি বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, শুধু নোটিস দিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। কোনও হোটেলে অনিয়ম ধরা পড়লে সেখানে অতিথিরা থাকলে তাঁদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। তার পরেও প্রয়োজন হলে হোটেল সিল করে দেওয়া হবে। তবে সমস্ত কাগজপত্র নিয়মমাফিক থাকলে পরবর্তী সময়ে সেই হোটেল আবার খোলার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।শহরে এত দিন ধরে কী ভাবে বেআইনি ভাবে হোটেল ও অতিথিশালা চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। এই বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি কাজকে আর কোনও ভাবেই নিয়মে পরিণত করা যাবে না।অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা যাতে ফের না ঘটে, তার জন্য শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা জরুরি। কোনও হোটেলে নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দিয়েছেন তিনি।অগ্নিমিত্রা বলেন, নোটিসে কোনও কাজ হয় না। অতিথি থাকলে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। তার পর সিল করে দিন। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তখন আবার খুলে দেওয়া যাবে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

নিউ মার্কেটের হোটেল বন্ধ, রাতারাতি দ্বিগুণ ভাড়া! বাংলাদেশি রোগীদের নিয়ে গেস্ট হাউসে কী চলছে?

নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুনের পর কলকাতায় গেস্ট হাউস ব্যবসায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে নিউ মার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের একাধিক হোটেল বন্ধ বা বুকিং বন্ধ রাখায় সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসা করাতে কলকাতায় আসা বাংলাদেশি ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ। অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে, এই সুযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকার কিছু গেস্ট হাউসে ঘরের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ, আগে যে ঘরের দৈনিক ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ছিল, এখন সেই ঘরের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ফলে কম খরচে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসা বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নিউ মার্কেটের হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে তাঁদের মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, কসবার টেগোর পার্ক, নস্করহাট এবং পিয়ারলেস হাসপাতালের আশপাশের গেস্ট হাউসগুলিতে ঘর খুঁজতে হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজন। অনেকেই আগে থেকেই নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে ঘর বুক করে কলকাতায় এসেছিলেন। কিন্তু শহরে পৌঁছে দেখছেন, বুক করা হোটেল বন্ধ। ফলে নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে তাঁদের।ঢাকার আজিমপুরের সোহেল শেখ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে চার জনের জন্য দুটি ঘর বুক করেছিলেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন কলকাতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু শহরে এসে হোটেল বন্ধ দেখে বিপাকে পড়েন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অন্য হোটেলেও সহজে ঘর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ার ঘর খুঁজতে শিয়ালদহের দিকে যেতে হয়েছে তাঁদের।বরিশালের ঝালকাঠির মহম্মদ আব্বাস এবং মিজানুর জামালের অভিজ্ঞতাও একই। নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে আগে থেকেই বুকিং করা থাকলেও সেখানে গিয়ে তাঁরা ঘর পাননি বলে অভিযোগ। হোটেলের কর্মীরা দমকল ও পুলিশের নোটিস দেখিয়ে নতুন করে বুকিং নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের একাধিক হোটেলে এখন নথিপত্র যাচাই চলছে। পুলিশ ও দমকলের যৌথ অভিযানের পর অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ নতুন বুকিং বন্ধ রেখেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা মানুষের চাপ গিয়ে পড়ছে শহরের অন্য প্রান্তের গেস্ট হাউসগুলিতে।এর মধ্যেই আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ই এম বাইপাসের দুই পাশে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বেশ কিছু গেস্ট হাউসের অগ্নিনিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু গেস্ট হাউসের অগ্নিনিরাপত্তার অনুমতি বা ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র নেই। বর্ষায় কয়েকটি গেস্ট হাউসে যাওয়ার রাস্তায় জল জমে থাকায় পরিবেশও অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ, দমকল এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের একাংশের যোগসাজশেই কোথাও কোথাও বেআইনি গেস্ট হাউসের ব্যবসা চলছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্ত করে প্রমাণিত হয়নি।নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই থাকার জায়গা নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছেন চিকিৎসা করাতে আসা মানুষজন। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, একদিকে হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প থাকার জায়গায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি থাকার খরচ নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় তাঁরা।

আগস্ট ২২, ২০২৬
দেশ

ছররা গুলির ঘটনায় এফআইআর চেয়ে থানার সামনে রাহুল, কয়েক ঘণ্টার নাটকীয়তার পর বড় মোড়

রাজধানী দিল্লিতে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। আহত এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি ছিল, গত ২০ জুলাই ছাত্রদের সংসদ চলো অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে হবে।শুক্রবার সকালে আহত যুবক সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছন রাহুল। আচমকা তাঁকে থানায় দেখে আধিকারিকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাহুলের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সময় ছররা গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রকাশ্যে আনার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন তিনি।থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানান রাহুল। অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে রাজি হয়নি। এর পর থানার বাইরে আহত যুবককে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি ধর্না চালিয়ে যাবেন।এই ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে। ওই দিন সংসদ অভিযানের সময় র্যাফের ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রথমে দিল্লি পুলিশ ছররা গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করেছিল বলে অভিযোগ। পরে কেন্দ্রীয় রিজ়ার্ভ পুলিশ বাহিনীর তদন্তে ছররা গুলি ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।এর পর থেকেই রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলছিলেন, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা প্রয়োজন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।এ দিন পুলিশ রাহুলকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তাতেও নিজের দাবিতে অনড় থাকেন রাহুল। তিনি জানান, ছাত্রদের পাশে তাঁরা রয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি থেকে পিছিয়ে যাবেন না।দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা থানার সামনে ধর্না চলার পর অবশেষে সাহিল লোচাবের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। ফলে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে তৈরি হওয়া টানাপড়েনে আপাতত নতুন মোড় এল।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

এসি থেকেই আগুন, তারপর বিষাক্ত ধোঁয়া! নিউ মার্কেটের হোটেলে ৯ মৃত্যুর ফরেনসিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশন এলাকায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তার বা সংযোগস্থল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় হোটেলের ৯ জন আবাসিকের।ফরেনসিক সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে উঠেছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে একের পর এক তার ফাটতে শুরু করে। আগুনের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ও করিডর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঘুমন্ত আবাসিকেরা শ্বাসকষ্টে পড়ে যান। অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।১৯ তারিখ গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে আটকে পড়েন আবাসিকেরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।ওই হোটেলেই ছিলেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং বাবা। সাংবাদিকের বাবা আলাদা একটি ঘরে ছিলেন। অন্য ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যেরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ানও হোটেলের রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।বুধবার সব মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।এই ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ আগুন লাগে। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় আটকে পড়েন বহু আবাসিক। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যের পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

ঘুম ভাঙতেই চারপাশ কালো ধোঁয়া, সামনে শুধু আগুন! বাথরুমে ঢুকে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে কী করলেন টিকন?

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রাতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন টিকন সাউ, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। মেয়ের প্রশিক্ষণের জন্য কলকাতায় এসে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ওই হোটেলে উঠেছিলেন টিকন। তিন দিনের জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু রাতে ঘুমোতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।রাতের খাওয়া সেরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘরে চলে যান টিকন। রাত ১২টা নাগাদ ঘুমিয়েও পড়েন তাঁরা। রাত ২টো নাগাদ হঠাৎ ঘরের ভিতরে ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে ঘুমের মধ্যে থাকায় তাঁরা কিছু বুঝতে পারেননি। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পর ঘুম ভাঙে। চোখ খুলেই দেখতে পান, চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে।আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়েন টিকন। প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় কল খুলে দেন। বাইরে তখন আগুন, চারদিকে ধোঁয়া। বাথরুমের ভিতর থেকেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন তাঁরা।শেষ পর্যন্ত দমকলকর্মীরা বাথরুম থেকে টিকন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। হোটেলের লোহার সিঁড়ি দিয়ে তাঁদের কোনও রকমে নীচে নামিয়ে আনা হয়। তবে ততক্ষণে ওই হোটেলের আরও নয় জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার বেহালার তিন নম্বর রায়বাহাদুর রোডে। সেই সূত্র ধরে সকালে বেহালা ও নিউ মার্কেট থানার পুলিশ যৌথ ভাবে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়।পুলিশের তল্লাশিতে ফ্ল্যাটের ভিতরে বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির একতলাতেও খোঁজ চালানো হয়। তাঁর ফ্ল্যাটের নীচে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরেশ্বরের দুটি গাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি গাড়ি নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। অন্য গাড়িটি এখনও বাড়ির নীচে রয়েছে।এই ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বহুতলের ভিতরে ঘরের পর ঘর তৈরি করা হয়েছিল। সরু জায়গার মধ্যে একাধিক কক্ষ থাকায় আগুন লাগার পর আবাসিকদের বেরিয়ে আসার পথও কঠিন হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও হোটেলের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হোটেল কী ভাবে বাণিজ্যিক অনুমতি পেল, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে এমন একটি হোটেল এত দিন চলল এবং আগুন লাগার পর আবাসিকদের জন্য নিরাপদে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা কেন ছিল না। একই সঙ্গে হোটেল মালিকের খোঁজ না মেলায় তদন্তে নতুন করে রহস্যও তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
কলকাতা

নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু! ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল ভয়াবহ অব্যবস্থা, ছিল না আগুন নেভানোর ব্যবস্থাও

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এই ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ঘটনাস্থর পরিদর্শনের পর ওই বহুতলের অগ্নিনিরাপত্তা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগ, পাঁচতলা ওই বহুতলের প্রায় প্রতিটি তলাতেই একাধিক হোটেল চলত। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন অতিথিরা। একাধিক ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র চললেও আগুন নেভানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ। কলকাতা পুরসভার নির্মাণবিধি এবং অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই বহুতলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের বিভিন্ন অংশ কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। সেই সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের খবর ছড়াতেই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু বাইরে বেরোনোর পর্যাপ্ত পথ ছিল না বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো এবং আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। ততক্ষণে একাধিক প্রাণ চলে গিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। চিকিৎসার জন্য ভিন্রাজ্য থেকে কলকাতায় আসা মানুষজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও অনেকে সেখানে থাকতেন। এই হোটেলেও বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।অভিযোগ, ওই বহুতলে ঢোকা এবং বেরোনোর জন্য কার্যত একটি সরু পথই ছিল। আগুন লাগার পর সেই পথ দিয়েই বেরোতে গিয়ে প্রবল হুড়োহুড়ি শুরু হয়। হোটেলের ভিতরে ধোঁয়া এতটাই ঘন হয়ে গিয়েছিল যে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কয়েক জন শৌচালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। এক ব্যক্তি উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুতলের ভিতরে নিয়ম না মেনে একের পর এক ঘর তৈরি করা হয়েছিল। কীভাবে সেখানে এতগুলি হোটেল চলছিল এবং কীভাবে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, কীভাবে ওই বাড়িতে হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে বাণিজ্যিক লাইসেন্স মিলেছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতগুলি প্রাণহানির জন্য দায়ী গাফিলতি কোথায় ছিল, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
কলকাতা

তারাপীঠের পর খাস কলকাতায় বড়সড় অগ্নিকান্ড হোটেলে, মৃত্যু ৯ জনের

তারাপীঠের পর এবার খাস কলকাতা। মহানগরের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ জন জখম হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে দুটো নাগাদ আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা নেই। দমকলের কোনও অনুমতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অগ্নিনির্বাপনের কোনও ব্যবস্থা হোটেলে ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এই হোটেলের অনেক আবাসিকই ছিলেন বাংলাদেশের। তাঁরা চিকিৎসার জন্য এদেশে এসেছেন। দমকলের সহযোগিতায় আবাসিকরা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন। এই এলাকায় এধাধিক হোটেল রয়েছে। এই হোটেলগুলোর অধিকাংশই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছিল। পুরসভা বা প্রশাসন সেদিকে কোনও নজর দেননি। দুদিন আগেই তারাপীঠের হোটেল অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে একাধিক হোটেল বেআইনি ভাবে চলছিল। খোদ কলকাতাতেই একাধিক হোটেল বেআইনি ভাবে চলছে তার প্রমান মিলল এই অগ্নিকান্ড। হোটেলগুলিতে ফায়ার এক্সিট বা ইমার্জেন্সি এক্সিট নেই। ফায়ার নেভানোর জন্য সুব্যবস্থা নেই। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কি করে আগুন লেগেছে। এই এলাকাতেই রয়েছে রাজ্য দমকলের সদর দফতর।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
রাজ্য

নয় পুণ্যার্থীর মৃত্যুর পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, তারাপীঠে ১৫টি হোটেল-লজ বন্ধের সিদ্ধান্ত

তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল বীরভূম জেলা প্রশাসন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ও লজকে বন্ধের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েক জন পুণ্যার্থী লজ সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ পুকুরে ডুবে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার পুকুরে স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনও দেহ উদ্ধার হয়নি।প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার পাশের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় নয় জন পুণ্যার্থীর। মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের পাঁচ জন একই পরিবারের সদস্য। বাকি চার জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা। সোমবার রাতে মেঘালয়ের পাঁচ মৃতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের চার মৃতের দেহও পরিবারের লোকজন নিয়ে যান। দুদিন ধরে মৃতদের পরিবারের পাশে ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করেন তিনি।অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলির পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। সোমবার রাত থেকেই কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করেন। তার পরেই মঙ্গলবার ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিনী বি রাঠোর বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকটি হোটেল ও লজকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন না। তাই জেলা শাসকের নির্দেশে সেগুলিকে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হবে।তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হোটেল মালিকেরা। হোটেল মালিক সমিতির পক্ষে জয়ন্ত রায় জানান, মহকুমাশাসকের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সময় চাওয়া হবে। তাঁর কথায়, তারাপীঠে বহু হোটেল রয়েছে, যেগুলির উপর বহু মানুষের সংসার নির্ভরশীল। আচমকা হোটেল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়বেন। তাই প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে নিয়ম মেনে সমস্ত হোটেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।হোটেল মালিক নিতাই মালও জানান, তাঁদের হোটেল বহু পুরনো। ফলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। প্রশাসনের নির্দেশ পাওয়ার পরই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আচমকা হোটেল বন্ধ করে দিলে অধিকাংশ মালিকই সমস্যায় পড়বেন।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর পুকুরে নিখোঁজ কারও দেহ রয়েছে কি না, তা দেখতে মঙ্গলবার স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে নতুন করে কোনও মৃতদেহের সন্ধান মেলেনি।

আগস্ট ১৮, ২০২৬
রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই ৯ জনের মৃত্যু! শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বীরভূমে এই ঘটনায় প্রাণহানিতে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করছে বলেও জানানো হয়েছে।সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠের একটি হোটেলে আচমকা আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েক জন। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল এবং নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং পুলিশ, প্রশাসন ও দমকলের আধিকারিকেরা। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিয়ো কলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।এর পরেই দমকল প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের ক্ষেত্রে ৪ লক্ষ টাকা জেলাশাসকের তহবিল থেকে এবং ৫ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।তারাপীঠের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।হঠাৎ আগুন লাগার পর ঘুমন্ত অবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু কী ভাবে হল, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং শর্ট সার্কিটই আগুনের একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
কলকাতা

‘২০৩১ সালে সুদ-সহ হিসেব নেব’ মন্তব্যেই বড় বিপদ! অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর একটি প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।জানা গিয়েছে, রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে করা তাঁর বক্তব্যকে ঘিরেই এই মামলা করা হয়েছে। সেই বক্তব্যের ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সম্প্রতি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ওই ভবনের সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।সেই সময় অভিষেক বলেন, প্রতিটি কাজেরই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, তিনি বেঁচে থাকলে দুই হাজার একত্রিশ সালে সুদ-সহ সব ফিরিয়ে দেবেন। এই মন্তব্যকে হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এর আগেও বিভিন্ন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ, সই জালিয়াতি-সহ একাধিক বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিভিন্ন মামলায় তাঁকে তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। এবার সেই তালিকায় আরও একটি নতুন মামলা যুক্ত হল।

জুলাই ২৪, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ! থানায় গিয়ে কী জানালেন বিজেপি নেতার স্ত্রী?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠল। বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের স্ত্রী মৌসুমী দাস ঘোষ।অভিযোগকারিণীর দাবি, গত শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয় ভাঙচুরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।মৌসুমী দাস ঘোষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তিনি লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, সামাজিক মাধ্যমে অভিষেকের ডিজিটাল যোদ্ধারা তাঁকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করছেন। এই কারণে গত দুদিন ধরে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন।সোমবার সকালে তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে আমতলার পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সালে তাঁর স্বামী অভিজিৎ দাসের উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় মারধরের ফলে তাঁর স্বামীর দুটি পা ভেঙে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা পুলিশি নিরাপত্তার দাবিও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফানের ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস নোদাখালি থানায় লিখিত অভিযোগ করে দাবি করেছিলেন, বজবজ ২ ব্লকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতি হয়েছে এবং ভুয়ো নথি তৈরি করে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুলাই ২০, ২০২৬
রাজ্য

চলন্ত ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে ধোঁয়া-আগুন, বর্ধমানে ২০ মিনিট থমকাল ট্রেন; অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল রেল

ইঞ্জিনের পরের কামরার নীচে ব্রেক বাইন্ডিং থেকে আগুন, খানা-তালিতের মাঝে দাঁড় করিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনলেন রেলকর্মীরা; নিরাপদে রওনা দিল হাওড়ার উদ্দেশেধানবাদ থেকে হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আচমকাই ধোঁয়া ও আগুন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানের খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে এই ঘটনা। দ্রুত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি আবার হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়েই ২২৩৮৭ ডাউন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, পানাগড় পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনে যান্ত্রিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি যে এতটা গুরুতর হতে পারে, তা কেউ বুঝতে পারেননি।ট্রেনটি পূর্ব বর্ধমানের দিকে এগোতে থাকলে ইঞ্জিনের ঠিক পরের কামরার নীচ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের শিখাও দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনটি জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের প্রযুক্তিগত কর্মী ও আধিকারিকরা। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কামরার ব্রেক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত দিক পরীক্ষা করে ট্রেনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পুনরায় হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের পরের কামরায় ব্রেক বাইন্ডিং-এর কারণে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া ও আগুনের সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, রেলকর্মীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ঘটনার সময় ওই কামরায় বহু যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য কামরাতেও খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগে বাইরে নেমে আসেন। যদিও রেলকর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।ধানবাদ থেকে ট্রেনে ওঠা এক যাত্রী জানান, আসানসোলের কিছু আগে থেকেই ট্রেনে একটা অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। পরে তালিতের কাছে এসে দেখি কামরার নীচ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তারপর আগুনও দেখা যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।এইদিনের ব্ল্যাক ডাইমন্ডের যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। ট্রেন দাঁড়াতেই নেমে পড়ি। পরে রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।এই ঘটনার জেরে ধানবাদ-হাওড়া রেলপথে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলের তৎপরতায় কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষও। তবে চলন্ত ট্রেনে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে আসায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যরাতে আনন্দের আসর মুহূর্তে মৃত্যুকূপ! পানশালার আগুনে মৃত অন্তত ২৭, আতঙ্কে বিশ্ব

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল থাইল্যান্ডের রাজধানী। ব্যাঙ্ককের একটি জনপ্রিয় পানশালায় মধ্যরাতে আগুন লেগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।রবিবার গভীর রাতে উত্তর ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। সেই সময় হঠাৎ আগুন লাগে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো পানশালায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অনেকেই আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। আগুন প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় বহু মানুষের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যাঙ্ককের গভর্নর এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পানশালার পিছনের অংশ থেকেও একাধিক দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে মঞ্চের কাছে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই বিস্ফোরণ হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো পানশালা আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

জুলাই ১৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

যুদ্ধের বাজারেও ভারতের বিরাট সাফল্য! বৃদ্ধির পূর্বাভাস এক ধাক্কায় বাড়াল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বড় সুখবর দিল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। চলতি অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। আগে এই হার ৬.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার।সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে। এর আগে গত জুলাইয়ে ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। নতুন অনুমান অনুযায়ী, বৃদ্ধির সম্ভাবনা ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থাকতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। আগে ওই অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, আগামী দুবছরেও দেশের অর্থনীতির গতি বজায় থাকার আশা করছে সংস্থাটি।এর আগে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কও চলতি অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছিল। এ বার আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের রিপোর্টেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলল।ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর পিছনে কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। সংস্থার মতে, দেশের বাজারে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী। সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ভাল ফল অর্থনীতির বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, ভারতের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল জনসংখ্যা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।তবে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের অনুমান, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৭ সালে তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।অন্য দিকে, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অর্থনীতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই দেশগুলির সম্মিলিত আর্থিক বৃদ্ধির হার ৩.৭ শতাংশ হতে পারে। আগে এই হার ৩.৮ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনুমান ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান আগামী দিনেও আর্থিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দেশ

সূর্যকান্তকে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট, বিজেপির আক্রমণের মুখে পিছু হটল কেরল কংগ্রেস?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পদত্যাগ দাবি করে কেরল কংগ্রেসের একটি পোস্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্কের পর এ বার প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে কেরল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মুছে দিয়েছে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ওই পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভ এবং রাজধানীতে জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পরেই কেরল কংগ্রেসের সরকারি সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা যদি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে, তা হলে যেন তিনি পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি, তাঁর পরিবর্তে এই বিষয় সামলাতে পারবেন, এমন কাউকে খুঁজে নেওয়ার কথাও লেখা হয় ওই পোস্টে। বার্তাটি সামনে আসতেই কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় ওই পোস্টের ছবি ভাগ করে নেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি আগেই বলেছিলেন, কংগ্রেসের পরবর্তী নিশানা হবে বিচারব্যবস্থা। কংগ্রেস দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, দেশবিরোধী শক্তিগুলি একজোট হচ্ছে। এর মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক ভারতীয়দেরও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান রিজিজু।বিতর্ক বাড়তে থাকায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ জানান, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের অজান্তে এবং তাঁদের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই ওই পোস্ট করা হয়েছিল।কী পরিস্থিতিতে ওই পোস্ট করা হয়েছিল, তা দল খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছেন সানি। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। সমাজমাধ্যমে এমন কোনও পোস্ট করা হলে, যা দলের এই অবস্থানের সঙ্গে মেলে না, তা কেরল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত বলে গণ্য করা যাবে না।প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে এক দিকে বিজেপির আক্রমণ, অন্য দিকে কেরল কংগ্রেসের ব্যাখ্যাসব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর বেড়েছে। বিতর্কিত পোস্ট প্রত্যাহার এবং দায়ী ব্যক্তিকে সরানোর সিদ্ধান্তের পরেও এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal