• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Priyanka Singla

রাজ্য

বর্ধমানের জেলাশসক ও পুলিশ সুপারকে আমের প্যাকেট উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

মালদা যাওয়ার সময় বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানোয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠক ও দলীয় সভা করতে মালদা গিয়েছিলেন তিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ফেরার পথে বর্ধমান স্টেশনে ফের একই ভিড় চোখে পড়ল। তবে এবার বিশেষ ঘটনার সাক্ষী থাকল উপস্থিতি মানুষজন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় আম ভর্তি প্যাকেট উপহার দিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা ও পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেনকে। হাজির ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।শুক্রবার ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চড়ে মালদা থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৫টার পর কাঞ্চনজঙ্ঘা বর্ধমান স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়। মুখ্য়মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা ও পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের হাতে আম ভর্তি প্যাকেট ও তোয়ালে উপহার দেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বপন দেবনাথ বলেন, মুখমন্ত্রী আমার সঙ্গে জেলার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। ৫ টা ১৩ মিনিটে ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস বর্ধমান স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।

মে ০৫, ২০২৩
রাজ্য

আবাস যোজনা’র স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার অভিযোগ জমা নেওয়ার উদ্যোগ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা'র

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে যেকোনো ধরনের অভাব, অভিযোগ এবার জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরেরই জানানো যাবে। সেই উদ্দেশ্যেই পূর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক সহ জেলার প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরের সামনেই বসানো হল অভিযোগ বক্স।জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা জানিয়েছেন,ইতিমধ্যেই জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সংক্রান্ত প্রায় ৭৩৭ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার বেশীরভাগটাই যোজনায় অন্তর্ভুক্তকরণের। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগ গুলোও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার নাম নথিভুক্ত আছে। যে তালিকা আবার নতুন করে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করার কাজ চলছে। মূলত বিডিও ও এসডিও স্তরে দুবার যাচাইয়ের পর ফের তৃতীয়স্তর হিসাবে এডিএম স্তরে সেই তালিকা যাচাইয়ের পরই ফের নতুন তালিকা তৈরী করা হবে।রাজ্যজুড়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির ও স্বজনপোষণের অভিযোগের শেষ নেই। এবং তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজাও কম হচ্ছে না। এরই মাঝে জেলাপ্রশাসনের তরফে অভিযোগ বক্স বসানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ফের রাজনৈতিক চাপানউতর।জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এরপর এত অভিযোগ প্রতিদিন জমা পড়বে, প্রশাসনের আধিকারিকরা নাজেহাল হবেন। কারণ গরিব মানুষজনের নাম আবাস যোজনার তালিকায় নেই। যারা প্রকৃত দাবীদার তাদের নাম শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বাদ দিয়ে নিজেদের নাম তালিকায় নথিভুক্ত করেছেন। এই দাবী আমরা প্রথম থেকেই করে আসছি। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ নিয়ে আমরা অভিযোগ করেছি বারে বারে। তখন তৃণমূল কান দেই নি। এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে তাই বক্স করছে প্রশাসনিক দপ্তরে। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না বলে এতদিন মিথ্যে অভিযোগ করছিল রাজ্য সরকার ও তৃণমূল। এখন তা প্রমাণিত হল। আইসিডিএস কর্মী সার্ভে করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। গেলে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা তাদের আক্রমণ করছে। হুমকি দিচ্ছে।অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস। তিনি বলেন,যখন সার্ভে হয়েছিল তখন তার পাকা বাড়ি ছিল না। এখন ২০২২ সালে আবাস যোজনার তালিকায় তার নাম আছে। এতে বেনিয়মের কি আছে। প্রশাসন তদন্ত করে দেখে তবেই তো নাম থাকবে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে গিয়ে নাম কাটাচ্ছেন।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

বোরো ও রবি চাষে ডিভিসি-র জল কবে থেকে কতটা এবং কত দিন ধরে দেওয়া হবে জেনে নিন

আগামী বোরো ও রবির মরশুমে ডিভিসির জল বন্টন করা নিয়ে সোমবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়ে গেল বর্ধমান জেলা সার্কিট হাউসে। ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় ভারতীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। এই বৈঠকে পাঁচটি জেলার আধিকারিকরা অংশ নেন। এছাড়াও কৃষি দপ্তর ও ডিভিসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৬ শে ডিসেম্বর থেকে বোরো চাষে জল দেওয়া শুরু হবে। ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে রবিচাষের জল দেওয়া। বিজয় ভারতী জানান, এবারে মোট ২.৩৫ লক্ষ একর ফিট জল পাওয়া যাবে। গত মরশুমে এই পরিমাণ ছিল ৩.৩০ লাখ একর। গতবারের চেয়ে এবারে প্রায় ১০ শতাংশ এলাকায় কম জল মিলবে। এই পরিমাণ গতবারের চেয়ে কিঞ্চিৎ কম হলেও তাতে তেমন বড় অসুবিধা হবে না বলে মনে করেন আধিকারিকরা। তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমানে ১৬৫০ একর ফিট; বাকুড়ায় ১০০০০ একর ফিট, হুগলী জেলায় ২০০০০ একর ফিট এবং হাওড়া জেলায় ২৮০০ একরে জল দেওয়া হবে।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় ভারতীর নেতৃত্বে আজ আগামী বোরো ও রবি চাষের জন্য জেলায় কবে থেকে কতটা জল ছাড়া তার সিদ্ধান্ত হলো। তিনি জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ৪৭৫৫০ একর ফিট জল দেওয়া হবে। প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, ১লা ডিসেম্বর সভাধিপতি পক্ষ থেকে একটা মিটিং আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে কোন কোন ক্যানালে কবে কতটা জল ছাড়া হবে। তিনি জানান, ২৬ ডিসেম্বর যে জল ছাড়া হবে তা ২৮ ডিসেম্বর নাগাদ পূর্ব বর্ধমানে এসে পৌছাবে। এছাড়া ২৫ জানুয়ারি থেকে রবি চাষের যে জল দেওয়া হবে তা শেষ হবে ৩০ এপ্রিল। জানা গেছে বোরো চাষে ১০ দিন অন্তর মোট ৫ বার জল দেওয়া হবে। রবিতে দেওয়া হবে মোট ৩ বার।

নভেম্বর ২৮, ২০২২
রাজ্য

মাত্র পাঁচ টাকায় ডিম ভাতের 'মা ক্যান্টিন' বর্ধমানে, মানুষের আশীর্বাদ কুড়ালেন মন্ত্রী থেকে জেলাশাসক

মাত্র পাঁচ টাকায় পেট ভরা খাবার! বুধবার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং বর্ধমান পুরসভার উদ্যোগে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হল সস্তার খাবার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প মা ক্যান্টিন চালু হল বর্ধমানে, জেলায় এটি পঞ্চম। মা ক্যান্টিন-এ মাত্র পাঁচ টাকায় খাবার পাওয়া যাবে।বুধবার দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই পরিষেবার সূচনা হয়। প্রকল্পের সূচনা করেন জেলার মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশ সরকার, পূর্ব-বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ডঃ তাপস ঘোষ ছাড়াও অন্য আধিকারিকেরা।জানা গেছে, প্রথম দিকে ২২০ জন ব্যাক্তি এই সুযোগ পাবেন প্রতিদিন। এরজন্য সকাল দশটায় কুপন দেওয়া হবে। কুপনের মুল্য ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৫ টাকা। দৈনিক মেনুতে থাকবেঃ ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিমের ঝোল। প্রতিদিন হাসপাতালে যে হাজার হাজার মানুষ আসেন তাদের খুব সুবিধা ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প, তাঁর সকল প্রকল্প-ই মানুষের স্বার্থে। তিনি আরও জানান, এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাইরের রোগীদের সাথে সাথে তাঁদের পরিবারের প্রচুর লোকজন আসেন, তাঁদের স্বল্পমূল্যে খাবারের সুবিধার জন্য-ই এই প্রকল্প শুরু করা হল। তিনি জানান, এর আগে রোগী কল্যাণ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে আজ সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হল।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যের সব হাসপাতালে মা ক্যান্টিন চালু করতে হবে, আমরা সেই মত এটা চালু করতে পেরে খুব আনন্দিত। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথও খুব সাহায্য করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। এখনও অবধি জেলায় ৬ টি মা ক্যান্টিন আছে। জেলার পুরসভাগুলি খুব সাফল্যের সাথে এটা চালায়। তিনি জানান এই মুহুর্তে একটু ফান্ডের সমস্যা আছে, কিছুদিনের মধ্যেই আরও বেশী মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।পুরপ্রধান পরেশ সরকার জানান, জেলার সব পুরসভায়ই মুখমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প সাফল্যের সাথে চলছে। বর্ধমানে এটা শুরু করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তিনি মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলাকে ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন করেন পুরসভাকে সার্বিক ভাবে সাহায্য করার জন্য। আজ উপস্থিত রোগীর পরিবারেরা খুব খুশি ৫টাকায় ডিম ভাত পেয়ে। তাঁরা জানান এতে তাঁদের খাওয়া খরচা অনেকটা সাশ্রয় হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২২
রাজ্য

সুর কাটলো কার্নিভালের, ক্ষোভ উগরে দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ পুরসভার চেয়ারম্যানের, জেলাশাসকের প্রশংসা

কার্নিভালের মঞ্চ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেমে গেলেন বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার। তিনি বলেন, কার্নিভাল খুব ভাল হচ্ছে আমার কারো বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা রাগ নেই। আমার একটাই দুঃখ৷ দুমাস ধরে পৌরকর্মীরা কার্নিভালের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদিন কার্নিভালের মঞ্চ থেকে একবারের জন্যও পৌরকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হলো না। তিনি বলেন, রাস্তা পরিস্কার করা থেকে দুর্গাপুজো ও কার্নিভালের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করেছে দু-আড়াই হাজার পৌরকর্মী। পৌরকর্মী ও আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানো হল না এটাই আমার দুঃখ। আমি একজন সামান্য শিক্ষক, আমার বয়স হয়েছে তাই আমি কারো অন্যায়টা গিলতে পারিনা। এরপর তিনি আর মঞ্চে ওঠেননি।এখানে উল্লেখ্য রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বর্ধমান শহরেও কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন মুম্বাইয়ের চলচিত্র অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডে।এবিষয়ে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, তারা পৌরসভার কাছে কৃতজ্ঞ। কার্নিভাল খুব ভাল ও সাক্সেস হয়েছে। জেলাশাসক জানান, আজকের কার্নিভালে ৩০টি পূজা কমিটি অংশগ্রহণ করেছে। মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে তিনি এ খুশি সে কথাও তিনি জানান। পরবর্তি সময়ে আরও বড়ো ভাবে কার্নিভাল করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, পরের বছর জেলার অন্যান্য সাব-ডিভিশন থেকেও দুর্জাপূজা কমিটি গুলিকে আহ্বান করবেন এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করার জন্য। জেলাশাসক জানান এই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। সেদিন ইউনেস্কোর আমাদের বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ ঘোষণা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন র্যালি করা হয়েছিলো বর্ধমান শহরে। শুক্রবারের অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অক্টোবর ০৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট উত্তোলন মধ্যে দিয়ে রাঢ়বঙ্গে পুজো শুরু

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরের ঘট উত্তোলন মাধ্যমেই মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। দুবছর কোভিড বিধির সরকারী নির্দেশিকা মেনেই পুজোর আয়োজন করতে হয়ছিল। এবছর সেরকম কোনও করোনা বিধি নেই। সোমবার কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী থেকে ঘট উত্তোলন করে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট আনার প্রাচীন প্রথা রয়েছে। কথিত আছে বর্ধমানের বাহিরসর্ব্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায় সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোল নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি।সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের মহারাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে গিয়ে সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু করেন।দেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট স্থাপনঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্ব্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারো মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যা দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপোর সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে, বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। সেই বোর্ডের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তার পর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে আসছে।মায়ের মন্দির থেকে ঢাক, ক্লাব ব্যান্ড ও ব্যান্ড সহযোগে ঘোড়ার গাড়ি করে বিসি রোড হয়ে রাজবাড়ি সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা পৌঁছায় কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাটে। সেখানে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা সিংলা, স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস, ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ, প্রাক্তন সম্পাদক বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডঃ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ সকল কাউন্সিলার। অগনিত ভক্ত সমাগমে ঘট ভরা সম্পন্ন হয়।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
রাজ্য

মেমারির হিমঘরের গাফিলতিতে আলু নষ্টের ক্ষতিপূরনের দাবিতে বিক্ষোভ বর্ধমানে

পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুরে ১৮০০ চাষির আলু নষ্ট হওয়ার প্রতিবাদে আজ বর্ধমান শহরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। চাষিদের অভিযোগ, বারবার বৈঠক, আবেদন নিবেদন এমনকি জেলাশাসকের সঙ্গে বারংবার বৈঠক হলেও এখনও অবধি কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তাঁরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ সত্বেও জেলা প্রশাসন ক্ষতিপূরণ নিয়ে উদ্যোগ নেয়নি।আজ বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জনগেটের সামনে জিটি রোডের ওপর অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক কৃষক। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানে লিখিত প্রতিশ্রুতি চাই। নইলে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা জানান, এটা প্রায় দশ হাজার মানুষের রুজির সমস্যা।উপস্থিত চাষিরা জানান, এর আগেও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকেও তেমন কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় চরম হতাশ হয়ে পড়েন আলুচাষীরা। কিছুদিন আগে হিমঘরে রাখা আলু পচে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন চাষীরা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, পুর্ব-বর্ধমানের রসুলপুরের তিরুপতি হিমঘরে আলু রেখেছিলেন। কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে প্রায় এক লক্ষ বস্তা আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে চাষীদের দাবি। হিমঘর মালিক প্রথমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি রাখেননি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে ওই হিমঘর মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে পূর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে হাইকোর্টে কেস চলছে, কোর্টের নির্দেশ এলেই সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলুর ক্ষতিপূরনের টাকা না পেয়ে ইতিমধ্যেই হিমঘর মালিকের বিরুদ্ধে মেমারি থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষকরা।উল্লেখ্য, মেমারির রসুলপুর এলাকার তিরুপতি হিমঘরে গত ১৯ মে আলু বার করতে গিয়ে চাষীদের মাথায় হাত। হিমঘরের ২ ও ৩ নম্বর চেম্বারের আলু ড্রাইং শেডে ফেলার পর দেখা যায় আলু একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হিমঘর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলেই এক লক্ষ ১৫ হাজার প্যাকেট আলু নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চাষীরা। চাষীদের বিক্ষোভের মুখে পরে গত ৬ জুন হিমঘর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসন ও চাষীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক ও কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ক্ষতিপূরণ বাবদ চাষীদের ৮৯০ টাকা প্রতি প্যাকেট দেওয়া হবে। এবং ওই ক্ষতিপূরণ ২১ জুনের পর দেওয়া হবে। কিন্তু চাষীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত হিমঘর কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা মেটানোর কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এমনকি উল্টে হিমঘর মালিক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এমত অবস্থায় বিপাকে পড়েছে এই হিমঘরে আলু রাখা কৃষকরা।ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ২ আগস্ট মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে এসে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলাকে ডেপুটেশন দিতে এলে তিনি তাঁদের জানিয়ে দেন, প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং-এ সিদ্ধান্ত মতো ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে হিমঘর কতৃপক্ষ উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছে। যেহেতু ব্যাপারটি আদালতের বিচারাধীন, এই মুহুর্তে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামিকাল কলকাতা হাইকোর্টের রায়দানের সম্ভাবনা আছে। আমরা সেই রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছি, সেখান থেকে কিছুটা রিলিফ চাষিরা পেতে পারেন। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার আশ্বাসে চাষিরা অবস্থান তুলে নেন।

আগস্ট ০২, ২০২২
রাজ্য

আদিবাসীদের আন্দোলন স্মরণ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার, জানিয়ে দিলেন সরকার তাঁদের পাশে আছে

সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।

জুন ৩০, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনককে সম্বর্ধনা পুর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা-র

বর্ধমান শহরের সিএমএস স্কুলের ছাত্র রৌনক মণ্ডল। ২০২২র মাধ্যমিক পরীক্ষায় যুগ্ম প্রথম স্থানাধিকারী। রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন হাই স্কুল (বাঁকুড়া) অর্ণব ঘড়াই রৌনক -এর সাথে যুগ্ম ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ বছর ৭ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ অবধি মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছিল। করোনা অতিমারির কারণে ২০২১ এ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। ২০২২ এ মোট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৩। ছাত্রের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯ জন। এবং ছাত্রী ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪। সারা রাজ্যে ৪ হাজার ১৫৪ টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সম্পুর্ণ আদর্শ করোনা বিধি মেনে।পুর্ব-বর্ধমান জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনক মণ্ডল-কে তাঁর জেলাশাসক কার্যালয়ে শুক্রবার সম্বর্ধনা দেন। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা রৌনক-কে একটি ল্যাপটপ উপহার দেন। ভবিষ্যতে কি হতে চাই সে কথা জানতে চাইলে, রৌনক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে জানান আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। প্রিয়াঙ্কা সিংলা তার সাফল্য কামনা করে শুভকামনা জানান, যাতে সে তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে লক্ষ্য পুরণ করতে পারে।রৌনক জানান, সে মাধ্যমিকে প্রথম হবে সেটা আশা করেননি। তার ধারনা ছিল সে এক থেকে দশের মধ্যে থাকবে। রৌনক কতক্ষণ পড়ত জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এ কথা জানতে চাইলে, তাঁর মা জেলাশাসক-কে জানান, রৌনক দিনে গড়ে আট ঘণ্টা পড়ত। তিনি আরও জানান, রৌনক খুব বেশী রাত জেগে পড়েনি।শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর প্রথম স্থানাধিকারী পূর্ব বর্ধমানের রৌনক মণ্ডল জানতে পারেন তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। সে জানাই, তার প্রিয় বিষয় জীবনবিজ্ঞান এবং অঙ্ক। যেহেতু আমার লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া তাই, নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছি।রৌনকের প্রিয় চরিত্র ফেলুদা, সত্যজিত রায়ের অমর সৃষ্টি পড়েই অবসর সময় অতিবাহিত করে সে। অবসর সময়ে ভলিবল খেলত বলে জানাই রৌনক। রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুরাগী, সময় পেলেই রবীন্দ্রনাথের গান গুনগুনিয়ে ওঠে। জেলাশাসকের কাছ থেকে ল্যাপটপ উপহার পেয়ে খুবই খুশি মাধ্যমিকে প্রথম রৌনক। সে জানাই এই ল্যাপটপ আমার পড়াশোনার জন্য খুব-ই কাজে লাগবে।

জুন ০৩, ২০২২
রাজ্য

আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন পুর্ব-বর্ধমান জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা'র

পূর্ব বর্ধমান জেলায় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠায় বেসরকারি হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেন জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা. উল্লাসের কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, হাসপাতলে ফ্রণ্ট ডেস্কের স্বাস্থ্য সাথীর ডিসপ্লে থাকার কথা সেটা নাই, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যসাথী ডিসপ্লে ও স্বাস্থ্যসাথী রেজিস্টার মেইন্টেন করার নির্দেশ দেন তিনি, এরথেকে বোঝা যাবে কতজন রোগী ভর্তি আছেন আর কতজন ছুটি পেয়েছেন তা হাসপাতালে মজুত কার্ডের সাথে মেলানো যাবে।জেলাশাসক সরজমিনে ঘুরে দেখেন এই হাসপাতালে রাজ্য সরকারের প্রকল্প স্বাস্থসাথী-র কোনও গণ্ডগোল হচ্ছে কিনা। তিনি ছাড়াও শনিবারের এই হঠাৎ পরিদর্শনে জেলাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বাস্থ অধিকর্তা, সহকারি-স্বাস্থ অধিকর্তা, ও বর্ধমান দক্ষিণ ও উত্তরের মহুকুমা শাসক। সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।হাসপাতালে উপস্থিত সাধারণ মানুষ জনতার কথাকে জানান, এই ধরনের হঠাৎ হাসপাতালে এলে আধিকারিক রা জানতে পারবেন কি ধরনের পরিসেবা সাধারণ মানুষ এদের থেকে পায়। এবং হাসপাতাল কর্ত্তিপক্ষ ও সদা সতর্ক থাকবে পরিসেবা ব্যাপারে।

এপ্রিল ০২, ২০২২
স্বাস্থ্য

Vaccinated Without Vaccine: করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েও ’ফাইনাল সার্টিফিকেট’! তারপর কি ঘটল?

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া সত্ত্বেও ফাইনাল সার্টিফিকেট চলে এসেছে বর্ধমানের এক বাসিন্দার। কোউইন অ্যাপ (CoWin App) থেকে ডাউনলোড করে এমন সার্টিফিকেট পাওয়ার পরেই কার্যত চোখ কপালে উঠে গিয়েছে শহর বর্ধমানের টিকরহাটের বাসিন্দা উত্তম সাহার। এমন সার্টিফিকেট আসার পর আর দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পাবেন কিনা তা নিয়েই দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন উত্তম বাবু। বিষয়টি নিয়ে তিনি সোমবার জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উত্তমবাবুর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক।আরও পড়ুনঃ ছোট্ট ছুটির ঠিকানা সিঙ্গিবর্ধমানের সরাইটিকরের বাসিন্দা বছর ৫৭ বয়সী উত্তম সাহা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, গত ৬ এপ্রিল তিনি কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজের টিকা নেন বর্ধমান পৌরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। তারপর সম্প্রতি তিনি কোউইন অ্যাপ থেকে ওই প্রথম ডোজের সার্টিফিকেট ডাউনলোড করেন । তখনই তিনি জানতে পারেন ২৯ জুন থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে হবে। তার জন্য কয়েকদিন আগে তিনি কোউইন অ্যাপের মাধ্যমে শ্লট বুকিং করেন। তাঁকে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালের অধীন দুর্গাপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩ জুলাই দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার স্লট বুকিং দেওয়া হয়। উত্তম বাবু বলেন, যেহেতু তিনি ডায়াবেটিক রোগী তাই মেমারি যেতে চাননি।আরও পড়ুনঃ দাম্পত্যে ইতি। বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত লাগান খ্যাত ভুবনেরকোউইন (CoWin) অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং ক্যানসেল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। ৩ জুলাই মেমারিতে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিতে যেতেও পারেননি। উত্তমবাবু জানান, তিনি দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিতে যেতে না পারলেও তাঁর মোবাইলে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নেওয়ার সার্টিফিকেট চলে আসে। সেই সার্টিফিকেট কোউইন অ্যাপের মাধ্যমে ডাউনলোডও করা যাচ্ছে বলে উত্তম বাবু দাবি করেন।আরও পড়ুনঃ গানওয়ালার গান চুরির অভিযোগ, ক্ষোভপ্রকাশ সামাজিক মাধ্যমেউত্তম বাবুর অভিযোগ পাওয়ার পর জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত সমস্যায় এমনটা ঘটছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার স্লট বুকিং থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ফাইনাল সার্টিফিকেট চলে আসছে। তবে ত্রুটি সংশোধন করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর মঙ্গলবার উত্তম সাহার দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গিয়েছে।

জুলাই ০৬, ২০২১
রাজ্য

Lightning: বজ্রপাত বৃদ্ধি, বর্ধমানের জামালপুরে কারণ অনুসন্ধানে ব্যস্ত বিশেষজ্ঞরা

রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাশাপি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা।সোমবার একদিনে রাজ্যে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন।এই ঘটনার ঠিক ৩ দিন আগে অর্থাৎ গত শনিবার বজ্রপাতে পূর্ব বর্ধমানের জমালপুর ব্লকের ৪ জন বাসিন্দা মারা যান বজ্রপাতে। জখম হন একজন। এর পরেরদিন ফের বজ্রপাতে জামালপুরের এক নাবালিকা ও কালনা মহকুমার এক বাসিন্দা বজ্রপাতে মারা যান।প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত বজ্রপাতে জামালপুরে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এইভাবে জামালপুরে বজ্রপাত বৃদ্ধির কি কারণ তা এখন খুঁজে পেতে চাইছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জেলা শাসকের নির্দেশে বজ্রপাত সংক্রান্ত বিষয়ে জামালপুরের জনসাধারণকে সচেতন করার প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে । বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত নেতিবাচক পরিবর্তন। এছাড়াও দূষণের জেরে ভাসমান ধূলিকণা বেড়ে যাওয়ার প্রভাবেও বজ্রপাতের ঘটনা উত্তরোত্তর বাড়ছে। মূলত, দূষণের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতিই নির্দিষ্ট জায়গায় ক্রমবর্ধমান বাজপড়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেই মত গবেষকদের। একই সঙ্গে তাঁরা মনে করছেন, উষ্ণায়ন ও যথেচ্ছভাবে সবুজ ধ্বংসও বজ্রপাত বৃদ্ধির অন্যতম একটা কারণ । বিশেষজ্ঞদে মতে, দিবাভাগে সৌরতাপ বৃদ্ধির কারণে সীমানা স্তর অত্যধিক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । তার ফলে বায়ুমণ্ডলে তৈরি হওয়া অস্থিরতা থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। গবেষকরা আরও বলছেন, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ৫০ ভাগ বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ, বড় বড় গাছ কেটে ফেলা। বড়বড় গাছপালা বজ্রনিরোধক হিসেবেও কাজ করে। আর বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার পরেও খোলা স্থানে মানুষের কাজ করা এবং বজ্রপাতের বিষয়ে অসচেতনতাও বজ্রপাতে প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানিয়েছেন, বজ্রপাত নিয়ে জামালপুরে সচেতনতার প্রচার শুরু করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার বজ্রপাত সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য-সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পাঠিয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত চাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ১৬টি জায়গায় লাইটনিং ডিটেক্টরের মাধ্যমে আগাম বাজ পড়ার সঙ্কেত পাওয়া যায়। জেলাপ্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য-সম্বলিত রিপোর্ট মেলার পর জামালপুরে ওই প্রযুক্তি লাগানো যায় কি না তা দেখা হবে। জামালপুর ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিক ফাল্গুণী মুখোপাধ্যায় বলেন, বজ্রপাত হওয়া এলাকাগুলির তথ্য সংগ্রহ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

জুন ০৯, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, ইউনেস্কো মামলায় তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। তখন থেকেই CGO কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। দুই কমিশনারেটের আধিকারিককে দেখা যায় সেখানে। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কুণাল আগরওয়াল।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন একা নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইন্দ্রনীল ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। পাসের দাম ছিল ১,৮০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইভাবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দার যোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি তদন্তে নামে ইডিও। লালবাজারে তলব এড়ানোর অভিযোগের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় আদালতে। এখন তদন্তকারীদের নজর সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, লেনদেন এবং তার প্রকৃত ব্যবহার খতিয়ে দেখার দিকে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal