• ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Middle East Crisis

বিদেশ

আমেরিকার যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের! সত্যিই কি পিছু হটল শক্তিশালী রণতরী

আরব সাগর ও ওমান সাগর সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, যুদ্ধজাহাজটি এখনও স্বাভাবিক ভাবেই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবিভাগ জানিয়েছে, তাদের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত করেছে। তাদের দাবি, সেই আঘাতে যুদ্ধজাহাজটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং উপসাগরীয় এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।ইরানের তরফে আরও বলা হয়েছে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি নির্ভুল সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় তিনশো চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ওমান সাগরে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর আমেরিকার ওই যুদ্ধজাহাজ ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য জাহাজ দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগেও ইরান দাবি করেছিল যে তারা এই যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে। কিন্তু তখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছিল, সেই ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজের কাছেও পৌঁছতে পারেনি।ইরানের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধজাহাজের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ওই রণতরী এবং তার সঙ্গে থাকা নৌবহর এখনও সমুদ্র থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।এই উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রে আরও একটি ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ইরানি জাহাজ আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীর খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মার্কিন বাহিনী গুলি চালায় বলে জানা গেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বড় আকারের কামান ব্যবহার করে ওই ইরানি জাহাজের দিকে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তবে ঠিক কোন জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। গুলিগুলি সতর্কবার্তা হিসেবে ছোড়া হয়েছিল কি না, সেটাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই গুলি একাধিকবার ইরানি জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও কোনওটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ইরানের ওই জাহাজটির বর্তমান অবস্থাও এখনও পরিষ্কার নয়।পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান অভিযান শুরু হওয়ার পর দুটি বড় বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।এই মুহূর্তে অঞ্চলে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। তাদের সঙ্গে একাধিক বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজও কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজও রয়েছে, যেগুলি ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে।

মার্চ ১৩, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ কি আমেরিকার মাটিতেও? ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল এফবিআই

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সেই সংঘাতের আঁচ এবার আমেরিকার মাটিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থার দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালাতে পারে ইরান। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে সতর্ক করেছে এফবিআই।বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার লাগাতার হামলার মুখে ইরানও পালটা আক্রমণ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিশোধ নিতে ইরান মার্কিন ভূখণ্ডেও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এফবিআই একটি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরান মার্কিন ভূখণ্ডে হঠাৎ হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তখনও আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেনি। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে তদন্তকারীদের উদ্বেগের বড় কারণ হল, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও তাদের হাতে নেই। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার পরেও পিছু হটতে রাজি নয় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পালটা আঘাত হানছে তারা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।খবর পাওয়া গেছে, ইরাকের একটি বাণিজ্য বন্দরে তেলবাহী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়াও কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের দেশেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই হামলা প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।এরই মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনটি শর্তও দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রথমত সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর তৃতীয়ত ভবিষ্যতে আর কোনও আগ্রাসন হবে না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিশ্চয়তা দিতে হবে।অন্যদিকে নতুন খবর, ইরাকের একটি বন্দরে আমেরিকার একটি সংস্থার দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীর কাছে ভাসমান একাধিক জাহাজেও হামলার খবর মিলেছে।সৌদি আরব দাবি করেছে, ইরানের হামলায় তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে কার্যত অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে ইরান। এর ফলে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর যুদ্ধ থামানোর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
দেশ

হরমুজ প্রণালী খুলল ভারতের জন্য! মোদি সরকারের কূটনীতিতে নরম ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের মাঝেই ভারতের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। সূত্রের দাবি, কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। ইতিমধ্যেই পুষ্পক এবং পরিমল নামে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ভয়াবহ যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ কার্যত থমকে গিয়েছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল বাণিজ্য হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। শুধু রাশিয়া এবং চিনের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারতের নামও। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। তবে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইউরোপের দেশগুলির জাহাজের উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড ফোর্স।এই সিদ্ধান্তের আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই কথোপকথনে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।সূত্রের দাবি, গত দুসপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার এই বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে। পর্দার আড়ালেও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছিল। সেই তৎপরতার ফলেই আপাতত হরমুজ প্রণালীর ওপারে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার অনুমতি মিলেছে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ভারত শুরু থেকেই প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। তবে ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার কাছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে আমেরিকার হামলার পর ভারত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর কাছেই একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল।তার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ভারত সরকার দ্রুত ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। সেই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই এই অনুমতি মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের হামলায় জ্বলল মার্কিন তেল ট্যাঙ্কার, নিহত এক ভারতীয় নাগরিক

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আরও এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরাকের উপকূলের কাছে আমেরিকার দুটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। সেই হামলার পর ভয়াবহ আগুন ধরে যায় জাহাজে। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছে। ইরানের উপর হামলা আরও জোরদার করেছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। এই সংঘর্ষে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের বলি হচ্ছেন। কাজের সূত্রে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহু ভারতীয় থাকেন। সেই কারণে এই সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিকরাও বিপদের মুখে পড়ছেন।সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরাকের জলসীমার মধ্যে খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে হামলার ঘটনা ঘটে। সাফেসি বিষ্ণু নামে একটি জাহাজে থাকা আমেরিকার দুটি তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের নৌকা থেকে হামলা চালানো হয়। হামলার পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় ট্যাঙ্কার দুটিতে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জাহাজ থেকে তেল সমুদ্রে পড়তে শুরু করে।এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ট্যাঙ্কার থেকে আগুনের বিশাল শিখা উঠছে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। জানা গিয়েছে, ওই ট্যাঙ্কারগুলিতে প্রায় চার লক্ষ ব্যারেল তেল ছিল।হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজে থাকা বাকি সাতাশ জন সদস্য এবং কর্মীকে উদ্ধার করে দক্ষিণ ইরাকের বসরা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষ এখন ত্রয়োদশ দিনে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত তিনজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন কুড়ির বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই দুজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন সংসদে বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্য জয়শঙ্কর জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।মৃত ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি শোকপ্রকাশও করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ইরানে বহু ভারতীয় পড়ুয়া এখনও আটকে রয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটির বেশি ভারতীয় বসবাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ থামাতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে তিন শর্ত! হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ থামার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইতিমধ্যেই যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে আমেরিকা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং কার্যত জয় নিশ্চিত হয়েছে। তাই খুব শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ থামবে কি না তা ঠিক করবে তেহরানই। এই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষবিরতির জন্য আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই শর্তগুলি না মানলে কোনওভাবেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।বুধবার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যমের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে এই তিনটি শর্তের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি লেখেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকার আবারও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইজ়রায়েল সরকার এবং আমেরিকার শুরু করা এই যুদ্ধের শেষ করার একমাত্র উপায় হল ইরানের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।অর্থাৎ ইরানের দাবি, তাদের ন্যায্য অধিকার কোনওভাবেই খর্ব করা যাবে না। পাশাপাশি চলতি সংঘর্ষে যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।তৃতীয় শর্তটি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। ইরানের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আবারও হামলা চালাতে পারে ইজ়রায়েল বা আমেরিকা। তাই ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়, তার নিশ্চয়তা চাইছে ইরান। এই তিনটি শর্ত মানা হলে তবেই সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে চলেছে। তাঁর দাবি, ইরানে আক্রমণ করার মতো প্রায় কিছুই আর বাকি নেই এবং এই যুদ্ধে আমেরিকা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তাই তিনি চাইলে খুব শিগগিরই যুদ্ধ থামতে পারে।তবে ইরানের এই কড়া অবস্থান নতুন করে চাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।এখন প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ থামাতে ইরানের এই তিন শর্ত কি মেনে নেবে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল? নাকি সংঘাত আরও বাড়বে? মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধের ছ্যাঁকায় কার্যত লকডাউন পাকিস্তানে! অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ স্কুল, অফিসে আসতে হবে না সরকারি কর্মীদের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। অভিযোগ উঠছে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পাশাপাশি আশপাশের দেশের তেল উৎপাদন ও শোধনাগারেও হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতির উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু ভারত নয়, প্রায় দশটি দেশ এই সমস্যার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান।জ্বালানি বাঁচাতে পাকিস্তান কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত লকডাউনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছেন যে স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়াশোনা হবে অনলাইনে। সরকারি অফিসগুলির কাজের দিনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।সরকারি দপ্তরগুলিতে আগামী দুই মাস জ্বালানির ব্যবহার অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চার দিন খোলা থাকবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা ছাড়া সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের ভাতাও কমানো হয়েছে।শুধু পাকিস্তান নয়, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উপরেও। সেখানে জ্বালানি ব্যবহারে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং গাড়ির জন্য দশ লিটার জ্বালানি নেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে।ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম প্রায় আট শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মায়ানমারে গাড়ি চলাচলের জন্য জোড় ও বিজোড় নম্বরের নিয়ম চালু করা হয়েছে। অনেক জায়গায় জ্বালানি না থাকায় পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ পাশের দেশ থাইল্যান্ডে গিয়ে তেল কিনছেন।আমেরিকার কিছু রাজ্যেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফ্লোরিডা এবং লুইজিয়ানায় প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম প্রায় এগারো সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। ভিয়েতনামেও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে।বর্তমানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দ্রুত থামানো না যায়, তবে আগামী দিনে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্চ ১১, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের নতুন নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! “শান্তিতে বাঁচতে পারবেন না”

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয় না নতুন নেতা শান্তিতে থাকতে পারবেন। তবে উত্তেজনা বাড়লেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রয়েছে বলেই দাবি করেছে ওয়াশিংটন।আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি মোটেও খুশি নন। এরপরই কড়া সুরে মন্তব্য করেন যে নতুন নেতা শান্তিতে থাকতে পারবেন বলে তাঁর মনে হয় না।এর আগেই তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। তাঁর কথায়, ইরানের ভেতরে আরও বড় আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এবার আরও বেশি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যও আগের চেয়ে আরও নির্ভুল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ইরান খুব কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা আমেরিকার পদক্ষেপের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে কয়েক দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য মিলেছে। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই আরেক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুদ্ধ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এই মন্তব্য ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখনও থামেনি। বরং নতুন করে বড় হামলার সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে প্রথম দিকে ইরান মূলত ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ বাড়িয়েছে। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। ইজরায়েলের হামলায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দপ্তর ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে এবং তেলের বাজারেও। যুদ্ধ আর কত দিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মার্চ ১১, ২০২৬
দেশ

যুদ্ধের আগুনে মধ্যপ্রাচ্য, শান্তির বার্তা ভারতের! রাজ্যসভায় বড় বার্তা জয়শংকরের

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সোমবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানান, আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, উত্তেজনা কমাতে সব পক্ষেরই সংযম দেখানো এবং আলোচনার পথে এগোনো জরুরি।গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের উপর যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানও একাধিক হামলা চালাতে শুরু করে। ইজরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করা হয়। এর ফলে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়।এই পরিস্থিতি নিয়েই সোমবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি জানান, ভারত সরকার এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সরকার একটি বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।জয়শংকর বলেন, ভারত মনে করে উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ হল সংলাপ এবং কূটনীতি। সব পক্ষ যদি আলোচনার পথে এগোয়, তবেই পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব।বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গোটা পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন। বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাকে।তিনি বলেন, ইরান এবং আশপাশের দেশগুলিতে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তেহরানে থাকা ভারতীয় দূতাবাস সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও হয়েছে। মার্চ মাসের শুরুতে হওয়া ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির উপর এখনও নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
বিদেশ

“ট্রাম্পকে ছাড়ব না” হুমকিতে কাঁপছে বিশ্ব, প্রতিশোধের বার্তা ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাঁকে এর মূল্য চোকাতে হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। সরাসরি ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরানের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিশোধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। দিন যত যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিও ততই জটিল হয়ে উঠছে।এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে লারিজানি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তাঁদের নেতা খামেনেই এবং দেশের মানুষের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ট্রাম্পকে এর মূল্য দিতেই হবে। শত্রুদের হামলার জবাব ইরান অবশ্যই দেবে বলেও জানান তিনি।লারিজানির দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করেছে ইরান। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প তাঁদের নেতাকে হত্যা করেছেন এবং প্রায় এক হাজার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত পাঁচ দিনে ইরান প্রায় পাঁচশো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলও ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

মার্চ ০৮, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত ইরানের, প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চাইল তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে টানা উত্তেজনার মাঝেই আচমকা সুর নরম করল ইরান। শনিবার দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর আর নতুন করে হামলা চালানো হবে না। তাঁর এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আর নতুন হামলা চালানো হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি ইরানের উপর সরাসরি আক্রমণ না হয়, তাহলে তেহরানও আর কোনও হামলা করবে না।এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমাও চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অন্য কোনও দেশকে আক্রমণ করার ইরানের কোনও ইচ্ছা নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।উল্লেখ্য, গত আটাশে ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পালটা আক্রমণ শুরু করে ইরান। প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছিল। পরে সেই হামলার মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।এরপর ইরাকের পাশাপাশি কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান এবং জর্ডনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতেও হামলার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবও পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টানা হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলির সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে শুরু করেছিল। অনেক বন্ধু রাষ্ট্রই ক্রমে বিরোধী অবস্থানে চলে যাচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে কূটনৈতিকভাবে চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৭, ২০২৬
কলকাতা

হরমুজ প্রণালীর টানাপোড়েন, গ্যাস সরবরাহে চাপ! নতুন ডবল সিলিন্ডার আপাতত বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পড়তে শুরু করেছে। ইরান ও ইজরায়েল-এর সংঘাতের মধ্যে নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ কোনও গ্রাহক নতুন করে দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা দেওয়া হবে না।জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যাতে রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, আপাতত তাদের সেই একটি সিলিন্ডার নিয়েই চলতে হবে। গ্যাস ডিলারদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হলে রান্নার গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাকে এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে মনে করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় রান্নার গ্যাসের উৎস অনেক কম এবং মজুতও তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেশের মোট চাহিদার প্রায় আশি থেকে পঁচাশি শতাংশ রান্নার গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর বেশির ভাগই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ত্রিশ দিনের রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ যদি দেরিতে পৌঁছয়, তাহলে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে।এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক মানুষ আগেভাগে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। এতে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে অযথা বেশি সিলিন্ডার মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতেও। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরো ভরে নিচ্ছেন। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, এখনই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তেলের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে।ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়া জানিয়েছেন, এখনও তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে দামের কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর দাবি।মেটা বিবরণ: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি সরবরাহে। নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ তেল সংস্থার, সাধারণ মানুষকে অযথা মজুত না করার পরামর্শ।

মার্চ ০৬, ২০২৬
বিদেশ

হরমুজ বন্ধের হুমকি, জ্বালানি সংকটে ভারত? ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ভারত। বাজারে ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শেয়ার বাজারে ধস, টাকার দামে পতন সব মিলিয়ে অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের তেলের মজুতেও টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ।এই পরিস্থিতিতে পুরনো বন্ধু রাশিয়া সাহায্যের বার্তা দিয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, প্রায় পঁচানব্বই লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল নিয়ে একটি নৌবহর ভারতের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। নয়াদিল্লি চাইলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই তেল ভারতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে ইঙ্গিত রাশিয়ার আধিকারিকদের।ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার জবাবে ক্ষুব্ধ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, ওই পথে জাহাজ চলাচল হলে হামলা করা হবে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথ বন্ধ হলে ভারতের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। কারণ ভারতের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে।কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রস্তুত। তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সমস্যা বাড়বে। ভারত নিজের প্রয়োজনের প্রায় পঁচাশি শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কুয়েত থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ভারতে আসে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই সঙ্কটে রাশিয়া আগেই জানিয়েছে, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হলে তারা পাশে থাকবে। মস্কো থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে তেলবাহী জাহাজগুলি দ্রুত ভারতে পাঠানো হবে।তবে প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি সেই রুশ তেল কিনবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হতে পারে। বর্তমানে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেই চুক্তিতেও রুশ তেল কেনা নিয়ে শর্ত থাকতে পারে।এই অবস্থায় নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রুশ তেল কিনলে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে। আবার না কিনলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, রাশিয়া সাহায্যে প্রস্তুত থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন ট্রাম্প।সব মিলিয়ে যুদ্ধের আবহে জ্বালানি, কূটনীতি ও অর্থনীতি তিন দিক থেকেই চাপে ভারত। এখন নজর নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে।

মার্চ ০৫, ২০২৬
বিদেশ

শ্রীলঙ্কার কাছে ডুবল ইরানের যুদ্ধজাহাজ! মার্কিন সাবমেরিনের হামলার অভিযোগে তীব্র হুঁশিয়ারি তেহরানের

শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগাছি আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি সাবমেরিন হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ঘটনার জন্য আমেরিকাকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট IRIS Dena চার মার্চ ভোরে শ্রীলঙ্কার গলের দক্ষিণে প্রায় চল্লিশ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল বলে দাবি তেহরানের। প্রায় একশো তিরিশ জন নাবিক জাহাজে ছিলেন। জাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসাবেও এসেছিল বলে জানানো হয়েছে।শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী সূত্রে খবর, ভোর পাঁচটা আট থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বিপদ সংকেত আসে। জলের নীচে ভয়াবহ বিস্ফোরণে জাহাজের তলায় বড় ফাটল তৈরি হয় এবং দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাহাজটি রাডার থেকে হারিয়ে যায় এবং ডুবে যায়। ঘটনাকে সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth জানিয়েছেন, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকেই টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। তবে কেন এই হামলা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।উদ্ধারকারীরা গল হাসপাতালে সাতাশি জনের দেহ নিয়ে আসেন। বত্রিশ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় ষাট জন এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। জাহাজে মোট প্রায় একশো আশি জন ছিলেন বলে অনুমান। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার বুদ্ধিকা সম্পথ জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় হলেও বিপদ সংকেত পেয়ে দ্রুত সাহায্য করা হয়।ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতের আয়োজিত মিলান দুই হাজার ছাব্বিশ নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে আয়োজিত এই মহড়া আঠারো থেকে পঁচিশ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল। ভারতীয় নৌবাহিনী বিশাখাপত্তনমে জাহাজটিকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং ভারত-ইরানের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছিল।এই ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হয়েছে। তবে জাহাজটি ডুবেছে উপসাগর থেকে বহু দূরে, ভারত মহাসাগরের গভীর জলে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এই ঘটনা সংঘাতকে নতুন দিকে ছড়িয়ে দিতে পারে এবং ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চলেও তার প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নৌ-হামলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে একাধিক দেশ।

মার্চ ০৫, ২০২৬
বিদেশ

খামেনেইয়ের পর যেই হোক নেতা, তাকেই খতম! সরাসরি হত্যার হুমকি ইজরায়েলের

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। খামেনেইয়ের উত্তরসূরি যিনিই হোন না কেন, তাঁকে হত্যা করা হবেএই ভাষাতেই প্রকাশ্য হুমকি দিল ইজরায়েল।বুধবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ইরান যাঁকেই সর্বোচ্চ নেতা করবে, তাঁকেই ইজরায়েল শেষ করে দেবে। তাঁর দাবি, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ইজরায়েল এবং আমেরিকার জন্য বিপজ্জনক হবেন। পাশাপাশি, তাঁর নেতৃত্বে ইরানের সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়ন চলবে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।কাট্জ জানান, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার সহযোগিতায় ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার অভিযান চালানো হবে।ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেই-এর নাম জোরালো ভাবে শোনা যাচ্ছে। যদিও তেহরান সরকার এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।গত শনিবার সকালে তেহরানে খামেনেইয়ের দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় খামেনেই-সহ অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক নিহত হন বলে খবর। নিহতদের মধ্যে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর পর ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেন এবং তাদের হাতে শাসনভার তুলে দেন। একই সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয় সেই কাউন্সিলকে।এই পরিস্থিতিতেই মোজতবা খামেনেইকে পরবর্তী নেতা করা হতে পারে বলে জল্পনা ছড়ায়। আর সেই জল্পনার মাঝেই নতুন নেতাকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলল ইজরায়েল। ফলে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

হরমুজ প্রণালী বন্ধ! মাঝসমুদ্রে আটকে ৩৮ ভারতীয় জাহাজ, হাজারো নাবিকের প্রাণ সংশয়, তেল-চাল বাণিজ্যে মহাধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্তব্ধ। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। আমদানি-রফতানিতে গভীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের উপরেও। বিশেষ করে চাল-সহ একাধিক শস্য রপ্তানিতে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ৩৮টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেই সব জাহাজে প্রায় ১১০০ নাবিক কর্মরত। তাঁদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই মিসাইল হামলায় এক জাহাজে কর্মরত তিনজন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও এক ভারতীয় নাবিক।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জরুরি বৈঠক করেছেন জাহাজ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিজি শিপিং। গোটা পরিস্থিতির বিশদ রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে শুধু বিদেশের জলপথ নয়, দেশের বন্দরগুলিতেও চাপ বাড়ছে। পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়ে উপচে পড়ছে একাধিক বন্দর। জাহাজ মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় হাজারের বেশি কনটেনারবাহী জাহাজ বিভিন্ন বন্দরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পণ্য খালাস ও রফতানিতে দেরি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে।ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে রপ্তানিকৃত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই আমদানি করে। ফলে এই জলপথে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বহু ভারতীয় জাহাজ বর্তমানে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে রয়েছে। এর জেরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায় প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক ও কর্মী আটকে রয়েছেন বলে খবর। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র।পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। নাগরিকদের জন্য টোল-ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।একই সঙ্গে দেশে কত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা নজরে রাখতে নয়া দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ পর্যবেক্ষণ কক্ষ চালু হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

টাকার বড় পতন! ডলারের তুলনায় ৯২ ছুঁইছুঁই, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার জেরে বুধবার বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দর ৯২ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। সকালে লেনদেনের সময় এক ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২ টাকা ১৭ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে টাকার উপর।আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে আর্থিক বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় অংশ জোগান দেয়। সেখানে সংঘাত বাড়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার জেরেই তেলের বাজারে দামের উর্ধ্বগতি।ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় পঁচাশি শতাংশ আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। এতে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়। এই সব কারণেই টাকার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।একই সময়ে মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলি থেকে মূলধন বেরিয়ে গিয়ে ডলার ও মার্কিন সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলেও ভারতীয় টাকার দর দুর্বল হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘদিন উচ্চ স্তরে থাকে, তা হলে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে টাকার উপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন! আগুনে জ্বলল কনসুলেট, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হল। দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। হামলার পর দূতাবাসে আগুন ধরে যায়। তবে ইরানের দাবি, আগুন লাগলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নাগরিকদের উপর হামলা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই ড্রোন হামলা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যেও পড়তে পারে।অন্যদিকে ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইজরায়েল। ইরানের দাবি, তেহরান বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে ইজরায়েলি বাহিনী। পূর্ব তেহরানের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্কবার্তা দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ইরানের বুশেহর শহরে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি। সেই বিমানে যাত্রী ছিলেন কি না, থাকলেও কত জন ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, গত চার দিনে প্রায় এক হাজার সাতশো জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের একটি গোপন পরমাণু ঘাঁটিতেও ইজরায়েলি বায়ুসেনা হানা দিয়েছে বলে খবর। মিনজাদেহেই নামে ওই ঘাঁটি নিখুঁত আঘাতে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি। ইরানের বিজ্ঞানীরা সেখানে পরমাণু বোমা তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করতেন বলে অভিযোগ। তবে সেখানে কোনও রিঅ্যাক্টর না থাকায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযান না চালালে ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না।মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বদলে যাওয়া এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

ইরান ইস্যুতে কি বদলাচ্ছে ভারতের অবস্থান? নীরবতায় বাড়ছে জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ইরানকে ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পর সৌদি আরব এবং বাহারিনের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে হামলার নিন্দা করলেও ইরানের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি তিনি। একইসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন মোদী। তবে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের আবেদন সত্ত্বেও আয়াতোল্লা খামেনেই হত্যার ঘটনায় এখনও সরাসরি প্রতিবাদ জানায়নি ভারত।এই নীরবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে লেখা প্রবন্ধে তিনি বলেন, ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানকে টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় ভারতের নীরবতা নিরপেক্ষতার পরিচয় নয়। তাঁর সেই লেখা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন রাহুল গান্ধী। তা ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের অক্ষ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কি সরে আসছে ভারত?বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে দাবি, বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই এখন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পরও মোদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোনোর পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ মনীষ তিওয়ারির অভিযোগ, যুদ্ধের মাধ্যমে কোনও সার্বভৌম দেশের সরকার উৎখাতকে ভারত অতীতে কখনও সমর্থন করেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লি খোলাখুলি কোনও অবস্থান নেয় কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝে ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

উপসাগর সংকটে তেল সরবরাহ বন্ধ? ভারতের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রাশিয়া!

উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। একটি রুশ সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় সংকটের কারণে যদি বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ ব্যাহত হয়, তবে রাশিয়া ভারতকে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করতে প্রস্তুত।পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুমকির জেরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গিয়েছে। বিমা সংস্থাগুলিও কিছু ক্ষেত্রে কভার প্রত্যাহার করায় ট্যাঙ্কার চলাচল প্রভাবিত হচ্ছে।এদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের কাছে আপাতত পর্যাপ্ত তেল ও জ্বালানির মজুত রয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, পেট্রল, ডিজেল-সহ প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মতো মজুত রয়েছে। মোট হিসাবে প্রায় পঞ্চাশ দিনের জ্বালানি মজুত আছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পঁচিশ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং আরও পঁচিশ দিনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে।ভারতের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস আমদানি হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ফলে ওই অঞ্চলে অশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার বিকল্প দেশ থেকে তেল, তরল গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পথও খতিয়ে দেখছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি কোনও সরবরাহ ব্যাঘাত সামলাতে ভারত প্রস্তুত।বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। একই সঙ্গে পরিশোধন ক্ষমতায় চতুর্থ এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত তেল কেনার উৎস বাড়িয়েছে, যাতে একক অঞ্চলের উপর নির্ভরশীলতা কমে।পরিস্থিতি নজরে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার চব্বিশ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষও চালু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক বলেই বর্ণনা করেছে।এই আবহে রাশিয়ার প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। যদিও আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতার ভিত্তিতে রুশ তেল কেনা ধীরে ধীরে কমানোর কথা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহে তৎক্ষণাৎ ঘাটতির সম্ভাবনা কম হলেও বড় প্রভাব পড়তে পারে দামের উপর। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি আশি ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে, যা ইরান সংকটের পর প্রায় দশ শতাংশ বৃদ্ধি। এতে ভারতের আমদানি ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে। গত অর্থবর্ষে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে ভারত।এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিকে আগামী সাত দিনের জ্বালানি মজুত ও প্রয়োজনের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে দেশে তেত্রিশটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। পরিস্থিতি অস্থির থাকায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় কুড়ি শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তবে আপাতত ভারত পরিস্থিতির উপর নজর রেখে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেই এগোচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

মাঝ আকাশে মৃত্যুভয়! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের বিভীষিকা শুনে শিউরে উঠছেন ফিরতি ভারতীয়রা

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বহু ভারতীয়। কিন্তু স্বদেশে পা রাখার পরও তাঁদের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। সাইরেনের শব্দ, আকাশে মিসাইলের ঝলক, মোবাইলে একের পর এক সতর্কবার্তা সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে ফিরছে তাঁদের।মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে অনেকেই জানালেন, মাঝ আকাশেও তাঁরা ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন। কেউ বললেন, এখন দেশে ফিরেও আতঙ্ক কাটছে না। তবে নিজের দেশে ফেরার স্বস্তির সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা হয় না বলেও জানান তাঁরা।শনিবার থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ কার্যত আকাশপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একের পর এক বিমান সংস্থা উড়ান বাতিল করে। বেড়াতে বা কাজে গিয়ে আটকে পড়েন বহু ভারতীয়। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অজানা আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় তাঁদের। সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, হঠাৎ যুদ্ধের মুখে সবাই এক সারির পথিক হয়ে যান।পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে আংশিকভাবে উড়ান পরিষেবা চালু করে এয়ার ইন্ডিয়া। দুবাই থেকে একটি বিমানে অন্তত দেড়শো যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু ও অভিনেত্রী ইশা গুপ্তাও।দুবাই থেকে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেন বেজে উঠত। তখনই বোঝা যেত কোথাও মিসাইল ছোড়া হয়েছে। চারপাশে অনিশ্চয়তা আর ভয়। কেউ বলেন, পকেটে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকাও কঠিন। দেশে ফিরেও সেই দুঃস্বপ্নের রেশ কাটাতে সময় লাগবে বলে জানান অনেকে।মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যে শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন দেশে ফেরা ভারতীয়রা।

মার্চ ০৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বৈভবের ঝড়, ময়ঙ্কের আগুনে বোলিং—জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে শ্রেয়সের প্রথম জয়

আয়ারল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হতাশাজনক হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল ভারত। হারারের মাঠে জিম্বাবোয়েকে সহজেই হারিয়ে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে নিল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের নায়ক দুই তরুণময়ঙ্ক যাদব এবং বৈভব সূর্যবংশী।টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স। তাঁর ভরসার প্রতিদান দেন ভারতীয় তরুণ বোলাররা। ২১ মাস পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম ওভারেই ময়ঙ্ক যাদব ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে ওপেনার বেনেটকে ফিরিয়ে দেন। অন্য প্রান্তে প্রিন্স যাদবও দুর্দান্ত বোলিং করেন।জিম্বাবোয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বড় রান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবোয়ে সাত উইকেটে মাত্র ১২৫ রান তোলে।১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন অভিষেক শর্মা। কিন্তু এরপরই ঝড় তোলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৮ বলে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা।বৈভবের এই ইনিংস শুধু ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়নি, গড়েছে বিশ্বরেকর্ডও। মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অর্ধশতক করা বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার এখন বৈভব।ঈশান কিষান ২৪ বলে ৩৫ রান করেন। শেষ পর্যন্ত শ্রেয়স আইয়ার ২৮ রানে অপরাজিত থেকে মাত্র ১৩.২ ওভারে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।এই জয়ে ভারত শুধু সিরিজে ভালো শুরু করল না, বরং ময়ঙ্ক যাদবের প্রত্যাবর্তন ও বৈভব সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ব্যাটিং ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার আলো দেখাল।

জুলাই ২৩, ২০২৬
দেশ

নিট প্রশ্নফাঁসে মুখ খুললেন অভিনব বিন্দ্রা, এক বার্তায় নাড়িয়ে দিলেন দেশকে

নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড়, তখন মুখ খুললেন ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী অভিনব বিন্দ্রা। তিনি স্পষ্ট জানালেন, শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা গোটা দেশের মানুষকে একসঙ্গে প্রভাবিত করে। তাই রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ চলছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশনেও বসেছেন। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে লক্ষাধিক পড়ুয়া সংসদ ভবন অভিযানে অংশ নেন। সেই বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে এক্স মাধ্যমে অভিনব বিন্দ্রা লেখেন, আমি কখনও রাজনীতিতে ছিলাম না। কিন্তু কিছু বিষয় আছে যা গোটা দেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। শিক্ষা ব্যবস্থা তার মধ্যে অন্যতম। এটাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আশা করি আমরা সবাই একজোট হয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করব।I have never considered myself a political person. But I do believe that some issues belong to all of us, regardless of where we stand. Education is one of them.The measure of a nation is found not only in its economy or its achievements, but in the opportunities it creates for Abhinav A. Bindra OLY (@Abhinav_Bindra) July 23, 2026বিন্দ্রা কোনও রাজনৈতিক পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবেই নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তবে নিট ইস্যুতে অন্য ক্রীড়াতারকারাও মুখ খুলেছেন। সানিয়া মির্জা পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর শোনা দরকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। অন্যদিকে শিখর ধাওয়ান যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরকারের উপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন।নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিনব বিন্দ্রার মতো একজন জাতীয় আইকনের মন্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনে দিল।

জুলাই ২৩, ২০২৬
দেশ

সিকিমের সুড়ঙ্গে মৃত্যুমিছিল, তিনদিন পরও চলছে উদ্ধার—আরও কত দেহ ভিতরে?

সিকিমের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, টানেল থেকে ২৫টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে, আর সেই সঙ্গেই দুর্ঘটনার কারণ জানতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিকিম সরকার।সোমবার দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং এলাকায় তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হেড রেস টানেল-এ ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। টানেলের ভিতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, এখনও টানেলের ভিতরে কিছু দেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিষাক্ত গ্যাস, অন্ধকার এবং ধসে পড়া অংশের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস এবং ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।উদ্ধারকাজে গতি আনতে আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড থেকে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়।দুর্ঘটনার তদন্তে সিকিম সরকার চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মুখ্যসচিব আর তেলং-এর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কমিটিতে রয়েছেন সিকিম পুলিশের আইজি তাশি ওয়াংয়াল, খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর ফিগু শেরিং ভুটিয়া, অতিরিক্ত অধিকর্তা কেশর লুইটেল এবং সিআইডি-র ডিআইজি তেনজিং লোডেন লেপচা।এনএইচপিসি নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, কোথায় গাফিলতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ২৩, ২০২৬
দেশ

নিট প্রশ্নফাঁসে দিল্লি অবরুদ্ধ! রাহুলের মিছিলে ব্যারিকেড, বন্ধ ইন্টারনেট

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সমর্থনে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা গান্ধী স্মৃতিস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা তিনটি বাসে করে সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।পুলিশ আগেই ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। পথে একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়, যাতে মিছিল এগোতে না পারে। রাহুল গান্ধী জানান, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতেই এই পদযাত্রা। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বিরোধীরা একজোট হয়েছে।এর আগে বিকেলে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আন্দোলনকারীদের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কনৌট প্লেস এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি বিরোধী শিবিরের এই প্রকাশ্য সমর্থন রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

জুলাই ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে কড়া নবান্ন, পঞ্চায়েত ও পুর প্রধানদের সইয়ের ক্ষমতা বাতিল

জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধান এবং পুর চেয়ারম্যানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের হাতে থাকবে বলে জানালেন মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল।মুখ্যসচিবের নির্দেশের পর জেলায় জেলায় জন্ম-মৃত্যুর নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।নবান্ন সূত্রে খবর, এখন থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের সইয়ের ক্ষমতা থাকবে। পঞ্চায়েত প্রধান বা পুর চেয়ারম্যানদের আর সেই ক্ষমতা থাকবে না।এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, নথি যাচাইয়ের সময় বহু ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে এই ধরনের অভিযোগ বেশি পাওয়া গিয়েছে।জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র তৈরি হয়। তাই এই শংসাপত্রে কোনও ভুয়ো তথ্য থাকলে তা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। সেই কারণেই শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, সরকারি আধিকারিকদের হাতে দায়িত্ব থাকলে তাঁরা চাকরির দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে সঠিকভাবে শংসাপত্র ইস্যু করবেন। ভুয়ো নথির মাধ্যমে বেআইনিভাবে নাগরিকত্বের সুযোগ কেউ যাতে না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিউটি চলাকালীন নার্সের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক নার্সের (Nurse) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের একটি বন্ধ কেবিন থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মৃতার পরিবার এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত খুন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা নার্স বুধবার রাত ১১টা নাগাদ ডিউটিতে গিয়েছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি (Nurse) অপারেশন থিয়েটারে রয়েছেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে জানতে পারেন, তাঁদের মেয়ের দেহ একটি বন্ধ কেবিন থেকে উদ্ধার হয়েছে। তাঁর গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।মৃতা নার্সের (Nurse) বাড়ি বীরভূমের সিউড়িতে। বুধবার রাতে তিনি প্রতিদিনের মতোই ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় হাসপাতালের একটি কেবিন থেকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হাসপাতালের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।মৃতার (Nurse) বাবা বলেন, আমার মেয়ে খুব ভালো মেয়ে ছিল। সে ডিউটিতে গিয়েছিল, কোনও ঝামেলায় জড়িত ছিল না। যে তাকে ডিউটিতে ডেকেছিল, তাকে খুঁজে বের করতে হবে।পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

জুলাই ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রে বিস্ফোরক অভিযোগ, মমতা ও আইপ্যাককে নিশানা শুভেন্দুর

ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হল। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক প্রমাণ দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এসআইআরের সময় আইপ্যাকের কর্মীদের বসিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের নির্দেশে এই কাজ হয়েছে। এতে রাজ্যের ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সমস্ত রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি স্ক্যান করে সিলমোহর দিয়ে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে শংসাপত্র দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে, সাসপেন্ড করা হবে এবং প্রয়োজন হলে জেলেও যেতে হবে।তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের নামে যাঁদের শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে এবং যারা সিএএ-তে অনুমোদিত, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তাঁদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা, দুর্গাপুর, নদিয়া, বীরভূম, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভায় হানা দিয়ে রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তল্লাশির মাঝেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধান ও পুরপ্রধানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র ইস্যু করবেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে গোটা রাজ্যে আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জুলাই ২৩, ২০২৬
কলকাতা

নিটে ২৮৯ না ৬৬১? নম্বরে ৩৭০-র গরমিল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে বিস্ফোরক মামলা

নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র প্রতিবাদ চলছে, তখন নতুন করে বিতর্কে জড়াল নম্বর প্রকাশের প্রক্রিয়া। নিট পরীক্ষায় প্রায় ৩৭০ নম্বর গরমিলের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছেন এক পরীক্ষার্থী। ওএমআর পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।মামলাকারীর দাবি, তাঁর আনসার কী অনুযায়ী পাওয়ার কথা ছিল ৬৫৯ থেকে ৬৬১ নম্বর। কিন্তু ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৮৯ নম্বর। অর্থাৎ প্রায় ৩৭০ নম্বরের গরমিল রয়েছে।পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, এনটিএ তাঁকে যে ওএমআর পাঠিয়েছে, তার সঙ্গে আনসার কী-র কোনও মিল নেই। প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষার্থীদের ই-মেলের মাধ্যমে ওএমআর পাঠানো হয়েছিল। সেই ওএমআর খতিয়ে দেখেই তিনি এই গরমিলের অভিযোগ তোলেন।মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ওএমআর মূল্যায়ন সম্পূর্ণ কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়। সেখানে এত বড় নম্বরের ফারাক কীভাবে সম্ভব, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি ওএমআর যাচাই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই মামলায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বক্তব্য তলব করেছেন। আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। তার মধ্যেই নম্বরে কারচুপির এই অভিযোগ নতুন করে নিট বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলল।

জুলাই ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal