• ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mam

রাজ্য

ফের রাজ্যে দুয়ারে সরকার-পাড়ায় সমাধান, ঘোষণা মমতার

ফের রাজ্যে দুয়ারে সরকার শুরু হচ্ছে। শুরু হবে পাড়ায় সমাধান। আগামী ২১ মে শুরু হবে দুয়ারে সরকার, চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ৫ মে পাড়ায় সমাধান শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ মে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সময় সরকারি কর্মীরা ছুটে পাবে। রবিবার বা ছুটির দিন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মমতা জানিয়ে দেন, ফ্লাড সেন্টারগুলি পরিদর্শন করতে হবে। ডিভিসির জল কোন কোন জায়গা ভেসে যায়, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় কোথায় বজ্রপাত বেশি হয় সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করতে হবে। কেন্দ্রের কাছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ওপর দোষ চাপিয়ে সাধু সাজছে। উল্লেখ্য, এদিন মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেট্রপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য একাধিক রাজ্যকে দায়ী করেছেন। তার মধ্যে বাংলাও রয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, সেই কারণেই একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এপ্রিল ২৭, ২০২২
রাজ্য

'শিল্পপতিদের কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে যেন বিরক্ত না করা হয়', রাজ্য়পালকে কড়জোড়ে মমতা

Bengal Global Business Summit 2022-এ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন, পাল্টা তাঁকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মেলনে রাজ্যপালের উপস্থিতি ও বক্তব্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাছাড়া এভাবেই রাজ্যের পাশে থাকার আবেদনও রেখেছেন রাজ্যপালের কাছে। দুজনের বক্তব্য শুনলে মনে হবে তাহলে কী রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত বলে কিছু ছিল না। কিন্তু এই বানিজ্য সম্মলনেই শিল্পপতিদের সাক্ষী রেখে রাজ্যপালের কাছে কড়জোড়ে আবেদন করে মমতা রীতমতো অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন। যা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।রাজ্যপালের বক্তব্যের প্রশংসা করেই ধনখড়ের দিকে হাতজোড় করেন মমতা। তখন অনেকটাই হতবাক দেখাচ্ছিল রাজ্যপালকে। মমতা বলেন, রাজ্যপাল স্যার, কিছু মনে করবেন না, আপনার মাধ্যমে একটা কথা বলতে চাই। মহামান্য রাজ্যপালকে সমস্ত শিল্পসংস্থার তরফে একটা কথা বলছি। আমরা কেন্দ্রীয় সকারের কাছ থেকে সমস্ত রকম সহযোগিতা চাই। একইসঙ্গে রাজ্যপালদের বৈঠকে একটা কথা অবশ্যই বলবেন প্লিজ। শিল্পপতিদের কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে যেন বিরক্ত না করা হয়। মমতার এই বক্তব্যের পর রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়ে যায়। পুরোটাই নাটক বলে মন্তব্য করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এমন সময় মুখ্যমন্ত্রী একথা বলেন তখন আর মঞ্চে জবাব দেওয়ার পরিস্থিতি ছিল না রাজ্যপালের। তবে এদিন মঞ্চে নানা দফায় রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এপ্রিল ২০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যপাল ধনখড়ের মুখে ভূয়সী প্রশাংসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিশ্ব বাংলা বানিজ্য সম্মলনে এক মঞ্চে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছরভর বাংলার নানান ইস্যুতে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত লেগেই থাকে। এমনকী রাজ্যপালকে অপসারণ করার জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও দরবার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই রাজ্যপাল এদিন প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন বাংলাকেও।২ বছর পর ফের নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশনে বুধবার বানিজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে। এই বিশ্ব বাংলা বানিজ্য সম্মেলনে হাজির হয়েছেন ১৯টি দেশের ২৫০জন প্রতিনিধি। এদিন নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করেন শিল্পপতি আজিম প্রেমজি ও গৌতম আদানির সঙ্গে। জিন্দাল গোষ্ঠীর সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্মেলনে ব্রিটেনের ৪৯ জন প্রতিনিধি এসেছেন। সম্মেলন শুরুতে ভাষণ দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।এদিন বক্তব্যে রাজ্যপাল বলেন, মহামতি গোখলে বলেছিলেন বাংলা আজ যা ভাবে কাল গোটা দেশ ভাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদিও তাই বলেছেন। মোদীজির লুক ইস্ট নীতি মেনে এগিয়ে যাবে বাংলা। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মানব সম্পদে এগিয়ে বাংলা। দেশের অর্থনৈতিক ছবি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা বাংলার আছে। পূর্বভারতের ইকোনমিক হাব হবে বাংলায়। শিল্পপতিদের বাংলায় শিল্প স্থাপনের জন্য উৎসাহ দেন ধনখড়। তিনি বলেন, বাংলায় বিনিয়োগ করলে শিল্পপতিদের লাভ হবে। আশা করা যায় বাংলা আগামিদিনে আরও উন্নত হবে। এই বাণিজ্য সম্মেলন পথ দেখাবে।

এপ্রিল ২০, ২০২২
রাজনীতি

আসানসোলে সবুজ ঝড়ে উড়ল গেরুয়া শিবির, বালিগঞ্জে জয়েও আতঙ্কে তৃণমূল

রাজ্য়ের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আসানসোলে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে পরপর দুবারে জয় পাওয়া বিজেপিকে। প্রায় ২ লক্ষের ওপর ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালকে পরাজিত করেছেন তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা। অন্যদিকে বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জয় পেয়েছেন ২০ হাজারের ওপর ভোটের ব্যবধানে। এখানে এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সিপিএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিম। কিন্তু এই কেন্দ্রে যে ভাবে তৃণমূলের ভোট কমেছে তাতে ঘাসফুল নেতৃত্বের যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৪ ও ২০১৯-এ জয় পেয়েছিল বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় প্রায় ১,৯৭,৬৩৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে পরাজিত করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার পর আসানসোল কেন্দ্রে জয় পায়নি। এই প্রথম সেখানে জয় পেয়েছে তৃণমূল। শত্রুঘ্ন সিনহা ভোট পেয়েছেন ৬,৪৬,৬৬১ ভোট পেয়েছেন শত্রুঘ্ন। প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট। অগ্নিমিত্রা পাল ভোট পেয়েছেন ৩,৫০,০১৫। শতাংশের হিসাবে ৩০%। বিজেপির প্রায় ২২ শতাংশ ভোট কমেছে গতবাবের তুলনায়।এদিকে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপিকে সরিয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় ২০হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন সিপিএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিমকে। বাবুল পেয়েছেন ৫০,৯৯৬ ভোট। সায়রার প্রাপ্ত ভোট ৩০,৯৪০ ভোট। বিজেপি গতবারে তুলনায় ৭ শতাংশ কম ভোট পেয়েছে। বিজেপি প্রার্থী কেয়া ঘোষ পেয়েছেন ১৩,১৭৪ ভোট। তবে এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট প্রাপ্তি কমেছে তৃণমূলের। রাজনৈতিক মহলের মতে, গতবারের থেকে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট কমায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের।

এপ্রিল ১৬, ২০২২
রাজ্য

হাঁসখালির ঘটনা নিয়ে তৃণমূল সাংসদের বিষ্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি

হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। হাঁসখালির ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিরোধীরা এই বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের তুলোধোনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে পুলিশ আধিকারিকদের মঞ্চে বসিয়ে দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, যে রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে একটা ঘটনাও সকলের কাছে লজ্জার। সৌগতর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তবে তৃণমূল সাংসদের এমন মন্তব্যকে বিতর্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে মনে করেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ঘটনার দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেও এমন মন্তব্য করতে পারেন।তৃণমূল সাংসদ এদিন বলেন, রাজ্যে মহিলাদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সকলেই চিন্তিত। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স করতে হবে। কোনও ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব বরদাস্ত করা যাবে না। যে রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে একটা ঘটনাও লজ্জার। পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে নজর রাখবেন। বিরোধীদের দাবি, একথা বলে রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার করে নিলেন তৃণমূল সাংসদ। একইসঙ্গে সাংসদের এমন মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলও হতে পারে।দেগঙ্গা, মাটিয়া, ইংরেজবাজার ও বাঁশদ্রোণীর ঘটনার তদন্ত ভার আদালত দিয়েছে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে। আদালতের তদারকিতে হাঁসখালির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এই পরিস্থিতিতে সৌগত রায়ের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ১৪, ২০২২
রাজ্য

মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও রাজ্যে ৩৫৫ চাইছেন বিরোধী দলনেতা

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার প্রতিবাদে বীরভূমের সিউড়িতে আইন অমান্য আন্দোলন করে বিজেপি। বুধবার এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দু বলেন, ওনার মেজরিটি আছে। মুখ্যমন্ত্রী আছেন, থাকুন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে নিক কেন্দ্র। তাঁর প্রভিশন আছে ৩৫৫-তে। এসেম্বলিতে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবে রাজ্যে ৩৫৬-এর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষের শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, রাজ্যে কিছু সামাজিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ওর তালু গরম হয়ে গিয়েছে। তাই এসব বকছে।গত কয়েক দিনে রাজ্যের মোট ৫টি আইন-শৃঙ্খলা জনিত ঘটনার ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বগটুইতে গণহত্যা থেকে ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর খুন। নদিয়ার হাঁসখালিতে গণধর্ষণ করে নাবালিকার ডেথ সার্টিফিকেট না থাকা সত্বেও শ্মশানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সিবিআই। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা তলানিতে বলে দাবি করে আসছে বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি। তবে এদিন সরাসরি শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন চান না। কেন্দ্রের হাতে আইন-শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ চাইছেন।এদিকে শুভেন্দুর দাবির প্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে রক্ষা করার জন্য সুকৌশলে দিল্লি পরিকল্পনা নিয়েছে। সারদা-নারদায় তা আগেই বোঝা গিয়েছে। এটা দিল্লির মতো পরিকল্পনা আছে। জম্মুকাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অসহ্য। তবে বিজেপি সিরিয়াস হলে সারদা-নারদায় শাস্তি দিতে পারত। তা করেনি।

এপ্রিল ১৩, ২০২২
দেশ

থমকে ত্রিপুরা তৃণমূলের গতি, বিধানসভা ভোটের আগে অন্য দলে ঝুঁকছে দলের বড় অংশ

বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে রোড শো করার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের ত্রিপুরা, মেঘালয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ২৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। যদিও কোনও আসনেই জয় পায়নি ঘাসফুল শিবির। এবার লক্ষ্য উত্তর পূর্ব ভারত। কিন্তু ত্রিপুরার সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আশাহত সেখানকার তৃণমূলের বড় অংশ।তিন দিন আগে ত্রিপুরায় তৃণমূলের মহামিছিলে তেমন জনসমাগম হয়নি বলেই ওই অংশ দাবি করেছে। ওই মিছিলে অংশ নেননি ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কোর কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং, প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস, দলের সংখ্যালঘু নেতা জহিরুদ্দিন শেখসহ নেতৃত্বের বড় অংশ। কয়েকদিন আগেই ত্রিপুরায় তৃণমূলের একমাত্র কাউন্সিলর যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামি ২০২৩-এ বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে সংগঠনের এমন দশা হলে লড়াই তো দূরের কথা তৃণমূল হালে পানি পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু বাংলায় বিপুল জয়ের পর ত্রিপুরা অভিযানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বহু মানুষ তৃণমূলে যোগও দিয়েছিল। কিন্তু কী এমন হল যে দলের বিস্তার না হয়ে, ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে কার্যকলাপ? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে।ত্রিপুরা তৃণমূলের একাংশের দাবি, সম্মান না পেয়ে দল ছেড়েছেন একমাত্র কাউন্সিলর সুমন পাল। এমনকী দলের সংগঠন বৃদ্ধি করতে গিয়ে বিজেপির হাতে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের পাশেও সেভাবে নেতৃত্ব দাঁড়ায়নি বলেই তাঁদের অভিযোগ। ত্রিপুরার ৮ জেলার মধ্যে ৪ জেলায় দল আশিসলাল সিংকে দায়িত্ব দিয়েছিল। অথচ মারধর খেয়ে দিল্লিতে চিকিৎসা করতে চলে যান তিনি। তাঁকেও সামান্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলে দলের একাংশে অভিযোগ।জানা গিয়েছে, ২১ দিনের নোটিশে ২০১৪-এ ত্রিপুরার দুটি লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেদিন দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। ত্রিপুরা পশ্চিম কেন্দ্রে ১ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি ভোট পায় তৃণমূল প্রার্থী রতন চক্রবর্তী। ত্রিপুরা পূর্বে ভৃগুরাম রিয়াং ৭৭ হাজারের বেশি ভোট পায়। দুটি আসনেই তৃণমূল ছিল তৃতীয়, তারপরে চতুর্থ স্থানে ছিল বিজেপি প্রার্থী। ২০১৭-এ ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি করা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিং-পুত্র আশিসলালকে। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে ত্রিপুরায় প্রার্থী দেয় তৃণমূল। সব আসনেই হেরে যায় তৃণমূল।দলের বিক্ষুব্ধ অংশের বক্তব্য, দলবদলুরা ত্রিপুরায় তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ায় সংগঠন তলানিতে পৌঁছেছে। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি থেকে আসা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, দল তাঁকে ত্রিপুরায় দায়িত্ব দিলে বিজেপি-সিপিএমকে টেক্কা দেবে তৃণমূল। পাঁচ-পাঁচবার বিজেপি আশিসলাল সিংয়ের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। আশিসবাবুর দাবি, কোনও উপজাতিকে ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তাহলেই বাজিমাত করতে পারবে দল। তিনি চান ত্রিপুরা তৃণমূলের হাল ধরুক আশিস দাস। রেললাইনের পথ ঘুরিয়ে জনজাতিদের উচ্ছেদ রুখে ছিলেন আশিসলাল। সিপিএম সরকার রেললাইনের ম্যাপিং করেছিল। কিন্তু তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ১০ হাজার জনজাতিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি। সেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল-পুত্র। মাছমারায় বাঁশের সেতু লোহার সেতু হয়েছে, তাঁরই উদ্যোগে হাসপাতাল হয়েছে।এই মুহূর্তে ত্রিপুরার পাহাড়ী এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ত্রিপ্রা মথা। তবে সমতলেও প্রভাব বাড়ছে দুবছর আগে তৈরি হওয়া এই দলের। সূত্রের খবর, শচীন্দ্রলাল-কন্যা নন্দিতা সিং, শ্যামাচরণ ত্রিপুরার মেয়ে অদিতি ত্রিপুরা, শচীন্দ্রলাল সিংয়ের মন্ত্রীসভার প্রাক্তন জনপ্রিয় মন্ত্রী তসলমফা ওরফে রাজপ্রসাদ চৌধুরী-র পুত্র ভৃগুরাম রিয়াং ত্রিপ্রা মাথায় যোগ দিতে পারেন। সূত্রের খবর, তৃণমূলে বসে যাওয়া নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ত্রিপ্রা মথার সঙ্গে। বছর গড়ালেই বিধানসভা ভোট। তাই অনেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, আশিসলাল ব্যক্তিগত ভাবে দল ছাড়তে চাইছেন না। কিন্তু কর্মীরা ক্ষিপ্ত। সংখ্যালঘু ও পাহাড়ের তৃণমূলীরা কি সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় আছে। তাঁরা মনে করছে, এমন চলতে থাকলে আশিসবাবুও তাঁদের পথ ধরতে পারেন।ত্রিপুরার পাহাড়ের কোনায় কোনায় ঘাসফুলের পতাকা উড়েছে। এবার তা বন্ধ হতে বসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল কর্মী মুজিবর মারা গিয়েছেন। তাঁকে জখম অবস্থায় নেতৃত্ব ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। মুজিব ও তাঁর স্ত্রী সেদিন টোটো করে বাড়ি যায়। জানা গিয়েছে, মামন খানকে বেধরক মারধর করা হয়েছিল। এসএসকেএম থেকে ফিরে আসছে তাঁরও খোঁজ নেয় না দল। ত্রিপুরার নন্দীগ্রামে দলের পতাকা উচিঁয়ে রেখেছে বেচারাম দাস। তাঁকে ১৫ অগাস্ট বেধরক মারধর হয়। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়, অথচ দল খবরই নেয়নি বলে অভিযোগ। আশিসলাল সিং বিজেপির কাছে মার খেল, ত্রিপুরা তৃণমূল নাকি তখনও চুপ ছিল। তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বও নিগৃহীত হয়েছেন। অমরপুর পাহাড়ের জঙ্গলে বাচ্চা কোলে অবস্থায় এক মহিলাকে গুলি মারা হয়েছিল। সেখানে কর্মীদের নিয়ে রাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন আশিসলাল। তাছাড়া খুমলুঙে মদ্য়পরা ছাত্রদের ব্যাপক মারধর করেছিল। খুমলুঙ জ্বলছিল। অশান্ত খুমলুঙে গিয়েছিলেন আশিসবাবু। যে পার্কে সেদিন ঘটনা ঘটেছিল তা দাবি জানিয়ে বন্ধ করিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও আগরতলা শহর থেকে কেউ যায়নি।কার্যত ত্রিপুরার দলের কর্মীরা নেতৃত্বের ওপর ভরসা হারাচ্ছে বলেই খবর। দলের ওই অংশের বক্তব্য, পার্টি অফিস হয়নি বরং বাড়িতে বাড়িতে দলের অফিস গড়ে উঠছে। সেসব জায়গায় অনেকে যেতেও পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন দশা থাকলে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় কোনও আশা না করাই ভাল। অল্প সংখ্যক ভোট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে।

এপ্রিল ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে গিয়ে কী বলে এলেন মোহনবাগান সচিব দেবাশিস দত্ত?‌

লালহলুদের আইএসএলে খেলা যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে উদ্যোগ নিয়ে লগ্নিকারী সংস্থাকে এনে দিয়েছিলেন। মোহনবাগান ক্লাবেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ক্লাবের তাঁবুর সংস্কারের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেছিলেন। এবার সংস্কার হওয়া সেই তাঁবুর উদ্বোধন করবেন মমতা ব্যানার্জি। ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন মোহনবাগানের নতুন সচিব দেবাশিস দত্ত। সঙ্গে ছিলেন সদ্য মনোনীত হওয়া নতুন সহ সভাপতি কুণাল ঘোষ। দুপুরে নবান্নে দুজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সৌজন্য সাক্ষাতে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার সময় মোহনবাগান সচিব দেবাশিস দত্ত মুখ্যমন্ত্রীকে সংস্কার হওয়া তাঁবুর উদ্বোধন করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে মোহনবাগানের অমর একাদশের স্মারক তুলে দেন সচিব দেবাশিস দত্ত। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেবাশিস দত্ত ও কুণাল ঘোষকে সুন্দর উতরীয় তুলে দেওয়া হয়। পরে দেবাশিস দত্ত বলেন, ক্লাব তাঁবু সংস্কার করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, যাতে সংস্কার হওয়া ক্লাব তাঁবু উদ্বোধন করেন। উনি রাজি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সময় দিলেই উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে, মোহনবাগান ক্লাবের নামেরর আগে এটিকে রয়েছে। এটিকের সঙ্গে সংযুক্তির পর থেকেই এটিকে মোহনবাগান নামে আইএসএলে খেলছে সবুজমেরুণ। সদস্যসমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন, মোহনবাগান নামের আগে থেকে এটিকে তুলে নেওয়া হোক। পরিবর্তে লগ্নিকারী সংস্থা আরপি গ্রুপের কোনও নাম বসানো হোক। এই নিয়ে সমর্থকরা অতীতে বিক্ষোভেও সামিল হয়েছিলেন। এই নিয়ে নাকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেবাশিস দত্ত ও কুণাল ঘোষের কথা হয়েছে। সূত্র থেকে এমনই জানা গেছে।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
রাজ্য

বোমা বন্দুক বেআইনি ভাবে মজুতের ক্ষেত্রে বীরভূমের কেষ্টর গড়ের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই পূর্ব বর্ধমান

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ৮ দিনে পূর্ব বর্ধমানে উদ্ধার ৩৬৮টি বোমা ও ৪১টি আগ্নেআস্ত্র , বোমা গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যার বিচারে বীরভূমের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই প্রতিবেশী পূর্ব বর্ধমান জেলাও। বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী বোমা গুলি ও অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পর থেকে বীরভূম জেলা পুলিশ যেমন অভিযানে নামে তেমনই অভিযানে নামে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশও।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বীরভূম জেলা পুলিশ অভিযানে নেমে চারদিনে উদ্ধার হয় ৪০০-র বেশী বোমা ও ৩০ কেজির বেশী বোমা তৈরীর মশলা। আর পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৮ দিনে অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত উদ্ধার করেছে ৩৬৮টি বোমা ও ৩ কেজি বোমা তৈরির মশলা। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ৪১ টি আগ্নেআস্ত্র ও ৭৭ টি গুলি।বেআইনি ভাবে অস্ত্রসস্ত্র মজুতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৫ জন্য দুস্কৃতি। এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক ও বিরোধীদের তর্জা।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষানার দিন রাতেই আগ্নেআস্ত্র সহ দুই দুস্কৃতিকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। এর পর থেকেই জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বোমা, গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধার হয়েই চলে। অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধারে বড়সড় সাফল্য পায় কাটোয়া থানার পুলিশ। তারা এক রাতের অভিযানে তিন দুস্কৃতিকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ৪ টি বন্দুক,২৪ রাউণ্ড বন্দুকের গুলি ,১ টি পিস্তল ও ২ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি ও ১৬ টি সকেট বোমা উদ্ধার করে ।ভাতার,দেওয়ানদিঘী ও গলসি থানার পুলিশও ভরি সংখ্যায় বোমা উদ্ধার করে। এইসব থানা গুলি বোমা ও বন্দুক উদ্ধারে সফল হলেও জেলার জামালপুর, মাধবডিহি ও শক্তিগড় থানার পুলিশ তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারে নি।তবে কালনা মহকুমার একাধীক থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু আগ্নেআস্ত্র, বোমা, গুলি উদ্ধার করেছে। কালনা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ২৯ ও ৩০ মার্চ, এই দুদিন অভিযান চালিয়ে কালনা ,নাদনঘাট ও মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ৬ টি আগ্নেআস্ত্র ও বেশ কয়েকটি গুলি উদ্ধার করেছে। বেআইনি ভাবে আগ্নেআস্ত্র মজুতের অভিযোগে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে এসডিপিও জানিয়েছেন।জেলা তৃণমূলের নেতৃত্ব এই বিষয়টিকে পুলিশের সাফল্য বলে দাবী করলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপি নেতা কল্লোল নন্দন এদিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলার পরেই পুলিশ একেবারে ম্যাজিকের মত বোমা, গুলি,আগ্নেআস্ত্র উদ্ধার করে ফেললো। তাহলে এতদিন পুলিশ কি কারণে হেলদোল দেখাইনি সেটা ভেবেই তাঁদের আশ্চর্য্য লাগছে। তবুও এটা প্রকাশ্যে এল যে বোমা বন্দুক বেআইনি ভাবে মজুতের ক্ষেত্রে বীরভূমের কেষ্টর গড়ের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই পূর্ব বর্ধমান।

এপ্রিল ০১, ২০২২
রাজ্য

বগটুইয়ে সিবিআই-এর তদন্তকে প্রভাবিত করতে চাইছে বিজেপি: মমতা

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাহাড়ের সফরের তৃতীয় দিন। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার কথা মমতার। তার আগে ফের একবার রামপুরহারকাণ্ডে বিজেপিকে আক্রমণ শানালেন মমতা।রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডে জেপি নাড্ডার কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় দল। দার্জিলিংয়ে দাঁড়িয়ে সেই ইস্যুতেই বিজেপির কড়া সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় দলের রিপোর্ট তদন্তকে প্রভাবিত করবে বলেই আশঙ্কা তাঁর। এমনকী, এই ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।দার্জিলিঙে মমতা বললেন, বিজেপির আচরণের নিন্দা করছি। ওরা রিপোর্টে আমার জেলা সভাপতির নাম রেখেছে। যখন সিবিআই তদন্ত করছে এবং তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে তখন বিজেপি তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এদিন দার্জিলিঙয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালী মন্দিরের সামনে আরতি করতে দেখা গেল তাঁকে।

মার্চ ৩০, ২০২২
কলকাতা

মমতাকে রাজভবনে আমন্ত্রণ ধনখড়ের

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর এবার সেই ইস্যুতে কথা বলতেই সরাসরি রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানালেন রাজ্যপাল। বগটুই-কাণ্ডের পর নতুন করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। রামপুরহাটের ওই হত্যাকাণ্ডের পর ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যপাল। আর তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠালেন তিনি। মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যাতে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রাজ ভবনে আসেন মমতা।এবারই প্রথম নয়, আগেই রাজভবনে ডাকা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে এবার, এই আমন্ত্রণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার সকালেই দিল্লিতে শাহের সঙ্গে জগদীপ ধনখড়ের দীর্ঘ বৈঠক হয়। কী ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউই। তবে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে আলোচনার বিষয় ছিল, তা অনুমান-যোগ্য। সম্ভবত, রাজ্য পুলিশের ভূমিকার কথাও বলেছেন রাজ্যপাল। বোমা-বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেওয়ার পরই যে ভাবে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা আলোচনায় উঠেছিল বলে সূত্রের খবর। আর এবার মমতার মুখোমুখি হতে চান রাজ্যপাল।

মার্চ ২৯, ২০২২
রাজ্য

দিল্লির নয়, দার্জিলিঙের লাড্ডুই যথেষ্ট, বিজেপি-কে তোপ মমতার

দার্জিলিঙে প্রশাসনিক সভায় একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলেন প্রতিশ্রুতি। পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করে বললেন, দিল্লির লাড্ডু খাবেন না। দার্জিলিঙের লাড্ডুই যথেষ্ট।শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডের সময় আসার সুযোগ হয়নি। ২-৩ মাস আগে কার্শিয়ঙে এসেছিলাম। দুবছর পরে এলাম দার্জিলিঙে। সভায় বেশ কয়েকটি রাস্তা, হস্টেলের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে তিন লক্ষ ৮০ হাজার চা শ্রমিকের নতুন বাড়ি হয়েছে। ২১ লক্ষ বিধবাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ১০ লক্ষ পড়ুয়াকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে। কেউ যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না পেয়ে থাকেন তবে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির সাহায্য নিতে বলেন তিনি। এ ছাড়াও পাহাড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, পাহাড়ে একটি হিল বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। এ নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।মঙ্গলবারও সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দার্জিলিঙে খুব তাড়াতাড়ি জিটিএ নির্বাচন হবে। ভাষণে বিজেপি-কে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দার্জিলিং যখন হাসে তখন একটি দল এসে ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এরা বাংলাকে ভালবাসে না। আগুন জ্বালিয়ে এরা বাংলার বদনাম করতে চাইছে।মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সমালোচনা করেন বলেন, এরা পেট্রল-ডিজেল-গ্যাস-কেরোসিনের দাম বাড়াচ্ছে। বাংলাকে এরা কেউ ভালবাসে না। খালি অশান্তি পাকিয়ে দাম বাড়ানো ভুলিয়ে দাও। এটাই ওদের পলিসি।মঙ্গলবার পাহাড়ে চা বাগান কর্মীদের উন্নয়নে তাঁর সরকার কী কী প্রকল্প করেছে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ২৫০টি চা বাগানে তিন হাজারের বেশি পরিবারকে চা সুন্দরী প্রকল্পে বাড়ি বানিয়ে দেবেন তাঁরা। আগে দিনে ৬৭ টাকা মজুরি ছিল চা বাগান কর্মীদের। তাঁর সরকারের আমলে মজুরি হয়েছে ২০২ টাকা। আগে চা বাগান বন্ধ হলে ছমাস পর ৫০০ টাকা করে পেতেন কর্মীরা। এখন দুমাসের মধ্যে দেড় হাজার টাকা পান। হেল্থ কার্ড, রেশন, বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেয় তাঁর সরকার। বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পাহাড়কে কেন্দ্র বঞ্চনা করছে। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কেন হল না, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ইউক্রেনের প্রসঙ্গ এনে বলেন, ১৭ হাজার পড়ুয়া ইউক্রেন থেকে দেশে ফিরেছে। দেশে ওদের পড়া শেষ করার ব্যবস্থা হোক। এর জন্য রাজ্যকে অনুমতি দেওয়া হোক।

মার্চ ২৯, ২০২২
রাজনীতি

বগটুই কাণ্ডঃ 'অনুব্রত মন্ডলের কল রেকর্ড আগে ধরা উচিত,' দাবি শুভেন্দুর

সিবিআই তদন্তের নির্দেশের পরও রামপুরহাট কাণ্ডে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। শনিবার রামপুরহাটে এসডিও অফিসের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করে বিজেপি। চলবে রবিবারও। এদিন অবস্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মন্ডল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বীরভূমের অশান্তির জন্য দুজনকে দায়ী করেছেন তিনি।শুভেন্দু বলেন, প্রশাসনিক সভাতে একজন অশিক্ষিত তোলাবাজ, একজন গুন্ডা সর্দার জেলা সভাপতি হাজির থাকেন। প্রশাসনিক সভাতে তাঁকে বসিয়ে আইসি, ওসি, বিডিও, এসডিও, ডিএম, এসপিকে তিনি নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ, এই লোকটার কথা আপনাদের শুনে চলতে হবে। এভাবে গোটা জেলাতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে ধংস করে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার ফল এই বগটুইয়ের মর্মান্তিক ঘটনা। শুভেন্দু বলেন, সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন আমাদের দুটি দাবি আছে। পুলিশমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। গোটা বীরভূম জুড়ে বছরের পর বছর ধরে যে খুন-সন্ত্রাস-লুটের রাজনীতি করছে তাঁদেরকে কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে। মূলত এই দুই দাবিতে আমাদের অবস্থান। গত সোমবার বাড়শালের উপপ্রধান ভাদু শেখকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তারপর বগটুই গ্রামে ৮ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। শুভেন্দুর দাবি, উপপ্রধানকে খুন করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা। বখড়ার গন্ডগোল নিয়ে বিবাদ। পরবর্তী সময়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো বাইকবাহিনী ব্যবহার করে। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী শূন্য করা হয়েছিল এই বাহিনী দিয়ে। এদের দিয়ে এবার পুরভোট লুঠ হয়েছে। পাথর ও বালু নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে লুটের ব্যবসা চলছে। ভাদু শেখ ও আনারুলের মতো অজস্র বাড়ি আজ সর্বত্র তৈরি হয়েছে। তারা আগে ফাটা জামা পড়ত, সাইকেলে চড়ত, বিড়ি নিভিয়ে নিভিয়ে খেত, রাস্তার পাশে বসে তাস খেলত। মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে এসেছেন। তাঁর নাম এখন আকাশরাণী। বাম জমানায় সূচপুরে ১১ জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল সিপিএমের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু বলেন, সুচপুরের ঘটনায় সিপিএম শেষ হয়ে গিয়েছে, রামপুরহাটের ঘটনায় বীরভূম শুধু নয় বাংলা থেকে শেষ হয়ে যাবে তৃণমূল। শুধু খুনীদের ধরলে হবে না, শুধু বাইকবাহিনীকে ধরলে হবে না, যাঁরা ফোন করেছেন তাঁদের কল রেকর্ড ধরতে হবে। অনুব্রত মন্ডলের কল রেকর্ড আগে ধরা উচিত। তারপর পশ্চিমবঙ্গের পুলিশমন্ত্রীর কতবার কথা হয়েছে সেটা প্রকাশ্যে আসা উচিত। তিনি কী নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটাও আসা উচিত। আমরা দাবি করব, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের ধরতে হবে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

ব্লক তৃণমূল সভাপতি গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ অনুগামীরা, সাসপেন্ড আইসি

রামপুরহাটে বগটুই গ্রামে মুখ্য়মন্ত্রীর ঘোষণার পরই পুলিশ গ্রেফতার করেছে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি আনারুল হোসেনকে। একইসঙ্গে রামপুরহাট থানার আইসিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বগটুই-কাণ্ডে তারাপীঠের একটি লজ থেকে থেকে আনারুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, জেলাপুলিশ সুপার তারাপীঠ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আনারুলকে। তবে আনারুলের গ্রেফতারের খবরে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তাঁর অনুগামীরা।বৃহস্পতিবার বগটুই গ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা হাজির করেন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আনারুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে নিহতদের পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে আনারুলকে জানানো সত্বেও সে কোনও পদক্ষেপ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, অশান্তির আঁচ পেয়েও আনারুল পুলিশকে খবর দেননি। পুলিশকে প্রথমেই খবরটা জানালে এত বড় ঘটনা হয়তো আটকানো যেত বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। বগটুই গ্রাম থেকেই আনারুলকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন ডিজিকে। মমতা বলেন, আনারুল আত্মসমর্পণ করুক, নতুবা গ্রেফতার করবে পুলিশ। তবে আনারুলের অনুগামীদের বক্তব্য, তিনি ভাল মানুষ। সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন আনারুল। তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই আনারুলের বাড়িতে ছোটে পুলিশ। বাড়িতে ছিলেন না ব্লক তৃণমূল সভাপতি। সূত্রের খবর, আনারুল হোসেনকে তারপীঠের লজ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের খবরে আনারুলের অনুগামীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁকে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর অনুগামীরা।

মার্চ ২৪, ২০২২
রাজ্য

বগটুইয়ের সর্বহারাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন ক্ষতিপূরণ, চাকরি, চিকিৎসা ও বাড়ি তৈরির আশ্বাস

সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর অপেক্ষায় ছিল বগটুই গ্রামের সব হারানো পরিবারগুলো। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বগটুই গ্রামে এসে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেন। শুধু বগটুইয়ের বাসিন্দাদের কাছেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের তোলা সব দাবিরও কার্যত জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই তিনি কর্তব্যে অবহেলা করা পুলিশকর্মীদের কড়া নিন্দা করেন। একই সঙ্গে জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন, বগটুই গ্রামের বাড়িগুলিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনিরুলকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি বলেন, আমি চাই আনিরুল থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করুক। নইলে যেখান থেকে হোক তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। সেখানেই না থেমে মমতা পুলিশকে নির্দেশ দেন, মামলা এমন ভাবে সাজাতে হবে, যাতে কোনওভাবেই অভিযুক্তরা ছাড়া না পায়।মমতার সঙ্গেই ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়। সবার সামনে তাঁকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁদের বাড়ি পুড়ে গিয়েছে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দিয়ে দিতে হবে ঘর বানানোর জন্য। জেলাশাসক জানান, তিনি তৈরি হয়েই এসেছেন। বৃহস্পতিবারই টাকা দিয়ে দেবেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে কোনও কার্পণ্য করা চলবে না। প্রয়োজনে দুলাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে। শুধু পোড়া বাড়ি সারানো নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মমতা। জখম তিনটি শিশুর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে এবং গুরুতর জখমদের এককালীন এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।মমতা বগটুইতে দাঁড়িয়েই বলেন, জখমদের সকলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। জখমদের ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আগুনে পুড়ে তুলনায় কম জখম তিন শিশুকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি জানি কোনও মৃত্যুর বিকল্প আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা চাকরি হতে পারে না। তবু প্রতিটি পরিবারের একজনের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। মমতা আরও বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় হবে চাকরি। ইন্টারভিউ ছাড়াই প্রথমে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতন মিলবে। এক বছরের মধ্যে গ্রুপ ডি পদে স্থায়ী চাকরি হবে।

মার্চ ২৪, ২০২২
কলকাতা

'দোষীরা ছাড় পাবে না', কালই বগটুইয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে বৃহস্পতিবারই যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হওয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার তখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি বিজেপি-র বিধায়ক দল। দিল্লি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়নি বিজেপির প্রতিনিধি দল। তার আগেই মমতা জানিয়ে দিলেন তিনি যাচ্ছেন। সঙ্গে এটাও জানালেন যে, বিজেপি বিধায়ক দলের কর্মসূচি না থাকলে যেতেন বুধবারেই। মঙ্গলবরাই তদন্তকারী দল গঠন করে রাজ্য প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছিল তার ধারাবাহিকতাই যেন বজায় থাকল মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায়। বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন যে ভাবে দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছে যেতেন সে ভাবেই বৃহস্পতিবার যাচ্ছেন আগুনে পুড়ে আট জনের মৃত্যু হওয়া বগটুই গ্রামে। বুধবার তিনি বলেন, আজই যেতাম। কিন্তু বিরোধীরা গিয়েছেন। আগামিকাল আমি যাচ্ছি।রামপুরহাটে যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক। যারা এর পিছনে রয়েছে তারা কেউ ছাড় পাবে না। বগটুই গ্রামের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে আক্রমণ শানালেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে। এই রাজ্যের বিজেপি নেতাদের তো বটেই, মমতার আক্রমণ ছিল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি নিয়েও।বগটুইয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূল এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করে। এ দিন মমতা যেন সেই দাবিতে সিলমোহর দিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৃণমূলের যে যোগ নেই সেই দাবি করে তিনি বলেন, আমরা সরকারে। আমরা কি চাই কোথাও কেউ বোমা মারুক! বদনামের চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কেউ ছাড় পাবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সিপিএম, কংগ্রেসের মতো চক্রান্তকারী দল নই। এর পাশাপাশি মমতা নাম না করেও বিজেপি-কে আক্রমণ করে বলেন, আসলে দাঙ্গা করতে পারছে না। লোকে খেতে পারছে না, তাও তো বলতে পারছে না। মেয়েরা পড়াশুনা করতে পারছে না, এ কথাও বলতে পারছে না। মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না, এ কথা বলতে পারছে না। তাই দেশলাই জ্বালানো খুব সহজ তাই না। দেশলাই জ্বালাতে চক্রান্তকারীদের জুড়ি নেই। কিন্তু তারা এটা বোঝে না যে, অন্যের ঘরে দেশলাই জ্বাললে নিজের ঘরে এসেও পড়তে পারে। অনেক নষ্টামি, অনেক দুষ্টুমি দেখেছি। এর সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কালকেও দেখেছেন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এটা নিয়ে যাতে কেউ বলতে না পারে, তাই হট করে একটা এমন ঘটনা ঘটিয়ে দিচ্ছে।

মার্চ ২৩, ২০২২
কলকাতা

রামপুরহাট-কাণ্ডে ধনখড়কে চিঠি মমতার

রামপুরহাটের বগটুই ১০ জনের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। একে ভয়ঙ্কর হিংসার ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার দাবি, রাজ্যপালের পদে আসীন থেকে ধনখড়ের এই মন্তব্য অনভিপ্রেত। পাশাপাশি, রাজ্যপালকে তাঁর কটাক্ষ, কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে তিনি নীরব থাকেন। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে যখনই কোনও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের সমালোচনা ও নিন্দার সুযোগ ছাড়েন না।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, সঠিক তদন্তের বার্তা দিয়েছেন পুলিশকে। মঙ্গলবার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই টুইটে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর কাছে রিপোর্টও তলব করেছেন তিনি।Horrifying violence and arson orgy #Rampurhat #Birbhum indicates state is in grip of violence culture and lawlessness. Already eight lives lost.Have sought urgent update on the incident from Chief Secretary.My thoughts are with the families of the bereaved. pic.twitter.com/vtI6tRJcBX Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) March 22, 2022বগটুই-এর এই ঘটনাকে ভয়ঙ্কর বলে ব্যাখ্যা করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, এ রাজ্যে আইনের শাসন নেই। সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলছে বলেও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন জগদীপ ধনখড়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল। আর এবার রামপুরহাটের ঘটনায় ফের একবার সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ যাতে নিরপেক্ষভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই ঘটনার তদন্ত করে। রাজ্যে আইনের শাসন নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।এই প্রেক্ষিতে রাজ্যপালকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে মমতা জানান, রামপুরহাটে এতগুলো মানুষের প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় রাজ্য সরকার ব্যথিত। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিট গঠন হয়েছে। এমনকী ১০ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ পদস্থ আমলারা উপদ্রুত এলাকায় রয়েছেন। কিন্তু তার মধ্যেই রাজ্যপালের মন্তব্য তাঁকে ব্যথিত করেছে বলে চিঠিতে লেখেন মমতা।চিঠির শেষাংশে মমতার কটাক্ষ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এর চেয়ে অনেক জঘন্য ঘটনা ঘটে। তখন রাজ্যপালের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলে না। এরপর লেখেন, আপনাকে অনুরোধ এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করতে দিন।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

উপনির্বাচনের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের সময়সূচিতে ফের বদল

আসানসোল ও বালিগঞ্জে উপনির্বাচনের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচি ফের বদল করা হল। পরিবর্তিত সূচিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে ২ থেকে ২৭ এপ্রিল। নির্বাচনের কারণে ৬ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের কোনও পরীক্ষা থাকছে না।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু-সহ শিক্ষা দপ্তর ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ২ ও ৪ এপ্রিলে প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা এবং ৫ এপ্রিলের বৃত্তিমূলক পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারিত সূচি মতই হচ্ছে কিন্তু ৫ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে যেসব পরীক্ষা ছিল তা সবই ১৬ তারিখ থেকে হবে।উচ্চমাধ্যমিকের নতুন সূচি অনুযায়ী- ২ এপ্রিল প্রথম ভাষা, ৪ এপ্রিল দ্বিতীয় ভাষা, ৫ এপ্রিল ভোকেশনাল সাবজেক্ট, ১৬ এপ্রিল অঙ্ক, ১৮ এপ্রিল ইকনমিক্স, ১৯ এপ্রিল কমিউন্টার সায়েন্স গ্রুপ, ২০ এপ্রিল কমার্শিয়াল ল গ্রুপ , ২২ এপ্রিল পদার্থ বিদ্যা, ২৩ এপ্রিল স্ট্যাস্টিটিক্স, ২৬ এপ্রিল কেমিস্ট্রি, ২৭ এপ্রিল বায়োলজিক্যাল সায়েন্স গ্রুপের পরীক্ষা হবে। ৩০ এপ্রিল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।উচ্চ মাধ্যমিকের সময়সূচি বারবার বদলানোর জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের উপনির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা উচিৎ ছিল।সদ্য সমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের সঙ্গে ওই দুই আসনে উপনির্বাচন করা যেত।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কোনও অসুবিধা না সৃষ্টি করে ২ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচার করতে মুখ্যমন্ত্রী তার সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানান।

মার্চ ১৭, ২০২২
রাজনীতি

‘ক্ষমতা থাকে তো ছুঁয়ে দেখান,’ মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

রাজ্যে বাজেট অধিবেশন চলছে। বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই হই হট্টগোল দেখা গিয়েছে অধিবেশন ঘিরে। বাজেট অধিবেশন সূচনার আগে বিজেপির হট্টোগোলের জেরে বারংবার ভাষণ পাঠে বাধা পেয়েছিলেন রাজ্যপাল। অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েও অবশ্য তৃণমূল বিধায়কদের ঘেরাও-এর জেরে তা পারেননি। পরে কোনওমতে প্রথম এবং শেষ লাইন পাঠ করে অধিবেশন কক্ষ্য ত্যাগ করেছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যে তৃণমূল-বিজেপি বিবাদ নতুন ঘটনা নয়। সেই বিবাদের প্রতিফলন ঘটে রাজ্য বিধানসভায়ও। এদিন বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করে ভারতীয় জনতা পার্টি। তারপর বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয় নিয়ে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি এদিন বলেছেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেছি যদি আপনার ক্ষমতা থাকে আমাকে ছুঁয়ে দেখান। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টে। দুই আদালতেই রায় শুভেন্দুর পক্ষেই গিয়েছিল। আদালতে তরফে রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার উল্লেখ করেই মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন বিরোধী দলনেতা।প্রসঙ্গত, কাঁথি পুরসভার গোডাউন থেকে ত্রিপল চুরির অভিযোগ ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। সেই মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট অবধি। এই মামলার রায়ে হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পান শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শুভেন্দুর প্রাক্তন দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্যমৃত্যুসহ পাঁশকুড়া এবং নন্দীগ্রামের মামলায়ও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। পাশাপাশি মানিকতলা এবং তমলুকের মামলায় রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের এই রায়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।বুধবার পুলিশ বাজেট পেশ করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পুলিশকে দলদাস হিসেবে অভিহিত করে শুভেন্দু বলেন, বাংলায় শাসকের আইন চলছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, দলবিরোধী তিন-চার জনকে শিখিয়ে নিয়ে এসে বিজেপি বেঞ্চ থেকে পরিকল্পিত ভাবে গোলমাল করানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের কয়েকজন ও দিকে চলে গিয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে যদি বলতে শুরু করি আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছি, আমার বিরুদ্ধে এত মামলা দিয়েছেন। আমি হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছি। আপনার ক্ষমতা থাকে শুভেন্দু অধিকারীকে ছুঁয়ে দেখান। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই সব মন্তব্য করছেন। শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার ও হাউসকে অচল করার চেষ্টার প্রতিবাদ করে, দলদাস পুলিশ বাজেটের বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করেছি।

মার্চ ১৬, ২০২২
রাজ্য

কাউন্সিলর খুনের তদন্তভার সিআইডিকে, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পানিহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপম দত্তকে খুনের ঘটনার তদন্তভার পেয়েই ঘটনাস্থলে গেল সিআইডি-র তদন্তকারী দল। সোমবার দুপুরে সিআইডি-এর পাঁচ জন তদন্তকারী পানিহাটি গিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।অন্যদিকে, অনুপম দত্ত খুনের ঘটনার ধৃত অমিত পণ্ডিত ওরফে শম্ভুকে সোমবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশের তরফ থেকে আদালতে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল। বিচারক তা মঞ্জুর করেন। পানিহাটি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সোমবার সকাল থেকেই ছিল চাপা উত্তেজনা। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা সকালে ফের বিটি রোড অবরোধ করেন। পুলিশ সূত্রের খবর, অনুপমকে খুন করার জন্য নদিয়ার হরিণঘাটার বাসিন্দা শম্ভুকে ভাড়া করা হয়েছিল। তাঁকে জেরা এই খুনে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতার খুনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি-র তদন্তকারী অফিসারেরা।রাজ্যে দুই কাউন্সিলরের হত্যার ঘটনায় কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার নবান্নের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।সেখানে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোল করার অভিযোগ তুলে তিনি রাজনৈতিক রং না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, ডিআইজি-সিআইডির কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি এই মর্মে নির্দেশ দেন।নবান্ন সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় গণ্ডগোল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা। অশান্তির ঘটনায় রং না দেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে রাজ্যে দুই কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় বিরোধী বিজেপি পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছে। রাজ্য বিধানসভার দৃষ্টি আকর্ষণ পর্বে আজ বিজেপি সদস্য শঙ্কর ঘোষ গতকালের ওই দুই নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি করেন।তিনি বলেন, বর্তমানে যখন বিভিন্ন পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে তখন এধরণের ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে কিনা তার অনুসন্ধান প্রয়োজন।এব্যাপারে ওই বিজেপি সদস্য মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী বিধানসভায় বিবৃতি দাবি করেন।এরপরে বিজেপি সদস্যরা সভায় কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এই অভিযোগ তুলে তারা স্লোগান দিতে শুরু করেন।প্রথমার্ধের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলতে থাকে।

মার্চ ১৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • ...
  • 41
  • 42
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

নিট কেলেঙ্কারির ভয়ংকর ফাঁস! “৫০০-৬০০ নম্বর নিশ্চিত”, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে বিস্ফোরক তথ্য

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত শুভম খয়েরনার পরীক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই ফাঁস হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা পরীক্ষা বাতিল করেছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার গত এপ্রিল মাসেই তার সাপ্লায়ার যশ যাদবকে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ এপ্রিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রলোভন দেখানো।অভিযুক্তরা পড়ুয়াদের বোঝাত, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিলে তারা নিশ্চিতভাবে বেশি নম্বর পাবে এবং দেশের নামী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ চলত মূল অভিযুক্তদের মধ্যে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।সিবিআই ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাটের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর-সহ দেশের বিভিন্ন বড় কোচিং কেন্দ্রে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।শুভম খয়েরনার বয়স ৩০ বছর। নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা সে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হলেও কখনও ডাক্তারি পাশ করতে পারেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় সে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে বড় চক্র কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তদন্তে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কাণ্ডে বড় অ্যাকশন! একসঙ্গে সাসপেন্ড তিন আইপিএস অফিসার

ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্তও।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর করতে দেরি এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেই সময় পুলিশের আধিকারিক এবং অফিসারদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই সেই তদন্তে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই পুলিশ অফিসার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডিসি সেন্ট্রাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় পুলিশের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠেছিল।এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শাহজাহানদের জেল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা! মোবাইল উদ্ধার, সাসপেন্ড দুই শীর্ষ আধিকারিক

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।শুক্রবার বিধানসভা থেকে নবান্নে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসির উপস্থিতিতে এবং কারা দফতরের ডিজির নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণও শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাজ একদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে সময় লাগবে।শুভেন্দু আরও জানান, দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা থেকে শুরু করে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলে বসে যারা অপরাধচক্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন কোন বন্দির কাছে মোবাইল ছিল, কার নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কীভাবে সেই ফোন জেলের ভিতরে পৌঁছল, তা জানতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কান্ডে বড় পদক্ষেপ! তিন আইপিএস সাসপেন্ড, ফের খুলছে তদন্তের ফাইল; মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুল আলোচিত চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারবিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছিলেন। আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিল, কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে এবং কোন স্তরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ। বিশেষ করে ঘটনার পর যথাসময়ে এফআইআর দায়ের, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের প্রাথমিক ধাপগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরকারি স্তরে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই সারা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। চিকিৎসক সমাজের লাগাতার আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের মুখে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর এডিজি ও আইজিপি পদে বদলি করা হয়েছিল।একই সময়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে থাকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ও আরজি কর-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন। তাঁর ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় আসছে।শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত শুধু প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজন হলে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ন্যায়বিচারের পথে বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, শাসকদলের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই কটাক্ষ করেছে।আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের দরজা খোলায় ফের সামনে আসছে সেই ভয়াবহ রাতের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন। এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ঘরছাড়াদের ফেরাতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বহু নেতা-কর্মী আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বিধানসভায় এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জানা মতে বর্তমানে কেউ ঘরছাড়া নন। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে নামের তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আপনারা তালিকা দিন, কারা ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে দিন।তবে এখানেই একটি স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর থাকে, তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্দোষ হয় এবং সত্যিই ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।বিধানসভায় এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সূত্রের খবর, তিনি শুভেন্দুকে বলেন যে বাইরে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরের দিন পুলিশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে পান্নালালকেও থাকতে বলেন তিনি।শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আমন্ত্রণপত্র চান পান্নালাল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, বিধানসভায় আগেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, বিরোধীদেরও সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আর এবার পুলিশের বৈঠকে বিরোধী বিধায়ককে ডাক দিয়ে তিনি যেন সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করে দিলেন।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আর গোপন কিছু নয়! বিধানসভার সব কার্যকলাপ লাইভ দেখানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার প্রথম দিন থেকেই বড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়করা কে কতটা কাজ করছেন, কে নিয়মিত বিধানসভায় উপস্থিত থাকছেন, তা যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিধানসভার কার্যকলাপ লাইভ সম্প্রচারের ঘোষণা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, জনগণের নজরদারি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, অতীতের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা তিনি আর টেনে আনতে চান না। পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে গিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনেই বিধানসভা চালানোর উপর জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিধানসভাকে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।তিনি জানান, বিধায়কদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কী কাজ করছেন। তাই বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ বিধানসভার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।বিধানসভায় বিশৃঙ্খলা ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বিধায়ককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা উচিত নয়। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং গণতান্ত্রিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মঞ্চ।শুভেন্দু আরও জানান, বিধানসভায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এখনও ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কাগজে লিখে মত জানাতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশন হলে বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।বিরোধীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিরোধীদের আরও বেশি করে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিরোধী বিধায়করা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পাশাপাশি কোনও মন্ত্রী এলাকায় গেলে স্থানীয় বিধায়ককে আগাম জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।শেষে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে চিঠি পাঠালেও উত্তর পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাবে। বিরোধীরা চিঠি দিলে তিনি নিজে তার উত্তর দেবেন বলেও জানান শুভেন্দু।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

নাম না করেই অভিষেককে নিশানা তাপস রায়ের! “বিজেপি নয়, ওর ব্যবস্থা করবে জনগণ আর তৃণমূল”

নতুন সরকার গঠনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। স্পিকার নির্বাচনের দিন তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। তাপসের বক্তব্য, বিজেপি তাঁর কিছু করবে না। তাঁর ব্যবস্থা করবে জনগণ এবং তৃণমূলই।শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন বিজেপির রথীন্দ্র বসু। এরপর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে তাপস রায় শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে থাকেন। তৃণমূল বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, অনেক তো করেছেন। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?এরপরই তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের ভোট ছিল না, এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। সেই ধর্মযুদ্ধে যারা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি।নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে তাপস বলেন, বিধানসভায় কোনও দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান যেন না ওঠে, তার জন্য প্রয়োজন হলে আইন আনতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।এরপরই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, একজন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও বাংলার দলের আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! এই মন্তব্যে তৃণমূল বিধায়করা প্রতিবাদ শুরু করলে তাপস বলেন, সব বলা যায়। বলতে দিতে হবে।তাপস আরও বলেন, সে বলেছিল হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলছি, এবার সে বাইরে বেরোক। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ আর তৃণমূলই করবে।ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাপসের দাবি, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বিজেপির বহু কর্মী খুন হতেন। তিনি বলেন, আজ যদি ওরা ক্ষমতায় ফিরত, তাহলে দেড়শোর বেশি বিজেপি কর্মীর লাশ গুনতে হত। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হত। লক্ষ লক্ষ বিজেপি সমর্থক ঘরছাড়া থাকতেন।একসময় তৃণমূলেরই নেতা ছিলেন তাপস রায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপস বলেন, আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে জেলে পাঠান।শেষে জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতার জয় ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি বিধায়ক।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পদ হারিয়েই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির! তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহ?

লোকসভায় মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ পদ হারানোর পর সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কাকলি। সেই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতার মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই দলের খারাপ ফলের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। সেই আবহেই কাকলির পোস্ট নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।গত বছরের অগস্ট মাসে আচমকাই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু মাত্র নমাসের মধ্যেই ফের সেই পদে ফিরিয়ে আনা হল কল্যাণকে। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?পদ থেকে সরানোর পর সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তে তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।এর আগেও কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একাধিক পোস্ট করে দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ফেলেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে সিপিএম নেতৃত্ব এবং মহম্মদ সেলিমের প্রশংসাও করেছিলেন।আরও একটি পোস্টে বৈদ্যনাথ লিখেছিলেন, আমার মাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন করুন সব্যসাচী দত্ত কোথায়? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্টের পর থেকেই কাকলির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।এখন ছেলের পর মা-ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখানোয় তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কাকলির পোস্ট নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal