• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MP

রাজ্য

অবিলম্বে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে রেলমন্ত্রীকে চিঠি অধীরের

অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে চিঠি লিখলেন লোকসভার সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিমি আবেদন জানিয়েছেন, কোভিড বিধি মেনে অবিলম্বে রাজ্যে লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু করতে হবে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার জন্য আবেদন জানান তিনি। আরও পড়ুন ঃ মল্লারপুরের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে সিলমোহর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কংগ্রেস সাংসদ এই চিঠিতে লেখেন, কোভিড পরিস্থিতিতে লকডাউন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু কয়েকটি রাজ্যে লোকাল ট্রেন পরিষেবা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলায় লোকাল ট্রেন শুরু করা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। এর জেরে সাধারণ মানুষকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত মানুষ রেল পরিষেবা গ্রহণ করে। দূরপাল্লার ট্রেন সহ রেলের বিভিন্ন পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় প্রবল অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে চাকরিজীবীরা। সম্প্রতি কলকাতায় শুরু হয়েছে মেট্রো পরিষেবা। কিন্তু কলকাতার মানুষ সেই পরিষেবা গ্রহণ করলেও শহরতলির অনেক সাধারণ মানুষ এই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন , সম্প্রতি লোকাল ট্রেন চালু করার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। মারধর করা হয়েছে রেলকর্মীদের। চলতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার হাওড়া স্টেশনে লোকাল ট্রেনে উঠতে দেওয়ার দাবিতে জনতার বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। আরপিএফ লাঠিচার্জ করে।

নভেম্বর ০১, ২০২০
রাজ্য

মল্লারপুরের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে সিলমোহর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

মল্লারপুরের বাসিন্দা শুভ মেহেনার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি । পুলিশ প্রথন থেকেই বলে আসছিল , শুভ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশের বক্তব্যকেই স্বীকৃ্তি দিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই রিপোর্টে নাবালকের গলায় দড়ির দাগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া অন্য কোনও ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন ঃ ফের বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার উল্লেখ্য, চুরির অভিযোগে মল্লারপুরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা শুভ মেহেনা নামে এক নাবালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। গভীর রাতে মৃত্যু হয় শুভর। এরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার মল্লারপুরে বন্ধ ডাকে বিজেপি। মল্লারপুর বাজার থেকে থানা পর্যন্ত মিছিল করে গেরুয়া শিবির। তাতে নেতৃত্ব দেন সৌমিত্র খাঁ। মিছিল শেষে থানায় ঢুকতে গিয়ে বাধা পান বিজেপি নেতা। তারপর তুমুল অশান্তিও হয়। সৌমিত্র খাঁ ওসির শাস্তির দাবি জানান। সুবিচারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নভেম্বর ০১, ২০২০
স্বাস্থ্য

আশঙ্কা বাড়িয়ে ফের বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ

দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যু দিন কয়েকের জন্য ক্ষণিক স্বস্তি দিয়েছিল বঙ্গবাসীকে। কিন্তু লক্ষ্মীপুজো কাটতে না কাটতেই ফের করোনা সংক্রমণের উচ্চ হারে চিন্তা বাড়ল। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৩ জন। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত বাংলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৬৪। এখন রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮৮৬ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আরও ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৬৮৪১ জন। আরও পড়ুন ঃ আশা জাগিয়ে ফের রাজ্যে কমল দৈনিক করোনা সংক্রমণ এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৪৯ জন। সবমিলিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৯৩৭ জন। রাজ্য়ে সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৮৮.৩০ শতাংশ। শনিবার ৪৪ হাজার ১৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলায় মোট ৪৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২২০৬ জন কলকাতায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় নতুন করে ১৫৭৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

নভেম্বর ০১, ২০২০
কলকাতা

৬ নভেম্বর কলকাতায় অমিত শাহঃ দিলীপ

আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমাদের হিসেব অনুযায়ী ৫ টা জোনের মধ্যে একটা জোনের বৈঠক হয়ে গেছে। রাঢ়বঙ্গ ও মেদিনীপুর জোনের বৈঠক ৫ তারিখ বাঁকুড়া জেলায় হবে। বাঁকুড়াতে রবীন্দ্র ভবনে অথবা সপ্তর্ষি হোটেলে এই সভা হবে। ৬ তারিখ নবদ্বীপ ও কলকাতা জোনের বৈঠক কলকাতায় হবে। কলকাতার ইজেডসিসিতে এই বৈঠক হবে। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এই বৈঠক হবে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন। শনিবার ছিল বিজেপির সাংগঠনিক সভা। সেই সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের আগামীদিনের কর্মসূচি বিস্তারিত জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ( সংগঠন) শিবপ্রকাশ , জাতীয় সম্পাদক অরবিন্দ মেনন সহ আরও অনেকে। আরও পড়ুন ঃ নিম্নচাপের জের , বিকেলে কলকাতায় হালকা বৃষ্টিপাত এদিন তিনি আরও বলেন , মল্লারপুরের ওই নাবালক যদি তৃণমূলেরই হয় , তাহলে তাকে মারার অধিকার পুলিশের আছে নাকি ? ওখানে তো মরে গেলে সব টিএমসি হয়ে যায়। কার দলের মারা গেছে তা গৌণ। সে তো নাবালক ছিল , কোনও দলের সদস্যই সে ছিল না। তাকে তুলে নিয়ে এসে পুলিশ লক আপে মেরে ফেলা হল। সেটা নিয়ে আবার রাজনীতি খোঁজা হচ্ছে। তার মৃত্যুটা নিঃসন্দেহে খুব মর্মান্তিক। এটা আইনশৃঙ্খলাহীনতা।পুলিশ যে কি নির্মম হয়ে গেছে , কেবল রাজনৈ্তিক দলের কথা বলছে।তারপর তার পরিবারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বলানো হচ্ছে, আমরা টিএমসি করি। তাতে কি সাতখুন মাফ হয়ে গেল ? প্রশাসনের উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন তোলে্ন তিনি। বিমল গুরুং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক নেই , উনি ঘোষণা করেছেন। আমরা কাউকে তাড়াইনি। এবার তাদের ওখানে জমি দখলের লড়াই হচ্ছে। সেটা ওনারা বুঝে নেবেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২০
বিনোদুনিয়া

আমাদের দেশ বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীর হাতে জ্বলছেঃ নুসরত

বিজেপিদের থেকে বাংলা বাঁচাও ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে তৃণমূলের তরফ থেকে। এবার এই নিয়ে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দাগলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ নুসরত জাহান। তিনি টুইটারে লিখেছেন , আমাদের দেশ বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির হাতে জ্বলছে। আজ মোট ৫ লক্ষ মানুষ বিজেপির এই অসাম্য আর ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে নিজেরা একত্রিত হয়েছেন। বাংলাকে বাঁচান আর নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন। আরও পড়ুন ঃ শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এর আগেও দেশে বাড়তে থাকা বেকারত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাক্যবাণে বিঁধেছিলেন নুসরত। এই অতিমারী আবহে দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রাস হওয়া নিয়েও বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করেছিলেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২০
রাজ্য

নাবালক খুনের ঘটনায় বিজেপির মিছিলে রণক্ষেত্র মল্লারপুর

পুলিশ হেফাজতে নাবালকের মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার ১২ ঘণ্টা মল্লারপুর বন্ধের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সকাল থেকেই থমথমে ছিল এলাকা। বন্ধ ছিল এলাকার বাজার এবং দোকানপাট। এদিন সকালে নাবালকের মৃত্যুর প্রতিবাদে মিছিল বের করে বিজেপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এমনকি পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙে আন্দোলনকারীরা। এরপর মল্লারপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে শুরু করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এই বিক্ষোভে সামিল হন সৌমিত্র খাঁ সহ বিজেপি নেতৃত্ব। আরও পড়ুন ঃ সবার অলক্ষ্যে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের সামনে পড়ে মহিলার দেহ, পুলিশি তৎপরতায় দেহ উদ্ধার এদিন সৌমিত্র খাঁ বলেন , মল্লারপুর থানার ওসিকে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হব। মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হব। এলাকায় যাতে কেউ বিজেপি করতে না পারে , সেই জন্য এই নাবালককে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। তিনি আরও বলেন , সর্বাত্মক বন্ধ পালিত হচ্ছে মল্লারপুরে। এটা কোনওভাবেই আত্মহত্যা নয়। পুলিশের নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন হবে। এই ঘটনায় তিনি সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার চুরির অভিযোগে শুভ মেহেনা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সে মল্লারপুরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা। গভীর রাতে থানার লকআপে মৃত্যু হয় শুভর। এরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, লকআপে অমানুষিক অত্যাচারের কারণেই মৃত্যু হয়েছে শুভর। পুলিশই খুন করেছে তাঁদের পরিবারের সদস্যকে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। পরে যদিও নিজেদের বয়ান বদল করে ওই নাবালকের বাবা-মা এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেই দাবি করেন। বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি মল্লারপুর থানার পুলিশের। তাঁদের কথায়, লকআপে থাকাকালীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন শুভ। পুলিশ কর্মীরা তাঁকে কোনওরকম নিগ্রহ করেনি।

অক্টোবর ৩১, ২০২০
রাজ্য

 নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ রাজ্য সরকারের

নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানাল রাজ্য সরকার । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতিক্রমে বুধবার রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত , দশমীর বিকেলে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার হাজরা বাড়ির দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ডুমনি নদীতে। এলাকার আরো কয়েকটি দুর্গা প্রতিমাও সেইসময় ছিল নদীতে। আরও পড়ুন ঃ পথ দুর্ঘটনা কমাতে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি পালন নদীতে চলছিল শোভাযাত্রা। সেই সময় হঠাৎ করে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে উলটে যায় প্রতিমা ও যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা। একই সঙ্গে পাশের নৌকাটিও উলটে যায়। তাতে থাকা যাত্রীরা সাঁতরে পাড়ে ওঠার চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন উঠেও পড়েন। সন্ধের পর বোঝা যায় যে ওই নৌকায় থাকা বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। এরপরই খোঁজাখুঁজি শুরু হয় নদীতে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। রাতে উদ্ধার হয় হাজরা পরিবারের ২ সদস্য-সহ ৫ জনের দেহ।

অক্টোবর ২৮, ২০২০
স্বাস্থ্য

সংক্রমণে রেকর্ড ভেঙে একইদিনে আক্রান্ত ৪ হাজার ৬৯

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৯ জন। এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত বাংলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ১২৬। বাংলায় করোনায় অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৫৭৯ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনা-মুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৯৬ জন। সবমিলিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৩০৩ জন। আরও পড়ুনঃ রাজ্যে চার হাজারের গণ্ডি পেরল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজ্যে সুস্থতার হার ৮৭.৪৫ শতাংশ।গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৬২৪৪। বুধবার ৪৩ হাজার ৫৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলায় মোট ৪১ লক্ষ ২২ হাজার ২৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

অক্টোবর ২২, ২০২০
দেশ

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বোনাসের ঘোষণা কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বোনাস ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। উৎসবের মরশুমে খরচ ও চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে বোনাস ঘোষণা করল সরকার। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছেন, বিজয়া দশমীর আগেই বোনাস দিয়ে দেওয়া হবে। আরও পড়ুনঃ করোনাকে হাল্কাভাবে নিলে চলবে না : মোদি কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, প্রোডাক্টিভিটি বোনাস হাতে পাবেন বিভিন্ন সরকারি বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ১৬.৯৭ লক্ষ নন-গেজেটেড কর্মী। রেল, পোস্ট অফিস, প্রতিরক্ষা, ইপিএও, ইএসআইসি-র মতো সংস্থার কর্মীরা এর আওতায় আসবেন। এছাড়া আরও ১৩.৭০ লক্ষ নন-গেজেটেড কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীও বোনাস পাবেন। বোনাসের জন্য সরকারের খরচ হবে ৩,৭৩৭ কোটি টাকা।

অক্টোবর ২১, ২০২০
রাজ্য

দুর্ঘটনার কবলে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের কনভয়

দলীয় এক কর্মসূচিতে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে যাচ্ছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। পথে বাসন্তী হাইওয়েতে মিনাখা থানার বালির হাটের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল তাঁর কনভয়ের একটি গাড়ি। সেখানে ওই গাড়ির টায়ার ফেটেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। তাতে আহত হয়েছেন তিন নিরাপত্তারক্ষী, এরমধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মিনাখা থানার পুলিশ। পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে ভোজেরহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, ডাক্তার সুভাষ সরকার। আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রী হাইকোর্টের রায় বলবৎ হতে দেবেন কিনা , সন্দেহ আছে : অধীর পরে অর্জুন সিং জানিয়েছেন, কনভয়ের একটি গাড়ির পিছনের চাকা ফেটে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে গিয়ে রাস্তার ধারে একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। ওই গাড়িতে ছিলেন অর্জুনের কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের মাথায় , হাতে ও পায়ে চোট লেগেছে। স্থানীয় মানুষজন এবং অন্য গাড়িতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুততার সঙ্গেই আহতদের উদ্ধার করেন।

অক্টোবর ২১, ২০২০
কলকাতা

ইংরেজি বলতে না পারার অপরাধে আয়কর দফতরের পাঁচ কর্মীকে ছাঁটাই , ডেপুটেশন বাংলা পক্ষের

ইংরেজি বলতে না পারার অপরাধে আয়কর দফতর পাঁচজন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বাঙালিদের জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষের তরফ থেকে শুক্রবার কলকাতার আয়কর দফতরে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হল। আয়কর দফতরের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সম্পাদককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ভাইস চেয়ারম্যান বাংলা পক্ষের এই দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের স্মারকলিপিতে তাদের দাবি, অবিলম্বে বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মীকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করতে হবে। কারণ, যখন এই পাঁচজনকে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন কোথাও বলা ছিল না যে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক। বাংলা পক্ষের প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশ, বিহারে তো সরকারি অফিসে সকলে হিন্দিতেই কথা বলে। সেখানে তো ইংরেজিতে কেউ কথা বলে না। আর পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অফিসে বাংলা বললেই পাপ ? শেষ আদমসুমারী অনুযায়ী বাংলার ৮৩ শতাংশ মানুষ শুধু বাংলা বোঝেন, হিন্দি- ইংরেজি বোঝেন না। বাংলা না জানলে বরং বরখাস্ত করা উচিত। আরও পড়ুনঃ অনুদান কি শুধু দুর্গাপুজোতেই দেয় সরকার? প্রশ্ন হাইাকোর্টের এদিনের কর্মসূচিতে অনৈতিক ও বেআইনিভাবে ছাঁটাই হওয়া পাঁচজন কর্মীই উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, কাজ চালানোর মতো ইংরেজি তারা বলতে পারেন। চাকরির শর্ত ছিল না যে ইংরেজি বলতেই হবে। বাংলা পক্ষের তরফ থেকে এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অমিত সেন , জয়দীপ দে, কৌশিক মাইতি ও সম্রাট বোস সহ আরও অনেকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২০
কলকাতা

নবান্ন অভিযানে জলকামানের রং নিয়ে অমিত শাহকে চিঠি লকেটের

নবান্ন অভিযানে বিজেপির সঙ্গে পুলিশ ভীষণই ন্যক্কারজনক ব্যবহার করেছে। সেদিন বিজেপির বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশ যে জলকামান ব্যবহার করেছিল , তাতে রঙের ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই রং গায়ে লাগার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। অনেক দলীয় সদস্যও সেদিন গায়ে রং লাগার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করতেই পুলিশ রাসায়নিককে হাতিয়ার হিসাবে প্রয়োগ করেছিল। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা একটি চিঠিতে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের বিষয়ে এভাবেই তোপ দাগলেন তিনি। শান্তিপূর্ণ মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে এভাবে রং ছোঁড়া হল , এটা ভারতীয় রাজনীতিতে প্রথম। আরও পড়ুনঃ বাংলায় দুর্গোৎসব বন্ধ রাখা হোক, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা চিনে কমিউনিস্টরা যে প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের আন্দোলন দমিয়ে দেন সেই প্রক্রিয়াতেই বিজেপির নবান্ন চলো অভিযান আটকানোর চেষ্টা করেছে মমতা সরকারের পুলিশ। এই রংয়ে কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছিল বলে বিজেপি সাংসদ অভিযোগ করেছেন। আপনি যদি এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এছাড়াও এদিনের চিঠিতে মণীশ শুক্লা হত্যা ও বলবিন্দর সিংয়ের সঙ্গে হওয়া ঘটনারও প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সাংসদ।

অক্টোবর ১৪, ২০২০
রাজ্য

বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

তমলুক বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। এদিন পুজো ্দেওয়ার পর সন্ধ্যা আরতিতে অংশগ্রহণ করে মায়ের আশীর্বাদ নেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত সঞ্জিত সিংয়ের প্রসঙ্গত , গত কয়েকদিন আগে তিনি করো্নায় আক্রান্ত হন। তাঁর আরোগ্য ্কামনায় অনুগামীরা যজ্ঞের আয়োজন করেন। করো্নার সঙ্গে অনেকদিন লড়াই করার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠে্ন। এরপর এদিন তিনি বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিতে আসেন।

অক্টোবর ১০, ২০২০
কলকাতা

অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ বিজেপি সাংসদদের

বিজেপির নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা। আহত হয় বিজেপির কয়েকজন সদস্য। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র একটি ভিডিও টুইট দেখিয়ে বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের মিছিলের ওপর বাড়ির ছাদ থেকে পুলিশ এবং তৃণমূল কংগ্রেস বোমা নিক্ষেপ করেছে। ওই বোমার আঘাতে তাঁদের সদস্যরা জখম হয়। ঘটনার পর জোড়াসাঁকো থানায় অভিযোগ জানাতে হাজির হন বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত ও তেজস্বী সূর্য। আরও পড়ুনঃ বিজেপির নবান্ন অভিযানে আটক ১১৩ঃ মুখ্যসচিব তেজস্বী সূর্য বলেন, তাঁরা যখন থানায় বোমা ছোড়ার ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে যান তখন থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার জানিয়ে দেন, এই অভিযোগ তাঁরা নিতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আমাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ পর্যন্ত করা হয়। এই কারণে আমরা সংসদে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ আনব। সংবিধানের কত ক্ষমতা সেটা এই থানার কর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। অভিযোগ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে তিন সাংসদ ও যুব মোর্চার সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

অক্টোবর ০৯, ২০২০
কলকাতা

বিজেপির নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কলকাতা ও হাওড়া

বিজেপির নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ বিজেপির নবান্ন অভিযান শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে মিছিল নবান্নের দিকে আসতে শুরু করে। মিছিলের শুরুতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতার হেস্টিংস ও সাঁতরাগাছি৷ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ বিজেপির। কাঁদাতে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। এছাড়াও মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানের মাধ্যমে রঙিন জল ব্যবহার করা হয়৷ এদিকে এদিন এই মিছিলের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ। সাঁতরাগাছিতে মিছিল থেকে পাল্টা পাথরও ছোঁড়া হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। হেস্টিংসে বহু বিজেপি কর্মী আহত হন৷ হেস্টিংস মোড়ে বসে পড়েন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ বিজেপির নেতানেত্রীরা৷ অপরদিকে হাওড়া ময়দান এলাকায় মিছিল লক্ষ্য করে বোমা মারার অভিযোগ উঠেছে। এখানেও অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা। একটি বহুতলের ছাদ থেকে বোমা মারার অভিযোগ উঠছে।প্রসঙ্গত, এদিন সকালে সাঁতরাগাছি থেকে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় বিজেপির নবান্ন অভিযান। বাঁশের ব্যারিকেডের সামনে মিছিল এলে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। সামনে থাকেন রাজু। সেই সময় জলকামান থেকে রঙিন জল স্প্রে শুরু করে পুলিশ। এর জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শুরু হয় রক্তবমি।পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারের হাসপাতালে।এছাড়াও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিজেপি নেতা তাপস ঘোষ। আহত হয়েছেন অরবিন্দ মেনন, সায়ন্তন বসু ও জ্যোতির্ময় মাহাতো। দিলীপ ঘোষে্র নেতৃত্বে একটি মিছিল হাওড়া ব্রিজে উঠতেই বাধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় লাঠিচার্জ। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, তাঁর উপরও লাঠিচার্জ করা হয়। পড়ে যান তিনি। জখম হন বেশ কয়েকজন কর্মী। তাঁদের পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। অন্যদিকে পুলিশের কিয়স্ক ভাঙচুর চালানো হয় হাওড়া ময়দানে। বোমাবাজিও করা হয় বলে অভিযোগ। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানেও। দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, কলকাতাকে গোটা দেশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অপরদিকে হেস্টিংস মোড়ে দ্বিতীয় সেতুতে ওঠার মুখেই পুলিশের ব্যারিকেড। হেস্টিংসের মিছিলকে আটকায় পুলিশ। জলকামান থেকে জল ছেটানো হয়। লাঠি উচিয়ে মিছিলকে তাড়া করে পুলিশ। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এদিন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত করতে পুরো রাজ্য সরকারের স্যানিটাইজেশন হোক। রাজ্য সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। বেহালা, ভবানীপুর, ডানকুনিতে বিজেপি কর্মীদের আটকেছে পুলিশ। লাঠিচার্জ করছে। তৃণমূল কার্যকর্তাদের মতো কাজ করছে পুলিশ। তৃণমূল সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র বাঁচাও, বাংলা বাঁচাওয়ের দাবিতে এই আন্দোলন চলবে।

অক্টোবর ০৮, ২০২০
দেশ

আলোয়ার গণধর্ষণ মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজস্থানের আলোয়ারে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি গণধর্ষণ মামলায় চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ওই গণধর্ষণ-এর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করার জন্য পাঁচ বছরের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে আরেক অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক।মূল অভিযুক্ত ছোটে লাল (২২), হংসরাজ গুজ্জর (২০), অশোক কুমার গুজ্জর (২০) এবং ইন্দ্রজিৎ সিং গুজ্জর (২২)-এর নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭,১৪৯, ৩২৩, ৩২৭ ও ৩৭৬ডি-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাজস্থানের আলোয়ার-এর থানাগাজি এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের ২২ বছরের এক যুবতীকে তাঁর স্বামীর সামনেই ধর্ষণ করে এক নাবালক-সহ পাঁচজন। আর আরেকজন ব্যক্তি সেই পাশবিক ঘটনার ভিডিও তোলে। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতার কাছ থেকে ১০ হাজার দাবিও করে। নির্যাতিতা তা দিতে রাজি না হওয়া ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টও করে দেয়। এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা এফআইআর নিতে চায়নি।পরে মে মাসের ২ তারিখে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৮ মে আদালতে চার্জশিট জমা করে পুলিশ। তদন্ত চলার মাঝেই কর্তব্যে গাফিলাতির অভিযোগে আলোয়ার পুলিশ সুপার রাজীব পাছারকে সরিয়ে দেওয়া হয় ও থানাগাজি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সর্দার সিংকে বরখাস্ত করা হয়।

অক্টোবর ০৬, ২০২০
বিদেশ

হোয়াইট হাউসে ফিরেই মাস্ক খুলে ফেললেন ট্রাম্প

চার দিনের জরুরি চিকিৎসার পরে সোমবার হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে ফিরেই নিজের মাস্ক খুলে ফেলে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন।রবিবারই চিকিৎসকরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিগগিরি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। সেই সম্ভাবনা সত্যি করে সোমবারই সেনা হাসপাতাল থেকে স্থানীয় সময় অনুসারে সাড়ে ৬ টায় ছুটি দেওয়া হয় ট্রাম্পকে।এরপর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়ে দেন, তিনি সুস্থই বোধ করছেন। তাঁর এভাবে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, কোনও নেতাই এমন করত না যা আমি করেছি। আমি জানি এতে ঝুঁকি আছে। বিপদ আছে। কিন্তু সব ঠিকই আছে।কিন্তু এটাকে আপনার জীবনে আধিপত্য বিস্তার করতে দেবেন না। এর থেকে বেরিয়ে আসুন। তবে সতর্ক থাকুন। তিনি আরও বলেন, কোনও ভয় নেই। করোনাকে ভয় পাবেন না। উল্লেখ্য, করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসলে ও শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পরেই ট্রাম্পকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমেরিকার সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল ট্রাম্পের।ওই হাসপাতালে ট্রাম্পকে মূলত রেমডিসিভির দেওয়া হয়। দেখা যাচ্ছে তার জেরেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।

অক্টোবর ০৬, ২০২০
রাজ্য

চিটফান্ড মামলায় অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পিনকন চিটফান্ড মামলার সাজা ঘোষণা করল তমলুক জেলা দায়রা আদালতের অধীন অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালত। সংস্থার কর্ণধার মনোরঞ্জন রায় ও মৌসুমী রায়-সহ আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। এই মামলায় মোট ২০ জন আসামি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দশজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।মামলা চলাকালীন দু-জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আটজনের মধ্যে মূল অভিযুক্ত মনোরঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমী অসুস্থতার কারণে হাজির হতে না পারায় ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের সাজা শোনানো হয়।বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থা পিনকন মামলার রায় ঘোষণার দিন ওই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর মনোরঞ্জন রায়কে সমস্তরকম মেডিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে তমলুক আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। সেই সঙ্গে মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমী রায়কেও হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।সকাল থেকেই আদালত চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী।বে-আইনি অর্থলগ্নি সংস্থা পিনকনে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছিলেন অনেকেই। সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের একাংশ ২০১৭ সালে পিনকন সংস্থার বিরুদ্ধে খেজুরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই বছরের ৪ নভেম্বর রাজস্থান থেকে পিনকনের অন্যতম ডিরেক্টর মনোরঞ্জন রায় সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ডিরেক্টর অফ ইকোনমিক অফেন্স এর আধিকারিকরা। একে একে মনোরঞ্জনের স্ত্রী সহ কুড়িজন ডিরেক্টর গ্রেফতার হন।তমলুক জেলা দায়রা আদালতের অধীন অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়।পরবর্তীকালে মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমী রায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। বিচারপর্ব চলাকালীন দুই ডিরেক্টর মারাও যান।দীর্ঘ শুনানির শেষে বিচারক শনিবার এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেন।অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করার জন্য অন্যতম অভিযুক্ত পিনকন কর্তা মনোরঞ্জন রায় অসুস্থ রয়েছেন বলে চিকিৎসকের শংসাপত্র তমলুক আদালতে জমা করেন। বিচারপতি সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মনোরঞ্জন রায়কে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমীকেও হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুজনেই অনুপস্থিত থাকায় ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের সাজা শোনানো হয়।

অক্টোবর ০৩, ২০২০
বিদেশ

ভারতের আইন নারী ক্ষমতায়নে সক্ষম: স্মৃতি

আমাদের উন্নয়নের সমস্ত ক্ষেত্রে লিঙ্গ সাম্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়েছে ভারত।রাষ্ট্রপুঞ্জে বললেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।চতুর্থ নারী বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনের ২৫ বছর পূর্তিতে তিনি বলেন,সংখ্যার দিক থেকে মেয়েরা মানবতার অর্ধেক।কিন্তু তাদের প্রভাব সমাজ, রাজনীতি এবং অর্থনীতির সমস্ত মাত্রায় স্থানান্তরিত হয়।আমরা ভারতে উন্নয়নমুখী যাত্রায় সমস্ত ক্ষেত্রে লিঙ্গ সাম্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়েছি।আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তনগুলি পাথেয় করে আমরা নারী উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত থেকে নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছি।বলেন স্মৃতি।মহিলা সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছে যে ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধি সামাজিক পর্যায়ে লিঙ্গ-সংবেদনশীল জন নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগে নেতৃত্ব প্রদান করছেন।২০০ মিলিয়ন মহিলাকে সরকারের উদ্যোগে ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোয় আনা হয়েছে।ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহারে বীমা, ঋণ, সামজিক সহযেগিতায় মেয়েরা এখন সমান সুযোগ পাচ্ছে।বলছেন স্মৃতি।লিঙ্গ সাম্য বিষয়ে তিনি বলেন, জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতাকে ও সমস্ত রকম লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে উচ্চ প্রাথমিকতা দিচ্ছে ভারত।শেষে স্মৃতি বলেন,বেজিং ঘোষণাকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকরী করতে ভারত দায়বদ্ধ।২৫ বছর আগে আমরা চতুর্থ বিশ্ব মহা সম্মেলনে যা পেয়েছিলাম,তা আজও আলো দেখায়।জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তা আজও অনুপ্রেরণা যোগায়।ভারত সমস্ত আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে কাজ করে আরও সমান ও নায্য পৃথিবী আমাদের ও আমাদের কন্যাদের জন্য বানাতে প্রস্তুত।বলেন স্মৃতি।

অক্টোবর ০২, ২০২০
বিদেশ

করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসো্লেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া

উপদেষ্টা হিকসের করোনা ভাইরাস রিপোর্ট পজিটিভ আসায় কোয়ারেন্টিনে গিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।এক টুইট বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা দুজনেই করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দিয়েছেন। এখন ফলাফলের অপক্ষোয় আছেন।এবার তাদের ফলাফলও পজিটিভ এল। উপদেষ্টা হিকসের সংস্পর্শে আসায় ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।উপদেষ্টার করোনা পজিটিভ হওয়ার খবরে ট্রাম্প ও মেলানিয়া কোয়ারেন্টিনে চলে গেছিলেন। টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন,স্থানীয় সময় শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ট্রাম্প নিজের টুইটারে লিখেছেন, আমি ও মেলানিয়া করোনা টেস্ট করিয়েছি। আজ (বৃস্পতিবার) রাতে রিপোর্ট পেয়েছি। তাতে দেখা গিয়েছে আমরা করোনা পজিটিভ। আমরা কোয়ারেন্টিনে চলে গেছি। সুস্থ হওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করে দিয়েছি। এর আগে তাঁর উপদেষ্টার করোনা আক্রান্ত হওয়া্র পর টুইটারে ট্রাম্প লিখেছিলেন, সে খুবই পরিশ্রমী। কাজের ব্যাপারে খুবই সচেতন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করতেন। সে মাস্ক পড়েই কাজ করতেন, বহু মাস্ক পরেছেন। তবুও তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। আমরা একসঙ্গে বহু সময় কাটিয়েছি। তাই আমি ও ফার্স্ট লেডিও করোনা টেস্ট করিয়েছি।ট্রাম্প আরও লেখেন, আমরা কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি।

অক্টোবর ০২, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • 35
  • 36
  • 37
  • 38
  • 39
  • 40
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’, সৌরভের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু আজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার থেকেই বাংলার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বিগ বস বাংলা। তবে এবারের আকর্ষণ শুধু প্রতিযোগীদের নিয়ে নয়। এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সঞ্চালকের আসনে। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই এবার দেখা যাবে বিগ বস বাংলার মুখ হিসেবে। প্রায় এক দশক পর বাংলায় ফিরছে অনুষ্ঠানটি।সৌরভের কাছে অবশ্য এই দায়িত্ব একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু বিগ বস-এর চরিত্র আলাদা। এখানে শুধু হাসি-ঠাট্টা বা প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা নয়, প্রতিদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মতবিরোধ, আবেগ, কৌশল এবং মানসিক চাপ, সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়াতে হবে সঞ্চালককে। সেই জায়গাতেই সৌরভের উপস্থিতি এবারের শোকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।এই খেলায় ব্যাট হাতে রান করার সুযোগ নেই। নেই প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ে নেওয়ার সুবিধাও। বরং একই ছাদের নীচে থাকা একাধিক মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সমীকরণই হয়ে উঠবে মূল আকর্ষণ। কে বন্ধুত্বকে কাজে লাগাবেন, কে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন, কে চাপের মুহূর্তে ভুল করবেন, সেটাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।শোয়ের নির্মাতারা প্রতিযোগীদের পরিচয় নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া জগতের একাধিক নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা জানার জন্য দর্শকদের নজর থাকবে আজকের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে।স্টার জলসা এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচারিত হবে এই নতুন অধ্যায়। ফলে আজ রাত থেকেই বোঝা যাবে, দাদা কি পারবেন ক্রিকেটের মাঠের মতোই টেলিভিশনের এই জটিল খেলাতেও নিজের ছাপ রাখতে? উত্তর খুঁজতেই আজ পর্দার সামনে বসবে বাংলা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেওয়ালে লেখা ছিল বিতর্কিত স্লোগান, রাত পেরোতেই সব সাদা! যাদবপুরে হঠাৎ কেন বদলে গেল ছবি?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগান লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু লেখা ছিল, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। শুক্রবার যাদবপুরের আট বি এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের লেখালিখির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তার পরের রাতেই কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হয়।যাদবপুরের মুক্তমঞ্চের দেওয়ালে আগে একাধিক রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি লেখায় সশস্ত্র হিংসার পক্ষে বক্তব্য এবং মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ। সেই লেখাগুলি ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।ভারতীয় জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে নানা ধরনের স্লোগান লেখা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন লেখা থাকার পরেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সংগঠনের এক প্রতিনিধি একটি দেওয়াল দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে কমরেড কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা ছিল। পরে সেই লেখাটিও মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তার পরেই শনিবার রাতে কয়েকটি দেওয়ালে সাদা চুনকাম করতে দেখা যায়।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখা যায়। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লিখছেন, না কি বাইরের কেউ এসে লিখছে, তা সব সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। পড়ুয়াদের লেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি বলে তাঁর দাবি।বিতর্কিত লেখাগুলি কে লিখেছিল, কখন লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাতারাতি কয়েকটি লেখা মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal