• ৩ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Durga Puja

রাজ্য

২৪৯ বছরের ঐতিহাসিক মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়! ১৩ বছর পর বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক ঠিকানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানের পর ফের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার আবহে পুরনো মহাকরণে ফিরতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ছয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই মতোই চলছে সংস্কারের কাজ।১৩ বছর আগে নবান্নে সরেছিল সচিবালয়প্রায় ২৪৯ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং একসময় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৩ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় নবান্নে। এরপর থেকে সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে পুরনো ভবনের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে পুরোপুরি ফেরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকরাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পূজা উৎসবের আগেই কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের দফতরও দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর দফতর তৈরির প্রস্তুতিরাইটার্স বিল্ডিংয়ে যাঁদের দফতর চালু করার প্রস্তুতি চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেনশুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীদিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীঅগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীশঙ্কর ঘোষ পর্যটন মন্ত্রীশারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীঅজয় পোদ্দার পূর্তমন্ত্রীসব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করে ঠিক কবে থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে, তা সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোর আগেই বাংলায় ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি! উত্তর আন্দামানে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ, কোথায় যাবে তারপর?

দুর্গাপুজোর আগে ফের আবহাওয়ার ভোলবদলের ইঙ্গিত। উত্তর আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে পারে এবং দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে।এই আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাতেও পড়তে পারে। মৌসম ভবনের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির মধ্যে ফের বৃষ্টির দাপট বাড়বে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে।কলকাতাতেও আপাতত বৃষ্টির পরিস্থিতি রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের কলকাতা-হাওড়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে এবং মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও রয়েছে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৬ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।আগামীকালও কলকাতা ও হাওড়ায় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। তবে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে নিম্নচাপের গতিপথের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে এবং তার গতিপথ কোন দিকে থাকে, তার উপর বাংলায় বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে।মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হতে চলা নিম্নচাপটি পরবর্তী কয়েক দিনে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সরাসরি বলা যাচ্ছে না যে নিম্নচাপের জেরে গোটা বাংলা ডুবে যাবে বা দুর্গাপুজো ভেস্তে যাবে। তবে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে বৃষ্টির একটি পর্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।ফলে পুজোর আগে আপাতত নজর থাকবে নিম্নচাপের গতিপথের দিকে। নিম্নচাপটি শক্তি বাড়ায় কি না, কোথায় স্থলভাগে প্রভাব ফেলে এবং তার জেরে বাংলায় বৃষ্টির পরিমাণ কতটা বাড়ে, আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে সেই ছবিই আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আর মাত্র ৩০ দিন, তার আগেই ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি! কোন কোন জেলায় কমলা সতর্কতা?

পুজোর আর মাত্র ৩০ দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা রয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে। সেই কারণেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ফের বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে।বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ অন্যান্য জেলাতেও দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও বৃষ্টির হাত থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলবে না।শনিবার বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। তবে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।রবিবারও দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তার আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমতে পারে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। এই ছয় জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। অর্থাৎ সপ্তাহের শুরুতে পুজোর প্রস্তুতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।তবে শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস। ফলে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার উপরও নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

১০০ কেজি সোনার দুর্গা! বাংলার বুকে এবার পুজোর সেরা আয়োজন, সোনার দুর্গাকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ

দুর্গাপুজোয় এবার নজরকাড়া আয়োজন শিলিগুড়িতে। নিউ জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির দাবি, এ বছর তাদের প্রতিমা এবং দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে সাজানো হবে ১০০ কেজি সোনার গয়নায়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোনও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলে দাবি তাঁদের।এবার সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো পা দিতে চলেছে তাদের ৬৪তম বর্ষ। প্রতি বছরই নতুন আকর্ষণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানান, এ বছর দুর্গা প্রতিমা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রতিমাকে ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগে কোনও পুজোয় এত বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বছরের পর বছর নিউ জলপাইগুড়ির গেট বাজার এলাকার কাছে রেলওয়ে ইনস্টিটিউট গ্রাউন্ডে এই পুজোর আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ ওই মাঠকে ক্রিকেট মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। সেই কারণে এ বছর পাশের একটি জমিতে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। জমিটি নিউ জলপাইগুড়িতে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের কাছেই অবস্থিত।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা সংস্থা প্রতিমার জন্য প্রয়োজনীয় সোনার গয়না সরবরাহ করবে। এত বিপুল পরিমাণ সোনা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজো প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি প্যান্ডেলে মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।দর্শনার্থীদেরও প্রতিমার খুব কাছে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমার প্রায় আট ফুট আগে ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সশস্ত্র রক্ষীদেরও মোতায়েন করা হবে।পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সোনার গয়না সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুজোর দিনগুলিতে গোটা এলাকা সিসিটিভির নজরদারিতে রাখা হবে। ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সজ্জিত দুর্গা প্রতিমা ও দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে দেখতে এবার শিলিগুড়ির এই পুজোয় বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতে যাওয়া ক্লাবকে কালনা থানার অসহযোগিতা, ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়েই এ বছর সরকারি পুজো অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট থানায় সম্মতিপত্র জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ ক্লাব কর্তৃপক্ষের।গত ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর জন্য আর্থিক ভাবে দুর্বল ছোট পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে যেসব ক্লাব বা সংগঠনের আর্থিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তাঁদের অনুদান না নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।উল্লেখ্য, পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব ২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই অনুদান নেয় না। পূর্ব বর্ধমান জেলার একমাত্র ক্লাব হিসেবে সেই সময় প্রত্যাখ্যান করেছিল। এবার নতুন সরকারের নতুন ব্যবস্থাপনা। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সম্ভাব্য বরাদ্দযোগ্য অনুদান মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে রাখতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুনঃ ইডেনে মোদীর জন্য হোম ড্রেসিংরুম, শুভেন্দুর অ্যাওয়ে! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন এই ঘোষণার পর পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের পক্ষ থেকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্লাবের বক্তব্য, নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়ে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অনুদান প্রত্যাখ্যানের কথা জানাতে চেয়েছিলেন তাঁরা।ক্লাবের সম্পাদক সৌমেন ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়ে আমরা এ বছর সরকারি অনুদান নেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানায় সম্মতিপত্র দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কালনা থানা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।ক্লাবের দাবি, অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয়। বরং নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এবং মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সুযোগকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করতে ইচ্ছুক ক্লাবগুলিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন জানানোর কথা বলা হয়েছিল বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি। সেই প্রক্রিয়া মেনেই আবেদন জানাতে গিয়ে তা গ্রহণ না করায় এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অনুদান না নিতে চাওয়া ক্লাবগুলির আবেদন গ্রহণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিক কী প্রশাসন ঠিক করুক।পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের এই অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় এবং প্রশাসনের কাছে তাঁদের আবেদনটি নিয়ম মেনে গ্রহণ করার প্রত্যাশা করছেন।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

ইডেনে মোদীর জন্য ‘হোম’ ড্রেসিংরুম, শুভেন্দু'র ‘অ্যাওয়ে’! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন

কলকাতা: ইডেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে তৎপরতা। সূত্র মারফত জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ইডেন গার্ডেন্সের হোম ড্রেসিংরুমযে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করে ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য রাখা হবে অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম। দুই ড্রেসিংরুমের মাঝখানের মাঠে যাওয়ার কমন পথটিও থাকবে ব্যবহারের উপযোগী।দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থার হাতেই থাকছে ড্রেসিংরুম দুটির সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। ড্রেসিংরুমে আহার-সহ আপ্যায়নের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ড্রেসিংরুমের সামনের লনেই।মাঠের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য মাঠের ভিতরে প্রায় ১২ ফুট জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘাসের ক্ষতি না করেই যাবতীয় কাজ করার পরিকল্পনা। সামান্য বদল আসতে পারে শুধু ঘাসের রঙে।অনুষ্ঠান চলাকালীন গল্ফ কার্টে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চের উপর থাকবে ছাউনি। ইডেনের বিভিন্ন ব্লকে চেয়ার সরিয়ে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ইডেন উদ্যান থেকে আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন প্রায় ১০ হাজার সাংস্কৃতিক শিল্পী। তাঁদের পারফরম্যান্সের জন্য ইডেনের উল্টো দিকে থাকা মাঠ এবং নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া ব্যবস্থা। ৯ অক্টোবর অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় ইডেনের ক্লাব হাউস কার্যত সিল করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ সেখানে থাকবেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ক্লাব হাউসের গতিবিধিতে থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ। গোটা অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।এদিকে, ক্লাব হাউসে সিএবির আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পাঁচ অফিস বেয়ারার, সিইও এবং সিএও যাতে ক্লাব হাউসে থাকতে পারেন, তার জন্য এসপিজির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্তত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ রাখা হয়েছে।সিএবির অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের জন্যও বিশেষ বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়েছে। অন্তত প্রতিটি ক্লাব থেকে দুজন করে যাতে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল তৈরির কাজ থেকে শুরু করে নৈশালোকের বন্দোবস্তসব ক্ষেত্রেই সিএবির তরফে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ইডেনের ১৪ নম্বর গেটের কাছে কনফারেন্স রুমে অস্থায়ী অফিস তৈরি করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসা তারকা শিল্পীদের সেখানে অথবা কর্পোরেট বক্সে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।ইডেনের সাজসজ্জা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই পরিদর্শনে আসবে পূর্ত দফতর (PWD)। মাঠ, মঞ্চ, নিরাপত্তা এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাসব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।সব মিলিয়ে ক্রিকেটের বাইরের এক অন্য ভূমিকায় এবার সেজে উঠতে চলেছে ইডেন গার্ডেন্স। ক্রিকেটের নন্দনকাননেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে হতে চলেছে এক বর্ণময়, বিশাল আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলে এবার ‘দুর্গাপুজো’ লিখতেই হবে! বিধানসভা থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে এ বার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্ম বা গেরুয়া সংস্কৃতির বিরোধিতা করা হলে আগামী দিনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পুজোর সময় মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল নিয়েও আপত্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় কোনও বইয়ের স্টল করতে হলে সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি লেখা থাকা উচিত। শারদোৎসব লিখে স্টল করার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। পুজো কমিটিগুলিকেও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অধ্যাপক এবং তথাকথিত বামপন্থীরা সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা বেছে বেছে গেরুয়া সংস্কৃতিকে নিশানা করেন। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা যে বইয়ের স্টল করেন, সেখানে দুর্গাপুজো না লিখে শারদোৎসব লেখা থাকলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়।এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান না বলে বাঙালির সার্বিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা রয়েছে। বাম আমলে দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব শব্দের ব্যবহারও বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।২০১১ সালের আগে রাজ্যে পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল বেশ পরিচিত ছবি ছিল। লাল কাপড়ে মোড়া সেই স্টলে মার্কসীয় সাহিত্য, বিভিন্ন পত্রিকা এবং রাজনৈতিক বই বিক্রি করা হত। পুজোর ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল এই ধরনের স্টলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হয়।তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ছবি অনেকটাই বদলে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ পুজোমণ্ডপের বাইরে আগের মতো বড় আকারে বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায় না। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় এখনও এই ধরনের স্টল বসে। সেখানেই মার্কসীয় সাহিত্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পত্রপত্রিকা বিক্রি করা হয়।বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাস এলাকায় মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে পুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানোর সূচনা হয়েছিল বলে বাম শিবিরের তরফে জানানো হয়। সেই ঐতিহ্য এখনও কিছুটা ধরে রাখা হয়েছে। পার্ক সার্কাস-সহ কয়েকটি এলাকায় পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায়।মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বই বিক্রির বিরোধিতা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, দুর্গাপুজোর সময় যে স্টল বসানো হচ্ছে, সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ পুজোকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে দেখানোর পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কেও স্বীকার করতে হবেমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এমনই বার্তা উঠে এসেছে।এই মন্তব্যের পর দুর্গাপুজো, শারদোৎসব শব্দের ব্যবহার এবং পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলতিনটি বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে পুজোর সময় বইয়ের স্টল নিয়ে কোনও নতুন নিয়ম তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

চিনুন একটুকরো অচেনা বাংলাকে! রইল দুর্গাপুজোয় মন ভাল করা সেরা ৫ অফবিট ট্রাভেল ডেস্টিনেশন

দুর্গাপুজোর ছুটি মানেই বাঙালির বেড়ানোর পরিকল্পনা। দিঘা, পুরী কিংবা দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে প্রতি বছরই পুজোর সময় উপচে পড়ে ভিড়। ফলে পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন কাটানোর সুযোগ অনেক সময়ই মেলে না। তাই এবার যদি ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতি, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য উপভোগ করতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি তুলনামূলক অফবিট গন্তব্য। রইল এমনই পাঁচ জায়গার হদিশ।দাওয়াইপানি, দার্জিলিংদার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম দাওয়াইপানি। পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে এই গ্রাম থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম প্যানোরামিক দৃশ্য। দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোয় পাহাড়ের রং বদলে যাওয়ার দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।জঙ্গলঘেরা পরিবেশ, নিরিবিলি সকাল এবং পাহাড়ি পথে হাঁটার সুযোগসব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য দাওয়াইপানি হতে পারে আদর্শ ঠিকানা।কলকাতা থেকে প্রায় ৬২৪ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ি গ্রাম। ট্রেনে গেলে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনে নেমে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিতে হয়। বিমানপথে নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা। দাওয়াইপানিতে বেশ কিছু হোমস্টে রয়েছে। সেখানে প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া মিলিয়ে মাথাপিছু প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।বাগুরান জলপাই, পূর্ব মেদিনীপুরদিঘা বা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাগুরান জলপাই হতে পারে ভালো বিকল্প। কাঁথি মহকুমার এই তুলনামূলক কম পরিচিত সমুদ্রসৈকত ঘিরে রয়েছে সবুজ ঝাউবন। সৈকতে প্রায়ই দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার।ভোরের শান্ত পরিবেশে সমুদ্রের ধারে হাঁটা কিংবা বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগসব মিলিয়ে নিরিবিলি সমুদ্রভ্রমণের জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। রাতে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ।কলকাতা থেকে বাগুরান জলপাইয়ের দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। হাওড়া থেকে ট্রেনে কাঁথি গিয়ে সেখান থেকে টোটো বা অটো করে পৌঁছনো যায়। সৈকতের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সাধারণ রিসর্ট ও হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ৮০০ থেকে ১,৮০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা।বরন্তি, পুরুলিয়াপাহাড়, জলাশয়, জঙ্গল এবং আদিবাসী সংস্কৃতির স্বাদ একসঙ্গে পেতে চাইলে পুরুলিয়ার বরন্তি হতে পারে পুজোর ছুটির অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিহারীনাথ ও পাঞ্চেত পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মুরাডি লেক।পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা জলাশয়ের ধারে সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ঘুরে দেখা যায় অযোধ্যা পাহাড়। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। সময় ও সুযোগ থাকলে ছৌ নৃত্যের অনুষ্ঠানও উপভোগ করা যেতে পারে।কলকাতা থেকে বরন্তির দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। ট্রেনে আসানসোল পৌঁছে সেখান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কপথে বরন্তি যাওয়া যায়। এলাকায় রয়েছে ইকো-রিসর্ট ও গ্রামীণ হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু প্রায় ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মাথাপিছু আনুমানিক খরচ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।কোচবিহার রাজবাড়িপুজোর ছুটিতে প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও বাংলার ঐতিহ্য উপভোগ করতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে কোচবিহার। কোচবিহার রাজবাড়িকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যও বহু পুরনো। ফলে কলকাতার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে বাংলার প্রাচীন পুজোর রীতি ও রাজপরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিলবে।রাজবাড়ির পাশাপাশি ঘুরে দেখা যেতে পারে প্রাচীন মদনমোহন মন্দির। সময় হাতে থাকলে কাছাকাছি ডুয়ার্সের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ঘুরে আসা যায়।কলকাতা থেকে কোচবিহারের দূরত্ব প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার। ট্রেনে সরাসরি কোচবিহার স্টেশনে পৌঁছনো সম্ভব। বিমানপথে বাগডোগরা গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে কোচবিহার যাওয়া যায়। পর্যটকদের জন্য রয়েছে পর্যটন লজ, হোমস্টে ও বাজেট হোটেল। প্রতি রাতে মাথাপিছু প্রায় ১,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মোট খরচ আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা হতে পারে।টাকি, উত্তর ২৪ পরগনাপুজোর ছুটিতে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিও হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। ইছামতী নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই শহরের দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ বিজয়া দশমীর বিসর্জন।দশমীর দিন ইছামতী নদীতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিমা কাছাকাছি সময়ে বিসর্জন দেওয়ার দৃশ্য দেখতে প্রতি বছরই বহু মানুষের সমাগম হয়। প্যান্ডেল বা আলোর চাকচিক্যের বদলে এই ঐতিহ্যবাহী বিসর্জনই টাকির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।কলকাতা থেকে টাকির দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। লোকাল ট্রেনে টাকি রোড স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায়। সড়কপথেও রয়েছে যোগাযোগের সুবিধা। থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের লজ, নদীর ধারের রিসর্ট এবং বাজেট হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ১,২০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মাথাপিছু মোট খরচ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।পুজোর ছুটিতে এবার একটু অন্যরকম ভ্রমণদুর্গাপুজোর ছুটিতে একই পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়ের মধ্যে সময় কাটানোর বদলে এবার চাইলে বেছে নিতে পারেন এই পাঁচ গন্তব্যের যে কোনও একটি। দাওয়াইপানিতে পাহাড় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা, বাগুরান জলপাইয়ে সমুদ্র, বরন্তিতে পাহাড়-জঙ্গল ও জলাশয়, কোচবিহারে ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা টাকিতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিসর্জনপুজোর ছুটিতে মিলতে পারে একেবারে ভিন্ন ধরনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
দেশ

দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে নতুন বিস্ফোরণ! বাগেশ্বর বাবাকে কী বললেন পরমাত্মানন্দ?

দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক থামার নাম নেই। এবার তাঁকে তীব্র আক্রমণ করলেন পরমাত্মানন্দজী মহারাজ। তাঁর দাবি, কে কী পরবেন, কীভাবে চলবেন বা কী খাবেন, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার বাগেশ্বর বাবার নেই।বাগেশ্বর বাবাকে বাচাল ছেলে বলেও কটাক্ষ করেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তাঁর কথায়, বাঙালির খাবার নিয়ে এভাবে নির্দেশ দেওয়া এক ধরনের অসভ্যতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালি নিজের পছন্দমতো মাছ-মাংস খাবেন। তাঁর বক্তব্য, পুজোর কয়েক দিন বাঙালি কচি পাঠার ঝোল, ইলিশ মাছের ভাপা, মাছের কাটলেট বা মাংসের নানা পদ খেতেই পারেন। দেবতাকে মাছ-মাংস দিয়ে ভোগ দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।পরমাত্মানন্দ মহারাজের আরও দাবি, অন্য রাজ্যের মানুষকে বাগেশ্বর বাবা নিজের মতো করে ধর্মের কথা বলতে পারেন। কিন্তু বাঙালিকে সেইভাবে বোঝাতে গেলে বাঙালি তা মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য, শাস্ত্রে দেবীকে মদ্য মাংস বলি প্রিয়া বলা হয়েছে। তাই বাঙালির ধর্মীয় রীতি ও খাবারের সংস্কৃতিকে অন্য জায়গার নিরামিষ ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়।বাগেশ্বর বাবার আমিষবিরোধী মন্তব্যের প্রসঙ্গে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মোবাইলের আলো জ্বেলে তাঁরা পরমাত্মানন্দ মহারাজের বক্তব্যকে সমর্থন করেন বলে জানানো হয়েছে।এই বক্তব্যের মধ্যেই সিপিএমকেও কটাক্ষ করেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, রাজ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম শাসনের শেষের দিকেও ব্রিগেড সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মানুষের সেই উপস্থিতি সত্ত্বেও পরে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাগেশ্বর বাবাকেও কটাক্ষ করেন। তাঁকে হনু বাবা বলেও মন্তব্য করেন মহারাজ।এর আগে রাজ্য সফরে এসে দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি দাবি করেছিলেন, নবরাত্রির সময়ে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ রান্না করা হয় এবং সেখানে নানা ধরনের খাবার তৈরি হয়, যা তাঁর পছন্দ নয়।এই মন্তব্যের পরেই বাঙালিকে পাখণ্ডী বা ভণ্ড বলেও আক্রমণ করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা বলে অভিযোগ। আমিষভোজীদের বহিষ্কার করার বার্তাও তিনি দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে বিজেপির একাধিক নেতাও জানান, ওই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত। অন্যদিকে, বাঙালির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার নতুন করে উত্তাপ ছড়াল পরমাত্মানন্দ মহারাজের মন্তব্যে। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বাঙালির নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় রীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আগেই বড় ঘোষণা! আন্দোলনে নামার আগেই ২০ শতাংশ বোনাস চা শ্রমিকদের, বদলে গেল ডুয়ার্সের ছবি

পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য পুজোর আগে বড় ঘোষণা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের দাবিতে যে আন্দোলনের ছবি দেখা যেত, এ বার তার আগেই স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের মধ্যে।চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে প্রতি বছরই পুজোর আগে টানাপড়েন তৈরি হয়। কোথাও গেট মিটিং, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের দাবি জানাতে দেখা যায় শ্রমিকদের। বোনাস ঘোষণা হওয়ার পরেও টাকা পাওয়া নিয়ে দেরি বা টালবাহানার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন সময়ে। ফলে পুজোর আগে বোনাস নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা থেকেই যায়।এ বার অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। পুজো আসার বেশ কিছুটা আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হয়েছে। ফলে আন্দোলনে নামার আগেই বোনাসের খবর পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন চা শ্রমিকেরা। পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানে তিন লক্ষেরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।জলপাইগুড়ি জেলাতেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলির শ্রমিকদের কাছে পুজোর বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বছরের এই সময় বোনাসের টাকাতেই বহু পরিবার পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে সংসারের নানা প্রয়োজন মেটায়।শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, বোনাসের টাকা হাতে এলে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারবেন তাঁরা। নিজেদের জন্যও নতুন জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি পুজোর কয়েক দিন পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। অনেকের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। বোনাসের টাকা দিয়ে সেই কাজও সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অনেক পরিবারের।চা শ্রমিকদের বক্তব্য, প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের জন্য আন্দোলন করতে হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা থাকত। এ বার আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। আন্দোলনে নামার আগেই দাবি মিটতে চলায় খুশি তাঁরা।এর মধ্যেই চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কালিম্পঙে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর কপ্টার সেখানে নামতে পারেনি। পরে উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়ালি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানা গিয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর আগে ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা চা শ্রমিকদের কাছে বড় স্বস্তির খবর। বোনাসের টাকায় নতুন পোশাক কেনা, পুজোর বাজার করা, পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা এবং ঘরদোর মেরামতের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। ফলে পুজোর আগে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে এ বার আন্দোলনের বদলে উৎসবের প্রস্তুতির ছবিই বেশি চোখে পড়ছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

পালাবদলের পর প্রথম পুজোতেই বড় ঘোষণা! ক্লাবগুলিকে কত টাকা অনুদান, হবে কি কার্নিভ্যাল?

পালাবদলের পর বাংলায় এ বার প্রথম দুর্গাপুজো। তাই পুজো কমিটিগুলির অনুদান, পুজোর উদ্বোধন এবং কার্নিভ্যাল হবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই নানা জল্পনা ছিল। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পরেই দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুজোর জন্য বিদ্যুৎ এবং দমকলের কোনও খরচ দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। অনুদানের জন্য কী ভাবে আবেদন করতে হবে, সেই বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির জন্য আলাদা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, আর্থিক ভাবে সক্ষম বড় পুজো কমিটিগুলি যেন সরকারি অনুদান না নেয়। সেই সব কমিটিকে তিনি ধন্যবাদ জানাবেন বলেও জানান।এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে প্রতি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। পরবর্তী সময়ে সেই অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। পালাবদলের পর এ বার অনুদানের পরিমাণ নিয়ে তাই বিশেষ নজর ছিল পুজো উদ্যোক্তাদের।পুজোর উদ্বোধন নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েক বছর ধরে মহালয়ার আগেই বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এ বার মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।এ বার আর দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালও হবে না। তার বদলে সরকারের তরফে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক ক্ষেত্রে বদল আসতে চলেছে।বিসর্জন নিয়েও এ দিন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পুজো কমিটিগুলির অনুদান থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ, পুজোর উদ্বোধন, কার্নিভ্যাল এবং বিসর্জনএকাধিক বিষয়ে সোমবারের বৈঠক থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

‘বাঙালিকে কেউ বলে দেবে না কী খেতে হবে’, দুর্গাপুজোর আমিষ বিতর্কে বাগেশ্বর বাবাকে কী বললেন শমীক?

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া বন্ধ করার আবেদন করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা ও বিতর্ক। এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।শমীকের বক্তব্য, বাঙালি কী খাবেন আর কী খাবেন না, সেই সিদ্ধান্ত বাঙালিই নেবেন। অন্য কোনও রাজ্য থেকে কেউ এসে বাঙালিকে তার খাবার নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন না বলেই মত তাঁর। একই সঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।শমীক বলেন, নবমীতে বাঙালি পাঁঠার মাংস খায়, অষ্টমীতে লুচি খায়। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা নিজের মতামত জানাতেই পারেন। তাঁর অনেক ভক্ত রয়েছেন এবং তিনিও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাঁর বক্তব্য মানবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের নিজেদের বিষয়।শমীকের কথায়, কেউ নিরামিষ খাওয়ার প্রচার করতেই পারেন। চিকিৎসকেরাও অনেক সময় নিরামিষ খাবারের উপকারিতা নিয়ে পরামর্শ দেন। কিন্তু নিজের বাড়িতে কে কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত কোনও সাধু বা রাজনৈতিক দল ঠিক করে দিতে পারে না।দুর্গাপুজোয় বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে শমীক প্রশ্ন তোলেন, বাঙালি কি মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেবেন? এই প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে বাগেশ্বর বাবা সরাসরি কোনও নির্দেশ দেননি বলেও উল্লেখ করেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবা শুধু আবেদন করেছেন। সেই আবেদন গ্রহণ করবেন কি না, তা বাংলার মানুষের সিদ্ধান্ত।বাগেশ্বর বাবা নিজেকে ধর্মগুরু হিসেবে পরিচিত করেন এবং তাঁর সারা দেশে বহু ভক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি বাংলায় তাঁর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকেই দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপের আশপাশে মাছ-মাংস না খাওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি।সেই বক্তব্যের পরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। কেউ তাঁর আবেদনের পক্ষে মত দেন, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন বাঙালির দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। এবার সেই বিতর্কেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বার্তা, দুর্গাপুজোয় বাঙালি কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাঙালিই নেবেন।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
উৎসব

ন্যাচারাল সিটিতে সাবেকিয়ানার আবাহন, মহিলা পুরোহিতের পৌরোহিত্যে দুর্গাপুজোর অভিনব উদ্যোগ

বর্ধমান: বহুতলের আধুনিক জীবনযাত্রার মাঝেও শিকড়ের টান অমলিন। শহুরে ব্যস্ততার আবরণ সরিয়ে বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা এবং উৎসবের আবেগকে ছুঁয়ে দেখতে এবার অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছে বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজ রোডের ন্যাচারাল সিটি আবাসন। ২০২৬ সালে আবাসনের একাধিক পুজোর বদলে সকলকে এক ছাতার তলায় এনে আয়োজিত হচ্ছে একটি মাত্র সর্বজনীন দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোর মূল ভাবনা সাবেকিয়ানা।এবার ন্যাচারাল সিটি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজো পা দিচ্ছে অষ্টম বর্ষে। আনুমানিক ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বাজেটের এই পুজোয় আবাসনের প্রায় ২২০টি পরিবার সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। তবে এই পুজো শুধুমাত্র দেবীর আরাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস, সম্প্রীতির বার্তা এবং নারীশক্তির উদযাপন।সাবেকি জমিদারবাড়ির আবহে দেবীর আরাধনাএবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ গ্রামীণ বাংলার জমিদারবাড়ির সাবেকি দুর্গাপুজোর আদলে আয়োজন। আধুনিক আবাসনের পরিসরেই তৈরি হবে সেই চেনা আবহযেখানে পুজোর আড়ম্বরের চেয়ে গুরুত্ব পাবে রীতি, ঐতিহ্য ও আবেগ।সনাতন রীতিনীতি মেনে হবে দেবীর আরাধনা। প্রতিমাতেও থাকবে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। সাবেকি মূর্তি এবং ডাকের সাজে সেজে উঠবেন মা দুর্গা। আধুনিকতার ঝলমক নয়, বরং বাংলার চিরপরিচিত পুজোর স্মৃতি ও নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে গোটা আয়োজনজুড়ে।তবে এবারের পুজোর সবচেয়ে অভিনব দিক নিঃসন্দেহে মহিলা পুরোহিতদের পৌরোহিত্য। বর্ধমান শহরে মহিলা পুরোহিতদের দিয়ে দুর্গাপুজো পরিচালনার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। পুজো কমিটির ভাবনা নারী শক্তির উদয় হোক। পুরুষতান্ত্রিকতার প্রচলিত ধারণাকে পাশে সরিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও নারীর সমান অধিকার ও সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায় কমিটি।বহুতলে থাকলেও নজর সবসময় মাটির দিকেশারদ পত্রিকা উপ-কমিটির কনভেনর সুদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা আধুনিক নিশ্চয়ই হয়েছি, কিন্তু ঐতিহ্য বা সাবেকিয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারি না। আমরা যতই বহুতলে থাকি না কেন, আমাদের নজর থাকে সবসময় মাটির দিকে।মহিলা পুরোহিতদের পৌরোহিত্য প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, পুজো মানেই পুরুষ পুরোহিতএই পুরুষতান্ত্রিক ধারণার বিরুদ্ধে একটা বার্তা দিতে চাই আমরা। মহিলারাও পারেন, এই স্পিরিটটাকে সামনে আনতেই এবার মহিলা পুরোহিতদের দিয়ে পুজো করানোর সিদ্ধান্ত।শুধু পুরোহিতের ক্ষেত্রেই নয়, পুজোর আয়োজক কমিটিতেও রয়েছে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আবাসনের মহিলাদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পুজো কমিটি। অর্থাৎ দেবীর আরাধনার পাশাপাশি বাস্তবেও নারীশক্তির উত্থানকে সামনে আনতে চাইছে ন্যাচারাল সিটি।এক আবাসন, এক পুজোঐক্যের নতুন বার্তাঅন্যান্য বছর ন্যাচারাল সিটি আবাসনে একাধিক দুর্গাপুজোর আয়োজন হলেও ২০২৬ সালে সেই ছবি বদলেছে। এবার সমস্ত বিভাজন ভুলে আবাসনের পরিবারগুলিকে একত্রিত করে একটি মাত্র সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের মধ্যেও রয়েছে সাবেকিয়ানার মূল বার্তাবৈচিত্র্যের মধ্যে একতা। ভিন্ন মত, ভিন্ন পছন্দ কিংবা ভিন্ন পারিবারিক পরিসরকে অতিক্রম করে উৎসবের আনন্দে সবাইকে একত্রিত করাই এই পুজোর অন্যতম লক্ষ্য।মিডিয়া কমিটির সেক্রেটারি সন্দীপন ঘোষ জনতার কথাকে জানান, এবারের পুজোর থিম সাবেকিয়ানা, যার মূল বার্তা বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা। তাঁর কথায়, পুরোপুরি সনাতনী রীতিনীতি মেনে সাবেকি প্রতিমা এবং ডাকের সাজে সাজবে মা দুর্গা।তিনি জানান, পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে পঞ্চমী থেকে। পুজোর প্রতিটি দিনই আবাসিকদের জন্য থাকবে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। সন্ধ্যা নামলেই আবাসন চত্বর হয়ে উঠবে নাচ, গান, নাটক-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। আবাসনের বাসিন্দারাই এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ফলে উৎসবের আনন্দ যেমন থাকবে, তেমনই আবাসিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধনও আরও দৃঢ় হবে।উৎসবের মধ্যে পুজো নয়, পুজোর মধ্যে উৎসবএই পুজোর সঙ্গে প্রকাশিত হতে চলেছে একটি শারদ পত্রিকাও। নাম অর্ঘ। আবাসনের বাসিন্দাদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হবে এই পুস্তিকা। তাঁদের ভাবনা, লেখনী, স্মৃতি এবং অনুভূতির মধ্য দিয়ে পুজোর আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।পুজো কমিটির বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি সুন্দর দর্শন উৎসবের মধ্যে পুজো নয়, পুজোর মধ্যে উৎসবকে খুঁজে নেওয়া। অর্থাৎ দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, স্মৃতি, সংস্কৃতি, আনন্দ এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণকেই উৎসবের আসল সার্থকতা হিসেবে দেখতে চাইছে কমিটি।৪ সেপ্টেম্বর খুঁটিপুজোয় শুভ সূচনাআগামী শারদোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট ২০২৬ থেকেই। আর পুজোর প্রারম্ভিক সূচনা হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর, জন্মাষ্টমীর দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে খুঁটিপুজো। সেই থেকেই ধীরে ধীরে সেজে উঠছে ন্যাচারাল সিটি আবাসন।পুজো কমিটির সম্পাদক মলয় কুমার রায়, সচিব আরিজিত দত্ত এবং কনভেনার অনিন্দিতা ব্যানার্জি দত্ত-সহ কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রায় ২২০টি পরিবারের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের পুজো যে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে, তার আভাস মিলছে প্রস্তুতির শুরু থেকেই।আধুনিক বহুতলের আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার মধ্যেও মাটির গন্ধ, পুরনো দিনের স্মৃতি আর বাংলার চিরচেনা পুজোর আবেগকে ফিরিয়ে আনার এই প্রয়াস তাই নিছক একটি থিমের আয়োজন নয়। সাবেকিয়ানার হাত ধরে ন্যাচারাল সিটি যেন খুঁজে নিতে চাইছে তার শিকড়কেআর সেই শিকড়ের সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছে আগামী প্রজন্মকে।নারীর পৌরোহিত্য, সাবেকি প্রতিমা, ডাকের সাজ, জমিদারবাড়ির পুজোর আবহ এবং ২২০ পরিবারের সম্মিলিত অংশগ্রহণসব মিলিয়ে বর্ধমানের শারদোৎসবের মানচিত্রে এবার আলাদা করে নজর কাড়তে চলেছে ন্যাচারাল সিটির এই সাবেকিয়ানার দুর্গাপুজো।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোর আগেই আলোচনায় চোরবাগান! একই পুজোয় দু'বার খুঁটিপুজো কেন?

রথযাত্রার পর থেকেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু পুজো কমিটি খুঁটিপুজো সেরে ফেলেছে। তবে কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী পুজো এবার অন্য কারণে আলোচনায়। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় একই বছরে দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।পুজো কমিটির বর্তমান সম্পাদক রাজকুমার সেওদার দাবি, কয়েক বছর আগে ক্লাব সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় পুরসভার জমি দখল করে ক্লাব তৈরি করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিস দেওয়া হলেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই কাঠামো ভাঙার জন্য নোটিস জারি করা হয় বলে তাঁর দাবি।রাজকুমার সেওদার আরও দাবি, সেই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথম খুঁটিপুজো করা হয়েছিল। তবে তাঁর মতে, প্রচলিত নিয়ম মেনে সেই খুঁটিপুজো হয়নি। সাধারণত নির্দিষ্ট দিক মেনে খুঁটিপুজো করা হয়। শিল্পীর পরামর্শ এবং ধর্মীয় নিয়ম মেনে তাই নতুন করে দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বর্তমান পুজো কমিটির আরও অভিযোগ, প্রথম খুঁটিপুজোর সময় মণ্ডপের দেওয়ালে এমন কিছু চিত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই অভিযোগের জন্য তাঁরা আগের কমিটির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।এবার পুজো কমিটিতে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন শিল্পী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুশান্ত শিবানী পাল। মণ্ডপের মূল ভাবনা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের আশা, এ বছরের আয়োজনও কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আগেই বেতন, সঙ্গে ২০% অতিরিক্ত ডিএ! উৎসবের মরশুমে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় সুখবর

পুজোর আনন্দের আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা। উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই অক্টোবর মাসের বেতন হাতে পাওয়ার পাশাপাশি মিলবে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)। মঙ্গলবার ভবানী ভবনে আয়োজিত এক সরকারি কর্মসূচিতে এমনই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত ডিএ পাওয়ার কথা ছিল নভেম্বর মাসে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় সেই সময়সীমা এগিয়ে আনার ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, পুজোর মাসে উৎসবের আগেই সরকারি কর্মচারীদের হাতে পৌঁছতে পারে অক্টোবরের বেতন এবং ঘোষিত অতিরিক্ত ডিএ।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই অর্থসচিব এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁর নির্দেশ, পুজোর মাসে যাতে কর্মচারীরা উৎসবের আগেই অক্টোবর মাসের বেতন পান এবং একই সঙ্গে ঘোষিত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ-ও তাঁদের দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার যে ব্যবধান রয়েছে, তা একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সেই ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের এই ব্যবধান একদিনে মেটানো সম্ভব নয়, তবে কর্মচারীদের বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে।চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ বলে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে নভেম্বর মাসে বর্ধিত ডিএ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মঙ্গলবারের ঘোষণায় সেই অর্থপ্রদানের সময় এগিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ফলে পুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হাতে একসঙ্গে বেতন ও বর্ধিত ডিএ পৌঁছলে উৎসবের মরশুমে তাঁদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোর আগে বাড়তি খরচের সময়ে এই অতিরিক্ত অর্থ কর্মচারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তবে শুধু ডিএ নয়, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিবেতন কমিশন নিয়েও এদিন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য রাজ্যে অষ্টম বেতন কমিশন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও রাজ্যে এখনও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়নি। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের রিপোর্ট সরকারের হাতে এলেই তা কার্যকর করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে একদিকে পুজোর আগেই অক্টোবরের বেতন ও ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার আশ্বাসদুই ঘোষণাকে ঘিরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন নজর থাকবে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পুজোর আগেই বেতন ও বর্ধিত ডিএ প্রদানের বিষয়ে অর্থ দফতর কী নির্দেশিকা জারি করে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা! কারা পাবেন টাকা, কারা পাবেন না জানালেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে এবার অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। গত বছর সেই অনুদানের পরিমাণ ছিল এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন সরকারের আমলেও কি সেই অনুদান চালু থাকবে?এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, যেসব ক্লাব আর্থিক সমস্যার কারণে পুজো আয়োজন করতে অসুবিধায় পড়ে, মূলত তাদেরই সাহায্য করা উচিত। যেসব বড় ক্লাবের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নাও হতে পারে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁদের সত্যিই অর্থের প্রয়োজন, তাঁরাই অনুদান পাবেন। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। ফলে এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এ বছর রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর আশা। সেই কারণেই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবে।উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর অনুদান চালু হয়েছিল দুই হাজার আঠারো সালে। তখন প্রতিটি ক্লাবকে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত গত বছর তা বেড়ে এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। পুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ক্লাব প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে অনুদানের ঘোষণা করা হত। নতুন সরকারের আমলে সেই প্রথা বজায় থাকবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপূজার অনুদানে আমূল বদল! ‘সবার জন্য নয়’, নতুন নীতির ইঙ্গিত শুভেন্দুর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে আগের মতো সমস্ত পুজো কমিটিকে এক ছাঁচে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসতে চলেছে সরকার।শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকার আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করতে চায়। সেই কারণেই দুর্গাপূজার অনুদান ব্যবস্থার উপর শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপূজার অনুদান প্রতি বছরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০২৫ সালে রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপূজা কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তার আগের বছর এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, ফায়ার লাইসেন্সের ফি মকুব এবং একাধিক প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল পুজো কমিটিগুলিকে।তবে নতুন সরকার সেই মডেলকে পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর এবং বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুজো কমিটি কর্পোরেট স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের সামর্থ্যে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, তাদের সরকারি অর্থ দেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না, তা সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু যেসব কমিটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে, যাদের এই সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।সরকারি সূত্রে খবর, সম্ভাব্য নতুন নীতিতে পুজো কমিটির আর্থিক অবস্থা, বাজেট, স্পনসরশিপের পরিমাণ এবং স্থানীয় সামাজিক ভূমিকার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে অনুদান পেতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হতে পারে পুজো কমিটিগুলিকে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে যেমন সরকারি ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছে, অন্যদিকে সরকারি সাহায্য প্রকৃত প্রয়োজনমাফিক বণ্টনের বার্তাও দিতে চাইছে। বিরোধীদের মতে, এটি জনপ্রিয় একটি প্রকল্পের পরিধি সংকুচিত করার পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও সরকারের দাবিএটি সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।এখন নজর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আসন্ন বৈঠকের দিকে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় কোন ধরনের কমিটিগুলি সরকারি অনুদানের আওতায় থাকবে এবং নতুন নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক কী হতে চলেছে।কর্পোরেট স্পনসর পাওয়া বড় পুজোগুলির জন্য অনুদান অনিশ্চিত, আর্থিকভাবে দুর্বল কমিটিগুলির পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের।

জুন ১২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

‘মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময়ের থেকে এগিয়ে’—প্রয়াণে আবেগঘন শ্রীলেখা মিত্র

দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার মধ্যে ছিল আধুনিকতা, স্মার্টনেস আর এক আলাদা ফ্রেশনেসমিঠুকে স্মরণ করে লিখলেন শ্রীলেখাবর্ধমান: সত্তর-আশির দশকের বাংলা ছবির পরিচিত মুখ মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলা চলচ্চিত্রমহল। ৭১ বছর বয়সে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ। সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিঠুকে স্মরণ করে তাঁর লেখা দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে উঠে এসেছে এক দর্শকের ব্যক্তিগত মুগ্ধতাযে মুগ্ধতা শুধু অভিনয়ে নয়, মিঠুর পর্দার উপস্থিতি এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্বকে ঘিরেও।শ্রীলেখার কথায়, মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন সময় থেকে এগিয়ে থাকা এক অভিনেত্রী। তাঁর চোখে মিঠুর আকর্ষণ ছিল এমন এক স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বে, যা পর্দায় আলাদা করে নজর কাড়ত। শ্রীলেখা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সত্তরের দশক থেকে আশি এবং নব্বইয়ের গোড়ার দিক পর্যন্ত মিঠু একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। মৌচাক, মর্জিনা আবদুল্লাহ, স্বয়ংসিদ্ধার মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।মিঠুর সৌন্দর্য নিয়েও অকপট শ্রীলেখা। বড় বড় চোখ, সেই চোখের অভিব্যক্তি, শিফন শাড়িতে তাঁর পর্দার উপস্থিতিসব মিলিয়ে মিঠুর মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার পরিচিত ছাঁচের বাইরে থাকা এক আধুনিক মুখ। শ্রীলেখার মতে, সেই সময়ের অনেক অভিনেত্রী যেখানে নির্দিষ্ট একটি ইমেজ-এর মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতেন, সেখানে মিঠু ছিলেন অনেকটাই অন্যরকম।তাঁর ভাষায়, মিঠু যেন সেই সময়ের পর্দায় এক ঝলক fresh airআধুনিক, স্মার্ট, চুলবুলি এবং নিজের মতো করে থাকা এক অভিনেত্রী।শুধু সৌন্দর্য নয়, মিঠুর স্বাভাবিক আকর্ষণকেও বিশেষভাবে মনে করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীতু সিংয়েরও কোথাও একটা মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। দুজনের মধ্যেই ছিল এমন এক effortless charm, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করার প্রয়োজন পড়ত নাস্বাভাবিকভাবেই যা দর্শকের চোখে ধরা দিত।১৯৭২ সালে চিত্ত বসুর শেষ পর্ব ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। এরপর মর্জিনা আবদুল্লাহ, নিশিকন্যা, মৌচাক, স্বয়ংসিদ্ধা, হোটেল স্নো ফক্স-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেন বাংলা ছবিতে। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিকের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন মিঠু।তবে জীবনের পরের পর্বে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগতের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু। মুম্বইয়ে অনেকটাই অন্তরালে কাটছিল তাঁর জীবন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অসুস্থতার পর থেমে গেল সেই জীবনযাত্রা।শ্রীলেখার পোস্টের শেষটুকু তাই হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রিয় অভিনেত্রীকে বিদায় জানিয়ে তাঁর লেখামিঠু মুখোপাধ্যায় তাঁর খুব পছন্দের একজন অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন শ্রীলেখা, পাশাপাশি সমবেদনা জানিয়েছেন মিঠুর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি।পর্দার আলো নিভে গিয়েছে। কিন্তু বড় বড় চোখ, স্বতঃস্ফূর্ত হাসি আর সেই স্বতন্ত্র freshnessস্মৃতির পর্দায় হয়তো আরও অনেকদিন জ্বলজ্বল করবেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

আগামীকাল থেকেই আবহাওয়ার মেগা বদল, তুফানি তান্ডব বাংলা জুড়ে, কোন কোন জেলায় তুমুল বৃষ্টিপাত?

আবারও বদলাতে চলেছে বঙ্গের আবহাওয়া। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।বঙ্গোপসাগরেও তৈরি হতে পারে প্রতিকূল পরিস্থিতি। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই যারা সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে খোলা জায়গায় এবং গাছপালা বা দুর্বল কাঠামোর আশপাশে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের দুই প্রান্তেই আবহাওয়ার উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

উৎসবের মরসুমের পুণ্যার্থীদের জন্য জ্যাকপট, তারাপীঠ যাবেন? বিরাট ঘোষণায় ছক্কা হাঁকাল পূর্ব রেল

উৎসবের মরসুমের আগে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকার ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর দিল পূর্ব রেল। দীর্ঘদিনের দাবির পর শিয়ালদহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ব্যারাকপুরে এবার পরীক্ষামূলকভাবে থামবে ১৩১৮৭/১৩১৮৮ শিয়ালদহরামপুরহাটশিয়ালদহ মা তারা এক্সপ্রেস। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে এই নতুন স্টপেজ কার্যকর হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাটগামী ১৩১৮৭ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ব্যারাকপুর স্টেশনে পৌঁছবে। সেখানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেবে।অন্যদিকে, রামপুরহাট থেকে শিয়ালদহগামী ১৩১৮৮ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে ব্যারাকপুরে পৌঁছবে। এক মিনিটের বিরতির পর বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে শিয়ালদহের উদ্দেশে যাত্রা করবে।এই স্টপেজ চালু হওয়ায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি টিটাগড়, খড়দহ, পলতা-সহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন তারাপীঠ বা বীরভূমের অন্যান্য এলাকায় যেতে হলে অনেক যাত্রীকে প্রথমে শিয়ালদহ যেতে হত। কেউ কেউ নৈহাটি বা ব্যান্ডেল হয়ে সংযোগকারী ট্রেনের উপর নির্ভর করতেন। এবার ব্যারাকপুর থেকেই সরাসরি রামপুরহাটগামী ট্রেন ধরার সুযোগ মিলবে।বিশেষ করে তারাপীঠের মা তারার দর্শনে যাওয়া পুণ্যার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা সুবিধাজনক হবে। এতে যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত খরচ, দুটিই কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।রেল সূত্রে খবর, আপাতত যাত্রীদের চাপ এবং টিকিটের চাহিদা পর্যালোচনা করতে পরীক্ষামূলকভাবে এই স্টপেজ চালু করা হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রী সংগঠন এবং নিত্যযাত্রীদের তরফেও রেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির সঙ্গে দূরপাল্লার যোগাযোগ বাড়ানোই এই ধরনের সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যারাকপুরে মা তারা এক্সপ্রেস-এর স্টপেজ চালু হলে প্রতিদিনের যাত্রীদের পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে তারাপীঠগামী যাত্রীদেরও সুবিধা হবে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

ছেলেকে হারিয়ে শোকে বুকে পাথর চেপে প্রচারে ঝড়! দেড় লাখের বেশি ভোটে জয়ে আত্মবিশ্বাসী ‘ঘরের মেয়ে’ হাসিরানি রথ

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার যত জোরদার হচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। রবিবার প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের কাছে বিজেপির পদ্ম প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানালেন দলের প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি তুলে ধরলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন পর্বত ধারণের প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য, শ্রীকৃষ্ণ যেমন এক আঙুলে গোবর্ধন পর্বত ধারণ করেছিলেন, তেমনই ভোটের দিন ইভিএমে একটি আঙুলের শক্তি দেখাতে হবে।নন্দীগ্রামে প্রচার চলাকালীন বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন হাসিরানি। নন্দীগ্রামকে নিজের বাড়ি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এলাকার মানুষ তাঁকে যেভাবে আপন করে নিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। আগামী ৬ অক্টোবর ভোটের দিন ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানান তিনি।প্রচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিকবার হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি সভা করার অনুমতি পেতেও তাঁকে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন হাসিরানি।এরপরই ৬ অক্টোবরের ভোটকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, ভোটের দিন ইভিএমে একটি আঙুলের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি নেতৃত্ব এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি সমর্থন জানানোর আবেদনও করেন তিনি।নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে ঘরের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন হাসিরানি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে তিনি খুশি বলেও জানান বিজেপি প্রার্থী।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হওয়ার পর ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। বিজেপি, তৃণমূলের দুই শিবির, কংগ্রেস এবং বাম-সহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে প্রচার এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

একসময় পর্দায় ঝড় তুলেছিলেন, তারপর আচমকাই অন্তরালে! প্রয়াত মিঠু মুখোপাধ্যায়

বিনোদন জগতে ফের শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল সাতের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পারিবারিক বন্ধু প্রবীর রায়। তাঁর কথায়, প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। মৃত্যুর সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।অভিনেত্রীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মিঠু মুখোপাধ্যায়ের ছবি ভাগ করে তিনি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর স্মৃতি এবং তাঁর কাজ দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।সাতের দশকের বাংলা সিনেমায় মিঠু মুখোপাধ্যায় ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ১৯৭২ সালে একটি বাংলা ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। এরপর মর্জিনা আবদুল্লা ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। মৌচাক, স্বয়ংসিদ্ধা, নিশিকন্যা-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পরে হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি।মিঠু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সৌন্দর্য ও পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিও দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ছিল। সেই সময় অনেকেই তাঁর সঙ্গে বলিউডের অভিনেত্রী রেখার তুলনা করতেন। বাংলা ছবির দর্শকদের একাংশের কাছে তিনি কলকাতার রেখা নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।তবে জনপ্রিয়তার মধ্যেই ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। পরবর্তী জীবনে তাঁকে খুব বেশি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহলও ছিল দর্শকদের মধ্যে।তাঁর অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও বাংলা সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রেমিকা থেকে শুরু করে প্রাণবন্ত তরুণী, নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।শেষ জীবনে অবশ্য সিনেমার আলো থেকে অনেক দূরে ছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর রবিবার রাতে মুম্বইয়ে তাঁর মৃত্যু হল। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় অধ্যায়ের ইতি ঘটল।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

এসআইআরের জট কাটতে ১২ বছর! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বিস্ফোরক দাবি নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া জট এখনও কাটেনি। এসআইআরের সময় নাম বাদ পড়া এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মোট ৩৮ লক্ষের বেশি আপিল জমা পড়েছে। তার মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান গতিতে কাজ চললে সব আপিলের নিষ্পত্তি করতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজারের মতো আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে এসআইআরে নাম বাদ পড়া ভোটারদের ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮টি আবেদন রয়েছে। তাঁরা ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ফেরানোর আবেদন করেছেন। অন্য দিকে, প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে।এই বিপুল সংখ্যক আপিলের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষের কিছু বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আরও সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছে এবং তাঁদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে, ৮ হাজার ৬৪৯টি আপিলে আবেদনকারীরা হেরে গিয়েছেন।কমিশনের হিসাব বলছে, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। বর্তমান গতিতে মাসে গড়ে প্রায় ২৫ হাজারের কিছু বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। সেই হিসাবেই বাকি আবেদন শেষ করতে ১৪৬ মাসের মতো সময়, অর্থাৎ ১২ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আপিলের শুনানি দ্রুত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের ভিত্তিতে একটি করে ট্রাইব্যুনাল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।শুধু ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো নয়, অনলাইনেও শুনানি করার অনুমতি চেয়েছে কমিশন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যাতে নিজেদের বাসভবন বা অন্য নির্দিষ্ট জায়গা থেকে অনলাইনে শুনানি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংশোধনের কথাও হলফনামায় জানানো হয়েছে।এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল বলে কমিশনের তথ্য। তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষের বেশি ভোটার নিজেদের নাম ফেরানোর জন্য আপিল করেছেন। অর্থাৎ বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশই এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম পুনর্বহালের আবেদন করেছেন।ফলে এখন মূল নজর আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব এবং অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা কার্যকর হলে মামলার গতি কতটা বাড়ে, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের শুনানি এবং ভোটার তালিকায় নাম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ! মমতার মামলায় জরুরি শুনানির আর্জি মেনে নিল সুপ্রিম কোর্ট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সেই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সোমবার বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।নির্বাচন কমিশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং দলের নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকেই আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। তাঁর আবেদনে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিই দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান কপিল সিব্বল।সোমবার আদালতে মামলাটি উল্লেখ করে কপিল সিব্বল কমিশনের সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের প্রক্রিয়া জুন মাসে শুরু হয়েছিল এবং জুলাইয়ে তাঁদের তরফে জবাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সিব্বলের আরও বক্তব্য, নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন বলেও আদালতে জানান।এর পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, মামলাটি তালিকাভুক্ত হলে সব পক্ষই নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবে। আদালত বিষয়টি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করবে বলেও জানানো হয়। অর্থাৎ জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হলেও সেই মুহূর্তে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।এদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর জন্য একটি নতুন নাম ও নতুন প্রতীক এবং অপর গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর করা হয়েছে।ফলে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। মামলাটি কবে তালিকাভুক্ত হয় এবং শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সমর্থন পাওয়ার পরেই গ্রেফতার, এবার হাইকোর্টে মিলন! কী চাইছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী?

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী মামলাটি উল্লেখ করেছেন। আগামীকাল মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা সামনে এসেছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। আদালত মামলাটি শুনে অভিযোগগুলির গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে।মিলন প্রধানের গ্রেফতারিও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানান। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি পুরনো খুনের মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের আরও দাবি, ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন।এ ছাড়াও মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র আইনের মতো ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করে আরও একটি মামলা যুক্ত হওয়ার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন। তাঁর আইনজীবী নির্বাচনের আগে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে কী নির্দেশ দেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একদিকে প্রার্থীর গ্রেফতারি, অন্য দিকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আবেদনদুই ঘটনাতেই নতুন করে নজর পড়েছে এই কেন্দ্রের দিকে। আগামীকাল শুনানি হলে মিলন প্রধানের আবেদনে আদালতের অবস্থান কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal