• ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ২৪ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Death

কলকাতা

স্কটিশ চার্চ কলেজে রহস্যমৃত্যু! হস্টেল থেকে উদ্ধার ছাত্রীর নিথর দেহ

স্কটিশ চার্চ কলেজের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলেজ চত্বরে। মৃত ছাত্রীর নাম ঋষিতা বণিক। তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন এবং কলেজের হস্টেলেই থাকতেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হস্টেল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋষিতার বাড়ি ত্রিপুরায়। গত ২৪ জানুয়ারি হঠাৎই হস্টেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে প্রথমে তাঁকে হস্টেলের সিক রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত আরজি কর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকেরা জানান।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিষক্রিয়ার কারণেই ছাত্রীর মৃত্যু হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হস্টেলের অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। পাশাপাশি, মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।সূত্রের খবর, ঋষিতা বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি কোনও ওষুধ সেবন করেছিলেন বলেও প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। সেই ওষুধ থেকেই বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। তবে যদি খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে, তা হলে অন্য কেউ কেন অসুস্থ হননি, সেই প্রশ্নও উঠছে। সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে স্কটিশ চার্চ কলেজে একটি গুরুতর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশ্লীল বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ওই অধ্যাপক মূলত দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীদের টার্গেট করতেন এবং কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের অনুপযুক্ত বার্তা পাঠাতেন। সেই ঘটনায় পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

খোলা লিফটের গর্তে পড়ে মৃত্যু! তিন বছরের শিশুর মর্মান্তিক পরিণতি কলকাতায়

নির্মীয়মান বহুতলের একটি খোলা লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার হল তিন বছরের শিশুর নিথর দেহ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এন্টালি থানার অন্তর্গত ৪/৫১ কনভেন্ট লেন এলাকায়। বুধবার রাতে ওই এলাকার একটি নির্মীয়মান বহুতলের লিফটের গর্ত থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ।পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। লিফটের গর্ত সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল, তার চারপাশে কোনও ঘেরাটোপ বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এমন একটি বিপজ্জনক জায়গা অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল।সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁরা এই মৃত্যুর বিচার চাইছেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর প্রোমোটারের কাছে বিচার চাইতে গেলে উল্টে শিশুটির বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, থানায় বেশি কিছু বললে বিপদ হতে পারে। এমনকী শিশুর মাকেই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ।এলাকাবাসীদের বক্তব্য, লিফটের গর্ত ঘিরে রাখা থাকলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। তাঁদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার আশায় নির্মীয়মান বহুতলে কোনও নিরাপত্তারক্ষী রাখা হয়নি। নিয়ম মানা হয়নি নির্মাণের ক্ষেত্রেও। তিন বছরের শিশুর মৃত্যুর পর বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে শহরের প্রোমোটার রাজ।এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ নেয়নি পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। যদিও এলাকার মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শিশুর মৃত্যুর দায় কার, তা নিয়ে জোরদার তদন্তের দাবি উঠেছে।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
বিদেশ

খামেনেই বলেছিলেন ১ হাজার, রিপোর্ট বলছে ১৬ হাজার! ইরানে মৃত্যুমিছিল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দাবি করেছেন, দেশজুড়ে চলা গণবিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র যে আরও ভয়াবহ, তা উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে বিক্ষোভ দমনের নামে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ মানুষ। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি নাগরিক।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ইরানের একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে খামেনেই সরকারের নির্মম দমননীতির কথা। ইরানের এক চিকিৎসক আমির পারাস্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনী রবার বুলেট ব্যবহার করছিল। কিন্তু পরে খামেনেইয়ের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়। দেখা মাত্রই আন্দোলনকারীদের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। রাইফেল ও মেশিনগানের গুলিতে বহু মানুষের মাথা, বুক ও কাঁধ ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে রাজপথ।ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হলেও এলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন অনেকে। সেই পথেই ওই চিকিৎসক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ আমির পারাস্তার দাবি, গুলির আঘাতে চোখ হারিয়েছেন প্রায় ৭০০ থেকে এক হাজার মানুষ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে বহু শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও রয়েছেন।হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ সামলানো যাচ্ছে না। রক্তের অভাবে বহু আহতের মৃত্যু হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও থামেনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযান।মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাঙন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং কট্টর ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। সেই ক্ষোভই এবার রাস্তায় নেমে এসেছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভ দমাতে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।এর আগে আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ দাবি করেছিল, ইরানে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। তবে নতুন এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
কলকাতা

ভিতর থেকে বন্ধ দরজা, ফোন ধরেননি দু’জনেই! মহেশতলায় রহস্যমৃত্যু

রবিবার সকালে মহেশতলায় একটি ফ্ল্যাট থেকে স্বামী-স্ত্রীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে মহেশতলা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়ি ফুট এলাকায়। মৃতদের নাম তন্ময় দে (৫২) এবং তাঁর স্ত্রী রুমা রক্ষিত (৪৭)। পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুড়ি ফুট এলাকার একটি আবাসনের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। রবিবার সকালে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘক্ষণ ফোন না ধরায় সন্দেহ হয়। এরপর পরিবারের লোকজন ফ্ল্যাটে এসে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেকবার ডাকাডাকি করা হলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনও শব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। শোওয়ার ঘরে খাটের উপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীকে। তাঁদের পাশেই একাধিক ঘুমের ওষুধের খালি বাক্স পড়ে ছিল। দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুজনেই আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা জানার চেষ্টা চলছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন ওই দম্পতি। ঋণের চাপ বা অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।দুটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা উত্তাল! রেল অবরোধ, ট্রেন আটক, ভাঙচুর ও সাংবাদিকের ওপর হামলা

ভীন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শুক্রবারের পর শনিবারও রাস্তায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে নেমে আসে। গতকাল সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হয়েছে। ট্রেন ও সড়ক অবরোধের ঘটনা লাগাতার চলেছে। শনিবার ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় জনতা। সড়কে চলমান সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেল গেট ভাঙচুর করা হয়েছে, ফলে লালগোলাকৃষ্ণনগর রুটের ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবেই কি প্রতিবাদ করা উচিত?শুধু শুক্রবার নয়, শনিবারও সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বাঁশ হাতে হুড়োহুড়ি করছেন। রাস্তার ধারে থাকা ফ্লেক্স ও ব্যানার উপরে ফেলে লাথি মারা হচ্ছে। এলাকায় কোনও পুলিশকর্মীও দেখা যায়নি। কোথায় গেল পুলিশ, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।গতকাল পরিস্থিতি যখন তপ্ত হয়েছিল, প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিছু আবেদন মেনে নেওয়া হয় এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। তবে তাতে কার্যত পরিস্থিতির কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, রাজ্যে প্রশাসন নেই, তাই এমন হচ্ছে। তার মধ্যে আজ আবার অভিষেক আসছেন। তাই বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড বেলা ১১টা থেকে ৪টা অবধি বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সব বন্ধ। নেতারাই তো সমাজ-বিরোধী কাজ করছেন। তাহলে বাংলায় আর কী হবে? কোথাও রোড শো, কোথাও ভাঙচুরএর জন্য যাতায়াত বন্ধ। জনপ্রতিনিধি ভাষণ দেবেন বলে সব বন্ধ।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
কলকাতা

গভীর রাতে ভয়াবহ শব্দ, তারপর নিথর দেহ—পার্ক সার্কাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পার্ক সার্কাসে লোহারপুলের পাশে গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। জরাজীর্ণ বাড়ির ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বৃদ্ধার ভাই এবং এক বছর দশেকের এক শিশুও।রবিবার রাত তিনটে থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পার্ক সার্কাসের লোহারপুল সংলগ্ন একটি পুরনো তিনতলা বাড়ির নীচের তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধা রাবিয়া খাতুন। গভীর রাতে আচমকা বাড়ির একতলার ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়ে নীচের ঘরে। সেই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন রাবিয়া খাতুন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।চাঙড়ের ভারী অংশ সরাসরি পড়ে তাঁদের উপর। গুরুতর জখম হন বৃদ্ধা, তাঁর ভাই এবং শিশুটি। তড়িঘড়ি তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, চাঙড়ের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। তাঁর ভাইয়ের পা ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত শিশুটির নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এই দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। একাধিক পরিবার ভাড়া থাকলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার জানানো সত্ত্বেও বাড়ির মালিক কোনও গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ।এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বহুবার বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কিছুই শোনেননি। উপরের তলাগুলি তুলনামূলকভাবে ঠিক থাকলেও নীচের তলায় থাকা পরিবারটি আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল। সেই পরিবারেরই এই পরিণতি হল বলে দাবি এলাকাবাসীর।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাড়ির চারপাশে গার্ডরেল বসানো হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। এখনও পর্যন্ত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুরসভা। বাড়ির অবস্থা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর শুনানির চাপে মৃত্যু? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

মঙ্গলবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি চলা একাধিক বুথও তিনি পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছানোর চাপেই প্রাণ হারিয়েছেন পুরুলিয়ার বাসিন্দা ৮২ বছরের দুর্জন মাঝি, এমনই অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার মৃতের পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সোমবার এই ঘটনার খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান তৃণমূলের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিরীটি আচার্য, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা, জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, হয়রানির উদ্দেশ্যেই দুর্জন মাঝিকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তাঁরা আগেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হবে।জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। সেই তালিকায় সোমবার যুক্ত হয়েছে দুর্জন মাঝির নাম। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে পারবেন কি না, এই চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। সোমবার শুনানির দিন ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দুর্জন মাঝি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে বাড়ির কাছেই রেললাইনের ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।দুর্জন মাঝির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বয়স হলেও তিনি যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। এসআইআর শুরু হওয়ার পরে অন্যদের মতো তিনিও এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। তা সত্ত্বেও গত ২৫ ডিসেম্বর তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে।মঙ্গলবার এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তিনি বলেন, সোমবার পুরুলিয়ায় এক বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কী দোষ ছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা বয়স্ক মানুষদের এ ভাবে ডেকে পাঠাচ্ছেন, তাঁরা বাবা-মাকে সম্মান করতে জানেন না। মুখ্যমন্ত্রী আরও প্রশ্ন করেন, নিজের বাবা-মাকে যদি এ ভাবে ডাকা হত, তবে তাঁরা কী করতেন। এই আবহেই নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

হার মানলেন মারণ রোগের কাছে, প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক

সপ্তাহের প্রথম দিনেই টেলিপাড়ায় নেমে এল গভীর শোক। দীর্ঘদিনের মারণ রোগের কাছে হার মানলেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছিল। সেই কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শ্রাবণী।শ্রাবণী বণিক বাংলা টেলিভিশনের এক পরিচিত মুখ ছিলেন। লালকুঠি, রাঙা বউ, গোধূলি আলাপ, সোহাগ চাঁদ-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বড়পর্দাতেও কাজ করেছেন শ্রাবণী। আলো ও চাঁদের বাড়ি ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল।জনপ্রিয়তা থাকলেও আর্থিক দিক থেকে খুব সচ্ছল ছিলেন না অভিনেত্রী, এমনটাই জানা যায়। ক্যানসারের চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মাসখানেক আগেই শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, মাকে বাঁচাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন এবং সকলের সামান্য সাহায্যও তাঁদের কাছে অমূল্য।গত নভেম্বর মাসে সেই আবেদন করা হলেও বছর শেষ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন শ্রাবণী বণিক। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টেলিপাড়া। অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পরিচালক বাবু বণিক। তিনি বলেন, শ্রাবণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল কাজের ছিল না, তা বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিল। শ্রাবণীর এত দ্রুত চলে যাওয়া তিনি মানতে পারছেন না বলেও জানান। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তিনি।শ্রাবণী বণিকের প্রয়াণে বাংলা টেলিভিশন জগতে তৈরি হল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

নাগরিকত্ব পেতে ব্যবহার হচ্ছে না তো? এসআইআর আবহে ডেথ সার্টিফিকেট কেলেঙ্কারি

এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। চুরি গিয়েছে একটি আস্ত ডেথ রেজিস্ট্রার বই। সেই বইয়ে ছিল টানা ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট। কলকাতা হাইকোর্ট ওই সব সার্টিফিকেট বাতিল করার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসাধু উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে না তো?ঘটনার সূত্রপাত একটি জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় এক পক্ষ আদালতে একটি ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেয়, যেখানে বলা হয় মামলাকারীর বাবার মৃত্যু হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই ডেথ সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি সামনে আসার পর মামলার অন্য পক্ষ রাজ্যের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ দফতরে আরটিআই করে জানতে চায়, ওই সার্টিফিকেটের আগে ও পরে থাকা মোট ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট কারা পেয়েছেন।কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর জানায়, নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। এরপর পঞ্চায়েতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ১০০ পাতার একটি সম্পূর্ণ ডেথ সার্টিফিকেটের বই। এই ঘটনার পর দ্রুত ওই সার্টিফিকেটগুলি বাতিল করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়।চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট জেলাশাসককে নির্দেশ দেয়, দ্রুত ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে এবং জনসমক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানাতে হবে। তবে অভিযোগ, সেই নির্দেশ জারির পর কয়েক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়েছেন, জেলা শাসকের দফতর থেকে কোনও নির্দেশ না আসায় ওই ১০০টি সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী এখনও সেগুলি বৈধ হিসেবেই রয়েছে। এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় টাকার বিনিময়ে এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর।সব বিষয় উল্লেখ করে এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত থেকে বই নিখোঁজ, রাজ্যের দফতরের কাছে তথ্য নেই, হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়নি। এর ফলে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি বেআইনি ভাবে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

টানা এসআইআর কাজেই কি প্রাণ গেল আরও এক বিএলও-র? মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়েই কি আরও এক প্রাণ ঝরল? মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে। বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও জাকির হোসেনের। দিনের পর দিন স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিএমনই অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই টানা মাঠ পর্যায়ে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। সকাল থেকে রাত অবধি ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।এই ঘটনার পরেই ফের রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর প্রক্রিয়ার বাড়তি চাপেই কি একের পর এক অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন বিএলও-রা? সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার আগে কোন্নগরের এক বিএলও একইভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চারজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ক্ষেত্রেও পরিবারগুলির বক্তব্য ছিলঅতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপই এই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ।বারবার সামনে আসছে একই অভিযোগভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না বিএলও-রা। মাঠে নেমে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু শুধু আর্থিক সাহায্যেই কি ফিরবে হারানো প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।খড়গ্রামের এই মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়াদের অভিভাবকসবারই চোখে জল। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও দায়িত্ববান কর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। একইসঙ্গে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য বিএলও কর্মীদের মধ্যেও।এসআইআর-এর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে আতঙ্ক। কাজের পরিমাণ কমানো হবে কি না, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখন রাজ্য প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

লড়াই শেষ! প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র: ৯০-এ থেমে গেল ছয় দশকের কিংবদন্তি যাত্রা

বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন অভিনয়জগতের হ্যাণ্ডসাম হিরো। নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। অমিতাভ, আমির, জীতেন্দ্র-সহ চলচ্চিত্র দুনিয়ার তারকারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন।হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম স্তম্ভ ধর্মেন্দ্র প্রয়াত। সোমবার নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই তারকা। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল, তৈরি হয়েছিল উদ্বেগের আবহ। পরে কিছুটা উন্নতির পর বাড়ি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরানো গেল না প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করা এই কিংবদন্তিকে।পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও না এলেও, প্রযোজকপরিচালক এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সূত্রে খবর মিলেছে অভিনেতার প্রয়াণের। সোমবারই পবনহংস শ্মশানে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। শেষযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়ভক্ত, প্রতিবেশী, ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীসবাই যোগ দেন প্রিয় তারকার শেষ দর্শনে।শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, আমির খান, জীতেন্দ্র-সহ অসংখ্য তারকা। শোকবার্তা লিখে কর্ণ জোহর বলেন, একটা যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমা আজ এক মহান শিল্পীকে হারাল।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছিল। ভেন্টিলেশনে থাকার খবরও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে ধর্মেন্দ্রপুত্র সানি দেওলের সহকারী এবং স্ত্রী হেমা মালিনী সেই তথ্য খণ্ডন করেন। কিছুদিন আগে মৃত্যু-গুজব রটে তাঁর প্রথম স্ত্রীর কান্নার একটি ভিডিও ছড়ানোর পর পরিবারের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।অভিনেতার শেষ কর্মজীবনেও ছিল ব্যস্ততা। মাত্র ২৪ নভেম্বর প্রকাশ্যে আসে তাঁর অভিনীত ইক্কিস ছবিতে তাঁর চরিত্রের ঝলক। জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এমন খবর শোকস্তব্ধ করেছে অনুরাগীদের। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাঁর ৯০তম জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি চলছিল পরিবারেকিন্তু তার আগেই ইন্ডাস্ট্রি হারাল ধর্ম পাজি-কে।প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শোলে, চুপকে চুপকে, সীতা অউর গীতা, ধর্মবীর, মেরা গাঁও মেরা দেশ-এর মতো কালজয়ী ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন ধর্মেন্দ্র। আজ তাঁর প্রয়াণে শোকাহত গোটা দেশআরও এক অধ্যায় শেষ হল ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র! বিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন

ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হি-ম্যান নামে পরিচিত এই মহাতারকা। যদিও পরিবার প্রথমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, দুপুর থেকেই মুম্বইয়ের জুহুর বাড়ির বাইরে অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় জোরালো হয় আশঙ্কা। দুপুরের পর তাঁর বাড়ি থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স বেরিয়ে যায়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সানি দেওল, ঈশা দেওল ও হেমা মালিনীকে দেখা যায় পাওয়ান হান্স শ্মশানে পৌঁছতে। এরপর অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেককে দেখা যায় সাদা পোশাকে ভিলে পার্লের শ্মশানের সামনে। আমির খান পৌঁছন ধর্মেন্দ্রের বাসভবনে।কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ধর্মেন্দ্র। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়িতে এনে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলেন। এক সময় শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হলেও শেষপর্যন্ত অসুস্থতাকে জয় করতে পারলেন না তিনি।মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে কিংবদন্তির প্রয়াণের খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ঢেউ তোলা শোকবার্তা, চলচ্চিত্র জগত শোকস্তব্ধ। পরিচালক করণ জোহর, যাঁর ছবিতে রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ধর্মেন্দ্র, ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা লিখে জানান, একটা যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমার প্রকৃত কিংবদন্তি, অপরূপ ব্যক্তিত্ব, সবচেয়ে বড় কথাঅত্যন্ত ভালো মানুষ। আজ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা কোনওদিন পূরণ হবে না।ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে গেলেন ধর্মেন্দ্র। ছয় দশকের টানা সাফল্য, তিনশোরও বেশি ছবি, আর কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়জয়সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বলিউডের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে রয়েছেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং সন্তানসানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা, অজিতা, ঈশা দেওল ও আহানা দেওল।এ মুহূর্তে চলছে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। চলচ্চিত্র দুনিয়ার বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং অগণিত শুভানুধ্যায়ী ভিড় জমিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। মুম্বইয়ের বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কথাইএভাবেই কি সত্যিই শেষ হয়ে গেল ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একটির অধ্যায়?

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

পাঠানখালি পঞ্চায়েতে আবারও জালিয়াতি! ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ

ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেটের জালিয়াতির পরে এবার সামনে এল ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট কাণ্ড। গোসাবার পাঠানখালি পঞ্চায়েতের নাম জড়াল আবারও। ভাড়া নেওয়া দোকানের দখল পেতেই নাকি এক ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মৃত দেখিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র। অবশেষে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হলেন এক দম্পতিজর্জ ক্লিন্টন ডিকসন এবং তাঁর স্ত্রী ক্যারল এরিকসন ডিকসন। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, বহু বছর আগে এজেসি বোস রোডে একটি দোকান ভাড়া নেন সরল রায় ও নিত্যরঞ্জন ঘোষ। পরে সেই দোকানই সাব-টেনেন্ট হিসেবে ভাড়া নেন ডিকসন দম্পতি। অভিযোগ, দোকানের দখল নিজের দাম্পত্যের হাতে নিতে নিত্যরঞ্জন ঘোষকে ২০১৪ সালেই মারা গেছেন বলে দেখানো হয়। অথচ বাস্তবে তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু দোকান দখল নিশ্চিত করতে এই দম্পতি ২০২৪ সালের অগস্টে পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে নিত্যরঞ্জনের নামে নতুন করে এক ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে নেন।এই কাজে তাঁদের সাহায্য করেন পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দার। তদন্তকারীদের দাবি, গৌতমই পুরো নথি জালিয়াতির মূল কারিগর। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি হাজার হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং শত শত ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরি করেছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং ৫১০টি ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরির ঘটনায় তিনি আগেই গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন। সেই মৃত্যুসার্টিফিকেটগুলির মধ্যেই ছিল নিত্যরঞ্জন ঘোষের নামে প্রস্তুত ভুয়ো শংসাপত্র। সেই নথিই ব্যবহার করে দোকান দখলের চেষ্টা করছিলেন ডিকসন দম্পতিএমনটাই মনে করছে পুলিশ।এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে পঞ্চায়েতের ভিতর থেকেই এভাবে ভুয়ো নথি তৈরি হচ্ছিল, কে কে যুক্ত, কোথায় কোথায় এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হয়েছেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একের পর এক নথি জালিয়াতির ঘটনায় পাঠানখালি পঞ্চায়েতকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
দেশ

চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে মৃত্যু: নয় বছরের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় জয়পুরের স্কুলকে কঠোর নোটিস CBSE-এর

নয় বছরের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের জেরে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ড। জয়পুরের নীরজা মোদি স্কুলকে কড়া শব্দে ভরা শোকজ নোটিশ পাঠাল CBSE। ১ নভেম্বর চতুর্থ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ওই ক্লাস ফোরের ছাত্রের। পরদিনই২ নভেম্বর নয়, সরাসরি ৩ নভেম্বরCBSE-এর দুসদস্যের বিশেষ তদন্তদল স্কুলে পৌঁছয়। তাদের রিপোর্ট এখন যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রাজস্থানের অন্যতম বড় খ্যাতনামা এই স্কুলকে।পরিদর্শন কমিটি জানিয়েছে, স্কুলে ছিল ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতা। পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, বাচ্চাদের উপর নজরদারি বলতে কিছু নেই, অ্যান্টি-বুলিং সিস্টেম প্রায় অকার্যকর, এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিক্রিয়াও নাকি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দেরি করা। এমন গুরুতর ত্রুটিযা একাধিক বার তুলে ধরে কমিটি লিখেছে, এই দুর্ঘটনা আটকানো যেত, যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করত।ছাত্রটির মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে জয়পুর। ভেঙেচুরে পড়েছে পরিবার। সহপাঠীদের উপরেও তার গভীর প্রভাব পড়েছে। এমন এক সময়ে, যখন গোটা দেশজুড়ে ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তখন আরও একটি শিশুমাত্র নয় বছরেরএভাবে নিজের জীবনের অবসান ঘটানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই।সরকারি পরিসংখ্যান (NCRB 2023) বলছে, গত বছরই আত্মহত্যা করেছে ১৩,৮৯২ জন ছাত্রছাত্রী। ভারতের মোট আত্মহত্যার ৮.১ শতাংশই ছাত্রদের। এই ভয়ঙ্কর বাস্তবের মধ্যে জয়পুরের এই ঘটনা যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালস্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য, সহানুভূতি, নজরদারি, এবং বুলিং প্রতিরোধ এখনও কতটা দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে।CBSE-এর নোটিশে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, একটি টপ-রেটেড স্কুলে যদি এমন অব্যবস্থা থাকে, তবে দেশের হাজার হাজার সাধারণ স্কুলে কী চলছে? স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু শহরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্নকতটা নিরাপদ ভারতের বাচ্চারা?

নভেম্বর ২১, ২০২৫
রাজ্য

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানে মালদার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানের জয়পুরে উদ্ধার হল মালদার পরিযায়ী শ্রমিক হরিবোল ঘোষের দেহ। রবিবার রাজস্থান পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করার পর বুধবার দুপুরে কফিনবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ পৌঁছায় চাঁচল মহকুমার নরদিপুর গ্রামে। গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের আবহের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।হঠাৎ নিখোঁজ, তারপর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শ্রমিকের নাম হরিবোল ঘোষ (৩৮)। গত ৯ অক্টোবর রাজস্থানের জয়পুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহে সহকর্মী শ্রমিকরা ফোন করে জানান যে হরিবোল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এরপর পরিবার পুখুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।তবে ঘটনাটি ভিনরাজ্যের হওয়ায় মালদার পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানাতে পারেনি। ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গেও পরিবারের যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।হরিবোলের পিসতুতো দাদা রতন কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার থেকে ওর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ঠিকাদারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। রবিবার রাজস্থান পুলিশ ফোন করে জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় হরিবোলের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ও আত্মহত্যা করতে পারে না। পরিশ্রমের উপার্জিত টাকা ছিনতাই করতেই ওকে খুন করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভবুধবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের বহু শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে গ্রাম থেকে অন্তত তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে। ফলে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে। এক শ্রমিক পরিবারের সদস্য বলেন, বিনা সুরক্ষায়, না জানি কী ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। এখন আর সাহস হচ্ছে না।রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ামালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।পরিবারের দাবি সঠিক তদন্ত চাইহরিবোল ঘোষের পরিবার দাবি করেছে, তাঁর কাছে রোজগারের মোটা অঙ্কের টাকা ছিল। সেই টাকাই লক্ষ্য করে তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

সাহু নদীর তীরে রক্তাক্ত দেহ, ২০০ মিটার দূরে গাছে ঝুলছেন স্বামী—চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

রবিবার ভোরেই শিলিগুড়িতে সামনে এল এক হাড়হিম করা দৃশ্য। সাহু নদীর পাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল এক মহিলার গলাকাটা মৃতদেহ। তার কাছাকাছি কোথাও নয়, প্রায় ২০০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল মহিলার স্বামীর নিথর দেহ। নরেশ মোড়ের এই দৃশ্য দেখে মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর যায় আশিঘর থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে।মৃত দম্পতি তপন মণ্ডল ও অনিমা মণ্ডল স্থানীয় বাসিন্দা। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য। দুই ছেলেকে নিয়ে স্বাভাবিক, শান্ত সংসার। প্রতিবেশীদের মতে, এই দম্পতির মধ্যে কোনও দিন উচ্চবাচ্য বা অশান্তির শব্দ কানেও আসেনি। দুজনেই নিয়মিত নিজেদের কাজে যেতেন, সময়মতো বাড়ি ফিরতেন। তপন ছিলেন রাজমিস্ত্রি, অনিমা একটি কারখানায় কাজ করতেন।কিন্তু শনিবার আচমকাই সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকেই আর কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁদের। ফোনও সুইচ অফ। পরিবার ও প্রতিবেশীরা রাতভর খোঁজ চালান। থানায় অভিযোগও জানানো হয়। কিন্তু পরদিন সকালে যা দেখা গেল, তা কোনও পরিবারই কল্পনা করেননি। নদীর পাড়ে অনিমার রক্তাক্ত দেহ। গলা প্রায় আলাদা হয়ে গিয়েছে। সেই দেহ থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই গাছে তপনের ঝুলন্ত দেহ।পুলিশ এখন এই ঘটনাকে ঘিরে নানা দিক তদন্ত করছে। জোড়া খুন? নাকি স্বামী আগে স্ত্রীকে খুন করে পরে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন? নাকি এর পেছনে আরও কোনও অদৃশ্য চরিত্র রয়েছে? কোনও সূত্র এখনই হাতে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। দুই ছেলের কাজের চাপও ছিল স্বাভাবিক। তাই এর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাতের অন্ধকারে কিছু সন্দেহজনক আওয়াজ তারা শুনেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নদীর দিক থেকে কিছু অচেনা লোককে নাকি দেখা গিয়েছিল। যদিও পুলিশ এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়। দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।শিলিগুড়ির শান্ত ভোলাপাড়া এলাকা এই ঘটনার পর পুরোপুরি আতঙ্কে। ২০ বছরের দাম্পত্যের এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউই মানতে পারছেন না। রহস্য যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের গুজব ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়, এষা দেওলের পাল্টা বার্তা ভাইরাল!

বলিউডে সকাল থেকেই হইচই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটাই খবর প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র! কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল সত্য। মৃত্যুর খবর মিথ্যে, এখনও লড়ে যাচ্ছেন হী-ম্যান। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে গুজবের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি লিখেছেন, ভুয়ো খবর ছড়াবেন না। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অনুরোধ করছি, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। বাবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করুন।জানা গিয়েছে, ৮৯ বছর বয়সি ধর্মেন্দ্রকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তিনি রয়েছেন আইসিইউতে, রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। অভিনেতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়াতেই সোমবার রাতে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তাঁর চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে ধর্মেন্দ্র রয়েছেন চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে।অভিনেতার স্ত্রী হেমা মালিনীও সোমবার রাতে এক্স (আগের টুইটার)-এ লেখেন, ধরমজির স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায়। চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। ঈশ্বরের কৃপায় তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন। একই সঙ্গে সানি দেওলের টিমও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল, ভয়ের কিছু নেই।আগামী ডিসেম্বরেই ৯০ বছরে পা দেবেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। বয়স নব্বই ছুঁলেও বলিউডে এখনও সক্রিয় ধর্মেন্দ্র। করণ জোহরের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে তাঁর রোম্যান্টিক দৃশ্য তখনই প্রমাণ করে দিয়েছিল বয়স শুধু একটা সংখ্যা। সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ইক্কিস-এর প্রথম ঝলকও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দর্শকরা দেখে অবাক হয়েছেন তাঁর উজ্জীবিত উপস্থিতি দেখে।তবে কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন ধর্মেন্দ্র। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকেরা তাঁর বয়সের কথা মাথায় রেখে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রটানো মৃত্যুর গুজব ঘিরে নেটপাড়া সরগরম। ভক্তরা প্রার্থনা করছেন তাঁদের প্রিয় ধরম পাজি-র দ্রুত আরোগ্যের জন্য।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

৩০ বছর ধরে দেশে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আতঙ্কিত বৃদ্ধের মৃত্যু— নদিয়া তহেরপুরে চুপচাপ পরিবার

নদিয়া জেলার তহেরপুর গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ষাটের কোঠায় পড়া প্রবীণ শ্যামলকুমার সাহার। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে একান্তভাবে চলে এসেছিলেন শ্যামলকুমার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তহেরপুরে বসবাস করছিলেন, ভোটারের আধার কার্ডও ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত ছিল।পরিবারের অভিযোগ, তখন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির ভীতি ও নাগরিকত্ব-ভিত্তিমূলক উদ্বেগে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতে এসে তাদের এনুমারেশন ফর্ম হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্লকএলঅফিসার (বিএলও)। সেই দিন থেকেই শ্যামলকুমার খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ঠিক মতো খাওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন তিনি।শেষ সোমবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃতের স্ত্রী বলেন, আমরা তহেরপুরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। ওর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব ছিল। তারপর ওই এনুমারেশন ফর্ম আনার পর থেকেই ওর মাথায় চিন্তার দানা বাঁধতে থাকে। আমি কিছু বললে বলত অত আমার কানের সামনে বকবক করো না তো। আসলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওর। তাই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করছিল।পড়শি এক যুবক জানান, আসলে সরকার বা Citizenship Amendment Act (CAA)-কথায় নাগরিকত্ব পাবে বলেছে না কোনো অধিকারিক; একটি রাজনৈতিক দল বলেছিল। তাহলে আর সেই কথায় কীভাবে ভরসা রাখবে? বলেই বৃদ্ধের পরিবার দাপিয়ে চলছিল ভয় আর সংশয়ের মধ্যে।পরিবারের দাবি, আজও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিক অথবা প্রশাসনের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ আদালতে বা সরকারী স্তরে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। পরিবারের চোখে আজ 누র আবস্থান, কান্নায় ভেঙে পড়েছে তারা।নদিয়ার তহেরপুর গ্রামে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছেনাগরিকত্ব-বিহীন পরিবেশ, ভোটার তালিকা-হরচর, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই গল্পে উঠে এসেছে। এই দুর্ঘটনায় সরকারি-নির্বাহী ব্যবস্থার দুচোখ বন্ধ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

‘চাপ সামলাতে পারেননি’— ফর্ম বিলির চাপে ব্রেন স্ট্রোক, মৃত্যু মহিলা বিএলও-র! হইচই মেমারিতে

এসআইআর আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য। কোথাও ফর্ম না পেয়ে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও কাজের চাপে প্রাণ যাচ্ছে সরকারি কর্মীর। এবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ফর্ম বিলির চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যু হল এক মহিলা বিএলও-র। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহলে।মৃতার নাম নমিতা হাঁসদা (৩৮)। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন এবং মেমারি চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর ফর্ম বিলির কাজে তাঁকে অমানবিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছিল। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল বারবার। প্রতিদিনই ফোন আসত বিডিও অফিস থেকে কত ফর্ম বিলি হয়েছে? টার্গেট পূর্ণ হল কি?স্বামী মাধব হাঁসদা বলেন, ওকে খুব চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমরা বারবার বলেছি, এতটা মানসিক চাপ নিও না। কিন্তু ওর দায়িত্ববোধটা খুব বেশি ছিল। সব সময় চিন্তা করত কাজ শেষ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় ফর্ম বিলি করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নমিতা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষরক্ষা হয়নি।পরিবারের দাবি, এসআইআর ফর্ম নিয়ে এই অতি তৎপরতার চাপে ওর মৃত্যু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছিল। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করত না।এই ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতার স্বামী অভিযোগ করেন, ওকে এত কাজ দেওয়া হয়েছিল যে, শরীরটাই ভেঙে গিয়েছিল।বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রানি জানিয়েছেন, ঘটনাটা আমরা দেখছি। তদন্ত করে দেখা হবে আসল কারণ কী।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কাউকে কোনও চাপ দিইনি। যারা কাজের ওপর চাপ দিচ্ছে, তারা প্রশাসনের লোকজন। সাধারণ মানুষের সামনে এই নাটক তৈরি করা হচ্ছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে চলমান এসআইআর বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার সরকারি কর্মীর মৃত্যু সেই আতঙ্ককে নতুন মাত্রা দিল।মেমারির এই ট্র্যাজেডি এখন প্রশ্ন তুলছে এসআইআর ফর্ম বিলির নামে কি রাজ্যে প্রশাসনিক অমানবিকতার চিত্রই ফুটে উঠছে?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

পরিচয়পত্র চাইতেই উধাও পরিবার! আলিপুরদুয়ারে মৃতা কি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী?

হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছিল এক মহিলার। কিন্তু মৃত্যুর পরই ঘটল এমন কাণ্ড, যা দেখে হতবাক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরিবারের কাছে আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড চাওয়া মাত্রই উধাও হয়ে গেলেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা! ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতদেহ এখনো পড়ে আছে আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে দাবিদারহীন অবস্থায়।জানা গিয়েছে, গত ৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ৪২ বছর বয়সী এক মহিলা নাম সঞ্জিতা বিবিকে ভর্তি করা হয় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। ভর্তি করার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা দমনপুর এলাকার বাসিন্দা। এক আত্মীয়ের নাম দেওয়া হয়েছিল জাবেদ আলি। হাসপাতালের নথিতে সেই নাম ও মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করা হয়।রোগীর অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁকে আইসিসিইউ-তে রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিয়মমতো ডেথ সার্টিফিকেট তৈরির জন্য পরিবারের কাছে আধার বা ভোটার কার্ড চাওয়া হলে হঠাৎই গা-ঢাকা দেন তাঁরা। হাসপাতালের সুপার ডাঃ পরিতোষ মণ্ডল বলেন, মৃতা হার্ট অ্যাটাকে ভর্তি হয়েছিলেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি। ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য পরিচয়পত্র চাইতেই পরিবারের সদস্যরা উধাও হয়ে যান। এরপর আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুদিন ধরে একজন পুরুষ রোগীর সঙ্গে ছিলেন, তিনিও গায়েব।ফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের হদিশ মেলেনি। ফলে হাসপাতাল মৃতদেহকে দাবিদারহীন হিসেবে মর্গে সংরক্ষণ করেছে। ঘটনাটি ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় জানানো হয়েছে।এরপরই উঠেছে বড় প্রশ্ন ওই মহিলার কোনও বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না কেন? যিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আসলে আত্মীয় না অন্য কেউ? নাকি পুরো ঘটনাটির পেছনে রয়েছে অন্য রহস্য?এসআইআর (Special Investigation of Residents) চলাকালীন এমন ঘটনায় জল্পনা আরও গভীর। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মৃতা কি আদৌ ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী?ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার জুড়ে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরিবারের কেউ যদি পরিচয়পত্র ও প্রমাণপত্র নিয়ে হাজির না হন, তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মৃতদেহ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সমাধিস্থ করা হবে।স্থানীয় এক চিকিৎসক বলেন, এমন ঘটনা বিরল। সাধারণত মৃতের পরিবারের সদস্যরা দেহ নিতে আসেন। এখানে উল্টোটা হয়েছে। তাই বিষয়টি সত্যিই সন্দেহজনক। ঘটনার তদন্তে নামতে চলেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারা মৃতাকে ভর্তি করেছিল, কখন উধাও হয়েছে তারা।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 20
  • 21
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ক্ষমতা হারিয়ে রক্তক্ষরণে তৃণমূল, ‘একলা চলার’ কঠিন পরীক্ষায় মমতা

রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেই থাকে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে কোনো কোনো সময় অপ্রতিরোধ্য দেখায়। মনে হয় শাসন ক্ষমতায় থাকাটাই সেই রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত। কিন্তু, সময় বদলায়। ঐতিহাসিক নিয়মেই অতি ক্ষমতাধর শক্তিকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হয়। দেশ, কাল ভেদের এই পরিবর্তনের বহু নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছিল কংগ্রেস। তারপর কংগ্রেস কে সরিয়ে ক্ষমতায় বসে বামফ্রন্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার। অনেকেই ভাবতেন বাম শাসনের বোধহয় অবসান হবেনা। তা হয়নি। দীর্ঘ বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে তাদের রক্তক্ষরণ শুরু হয়।এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় দল বদলের পালা। দেশ জুড়ে নেতা নেত্রীর ক্ষমতা হারানো দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যাওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। মানুষ ও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। তবে, এখান থেকে বিজয়ী দলের ও সমস্যা শুরু হয়। নেতা নেত্রীদের দল বদলের থেকে অতি দ্রুত এই যাওয়ার পালা শুরু হয় পরাজিত দলের নিচু স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাম আমলেও এই ঘটনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে সিপিএম এর ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার লোভ, অর্থের লোভ ও সন্ত্রাস মূলত এই তিনটি কারণে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পালা শুরু হয়। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন তাদের সঙ্গে দল বদলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।সেই সময় তৃণমূলের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন হয়েছিল Red TMC বনাম Green TMC দ্বন্দ্বে। তৃণমূলের ১৫ বছর পরে ক্ষমতা থেকে সরায় নিচের তলার এই চলন শুরু হয়েছে। রাতারাতি, রাজ্যের আনাচে কানাচে বিজেপির পতাকা হাতে বহু জনকে দেখা যাচ্ছে যাদের এতদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই দেখা যেত। রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে বার বার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও জানে দলের কোনো মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা ছিল। এই সুযোগে, সুবিধা পাওয়ার বন্দোবস্ত তৃণমূলকে একটা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সুবিধা দিয়েছিল।এখন ক্ষমতার বৃত্তে না থাকার কারণে দলের চেহারা ক্রমশ শীর্ণকায় হবে। এই কারণেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতে নামার জন্য বাম, কংগ্রেস ও আই এস এফ কে সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও, তিনি ভালোই জানেন যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ রাজ্যে ছিল না। সবটাই ছিল পেশীশক্তির ভিত্তিতে। কংগ্রেস ও বামেরা পাঁচ বছর বিধানসভার বাইরে ছিল। এই নির্বাচনে তাদের যেটুকু সাফল্য এসেছে তা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এসেছে। এখন তারা যদি তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে।INDIA ব্লক টিঁকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেস এই রাজ্যে তৃণমূলের সুরে বিজেপি বিরোধীতা করলেও সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলনে নামবে না বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, আই এস এফ বা বাম দলগুলি তো প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী কে এই আহ্বানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মনে হয় ভালো, মন্দ যাই হোক তৃণমূল কে তা মেনে নিয়ে একলাই চলতে হবে। একলা পথ চলার কথাই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মমতা। এখন অন্যদের দিকে হাত বাড়ালেও তাঁকে একলাই চলতে হবে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হিলারির পর এবার মার্কো রুবিও! হঠাৎ কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাড়ছে জল্পনা

প্রায় ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় এলেন মার্কিন বিদেশসচিব। হিলারি ক্লিনটনের পর এবার শহরে পা রাখলেন মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। তারপর সোজা যান তালতলার মাদার হাউজে। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা কাটানোর পর চিলড্রেনস হোমেও যান তাঁরা। এরপর তাঁর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে দেখার কথাও রয়েছে। কলকাতা সফর শেষ করে দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সমাজমাধ্যমে রুবিওর কলকাতা সফরের কথা জানান। তিনি লেখেন, মার্কিন বিদেশসচিবের এটি প্রথম ভারত সফর। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কোয়াড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা ও দিল্লি নয়, আগ্রা এবং জয়পুরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক বার্তা দিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিল্প বিনিয়োগ টানার কথাও বলেছেন তিনি।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের উপর জোর দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা হতে পারে।এছাড়াও সম্প্রতি লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকেও নজর রয়েছে। অনেকের মতে, চিনকে কড়া বার্তা দিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর যে শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তার পিছনে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
দেশ

সীমান্তে বড় বদল! ড্রোন-ক্যামেরায় নজরদারি, ‘স্মার্ট বর্ডার’ নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

অনুপ্রবেশ রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে স্মার্ট বর্ডার তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।অমিত শাহ বলেন, প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুধুমাত্র জওয়ান মোতায়েন করে নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন। তাই এবার সীমান্ত পাহারায় ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্ত এলাকায় থাকবে ড্রোন, হাই রেজলিউশন ক্যামেরা এবং একাধিক আধুনিক নজরদারি যন্ত্র। পাশাপাশি বিএসএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও শক্তিশালী করতে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, স্মার্ট বর্ডার তৈরি হলে সীমান্ত আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে। অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলের যে চেষ্টা চলছে, তাতেও অনেকটাই লাগাম টানা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং অসম সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের নীতিকে সমর্থন করেছে। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও দাবি করেন শাহ।বাংলায় সরকার বদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন কাঁটাতার বসানো নিয়ে জমি সমস্যার কারণে কাজ আটকে ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এরপর সম্প্রতি বাংলায় পুশব্যাক আইন কার্যকর করার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।এই ঘোষণার পর মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিএএ-র আওতায় থাকা কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করা হবে না। বরং নিয়ম মেনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।এর মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকও করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই শাহের স্মার্ট বর্ডার ঘোষণা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে ভাঙা হল যুবভারতীর বিতর্কিত মূর্তি! নিশীথের নির্দেশে সকালেই বড় পদক্ষেপ

অবশেষে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিতর্কিত মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হল। শনিবার সকালে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নির্দেশ মেনে সেই কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই মূর্তি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেই বিতর্কিত মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার।২০১৭ সালে সল্টলেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংস্কারের সময় এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। মূর্তিটিতে কোমর পর্যন্ত একটি শরীরের অংশ ছিল, তার উপরে বসানো হয়েছিল বিশ্ববাংলার প্রতীক। নীচে ফুটবলের উপর লেখা ছিল জয়ী। সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে শুরু থেকেই এই মূর্তির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। অনেকেই এটিকে অদ্ভুত ও অর্থহীন বলে সমালোচনা করেছিলেন।গত ১৭ মে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ম্যাচ দেখতে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মূর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। নিশীথ বলেন, এরকম বিদঘুটে মূর্তি কেন বানানো হয়েছিল বুঝতে পারি না। আমার মনে হয় এই মূর্তি বসানোর পর থেকেই আগের সরকারের খারাপ সময় শুরু হয়েছিল। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মূর্তিটি সরিয়ে ফেলা হবে।ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গেল। শনিবার সকালে মূর্তিটি ভেঙে ফেলার পর এখন সেখানে শুধু দুটি বুট এবং একটি ফুটবল দেখা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ওই জায়গায় কোনও বিখ্যাত ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।ডার্বির রাতেই নিশীথ জানিয়েছিলেন, এমন একটি মূর্তি বসানো হবে যা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অর্থপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। সেই কারণেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছে ক্রীড়া দপ্তর।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

দেবরাজ ঘনিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু! ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, সামনে এল ভয়ংকর অভিযোগ

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বাস্থ্য সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।সঞ্জয় দাস রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান অদিতি মুন্সিও। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।এর মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সঞ্জয় দাসকে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। এমনকি তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। কিরণের দাবি, যারা এই চাপ দিচ্ছিল তারা আগে তৃণমূল করলেও এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।তিনি বলেন, সঞ্জয় দাস নাকি ওই ব্যক্তিদের বলেছিলেন, এখন ১০ হাজার টাকা নিতে, পরে বাকি টাকা দেবেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। কিরণ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, সেই চাপই শেষ পর্যন্ত সঞ্জয়কে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। তবে যারা হুমকি দিয়েছিল, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। একদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পার্থ বর্মাও।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সঞ্জয় দাসের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চাকরিতে বড় বদল! পরীক্ষার্থীদের হাতে থাকবে ওএমআর কপি, দুর্নীতিতে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে শিক্ষা ও পুর নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত মামলার তদন্ত এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় এসেই স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার শিয়ালদহে রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে নিয়োগ পদ্ধতিতে একাধিক বদলের কথা ঘোষণা করেন তিনি।বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে বহু বদনাম হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুর নিয়োগ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এমনকি ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরিও বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু জানান, এতদিন ওএমআর শিটে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার্থীদের সেই কার্বন কপি জমা দিয়ে দিতে হত। ফলে পরে নিজেদের উত্তর যাচাই করার সুযোগ থাকত না। এবার থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর কপির কার্বন বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর কমানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মৌখিক পরীক্ষায় দুর্নীতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই সেই অংশে নম্বর কম রাখা হবে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আর নিয়োগ হবে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এদিনের রোজগার মেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এতদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্তরের বহু পরীক্ষাও ঠিকমতো হতে দেওয়া হত না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আদর্শকে সামনে রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারের ধাঁচে রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

মে ২৩, ২০২৬
রাজ্য

উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে পচা গরমে হাঁসফাঁস! কবে মিলবে স্বস্তি জানাল হাওয়া অফিস

উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় আজ অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্সে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলবে। সোমবার ও মঙ্গলবারও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুধবারের পর থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস।অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। উত্তরবঙ্গে যখন মুষলধারে বৃষ্টি চলছে, তখন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল মানুষ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানে অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গে গরম থেকে তেমন স্বস্তি মিলবে না। তবে এরপর দুই থেকে তিন ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই ধীরে ধীরে কমতে পারে গরমের দাপট।কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেও আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।বর্তমানে ওড়িশার উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। উত্তর প্রদেশ থেকে ওই ঘূর্ণাবর্ত পর্যন্ত একটি অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় এমন বড় ফারাক দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের হদিস! জুতোর ব্যবসার আড়ালে চলত ভয়ঙ্কর খেলা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের বড় পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজকে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।জানা গিয়েছে, কলকাতায় জুতোর ব্যবসা করত জাফর। তার দুটি কারখানাও ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই চলত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ। নিজের নামে সিম কার্ড তুলে তা পাকিস্তানের গোয়েন্দা অফিসারদের হাতে পৌঁছে দিত সে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফরের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা রাবিয়া জাফফার নামে এক মহিলার সঙ্গে। বিয়ের পর ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা কলকাতাতেই থাকত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তারা লাহোরেই পড়াশোনা করছে।২০১২ সালে একটি পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে স্ত্রীকে লাহোরে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে। এরপর থেকেই পাকিস্তানে তার যাতায়াত বাড়তে থাকে। এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টাও করছিল বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে দাবি, এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নামানো হয় জাফরকে।পরবর্তীতে কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে প্রথমে দিল্লি এবং পরে পঞ্জাবে ঘাঁটি গাড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযানকারী দল জাফর ও তার সহযোগী মহম্মদ শামশেদকে গ্রেফতার করে। ধৃত শামশেদ বিহারের মধুবনির বাসিন্দা।তদন্তকারীদের দাবি, জাফর ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সামরিক দফতর এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে তার ওটিপি পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত।সেই নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুপ্তচররা সুন্দরী মহিলাদের ছবি দিয়ে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করত। এরপর ভারতীয় সেনার জওয়ানদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলত। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল মাথাদের অন্যতম ছিল জাফর।বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং গোটা নেটওয়ার্ক কতটা বড়, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মে ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal