• ১৫ মাঘ ১৪৩২, মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Burn

রাজ্য

ভয়ঙ্কর ঘটনা আসানসোলে, বাড়িতেই পুড়ে শেষ মা, বাবা ও ছেলে

বাড়িতে আগুন লেগে মৃত তিন, আহত এক। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিক অনুমান। শনিবার গভীর রাতের ঘটনা। এই ঘটনায় বাড়ির তিনজন মারা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির কর্তা কেবল চন, স্ত্রী গায়ত্রী চন ও এদের জামাই বাবলু সিং আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। কেবল চনের মেয়ে শিল্পী সিংকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণ থানার ফতেপুর বৈশালী পার্কের কাছে। রাতে দমকল ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জুন ২৯, ২০২৫
রাজ্য

মালদায় বিডিও অফিসের পিছনে আমবাগানে এ কী কান্ড! তদন্ত শুরু করল পুলিশ

আমবাগানের মধ্যে উদ্ধার হল খড় দিয়ে পোড়ানো আধপোড়া মৃতদেহ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদা জেলা জুড়ে। মনে করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য দুষ্কৃতীরা আগুন ধরিয়ে দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার সাত সকালে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় মালদার চাঁচল-২নং ব্লকের মালতীপুর এলাকায় বিডিও অফিসের পেছনে আমবাগান এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন খুব সকালের দিকে স্থানীয়রা আমবাগানের মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখেন। এরপর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে লক্ষ্য করেন খড়ের আগুনে মৃতদেহ জ্বলছে। দেহের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পায়ের অংশটুকু বাকি পড়ে আছে।এই ভয়ানক ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাঁচল থানার থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুন্ডু। সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথমে পুলিশ আধপোড়া দেহের অংশটুকু উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। স্থানীয়দের অনুমান মৃতদেহটি কোন মহিলার। তাকে দুষ্কৃতীরা বাইরে কোথাও কিংবা ঘটনাস্থলেই খুন করে দেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে চাঁচল থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুন্ডু জানিয়েছেন, দেহটি মহিলার না কোন পুরুষের সেই ব্যাপারে তাঁরা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের পরেই সঠিক তথ্য সামনে আসবে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৪
রাজ্য

নিউটনের চলন্ত বাসে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন

নিউটনের রাস্তায় চলন্ত বাসে আগুন লেগে বিপত্তি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন। এই ঘটনার জেরে নিউ টাউন বিশ্ববাংলা মোড় থেকে সাপুর্জি রাস্তায় তৈরি হয় প্রচন্ড যানজট।স্থানীয় সূত্রে খবর, নিউটাউন থেকে আলিপুর রুটের ২৬০ নম্বর বাস যখন যাত্রী নিয়ে আলিপুর থেকে নিউটাউনের দিকে আসছিল বিশ্ববাংলা মোড়ের কাছে আসতেই দেখা যায় গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এরপরই তড়িঘড়ি যাত্রীদেরকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দমকলে ও পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনার স্থলে এসে পৌঁছে টেকনোসিটি থানার পুলিশ ও দমকল এর একটি। বাসটি ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ভষ্মীভূত হয়ে যায়। তবে এই আগুন লাগার ফলে বিশ্ব বাংলা মোড় থেকে সাপুর্জিগামী রাস্তায় তৈরি হয় যানজট। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে দমকলের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট এর ফলে এই আগুন।

মার্চ ০৫, ২০২৪
রাজনীতি

তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বদলের দাবিতে মালদায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

অঞ্চল সভাপতি ঘোষণা হতেই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীকন্দল। পুনরায় কুশিদা অঞ্চলের সভাপতি মোহাম্মদ নুর আজমকে করায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন তৃণমূল কর্মীদের একাংশের। বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ মোহাম্মদ নুর আজমকে তাঁরা সভাপতি হিসেবে মানবেন না। নুর আজম দুর্নীতিগ্রস্ত। এমনকি তিনি কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের পদেও রয়েছেন। তার পরিবর্তে অলোক পোদ্দারকে অঞ্চল সভাপতি করতে হবে বলে দাবি বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীদের। যদি বিহার থেকে লোক নিয়ে এসে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি মহম্মদ নুর আজমের। পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের অস্বস্তিতে শাসক দল। বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত বলেন, তৃণমূলের শেষের শুরু এটা। আজকে কাটমানি কার হাতে যাবে কে কাট মানির ভাগ পাবে সেই নিয়ে তাদের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল। এখানে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল আছে। এটা আরো বেশি প্রকট হচ্ছে। এটা হচ্ছে কাটমানি খাওয়ার রাশ দুর্নীতি করার রাস কার হাতে থাকবে। এটা নিয়েই তাদের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল। কারণ তৃণমূল বুঝে গেছে মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানান, একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষোভ বিক্ষোভ তো থাকতেই পারে। দুই দলকে নিয়ে বসে আলোচনা করা হবে দুই দলের কথাই শোনা হবে। কেন তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ রয়েছে। আর বিজেপিকে বলবো আমাদের দলের বিষয় নাক গলানোর কোন দরকার নেই। আমাদের দলের ব্যাপার আমরা মিটিয়ে নেব।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৩
রাজ্য

জমির নাড়া পোড়াতে গিয়ে পুড়ে ছাই পাশের জমির ধান, পথে বসলেন চাষী

আগুনে ভস্মীভূত হল ধানের জমি। চরম ক্ষতির সন্মুখিন জমির মালিক। জমির মালিক বিকাশ ঘোষ জানান, পাশের জমির নাড়া পোড়ানোর আগুন ছড়িয়ে গিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর ১৫ কাঠা জমির গোবিন্দভোগ ধান।পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের পারহাট গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ঘোষ তার ১৬ কাঠা জমিতে গোবিন্দভোগ ধানের চাষ করেছিলেন। চাষের ওপরেই নির্ভর গোটা পরিবার। ধান পেকে যাওয়ায় যথারীতি তিনি ধান কাটেন। পরের দিন কাটা ধান বাঁধতে গিয়ে তিনি দেখেন ১৬ কাটা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা জমির ধান আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এ যেন পাকা ধানে মই।বিকাশ বাবু বলেন আশেপাশের জমির ধান কাটার পর অবশিষ্ট অংশে কেউ বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুন ছড়িয়ে তাঁর জমির ধান সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পুলিশ ও কৃষি বিভাগে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুমন্ত বন্দোপাধ্যায় বলেন, নাড়া পোড়ানো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে। একাধিকবার কৃষকদের নিয়ে বৈঠকও করা হয়েছে। তাতেও হুঁশ ফিরছে না। নাড়া পোড়ানোর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারহাটের ওই কৃষক। ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি নাড়া পোড়ানোর বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

ভাইরাল পোড়া পাহাড়ের 'গুহা', আদিম নাকি খনিজ সম্পদের জন্য খোঁড়া , জানুন বিস্তারিত

প্রসঙ্গ দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের গোড়াবাড়ি পঞ্চায়েতের অধীন ভাইরাল হওয়া আমডিহা ও দামোদরপুর মৌজায় অবস্থিত পোড়া পাহাড়ের গুহা। কেউ বলেন কড়া পাহাড়। তবে কেউ বা কড়ো পাহাড়। তবে পোড়া পাহাড়া এই নামটা বেশি শোনা যায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে। নাম করণের ইতিহাস অবশ্য জানা নেই কারও কাছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশের অভিমত, বর্ষা বা নিম্নচাপের সময় পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকালে কিছু পুড়লে যেমন ধোঁয়া হয় সেই রূপ ধোঁয়া দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় । এই কারণে হয়তো পাহাড়ের নাম হয়েছে পোড়া পাহাড়। আমার বাড়ি থেকে পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করার সময় গ্রামের এই পাহাড়ের নাম ভূগোল এ যেদিন প্রথমবার পড়লাম সেদিন যে কি আনন্দ হয়েছিল তা বলে বোঝানো যাবেনা। এই পাহাড় কোন আদি অনন্তকালে গড়ে উঠেছে তার সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান কেউই দিতে পারবেনা। তবে আমার গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের উত্তর দিকে যে গুহা রয়েছে সেটি তৈরির সঠিক গল্প এলাকার অনেকেই আপনাকে বলে দেবে। গুহা নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশন করা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই ঝড় আছড়ে পড়েছে জেলা ছাড়িয়ে সারা রাজ্য জুড়ে । কেউ আবার ১৯৬২ সালের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য তুল ধরে আদিম যুগের সত্যতা প্রমাণ করতে চাইছেন। কোনও অধ্যাপক গবেষক বলছেন গুহাটি বহু প্রাচীন। কেউ আবার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন এলাকায় আদিম মানুষের বসবাস ছিল। তাঁরা গুহাটি তৈরি করে ছিলেন বসবাসের জন্য। কেউ বলছেন এখানে নাকি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু আসতেন। ওই গুহায় বসে বোমা বাঁধতেন। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী কংসাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় আদিম যুগের কোনও নিদর্শন থাকলেও পোড়া পাহাড়ের গুহার সঙ্গে আদিম যুগের কোনও যোগ নেই। কারণ, গুহাটি যাঁরা নিজের হাতে ড্রিল করে পাথর কেটে তৈরি করেছেন তাঁরা সবাই এখনও মরে যায়নি। আর যাঁরা সেখানে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন তাঁদের অনেকে এখনো জীবিত সুস্থ সবল আছেন। গুহায় কাজ করা সেইসব শ্রমিকদের অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছি আপনাদের কাছে ।ছোট বেলায় বাবার (ঁশঙ্কর চন্দ্র মাহালী) কাছে শুনেছিলাম পাহাড়ে পাথর কেটে গুহা তৈরি হয়েছে। আমার বৃদ্ধা মা বিশাখা মাহালীর (৭৭) কাছে পাহাড়ে গুহা তৈরির বিষয়ে একদিন জানতে চেয়ে ছিলাম। মা বলেছিলেন বিয়ের বেশ কিছুদিন পর পাহাড়ে কোনও ধাতু উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময়ই গুহাটি তৈরি হয়। আগে কোনও গুহা ছিলোনা বলে শুনেছি। আমার গ্রাম কুঁড়েবাকড়া (আমডিহা) ও পাশাপাশি গ্রামে খোঁজখবর নিতে শুরু করলে অনেকেই জানিয়েছেন এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হয়েছে।কুঁড়েবাকড়া গ্রামের বাসিন্দা আসরফ আলি (৬৫), বড়মেট্যালা গ্রামের আলোক কুমার মাহাতো (৬২), বিশ্বনাথ রজক, মাইলিহীড় গ্রামের কৃষ্ণপদ বাস্কে সহ অনেকেই জানালেন পোড়া পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হল। কিশোর বয়েসে নিজেরা গুহা তৈরির কাজ দেখেছি । ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে যে গুহার বয়স এখন পঞ্চাশ -পঞ্চান্ন বছরের বেশি কিছুতেই নয়। আমরা দাঁড়িয়ে থেকে গুহা তৈরির কাজ দেখলাম। আর কোথা থেকে কে একদিন বেড়াতে এস দাবি করছেন তিনিই নাকি গুহার আবিষ্কারক। তাঁরা জানান জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এই পাহাড় থেকে উলফার্ম নামে এক প্রকার ধাতু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল । সেই সময় স্থানীয় বেশকিছু যুবককে এই কাজে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করেছিল । যাঁরা প্রথম দিন থেকে কাজ করেছেন এবং এখনো সুস্থ স্বাভাবিক জীবিত আছেন তাঁরা হলেন খাতড়া ব্লকের খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের বড়মেট্যালা গ্রামের বাসিন্দা দশরথ মাহাতো (৭০)। মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০)। বড়মেট্যালা গ্রামের অনিল মাহাতো, তিলাবনী গ্রামের কৃষ্ট মাঝি, দাঁড়শোল গ্রামের শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো।পাহাড়ে গুহা খননের দিন থেকে কাজ করে পরে ভারত সরকারের জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং বিভাগে যিনি চাকরি করেছেন তিনি দাঁড়শোল গ্রামের বাসিন্দা নিমাই বাউরি। তিনি জানান, ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং ডিভিশন গুহা খননের কাজ শুরু করেছিল। প্রায় দুই তিন বছর কাজ হয়েছে। খননের আগে পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। জি গোরাচারি নামে একজন মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারের আন্ডারে কাজ হয়। আমি টেকনিক্যাল লাইনে কাজ করতাম। দু বছর কাজ হওয়ার পরও বাণিজ্যিকভাবে কোনও সফলতা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখান থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে তারা চলে যায় রাখামাইনসে। গত প্রায় ১০ - ১২ বছর আগে নিমাইবাবু অবসর গ্রহণ করে এখন বাড়িতে আছেন।এঁদের মধ্য থেকে উলফার্ম উত্তোমনের কাজে ড্রিল হেল্পার হিসাবে যিনি কাজ করেছেন সেই দশরথ মাহাতো জানিয়েছেন। তাঁর বয়স যখন ১৬ - ১৭ বছর সেই সময় জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কর্মীরা তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় হাফ (আধ) কিলোমিটার দূর দাঁড়শোল গ্রাম সংলগ্ন তিলাবনী মৌজায় ক্যাম্প করে থাকতেন। যে দিন তাঁরা প্রথম সেখানে এলেন সেই দিন গ্রামের অনেকের সাথে কৌতুহল নিয়ে হাজির হয়ে ছিলাম। বিকাল নাগাদ তাঁরা যখন সেখানে তাঁবু খাটানোর কাজ করছিলেন সেই সময় ধরাধরি করে দিতে বলেছিলেন কোনও একজন অফিসার। আমরা কয়েকজন তাঁবু খাটানোর কাজে সাহায্য করে ছিলাম তাঁদের। তাঁবু খাটানোর কাজ শেষে পরের দিনও যেতে বলে ছিলেন। ক্যাম্পে ২২ টি তাঁবু খাটানো হয়েছিল। সেখান থেকেই পাহাড়ে কাজ করার জন্য যেতে বলে ছিলেন তাঁরা। এলাকার ৩০ জন যুবককে পাহাড়ে কাজ করার জন্য নেওয়া হয়েছিল । ক্যাম্প থেকে প্রায় দুই কিলোমটার পোড়া পাহাড়ে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যেত। পাশাপাশি গ্রামের যাঁরা ছিলেন হেঁটে যেত। ওই ক্যাম্পে সরকারি কর্মচারী ছিলেন ২২ জন।আলোককুমার মাহাতো নামে এক ব্যক্তি জানান, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যখন ক্যাম্প হয়েছিল সেই সময় আমরা সেখানে যেতাম। ওই সময় ১০-১১ বছর বয়স ছিল। ক্যাম্পে সিংবাবু নামে এক ড্রাইভার ছিলেন। গাড়িতে করে তিনি কংসাবতী নদীর কেচন্দা ঘাট থেকে ক্যাম্প ও পাহাড়ে ব্যবহারের জন্য জল আনতেন। কারণ, ক্যাম্পে কোনও জলের ব্যবস্থা ছিলোনা। নদীতে জল আনতে যাবার সময় গাড়িতে চাপতে চাইলে নিয়ে যেতেন। আবার পাহাড়ে কাজের জায়গায় যেতে চাইলে সেখানেও নিয়ে যেতেন। তাই শুরু থেকেই গুহা খননের কাজ দেখেছি।দশরথ মাহাতো জানান, মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার দাসগুপ্তবাবুর অধীনে ড্রিল হেল্পার হিসাবে কাজ করতাম। মাসে ৩০০ টাকা মজুরি ছিল। তিনি জানান পাহাড়ের উত্তর পশ্চিম কোনায় পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা কালো রং এর একটি বড় প্রাচীরপাথর আছে। ওই পাথরের উত্তর দিক থেকে ড্রিল করে প্রথম উলফার্ম সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু করার সময় প্রত্যেককে মাথায় টুপি (হেলমেট), পায়ে ফুল সু (জুতো) পরে নিতে হতো। পাথরে এক সঙ্গে ১৮ টি ড্রিল করে তাতে ডিনামাইট দিয়ে পাথর বার্স্ট করা হতো। এই কাজ করতেন অফিসারদের মধ্যে শিবশঙ্কর দাস নামে এক ব্যক্তি। কালো প্রাচীরপাথরের স্তরটি যে দিকে গিয়েছে সেই দিকেই পাথরটি ড্রিল করে ডিনামাইট দিয়ে বার্স্ট করে একটু একটু করে কেটে গুহাটি ভিতরের দিকে ঢুকেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট উচ্চতা এবং সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট চওড়া গুহার ভিতরে কাজ করতে হতো। ভিতরে সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে কাজ করা যেত না কিছুটা ঝুঁকে কাজ করতে হতো। পাথরের আয়তন অনুযায়ী সব জায়গায় সমান ভাবে পাথর কাটা যায়নি। কোথাও বেশি আছে তো কোথাও একটু কম আছে। গুহার ভিতর অন্ধকার থাকায় কার্বাইট ল্যাম্প দেওয়া হতো। সেই আলোতে কাজ করতে হতো। উলফার্ম টুকরো (কালো পাথর) সংগ্রহ করে কাপড়ে মুড়ে সেগুলিকে তাঁরা বাইরে পাঠাতেন। কেটে কেটে ভিতরে ঢোকার সময় কালো পাথর ছাড়া ভিতরে যে মাটি ও পাথর বালি জমা হতো ট্রলিতে করে সেগুলিকে ভিতর থেকে বের করে ফেলা হতো। মূল গুহা ছাড়াও প্রাচীরপাথর যে দিকে যতটুকু গিয়েছে সেই দিকে ততটুকু পাথর কেটে শাখা গুহা তৈরি হয়েছে। ভিতের এই রকম আট-দশটি শাখা গুহা আছে। প্রাচীরপাথরটি প্রায় আড়াই থেকে তিন চেন অর্থাৎ আড়াই থেকে তিনশো ফুট গুহাটি কাটা হয়েছে। ড্রিল করে পাথর কাটার আগে ড্রিল মেশিন দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দেশ এলে তবেই পাথর কাটা হতো। প্রায় দুই-তিন বছর কাজ করার পর দেখা গেল যে পরিমাণ খরচ হচ্ছিল সেই খরচটুকুও সেখান থেকে উঠছিলো না। ফলে পোড়া পাহাড় থেকে উলফর্ম সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে তাঁরা অন্য জায়গা চলে যায়।খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০) জানান ২০-২২ বছর বয়সে কাজে যোগ দিয়ে ছিলেন তিনি। ভিতরে ডিনামাইট বার্স্ট করার পর ভিতরে ঢুকে পাথর মাটি ট্রলিতে করে বাইরে আনা হতো। ট্রলি যাতায়াতের জন্য ট্রেন লাইনের মতো লাইন ছিল। লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ট্রলি ছিল রিভলভিং। যে দিকে ইচ্ছা ঘোরানো যেত। পাহাড়ে যেখানে উলফার্ম তোলার কাজ চলছিল সেখানে জলের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাহাড়ের ঢালে সিমেন্টের বাঁধ দিয়ে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কংসাবতী নদী থেকে গাড়িতে (ট্যাঙ্ক) জল এনে সেখানে চৌবাচ্চায় ঢেলে রাখা হত। সেই জল দিনভর বিভিন্ন কাজে এবং পাথরে ড্রিল করার কাজে ব্যবহার হতো। পাহাড়ে গুহার অদূরে জল ধরে রাখার জায়গাটি আজও সম্পূর্ন অক্ষত আছে।দশরথবাবু জানান, এই পোড়া পাহাড়ে যাঁরা কাজ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে আমডিহা গ্রামের ঁবলাই মাহাতো, চিত্তরঞ্জন মাহাতো, কুঁড়েবাকড়া গ্রামের প্রয়াত হাবু শেখ, বড়মেট্যালা গ্রামের দশরথ মাহাতো, রবি রজক, গৌর সর্দার, জগত সর্দার, গৌর সর্দার (দ্বিতীয়), গতি মাহাতো, ছোটমেট্যালা গ্রামের ঁরতন মাহাতো, অনিল মাহাতো, দাঁড়শোল গ্রামের গুহিরাম মাহাতো, রঞ্জিত মল্লিক (কাঁদরু), ঁননিগোপাল সর্দার, নিমাই বাউরি, গাঁঠিরাম মাহাতো , শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো, রানিবাঁধ থানার ধাদকিডিহি গ্রামের সুধীর মাহাতো, ভেলাইগোড়া গ্রামের ঁধরম মান্ডি, মাইলিহীড়, নগেন ভুইয়া, ঁপবিত্র ভুঁইয়া, তিলাবনী গ্রামের, ঁলস্কর বাস্কে, কৃষ্ণ মাঝি সহ ৩০ জন যুবক কাজ করতেন। কাজ বন্ধ করে সরকারি কর্মীর এখান থেকে চলে যাবার সময় তাঁদের নিয়ে যেতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু এখান থেকে কেউ যেতে রাজি হয়নি। দাঁড়শোল গ্রাম থেকে নিমাই বাউরি ও ননিগোপাল সর্দার নামে দুজন ব্যক্তি গিয়েছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁদের স্থায়ী চাকরি হয়ে যায়। এদের মধ্যে কয়েক বছর আগে ননিগোপাল সর্দার মারা যান। নিমাই বাউরি এখনো সুস্থ স্বাভাবিক আছেন।পরিশেষে বলি গুহা নিয়ে মানুষের কাছে মিথ্যা ভূল তথ্য পরিবেশন না করে আসুন সঠিক তথ্য তুলেধরে বাঁকুড়ার পর্যটন মানচিত্রে আরও একটি নতুন পালকের সংযোজন করতে উদ্যোগী হই আমরা সকলে। মুকুটমণিপুর পর্যটন কেন্দ্র থেকে মাত্র চার সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে পোড়া পাহাড়। অপরদিকে পাহাড় সংলগ্ন কুরকুটিয়া ডুংরি (টিলা)। তার মধ্যখানে সুন্দর ঝিল, অদূরেই পাহাড় সংলগ্ন কৃপাসিন্ধু আশ্রম এবং মন্দির। এখানকার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের যে মনকাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মুকুটমণিপুরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সেখানে ঢোকার আগে বা পরে পাহাড়, গুহা, ঝিল, মন্দির দর্শন করে যেতে পারেন । ইচ্ছা করলে ঝিল সংলগ্ন প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে পিকনিক করতে পারবেন অনায়াসে। তাহলে আর দেরি কেন, এই মরসুমে যাঁরা মুকুটণিপুরে বেড়াতে আসার মনস্থির করছেন তাঁরা পোড়া পাহাড়ের গুহা দেখে যাবার কথা অবশ্যই ভেবে রাখুন।(সুশীল মাহালীর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া)

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজ্য

গভীর রাতে ভয়াবহ আগুনে ভষ্মিভুত বাড়ি, অভিযোগ, দমকল দেরিতে আসায় পুড়ে ছাই লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি

গভীররাতে পূর্ববর্ধমানের মেমারির উদয়পল্লীর পশ্চিমপাড়ার একটি বাড়িতে আগুন লাগে। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় বাড়ির আসবাব সহ সমস্ত সামগ্রী। আগুন লাগার পর স্থানীয় মানুষজন খবর দেন মেমারির দমকল বিভাগকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন ও মেমারি থানার পুলিশ যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ দমকল ডাকার অনেক পরে তাঁরা পৌঁছায়, ততক্ষণে স্থানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। ভষ্মীভুত বাড়িটির মালিক বলাই গোলদার জনতার কথাকে জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন না, মেলায় গিয়েছিলেন, আগুন লাগার সময় তাঁর স্ত্রী ও সন্তান ছিল, তিনি জানান, তাঁরা কী আহত হননি, স্থানীয়দের সাহায্যে তাঁর পরিবার নিরাপদেই আছে।বলাই গোলদার জানান, তিনি বিভিন্ন মেলায় ব্যবসা করে সংসার চালান। আগুন লাগার আগের দিন মহাজনকে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ৫০ হাজার টাকা নগদ রেখেছিলেন। সেই টাকাও উদ্ধার হবেনা জেনে তিনি ভেঙ্গে পরেছেন। স্থানীয় অভিজিৎ মণ্ডল (প্রতিবেশী) জানান তারাই প্রথম আগুনটা দেখেন, তিনি জানান তাঁরা আগুন দেখে দমকলকে ৭টা ১৫ তে ফোন করেন, কিন্তু এক কিলোমিটার দূর থেকে দ্মক্ল বাহিনী আসতে ৮টা ৩০ মিনিট হয়ে যায়। ততক্ষণে স্থানীয় মানুষজনই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছেন। দমকল সুত্রে জানা যায়, তাঁরা মেমারি লেভেল ক্রশিং (রেল গেট) এ ৩০ মিনিট আটকে ছিলেন।মেমারি এলাকায় মাত্র রাজ্য সরকারের অগ্নি নির্বাপণ দপ্তরের একটা মাত্র আগুন নেভানো গাড়ি আছে, সেটাও রেলগেটের দক্ষিন পাড়ে থাকে, কিন্তু মেমারি শহরের সবচেয়ে ঘন বসতি রেলগেটের উত্তর পাড়ে। স্থানীয় মানুষজনের দাবী, দমকল বিভাগ যেন আরও একটা গাড়ি উত্তর পাড়ে রাখেন যাতে রেল গেট পড়ে দেরি হওয়ার কারনে এই রকম ঘটনা না ঘটে।

আগস্ট ২৬, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ বগটুইয়ের প্রত্যক্ষদর্শীর, তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি

আনারুলের পর এবার রাজ্যের মন্ত্রী ও রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপোর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন মিহিলাল শেখ। মিহিলাল রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁর পরিবারের লোকজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ খুনের পরপরই। সংশোধনাগারে আনারুল, লালনরা খেয়ে-দেয়ে ফূর্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মিহিলালের অভিযোগ, এই সমস্ত ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। পুরো বিষয়টা তিনি সিবিআইকে জানাবেন বলেছেন। এদিকে মিহিলালের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আশিষ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।কী বলেছেন মিহিলাল শেখ?আমার পরিবার তো শেষ হয়ে গেল। আনারুলরা জেলের মধ্যে ফূর্তি করছে। জেলে বিয়ার, মদ খেয়ে এনজয় করছে। বাড়িতে যা পেত তা জেলে পাচ্ছে। বাইরে থেকে খাবার যাচ্ছে। আমাদের লোকজনকে শেলে রেখে দিয়েছে। এসবে মদত দিচ্ছে আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভাইপো আমাদের ওপর অত্যাচার করত। আনারুলকে গাইড করছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এসব কান্ড আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। একমাসেও কোনও খবর নেয়নি। ওর লোকজনও খবর নিতে আসেনি। আমি বিডিওকে হোয়াটসঅ্যাপে খাদ্যদ্রব্যের জন্য পাঠিয়েছিলাম। প্রথমে তিন-চার দিনের জন্য কিছু পাঠিয়েছিলেন। এখন সব বন্ধ। আমরা এক মাসের খাবার চেয়েছিলাম প্রশাসনের কাছ থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সত্বেও কোনও খাবার দিচ্ছে না প্রশাসন। পুরো বিষয়টা সিবিআইকে জানাব। চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট নই। কারণ জীবনের বিনিময়ে কিছু হয় না।এর আগে বগটুইয়ের ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের নাম জড়াচ্ছিল। আনারুল কার লোক তা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। আনারুলকে সুপারিশের বিষয় সংক্রান্ত জেলা তৃণমূল সভাপতিকে দেওয়া চিঠিও বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। এবার সরাসরি অভিযোগ উঠলো রামপুরহাটের বিধায়কের বিরুদ্ধে। তবে আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অভিযোগকেই পাত্তা দিতে নারাজ।

এপ্রিল ১৯, ২০২২
রাজ্য

বগটুইয়ে গ্রেফতার টোটোচালক, সিবিআইয়ের হাতে পেট্রল পাম্পের সিসি টিভি ফুটেজ

বগটুই কাণ্ডে ফের ওই গ্রামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এর আগে মুম্বাই থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ধৃত ব্যক্তি রিটন শেখ পেশায় টোটোচালক। রিটনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন তথ্য মিলবে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। এদিকে মনসুবা মোড়ের পেট্রল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সিবিআই।সূত্রের খবর, বগটুই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীরা রিটন শেখের নাম বলে। ওই গ্রামেই বাড়ি তাঁর। সূত্রের খবর, রিটন শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, মনসুবা মোড়ের পেট্রল পাম্প থেকে ঘটনার দিন জারে করে পেট্রল আনা হয়েছিল। সেই পাম্পে গিয়ে সিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেই ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বগটুই কাণ্ডে সিট গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। পরে আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার হাতে নেয়। অভিযোগ, তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের পর পেট্রল দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় ৯ জনকে। তার আগে তাঁদের মারধর করে জখম করা হয়েছিল। নানা অত্যাধুনিক পদ্ধতিও বগটুই তদন্তে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ঘটনার পর বগটুই গ্রামে মাটির নীচ থেকে বোমাও উদ্ধার করেছে সিবিআই। রাজ্যের একের পর এক ঘটনায় সিবিআইয়ের হাতে তদন্ত ভার তুলে দিয়েছে হাইকোর্ট। বগটুই কাণ্ডে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এপ্রিল ১৪, ২০২২
রাজ্য

বগটুই গণহত্যার সঙ্গে ভাদু খুনের ঘটনারও তদন্তে সিবিআই, নির্দেশ হাইকোর্টের

বগটুই গণহত্যার পাশাপাশি তৃণমূল উপপ্রধান ভাদু শেখের খুনের তদন্ত করবে সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতিরা মনে করছেন একটা ঘটনার সঙ্গে অন্যটার ইন্টারলিংক আছে। দুটি ঘটনা দুটি সংস্থা তদন্ত করলে সঠিক হত না। মামলাকারীরা দাবি করছিলেন, একটা ঘটনার সঙ্গে আরেকটা যুক্ত। সিবিআই তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।বগটুই মোড়ে তৃণমূল উপপ্রধান খুন হওয়ার পর বগটুই গ্রামে একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরানো হয়। তার মধ্যে একটি বাড়িতে ৮ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। অন্য একটি বাড়িতও একজন মারা যায়। এই গণহত্যার ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য-রাজনীতি। কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমে গণহত্যার ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। ভাদু খুনের দুঘন্টার মধ্যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। দুটো ঘটনার মধ্যে সংযোগ রয়েছে বলে রিপোর্টে জানিয়েছে সিবিআই।এদিকে মুম্বাই থেকে গণহত্যার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাদের রামপুরহাটে নিয়ে এসে জেরা করা হবে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই।

এপ্রিল ০৮, ২০২২
রাজ্য

বগটুই কান্ডে মুম্বাই থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার সিবিআইয়ের

বগটুই কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার করল সিবিআই। বাপ্পা শেখ, সাবু শেখ সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন করে তাঁদের ধরা হয় মুম্বাই থেকে। জানা গিয়েছে, সিবিআই মুম্বাইয়ে তাদের আদালতে পেশ করে। তাদের রিমান্ডে রামপুরহাট নিয়ে আসবে সিবিআই। ঘটনার পরই তারা মুম্বাইয়ে পালিয়ে যান। বগটুইয়ে আগুন লাগিয়ে গণহত্যার ঘটনায় এদের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভাদু শেখের খুনের পর বগটুইয়ে ৯ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে খুন করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ওই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই।বিস্তারিত আসছে......

এপ্রিল ০৭, ২০২২
রাজ্য

উডবার্ণেই অনুব্রত মন্ডল, দুই আইনজীবী চিঠি ধরালেন সিবিআইকে

পঞ্চমবার নোটিশ হয়ে গেল, তবু সিবিআইয়ের মুখোমুখি হলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কর্মসমিতির সদস্য অনুব্রত মন্ডল। গতকাল, মঙ্গলবার কলকাতায় চিনারপার্কের ফ্লাটে এসে উঠেছিলেন অনুব্রত। তবে এদিন নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে তিনি যাবেন কীনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। এদিন দুপুরে তিনি সোজা চলে যান এসএসকেএমে হাসপাতালে। সেখানে উডবার্ণ ওয়ার্ডে তিনি ভর্তি হয়েছেন।এদিকে তাঁর ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজাম প্যালেসে অনুব্রত মন্ডলের দুই আইনজীবী সিবিআই দফতরে হাজির হন। তাঁরা সিবিআইকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের মক্কেলের শরীর অসুস্থ। সিবিআই বারে বারে নোটিশ দেওয়ায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি আসতে পারবেন না। এবারেও গরুপাচার কান্ডে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হলেন না বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি। এর আগে আরও চারবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল অনুব্রত মন্ডলকে।হাইকোর্টে কক্ষাকবচ-এর আবেদন করেছিলেন অনুব্রত। হাইকোর্ট তাঁর ওই আবেদন বাতিল করে দেয়। বার বার তলব করা সত্বেও সিবিআইয়ের দফতরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারছেন না। এমনটাই বক্তব্য তাঁর আইনজীবীদের। বরং তাঁদের দাবি, অনুব্রতর সিবিআই দফতরে আসার সদিচ্ছা আছে।এদিকে এসএসকেএম হাসপাতালে অনুব্রত মন্ডলের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর আগেও তিনি এসএসকেএমে ভর্তি হয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, অনুব্রতর বুকে ব্যাথা রয়েছে। পেটেও সমস্যা রয়েছে। ইতিমধ্যে, ইসিজি করা হয়েছে অনুব্রতর{ ইসিজিতে কিছু সমস্য়া পাওয়া গিয়েছে। সেই সমস্য়া কতটা গুরুতর তা পরীক্ষার জন্য় ইকো করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিতসকরা।

এপ্রিল ০৬, ২০২২
রাজ্য

ধর্মঘটে দুর্গাপুরে টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ, গ্রেফতার বাম কর্মী-সমর্থকরা

মঙ্গলবার সাধারণ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে কোনও প্রভাব না পড়লেও মঙ্গলবার দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন বাম কর্মী সমর্থকরা।সোম বার ও মঙ্গলবার সারা দেশ ব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমূহ। সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বাম কর্মী সমর্থকরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিভিন্ন থানার পুলিশ পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে।পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের শুরু হয় বচসা ও ধস্তাধস্তি।বিক্ষোভকারীদের সরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

মার্চ ২৯, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় স্বোচ্চার হবে বিজেপি বিধায়করা

রামপুরহাটের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় প্রতিবাদে স্বোচ্চার হবে। ওই দিন রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিজেপি বিধায়করা স্বোচ্চার হবেন তাঁরা। বুধবার রামপুরহাট থেকে ফেরার পথে বর্ধমানের এদিন রাতে জেলা বিজেপি পার্টি অফিসে এসে এই কথা জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।শুভেন্দু অধিকারী এদিন আরও বলেন, রাজ্যে খুনের রাজনীতি চলছে। পাড়ুইয়ে আবার একজন খুন হয়েছেন। রামপুরহাটের ঘটনার প্রতিবাদে লোকসভা ও বিধানসভার ভিতরে প্রতিবাদের পাশাপাশি বাইরেও প্রতিবাদ জারি রাখবে বিজেপি। রাজ্যের প্রতিটা মণ্ডলে বিজেপি কর্মীরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাবে। সরাষ্ট্রমন্ত্রক ৭২ঘন্টার মধ্যে রামপুরহাটের গণহত্যা কাণ্ডের রিপোর্ট চেয়েছে। ঘটনার পর থেকে বুধবার ২৪ঘন্টা পার হয়ে গেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর সরাষ্ট্রমন্ত্রক পদ্ধতি মেনে পরবর্তী সিদ্বান্ত নেবে। শুভেন্দু বাবু বলেন, তাঁরা চান এনআইএ ও সিবিআই রামপুরহাটের গণহত্যা কাণ্ডের তদন্ত করুক। প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘটনার বিষয়ে অবহিত আছেন। এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি লড়াই চালিয়ে যাবে। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও একই কথা বলেন।

মার্চ ২৩, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল নেতা খুনে অগ্নিগর্ভ রামপুরহাট, ঝলসে মৃত্যু ১২ জনের

বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। বগটুইতে পর পর বাড়িতে আগুন। অগ্নিদগ্ধ বাড়িগুলি থেকে ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে দমকল। বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, একটি বাড়িতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছে সিআইডি এবং ফরেন্সিক টিম। হেলিকপ্টারে রামপুরহাট যাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম (বীরভূমের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা), আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিত সিনহা।রামপুরহাটের এই এলাকা কয়েকমাস ধরেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। আট মাসে আগে বাড়ি ফেরার পথে খুন হয়েছিলেন ভাদু শেখের মেজো ভাই। জানা গিয়েছিল, রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এর পর সেই একই কায়দায় খুন হলেন তৃণমূলের উপপ্রধান। আর তার ঠিক পরপরই গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এতজনের মৃত্যু। ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে তদন্তকারী দল পাঠানো হচ্ছে রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে। সূত্রের খবর, সিআইডি টিম যাচ্ছে সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে প্রাথমিকভাবে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। তাঁর দাবি, ৭টি বাড়িতে আগুনের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।সোমবার রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে বোমা হামলায় তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের মৃত্যু হয়। ভাদু রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন। তাঁর বাড়ি রামপুরহাট থানা এলাকার বগটুই গ্রামে। সেখানে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন ভাদু। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে পালায় এক দল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর স্থানীয়েরা রক্তাক্ত অবস্থায় ভাদুকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ভাদুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ওই গ্রাম। পর পর বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন,সোমবার রাতে তিন জনের ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার সকালে আরও সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সাত জনই একটি বাড়িতে ছিলেন। দমকলের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বারো জনের মৃত্যু হয়েছে। বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, তিন চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। টিভি ফেটে আগুন লাগে। দমকল, পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, তার পর বলব। তবে উপপ্রধান খুনের সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনুব্রত।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে অগ্নিকাণ্ডে কোভিড রোগীর মৃত্যুর কারণ অক্সিজেন সিলিন্ডার না মশা মারার ধূপ? তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত এক প্রৌঢ়ার। মৃতার নাম সন্ধ্যা মণ্ডল (৭২)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গলসির বড়মুরিয়া গ্রামে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে। হাসপাতাল কর্মীরাই প্রথম আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছায়। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখেন দমকলের আধিকারিকরা। ওয়ার্ডে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছে নাকি মসা মারার ধূপ থেকে বেডে আগুন ধরে গিয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের তরফে একটি এফআইআর করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মৃতদেহটি এদিনই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ভিসেরা সংগ্রহে রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে এক রোগীনির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বেলা বাড়তেই রাজ্য জুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হয় রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা ও বিধায়করা। তড়িঘড়ি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়। স্বাস্থ্য দফতরের তিন সদস্যের কমিটি হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত করবে। জানা গিয়েছে, ওই কমিটিতে রয়েছেন স্পেশাল সেক্রেটারি অনিরুদ্ধ নিয়োগী, আরজিকর হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোমনাথ দাস ও নার্সিং মেম্বার মণিকা গায়েন। পাশাপাশি বর্ধমান হাসপাতালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারী হাসপাতালে ফায়ার অডিটের নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট উপসর্গ থাকায় পরিবারের লোকজন গত বুধবার প্রৌঢ়া সন্ধ্যা মণ্ডলকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড অর্থাৎ রাধারানী ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানেই তাঁর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এলে পরদিন সন্ধ্যাদেবীকে হাসপাতালের কোভিড জেনারেল বেডে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর অক্সিজেন চলছিল। রাতে ওয়ার্ডের বাইরে শুয়েছিলেন রোগীর পরিজনরা। শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ওয়ার্ডের ৬ নং ব্লকের ৮০ নম্বর বেডে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। সেই বেডে থাকা সন্ধ্যাদেবী আগুনে পুড়ে দগ্ধ হন। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।রাধারানী ওয়ার্ডের বাইরে রাতে শুয়ে থাকা রোগী পরিজনদের একজন হলেন মেমারির নিশিরাগড় নিবসী বাসি হেমব্রম। তিনি জানান, রাধারানী ওয়ার্ডের উল্টোদিকের বপডে তিনি শুয়েছিলেন। হঠাৎ শুনতে পান ওয়ার্ডের ভিতর থেকে আগুন আগুন বলে এক মহিলা চিৎকার করছেন। তেমনটা শুনেই দ্রুত তিনি ছুটে ওয়ার্ডে ভিতর যান। গিয়ে দেখেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভিতরের একটি বেডে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তা দেখে ওয়ার্ডে থাকা বাকি রোগীরা ছুটে বেড়িয়ে আসছে। রোগীদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ওয়ার্ডে পৌছে আগুন নেভায়। তারই মধ্যে আগুনে পুড়ে দগ্ধ হন প্রৌঢ়া রোগী। পরে তিনি মারা যান । অপর এক রোগীর পরিজন সুমিত্রা মাঝি জানান, আগুন দেখে অনেক কোভিড রোগী ভয়ে বাইরে চলে আসে। ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন হাসপাতালে আসে। তার আগেই হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা আগুন নিভিয়ে ফেললেও প্রৌঢ়া কোভিড রোগী মারা যান। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর দমকলের আধিকারিকরা ওয়ার্ডে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। দমকলের এক আধিকারিক দীপক সেন জানান, ওয়ার্ডে একটি বেড ছাড়া অন্য কোন বেডে আগুন লাগেনি। মশার ধূপ থেকেই ওই বেডে আগুন লেগেছে বলে তাদের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার পরেই দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌছান প্রিন্সিপ্যাল প্রবীর সেনগুপ্ত, সুপার তাপস ঘোষ সহ অন্যা চিকিৎসকরা। বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্ত্তীও একই সময়ে হাসপাতালে পৌছান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। পরে প্রিন্সিপ্যাল প্রবীর সেনগুপ্ত জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তের জন্য ফরেন্সিক দলকে বলা হয়েছে। এছাড়াও একটি পাঁচ সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা করবে। সুপার তাপস ঘোষ জানান, অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে আশঙ্কা করাহচ্ছে। মৃতদেহের পাশে গ্যাস লাইটার, দেশালাই পাওয়া গিয়েছে। কোন কারণে ওই রোগীনি আগুন ব্যবহার করেছিলেন কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।হাসপাতালে উপস্থিত থাকা মৃতার মেয়ে রানু মণ্ডল এদিন বলেন, মায়ের ব্যাগে থালা ও জলের বোতল ছিল। লাইটার, দেশালাই ছিল না। তাঁরাও ওইসব মাকে দেননি। বাড়ি থেকে শুক্রবারই মসারি এনে দিয়ে ছিলেন। তাই মাসা মারার ধূপ জ্বালানোর কোন প্রয়োজনই থাকেনি।বর্ধমান হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এদিন রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় ফেলে দেয়। এদিন দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিজেপির সাত সদস্যদের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুই, বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা, বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা সহ বর্ধমান জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। বিধানসভার বিরোধি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই পরিদর্শন বলে জানান বিজেপি নেতারা। এই প্রতিনিধি দল কোভিড ওয়ার্ড পরিদর্শন করতে গেলেও দুর্ঘটনাস্থল সিল থাকার জন্য যেতে পারেননি। পরে তাঁরা হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা জানান। হাসপাতাল চত্ত্বরে দাঁড়িয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিজেপির প্রতিনিধিরা। মৃতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দেওয়ার দাবিও তোলেন বিজেপি নেতৃত্ব। বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সম্পাদক অভিজিৎ নন্দী অভিযোগ করেন, সাংসদ কোটার দেড় কোটি টাকা খরচ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপাত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল কতটা তলানিতে ঠেকেছে তার রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যা জানার পর লজ্জায় উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের মাথা হেট হয় গেলেও বিজেপি নেতাদের হয়নি। ওদের লজ্জা-শরম নেই বলে বর্ধমান হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে শুরু করে দিয়েছে ।

জানুয়ারি ২৯, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে আগুনে ঝলসে গেল কোভিড রোগী, কারণ অনুসন্ধানে তড়িঘড়ি তদন্ত কমিট গঠন

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল এক রোগীর। শনিবার ভোররাতে ওই ওয়ার্ডে আগুন লাগে। সেই আগুনে ঝলসে যায় একজন কোভিড রোগী। মৃতের নাম সন্ধ্যা মণ্ডল(৬০)। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গলসির বড়মুড়িয়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ হাসপাতালের রাধারাণী ওয়ার্ডে আগুন লাগে। বর্তমানে রাধারাণী ওয়ার্ডকে কোভিড রুগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে ৬ নম্বর ব্লকে ভর্তি ছিলেন কোভিড রোগী সন্ধ্যা মণ্ডল। কোভিড ওয়ার্ডের অন্য রোগীর আত্মীয়রা দাবী, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও অন্য কর্মীরা ঘুমিয়ে ছিল। যদিও নিরাপত্তার গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। ততক্ষণে হাসপাতালের কর্মীরাই আগুন নিভিয়ে ফেলে। জানা গিয়েছে, এক কোভিড রোগীর আত্মীয় প্রথম আগুন দেখতে পান। তারপর তিনি অন্যদের জানান।এদিকে বর্ধমান হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ প্রবীর সেনগুপ্ত জানান, ফরেন্সিক দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বর্ধমান থানার পুলিশ।

জানুয়ারি ২৯, ২০২২
রাজ্য

স্কুল খোলার দাবিতে বর্ধমানে শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠন

বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন চালুর দাবীতে পথে নেমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। স্কুল খোলার দাবিতে মঙ্গলবার বর্ধমানের কার্জনগেট চত্ত্বরে যৌথ ভাবে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে নামে এবিটিএ,এবিপিটিএ, এসএফআই এবং বিএসপিএসের সদস্যরা। সেখানেই তারা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।সরকার দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে আইন অমান্য আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি এদিন দিয়েছেন এসএফআই নেতৃত্ব।আন্দোলনকারীরা এদিন অভিযোগ করেন, রাজ্যে মেলা,খেলা সবই চলছে। সর্বত্র স্বাভাবিক জীবনযাপনও চলছে। অথচ শুধু বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়গুলি। দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে এসএফ আই আইন অমান্য আন্দোলন করবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত গুপ্ত বলেন, আমরা চাই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হোক। আবার স্কুলমুখী হোক ছাত্রছাত্রীরা। পঠন পাঠন চালুর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে পূর্বের শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এটাই আমাদের মূল দাবি। সুদীপ্তবাবু আরও জানান, এবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনুপস্থিত থেকেছে। বেড়েছে ড্রপ আউটের সংখ্যা। অনেক মেয়ে আছে যাদের অল্প বয়সে এই সময়ের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। এরকম অবস্থা যদি চালু থাকলে আগামি দিনে শিক্ষাব্যবস্থা আরও চরম সংকটে পড়বে। তাই তাঁরা চান অবিলম্বে পঠন-পাঠন শুরু হোক বিদ্যালয় গুলিতে। এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক অনির্বাণ রায় চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি তুলেছে বামপন্থী শিক্ষক এবং ছাত্র সংগঠন গুলি। রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ও মানবসম্পদের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলতে হবে। এই দাবিতে আগামী ২৭ তারিখ গোটা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা আকাশের নিচে ওপেন এয়ার ক্লাসরুম করবেন।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

সারা শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে জ্বলন্ত উনানে ঝাঁপ! মৃত্যু আদিবাসী যুবকের

গোটা শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে জ্বলন্ত উনানে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক আদিবাসী যুবক। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার শিলাকোট গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুকুল মুর্মু(৩০)। মানসিক অবসাদে থাকার কারণেই যুবক এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবার সদস্যরা। পুলিশ যদিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে যুবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যুবকের এমন মৃত্যুর ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত এলাকাবাসী।আরও পড়ুনঃ উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে অভিজাত আবাসনগুলিই, স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট পেশ নবান্নেপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় জনমজুর শিলাকোট গ্রামের বাসিন্দা সুকুল মুর্মুর বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, দুই নাবালক ছেলে ও বাবা মা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সুকুল বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিল। আগে কয়েকবার পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের তৎপরতার তাঁর প্রাণ বাঁচে। কিন্তু সোমবার রাতে তাঁর স্ত্রী সরস্বতী মুর্মু যখন উনানে রান্না করছিলেন তখন সুকুল গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আচমকা উনুনে ঝাঁপ দিয়ে দেয়। তাঁর গোটা শরীর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান সরস্বতী মুর্মু। সরস্বতীর চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সুকুলের শরীরের আগুন নিভিয়ে ফেলে। স্থানীয়রাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান হাসপাতালে সুকুলের মৃত্যু হয় ।

জানুয়ারি ১২, ২০২২
রাজ্য

Childs Burn: শীত নিবারণের জন্য জ্বালানো আগুনের মধ্যে পড়ে গিয়ে দগ্ধ শিশু

শীত নিবারণের জন্য জ্বালানো আগুনের মধ্যে পা পিছলে পড়ে গিয়ে দগ্ধ হল এক শিশু। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি বুধবার সকালে ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের একটি ইট ভাটায়। আশঙ্কানক অবস্থায় শিশুপুত্র লিটো মাজি (৮) কে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনার আকশ্মিকতায় স্তম্ভিত ইটভাটার সকল শ্রমিকরা।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্রদ্বীপের ইঁটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁদের বাড়ি বিহারে। ভাটার শ্রমিকদের কথায় জানা গিয়েছে, শীত নিবারণের জন্য এদিন সকালে তাঁরা কাঠ কুটো যোগড় করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন। ওই সময়ে কাছে-পিঠেই ছোটাছুটি করছিলেন কয়েকটি শিশু. তাদের মধ্যে শিশুপুত্র লিটো মাজিও ছিল।। ছুটোছুটি করে খেলার সময়ে হঠাৎতই পা পিছলে লিটো সোজা আগুনের মধ্যে গিয়ে পড়ে। আর তাতেই ঘটেযায় বিপত্তি। লিটোর শরীরের অনেকাংশ আগুনে দগ্ধ হয়। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় পরে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে তেল আমদানিতে নতুন দিশা ভারতের, ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার দিকে ঝুঁকতেই শুল্ক ছাঁট যুক্তরাষ্ট্রের

রাশিয়ার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিল ভারত। তেল আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়াকে ধীরে ধীরে পেছনে সরিয়ে এবার ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে নয়াদিল্লি। ভারতের এই ঘোষণার অব্যবহিত পরেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটনভারতের উপর আরোপিত আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হল।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি ঘটনাই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।তেল আমদানিতে কৌশল বদল ভারতেরইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া থেকে স্বল্পমূল্যে তেল আমদানি করছিল ভারত। তবে পশ্চিমী দেশগুলির চাপ, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে কেন্দ্র।সরকারি সূত্রের খবর, ভেনেজুয়েলা থেকে ভারী ক্রুড অয়েল এবং আমেরিকা থেকে লাইট সুইট ক্রুড আমদানির পরিকল্পনা করছে ভারত। এতে একদিকে যেমন সরবরাহে বৈচিত্র আসবে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের দর কষাকষির ক্ষমতাও বাড়বে।আমেরিকার শুল্ক ছাঁটকূটনৈতিক বার্তা?ভারতের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন। আগে যেখানে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হত, তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার একটি কূটনৈতিক বার্তাও বটে। বিশেষ করে শক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াতে চাইছে আমেরিকা।ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনাশুল্ক কমার ফলে ভারতীয় পণ্যবিশেষ করে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অটো যন্ত্রাংশ ও আইটি-সংক্রান্ত রপ্তানিতে সুবিধা মিলতে পারে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের খরচ কমবে এবং মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের ভারসাম্যনীতিএকদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করে, অন্যদিকে আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারএই ব্যালান্সিং অ্যাক্ট-ই এখন ভারতের বিদেশনীতি। শক্তি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলার এই কৌশলই আগামী দিনে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।সব মিলিয়ে, তেল আমদানি ও শুল্ক ছাঁটএই দুই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

‘উনি জমিদার, আমরা চাকর নই’, কমিশন বৈঠকের পর ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য মৃত তিন জন বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারও। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে বৈঠক চলে। বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতা বলেন, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন যে, বিজেপির চাপে তিনি কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার মিথ্যে কথা বলেছেন এবং জেনে বুঝে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এমন ভঙ্গিতে কথা বলা হয়েছে যেন কমিশনার নিজেকে জমিদার ভাবছেন আর অন্যরা তাঁর অধীনস্থ কর্মচারী।তিনি আরও বলেন, বহু নির্বাচন কমিশনার দেখেছেন তিনি, কিন্তু এমন আচরণ আগে কখনও দেখেননি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির তোতাপাখি বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। সেই সঙ্গে সীমা খান্নার নাম তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি কমিশনের কেউ নন, বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, সীমা খান্নার নির্দেশেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তবে এত অভিযোগের মধ্যেও মমতা স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই নির্বাচন বয়কট করবে না। তিনি বলেন, এই ভুল তাঁর দল কখনও করবে না। ভোটের লড়াই তাঁরা রাস্তায় নেমেই লড়বেন।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
রাজ্য

অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচল ২০২ পরীক্ষার্থীর! মাধ্যমিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরীক্ষার্থীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাককাটি গাছ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। যদিও পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।সোমবার নির্ধারিত সময়েই নাককাটি গাছ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। ওই কেন্দ্রে বালাভূত হাই স্কুল, বালাভূত বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ এবং কৃষ্ণপুর স্কুলের মোট ২০২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎই স্কুলের ক্যান্টিনে চা বানানোর সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়।মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দেন। তাঁরা জ্বলন্ত গ্যাস সিলিন্ডারটি টেনে দ্রুত স্কুল ভবনের বাইরে মাঠের মাঝখানে নিয়ে যান। ভিজে বস্তা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় তুফানগঞ্জ দমকল কেন্দ্রে।দমকল বাহিনী পৌঁছনোর আগেই বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডারটি ফেটে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পরীক্ষা ছেড়ে দ্রুত স্কুলের মাঠে বেরিয়ে আসেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি, এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল বসাক জানান, পুলিশের তৎপরতার জন্যই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সিলিন্ডারটি ফাঁকা মাঠে বিস্ফোরিত হওয়ায় কেউ আহত হননি।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা আবার শান্তভাবে পরীক্ষায় বসেন এবং নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

হ্যালি রোড বন্ধ, পুলিশে ঘেরা বঙ্গভবন! বেরিয়ে এসে শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার

রবিবার বিকেলে দিল্লিতে পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। হঠাৎ করেই দিল্লি পুলিশ ঘিরে ফেলে বঙ্গভবন। সেই পরিস্থিতিতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন মমতা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনেই সোজা চলে যান বঙ্গভবনে।সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনে এক নজিরবিহীন ছবি দেখা যায়। এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগে বাংলায় স্বজন হারানো একাধিক পরিবারের সদস্য তখন বঙ্গভবনে ছিলেন। সেই ভবনই অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশে ভরে যায়। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড। এই অবস্থায় বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সকাল থেকে দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, কে কে এসেছে তা খোঁজা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এভাবে তল্লাশি চালানোর অধিকার পুলিশের নেই। বঙ্গভবন তাঁদের নিজস্ব জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ওই পরিবারগুলি দিল্লিতে এসেছে। অনুমতি পেলে তাঁরা প্রতিবাদ জানাবেন বলেও জানান তিনি।মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশন রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে, অভিযোগ জানানোর সাংবিধানিক জায়গা রয়েছে। তারপরও যদি এভাবে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলও চুপ করে থাকবে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।সেই সময়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, বাংলায় গেলে তাঁরা সম্মান দেখান, রেড কার্পেট পেতে দেন। কিন্তু দিল্লিতে যদি ব্ল্যাক কার্পেট দেখানো হয়, তাহলে তার ফলও ব্ল্যাক রেজাল্ট হবে। মমতা জানান, মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক হবে। সেখানে স্বজনহারানো পরিবারগুলি নিজেরাই বলবেন, বাংলায় তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছে।এরপর বঙ্গভবনে ঢুকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সাধারণ মানুষ। তাঁরা কোনও বিক্ষোভ করতে আসেননি। শুধু বিচার চাইতেই এসেছেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দিল্লি ছেড়ে চলে যাবেন বলেও জানান মমতা। এত বছর দিল্লিতে থেকেও এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এরপর স্বজনহারানো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বঙ্গভবনের ভিতরে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে হ্যালি রোডের পুরনো বঙ্গভবনের দিকে রওনা দেন তিনি।এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির তরফেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, বঙ্গভবন দিল্লিরই অংশ, তাই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ ঢুকতেই পারে। নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এক ম্যাচেই ৪৫০০ কোটি! ভারত-পাক না খেললে কাঁপবে ক্রিকেটের অর্থনীতি

টি-২০ বিশ্বকাপে যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ না হয়, তাহলে গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা খেতে হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই একটি ম্যাচ না হলে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল লাভ। সম্প্রচারকারী সংস্থা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনদাতা, স্পনসর, টিকিট বিক্রিসব ক্ষেত্রেই এই ম্যাচ সবচেয়ে বেশি আয় এনে দেয়।এই কারণেই প্রতি মেগা টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানকে সাধারণত একই গ্রুপে রাখা হয়। কিন্তু আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে যদি দুই দল মুখোমুখি না হয়, তাহলে ক্রিকেটের ব্যবসায়িক দুনিয়ায় বড় ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যবসার দিক থেকে ভারত-পাক ম্যাচের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, ভারত যদি অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে ফাইনালও খেলে, তাতেও এই পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয় না।প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, একটি ভারত-পাক ম্যাচ থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যদি মাঠে না নামে, তাহলে এই বিশাল অঙ্কের লোকসান হবে বলেই আশঙ্কা।পরিসংখ্যান বলছে, শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই এই ম্যাচে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। ম্যাচ চলাকালীন মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম উঠতে পারে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। সূত্রের খবর, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারেএই আশঙ্কা করেই সম্প্রচারকারী সংস্থা জিও হটস্টার আইসিসির কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে। আইসিসি যদি সেই ছাড় দেয়, তাহলে তাদের লাভ কমবে। আর আইসিসির আয় কমলে তার প্রভাব পড়বে সদস্য দেশগুলির উপরও। আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থ কমে যেতে পারে বিভিন্ন বোর্ডের।ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্তত ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান। এর জেরে বোর্ডের একাধিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি থমকে যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতীয় বোর্ডও। ভারত-পাক ম্যাচ ঘিরে সাধারণত হোটেল ভাড়া, বিমান ভাড়া এবং পর্যটন সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যায়। ম্যাচ না হলে এই ক্ষেত্রগুলিও আর্থিক ধাক্কা খাবে।এছাড়াও আইসিসি থেকে যে বিপুল অর্থ পাওয়ার কথা, তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারে পাকিস্তান বোর্ড। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এইভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে তাদের উপর ভরসা করে বড় কোনও সংস্থা বিনিয়োগ করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
কলকাতা

ঢাকুরিয়ায় গুলি-বোমার নেপথ্যে কে এই সোনা পাপ্পু? শাসক-ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তোলপাড়

রবিবার রাতে গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এই হামলা। এই ঘটনার নেপথ্যে সোনা পাপ্পু এবং তাঁর দলবলের নাম উঠে এসেছে। কে এই সোনা পাপ্পু, আর কার মদতে তিনি এতটা প্রভাবশালী, তা নিয়েই এখন এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।কসবা, ঢাকুরিয়া এবং রামলাল বাজার এলাকায় সোনা পাপ্পু এখন আতঙ্কের নাম বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে এলাকায় নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন তিনি। রবিবার রাতে ঘটনার পর ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে কাঁকুলিয়া রোডে দেখা যায়। যদিও ওই এলাকা ৯০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে, যার কাউন্সিলর তাঁর স্ত্রী চৈতালি চট্টোপাধ্যায়।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরভোট বা অন্য কোনও নির্বাচনের সময় বিরোধীদের ঘরবন্দি করে রাখার কাজেও সোনা পাপ্পুকে ব্যবহার করা হয়। মাসখানেক আগে কলকাতা পুরনিগমে ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণের পিছনেও সোনা পাপ্পুর হাত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরনিগমের আধিকারিকরাও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না। শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাই এর কারণ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।কসবা বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আগেও বহুবার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই নির্মাণকে ঘিরে শাসকদলের মধ্যেই দুই থেকে তিনটি গোষ্ঠী এলাকা দখলের লড়াইয়ে নেমেছে। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই গোটা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে, বিশেষ করে ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ড। রবিবার রাতের ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি স্থানীয়দের।এলাকাবাসীদের দাবি, ঢাকুরিয়ার পঞ্চাননতলা বস্তি দীর্ঘদিন ধরেই সোনা পাপ্পুর নজরে ছিল। অভিযোগ, বস্তির বাসিন্দাদের ভয় দেখিয়ে উচ্ছেদ করে সেখানে নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু বর্তমানে ওই বস্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বাপি নামে স্থানীয় এক যুবক। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এখন বাপির কথাতেই চলাফেরা করেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বস্তির কয়েকজন মাতব্বর, যাঁরা শাসক দলেরই এক গোষ্ঠীর আশ্রয়ে রয়েছেন, সোনা পাপ্পুর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সেই কারণেই বস্তির দখল নিতে না পেরে সংঘর্ষের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের একাধিক নেতার ছবি সামনে এসেছে। কখনও তাঁকে কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের পাশে দেখা গিয়েছে, আবার দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমারের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীকেও সোনা পাপ্পুর মেয়ের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে বলে দাবি।তবে এই ঘটনার পর দেবাশিস কুমার বলেন, যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের গ্রেফতার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই সে অপরাধী শাস্তি পাবে না, এমনটা নয়। যে অন্যায় করবে, সে যে মঞ্চেই থাকুক, তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
কলকাতা

রবিবার রাতে ভয়াবহ তাণ্ডব দক্ষিণ কলকাতায়, গোলপার্কে গুলি-বোমা, আহত ২

দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় রবিবার রাতে ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পিকনিককে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিবার তাঁরা পিকনিক সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় হঠাৎ অন্য এলাকার কয়েকজন যুবক এলাকায় ঢুকে গোলমাল শুরু করে। তাদের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। ভয়ে বহু মহিলা ঘরের ভিতরে চলে যান।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এই দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপক্ষের মধ্যে ইট ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। ইটের আঘাতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে এবং অন্তত এক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় দুই জন আহত হয়েছেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ, সেই সময় জনতার একাংশ পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। এই গোলমালের মধ্যে কয়েকটি বাইক ও স্কুটি ভাঙচুর করা হয়।এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এলাকা দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল ও বোমার টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

মমতার কমিশন যাত্রার আগেই দিল্লিতে উত্তেজনা! ঘিরে ফেলা হল বঙ্গভবন

সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগেই দিল্লিতে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। সোমবার সকাল থেকেই হঠাৎ রাস্তায় নামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায় বঙ্গভবনের সামনে। কার্যত ঘিরে ফেলা হয় বঙ্গভবন। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড।কী কারণে এত কড়া নিরাপত্তা, দিল্লি পুলিশের কাছে ঠিক কী তথ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বঙ্গভবনে যে একাধিক পরিবার অপেক্ষা করছেন, সেই বিষয়টি ঘিরেই জল্পনা বাড়ছে। এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অভিযোগ নিয়েই তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১৫ জন প্রতিনিধি।যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁরা বর্তমানে বঙ্গভবনে রয়েছেন। এখানেই শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কী কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। শুধুই কমিশনের সঙ্গে বৈঠক, নাকি সন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে কমিশন ঘেরাও করার পরিকল্পনা রয়েছে? একশোর বেশি মানুষ যখন একত্রিত হয়েছেন, তখন শুধু বৈঠক সেরে ফিরে যাবেন কি না, তা নিয়েই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।এই পরিস্থিতির মাঝেই কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে বঙ্গভবন। মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকে কেউ বেরোতে গেলে পুলিশ বাধা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন, তখন যেন এসআইআর শুনানি কেন্দ্রের অশান্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, দিল্লি পুলিশ ভয় পেয়েছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সংবিধান রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। তাহলে আলাদা সরকার থাকা সত্ত্বেও দিল্লির সরকার কেন ভয় পাচ্ছে, সেই প্রশ্নই উঠছে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal