• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Purba Bardhaman

রাজ্য

স্কুলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট, তবুও এসেছে প্রায় লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুর্ব-বর্ধমানে রায়নার স্কুল

বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যালয়ে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট। তা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ দফতর পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ব্লকের একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে প্রায় লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল। শুধু এত বিশাল পরিমান টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠানোই নয়।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই বিল সংশোধনের আবেদন করার পর উল্টে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।তার কারণে এখন বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন জারি রাখার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে চুড়ান্ত অচলাবস্থা। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ ও স্কুল দফতর সহ প্রশাসনের নানা মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক। কিন্তু সুরাহার কোনও ব্যবস্থা হয়নি। সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই কথা মাথায় রেখে প্রশাসন কি ব্যবস্থা করে সেই দিকেই এখন তাকিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পড়ুয়ার।বিদ্যালয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মইদুল হক জানান, প্রথম থেকেই রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল তাঁর বিদ্যালয়ে।পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎতের চাহিদা মেটাতে সৌরশক্তির উপর ভরসা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।সেই মত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট চালু হয়। সেই সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট থেকে বিদ্যালয়ও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়।তার পরেই বিদ্যুৎ দফতর বিদ্যালয়ে থাকা পূর্বের মিটার রিডিং যন্ত্রটি খুলে নিয়ে নেট মিটার যন্ত্র লাগিয়ে দেয়।প্রধান শিক্ষক তাঁর অভিযোগে বলেন, ওই নেট মিটার যন্ত্র লাগানো হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন কেটে গেলেও বিদ্যুৎ দফতরের কেউ মিটার রিডিং দেখতে আসেনি।তারই মধ্যে করোনা অতিমারির প্রভাব বেড়ে যায়। তার কারণে রাজ্য সরকার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ও বন্ধ থাকে। এর পরেও ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ দফতরের লোকজন মিটার রিডিং সংগ্রহ করতে আসেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিদ্যুৎ দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তার পর বিদ্যুৎ দফতরের লোকজন মিটার রিডিং নিয়ে যায়। পরে তারা ৯৮ হজার ৭৮৮ টাকার বিদ্যুৎ বিল বিদ্যালয়ে পাঠায়।এত বিপুল পরিমাণ টাকার বিল সঠিক মনে না হওয়ায় এরপর তিনি বিল সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ দফতরে লিখিত আবেদন করেন।কিন্তু সেই আবেদন গ্রাহ্য না করে উল্টে বিদ্যুৎ দফতরের কোন নোটিশ না দিয়েই ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর লোকজন পাঠিয়ে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার তার কারণে এখন বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন চালু রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।পড়ুয়ারা জানিয়েছে, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁরা কম্পিউটার ক্লাস করতে পারছে না।পাম্প চালাতে পারা না যাওয়ায় স্কুলে পানীয় জলও পাওয়া যাচ্ছে না।এমনকি জলের অভাবে সাফাই কাজ বন্ধ থাকায় স্কুলের শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে।মিড ডে মিল রান্না করার জন্য দূর থেকে জল আনাতে হচ্ছে। এছাড়াও পড়ুয়াডের সরকারী সূযোগ সুবিধা পাবার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষে অনলাইনে যে যে বিষয়ে আবেদন করতে হয় সেই কাজও করতে পারা যাচ্ছেন না বলে পড়ুয়ারা অভিযোগ করেছে।বিদ্যুৎ বিল সঠিক মনে না হওয়ার কারণ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মইদুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে থাকা সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট থেকে কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তার হিসাব নেট মিটার যন্ত্রে দেখা যায়।উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদ্যালয় তার প্রয়োজন মত ব্যবহার করার পর বাকি সবটা বিদ্যুৎ দফতর নিয়ে নেয়।অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর ধরে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।তাহলে আমাদের বিদ্যালয় বিদ্যুৎ খরচ করলো কোথায়! প্রধান শিক্ষক এও দাবি করেন, অতিমারির কারণে তাঁদের বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময়ে উৎপাদিত সমস্ত সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ দফতরই গ্রহন করেছে।কিন্তু বিলে বিদ্যুৎ দফতর কতটা সৌরবিদ্যুৎ গ্রহন করেছে আর বিদ্যালয় কতটা বিদ্যুৎ খরচ করেছে তার কোন হিসাবও দেওয়া হয় নি। নেট মিটারে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎতের যে হিসাব ধরা পড়েছে তার সবটাই একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবহার করেছে দেখিয়ে মনগড়া বিল তৈরিকরে বিদ্যুৎ দফতর বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন।প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ওই বিল পাওয়ার পর তিনি সৌরবিদ্যুৎ বিভাগের (ডাব্লুবিআরইডিএ) সুপারেনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিয়ার পিসি রাউতকে বিস্তারিত জানান। উনি সবকিছু খতিয়ে দেখে জানান, নেট মিটার রিডিং ফলো করে ডাব্লু বি এ সি ডি সি এল বিল পাঠিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম মেনে ওই বিলে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎতের পরিমাণ ও স্কুল কতটা বিদ্যুৎ ব্যায় করেছে তার হিসাব আলাদা করা হয়নি। তার কারণেই এই সমস্যা তেরি হয়েছে।প্রধান শিক্ষক বলেন,সুপারেনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিয়ার তাঁকে জানিয়েছেন, এমন সমস্যা শুধু একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই তৈরি হয় নি। রায়না ও ভাতার এলাকার আরও তিনটি বিদ্যালয় সহ রাজ্যের ১৪ টি বিদ্যালয়ে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে ।এই বিষয়ে যদিও বিদ্যুৎ দফতরের রায়নার সেহারাবাজারের স্টেশন ম্যানেজার জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী সংবাদ মাধ্যকে কোনকিছু জানাতে অস্বীকার করেন।তবে রায়না ২ ব্লকের বিডিও অনিষা যশ জানিয়েছেন, উদ্ভুত সমস্যার সমাধানে আগামী মঙ্গলবার তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,বিদ্যুৎ দফতর ও পঞ্চায়েত সমিতির কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগে একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয় যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পায় সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

শতাধিক কচ্ছপসহ বর্ধমান স্টেশন থেকে গ্রেফতার ভিন রাজ্যের দুই মহিলা

কচ্ছপ পাচার করতে গিয়ে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ভিন রাজ্যের দুই মহিলা। রবিবার সকালে বর্ধমান স্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি ও আরপিএফ আলাদা আলাদা ভাবে অভিযানে নেমে কচ্ছপ উদ্ধার করে।কচ্ছপ পাচারের ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে দুই মহিলা। ধৃতদের নাম পান্নি ও সিমা। তাঁদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের পাকড়ী থানার সুলতানপুরে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতো পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আরপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সকালে আরপিএফ বর্ধমান স্টেশনে রুটিন তল্লাশি চালানোর সময় ডাউন হাওড়া-চম্বল এক্সপ্রেসের এস-১ কম্পার্টমেন্টে দুটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে। সন্দেহ হওয়ায় আরপিএফ দুটি ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগগুলির মুখ খোলা হলে তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ৩৯ টি কচ্ছপ।অন্যদিকে এদিন সকালে জিআরপি বর্ধমান স্টেশনে স্পেশাল চেকিং চালানোর সময় ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের হাওড়ার দিকে দুটি থলি ও পিটব্যাগ নিয়ে থাকা দুই মহিলাকে দেখে। সন্দেহ হওয়ায় জিআরপি ওই মহিলাদের কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৭২টি কচ্ছপ। কচ্ছপ পাচারের অভিযোগে জিআরপি দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
রাজ্য

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমরাল দিঘী এলাকায়। দীঘিতে মাছ ধরার জন্য জাল টানা হলে দিঘির জলে কোথাও একটা জায়গায় বারবার জাল আটকে যেত। শনিবার ফের জাল নামানোর আগে দিঘির চাষিরা নিজেরা জলের তলায় সেই জায়গাটিতে নেমে দেখেন কেন বারবার এই জায়গায় জাল আটকে যায়। তারপর তারা দেখেন কোন একটা ভারী বস্তু জলের তলায় পড়ে রয়েছে। চাষীরা সেই বস্তুটি সঙ্গে রসার দড়ি বেঁধে জলের তলা থেকে দিঘির পারে টেনে তোলে দেখেন আস্ত একটি মোটর বাইক জলের তলায় পড়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা খণ্ডঘোষ থানায় খবর দেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মোটরবাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তবে কিভাবে জলের তলায় মোটরবাইক এল, কেনই বা এল, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।লকাই ঘোষ বলেন, মোটর বাইকটি কেন দিঘীর জলে ফেলে দিল তা নিয়ে রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক ঘোষ বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয় বাইকটি কার নামে আছে।তবে গ্রামের বাসিন্দাদের ধারণা এটা চোরাই বাইক।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
রাজ্য

কালনায় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে মামলার প্রস্তুতি শুরু সিপিএমের

পরপর দুবার সিপিএমের প্রার্থী হয়ে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। এবারও সিপিএম পূর্ব বর্ধমানের কালনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী করেছিল মণিপ্রভা ভাদুড়িকে। কিন্তু কালনা পৌরভার অস্থায়ী কর্মী হয়ে তাঁর ভেটে লড়াটা মেনে নেননি প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে কালনার মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানান। তার কারণে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বৃহষ্পতিবার স্ক্রুটিনির দিনে সিপিএম প্রার্থী মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন বাতিল করে দেয়। পৌরসভার একই কাজে যুক্ত থেকে ইতিপূর্বে দুবার ভেটে লড়ে কাউন্সিলার হওয়া মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন এবার কমিশন বাতিল করায় বেজায় চটেছে সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁরা বিয়টি নিয়ে আদালের দ্বারস্থ হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিপিএমের হয়ে মণিপ্রভা ভাদুড়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী কালনা মহকুমা শাসকের দফতরে অভিযোগ জানান। তার অভিযোগ, মণিপ্রভা ভাদুড়ী কালনা পৌরসভার বেতনভুক স্বাস্থ্যকর্মী। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্কুটিনির দিনে সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। পৌরসভা থেকে তিনি বেতন পান।সেই তথ্য মহকুমা শাসকের দফতরে তিনি দাখিল করে মণিপ্রভাদেবীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে পৌর নির্বাচন বিধি মেনে কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়েছে। যদিও তৃণমূল প্রার্থীর আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী মণিপ্রভা ভাদুড়ি বলেন, আসলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চান। তাই তিনি এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে। মণিপ্রবাদেবী দাবি করেন, তিনি পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মী নন। তাই পৌরসভা থেকে বেতন পান না। তিনি একটি সংস্থার অধীনস্ত স্বাস্থ্যকর্মী। ওই সংস্থা থেকে তিনি বেতন পান। মণিপ্রভাদেবী বলেন, ভোটে লড়ে জিততে পারবেন না বলে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। আর সেটাকেই মান্যতা দিয়ে তাঁর মনোনয়ন কমিশন বাতিল করে দিয়েছে।এই বিষয়ে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, আমরা আইনের পথে যাব। তার প্রস্তুতিও শুরে করে দেওয়া হয়েছে। কারণ একই কাজ করেও এর আগেও দুবার মণিপ্রভা ভাদুড়ী কাউন্সিলর ছিলেন। তাহলে এখন হঠাৎ করে আইনের কি পরিবর্তন হল? যদি পরিবর্তন হয়েও থাকে তাহলে তা সর্বদলীয় বৈঠকে প্রশাসন জানালো না কেন? যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, আইন তো সবার জন্য সমান। সিপিএম প্রার্থীর জন্য তো আলাদা আইন হতে পারে না। এদিকে মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন বাতিল করা নিয়ে সিপিএমের নেতারা যখন সোচ্চার তখন পৌরভোট নিয়ে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা এদিন জানিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। এদিন সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জেলাশাসক প্রিয়ংকা সিংলা বলেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, দাঁইহাট, মেমারি ও গুসকরা পৌরসভার নির্বাচন হবে। ভোটে এই ছটি পুরসভার প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা থাকবে। সিসি ক্যামেরা ছাড়াও প্রতিটি বুথে থাকবে দুজন করে সশস্ত্র পুলিশ।এছাড়াও প্রতিটি পৌরসভার জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। জেলার জন্যেও বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আরও জানানো হয়েছে, ছটি পৌরসভার ১১৯টি ওয়ার্ডে ৪ লক্ষ ৬২হাজার ৮৪৮ জন ভোটার রয়েছেন। ২৪১টি চত্বরে ৫৭১টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। সব ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই বিষয়টি সুনিশ্চিৎ করার জন্য এদিন সর্বদলীয় বৈঠকে জেলশাসক আবেদন রাখেন।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা হাওড়াগামী সুপারফাস্ট ট্রেনের, প্রশংসিত গেটম্যান

চলন্ত ট্রেনের যাত্রী কামরার নীচে দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। তা দেখে ট্রেনের গার্ড সহ স্টেশন কর্তৃক্ষকে সতর্ক করেন গেটম্যান। আর গেট ম্যানের এই তৎপরতার জেরেই শুক্রবার বড়সড় অঘটনের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ডাউন শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের যাত্রীরা।হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার ডাউন লাইন ধরে এদিন দুপুরে শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া যাচ্ছিল। পথে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানা এলাকার মসাগ্রাম স্টেশন পেরিয়ে ট্রেনটি এগিয়ে যেতে থাকে। ওই সময়ে মসাগ্রাম লেভেল ক্রশিংয়ে থাকা গেটম্যান সৌমেন সাঁতরা শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের চালকের ইঞ্জিনের পরের যাত্রী কামরার নিচে আগুন জ্বলতে দেখেন। আগুন দেখেই গেটম্যান তৎক্ষণাৎ খবর দেন স্টেশন ম্যানেজারকে। এই খবর পাওয়ার পর এক মুহুর্ত আর দেরি না করে স্টেশন ম্যানেজার ট্রেনের চালককে সতর্ক করেন। তৎতক্ষণাৎ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ট্রেনটি রেলগেটের অদূরে দাঁড় করিয়ে দেন।আগুন লাগার খবর জানতে পেরে ট্রেন যাত্রীদের কামরা ছেড়ে লাইনে নেমে পড়ে। নিমিষে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যদিও চালক ও রেল কর্মীদের তৎপরতায় আগুন ভয়াবহ রুপ নিতে পারেনি। মসাগ্রাম স্টেশন ম্যানেজার এ কে বালা জানিয়েছেন, এদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ডাউন ২৩৩৮ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস মসাগ্রাম স্টেশন পার হয়।ট্রেনটি মসাগ্রাম লেবেল ক্রসিং পার হয়ে যাওয়ার সময় গেটম্যান সৌমেন সাঁতরা ট্রেনটির ইঞ্জিনের পরের যাত্রী কামরার নিচে আগুন জ্বলতে দেখেন। তা দেখেই গেটম্যান তাঁকে ঘটনার কথা জানায়। তৎক্ষণাৎ তিনি বিষয়টি ট্রেনের চালককে জানান। চালক মসাগ্রাম রেল গেটের অদূরে ট্রেন দাঁড় করিয়ে দিয়েই ইঞ্জিনে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশার বের করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। একে বালা আরও জানান, এর খানিক পরেই তিনি ও অন্য রেল কর্মীরা মিলে দুটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সবাই মিলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় রেল আধিকারিকদের পাশাপাশি রেল যাত্রীদেরও দুশ্চিন্তা কাটে। ঘটনার পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা পর ৩ টে ১৩ মিনিট নাগাদ ডাউন শান্তি নিকেতন এক্সপ্রেস মসাগ্রাম থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে ফের রওনা দেয় বলে স্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন। আগুন লাগার কারণ প্রসঙ্গে স্টেশন ম্যাণেজার বলেন,হাইড্রোলিকের গা ঘেঁষে থাকা ট্রেনের চাকার ব্রেক জ্যাম হয়ে যাবার কারণে আগুন ধরে গিয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে রেলের মেকানিকরা সঠিক কারণ জানাতে পারবে। স্টেশান ম্যাণেজার এও বলেন, আগুন নেভার পর বোঝা গিয়েছ ট্রেনটি নিরাপদেই হাওড়া যেতে পারবে। বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ার জন্য স্টেন কর্তৃপক্ষ গেটম্যান সৌরভ সঁতরার প্রশংসা করেছেন।গেটম্যান সৌরভ সাঁতরা বলেন, ডাউন শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময়েই ইঞ্জিনের পিছনের বগির নীচে আগুন জ্বলতে দেখে ট্রেনটির গার্ডকে লাল পতাকা দেখান। পাশাপাশি স্টেশন ম্যানেজারকেও খবর দেন। চালক রেল গেট পার করেই ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর চালক সহ রেল কর্মীদের সবার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় কোন অঘটন ঘটেনি। ট্রেনের যাত্রীরা একই ট্রেনে চড়ে নিরাপদেই গন্তব্যের উদ্দেশ্য রওনা হতে পেরেছেন।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

বাসে চালকলের মালিকের ব্যাগ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা গায়েব, গ্রেফতার দুই মহিলা

যাত্রী সেজে বাসে উঠে এক চালকল মালিকের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে পগারপাড় হয়ে যায় দুই মহিলা। তবে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশের তৎপরতায় বুধবার রাতে ধরা পড়ে যায় কেপমারি চক্রের দুই মহিলা আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদি। তবে অবশ্য কেপমারি হওয়া চালকল মালিকের লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনা যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে ভাতারের ব্যবসায়ী মহলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বছর ত্রিশ বয়সী আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদির বাড়ি বীরভূম জেলার আমোদপুর থানার সাহানিপুরে। কেপমারিতে জড়িত থাকার কথা ধৃতরা কবুল করেছে বলে পুলিশের দাবি। কেপমারি হওয়া টাকা উদ্ধার ও চক্রের চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার দুই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়।বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, টাকা খোয়ানো চালকল মালিক অরূপ ভট্টাচার্যের বাড়ি জেলার রায়না থানার সেহারাবাজারে। ভাতারের নর্জায় তাঁর একটি চালকল রয়েছে। লিখিত অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ভাতার থানায় জানান,অন্য ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে ওইদিন দুপুরে তিনি বর্ধমান শহরে গিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩০ টাকা সেদিন সংগ্রহ করেন। একটি হাত ব্যাগে সেই টাকা ভরে নিয়ে তিনি বাসে চেপে মিলে ফিরছিলেন। বাসটি দেওয়ানদিঘি স্টপেজে দাঁড়াতেই কয়েকজন মহিলা শিশুসন্তান কোলে ওই বাসে ওঠে। মহিলারা তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। বাস ভিড়ে ঠাসা থাকার কারনে তিনি অন্যত্র সরতে পারেননি। ফলে গাদাগাদি সহ্য করেই বাসে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। অরুপবাবু জানান, খানিক বাদে ওই মহিলা দলটি মাঝ রাস্তায় বাস থেকে নেমে পড়ে। ভিড় একটু খালি হতেই তিনি দেখেন তাঁর হাত ব্যাগের নিচের দিকের কিছুটা অংশ ধারালো কিছু দিয়ে কাটা। ব্যাগে যে টাকা রেখেছিলেন সেই টাকা আর ব্যাগে নেই। কেপমারির শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে অরূপবাবু নর্জায় আর না নেমে সোজা ভাতার থানায় চলে আসেন। থানার পুলিশ কর্তাদের কাছে তিনি সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলে অভিযোগ দায়ের করেন।চালকল মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই ভাতার থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। দেওয়ানদিঘির মুখে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য সড়কে পুলিশ অভিযানে নামে। তখনই কর্জনার কাছে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় আয়েষা রায় নামে এক মহিলা। তাঁকে জেরা করে পুলিশ বীরভূমের আমাদপুরের এসবেরিয়া বেদির নাম জানতে পারে। রাতে পুলিশ আমাদপুর থেকে এসবেরিয়াকেও পাকড়াও করে। এরপর দুই মহিলাকে একসঙ্গে থানায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ভাতার থানার পুলিশ অফিসাররা। জেরায় ধৃতরা পুলিশকে জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে তারা অরূপ ভট্টাচার্যের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। এরপর তারা বুধবার পরিকল্পনা মাফিক স্বদলবলে বাস উঠে অপারেশন চালিয়ে চালকল মালিকের ব্যাগ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যজুড়ে পুরভোটের মুখে কেতুগ্রামে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ-গ্রেফতার তিন

ক্লাবঘরে বসে বোমা বাঁধার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ায় আহত হল এক দুস্কৃতী। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম-১ ব্লকের আনকোনা পঞ্চায়েতের ইছাপুর গ্রামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তারা ঘটনাস্থল থেকে ১১ টি তাজা বোমা ও বেশ কিছু পরিমাণ বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আহত একজন সহ মোট ৩ দুস্কৃতীকে গ্রেফতার করে। এদিকে পুরভোটের সময়ে ঘটনা ক্লাবঘরে বসে বোমা তৈরির ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।পুলিশ জানিয়েছে, বোমা কাণ্ডে ধৃতদের নাম বিকাশ ঘোষ, অপূর্ব পাল ও উৎপল দাস। ধৃতদের মধ্যে প্রথম দুজনের বাড়ি কেতুগ্রাম থানার ইছাপুর ও মহুলা গ্রামে। উৎপল মুর্শিদাবাদের সালার থানার মাখালতোড় উত্তর মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এলাকা সৃত্রে খবর, বোমা বিস্ফোরণে বিকাশ ঘোষের একটি হাতের তালু কার্যত উড়ে যায়। সঙ্গীসাথীরা তাঁকে লুকিয়ে স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। তারই মধ্যে এই খবর পৌছে যায় কেতুগ্রাম থানায়। পুলিশ তিন জনকেই ধরে ফেলে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বৃহস্পতিবার তিন ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে পেশ করে। বিচারক ধৃতদের ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া বোমা এদিন নিস্কৃয় করে বোম স্কোয়াড। ঘটনার বিষয়ে কেতুগ্রামের তৃণমূলের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ দাবি করেছেন, ওই ক্লাবটি বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতিদের দ্বারা পরিচালিত হয়। অশান্তি পাকানোর জন্য বিধানসভা ভোটের আগে ওই ক্লাবঘরে বোমা মজুত করেছিল বিজেপির দুস্কৃতিরা। বিষয়টি জানতে পেরে তখন তিনি পুলিশকেও জানিয়ে ছিলেন। বাস্তবেই যে ওই ক্লাব ঘরে বসে বিজেপির দুস্কৃতিরা বোমা বাঁধে তা এবার প্রমাণ হয়ে গেল। তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যের বিরোধিতা করে কেতুগ্রামের বিজেপি নেতা অনিল দত্ত বলেন, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই । তৃণমূলের চক্রান্তেই এই ঘটনা ঘটেছে ।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

বিষক্রিয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি একই পরিবারের দুই শিশুর, হাসপাতালে ভর্তি ওই আরও চার

অজানা বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু হল একই পরিবারের দুই শিশু সন্তানের। মৃতরা হল শুভঙ্কর ঘোষ (১২) ও রাহুল ঘোষ(৯)। তারা সম্পর্কে দুই ভাই। অসু্স্থ হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায়। ঘটনা নিয়ে এলাকায় জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্যও চড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত কি কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হল তার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায় বাড়ি মৃত শিশুদের পরিবারের। খাবারে বিষক্রিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে মৃত দুই শিশুর বাবা রবি ঘোষ, দিদি শর্মিলা ঘোষ, ঠাকুরমা সন্ধ্যা ঘোষ ও পিসি শমিষ্ঠা ঘোষ। রবি ঘোষ বর্ধমান সিএমওএইচ অফিসের গাড়ির চালক। এদিন হাসপাতালের বেডে শুয়েই বাবা রবি ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বাড়িতে মাংস রান্না হয়। মাংস খাওয়ার পর থেকেই একে একে তাঁদের পরিবার সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার সবার চিকিৎসা হলেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পরিবারের সবার অসুস্থতা বাড়ে। তাই সবাই এদিন সকালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই পরিবারের দুই শিশু সন্তান শুভঙ্কর ও রাহুলের মৃত্যু হয়। মৃত শিশুদের দিদিমা আভা চন্দ্র বলেন, বাড়িতে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ায় ইঁদুর মারার বিষ দেওয়া হয়েছিল। আভাদেবীর অনুমান ইঁদুর মারার ওই বিষ কোনভাবে বাড়িতে রান্না হওয়া খাবারে মিশে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। তার জেরে অকালে প্রাণ গেল তাঁর দুই নাতির। মৃতদের প্রতিবশী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়া ঘোষ পরবারের সদস্যদের তাঁরাই এদিন সকালে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু ওই পরিবারের দুই শিশু সন্তান মারা যাবে এটা তাঁরা কেউ কল্পনাও করতে পারেন নি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তপস ঘোষ জানিয়েছেন, অজানা বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কি থেকে বিষক্রিয়া তা জানার জন্য এদিনই দুই শিশুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসলেই কি থেকে বিষক্রিয়া তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

মদ্যপ যুবকদের বেধরক পিটুনিতে মৃত্যু প্রতিবাদী যুবকের, ধৃতদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে কাটোয়া

চিকিৎসকরা প্রতিবাদী যুবককে প্রাণে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হল না। টানা পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলেই ঢলে পড়লেন মদ্যপ যুবকদলের মারধরে গুরুতর জখম হওয়া পার্থপ্রতিম ঘোষ(৩৩)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের নন্দলাল বসু রোডে। সরস্বতী পুজোর রাতে মদ্যপ যুবকের দল এলাকায় তাণ্ডব শুরু করলে পার্থপ্রতিম তার প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়ায়। তার কারণে ওই মদ্যপ যুবকরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে পার্থপ্রতিমের উপর চড়াও হয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করে। মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে সেই দিন থেকে পার্থপ্রতিম বর্ধমানের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই খবর এদিন ছড়িয়ে পড়তেই কাটোয়া শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পার্থপ্রতিমকে মারধোরের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সকলের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছে কাটোয়াবাসী । কাটোয়া শহরের নন্দলাল বসু রোডের বাসিন্দারা এদিন জানান, পার্থপ্রতিম কাটোয়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। বছর ছয়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়। বাড়িতে রয়েছেন পার্থপ্রতিমের বাবা, মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান। ক্রিকেট খেলাতেও পার্থপ্রতিম যথেষ্ট পারদর্শী ছিল। অত্যন্ত ভদ্র সভ্য এই যুবক কোথাও কোন অন্যায় দেখলেই রুখে দাঁড়াতন। সেই প্রতিবাদী যুবককে মদ্যপ যুবকের দল হত্যা করায় ক্ষোভে ফুঁষছেন কাটোয়াবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজোর রাতে ১০-১২ জনের মদ্যপ যুবকের একটি দল এলাকার দোকান ঘরের শাটার ও গৃহস্থের বাড়ির গেট ভাঙচুর করা শুরু করে। তা দেখে প্রতিবাদ না করে থাকতে পারেননি পার্থপ্রতিম। সে তাঁর দুই প্রতিবেশী বন্ধু অপরূপ চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জয় সিংকে সঙ্গে নিয়ে মদ্যপ যুবকদের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ওই সময় মদ্যপ যুবকরা লাঠি-সোঁটা, ইঁট-পাটকেল নিয়ে পার্থপ্রতিম ও তার বন্ধুদের উপর হামলা চালানো শুরু করে। তখন প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু লুকিয়ে পড়লে মদপরা পার্থপ্রতিমকে একা পেয়ে তাঁকে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় পার্থপ্রতিম ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তখনও রেহাই মেলেনি। হামলাকারীদের একজন সরস্বতী পূজো মণ্ডপে সাজিয়ে রাখা একটি ভারি ফুলের টব তুলে এনে সজোরে পার্থপ্রতিমের মাথায় মারে। মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পার্থপ্রতিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, মরে গেছে ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অপরূপ ও সঞ্জয় এরপর চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পার্থপ্রতিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে।এই ঘটনা নিয়ে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কাটোয়া থানার পুলিশ স্থানীয় ছোট্ট চন্দ্র, বাবু রায়, হুলু পণ্ডিত, সোমনাথ থাণ্ডার, মানিক পণ্ডিত সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে। দুদফায় কাটোয়া থানার পুলিশ ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এখন জেল হেফাজতে থাকা ওই সকল ধৃতের বুরুদ্ধে খুনের ধারা সংযুক্ত করে তাদের ফাঁসির শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন মৃতর পরিজন ও কাটোয়া শহরের বাসিন্দারা।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

’পাড়ায় শিক্ষালয়ের’ প্রাঙ্গন মাতাচ্ছে বর্ধমানের চতুর্থ শ্রেণীর খুদে পড়ুয়া

করোনা অতিমারীর প্রভাব শিথিল হতেই খুদে পড়ুয়াদের স্বার্থে রাজ্য সরকারের নির্দেশে শুরু হয়েছে পাড়ায় শিক্ষালয়। সেই শিক্ষালয় নিয়েই গান রপ্ত করে গেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে খুদে ছাত্র অভিষেক সানা। পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অভিষেকের গাওয়া গান পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচীকে মাধুর্য দিয়েছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা। তাঁদের মতে, অভিষেকের গাওয়া গান খুদে পড়ুয়াদের পাড়ার শিক্ষালয় মুখী হতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। করোনা অতিমারীর বাড়বাড়ন্তে তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক।তার কারণে প্রায় দুবছর ধরে এই রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে স্কুলমুখী আর হতে না পেরে খুদে পড়ুয়াদের দিন কাটছিল ঘরে বন্দি থেকেই । শুধু তাই নয়, করোনা স্কুল গুলি থেকে কেড়ে নিয়েছিল পড়ুয়াদের কোলাহলও। বাজেনি স্কুলের ক্লাস শুরুর ঘন্টা। ক্লাসের চেয়ার, টেবিল সবেতেই পড়ে গিয়েছিল ধুলোর আস্তরণ । চলতি সময়ে সংক্রমণ শিথিল হতেই এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে জোরদার আন্দোলনে নামে। পড়ুয়াদের অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সরব হন। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। এরপরেই রাজ্য সরকার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফের খুলে যায় এই রাজ্যের সমস্ত স্কুলের সদর দরজা। পড়ুয়া কোলহলে ফের ভরে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গন। শুধুমাত্র প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীর খুদে পড়ুয়াদের জন্য সরকার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। ক্লাসরুমে পড়াশুনার বদলে খুদে পড়ুয়াদের জন্য পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচি নেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের মতই বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালের পড়ুয়ারাও সরকারের পাড়ায় শিক্ষালয় খোলার সিদ্ধান্তের কথা জেনে খুশিতে ভরে ওঠে। আর সেই খুশিতেই নিজের সংগীত গুরু মঙ্গল কালিন্দির লেখা ও সুর দেওয়া গান রপ্ত করে ফেলে বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিষেক সানা। ওই গান গেয়েই এখন অভিষেক পাড়ায় শিক্ষালয়ের আসরও মাতাচ্ছে। পাড়ায় শিক্ষালয় নিয়ে খুদে ছাত্র অভিষেকের গাওয়া গান মুগ্ধ করেছে বর্ধমান সদর ২ ব্লকের বিডিও সুবর্ণা মজুমদারকেও। তিনি বলেন, করোনা অতিমারীর কারণে পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন স্কুলমুখী হতে পারেনি। বাচ্চারা অনেকদিন স্কুলচ্যুত ছিল। তাদের কথা বিবেচনা করে সরকার পাড়ায় শিক্ষালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপম সাধু বলেন, প্রায় দুবছর বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। মুক্ত প্রাঙ্গনের পাড়ায় শিক্ষালয়ে এখন আবার ফিরে এসেছে খুদে পড়ুয়াদের কোলাহল। সেখানে শিশুদের পাঠদান করতে পেরে আমরা শিক্ষকরাও খুশি। তারই মধ্যে সেখানে উপরি পাওনা হিসাবে মিলছে পাড়ার শিক্ষালয় কর্মসূচী নিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অভিষেক সানার গান।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

পৌরভোটে প্রার্থী হতে না পেরে কেঁদে ভাসালেন বর্ধমানের ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা

অনেক প্রত্যাশা থাকলেও পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করার টিকিট মেলেনি। তাই বুধবার বর্ধমান শহরে থাকা জেলাশাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ভাসালেন শহরের ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা আব্দুল রব। শুধু কেঁদে ভাসানোই নয়, চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেও ফেললেন তাঁর দল তাঁর সঙ্গে সুবিচার করলো না। আব্দুল রবের কান্না দেখে সতীর্থরা তাঁকে সান্তনা দেন। তবে প্রার্থী হতে না পারার জন্য দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করার জন্য তৃণমূলের নেতারা তাঁকে বার্তা দিয়েছেন। আব্দুল রব শহর বর্ধমানের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। এদিন তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে রাজনীতি করছি। তৃণমূল কংগ্রেস দল করার জন্য সি পি এমের আমলে পাঁচ বার জেল খেটেছি। এতকিছুর পরেও দল তাঁর প্রতি সুবিচার করলো না। ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবার মহিলা সংরক্ষিত হওয়ার দলের তরফে এবার তাঁর স্ত্রী তনুজা বেগমকে প্রার্থী করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু দল অন্য একজনকে প্রার্থী করে তালিকা প্রকাশ করে। তার পরেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল প্রার্থী পরিবর্তন করে তাঁর স্ত্রীকেই প্রার্থী করা হবে বলে। শেষমেশ সেটাও দল করেনি বলে আব্দুল রব আক্ষেপ প্রকাশ করে কান্নায় ঙেঙে পড়েন। আর প্রার্থীপদ না পেয়ে তৃণমূলের ডাকাবুকো নেতাকে কেঁদে ভাসাতে দেখে কার্যতই হতবাক হয়েযান বর্ধমান শহরবাসী। এদিকে প্রার্থী হতে না পেরে আব্দুল রব এদিন যখন কেঁদে ভাসাচ্ছেন সেই সময়ে বর্ধমান পৌরসভার ছয়টি ওয়ার্ডে মণোনয়ন জমা দেন ছয় জন গোঁজ প্রার্থী। তার মধ্যে আব্দুল রবের স্ত্রী তনুজা ছাড়াও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থী চামেলী বেগমের স্বামী ইফতিকার আহমেদও রয়েছেন। এবিষয়ে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক জানান, এবার বর্ধমান পৌরসভার ৩৫ টি ওয়ার্ডে টিকিটের দাবিদার অনেকেই ছিলেন।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

ডাক্তার স্টিকার লাগানো গাড়িতে চোলাই মদ পাচার, গ্রেফতার ভূয়ো ডাক্তারসহ দুই অভিযুক্ত

ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িতে চোলাই মদ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হল এক ভুয়ো ডাক্তার ও তার সাগরেদ। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সাধন মণ্ডল ও অমল হালদার। ধৃত সাধনের বাড়ি জেলার ভাতার থানার বসতপুর গ্রামে। সে নিজেকে ডাক্তার বলে লোকজনকে পরিচয় দিত। অপর ধৃত অমল ওই চোলাই মদবাহী গাড়িটি চালাচ্ছিল। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের সুরুলিয়ায়। পুলিশের দাবি ধৃতদের ব্যবহৃত ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িটি থেকে প্রায় ৬০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে।গাড়িটির প্রকৃত মালিক কে তা জানার জন্য পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার দুই ধৃতকে পেশ করে কাটোয়া মহকুমা আদালতে। বিচারক দুই ধৃতকেই জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গোলকোট থানার পুলিশ অফিসারদের কথায় জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় মঙ্গলকোট থানার গুসকরা নতুনহাট রোডে নাকা চেকিং চালাচ্ছিল। ওই সময়েই ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িটি গুসকরা মুখে যাচ্ছিল। ডাক্তার স্টিকার লাগানো থাকলেও পুলিশ ডাক্তার গাড়িটি দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানো শুরূ করে। তল্লাশী চালানোর সময়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ কর্মীদের।তারা দেখেন গাড়িতে থাকা একাধিক ব্যাগে মধ্যে ভরা রয়েছে চোলাই মদ ভর্তি প্লাসটিকের জার। এরপর আর একমুহুর্ত দেরি না করে পুলিশ ওই গাড়ি তার দুই আরোহীকে ধরে থানার নিয়ে যায়। জেরায় ধৃতরা কবুল করে পুলিশের নজর এড়াতেই তারা চোলাই মদ পাচারের জন্য চারচাকা গাড়িতে ডাক্তার স্টিকার লাগিয়ে ছিল। জেরার ধৃতরা এমনটা কবুল করার পরেই পুলিশ দুই চোলাই মদ পাচারকারীকেই গ্রেফতার করে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

কাটারি দিয়ে নিজের দাদাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেফতার ভাই

কাটারি দিয়ে নিজের দাদাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেফতার হল ভাই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার কেন্না গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জামির আলি মল্লিক ওরফে পল্টু।কেন্না গ্রামেই তার বাড়ি। মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কাটারিটিও সেখান থেকে উদ্ধার করেছে। দাদা জামশেদ আলি মল্লিকের অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। সিজেএম ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির মল্লিকের দাদা হলেন জামশেদ আলি মল্লিকের বনিবনা নেই। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির সামনের ঢালাই রাস্তায় জামশেদের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ওইসময় জামির ও তাঁর স্ত্রী সেখানে হাজির হয়। অভিযোগ, উভয়ের মধ্যে বচসা চলাকালীন জামির আচমকাই তাঁর দাদার মাথা লক্ষ্য করে ধারালো কাটারি চালিয়ে দেয়। কাটারির কোপে জামশেদের কপালে গভীর ক্ষত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জামশেদকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কপালে কয়েকটি সেলাই হয়। ঘটনার কথা জানিয়ে পরের দিন জামশেদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার জামিরকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
রাজ্য

রায়নায় সেচ ক্যানেলের পাড় থেকে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত মৃতদেহ

সেচ ক্যানেলের পাড়ের গাছ থেকে উদ্ধার হল ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা যুগলের মৃতদেহ। যা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার নাড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের নান্দাল গ্রামে।খবর পেয়ে রায়না থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গাছ থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম রুপনাথ হাজরা(২৪) ও পুতুল রাণা(৩১)। দুজনেরই বাড়ি রায়নার নান্দাল গ্রামে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠায়। রায়না থানার পুলিশ যুগলের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রুপনাথ হাজরা ও পুতুল রাণা দুজনেরই বাড়ি রায়নার নান্দাল গ্রামে। তবে এরা কেউ স্বামী স্ত্রী নয়। পেশায় লরি চালক রুপনাথ অবিবাহিত। তাঁর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল গ্রামেরই বধূ পুতুলের। এলাকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে, পুতুল ও রুপনাথের অবৈধ সম্পর্কের কথা দুজনের পরিবারের কেউই মেনে নেননি। এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে যুগল আত্মঘাতী হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দুই মৃতের পরিবারের কেউ এদিন বিকাল পর্যন্ত থানায় কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানায়নি। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে যুগলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তা খতিয়ে দেখছে।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
রাজ্য

রেল পুলিশের তৎপরতায় ফের বেশকিছু টিয়াপাখি সহ গ্রেফতার পাচারকারী

রেল পুলিশের তৎপরতায় ফের পাচারের আগেই উদ্ধার হল বেশকিছু টিয়া পাখি গ্রেফতার করা হয়েছে পাচারকারীকে। মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফুট ওভারব্রিজে টহলদারি চালাচ্ছিল রেল পুলিশ। ওই সময়ে তারা এক যুবককে একটি বড় ব্যাগে ভরে কিছু নিয়ে যেতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় রেল পুলিশ মহম্মদ শরিফ নামে বর্ধমানের দুবরাজদিঘী হরেরডাঙ্গা এলাকা নিবাসী ওই যুবকের পথ আটাকায়। রেল পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর শিলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় খাঁচা বন্দি অবস্থায় থাকা সাতটি টিয়া পাখি। পাচারের উদ্দেশ্যে খাঁচায় ভরে টিয়া পাখিগুলি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল বলে জেরায় যুবক স্বীকার করার পরেই তাঁকে ধরে আরপিএফ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় বর্ধমানের বনবিভাগে। এদিনই বন বিভাগের কর্মী ও অফিসাররা বর্ধমান আর পি এফ অফিসে হাজির হয়ে টিয়া পাখিগুলি ও ধৃত যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্ধমান বন বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে মামালা রুজু করে মহম্মদ শরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে এদিনই বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন,কিছুদিন আগে বর্ধমান স্টেশনে থাকা রেল পুলিশ ডাউন দানাপুর এক্সপ্রেসের কামরায় তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক টিয়াপাখি উদ্ধার করেছিল। সেবারও টিয়া পাচারের অভিযোগে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বর্ধমানের দুবরাজদিঘীরই এক ব্যক্তি। ওই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে রেল পুলিশ জানতে পারে পাচারের উদ্দেশ্যে সে বিহারের পাটনা থেকে শতাধিক টিয়াপাখি বর্ধমানে আনিয়েছে। পরে সে টিয়াপাখিগুলি বর্ধমান থেকে অন্যত্র পাচার করা হত।যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় পাচারের আগেই ওইদিন শতাধিক টিয়াপাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়েযায়। রেল পুলিশ তৎপর থাকায় এদিনও বর্ধমান স্টেশনে বেশ কিছু টিয়া পাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়লো বলে বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
রাজনীতি

অনুব্রত কি সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকেও বড় নেতা? প্রশ্ন খোদ তৃণমূলেরই প্রাক্তন কাউন্সিলারের

অনুব্রত মণ্ডল কি সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকেও বড় তৃণমূল নেতা হয়ে গেল নাকি? এই প্রশ্ন তুলেই রবিবার বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর মল্লিকা চোঙদার। পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও নাম বাদ যাওয়ায় তিনি যে অপমানিত হয়েছেন তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন মল্লিকা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বলিষ্ঠ নেতা সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সই থাকা তালিকায় প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া করিয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল নিজের পছন্দের লোককে প্রার্থী করা করিয়েছেন।মল্লিকা চোঙদারের এমন বক্তব্য বিরোধী মহলের পাশাপাশি তৃণমূল শিবিরেও যথেষ্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পৌরসভা নির্বাচনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেই সব প্রার্থীদের নামের তালিকা শুক্রবার প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তারপর দলের ওয়েবসাইটে একটি প্রার্থী তালিকা আপলোড হয়। সেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ। তা দেখে দলীয় নেতৃত্ব ফের নতুন করে পার্থী তালিকা প্রকাশ করে জানিয়ে দেন, যে প্রার্থী তালিকায় দলের দুই বলিষ্ঠ নেতা সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সই রয়েছে সেটাই দলের নির্দিষ্ট প্রাথী তালিকা। এই তালিকাও আপলোড করে দেওয়া হয় দলের ওয়েবসাইটে। দলীয় নেতৃত্বতারপর ঘোষণা করেন দলীয় ওয়েবসাইটে প্রথম আপলোড হওয়া প্রাথী তালিকাটি দলের নির্দিষ্ট প্রার্থী তালিকা নয়। সুব্রত বক্সি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ে সই থাকা প্রার্থী তালিকাটাই দলের সঠিক প্রার্থী তালিকা । এদিন সেই রকমই গুসকরা পৌরসভার একটি প্রার্থী তালিকা সংবাদ মাধ্যমকে দেখান মল্লিকা চোঙদার। সেই প্রার্থী তালিকা দেখিয়ে তিনি দাবী করেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়েবসাইটেও এই প্রার্থী তালিকা আপলোড হয়েছে।তৃণমূলের হয়ে গুসকরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দীতা করার জন্য তাঁর নাম পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সির সই করা তালিকায় উল্লেখ থাকে। তার পরেও তাঁর নাম আবার বাদ চলে যায়। এই ভাবে তালিকায় নাম ওঠা ও নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কাউন্সিলার মল্লিকা চোঙদার এদিন সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলকেই দায়ী করেন। মল্লিকা জানান, পর পর পাঁচ বার তিনি গুসকরা পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। এমনকি একবার ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন। যেহেতু তাঁর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের মতের মিল হয় না, তাই অনুব্রত মণ্ডলের পছন্দের তালিকাতেও তিনি নেই।সেই কারণে তাঁর নাম বাদ দেওয়া করিয়েছেন বীরভূমে বসে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা চালানো অনুব্রত মণ্ডল বলে মল্লিকা চোঙদার অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে মল্লিকা এদিন দাবী করেন।একই সঙ্গে এদিন তিনি বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সির থেকেও অনুব্রত মণ্ডল বড় নেতা হয়ে গেলেন কিনা তাও তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না! মল্লিকা চোঙদারে এমন অভিযোগের বিষয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি নেতা কল্লোল নন্দন বলেন, তৃণমূলে এখন সার্কাস চলছে। তাই ওদের সার্কাস নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। তবে জেলার মানুষ তৃণমূলে সার্কাস দেখছেন। পৌরসভা ভোটে জেলার মানুষই এর যোগ্য জবাব দিয়ে দেবেন বলে কল্লোল নন্দন মন্তব্য করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানে নাবালক নাতি -নাতনিকে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা ভিখারিনী

অপরের দয়ায় মাথা গোঁজার একফালি আশ্রয় টুকু কোনওরকমে মিলেছে। তবে দুমুঠো ভাত খেয়ে পেট ভরানোর মতো চাল টুকুর সংস্থান নেই। ভিক্ষা করে যে টুকু চাল ও আলু যোগাড় হয় সেটাই ভরসা। এমন দৈন্যদশার কারণে একপ্রকার অর্ধাহার অনাহারেই নাবালক নাতি ও নাতনিকে নিয়ে দিন কাটছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির পারাজ গ্রামে আশ্রয় নেওয়া গৃহহীন বৃদ্ধা আনোয়ারা বিবির। কেউ তাঁদের দিকে মুখ ফিরিয়েও তাকান না। তাই ভাগ্যের এই পরিহাসকে মেনে নিয়েই বৃদ্ধা তাঁর নাতনি আমিনা খাতুন ও নাতি প্রেম মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে দিন গুজরান করে চলেছেন।কবে সুদিন ফিরবে তা তাঁদের সকলেই কাছেই অজানা। বৃদ্ধা আনোয়ার বিবি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর বাড়ি গলসিতে। কিন্তু সেখানে বসবাস করার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। তার মধ্যে নাতনী জামাই সুকুর মণ্ডল ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। জামাই মারা যাওয়ার পর কিছু দিন যেতে না যেতে নাতনী লিমি বেগমও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাদের পুত্র সন্তান প্রেম তখন মাত্র ৬ মাসের বাচ্চা। আনোয়ারা বিবি বলেন, এই পরিস্থিতিতে দুই নাবালক নাতি,নাতনি প্রেম ও আমিনাকে নিয়ে তিনি বর্ধমানের দুবরাজের ডাঙাপাড়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন । কিন্তু ভাড়া মেটাতে না পারায় তাঁদের ভাড়া বাড়ি ছাড়তে হয়। মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে এরপর গত চার মাস আগে ফিরে আসেন গলসির পারাজ গ্রামের কুমোর পুকুর পাড়াতে থাকা স্বামীর ভিটায়। কিন্তু সেখানেও ঠাঁই মেলে না। বিতাড়িত হতে হয়। তাই এলাকার এক সহৃদয় ব্যক্তির আশ্রয়ে খুব কষ্টে তাঁদের এখন দিন যাপন করতে হচ্ছে। মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই মিললেও কোন উপার্জন তাঁদের নেই । রেশন কার্ড , আধার কার্ডও নেই । চোখের জল মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বলেন, দু মুঠো খাবারের সংস্থানের জন্য ভিক্ষাই তাঁর একমাত্র ভরসা। বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত শরীরে সব দিন ভিক্ষা করতে বেরুতেও পারেন না। তাই এক প্রকার অর্ধাহারে অনাহারেই নাবালক নাতি ও নাতনিকে নিয়ে তাঁকে দিন কাটাতে হচ্ছে। অপরের অশ্রয়ও যে কোনও দিন ছাড়তে হতে পারে। তখন কি করবেন, কোথায় যাবেন! তারও কোনও কুল কিনারা করতে পাচ্ছেন না বলে বৃদ্ধা আনোয়ারা বিবি এদিন জানান । বৃদ্ধা আনোয়ারা বিবির এমন করুণ জীবন কাহিনী শুনে যারপরনাই ব্যাথিত হন গলসি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও দেবলীনা দাস । তিনি বলেন, বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর জন্য এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে বলে দিয়েছ। আগামী সোমবার বৃদ্ধার কাছে তিনি নিজেও যাবেন বলে জানান।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভবিক্ষোভে কোনও প্রভাব পড়বে না, মন্তব্য তৃণমূল সাংসদ শতাব্দীর

পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিদের নামের তালিকা তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ করতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়ে যায় ক্ষোভ বিক্ষোভ। যার ব্যতিক্রম পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ঘটেনি। যদিও এইসব ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছুই দেখছেন না তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তাঁর মতে এইসব ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কিছু লাভ হবে না।শনিবার পূর্ব বর্ধমানের রায়নার ধারান বুড়োপীর প্রগতি সংঘের সরস্বতী পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন শতাব্দী রায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, পৌরসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব শুক্রবার দলের প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করছে। তারপর থেকে যাঁরা ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তাঁদের উদ্দেশ্য করে শতাব্দী রায় বলেন, অনেকে ভেবে রাখে তাঁর প্রাথী হবেন। কিন্তু তাঁদের ভাবনা যখন মেলে না তখন একটা অভিযোগ তৈরি হয়। তাঁরাএখন কিভাবে অভিযোগটা প্রকাশ করবে সেটা তাঁদের উপর নির্ভর করছে। যদি দলের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে দলের ঘোষিত প্রার্থীকে মেনে নিয়েই তাঁদের কাজ করাটা উচিত।টিকিট পাওয়ার আশা তো সবারই থাকে। কিন্তু টিকিটতো সবাই পায় না। কিন্তু এখন কেউ টিকিট না পেলেই এই সমস্যাটা দেখা যায়। তিনি আরো বলেন, এই বিক্ষোভ দলের উপরে কোনো প্রভাব ফেলবে না।কারণ তৃণমূল কংগ্রেস দলে এখন বহু মানুষের সমর্থন রয়েছে। বহু ভালো মানুষের সমর্থনও রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি। তাই আমি মনে করি এইসব ক্ষোভবিক্ষোভে আগেও কোনও প্রভাব পড়েনি। আর এখনো কোনো প্রভাব পড়বে না।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভবিক্ষোভ সামাল দিতে বর্ধমানে নামাতে হল র‍্যফ

পৌরসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই পূর্ব বর্ধমানেও শুরু হয় যায় ক্ষোভ বিক্ষোভ। শনিবার সকাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ক্ষোভবিক্ষোভে উত্তাল হয় শহর বর্ধমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যফও নামাতে হয়।একইরকম ভাবে ক্ষোভবিক্ষোভে উত্তপ্ত হয় জেলার মেমারি, কালনা ও গুসকরা পৌরসভা এলাকাও। মূলত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবীতেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এদিন সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেদেন। মেমারির ৫ নম্বর ওর্য়াডের তৃণমূল কর্মীদের একাংশ এদিন বিক্ষোভে সামিল হন কৃষ্ণপদ বিশ্বাসকে প্রার্থীপদ থেকে সরানোর জন্য। প্রার্থী বদলের দাবিতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে পোস্টার দেওয়া হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তৃণমূল কর্মীদের দাবী ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বহিরাগত প্রার্থী তাঁরা চান না। অবিলম্বে প্রার্থীপদ পরিবর্তন করে ওয়ার্ডের বাসিন্দাকেই প্রার্থী করতে হবে। একই ভাবে এদিন জেলার গুসকরা পৌরসভা এলাকাতেও প্রার্থী বদলের দাবিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশ ৩, ৫, ৯ ও ১৬ ওয়ার্ডের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্বোচ্চার হন। দল গুসকরার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করলেও প্রাক্তন কউন্সিলার জগা তুরিকেই ফের প্রার্থী করার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে প্রার্থী বদলের দাবি নিয়ে এদিন শহর বর্ধমানের মেহেদিবাগান এলাকাতেও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। জিটি রোড অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। তারই মধ্যে বর্ধমান পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী চায়না কুমারীর সমর্থনে প্রচারে বের হন তার অনুগামীরা। তখনই তাদের ঘিরে বিরোধী গোষ্ঠী বিক্ষোভ দেখানো শুরু করলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ ও র্যফ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। একইদিনে বর্ধমান রাজবাড়ির সামনে পথ অবরোধে সামিল হল তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। তাঁরা বর্ধমান শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাক্তন কাউন্সিলার শাহাবুদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শাহাবুদ্দিন এলাকায় কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। উনি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি এলাকার এক তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনাতেও শাহাবুদ্দিন খান পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল বলে বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ করেন। দল এবারেও শাহাবুদ্দিন খানকে প্রার্থী করেছে।তাঁকে প্রার্থীপথ থেকে সরানোর দাবি তুলে পথে নামেন তৃণমূল কর্মীদের একংশ। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডও বিক্ষোভে উত্তাল হয়। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলের নেত্রী মিঠু সিংহের নাম প্রার্থী তালিকায় ঘোষিত হয়েছে। তাঁকে প্রার্থীপদ থেকে সরিয়ে ওয়ার্ডের দলীয় কর্মীকে প্রার্থী করার দাবী তুলেছেন বিক্ষুব্ধরা। তারা শহরের পার্কাস রোডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। প্রার্থী বদলের দাবিতেও শ্লোগানও দেন। প্রার্থী নিয়ে এদিন জেলার কালনা পৌরসভা এলাকাতেও বিক্ষোব ছড়ায়। কালনার ১৩ নম্বর ওয়াডের প্রার্থী মঞ্জু হালদারের বদলের দাবীতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের একাংশ। তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য শনিবার কালনার জুবলি স্টারের পুজো প্যান্ডেলের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকা বেরনোর পর অনেক জায়গায় ক্ষোভ দেখা গেছে, কর্মীদের আমি বলব সংযত থাকতে, যদি প্রার্থী পছন্দ না হয়ে থাকে তাহলে দলের নেতৃত্বকে জানান। পাশাপাশি তিনি আরও সংযোজন করেন অনেকেই ভোটের আগে দুনৌকাতে পা দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত মানুষ যদি প্রার্থী হয়ে যান তাহলে এটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে জেলার কাটোয়া ও দাঁইহাট পৌরসভায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তা আপাতত প্রকাশ্যে আসেনি।তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানান, এটা অভিমান।একে বিক্ষোভ বলা যাবে না। আর দলই প্রার্থী ঠিক করেছে। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। সবাইকে মেনে নিতে হবে। গুসকরা পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই লাগাতার বিক্ষোভের জেরে দুটি ওর্য়াডে প্রার্থী বদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বিকালে বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বৈঠকে প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত নেয় গুসকরা পৌরসভার পর্যবেক্ষ অনুব্রত মণ্ডল। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দীর্ঘদিনের পাঁচবারের কাউন্সিলর মল্লিকা চোংদারের বদলে পূর্নিমা চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়। ৫ ওয়ার্ডের প্রার্থী মুনমুন মালিকের বদলে রিঙ্কু মালিক প্রার্থী করা হয়

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

লোকালয় থেকে উদ্ধার শাবক সহ ৫ টি গন্ধগোকুল

লোকালয় থেকে উদ্ধার হল চারটি শাবক সহ একটি পূর্ণবয়স্ক গন্ধগোকুল।শুক্রবার শহর বর্ধমানে ২ নম্বর ইছলাবাদ নিবাসী আলোক পালের বাড়ি থেকে এই গন্ধগোকুল গুলি উদ্ধার হয়। অলোক পাল জানিয়েছেন, প্রাণীগুলি দেখতে পেয়েই তিনি বর্ধমান সোসাইটি ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।খবর পেয়েই সংস্থার সদস্যরা তার ইছলাবাদের বাড়িতে চলে আসেন। তারা একটি মা গন্ধগোকুল ও তাঁর চারটি শাবককে উদ্ধার করে নিয়েযায়। সংস্থার সদস্যরা জানিয়েযান চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে তাঁরা প্রাণীগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেবেন ।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 18
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ভুতনির বন্যা দেখতে নদীপথে মন্ত্রীদল! বানভাসিদের জন্য কী পরিকল্পনা রাজ্যের?

মালদহের ভুতনিতে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এলাকায় পৌঁছেছে রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদল। ইতিমধ্যেই মালদহে পৌঁছেছেন একাধিক মন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন জেলার সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জলমগ্ন দুর্গম এলাকাগুলি নদীপথে ঘুরে দেখার কথা রয়েছে মন্ত্রীদের।মন্ত্রীদলের মধ্যে রয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং দমকল ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। প্রথমে মন্ত্রীরা রতুয়ায় যাবেন। সেখান থেকে যাওয়ার কথা রয়েছে ভুতনিতে। দুপুরে বন্যাত্রাণ শিবিরও পরিদর্শন করবেন তাঁরা।এর পাশাপাশি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মন্ত্রীরা। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি, ত্রাণের ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রয়োজন নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হবে। এই সফরের পর ভুতনির জলবন্দি এলাকাগুলিতে পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।ভুতনির পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও রিপোর্ট দেবেন মন্ত্রীরা। অর্থাৎ শুধু বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন নয়, বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর এলাকায় কী ভাবে কাজ শুরু করা হবে, সেই বিষয়টিও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শঙ্কর ঘোষ আরও জানিয়েছেন, মালদহে নদীভাঙন এবং বন্যা দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডকে একসঙ্গে পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে।এদিকে ভুতনিতে গঙ্গার জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলস্তর ১৭ সেন্টিমিটার কমেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। চলতি মরশুমে এক দিনে জলস্তর কমার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ পতন বলে দাবি করা হচ্ছে।তবে জল কমলেও এখনও স্বস্তি ফেরেনি ভুতনিতে। মানিকচকে গঙ্গার জলস্তর ২৫.৩৪ মিটারে নেমে এসেছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যা চরম বিপদসীমার থেকে এখনও চার সেন্টিমিটার বেশি। ফলে নদীর জলস্তর কমলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। কোথাও তাকালেই চোখে পড়ছে জল। টানা বহু দিন ধরে জলবন্দি থাকার কারণে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। দুর্গম এলাকায় অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।চরম বিপদসীমার উপরে থাকা গঙ্গা পেরিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। নৌকায় করে জল পেরিয়ে অসুস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদেরও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অন্যের প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তাঁরা কাজ করছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।জলস্তর কমার ফলে পরিস্থিতিতে সামান্য স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও ভুতনির বহু এলাকায় এখনও জল রয়েছে। তাই এখন নজর শুধু গঙ্গার জলস্তরের দিকে নয়, জলবন্দি মানুষের চিকিৎসা, ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকেও। মন্ত্রীদের এই সফরের পর ভুতনির পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

২৪৯ বছরের ঐতিহাসিক মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়! ১৩ বছর পর বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক ঠিকানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানের পর ফের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার আবহে পুরনো মহাকরণে ফিরতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ছয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই মতোই চলছে সংস্কারের কাজ।১৩ বছর আগে নবান্নে সরেছিল সচিবালয়প্রায় ২৪৯ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং একসময় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৩ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় নবান্নে। এরপর থেকে সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে পুরনো ভবনের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে পুরোপুরি ফেরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকরাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পূজা উৎসবের আগেই কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের দফতরও দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর দফতর তৈরির প্রস্তুতিরাইটার্স বিল্ডিংয়ে যাঁদের দফতর চালু করার প্রস্তুতি চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেনশুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীদিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীঅগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীশঙ্কর ঘোষ পর্যটন মন্ত্রীশারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীঅজয় পোদ্দার পূর্তমন্ত্রীসব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করে ঠিক কবে থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে, তা সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

‘কিছু প্রত্যাহার করব না’, হলদিয়া আদালতে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মিলন প্রধানের! নন্দীগ্রামে নতুন মোড়

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার হলদিয়া আদালতে তোলা হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। আদালত চত্বরে তাঁকে ঘিরে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। কংগ্রেসের নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন? জবাবে মিলন বলেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে, কিছু প্রত্যাহার করব না।শুক্রবার চণ্ডীপুর থানা এলাকার একটি মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালের চারটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র-সহ অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।মিলনকে গ্রেফতার করার পর থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে তারা দাবি করেছে।কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছে। রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেফতারি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয় এবং তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ের বদলে বিরোধীদের সরিয়ে দিতে চাইছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় তারা পিছিয়ে যাবে না।তবে পুলিশের বক্তব্য আলাদা। তাদের দাবি, পুরনো মামলায় আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করতেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে গ্রেফতারির আইনি কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগদুই দিকই সামনে এসেছে।এর মধ্যেই শনিবার আদালতে দাঁড়িয়ে মিলন প্রধান জানিয়ে দিলেন, তিনি প্রার্থী পদ থেকে কিছু প্রত্যাহার করবেন না। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্যে তার জবাব মিলেছে।নন্দীগ্রাম এমনিতেই রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমি আন্দোলনের পর থেকেই এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সেই নন্দীগ্রামেই এ বার উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী প্রত্যাহার, নতুন সমর্থন এবং কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি ঘিরে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। ফলে ভোটের আগে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

গুগল ম্যাপ দেখেই বাইক চালাচ্ছিলেন! হঠাৎ রাস্তা শেষ, বাইক-সমেত খাদের নীচে যুবক

মোবাইলে গুগল ম্যাপ খুলে সেই পথ দেখেই বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই রাস্তার একটি ভাঙা অংশের কাছে গিয়ে বাইক-সহ গভীর খাদে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।আহত যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেশায় কেবল অপারেটর। কাঁকসার বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার বাসিন্দা প্রসূন শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। অচেনা পথে সুবিধার জন্য মোবাইলে গুগল ম্যাপ চালু করেছিলেন তিনি। ম্যাপে যে রাস্তা দেখানো হচ্ছিল, সেই পথ ধরেই বাইক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় পৌঁছনোর পর বিপদ ঘটে। ওই এলাকা পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে গিয়ে সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাপে সেই বিপজ্জনক অংশের কোনও ইঙ্গিত ছিল না বলে জানা গিয়েছে।অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বাইক চালানোর সময় প্রসূন সেই খাদের কাছে পৌঁছে যান। বাইকের গতি বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ পাননি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। বাইক-সহ তিনি খাদের নীচে পড়ে গুরুতর জখম হন।এ দিকে রাতে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও প্রসূন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর তাঁর মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। মোবাইলের অবস্থান পাণ্ডবেশ্বরের ওই খনি এলাকার আশপাশে দেখাচ্ছিল।এর পরেই পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকালে এলাকায় গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, খাদের মধ্যে পড়ে রয়েছে প্রসূনের বাইক। কিছুটা দূরে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত প্রসূনকে খাদের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তা হলে প্রসূন কী ভাবে সেই পথে পৌঁছলেন, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কি শুধুমাত্র গুগল ম্যাপে দেখানো পথ অনুসরণ করেই ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণে সেই রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।দুর্ঘটনার সময় বাইকের গতি কত ছিল, রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং ঠিক কোন জায়গায় বাইকটি খাদে পড়ে যায়, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গুগল ম্যাপে ওই রাস্তা কেন দেখাচ্ছিল এবং বিপজ্জনক অংশটি কেন চিহ্নিত ছিল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।তবে আপাতত পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি আহত প্রসূনের চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুর্ঘটনার কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে, ঠিক কী ভাবে গুগল ম্যাপের পথ ধরে চলতে গিয়ে পরিত্যক্ত খনি এলাকার গভীর খাদে বাইক-সহ পড়ে গেলেন ওই যুবক।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

সকালে বললেন মনোনয়ন তুলবেন, দুপুরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন! রবিউলকে ঘিরে রেজিনগরে নাটক

রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছিল টানটান উত্তেজনা। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, রেজিনগরেও কি একই পথে হাঁটবেন মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী? শনিবার সকালে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। রবিউল নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না।শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানিয়েছিলেন, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের উপর চাপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনেক কর্মী সরে যাচ্ছেন বলেও জানান রবিউল। ফলে কর্মীদের ছাড়া কী ভাবে ভোটের লড়াই করবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।রবিউলের কথায়, কর্মীরাই যদি না থাকেন, তা হলে একা ঘুরে ভোট করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সাড়ে ১২টা নাগাদ রবিউল জানান, তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁর এই মতবদল বলে জানান তিনি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতার নির্দেশ মেনে তিনি ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।রবিউল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের যে চিন্তাভাবনা করেছিলেন, তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারে নামার কথাও জানান তিনি। অর্থাৎ, সকালের সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থীর অবস্থান বদলে যায়।রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। দুই কেন্দ্রেই আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে কমিশনের সিদ্ধান্তের জেরে পরিস্থিতি বদলে যায়।নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।সেই জল্পনার মধ্যেই প্রথমে রবিউলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত এবং পরে মমতার সঙ্গে কথা বলে লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করে। তবে পরবর্তী আপডেটে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সকালের সিদ্ধান্ত, দুপুরের মতবদল এবং পরে ফের মনোনয়ন প্রত্যাহারসব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনে রবিউলকে ঘিরে তৈরি হয় একাধিক নাটকীয় মোড়।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal