• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

রাজ্য

রাজ্য

Road Accident: কলকাতা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় জখম পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল বিধায়ক

বিশেষ কাজে কলকাতা যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জখম হলেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। বৃহস্পতিবার বেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হুগলীর বলাগড় থানা এলাকার করলা মোড়ে। দলীয় নেতৃত্বের কথায় জানা গিয়েছে, বিধায়কের চারচাকা গাড়ির সামনে একটি ডাম্পার যাচ্ছিল। ওই ডাম্পারটি হঠাৎ ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ায় বিধায়কের গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ডাম্পারটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মেরে বসে। বিধায়কের গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।এই দুর্ঘটনাতে জখম হন বিধায়ক। সেখানকার পুলিশ ডাম্পারটি আটক করে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কালনা ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায় জানিয়েছেন, এমএলএ স্টিকার লাগানো গাড়িতে চড়েই দেবপ্রসাদ বাবু এদিন কলকাতা যাচ্ছিলেন । হুগলীর বলাগড়ের করলা মোড়ে তাঁর গাড়ির সামনে থাকা চলন্ত ডাম্পারটি হঠাৎ দাড়িয়ে পড়তেই ঘটে দুর্ঘটনা। মাথায় চোট লাগায় কালনার একটি বেসরকারি ল্যাবে বিধায়কের মাথার সিটি স্ক্যান কারা হয়েছে। তাঁর অন্য কোনও সমস্যা নেই তবে মাথায় যন্ত্রণা করছে বলে বিধায়ক জানিয়েছেন। বিধায়কের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁকে কিছু দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রণববাবু এও বলেন, বিধায়কের গাড়ির আগে আগে যাওয়া ডাম্পারটি হঠাৎ কেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়লো সেটাই রহস্যের। প্রণববাবু ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গিয়েছেন দেবপ্রসাদ বাগ। ঈশ্বর তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন এই কামনা করি। বিধায়কের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Google Girl : ২ বছর বয়সেই সবাইকে চমকে দিচ্ছে ডোমকলের ‘‌গুগল গার্ল’‌

দেশের রাজধানীর নাম কী?....দিল্লি।ভারতের জাতীয় পাখি কী?....ময়ূর। যে কোনও প্রশ্ন করলেই এক মুহুর্ত নষ্ট না করে সঠিক উত্তর দিচ্ছে একরত্তি মেয়েটা......!বয়স মেরে কেটে ২ বছর ২ মাস। এই বয়সে অনেকেই ভালভাবে কথা বলতে পারে না। আর একরত্তি মেয়েটার কিনা নথদর্পনে দেশের রাজধানীর নাম! জাতীয় পাখি, জাতীয় পশুর নামও বলে দিচ্ছে অনায়াসে! সবাইকে চমকে দিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের শিবনগর থানার সাইকা হাসিন। তাঁর এই প্রতিভা দেখে অনেকেই সাইকাকে ডাকতে শুরু করেছে গুগল গার্ল নামে।ছোট থেকেই দুর্দান্ত স্মৃতিশক্তি সাইকা হাসিনের। মাত্র ৯ মাস বয়সে হাঁটতে শুরু করে সাইকা। ১ বছরের মধ্যেই কথা বলা শুরু। একবার যে জিনিস চোখের সামনে দেখে, কখনও ভোলে না। একবার কোনও জিনিস মাথায় গেঁথে গেলে সেটা আর মোছে না। ছবি দেখালেই ফুলের নাম, ফলের নাম, অনায়াসে বলে দিতে পারে। শুধু বাংলাতেই নয়, ইংরেজিতেও বলে দিতে সক্ষম সাইকা। ইংরেজী ১২ মাসের নাম মুখস্ত। এছাড়া আরও অনেককিছুই নখদর্পনে ২ বছর বয়সী এই গুগল গার্ল সাইকা হাসিনের।সাইকার বাবার সুরজ শেখ ব্যাংকে চতুর্থ শ্রেণী পদে কর্মরত। পড়াশোনা প্রাইমারির গন্ডিও পার করেননি। মায়ের কাছেই সবকিছু শেখা সাইকা হাসিনের। ছোট থেকেই মেয়েকে সবকিছু শেখাতে শুরু করেন সাইকার মা। বিভিন্ন দেশের নাম, রাজধানীর নাম, ফলের নাম, ফুলের নাম, পশুপাখির নাম, দেশ ও তাদের রাজধানীর নাম সবই বলতে পারে ছোট্ট সাইকা। এমনকি জাতীয় পতাকা দেখালেও বলে দিতে পারে সেটা কোন দেশের। তাঁর প্রতিভা দেখে মুগ্ধ এলাকাবাসী। দুরদূরান্ত থেকে অনেকেই তাকে একঝলক দেখতে হাজির। সাইকার এই প্রতিভার স্বীকৃতি পেতে ইতিমধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডেস জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Mamata Bannerjee: পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত, করোনা উদ্বেগে বার্তা মমতার

রাজ্যে করোনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করে এখনই সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার গঙ্গসাগর থেকে কলকাতায় ফেরার আগে করোনার নয়া রূপ ওমিক্রন যে ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার জন্য অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার নতুন করে সব কিছু বন্ধের পথে গেলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তবেই এ ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন পর্যালোচনা প্রয়োজন তা ব্যাখা করে তিনি বলেন, কোভিড তো প্রায় ছমাস-আট মাস ছিল না। তাই অনেক জায়গায় কোভিড হাসপালগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক ভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। লোকাল ট্রেন এবং স্কুল-কলেজ বন্ধ নিয়ে সরকার এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।কোভিডের অন্য রূপগুলির তুলনায় ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন থেকে বিমানে যাঁরা আসছেন, তাঁদের বেশি ওমিক্রন ধরা পড়েছে। অনেকে টেস্ট করাতে বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু বিরক্ত হলে চলবে কী করে।সামনেই বর্ষ বিদায় এবং বর্ষবরণের উৎসব। সেই সময় বহু মানুষ রাস্তায় নামবেন। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ষবরণের উৎসব আটকাব কী করে! তবে আমরা বর্ষবরণের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Bus Accident: কাদায় চাকা স্লিপ করে ধান জমিতে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস, আহত ১২ যাত্রী

যাত্রী বোঝাই একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধান জমিতে উল্টেপড়ায় আহত হলেন ১২ জন যাত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের বাবুরবাঁধ বাস স্ট্যান্ড মোড় এলাকায় ।খবর পেয়ে আউসগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। পুলিশ ও এলাকার মানুষজন বাসটির সামনের অংশে থাকা কাচ খুলে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় বন নবগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলে। পরে ক্রেনের সাহায্যে বাসটিকে জমি থেকে রাস্তায় তোলা হয়। বাসটি আটক করে পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসরকারী যাত্রীবাহী বাসটি গলসির পারাজ থেকে বোলপুর যাচ্ছিল।বাসটিতে ১৮- ২০ জনের মত যাত্রী ছিল। পথে আউসগ্রামের বাবুরবান্ধ বাস স্ট্যান্ডের কাছে বাঁক কাটানোর সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে জোরে ব্রেক কষেন। তখনই বাসের চাকা কাদায় স্লিপ করলে বাসটি পাল্টি খেয়ে রাস্তার পাশের ধান জমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বাসে থাকা মহিলা সহ ১২ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন একটু বেশী চোট পেয়েছেন।উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাসপ্রত্যক্ষদর্শী সবির হেসেন মোল্লা, একরাম আলী খাঁন বলেন, বুধবার রাতে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ভিজে ছিল। তার উপর চাষের জমির কাদা ট্র্যাক্টর থেকে রাস্তায় পড়তে পড়তে যাওয়ায় রাস্তাও পিচ্ছিল হয়েছিল। সেই কারণে বাস চালক ব্রেক কষার সাথে সাথেই কাদায় চাকা হড়কে গিয়ে বাসটি রাস্তা থেকে ধান জমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে। তবে বরাত জোরে বাসের কোন যাত্রীর প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেনি।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

X-Mas: পার্কস্ট্রিটের আক্ষেপ মেটাচ্ছে আলোক ঝলমলে বিজয় তোরণ

বাঙালির বড়দিন মানেই পার্কস্ট্রীট। ডিসেম্বর ২৪র সন্ধ্যা থেকেই তাঁরা ভিড় জমাতে থাকেন এই বিশেষ জায়গায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই যিশু-র জন্মস্থান স্বমন্ধে কোনও সম্যক ধারনা না থাকলেও আনন্দের ভাগ নিতে ছাড়েননি। গুরুগম্ভীর কিছু মানুষ প্রত্যুতপন্নমতিতার পরিচয় দিয়ে বললেন খাবার তৈরির মশালা জানার কি দরকার সে পদটিকে আস্বাদন করার জন্য।বড়দিন বা ক্রিসমাস আসলে একটি বাৎসরিক খ্রিস্টীয় উৎসব। প্রত্যেক বছর ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। জেরুজালেম শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বেথলেহেম শহরে তাঁর জন্ম হয়েছিলো বলে ধরা হয়। এই দিনটিই যিশুর প্রকৃত জন্মদিন কিনা তা জানা না থাকলেও, আদিযুগীয় খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারে, এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয়।আদ্যান্ত এক খৃষ্টীয় উৎসব বাঙ্গালি আপন করে নিয়েছে। উপরি পাওনা সপ্তাহান্তে নতুন বছরের সুচনা। বাকি বছরটা যে ভাবেই যাক, আশা করতে তো মানা নেই। নতুন বছরে ভালো কিছু ঘটুক সেই আশায় সেজে উঠেছে শহর বর্ধমান। বর্ধমান পৌরসভার নব গঠিত প্রশাসক মণ্ডলীর উদ্যোগে বড়দিন ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আলোক সজ্জায় সেজে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের এই প্রাণকেন্দ্র। রঙ্গীন হয়ে উঠেছে সারা শহর।শহরের দুই প্রান্ত নবাবহাট ও উল্লাস সহ শহরের কেন্দ্রস্থল বিজয়তোরণ (কর্জন গেট) সেজে উঠেছে চন্দননগরের আলোয়। এ যেন অকাল দীপাবলি। বাজছে জিঙ্গেল বেল, নিজস্বী তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন কচি কাঁচা থেকে বয়স্করা। পৌরসভার উপ- পৌর প্রশাসক এবং বর্ধমান শহরকে হাতের তালুর মত চেনা পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আইনুল হক জানান, নবগঠিত প্রশাসক মণ্ডলী আসার পর থেকেই তাঁরা শহরের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দার্যায়নের দিকেও নজর দিয়েছেন। বর্তমান প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে তাঁরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নিজস্বী জোন বানিয়ে এলইডি আই লাভ বর্ধমান (I Love Burdwan) বোর্ড লাগিয়েছেন।আইনুল হক আরও বলেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় বড়দিন ও ইংরাজী নববর্ষের প্রারম্ভে বর্ধমান পৌরএলাকা আলোকিত করা হয়েছে। এই আলোকসজ্জা ইংরাজী নববর্ষের প্রথম সপ্তাহ অবধি থাকবে। এছাড়াও তিনি জানান, আগামী সময়ে বিজয় তোরণে (কর্জন গেট) লাইট এন্ড সাউন্ড ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মানুষের যাতে একঘেয়ে না লাগে, সেই জন্য সারা বছর বিভিন্ন পার্বনে তাঁর আলকসজ্জা পালটে পালটে যাবে। বদলাবে রংয়ের ছটা। যে সমস্ত বর্ধমানবাসী বড়দিনে পার্কস্ট্রিটে যেতে পারেননি তাদের কিছুটা হলেও আক্ষেপ মিটবে শহরটা আলো ঝলমলে দেখে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Theft of money: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়ি থেকে টাকা, সোনার গয়না ও ডলার চুরি, গ্রেফতার এক

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়ি থেকে টাকা, সোনার গয়না ও ডলার চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। ধৃতের নাম সত্যেন্দর রায়। তাঁর বাড়ি বুদবুদ থানার হরিনারায়ণপল্লীতে। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থানার পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, চুরির কথা ধৃত ব্যক্তি কবুল করেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এও জানতে পেরেছে চুরির ঘটনায় আরও একজন জড়িত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ, বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। চুরির মালপত্র ও টাকা উদ্ধার এবং অপর জড়িতের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার এদিন ধৃতকে ৫ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতের তিনদিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, আউশগ্রাম থানার মাজুড়িয়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিমাংশু চক্রবর্তী কিছুদিন আগে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সপরিবারে বাঁকুড়ায় গিয়েছিলেন। তাঁর ঘর তালাবন্ধ ছিল। এক মহিলাকে ঘর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। রাতে দরজা ও আলমারির তালা এবং লক ভেঙে সোনার গয়না, টাকা ও দুটি ইউএস ডলার নিয়ে পালায় চোর। দেখভালের দায়িত্বে থাকা মহিলা পরেরদিন সকালে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। বাড়ি ফিরে হিমাংশুবাবু চুরির ঘটনা নিয়ে আউসগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Ex-MLA: বর্ধমানে দলীয় কর্মীর বাড়ি তৈরিতে যুক্ত রাজমিস্ত্রিদের মারধরের অভিযোগ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে

বিধায়ক পদে থাকুন বা না থাকুন সর্বদাই তিনি থাকেন রণংদেহী ভাবমূর্তি নিয়েই, এমন বিতর্ক রয়েছে। বিধানসভার ভিতরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিধায়ককে কুকথা বলা কিংবা থানায় ঢুকে পুলিশ আধিকারিকদের চমকানো সবেতেই মেমারির প্রাক্তন বিধায়ক নার্গিস বেগমের নাম জড়িয়েছে। এবার সেই নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে বর্ধমানের পীরবাহারাম এলাকার এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি তৈরির কাজে যুক্ত রাজমিস্ত্রিদের মারধোরের অভিযোগ উঠলো। এই ঘটনা নিয়ে বুধবার সকালে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয় পড়ে। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাক্তন বিধায়কের এমন আচরণের নিন্দায় সরব হয়েছেন বর্ধমানের পীরবাহারাম এলাকার সকল তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক। বর্ধমান শহরের পীরবাহারাম ডাঙাপাড়া এলাকায় বাড়ি তৃণমূল কর্মী সেখ আনোয়ারের। তাঁর বাড়ির পাশেই রয়েছে মেমারির প্রাক্তন বিধায়ক নার্গিস বেগমের বাড়ি। সেখ আনোয়ার এদিন জানান, তাঁর বসত বাড়ির অবস্থা খারাপ থাকায় তিনি সরকারের কাছে একটি পাকা বাড়ির জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। কয়েকদিন ধরে তাঁর পাকা বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। আনোয়ার বলেন, নার্গিস বেগমের বাড়ির জানালার সোজা আমার বাড়ির জানালা হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে নার্গিস বেগম এদিন আমার বাড়িতে কর্মরত রাজমিস্ত্রীদের উপর চড়াও হয়। ইট নিয়ে রাজমিস্ত্রিদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে পুলিশ পৌছায়। সেখ আনোয়ারের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রাক্তন বিধায়কের কথায় উল্টে তাঁদেরই শাসায়। এমনকি তাঁদের কোনও কথাই পুলিশ শুনতে চায়নি বলে আনোয়ারবাবু অভিযোগ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন নার্গিস বেগম।এলাকার তৃণমূল নেতা সেখ ভীম জানান, নার্গিস বেগম ও তার পরিবারের সদস্যারা মিলে রাজমিস্ত্রীদের মারধর করেছে। যার বাড়িতে কাজ হচ্ছিল সেও একজন তৃণমূল কর্মী। নার্গিস বেগম যে ঘটনা ঘটালেন সেটা সত্যি লজ্জার বিষয়। দলের প্রাক্তন বিধায়কয়ের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে এলাকার লোকজনও। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপত্র দেবু টুডু বলেন,কি হয়েছে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে আইনের উর্ধে কেউ নন।সবাইকেই নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। দলের নেতা-নেত্রী বলে আইন আলাদা হবে না।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Contaminated Mustard Oil: রাসায়নিক মেশানো ভেজাল সরষের তেল তৈরির ডেরার পর্দা ফাঁস পূূর্ব বর্ধমানে, গোডাউন মালিক বেপাত্তা

চোরাই রাইস অয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হত ভেজাল সরষের তেল। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ছিনুই এলাকায় গজিয়ে ওঠা ওই ভেজাল সরষের তেলের কারবারী ডেরায় হানা দেয়। সেখান থেকে পুলিশ ভেজাল সরষের তেল তৈরিতে যুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ৫২টি টিনের ড্রামে ভর্তি ভেজাল সরষের তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। এছাড়াও রাইসয়েল তেল সমেত একটি ট্যাঙ্কারও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ নড়ে-চড়ে বসাতেই ভেজাল সরষের তেলের কারবারী চক্রের পর্দাফাঁস হল বলে মনে করছেন মেমারির বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অসীম মিত্র, গোবিন্দ সরকার ও পঙ্কজ সিং। অসীম ও গোবিন্দর বাড়ি মেমারির ছিনুই গ্রামে। অপর ধৃত পঙ্কজ সিং বাজেয়াপ্ত হওয়া ট্যাঙ্কারটির চালক। তাঁর বাড়ি হাওড়ার বালি এলাকায়। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার তিন ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁদের ১০ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। বিচারক ধৃতদের ৫ জানুয়ারী পর্যন্ত পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহরায় বলেন, ভেজাল সরষের তেল তৈরি চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত রয়েছে এবং চক্রে আরও কারা করা যুক্ত রয়েছে তা ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত সামগ্রীও ল্যাব টেস্টিংয়ে পাঠানো হবে। যে গোডাউনে ভেজাল সরষের তেল তৈরি করা হত সেই গাডাউনের মালিক কে সেই বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। মেমারির ছিনুই শীতলাতলা এলাকায় ভেজাল সরষের তেল তৈরি হওয়ার খবর মঙ্গলবার গোপন সূত্রে পায় মেমারি থানায় পুলিশ। ওই এলাকায় হানা দিতেই পুলিশের নজরে আসে একটি ট্যাঙ্কার থেকে তেল বের করে ড্রামে ভরা হচ্ছে। পুলিশ ওই ট্যাঙ্কারের চালককে ধরার পাশাপাশি ট্যাঙ্কারটি বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাঙ্কার থেকে রাইসয়েল ড্রামে ভরে নিয়ে গোডাউনে রাখা হত। এই রাইসয়েলও চুরি করা রাইসয়েল। এছাড়াও আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে রাইসয়েল সংগ্রহ করতো কারবারীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, গোডাউনের মধ্যে ওই রাইসয়েল প্রথমে একটি বড় পাত্রে ঢালা হত। পরে তাতে সরষের তেলের রঙ আনার জন্য কাঠ পালিশে ব্যবহৃত কামধেনু রঙ সহ নানা ভেজাল দ্রব্য মেশানো হত। এছাড়াও সরষের তেলের ঝাঁজ আনার জন্য ওই রাইসয়েলে ক্ষতিকারক রাসায়নিকও মেশানো হত। এইসব ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে কারবারীরা রাইসয়েলকে সরষের তেলের রুপ দিত। পরে সেই তেল ১৫ কেজির খালি টিনের ড্রামে ভরে টিনের ছিপি দিয়ে শিল করে দেওয়া হত। এরপর ওই টিনের ড্রামে বিভিন্ন নামি দামি কোম্পানির স্টিকার আঠা দিয়ে এঁটে কারবারীরা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতো। মেমারি থানার পুলিশ দাবি করেছে, ভেজাল সরষের তেলের এই কারবারির ডেরা থেকে ৫২ ড্রাম ভর্তি ভেজাল সরষের তেল, ৭৪টি খালি টিনের ড্রাম ও নগদ ৫০ হাজার টাকা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে। এছাড়াও ভেজাল তেল তৈরিতে ব্যবহৃত সমস্ত উপকরণ ও রাইসয়েল সমেত ট্যাঙ্কারটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে মেমারি থানার পুলিশ জানিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

MA English Chaiwali-Tuktuki Das : হাবড়া স্টেশনে কেন ভেঙে দেওয়া হল ‘‌এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালি’‌র দোকান?‌

বাবা ভ্যান চালক। মা ছোট্ট মুদির দোকান চালান। বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষকতা করুক। বাবার স্বপ্নপূরণ করার আপ্রান চেষ্টা করেছিলেন টুকটুকি দাস। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষা বিভাগে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তরও পাশ করেন। কিন্তু কালের ফেরে চাকরি জোটেনি।চাকরি জোটাতে না পেরে সংসারের হাল ধরতে এই বছর নভেম্বরের শুরুতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া স্টেশনের দুনম্বর প্ল্যাটফর্মে চায়ের দোকান খোলেন। দোকানের নাম দেন এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালি। চায়ের দোকান খোলার ব্যাপারে টুকটুকি দাস অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ইউ টিউবে প্রফুল্ল বিল্লোরের এমবিএ চাওয়ালা দেখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল টুকটুকি দসের এমএ ইংলিশ চায়েওয়ালি। সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি হয়। মিডিয়ার দৌলতে দ্রুত খ্যাতি লাভ করেন টুকটুকি। দোকানকে আস্তে আস্তে বড় করেন।কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা অনেকের চক্ষুশূল হয়। বুধবার সকালে হঠাৎই রেল প্রশাসন ও আরপিএফ কর্মীরা টুকটুকি দাসের নতুন দোকান ভাঙচুর করে। স্থানীয় হকার্স ইউনিয়নের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বের অঙ্গুলি হেলনে রেল প্রশাসন টুকটুকি দাসের দোকান ভেঙে দিয়েছে। রেল আধিকারিকরা অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। রেল আধিকারিকদের দাবি, হাবড়া স্টেশনে টুকটুকি দাসের পুরনো দোকান রয়েছে। সেটা বাদ দিয়ে তিনি আবার নতুন দোকান তৈরি করেছেন। স্টেশনের জায়গা কম থাকায় কাউকে আর নতুন করে দোকান তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হয় না। সেই কারণেই টুকটুকি দাসের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যেসব দোকান আগে থেকে রয়েছে, সেগুলিই থাকবে। টুকটুকি দাসের দোকান ভাঙা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Corona: রাজ্যে ২৪ ঘণ্টায় আবার ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের তরফে ক্রমাগত সতর্কবাণী সত্ত্বেও ভোটপুজো থেকে বড়দিন বিধি ভাঙার কোনও সুযোগই ছাড়েনি জনতার একটি বড় অংশ। ফল-ও মিলছে, যেমন মিলেছিল দুর্গাপুজো থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত মহোৎসবে লাগামছাড়া মাতনের পরে। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যে দৈনিক করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০-র ঘরে ঘোরাফেরা করলেও মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে। সংখ্যাটি এক ধাক্কায় পৌঁছে গিয়েছে ৭০০-র ঘরে।২ দিন পরেই বর্ষবরণ। বর্ষশেষের নিশিযাপন আর ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদ্যাপনের তাগিদে কলকাতা ৩১ ডিসেম্বরের রাত থেকে শৃঙ্খলা ভেঙে, অতিমারি বিধি উড়িয়ে ওমিক্রনকে স্বাগত জানাতে হামলে পড়বে কি না, তা নিয়েও মহা উদ্বেগে আছেন চিকিৎসকেরা।ওমিক্রন পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশে থাবা বসাতে থাকায় বার বার বিধি মানার কথা বলে স্বাস্থ্য শিবির মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বছর শেষের উৎসবে প্রশাসন রাশ আলগা করার কারণেই এক শ্রেণির মানুষের বেপরোয়া আচরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে মানুষের আত্মিক সচেতনতা ও বোধের উপরেই ভরসা রাখতে চাইছেন চিকিৎসকদের একাংশ। নতুন বছরের আনন্দ ষোলো আনা অনুভব-উপভোগ করেও পথে নেমে ভিড় করে উচ্ছ্বাস প্রকাশে লাগাম টানারই আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা।স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত রাজ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাঁচ জন। আর কারও খোঁজ মেলেনি, যাঁকে ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা যায়। ঢাকুরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবকের আজ, বুধবার পুনরায় কোভিড পরীক্ষা করা হবে। সেই পরীক্ষার রিপোর্টও যদি নেগেটিভ আসে, তা হলে তাঁকে ছুটি দেওয়া হবে বলেই সূত্রের খবর।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Weather: দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ

বড়দিনের আগে থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে উধাও হয়েছে শীতের কনকনানি। বুধবার সকালে উত্তপ্ত কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে সাড়ে ১৭ ডিগ্রির কাছাকাছি। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকাশ রয়েছে মেঘলা। জেলার কোথাও কোথাও কুয়াশাও দেখা গিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে।আকাশ মেঘলা থাকার কারণে শীতের আমেজ উধাও হতে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পেরোতে পারে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্ষশেষে শীতের আমেজ উধাও হলেও ঝঞ্ঝা কেটে যাওয়ার পর নতুন বছরের শুরুতে ফের জাঁকিয়ে ঠান্ডা ফিরতে পারে বলে জানানো হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফে।আবহবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতে হাজির হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই উত্তুরে হাওয়া বাধা পেয়েছে। সেই ঝঞ্ঝা ক্রমশ পূর্ব ভারতের দিকে বয়ে আসার ফলে রাতের পারদ পতনেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই ঝঞ্ঝার জেরেই বুধবার এবং বৃহস্পতিবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, কলকাতা, দুই পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়ায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টায়। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Illegally Entering: অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হল এক বাংলাদেশী যুবক। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ সোমবার রাতে ভাতারের এওরা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃত যুবক পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁর নাম অজিত বিশ্বাস। বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার সাহিলকোপা এলাকায়। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বছর ৩০ বয়সী যুবক সোমবার রাতে ভাতারের এওড়া গ্রামের কাছে ঘোরাঘুরি। যুবককে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ওই যুবক স্বীকার করে সে আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। সাড়ে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে দালাল মারফত পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে বলে যুবক জানায়। যুবক আরও বলে ভারতে অনুপ্রবেশের পর সে কোনওভাবে ভাতার থানা এলাকায় চলে এসেছে। যুবক তাঁর যে নাম ঠিকানা জানিয়েছে তা সঠিক কিনা সেটা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কি উদ্দেশ্যে ওই যুবক ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Fuchka: কামড় দিলেই তেতুল জলের বদলে বাটারস্কচ আইসস্ক্রিম, ভিন্ন স্বাদের ফুচকায় মেতেছে বর্ধমান

ফুচকা অতি জনপ্রিয় সুস্বাদু মুখরোচক খাদ্যবস্তু। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় হলেও জানা যায় এর সৃষ্টি মুলত বাংলা এবং ওড়িশা-য়। খাদ্যবস্তুটি বাংলাদেশ এবং ভারতে শহর থেকে শহরতলি হয়ে গ্রামাঞ্চলেও সমান জনপ্রিয়। বিভিন্ন জায়গায় এটিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় এর নাম ফুচকা, উত্তর ভারতে গোল-গাপ্পা নামে জনপ্রিয়। মুম্বাই সহ সমগ্র মহারাষ্ট্রতে এর জনপ্রিয়তা পানি-পুরি। আবার আমাদের বাংলাতেই পশ্চিম-বর্ধমানের আসানসোল, বরাকরে এটিকে গুপচুপ বলা হয়ে থাকে।আরও পড়ুনঃ নগিডি, রাবাডাদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন, তৃতীয় দিন কেন ব্যাটিং বিপর্যয় ভারতের?সাধারণভাবে আটা এবং সুজি দিয়ে তৈরি একটি গোলাকৃতি পাপড়ির মধ্যে নানাবিধ মসলামিশ্রিত সেদ্ধ আলুর পুর (ছোলা, ধনেপাতা, মটর,কাঁচা লঙ্কা) ভরে তেঁতুলজল সহযোগে পরিবেশন করা হয় ফুচকা। বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরণের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী মশালারও প্রকারভেদ হয়। নানারকমের নামের পাশাপাশি ফুচকা পরিবেশনের রীতিটিও বিভিন্নতা লাভ করেছে। কোনও কোনও অঞ্চলে তেঁতুলজলের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় পুদিনামিশ্রিত জল। আবার পশ্চিমবঙ্গে ফুচকার পুর হিসেবে ব্যবহৃত আলুতে পেঁয়াজের প্রচলন কম থাকলেও, ওড়িশাতে পেঁয়াজ ছাড়া ফুচকার কথা ভাবাই যায় না। এছাড়াও সারা ভারতেই দই-ফুচকা জনপ্রিয়তা প্রবল, এটি সাধারনত এলিট শ্রেনী-র পদ হিসাবেই বিবেচনা হয়।আরও পড়ুনঃ রোগীদের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার বিডিও, গর্বের অন্ত নেই ভাতারবাসীরফুচকার ইতিহাস ঘেঁটে গ্রহণযোগ্য আর প্রমাণসাপেক্ষ যা জানা যায় তা হল, এর সৃষ্টি মহাভারতের দ্রোপদীর হাতে। কথিত আছে দ্রোপদী বিয়ে পর পান্ডবদের কাছে আসার পরে তাঁর শাশুরি মাতা কুন্তি তাঁকে আগের রাতের বেচে যাওয়া আলুর সব্জি আর আটার মন্ড দিয়ে বলেছিল তাঁর স্বামীদের (পান্ডব) জন্য খাবার বানাতে। তখন দ্রোপদী আটা দিয়ে একটি গোলাকৃতি পাপড়ির মধ্যে মসলা মিশিয়ে সেদ্ধ আলুর পুর ভরে তেঁতুলজল সহযোগে পরিবেশন করেন এই পদটি। কুন্তি পরে দ্রোপদীর বানানো খাবারকে অমরত্বের আশীর্বাদ দান করেন। সেই থেকে মগধে এই পদটিকে ফুলকি নামে ও পরে কালক্রমে নাম পরিবর্তন হয়ে ফুচকার নামে রূপান্তর হয়।শ্রীনাথ ও নিহা রায়ফুচকার নাম মনে পড়লেই তেঁতুল জলের কথা মনে আসবেই। কচি-কাঁচা থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরও জিভে জল এসে যায় এই পদের নাম শুনলে। কালান্তরে এর প্রকারভেদ হতে হতে হালের আধুনিক প্রগতিশীলদের হাতে পরে ফুচকার কর্পোরেটাইজেশন হয়ে গিয়েছে। অতিমারী কোভিড-র প্রকোপে লকডাউনে কলকাতায় কাজ হারান বর্ধমানবাসী শ্রীনাথ। তিনি জনতার কথা কে জানান, আমি বর্ধমান সেন্ট জেভিয়ার্স-এ স্নাতক স্তরের পড়াশোনা চলিয়ে যাবার সাথে সাথেই আমার ড্রিম ফুলফিলমেন্টের জন্য নানা ধরনের কাজে যুক্ত হতে শুরু করি। স্নাতক পড়াশনার মাঝেই কলকাতা পাড়ি দিয়ে একটা কলসেন্টারে জব জয়েন করি। পাশ করার পর তিনি কলকাতার গড়িয়াতে একটি স্পোকেন-ইংলিস সেন্টারে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু বিধি বাম! শ্রীনাথের সুখ বেশি দিন স্থায়ী হল না। সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তড়িঘড়ি বর্ধমানে ফিরে আসেন। দু-মাস ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার পর কলকাতা থেকে চাকরী যাবার ফোন আসে।আরও পড়ুনঃ আগ্নেআস্ত্র নিয়ে দাদাগিরি করার দায়ে বর্ধমানে গ্রেফতার যুবকসদ্য বিবাহিত মানুষটি দিশেহারা হয়ে পড়েন, দুমাস বসে থাকার পর এক বন্ধুর পরামর্শে ডেলিভারি বয়ের কাজে লেগে পড়েন। তিনি বলেন কাজের সঙ্কোচ কোনওদিন-ই আমি করিনি, যে-কোনোও কাজকেই আমি সন্মান করি। কোনও কাজই আমার কাছে ছোটো নয়। কিছুদিন যেতেই তিনি বুঝতে পারেন এই কাজ করে তাঁর স্বপ্নপুরন স্বম্ভব নয়। তিনি বলেন, সেই কারনে আমার স্ত্রী নিহা কে নিয়ে আমি নিজে কিছু করার উদ্যোগ নিতে শুরু করি, আমি নিজে খেতে খুব ভালো বাসি, আমার এবং আমার স্ত্রী দুজনেই বাড়িতে লোকজন এলেই নানা রকম পদ রান্না করে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। আমাদের দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিই যে আমরা খাবারের ব্যবসা-ই করবো।ভাবনার রুপদান করতে লেগে পড়েন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁকে সঙ্গ দেন তাঁর স্ত্রী নিহা। বর্ধমান শহরের এক প্রান্তে বিজয়রাম-এ খুলে ফেলেন তাঁর স্বপ্নের ঝাঁপি, নাম দিলেন জিভে জল। সত্যি-ই ফুচকা নামেই সাধারণ মানুষের জিভে জল আসবেই। তাঁর রেশ ধরেই এই নামকরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষজন। বিভিন্ন প্রকারের সম্ভার এই কাফেতে। জল ফুচকা, ধনিয়া জল ফুচকা, মিষ্টি জল ফুচকা, চিকেন ফুচকা,আইসক্রিম ফুচকা, আগুন ফুচকা, দই ফুচকা,পনির ফুচকা আরও অনেক রকমের ফুচকা। আরও পড়ুনঃ এবার বিজেপিতে বিদ্রোহী পাঁচ মতুয়া বিধায়কখেতে খেতে হটাৎ যদি শোনেন What else can I do for you? বা Will you eat anything else! অবাক হবেন না, প্রথাগত ফুচকা ওয়ালা দের থেকে স্পোকেন-ইংলিস টিচার-র আদব কায়দা একটু হলেও আলাদা। সেটা দেখতেই কিশোর-কিশোরী থেকে কলেজ পড়ুয়ারা ভিড় জমাচ্ছে তাঁর এই কাফেতে। সেখানে আসা কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাঁরা ফুচকার সঙ্গে সঙ্গে এই শিক্ষিত ইংরাজি বলা মানুষটিকে চাক্ষুষ করতেই ভিড় জমাচ্ছেন। শ্রীনাথ জনতার কথা কে জানান আপাতত আপনারা জিভে জলএ গেলে ২২ রকমের ফুচকা, ৮ রকমের লস্যি, ৮ রকমের সরবত, ১০ রকমের চা, ও ভেজ ও চিকেন ফ্রাইড এবং ষ্টীম মোমো পাবেন, এই ভরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের প্রাক্কালে বর্ধমানবাসীরা ভিড় জমাচ্ছেন এই স্পোকিং ইংলিশ-বলা ফুচকার দোকানে।আরও পড়ুনঃ সারমেয়-র টানে পশুপ্রেমী টলি অভিনেত্রী বর্ধমানেশুধু ফুচকা নয়, এখানে আপনি চাএর ভ্যারাইটি পাবেন যেমন, মিল্ক টি, মসালা টি, লবঙ্গ টি, এলাচি টি, ব্ল্যাক টি, লেমন টি, মালাই টি। পাবেন নানা রকমের মোমো, ঠান্ডা পানীয়। বছরের শেষ লগ্নে ঘুরতে ঘুরতে একবার স্পোকেন-ইংলিস টিচারর জিভে জল-এ ঘুরে যেতেই পারেন। উপাদেয় নানা ধরনের খাবার তো পাবেন-ই আর যেটা অতিরিক্ত পাবেন সেটা হল আত্মবিশ্বাস, তাঁকে দেখে কবির সুমনের একটা গান আপনার মনে পরবেই হাল ছেড়োনা বন্ধু...

ডিসেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Weather: দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা, হতে পারে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি

সপ্তাহখানেক আগেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছিল দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি। সেখানে এখন তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে ১৪ ডিগ্রির কাছাকাছি। কলকাতার তাপমাত্রা তো আরও বেড়েছে। স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেড়ে মঙ্গলবার সকালে তা পৌঁছে গিয়েছে ১৭ ডিগ্রির কাছাকাছি। সেই সঙ্গে বিক্ষিপ্ত মেঘও রয়েছে আকাশে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মঙ্গলবারের সকাল ঢেকেছে কুয়াশায়। মঙ্গলবার সকালে মহানগরীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি। সোমবার আসানসোলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৬ ডিগ্রি। বর্ধমানে ১৬ ডিগ্রি, উলুবেড়িয়ায় ১৬ ডিগ্রি, ক্যানিংয়ে ছিল ১৪.৬ ডিগ্রি। উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং তরাইয়ে অবশ্য স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় ঠান্ডা বেশি রয়েছে। সোমবার রাতের তাপমাত্রা দার্জিলিঙে ৩ ডিগ্রি, কোচবিহারে ৭.৬ ডিগ্রি, কালিম্পংয়ে ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে।আবহবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতে হাজির হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই উত্তুরে হাওয়া বাধা পেয়েছে। সেই ঝঞ্ঝা ক্রমশ পূর্বভারতের দিকে বয়ে আসার ফলে রাতের পারদ পতনেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই ঝঞ্ঝার জেরে মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণাবর্ত ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে উত্তর ও দক্ষিণ, দুই বঙ্গেরই বেশ কিছু জেলায় শীতের মাঝে বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে মঙ্গলবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি চলবে আগামিকাল পর্যন্ত। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া,পশ্চিম বর্ধমান বীরভূম হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরের শেষে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে বছরের শেষে শীত ফিরবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আবহবিদদের অনুমান, চলতি বছরের শেষ দিন থেকেই তাপমাত্রা নামতে পারে। তবে ফের শীতের কাঁপুনি মিলতে পারে নতুন বছরের দুদিন পেরনোর পরেই। আগামী শনিবার বছরের প্রথম দিনে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Firearms: আগ্নেআস্ত্র নিয়ে দাদাগিরি করার দায়ে বর্ধমানে গ্রেফতার যুবক

আগ্নেআস্ত্র হাতে নিয়ে পাড়ার বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর অভিযোগ গ্রেফতার হল এক যুবক। ধৃতের নাম শেখ রফিকুল ওরফে কচি। তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর এলাকায়। বর্ধমান সদর থানার পুলিশ সোমবার রাতে বড়নীলপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ধৃতের কাছ থেকে একটি দেশি পাইপগান, বেলুন ফাটানোর একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। যুবক কোথা থেকে আগ্নেআস্ত্র পেল তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে বলে আইসি জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কচি প্রায়ই এলাকায় দাদাগিরি করতো। কেউ প্রতিবাদ করলে আগ্নেআস্ত্র দেখিয়ে তাঁদের ভয় দেখাতো কচি। নিজের ন্ত্রীকে মারধর করার পশাপাশি সে এলাকার সাধারণ মানুষকেও হুমকি দিত বলে অভিযোগ। এদিন সন্ধ্যায় সে একইরকম ভাবে বড়নীলপুর বাজার এলাকায় দাদাগিরি শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দা মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে কচিকে ধরে ফেলে। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে আগ্নেআস্ত্র উদ্ধার হয়। এলাকার বাসিন্দা প্রতিমা দে বলেন, বোমা বন্দুক নিয়ে কচি প্রায়সই সবাইকে ভয় দেখায়। ধৃতের নিজের ভাই শেখ সফিকুল জানান, তিনি আলাদা বাড়িতে থাকেন। তাঁর ভাই একটি মেয়েকে নিয়ে রবিবারও মদ্যপান করছিল। ভাইয়ের কাছে আগেও আগ্নেআস্ত্র দেখেছেন বলে সফিকুল এদিন জানান। কচির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Bangla Pokkho: বাংলা পক্ষর আন্দোলনে বড় সাফল্য, পোস্ট অফিসে পাওয়া যাবে বাংলা ভাষায় পরিষেবা

বাংলা পক্ষ-র পশ্চিম বর্ধমান জেলার লড়াইয়ের ফলে বড়ো সাফল্য এল। এখন থেকে পোস্ট অফিসে বাংলা ভাষায় পরিষেবা পাওয়া যাবে। বাংলা পক্ষ কিছুদিন আগেই আসানসোল ও রানিগঞ্জ পোস্ট অফিসে ডেপুটেশন জমা দেয়। আজ পোস্ট বিভাগ বাংলায় পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে রানিগঞ্জ শাখার সম্পাদক দীপায়ন মুখার্জী, আসানসোল উত্তর শাখার সম্পাদক ঋষিক গাঙ্গুলি এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়।সমস্ত ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং বীমা পরিষেবায় বাংলা চাই, এই দাবিতে বাংলা পক্ষ-র লড়াই চলছে বাংলা জুড়ে। বাংলা পক্ষর পশ্চিম বর্ধমান জেলার এই সাফল্য, পুরো বাংলা পক্ষ সংগঠনকে আরও উজ্জীবিত করবে লড়াইয়ের ময়দানে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Doctor BDO: রোগীদের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার বিডিও, গর্বের অন্ত নেই ভাতারবাসীর

ছোট বয়স থেকেই সরকারি আমলা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তাই ডাক্তারি পাশ করে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হওয়ার পরেও অরুণ কুমার বিশ্বাস সরকারী আমলা হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর সেই স্বপ্নও পূরণ হয়। তবে রোগীর চিকিৎসা করা থেকে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বিডিও অরুণ বিশ্বাস এখন ডাক্তার বিডিও নামেই স্বনামধন্য হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে ভাতারবাসীর গর্বের অন্ত নেই।আরও পড়ুনঃ মন্দির দর্শনে এসে পানা পুকুরে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু শিশু পুত্রেরমালদার মঙ্গলপুরে বাড়ি অরুণ কুমার বিশ্বাসের। তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০০৯ সালে ডাক্তারি পাশ করেন।তারপর এক বছর মানবাজার ২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি করেন।অরুণবাবু জানান, চিকিৎসক হিসাবে মানবাজারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি করলেও আমলা হওয়ার বাসনা তিনি ত্যাগ করতে পারেননি। তাই হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। তবে ইউপিএসসি না পেলেও ১০১৭ সালে ডাব্লুবিসিএস পরীক্ষায় পাশ করেন। ২০১৯ সালে কাজে যোগ দেন। প্রথম পুরুলিয়ার ঝালদা ২ ব্লকের বিডিও হন। এখন তাঁর ঠিকানা ভাতার ব্লক। আমলা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ঠিকই তবে ছুটির দিনে তিনি রোগীদের চিকিৎসা করার কাজটাও সমানতালে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। ২০০২ সালে ২৬ ডিসেম্বর বিডিও সাহেবের মা হেমালিনিদেবী মারা যান। রবিবার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেই ভাতারের ব্লক অফিসের একটি ঘরে বসে রোগীর চিকিৎসা করার কাজ শুরু করেন বিডিও অরুণ বিশ্বাস। ওই দিন তিনি ২৬ জনের চিকিৎসা করেন। এখন থেকে সরকারি ছুটির দিনে রোগীর চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করবেন বলে বিডিও মনস্থির করেছেন। বিডিও অরুণ বাবু এদিন বলেন, প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব সামলে তবেই চিকিৎসা করবেন। যতটুকু সময় মিলবে ততটুকু সময় তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করতে চান। তাতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।আরও পড়ুনঃ শেষ হল জতুগৃহ-র শুটিংভাতারের কাঁচগোরিয়া গ্রামের মামনি ঘোষ ও বামশোর গ্রামের জিলাই শেখ এদিন বলেন, বিডিও সাহেব চিকিৎসা করবেন জেনে ব্লক অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন। বিডিও সাহেব ওষুধ লিখে দিয়েছেন। ডাক্তার বিডিও সাহেব চিকিৎসা করা শুরু করায় ভাতারবাসীর প্রভূত উপকার হবে বলে জিলাই শেখ মন্তব্য করেন।আরও পড়ুনঃ ২০ জন কাউন্সিলরেই পুরসভা বিধায়কের কব্জায়! বর্ধমানে কর্মীসভায় তৃণমূল নেতার বক্তব্যে ব্যাপক শোরগোলভাতার পঞ্চায়েত সমিতি সহ-সভাপতি সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের কর্মীদের শারীরিক অসুস্থতা হলে কাজের ফাঁকে বিডিও সহেব চিকিৎসার পরামর্শ দিতেন। এ বার তিনি ব্লকের রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া শুরু করায় অনেকেই উপকৃত হবেন। এর ফলে বিডিও সাহেবের ডাক্তারি-বিদ্যাতেও মরচে পড়বে না। মহকুমাশাসক (বর্ধমান উত্তর) তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনিক কাজ সামলে বিডিও তাঁর শিক্ষা প্রয়োগ করে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এটা সত্যি ভালো উদ্যোগ।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Burdwan Municipality: ২০ জন কাউন্সিলর চাই বিধায়কের, বর্ধমানে কর্মীসভায় তৃণমূল নেতার বক্তব্যে ব্যাপক শোরগোল

কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন। সোমবার বাকি চার পুরনিগমের ভোট ঘোষণা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে বর্ধমান পুরসভায় ঘর গোছানো শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে চরমে তা তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীসভায় নেতৃত্বের বক্তব্যে একেবারে স্পষ্ট। রবিবার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, দলের জেলা যুব সভাপতি তথা জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝির সামনেই বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা ইফতিকার আহমেদ।কর্মীসভায় প্রাক্তন আইএনটিটিউসি সভাপতি ইফতিকার আহেমদ বলেন, যাঁরা নিজের ওয়ার্ডে হেরে গেল-গোহারা, তাঁরা পুরস্কৃত হল বর্ধমানে প্রশাসকরূপে। আমি আমাদের বিধায়কের কাছে জানতে চাইব ফর্মূলা কী আছে ভাই। আমরা লড়াই করলাম। আমরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তোমাকে জেতালাম। শঙ্খশুভ্র ঘোষ ৫ বছর কাউন্সিলর হয়ে কোনও কাজ করেনি, ওয়ার্ডটা হেরে গেল, উমা সাঁইয়ের ওয়ার্ডে লোকসভায় হার, বিধানসভায় হার, অথচ পুরস্কৃত হচ্ছে পুরপ্রশাসক হিসাবে। ১৬ নম্বরে যুব লিডারের ওয়ার্ডেও হেরেছে। এভাবেই দলের বিরোধী গোষ্ঠীকে সরাসরি আক্রমণ শানানো হয় বিধায়ক ও জেলা যুব সভাপতিকে মঞ্চে বসিয়ে।বর্ধমানে পুরপ্রশাসকদের নিয়োগ করার পর থেকেই বিরোধিতা করে এসেছেন স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস। তিনি সরাসরি পুরসভার কাজ নিয়েও নানা সভায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। এদিন বিধায়কপন্থী তৃণমূল নেতা বলেন, আমি বলব খোকনদাকে ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫টা কাউন্সিলর দরকার নেই। আপনি ২০টা কাউন্সিলর বের করে আনুন। বর্ধমান পুরসভা আপনার অঙ্গুলি হেলনে হিলবে। বর্ধমান পুরসভা আপনার কথায় চলবে। এই সময় অন্য কোনও আলোচনায় যেতে চাই না।বিধায়কপন্থী নেতার বক্তব্যে বিতর্ক ছড়িয়েছে জেলা তৃণমূলের অন্দরে। পুর-প্রশাসক নিয়ে লাগাতার বিধায়ক সহ তাঁর অনুগামীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনৈক জেলা নেতার মন্তব্য, বর্ধমান পুরসভায় প্রশাসকদের কে নিয়োগ করেছে? বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম পরিচালিত রাজ্যপ্রশাসন! এখন ক্ষমতায় তো তৃণমূলই। তাহলে এভাবে পুরপ্রশাসকদের বিরোধিতা করার অর্থ কি? দলের একাংশের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনে খোদ বিধায়ক নিজের এলাকার ওয়ার্ডে ব্যাপক ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। এর জবাব কে দেবে? তাছাড়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দল অল্প ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। বিধায়কের সঙ্গে থেকে যাঁরা এখন দৌড়ঝাঁপ করছেন তাঁদের বহু ওয়ার্ডেই বিধানসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তৃণমূলের গোষ্ঠীকলহ কোন পর্যায়ে পৌঁছালে বিধায়কের ঝুলিতে ২০ জন কাউন্সিলর-এর দাবি ওঠে, সেই চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই অংশের বক্তব্য, এখনকার পুরপ্রশাসক সংঘমিতা চৌধুরীও তো লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

child died: মন্দির দর্শনে এসে পানা পুকুরে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু শিশু পুত্রের

খেলার মাঠ ভেবে কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়ে নেমে পড়ায় তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক শিশুর। মৃত শিশুর নাম প্রহ্লাদ মণ্ডল (৮)। তাঁর বাড়ি বীরভূমের লাভপুরের মহদরী গ্রামে। রবিবার ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের কালনার উঁচু জাপটের ভবা পাগলা মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। রাতে ওই জলাশয় থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার করে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু পুত্রকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কি ভাবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বীরভূমের মহদারী গ্রাম থেকে একদল পর্যটক রবিবার কালনার বিভিন্ন মঠ ও মন্দির পরিদর্শনে আসেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুপুত্র প্রহ্লাদ মণ্ডলও কালনার ভবা পাগলা মন্দির ও বাড়ি দর্শন করতে যায়। সন্ধ্যার প্রাক্কালে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎই ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গার্ডওয়াল বিহীন ভবা পাগলার বাড়ি লাগোয়া পানা পুকুরের মধ্য থেকে মেলে শিশু প্রহ্লাদের দেহ। ভবা পাগলার মন্দির দর্শনে আসা সকলের অনুমান সবুজ পানায় ঢাকা পুকুরটিকে খেলার মাঠ মনেকরে সেখানে যেতে গিয়ে শিশুটি জলে তলিয়ে যায়। তার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Municipal Elections: বাদ রইল হাওড়া, চার পুরনিগমে ভোট ঘোষণা কমিশনের, ফল ২৫ জানুয়ারি

হাওড়াকে বাদ দিয়েই আপাতত হবে পুরনিগমের ভোট। জানিয়ে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস। মঙ্গলবার এই ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। শিলিগুড়ি, বিধাননগর, আসানসোল, চন্দননগরে ভোট হচ্ছে ২২ জানুয়ারি। এবারও সব বুথে থাকছে সিসিক্যামেরা।২৫ জানুয়ারি ভোটের গণনা। ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হবে। পুনর্নির্বাচনের দাবি থাকলে তা ২৪ জানুয়ারি হবে। সোমবার থেকেই জারি হয়ে গেল আদর্শ আচরণ বিধি। শুধুমাত্র যেখানে ভোট হবে সেই পুরনিগম এলাকায় আদর্শ আচরণ বিধি বলবৎ থাকবে।অন্যদিকে হাওড়ার ভোট যে এবারও ঝুলে রইল তাও স্পষ্ট। এখনও হাওড়া বিলে সই করেননি রাজ্যপাল। ফলে এ ভোটের জট যে কবে কাটবে তা কেউ জানে না। এদিন পুরভোট নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সর্বদল বৈঠক ছিল। মাঝপথে সেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে যায় সমস্ত বাম শরিক দল। অন্যদিকে কংগ্রেস, বিজেপিও এই বৈঠক বয়কট করে সোমবার। এদিন ১১১টি পুরসভার ভোট প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল যাতে এক চেটিয়া ভোট করতে পারে সেই কারণে এই ভাবে নির্বাচন করতে চাইছে।১ নভেম্বর ২০২১ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন হবে। ভোট হবে ইভিএমে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ জানুয়ারি ২০২২। স্ক্রুটিনি ৪ জানুয়ারি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ৬ জানুয়ারি। কোথাও পুনর্নির্বাচন হলে তা হবে ২৪ জানুয়ারি। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটপর্ব সমাপ্ত হবে।১ নভেম্বরের তালিকা অনুযায়ী ভোট হলে জানুয়ারিতে যিনি ভোটার হবেন তাঁরা তালিকাভুক্ত হবেন না। এ বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস বলেন, আইন মোতাবেক আমি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকাকেই গ্রহণ করতে পারি। এই ভোটার তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটা বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের দাবি, ৫ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। কেন কিছুদিন অপেক্ষা না করেই ভোট করাচ্ছে কমিশন। এতে প্রচুর ভোটার বঞ্চিত হবেন বলেও দাবি তোলে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 145
  • ...
  • 208
  • 209
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal