• ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৯ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

খেলার দুনিয়া

খেলার দুনিয়া

‌‌বিশ্বকাপ জেতেনি বলে কোহলি খারাপ ক্রিকেটার?‌ কী বললেন শাস্ত্রী

মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত থেকে নেতৃত্বের আর্ম ব্যান্ড পাওয়ার পর ভারতীয় দলকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। লালবলের ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন শীর্ষে ছিল ভারত। একদিনের ক্রিকেটেও দুর্দান্ত সাফল্য। তবে একটাই আক্ষেপ, কখনও আইসিসির প্রতিযোগিতায় দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। এরজন্য কোহলিকে অনেকেই হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। বিশ্বকাপ জেতেননি বলে কোহলি খারাপ ক্রিকেটার, এমনটা মনে করছেন না রবি শাস্ত্রী। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন হেডস্যার বলেন, একজন ক্রিকেটারকে বিশ্বকাপ জয়ের মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে সেই ক্রিকেটার কেমন খেলছে, আইকন হয়ে উঠেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। অনেক বড় বড় ক্রিকেটারও বিশ্বকাপ জেতেনি। সৌরভ, কুম্বলে, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণও তো বিশ্বকাপ জেতেনি। তাহলে এরা খারাপ ক্রিকেটার হয়ে গেল? বিশ্বকাপ জেতার জন্য শচীন তেন্ডুলকারকে ৬টি বিশ্বকাপ খেলতে হয়েছে। আমাদের দেশে মাত্র দুজন অধিনায়ক বিশ্বকাপ জিতেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাদা ও লালবলের ক্রিকেটে সিরিজ হারতে হয়েছে ভারতকে। ভারতের তুলনায় অনেক কম শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এইরকম দলের কাছে টেস্ট ও একদিনের সিরিজে পরাজয় অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। শাস্ত্রী অবশ্য মনে করছেন, এই হারে সমর্থকদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, ভারতের এই ব্যর্থতা সাময়িক। সব ম্যাচ কখনোই জেতা সম্ভব নয়। ৫ বছর ধরে ভারত বিশ্বের একনম্বর দল ছিল। সাফল্যের অনুপাত ৬৫ শতাংশ। হঠাৎ করে তাদের পারফরমেন্স নেমে যাবে? এই ব্যর্থতা কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। গতবছরই টি২০ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে একদিনের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেন জাতীয় নির্বাচকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ হারের পরের দিনই টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কোহলি। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেন, নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কোহলির ব্যক্তিগত ব্যাপার। ওর এই সিদ্ধান্তকে সবাইকে সম্মান জানাতেই হবে। সুনীল গাভাসকার, শচীন তেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো অধিনায়করাও ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য নেতৃত্ব ছেড়েছিল।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কেন ব্যর্থ দল?‌ ব্যাখা দিলেন হেডস্যার রাহুল দ্রাবিড়

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে চরম লজ্জার মুখে পড়তে হয়েছে ভারতকে। হোয়াইট ওয়াশের কালিমা গায়ে লেপে দেশে ফিরতে হচ্ছে লোকেশ রাহুলের দলকে। কেন এইরকম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতকে? ভারতীয় দলের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় মনে করছেন, অলরাউন্ডারের অভাবেই ভুগতে হয়েছে দলকে। যোগ্য অলরাউন্ডার না থাকায় দলে সঠিক ভারসাম্য তৈরি হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে দ্রাবিড় বলেন, দলের সাফল্য ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। এই ভারতীয় দলে সঠিক ভারসাম্য ছিল না। চোট ও ফিটনেস সমস্যার জন্য হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজার মতো অলরাউন্ডারদের পাওয়া যায়নি। এরাই এতদিন ৬৭ নম্বরে দলের ভারসাম্য বজায় রেখে এসেছে। চোট ও ফিটনেস সমস্যা কাটিয়ে ওরা ফিরে এলে দলের ভারসাম্য ও গভীরতা বাড়বে। ফিটনেস সমস্যার জন্য দল থেকে বাদ পড়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। নির্বাচকরা চেয়েছিলেন হার্দিকের পরিবর্তে ভেঙ্কটেশ আয়ারকে দেখে নিতে। কিন্তু দুটি ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি ভেঙ্কটেশ। আর জয়ন্ত যাদবও রবীন্দ্র জাদেজার অভাব মেটাতে পারেননি। রাহুল দ্রাবিড় মনে করছেন চোট সারিয়ে রবীন্দ্র জাদেজা ফিরে এসে দলের অপশন অনেকটাই বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ৬, ৭ নম্বরে রবীন্দ্র জাদেজা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। চোট সারিয়ে ফিরে এলে ৬ নম্বরে ব্যাট করবে। তখন আমাদের হাতে অপশন আরও বেড়ে যাবে। পাশাপাশি ভেঙ্কটেশ আয়ারের উন্নতির দিকেও তাকিয়ে রাহুল দ্রাবিড়। তিনি বলেন, দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে ভেঙ্কটেশকে আরও উন্নতি করতে হবে। একই সঙ্গে দলের ব্যর্থতার জন্য মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাকেও দায়ি করেছেন রাহুল দ্রাবিড়। লোকেশ রাহুলের নেতৃত্বে ভারত একটি টেস্ট ও ৩টি ম্যাচে হারলেও দ্রাবিড় তাঁর পাশেই রয়েছেন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে রাহুল আরও পরিণত ও উন্নত হতে পারবেন বলে আশাবাদী দ্রাবিড়। শ্রেয়স আইয়ার বা ঋষভ পন্থের খেলায় যে তিনি সন্তুষ্ট নন তা বোঝা গিয়েছে কোচের কথায়। দ্রাবিড় বলেন, দেশের হয়ে খেলার সময় দল যদি ধারাবাহিকভাবে সুযোগ ও দলে নিরাপত্তা দেয় তাহলে বড় রান করাটাও কাম্য। তবু যতটা পারা যায় দলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। শ্রেয়স উইকেটে থাকার পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, বড় রানও আসেনি।

জানুয়ারি ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বির মহড়ায় ডাহা ফেল এসসি ইস্টবেঙ্গল, বিধ্বস্ত হায়দরাবাদের কাছে

আগের ম্যাচে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় স্বপ্ন দেখিয়েছিল সমর্থকদের। পরের ম্যাচেই সেই চেনা এসসি ইস্টবেঙ্গল। আবার হারের মুখ দেখতে হল লালহলুদ শিবিরকে। হায়দরাবাদ এফসির কাছে হারতে হল ৪০ ব্যবধানে। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার খেসারত দিতে হল মারিও রিভেরাকে। ডার্বির ড্রেস রিহার্সাল একেবারেই ভাল হল না এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে। একেবারে ডাহা ফেল। ৫ ম্যাচের নির্বাসন কাটিয়ে এদিন মাঠে ফিরে এসেছিলেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। তাঁকে শুরু থেকেই মাঠে নামান মারিও রিভেরা। কিন্তু খেলার মতো জায়গায় থাকা সত্ত্বেও মার্সেলো রিবেইরাকে প্রথম একাদশে রাখেননি। আগের ম্যাচের মতোই এদিন ৪৩৩ ছকে দল সাজিয়ে ছিলেন রিভেরা। লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে হায়দরাবাদ এফসিকে চাপে ফেলা। কিন্তু সেই লক্ষ্যে এদিন সফল হননি। কারণ এফসি গোয়ার তুলনায় হায়দরাবাদ এফসি অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল। হায়দরাবাদ এফসিরও লক্ষ্য ছিল ম্যাচের শুরু থেকে আধিরপত্য বজায় রাখা। আক্রমণ ঝড় তুলে ২১ মিনিটে এগিয়েও যায় হায়দরাবাদ এফসি। সৌভিক চক্রবর্তীর কর্ণারে হেড করেন বার্থোলোমেউ ওগবেচে। তাঁর হেড এসসি ইস্টবেঙ্গলের এক ডিফেন্ডারের গায়ে গেলে গোলে ঢুকে যায়। পিছিয়ে পড়ে কুঁকড়ে থাকেনি লালহলুদ। বরং সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণও তুলে নিয়ে আসছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। ৩৯ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। খেলার গতির বিরুদ্ধে ব্যবধান বাড়ায় হায়দরাবাদ এফসি। ৪৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে গতিতে আদিল খান ও অমরজিৎতে পেছনে ফেলে অরিন্দমকে ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করে ২০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ৩০ করেন অনিকেত যাদব।দ্বিতীয়ার্ধে সেমবই হাওকিপকে তুলে নিয়ে মার্সেলো রিবেইরাকে মাঠে নামান এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তা সত্ত্বেও খেলায় ফিরতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠ এদিন একেবারে ছিল নিস্প্রভ। উইং প্লেও একেবারে ভাল হয়নি। রক্ষণে ড্যান সিডোয়েলকেও জার্সি দেখে চিনতে হচ্ছিল। যখনও হায়দরাবাদ এফসি আক্রমণে উঠে এসেছে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে লালহলুদ ডিফেন্স। এরই মধ্যে ৭৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওগবেচে। ৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। মার্সেলো রিবেইরাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনি। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ফ্রাঞ্জো পর্চের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কাট্টিমনি। বাকি সময়ে আর ব্যবধান কমাতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল।

জানুয়ারি ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সুরজিৎ সেনগুপ্ত, রয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষণে

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত। হালকা উপসর্গ থাকায় সোমবার তাঁকে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকায় এই প্রাক্তন ফুটবলারকে আইসিইউতে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি ডাঃ অজয়কৃষ্ণ সরকারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।কয়েকদিন ধরেই সর্দিকাশিতে ভুগছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। কাশির মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। শরীরের অক্সিজেনের মাত্রাও ৮০র কাছাকাছি নেমে যায়। পরিবারের লোকজন আর বাড়িতে রাখার ঝুঁকি নেননি। হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানেই করোনা পরীক্ষা করা হয়ে তিন প্রধানে দাপিয়ে খেলা এই প্রাক্তন ফুটবলারের। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। সুরজিৎ সেনগুপ্তর অসুস্থ হওয়ার খবরে বাংলার ক্রীড়ামহল খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শুনেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উন্নতমানের যাবতীয় চিকিৎসার কথা বলেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সুরজিৎ সেনগুপ্তর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। শনিবার প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার সুভাষ ভৌমিক। এবার করোনায় আক্রান্ত হলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। তিনি অসুস্থ হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে বাংলার ক্রীড়ামহলে। সকলেই সুরজিৎ সেনগুপ্তর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। অনেক প্রাক্তন ফুটবলার খেলা ছাড়ার পর কোচিংকে বেছে নিয়েছিলেন। সে রাস্তায় হাঁটেননি সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ব্যাঙ্কের চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার পর দীর্ঘদিন আজকাল পত্রিকার ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলেছিলেন। একসময় কলকাতার তিন প্রধানে দাপিয়ে খেলেছেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ফুটবলজীবনে তাঁর প্রথম বড় ক্লাব মোহনবাগান। এরপর সুরজিৎ সেনগুপ্তকে প্রায় হাইজ্যাক করে তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। তখন থেকেই ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে হয়ে ওঠেন। ১৯৭৭৭৯ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালে মহমেডান স্পোর্টিংয়ে যোগ দেন।

জানুয়ারি ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

একদিনের সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ ভারত, বিতর্কে বিরাট কোহলিও

পার্লের বোল্যান্ড পার্কে পরপর দুম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ পকেটে ভরে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতকে হোয়াইট ওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়েই তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছিল প্রোটিয়া শিবির। অন্যদিকে, ভারতের লক্ষ্য ছিল হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচানো। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হারল ভারত। হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচাতে পারলেন না লোকেশ রাহুলরা। ভারত যেমন হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচাতে পারল না, তেননই তৃতীয় একদিনের ম্যাচে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বিরাট কোহলি। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় সব ক্রিকেটার গলা মিলিয়েছিলেন। টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় জাতীয় সঙ্গীতে গলা না মিলিয়ে চুইংগাম চিবোচ্ছেন কোহলি। জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় তাঁর এই চুইংগাম চিবোনোর ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তোলেন নেট নাগরিকরা। অনেকেই কোহলির আচরণ নিয়ে কটাক্ষ করেন। ব্যাটিংয়েও যেভাবে দায়সারা শট খেলে আউট হয়েছেন, তাও অনেকে মেনে নিতে পারছেন না।এদিন প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল ভারত। ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে ভেঙ্কটেশ আয়ারের পরিবর্তে সূর্যকুমার যাদবকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। ছন্দে না থাকে ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গায় দীপক চাহার, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের জায়গায় জয়ন্ত যাদব, শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল ভারত। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। তৃতীয় ওভারে জানেমান মালানকে (১) তুলে নিয়ে প্রোটিয়া শিবিরকে প্রথম ধাক্কা দেন দীপক চাহার। বাভুমাও (৮) দ্রুত ফিরলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। কুইন্টন ডিকক ও এইডেন মার্করাম চাপ কাটিয়ে দেন।ত্রয়োদশ ওভারে মার্করামকে (১৫) তুলে নিয়ে দীপক চাহার জুটি ভাঙলেও ডিকককে টলাতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান ডিকক। ভারতকে সামনে দেখলেই যেন জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন এই প্রোটিয়া উইকেটকিপারব্যাটার। ডুসেনের সঙ্গে জুটিতে তোলেন ১৪৪ রান। যশপ্রীত বুমরাকে মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডিকক। ১৩০ বলে ১২৪ রান করেন তিনি। ডিককের ইনিংসে রয়েছে ১২টি ৪ ও ২টি ৬। ডিকক আউট হওয়ার পরের ওভারেই ফিরে যান ডুসেন। ৫৯ বলে ৫২ রান করেন তিনি। ফেলুকায়ো (৪) আউট হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে টানেন ডেভিড মিলার ও প্রিটোরিয়াস। ২০ রান করে প্রিটোরিয়াস প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে আউট হন। ডেভিড মিলারও (৩৯) প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর শিকার। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ২৮৭ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ৫৯ রানে ৩ উইকেট নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দীপক চাহার, যশপ্রীত বুমরা ২টি করে উইকেট নেন। যুজবেন্দ্র চাহাল নেন ১ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে ভারতও শুরুতে ধাক্কা খায়। নেতৃত্বের চাপ যে তাঁর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তিনটি ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল (৯)। এদিনও লুঙ্গি এনগিডির অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ভারতের রান তখন ১৮। শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে ভালোই টেনে নিয়ে যান শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। ৭৩ বলে ৬১ রান করে ফেলুকায়োর বলে আউট হন ধাওয়ান। একই ওভারের ঋষভ পন্থকেও (০) তুলে নেন ফেলুকায়ো। ৩২তম ওভারে কেশব মহারাজের বলে দায়সারা শট খেলে আউট হন কোহলি। ৮৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। ১৫৬ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত।এরপর জয়ের জন্য শ্রেয়স আয়ার ও সূর্যকুমার যাদবের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দল। ৩৪ বলে ২৬ রান করে মাগালার বলে ফেলুকায়োর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শ্রেয়স। জয়ন্ত যাদব (২) ব্যর্থ হলেও ভারতকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান দীপক চাহার। ৩৪ বলে ৫৪ রান করে এনগিডির বলে প্রিটোরিয়াসের হাতে চাহার ধরা পড়তেই চাপে পড়ে যায় ভারত। ১৫ বলে ১২ রান করে ফেলুকায়োর বলে আউট হন বুমরা। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬ রান। প্রিটোরিয়াসের বলে চাহাল (২) আউট হতেই ভারতের সম্মান রক্ষার লড়াই শেষ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আক্রমণভাগে দুই বিদেশি?‌ আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল

একটা জয়ই বদলে দিয়েছে লালহলুদ শিবিরকে। একটা সময় মাঠে নামার আগে কেমন যেন কুঁকড়ে থাকত। মারিও রিভেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে গেছে ছবিটা। এফসি গোয়াকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই সোমবার হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল।লালহলুদ সমর্থকদের কাছে সুখবর, দীর্ঘদিন পর আক্রমণভাগে দেখতে পাবেন দুই বিদেশিকে। নির্বাসন কাটিয়ে হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচে ফিরছেন আন্তোনীও পেরোসেভিচ। নতুন বিদেশি স্ট্রাইকার মার্সেলো রিবেইরাও কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে কয়েকদিন আগে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। তিনিও খেলার মতো জায়গায় রয়েছেন। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকেই খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে লালহলুদ কোচের। তবে দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকে একসঙ্গে মাঠে নামাবেন কিনা তা এখনও চূড়ান্ত করেননি মারিও রিভেরা। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, নির্বাসন কাটিয়ে পেরোসেভিচ মাঠে ফিরছে। মার্সেলোও মাঠে নামার জন্য তৈরি। তবে ওকে শুরু থেকে মাঠে নামাব না পরের দিকে খেলাব, তা এখনও ঠিক করিনি। তবে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মার্সেলো খেলবে। ও ভাল ফিনিশার। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ভাল উঠতে পারে। গোলটা ভাল চেনে।আগের ম্যাচে জয় ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে মনে দাবি করেন লালহলুদ কোচ। রিভেরার কথায়, জয় এলে যে কোনও দলের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। ভাল খেলার জন্য ফুটবলারদের তাগিদ বাড়ে। আগের ম্যাচে ছেলেরা দারুণ ডিফেন্স সামলেছে। এর থেকেই প্রমাণিত ফুটবলাররা মানসিকভাবে কতটা ভাল জায়গায় রয়েছে। এফসি গোয়া ম্যাচে লং পাসে না খেলে ছোট ছোট পাসে দ্রুত গতিতে আক্রমণ শানিয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচেও একই স্ট্র্যাটেজিতে দলকে খেলাতে চান মারিও রিভেরা।হায়দরাবাদ এফসিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন লালহলুদ কোচ। বিপক্ষ দল সম্পর্কে রিভেরা বলেন, এবারের আইএসএলে অন্যতম সেরা দল হায়দরাবাদ এফসি। দলের মধ্যে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। যেমন দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে আসে, তেমনই আবার রক্ষণও সামলায়। এই রকম দলের বিরুদ্ধে লড়াই করা বেশ কঠিন। তবে আমার দলের ফুটবলাররাও তৈরি। আগে ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন নওরেম মহেশ সিং। আক্রমণভাগে পেরোসেভিচ, মার্সেলো রিবেইরার সঙ্গে মহেশ সিংকে জুড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌অবশেষে ট্রফির খরা কাটল পিভি সিন্ধুর, মুকুটে সৈয়দ মোদি খেতাব

ইন্ডিয়ান ওপেনের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল পিভি সিন্ধুকে। সৈয়দ মোদি আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন। মালবিকা বাঁসোদকে হারিয়ে মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু। সৈয়দ মোদি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটালেন ভারতের এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা।ইন্ডিয়ান ওপেনে সাইনা নেহালকে ছিটকে দিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন মালবিকা বাঁসোদ। কিন্তু সৈয়দ মোদি আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় পিভি সিন্ধুর সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না মালবিকা। মাত্র ৩৫ মিনিটেই তাঁকে হারিয়ে খেতাব জিতে নিলেন পিভি সিন্ধু। ম্যাচের ফল ২১১৩, ২১১৬।ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল সিন্ধুর। প্রথম গেমে একসময় ১১১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর মালবিকা কিছুটা খেলায় ফিরলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন পিভি সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মালবিকা। তবে সিন্ধুর সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। একসময় ১৩৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। ব্যবধান কমিয়ে ২০১৫ করে ফেলেন মালবিকা। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২১১৬ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান সিন্ধু। মহিলাদের সিঙ্গলসে সিন্ধু চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরুষদের সিঙ্গলসের ফাইনাল ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আর্নন্ড মার্কলে ও লুকাস ক্লেয়ারবাউটের। এদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যজন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ফলে রবিবার ফাইনাল বাতিল করা হয়। এই পরিস্থিতিতে কাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। পুরুষদের সিঙ্গলসের বিজয়ীর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন সংস্থা পরে সিদ্ধান্ত নেবে। মিক্সড ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতের ইশান ভাটনগর ও তানিশা ক্রাস্টোর জুটি। ফাইনালে এই জুটি ২১১৬, ২১১২ ব্যবধানে হারিয়েছে ভারতের টি হেমা নগেন্দ্র ও শ্রীবেদ্য জুটিকে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হোয়াইট ওয়াশ কি বাঁচাতে পারবে ভারত?‌ দেখে নিন প্রথম একাদশে কারা ফিরতে পারেন

টেস্ট সিরিজের পর একদিনের সিরিজও হাতছাড়া। সামনে হোয়াইট ওয়াশের আশঙ্কা। ভারত কি পারবে একদিনের সিরিজের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মুখ রক্ষা করতে? লোকেশ রাহুলদের প্রথম দুটি ম্যাচের পারফরমেন্সে আশাবাদী হতে পারছেন না ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। সমস্যায় শেষ নেই ভারতীয় শিবিরে। প্রথম দুটি ম্যাচেই মিডল অর্ডার ব্যাটিং ডুবিয়েছে ভারতকে। লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্থ বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুললেও জয় আসেনি। শ্রেয়স আয়ার, ভেঙ্কটেশ আয়াররা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ। বোলিংয়েও হতশ্রী চেহারা ফুটে উঠেছে। যশপ্রীত বুমরা ছাড়া কোনও ভারতীয় বোলার সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি প্রোটিয়া ব্যাটারদের ওপর। সবথেকে করুণ অবস্থা ভুবনেশ্বর কুমার, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও যুজবেন্দ্র চাহালের। অশ্বিন, চাহালের থেকে ভাল বোলিং করেছেন তিন প্রোটিয়া স্পিনার তাবরেজ সামসি, কেশব মহারাজ ও এইডেন মার্করাম। এই অবস্থায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে পরিবর্তনের পরিকল্পনা ভারতীয় শিবিরে। শ্রেয়স আয়ারের জায়গায় প্রথম একাদশে জায়গা পেতে পারেন সূর্যকুমার যাদব। ঈশান কিশানকে সুযোগ দিয়ে লোকেশ রাহুলেরও ব্যাটিং অর্ডারে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বোলিং বিভাগে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। যশপ্রীত বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তাঁর জায়গায় খেলানো হতে পারে মহম্মদ সিরাজকে। প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন ভুবনেশ্বর কুমারও। দেখে নেওয়া হতে পারে দীপক চাহারকে। সব মিলিয়ে সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে মরিয়া ভারত বেশ কয়েকটি বদল করে মাঠে নামতে চলেছে।সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল পার্লের বোল্যান্ড পার্কে। সিরিজের শেষ ম্যাচ কেপ টাউনে। এই মাঠে প্রোটিয়াদের একদিনের ম্যাচের পরিসংখ্যান যথেষ্ট ভাল। ৩৭ টি ম্যাচের মধ্যে ৩১টিতে জয় পেয়েছে। ফলে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ জিতে যাওয়ায় শেষ ম্যাচে পরীক্ষানিরীক্ষার রাস্তায় হাঁটতে চলেছে প্রোটিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হতে পারে ডোয়েন প্রিটোরিয়াসকে। লুঙ্গি এনগিডির জায়গায় ফিরতে পারেন মার্কো জানসেন।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বি নিয়ে কী ভাবছেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা?

টানা ১১ ম্যাচ জয় ছিল না। অবশেষে আগের ম্যাচে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে এবারের আইএসএলে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। গুমোট ভাব কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে লালহলুদ শিবিরে। একটা জয়ই আত্মবিশ্বাস বড়িয়ে দিয়েছে গোটা শিবিরের। তার ওপর চোটআঘাত কাটিয়ে উঠছেন ফুটবলাররাও। সোমবার হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে লালহলুদ শিবির যে মনোবল বাড়িয়ে মাঠে নামবে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে শক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে মাঠে নামবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ৫ ম্যাচের নির্বাসন কাটিয়ে দলে ফিরবেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন ড্যানিয়েল চিমার জায়গায় দলবদলের দ্বিতীয় উইন্ডোতে দলে নেওয়া ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্সেলো রিবেইরো। তাঁকেও হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচে পাবেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা। রিবেইরাকে ঘিরেই হায়দরাবাদ ম্যাচের পরিকল্পনা করবেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ফ্রাঞ্জো পর্চে ও ড্যান সিডোয়েলের পারফরমেন্সও আশাজনক। সব মিলিয়ে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে অনেক ছন্দবদ্ধ লেগেছে। টমিস্লাভ মার্সেলো ছাড়া দলের আর কোনও ফুটবলারের চোট নেই। হীরা মণ্ডলও রবিবার থেকে অনুশীলনে ফিরতে পারেন। সব মিলিয়ে একটা অন্যরকম পরিবেশ লালহলুদ শিবিরে। একটা জয়ই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। এতদিন জয় না পাওয়া দল কীভাবে বদলে গেল? লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা বলেন, দেশে থাকলেও নিয়মিত আইএসএলের খেলা দেখতাম। আইএসএলে খেলা সব ফুটবলারের খেলার ধরণ আমার জানা। এসসি ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমে ফুটবলারদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেছি। ফলে ওরা সমস্যাগুলো আমাকে খুলে বলতে পেরেছে। সেটাই আমাকে সাহায্য করেছে। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে খুব বেশি সময় পাননি। এই বছর লালহলুদের খেলা দেখে রিভেরার মনে হয়েছিল ফুটবলাররা একসঙ্গে ৩৪টে পাস খেলতে পারছে না। অনুশীলনে সেটার ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। তাতেই বদলে গেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। নির্বাসন কাটিয়ে পরের ম্যাচে ফিরছেন আন্তোনীয় পেরোসেভিচ। মার্সেলো রিবেইরাকেও পাবেন। আক্রমণভাগে শক্তি অনেকটাই বেড়ে যাবে এসসি ইস্টবেঙ্গলের। এটাই আরও আশাবাদী করে তুলেছে মারিও রিভেরাকে। তিনি বলেন, পেরোসেভিচ খুবই ভাল ফুটবলার। মার্সেলোকে নিয়েও আশাবাদী। অনেক উঁচুমানের স্ট্রাইকার। আশা করছি অন্যদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেবে। ২৯ জানুয়ারি এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে ম্যাচ। ডার্বির উন্মাদনা সম্পর্কে জানেন রিভেরা। তবে এখনও ডার্বি নিয়ে ফুটবলারদের চাপে ফেলতে চান না। আপাতত হায়দরাবাদ এফসি ম্যাচই পাখির চোখ করছেন।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ওডিশা এফসি–র বিরুদ্ধেই কেন ডার্বির মহড়া সেরে নিতে চান বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো?‌

কলকাতা ডার্বির উন্মাদনার কথা শুনেছেন। কখনও মাঠে বসে চাক্ষুস করার অভিজ্ঞতা হয়নি। রিজার্ভ বেঞ্চে বসার তো নয়ই। এটিকে মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ায় এবার সে সুযোগ আসতে চলেছে জুয়ান ফেরান্দোর কাছে। আইএসএলের দ্বিতীয় পর্বের ডার্বিতে এটিকে মোহনবাগানের রিজার্ভ বেঞ্চে থাকবেন এই স্প্যানিশ কোচ। দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে রবিবার ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ২৯ জানুয়ারি ডার্বিই পাখির চোখ করছেন জুয়ান ফেরান্দো। ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে ডার্বির মহড়াও সেরে নিতে চান তিনি। ৫ জানুয়ারি হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলেছিল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। তারপর ১৮ দিনের বিরতি। বিরতি অবশ্য করোনার জন্য। এটিকে মোহনবাগানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাদের ম্যাচ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল আইএসএলের আয়োজক কমিটি। ৮ জানুয়ারি ওডিশা এফসি ম্যাচের পর বেঙ্গালুরু এফসি এবং কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচও স্থগিত হয়ে যায়। সবুজমেরুণ শিবিরকে ১১ দিন কোয়ারেন্টিনে কাটাতে হয়। তারপর আবার অনুশীলনে নামার অনুমতি পায় এটিকে মোহনবাগান ফুটবলাররা।হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ ২২ গোলে ড্র করেছিলে এটিকে মোহনবাগান। মাঠে ১৮ দিন ফুটবলাররা খেলার মধ্যে না থাকায় ছন্দ যে নষ্ট হবে সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে দলকে ছন্দে ফেরানোটাই চ্যালেঞ্জ জুয়ান ফেরান্দোর। করোনার জন্য দীর্ঘদিন অনুশীলন হয়নি। ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তিত এটিকে মোহনবাগান কোচ। তবে জুয়ান ফেরান্দোর কাছে স্বস্তির খবর চোট সারিয়ে ম্যাকহিউয়ের ফিট হয়ে ওঠা। কার্ড সমস্যার জন্য হুগো বোমাস ওডিশা এফসি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তাঁর পরিবর্তে রয় কৃষ্ণার সঙ্গে শুরু করবেন ডেভিড উইলিয়ামস। গোলকিপার অমরিন্দার সিংও খেলার মতো জায়গায় চলে এসেছেন। ওডিশা এফসি ম্যাচকেই ডার্বির রিহার্সাল হিসেবে দেখছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ডার্বির আগে এই ম্যাচ জিতে একদিকে যেমন লিগ টেবিলে ওপরের দিকে উঠতে চান, তেমনই ফুটবলারদের মনোবলও বাড়িয়ে নিতে চান।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌শোকস্তব্ধ ময়দান, ‘‌অপূরণীয় ক্ষতি ভারতীয় ফুটবলের’‌

মারা গেলেন ময়দানের প্রিয় ভোম্বলদা। শোকস্তব্ধ ময়দান। তাঁর সতীর্থ, ছাত্রদের স্মৃতিচারণে উঠে এল নানা কথা। সকলের মুখে একটাই কথা, ভারতীয় ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।সুব্রত ভট্টাচার্যঃ সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে আমার প্রায়ই ফোনে কথা হত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেও কথা হয়েছে। ভোম্বলদা যে আর নেই ভাবতেই পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক বড় মাপের ফুটবলার ছিল। ১৯৭৫ সালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৫ গোল খাওয়ার পর ধীরেন দাকে বলে সুভাষ ভৌমিকদের ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে নিয়ে এসেছিলাম। ১৯৭৬ বড় ম্যাচে আকবরের ১৭ সেকেন্ডের গোলে আমরা ডার্বি জিতেছিলাম। ওই ম্যাচের আগে ভোম্বলদা যেভাবে আমাদের উৎসাহিত করেছিল, জীবনে ভুলব না। একজন আসাধারণ ফুটবল ব্যক্তিত্ব চলে গেল। সত্যিই ভারতীয় ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। শ্যাম থাপাঃ ভোম্বল যে এভাবে চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না। কয়েকবছরের ব্যবধানে চুনী গোস্বামী, পিকে ব্যানার্জি মারা গেলেন। এবার সুভাষ ভৌমিক। ভারতীয় ফুটবলের একের পর এক দিকপাল চলে যাচ্ছেন। এটা সত্যিই ফুটবল জগতের কাছে বড় ক্ষতি। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে জানি না। একসঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছি। কত মধুর স্মৃতি রয়েছে। আজ সব চোখের সামনে ভেসে উঠছে।সমরেশ চৌধুরিঃ ২৫ দিন আগেও কথা হয়েছিল। আমাদের সবাইকে ছেড়ে ভোম্বল যে এভাবে চলে যাবে, মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ৫৭ বছরের সম্পর্ক। ১৯৬৫ সালে বাংলা স্কুল দলে খেলার সময় থেকে পরিচয়। তারপর ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, বাংলা, ভারতীয় দলে একসঙ্গে কত ম্যাচ খেলেছি। কত ভাল স্মৃতি রয়েছে। সেইসব স্মৃতি কখনও ভোলার নয়। ভোম্বলের মতো বন্ধু পাওয়া সত্যিই কঠিন। গৌতম সরকারঃ শারিরীক ভাবে হয়তো সুভাষ ভৌমিক হয়তো আমাদের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু ফুটবলপ্রমীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। ওর মতো ফুটবলার, কোচ ভারতীয় ফুটবলে খুব কমই এসেছে। আলভিটো ডিকুনহাঃ ইস্টবেঙ্গলে খেলার সময় থেকেই সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি শুধু আমার কেচ ছিলেন না, আমার অভিভাবকও ছিলেন। বাবার মতো আমাকে আগলে রাখতেন। যখন খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। আমি আজকে আবার পিতৃহারা হলাম। আমার ফুটবল জীবনে ওনার যা অবদান, কখনও ভোলার নয়। মেহতাব হোসেনঃ ২ দিন আগেও ভৌমিক স্যারের ছেলে রনিকে ফোন করেছিলাম। বলেছিল, বাবা মোটামুটি ঠিক আছে। শনিবার সকালে উঠে মৃত্যুর খবর পেলাম। সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। এভাবে চলে যাবেন, ভাবতে পারছি না। ভারতীয় ফুটবলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। রহিম নবিঃ আজ আমি যে রহিম নবি হয়ে উঠেছি, সুভাষ ভৌমিকের জন্যই। ওনার জন্যই আজ আমার ওএত নাম ডাক। আমার অলরাউন্ডার ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে ভৌমিক স্যারের অবদান কখনও ভুলব না। বাঙালীর ফুটবলের একটা আবেগের নাম। সেই আবেগটাই শেষ হয়ে গেল।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ভারতীয় ফুটবলে ইন্দ্রপতন, চলে গেলেন সুভাষ ভৌমিক

ভারতীয় ফুটবলে ইন্দ্রপতন। মারা গেলেন প্রাক্তন ফুটবলার ও ময়দানের কিংবদন্তী কোচ সুভাষ ভৌমিক। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। শনিবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশিয়ানজয়ী ইস্টবেঙ্গলের এই কোচ। সুভাষ ভৌমিকের মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রীড়াজগতে নেমে এসেছে শোকের ছাড়া। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। সুগার ও কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে হত। প্রতিদিন বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডায়ালিসিস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ওপর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় সমস্যা আরও বেড়ে যায়। শারিরীক অবস্থা এমন অবনতি হয়েছিল যে কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আরও ভাল চিকিৎসার জন্য শুক্রবার নব মহাকরণে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তরে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে ঠিক হয়েছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে সুভাষ ভৌমিককে। কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও খতিতে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শনিবার ভোরে মারা যান তিনি।ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের জার্সি গায়ে কলকাতা ময়দানে একসময় দাপিয়ে খেলেছেন সকলের প্রিয় ভোম্বলদা। সবুজমেরুণের তুলনায় লালহলুদ জার্সিতেই বেশি সময় কাটিয়েছিলেন। রাজস্থান থেকে ১৯৬৯ সালে প্রথম লালহলুদ জার্সি গায়ে তুলে নিয়েছিলেন। পরের বছরই লালহলুদ জার্সি ছেড়ে যোগ দেন মোহনবাগানে। ৩ বছর মোহনবাগানে কাটিয়ে ১৯৭৩ সালে আবার ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন। ১৯৭৬ সালে আবার মোহনবাগানে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে লালহলুদে ফিরে আসেন। ইস্টবেঙ্গল থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানান। ভারতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন দাপিয়ে খেলেছেন সুভাষ ভৌমিক। ১৯৭০ সালে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন, মারডেকা, পেস্তা সুকানের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দেশের জার্সি গায়ে দুদুটি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তার মধ্যে মারডেকা কাপে ফিলিপাইন্সের বিরুদ্ধে একটা। ওই ম্যাচে ৫১ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। ১৯৬৯ সালে বাংলার সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। দীর্ঘ ৬ বছর পর সেবার সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। বাংলার জার্সি গায়ে মোট ৪ বার সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সুভাষ ভৌমিক। ২ বার বাংলাকে নেতৃত্ব দিলেও রেলওয়েজের কাছে সেমিফাইনালে হারতে হয়েছিল। কোচ হিসেবেও দারুণ সাফল্য পেয়েছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তবে লালহলুদকেই বেশি সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন। ২০০২০৩ এবং ২০০৩০৪ মরশুমে তাঁর কোচিংয়েই জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২০০৩ সালে লালহলুদকে আশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। ২০০৬ সালে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরের বছর সালগাঁওকারে যোগ দেন। ২০০৮০৯ মরশুমে আবার ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন। ২ মরশুম লালহলুদে কাটিয়ে মোহনবাগানের দায়িত্ব নেন। চার্চিল ব্রাদার্সের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর কোচিংয়েই ২০১২১৩ মরশুমে আই লিগ জেতে চার্চিল।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌৭ উইকেটে বিধ্বস্ত ভারত, সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার, শেহবাগের রেকর্ড স্পর্শ কোহলির

টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একদিনের সিরিজে ভারতকে কোনও সুযোগই দিল না। প্রথম একদিনের ম্যাচে ৩১ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৭ উইকেটে হারিয়ে একম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ হারের মধুর প্রতিশোধ নিল প্রোটিয়ারা।পার্লের বোল্যান্ড পার্কে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে টস ভাগ্য অবশ্য সহায় হয়েছিল লোকেশ রাহুলের। আগের ম্যাচে পরে ব্যাট করতে গিয়ে মন্থর উইকেটে সমস্যা হয়েছিল। সেকথা মাথায় রেখে এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। ভাল শুরু করেছিলেন ভারতীয় দলের দুই ওপেনার রাহুল ও শিখর ধাওয়ান। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৬৩। এরপরই ছন্দপতন। ৩৮ বলে ২৯ রান করে এইডেন মার্করামের বলে আউট হন শিখর ধাওয়ান। পরের ওভারেই বিরাট কোহলিকে (০) তুলে নেন কেশব মহারাজ। ভারত হারলেও এদিন বীরেন্দ্র শেহবাগের রেকর্ড স্পর্শ করলেন বিরাট কোহলি। বীরেন্দ্র শেহবাগ ৩৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩১ বার শূন্যে আউট হয়েছিলেন। বিরাট কোহলি নিজের ৪৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে শেহবাগের সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন। শেহবাগ টেস্টে ১৬ বার, একদিনের আন্তর্জাতিকে ১৪ বার এবং টি ২০ আন্তর্জাতিকে একবার শূন্যে আউট হয়েছেন। ফলে বিরাট এদিন একদিনের আন্তর্জাতিকে শেহবাগের ১৪ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির স্পর্শ করলেন।এক ওভারের ব্যবধানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্থের চওড়া ব্যাট ভারতকে চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসে। জুটিতে ওঠে ১১৫ রান। জুটি ভাঙেন সিসান্দা মাগালা। তুলে নেন লোকেশ রাহুলকে। ৭৯ বলে ৫৫ রান করে আউট হন রাহুল। পরের ওভারেই তাবরেজ সামসির বলে আউট হন ঋষভ পন্থ। ৭১ বলে তিনি করে ৮৫। এটাই ঋষভের একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান। পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে আবার চাপে পড়ে যায় ভারত রান তোলার গতিও কমে যায়। এর মাঝেই ৩৬.৫ ওভারের মাথায় আউট হন শ্রেয়স আয়ার (১১)। ভারতের রান তখন ২০৭/৫। ভেঙ্কটেশ আয়ার ৩৩ বলে ২২ রান করে আউট হন। শার্দূল ঠাকুর (৩৮ বলে অপরাজিত ৪০) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (২৪ বলে অপরাজিত ২৫) সৌজন্যে ৫০ ওভারে ২৮৭/৬ রানে পৌঁছয় ভারত। তাবরেজ সামসি ৯ ওভারে ৫৭ রানে ২টি, কেশব মহারাজ ৯ ওভারে ৫২ রানে ১টি, এইডেন মার্করাম ৮ ওভারে ৩৪ রানে ১টি, সিসান্ডা মাগালা ৮ ওভারে ৬৪ রানে ১টি, ফেলুকায়ো ৮ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার জানেমান মালান ও কুইন্টন ডিকক। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও এদিন ভারতীয় বোলারদের কোনও সুযোগই দেননি। যশপ্রীত বুমরা, ভুবনেশ্বর কুমারদের ওপর চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে ওপেনিং জুটিতে মালান ও ডিকক তোলেন ১৩২। শার্দূল ঠাকুর এসে জুটি ভাঙেন। তুলে নেন ডিকককে। ৬৬ বলে ৭৮ রান করে আউট হন ডিকক। ডিকক ফিরে গেলেও চাপে পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। জানেমান মালামনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। দলের ২১২ রানের মাথায় যশপ্রীত বুমরার বল ব্যাটের ভিতরের দিকে কানায় লাগিয়ে আউট হন জানেমান মালান। ১০৮ বলে ৯১ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই যুজবেন্দ্র চাহালের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাভুমা (৩৬ বলে ৩৫)। উইকেটে জমে যাওয়া দুই ব্যাটারকে পরপর দুওভারে তুলে নিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান এইডেন মার্করাম (৪১ বলে অপরাজিত ৩৭) ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন (৩৮ বলে অপরাজিত ৩৭)। ৪৮.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের হয়ে যশপ্রীত বুমরা, যুজবেন্দ্র চাহাল ও শার্দূল ঠাকুর ১টি করে উইকেট নেন।

জানুয়ারি ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

গুরুতর অসুস্থ সুভাষ ভৌমিক, চিকিৎসার জন্য জরুরি বৈঠক, এগিয়ে এলো তিন প্রধান

গুরুতর অসুস্থ ভারতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার তথা স্বনামধন্য কোচ সুভাষ ভৌমিক। তাঁর শারিরীক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, বেশ কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই অবস্থায় সুভাষ ভৌমিকের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে আইএফএসহ কলকাতার তিন প্রধান। শুক্রবার এক বৈঠকে সুভাষ ভৌমিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় রূপরেখা তৈরি হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরেই সুগার ও কিডনির অসুখে ভুগছেন সুভাষ ভৌমিক। নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে হত। প্রতিদিন বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডায়ালিসিস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ওপর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তাই কয়েকদিন আগে একবালপুরের এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় সুভাষ ভৌমিককে। তাঁর আরও ভাল চিকিৎসার জন্য শুক্রবার নব মহাকরণে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তরে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে ভাস্কর গাঙ্গুলি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিকাশ পাঁজি, বিদেশ বসু, মানস ভট্টাচার্যর মতো প্রাক্তন ফুটবলাররা ছাড়াও হাজির ছিলেন আইএফএ এবং কলকাতার তিন প্রধানের কর্তারা। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে ছিলেন দেবব্রত সরকার, মোহনবাগানের দেবাশিস দত্ত, মহমেডানের কামারুদ্দিন। আইএফএর পক্ষ থেকে হাজির ছিলেন সভাপতি অজিত ব্যানার্জি। এছাড়া সুভাষ ভৌমিকের ছেলে অর্জুন ভৌমিক ছাড়াও বৈঠকে ডাকা হয়েছিল মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাতপাতালের ডিরেক্টরসহ মেডিকেল টিমকে।সুভাষ ভৌমিকবৈঠকে ঠিক হয়েছে সুভাষ ভৌমিকের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে তাঁকে। সুভাষ ভৌমিকের কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও খতিতে দেখছে মেডিকার মেডিকেল টিম। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমেই হবে তাঁর চিকিৎসা। তবে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টা যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। তাই বৈঠকে ঠিক হয়েছে বাড়তি অর্থর জন্য কলকাতার তিন প্রধানসহ আইএফএ সুভাষ ভৌমিকের পাশে দাঁড়াবে। ব্যক্তিগতভাবে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকার ঔষুধ সুভাষ ভৌমিকের চিকিৎসার জন্য কিনে দিয়েছেন।

জানুয়ারি ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আইসিসি–র বর্ষসেরা দলে বাংলাদেশের ৩, কেন বাদ কোহলি?‌

বর্ষসেরা দল নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ক্রমশ হাস্যকর করে তুলছে আইসিসি। একদিন আগেই ২০২১ সালের বর্ষসেরা টি২০ দল বেছে নিয়েছে। সেই দলে জায়গা হয়নি ভারতের কোনও ক্রিকেটারের। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে একদিনের দল। আশ্চর্যজনকভাবে সেই দলেও কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার নেই! হ্যাঁ, জায়গা হয়নি বিরাট কোহলি কিংবা যশপ্রীত বুমরার। অথচ শ্রীলঙ্কার দুষ্মন্ত চামিরা, আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং, সিমি সিংরা জায়গা পান। আইসিসির বর্ষসেরা একদিনের দলে পাকিস্তানের ২ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। এরা হলেন বাবর আজম ও ফকর জামান। টি২০ দলের মতো একদিনের আইসিসির বর্ষসেরা দলের নেতৃত্বেও বাবর আজম। বর্ষসেরা দলে শুধু ভারতীয় ক্রিকেটারদের নয়, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনও ক্রিকেটারের জায়গা হয়নি। ১১ জনের দলে সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন ক্রিকেটার, জ্যানম্যান মালান ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। সবথেকে বেশি ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে। এরা হলেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কা থেকে সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও দুষ্মন্ত চামিরা। এছাড়া রয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও সিমি সিং।বিরাট কোহলি, যশপ্রীত বুমরা, রোহিত শর্মাদের আইসিসির বর্ষসেরা দলে সুযোগ না পাওয়ার কারণ রয়েছে। আসলে ২০২১ সালে মাত্র ৬টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে ভারত। এই ৬ ম্যাচের মধ্যে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল মাত্র ৩টি ম্যাচে খেলেছিলেন। বোলারদের মধ্যে সবথেকে বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৫ ম্যাচ খেলে তিনি মাত্র ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। আর ব্যাটারদের মধ্যে সবথেকে বেশি খেলেছিলেন শিখর ধাওয়ান। ৬ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ২৯৭ রান। পারফরমেন্সের বিচারে পল স্টার্লিং, জ্যানম্যান মালান, ফকর জামান, বাবর আজমরা ধাওয়ানের থেকে অনেক এগিয়ে। আইসিসির বর্ষসেরা দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পারফরমেন্সকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। নামের দিকে তাকানো হয় না। একদিনের ক্রিকেট বেশি না খেলার জন্য কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম বিবেচিত হয়নি।

জানুয়ারি ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কার ওপর নির্ভর করছে সিরিজে ভারতের সমতা ফেরানোর ভাগ্য?‌

টেস্ট সিরিজের পর একদিনের সিরিজেও কি হারতে হবে ভারতকে? পার্লের বোল্যান্ড পার্কে প্রথম ম্যাচে হারে সেই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে ভারতীয় দলের সামনে। সিরিজ বাঁচাতে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া রাস্তা নেই লোকেশ রাহুলদের। সমতা ফরানোর জন্য ব্যাটারদের দিকেই তাকিয়ে ভারতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজয় ভারতীয় দলকে নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেছে। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল পর্যন্ত প্রথম ম্যাচের পর মেনে নিয়েছেন ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্যই ডুবতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার তেম্বা বাভুমা ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন মিডল অর্ডারে যেরকম বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছিলেন, ভারতীয় দলের মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে সেরকম বড় কোনও পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি। শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর ধস নামে ভারতীয় শিবিরে। সব থেকে বড় কথা, ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ২ বছরেও বেশি সময় অতিক্রান্ত, এখনও চার নম্বর জায়গায় উপযুক্ত ব্যাটার খুঁজে পেল না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ঋষভ পন্থকে খেলানো হয়েছিল। তিনিও ব্যর্থ।প্রশ্ন উঠেছে প্রথম ম্যাচে লোকেশ রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও। হার্দিক পান্ডিয়ার পরিবর্তে অলরাউন্ডার হিসেবে ভেঙ্কটেশ আয়ারকে দলে নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রথম ম্যাচে তাঁকে ১ ওভারও বল দেওয়া হয়নি। বুমরা, অশ্বিনরা যখন বাভুমাডুসেনের জুটি ভাঙতে পারছিলেন না, তখন ভেঙ্কটেশকে দেখে নিতেই পারতেন লোকেশ রাহুল। মাঠের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও ইতিবাচক ছিল না। তার ওপর পরের দিকে উইকেট মন্থর হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় ব্যাটারদের শট খেলতেও অসুবিধা হয়েছে। সিরিজে সমতা ফেরাতে গেলে ব্যাটারদের যেমন দায়িত্ব নিতে হবে, জ্বলে উঠতে হবে বোলারদেরও। বিশেষ করে দুই স্পিনারকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। বোলিং বিভাগে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারে বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যকুমার যাদবকে প্রথম একাদশে খেলানোর ভাবনা টিম ম্যানেজমেন্টের। একটা ম্যাচে ব্যর্থ বলে ভেঙ্কটেশ আয়ারকেও আবার বসানোর পক্ষপাতি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সব মিলিয়ে প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে ভারতীয় ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে লোকেশ রাহুলকেও।

জানুয়ারি ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

নেতৃত্ব ছেড়েও রানে কোহলি, তবু হার ভারতের

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচে কতটা নম্বর পাবেন লোকেশ রাহুল? ৭ বছর পর সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নেমে কতটা জ্বলে উঠতে পারবেন বিরাট কোহলি? নেতার আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমে প্রথম ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না লোকেশ রাহুল। তবে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন বিরাট কোহলি। মরণবাঁচন ম্যাচে রান শিখর ধাওয়ানেরও। তবু জয় অধরা থেকে গেল ভারতের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হারতে হল ৩১ রানে।জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে টস ভাগ্য এদিন সহায় ছিল না লোকেশ রাহুলের। পার্লের বোল্যান্ড পার্কের মন্থর উইকেটের কথা মাথায় রেখে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। পঞ্চম ওভারেই ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। যশপ্রীত বুমরার বলে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জ্যানম্যান মালান। ১০ বলে তিনি করেন ৬। এরপর দলকে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যান কুইন্টন ডিকক ও অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ১৬তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রথম বলেই বোল্ড হন ডিকক। ৪১ বলে ২৭ রান করে তিনি আউট হন। ২ ওভার পরেই ভেঙ্কটেশ আয়ারের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হন এইডেন মার্করাম (৪)।৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান তেম্বা বাভুমা ও ভ্যান ডার ডুসেন। দুজনে দারুণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। অশ্বিন, চাহাল, বুমরারা এই দুই প্রোটিয়া ব্যাটারকে টলাতে পারছিলেন না। অশ্বিন, চাহালদের একের পর এক সুইপ করে নির্বিষ করে দেন বাভুমা ও ডুসেন। এই দুই প্রোটিয়া ব্যাটার যখন উইকেটে জমে গিয়েছেন তখন জুটি ভাঙতে কেন ভেঙ্কটেশ আয়ারকে লোকেশ রাহুল ব্যবহার করলেন না, বোধগম্য নয়। চতুর্থ উইকেটের জুটিতে বাভুমা ও ডুসেন তোলেন ২০৪। ১৩৩ বলে একদিনের ক্রিকেটে জীবনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাভুমা। ৮৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডুসেন। অবশেষে জুটি ভাঙেন যশপ্রীত বুমরা। তুলে নেন বাভুমাকে। ১৪৩ বলে ১১০ রান করে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ভ্যান ডার ডুসেনও জীবনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন। ৯৬ বলে ১২৯ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে তোলে ২৯৬। ৪৮ রানে ২ উইকেট নেন বুমরা। ৫৩ রানে ১ উইকেট নেন অশ্বিন।ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও শিখর ধাওয়ান। এদিন পার্টটাইম অফস্পিনার এইডেন মার্করামের হাতে নতুন বল তুলে দিয়ে চমক দিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা। তাঁর হাত ধরেই প্রথম সাফল্য পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নবম ওভারে তুলে নেন লোকেশ রাহুলকে (১২)। এরপর বাইশ গজে আগমন বিরাট কোহলির। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ধাওয়ানের কাছে অগ্নিপরীক্ষা। ব্যর্থ হলেই দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠবে। মরণবাঁচন ম্যাচে রীতিমতো জ্বলে উঠলেন ধাওয়ান। ৮৪ বলে ৭৯ রান করে তিনি কেশব মহারাজের বলে বোল্ড হন। ধাওয়ান আউট হওয়ার ৩ ওভারে পরেই ফেরেন বিরাট কোহলি। ৬৩ বলে ৫১ রান করে তিনি তাবরেজ শামসির বলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দেন। কোহলি আউট হওয়ার পরপরই ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। শ্রেয়স আয়ার (১৭), ঋষভ পন্থরা (১৬) ব্যর্থ। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচে রান পেলেন না ভেঙ্কটেশ আয়ারও (২)। শেষ দিকে শার্দূল ঠাকুর (অপরাজিত ৫০) জ্বলে উঠলেও জয় অধরা থেকে যায় ভারতের। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ রান তোলে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এনগিডি, শামসি ও ফেলুকায়ো ২টি করে উইকেট নেন।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কাঙ্খিত জয় এসসি ইস্টবেঙ্গলের, জোড়া গোল করে নায়ক মহেশ সিং

মানেলো দিয়াজ পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ রেনেডি সিংও ব্যর্থ। অবশেষে মারিও রিভেরার হাত ধরেই এবারের আইএসএলে কাঙ্খিত প্রথম জয় পেল এসসি ইস্টবেঙ্গল। ২১ গোলে হারাল এফসি গোয়াকে। ১১ ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখল লালহলুদ শিবির। জয়ের নায়ক নওরেম মহেশ সিং। জোড়া গোল করে তিনিই কাঙ্খিত জয় এনে দিলেন।মারিও রিভেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, ভারসাম্য বজায় রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দল সাজিয়েছিলেন। ৪৩৩ ছকে শুরু করেছিলেন রিভেরা। শুরু থেকেই এফসি গোয়ার ওপর চাপ তৈরি করছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। তার ফলও পায় হাতেনাতে।ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় এসসি ইস্টবেঙ্গল। এফসি গোয়ার দুই ফুটবলার নগুয়েরা ও এডু বেদিয়ার ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে যান নওরেম মহেশ সিং। বল ধরে এগিয়ে গিয়ে ডান পায়ের হালকা পুশে তিনি জালে বল পাঠান। ২৪ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারত এফসি গোয়া। এডু বেদিয়ার কাছ থেকে বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে বাইরে মারেন রোমারিও।৩৭ মিনিটে সমতা ফেরায় এফসি গোয়া। মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত পাস বাড়ান জর্জ ওর্টিজ। সেই বল ধরে বাঁপায়ের দুরন্ত শটে বল জালে পাঠান আলবার্তো নগুয়েরা। ৪২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় এসসি ইস্টবেঙ্গল। এফসি গোয়ার আনোয়ার বল পাস করতে গিয়ে নওরেম মহেশ সিংয়ের পায়ে জমা দেন। তাঁর দুরন্ত শট বারে লেগে গোললাইনের ভেতরে পড়ে বেরিয়ে আসে।এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে রক্ষণকে দারুণ নেতৃত্ব দিলেন আদিল খান। লুজ বল ধরে উড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা ছিল না। আক্রমণ গড়ার দিকে নজর দিয়েছিলেন। তবে হীরা মণ্ডলের অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। হীরা না থাকায় তাঁর জায়গায় অঙ্কিত মুখার্জিকে মাঠে নামিয়েছিলেন মারিও রিভেরা। অনভ্যস্ত জায়গায় প্রথমার্ধে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেননি অঙ্কিত। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ছন্দে ফেরেন।সমতা ফেরানোর জন্য দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে এফসি গোয়া। কিন্তু লালহলুদ রক্ষণে আদিল খান ও ফ্রাঞ্জো পর্চে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় ওর্টিজ, নেগুয়েরোরা গোলের তিনকাঠি খুঁজে পাননি। তিনকাঠির নিচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন অরিন্দম ভট্টাচার্যও। দক্ষতার শীর্ষে উঠে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচান। না হলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া কঠিন হয়ে পড়ত এসসি ইস্টবেঙ্গলের

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

চলতি মরশুমই শেষ, টেনিস কোর্টকে বিদায় সানিয়া মির্জার

আর কতদিন? সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অসংখ্যবার কথাটা শুনতে হয়েছে সানিয়া মির্জাকে। বারবারই প্রশ্নটা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবার আর প্রশ্ন করার সুযোগই দিলেন না। অবশেষে টেনিস কোর্টকে বিদায় জানাতে চলেছেন সানিয়া মির্জা। চলতি মরশুম শেষে আর র্যাকেট হাতে কোর্টে দেখা যাবে না ভারতীয় টেনিসের এই কিংবদন্তিকে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলাদের ডাবলসের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পরই তিনি টেনিসকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দীর্ঘদিন টেনিসের বাইরে ছিলেন সানিয়া মির্জা। তারপর আবার ফিটনেসের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে কোর্টে ফেরেন। কোর্টে ফিরলেও পুরনো সানিয়াকে কখনও পাওয়া যায়নি। নিজের সেরা ছন্দের ধারে কাছে পৌঁছতে পারেননি ভারতের এই মহিলা টেনিস তারকা। এবছর অস্ট্রেলিয়া ওপেনেও মহিলাদের ডাবলসে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেন। ইউক্রেনের নাদিয়া কিচেনোকের সঙ্গে জুটি বেঁধে ডাবলস খেলতে নেমেছিলেন সানিয়া। স্লোভেনিয়ার ট্যামারা জিডানসেক ও কাজা জুভান জুটির কাছে ৪৬, ৬৭ (৫) ব্যবধানে হারেন সানিয়ারা। মূলত নাদিয়া কিচেনোকের জন্যই হারতে হয়েছে। এদিন একেবারেই সেরা ছন্দে ছিলেন না ইউক্রেনের এই মহিলা টেনিস তারকা।অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে বিদায় নেওয়ার পর সানিয়া বলেন, চলতি মরশুম শেষে টেনিসকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শরীরের যা অবস্থা জানি না মরশুমের শেষ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে পারব কিনা। তবে আমি মনে করি, এখনও ভাল খেলার মতো জায়গায় রয়েছি। কেন কোর্টকে বিদায় জানাতে চলেছেন? এই প্রসঙ্গে সানিয়া বলেছেন, কোনও একটা নির্দিষ্ট কারনে টেনিস থেকে সরে যাচ্ছেন না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। চোট পেলে রিকভারি করতে অনেক সময় লাগছে। আমার ছেলের বয়স ৩ বছর। এখন ও আমার ছায়াসঙ্গী। আমার সঙ্গে দেশবিদেশে ওকেও ঘুরতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ছেলেকে আমি আর বিপদের মুখে খেলতে চাই না।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অনুস্কা শর্মা-র হাত ধরে যাত্রা শুরু চাকদা এক্সপ্রেসের

প্রকাশিত হল এক বহু প্রতীক্ষিত সিনেমার টিজার। যাঁর আত্ম্যত্যাগ ও অনমনীয় মনোবল মিথ-এ পরিণত হয়ে গিয়েছে, বাংলার সেই অবিসংবাদিত মহিলা ক্রিকেট তারকা ঝুলন গোস্বামীর জীবন কহিনী নিয়ে সিনেমার টিজার সামনে এলো। প্রকাশ করলেন প্রযোজক অনুষ্কা শর্মা এবং তার ভাই কর্ণেশ শর্মা। তাঁদের সাংস্থা ক্লিন স্লেট ফিল্মজ এই বায়োপিক-টির প্রযোজনা করছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন প্রসিত রায়। চাকদা এক্সপ্রেস নিয়ে বলতে গিয়ে নাম ভূমিকার অভিনেত্রী ও প্রযোজক অনুষ্কা শর্মা বলেন এটা সত্যিই একটি বিশেষ ফিল্ম কারণ এটা মূলত অসাধারণ এক ত্যাগের গল্প। তিনি সামাজিক মাধ্যম নেটফ্লিক্সে সিনেমার টিজার শেয়ার করার সময় লিখেছেন, চাকদা এক্সপ্রেস প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামীর জীবন এবং তাঁর খেলার মাঠের সংগ্রামের ওপর আধারিত এবং অনুপ্রাণিত। তিনি আরও লেখেন, এই সিনেমা সারা বিশ্বে মহিলা হবু ক্রিকেটাদের চোখ খুলে দেবে। ঝুলন এমন এক সময়ে ক্রিকেটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর দেশের নাম উজ্জ্বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সে সময় মহিলাদের পক্ষে এই খেলাটি খেলার কথা ভাবাও অসম্বভ ছিল। এই ফিল্মটির কাহিনীর নাটকীয় উত্থান পতনের জন্য অনেকের কাছে একটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।ঝুলন যে সময়ে খেলাটা শুরু করেন, একজন মহিলা খেলোয়াড় হিসাবে সাপোর্ট সিস্টেম থেকে শুরু করে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ক্রিকেট খেলা থেকে নিয়মিত আয় করা, এমনকি ক্রিকেট খেলে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা, এই ভাবনাটা মনে করাটাই সম্ভব ছিল না। সে সময়ে খুব কম ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারই ক্রিকেটকে পেশা হিসাবে নিয়েছিল। ঝুলনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ার অত্যন্ত অনিশ্চিত লড়াই-র সামনে একটাই লক্ষ ছিল দেশকে গর্বিত করা। তিনি সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকে পট পরিবর্তন করার জন্য প্রাণপাত প্রচেষ্টা চলিয়ে গেছেন।It is a really special film because it is essentially a story of tremendous sacrifice. Chakda Xpress is inspired by the life and times of former Indian captain Jhulan Goswami and it will be an eye-opener into the world of womens cricket. pic.twitter.com/eRCl6tLvEu Anushka Sharma (@AnushkaSharma) January 6, 2022তিনি এক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিলেন যে, ভারতের মত দেশে ক্রিকেট খেলেও মেয়েরা তাঁদের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারে। তাঁর লড়াই ছিল যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েরা আরও ভাল খেলার পরিবেশ পায়, তাঁদের যেন শুধু মহিলা খেলোয়াড় হিসাবে গন্য না করা হয়। অনুষ্কা বলেন, ঝুলনের এই খেলোয়াড় জীবন একটি জ্বলন্ত সাক্ষ্য রেখে যায়, যে আবেগ এবং প্রখর অধ্যাবসায় থাকলে যে কোনও বা কিছু ক্ষেত্রে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করা যেতে পারে। চাকদা এক্সপ্রেস হল সেই সময়ের মহিলা ক্রিকেটে একটা রোমাঞ্চকর চরিত্র যা বিশ্ব ক্রিকেটে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক-তে পরিণত হয়েছিল।ঝুলন গোস্বামী ১৯৮২-র ২৫নভেম্বর নদিয়া জেলার ছোট্ট শহর চাকদা-তে জন্ম গ্রহণ করেন। আর পাঁচটা মেয়ের মত ছোটবেলায় পুতুল খেলার থেকে বেশী আকর্ষন ছিল ক্রিকেটের ওই লাল বলটার প্রতি। চাকদা শহরেরই স্থানীয় খেলার মাঠ ফ্রেন্ডস ক্লাব এবং নবারুণ সমিতিতে ঝুলনের ক্রিকেট খেলার হাতেখড়ি। ক্রিকেট খেলার নেশা চেপে বসে ঝুলনের, শুরু হয় এক ভয়ংকর লড়াই। যে ট্রেনে মানুষ স্বাভাবিক নিশ্বাস নিতে পারে না, শ্বাস নেওয়ার জন্য নাক দুটো ওপরের দিকে করে ট্রেন যাত্রা করে। সেই শান্তিপুর-শিয়ালদহ লাইনের ভোরের লোকাল ট্রেন চেপে চাকদা থেকে কলকাতা ময়দান যাত্রা শুরু, খেলোয়াড় তাঁকে হতেই হবে! কলকাতায় এসে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু। কোচ স্বপন সাধুর কাছ থেকে পেশাগত ক্রিকেটের তালিম শুরু করেন বিবেকানন্দ পার্কে। তিনিই ঝুলনের শারীরিক গঠন দেখে তাঁকে জোরে বোলিং করার পরামর্শ দেন। প্রথম ডিভিশন থেকে এক একটা হার্ডেল বেঙ্গল, ইস্ট-জোন পার করে স্থান করে নেন স্বপ্নের ভারতীয় দলে। শুরু হয় এক স্বপ্নের যাত্রা, ঝুলন অল-রাউন্ডার হিসাবে ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেন।When you represent India, thats all that is on your mind. Tum desh ke liye khel rahe ho, apne liye nahi. 11 women playing to place Team Indias name in history.It doesnt matter if they said ladkiyan cricket nahi khel sakti. pic.twitter.com/H7LQ4BEzQP Jhulan Goswami (@JhulanG10) January 6, 2022২০০২-র ৬ই জানুয়ারী ইংল্যান্ডে মহিলা দলের বিরুদ্ধে একদিনের ক্রিকেটে ঝুলনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয়েছিল। মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে এই মহুর্তে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ভারতের এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথরিন ফিটজপ্যাট্রিকের রেকর্ড ভেঙ্গে এই রেকর্ডের অধিকারী হন। এর পর আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি ২০০৭-এ আইসিসি (ICC) বর্ষসেরা মহিলা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১১তে শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে এম এ চিদাম্বরম ট্রফি লাভ করেন। বহু মূল্যবান পুরস্কার তিনি পান, ঝুলন ২০২১তে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন, তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার-এর দিকে তাকালে যতটা চকচকে লাগে বাস্তবের মাঠ তাঁর থেকে অনেক বেশী রুক্ষ ছিল। তাঁকে নিয়ে বাণিজ্যিক যে উন্মাদনা থাকা উচিত ছিল তিনি তাঁর অনেকাংশেই কম পেয়েছেন। হয়তো তাতে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই, কিন্তু সাধারণ মানুষের আছে। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাস ঘাটলে এরকম অনেক চিত্র-ই সামনে আসবে। তথাকথিত নায়িকা সুলভ চেহারা না থাকার জন্য ঝুলনের বাণিজ্যিক মহলে চাহিদা অনেক কম ছিল। সমতুল্য বা উঁচুদরের খেলোয়াড় হওয়া স্বত্তেও তাঁর থেকে অনেক বেশি এন্ডোর্সমেন্ট ছিল মিতালি রাজ, স্মৃতি মান্ধানার। এই চিত্র পি টি ঊষা-র ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেটিক হওয়া স্বত্তেও আশ্বিনী নাচ্চপা বা সাইনি আব্রাহামের ব্র্যান্ড ভ্যালু অনেক বেশী ছিল।এই সিনেমা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে প্রযোজক ও অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা বলেন, ভারতে মহিলা ক্রিকেটে বিপ্লব ঘটানোর জন্য আমাদের সকলের ঝুলন এবং তার সতীর্থদের স্যালুট করা উচিত। এটা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, তাঁদের আবেগ এবং তাঁদের অপরাজিত অদম্য মনোভাব মহিলা ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ আনার জন্য পরবর্তী প্রজন্মের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিয়েছে। একজন মহিলা হিসেবে, ঝুলনের গল্প শুনে আমি গর্বিত হয়েছিলাম এবং তাঁর জীবন দর্শন ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা আমার কাছে ভীষন সম্মানের। একজন ক্রিকেট প্রেমী হিসেবে আমাদের মহিলা ক্রিকেটারদের তাঁদের প্রাপ্য দিতেই হবে। ঝুলনের গল্প সত্যিই ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং ছবিটি আমাদের তরফ থেকে তাঁর প্রতি এক উপহার।ঝুলন গোস্বামী নিজেও এই ছবিটির টিজার সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তাঁর পোস্টে তিনি লিখেছেন, যখন আপনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নামেন, তখন আপনার মনে একটাই কথা থাকে,তুম দেশ কে লিয়ে খেল রহে হো, আপনে লিয়ে নেহি। টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে নাম লেখাতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। তিনি বলেন, মহিলা ক্রিকেট বলে কিছু নেই, খেলাটা খেলাই, সেটা মহিলা বা পুরুষ যেই খেলুক। অনেক সময় স্টেডিয়াম খালি থাকে, তাতে কিছু যায় আসে না। বোলিং শুরু করার জন্য যখন পিচের দিকে দৌড়চ্ছেন, তখন আপনি শুধু বিপক্ষ দলের যে ব্যাট ধরে আছে তাঁকে এড়িয়ে ছিটকে দেওয়ার জন্য যে উইকেট লাগানো তাঁর দিকে আপনার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 33
  • ...
  • 68
  • 69
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

খামেনেইকে কেন এখনও সমাহিত করা হয়নি? সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর দাবি

আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে আরও দাবি করা হচ্ছে, তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনেইকে মাশহাদ শহরে সমাহিত করার পরিকল্পনা ছিল। তার আগে দেশের বিভিন্ন শহরে শোকসভা এবং জনসমাবেশের আয়োজন করার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১০০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি উঠেছে।কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগই এর প্রধান কারণ হতে পারে। ইরানের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, বড় জনসমাবেশ হলে সেখানে হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কথা মাথায় রেখেই শেষকৃত্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।এদিকে খামেনেইয়ের দেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর জেরে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন এবং জল্পনা তৈরি হয়েছে।কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেই এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং শারীরিক অবস্থার কারণেই তিনি আড়ালে রয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন। যদিও এই দাবিগুলিরও কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ সামনে আসেনি।সব মিলিয়ে খামেনেইকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্য এবং জল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে ইরানের সরকারি সূত্র থেকে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

জুন ০৮, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে তৃণমূলে মহাভাঙন! শতাব্দীর বাড়িতে শুভেন্দুর গোপন বৈঠক ঘিরে তুমুল জল্পনা

সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ছিল চরম উত্তেজনা। একের পর এক বৈঠক, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি এবং তৃণমূলের একাধিক সাংসদের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয় জোর জল্পনা। দিনের শেষে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক।সূত্রের খবর, সন্ধ্যায় শতাব্দী রায়ের বাড়িতে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একে একে সেখানে পৌঁছন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ।এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাকেও লক্ষ্য করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বরং শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চা-চক্র।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন বিদ্রোহী সাংসদরা। সেখানে শতাব্দী রায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং অসিত মাল নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। পরে সেই বিষয়গুলি নিয়ে আরও আলোচনা করতেই শতাব্দীর বাড়িতে সন্ধ্যার বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকে সাংসদদের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা হয়ে থাকতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।এর আগেই বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন। সেই চিঠিতে তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ২০ জন সাংসদ এই চিঠিতে সমর্থন জানিয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ব্যবস্থা এড়াতে কোনও দলের আইনসভার সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমূলের লোকসভায় মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। তার মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে থাকায় এই সংখ্যাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে দিল্লির ধারাবাহিক বৈঠক এবং বিদ্রোহী সাংসদদের সক্রিয়তা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতাদের একাংশ এখনও এটিকে শুধুই সৌজন্যমূলক বৈঠক বলেই দাবি করছেন।

জুন ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারতীয় দল থেকে বাদ, এবার কি মুম্বই থেকেও বিদায়? সূর্যকুমারকে ঘিরে তুমুল জল্পনা|

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় সূর্যকুমার যাদব। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব হারানোর পর এবার তাঁকে ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধু জাতীয় দল নয়, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গেও কি শেষ হতে চলেছে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক?সোমবার আচমকাই দেখা যায়, নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত পোস্ট সরিয়ে দিয়েছেন সূর্যকুমার। শুধু তাই নয়, তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং দলের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়াকেও অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।কয়েক দিন আগেই ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য ভারতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে। শুধু নেতৃত্ব নয়, দল থেকেও বাদ পড়েছেন সূর্যকুমার। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। গত প্রায় দেড় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।আইপিএলেও খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি সূর্যকে। চলতি মরসুমে ১৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৭০ রান। গড় ছিল ২০.৭৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৫৪। ফলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব একটা বিস্মিত নন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।তবে সব সমালোচনার মাঝেই ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন সূর্য। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। মুম্বইয়ের একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় ট্রায়াম্ফ নাইটস নর্থ ইস্ট মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৩৬ বলে ৭২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার এবং একটি ছক্কা। তাঁর এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলও জয় পায়।ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার বলেন, দলের জন্য রান করতে পারা সবসময়ই বিশেষ আনন্দের। তাঁর এই মন্তব্য এবং দুরন্ত ইনিংসকে অনেকেই জাতীয় নির্বাচকদের উদ্দেশে বার্তা হিসেবে দেখছেন।এদিকে সামাজিক মাধ্যমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও এ বিষয়ে এখনও সূর্যকুমার বা ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের! এবার কাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে সিবিআই? প্রকাশ্যে নতুন নির্দেশিকা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, আধিকারিক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনও অভিযোগের তদন্ত করতে গেলে আর রাজ্যের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। তবে রাজ্য সরকারের কর্মী বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে হলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আগের মতোই রাজ্যের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। সোমবার প্রকাশিত এক নতুন নির্দেশিকায় এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা অথবা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অভিযোগ বা অপরাধের তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি করতে পারবে। এমনকি কোনও মামলায় কেন্দ্রীয় কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার যোগসূত্র থাকলে সেই মামলায় যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থাকবে তদন্তকারী সংস্থার।তবে রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী, আধিকারিক বা রাজ্যের অধীনস্থ সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি বাধ্যতামূলক থাকবে। অর্থাৎ এই ধরনের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আগে রাজ্য সরকারের সম্মতি নিতে হবে।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় আমলা এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র অতীতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি, সমবায় সমিতির অর্থ তছরূপ এবং আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।সেই ঘোষণার পরই স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শাখা এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি তদন্ত করতে পারবে এবং কোন ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত পরিচালিত হয়। সেই আইনের বিধান মেনেই এই সম্মতি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।নবান্ন সূত্রে খবর, এই নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নতুন নির্দেশিকা ভবিষ্যতে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

স্বরূপের ফ্ল্যাটে রহস্যময় ঘর! ডিজিটাল লক খুলতে হিমশিম পুলিশ, বাড়ছে জল্পনা

বেহালার সাহাপুর কলোনিতে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে গিয়ে একটি ডিজিটাল লকে বন্ধ ঘরের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই ঘরটি এখনও খোলা সম্ভব না হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।সোমবার ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময়ই তদন্তকারীরা একটি বন্ধ ঘরের খোঁজ পান। ঘরটির দরজায় ডিজিটাল লক লাগানো ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, স্বরূপের কাছে লকের কোড জানতে চাওয়া হলেও তিনি তা জানাতে পারেননি।এরপর লক খোলার জন্য একজন চাবিওয়ালাকেও ডাকা হয়। তবে ডিজিটাল লক হওয়ায় তিনি দরজা খুলতে ব্যর্থ হন। ফলে অন্য উপায়ে ঘরটি খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, ওই ঘরে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি বা সামগ্রী থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এদিকে, সংশ্লিষ্ট মামলায় এখনও থানায় হাজিরা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আদালত থেকেও তিনি কোনও অন্তর্বর্তী সুরাহা পাননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো-সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অস্ত্র আইনের ধারাতেও মামলা দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিচার এখনও আদালতে হয়নি।তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সূত্র ধরেই অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাসের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই তল্লাশির মধ্যেই এই রহস্যময় ঘরের সন্ধান মেলায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তকারীদের নজর সেই ঘরের দিকেই। ঘরটি খুলতে পারলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।ঘরটির ভিতরে কী রয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন আধিকারিকরা।

জুন ০৮, ২০২৬
দেশ

বাংলাদেশকে কড়া বার্তা ভারতের! দিল্লির বৈঠকে ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

অনুপ্রবেশ এবং পুশব্যাক নীতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে চলেছে। আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিএসএফ এবং বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ভারত স্পষ্টভাবে জানাতে পারে যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশকে গ্রহণ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলেও বার্তা দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বেড়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে চলেছে।এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, কয়েক হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই আবহেই এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশ রোধ, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারীদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতার নির্মাণের সমস্যা ছিল। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক এলাকায় কাজ এগোচ্ছিল না। তবে সেই সমস্যার একটি বড় অংশের সমাধান হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জমিও বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর এই বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে নয়াদিল্লির। কেন্দ্রীয় সরকারের একাংশ মনে করছে, সীমান্ত এবং অনুপ্রবেশের মতো জটিল সমস্যা শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে নয়, কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরেও সমাধান করতে হবে।বিএসএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধও জানাতে পারে ভারত।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার ছিয়ানব্বই কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আটশো ষাট কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতার নেই। আবার প্রায় একশো চুয়াত্তর কিলোমিটার সীমান্তে ভৌগোলিক এবং অন্যান্য কারণে কাঁটাতার নির্মাণ করা সম্ভব নয়। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে দুই দেশের এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৮, ২০২৬
কলকাতা

‘ভাইপোর লোক’, ‘ডাকাত’, ‘জেল নিশ্চিত’— শুভেন্দুর মন্তব্যের পর বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি

রাজারহাট গোপালপুরে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ডাকাত শব্দ ব্যবহার করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে তাঁর মন্তব্যের পর সেই ডাকাত আসলে কে, তা নিয়ে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক জল্পনা। পরে রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সেই রহস্যের পর্দা সরানোর দাবি করেন।রবিবার সন্ধ্যায় রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রথমে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির প্রশংসা করেন। এরপর তিনি বলেন, ২০২৬ সালে রাজ্যের মানুষ কার্যত দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। সেই কারণেই খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও মানুষ ঘরে বসে না থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।তরুণজ্যোতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে মানুষ এমন একজনকে পরাজিত করেছেন, যাকে তিনি ডাকাত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন, ছোট ছোট কাজ কেড়ে নিয়েছেন এবং বহু মামলা দিয়ে বিরোধীদের হয়রানি করেছেন। একুশের পর রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।তবে একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনই ব্যবস্থা নেবে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, যে ডাকাত-এর কথা তিনি বলছেন, তার বিষয়টি পুলিশমন্ত্রীর উপর ছেড়ে দিতে।মুখ্যমন্ত্রী নাম না বললেও পরে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে দেবরাজ চক্রবর্তীর কথাই বলেছেন। তরুণজ্যোতির অভিযোগ, দেবরাজ এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেখান থেকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক।তরুণজ্যোতি আরও বলেন, তিনি কখনও দেবরাজের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর প্রশ্ন, স্ত্রীর নামে এত সম্পত্তি এল কোথা থেকে? দেবরাজ চক্রবর্তী এখন কোথায়, কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আজ না হোক কাল, দেবরাজ চক্রবর্তীকে জেলে যেতেই হবে।শুভেন্দুর মন্তব্য এবং তরুণজ্যোতির এই দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুন ০৮, ২০২৬
বিদেশ

ভোরে প্রবল ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপিন্স! ভেঙে পড়ল বাড়ি, জারি সুনামি সতর্কতা

প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপিন্স। সোমবার ভোরে দেশের মিন্ডানাও দ্বীপে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের জেরে বহু বাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৮। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম গভীরতায় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয় এবং সুনামির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৩ বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করে ৮.২ এবং শেষ পর্যন্ত ৭.৮ বলে ঘোষণা করা হয়। শক্তিশালী কম্পনের জেরে ভোরবেলাতেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন হাজার হাজার মানুষ।ইতিমধ্যেই ভূমিকম্পের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে বসে রয়েছে, আর চারপাশের মাটি ও ভবন কাঁপছে। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।ভূমিকম্পের পরপরই দেশের উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলিতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের দ্রুত নিরাপদ এবং উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে দক্ষিণ ফিলিপিন্সের একাধিক প্রদেশের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের সমুদ্র উপকূল থেকে দূরে থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে আরও একাধিক আফটারশক অনুভূত হতে পারে। তার মধ্যে কিছু আফটারশকও যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্য এবং সতর্কবার্তার উপর ভরসা করার আবেদন জানানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

জুন ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal