রাজনীতি
মমতার বাধাতেই থমকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, বাংলায় ভোটের আগে বড় বার্তা বিজেপি সভাপতির
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বাধার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে না—এই অভিযোগকে সামনে রেখে আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। মঙ্গলবার সুকান্ত মজুমদারের বাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বার্তা দেন তিনি।এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব, অমিত মালব্য-সহ বাংলার দায়িত্বে থাকা একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে নীতিন নবীন প্রথমে সাংসদদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারেন। এরপর একে একে প্রত্যেক সাংসদের লোকসভা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। কোথায় কী উন্নয়ন হয়েছে, কোথায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রয়েছে, সেই সব বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে সাংসদদের নির্দেশ দেওয়া হয়, ভোটের আগে নিজেদের এলাকায় আরও বেশি সময় দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকারের বাধার কারণেই একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে।প্রসঙ্গত, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই প্রথমবার বাংলায় এসেছিলেন নীতিন নবীন। তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ করেছিলেন, অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাকে বাংলাদেশে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। সেই সুরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন।একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা দাবি করছে, দুর্নীতির কারণেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ছাড়া হচ্ছে না। সাংসদদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই এই ইস্যুকে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দিলেন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা নিয়ে কলকাতায় অমিত শাহ, হোটেল বৈঠক থেকে কর্মী সম্মেলনের ব্যস্ত সফর
শুক্রবার রাতে কলকাতায় এসে পৌঁছোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নিউ টাউনের একটি হোটেলে যান। প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচি না থাকলেও, রাতেই দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ।হোটেলেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির একাধিক প্রথম সারির রাজ্য নেতা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। যদিও বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করেননি, দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, কর্মীসংগঠন এবং নির্বাচনী রণকৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। পরে আরও কয়েক জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনাও ছিল বলে খবর।শনিবার তাঁর কর্মসূচি পুরোপুরি কর্মী সম্মেলন ঘিরে। সকাল ১১টা ১০ নাগাদ তিনি যাবেন উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে। আনন্দপুরী মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বনগাঁ, বসিরহাট, বারাসত ও ব্যারাকপুর এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীরা। এরপর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি রওনা দেবেন বাগডোগরার উদ্দেশে।বিকেলে শিলিগুড়ির এয়ারফোর্স ময়দানে দ্বিতীয় কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন অমিত শাহ। সেখানে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার এই পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। কর্মী সম্মেলন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বাগডোগরা থেকেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর স্পষ্টভাবেই রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতির গতি বাড়ানোর বার্তা বহন করছে, যেখানে সংগঠন মজবুত করা ও কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাই মূল লক্ষ্য।
‘৭–৫ নয়, ১২–০ চাই’— বাঁকুড়াকে বিজেপি-শূন্য করার রণসংকল্পে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঁচ বছর আগের ঘাটতি মিটিয়ে বাঁকুড়াকে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় আয়োজিত রণ সংকল্প সভা থেকে সেই লক্ষ্যই স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা রাজ্য জয়ের পর এ বার বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা আসনেই জয় চাই, কোনও রকম আপস নয়।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে জিততে পেরেছিল তৃণমূল। বাকি আটটি চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ২০১৯ সাল থেকে জেলার দুই লোকসভা আসনই বিজেপির হাতে থাকলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখল করে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে শাসকদল। তবে এখনও শালতোড়া বিধানসভা বিজেপির দখলেই। সেই কারণেই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপি-শূন্য বাঁকুড়া-র ডাক দেন অভিষেক।সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ২০২১ সালে আপনারা আমাদের চারটি আসন দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভায় চার থেকে ছয়ে পৌঁছেছি। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপিও ছয়। কিন্তু এ বার দুটি ছয় মেরে ১২০ করতে হবে। স্পষ্ট করে দেন, ৭৫ বা কাছাকাছি ফল মানা হবে না, পূর্ণ জয়ই লক্ষ্য।বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন অভিষেক। জেলার মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কিছু অংশ অন্য জেলার লোকসভা এলাকায় পড়লেও ভোটের অঙ্কে বাঁকুড়া বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের পর থেকেই সংগঠনের দুর্বলতা শুরু হয়েছিল বলে কার্যত স্বীকার করেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা পুনর্দখলের মাধ্যমে রুপোলি রেখা দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতা।বক্তৃতায় খানিকটা অভিমানও ধরা পড়ে তাঁর গলায়। প্রত্যাশিত ভোট না পেলেও বাঁকুড়াবাসীর জন্য রাজ্য সরকার যে লক্ষ্মীর ভান্ডার, পানীয় জল প্রকল্পসহ নানা সামাজিক প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, তা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। খাদান শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি। জানান, আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা পাথর খাদানগুলি চালু হলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ৩১ মার্চের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে, যার মধ্যে বাঁকুড়া জেলার প্রাপ্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ ছাড়া হলে জেলার উন্নয়নে গতি আসত বলেও দাবি করেন তিনি।বিজেপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট কার্ড রাজনীতির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, আমরা আমাদের কাজের হিসাব নিয়ে মানুষের কাছে যাব। বিজেপি কী করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে ওদের মাঠে নামতে হবে। পাশাপাশি বিজেপি জিতলে বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত, আর তৃণমূল জিতলে অধিকার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।বাঁকুড়ার সভামঞ্চে র্যাম্পে ঘুরে কর্মী-সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে অভিষেক বুঝিয়ে দেন আসন্ন নির্বাচনে বাঁকুড়া দখলই তৃণমূলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। এখন দেখার, এই ১২০ রণহুঙ্কার বাস্তবে কতটা সফল হয়।
চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ফাঁড়িতে ধর্না বিরোধী দলনেতার
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে শনিবার রাত থেকে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার প্রতিবাদে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে মেঝেতে বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া থেকে একটি জনসভা সেরে ফিরছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। পথে গড়বেতা থানার অন্তর্গত চন্দ্রকোনা রোড বাজার এলাকায় তাঁর কনভয় পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ চৌরাস্তার কাছে কনভয়ের পথ আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে একদল তৃণমূল কর্মী শুভেন্দুর গাড়ির উপর চড়াও হন এবং আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে দুপক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। প্রকাশ্য রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বিজেপির। পরিস্থিতি সামাল না পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন এবং সেখানেই অবস্থানে বসেন।ফাঁড়িতে বসেই তিনি পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না। এসপি-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের বিষয়টি জানাতে বলেন তিনি। ফাঁড়ির মেঝেতেই বসে আইনজীবী ডেকে অভিযোগপত্র লেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। যদিও অভিযোগপত্র গ্রহণ ও এফআইআর নথিভুক্ত করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা বেঁধে যায়।প্রায় দুঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফাঁড়িতে অবস্থান করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, এফআইআর নম্বর হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এবং কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হচ্ছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি থানা ছাড়বেন না। খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজুর দাবিও তোলেন তিনি।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, খড়্গপুর ও ডেবরায় তাঁকে একাধিকবার আটকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। চন্দ্রকোনায় এসে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচিত বিধায়করাও নিরাপদ নন।ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল ও ফাঁড়িতে পৌঁছয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।এই ঘটনার জেরে চন্দ্রকোনায় রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিজেপি ও তৃণমূলদুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, ফলে এলাকায় নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ‘জেইপি’, মঞ্চ থেকেই একের পর এক হুঁশিয়ারি, ব্রিগেডে জনসভা জানুয়ারিতে
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা খাগারুপাড়া মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দল জে ইউ পি (JUP)। দল গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই সভাপতি হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। সভার মঞ্চ থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে একের পর এক বড় রাজনৈতিক ঘোষণা করেন তিনি।হুমায়ুন কবীর জানান, জেইউপি দলের হয়ে তিনি বেলডাঙা ও রেজিনগর, এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী হবেন এবং ৩০ হাজার ভোটে দুটি আসনেই জয়লাভ করবেন। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার আরও ছয়টি বিধানসভা আসনে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন তিনি।সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, আপনি সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বাংলার মানুষের মাথায় চাপিয়েছেন। এর জবাব ২০২৬ সালে বাংলার মানুষ দেবে।কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রিগেডে সভা করব। ফিরহাদ হাকিম বেশি বাড়াবাড়ি করলে ব্রিগেড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়ে মেয়র অফিস ঘেরাও করা হবে।সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হুমায়ুন কবীর বলেন, আজ যারা এখানে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়, জেলায় হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেপুটেশন, জেলার বাইরে হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে থানার ইট খুলে নেব।তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন, মুর্শিদাবাদ থেকে তৃণমূলকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।একই সঙ্গে বিজেপিকেও সতর্ক করে তিনি বলেন, বিধানসভা থেকে মুসলিম বিধায়কদের চ্যাদোলা করে বাইরে ফেলবে, এমন স্বপ্ন দেখবেন না। বিরোধী দলনেতাকেও আক্রমণ করে বলেন, ২০০টি আসনে প্রার্থী দিলে ১০০টি আসন জিতব, তার মধ্যে ২০ জন হিন্দু বিধায়ক থাকবেন।মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যদি আপনার সৎ সাহস থাকে, তাহলে আপনার প্রিয় চ্যানেলে বসুন, আমার মুখোমুখি। সেদিন বাংলার মানুষ দেখবে আপনার মিথ্যাচার।সভা শেষে তিনি আগামী দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন৪ জানুয়ারি: ডোমকল জনকল্যাণ মাঠে জনসভা৫ জানুয়ারি: হরিহরপাড়া এলাকার একটি মাঠে জনসভাএদিনের সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু কর্মী-সমর্থক জে ইউ পি দলে যোগদান করেন, যা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বিনোদুনিয়া
খেলাধুলা
গাভাস্কারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি! শেষমেশ ভারত ম্যাচ খেলতেই রাজি পাকিস্তান
ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা থেকে পাকিস্তানের সরে আসা নিয়ে কটাক্ষ করলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে নতুন কিছু নেই। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মতোই বোর্ডও প্রায়ই সিদ্ধান্ত বদলায়, আগে বড় ঘোষণা করে পরে তা তুলে নেয়। তাঁর এই মন্তব্যের কিছুদিন পরই পাকিস্তান সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার জানায়, ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রাখার জন্য তারা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছে। এই হঠাৎ পরিবর্তন ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়।এর আগে এশিয়া কাপের সময়ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে তারা। ফলে পাকিস্তানের এই ধরনের সিদ্ধান্ত বদলের ঘটনা নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।এই বার পাকিস্তান যে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল, সেটি ছিল ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আয়বহুল ম্যাচগুলির একটিভারত বনাম পাকিস্তান। সম্প্রচার সংস্থা ও আয়োজকদের কাছে এই ম্যাচের আর্থিক মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বলে মনে করা হয়। অথচ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার। সেই দিক থেকে এই ম্যাচ বয়কট করলে বড় আর্থিক ধাক্কা খেতে হত পাকিস্তানকে।বয়কটের পেছনে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল পাকিস্তান। বিষয়টি নিয়ে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকও হয়। সেই বৈঠকে পাকিস্তান একাধিক দাবি তোলে, যার মধ্যে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শুরু করার প্রস্তাবও ছিল। তবে আইসিসি জানিয়ে দেয়, তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।শেষ পর্যন্ত আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে আর্থিকভাবে শাস্তি দেওয়া হবে না এবং তাদের রাজস্ব অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে। এই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে পাকিস্তান বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।ক্রিকেট মহলের অনেকেই মনে করছেন, আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাই পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করেছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভারত ম্যাচ বয়কট করা বাস্তবে সম্ভব ছিল না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।১৫ ফেব্রুয়ারি দুই দল মাঠে নামলে এই বিতর্ক অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দর্শক ভরা গ্যালারি, উচ্চ টিআরপি আর চিরচেনা উত্তেজনার মধ্যে আবারও মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল।
ভারত–পাক ম্যাচে টানাপোড়েন, আইসিসির সামনে কড়া শর্ত পাকিস্তান বোর্ডের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার আগে আইসিসির কাছে তিনটি দাবি তুলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই দাবিগুলি মানা হলে তবেই তারা সরকারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত বদলের কথা ভাববে বলে জানানো হয়েছে।রবিবার লাহোরে আইসিসির এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। মূল লক্ষ্য ছিল ভারতপাকিস্তান ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত করা।ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমত, আইসিসির আয় থেকে পাকিস্তানের ভাগ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ আবার শুরু করতে হবে। তৃতীয়ত, মাঠে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক প্রোটোকল বাধ্যতামূলক করতে হবে।বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে দেবে না। ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বয়কটের স্পষ্ট কারণ সরকার জানায়নি।ক্রিকেট মহলে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে সমর্থন করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কারণ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তুলে নিজেদের ম্যাচ ভারতের বাইরে সরানোর আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। সেই আবেদন আইসিসি খারিজ করার পরই বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়।এই পরিস্থিতিতে আইসিসি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসে। বৈঠকে অনলাইনে যোগ দেন আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। সেই বিষয়েও আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।পাকিস্তানের এই তিন দাবির মাধ্যমে আইসিসির উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতপাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচার থেকে বড় অঙ্কের আয় কমে যেতে পারে। সেই কারণেই এই ম্যাচকে হাতিয়ার করে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করছে পাকিস্তান।বর্তমানে আইসিসির আয়ের ভাগের দিক থেকে পাকিস্তান চতুর্থ স্থানে রয়েছে। মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায় তারা। ২০২৩ সালের হিসাবে আইসিসি থেকে বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পায় পাকিস্তান বোর্ড। এই অর্থ দেশের ক্রিকেট চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের থেকে বেশি আয় পায় কেবল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত।পিসিবির দ্বিতীয় দাবি, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ফের শুরু করা। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুই দেশের সরকারের হাতে। আইসিসি সরাসরি এমন সিরিজ আয়োজন করতে পারে না, তারা শুধু মধ্যস্থতা করতে পারে।তৃতীয় দাবি, হ্যান্ডশেক প্রোটোকল চালু করা। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাহেলগাম জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় দল পাকিস্তানের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার করেছিল। সেই ঘটনার পরই এই বিষয়টি সামনে এসেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, ভারত-পাক লড়াই কি বাতিল?
কলম্বোয় ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি-র নিয়ম মেনে নীরব থাকলেও, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্তে এখনও অনড়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারত ম্যাচ খেলার অনুমতি না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একাধিক মহল থেকে পিসিবি ও পাকিস্তান সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন হয়নি।কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসেছে পিসিবি। কিন্তু শনিবার সেই সব খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্ট করে পিসিবি-র মুখপাত্র আমির মির বলেন, বোর্ড আইসিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর কথায়, এক ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক এই দাবি করেছেন, কিন্তু তা ভিত্তিহীন।তিনি আরও বলেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। সময়ই প্রমাণ করবে, আসলে কে আগে যোগাযোগ করেছে।এর আগে এএফপি-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আইসিসি-র তরফে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়ার পর পিসিবি নাকি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। আইসিসি এই সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করতে চায় বলেও জানা গিয়েছিল।বিতর্কের সূত্রপাত পাকিস্তানের সেই সিদ্ধান্ত থেকেই, যেখানে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ এ-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলবে না বলে জানায়। পাকিস্তান সরকার দলকে টুর্নামেন্টে খেলতে অনুমতি দিলেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের অনুমতি দেয়নি।ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির একটি। সম্প্রচার, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে বিপুল অর্থ আয় হয় এই ম্যাচকে ঘিরে। ফলে এই ম্যাচ বাতিল হলে আর্থিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে পাকিস্তান। তবে ভারত ম্যাচ না খেললে তারা গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারাবে এবং নেট রান রেটেও প্রভাব পড়তে পারে।অন্যদিকে, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আগেই জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতীয় দল কলম্বোতে ম্যাচ খেলতে যাবে।
সূর্যের আলোয় জয়, কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের ছায়া প্রকট বিশ্বকাপ শুরুতেই
ওয়াংখেড়েতে প্রত্যাশিত অঘটন ঘটেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আমেরিকাকে হারিয়েই অভিযান শুরু করল ভারত। তবে ২৯ রানের এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে রইল একাধিক প্রশ্নচিহ্নবিশেষ করে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে।টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৬১ রান। নামের ভারে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের থেকে যা অনেকটাই কম। সূর্যকুমার যাদব ছাড়া কার্যত ব্যর্থ সবাই। একাই লড়াই করে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ইনিংস না থাকলে ভারতের পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা সহজেই অনুমেয়।ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক শর্মা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম বলেই আউট হওয়ার প্রবণতা আবারও চোখে পড়ল। ঈশান কিশন ও তিলক বর্মা কিছুটা আশার আলো দেখালেও এই মন্থর পিচে দৌড়ে রান নেওয়ার বদলে বড় শটের উপর নির্ভর করাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাডলে ফান শকউইকের দুরন্ত স্পেলে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। ৪৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।পাওয়ার প্লে-র পর সূর্য ও রিঙ্কু সিংহ জুটি বাঁধার চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এক সময় টানা ২৭ বল কোনও বাউন্ডারি আসেনি। রিঙ্কু, হার্দিককেউই তাল কাটাতে পারেননি। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ে কার্যত স্তব্ধ।সেই কঠিন মুহূর্তেই দায়িত্ব নেন সূর্যকুমার যাদব। পিচ বুঝে, ঝুঁকি কমিয়ে, দৌড়ে রান আর সঠিক সময়ে বড় শটএই মিশ্রণেই ইনিংস সাজান তিনি। স্কোয়্যার অঞ্চলে শট, সুইপ, উইকেটের চারদিকে খেলেই প্রমাণ করেন কেন তাঁকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটার বলা হয়। অক্ষর পটেলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত তোলে ৬৯ রান।আমেরিকার বোলিংয়ে শকউইক নজর কাড়েন ৪ উইকেটে। তবে সৌরভ নেত্রভলকর ভুলে যাওয়ার মতো দিন কাটান৪ ওভারে ৬৫ রান, উইকেটশূন্য।১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমেরিকাও এই পিচে যে সমস্যায় পড়বে, তা শুরুতেই বোঝা যায়। সিরাজ ও অর্শদীপের আগ্রাসী বোলিংয়ে ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। মাঝখানে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটি কিছুটা লড়াইয়ের রসদ জোগালেও প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলাতে পারেনি আমেরিকা।শেষ দিকে বড় শট মারার চেষ্টা করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানেই থামে আমেরিকার ইনিংস। সিরাজ নেন ৩টি উইকেট, অক্ষর ২টি, বরুণ ও অর্শদীপ পান ১টি করে।ম্যাচ জিতলেও ভারতের শিবিরে স্বস্তির হাসি নেই। ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা গৌতম গম্ভীরই যেন তার ইঙ্গিত। জলপানের বিরতিতে মাঠে নেমে পরামর্শ দিলেও, ব্যাটিংয়ের এই ছবি নিশ্চয়ই কোচিং স্টাফকে ভাবাচ্ছে।বিশ্বকাপ শুরু হল জয়ে, কিন্তু ভারতের সামনে বার্তাটা স্পষ্টশুধু সূর্যের উপর ভর করে অনেক দূর যাওয়া যাবে না।
শেষমেশ নতি স্বীকার? ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি পাকিস্তান!
শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামতে পারে পাকিস্তান। এমনই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগেই একাধিক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যে কোনও সময় অবস্থান বদলাতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।এতদিন পর্যন্ত ভারত ম্যাচ না খেলার বিষয়ে অনড় ছিল পিসিবি। তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান সরকার এই ম্যাচ খেলতে রাজি নয়। তাই বোর্ডের হাতে কিছু করার নেই। এটাকে তারা ফোর্সা মেজোর বলেই ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত ম্যাচ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই পিসিবির। অর্থাৎ দর কষাকষির রাস্তা খুলে দিতে চাইছে পাক বোর্ড। আইসিসিও চাইছে, যে কোনও ভাবেই এই ম্যাচ হোক। সেই কারণেই পিসিবির বক্তব্য শুনতে তারা প্রস্তুত বলে জানা যাচ্ছে।পিসিবির অবস্থান বদলের পিছনে বড় কারণ রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা তো রয়েছেই, এমনকি নির্বাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তার উপর দলের বর্তমান পারফরম্যান্সও চিন্তার। টুর্নামেন্টে যে কোনও ম্যাচেই হারতে পারে পাকিস্তান। আর একটি ম্যাচ হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সুর নরম করছে পিসিবি।এর মধ্যেই আসরে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে কড়া চিঠি দিয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কা আয়োজক দেশ হওয়ায় এই ম্যাচ বাতিল হলে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদেরও। চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ম্যাচ না হলে আর্থিক ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা আসতে পারে।শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সেই চিঠির পরেই আরও নরম হয়েছে পিসিবির অবস্থান। পাক বোর্ডের এক সূত্র শনিবার জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরকারের সম্পর্ক ভালো। ক্রিকেটের দিক থেকেও দুই দেশের বোর্ড ঘনিষ্ঠ। তাই শ্রীলঙ্কার অনুরোধ উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। পাক বোর্ড প্রধান মহসিন নকভির সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভার কথা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের কত বড় ক্ষতি হতে পারে।সব মিলিয়ে এখন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ার সব পথই খোলা রাখছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। শেষ পর্যন্ত ১৫ ফেব্রুয়ারি কি দেখা যাবে সেই বহু প্রতীক্ষিত মহারণ, সেটাই এখন দেখার।
স্বাস্থ্য
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নির্দেশ: সব ঔষধের দোকানে বাধ্যতামূলক কিউ–আর কোড, অভিযোগ জানানো আরও সহজ
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতর দেশের সমস্ত ঔষধের দোকানে কিউআর কোড (QR Code) বসানো বাধ্যতামূলক করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সাধারণ উপভোক্তারা নির্দিষ্ট একটি সরকারি পোর্টালে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। ফলে ওষুধ বিক্রি সংক্রান্ত অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ভুল মূল্য নির্ধারণ, বা বেআইনি বিক্রির মতো সমস্যা দ্রুত নজরে আসবে।স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। ক্রমবর্ধমান অনিয়ম রুখতে ও জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা কার্যকরী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এছাড়াও একটি টোল ফ্রী নম্বার প্রকাশ করা হয়েছে, যদি আপনি ওষুধ-সংক্রান্ত (নকল/জাল/ভুল বা সমস্যাজনিত) অভিযোগ করতে চান, আপনি টোল-ফ্রি নম্বর কাজে লাগাতে পারেন:Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO) এর জন্য: 1800-180-3024কীভাবে কাজ করবে এই কিউআর কোড?প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মেডিসিন শপে দৃশ্যমান স্থানে একটি ইউনিক কিউআর কোড লাগাতে হবে।ক্রেতা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই তিনি সরকারি অভিযোগ পোর্টাল/অ্যাপে পৌঁছে যাবেন।সেখানে দোকানের নাম, লাইসেন্স নম্বর, অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাবে।ক্রেতা সহজেই অভিযোগ বা ফিডব্যাক জমা দিতে পারবেন।প্রাপ্ত অভিযোগ সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসারের কাছে পৌঁছবে।কবে থেকে কার্যকর?দফতর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব দোকানে কিউআর কোড বসানো বাধ্যতামূলক। সময়সীমার পর নিয়ম না মানলে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।কী বলছেন স্বাস্থ্য দফতর?দফতরের মতে, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযোগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। প্রত্যেক উপভোক্তা যেন দোকানের বিরুদ্ধে সরাসরি মতামত বা অভিযোগ জানাতে পারেন, এটাই লক্ষ্য।দোকানদারদের প্রতিক্রিয়াঅনেক ফার্মাসিস্ট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কিছু দোকান মালিকের দাবি, বাড়তি প্রশাসনিক চাপ বাড়বে। তবে অধিকাংশের মত, স্বচ্ছতা বজায় থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।কেন জরুরি এই উদ্যোগ?ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাফার্মেসিতে নিয়ম ভঙ্গ বন্ধনকল/মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রাহককে ক্ষমতায়নকেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোলকাতায় ডেঙ্গুর দেরিতে ঊর্ধ্বগতি, হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে!
কোলকাতায় মৌসুমের শেষের দিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে, যার ফলে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।সূত্রের খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) এলাকায় গত তিন সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩২ থেকে বেড়ে ১,১০৬ হয়েছে। বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) জানিয়েছে, বিধাননগরএলাকায় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ৩২টি নতুন কেস ধরা পড়েছে; চলতি বছরের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭।বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ভর্তি বাড়ছে জানা গিয়েছে, পিয়ারলেস হাসপাতালে বর্তমানে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।ম্যানিপাল হাসপাতাল (ঢাকুরিয়া) তে গত এক সপ্তাহে ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর এবং তারা আইসিইউতে আছেন।কেন বাড়ছে সংক্রমণ?বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমের শেষ দিকেও অবিরাম ও ছিটেফোঁটা বৃষ্টি মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে, সাধারণত অক্টোবরের শেষের দিকে যেখানেই সংক্রমণ কমে আসে, এ বছর সেটি নভেম্বরেও অব্যাহত রয়েছে।আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে শহরে গড়ে প্রতিদিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছে, যা মশার প্রজননস্থল নষ্ট করতে বাধা দিচ্ছে।চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার জ্বরে আক্রান্ত হলেও, উপেক্ষা করলে তা গুরুতর হতে পারে।ডাঃ সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেনঃঅনেকেই জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করছেন। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন?১) KMC ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে মশা দমন অভিযান শুরু করেছে। নাগরিকদের প্রতি তাদের আহ্বান ২) ঘর ও আশপাশে জমে থাকা জল ফেলে দিন,৩) জলের পাত্র সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন,৪) পুরো দেহ ঢাকা পোশাক পরুন,৫) এবং দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচান।স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নজরদারি দল কাজ করছে এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ স্প্রে অভিযান চলছে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সাবধান না হলে শহরে ডেঙ্গুর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে কারণ ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তবে সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ।
ভ্রমণ
ট্রেন যাত্রার অগ্রিম সংরক্ষণের সময়সীমা কমিয়ে হল ৬০ দিন
এতদিন ধরে ১২০ দিনে কবে রিজারভেশন হবে এই নিয়ে মানুষের মনে একটি বিভ্রান্তি বা কনফিউশন থাকত, কিন্তু ভারতীয় রেল সেই কনফিউশন দূর করে ১২০ দিনের পরিবর্তে এবার ৬০ দিনে রিজারভেশন চালু করেছে যা যাত্রীদের জন্য একটি সুসংবাদ। এমন অনেক যাত্রী রয়েছেন যারা বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের যাত্রার অনেক আগে পরিকল্পনা করতে অসুবিধা বোধ করেন। যাত্রীসুবিধায় রেলওয়ে ট্রেন যাত্রার জন্য অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) ১২০ দিন থেকে কমিয়ে ৬০ দিন করেছে। সংশোধিত নতুন এআরপি নিম্নরূপ কার্যকর হবে:১. অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) হবে ৬০ দিন (যাত্রার দিন বাদে) যা ০১.১১.২০২৪ থেকে কার্যকর এবং সেই অনুযায়ী বুকিং করা হবে। তবে, ১২০ দিনের এআরপি-র অধীনে ৩১.১০.২০২৪ পর্যন্ত করা সমস্ত বুকিং বৈধ থাকবে।২. ৬০ দিনের এআরপি-র বাইরে করা আগের বুকিং থাকলে তা বাতিল করা যাবে।৩. তাজ এক্সপ্রেস, গোমতী এক্সপ্রেস ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট দিনের সময়ের এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না যেখানে অগ্রিম সংরক্ষণের জন্য নিম্ন সময়সীমা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।৪. বন্ধন এক্সপ্রেস ও মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো আন্তর্জাতিক ট্রেনে বিদেশি পর্যটকদের ৩৬৫ দিনের বুকিংয়ের সময়সীমার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না।
দুর্গাপুজোয় দার্জিলিং বেড়াতে যেতে চাইছেন? স্পেশাল ট্রেন পূর্বরেলের
আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) দুর্গা ষষ্ঠী আর বেশিরভাগ বাঙালি ঠিক ষষ্ঠীর দিনটাই বেছে নেন বেড়াতে যাওয়ার জন্য। কেউ যাবেন পুরী , কেউ কাশ্মীর, কেউবা যাবেন দার্জিলিং। কিন্তু সময় মত টিকিট কাটা হয়নি, বেশিরভাগ ট্রেনেই ওয়েটিং লিস্টের লাইন লম্বা। এদিকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছেও আপনার আছে। চিন্তা কিসের? মুশকিল আসান পূর্ব রেল তো আছে, আপনাদের সঙ্গে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ , ১৬ তারিখ, ৩০ তারিখ (অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন) এবং নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ (অর্থাৎ ছট পুজোর আগের দিন) দার্জিলিং যাওয়ার জন্য আপনাদের জন্য হাওড়া থেকে ছাড়বে স্পেশাল ট্রেন (০৩০২৭ আপ)। ট্রেনটি হাওড়া থেকে রাত ১১ঃ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ব্যান্ডেল জংশন, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, জঙ্গিপুর রোড, মালদা টাউন, বারসোই, কিষাণগঞ্জ ও আলুয়াবাড়ি রোড হয়ে পরের দিন সকাল ১০ঃ৪৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছাবে। যারা ইতিমধ্যেই ওই সময়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার টিকিট পেয়েছেন কিন্তু আসার টিকিট কেটে উঠতে পারেননি তাদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসের ১০, ১৭, ৩১ এবং নভেম্বর মাসের ৭ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া আসার জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন চলবে (০৩০২৮ ডাউন)। ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুপুর ১২ঃ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে আলুয়াবাড়ি রোড, কিষাণগঞ্জ, বারসোই, মালদা টাউন, জঙ্গিপুর রোড, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপধাম, ব্যান্ডেল হয়ে রাত ১২:১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেনটিতে একটি এসি ফার্স্ট এবং এসি 2 টায়ার কম্বাইন্ড কোচ, একটি এসি 2 টায়ার, পাঁচটি AC 3 টায়ার, একটি এসি ৩ ইকোনমি, আটটি স্লিপার কোচ এবং ৩টি জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কোচ থাকবে।
বিস্তীর্ণ দু'পাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে
স্পন্দিত নদীজল ঝিকিমিকি করে...I দুকুলপ্রবাহিনী অতিকায় এক স্রোতস্বিনী... দশটি দেশের মাটি ছুঁয়ে চলা তার দুর্দম প্রবাহ... কত কবি-চারণ-গায়ক -নাট্যকারের সৃষ্টিসুখের জননী সেই পযস্বিনী আজ আমার দুচোখের সামনে... দানিয়ুব!পয়লা মে , ২০১৮, পূর্ব-মধ্য ইউরোপ আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে সদলবলে ঘুরতে ঘুরতে আগের রাতে এসে পৌঁছেছি বুদাপেস্ট। হাঙ্গেরির রূপসী রাজধানী রাতের আলোয় যে মায়াকাজল বুলিয়ে দিয়েছে চোখে, তার ঘোর কাটতে না কাটতেই সকাল সকাল ছোট্ট বাসে আমরা পনের জন বেরিয়ে পরেছি আবার, দানিয়ুব -এর দুপাশে ছড়ানো যমজ নগরী বুদা ও পেস্ট -এর রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ চেটেপুটে খেতে। সঙ্গে ফ্রেন্ড-ফিলোসফার-গাইড হিসেবে আমার কলেজজীবনের বন্ধু প্রবাল, গত চার বছর ধরে যে টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসের স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হয়ে এ দেশে অধিষ্ঠান করছে!আজ থেকে চারদিন এদেশে জাতীয় ছুটি। পথেঘাটে যানবাহন কম, মানুষজন ফুর্তির মেজাজে দলে দলে রাস্তায়। সুন্দর পথঘাট... নয়নশোভন বাগান -ঝিল -বুলেভার্ড... ভীমকায় গীর্জা-স্মারকসৌধ-দুর্গ -প্রাসাদ ঘুরে দুপুরের মুখে এলাম দানিয়ুব -এর পূব পারে।কাতারে কাতারে মানুষ চড়া রোদে অধীর আগ্রহে বসে আছে নদীপারের বাঁধানো চত্বরে; একটু পরেই শুরু হবে চোখধাঁধানো এয়ার-শো। নদীতটে সুরম্য হর্ম্যরাজির মধ্যে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের বৃহত্তম পার্লামেন্ট বলে কথিত হাঙ্গেরিয়ান আইনসভা-- তার অপরূপ শুভ্র রাজসিক গরিমায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়!কিন্তু এসব দেখতে আমরা আসি নি। আমাদের চঞ্চল পদবিক্ষেপের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, ইউরোপ তথা আধুনিক মানবসভ্যতার সবচেয়ে মর্মান্তিক এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের স্মারকদর্শন-- Shoes on the Danube, চলতি কথায় The Shoe Memorial। চারের দশকের মাঝামাঝি। হিটলার হাঙ্গেরি জয় করে অপসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Miklos Horthy -কে; ক্ষমতায় এলো এক পুতুল সরকার, নেতৃত্বে Ferenc Szalasi, যাঁর চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস হিটলারের কাছাকাছিই I ক্ষমতায় এসেই তিনি গঠন করলেন Arrow Cross Militia বাহিনী I এরা জার্মানি-পন্থী , চরম ইহুদী-বিরোধী I এদের প্রধান কাজই হলো ইহুদী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করা I ধনসম্পত্তি -পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে তাদের ঠাই হলো বুদাপেস্টের মনুষ্যেতর ইহুদী ঘেটো গুলিতে I সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রাউল ওয়ালেনবার্গ বা সুইস কনসাল Carl Lutz -এর মতো কিছু কুশলী মানবদরদী রাষ্ট্রদূত ও সমাজকর্মীর চেষ্টায় বেশ কয়েক হাজার ইহুদী প্রাণে বেঁচে অন্য দেশে পালাতে পারলেও, Arrow Cross -এর মৃত্যুদূতদের যথেচ্ছাচারে প্রলয় ঘটে গেল আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মানবিক সম্পর্কে সমৃদ্ধ হাঙ্গেরীয় ইহুদিদের গোষ্ঠী-জীবনে ! লক্ষ লক্ষ হাঙ্গেরীয় ইহুদিকে মৃত্যুমিছিলে সামিল করে পার করে দেওয়া হলো অস্ট্রীয় সীমান্ত , গ্যাস চেম্বারে প্রাণ দিলেন অগণন মানুষ ! ৪৪ -এর অক্টোবর থেকে ৪৫ -এর মার্চ রাজত্ব করেছিল Arrow Cross বাহিনী। এর মধ্যে ৪৪-এর ডিসেম্বর থেকে ৪৫ -এর জানুয়ারী -- বার বার ইহুদী ঘেটোগুলি থেকে বন্দুকের ডগায় তুলে আনা হয়েছিল কাতারে কাতারে ইহুদী নরনারী, এমনকি বয়স নির্বিশেষে শিশু-কিশোর-কিশোরী দেরও!দানিয়ুব-এর এই পূব পারে জলের ধারে জুতো খুলে রেখে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে ইউরোপের সর্বত্র জুতো ছিল বড়ই প্রয়োজনীয় ও মহার্ঘ্য সামগ্রী!) নদীর দিকে পিছন ফিরে বেয়নেটধারী মৃত্যুদাতাদের দিকে তাকিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়াতেন শিশু-মহিলা-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হতভাগ্য মানুষ (প্রধানতঃ ইহুদী ), তিনজন তিনজন করে মাঝের জনের দুই পায়ের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো দুপাশের দুজনের পা তারপর মাঝের মানুষটি শরীরে বুলেট নিয়ে উল্টে পরতেন দানিয়ুব -এর হিমশীতল জলে, সঙ্গে সঙ্গে বাকি দুজনও খরস্রোতে উল্টিপালটি খেতে খেতে শয়ে শয়ে মৃতদেহ ভেসে যেত কৃষ্ণসাগরের দিকে.....ঠিক কত প্রাণপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল এভাবে? সঠিক হিসেব জানে না কেউ।তবে সংখ্যাটা সাড়ে তিন হাজারের কম নয়। ছেড়ে যাওয়া জুতোগুলি নিজেরাই ব্যবহার করত, বা বেচে পয়সা কামাতো মিলিশিয়া -বাহিনী!বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে, শীতল ঔদাসীন্যে ....এলো ২০০৫ সাল। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক Can Togay ও স্বনামধন্য স্হপতি Gyula Pauer উদ্যোগ নিলেন সেই সব হতভাগ্যের স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে এই মৃত্যুভূমিতে এক অভিনব নির্মানের, যা পরবর্তীকালে হয়ে উঠলো সারা ইউরোপের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে গড়ে ওঠা মহত্তম স্মারকগুলির একটি -- Shoes on the Danube!লোহা ঢেলে গড়া হলো ষাট জোড়া খুলে রাখা জুতো, সেই চারের দশকের রচনাশৈলীতে I ছোট্ট শিশুর মিষ্টি জুতুয়া... মায়ের হিল তোলা কেতাদুরস্ত জুতো ...সম্পন্ন ব্যবসায়ীর গম্ভীর বুটজুতো... ক্রীড়াপ্রেমী নওজোয়ানের তৎকালীন স্পোর্টস শু...সবই ছিল সেই পাদুকা -সম্ভারে, যা আজও মনে করিয়ে দেয় বয়স-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সেই মৃত্যুমিছিল। বাঁধানো নদীতটের কঠিন শিলায় সংবদ্ধ অনড় জুতোগুলি এলোমেলো চেয়ে আছে আকাশপানে। পিছনে ৪০ মিটার লম্বা ও ৭০ সে.মি. উঁচু এক পাথরের বেঞ্চি, যার তিন জায়গায় লোহার ক্রস লাগানো। লেখা আছে হিব্রু, হাঙ্গেরীয়, ও ইংরেজি ভাষায়-- To the memory of the victims shot into the Danube by Arrow Cross militia men in 1944 -45, erected 16 April 2005.আজও সেই সব হতভাগ্যদের উত্তরসুরীরা ফুল গুঁজে দিয়ে যান মৃত্যুঞ্জয়ী জুতোগুলির পেটে... জ্বালান মোমবাতি... আমাদের মতো উটকো ভ্রমনার্থীরা উদগত দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে ক্যামেরায় ক্লিক করেন...বিকেলের সূর্যের অস্তরাগ লালে লাল করে দেয় দানিয়ুবের বুক...যেমনটি হয়েছিল পঁচাত্তর বছর আগে...। এত জানে, তবু নদী কথা বলে না! ফ্যাসিবাদ মরে নি আজও ! Those who forget history, are condemned to repeat it!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান
Deuli: কলকাতার পাশেই ছুটি কাটানোর দারুন সুযোগ, সুন্দরবনের পথে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র তার পরিধি বাড়িয়েছে। সেসব তো বাস্তুতন্ত্রের কথা। কিন্তু পর্যটনের নজর বলছে কলকাতা থেকে দুঘণ্টার মধ্যেই সুন্দরবনের শুরু!ঠিকই পড়ছেন। আক্ষরিক দূরত্ব না ভাবালে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ২৪ পরগনার সীমানায় এক গ্রামের নাম দেউলি। স্থানীয়রা বলেন, এখান থেকেই সুন্দরবনের শুরু। কেমন? হাতেকলমে ঠিক ১৫০ কিলোমিটার গেলেই গোসাবা। কিন্তু তার সীমানা শুরু এই দেউলি থেকেই। খুব সাদামাটা এক গ্রাম। কাদার গন্ধ লাগা মানুষজন। তবে কেউ উদাসীন নয়। জীবনের কড়ি হিসাব করেই রাখেন। তঁারাই বলেন, শহর থেকে একটু দূরে অসংখ্য মানুষ এখানে একদুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে আসেন স্রেফ গা এলিয়ে ভরপুর অক্সিজেন মাখার জন্য।পৌঁছবেন কীভাবে? সায়েন্স সিটি পেরিয়ে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে গাড়ি ছোটাতে গেলেই একটু যা দূর। নিউটাউনের শেষে ভোজেরহাট ধরে ঢুকলে দেখতে দেখতে রাস্তা ফুরোবে। পাগলারহাট পেরিয়েই ডান হাতের পিচ রাস্তা। বেশ কিছু জনপদ পেরিয়ে সোজা দেউলি। ভুল হলে এগিয়ে গিয়ে আরেকটা রাস্তা ঢুকবে চণ্ডীপুর হয়ে। সেটাও যদি ভুল হয় তবে সোজা মিনাখা। তবে সবথেকে সহজ রাস্তা পাগলারহাট। দুই দিকে একরের পর একর নিচু ধান জমি ফেলে রেখে সবুজ চিরে রাস্তা এগোবে। ও বাড়ির মুরগী, এ বাড়ির খাসি রাস্তা পেরোলেই যা একটু সাবধান। এ বাদে মানুষ সামনে পড়ে গেলে প্রতিবেশির চেয়েও মিঠে গলায় বকুনি দেবে।বিশেষত্ব বলতে সেখানকার জমি। জমির চরিত্র বদল হয়নি ঠিক। কিন্তু বছরের বছর বিদ্যাধরীর মতো একটাদুটো নদীর জল বহন ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সবটাই উপচে আশপাশের গ্রামের জমি ডুবিয়ে রাখে। চেহারা নেয় ভেড়ির। গরমের শুরু থেকে পুজোর মরশুম পর্যন্ত সেসব ধান জমিতে স্রেফ মাছের চাষ। এক সময় যে জমিতে ধান চাষই ছিল প্রধান জীবীকা, নদীর উপচানো জল বেরোতে না পেরে সেসবের বৈশিষ্ট্য এখন একেবারে আলাদা। জল ধরা জমিতে মাছ চাষ। তাতে লাভও অনেক গুণ বেশি। ক্ষতি বলতে অধিক বর্ষায় জম ছাপিয়ে সব ভেড়ি এক হয়ে গেলে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।তবে গ্রামের লোকেই ভুল ধরিয়ে দিল। জানাল মাছেদের মজার কথা। যেখানে একবার খাবারের সন্ধান পাবে, সেখান থেকে আর পালাবে না। একমাত্র প্রবল বর্ষণে ভেসে না গেলে তাদের আর ভেড়ি ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই ধরনের ভেড়িতে সাধারণ দুই রকমের মাছ চাষ হয়। মিঠে জলের মাছ আর নোনা মাছ। নোনা মাছ মানেই নানারকম চিংড়ি। সেসব আবার বাড়ির পুকুরের মিঠে জলেও চাষ করেন অনেকে। এক গেরস্থ বাড়ির যুবকের তো সেসব আবার অহঙ্কার। শহরের মানুষ একরকম মাছ দিয়ে ভাত খান। আমাদের পাতে একই দিনে দুতিনরকমের মাছ পড়ে। এমন কথাও শুনতে হতে পারে।ঠিক এখান থেকেই গ্রামের অর্থনীতিতে বদল শুরু। আগে যার তিন বিঘা জমি তিন বছরের লিজে নিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ধান বা সবজি চাষের পরও একটু বাড়তি বৃষ্টিতে লোকসানের মুখ দেখা ছিল রোজনামচা। সেখানে এখন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মিঠে জলের মাছেদের খাওয়ানোর জন্য যা একটু খরচখরচা করতে হয়। নোনা জলের জন্য তাও লাগে না। উল্টে লাভই লাভ। একটু বেলা গড়ালে রাস্তার দুধার ধরে হঁাটলে চোখেও পড়বে সেসব দৃশ্য।এলাকায় একসময় একটা বড় মেলা বসত। হাট শেষ করে সে মেলায় জিলিপি, বুড়ির চুল, মিঠে পান, চানাচুর, জাদুর খেলার ভিড় ছিল দেখার মতো। করোনার আবহে সেসব অতীত। ফলে এখন নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাসের জীবনই অভ্যাস। এর মধ্যেই দুই বিপরীতমুখী ছবি ধরা পড়বে গাড়ি ভুল করলে চণ্ডীপুর গ্রামে ঢুকলে। স্থানীয়রা বলেন খারাপ রাস্তা। সত্যিই তাই। রাস্তা বলে আর সেখানে কিছু নেই। পিচ ভেঙে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। মাজা ভেঙে না গেলে এই রাস্তা পেরিয়ে দেউলিতে ঢুকতে আলাদা করে এক ঘণ্টা ধরে রাখতে হবে। কিন্তু আরামের বিষয় হল, এ রাস্তার দুধারে দিগন্ত বিস্তৃত ছোট জলভরা ধানি জমি। ছোট ছোট গাছে ছায়া বানিয়ে রেখেছে। চরছে ছাগল গরু। গ্যাঙোর গ্যাং ডাকের মাঝে মাঝে ছোট ছোট জলাশয়ে মাছেদের ছপাৎ ছপাৎ ঘাই দেওয়ার শব্দ। দিঘল জলার ধারে মেঘলা হাওয়ায় একের পর এক ঠাণ্ডা দুপুর কাটিয়ে দেওয়া যায় অনায়াসে।হাতে গোনা কটা রিসর্ট গজিয়ে উঠেছে এলাকায়। গুগল করলেই খেঁাজ মিলবে। চেকইন আর চেকআউটের নিয়ম ব্রেকফাস্ট থেকে ব্রেকফাস্ট। খাবারদাবার তাদের বেশ ভালই চেহারা ভারী করবে। মিঠে হাওয়ার সেঁাদা গুণ আর অফুরন্ত খাবার মন ধরে রাখবে। শহরে ফিরতে কষ্টই হবে। পোড়া দূষণ মাখা করোনা আর কোমর্বিডিটির শব্দে কান ঝালপালা শহরের গা ঘেঁষা এই গ্রামে পা রাখলে এক মুহূর্তে বাষ্প করে দেবে সব গ্লানি। একদুদিনের ছুটিতে একবুক অক্সিজেন মেখে নতুন উদ্যমে ঘরে ফেরা।শাশ্বত রায়আরও পড়ুনঃ দেবতার হ্রদে একদিনআরও পড়ুনঃ বিপদসংকুল ও ভয়ঙ্কর সাচ পাস অভিযানের অভিজ্ঞতা
Rakhal Raja: রাখাল রাজের দেশে, বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেথায় দিগন্তে গিয়ে মেশে
বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরেবহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরেদেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়াঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াএকটি ধানের শিষের উপরেএকটি শিশিরবিন্দু।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকবির প্রকৃতি প্রেম খুব সুন্দর করে এই পংক্তি গুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে। সত্যিই তো আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, প্রকৃতি যেখানে জিঅকৃপণ ভাবে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে, তার কতটুকুই বা আমরা জানি। লকডাউনের বিধিনিষেধ দূর ভ্রমণে বাধা হলেও, অদূর ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। মুক্তির স্বাদ খুব অল্প সময়ের হলেও তা প্রাপ্তির ভাণ্ডার কে পরিপূর্ণ করে তোলে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে অপার আনন্দ অনুভব করার এমনই এক ঠিকানা রাখাল রাজার মন্দির।প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরময় স্থান কালনা। কালনার ই বৈদ্যপুর রথতলা থেকে মিনিট ১৫ গেলেই গোপালদাসপুর গ্রামে অবস্থিত এই রাখাল রাজ মন্দির। নিরিবিলি পরিবেশ, চারদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত, তার মাঝখানে লাল ইটের তৈরি প্রাচীন মন্দিরে রাখাল রাজ বিরাজমান। প্রকৃতি এখানে রাখাল রাজের খেলার উপযুক্ত স্থান হিসাবেই নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। মন্দির এর সামনে বিস্তৃত নাট মন্দির, তার দেয়ালে শ্রীকৃষ্ণের বাল্য লীলার নানান কাহিনী যেমন পুতনা বধ, ননী চুরি, কংস বধ ইত্যাদি ছবির মাধ্যমে বর্ণিত আছে।মন্দিরের গর্ভগৃহে তিনটি মূর্তি রয়েছে, সবচেয়ে বড় রাখাল রাজের মূর্তি, আকাশী নীল গায়ের রঙ, বড় বড় টানা চোখ, বাম হাতে নাড়ু আর ডান হাতে লাঠি নিয়ে গোপবালকদের দলপতির মত সমস্ত কিছু পরিচালনা করছেন। দুপাশে সাদা গাভী। তাঁর ডানদিকে ছোট রঘুনাথ মূর্তি, গায়ের রঙ সবুজ আর বামদিকে গোপীনাথজী আকাশী নীল গায়ের রঙ। মূর্তিগুলি অপরূপ মায়াময়, তাকিয়ে থাকলে প্রশান্তিতে মন ভরে যায়। পুরোহিতের সাথে কথা বলে যা ইতিহাস জানা গেল তা প্রায় ৫০০ বছর আগের, বেশিরভাগটাই জনশ্রুতির উপর ভিত্তি করে।কাহিনীটি অনেকটা এরকম, বর্ধমানের খাতুন্দীর বাসিন্দা গোপীনাথ ভক্ত রামকানাই গোস্বামী বর্গী আক্রমণের ভয়ে বা পারিবারিক কলহের কারণে আরাধ্য দেবতাকে সাথে নিয়ে বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।পথে ঘন জঙ্গল পড়ে, এদিকে গোপীনাথকেও ও ভোগ দেওয়ার সময় হয়ে আসায়, রামকানাই গোস্বামী জঙ্গলেই কাঠ কুটো জ্বালিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। এই সময়েই রাজা গোপালদাস তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে মৃগয়া করতে এসেছিলেন, পথে ক্লান্ত হয়ে ফেরার সময় দেখলেন জঙ্গলে এক জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠছে। রাজা সেখানে সপারিষদ উপস্থিত হতে, গোস্বামী মহাশয় তাদের সাদর অভ্যর্থনা জানান, ও খেয়ে যেতে বলেন। গোপীনাথজী র অসীম কৃপায় একটা ছোট হাঁড়ির ভোগেই সবাই পরিতৃপ্তির সাথে খাওয়া সম্পূর্ণ করেন। রাজা গোপীনাথ এর মাহাত্ম্য বুঝতে পারেন এবং উনি রামকানাই গোস্বামীকে কিছু জমি দান করেন। মন্দির নির্মাণ করেন। তার নামানুসারে এই গ্রামের নাম গোপালদাসপুর।সেই দিন রাত্রে রামকানাই গোস্বামী স্বপ্নাদিষ্ট হন যে রাখাল রাজ বালকের বেশে তাকে বলছেন তার আর বৃন্দাবন যাত্রার প্রয়োজন নেই। পরের দিন পাশের যমুনা পুষ্করিণী তে যে কাঠ ভেসে থাকবে তাই নিয়ে নদীয়ার বাঘনাপারার এক পাঁচ বছরের বালকের কাছে গেলে, সে রাখাল রাজার মূর্তি তৈরি করে দেবে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে রামকানাই পরের দিন পুষ্করিনী থেকে কাঠ সংগ্রহ করে, বাঘনাপাড়ায় গিয়ে সেই বালক, নাম মহাদেব, কে দিয়ে মূর্তি তৈরি করান, সেই মূর্তিই আজও পূজিত হয়ে আসছে। সেই বালকের বংশধরেরাই এখনো মাঘী পূর্ণিমার দিন মূর্তির অঙ্গরাগ করেন। পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন গোপীনাথ।রামনবমী ও জন্মাষ্টমী তে বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে। মূল মন্দিরের পাশে আছে দোল মন্দির এখানে দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একটু দূরে আছে সাধক রামকানাই গোস্বামী র সমাধি মন্দির।সকাল থেকে মোট চারবার ভোগ নিবেদন করা হয়। দুপুরে থাকে অন্নভোগ। মন্দিরে এসে আগে থেকে কুপন কেটে রাখলে ভোগ খাবার ব্যবস্থা আছে।বিকেল বেলা শীতল ভোগ হয়ে গেলে, মন্দির ও তার চারপাশে কেউ যায়না, মানা হয় এই সময় রাখাল রাজা স্বয়ং তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে খেলা করেন। ভক্তজনের বিশ্বাস আর ভক্তিতেই তিনি সদা জাগ্রত। এই সব কাহিনী শুনতে শুনতেই রাখাল রাজের লাঞ্চ এর সময় হয়ে গেল। আরতির পর তিনি খেতে বসলেন, সাথীদের নিয়ে। আরতি দর্শন করে ও দুপুরের ভোগ খেয়ে পরিপূর্ণ হৃদয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম আমরা।প্রকৃতি ও ঈশ্বরকে অনুভব করার অপূর্ব অনুভূতি মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে অনেকদিন।ডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)কিভাবে যাবেনবর্ধমান থেকে হাওড়া গামী মেন লাইন লোকাল ট্রেন ধরে নামতে হবে বৈঁচি স্টেশনে। সেখান অম্বিকা কালনা অভিমুখে যে বাস যাচ্ছে সেই বাসে উঠে নামতে হবে বৈদ্যপুর বাজার। সেখান থেকে গোপালদাসপুর যাওয়ার টোটো ধরতে হবে। গোপালদাসপুরে যে কেউ দেখিয়ে দেবে রাখালরাজার মন্দির। কেউ যদি থাকতে চান তাহলে বৈদ্যপুরে হোটেল বা লজে থাকতে পারেন। বৈদ্যপুর থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে কালনা শহরে থাকার জন্য অনেক হোটেল আছে।
কলকাতা
দোলের পরেই ভোটের দিন ঘোষণা! বাংলায় আসছে কমিশনের হাইভোল্টেজ টিম
মার্চের ১ ও ২ তারিখে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল। তারা রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেই বৈঠকের পর দোলের পরেই ঘোষণা করা হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তার আগে কোনও ঘোষণা হবে না বলেই সূত্রের খবর।আগে ঠিক ছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এখন জানা যাচ্ছে, নেড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের আগে কোনওভাবেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে না।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা হলেও তারা কেন্দ্রের ইঙ্গিত মেনেই চলে। বিজেপি উত্তর ভারতের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেয়। সেই মতে হোলিকা দহনের আগে কোনও শুভ কাজ শুরু করা ঠিক নয় এমন বিশ্বাস থেকেই ভোটের নির্ঘণ্ট দোলের পরে ঘোষণা করা হতে পারে বলে মত অনেকের। উল্লেখ্য, বাংলার পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতেও নির্বাচন রয়েছে। সব রাজ্যের ভোট একসঙ্গেই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা।বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে, তারা এক দফায় ভোট করাতে প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় লোকবল তাদের হাতে রয়েছে। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায়, তবে এক দফায় ভোট করা সম্ভব এবং তাতে হিংসাও কমবে। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ভোট করানোর পক্ষেই ঝুঁকছে বলে জানা গিয়েছে। লোকবল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়ার বিষয়টিই এখন প্রধান চিন্তার কারণ।এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসবে কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের দল। সেই বৈঠকের পরই দোলের পরে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে।
আগস্ট নয়, এপ্রিল থেকেই ১৫০০ টাকা! যুবসাথীতে বড় চমক মমতার
আগস্টের অপেক্ষা আর নয়। এপ্রিল থেকেই চালু হচ্ছে যুবসাথী প্রকল্প। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন।কয়েক দিন আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন জানানো হয়েছিল, অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রকল্পটি কার্যকর করা হচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক ও যুবতীরা, যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করার পর এখনও বেকার। কেউ যদি স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনও বাধা নেই। তবে স্কলারশিপ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা যদি কেউ নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে যুবসাথীর টাকা মিলবে না।প্রাথমিকভাবে টানা পাঁচ বছর প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পরেও কেউ যদি বেকার থাকেন, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দুয়ারে সরকার কর্মসূচির আদলে বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। ১৫ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সেখানেই আবেদন করা যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে আবেদনপত্রের রসিদও দেওয়া হবে।যুবসাথী প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানিয়ে শীঘ্রই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিদায় নিতে নারাজ শীত! আরও চার দিন ঠান্ডার সতর্কতা
কলকাতায় টানা দুদিন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির ঘরে নেমে এসেছে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আরও প্রায় চার দিন শীতের আমেজ বজায় থাকবে।এর আগে শেষবার ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ১৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তার পর আবার এই মরশুমের ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির ঘরে নামল। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না।উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে শীতের আমেজ বেড়েছে। ঠান্ডা হাওয়ার কারণে শহরের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রিরও বেশি কম। রবিবার শহরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ ডিগ্রি। আকাশ পরিষ্কার রয়েছে। উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস।সোমবার থেকে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে সেই বৃদ্ধি দুই থেকে তিন ডিগ্রির বেশি হবে না।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই আগামী তিন থেকে চার দিন কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় তেমন কোনও পরিবর্তন হবে না। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। মালদহ-সহ নিচের দিকের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
মিমির মামলায় জামিন পেলেন তনয়, তবু জেলেই থাকতে হবে কেন?
অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর করা মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন তনয় শাস্ত্রী। তবে এখনই জেল থেকে মুক্তি মিলছে না তাঁর। পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে হেনস্থার মামলায় তনয় শাস্ত্রী-সহ আরও দুজনকে চার দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জানুয়ারি। সেদিন বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই তাঁকে হেনস্থা করা হয়। গান বন্ধ করে তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জন্য ক্লাবের এক কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিমি।/pএরপর ২৯ জানুয়ারি তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত তনয়কে গ্রেফতার করা হয়। মিমিকে হেনস্থার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগেও তনয়-সহ আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।/p৩০ জানুয়ারি অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সাত দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানালেও বিচারক চার দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই মেয়াদ শেষ হলে চলতি মাসের ৩ তারিখ ফের আদালতে তোলা হয় তাঁদের। আবারও সাত দিনের হেফাজতের আবেদন করে পুলিশ এবং মামলায় শ্লীলতাহানির ধারা যোগ করার আবেদন জানানো হয়। তনয়ের আইনজীবীরা জামিন চাইলেও তা খারিজ করে দেন বিচারক। একই সঙ্গে মিমি চক্রবর্তীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে মিমি চক্রবর্তীর করা হেনস্থার মামলায় জামিন মিললেও পুলিশের কাজে বাধা ও হেনস্থার মামলায় আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে তনয় শাস্ত্রীকে। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।
বিদেশ
৪৮ ঘণ্টা আগে ভোট, তার আগেই কুপিয়ে হত্যা হিন্দু ব্যবসায়ীকে
ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশে ফের নৃশংস হত্যার অভিযোগ। ময়মনসিংহ জেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম সুষেন চন্দ্র সরকার, বয়স ৬২ বছর। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সুষেন চন্দ্র সরকার পেশায় চাল ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে তিনি নিজের দোকানেই ছিলেন। সেই সময় কয়েক জন দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুষেনবাবুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি দোকানের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর দোকানের শাটার নামিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কী কারণে এই খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই দেশজুড়ে অশান্তির ছবি সামনে আসতে শুরু করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিলেও কট্টরপন্থীদের দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ। এর আগেও একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের পর সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটেও চালানো হয় হামলা। এরপর সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনির পর হত্যা করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।এই পরিস্থিতিতে ভোটের ঠিক আগে ফের এক হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভোটমুখী বাংলাদেশে।
ভোটের আগে বড় চুক্তি! আমেরিকার সঙ্গে ইউনুস সরকারের সমঝোতা ঘিরে জল্পনা
বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচনের আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের হার কমে দাঁড়াল ১৯ শতাংশে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিজেই এই চুক্তির কথা জানিয়েছেন ইউনুস।তিনি জানান, সোমবার বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তার ফলে আমেরিকা তাদের শুল্কের হার আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ইউনুস আরও বলেন, ভবিষ্যতে কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির বার্তাও দিয়েছে আমেরিকা।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মূলত টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই এই খাত থেকে আসে। ফলে মার্কিন শুল্ক কমায় বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের বিরুদ্ধে কার্যত শুল্কযুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। পরে গত বছরের আগস্টে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এবার নতুন চুক্তির ফলে সেই শুল্ক আরও কমে ১৯ শতাংশে এল।প্রায় ৯ মাস ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে। তবে নির্বাচন একেবারে সামনে, আর অন্তর্বর্তী সরকারও অস্থায়ীভাবে ক্ষমতায়এই পরিস্থিতিতে এমন বড় বাণিজ্য চুক্তির অর্থ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিজের সন্তান দিয়ে ‘উন্নত মানবজাতি’ তৈরির ভাবনা, ফাঁস এপস্টেইনের চাঞ্চল্যকর
যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইন নাকি নিজের ঔরস থেকে একটি সুপার রেস বা উন্নত মানবজাতি তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকার নিউ মেক্সিকোতে তাঁর প্রাসাদটিকেই পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের এই পরিকল্পনার কথা এপস্টেইন বহু প্রভাবশালী ও শিক্ষিত ব্যক্তিকেও জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই অনেকে তাঁর নিউ মেক্সিকোর প্রাসাদটিকে বেবি র্যাঞ্চ বলে ডাকতেন। যদিও এই পরিকল্পনা আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেকে নাসার বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেওয়া এক মহিলা দাবি করেছেন, এপস্টেইন একসঙ্গে অন্তত ২০ জন গর্ভবতী মহিলাকে ওই প্রাসাদে রাখার কথা ভেবেছিলেন। নোবেলজয়ীদের শুক্রাণু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি রিপোজিটরি ফর জার্মিনাল চয়েস নামে একটি পুরনো স্পার্ম ব্যাঙ্কের ধারণা থেকেও তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।অনেকের মতে, এপস্টেইনের এই পরিকল্পনা ট্রান্সহিউম্যানিজম নামে এক বিতর্কিত মতবাদের সঙ্গে যুক্ত। এই ধারণা অনুযায়ী, প্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতা আরও উন্নত করা সম্ভব। তবে সমালোচকেরা বলেন, এই মতবাদের সঙ্গে ইউজেনিক্স-এর মিল রয়েছে। হিটলারের জার্মানিতে ইউজেনিক্স ধারণা ব্যবহার করে তথাকথিত শুদ্ধ জাতি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই মতবাদে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে অনভিপ্রেত জিন দূর করার কথা বলা হয়।
বিদায়ের আগে ঋণের বোঝা বাড়ালেন ইউনূস? নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন বাংলাদেশে
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটির শাসনভার যায় অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসবে নতুন সরকার। তার আগেই একের পর এক নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে।এমনিতেই ঋণের চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। তার মধ্যেই নতুন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশই ঋণ নিয়ে জোগাড় করতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই বিদায়ের মুখে সরকারের আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি বা ওয়াসার আগেই প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। সেই ঋণ এখনও শোধ হয়নি। তার মধ্যেই নতুন একটি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ২৩ ডিসেম্বর ওয়াসার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৭১ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে মোট ৬৪টি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব প্রকল্পে মোট খরচ হবে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যেগুলিতে খরচ হবে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এই নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে কিছু প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে ইউনূস সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে। তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম ছিল। শেষ দিকে আবার তিনটি নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতেও কিছু বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান, যা বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা, সেই বিষয়ে তেমন জোর দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে।এদিকে প্রকল্প বণ্টন নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, চট্টগ্রাম এলাকায় বেশি সংখ্যক প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, অথচ ২১টি জেলায় কোনও প্রকল্পই বরাদ্দ হয়নি। কেন চট্টগ্রামেই বেশি বরাদ্দ, সে বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলো-কে জানিয়েছেন, ঢাকার জল ও নিকাশি ব্যবস্থা চট্টগ্রামের তুলনায় অনেক উন্নত। রফতানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই ওই এলাকায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয়
অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন
অমানিশায় চন্দ্রকিরণ! অমাবস্যায় চাঁদের উদয় এ আবার হয় নাকি? বাংলা সাহিত্যের পরম সম্পদ কালকুটের উপন্যাসে এই বিস্ময় জড়ানো প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। কালকুট লিখেছেন এ হল তান্ত্রিক বাউল সম্প্রদায়ের সাধনার এক স্তরে পৌঁছনোর পরের উপলব্ধি। । এ কথা এখন তোলা থাক। সোমবার থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন। ভিসা পেলেই সেই সম্মেলনে যোগ দিতে কূটনীতিকদের একটি দল পাঠাতে চায় আফগানিস্তান। যদিও জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার তালিকায় তারা ছয় নম্বরে। তবু, দুষনরোধে অংশ নিতে চায় তালিবান। সাম্প্রতিক এই খবরে চোখ পড়তেই কালকুটের ওই উপন্যাসের কথা মনে এল। দুদিন আগে আরও একটি তালিবানি খবর চোখ টেনেছিল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানের মেয়েদের জীবনযাপনে একের পর এক বেড়ি পরিয়ে চলেছে তালিবান সরকার। খবরে প্রকাশিত মেয়েদের ঘরে বা একান্তে অন্য মহিলার উপস্থিতিতে গলার স্বর যেন শোনা না যায়। কন্ঠ রোধের এই নয়া ফরমান জারি করেছে তালিবান। অনেক দিন আগেই মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, জনসমক্ষে পা রাখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এই ধর্মোন্মাদ গোষ্টী। এবার নিভৃতেও মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণে বারণ। স্বাধীন, সৃষ্টিশীল জীবন যাপনের স্বপ্ন শুধু মেয়েদের নয় সুস্থ বোধ সম্পন্ন সব মানুষের চোখ থেকেই মুছে দিয়েছে তালিবান। অন্ধ শাসনে নিষ্পেষিত হয়ে মানুষের নিভে যাওয়ার কাহিনীর পাহাড় জমছে আফগানিস্তানে। যে দেশে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার পরিবেশ উধাও সেই দেশ চলেছে বিশ্ব পরিবেশের উন্নয়নে। কালকুটের উপন্যাসে যে তন্ত্র সাধনায় চূড়ান্ত অমানিশা আর চন্দ্রকিরণের বৈপরীত্যের কথা বলা হয়েছে সেই বিপরীত অবস্থানের কথাই মনে করাচ্ছে তালিবান।দিন যাপনের প্রতিটি স্তরে যারা ভয়ঙ্কর দূষন ছড়িয়ে রেখেছে তারা হঠাৎ কেন পরিবেশ দূষণ নিয়ে এত আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র তালিবান সরকারকে ব্রাত্য করে রেখেছে, তবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় আমরাও অংশ নিতে চাই । যে দেশে জন্মভিটেতেই মানুষ ব্রাত্য, যে ভূখণ্ডে মানুষ আকাশ, পাখি বা পতঙ্গের অবাধ বিচরণের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাদের এই উলটপুরণ আসলে ওই ব্রাত্য দশা ঘোচানোর আপ্রাণ চেষ্টা। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সই করেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু, তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এই সমস্যা নিয়ে তালিবান সরকারের এক আমলা বলেছেন, জলবায়ু সমস্যা সমগ্ৰ মানবজাতির সমস্যা। তাই রাজনীতি কে এই বিষয়েটি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। ঢাকার কুট্টি গাড়োয়ানদের কথা যারা জানেন তাদের মনে হতে পারে দেশের মানব সম্পদ কে আস্তাকুঁড়ে ফেলে মানবজাতির সমস্যা নিয়ে এই চিন্তা শুনে কুট্টিদের ঘোড়া রাত অট্টহাস্য করত না মুচকি হাসলো?
মুসলিম তোষন: সোনার পাথর বাটি
চৈত্র এলেই বঙ্গ বাসীর মন উচাটন হয় পয়লা বৈশাখের জন্য। রুখু সুখু চৈত্রের দায়িত্ব বৈশাখের জন্য মঞ্চ সাজিয়ে প্রস্থান করা। আর দুদিন বাদেই বাংলা পয়লা বৈশাখ উদযাপন করতে মন্দিরে, রেস্তোরাঁয় লাইনে দাঁড়াবে। এবার আবার তারপরেই ভোটের লাইনে দাঁড়াবে বঙ্গভূমি। যদিও নির্বাচনটা সারা দেশে। তবু দেশটার নাম যেহেতু ভারতবর্ষ, তাই দেশ এক হলেও প্রতি প্রদেশেই সাজানো থাকে বৈচিত্র্যের ডালি। এই বৈচিত্র্যের কারনেই প্রতিটি রাজ্যে ভোট, ভোটার, ভোটের প্রতিশ্রুতি, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, শান্তি, অশান্তি সব কিছুর ই ক্যানভাস আলাদা। এই যেমন আমাদের বাংলা।এখানে ভোট এলেই শাসকদল তৃণমূলের ভোট শক্তির দুই স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা হয়। চলে তর্ক, বিতর্ক। এই দুই স্তম্ভ কে কি ভাবে কাছে টেনে তৃণমূলকে দুর্বল করা যায় তার কৌশল খোঁজে বিরোধীরা। সবাই জানে এই দুই স্তম্ভ হল দুই ম। মুসলিম এবং মহিলা ভোটার। যদিও আমরা কেউ কেউ এক দেশ, এক nation, এক নেতার নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য গলা ফাটাই। আবার কেউ কেউ এর বিরোধিতায় বৈচিত্র্যময় ভারতের ছবি তুলে ধরে প্রতিযুক্তি সাজায়। তবে এই দুই অংশের সমর্থন পেতে যতই শুম্ভ নিশুম্ভ যুদ্ধ চলুক, পরিসংখ্যান বলছে আখেরে তারা যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়েছেন। ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু এদের অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয় না। অথচ পরিবর্তনের নামে সুবিধা বিলোনোর প্রতিযোগিতা চলে। সুবিধা বিলোনোর সেই সব প্রকল্পের গালভরা নাম ও দেওয়া হয়। প্রকল্পের সরণি বেয়ে হাতে কিছু অর্থ আসে। অবশ্যই অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সামাজিক সুরক্ষা, নির্যাতন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার সুযোগ, সুস্থ পরিবেশ, ভদ্রস্থ কাজের সুযোগ, বৈষম্য দূর করা, সু-বেতন অর্থাৎ মানব উন্নয়নের যাবতীয় মাপকাঠিতে এই দুই অংশের পিছিয়ে থাকার কাল আর ফুরোয় না। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়তি যন্ত্রনা হল সমস্যার গলা জলে দাঁড়িয়েও তোষনের অভিযোগে বিদ্ধ হওয়া।শাসক, বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই মনে করে মুসলিমরা যে যেখানেই থাকুন না কেন তাঁরা এক ভাবে চলেন। এক ভাবে ভাবেন। এক ভাবে দিন কাটান। এক ভাবে ভোট দেন। তাই একটা গতিশীল, চিন্তাশীল জনগোষ্ঠীর ভোট ভিক্ষুকদের কাছে পরিচিতি পায় ভোট ব্যাঙ্ক শিরোনামে। তাই এক দেড় দশক আগেও মুসলিম ধর্ম গুরুদের গুরুত্ব বাড়তো। ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা তাঁদের দরজায় পৌঁছে যেতেন। মনে করতেন ধর্ম গুরুরা দাওয়ায় দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়লেই মুসলিমরা দলে দলে গিয়ে তাঁদের নির্দেশ মত রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন। এই ভাবনা থেকেই মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য মুয়াজ্জিমদের জন্য ভাতা বাড়ানো হয়। যদিও ভাতা বাড়ানোর পরে তাঁদের অনেকের উপার্জন কিছুটা কমে গিয়েছে। ভাতা বাড়ানোর পরে কয়েকজন মুয়াজ্জিমের সঙ্গে কথা বলে ছিলাম। হিন্দুদের যেমন বিভিন্ন পুজা পার্বনে, বিবাহে ও শ্রাদ্ধশান্তিতে পুরোহিতের প্রয়োজন পড়ে, মুসলিম সমাজেও তাই। এই সবক্ষেত্রেই যজমানদের দক্ষিণা ধরে দিতে হয়। কিন্তু ওই মুয়াজ্জিমরা জানিয়ে ছিলেন অনেক সময় দক্ষিণা পর্বে তাঁদের শুনতে হয়েছে, সরকার তো তোমাদের ভাতা বাড়িয়েছে তাহলে আমরা আবার দেব কেন? বঙ্গে মুসলিম তোষনের অভিযোগ বাম আমলেও ছিল। অথচ সেই সময় সাচার কমিটির রিপোর্ট মুসলিম সমাজের পশ্চাদপদতার যে ছবি তুলে ধরেছিল তাতে সরকার কে চরম অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। সেই ছবি টা আজও বদলায় নি। অথচ পথে ঘাটে শোনা যায় তোষনের ফলে মুসলিমদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। সত্যিই কি তোষন হয়? বাস্তব অবস্থা কিন্তু উল্টো কথা বলছে। ২০১১ সালের জনগননা বলছে এই রাজ্যে জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ মুসলমান। ২০২১ সালে জনগননার কথা থাকলেও হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান বর্তমানে জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ মুসলমান হতে পারে। সাম্প্রতিক নানা সমীক্ষায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের সংকট বেড়ে চলার ছবি ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কথা হলে বলতেই হয় যে রাজ্যে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ ও কাজের পরিবেশে ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় যদি সত্যিই মুসলিম তোষন হত তাহলে তিরিশ শতাংশ মুসলিম বাকি ৭০ শতাংশের থেকে এগিয়ে থাকতো। মানব উন্নয়নের মাপকাঠিতে কে কোথায় দাঁড়িয়ে তার জানতে সরকারি স্তরে নানান সমীক্ষা হয়। সেই সমীক্ষা গুলির ফল বলছে মানব উন্নয়নের সব মাপকাঠিতেই হিন্দুদের মধ্যে পশ্চাদপদ অংশের থেকেও মুসলমানরা পিছিয়ে রয়েছেন।এই তথ্য আমার মত অর্বাচীনের কল্পনা প্রসূত নয়। জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা, শিশু মৃত্যুর হার, periodic labour force য়ে পরিসংখ্যান হাতের নাগালেই রয়েছে। যে কেউ চাইলেই দেখতে পারেন। সেখানে দেখতে পাবেন, কোনক্ষেত্রেই মুসলমানরা এগিয়ে নেই। বরং হিন্দুদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। অবশ্য একথা বলার উদ্দেশ্য এই নয় যে হিন্দুরা খুব ভালো আছেন। তাঁরাও অত্যন্ত সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারে হিংসা ও বিদ্বেষে গা না ভাসিয়ে সবারই উচিত শাসক, বিরোধী সব পক্ষের কাছেই সার্বিক উন্নয়নের খতিয়ান চাওয়া। যাতে উন্নয়নের মাপকাঠিতে যে সব ঘাটতি রয়েছে তা দূর করার জন্য রাজনৈতিক দল গুলির সঠিক উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়।
অন্ধকারে আলো পড়ুক
নির্বাচন কমিশনের তথ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ও তাদের ভোটদানের হার যতই বাড়ছে ততই নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দল গুলির প্রচারের Focal Point য়ে গুরুত্বপূর্ণ ঠাঁই পাচ্ছেন মহিলারা। এই পরিস্থিতির মাঝে এসেছে বিশ্ব নারী দিবস। শুধু তাই নয় এই দিনটি কে যেন আরো ব্যাঙ্গাত্বক অর্থে দৃশ্যমান করে তুলেছে সন্দেশখালি। সেখানে নারী নির্যাতন-ই মূল অভিযোগ। তার উপর আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছেন মহিলারা। স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দলীয় স্বার্থ মেটানোয় কোনো খামতি রাখছে না। আর সেই আন্দোলনকে ভোঁতা করতে শাসক দল ও কোমর বেঁধেছে। অতএব এক দিকে যেমন নারী নির্যাতন নিয়ে একে অপরের প্রতি বিষোদগার করছে তেমনই চলছে নারী শব্দের বন্দনা। অবশ্যই এই বন্দনা নতুন কিছু নয়। রাষ্ট্রশক্তি থেকে বিরোধী শক্তি যখনই যার প্রয়োজন পড়েছে তখনই সে নারী বন্দনার বান ডাকিয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারে যাতে সেনার যোগান কম না পড়ে তার জন্য জাতীয়তাবাদের মহিমার কাজল পরিয়ে মেয়েদের অধিক সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করেছিল। আর এ বিষয়ে হিটলারের চালু করা মাদারস ক্রস র কথা তো অনেকেরই জানা আছে। যার মূল লক্ষ্য ছিল আদর্শ মা হয়ে ওঠার পাঠের আড়ালে অধিক সন্তান প্রসব করার আহ্বান।তবে পুতিনের অবশ্য আড়াল আবডালের কোনো বালাই নেই। তিনি সরাসরি তীব্র অপছন্দের সোভিয়েত ইউনিয়নের অতীত থেকে মাদার হিরোইন প্রকল্পটি ফিরিয়ে এনেছেন। এই প্রকল্পে যে রুশ নারীরা দশ বা ততোধিক সন্তানের জন্ম দেবেন তাঁরা সন্মানের সঙ্গে দশ লক্ষ রুবল আর্থিক পুরষ্কার পাবেন। সিংহ হৃদয় শাসক যে ইউক্রেন কে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পণ করেছেন। তার জন্য যুদ্ধে অসংখ্য সৈনিক প্রান হারাচ্ছেন। এমনিতে অকুতোভয় দন্ডমুন্ডের কর্তার মনে ভয় ঢুকেছে যদি সেনা কম পড়ে। তাই সেই খামতি মেটাতে এই সন্মান দান। এই স্বার্থসিদ্ধির জন্য মহিলা দলের স্বাস্থের কি হাল হবে তা ভেবে দেখার মতো সময় শাসকদের থাকতে নেই।সন্তান ধারণের জন্য মহিলাদের পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থের কারনে প্রয়োজন দুটি সন্তান প্রসবের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় সময়ের ব্যবধান। এই সমস্যাগুলি নজরে রাখার প্রয়োজন শাসকদলের কোনকালেই নেই। তাই ভোট এলে প্রতিপক্ষ কে বিঁধতে অথবা মহিলা ভোটারদের কাছে টানতে অজস্র কৌশল ব্যবহার করা হয়। তাই মেয়েরা যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে যান। অন্য দিকে, বিশ্ব নারী দিবস ঘিরে বহু সেমিনার, আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়। ভরে ওঠে দিস্তা দিস্তা কাগজের পাতা। ভরে যায় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক। অথচ নারী স্বাধীনতা, নারী শিক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ বা সমানাধিকার সব ই কথার কথা রয়ে যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে India justice report , সেই রিপোর্টে দেখানো হয়েছে লিঙ্গ বৈষম্য কতটা গভীরে পৌঁছেছে। ন্যায় বিচারের জন্য যে প্রতিষ্ঠান গুলি রয়েছে সেই পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা, সংশোধনাগার, লিগাল এড এবং মানবাধিকার কমিশন গুলিতে সময়ের সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্য কমেনি বরং বেড়েছে।India justice report য়ের editor Maja Daruwala Indian express য়ের পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয় লিখেছেন বর্তমানে justice delivery system য়ে গোটা দেশে মাত্র তিন লক্ষ মহিলা রয়েছেন। সংরক্ষণ ব্যবস্থার কল্যানে ওই মহিলার সিস্টেমে ঢুকতে পারলেও পদাধিকারের সিঁড়িতে তাদের অধিকার সেই নিচের ধাপে রয়েছে। রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন বিচার ব্যবস্থায় নিম্ন আদালতে যদি ৩৫ শতাংশ মহিলা থাকেন তাহলে হাইকোর্টে এই সংখ্যা টা ১৩ শতাংশ। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র তিন জন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে constabulary পর্যায় বারো শতাংশ মহিলা রয়েছেন। আর অফিস পর্যায় ওই সংখ্যা টা আরও কম, মাত্র ৮ শতাংশ। এছাড়া প্রিজন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মহিলা কর্মীর সংখ্যা ১৪ শতাংশ।Maja Daruwala লিখেছেন আজ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আসনে কোনো মহিলা বিচারপতি বসেননি। যদিও ১৯৮৯ সালে সুপ্রিমকোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি হন ফাতিমা বিভি। দেশের হাইকোর্ট গুলিতেও এক ই ছবি দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার সাত দশকে মাত্র ষোলো জন মহিলা বিচারপতি হয়েছেন হাইকোর্টে। দেশের মানবাধিকার কমিশনের বিচার্য বিষয় গুলির মধ্যে অন্যতম হলো লিঙ্গ বৈষম্য। কিন্তু সেখানেও একই আঁধার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে রাজ্যে রাজ্যে মানবাধিকার কমিশন গুলিতেও এক ই অবস্থা। এখনো পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে মাত্র তিন জন মহিলা সদস্য হয়েছেন। কমিশনের chair person হওয়া তো দূরের কথা। ঘটা করে বিশ্ব নারী দিবস পালন না করে দেশের আইন প্রণেতারা যদি সত্যিই মহিলাদের উন্নয়ন চান তাহলে এই অন্ধকার কোণগুলিতে একটু নজর দিলে পরিস্থিতি সত্যি ই বদলাতে পারে।
এবার বঙ্গে নানা রঙ
দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লোকসভা নির্বাচন। এবার লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চালচিত্রে অনেক রঙ। শুরুতে নির্বাচনী লড়াই তৃনমূল - বিজেপি এই binary তে ঘুরপাক খেলেও নির্বাচনের মুখে এসে তা কিছুটা ফিকে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সংবাদ মাধ্যমে ভেসে ওঠা খবরের নীচে তাকালে এই ছবিটি ধরা পড়বে। সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রভাবের দিক থেকে পরিসরে ছোট হলেও নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে আই এস এফ। তবে, লোকসভা নির্বাচনের মতো বড় মাঠে তারা কতটা নজর কাড়তে পারবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।যদি তারা রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে কিছুটা টানতে পারে তাহলে তৃণমূলের কপালে দুঃখ আছে। রাজ্যের প্রায় ১২০ টি বিধানসভায় ২০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। ২০০৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে এই ভোট বামপন্থীদের দিক থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করে। ২০১১ র বিধানসভা নির্বাচন থেকে এখনো পর্যন্ত রাজ্যে যে নির্বাচন গুলি হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে সংখ্যালঘু ভোটের প্রায় পুরোটাই কংগ্রেস ও বামেদের থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কেই ইভিএম কে বেছে নিয়েছে। ফলে এই ভোটে ফাটল ধরলে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক আসনই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়বে।বামপন্থীরা ও এবার দাবি করেছে তাদের স্বাভাবিক মিত্র সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ তাদের ঝোলায় ফিরবে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দুহাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন রাজ্যের মহিলারা। ২০১৯-র লোকসভা ভোটে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই ক্ষেত্রেই ভোটাররাই তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিশাল জয় এনে দিয়েছেন।রাজ্যের মহিলা ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখতেই লক্ষ্মীভান্ডার ও কন্যাশ্রীর মত প্রকল্প তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সম্প্রতি, সন্দেশখালির ঘটনায় বিরোধীরা তাই সরকারি এই লোহার ঘরে আঘাত হানাই পাখির চোখ করেছে। রাজ্য বিজেপির ছোট বড় মাঝারি নেতারা পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা নিরাপদ নয় এই প্রচারে যে জোর দিয়েছেন তা সর্বভারতীয় স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রদেশ কংগ্রেস, বামপন্থীরা এবং আই এস এফ ও, এই তিরে তৃণমূল কে বিদ্ধ করা যাবে বলে মনে করছে। গত কয়েক বছর ধরে National Crime Record Bureau র রিপোর্টে মহিলাদের জন্য কলকাতাকে সবচেয়ে নিরাপদ শহর বলা হয়েছে। বিজেপি কে বিঁধতে গেরুয়া শাসিত রাজ্যের তুলনায় এই পরিচিতি কে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্দেশখালির ঘটনা তাই স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।এর পাশাপাশি বিরোধীরা সন্দেশখালির সঙ্গে নন্দীগ্ৰামের ঘটনার মিল রয়েছে বলে প্রচার শুরু করেছেন। তবে এই প্রচারে তৃণমূলের অবশ্য বিশেষ উদ্বেগ নেই। তাঁর কারণ হলো নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুরে যে জন-অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল তা ছিল সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। সন্দেশখালিতে অসন্তোষ কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়, সেখানে মহিলারা পথে নেমেছেন তৃণমূলের স্থানীয় বাহুবলী নেতাদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই কৌশল করে, জোর করে নেওয়া জমি ফিরে পেতে তাঁরা ভূমি রাজস্ব দপ্তরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি, যে তৃণমূল নেতারা সেখানে রাজত্ব চালিয়েছেন তাদের আশ্রয় দাতা হিসেবে পুলিশ কে তুলোধুনা করলেও পুলিশের কাছে তারা অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও প্রশাসনের দারস্থ হওয়ার মধ্যে সরকার বিরোধিতা কতটা রয়েছে তা আগামী দিনে ইভিএম-ই বলতে পারবে। তবে এখনো পর্যন্ত সন্দেশখালির রেশ রাজ্যের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে যা তৃণমূলকে কিছুটা স্বস্তিতে রেখেছে। সন্দেশখালিতে মোট ১৮টি গ্ৰাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত দুটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ছবি দেখা গিয়েছে। তবে তৃণমূল কে অস্বস্তিতে ফেলতে বিজেপি ধারাবাহিক ভাবে সন্দেশখালিকে প্রচারের আলোয় রেখেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্দেশখালি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। এই রাজ্যে মহিলারা তৃণমূলের বাহুবলীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন এই প্রচারই তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে থেকেছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩.৭৩ কোটি। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টিতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে আটটিতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মহিলা ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবারে লোকসভা নির্বাচনের মুখে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিচারপতি পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপি তে যোগ দান। অতীতে সুপ্রিম কোর্টের অথবা হাইকোর্টের বিচারপতি পদ ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে এসে ভোটে দাঁড়ানোর নজির থাকলেও এই রাজ্যে সেই নজির নেই। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন রঙ লেগেছে। তাঁর পক্ষে বিপক্ষে মত প্রকাশ শুরু হয়েছে।সাম্প্রতিক কালে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির মামলায় তাঁর বিচার তাঁকে তুমূল জনপ্রিয়তা দিয়েছে। অনেকেই তাকে প্রকাশ্যে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর এজলাসে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় থাকা অনেক বিচারপ্রার্থী তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও বিরূপ হননি। এই অবস্থায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে বিজেপি যদি প্রার্থী করে তাহলে ভোটযুদ্ধে তাঁর এই জনপ্রিয়তা কতটা ইভিএমে ধরা পড়বে তা দেখার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনো পথ নেই।

