• ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

রাজ্য

রাজ্য

মা সারদা নিয়ে তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

মন্তব্যের পাঁচ দিন পর কড়া জবাব বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের। তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি বলেছিলেন, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে স্বামী বিবেকানন্দর কয়েকজন সতীর্থ মহারাজ মা সারদাকে বলেছিলেন, পরবর্তীতে কালীঘাট মন্দির এলাকায় মনুষ্যরূপে জন্ম নেব। সেই জন্মের পর ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক কাজে যুক্ত হব। রাজনৈতিক কাজকর্মও করব। ওই বিধায়ক আরও বলেছিলেন, সময়, সংখ্যাতত্ত্ব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মা সারদা। কারণ দুর্গাপুজোর অষ্টমী-নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে তাঁর জন্ম। দিদি-ই মা সারদা, দিদি-ই সিস্টার নিবেদিতা, দিদি-ই ঘরের দুর্গা। নির্মল মাজির এই মন্তব্যে চারিদিকে আলোড়ন পড়ে যায়। ভক্তদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছে বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন। তাঁদেরকে ভক্তরা জানিয়েছেন, বিধায়কের ওই বক্তব্যে তাঁরা আঘাত পেয়েছেন।শুক্রবার তৃণমূল বিধায়কের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলে বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন। মঠের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবিরানন্দজি মহারাজ বলেছেন, ওই রাজনৈতিক নেতার উক্তি মা সারদার মর্যাদাকেই ভুলুণ্ঠিত করেছে।স্বামী সুবিরানন্দজি মহারাজ বলেছেন, সম্প্রতি কোনও এক রাজনৈতিক নেতা তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, শ্রী শ্রী মা সারদা দেবী নাকি দেহত্যাগের আগে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বলে গিয়েছেন, তিনি এর পরে মানবী রূপে দক্ষিণ কলকাতায় আবির্ভূত হবেন। তখন তিনি ত্যাগ, তিতিক্ষা, সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে যাবেন। শ্রী শ্রী মাকে নিয়ে রামকৃষ্ণ মঠ-মিশন ও অন্যান্যদের থেকে প্রামাণিক যে যে গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাতে এরকম কোনও তথ্য নেই। তাহলে ওই নেতা কীভাবে এমন অদ্ভুত তথ্য পেলেন কোথায়? কী ভাবে তা প্রকাশ্য সভায় বললেন? তা আমাদের বুদ্ধির অগোম্য।রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সকল সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী অত্যন্ত দুঃখ-ক্ষোভের সঙ্গে মনে করছে ওই নেতার বক্তব্যের দ্বারা আমাদের পরম আরাধ্যা শ্রী শ্রী মায়ের মর্যাদা হানি করেছেন। আমাদের সকলের মায়ের এই অসম্মান আমাদের দুঃসহ বলে মনে হচ্ছে। এই দুঃসাহস যেন আর কেউ না দেখায়।

জুন ৩০, ২০২২
রাজ্য

আদিবাসীদের আন্দোলন স্মরণ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার, জানিয়ে দিলেন সরকার তাঁদের পাশে আছে

সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।

জুন ৩০, ২০২২
রাজ্য

বাংলায় ঝড়ের বেগে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, সংক্রমিত দেড় হাজার ছুঁইছুই

গত ২৪ ঘন্টায় বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। আক্রান্তের সংখ্য়া এখন দেড় হাজার ছুঁইছুঁই। আতঙ্ক ক্রমশ তাড়া করে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ দিন পর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এরাজ্যে হাজার ছাড়িয়ে গেল। গতকাল কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৫৪, করোনায় মৃত্যু হয়নি। এদিন করোনা সংক্রমণের শিকার ১,৪২৪। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃতের সংখ্যা দুই। এদিন ২৯৮ জন সুস্থ আছেন। ১০ দিন আগে ২০ জুন এই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৪। তারপর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। এদিকে মানুষের মধ্যে এখন মাস্ক পরার প্রবণতা নেই। দেশেও ব্যাপক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

জুন ২৯, ২০২২
রাজ্য

'গোপনে সারদা কর্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু, নিয়েছেন টাকা,' গ্রেফতারের দাবি কুণালের

দলের রাজ্য দফতরে নারদের টাকা নেওয়ার ভিডিও দেখিয়ে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের দাবি করেছিল বিজেপি। এবার একই পরথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রধান দফতরে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের বক্তব্য শোনানো হল। সাংবাদিকদের দেখানো হল সুদীপ্ত সেনের চিঠি। এসব দেখিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেফতারির দাবি তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা সারদাকান্ডে অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে অভিযুক্ত নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু চোর, ব্ল্যাকমেলার। সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে নগদে টাকা নিয়েছেন। বিজেপি করছে নিজেকে বাঁচাতে। আগের চিঠিতে সুদীপ্ত সেন লিখেছেন তিনি যখন রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়েছিলেন তখনও শুভেন্দু দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে। বিজেপি অফিসে নারদার ফুটেজ দেখিয়ে গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছিল। তদন্ত শুরু করে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বাদ ছিল শুধু শুভেন্দু।কুণালের দাবি, ৫০ লক্ষ টাকা কাঁথি পুরসভার নামে ব্যাংক ড্রাফটের কথা বলেছেন সুদীপ্ত। শুভেন্দুকে গ্রেফতার করে তদন্ত করতে হবে। তৃণমূল নেতা তাপস রায় সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে শুভেন্দুকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানান। শুভেন্দু ইস্যুতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিশানা করেছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপাল কিসের বিনিময়ে শুভেন্দুকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। যদিও শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেছেন কুণালের কথার তিনি জবাব দেন না।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

আদালতের নির্দেশে মন্ত্রী-কন্যার খোয়ানো চাকরি পাচ্ছেন ববিতা, সঙ্গে আরও সুযোগ

দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল পেলেন চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকার। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতার খোয়ানো চাকরি পাচ্ছেন ববিতা সরকার। এই রায়ে এদিন আদালত চত্বরেই আনন্দে চোখে জল চলে আসে ববিতার। শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ববিতা সরকারকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার। পাশাপাশি বাকি বিষয়গুলিতে অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর্ষদকে।বেআইনি ভাবে মেধাতালিকা থেকে তাঁকে টপকে রাজ্যের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববিতা সরকার। সওয়াল-জবাব, তথ্য়-প্রমাণ খতিয়ে দেখে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতাকে শিক্ষকতার চাকরি থকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এতদিন পর্যন্ত চাকরি করে যে বেতন অঙ্কিতা পেয়েছিলেন তাও ফেরানোর নির্দেশে দেয় আদালত।এদিন অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, নির্লজ্জভাবে অঙ্কিতাকে বেনিয়ম করে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ববিতা সরকারকে চাকরিতে নিযুক্ত করতে হবে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে অঙ্কিতার ফেরত দেওয়া টাকা দিতে হবে ববিতাকে।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল ভাতার, ব্যাপক বোমাবাজি, জখম আট

তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার। শুক্রবার ভাতারের মোহনপুরে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্য়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি চলে। গুলিও চলে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে জখম হয়েছে ৮ জন। ঘটনাস্থলে গিয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আহতদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হালপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এদিন সংঘর্ষের পর মোহনপুর গ্রাম জনমানব শূন্য হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাতার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা যাতে না ঘটে তাই পুলিশি টহল চলছে। বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে ভাতার থানার পুলিশ।বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি জখম আমির মল্লিক জানান, ভাতারের প্রাক্তন বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলের সঙ্গে বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর অনুগামীদের মধ্যে ঝামেলা হয় জমি দখলকে নিয়ে।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

২১ জুলাই সফল করতে শিক্ষকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে কাকলি

কোভিড পরিস্থিতির কারণে পর পর দুবছর ধর্মতলায় ২১ জুলাই শহিদ দিবসে আনুষ্ঠানিক সমাবেশ করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য বছরের মতো ২০২০ ও ২০২১-এ ধর্মতলায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল বক্তব্য রেখেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ফের ধর্মতলায় জনসভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তারই প্রস্তুতি সভা চলছে রাজ্যজুড়ে। বর্ধমান জেলাতেও চলছে মিছিল, মিটিং।শুক্রবার দেওয়ানদিঘীতে বর্ধমান এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে শিক্ষকরা মিলিত হয়েছিলেন শহিদ দিবস সফল করার শপথ নিয়ে। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ব্লক তৃণমূলের সভাপতি কাকলি তা গুপ্ত, তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি আবু বক্কর। হাজির ছিলেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। ছিলেন বর্ধমান এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষরাও। জেলা জুড়ে দেওয়াল লিখন, পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক, মিছিল, মিটিং চলছে ২১ জুলাই সফল করার জন্য।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সভা সফল করতে প্রস্তুতি বৈঠক রায়ানে

আগামী ২৭ জুন বর্ধমানের এগ্রিকালচার ফার্মের ময়দানে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ দিবস। এই দুই অনুষ্ঠানকে সফল করতে বর্ধমান এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি ময়দানে নেমে পড়েছে। দেওয়াল লিখন থেকে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সভা করছে। বৃহস্পতিবার রায়ান অঞ্চলে সভা করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই সভায় বক্তব্য রাখেন বর্ধমান এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কাকলি তা গুপ্ত। এদিন তৃণমূলের কর্মীসভা ছিল ভিড়ে ঠাসা। উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি, ডাঙাপারা অঞ্চলের তৃণমূল সদস্য সেখ জামাল, কার্ত্তিক, রিন্টু, সেখ সিরাজ। কাকলি তা গুপ্ত বলেন, এক দেড়শো নয়, এলাকার সমস্ত মানুষকে নিয়ে এগ্রিকালচার ফার্মে পৌঁছাতে হবে আগামী ২৭ জুন। আমাদের এখানে মুখ্যমন্ত্রীর সভা হচ্ছে। দায়িত্ব অনেক বেশি। ১০০ দিনের কাজে মোদী সরকার বাংলাকে বঞ্চনা করছে। সেই দাবি জোরালো করতে হবে। ২৭ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানে সাজো সাজো রব। ওই দিনই প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

বাংলায় এক ধাক্কায় চমকে দেওয়ার মতো বাড়লো করোনা সংক্রমণ, কপালে চিন্তার ভাঁজ বিশেষজ্ঞদের

ধীরে ধীরে বাড়ছিল করোনা সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার বাংলায় এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়লো করোনা সংক্রমণ। রাজ্যে এদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৫ জন। তার মধ্যে সব থেকে বেশি কলকাতায় প্রায় সাড়ে তিনশো। উত্তর ২৪ পরগণায় আক্রান্তের সংখ্য়া প্রায় আড়াশো। একদিনে প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। পজিটিভিটি রেট ৭.৩০ শতাংশ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কোভিড-এ এদিন কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৯৫।বিগত কয়েকদিন ধরে দেশে সামগ্রিক ভাবে করোনা আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বাংলায় করোনা বৃদ্ধি পেলেও সংখ্যা ছিল নেহাত অনেকটা কম। এদিনের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য, বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে যাঁরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছে তাঁদের বেশিরভাগেরই মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তবে যাঁরা কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট আশঙ্কার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

দেওয়ানদিঘীতে পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন কাকলি তা গুপ্ত

বর্ধমানের দেওয়ানদিঘীতে সর্বসাধারণের জন্য পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। সরাইটিকর গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি রূপায়ন করেছে বর্ধমান রোটারি ক্লাব। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুবিধার্থে এই জল প্রকল্প কাজে আসবে বলে জানিয়েছেন কাকলি তা গুপ্ত। পানীয় জল পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।দেওয়ানদিঘী মোড়ে বহু মানুষের যাতায়াত। এখান থেকে অনেকেই দূরদূরান্তের বাসে যাতায়াত করেন। নানা কাজে দেওয়ানদিঘী এলাকায় বহু সাধারণ মানুষের আনাগোনা। তীব্র গরমে পথিকদের স্বার্থে এই পানীয় জলপ্রকল্প খুবই উপযোগী, বলেন বিডিএ-র চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। ব্যক্তিগত ভাবে এই প্রকল্প রূপায়নের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ডা. গোলাম মহম্মদ, বর্ধমান ১-এর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিরূপ ভট্টাচার্য।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

মহারাষ্ট্রের সঙ্কট-ছায়া বাংলায় দেখছেন শুভেন্দু অধিকারী

মহারাষ্ট্রে মহাসঙ্কটে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে সরকারের। সরকার ভাঙার মুখে। সঙ্কটে শিবসেনা-কংগ্রেস-এনসিপিজোট। নির্বাচনে জোট হয়েছিল শিবসেনা ও বিজেপির মধ্যে। কিন্তু তারপর বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বিরোধীদের হাত ধরে সরকার গঠন করেছিল শিবসেনা। এই দলের অধিকাংশ বিধায়ক এখন বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি বাংলায় হবে বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। রাজ্য দুবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। ওখানে সুপ্রিকোর্ট বলছে সব তো ২ মে-র পরের ঘটনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন বলে মামলা। তাই ভাইপো ও ভাইপোর বউকে ডাকলো বলে মামলা। ওসব নাটক খাটবে না। এরপরই শুভেন্দু মহারাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, দেখতে থাকুন। মহারাষ্ট্র হয়ে গিয়েছে, ঝাড়খন্ড হবে এবার বাংলা হবে।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

নতুন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত গলসি, নজর রাখছে জেলা নেতৃত্ব

নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং তার জেরে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ ঘিরে তেতে উঠেছে গলসি ১ ব্লকের রাজনৈতিক পারদ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে তাতে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা বড় বিপদে পড়তে পারে শাসক তৃণমূল। এমনকি ওই ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম শিকেয় উঠতে পারে।রাজনৈতিক মহলের দাবি, দিন দুয়েক আগে শাসকদলের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে দলেরই কোন্দল রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ না করে তৃণমূল পরিচালিত গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেন ওই সমিতিরই সদস্য-সদস্যাদের একাংশ, বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ সহ খোদ সভাপতি রোকেয়া বেগমও। যদিও লিখিত কোন অভিযোগ নেই। তবে তাঁদের দাবি, ঠিকাদার কোন কাজ না করেই দুদফায় কাজের অনুমোদিত সমস্ত অর্থ তুলে নিয়েছে। আর তা হয়েছে ঠিকাদার অনুপবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে। আর এই অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গলসির রাজনীতি। কিন্তু সেই সব অভিযোগ উড়িয়ে অনুপবাবুর পাল্টা দাবি, যা হয়েছে সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে দলের ভাবমূর্তি, প্রাশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছেন অভিযোগকারীরা। কিন্তু, দলের জেলা নেতৃত্ব জানেন কোথায় কি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গলসি ১ ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও তার তীব্রতা সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে গত এক মাসধরে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের আদিগোষ্ঠীর পরিবর্তে নতুন গোষ্ঠী মাথা চড়া দিয়েছে ওই ব্লকে। ফলে দিন যত যাচ্ছে ততই নতুন গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশে চলে আসছে। এলাকায় কোন গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার করবে, তা নিয়েই নতুন গোষ্ঠী-বিরোধ। যার এক দিকে রয়েছেন ব্লক তৃণমূল প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা সহ সভাপতি জাকির হোসেন এবং তাঁর অনুগামীরা। অন্য দিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্রোপাধ্যায় ও তাঁর গোষ্ঠী।স্থীনায় সূত্রে খবর, গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতিতে আধিপত্য রয়েছে অনুপবাবুর। আর সভাপতি রোকেয়া সহ বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ আর সদস্য রয়েছেন জাকিরের দিকে। কিন্ত এমনটা ছিল না। মাস পাঁচেক আগেও জাকিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিল অনুপ। আর তাঁদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল দলের ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের। এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের ওই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছে। তারই জেরে মারপিট, পার্টি অফিস ভাঙচুর, বোমাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠছে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই লড়াইয়ে তিতিবিরক্ত ছিলেন। কিন্ত নতুন করে জাকির আর অনুপের কোন্দল দলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান সফরের আগেই গলসির এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব ঘুম ছুটিয়েছে জেলা নেতৃত্বের।কিন্তু কেন এমন হলো?রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাকির আর অনুপের দূরত্ব বেড়েছে পারাজ-শিল্ল্যা রোডের উপর পঞ্চায়েত সমিতির টোল নিয়ে। তাঁদের দাবি, ওই টোল নিজের ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য উঠে-পরে লেগেছিলেন জাকির হোসেন। কিন্তু, পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ম মেনে দরপত্র ডেকে দেওয়াতে তা হয়নি। এরপর যত দিন গড়িয়েছে ততই দূরত্ব বেড়েছে জাকির আর অনুপের। সম্প্রতি পারাজে কাঠের সেতুর উপর টোল আদায় বন্ধ করেছে প্রশাসন। যে কাঠের সেতুর উপর অবৈধভাবে টোল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জাকিরের অনুগামীদের বিরুদ্বে। এই টোল আদায় বন্ধ করার পেছনে অনুপ কলকাটি নেড়েছে বলে মনে করছেন জাকিরের অনুগামীরা। ফলে জাকির আর অনুপের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের ভেঙে দেওয়া গলসি ১ ব্লক সভাপতি পদে দুজনই দৌড়ঝাঁপ করছেন। আর সেই দৌড়ে অনুপকে পেছনে ফেলতে জাকির গোষ্ঠী অনুপ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে কাজের আগে টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেনে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।জেলাস্তরে এক নেতার বক্তব্য, গলসির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি খাদান চালানো, বৈধ বালি খাদান থেকে টাকা তোলার অভিযোগ ছিলই। তারপরে নতুন করে এমন সব অভিযোগ আসছে যা দলকে ভাবিয়ে তুলছে। তবে দল এইসব বেনিয়ম বরদাস্ত করবে না। আগামীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তৃণমূলের জেলা শীর্ষ জানিয়ে দিয়েছে।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

বিজেপির বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষর মহামিছিল

বাংলা পক্ষ বঙ্গভঙ্গ চক্রান্তের বিরুদ্ধে কলেজ স্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মহামিছিল করল। মিছিলে হাজার হাজার বাঙালি উপস্থিত ছিল। বাংলার উত্তর দিকের জেলাগুলোকে বাংলা থেকে ভাগ করে আলাদা রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার চক্রান্ত করছে বাংলা ও বাঙালির শত্রু বিজেপি-আরএসএস। এরই প্রতিবাদে কলেজষ্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় পর্যন্ত এক মহা মিছিল সংগঠিত করে বাংলা পক্ষ।মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. গর্গ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস, মনন মণ্ডল, শোয়েব আমিন, অমিত সেন, কালাচাঁদ চট্টোপাধ্যায়, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, হাওড়া জেলার সম্পাদক জয়দীপ দে, হুগলী জেলার সম্পাদক দর্পণ ঘোষ, উত্তর চব্বিশ পরগণা শহরাঞ্চলের সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তর চব্বিশ পরগণা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশিষ মজুমদার, বাঁকুড়ার জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য নাথ, পূর্ব বর্ধমানের সম্পাদক জুয়েল মল্লিক, পূর্ব মেদিনীপুরের সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত, বাংলা শ্রমিক পক্ষর অভিজিৎ কুন্ডু প্রমূখ।গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বাংলা ভাগের চক্রান্ত ব্যর্থ করবোই। বাংলা পক্ষর মিছিল থেকে প্রমাণ হল বাঙালি জেগে গেছে। এবং বিজেপি চক্রান্ত করছে আমার মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় জন্য, বাংলা থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। বিজেপি বাংলা থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে পারে কিন্তু আমার হৃদয় থেকে বাংলাকে সরাতে পারবেনা। তিনি আরও বলেন, একটি জাতিকে দুর্বল করে দেওয়ার সবথেকে সহজ উপায় হল তার মাতৃভূমিকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া। ভূমিপুত্রদের ঐক্য ধ্বংস করে দেওয়া। জাতি হিসাবে বাঙালি টুকরো টুকরো হলে লাভ বাঙালি বিদ্বেষীদের। বাংলার উত্তরের জেলাগুলো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলে গোটা এলাকার জমি, অর্থব্যবস্থা, পুলিশ সবই কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি করে ভূমিপুত্রদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের নিজের মাতৃভূমি থেকে বেদখল করে, তাদের জমি দোকান সম্পত্তি রাখার অধিকার কেড়ে নিয়ে ইউ পি -বিহার-ঝাড়খণ্ড-রাজস্থান থেকে বহিরাগত ঢুকিয়ে এলাকার ভূমিপুত্রদের ওপর অত্যাচার চালাবে। উত্তরের জেলাগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ তুলে দেবে তাদের পছন্দের গুজরাট, রাজস্থানের পুঁজিপতিদের হাতে। সেখানে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন করে দেওয়া হবে বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের।কৌশিক মাইতি বলেন, গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের উপর আঘাত হানলে বাংলার প্রতিটি জেলা বাংলার প্রতিটি ঘরে প্রতিবাদের আগুন জ্বলবে। তিনি আরও বলেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার জল বাংলাদেশে পাঠিয়ে বাংলার উত্তরের জেলাগুলোকে শ্মশানে পরিণত করতে চায়। বাংলার সরকার রাজি না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বাংলার উত্তরের জেলাগুলোকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে পারলে দিল্লি তিস্তার জল সহজেই বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে। এখনও পর্যন্ত এই চক্রান্ত আটকে রেখেছে বাংলার সরকার। কিন্তু বাংলা ভাগ হলে উত্তরের জেলাগুলোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আর বাংলার সরকারের হাতে থাকবে না। বিপন্ন হয়ে যাবে উত্তরের জেলাগুলোর বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের অস্তিত্ব।বাংলা পক্ষ প্রথম দিন থেকে বিজেপির এই বঙ্গভঙ্গ চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এর আগে গোর্খাল্যান্ড তৈরি করে বাংলাকে দু-টুকরো করার ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি-আরএসএস। সেই সময়ও বাংলা পক্ষ গোটা রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ, পথ সভা প্রতিবাদ সংগঠিত করেছিল।

জুন ১৯, ২০২২
রাজ্য

কিডনি বেচে অভাবের সংসার চালাতে ফেসবুকে পোস্ট বর্ধমানের যুবকের, শোরগোল শহরজুড়ে

করোনা শুধু জীবন কাড়েনি, বেঁচে থাকলেও তার রসদ ছিনিয়ে নিয়েছে। করোনা আবহে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের পেশা, কাজ হারিয়ে গিয়েছে। অভাব-অনটন বেড়েছে লাখো লাখো সংসাসারে। এবার বেঁচে থাকার তাগিদে সোশাল মিডিয়ায় কিডন বিক্রি করার আবেদন জানালেন বর্ধমান শহরের প্রতিবন্ধী যুবক। তাঁর এই পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে। বর্ধিষ্ণু শহরের হলটা কী! শেষমেশ কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন একেবারে প্রকাশ্য়ে। তবে জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে।নিজের কিডনি বিক্রি করবে বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বর্ধমানের টিকরহাটের ভাড়া বাড়িতে থাকা প্রতিবন্ধী যুবক সম্রাট গোস্বামী। যুবকের পরিবারের রয়েছে স্ত্রী ও এক সন্তান। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন সম্রাট। পরে কম্পিউটারে কোর্স করে সম্রাট একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটা অপারেটরের কাজে যোগ দেন। লকডাউনের সময়ে সেই কাজ চলে গিয়েছে। সেই থেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সম্রাটের পরিবার। এমনকী অন্নসংস্থানের জন্য লোকের বাড়িতে পরিচারিকারকাজ শুরু করেছেন সম্রাটের স্ত্রী মণীষাদেবী। মণীষা জানিয়েছেন, তিনি দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে পান মাত্র ২৪০০ টাকা। অথচ বাড়ি ভাড়া মেটাতে হয় তিন হাজার টাকা। এরপর রয়েছে খাওয়া ও অন্যান্য খরচ।সম্রাট এদিন বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক চেষ্টা করেও রোজগারের পথ খুঁজে পাইনি। তা নিরুপায় হয়ে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আশা একাটাই, ক্রেতা মিলে গেলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে রুটি রুজি জোগাড়ের একটা পথ তৈরি হবে। মণীষার আবেদন, সরকার বা কোনও সহৃয় ব্যক্তি তাঁর স্বামীর একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা বেঁচে যাবে।সম্রাটের বোন বনশ্রীও কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, লকডাউনে আমাদেরও কাজ চলে গিয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থআকি{ শুনেছি কিডনি বিক্রি করলে মোটা টাকা পাওয়া যায়। তাই আমার স্বামী ও আমি দুজনেই কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার প্রক্রিয়া বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলে বুঝতে পারি আমরা প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছি। তাই আর কিডনি বিক্রি করা হয়নি। আমাদের পরিবারও বহু কষ্টে আছে। ভাই সোশাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির পোস্ট করেছে। কিন্তু চাইলেই তো আর কিডনি বিক্রি করা হবে না, ক্রেতাও তো পেতে হবে। তাছাড়া ভাই মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ। সেদিকটাও মাথায় রাখতে হবে।সম্রাট ও বনশ্রীর বাবা মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরসভার কর্মী ছিলেন। সঙ্কটে সেই পুরসভাও পাশে দাঁড়ায়নি। অভিযোগ, এক হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সামান্যই। তাই ছেলে বউয়ের মুখ চেয়ে এখন সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনির ক্রেতা খুঁজছেন সম্রাট। বিষয়টি জানার পর ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমা শাসক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন,আইন মেনে পরিবারটিকে সমস্ত রকম সাহায্য করা হবে।

জুন ১৯, ২০২২
রাজ্য

এসএসসি দুর্নীতিঃ সময়ের আগেই প্রথম কিস্তির টাকা জমা মন্ত্রীকন্যা অঙ্কিতার

আদালতের নির্দেশে আগেই মন্ত্রীকন্যা চাকরি খুইয়েছেন। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দুই কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার। নির্দিষ্ট তারিখও জানিয়ে দিয়েছিল আদালত। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। শুক্রবার অঙ্কিতা আদালতে জানিয়েছেন, সময়ের আগে দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও দিয়ে দেবেন। উল্লেখ্য, সময়ের আগেই দিয়েছেন প্রথম কিস্তির টাকা।রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলছে কলকাতা আদালতে। একইসঙ্গে একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্ত চলছে। এরইমধ্যে মে মাসে এসএসসি চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকারের দায়ের করা মামলায় চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন অঙ্কিতা অধিকারী। মন্ত্রী কন্যা ৪১ মাস যা বেতন পেয়েছেন তা দুই কিস্তিতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা করতে নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিস্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল ৭ জুন ও ৭ জুলাই। মন্ত্রী কন্যা এদিন আদালতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিয়েছেন। গত ৬ জুন ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা অঙ্কিতা ফেরত দিয়েছেন।

জুন ১৭, ২০২২
রাজ্য

এবার তৃণমূলের শহিদ দিবস ধর্মতলায়, বিশেষ গুরুত্ব উত্তরবঙ্গকে

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরের বছরে একুশে জুলাই শহিদ দিবস ভার্চুয়ালি আয়োজন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ফের ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করবে ঘাসফুল শিবির। উত্তরবঙ্গের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে তৃণমূল। দল চাইছে উত্তরবঙ্গ থেকে আরও কর্মী-সমর্থক ওই দিন ধর্মতলায় আসুক।তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত ২ বছর করোনা আবহে আমরা এই অনুষ্ঠান করতে পারিনি। যদিও ভার্চুয়ালি মিটিং হয়েছে। কোনও জনসমাগম করা হয়নি। এবার ২১ জুলাই পথ চলায় কর্মীদের দিক নির্দেশ দেবেন মমতা। এই দিনটা আগে আয়োজন করতো যুব কংগ্রেস তারপর তৃণমূল কংগ্রেস।সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবার শহিদ দিবসে আরও বেশি করে সারা দেশ তাকিয়ে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে আরও বেশি কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হতে পারেন তার ওপর জোর দিতে হবে। জেলায় জেলায় স্লোগান তুলতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শুনতে ধর্মতলা চলো। এবার আগের থেকেও রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হবে। ভিন রাজ্য থেকেও প্রতিনিধিরা আসবে।এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২১ জুলাই আয়োজনের প্রস্তুতি বৈঠক হয়। উত্তরবঙ্গে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর ২০২১ বিধানসভা ভোটেও দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। একজন সাংসদও নির্বাচিত হয়নি ঘাসফুল শিবিরের। আলিপুরদুয়ার জেলায় একজন বিধায়কও নেই তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২১ জুলাই উত্তরবঙ্গকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২১ জুলাই উপলক্ষ্য়ে কেউ যেন চাঁদা না তোলে। তাহলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে দল।

জুন ১৭, ২০২২
রাজ্য

আজব ঘটনা! পেটের ভিতরে ২৫০টি পেরেক সঙ্গে ৩৫টি কয়েন, বর্ধমান হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে সুস্থ মইনুদ্দিন

এক আধটা নয় পেটের মধ্য়ে ছিল ২৫০টি পেরেক। শুধু পেরেক খেয়ে সন্তুষ্ট ছিল না ওই ব্যক্তি। পেরেকের সঙ্গে মিলল ৩৫টি কয়েনও। এই নিয়ে দিব্বি চলাফেরা করছিলেন মইনুদ্দিন। তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় খুশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। অপারেশনের পর সুস্থ রয়েছেন মঙ্গলকোটের কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাসিন্দা সেখ মইনুদ্দিন(৩৮)।জানা গিয়েছে, সেখ মইনুদ্দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা করান। শনিবার সকাল থেকে খাবারে কোনও রুচি আসছিল না মইনুদ্দিনের। ফলে কোনও কিছুই খাচ্ছিলেন না মইনুদ্দিন। পরিবারের লোকজন চিন্তায় পরে যান। মঙ্গলবার বর্ধমান শহর সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের এক চিকিৎসকের কাছে মইনুদ্দিনকে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। ওই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বুধবার সকালে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। চিকিৎসকরা এক্স-রে করে তাঁকে ভর্তি করেন।বুধবার রাতে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিতসকরা। বুধবার রাতে অপারেশন করে তাঁর পেট থেকে এক এক করে ২৫০ টি পেরেক বেরিয়ে আসে। সঙ্গে ৩৫ টি কয়েন ও বেশ কিছু পাথর-কুচি বের হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর আপাতত তিনি সুস্থ আছেন। এই অপারেশন বর্ধমান হাসপাতালের এক অভুতপূর্ব সাফল্য বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের সুপার ডা. তাপস ঘোষ।

জুন ১৬, ২০২২
রাজ্য

গাড়ি ভাঙছে, গাড়ি পুড়ছে, আইন-শৃঙ্খলা হাতের বাইরে, সেনা নামানো হোকঃ শুভেন্দু

বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র নুপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে এদিনও হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ জারি ছিল। প্রতিবাদ কার্যত তান্ডবে পরিনত হয়। গাড়ির পর গাড়ি ভেঙে-পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উলুবেড়িয়ায় বিজেপির কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ডোমজুর থানা আক্রান্ত হয়েছে। এই ঘটনা সামলাতে সেনা নামানোর আর্জি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।গতকাল, বৃহস্পতিবার হাওড়ায় জাতীয় সড়কে অবরোধের জেরে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল। এদিন রীতিমোত তান্ডব চালায় বিক্ষোভকারীরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। গতকাল অবরোধের ফলে রাস্তায় সন্তান প্রসব করার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদের নামে বিশৃঙ্খলা চলছে। যা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কেন রাজ্য সরকার প্যারামিলিটারি ও মিলিটারিকে নামাল না। আমি সিপিএমের সব কথার নিন্দা করেও বলব, রিজানুরের সময় মিটিলারি ডেকে তৎকালীন মুখ্যসচিব মানুষের সম্পত্তি রক্ষা করেছিলেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, উলবেড়িয়াসহ হাওড়ায় কয়েকশো গাড়ি ভাঙা হয়েছে, গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। গোটা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে রাজ্যপালকে একাধিক ভিডিও পাঠিয়েছি। টুইট করেছি। এখন ইমেল করে আর্মি নামিয়ে মানুষের জীবন সম্পত্তি রক্ষা করতে অনুরোধ করেছি। বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষই বিজেপি। তৃণমূলের উসকানি আছে। বিজেপির জেলা কার্যলয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এসএসসি দুর্নীতির অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জুন ১০, ২০২২
রাজ্য

গুরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রতর দেহরক্ষীকে গ্রেফতার, আরও জেরা করে নতুন তথ্য পেতে চায় সিবিআই

গরুপাচার মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিবিআই গ্রেফতার করল তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে। এর আগে তাঁকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গিয়েছে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অনুব্রতর দেহরক্ষীকে। সূত্রের খবর, পাশাপাশি তাঁর বয়ানে অসঙ্গতিও মিলেছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সঞ্জীব দাঁয়ের সঙ্গে নিজাম প্যালেসে হাজির হন সায়গল। জিজ্ঞাসাবাদের কিছুক্ষণের মধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সায়গলের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ফের নিজাম প্যালেসে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সায়গলকে আসানসোল সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে। সিবিআই সূত্রের খবর, অনুব্রতর এই দেহরক্ষীর নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমির দলিল রয়েছে। তাঁর যে সম্পত্তি রয়েছে তার সঙ্গে বেতনের কোনও সামঞ্জস্য নেই বলেই সূত্রের খবর।সায়গলকে এই নিয়ে ৫ বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এমনকী তাঁর মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাড়িতে গত সপ্তাহে সিবিআই হানা দিয়েছিল। সেখানে তল্লাশিও চালিয়েছিল সিবিআই। সেদিন বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা। গরুপাচার কাণ্ডে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সায়গলের নাম উঠে এসেছিল। তদন্তকারারীরা মনে করছে সায়গলকে জেরা করে আরও নতুন তথ্য় উঠে আসবে। যাতে তদন্তের অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি তাঁর কাছে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির উৎস কী তাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই।এর আগে গরুপাচার কাণ্ডে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। হাজিরা দেওয়ার আগে দীর্ঘ দিন এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ণ ওয়ার্ডে ভর্তিও ছিলেন অনুব্রত। এই মামলায় ইতিমধ্যে এনামুল হক, বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমারকে গ্রেফতারও করেছে সিবিআই। ফের অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআই।

জুন ০৯, ২০২২
রাজ্য

রাতের কলকাতায় রোদ্দুর, পরিতাপের কোনও ছাপ নেই চোখে-মুখে

ইউটিউবার রোদ্দুর রায়কে কলকাতায় নিয়ে আসা হল। এদিন রাতে দিল্লি থেকে কলকাতার বিমানে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে গতকাল কলকাতার গুন্ডা দমন শাখার পুলিশ গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে, আগামীকাল ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাঁকে তোলা হবে। তবে রাতে দমদম এয়ারপোর্টে নামার পরও তাঁকে উচ্ছ্বস করতে দেখা যায়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য রোদ্দুর রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই কলকাতা পুলিশ তৎপর হয়। শেষমেশ কলকাতার গুন্ডাদমন শাখা গোয়া থেকে রোদ্দুরকে গ্রেফতার করে। এদিন ট্রানজিট রিমান্ডে রোদ্দুর অর্থাৎ অনির্বাণ রায়কে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। এর আগে বিকৃত গলায় রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন রোদ্দুর রায়। তাছাড়া নানা সামাজিক ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি সোশাল মিডিয়ায় নিজের কায়দায় মতবাদ তুলে ধরেন। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর কলেজে পড়াশুনা রোদ্দুরের। সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ রোদ্দুর। শেষমেষ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের পর আর রেহাই মিলল না তাঁর।

জুন ০৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 110
  • ...
  • 200
  • 201
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal