দীপাবলির আনন্দের বদলে বাঁকুড়ার শালবনি গ্রামে এখন শুধুই শোকের ছায়া। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে ভয়াবহ তুষারধসে প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামের তিন যুবক। তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি রতন ঘোষের। তিন বন্ধুর দেহ নিয়ে আত্মীয়রা গ্রামে ফিরছেন। সঙ্গে ফিরছে পাশের কেশরা গ্রামের মনোজ খাওয়াসের দেহও। তবে রতনকে ছাড়া গ্রামে ফেরার দুঃখ যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে সকলের কাছে।
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর কেদারতাল ট্রেক রুটে তুষারধসের কবলে পড়েছিলেন বাঁকুড়ার পাঁচ যুবক। তাঁদের মধ্যে চার জন শালবনি গ্রামের বাসিন্দা। অন্য জন ছিলেন পাশের কেশরা গ্রামের। দুর্ঘটনার পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। তল্লাশির পর শালবনির রিন্টু মণ্ডল, উদয় ঘোষ এবং তাপস বাউরির দেহ উদ্ধার হয়েছে। কেশরা গ্রামের মনোজ খাওয়াসের দেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শালবনির রতন ঘোষের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
উদ্ধার হওয়া যুবকদের দেহ নিয়ে বাঁকুড়ার পথে রওনা হয়েছেন তাঁদের আত্মীয় ও গ্রামের বাসিন্দারা। একসঙ্গে পাহাড়ে যাওয়া বন্ধুদের মধ্যে তিন জনের দেহ ফিরছে গ্রামে। কিন্তু রতন কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। রতনকে ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন গ্রামের মানুষও।
উত্তরকাশীর দুর্গম কেদারখড়ক এলাকায় এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। জাতীয় পর্বতারোহণ সংস্থা এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০ সদস্যের একটি যৌথ দল রতনের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে। তুষারধসের পর ওই এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বরফ জমে রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ চালাতে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে দলকে।
তিন যুবকের দেহ উদ্ধারের পর শালবনি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। কিন্তু সেই শোকের মধ্যেও রতনের ফেরার আশায় পথ চেয়ে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসীরা। উদ্ধারকারীরা যদি তাঁকে খুঁজে পান, সেই আশাতেই এখনও অপেক্ষা করছে গোটা গ্রাম।
- More Stories On :
- Bankura
- Ratan
- Uttar Kashi
- Snow strom
- Dead

