ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইন এখনও পুরোপুরি মেরামত হয়নি। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পূর্ব রেলের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার রাতের মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ করা হবে। শনিবার সকাল থেকে ফরাক্কার আপ লাইনে ফের স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চলাচলের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকাল পর্যন্ত কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।রেল সূত্রে খবর, মাটি নরম থাকার কারণেই মেরামতের কাজে বেশি সময় লাগছে। ফলে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রেলকর্মীদের।এরই মধ্যে ফরাক্কা রেললাইন বিপর্যয়ের জেরে শুক্রবার একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও বদলে দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। শনিবারও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।শনিবার বাতিল করা হয়েছে নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি বিশেষ ট্রেন, গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, বামনহাটি-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, জোগবনী-কলকাতা এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং সহর্ষ-শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও বদল করা হয়েছে। কাটিহার, মানসি, মুঙ্গের ও কিউল হয়ে চালানো হচ্ছে মালদহ টাউন-নিউ দিল্লি এক্সপ্রেস, ভাতিন্ডা-বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেস এবং উধনা-মালদহ টাউন বিশেষ ট্রেন।নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া ও ব্যান্ডেল হয়ে চালানো হচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস এবং কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস।অন্য দিকে, নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ ও নলহাটি হয়ে চালানো হচ্ছে বালুরঘাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, আগরতলা-চারলাপল্লি এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস এবং তাম্বারাম-নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস।রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা। ট্রেনের পরিবর্তে এখন সড়কপথই অনেকের কাছে প্রধান ভরসা। ফলে বাসে যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বাসের ভাড়াও।পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে অতিরিক্ত ২৩টি বাস নামানো হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে ১৮টি বাস চলছে। দুর্গাপুর-বালুরঘাট রুটে আরও দুটি বাস দেওয়া হয়েছে। মালদহ-কলকাতা রুটেও পাঁচটি বিশেষ বাস চালানো হচ্ছে।সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাঁরা রওনা হবেন, তাঁদের জন্য কলকাতার এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে শিলিগুড়ির এনজিপি বাস টার্মিনাস পর্যন্ত বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই পরিষেবা থাকার কথা।তবে ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইন কবে পুরোপুরি মেরামত হবে এবং কবে থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী দুর্ভোগ আরও কত দিন চলবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।