এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট পিঙ্কি প্রামাণিক যোগ দিলেন বিজেপিতে। রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
- More Stories On :
- BJP
- Pinky Pramanik
- Dilip Ghosh
- এশিয়ান গেমস
- সোনা,
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০০:২৪:১১
শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০০:২৮:০০
Written By: জনতার কথা অ্যাডমিন
পিঙ্কি প্রামাণিক যোগ দিলেন বিজেপিতে
এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট পিঙ্কি প্রামাণিক যোগ দিলেন বিজেপিতে। রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বুধবারের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিধানসভার সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে গেল। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষও খুলে দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ঋতব্রতের হাতে।বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান। আরও দুই বিধায়ক রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই হিসেবে তৃণমূল পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই এখন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।নতুন বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন যে, বিধানসভায় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সমর্থনের চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।তবে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ঋতব্রত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।ঋতব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখাও। তিনি বলেন, সরকারের ভুলের সমালোচনা যেমন করা হবে, তেমনই জনস্বার্থে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করা হবে। তাঁর কথায়, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করব।এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ, এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত শিবিরের দাবি মেনে নেওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।অন্যদিকে, যখন বিধানসভায় ঋতব্রত নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই সময় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হারানো শুধু সাংগঠনিক ধাক্কাই নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কতটা স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায়, তার উপর।
বীরভূম জেলা তৃণমূলে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি। একের পর এক নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা দলীয় অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের পর এবার জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কোর কমিটির সদস্যপদই নয়, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত আশিসবাবু কখনও প্রকাশ্যে দলবিরোধী অবস্থান নেননি। তাই তাঁর এই পদক্ষেপকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।প্রাক্তন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি দল ছাড়ছেন না। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ কর্মীর ভূমিকায় ফিরে যেতে আগ্রহী তিনি।উল্লেখযোগ্যভাবে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, অভিজিৎ সিংহ যে কারণ দেখিয়ে কোর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গেই একমত। কয়েকদিন আগেই অভিজিৎ সিংহ অভিযোগ করেছিলেন, বীরভূম জেলা কোর কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং সংগঠনের কাজে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সেই অভিযোগ ঘিরে তখনই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এরপর কোর কমিটির আর এক সদস্য কাজল শেখও প্রকাশ্যে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিতর্ক থামার আগেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূম দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলাতেই যদি কোর কমিটির সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাহলে তা জেলা সংগঠনের ভিতরে গভীর সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্তরে তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগ ও সাংগঠনিক অসন্তোষের খবর সামনে আসার আবহে বীরভূমের ঘটনাপ্রবাহকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম রাজনীতির এক পরিচিত নাম। বামফ্রন্টের শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ২০০১ সালে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা প্রায় পঁচিশ বছর ওই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় দেখা গিয়েছিল।এদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, এটা কেবল শুরু। যাঁরা এতদিন চুপ ছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।সব মিলিয়ে, অভিজিৎ সিংহ, কাজল শেখ এবং এবার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বীরভূম জেলা তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের স্রোত ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এখন রাজ্য নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতারি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগকে সামনে এনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক হিংসার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার পিছনে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তার পরদিনই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলিকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে আক্রান্ত নেতার পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে উসকে দিয়ে বিজেপি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের নামে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামাচ্ছে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক বিরোধিতাকে দমন করতে রাজনৈতিক হিংসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের ঘটনা এত ঘনঘন ঘটতে পারে কি না।সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলা বরাবরই সৌজন্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে হিংসা, ভয় দেখানো বা গুন্ডামির কোনও স্থান নেই। তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে। সেই আবহেই তাঁর এই বার্তা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে তিনি মহিলা শাখার জাতীয় সভাপতির পদ-সহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় ভালো তৃণমূল নিয়ে। ইস্তফাপত্রে কাকলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছেন। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং দলের ওপর ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার বিবেক গভীরভাবে পীড়িত।আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে সেখানে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান কাকলি। তবে সাংগঠনিক পদ ছাড়লেও আপাতত দল ছাড়ছেন না তিনি। সাধারণ কর্মী হিসেবেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ।উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলীয় আপত্তি উপেক্ষা করে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এর মধ্যেই তাঁর ইস্তফা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।