যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (FETSU)-এর সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এসএফআই-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র সদস্যদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ফেটসু (FETSU)-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত। সভায় কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন, বহিরাগতদের প্রবেশ এবং সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের আকার নেয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওগুলিতে কয়েকজনকে তালা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করতে এবং স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের একাধিক জায়গায় আগুন জ্বালানো, ইট-পাথর ছোড়া এবং হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা ও ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট পৃথকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর যাদবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বজায় থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। এবিভিপি-র দাবি, সাধারণ সভার নাম করে এসএফআই, DSO-DSF-সহ বামপন্থী সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তাঁদের উপর হামলা চালান। সংগঠনের অভিযোগ, তাঁদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, DSO-র পাল্টা অভিযোগ, এবিভিপি-ই বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিয়ে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। Revolutionary Students' Front বা RSF-এর সদস্য অভিনব দাসের অভিযোগ, FETSU-এর সাধারণ সভায় এবিভিপি এবং NSF বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে এসেছিল। সেই নিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাঁর দাবি।
DSO রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ও এবিভিপি এবং RSS-এর একাংশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন লাগানো এবং পড়ুয়াদের গালিগালাজ ও হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে আহত পড়ুয়াদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দেখতে KPC মেডিক্যাল কলেজে যান বিধায়ক শার্বরী মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখান এবিভিপি-র কয়েকজন সদস্য। সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কীভাবে পরিস্থিতির অবনতি হল, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিল এবং বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য—তা নিয়ে এখনও পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আসছে।
- More Stories On :
- Jadavpur
- GB Meeting
- ABVP
- SFI

