• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

রাজ্য

রাজ্য

তৃণমূলের বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের, সেদিন কি হয়েছিল শ্মশানে?

আরজি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিবিআই। আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে যখন নির্যাতিতার মৃতদেহ সোদপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখন মৃতদেহ শ্মশানে পোড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল নির্মল ঘোষ। এমনই বেশ কিছু ছবি আগেই সিবিআই এর হাতে এসে পৌঁছেছিল তখন থেকেই সিবিআইয়ের নজরে ছিল নির্মল ঘোষ। যার জন্য বারবার ঘোলা থানার আইসিকে তলব করা হয়েছিল। তিনি গড়হাজির ছিলেন। এরপরই একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে সিবিআই। তারপরেই তলব।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছাত্রীর

কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন এক ছাত্রী। এমনই অভিযোগ উঠেছে রানিগঞ্জের ত্রিবেনীদেবী ভালোটিয়া কলেজ কমার্সে। অভিযোগ, ওই ছাত্রী কলেজে প্রথমবর্ষের ভর্তি হতে এসেছিলেন। ভর্তি হওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে টাকা চায় কয়েকজন। পরে কলেজ চত্বরে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে শ্লীলহানি করে। মেয়ের সঙ্গে হওয়া এমন ঘটনা জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা-মা কলেজের টিচার ইনচার্জ মিলন মুখোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। টিচার ইনচার্জ জানিয়েছেন, তিনিও ওই অভিযোগপত্র পাওয়ার পরে থানায় যোগাযোগ করেন। গোটা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে ৮ মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ এক

টানা ৩৬ ঘণ্টা লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না। শুক্রবার মাঝ রাতে বঙ্গোপসাগরে টর্নেডোর মধ্যে পড়ে ডুবে গিয়েছিল মৎস্যজীবীদের একটি ট্রলার। শেষমেশ কাকদ্বীপের ডুবে যাওয়া ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার ৮ মৎস্যজীবীর দেহ। অন্যদিকে, নিরঞ্জন দাস নামে এখনও এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।এফবি গোবিন্দ নামে ওই ট্রলারে মোট ৯ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। শুক্রবার দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সকলেই। শনিবার সকালে খবর পেয়েই ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধারের জন্য কাকদ্বীপ থেকে রওনা দিয়েছিল বেশ কয়েকটি ট্রলার। অবশেষে অনেক সমস্যা, বাধা বিপত্তি কাটিয়ে রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় উদ্ধারকাজ

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ড, ময়নাতদন্ত নিয়ে ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছিল কে?

আরজি কর কাণ্ডে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিনের প্রফেসর অপূর্ব বিশ্বাসের। তাঁর অভিযোগ, ময়নাতদন্ত করার ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর চাপ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার রাতের মধ্যেই যদি ময়নাতদন্ত না হয় তাহলে রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন নির্যাতিতার এলাকার কোনও এক প্রাক্তন কাউন্সিলর। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন আজ রাতের মধ্যেই ময়না তদন্ত করতে হবে। প্রায় সাড়ে ছঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই দফতর থেকে বেরোনোর সময় জানালেন অপূর্ব বিশ্বাস।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

আজ বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কোথায় কি নিয়ে বৈঠক?

ডিভিসির ছাড়া জলে পুজোর আগে প্লাবিত হয়েছে পূর্ব বর্ধমান সহ বাংলার আটটি জেলা। তাই বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা কবলিত বিভিন্ন জেলায় পৌছে গিয়ে পরিস্থিতি সরজমিনে চাক্ষুষ করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা করে বন্যা করা হয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন। এমনকী ডিভিসির কমিটি থেকে রাজ্যের দুই আধিকারিক পদত্যাগ করেছেন। এই জল ছাড়া নিয়ে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গন্ডগোলের জল গড়িয়েছিল বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার বর্ধমানে বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত ও প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়েই জেলা পুলিশ ও প্রশানের তৎপরতা এখন তুঙ্গে উঠেছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ কর্মসূচী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বর্ধমান জেলায় আসছেন। এই খবর রবিবার বেলায় জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তরে এসে পৌঁছায়। তারপরই শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি। জরুরী বৈঠকে বসেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিকেলে জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ। বিদুৎ দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা গৌতম দত্তও বৈঠক করেন। সম্প্রতি, ডিভিসি জল ছাড়ায় পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম প্রয়াত

প্রয়াত প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম। শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি, ভুগছিলেন কিডনির অসুখে। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন সাংসদ। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ৬২ বছর বয়সি কুনার হেমব্রম ২০১৯ সালে ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি বিজেপি। ফলে দল ছেড়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই যোগদান নিয়ে বলেছিলেন, ভেবেচিন্তেই দল বদল করেছেন। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের প্রশংসা করে তাঁর এও বক্তব্য ছিল, জঙ্গলমহলে রাজ্য সরকার যা কাজ করেছে, যে উন্নয়ন করেছে তার তুলনা হয় না। সেই কুনার শনিবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৪
রাজ্য

ভুয়ো কল সেন্টার খুলে লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি, এবার হাওড়ায়

এবার হাওড়ায় ভুয়ো কল সেন্টার খুলে প্রতারণা চক্রের হদিস। গোয়েন্দা পুলিশের জালে ২ প্রতারক। ধৃতদের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, বেশ কিছু সংখ্যক চেক বই, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, রাউটার, মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য সামগ্রী। কলকাতার বাগুইআটি থেকে ধৃতদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছিল। অভিযোগকারী ব্যক্তি ৫৮ লক্ষ টাকা আমানত করে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়। সাইবার ক্রাইম থানার পাশাপাশি কেস হাতে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। প্রতারকদের গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত চলছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে এসিপি ডিডি এবং ডিসি নর্থ এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৪
রাজ্য

অডিও ক্লিপ কাণ্ডে আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য, সিপিএমের যুবনেতা কলতানের জামিন

অডিও ক্লিপ কাণ্ডে আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সিপিএম যুবনেতা কলতান দাশগুপ্তের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণ শুনানির পর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ বাম যুবনেতাকে ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন দেয়। আদালতের নির্দেশ, আদালতের অনুমতি ছাড়া এই সংক্রান্ত মামলায় কলতানকে গ্রেফতার করা যাবে না। হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়ে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন আদালত পুলিশকে প্রশ্ন করে, ফোনে কথোপকথনের যে রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে কলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি কোথা থেকে পেল পুলিশ। কোথা থেকে এই অডিও রেকর্ডিং এল তা খোঁজ নিয়েছে কি পুলিশ। উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, কলতান না বলেননি। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ জানতে চান, যে পেনড্রাইভ পুলিশের কাছে এসেছে এবং যেখান থেকে এসেছে সেই সোর্সকে কি জেরা করা হয়েছে?বিচারপতি এদিন আরও প্রশ্ন করেন, কলতানকে গ্রেফতার করার আগেই একজন রাজনীতিবিদ (তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ) কী করে অডিও ক্লিপের বিষয়টি সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন। সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে একটানা ধরনা-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। ডাক্তারদের সেই ধরনায় হামলার ছক কষা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। রাজ্য সরকার ও শাসকদলকে অপদস্থ করতেই বিরোধীরা এই হামলার ছক কষেছিল বলে দাবি করেছিলেন কুণাল। সাংবাদিক সম্মেলন করে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল নেতা। কুণালের দাবি ছিল, ফোনের এক পাশে যিনি রয়েছেন তাঁর নামের প্রথম অক্ষর স, ফোনের অন্য পারে থাকা ব্যক্তির নামের প্রথম অক্ষর ক।কুণালের এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা সঞ্জীব দাস নামে একজনকে। পরদিনই গ্রেফতার সিপিএমের যুবনেতা কলতান দাশগুপ্ত। DYFI-এর মুখপাত্রের সম্পাদক কলতান। কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য এই তরুণ নেতা।এদিন আদালতে রাজ্য জানায়, গত ৫ মাসে কলতান এবং সঞ্জীবের মধ্যে ১৭১ বার ফোনে কথা হয়েছে। ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩৪ বার কথা হয়েছে। আদালতে রাজ্যের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই ঘটনায় কলতান কৃষ্ণ এবং সঞ্জীব অর্জুনের ভূমিকা পালন করেছেন। মাথা ফাটানোর প্রশ্নের উত্তরে না বলেননি কলতান। সাহেব, বাপ্পা এবং দাদুকে খুঁজে বের করে আরও জেরা করা প্রয়োজন।দুপক্ষের শুনানির পর এদিন রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। পরে কলতানকে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেয় হাইকোর্ট। আদালতের অনুমতি ছাড়া এই সংক্রান্ত মামলায় কলতানকে গ্রেফতার করা যাবে না।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৪
রাজ্য

বন্যা পরিস্থিতি দেখে কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

আর্ত মানুষের পাশে আজীবন থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়েই রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলাম। আজ আমার রাজ্যবাসীর একাংশ বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিপদের সম্মুখীন। কাল আমি হুগলির পুরশুড়া, গোঘাট-আরামবাগ এলাকা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে গিয়েছিলাম। এছাড়াও বীরভূমের বন্যা কবলিত এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখেছি। আজ, পাঁশকুড়া, রাতুলিয়ার বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখলাম এবং সেখানকার স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করলাম। আমাদের প্রশাসন দিবারাত্রি তাঁদের পাশে আছে। যাঁদের শস্যের ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা শস্য বীমার টাকা পাবেন। এখন আমি উদয়নারায়ণপুরের পথে। এই বছর কোনও আলোচনা ব্যতীত প্রায় পাঁচ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, যার জন্য দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটি একটি ম্যান ম্যাড বন্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।আমি প্রথমদিন থেকে এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। দুর্গতদের পাশে থাকতে আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ত্রাণ পরিষেবা চালু আছে। প্রত্যেক পরিবার যেন ত্রাণ পরিষেবা পায়, তা সুনিশ্চিত করেছি। কোনও একজন মানুষেরও ক্ষতি যেন না হয় সেটি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৪
রাজ্য

ফের নবান্নের সঙ্গে বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকরা, চলছে লাগাতার কর্মবিরতি

এবার নবান্নে রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক জুনিয়র ডাক্তারদের। আজ মুখ্য সচিবের সঙ্গে আলোচনা আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের। পাঁচ দফা মধ্যে চার ও পাঁচ নম্বর দাবির ওপর জোর দিয়েই আজকের এই বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে। এদিকে রাজ্যের তরফে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা বেজে ১৫ মিনিটে নবান্নে পৌঁছান জুনিয়র ডাক্তারদের ৩০ জনের প্রতিনিধিদল। থ্রেট কালচার থেকে শুরু করে হাসপাতালে ডাক্তারদের নিরাপত্তাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে আজকের এই বৈঠকে। এর আগে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বৈঠকে ডাক্তারদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যসচিবের তরফে করা ইমেলেও দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজ যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এদিন বৈঠকে যাওয়ার আগে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সেখানে বলা হয়েছে রাজ্য সরকার আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার করেছে। সরানো হয়েছে স্বাস্থ্য, পুলিশ আধিকারিকদের। অভয়ার বিচারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টেও লড়ে চলেছি আমরা। সিবিআইও আমাদের চাপের কারণেই টালা থানার ওসি ও সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলিতে স্বাস্থ্যকর্মীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমরা কাজে ফিরতে ভয় পাচ্ছি। এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে বলা হয়, উপরোক্ত দাবি পূরণ না হলে কাজে ফিরতে পারব না তাও আমরা সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাইছি প্রতিটি মেডিকেল কলেজে রেস্ট রুম , বাথরুম, প্যানিক বোতাম, নারী পুলিশ কর্মী মোতায়েন করতে হবে। কলেজ ভিত্তিক টাস্ক ফোর্স গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রোগী পরিষেবাকে উন্নত করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মী নিয়োগ, হাসপাতালের পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। জনমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি কলেজে থ্রেট কালচারকে বন্ধ করতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। কমিটি গঠন করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিসরকে বিস্তৃত করতে হবে হাউসস্টাফ নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে সওয়াল করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করার পর বুধবার সকালেই মুখ্যসচিবকে ই-মেল করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ই-মেলে তাঁরা উল্লেখ করেন, তাঁদের দাবির কয়েকটি বিষয় এখনও সমাধান হয়নি। সেই দাবি সমাধানের আশাতেই মেল করেছেন আন্দোলনকারীরা। ই-মেলে তাঁরা রাজ্য সরকারের তরফে ইতিবাচক উত্তরের আশায় রয়েছেন বলে লেখেন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪
রাজ্য

বীরভূমে নদীতে উল্টে গেল স্পিড বোট, কোনওমতে প্রাণরক্ষা সাংসদ, বিধায়কসহ প্রশাসনিক কর্তাদের

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনের কর্তারা। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের লাভপুরে।স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, দুই সাংসদ, বিধায়ক সহ মোটব১৩ জন চেপেছিলেন স্পিড বোটে। প্রশ্ন উঠছে সেফটি জ্যাকেট না নিয়ে কেন স্পিড বোডে চড়লেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।জানা গিয়েছে, তিনদিনের অতি বৃষ্টিতে বীরভূমের লাভপুরে কুয়ে নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে নদী সংলগ্ন বলরামপুর গ্রাম সম্পূর্ণ ভেসে যায়। পাশেপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। ওই গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সেই সমস্ত গ্রামের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বুধবার এলাকা পরিদর্শনে যান জেলা শাসক বিধান রায়, জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহাসহ সহ মোট ১৩ জন। সেফটি জ্যাকেট ছাড়াই একটি স্পিড বোর্ডে তাঁরা দুর্গত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা বোর্ডটি কুয়ে নদীতে উল্টে যায়। জেলা পুলিশ সুপার ছাড়া সকলেই নদীতে পরে যান। উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সকলকে উদ্ধার করা হয়।নদী থেকে উঠে সাংসদ অসিত মাল বলেন, হঠাৎ নদীর স্রোতে স্পিড বোর্ড উল্টে যায়। আমি সাঁতার জানতাম। কিন্তু জলের স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটতে পারছিলাম না। এরপর একটা গাছের ডাল ধরে ঝুলতে থাকি। কিছুক্ষনের মধ্যেই উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে এলাম।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডের জের, নতুন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, বদলি স্বাস্থ্য দফতরেও

গতকাল জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে বিনীত গোয়েলকে সরানেরা কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো সরানো হল তাঁকে। কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হচ্ছেন মনোজ ভার্মা। ১৯৯৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার মনোজ ভার্মাকেই বিনীত গোয়েলের জায়গায় কলকাতা পুলিশের দায়িত্বে অনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন মনোজ ভার্মা। সেই সঙ্গে নতুন ADG হলেন জ্ঞানবন্ত সিং। স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ADG পদে যাচ্ছেন বিনীত গোয়েল।গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে কলকাতা পুলিশের দায়িত্বে নতুন কাউকে আনা হবে। সেই মতো মনোজ ভার্মাকে কলকাতা পুলিশের নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে। ১৯৯৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার মনোজ ভার্মা। তিনি রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) পদে নিযুক্ত ছিলেন। এর আগে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার তিনি পুলিশ কমিশনার।দক্ষ পুলিশকর্তা হিসেবে বরাবরই নিজের পরিচয় দিয়েছেন মনোজ ভার্মা। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে উত্তাল পরিস্থিতির সময় এই মনোজ ভার্মাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সাল পর্যন্ত দার্জিলিংয়ের আইজি ছিলেন মনোজ ভার্মা। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ফি দিনের গন্ডগোল সামলানোর দায়িত্বও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মনোজ ভার্মার কাঁধেই সঁপেছিলেন। এবার কলকাতা পুলিশের দায়িত্বে আনা হল দুঁদে এই আইপিএস অফিসারকে।অফিসারকে। বিনীত গোয়েলকে পাঠানো হয়েছে এডিজি STF পদে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও এসটিএফে কাজ করেছেন বিনীত গোয়েল। নতুন এডিজি আইবি হলেন জ্ঞানবন্ত সিং। DC নর্থ অভিষেক গুপ্তকেও বদলি করা হয়েছে। EFR সেকেন্ড ব্যাটেলিয়নের CO পদে আনা হয়েছে তাঁকে। অভিষেক গুপ্তর জায়গায় নতুন DC নর্থ দীপক সরকার। এডিজি (আইশৃঙ্খলা) পদে আনা হল জাভেদ শামিমকে। আরজি কর কাণ্ডের জেরে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের চাপে বদল স্বাস্থ্য দফতরেও। পুলিশের পাশাপাশি জুনিয়ার ডাক্তারদের দাবি মেনে সরিয়ে দেওয়া হল স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে। কৌস্তভ নায়েককে সরিয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তা পদে আবা হয়েছে স্বপন সোরেনকে। সেই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস হালদারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা পদে থাকা দেবাশিস হালদারকে বদলি করা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য স্পেশাল অফিসার অন ডিউটি পদে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা পদে থাকা কৌস্তভ নায়েককে ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারে অধিকর্তা পদে পাঠানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী ও জুনিয়র চিকিৎসক বৈঠক: সরছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার, বদল হচ্ছে দুই স্বাস্থ্য শীর্ষ কর্তা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠক হয়েছে দীর্ঘক্ষণ ধরে। বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ৪টের মধ্যে ৩ টে দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে যোগ দিতে আবেদন জানানো হয়েছে। ১১টা ৪৬ মিনিটে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা বলেন, আমাদের ৫ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু জিনিস নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা ধরনা মঞ্চে গিয়ে বলবো। সব বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছায়নি দুপক্ষ। তাঁরা জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজি রাজীব কুমার সহ আরও সরকারি আধিকারিক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কি বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?আমাদের বৈঠক চলেছে দীর্ঘক্ষণ। ৪২ জন জুনিয়র চিকিৎসক স্বাক্ষর করেছেন। ওদের বক্তব্য রাখতে দিয়েছি। অভয়ার উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বৈঠক শুরু হয়। বদলের জন্য ৩ টে নাম দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। ডিএমই ও ডিএইচএসকে সরানো হবে। চিকিৎসকদের তাঁদের প্রতি ক্ষোভ আছে। তবে তাঁদের অসম্মান করি না। আগামিকাল ৪ টের পর পুলিশ কমিশনার বদল করানো হবে। আরও কিছু পুলিশের রদবদল করা হবে। বিনীত যেখানে কাজ করতে চেয়েছে সেখানে ওকে দেওয়া হবে। ওদের ৪টে দাবির মধ্যে ৩ টে দাবি মেনে নিয়েছি। হাসপাতালের পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৈঠক পজিটিভ হয়েছে বলে আমি মনে করি। নিশ্চয় ওরাও তাই মনে করে। তাই মিনিটসে স্বাক্ষর করেছে। আমি ওদের বলেছি মানুষের স্বার্থে কাজে যোগ দাও। এদিকে ডিভিসি জল ছাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে রাজ্যর কিছু এলাকায়। আমাদের না জানিয়ে আজ সকালে ৮০-৯০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী ও জুনিয়র চিকিৎসকের বৈঠক শেষ, জট কি কাটলো?

আগামিকাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে বৈঠক হল। বৈঠকে কি জট কাটলো? জানা গিয়েছে, জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নানা টালবাহানার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হল আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই বৈঠক হয়। বৈঠক চলে প্রায় ২ ঘন্টা। এর আগে বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিং দাবি করেছিল জুনিয়র চিকিৎসকরা। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে তাই লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব নয় বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন। পরে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের। কিন্তু তাও ধোপে টেকেনি। শেষমেশ মিটিংয়ের আলোচনার মিনিট দেওয়া হবে এই শর্তে বৈঠকে বসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার টালা থানার ওসি

টালা থানার ওসি অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করলো সিবিআই। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরজি কর প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল সন্দীপ ঘোষকে এই মামলাতেও গ্রেফতার করল সিবিআই। এর আগে দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তিনি এখন জেল হেফাজতে আছেন। এর আগে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল টালা থানার ওসিকে। মাঝে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪
রাজ্য

কালীঘাটে এখনও বৈঠক শুরু হয়নি, ভিডিওগ্রাফিতে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা

জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। লাইভ স্ট্রিমিং না হলেও ভিডিওগ্রাফির দাবি করছে জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রশাসন ভিডিওগ্রাফি করবে, সেক্ষেত্রে জুনিয়র চিকিৎসকরা ভিডিওগ্রাফির দাবি জানিয়েছে। এই জটিলতায় বৈঠক আটকে আছে। সেখানে কাক ভেজা হয়ে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা স্বচ্ছতার জন্য ভিডিওগ্রাফি চাইছেন।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪
রাজ্য

জুনিয়র চিকিৎসকদের ধরনা মঞ্চে গিয়ে কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিষেধ থাকা সত্ত্বেও আমি ছুটে এসেছি। কাল সারারাত ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। আমিও রাতে ঘুমোতে পারিনি। আমারও কষ্ট হয়েছে। আমি নিজে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছি। আমি যখন এসেছি কাজ করবই। অনেক কষ্ট পেয়েছেন আপনারা। আপনাদের দাবিগুলো নিয়ে আমি কথা বলব। আপনাদের দাবিগুলি আমি ভাবব, আমি চিন্তা করব। দোষী শাস্তি পাবেই। সিবিআইকে অনুরোধ করব যত তাড়াতাড়ি বিচার হোক। তিন মাসের মধ্যে তারা যেন ফাঁসির অর্ডার দেয়। আপনাদের প্ল্যাটফর্ম থেকেই সিবিআইকে অনুরোধ জানাব।আমাকে একটু সময় দিন। আমার উপর যদি ভরসা থাকে আমি কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। আমার পোস্টটা বড় কথা নয়। মানুষের পোস্টটাই বড় কথা। আপনারা এত কষ্ট করে ঝড় জলে রয়েছেন। আপনাদের পরিবারও কষ্টে রয়েছে। আপনারা কাজে যোগ দিন। আপনাদের প্রতি আমি কোনও অবিচার করব না। হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি। সব হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতিতে অধ্যক্ষদের চেয়ারম্যান করব। সদস্য হিসেবে, জুনিয়র-সিনিয়র ডাক্তার, নার্স ও একজন পাবলিক রিপ্রেসেন্টেটিভ থাকবেন এবং পুলিশও থাকবে। আরজি কর মেডিকেল কলেজ সহ সব মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম। আপনাদের বাদবাকি যা দাবি আছে যদি সত্যি কেউ দোষী হয় তারা শাস্তি পাবে। দোষীরা আমার বন্ধু নয়। আমি চাই তিলোত্তমা বিচার পাক। এই খুনের সাথে ও দুর্নীতির সাথে কেউ জড়িত থাকলে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। কথা বলে ব্যবস্থা নেব। আমি আপনাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেব না। উত্তর প্রদেশ পুলিশ স্ট্রাইক, মিছিল বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি এসব করব না। কোনও ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আমি বিরুদ্ধে। আপনারা চাইলে কাজে যোগ দিন। ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। আমি যখন আপনাদের ধরনামঞ্চে আসতে পেরেছি ভরসা করলে বাদ বাকিটাও আমি আস্তে আস্তে করে দেব।দুর্নীতির একটা টেন্ডার কেসও আমার কাছে আসেনি। কোনও রোগী করলেন সমিতি কি কাজ করে সেটা আমার কাছে আসে না। আপনাদের অভিযোগ থাকলে তদন্ত করব, সাজাও দেব। ১৭ তারিখ কেসের ডেট আছে সুপ্রিম কোর্টে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে আসিনি। আমি আপনাদের দিদি হিসেবে বলতে এসেছি। আপনাদের আন্দোলনকে কুর্নিশ জানাই। আপনাদের আন্দোলনের আমিও সমব্যথী ও সমসাথী। অনুরোধ করছি আমার কথা শুনুন।যে যা খাবার দিচ্ছে সব খাবারটা খাবেন না। হ্যাঁ জাস্টিস হবে। আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। সিপিএমের সরকার একদিনের জন্যও কথা বলতে আসেনি। তা সত্ত্বেও আমি এখন এসেছি। আপনাদের আবারও আবেদন বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। আমার এটা লাস্ট চেষ্টা আপনাদের জন্য করে গেলাম। অবিচার হবে না আপনার বিচার পাবেন, এটুকু আমি বলতে পারি। আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪
রাজ্য

জুনিয়র চিকিৎসকদের ধরনা অবস্থানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সল্টলেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন আগে নবান্নে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল জুনিয়র চিকিৎসক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এদিন সল্টলেকে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। সহমর্মিতা প্রকাশ করেন মমতা। কাজে ফেরার আবেদন জানান। আপনাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জুনিয়র চিকিৎসকদের জানান। বলেন, তিলোত্তমার বিচার হোক। ৩ মাসে শাস্তি দিক সিবিআই, যেন ফাঁসির আদেশ হয়।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে সঞ্জয়ের নার্কো টেষ্টের অনুমতি দিল না আদালত

আরজি কর কাণ্ডে নার্কো টেস্টে রাজি হল না ধৃত সঞ্জয় রায়। ধৃত সঞ্জয় রায়ের নার্কো টেস্ট করাতে চেয়ে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয় CBI। তবে সঞ্জয় নার্কো পরীক্ষা করাতে রাজি না হওয়ায় সিবিআইয়ের আবেদন মঞ্জুর করেনি শিয়ালদহ আদালত। আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ধৃত সঞ্জয় রায়ের নার্কো পরীক্ষার আবেদন করে সিবিআই। এর আগে সঞ্জয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেই সময় ওই হাসপাতালের প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল সন্দীপ ঘোষ সহ আরও কয়েকজনের পলিগ্রাফ টেষ্ট হয়। সমস্ত পলিগ্রাফ টেস্টের রিপোর্ট দিল্লি পাঠানো হয়েছে। সিবিআই সূত্রের দাবি, এর আগে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় সঞ্জয় যে প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছে, সেগুলি সঠিক কিনা তা জানতেই এবার নার্কো পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল সিবিআইয়ের তরফে।শুক্রবার সঞ্জয় রাজি না থাকায় নার্কো পরীক্ষায় সায় দেয়নি শিয়ালদহ আদালত। আরজি কর মেডিক্যালে চিকিৎসক খুনে সঞ্জয় ছাড়া এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। ইতিমধ্যেই সঞ্জয় রায়ের লালারস ও কামড়ের নমুনা কিংবা টিথ ইম্প্রেশন সংগ্রহ করেছে সিবিআই।তরুণী চিকিৎসকের শরীরে যে কামড়ের দাগ মিলেছে, সেগুলির সঙ্গে ওই কামড়ের নমুনা এবং লালারস মিলিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। আপাতত সঞ্জয় রায়ের কামড়ের নমুনা সংগ্রহ করে তা কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৪
রাজ্য

কর্মবিরতির জন্য বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ২৯, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের, দাবি রাজ্য সরকারের। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ঘোষণা করেছেন, মৃত ২৯ জনের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। মমতা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। যার ফলে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকার ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করছে। ২৯ জন মৃতের পরিবারকে ওই টাকা দেওয়া হবে।রাজ্যের অভিযোগ, ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে বহু মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৯। তবে রাজ্যের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী ডাক্তাররা। তাঁদের দাবি, কোনও হাসপাতালেই চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়নি। সিনিয়র চিকিৎসকরা পরিষেবা দিচ্ছেন। বাড়তি পরিশ্রম করছেন। কোথাও বিনা চিকিৎসায় রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে না।পাল্টা তাঁদের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশাতেই এমনতিই বহু মানুষ প্রতিদিন উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে মারা যান। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই আন্দোলনকারীদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে রাজ্য সরকার। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কর্মবিরতিকে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 56
  • ...
  • 200
  • 201
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’, সৌরভের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু আজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার থেকেই বাংলার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বিগ বস বাংলা। তবে এবারের আকর্ষণ শুধু প্রতিযোগীদের নিয়ে নয়। এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সঞ্চালকের আসনে। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই এবার দেখা যাবে বিগ বস বাংলার মুখ হিসেবে। প্রায় এক দশক পর বাংলায় ফিরছে অনুষ্ঠানটি।সৌরভের কাছে অবশ্য এই দায়িত্ব একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু বিগ বস-এর চরিত্র আলাদা। এখানে শুধু হাসি-ঠাট্টা বা প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা নয়, প্রতিদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মতবিরোধ, আবেগ, কৌশল এবং মানসিক চাপ, সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়াতে হবে সঞ্চালককে। সেই জায়গাতেই সৌরভের উপস্থিতি এবারের শোকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।এই খেলায় ব্যাট হাতে রান করার সুযোগ নেই। নেই প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ে নেওয়ার সুবিধাও। বরং একই ছাদের নীচে থাকা একাধিক মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সমীকরণই হয়ে উঠবে মূল আকর্ষণ। কে বন্ধুত্বকে কাজে লাগাবেন, কে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন, কে চাপের মুহূর্তে ভুল করবেন, সেটাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।শোয়ের নির্মাতারা প্রতিযোগীদের পরিচয় নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া জগতের একাধিক নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা জানার জন্য দর্শকদের নজর থাকবে আজকের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে।স্টার জলসা এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচারিত হবে এই নতুন অধ্যায়। ফলে আজ রাত থেকেই বোঝা যাবে, দাদা কি পারবেন ক্রিকেটের মাঠের মতোই টেলিভিশনের এই জটিল খেলাতেও নিজের ছাপ রাখতে? উত্তর খুঁজতেই আজ পর্দার সামনে বসবে বাংলা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেওয়ালে লেখা ছিল বিতর্কিত স্লোগান, রাত পেরোতেই সব সাদা! যাদবপুরে হঠাৎ কেন বদলে গেল ছবি?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগান লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু লেখা ছিল, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। শুক্রবার যাদবপুরের আট বি এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের লেখালিখির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তার পরের রাতেই কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হয়।যাদবপুরের মুক্তমঞ্চের দেওয়ালে আগে একাধিক রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি লেখায় সশস্ত্র হিংসার পক্ষে বক্তব্য এবং মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ। সেই লেখাগুলি ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।ভারতীয় জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে নানা ধরনের স্লোগান লেখা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন লেখা থাকার পরেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সংগঠনের এক প্রতিনিধি একটি দেওয়াল দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে কমরেড কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা ছিল। পরে সেই লেখাটিও মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তার পরেই শনিবার রাতে কয়েকটি দেওয়ালে সাদা চুনকাম করতে দেখা যায়।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখা যায়। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লিখছেন, না কি বাইরের কেউ এসে লিখছে, তা সব সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। পড়ুয়াদের লেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি বলে তাঁর দাবি।বিতর্কিত লেখাগুলি কে লিখেছিল, কখন লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাতারাতি কয়েকটি লেখা মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal