বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনে একাধিক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবকে সরানো নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে কমিশনের আর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। কমিশন এবার কারা দফতরের ডিজি পদেও নতুন নিয়োগ করেছে। সেই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে।
সাধারণত ভোটের সময় নির্বাচন কমিশন পুলিশ বা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে বদল করলেও কারা দফতরে খুব একটা হস্তক্ষেপ করে না। তাই এবার হঠাৎ কারা দফতরের ডিজি পদে কমিশন নিজে থেকে কাউকে নিয়োগ করায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।
জানা গিয়েছে, ভোটের দিন ঘোষণার আগে রাজ্যের কারা দফতরের ডিজি ছিলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। পরে নির্বাচন কমিশন তাঁকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কারণে কারা দফতরের ডিজির পদ খালি হয়ে যায়। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই অবস্থায় চাইলে রাজ্য সরকারই নতুন ডিজি নিয়োগ করতে পারত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিজেই সেই পদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত কয়েকটি নির্বাচনে জেল থেকে অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছেও পৌঁছায়। কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল রাজ্যে এসেছিল। তখনও এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানানো হয় বলে জানা গেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সেই অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। অনেকের মতে, সেই কারণেই হয়তো কারা দফতর নিয়ে এবার সরাসরি পদক্ষেপ করল কমিশন।
নটরাজন রমেশ বাবুকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি উনিশশো একানব্বই সালের আইপিএস আধিকারিক। এর আগেও নির্বাচন কমিশনের ভরসা পেয়েছিলেন তিনি। দুই হাজার উনিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁকেই বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে কারা দফতরের ডিজি করা হল। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি বরাবরই কমিশনের আস্থাভাজন আধিকারিক? এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
- More Stories On :
- Election Commission
- West Bengal
- Assembly Election

