নতুন করে আইনি চাপে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করল রাজ্য। ফলে অভিষেকের আইনি সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই মামলাগুলি করা হচ্ছে। আদালতে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১৬টি এফআইআরের কথা জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ।গত অগস্ট মাসে অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। গত ২৫ অগস্ট আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছিল, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হবে। ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা পেয়েছিলেন তিনি।তবে হাইকোর্টের সেই নির্দেশে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাজ্য সরকার। নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এর পরেই হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য।রাজ্যের বক্তব্য, অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি যথেষ্ট গুরুতর। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তদের জন্য আলাদা আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারতেন অভিষেক। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে তিনি কেন রক্ষাকবচ চেয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।রাজ্যের আরও যুক্তি, একাধিক এফআইআরকে একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে সুরক্ষা চাওয়া যায় না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আলাদা করে আইনি পদক্ষেপ করা উচিত। কোনও অভিযুক্তকে একাধিক মামলায় একসঙ্গে সাধারণ বা সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া যায় না বলেও দাবি রাজ্যের।শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীপাবলির ছুটির পর আদালত খুললে মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এখন শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।হাইকোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচ বহাল থাকবে, নাকি রাজ্যের আবেদনে সেই নির্দেশে কোনও পরিবর্তন হবে, তা স্পষ্ট হবে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরেই।