• ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

খেলার দুনিয়া

খেলার দুনিয়া

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল গ্রিজম্যান-ময় হয়ে উঠলো। কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ফ্রান্স

কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ভবিষ্যতবানী করতে গিয়ে সবাই যখন এমবাপে-কে নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, সে ধারণা ভুল প্রমান করেদিলেন অ্যান্টোইন গ্রিজম্যান। বুধবার মাঠে ফ্রান্সের হয়ে তিনি কি করলেন না? নিজেকে উজার করে দিয়ে দলকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন। চোরা দৌড়, নিখুত ট্যাকল। সময়মত বাধা, ডিফেন্স চেরা পাস।আল বায়েত স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের হয়ে একটি চিত্তাকর্ষক ম্যচ খেললেন গ্রিজম্যান। মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে তাঁরা ফাইনালে আর্জেন্টিনা-র মুখোমুখি। গ্রিজম্যান বুধবারের খেলায় উভয় পেনাল্টি এলাকায় - এবং মাঠের সমস্ত অংশে তার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।আজকের ম্যাচ যেন একটি প্রবল প্রতিভাধর খেলোয়াড়ের প্রদর্শনী ছিল, যিনি এই বছরের বিশ্বকাপে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। এখন গ্রিজম্যান-র বড় দায়িত্ব বার্সেলোনায় তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ লিওনেল মেসিকে রবিবারের মহারণে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে আটকানোর।গ্রিজম্যান ২০১৪ বিশ্বকাপে একজন উইঙ্গার হিসাবে খেলেছিলেন, তারপরে ২০১৮ তে ফ্রান্সের বিশ্বজয়ের মূল কারিগর ছিলেন, ২০১৮ তে তিনি ৪টি গোল করেন। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রিজম্যানের মূল দায়িত্ব মাঝমাঠে। যেখানে বিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার সাথে সাথে দলের হয়ে আক্রমণ শুরু করার দায়িত্বও তাঁকে নিতে হচ্ছে।Griezmannkante, চূড়ান্ত বাঁশি বাজানোর পর পল পগবা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রশংসা করে লিখেছেন। পোগবা এবং এনগোলো কান্তে (NGolo Kante), এরা প্রধানত মাঝমাঠে বিপক্ষের পা থেকে বল উদ্ধারের জন্য ফ্রান্সের প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। ফ্রান্সের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ী দলের মাঝমাঠের হৃদয় ছিলেন এবং চোট আঘাতের কারণে কাতারে তাদের অনুপস্থিতিতে ৩১ বছর বয়সী গ্রিজম্যানের উপর আরও দায়িত্ব চেপে যায়।বয়স বাড়ার সাথ সাথে গ্রিজম্যান এখন অনেক বেশী পরিণত। তিনি ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হওয়ার পরে বলেন, এই সেমিফাইনাল জয়টি চার বছর আগে, যখন বেলজিয়ামের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তার চেয়ে কী আলাদা ছিল। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে, আমি কেঁদেছিলাম। আমি মনে করি এখন আমি আরও মনোযোগী। এইমুহুর্তে আমি রবিবারের ফাইনালের দিকে মনোনিবেশ করছি। মাটিতে পা রাখার চেষ্টা করি। এখন আমি আরও সুরক্ষিত।মরক্কো ডিফেন্সের বাইরে তাঁর নিখুঁত সময়মতো দৌড় বল নিয়ে পেনাল্টি এলাকা ঢুকে ব্যাক পাস গোল মুখ খুলে দেয়। সেই আক্রম্নের ফসল বুধবারের প্রথম গোল। খেলার পঞ্চম মিনিটে থিও হার্নান্দেজ বাঁ দিক থেকে উঠে এসে বাঁ পায়ের নিখুত কিক বল জালে জড়িয়ে দেন।দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো ফ্রান্সকে প্রচণ্ড চাপে ফেললে পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন গ্রিজম্যান। ট্যাকল, হেডার ও ব্লক দিয়ে প্রতিহত করতে থাকেন মরক্কো-র আক্রমণ। খেলার ৭৯ তম ম্যাচে বদলি রান্ডাল কোলো মুয়ানির গোল ফ্রান্সকে স্বস্তি দেয়।এই ফ্রান্স দলের মেরুদণ্ড গোলরক্ষক হুগো লরিস, সেন্টার ব্যাক রাফায়েল ভারানে, গ্রিজম্যান এবং স্ট্রাইকার অলিভিয়ের গিরৌড, এর সাথে এমবাঁপের বিস্ফোরক গতি এবং গোল। এখন সারা বিশ্ব তাকিয়ে রবিবারের মহারণের দিকে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

খেললেন, খেলালেন, গোল করলেন। শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঠে উজার করে দিলেন মেসি

তিনি ফুটবলের রাজকুমার নন, রাজাও নন। তিনি ফুটবলের শিল্পী। পায়ের বলটাকে তুলি ভেবে সবুজ গালিচা তে আপন মনে ছবি আঁকেন। সেই শিল্পী কাতার ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টিতে গোল দিয়ে কোনঠাসা করে দিলেন বিপক্ষকে। আর্জেন্টিনা ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করায় পৌঁছে গেলো বিশ্বকাপের ফাইনালে।এই লাতিন আমেরিকান ফুটবলের দেশটি শেষ তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দুবার ফাইনালে উঠলো। এটি নিয়ে তাঁরা মোট ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিদ্বন্দিতা করবে। আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ তে চাম্পিয়ান এবং ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে রানার-আপ হয়।লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যচের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ গতিতে আক্রমণ শানিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। তাঁদের আক্রমণের ঝাঁজে বেসামাল হয়ে পরে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ। ২২ বছর বয়সী জুলিয়ান আলভারেজ দুটি গোল করেন এবং ৩৪ মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন।পেনাল্টি থেকে গোল করার সাথে সাথে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ১১, যারফলে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে পেছনে ফেলে একজন আর্জেন্টিয়ান হিসাবে তালিকায় একেবারে প্রথম স্থানে নিয়ে যায়। এই ম্যাচটি মেসির ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ছুঁয়ে ফেলেন।আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা উদ্বেগে রেখেছিলো মেসির বাম হ্যামস্ট্রিং-এ চোট, খেলার বিভিন্ন সময়ে ছোট খাটো আঘাত লাগলেও সেরকম কিছু অঘটন ঘটেনি। চোট আঘাতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও তার খেলায় এর কোনও প্রভাব বুঝতে দেননি বিশ্ব ফুটবলের এই শিল্পী। খেলার প্রথম আধঘণ্টা সমানে সমানে টক্কর দেয় ক্রোয়েশিয়া। বেশ কয়েকটি গোলের সুজোগ-ও তাঁরা করে ফেলে। শেষ ১৫ মিনিটে খেলার ছবিটাই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণে নাজেহাল করে তোলে ক্রয়েশিয়াকে। বিশ্বকাপ ছবার সেমিফাইনাল খেলে ছবারই জয়লাভ করে তাঁরা।এখনও পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপে যতগুলো ম্যাচ খেলেছেন এল এন-১০ সব প্রতিপক্ষ-ই তাঁকে জোনাল মার্কিংয়ে রেখেছিল, বাদ যাইনি ক্রোয়েশিয়াও। মেসি পায়ে বল এলেই পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পরছিল তিন থেকে চার জন ফুটবলার। এসব করেও মেসিকে বেশিক্ষণ বন্দি রাখতে পারলেন না ক্রোট রা। বার বার বামদিক ডানদিক করে দিশেহারা করে দিলেন প্রতিপক্ষকে। ম্যচ যত এগোল মেসি সারা মাঠে তার বাম পা টিকে তুলির মত ব্যবহার করে রংবাহারি করে দিলেন সবুজ গালিচা। তিনি রক্ষণ ভাগ চিরে পাস দিয়ে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেন। সতীর্থকে দিয়ে গোল করলেন। নিজে গোল করালেন। শেষ বাঁশি না বাজা অবধি নিজেকে নিঁগড়ে দিলেন। তাঁর শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যেনো সব কিছু বাজি রাখতে তৈরি তিনি।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হিরো ডোমিনিক লিভাকোভিচ, ৪-২ পেনাল্টিতে বিদায় ব্রাজিলের

নেইমারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ের খেলার প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে গোল করেছিলেন নেইমার। কিন্তু সেই গোলের ব্যবধান বাড়তি সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে শোধ করে দেয় ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের পাসে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ব্রুনো পেটকোভিচ। টান টান খেলা চলতে থাকে। বাড়তে থাকে উত্তেজনা। তারপরই খেলা গড়ায় টাইব্রেকার। পর পর সব পেনাল্টিতেই গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা। প্রথমেই ব্রাজিলের রডরিগো মিশ করেন পেনাল্টি। শেষমেশ জয় পায় ক্রোয়েশিয়া। নির্দিষ্ট ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ছিল। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ছিল এদিনের খেলার হিরো। এদিন ব্রাজিল ৭টা কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।Croatias hero... again! 🇭🇷🧤#FIFAWorldCup | #Qatar2022 pic.twitter.com/w8QroYs2aJ FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) December 9, 2022

ডিসেম্বর ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণে কখন, কোন সময়ে কোয়ার্টার ফাইনালে কোন দল খেলবে, দেখে নিন একনজরে

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আগামী কাল, শুক্রবার( ৯ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টা) থেকে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। এই পর্বে মোট ৮টি দল অংশ নেবে। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে অংশ নেবে ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া। এশিয়া থেকে কোনও দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। যদিও নকআউটে খেলেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র আফ্রিকান দল টিকে রয়েছে, মরোক্কো। পাঁচটি দল ইউরোপের, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড। লাতিন আমেরিকার দুই বড় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্তিনা তো রয়েছে। কোন দিন, কোন সময়ে, কে কার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ খেলবে তার সূচি নিম্নে দেওয়া হল।এক নজরে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচঃ(ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম)প্রথম ম্যাচঃব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া, ৯ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টাদ্বিতীয় ম্যাচঃনেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্তিনা, ১০ ডিসেম্বর, রাত ১২.৩০টাতৃতীয় ম্যাচঃমরক্কো বনাম পর্তুগাল, ১০ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টাচতুর্থ ম্যাচঃইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্স, ১১ ডিসেম্বর, রাত ১২.৩০টাএবারের বিশ্বকাপে একাধিক তথাকথিত বড় দল অপেক্ষাকৃত সাধারণ দলের কাছে হেরে গিয়েছে। বিদায় নিয়েছে স্পেনের মতো হেভিওয়েট দল। তবে এখনও মেসি, এমবাপে, ক্রিশ্চানো রোনাল্ডোর মতো তারকারা রয়েছে। ফুটবল বোদ্ধাদের নজরে এখন আর কোনও অঘটন ঘটে কিনা সেদিকে। আফ্রিকার একমাত্র দল মরোক্কো আর কোনও বড় দলকে বেগ দেয় কিনা সেটাও দেখার।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মেসি ম্যাজিকে উচ্ছ্বসিত, উদ্ভাসিত ক্রিকেট বিশ্ব, অস্ট্রেলিয়াকে দুরমুশ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগের প্রাথমিক ম্যাচে সৌদি আরবে কাছে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর ফুটবল বিশ্বের একাংশ গেল গেল রব তুলেছিলেন। মেসি ম্যাজিক নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন অনেকে। এদিন নকআউটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পরতে পরতে মেসি ম্যাজিক উদ্ভাসিত হল। একের পর অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্ডারকে হেলায় ডজ করলেন। লিওনেল মেসির গোলেই খেলার প্রথমার্ধের ৯ মিনিটে এগিয়ে নীল-সাদাদের দল। তারপর অ্যালভারেজের গোলে ২-০ করে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মারাদোনার দেশ। এদিন খেলার শুরু থেকেই মাঠের দখল নেয় আর্জেন্টিনা। সারা মাঠজুড়ে খেলতে থাকে মেসিরা। আর্জেন্টিনার থেকে অস্ট্রেলিয়া ফুটবলাররা উচ্চতায় বেশি হলেও কর্ণার বা ফ্রিকিকের কোনও সুযোগ নিতে পারেনি হলুদ জার্সিধারীরা। তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা গোলকিপারের দিকে ব্যাকপাস দিতে গিয়ে কয়েকবার বিপদ ডেকে আনছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৬ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার গোলের দিকে শট নেন। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের পিঠে লেগে বল দ্বিতীয় পোস্টে গোলে ঢুকে যায়। ফের খেলার ৮০ মিনিটের মাথায় বড় সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার মার্টিনেজ বল ক্লিয়ার করে সে যাত্রা দলকে রক্ষা করেন। একাধিক সুযোগ পেলেও আর্জেন্টিনা গোল দিতে পারেনি। ফুটবলের রাজপুত্র এবার বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার হাতে তুলে দিতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার। তবে এদিন ফের নিজের জাত চিনিয়েছেন লিওনেল। মেসির পায়ের যাদু দেখার পর আপাতত তাঁর সমালোচকরা মুখ বন্ধ রাখবেন বলে মনে করছে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। যেভাবে অস্ট্রেলিয়া বক্সে মেসি শাসন করেছে তা ছিল দেখার মতো। আরও বেশি গোল হতে পারত আর্জেন্টিনার। মেসির পায়ের জাদুতে কুপোকাৎ হয়ে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে প্রথম নকআউটে নেদারল্যান্ড হারিয়ে দিয়েছে আমেরিকাকে। নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কাতার বিশ্বকাপের মাঝে জমাটি মহিলা ফুটবলের আসর বর্ধমানে

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স নিয়ে চায়ের কাপে তুফান তুলছে বাঙালি। যতই আইপিএল (ক্রিকেট) থাকুক চার বছর অন্তর এই মহাযজ্ঞ-র আশায় বুক বাঁধে চায়ের দোকানি থেকে কর্পোরেট বাবু হয়ে টিউশান পড়ানো বেকার ছেলেটা...। ভারত খেলছে না তো কি হয়েছে? ব্রাজিল - আর্জেন্টিনা সমর্থনে দেশ দু ভাগ। সাধে কি লোকে বলে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ!। রাতে নাকি চুরি কমে গেছে! কারণ? বাঙালি রাত জেগে ফুটবল দেখছে। কাতার যখন ফুটবলের মহাযজ্ঞে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় বর্ধমানের অদূরে রবিবার ছুটির দিনে হয়ে গেল মহিলাদের একদিবসীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট।শহর বর্ধমান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দামোদর পেড়িয়ে এক ছোট্ট গ্রাম বেরুগ্রাম। রবিবার শীতের আমেজে বেরুগ্রাম পশ্চিম পাড়ায় তুরুক দিঘির ফুটবল ময়দানে স্বর্গীয় সুনীল কুমার ঘোষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একদিনব্যাপী মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো। এই প্রতিযোগিতায় মোট চারটি দল অংশগ্রহণ করেছে। কালনা, গুড়াপ, সগরাই ও বোলপুর থেকে এই চারটি দল আসে।জমজমাট এই টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথ ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়িকা কুন্তলা ঘোষ দস্তিদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও কোচ সবিতা মজুমদার, বাস্কেটবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গৌতম গাঙ্গুলী, বর্ধমান ভলিবল ও বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও কলকাতা বাস্কেটবল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বনবিহারী যশ এবং আদর্শ বিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষারত্ন পুরস্কারে ভূষিত সুবীর দে।চারটি দলের এই খেলায়, প্রথম সেমিফাইনালে বোলপুর আর সগরাই এর মধ্যে যে খেলা হয় তাতে বোলপুর জয়লাভ করে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যায়। পরের সেমিফাইনাল ম্যাচে গুড়াপ বানাম কালনার খেলায় গুরাপ জয়লাভ করে। ফাইনালের খেলা অক্রমণ প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে। বিশ্বকাপের খেলা চললেও এই খেলায় দর্শক সমাগম ছিলো দেখার মত। খেলাটির সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য। তাঁর অনবদ্য সঞ্চালনা খেলাটিকে এক অন্য মাত্রা দেয়। তিনি জনতার কথা কে জানান, বিশ্বকাপ জ্বরের মধ্যেও যথেষ্ট দর্শক সমাগম হয়েছিল আজ বেরুগ্রামে। প্রত্যেকটি দলের মেয়েরা জানপ্রান দিয়ে লড়াই করে নিজেদেরকে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়িকার সামনে উজার করে দেয়। চুড়ান্ত খেলায় বোলপুর বনাম গুরাপের ম্যাচে বোলপুর এক গোলে জয়লাভ করে। এই খেলার মুল উদ্যোক্তা তরুণ ঘোষ।

নভেম্বর ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কাতার বিশ্বকাপে বড়সড় অঘটন, প্রথম ম্যাচেই চাপে পড়ল মেসির আর্জেন্টিনা

২০১৯ থেকে কেউ হারাতে পারেনি আর্জেন্টিনাকে। নীল সাদা জার্সি-ধারীরা টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত। অপরাজিত আর্জেন্টিনাকে হারতে হল সৌদি আরবের কাছে। কাতারের লুসেইল স্টেডিয়ামে ১-০ এগিয়েও শেষে আর্জেন্টিনা হারল ১-২ গোলে। অফসাইডের জন্য মেসির দলের ৩টে গোল বাতিল হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মেসি। সৌদি আরবের গোলদাতা আল সেহরি, আল দসেরি। বড়সড় অঘটন ঘটাল সৌদি আরব।চলতি কাতার বিশ্বকাপের প্ৰথম অঘটনের কাহিনী ঘটে গেল আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের ম্যাচে। মেসি ১০ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। পিছিয়ে থেকেও দমে যায়নি সৌদি আরব। দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আল সেহরি এবং সালেম আল দাসওয়ারি গোল করেন। দুজনেই বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে নাম লেখালেন।প্রথমার্ধে মেসির গোলে ১-০ এগিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মারাদোনার দেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার সমতা ফেরান সৌদি আরবের সালেহ আল সেহরি। পাঁচ মিনিট পর ফের গোল আরবের। সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি মেসির দল। চেষ্টার কোনও কসুর করেনি আর্জেন্টিনা। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ডিফেন্স মজবুত ছিল সৌদি আরবের। তা আর ভাঙা যায়নি। গোলকিপার একাধিক সেভ করেছে। পরবর্তী মেক্সিকো ম্যাচ এখন টিকে থাকার লড়াই আর্জেন্টিনার কাছে।

নভেম্বর ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বর্ধমানের জঙ্গলমহলে টানটান ফুটবল টুর্নামেন্ট, জিতলেই এক লাখ

পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের একেবারে শেষপ্রান্তে গেঁড়াই গ্রামে শুরু হল একমাস ধরে টানটান ফুটবল ম্যাচ। মোট ১৬ টি দল এই ম্যাচে খেলবে। এবারে এই প্রতিযোগিতা পড়ল পঞ্চাশতম বর্ষে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ আব্দুল লালন এলাকায় দাতা লালন হিসেবে পরিচিত। তিনিই এই কর্মকান্ডের রুপকার। গোটা এলাকার মানুষের আগ্রহ আর উৎসাহ মিলে এই প্রতিযোগিতা একটা গ্রামীণ মেলার রূপ নেয়।বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অসিত মাল, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, সভাধিপতি শম্পা ধারা, বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার, যুবনেতা রাসবিহারী হালদার সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ছিলেন পদ্মশ্রী শিক্ষাবিদ সুজিত চট্টোপাধ্যায়। পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়। আতশ বাজি পোড়ানো হয়। পরিবেশিত হয় আদিবাসী নাচ, ডান্ডিয়া;,মেয়েদের ঢাকের দল ও মেয়েদের ব্যাণ্ডের অনুষ্ঠান। সম্পূর্ণ মেয়েদের রেফারি টিম খেলা পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এলাকার মানুষের ঢল নামে। এই প্রতিযোগিতার প্রথম স্থানাধিকারীরা পুরস্কার পাবেন এক লক্ষ টাকার। এইরকম একটা প্রত্যন্ত এলাকায় এমন ফুটবল ম্যাচ সত্যিই তারিফ করার মতই।আয়োজক আব্দুল লালন জানান, ফুটবলের প্রতি হারিয়ে যাওয়া উন্মাদনা ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

'বিরাট' এক ক্রিকেটীয় রহস্য উপন্যাসের আরও এক অধ্যায়

কখনো কখনো মনে হয় ক্রিকেট খেলাটার একটা নিরন্তর কাজ আছে। ক্রিকেট অবতার বানানোর। আবার কখনো কখনো মনে হয় কিছু ক্রিকেটারের নিজস্ব ডিউটি থাকে ক্রিকেট খেলাটাকেই কে উপাস্য বানানোর। মোদ্দা কথা এই দু ধরনের এনটিটি ই সারা পৃথিবীর সব বাইশ গজকে করে তোলে এক একটা কলোসিয়াম। আর যে দেশের ধর্মেরই নাম হয় ক্রিকেট, সে দেশের আট থেকে আশি সবাই যে এই বিয়ন্ড দ্য বেস্ট বা লার্জার দ্যান লাইফ এর রোমান্টিসমে হাবুডুবু খাবেই এ আর নতুন কি! আমরা ভাগ্যবান পিপে ভর্তি এই আনন্দের স্রোত আমাদের সিক্ত করে প্রায়ই। আজ যেমন আস্বাদিত হলাম বিরাট কিং কোহলির আঘ্রানে।নেভিল কার্ডাস সাহেবই ক্রিকেট নামক সঙ্গীতের ঠিক টিউনটা ধরতে পেরেছিলেন। রান, ফর্ম, ব্যাড প্যাচ এসব নিয়ে নয়, বিরাট কোহলিরা জন্মেছে ওই বললাম না ক্রিকেট দেবতাকে সবচেয়ে মহার্ঘ্য পরিজাতের ডালি সাজিয়ে অর্ঘ্য দেওয়ার জন্য। আমার আপনার খুশি-আনন্দ-চিৎকার-কান্না-হাসি-হার-জিৎ সব কিছু এই দেবতা-পূজারীর মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু অমোঘ- অবিনশ্বর ঘটনায় স্রেফ সাক্ষী স্বরূপ থেকে যাওয়ার জন্যই।সাবাস বিরাট।তোমার খেলা দেখতে পাওয়ার জন্য আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।

অক্টোবর ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

'বাজা তোরা , রাজা যায়...' সাফল্য-খ্যাতি-প্রতিষ্ঠার তুঙ্গে থেকেও বরাবরই মাটির মানুষ রজার ফেডেরার

২০১৬ সাল। তিন বন্ধু সপরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলাম সুইজারল্যান্ড, চোদ্দ দিন ধরে, কোনো ট্র্যাভেল এজেন্ট-এর সাহায্য ছাড়াই। তুষারমৌলি আল্পস... কাকচক্ষু জলের অসংখ্য দিগন্তপ্রসারী হ্রদ... নকশিকাঁথার মতো বন-প্রান্তর-জনপদ--- স্মৃতিপটে গাঁথা হয়ে গেছে চিরদিনের মতো।তবু সেই অপরূপ পর্যটন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছিল আমার চোখে, কারণ প্রবল ইচ্ছা সত্ত্বেও ভ্রমণসূচীতে রাখা যায় নি একটি সুন্দর শহরকে --- বাসেল, যেখানে বাস খেলার জগতে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির।স্কুলজীবনে রচনা লিখতে হতো-- তোমার প্রিয় ক্রীড়াবিদ। ছোটবেলা থেকে আমার খাতায় বারবার বদলে গেছে সে চরিত্র -- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়... সুনীল গাভাসকর... সের্গেই বুবকা... বিশ্বনাথন আনন্দ... হোসে রামিরেজ ব্যারেটো...। কিন্তু গত দুই দশক জুড়ে সবচেয়ে প্রিয় নাম একটিই-- রজার ফেডেরার। আগামী সপ্তাহেই লন্ডনে অনুষ্ঠেয় লেভার কাপ-এ চব্বিশ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক টেনিস জীবনে দাঁড়ি পরতে চলেছে যাঁর।নাদাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় দুকোটি টাকা দান করেছিলেনকিং রজার কি লন টেনিস-এর ওপেন যুগে সর্বকালীন সেরা ? দ্বিমত পোষণ করতে পারেন অনেকে, কিন্তু স্কিল- স্ট্যামিনা- এনডিওরেন্স-এর যে চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই দশক বিরাজ করেছেন তিনি, যে অনায়াস দক্ষতায় তুলির টান দিয়েছেন সারা পৃথিবীর টেনিস কোর্টে, গগনচুম্বী সাফল্য সত্ত্বেও যেভাবে মাটির কাছাকাছি রয়ে গেছেন বিনয়-ভদ্রতা-মানবিক মূল্যবোধের প্রতিমূর্তি হয়ে-- তাতে আমার মতো বিশ্বজোড়া কোটি কোটি সমর্থকের বুকে চিরস্থায়ী আসন পাতা হয়ে গেছে তাঁর।কুড়িটি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গলস খেতাব (আটবার উইম্বলডন, ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, পাঁচবার ইউএস ওপেন, একবার ফ্রেঞ্চ ওপেন ), চল্লিশটি এটিপি ট্যুর সিঙ্গলস খেতাব, সব মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ১০৩টি সিঙ্গলস খেতাব, গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতায় রেকর্ডসংখ্যক ৩৬৯টি সিঙ্গলস ম্যাচ জেতা, ৩১০ সপ্তাহ একনম্বর স্থান ধরে রাখা, সবচেয়ে বেশী বয়সে (ছত্রিশ বছর দশ মাস) একনম্বর স্থান পুনরুদ্ধার করা, অন্ততঃ তিন মরশুমে (২০০৬, ২০০৭,২০০৯) সবকটি গ্র্যান্ড স্লাম-এর ফাইনাল খেলা--- এগুলো নেহাত পরিসংখ্যান নয়; সদ্য-অবসৃত সেরেনা উইলিয়ামস যেমন মেয়েদের টেনিস-এ , তেমনই নাদাল-জকোভিচকে নিয়ে পুরুষদের টেনিস-এ চিরকালীন মানদণ্ড গড়ে দিয়ে গেলেন রজার ফেডেরার।বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত-শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের তালিকা দুনম্বরে ছিলেন৮১ সালের আটই আগস্ট বাসেল অঞ্চলে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন রজার-- বাবা রবার্ট সুইস, মা লিনেট দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ। আট বছর বয়সে টেনিস Racket হাতে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট ছেলেটি। তেরো চোদ্দ বছর বয়সেই ছোটবোন ডায়ানা-কে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল লুসান-এর সুইস টেনিস অ্যাকাডেমিতে। সুইজারল্যান্ড-এর এই অংশে ফরাসী ভাষাটাই চলে বেশী, কিন্তু রজার যে জার্মান ভাষাতেই বেশী স্বচ্ছন্দ! বার বার মন চাইতো বাসেল-এ ফিরে যেতে, কিন্তু ততদিনে আশেপাশের অনেকেই তার মধ্যে দেখতে পেয়েছেন অমিত সম্ভাবনা। কাজেই লড়াই জারী রইলো তার; লুসান আর ছাড়া হলো না। ৯৩ থেকে ৯৫ , বাসেল-এর এটিপি টুর্নামেন্টে বলবয় ছিল রজার-- বড় হয়ে যে খেতাব দশ বার জিতে নিয়েছিল সে।৯৮-এ মাত্র সতেরো বছর বয়সে পেশাদার হয়ে গেল রজার, আর তিনবছর বাদেই জিতে নিল প্রথম এটিপি সিঙ্গলস খেতাব, মিলান-এ। স্টিফেন এডবার্গ, বরিস বেকার, আর পিট স্যাম্প্রাস আদর্শ ছিলেন তার। মাত্র উনিশ বছর বয়সে সেই স্যাম্প্রাসকেই হারিয়ে দিল রজার।এসেছিলেন ভারতেও, ২০০৪-এ সুনামি-ত্রাণেঅনেক বন্ধু বলতো, মনে হয় এবছর তুই ওঁকে হারাতে পারবি ,ফেডেরার বলেছিলেন, জানতাম সম্ভাবনা আছে একটা, তবে পুরোপুরি নয়; মানে ঘাসের কোর্টে উনিই তো আসল লোক!পরের রাউন্ডেই হেরে গেলেন টিম হেনম্যান-এর কাছে।পরের বছর কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই বিদায়। তার ধাতটাই তখন অশান্ত--- Racket আছড়ানো... পনিটেল... রুক্ষ মানসিকতা...। হঠাৎই ব্যক্তিজীবনের এক আঘাত তাকে বদলে দিল চিরদিনের মতো। একুশ বছরের জন্মদিনের পরেই, দক্ষিণ আফ্রিকায় এক পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পিটার কার্টার, রজার-এর কোচ ও বহুদিনের বন্ধু। প্রিয় সঙ্গীর আকস্মিক চলে যাওয়া জন্ম দিল এক নতুন রজার ফেডেরার-এর -- শান্ত, সৌম্য,ভদ্রতার প্রতিমূর্তি; এক সর্বজনপ্রিয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব।২০০৩-এ মার্ক ফিলিপৌসিস-কে হারিয়ে প্রথমবার উইম্বলডন জিতেছিলেন। সেই প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের উনিশ বছর পর, গত বৃহস্পতিবার, অবসরগ্রহণের ঘোষণা এল তাঁর কাছ থেকে।ফেব্রুয়ারি০৪ থেকে আগস্ট ০৮--- টানা ২৩৭ সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন ফেডেরার। এক বিরল সৌন্দর্য ছিল তাঁর খেলায় -- টেনিস যেন বড় অনায়াস, সাবলীল, সহজ ছন্দে বইতো তাঁর হাতে। কব্জির সুক্ষ মোচড়ে অসাধারণ ফোরহ্যাণ্ড... একহাতে মারা চোখজুড়ানো ব্যাকহ্যাণ্ড... অনায়াস সার্ভিস... অবলীলায় কোর্টের যে কোনো প্রান্ত থেকে দুরূহ প্লেসমেণ্ট--- টেনিস-এর শেষ কথা মনে হতো তাঁকেই। তারপর দেখা দিলেন রাফেল নাদাল....মিক্সড ডাবলসে সানিয়ার সাথেসবদিক দিয়ে ফেডেরার-এর ঠিক বিপরীতে ছিলেন নাদাল। সার্ভ অ্যান্ড ভলি গেমকে যে শৈল্পিক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন ফেডেরার, রাফা-র অ্যাথলেটিসিজম-শক্তি-গতিময়তা তাকে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললো। রোল্যাঁ গ্যারো-র লাল সুড়কির কোর্টে তো নাদাল-এর মৌরসিপাট্টা ছিলই, ফেডেরার-কে তিনি পিছনে ফেলতে লাগলেন অন্যত্রও। ততদিনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দেখা দিয়েছেন নোভাক জকোভিচ-ও।আমি কখনোই এইরকম খেলোয়াড় হয়ে উঠতাম না,যদি না নাদাল থাকতো, ফেডেরার বলেছিলেন তাঁর কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা কোর্টের বাইরে প্রিয় বন্ধুর সম্বন্ধে। পরপর তিনবার ফ্রেঞ্চ ওপেন-এর ফাইনাল-এ, আর ২০০৮-এ উইম্বলডন-এও নাদাল-এর কাছে হার রজার-কে বাধ্য করলো নতুন করে নিজেকে বদলাতে।হয়তো এর পরিণতিতেই পরের বছর এলো ফেডেরার-এর খেলোয়াড় জীবনের সম্ভবতঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়, ২০০৯-এর ফ্রেঞ্চ ওপেন-এ। নাদাল হেরে গেলেন রবিন সডারলিং-এর কাছে, আর ফেডেরার তখন চতুর্থ রাউন্ডে টমি হাস-এর বিরুদ্ধে দু সেট খুইয়ে বসে আছেন। এক বছর আগে হলে হয়ত চাপের মুখে আবার হেরে বসতেন, কিন্তু অবিশ্বাস্য এক ফোরহ্যাণ্ড তৃতীয় সেট-এর অষ্টম গেম-এ ব্রেকপয়েণ্ট বাঁচিয়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনলো তাঁকে; শেষমেশ জিতেই নিলেন ম্যাচটা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মঁফিলস, সেমিফাইনাল-এ দেল পোট্রো, আর ফাইনালে নাদাল-জয়ী সডারলিং--- একের পর এক কঠিন ম্যাচ জিতে রজার দেখিয়ে দিলেন, ক্লে কোর্টেও কিছু কম যান না তিনি।এর পরেই যদি অবসর নিয়ে নিতেন, কারো কিছু বলার থাকতো না। ত্রিশ পেরিয়ে গেছে... সামপ্রাস-এর সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গলস খেতাব জয়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন... জিতেছেন সবরকম সারফেস-এ... নতুন করে প্রমাণ করার আর ছিল কী?টেনিসের রাজা ভারতেপ্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ততদিনে জকোভিচ-ও; অস্তগামী সূর্য ফেডেরার পড়ন্ত বেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ততটা সফল হতে পারেন নি। চোটআঘাতও ভোগাতে শুরু করলো বারবার। একচল্লিশ বছর বয়সে, গত দেড় বছরে উপর্যুপরি তিনবার হাঁটুর অপারেশন করাবার পরে, সময় ও শরীরের দাবী মেনে নিলেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত হয়তো নিতে পারতেন চার বছর আগেই, তাঁর তো আর কারো কাছে কিছু প্রমাণ করার ছিল না !২০১৭-এ কঠিন চোট থেকে সেরে উঠে, ১৮-র জানুয়ারির মধ্যেই আবার তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে নিয়ে, ২০১৯-এর উইম্বলডন ফাইনালে একচুলের জন্য খেতাব হাতছাড়া করার পরেই রাজসিক মর্যাদায় অবসর নিতে পারতেন রাজা রজার। কিন্তু তিনি নিজে তো নিজেকে আম আদমি-ই ভেবে এসেছেন বরাবর। টেনিস-এর প্রতি নিটোল প্রেম আর অগণিত ভক্তদের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতাই তাঁকে সরে যেতে দেয় নি ।চেষ্টা করে গেছেন অন্তরালে থেকেও পাদপ্রদীপের আলোয় ফিরে আসার।সাফল্য-খ্যাতি-প্রতিষ্ঠার তুঙ্গে থেকেও বরাবরই মাটির মানুষ রজার ফেডেরার; গার্হস্থ্য মূল্যবোধের প্রতিভূ হয়ে রয়ে গেছেন, কোনো কেচ্ছা-কেলেঙ্কারী কখনো ছুঁতে পারেনি তাঁকে। স্ত্রী মির্কা নিজেও ছিলেন নামী টেনিস খেলোয়াড়--- ডব্লিউটিএ Ranking-এ ছিয়াত্তর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছিলেন এক সময়, উঠেছিলেন ইউএসওপেন-এর তৃতীয় রাউন্ডে। ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে প্রথম দেখা হয়েছিল দুজনের। পরে একসময় জুটি বেঁধে হপম্যান কাপে মিক্সড ডাবলসেও নেমেছিলেন। দুইজোড়া যমজ সন্তান তাঁদের-- দুই মেয়ে মাইলা ও শার্লিন, আর দুই ছেলে লিও ও লেনি। গ্যালারী থেকে পুরো পরিবার তাঁকে সোচ্চার সমর্থন করছে ম্যাচের সময়-- এর থেকে মধুর দৃশ্য তাঁর কাছে কিছু নেই, জানিয়েছিলেন ফেডেরার।পৃথিবী জুড়ে এত ভালবাসা কীভাবে পেলেন ফেডেরার?কখনো মনুষ্যত্ব হারান নি তিনি। একবার লন্ডন-এ উইম্বলডন খেলতে এসে দেখলেন, হোটেলে তাঁর কোচ ও সাপোর্ট টিমের অন্যান্যদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাধারণ ডিলাক্স রুম, আর তাঁর জন্য বিলাসবহুল সুইট। রজার নির্দেশ দিলেন সবার জন্যই তাঁর মতো ঘরের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু জানা গেল যে আর কোনো সুইট খালি নেই। ফেডেরার পত্রপাঠ সুইট ছেড়ে চলে এলেন সাধারণ ডিলাক্স রুমে!The great moments I spent here will forever be in my memory. Thank you New Delhi! Tremendous crowd support! Forever grateful 🙏 Roger Federer (@rogerfederer) December 8, 2014কখনো ম্যাচ হারের পর অজুহাত দেন নি, বা প্রতিপক্ষকে ছোটো করেন নি তিনি। একবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন-এ --- ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস জ্বরে ভুগতে ভুগতেই ফাইনাল-এ গেলেন রজার, প্রচুর লড়েও হারলেন জকোভিচ-এর কাছে। ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের শারীরিক কষ্টের অজুহাত দিলেন না, বরং বললেন, বিগত কয়েক দিন আমার শরীরস্বাস্থ্য নিয়ে অনেক জল্পনা হয়েছে। কিন্তু আজ যেন নোভাক-এর কৃতিত্ব কিছু কম বলে মনে করা না হয়; কারণ ম্যাচটা জিততে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম।অবসর-এর পর কী করবেন? পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন... স্কিইং... সমুদ্রসৈকত... তাস... টেবলটেনিস। পছন্দের তালিকায় আছে আরো অনেক কিছু--- হাইকিং, সাইক্লিং, সংগ্রহশালায় ঘুরে বেড়ানো ,প্রিয় সুইস খাবার খাওয়া (চকোলেট-ফন্ডু-রাকলেট-রোস্টি উইথ কর্ডন ব্লু ইত্যাদি)। চারটি ভাষায় স্বচ্ছন্দ তিনি-- ফরাসী, ইংরেজী, সুইস ও জার্মান।২০০৩ সালে শুরু করেছিলেন রজার ফেডেরার ফাউন্ডেশন, বিশ্ব জুড়ে এক কোটির বেশী ছেলেমেয়ের জীবনকে ইতিমধ্যেই ছুঁয়েছে যে সংস্থা। রাফেল নাদাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় দুকোটি টাকা দান করেছিলেন ২০-র জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান বুশফায়ার রিলিফ-এ। দক্ষিণ আফ্রিকায় কোভিড- সাহায্যার্থে দান করেছেন প্রায় আট কোটি টাকা। টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতির দুটি চ্যারিটি ম্যাচ খেলেছেন নাদাল (কেপটাউন: ফেব্রুয়ারি২০) ও আলেকজান্ডার জেরেভ (মেক্সিকো সিটি: নভেম্বর ১৯)-এর সঙ্গে। এসেছিলেন ভারতেও, ২০০৪-এ সুনামি-ত্রাণে। এদেশের টেনিস কোর্ট তাঁকে পেয়েছে পরে ১৪ সালে , প্রদর্শনী ম্যাচের সূত্রে।রিপুটেশন ইনস্টিটিউট ২০১১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত-শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের তালিকা করতে গিয়ে দুনম্বরে রেখেছিল তাঁকে, একমেবাদ্বিতীয়ম নেলসন ম্যান্ডেলা-র পরেই। ঠিক পিছনেই ছিলেন বিল গেটস, স্টিভ জোবস ,ওপ্রা উইনফ্রে, বোনো।রাজা রজার-এর প্রস্থানে রিক্ত হবে ক্রীড়া জগৎ। তবু অনুপ্রাণিত করতে থাকবেন তিনি, খেলোয়াড় হিসেবে, মানুষ হিসেবে, এক আদর্শ ফ্যামিলিম্যান হিসেবে....Good bye, sweet Prince ! It was a pleasure and privilege walking on the same earth with you !!কৃতজ্ঞতা স্বীকার : টাইমস অফ ইন্ডিয়া।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ভরসা দিতে পারবেন?‌ বাগানে খেলতে এলেন অস্ট্রেলিয়ার পেত্রাতোস

এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো এমন একজন ফুটবলারকে চাইছিলেন, যিনি স্ট্রাইকারের পাশাপাশি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের পজিশনেও খেলতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে এবং ক্লাব ফুটবলে স্ট্রাইকার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। এবার সবুজমেরুণের আক্রমণভাগকে ভরসা দিতে মঙ্গলবার কলকাতা চলে এলেন এই অসি ফুটবলার। এটিকে মোহনবাগান যে স্ট্রাইকার সমস্যাতে ভুগছে, ডুরান্ড কাপেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পজিটিভ স্ট্রাইকার বলতে যা বোঝায়, সেই অর্থে তেমন ফুটবলার এই মুহূর্তে এটিকে মোহনবাগানে তেমন নেই। লিস্টন কোলাসে, আশিক কুরুনিয়ান, হুগো বোমাসরা পজিটিভ স্ট্রাইকার নন। মনবীর সিং, কিয়ান নাসিরিদের একার দক্ষতার ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা নেই। এখন দেখার এদের সঙ্গে যোগ দিয়ে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেন কিনা দিমিত্রি পেত্রাতোস।পেত্রাতোসকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন এটিকে মোহনবাগানের কর্তারা। কয়েকশ সবুজমেরুণ সমর্থকও হাজির ছিলেন। এই অসি ফুটবলার বিমানবন্দর থেকে বার হতেই সমর্থকরা জয় মোহনবাগান স্লোগান দেন। তাদের সঙ্গে পেত্রাতোসের মুখেও শোনা যায়, জয় মোহনবাগান। বিমানবন্দরে নেমেই সংবাদমাধ্যমকে পেত্রাতোস জানান, এএফসি কাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এটিকে মোহনবাগানে খেলতে এসেছেন।দেশের হয়ে রাইট উইঙ্গারেও খেলেছেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। প্রয়োজনে জুয়ান ফেরান্দো পেত্রাতোসকে উইঙ্গারেও ব্যবহার করতে পারেন। এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর পেত্রাতোস বলেছিলেন, বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারি, সেটা কোচ জানেন। কোচই ঠিক করবেন আমাকে কোন পজিশনে খেলাবেন। এখানে আমাকে কোন জায়গায় খেলতে হবে, তা ঠিক করবেন কোচ। যে কোনও ফুটবলারের কাছে গোল করাটা বড় ব্যাপার। কোচ যদি আমাকে সেই দায়িত্ব দেন, আপ্রান চেষ্টা করব দায়িত্ব পালন করার। গোল করতেই হবে, এটা ভেবে আমি কখনও মাঠে নামি না। মাঠে নেমে খেলা উপভোগ করাটাই লক্ষ্য থাকে। দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই প্রথম কাজ। ব্রেন্ডন হ্যামিলও দলে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব। ৬ বছর আগে দুরন্ত ফ্রিকিকে গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন পেত্রাতোস। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ফুটবলে ওই রকম গোল নাকি আর কেউ করতে পারেননি।

আগস্ট ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‘‌ওই কথা বললে শেহবাগ বাঁচত না’‌, কেন এমন কথা বললেন শোয়েব আখতার?‌

ভারতপাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। ভারতপাকিস্তান ম্যাচের আগে এক অনুষ্ঠানে শোয়েব আখতারের সঙ্গে বাকযুদ্ধের একটা উদাহরণ তুলে ধরেন বীরেন্দ্র শেহবাগ। তিনি বলেন, একবার পাকিস্তান সফরে মুলতান টেস্টে আমি ৩০০ রান করার পর শোয়েব আখতার আমাকে বাউন্সার দিয়ে কাছে এগিয়ে এসে বলেছিল, ক্ষমতা থাকলে হুক শট মারো। তখন আমি বলেছিলান, অন্যপ্রান্তে শচীন আছে। ওকে বাউন্সার দাও। শচীন স্ট্রাইকে আসার পর শোয়েব ওকে বাউন্সার দেয়। শোয়েবের বাউন্সারে শচীন ছক্কাও মেরেছিল। তখন আমি শোয়েবকে বলেছিলাম, বাবা, বাবাই হয় এবং ছেলে, ছেলেই হয়। ভারতপাকিস্তান ম্যাচের দিন এক টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে শোয়েব আখতারকে শেহবাগের সেই কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। কথাটা শুনে শোয়েব আখতার রীতিমতো রেগে যান। তিনি বলেন, শেহবাগ এই ধরণের কথা বলেছিল কিনা মনে করতে পারছি না।শোয়েবের কথায়, প্রথম কথা হল যদি ও এই কথাটা আমার মুখের উপর বলত তা হলে ও বাঁচতে পারত না। আমি জানি না কখন কোথায় কী ভাবে ও এটা বলেছিল। আমি নিজেই ওকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই রকম কোনও মন্তব্য ও করেছিল কি না, জানানর জন্য। ও সরাসরি বলেছিল না। দ্বিতীয় কথা হল, আপনি যে অনুষ্ঠান করছেন সেটাও উপর ফোকাস রাখুন অন্যান্য বিষয়ে না গিয়ে। আমি প্রত্যেকের সম্মান করি, আপনাদের সম্মান করি, ভারতে অনেক বড় ফ্যান ফলোয়িং রয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি এমন কোনও কথা না বলার যেটায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান তৈর হয়। ক্রিকেটে ফিরে আসুন, ক্রিকেটের কথা বলুন। যে ভাবে এই অনুষ্ঠান হয় একই বিষয় বারবার রিপিট করা হয়। এটা আমি পছন্দ করি না।শোয়েব আখতার বলেন, কখন, কোথায় শেহবাগ এই কথা বলেছিল তা আমি জানি না। যদি আমার মুখের ওপর এই কথা বলত, তাহলে বাঁচত না। এমনকী বাংলাদেশে একবার তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই কথা বলেছে কিনা। তখন শেহবাগ কিন্তু অস্বীকার করেছিল। শেহবাগের বক্তব্য অস্বীকার করা শোয়েবের এই প্রথম নয়। কয়েক বছর আগে, পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে একটা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও শেহবাগের বাপ বাপ হোতা হ্যায় মন্তব্য অস্বীকার করেছিলেন শোয়েব।

আগস্ট ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে?‌ জটিল অঙ্কের সামনে এটিকে মোহনবাগান

কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আদৌও পূরণ হবে কিনা, এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে উঠে গিয়েছিল প্রশ্ন। ইমামি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে না জিতলে কার্যত ডুরান্ড থেকে বিদায় হয়ে যেত সবুজমেরুণ শিবিরের। ডার্বি জয় কিছুটা হলেও অক্সিজেন দিয়ে গেছে জুয়ান ফেরান্দোর দলকে। ডার্বি জিতলেও এখন শেষ আটে যাওয়া চূড়ান্ত নয় এটিকে মোহনবাগানের। সামনে রয়েছে নানা জটিল অঙ্ক।এই মুহূর্তে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ বির লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। সোমবার রাজস্থান ইউনাইটেডকে ৫১ ব্যবধানে উড়িয়ে গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে মুম্বই সিটি এফসি। ৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭। গ্রুপে তিনটি দলের সামনে এখনও ৭ পয়েন্টে পৌঁছনো সম্ভব। এই তিনটি দল হল এটিকে মোহনবাগান, রাজস্থান ইউনাইটেড ও ইন্ডিয়ান নেভির। তিন দলেরই পয়েন্ট এই মুহূর্তে ৪ করে। গোল পার্থক্যে অবশ্য বাকি দুই দলের থেকে এগিয়ে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। গ্রুপের অন্য দল ইমামি ইস্টবেঙ্গলের ৩ ম্যাচে পয়েন্ট ২। তারা রয়েছে পঞ্চম স্থানে। চারটি দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি। বুধবার এটিকে মোহনবাগান খেলবে ভারতীয় নৌ সেনা দলের বিরুদ্ধে। মুম্বই সিটি এফসির খেলা বাকি ইমামি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। অন্যদিকে রাজস্থান ইউনাইটেড শেষ ম্যাচে খেলবে ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে। এটিকে মোহনবাগান যদি বুধবার ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে জেতে, তাহলে ৭ পয়েন্টে শেষ করবে। রাজস্থান ইউনাইটেড যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতীয় নৌ সেনাকে হারায়, তাহলে তারাও ৭ পয়েন্টে শেষ করবে। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে তখন ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল দেখা হবে। রাজস্থান ইউনাইটেডের কাছে হেরেছিল জুয়ান ফেরান্দোর দল। ফলে বুধবার ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে জিতলেই হবে না, রাজস্থান ইউনাইটেডভারতীয় নৌ সেনা দলের ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে এটিকে মোহনবাগানকে। বুধবার ভারতীয় নৌ বাহিনীর সঙ্গে ড্র করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ভারতীয় নৌ বাহিনীর কাছে হারতে হবে রাজস্থান ইউনাইটেডকে। এটিকে মোহবাগান ও ভারতীয় নৌ বাহিনীর পয়েন্ট সমান সমান হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য দেখা হবে। আর ভারতীয় নৌ বাহিনীর কাছে হারলে শেষ আটের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে।

আগস্ট ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত হার্দিক, বিশ্বকাপে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল ভারত

গত বছর টি২০ বিশ্বকাপে এই দুবাইয়ে পাকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল ভারত। এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিল ভারত। দলকে দুরন্ত জয় এনে দিলেন হার্দিক পান্ডিয়া।টস জিতে এদিন পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান রোহিত শর্মা। ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়াদের দাপটে বড় ইনিংস গড়তে পারেনি পাকিস্তান। ১৯.৫ ওভারে তোলে ১৪৭। দুরন্ত বোলিং করেন ভুবনেশ্বর কুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খেয়েছিল পাকিস্তান। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে অর্শদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। ৯ বলে তিনি মাত্র ১০ রান করেন।বাবর আজম ফিরে যাওয়ার পর দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রিজওয়ান ও ফখর জামান। ষষ্ঠ ওভারে আবেশ খানের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে দীনেশ কার্তিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ফখর জামান। ৬ বলে তিনি করেন ১০ রান। এরপর রিজওয়ান ও ইফতিখার আমেদের জুটিতে ওঠে ৪৫। ২২ বলে ২৮ রান করে হার্দিকের বলে আউট হন ইফতিখার। মহম্মদ রিজওয়ানকেও তুলে নেন হার্দিক। ৪২ বলে ৪৩ রান করেন রিজওয়ান। খুশদিল শাহ (২), আসিফ আলিরা (৯) সুবিধা করতে পারেননি। ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার। ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়ার। অর্শদীপ সিং নেন ২ উইকেট। আবেশ খান ১টি উইকেট পান। জয়ের জন্য ১৪৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় ভারত। দেশের হয়ে টি২০ অভিষেক ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই নাসিম শাহ তুলে নেন লোকেশ রাহুলকে (০)। বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হন ভারতীয় দলের সহঅধিনায়ক। অভিষেকলগ্ন আরও স্মরণীয় করে রাখতে পারতেন পাকিস্তানের এই জোরে বোলার। ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে বিরাট কোহলির ক্যাচ ফেলে দেন ফখর জামান। যদি তালুবন্দী করতে পারতেন, আবার নামের পাশে আর একটা শূন্য বসে যেত কোহলির।প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন কোহলি ও রোহিত শর্মা। যদিও পাকিস্তানের জোরে বোলারদের সামনে ততটা স্বপ্রতিভ ছিলেন না। বিশ্রাম কাটিয়ে দীর্ঘদিন বাইশ গজে ফেরা কোহলিকে বেশ নার্ভাস লাগছিল। তার মধ্যেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অষ্টম ওভারের শেষ বলে আবার ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। মহম্মদ নওয়াজকে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে লং অফে ইফতিখার আমেদের হাতে ধরা পড়েন রোহিত। ১৮ বলে তিনি করেন ১২।প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে কোহলি বেশ ভালোই ব্যাটিং করছিলেন। উইকেটে জমে গিয়েছিলেন। কিন্তু মহম্মদ নওয়াজ বড় শট খেলার প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নেন কোহলিকে। ৩৪ বলে ৩৫ রান করে লং অফে ধরা পড়েন কোহলি। জীবনের শততম টি২০ ম্যাচে বড় রান পেলেন না।রোহিত আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের আক্রমণে শানানোর দায়িত্বে ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার মহম্মদ নওয়াজ ও লেগস্পিনার সাদাব খান। এই দুই স্পিনারের ছন্দ নষ্ট করার জন্য রবীন্দ্র জাদেজাকে ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বরে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। পাঁচ নম্বরে নামা সূর্যকুমার যাদবকে সঙ্গী করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জাদেজা। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে জুটি ভাঙেন নাসিম শাহ। তুলে নেন সূর্যকুমারকে। ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট হন তিনি।এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান জাদেজা ও হার্দিক। শেষদিকে নাটক জমে ওঠে। ১৭তম ওভারে নাসিমের চতুর্থ বলে আম্পায়ার এলবিডব্লু আউট দেন জাদেজাকে। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান জাদেজা। পরের বলেই ছক্কা হাঁকান। ১৯ তম ওভারে হ্যারিস রউয়ের বলে তিনটি বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন হার্দিক। পরের ওভারের প্রথম বলে জাদেজাকে (২৯ বলে ৩৫) তুলে নেন মহম্মদ নওয়াজ। ৬ মেরে দলকে জয় এনে দেন হার্দিক। ২ বল বাকি থাকতে ১৪৮/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ১৭ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন নওয়াজ। অভিষেক ম্যাচে ২৭ রানে ২ উইকেট নাসিং শাহর।

আগস্ট ২৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সুমিতের ‘‌উপহার’‌ ‌আত্মঘাতী গোলে ডার্বি জয় এটিকে মোহনবাগানের

ডুরান্ড কাপের মরণবাঁচন ম্যাচে ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত এটিকে মোহনবাগানের। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টিকে রইল ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন। সুমিত পাসির উপহার দেওয়া আত্মঘাতী গোলে জয় পেল সবুজমেরুণ।আড়াই বছর পর কলকাতায় ডার্বি। উত্তাল কলকাতা। টিকিটের হাহাকার। যুবভারতীর গ্যালারি কানায় কানায় ভর্তি। ডার্বি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দলের কাছেই ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকার মরণবাঁচন লড়াই। দুর্দান্ত একটা ম্যাচের সবরকম রসদই মজুত ছিল। প্রথমার্ধে ম্যাড়মেড়ে ফুটবল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ছবিটা। দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলেন দুই দলের ফুটবলাররা।এদিন প্রথমার্ধে কোনও দলের কোচই ঝুঁকি নিতে চাননি। তার মধ্যেই আধিপত্য ছিল এটিকে মোহনবাগনের। ইমামি ইস্টবেঙ্গল তাঁর দলের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। তা সত্ত্বেও শুরু থেকে আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি সবুজমেরুণ কোচ। প্রথমার্ধে বিক্ষিপ্ত লগ্নে আশিক কুরুনিয়ান, লিস্টন কোলাসো, হুগো বুমোসরা লালহলুদ ডিফেন্সে হানা দিলেও ইভান গঞ্জালেস, কিরিয়াকোরা সজাগ থাকায় কাজের কাজ কিছু হয়নি। ১৬ মিনিটে একটা ভাল প্রয়াস করেছিলেন আশিক কুরুনিয়ান। একক প্রচেষ্ঠায় বল ধরে ডিফেন্ডারদের চক্রব্যূহ ভেদ করে এগিয়ে গিয়ে বাঁপায়ে শট নিয়েছিলেন। তাঁর সেই শট পোস্টের অনেকদূর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২০ মিনিটেও আশিস, বুমোসদের একটা প্রয়াস ঠান্ডা মাথায় সামাল দেন কিরিয়াকোরা। ২২ মিনিটে কুরুনিয়ানারের সেন্টারে পা ছোঁয়াতে পারলে গোল পেতেন লিস্টন।৩৪ মিনিটে ইমামি ইস্টবেঙ্গলের প্রথম প্রয়াস। ইভান গঞ্জালেসের বাঁপায়ের দুরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটেই কর্ণার পেয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। হুগো বুমোসের কর্ণার বিপদমুক্ত করেন লালহলুদ গোলকিপার কমলজিৎ সিং। প্রথমার্ধে সবাই যখন ধরে নিয়ে ম্যাচ গোলশূন্য থাকতে চলেছে, তখনও সুমিত পাসির আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় এটিকো মোহনবাগান। লিস্টনের কর্ণার সুমিত পাসির বুকে লেগে গোলে ঢুকে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে ভিন্ন ছবি। সমতা ফেরানোর জন্য শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে ইমামি ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যে দুদুটি সুযোগও তৈরি হয়। ৪৭ মিনিটে ক্লেইটন সিলভার সেন্টার এটিকে মোহনবাগান রক্ষণে বিপদমুক্ত হয়ে ফিরলে ফিরতি বলে শট নেন অনিকেত যাদব। বল অল্পের জন্য বাইরে যায়। এক মিনিট পরেই সেই ক্লেইটন সিলভার সেন্টার এটিকে মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে একা পেয়েও জালে রাখতে পারেননি সুমিত পাসি। গোলটি করতে পারলে ভুলের প্রায়াশ্চিত্য হত।The only way to celebrate a Derby goal! 💚️#ATKMohunBagan #JoyMohunBagan #AmraSobujMaroon pic.twitter.com/1GyJO7VW44 ATK Mohun Bagan FC (@atkmohunbaganfc) August 28, 2022৫৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। ইভান গঞ্জালেসের ভুলে বক্সের ঠিক মাথায় বল পেয়ে যান আশিক কুরুনিয়ান। বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে শট নেন। তাঁর সেই শট দারুণ তৎপরতার সঙ্গে বাঁচান লালহলুদ গোলকিপার। ৫৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে লুজ বল পেয়ে যান পোগবা। তাঁর শট গোললাইন থেকে বাঁচান কিরিয়াকু।দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ প্রতিআক্রমণে খেলাটা দারুণ জমে উঠেছিল। দুই দলই ইতিবাচক ফুটবল খেলায় গোলের সুযোগও তৈরি হয়। তবে কাজে লাগাতে পারেনি। ৭২ মিনিটে ডানদিক থেকে উঠে এসে দারুণ সেন্টার করেছিলেন ইভান গঞ্জালেস। ক্লেইটন সিলভার হেড সরাসরি সবুজমেরুণ গোলকিপার বিশাল কাইথের হাতে চলে যায়। ৭৪ মিনিটে বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন এটিকে মোহনবাগানের কার্ল ম্যাকহিউ।

আগস্ট ২৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বির আগে হতাশ লালহলুদ কোচ কনস্টানটাইন, চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন জুয়ান ফেরান্দো

ডার্বির আগে সমস্যায় ইমামি ইস্টবেঙ্গল। প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত। দল নিয়ে অনুশীলনেই নামতে পারলেন না স্টিফেন কনস্টানটাইন। বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করার পর ফুটবলারদের নিয়ে হোটেলে ফিরে গেলেন লালহলুদ কোচ।এদিন ক্লোজ ডোর অনুশীলনের পরিকল্পনা ছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গল কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইনের। কিন্তু অনুশীলন শুরুর আগে প্রবল বৃষ্টি। ফলে পরিকল্পনায় ব্যাঘাত। ডুরান্ড কাপে দুদুটি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তাঁর দলের। এখনও জয়ের মুখ দেখেনি ইমামি ইস্টবেঙ্গল। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ডার্বিতে জেতা ছাড়া রাস্তা নেই। কিন্তু শক্তিশালী এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে লালহলুদ ব্রিগেড কতটা জ্বলে উঠতে পারে, সেটাই দেখার।শক্তির বিচারে জুয়ান ফেরান্দোর এটিকে মোহনবাগান অনেকটাই এগিয়ে। ইমামি ইস্টবেঙ্গলের মতো এখনও জয় পায়নি সবুজমেরুণ শিবির। পয়েন্টের বিচারে লালহলুদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ডার্বি ম্যাচ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ডার্বিতে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, ডার্বির আবেগ সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল। আমি এই ম্যাচকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না। অতীতের পরিসংখ্যানকে আমি কখনও গুরুত্ব দিই না। কে কটা ম্যাচ জিতেছে তার কোনও প্রভাব রবিবারের ম্যাচে পড়বে না। আমাদের লক্ষ্য হল তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা। আশা করি সেটাই হবে। ইমামি ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাঁর দল যে চাপে নেই, সেকথাও পরিস্কার করে দিয়েছেন ফেরান্দো। তিনি বলেন, ডার্বি নিয়ে কোনও চাপ নেই। শেষ দুটো ম্যাচে জিততে পারিনি বলে হতাশ হলেও চিন্তিত নই। গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জিততেও পারতাম। খারাপ খেললে বা গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারলে চাপ থাকত। একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলে নেমে পড়েছি ডুরান্ডে। দল সবে তৈরি হয়েছে। কিছু ভুলত্রুটি হচ্ছে। আশা করছি ডার্বিতে সেটা হবে না।এদিকে, ডার্বির আগে অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে হতাশ ইমামি ইস্টবেঙ্গল কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন। তিনি বলেছেন, অনুশীলনটা খুবি জরুরি ছিল। এটা কঠিন ম্যাচ। আমরা অনেক দেরিতে প্রস্তুতি শুরু করেছি। উন্নতি করার অনেক জায়গা রয়েছে। আমরা এখনও ম্যাচ ফিট হওয়ার চেষ্টা করছি। সব ম্যাচেই আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। রবিবারের ম্যাচেও সেটাই করব। এই ম্যাচ আমাদের সামনে আরও একটা সুযোগ।আই লিগ ও আইএসএল মিলিয়ে শেষ পাঁচটি সাক্ষাতে এগিয়ে পালতৌলা নৌকা। ইস্টবেঙ্গল শেষবার মোহনবাগানকে হারিয়েছে ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি। করোনা অতিমারী পরিস্থিতিতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হয়েছে আইএসএল ডার্বি। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারির পর ফের যুবভারতীতে বসছে বড় ম্যাচের আসর। ডুরান্ড কাপে কলকাতার বড় ম্যাচে পারস্পরিক দ্বৈরথে লাল হলুদের জয় ৮টি ম্যাচে, ৬টিতে জিতেছে সবুজ মেরুন, পাঁচটি ড্র।

আগস্ট ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে মোহনবাগানের পথে ইস্টবেঙ্গল

ডার্বির ড্রেস রিহার্সাল মোটেই সুখের হল না ইমামি ইস্টবেঙ্গলের কাছে। রাজস্থান ইউনাইটেডের কাছে আটকে যেতে হল লালহলুদ ব্রিগেডকে। সুহের, সুমিত পাসিদের অজস্র গোলের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে। ম্যাচের ফল গোলশূন্য।রবিবার এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ। তার আগে প্রথম একাদশ বেছে নেওয়ার জন্য রাজস্থান ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচই ছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গলের কাছে ড্রেস রিহার্সাল। এদিন প্রথম একাদশে চারচারটি পরিবর্তন করে দল সাজিয়েছিলেন লালহলুদ কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন। দুই বিদেশি অ্যালেক্স লিমা ও কিরিয়াকু প্রথম একাদশে। সঙ্গে আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে নামা তুহিন দাস ও জেরি। আগের ম্যাচে মাত্র একজন গোলকিপার নিয়ে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। এদিন রিজার্ভ বেঞ্চে নবীন কুমার।রাজস্থান ইউনাইটেডের কাছে হারতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। তাই এদিন সতর্ক হয়ে মাঠে নেমেছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য লালহলুদের আধিপত্য। ভিপি সুহের, সুমিত পাসিরা একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন। ১৭ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ইমামি ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠে এসে সেন্টার করেন সুহের। সামনে রাজস্থান ইউনাইটেডের গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে হেড করেন সুমিত। এক মিনিট পরেই সুহেরের সুযোগ নষ্ট। ২৬ মিনিটে অমরজিৎ সিংয়ের দুর্দান্ত শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। পেনিট্রেটিভ জোনে সুহের, সুমিত, অমরজিৎরা আর একটু তৎপর হলে প্রথমার্ধেই ৩ গোলে এগিয়ে যেত ইমামি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে দুদুটি পরিবর্তন করেন স্টিফেন কনস্টানটাইন। কিরিয়াকুর জায়গায় ইভান গঞ্জালেস ও অমরজিৎ সিংয়ের জায়গায় সৌভিক চক্রবর্তী। প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে লালহলুদের আক্রমণের ঝাঁঝ বেশি ছিল। তবে গোলের মুখ খুলতে পারেননি সুমিত পাসি, সুহের। বরং রাজস্থান ইউনাইটেডের সামনে জয়ের সুযোগ এসে গিয়েছিল। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি পায় রাজস্থান। বারবোসার শট ঝাঁপিয়ে বাঁচান লালহলুদ গোলকিপার কমলজিৎ। শেষদিকে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আলেজান্দ্রোকে। তাতেই লাভের লাভ কিছু হয়নি। পরপর দুটি ম্যাচ ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কাজ কঠিন করে ফেলল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। এটিকে মোহনবাগানের মতোই অবস্থা লালহলুদের।

আগস্ট ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মুম্বইয়ের কাছে আটকে গিয়ে চাপ বাড়ল এটিকে মোহনবাগানের

২৮ আগস্ট ডুরান্ত কাপের ডার্বি। তার আগে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে এটিকে মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে রাজস্থান ইউনাইটেড এফসির কাছে হার। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে জয়ের আশায় রীতিমতো শক্তিশালী দল নামিয়েছিলেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তাতেই হাল ফিরল না এটিকে মোহনবাগানের। দ্বিতীয় ম্যাচে জয় অধরা। মুম্বই এফসির সঙ্গে ড্র করে চাপে পড়ে গেল সবুজমেরুণ। ম্যাচের ফল ১১। ২৮ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জিততে না পারলে ডুরান্ত থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে জুয়ান ফেরান্দোর দলের। গত মরশুমে আইএসএলে সবুজমেরুণের সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিলেন লিস্টন কোলাসো। রাজস্থান ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেও পুরনো ছন্দে ছিলেন। একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। এদিনও শুরু থেকেই দারুণ দাপট দেখান কোলাসো। উইং দিয়ে বারবার ভেতরে ঢুকে ব্যতিব্যস্ত রাখছিলেন মুম্বই সিটি এফসি ডিফেন্সকে। রাজস্থান ম্যাচের ভুলের প্রায়াশ্চিত্য করেন লিস্টন। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই প্রাধান্য ছিল এটিকে মোহনবাগানের। ২ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত সবুজমেরুণ। বক্সের মাথা থেকে নেওয়া লিস্টন কোলাসোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মিনিট দশেক পরে আরও একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু শট নিতে দেরী করায় গোল পাননি। ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। আশিস রাই গোললাইনে পৌঁছে সেন্টার করেন। মুম্বই সিটি গোলকিপার ফুরবা লাচেনপা বল বিপন্মুক্ত করতে যান। তাঁর হাতে লেগে বল চলে যায় লিস্টন কোলাসোর কাছে। ডানপায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন লিস্টন। প্রথমার্ধেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই সিটি এফসি। কিন্তু গ্রেগ স্টিওয়ার্টের পাস থেকে বিপিন সিং-এর শট বাঁচিয়ে দেন এটিকেএমবির গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।৬৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। কিয়ান নাসিরির পাস থেকে মনবীর সিং শট নেওয়ার আগে গ্রিফিটের চ্যালেঞ্জ কোনও বিপদ তৈরি হয়ে দেয়নি মুম্বইয়ের জন্য। ৭৭ মিনিটের মাথায় মুম্বই সিটি এফসির হয়ে ম্যাচে সমতায় ফেরান জর্জে পেরেইরা ডিয়াজ। সঞ্জীব স্ট্যালিনের পাস থেকে হেডে মুম্বইকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। ম্যাচের একে বারে শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল এটিকে মোহনবাগান কিন্তু শেষ মুহূর্তের শটটি লক্ষ্যে ছিল না। এই ম্যাচে ড্র-এর ফলে দুই ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের পয়েন্ট দাঁড়াল ১ এবং চার দলের গ্রুপে তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

আগস্ট ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাগানের মতো হাল হল না লালহলুদের, প্রথম ম্যাচে ড্র ইস্টবেঙ্গলের

লালহলুদ সমর্থকরা স্বপ্ন দেখতেই পারেন। মরশুমের প্রথম ম্যাচে ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে অন্তত এটিকে মোহনবাগানের মতো মুখ থুবড়ে পড়তে হল না। ডুরান্ড কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় নৌ বাহিনীর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। একাধিক সুযোগ নষ্ট করে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করলেন পিভি সুহেররা। জয় না এলেও এদিন যথেষ্ট ভাল ফুটবল উপহার দিয়েছে লালহলুদ ব্রিগেড।মরশুমের প্রথম ম্যাচ যে কোনও দলের কাছেই কঠিন। তার ওপর অন্য দলগুলির তুলনায় অনেক দেরিতে প্রস্তুতিতে নেমেছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। বিদেশিরাও দলে যোগ দিয়েছেন দেরিতে। ফলে এখনও সেভাবে দলকে গুছিয়ে নিতে পারেননি স্টিফেন কনস্টানটাইন ও তাঁর সহকারী বিনু জর্জ। তার মধ্যেই যতটা সম্ভব বোঝাপড়া তৈরি করে নিয়েছেন।এদিন ভারতীয় নৌ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদেশি ছাড়াই প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন কনস্টানটাইন। শুরুতেই চোট পেয়ে বেরিয়ে যান মহেশ সিং। তাঁর পরিবর্তে তুহিন দাসকে মাঠে নামান লালহলুদ কোচ কনস্টানটাইন। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে নজরকাড়া ফুটবল উপহার দিলেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর দিক দিয়েই এদিন ইস্টবেঙ্গলের অধিকাংশ আক্রমণ গড়ে ওঠে। বলের দখল বেশি থাকলেও প্রথমার্ধে সেরকম সহজ সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইমামি ইস্টবেঙ্গল। তার মধ্যেই ২১ মিনিটে অমরজিৎ সিং গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারেননি।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি পরিবর্তন করেন স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। অ্যালেক্স লিমার সঙ্গে মাঠে নামান রাকিপকে। রাকিপকে রাইট ব্যাকের জায়গায় নামিয়ে সুমিত পাসিকে আক্রমণভাগে তুলে দেন। এরপর মাঠে নামান মহীতোষ রায় ও শৌভিক চক্রবর্তীকে। প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে অনেকবেশি আক্রমণাত্মক ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৫৩ মিনিটে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন সুমিত পাসি। তাঁর শট পোস্টে লাগে। ৭৫ মিনিটে একা গোলকিপারকে সামনে পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। ৮২ মিনিটে তুহিনের সেন্টার ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারেননি সুহের। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে জিতেই মাঠ ছাড়ত ইস্টবেঙ্গল।

আগস্ট ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল এটিকে মোহনবাগান!‌ অঘটন রাজস্থানের

ডুরান্ড কাপে চ্যাম্পিয়নের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল এটিকে মোহনবাগনকে। ধারেভারে অন্য দলগুলির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। এইরকম শক্তিশালী দলই কিনা ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ল! জুয়ান ফেরান্দোর দলকে ৩২ ব্যবধানে হারিয়ে অঘটন ঘটাল রাজস্থান ইউনাইটেড। তুলে নিল রুদ্ধশ্বাস জয়। দুদুবার এগিয়ে গিয়েও সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল এটিকে মোহনবাগানকে।শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল এটিকে মোহনবাগান। প্রতিপক্ষ রাজস্থান ইউনাইটেড ধারেভারে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। তাসত্ত্বেও এদিন দারুণ ফুটবল উপহার দিল। যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই সবুজমেরুণের প্রাধান্য ছিল। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও হেলায় নষ্ট করেন আশিক কুরুনিয়ান, কিয়ান নাসিরিরা। ম্যাচের ৪০ মিনিট পর্যন্ত কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে কিয়ান নাসিরি গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন। মিনিট তিনেক পরেই প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে রাজস্থান ইউনাইটেডের হয়ে সমতা ফেরান আমনজেলদিয়েভ। এরপর ৪৬ মিনিটে আশিক কুরুনিয়ানের গোলে ফের এগিয়ে যায় সবুজ মেরুন।দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এটিকে মোহনবাগান। কিয়ান নাসিরি, জনি কাউকোদের বেশ কয়েকটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন রাজস্থান ইউনাইটেডের গোলকিপার নীরজ কুমার। ৬১ মিনিটে রেমসাঙ্গার গোলে সমতা ফেরায় রাজস্থান ইউনাইটেড। ৭৬ মিনিটে এটিকে মোহনবাগানের হয়ে সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর সিং। ফাঁকা গোল পেয়েও তিনি ক্রসবারে মারেন। ৭৯ মিনিটে রাজস্থানের উইলিয়ামসও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।শেষ ১০ মিনিটে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এটিকে মোহনবাগান। কিয়ান, মনবীর, আশিস রাইরা সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে বাজিমাত রাজস্থান ইউনাইটেডের। একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন নিকুম। শেষ অবধি জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে আসতে হল এটিকে মোহনবাগানকে।

আগস্ট ২০, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 13
  • ...
  • 71
  • 72
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দু’মাস কোথায় ছিলেন? ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত, জানালেন সব

দুমাস ধরে পুলিশের খোঁজের বাইরে ছিলেন তিনি। তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পরপর দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তদন্তকারীদের দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি প্রতারণার মামলায় শনিবার সুমিতকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। রবিবারও তাঁকে ফের ডাকা হয়। এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুমিত। তবে মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বেশির ভাগ বিষয়েই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।গত দুমাস কোথায় ছিলেন, সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন করলে প্রথমে সুমিত বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। পরে একই প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, এদিকে, আশপাশেই ছিলাম। তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি কলকাতাতেই ছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এত দিন আত্মগোপনে থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে সুমিত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই তো মেনে চলছি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। সেবাশ্রয়-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁর নাম জড়ানোর প্রসঙ্গ উঠলে বলেন, মন্তব্য করতে পারব না।তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, হতে পারে। তবে কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ যখনই ডাকবে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সুমিত বলেন, বাজে কথা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায়। তৃণমূলের গাড়িতে করে সেখানে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে সুমিত বলেন, যে অফিসে কাজ করি, সেই অফিস থেকে গাড়িটা দিয়েছে।এদিকে সুমিত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে আগামী দিনেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত ডেবরার মামলায় তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাল ১১টার সময় ডেকেছে। তবে এদিন কোনও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।শালবনীর জমি প্রতারণা মামলা-সহ সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিসও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন তিনি। পরপর দুদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের দুমাস কোথায় ছিলেনএই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal