• ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

বিদেশ

বিদেশ

রাশিয়ার তেল কিনলেই কি ১০০ শতাংশ শুল্ক? ট্রাম্পের সইয়ের পর ভারতের সামনে নতুন বিপদ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার নতুন বিলে সই করেছেন। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি বিলটিতে সই করেন। এর ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলির পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে দেওয়া হয়েছে। তবে এই আইন সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসে যায়নি। শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, তা মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।আইনটির আওতায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস ক্রেতা দেশগুলির পণ্যে শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য করতে সাহায্য করা দেশ বা সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলির উপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সেই কারণে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারতের উপর সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ভারতীয় পণ্যের উপর নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছেএমন কোনও ঘোষণা নেই।নতুন আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি রুশ প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা হয়েছে। রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য।ভারত অবশ্য আগেই জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪০ কোটি মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দিল্লি।ভারতের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি।অর্থাৎ, ট্রাম্পের সইয়ের পর ভারতের সামনে ১০০ শতাংশ শুল্কের সম্ভাবনার দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু সেই শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছেএমনটা নয়। আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসন এই নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাশিয়ার তেল কেনা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও তাই নজর থাকবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
বিদেশ

মক্কা কি সত্যিই নিশানায়? ড্রোন হামলার দাবি নিয়ে মুখোমুখি সৌদি ও হাউথি

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি এবং সৌদি আরবের সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদির দাবি, মঙ্গলবার পবিত্র শহর মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কড়া উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত।সৌদির দাবি অনুযায়ী, হাউথিরাই ওই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে মক্কার পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে এমন হামলার অভিযোগ এই প্রথম বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ড্রোনটি মক্কার ঠিক কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে সৌদির তরফে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি।সৌদির এই দাবি অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছে হাউথিরা। বুধবার গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল সৌদির তেলের ভাণ্ডার এবং সামরিক ঘাঁটি। তাঁর বক্তব্য, সেই লক্ষ্যগুলি মক্কা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। মক্কাকে নিশানা করে হামলার যে দাবি সৌদি করেছে, তা মিথ্যা বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।এর ফলে মক্কার কাছে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সৌদি বলছে, হাউথির ড্রোন মক্কার দিকে এগিয়েছিল এবং আকাশেই সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য দিকে হাউথির দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল মক্কা থেকে দূরে সৌদির তেল ও সামরিক পরিকাঠামো।এই ঘটনার পর মক্কার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মক্কার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে পবিত্র শহরের কাছাকাছি কোনও সামরিক হামলার অভিযোগ স্বাভাবিক ভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।মক্কার কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোকে বিপদের মধ্যে ফেলার যে কোনও প্রচেষ্টার কড়া নিন্দা করেছে ভারত।রণধীর আরও বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মক্কার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণে মক্কার কাছাকাছি হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আশাও প্রকাশ করেছে ভারত।অন্য দিকে, হাউথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে। সৌদির পশ্চিম উপকূল লক্ষ্য করে হাউথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই মক্কার কাছে ড্রোন হামলার দাবি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।তবে মক্কার কাছে ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে এসেছিল, তার লক্ষ্য কী ছিল এবং সৌদির দাবি অনুযায়ী সেটি কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। ফলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে সৌদি আরব ও হাউথিদের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই নজর রয়েছে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিদেশ

জঙ্গিকে ধরতে পুরস্কার বাড়ল, তবু কি ‘চোখে ধুলো’ পাকিস্তানের? মাসুদ আজহারকে ঘিরে রহস্য

ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা মাসুদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতেই কি এমন পদক্ষেপ করল ইসলামাবাদ?মাসুদ আজহার ভারতের একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। ওই আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের নেপথ্যে থাকা মাসুদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছে।২০২১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা মাসুদ আজহারকে গ্রেফতারির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের দাবি ছিল, জইশ প্রধান পাকিস্তানে নেই, আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাসুদ বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহ এলাকায় রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন রেড বুকে মাসুদের নাম রাখা এবং পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো পাকিস্তানের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।এর মধ্যেই পাকিস্তানের প্রকাশিত নতুন রেড বুক ঘিরেও চর্চা শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় অর্থ জোগান, হামলাকারীদের নৌকা ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে ১৯ জনের নাম সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তালিকায় থাকা ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের ছবি এবং তাঁদের কার্যকলাপের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও বাকি দুজনের ক্ষেত্রে শুধু নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব।ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপকে শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা হিসেবে দেখার আগে তার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাসুদ আজহারের অবস্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর ফারাক রয়েছে।এখন প্রশ্ন, এফএটিএফের বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের মাথার দাম ২০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। পাকিস্তান সত্যিই মাসুদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করে কি না, নাকি এটি কেবল আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল, তা নিয়েই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিদেশ

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা! ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার ন্যাটোর দরজায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার পশ্চিম ইউক্রেনে ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলায় ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ২০৬ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের একটি রেল সংস্থার পরিচালিত ওই ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল। পথে আচমকাই ট্রেনটির উপর একের পর এক রুশ ড্রোন হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর প্রায় ছঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে গোটা ইউরোপেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পোল্যান্ডের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সদস্যদেশগুলির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।তবে রবিবারের ঘটনাটিকে সরাসরি পোল্যান্ডের উপর রুশ হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মতে, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এমন ঘটনা ন্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর প্রস্তুতি ও ঐক্য পরীক্ষা করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। সে ক্ষেত্রে গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।তবে রবিবারের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলার অভিযোগ নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাইরাশিয়া যদি সত্যিই পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তখন ন্যাটো কী পদক্ষেপ করবে?

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিদেশ

বৈধ ভারতীয় ভিসা, তবু মিলল না ছাড়পত্র! পাকিস্তানে হেনস্থা ১০৪ শিখ তীর্থযাত্রীকে

শিখ তীর্থস্থান পরিদর্শনের জন্য ভারতে গমনকারী মোট ১০৪ জন পাকিস্তানি শিখ তীর্থযাত্রী শুক্রবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে আটকে পড়েন, কারণ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে অতিরিক্ত ছাড়পত্রের নথি দাবি করে। ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁরা আটকে থাকেন। তীর্থযাত্রীদের মতে, প্রথমে ওয়াঘা-আটারি স্থল সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি, এরপর তাঁরা মোটা টাকা দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট কেনেন। ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কর্মকর্তারা তাদের থামিয়ে দেন এবং পাকিস্তান সরকার, স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে এনওসি দাবি করেন। ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে তীর্থযাত্রীরা শুক্রবার সারা রাতা তাদের টার্মিনালে কেটে যায়।বিমানবন্দরে নিজের ভিসার কাগজপত্র দেখিয়ে এক তরুণ তীর্থযাত্রী বলেন, আমাদের কাছে ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ ভিসা রয়েছে। কোনও বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত এনওসি প্রয়োজন হবে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের আগে থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। যদি সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনই থাকত, তাহলে শুরুতেই আমাদের এত দামী টিকিট কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কেন? ধর্ম এবং তীর্থযাত্রাকে রাজনৈতিক বিবাদ থেকে আলাদা রাখা উচিত। এই দলটি ভারতজুড়ে প্রধান শিখ তীর্থস্থানগুলিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিল, যার মধ্যে রয়েছে গুরুদ্বার শ্রী হেমকুন্ত সাহেব, অমৃতসরের শ্রী হরমন্দির সাহেব (গোল্ডেন টেম্পল) এবং দিল্লি ও পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক গুরুদ্বারগুলি।অবিলম্বে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে, প্রতিনিধিদলের নেতারা শ্রী আকাল তখত সাহেবের জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গারগাজ্জ, এসজিপিসি সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামি এবং দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটির (ডিএসজিএমসি) সভাপতি হরমীত সিং কালকাসহ বিশিষ্ট ভারতীয় শিখ ব্যক্তিত্বদের কাছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আবেদন জানান। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ধামি এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন: তীর্থযাত্রীদের থামানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই শিখ তীর্থযাত্রীরা, যাঁরা ইতোমধ্যেই ভারত সরকারের কাছ থেকে বৈধ ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁদের ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। যদি স্থলপথে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাঁদের আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত করা এই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
বিদেশ

দিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে আজই বৈঠক! ব্রিকসের মঞ্চে কী বার্তা দেবে ভারত-রাশিয়া-চিন?

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার তিন দিনের ভারত সফরে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তাঁর বিমান অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। তার আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বানি, প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি রুশ প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে সরে এসে শান্তির পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিন বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।শুধু পুতিন নন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে একই মঞ্চে ভারত, রাশিয়া ও চিনের তিন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে আমেরিকার বাণিজ্যনীতি, একতরফা শুল্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ভারত, চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন থেকে আমেরিকার উদ্দেশে কোনও বার্তা যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।পুতিন ও জিনপিং ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।সব মিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। যুদ্ধ, বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন ব্রিকসের মঞ্চ থেকে কোনও বড় বার্তা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বজুড়ে চলা একের পর এক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনও নতুন পথ কি দেখাতে পারবে ব্রিকস?

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিদেশ

গালওয়ানের ক্ষত এখনও তাজা, তার মধ্যেই দিল্লিতে শি! মোদির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে চর্চা

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শির ভারত সফরের কথা নিশ্চিত করেছে বেজিং।ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। ফলে সাত বছর পর ফের ভারতে আসছেন শি জিনপিং। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটাই হতে চলেছে শির প্রথম ভারত সফর।সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে। যদিও এমন বৈঠক হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর দুই দেশই সম্পর্কের উন্নতির রাস্তা খুঁজতে পারে।ভারত ও চিনের সম্পর্কে অবিশ্বাসের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ সেই সম্পর্কে আরও বড় ধাক্কা দেয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেছিল।গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন এলাকা নিয়ে টানাপড়েন এবং একাধিক কূটনৈতিক বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, ব্রিকসের মঞ্চে কি মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে? যদি বৈঠক হয়, তবে সীমান্ত সমস্যা, সামরিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু বা তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল মোদি এবং শি জিনপিংকে। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে করমর্দন হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি।এবার দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেদিকেই নজর থাকবে। গালওয়ানের পর প্রথম বার ভারতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বার্তা দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

ভারতে আসছেন না তারেক রহমান! ব্রিকস সামিটের আগে হঠাৎ বদল বাংলাদেশের পরিকল্পনা

ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস বৈঠকে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে বিএনপির সামাজিক মাধ্যমের পাতাতেও বিষয়টি জানানো হয়।ব্রিকস বৈঠকে তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, ব্রিকস সামিটে যোগ দিতে ভারতে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানকে ব্রিকস বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসাবে। এই কারণেই তিনি ব্রিকস সামিটে যোগ দিতে ভারতে আসছেন না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।শুধু তারেক রহমানই নন, বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধিও ব্রিকস বৈঠকে যোগ দেবেন না বলে জানানো হয়েছে। ফলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বৈঠকে বাংলাদেশের উপস্থিতি থাকছে না বলেই স্পষ্ট হয়েছে।বিমস্টেক হল বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের একটি আঞ্চলিক জোট। এই জোটে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, নেপাল এবং ভুটান। বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসাবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিই ব্রিকস বৈঠকে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছিল।তবে ব্রিকস বৈঠকে না গেলেও তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের ব্যবস্থা করছে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে আসবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।এর আগে চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বর মাসে তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে সেই সফর নিয়ে ভারত বা বাংলাদেশের কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।ফলে ব্রিকস সামিটে তারেক রহমানের উপস্থিতি নিয়ে জল্পনার অবসান হলেও তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বার্তা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

কোমরে শিকল, রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হল কিশোরীকে! ভিডিও ভাইরাল হতেই হতবাক নেটিজেন

বাংলাদেশের সিলেট নগরীতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ভিডিয়োতে কিশোরীকে শিকল দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তালিবানি কায়দা চলছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন।ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। শাহজালালপুরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানে চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ১৬ বছরের ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে।এর পর রাত ১১টা নাগাদ কিশোরীর কোমরে শিকল বাঁধা হয় বলে অভিযোগ। তাকে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনার ভিডিয়ো পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়োতে কিশোরীকে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে দেখা যায় এবং কয়েক জন তাকে শিকল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে উদ্ধার করে শাহপরাণ থানার পুলিশের কাছে নিয়ে যান।ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশও নড়েচড়ে বসে। মঙ্গলবার ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার পর তিন জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের নাম জাকির হোসেন, তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন এবং বুরহান উদ্দিন।শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োর ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।অন্য দিকে, কিশোরীর বিরুদ্ধেও চুরির চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকেও আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে এমন আচরণ করা হল কেন, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে তিন জন গ্রেফতার হলেও গোটা ঘটনা নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
বিদেশ

দেশে ফেরার ঘোষণা, তার আগেই প্রকাশ্যে হাসিনার সম্পত্তির হিসাব! কত টাকার মালিক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী?

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর সম্পত্তির হিসাব নিয়ে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশে গণহত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে হাসিনার হলফনামা, যেখানে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।হলফনামায় দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় শেখ হাসিনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। তাঁর হাতে নগদ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা জমা ছিল বলে ওই হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে।শুধু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকাই নয়, শেখ হাসিনার নামে কৃষিজমিও রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর কৃষিজমির পরিমাণ ১৫ বিঘার বেশি। তাঁর নামে মোট তিনটি গাড়ি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি উপহার হিসেবে পাওয়া। সেই গাড়ির মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। অন্য দুটি গাড়ির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা।হলফনামায় সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার বাংলাদেশি টাকা বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে হলফনামায় শেখ হাসিনার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি নিজের দেশে ফিরতে চান এবং ফিরবেনই। ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যায় না। দেশে ফেরা তাঁর কাছে ক্ষমতায় ফেরার বিষয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়।হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারেন না। নিজের দেশ এবং আপনজনদের কাছে তাঁকে ফিরতেই হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তৈরি করেছে।উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার কথাও সামনে এসেছে। তাঁকে বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণ করা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনও চলছে বলে জানা যাচ্ছে।এরই মধ্যে গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। সেখানেও দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান হাসিনা। তাঁর এই বক্তব্য এবং একই সময়ে প্রকাশ্যে আসা সম্পত্তির হিসাব ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বিদেশ

মস্কোয় ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার আটক! জোর করে রুশ সেনায় যোগ দেওয়ানোর অভিযোগ, কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রীর আর্জি

মস্কোয় আটক ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার চন্দন গুপ্তা। তাঁর স্ত্রী স্নেহা গুপ্তার দাবি, কোনও অপরাধ না করেও তাঁর স্বামীকে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে। তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্নেহা। তবে ঠিক কী কারণে চন্দনকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।জানা গিয়েছে, চন্দন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। স্ত্রী স্নেহা এবং ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই মস্কোয় থাকছিলেন তিনি। রবিবার দুপুরে মস্কো পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে পরিবারের দাবি। এর পরেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন স্নেহা।সেই ভিডিওতে স্নেহা জানান, চন্দন নয়ডার একটি সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেন। চাকরির সূত্রেই সংস্থাটি তাঁকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। পরে বৈধ কাজের ভিসা নিয়ে স্ত্রী এবং সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মস্কোয় যান চন্দন। সেখানে থাকার সময়ই তাঁকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ।স্নেহার দাবি, তাঁর স্বামী কোনও অন্যায় করেননি। তা সত্ত্বেও তাঁকে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেই বিষয়ে পরিবারকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি বলেও দাবি তাঁর।এরই মধ্যে আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্নেহা। তাঁর দাবি, চন্দনকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।স্বামীকে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে চন্দনের পরিবার। স্নেহার কথায়, ১০ বছরের সন্তানকে নিয়ে তিনি মস্কোয় কার্যত অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি রুশ ভাষা বুঝতে পারেন না। ফলে তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটছে, কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা জানতেও সমস্যায় পড়ছেন।কান্নায় ভেঙে পড়ে স্নেহা আবেদন জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। অন্য দিকে, চন্দনকে ঠিক কোন অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর স্ত্রীর করা রুশ সেনায় যোগ দেওয়ানোর অভিযোগও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গোটা বিষয়টি নিয়ে পরিবারের তরফে সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
বিদেশ

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে বড় খবর বাংলাদেশ থেকে! আরও দুই মামলায় জামিন, তবে এখনই মুক্তি নয়

বাংলাদেশ হাই কোর্টের নির্দেশে আরও দুটি মামলায় জামিন পেলেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। রবিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এই জামিন মঞ্জুর করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পুলিশি কাজে বাধা এবং ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। সেই দুই মামলাতেই এ দিন জামিন পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তবে এই জামিনের পরেও এখনই তাঁর জেলমুক্তি হচ্ছে না।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন এখনও স্থগিত রয়েছে।বাকি চারটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় ইতিমধ্যেই হাই কোর্ট জামিন দিয়েছে। অন্য দুটি মামলায় জামিনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে। ফলে একাধিক মামলায় আইনি লড়াই এখনও চলছে।২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।এর পাশাপাশি হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগেও একাধিক মামলা হয়। সেই মামলাগুলির মধ্যেই কয়েকটিতে এখন আদালত থেকে জামিন মিলছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ঘটনায় ভারতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দিল্লির তরফে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। সেই সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গ্রেফতার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।ভোটের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগোচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের একাধিক মামলায় জামিনের বিষয়টিও নতুন করে নজরে এসেছে।তবে দুই মামলায় জামিন পেলেও এখনও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ফলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কবে জেল থেকে মুক্তি পাবেন, তা নির্ভর করছে বাকি মামলাগুলির আদালত-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আচমকা কড়া নিয়ম! বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে লাগবে সরকারি অনুমতি

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বলেন্দ্র শাহর সরকার। সরকারি অনুমতি ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না বিদেশি সাংবাদিকেরা। সেখানে যেতে হলে সরকারি অনুমতিপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিও সঙ্গে রাখতে হবে।নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিদেশি সাংবাদিকদের আগে সরকারি দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সেই আবেদন করতে হবে।আবেদনের সময় সাংবাদিকদের বৈধ ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র-সহ পাসপোর্টের অনুলিপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি যে সংবাদমাধ্যমে তিনি কাজ করেন, সেই সংস্থার সুপারিশপত্রও প্রয়োজন হবে। যে দেশ থেকে সাংবাদিক নেপালে এসেছেন, সেই দেশের দূতাবাস বা বিদেশ মন্ত্রকের সুপারিশপত্রও জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে সাংবাদিক হিসাবে নিজের পরিচয়পত্রও দেখাতে হবে।নেপাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদন খতিয়ে দেখার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ১৫ দিন। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষ সাহায্যকেন্দ্রও চালু রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।তবে আচমকা বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে এত কড়া নিয়ম কেন জারি করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নেপাল সরকারের তরফে এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফলে নতুন নির্দেশকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে চিনকে ঘিরে। কারণ, যে এলাকাগুলিতে বন্যার খবর সংগ্রহে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে, তার একটি বড় অংশ উত্তর নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে। এই কারণে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকেই বিদেশি সাংবাদিকদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে চিনের চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।এর আগে বন্যাবিধ্বস্ত ওই এলাকায় বিদেশি সাহায্য নিয়েও নেপাল সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছিল বলে জানা যায়। পরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এবার বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম জারি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামে বলে জানা গিয়েছে। তার জেরে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার জেরে বহু মানুষ নিখোঁজ এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৪৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান চলতে থাকায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নেপাল সরকারের নতুন নির্দেশিকা তাই নতুন করে নজর কেড়েছে। নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দুই দূত! তার মধ্যেই তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ করল রাশিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের তৎপর আমেরিকা। সেই লক্ষ্যেই শনিবার মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তাঁদের সফরের মধ্যেই বড় ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী তিন দিন ইউক্রেনে কোনও হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছে মস্কো।রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বার বার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বড় কোনও সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই ফের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা শুরু করেছে আমেরিকা।এর আগে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক বার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের মস্কো সফরকে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতেরা রাশিয়া সফরে থাকাকালীন কিয়েভের তরফে কোনও বিমান হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে মস্কোকেও একই পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা এবং মার্কিন দূতদের সফর সুষ্ঠু ভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত।এর পরেই শনিবার রাশিয়ার তরফে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়। পুতিনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই তিন দিনের বিরতি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।জানা গিয়েছে, স্থায়ী ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় গিয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। সেই প্রস্তাবে ঠিক কী রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে এই সফরকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী রবিবার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন দূতদের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। ফলে মস্কো এবং কিয়েভদুই জায়গাতেই আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর পথ খোঁজা হচ্ছে।তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগেও ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার কিয়েভের নিরাপত্তা পরিষেবার সদর দফতর-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে মস্কোর বিরুদ্ধে। পাল্টা রাশিয়ার ভূখণ্ডেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।এই পরিস্থিতিতে পুতিনের তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বিরতি কতটা কার্যকর হয় এবং এর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক, নেপালে বাড়ল আশার আলো

কাঠমান্ডু: ভয়াবহ বন্যার জেরে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গে আটকে পড়ার নয় দিন পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ এবং কবীর মহার্জনকে। সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার ভিতরে তাঁদের সন্ধান মেলে। তাঁদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা নতুন করে জোরালো হয়েছে।৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মেকানিক্যাল ফোরম্যান। গত ২৬ অগস্ট ত্রিশুলি উপত্যকায় বন্যা আছড়ে পড়ার সময় অন্য কর্মীদের বেরিয়ে যেতে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি নিজেই আটকে পড়েন। পরবর্তী নয় দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গেই কাটাতে হয় তাঁকে। উদ্ধারকারীদের তিনি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখতে মন্ত্র জপ করতেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।বন্যার সময় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে সাধারণত চার থেকে ছজন কর্মী থাকলেও সেদিন সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাহ। বিপদের খবর পেয়ে তিনি অন্যদের দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু নিজে আর বেরোতে পারেননি। তাঁর কথায়, এত বড় বিপদের সময় অন্যদের ফেলে পালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।উদ্ধার অভিযানও ছিল অত্যন্ত কঠিন। বন্যার স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। পুরনো মানচিত্র, উপগ্রহচিত্র, হেলিকপ্টারের ভিডিয়ো এবং এলাকার বিদ্যুতের খুঁটির অবস্থান দেখে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করেন। এরপর শুরু হয় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ।বিশাল আকারের পাথর সরাতে ব্যবহার করা হয় খননযন্ত্র। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করতে হয়েছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বার করতে পাম্প এবং নিকাশি পথও তৈরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে একজন মানুষ যাতায়াত করতে পারে এমন সরু পথ তৈরি হয়।শুক্রবার ভোরে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে উদ্ধারকারীরা ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পান। ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে সাড়া মেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহ এবং মহার্জনের কাছে পৌঁছে যান উদ্ধারকারীরা। একজনকে পিঠে করে এবং অন্যজনকে স্ট্রেচারে করে বাইরে আনা হয়। পরে দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছিলেন না। তবে সাহের আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানা যায়।তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। শুধু আপার ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পেই প্রায় ১১৫ জন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।ত্রিশুলি উপত্যকার অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও চলছে তল্লাশি। উদ্ধারকাজে নেপালের সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও সহযোগিতা করছেন। প্রযুক্তিগত তথ্য আদানপ্রদানের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সুড়ঙ্গের নকশা থেকে নিখোঁজ কর্মীদের ফোন নম্বরবিভিন্ন তথ্য দ্রুত উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।সঞ্জয় সাহ ও কবীর মহার্জনের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই শুধু দুটি প্রাণ বাঁচানোর সাফল্য নয়, সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা আরও বহু মানুষের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো। উদ্ধারকারীরা এখন এমন একটি অংশের সন্ধান করছেন, যেখানে তুলনামূলক বেশি জায়গা এবং বেঁচে থাকার উপযোগী পরিস্থিতি থাকতে পারে।অন্যদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের পরিবেশবিদ রাজিশ শ্রেষ্ঠার পরিবারও তাঁর ফেরার আশায় দিন গুনছে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, বাইরে তাকালেই তাঁর মনে হয় ছেলে বুঝি ব্যাগ হাতে বাড়ি ফিরছে। সেই আশাতেই এখনও দিন কাটছে তাঁদের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

অপরিচিত যুবকদের ঘোরাঘুরি, রানিনগরে পুলিশের জালে ৭ বাংলাদেশি, কেন এসেছিল এই দেশে?

মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশের অভিযোগে একসঙ্গে সাত বাংলাদেশিকে আটক করল পুলিশ। রানিনগর থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে কাহারপাড়া এলাকা থেকে ওই সাতজনকে আটক করে। বুধবার তাদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগেই তাদের আটক করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে রানিনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ওই সাত বাংলাদেশি বেআইনিভাবে এদেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত পেরনোর পর কাহারপাড়া এলাকায় তারা গা-ঢাকা দিয়ে ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু এলাকায় বেশ কয়েকজন অপরিচিত যুবকের গতিবিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রাই রানিনগর থানায় খবর দেন।খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় আটক ব্যক্তিরা দক্ষিণ ভারতে কাজের উদ্দেশ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কথা জানিয়েছে।এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে ফের অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কীভাবে ওই সাতজন এ দেশে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অথবা সীমান্ত পেরনোর ক্ষেত্রে কোনও দালাল বা চক্র তাদের সাহায্য করেছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।মুর্শিদাবাদ-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। যদিও পুলিশ-প্রশাসনের তরফে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তিদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আটক সাত বাংলাদেশিকে বুধবার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের আগে তাদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ-সহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
বিদেশ

ভারতের ভোটের মডেল টেনে আমেরিকায় নতুন দাবি ট্রাম্পের, কী বদলাতে চান?

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় ভোটার পরিচয়পত্রের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে ফের সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ফোটো আইডি ছাড়া আমেরিকায় কী ভাবে নির্বাচন হয়।ট্রাম্পের দাবি, ভারতের শেষ লোকসভা নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক ভারতীয় ভোটারের কাছেই বৈধ ফোটো পরিচয়পত্র ছিল। আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থায়ও এমন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর যুক্তি দেখিয়ে সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।তবে আমেরিকায় ভোট দেওয়ার জন্য পরিচয়পত্রের নিয়ম সব রাজ্যে এক নয়। বর্তমানে ৩৬টি রাজ্যে ভোটকেন্দ্রে কোনও না কোনও ধরনের পরিচয়পত্র দেখানোর বিধান রয়েছে। পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য সরকারের দেওয়া আইডি বা পাসপোর্ট গ্রহণ করা হতে পারে। অন্যদিকে ১৪টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটারের স্বাক্ষর কিংবা ভোটার তালিকায় থাকা অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। কিছু রাজ্যে পরিচয়পত্র না থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।আমেরিকায় ভোটার আইডি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। রিপাবলিকানদের যুক্তি, ভোটার পরিচয় বাধ্যতামূলক হলে ভুয়ো ভোট বা অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে। ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা বক্তব্য, অতিরিক্ত কড়াকড়ি সাধারণ ভোটারদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হতে পারে।২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আমেরিকার ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট বা HAVA পাশ হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজ্য ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করে।ট্রাম্পের সমর্থন করা সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট-এ ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফোটো আইডির মতো শর্ত জোরদার করার প্রস্তাব রয়েছে। ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে। বিলটির লক্ষ্য আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটারের যোগ্যতা ও পরিচয় আরও কঠোরভাবে যাচাই করা।এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও রয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত SAVE America Act হাউসে পাশ হলেও সেনেটে তা নিয়ে বড় বাধা রয়েছে। কারণ, সেনেটে কোনও বিল পাশ করাতে সাধারণত ৬০টি ভোট প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্প ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ সামনে এনে চাপ বাড়ালেও প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করা এখনও সহজ নয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৬
বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ...
  • 24
  • 25
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় আজও ধূপ-ধুনোয় সেজে ওঠে ‘স্টিম সাহেব’, জলপাইগুড়ির বুকে ব্রিটিশ আমলের জীবন্ত স্মৃতি

জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নাম, স্টিম সাহেব। ব্রিটিশ আমলের কয়লা চালিত এই স্টিম রোলারকে ঘিরে এখনও আবেগ রয়েছে বহু মানুষের। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরে পরম যত্নে পুজো করা হয় ঐতিহাসিক এই যন্ত্রটিকে।স্বাধীনতার বহু আগে সুদূর লন্ডন থেকে জলপাইগুড়িতে আনা হয়েছিল কয়লা চালিত এই স্টিম রোলার। ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে শহরে আসার কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় স্টিম সাহেব। একসময় জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি ও মেরামতির কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই রোলার।সেই সময়ের যান্ত্রিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এটি। রোলারের বয়লারে কয়লা দেওয়া থেকে শুরু করে স্টিয়ারিং ঘোরানোপুরো ব্যবস্থাটিই ছিল যান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর। দেশভাগের পরেও দীর্ঘদিন নিজের দায়িত্ব পালন করেছে স্টিম সাহেব। তবে সময়ের সঙ্গে ডিজেল চালিত রোলারের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব কমতে থাকে এই পুরনো যন্ত্রটির। একসময় পূর্ত দপ্তরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে ছিল এটি।১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় রোলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মেরামত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এরপর পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরেই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় ঐতিহাসিক এই স্টিম রোলারকে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে যে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে রোলারটি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।তাই আজও জলপাইগুড়ির মাটিতেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টিম সাহেব। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বর্তমান কর্মীদের পাশাপাশি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নস্টালজিয়ার টানে ছুটে আসেন পূর্ত দপ্তরে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পার্থপ্রতিম সেনের কথায়, স্টিম সাহেব এখনও তাঁদের কাছে এক জীবন্ত নস্টালজিয়া। বর্তমান কর্মী গৌতম দীক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মধু সরকারও মনে করেন, এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে টিকে থাকুক। তাঁদের কাছে স্টিম সাহেব শুধু একটি পুরনো যন্ত্র নয়, বরং জলপাইগুড়ির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal