• ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Suvendu Adhikari

কলকাতা

নিজের এক মাসের বেতন দেবেন শুভেন্দু! নেপালে নিখোঁজ পরিবারের জন্য মানবিক সিদ্ধান্ত

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন। তাঁদের পরিবারের উদ্বেগের মধ্যেই পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আর্থিক সঙ্কটে থাকা একটি পরিবারকে নিজের চলতি মাসের এক মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।নিখোঁজদের পরিবারের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য নিখোঁজ। আবার কোনও পরিবারের সংসার চালানো রাজমিস্ত্রিও এখনও বাড়ি ফেরেননি। ফলে নিখোঁজের যন্ত্রণা ছাড়াও বহু পরিবারকে এখন তীব্র আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের পরিবারগুলির জন্য স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদিদুই ধরনের সহায়তা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে আর্থিক ভাবে সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রোজগেরে সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় যে পরিবারগুলি চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নিখোঁজদের পরিবারগুলির জন্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।পরিবারগুলির সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ আরও সহজ করতে বিশেষ একটি বার্তা আদানপ্রদানের গোষ্ঠী তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রতিটি নিখোঁজের পরিবারের এক জন সদস্যের পাশাপাশি এক জন নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক এবং এক জন পুলিশকর্মীকে যুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।কোনও পরিবারের কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত প্রশাসনের কাছে তা পৌঁছে যায়, সেই ব্যবস্থাই এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে করার পরিকল্পনা। নিখোঁজদের পরিবার এবং প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।গত ২৬ অগাস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর রাজ্যের ৩৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। পরে বসিরহাটের দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এখনও ৩৭ জনের সন্ধান মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতা, চন্দননগর এবং বর্ধমানের দলের ৩০ জন পুণ্যার্থী রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যাওয়া ভ্রমণ সংস্থার দুজন কর্মীরও এখনও খোঁজ নেই।নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যেরা গতকালই ফের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। তার পরেই বুধবার নবান্নে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর আর্থিক সাহায্য, চাকরির সম্ভাবনা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জনের এখনও সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠা কাটেনি পরিবারগুলির। তাঁদের প্রিয়জনেরা কবে ফিরবেন, সেই অপেক্ষার মধ্যেই অন্তত পরিবারগুলির আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলি কিছুটা কমাতে রাজ্যের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতে যাওয়া ক্লাবকে কালনা থানার অসহযোগিতা, ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়েই এ বছর সরকারি পুজো অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট থানায় সম্মতিপত্র জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ ক্লাব কর্তৃপক্ষের।গত ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর জন্য আর্থিক ভাবে দুর্বল ছোট পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে যেসব ক্লাব বা সংগঠনের আর্থিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তাঁদের অনুদান না নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।উল্লেখ্য, পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব ২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই অনুদান নেয় না। পূর্ব বর্ধমান জেলার একমাত্র ক্লাব হিসেবে সেই সময় প্রত্যাখ্যান করেছিল। এবার নতুন সরকারের নতুন ব্যবস্থাপনা। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সম্ভাব্য বরাদ্দযোগ্য অনুদান মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে রাখতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুনঃ ইডেনে মোদীর জন্য হোম ড্রেসিংরুম, শুভেন্দুর অ্যাওয়ে! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন এই ঘোষণার পর পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের পক্ষ থেকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্লাবের বক্তব্য, নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়ে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অনুদান প্রত্যাখ্যানের কথা জানাতে চেয়েছিলেন তাঁরা।ক্লাবের সম্পাদক সৌমেন ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনকে সম্মান জানিয়ে আমরা এ বছর সরকারি অনুদান নেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানায় সম্মতিপত্র দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কালনা থানা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।ক্লাবের দাবি, অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয়। বরং নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এবং মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সুযোগকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করতে ইচ্ছুক ক্লাবগুলিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন জানানোর কথা বলা হয়েছিল বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি। সেই প্রক্রিয়া মেনেই আবেদন জানাতে গিয়ে তা গ্রহণ না করায় এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অনুদান না নিতে চাওয়া ক্লাবগুলির আবেদন গ্রহণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিক কী প্রশাসন ঠিক করুক।পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের এই অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় এবং প্রশাসনের কাছে তাঁদের আবেদনটি নিয়ম মেনে গ্রহণ করার প্রত্যাশা করছেন।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের নবান্নে ডেকে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণ! গণেশ পুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর বিস্ফোরক বার্তা

গণেশ পুজোর সূচনা করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মকে আফিং বলা এবং নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোকে শারদোৎসব বলা নিয়ে বিতর্ক এবং গণেশ পুজোর বিস্তারসবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু।সোমবার গণেশ পুজোর সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও দিন নিরামিষ খাবার দিয়ে পুজো হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে দেবতাকে ভোগ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ কোন পুজোয় কী নিয়ম মানবেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন।বাগেশ্বর বাবা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, পুজোর পদ্ধতি, পুজোর পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে একসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।এর আগে বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানেও পুজো এবং শারদোৎসব নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁদের পুজো নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। কমিউনিস্ট নেতাদেরও সেখানে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তাতে তাঁরাও পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।পুজোর নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান না কি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবে দেখা হবে, তা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর বক্তব্য।এ দিন বামেদের আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।দেশবিরোধী শক্তি নিয়েও এ দিন সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অসুরদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তি এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকেও দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি।গণেশ পুজো কেন বাড়ছে, তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরও এ দিন পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধু মহারাষ্ট্রের বিষয় নয়। সনাতন ধর্মের ঐক্যের মধ্যেই এর বিস্তার রয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, একসময় মারাঠি, গুজরাতি, বিহারি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তুলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণেশ পুজোর বিস্তারকে তিনি সনাতনীদের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেই তুলে ধরেন।গণেশ পুজোর সূচনা থেকে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থেকে বামেদের নবান্নে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণসব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সোমবারের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পুজোয় আমিষ নিয়ে বাগেশ্বরের মন্তব্য, এবার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী! বাঙালিদের নিয়ে কী বললেন?

পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর থেকেই এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তার মধ্যেই শনিবার গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়, আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির অজানা নয়।কয়েক দিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় এসেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। সেখানেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, অনেকে পেঁয়াজ খান, মদ্যপান করেন, আবার নিজেদের ধার্মিকও বলেন। এমনকি পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া বন্ধ করার আবেদনও জানান তিনি। আমিষ খান এমন মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাগেশ্বর বাবা। পাখণ্ডী শব্দ ব্যবহার করে তাঁদের ভেকধারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অন্য কেউ কীভাবে নির্দেশ দিতে পারেন। বিতর্কের মধ্যেই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার তিনি কেউ নন। তাঁর আপত্তি বলিপ্রথা নিয়ে। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মণ্ডপে মাছ-মাংস খেতে তিনি বারণ করেছেন বলেও জানান।এই পরিস্থিতিতেই শনিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ পুজোর অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী লিলুয়ায় এসেছিলেন এবং তাঁকে দেখতে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়। আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির জানা। অর্থাৎ পুজোর সময়ে বাঙালির ধর্মীয় আচারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের যে নিজস্ব রীতি রয়েছে, সেই দিকটিই তুলে ধরেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার আমিষ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পাল বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে সমর্থন করেননি বলেই জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন ধর্মীয় মত, বাঙালির সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসএই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই আরও জোরালো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

আমিষ বিতর্কে এবার সরাসরি জবাব? কালীঘাটে মাছের ভোগ খেলেন মুখ্যমন্ত্রী, বললেন এই কথা

কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে আমিষ বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। মাটিতে বসে বাসন্তি পোলাওয়ের সঙ্গে মাছের মাথা ও মাছ ভাজা খান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানান তিনি।এদিন কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা এবং লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে মা কালীর পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়ের পা ধুয়ে অঞ্জলি দেওয়ার পর আরতিও করেন। পুজো শেষে মন্দিরের ভিতরেই মাটিতে বসে ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। সেই ভোগের তালিকায় ছিল মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও। ভোগ খাওয়ার পর মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদও বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মা যেন তাঁকে শক্তি দেন এবং দেশবিরোধী শক্তিকে রাজ্য থেকে দূর করতে পারেন। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সন্ত নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। যাঁর সেই মত গ্রহণ করার, তিনি করবেন, আর যাঁর গ্রহণ করার নয়, তিনি করবেন না।নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অষ্টমীর দিন তিনি সাত্ত্বিক আহার করেন। কার্তিক মাসেও সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার মায়ের মাছের ভোগও গ্রহণ করেন এবং পাঠার বলির প্রসাদও খান। কালীঘাট মন্দিরে এদিন যে ভোগ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও ছিল বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে এবং গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও তা নিচে নামবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই কালীঘাটে মাছের ভোগ গ্রহণ এবং তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।সম্প্রতি দুর্গাপুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে তিনি মন্তব্য করেন, যাঁরা পুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাখণ্ডী বা ভণ্ড। পুজোর সময়ে আমিষ খাবার ত্যাগ করার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বাংলায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বিজেপির একাংশও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, বাইরের কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ খাওয়া নিয়েও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিজেপির আরও কয়েক জন নেতা।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের আবহেই এবার কালীঘাট মন্দিরে মাছের ভোগ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য নিয়ে তাঁর মন্তব্য, যাঁর গ্রহণ করার করবেন, না করার করবেন নাএই বার্তাও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে বাগেশ্বর বাবার পাশে মুখ্যমন্ত্রী! বিধানসভায় দিলেন বড় বার্তা

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এবার পৌঁছল বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেউ কোনও সন্তের কথা গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ওই সন্ত কারও উপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে চাননি বলেই দাবি করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লিলুয়ায় একজন সন্ত এসেছিলেন। তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। নিজের মতো করে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথাও বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁর সেই বক্তব্য গ্রহণ করার, তিনি গ্রহণ করবেন, আর যাঁর গ্রহণ করার নয়, তিনি করবেন না। তাঁর দাবি, ওই সন্ত কারও উপর কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।সম্প্রতি লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় সভায় যোগ দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্যের পরেই শুরু হয় বিতর্ক।দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাপানউতোর। কংগ্রেসের তরফে ভবানীপুরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয় বলে দাবি।বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে তিনি কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কয়েক জনকে ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াতে দেখেছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ করে তাঁদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলবে না।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা যেমন হয়েছে, তেমনই তাঁর বক্তব্যের সমর্থনেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত নিজের মত গ্রহণ বা না গ্রহণ করার বিষয়টিকেই সামনে আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও সন্তের বক্তব্য ভালো না লাগলে তা গ্রহণ না করার অধিকার মানুষের রয়েছে, কিন্তু সেই কারণে তাঁর ছবি পোড়ানো বা অন্য কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।এদিন বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি কটাক্ষ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই রাজনীতির কারণেই বামেদের রাজনৈতিক শক্তি কমেছে। একইসঙ্গে তিনি নিজের দলের বিধায়ক সংখ্যার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং আগামী দিনে উপনির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক তাই ধর্মীয় বিষয় ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেল।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলে এবার ‘দুর্গাপুজো’ লিখতেই হবে! বিধানসভা থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে এ বার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্ম বা গেরুয়া সংস্কৃতির বিরোধিতা করা হলে আগামী দিনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পুজোর সময় মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল নিয়েও আপত্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় কোনও বইয়ের স্টল করতে হলে সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি লেখা থাকা উচিত। শারদোৎসব লিখে স্টল করার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। পুজো কমিটিগুলিকেও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অধ্যাপক এবং তথাকথিত বামপন্থীরা সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা বেছে বেছে গেরুয়া সংস্কৃতিকে নিশানা করেন। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা যে বইয়ের স্টল করেন, সেখানে দুর্গাপুজো না লিখে শারদোৎসব লেখা থাকলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়।এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান না বলে বাঙালির সার্বিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা রয়েছে। বাম আমলে দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব শব্দের ব্যবহারও বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।২০১১ সালের আগে রাজ্যে পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল বেশ পরিচিত ছবি ছিল। লাল কাপড়ে মোড়া সেই স্টলে মার্কসীয় সাহিত্য, বিভিন্ন পত্রিকা এবং রাজনৈতিক বই বিক্রি করা হত। পুজোর ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল এই ধরনের স্টলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হয়।তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ছবি অনেকটাই বদলে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ পুজোমণ্ডপের বাইরে আগের মতো বড় আকারে বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায় না। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় এখনও এই ধরনের স্টল বসে। সেখানেই মার্কসীয় সাহিত্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পত্রপত্রিকা বিক্রি করা হয়।বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাস এলাকায় মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে পুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানোর সূচনা হয়েছিল বলে বাম শিবিরের তরফে জানানো হয়। সেই ঐতিহ্য এখনও কিছুটা ধরে রাখা হয়েছে। পার্ক সার্কাস-সহ কয়েকটি এলাকায় পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায়।মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বই বিক্রির বিরোধিতা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, দুর্গাপুজোর সময় যে স্টল বসানো হচ্ছে, সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ পুজোকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে দেখানোর পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কেও স্বীকার করতে হবেমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এমনই বার্তা উঠে এসেছে।এই মন্তব্যের পর দুর্গাপুজো, শারদোৎসব শব্দের ব্যবহার এবং পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলতিনটি বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে পুজোর সময় বইয়ের স্টল নিয়ে কোনও নতুন নিয়ম তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

গেরুয়ার অসম্মান বরদাস্ত নয়! যাদবপুরের মঞ্চ থেকে ‘শিকড়-সহ উপড়ে ফেলার’ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বাংলায় দাঁড়িয়ে গেরুয়ার অসম্মান কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, গেরুয়াকে যারা অপমান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি-র মতো স্লোগান নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি।যাদবপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, তিনি এই এলাকায় দাঁড়িয়ে একটি শপথ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান এবং কয়েকটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। যারা গেরুয়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।এর পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ২০১১ সালে কমিউনিস্ট সরকারকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি পণ করেছিলেন। পরে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০২৬ সালে জামাতি সরকারকে সরানোর কথাও তিনি বলেছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সহযোগিতায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।যাদবপুরের মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে। বক্তব্যের শেষে তিনি বার বার বলেন, গেরুয়াই হবে।এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রা শুরু হয়েছিল গোলপার্ক থেকে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মিছিলের পরিবেশ বদলে যায়। গেরুয়া পতাকা হাতে মিছিলে হাঁটেন সাধু-সন্তরাও।মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায়। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও। পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজকেও শুভেন্দুর পাশে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়।মিছিল যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর বন্দে মাতরম গানে অংশ নেন উপস্থিত সকলে। এরপর মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। সেখান থেকেই গেরুয়ার অসম্মান এবং দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।শুভেন্দুর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। গেরুয়া সম্মান যাত্রা এবং তার শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বক্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

গেরুয়া অপমানের অভিযোগ, যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিল! হঠাৎ পথে নামলেন নাগা সন্ন্যাসীরা

গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের আট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গেরুয়া সম্মান যাত্রায় সামিল হলেন দলে দলে নাগা সন্ন্যাসী। বুধবার বিকেলে এই মিছিলকে ঘিরে যাদবপুরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পরনে ছিল গেরুয়া পোশাক। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা ও মন্ত্রীও।মূলত সাগরমেলার সময় যাঁদের নাগা সন্ন্যাসী হিসেবে দেখা যায়, তাঁদেরই একটি অংশ এ দিন মিছিলে যোগ দেন। তাঁদের দাবি, গেরুয়া পোশাককে অসম্মান করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই তাঁরা এই মিছিলে সামিল হয়েছেন।এক নাগা সন্ন্যাসী বলেন, তাঁরা অষ্টধারী নাগা সন্ন্যাসী এবং দেশের জন্য জীবনদান করেছেন। তাঁর দাবি, মুঘল আমলেও ধর্ম রক্ষার জন্য তাঁরা অস্ত্র ধরেছিলেন। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের অপমান করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।ওই সন্ন্যাসীর আরও দাবি, গেরুয়া পোশাক নিয়ে কথাবার্তা হলেও কোনও বুদ্ধিজীবী বা রাজনৈতিক নেতা প্রতিবাদ জানাননি। মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন।মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েক জনের বক্তব্য, অপশক্তিকে দমন করতে এবং মহাশক্তিকে জাগ্রত করতেই এই গেরুয়া সম্মান যাত্রা। তাঁদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এ দিন মিছিলে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং তাঁর বাণীও দেখা যায়। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের আট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়ার কথা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই মিছিল শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে।মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।মিছিল শেষে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। গেরুয়া পোশাককে ঘিরে ওঠা বিতর্ক, নাগা সন্ন্যাসীদের বক্তব্য এবং এই মিছিলের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে এখন নজর রয়েছে যাদবপুরের দিকে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আগেই বড় ঘোষণা! আন্দোলনে নামার আগেই ২০ শতাংশ বোনাস চা শ্রমিকদের, বদলে গেল ডুয়ার্সের ছবি

পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য পুজোর আগে বড় ঘোষণা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের দাবিতে যে আন্দোলনের ছবি দেখা যেত, এ বার তার আগেই স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের মধ্যে।চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে প্রতি বছরই পুজোর আগে টানাপড়েন তৈরি হয়। কোথাও গেট মিটিং, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের দাবি জানাতে দেখা যায় শ্রমিকদের। বোনাস ঘোষণা হওয়ার পরেও টাকা পাওয়া নিয়ে দেরি বা টালবাহানার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন সময়ে। ফলে পুজোর আগে বোনাস নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা থেকেই যায়।এ বার অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। পুজো আসার বেশ কিছুটা আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হয়েছে। ফলে আন্দোলনে নামার আগেই বোনাসের খবর পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন চা শ্রমিকেরা। পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানে তিন লক্ষেরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।জলপাইগুড়ি জেলাতেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলির শ্রমিকদের কাছে পুজোর বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বছরের এই সময় বোনাসের টাকাতেই বহু পরিবার পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে সংসারের নানা প্রয়োজন মেটায়।শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, বোনাসের টাকা হাতে এলে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারবেন তাঁরা। নিজেদের জন্যও নতুন জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি পুজোর কয়েক দিন পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। অনেকের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। বোনাসের টাকা দিয়ে সেই কাজও সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অনেক পরিবারের।চা শ্রমিকদের বক্তব্য, প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের জন্য আন্দোলন করতে হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা থাকত। এ বার আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। আন্দোলনে নামার আগেই দাবি মিটতে চলায় খুশি তাঁরা।এর মধ্যেই চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কালিম্পঙে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর কপ্টার সেখানে নামতে পারেনি। পরে উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়ালি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানা গিয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর আগে ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা চা শ্রমিকদের কাছে বড় স্বস্তির খবর। বোনাসের টাকায় নতুন পোশাক কেনা, পুজোর বাজার করা, পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা এবং ঘরদোর মেরামতের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। ফলে পুজোর আগে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে এ বার আন্দোলনের বদলে উৎসবের প্রস্তুতির ছবিই বেশি চোখে পড়ছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

পালাবদলের পর প্রথম পুজোতেই বড় ঘোষণা! ক্লাবগুলিকে কত টাকা অনুদান, হবে কি কার্নিভ্যাল?

পালাবদলের পর বাংলায় এ বার প্রথম দুর্গাপুজো। তাই পুজো কমিটিগুলির অনুদান, পুজোর উদ্বোধন এবং কার্নিভ্যাল হবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই নানা জল্পনা ছিল। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পরেই দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুজোর জন্য বিদ্যুৎ এবং দমকলের কোনও খরচ দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। অনুদানের জন্য কী ভাবে আবেদন করতে হবে, সেই বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির জন্য আলাদা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, আর্থিক ভাবে সক্ষম বড় পুজো কমিটিগুলি যেন সরকারি অনুদান না নেয়। সেই সব কমিটিকে তিনি ধন্যবাদ জানাবেন বলেও জানান।এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে প্রতি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। পরবর্তী সময়ে সেই অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। পালাবদলের পর এ বার অনুদানের পরিমাণ নিয়ে তাই বিশেষ নজর ছিল পুজো উদ্যোক্তাদের।পুজোর উদ্বোধন নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েক বছর ধরে মহালয়ার আগেই বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এ বার মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।এ বার আর দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালও হবে না। তার বদলে সরকারের তরফে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক ক্ষেত্রে বদল আসতে চলেছে।বিসর্জন নিয়েও এ দিন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পুজো কমিটিগুলির অনুদান থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ, পুজোর উদ্বোধন, কার্নিভ্যাল এবং বিসর্জনএকাধিক বিষয়ে সোমবারের বৈঠক থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে বড় সুখবর! প্যারাটিচার থেকে শিক্ষাবন্ধু, একসঙ্গে বহু কর্মীর বেতন বাড়াল রাজ্য

নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একাধিক স্তরের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, বিশেষ শিক্ষাকর্মী, ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকে ও এমএসকে-র সহায়ক কর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বন সহায়ক এবং ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।প্যারাটিচারদের বেতন প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক, দুই স্তরেই ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এত দিন প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচাররা মাসে ১১ হাজার ৯৪১ টাকা করে বেতন পেতেন। এবার তা বেড়ে হবে ১৬ হাজার ৯৪১ টাকা। উচ্চ প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচারদের বেতন ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার ৫২৩ টাকা। এই বেতন বৃদ্ধি ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিক স্তরের ২০ হাজার ৩৪৩ জন এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ২১ হাজার ৮৪৯ জন প্যারাটিচার উপকৃত হবেন। অর্থাৎ দুই স্তর মিলিয়ে বহু প্যারাটিচারের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।শিক্ষাবন্ধুদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু উপকৃত হবেন। বিশেষ শিক্ষাকর্মীদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, বন দফতরের কর্মীদের জন্যও ঘোষণা করা হয়েছে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কথা। বন সহায়কদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এছাড়াও ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকের সহায়ক এবং এমএসকের সহায়ক কর্মীদের বেতনও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্তরে কাজ করা কর্মীদের একাংশের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ভাতা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের বদলি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পারস্পরিক বদলির জন্য বিধিবদ্ধ কাঠামো তৈরি করতে নতুন বিল আনা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।ফলে একদিকে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের বদলির জন্য নতুন আইনি কাঠামোদুই ক্ষেত্রেই এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

বাল্যবিবাহ করলেই এবার কড়া শাস্তি! বাড়ি বাড়ি অভিযান, পুরোহিত-কাজিদের নিয়েও বড় বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঠেকাতে বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। নাবালিকার বিয়ে দেওয়া, বিয়েতে সাহায্য করা বা বিয়ে সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যে পরিবার নাবালিকার বিয়ে দেবে, সেই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকবেন না।রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে নাবালিকা বধূর সন্ধান মিলেছে, সেই পরিবারের পাশাপাশি তাঁদের স্বামীদের কাছেও শোকজ নোটিস পাঠানো হতে পারে। স্ত্রী বিয়ের সময় ১৮ বছর বয়স পার করেছিলেন কি না, তা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে।বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে স্কুলের শংসাপত্র, আধার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র-সহ সরকারি নথি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়স সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণ দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।শুধু বিয়ে দেওয়া পরিবার বা স্বামীর বিরুদ্ধেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত এবং কাজিদের নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নাবালিকার বিয়েতে কেউ সাহায্য করলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন দেশে বহু বছর ধরেই রয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছরের আগে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।বাংলায় বাল্যবিবাহ রুখতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সময় থেকেই সামাজিক আন্দোলন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশে একাধিক আইন করে এই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এখনও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে কিছু সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় এই সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে।এবার সেই কারণেই বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কোনও পরিবারে নাবালিকার বিয়ে হয়েছে কি না, বিয়ের সময় তাঁর বয়স কত ছিল এবং বিয়ের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে।নাবালিকা বধূর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের নজর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতালেও বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে। নাবালিকার ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বা শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।প্রশাসনের বার্তা, নাবালিকার বয়স ১৮ বছরের কম হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে পৃথক ভাবেও আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।ফলে রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি অভিযান, বয়সের নথি যাচাই এবং বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাএই তিন দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

শিক্ষক দিবসে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা! বদলাবে সিলেবাস, ফিরবে এনসিসি, নিয়োগ নিয়েও মিলল আশ্বাস

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে স্কুলের সিলেবাস এবং এনসিসি ফেরানোর মতো একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। একই সঙ্গে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শিক্ষক নিয়োগ-সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এদিন তিনি জানান, এসএসসিকে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় ৫ নম্বরের বেশি রাখা যাবে না।শিক্ষানীতি নিয়েও আগের সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু করা হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, খেলা, মেলা এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতার মতো বিভিন্ন খাতে অর্থ দেওয়া হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তিন বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট আটকে রাখা হয়েছিল।স্কুলের সিলেবাস নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সিলেবাসে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল। অন্যদিকে স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্বদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেই ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো হবে না কেন? তাঁর বক্তব্য, টাটাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সিলেবাসে এক পাতা লেখা থাকলেও স্বামী প্রণবানন্দকে নিয়ে একটি লাইনও নেই। এই ধরনের বিষয় বদলে স্কুলের সিলেবাসে আরও ভারসাম্য আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।শিশুদের মনে কোনও ধরনের বিভাজনের বীজ বোনা উচিত নয় বলেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার মাধ্যমে ছোটদের মধ্যে দেশ, সমাজ এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে।এদিন এনসিসি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে রাজ্যে এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে এনসিসি ফিরিয়ে আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি খেলাধুলার দিকেও আগের সরকার যথেষ্ট নজর দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।সবশেষে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিশ্চিন্ত থাকার বার্তা দেন তিনি। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে চলা হবে বলেও স্পষ্ট করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অন্যায় হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 19
  • 20
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিরাটির পর দত্তপুকুরে রাতভর তাণ্ডব! একে একে পাঁচ সিপিএম অফিসে ভাঙচুর-আগুন, উঠল বিজেপির নাম

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটিতে সিপিএমের সভা ঘিরে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে দত্তপুকুরে একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বামেদের দাবি, দত্তপুকুরে মোট পাঁচটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকটি অফিসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।সিপিএমের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা রড ও হাতুড়ি নিয়ে একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। দেওয়ালে থাকা বাম নেতাদের ছবিও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি দলের। দত্তপুকুরের দুনম্বর রেলগেট, গঙ্গাপুর মোড় এবং দত্তপুকুর স্টেশনের কাছে-সহ একাধিক এলাকায় এই হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি কার্যালয়ে কাগজপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।এই হামলার পিছনে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার বারাসত এক নম্বর বিডিও দফতরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সিপিএমের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির পরেই পার্টি অফিসগুলিতে হামলার ঘটনা ঘটায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনায় পুলিশে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।তবে সিপিএমের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অরিন্দম দে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে দত্তপুকুরের ঘটনা নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।এর আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের একটি পথসভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সভামঞ্চে ভাঙচুর, চেয়ার ভাঙা এবং ব্যানার নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। বামেদের দাবি, সভায় হামলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।বিরাটির ঘটনার ক্ষেত্রেও সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, পুলিশের উপস্থিতিতেই সভামঞ্চে হামলা হয়েছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের আটকাতে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। সুজন চক্রবর্তী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপির তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, সভায় স্থানীয়রা কিছু স্লোগানের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং উল্টে তাঁদের দলের মহিলা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।একই রাতে হাবড়াতেও বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে। হাবড়া এক নম্বর রেলগেটের কাছে এসএফআইয়ের পথসভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।বিরাটি, হাবড়া এবং দত্তপুকুরের পরপর ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। দত্তপুকুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এসএফআই নেতা আকাশ করকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ-সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন। তবে সিপিএম যে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার মূল অভিযোগ তুলেছে, সেই অভিযোগের সঙ্গে ওই গ্রেফতারের যোগসূত্র বা হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিলের কাছে ৪-০ হার, তবু যুবভারতীতে লড়াইয়ের গল্প লিখল ভারত

যুবভারতীতে ফলাফলটা ভারতের পক্ষে নয়। স্কোরবোর্ডে ৪-০। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শনিবার যে লড়াই উপহার দিল ভারত, তা নিছক চার গোলের হারের গল্প নয়। গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর দুটি বড় ভুলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত। তবে রায়ান উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ, অভিষেক সিংহদের লড়াকু ফুটবল প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের মন জিতে নিল।ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটাই প্রশ্নব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ভারত কত গোল হজম করবে? মাঠে সেই আশঙ্কার ছাপ অবশ্য শুরুতে খুব একটা দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধের একটা বড় সময় ভারত রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসেছে। ব্রাজিলের তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে বেশ কিছুটা সময় আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় রক্ষণ।কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলের মূল্য যে কতটা চড়া হতে পারে, যুবভারতী তারই সাক্ষী থাকল।গুরপ্রীতের দুই ভুলেই পিছিয়ে পড়ল ভারতশুরুতেই ভিনিসিয়াসের শট আটকে গুরপ্রীতকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। গ্যালারি থেকেও এসেছিল প্রশংসার আওয়াজ। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না।২৮ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে এস্তেভাওর নেওয়া শট ছিল গুরপ্রীতের নাগালের মধ্যেই। বলের গতি বেশি থাকলেও সেটি সামলানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল ভারতীয় গোলরক্ষকের। কিন্তু তাঁর হাতের নীচ দিয়ে বল গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ১-০।প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে ফের বিপর্যয়। ৪২ মিনিটে এস্তেভাওর তৈরি করা সুযোগ থেকে পেদ্রোর শট আটকাতে গিয়ে গুরপ্রীতের ডান হাতের গ্লাভসে বল লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়।মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল। অথচ প্রথমার্ধে ভারত যে ভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছিল, তাতে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।এরপর আরও একটি বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের গায়ে লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল। পিছন থেকে দানিলো ছুটে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রক্ষণ কোনও রকমে পরিস্থিতি সামলে নেয়।ব্রাজিলের তারকাদের আটকে রাখল ভারতব্রাজিল যে ভারতকে হালকা ভাবে নেয়নি, প্রথম একাদশেই তার প্রমাণ ছিল। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসদের সঙ্গে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলাররাও ছিলেন দলে।তবু ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের আক্রমণকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয়নি। ভিনিসিয়াস বাঁ দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও তাঁকে বেশির ভাগ সময় নজরে রেখেছিলেন অভিষেক সিংহ। ব্রাজিলীয় তারকা কয়েক বার ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেক পিছনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।শুধু রক্ষণ নয়, সুযোগ পেলেই ভারতীয় ফুটবলাররা পাল্টা আক্রমণে উঠেছেন। রায়ান উইলিয়ামস ও মনবীর সিংহের গতির উপর ভর করে ব্রাজিলের বক্সে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে একাধিক বার।বিরতির পর বদলে গেল ব্রাজিলদ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। মাঠে আসেন গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ়, স্যামুয়েল লিনোর মতো ফুটবলাররা। পরিবর্তিত দল নিয়েও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি।৫৮ মিনিটে বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেয় ব্রাজিল। দূর থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। ভারত তখন ৩-০ পিছিয়ে।তবে এই সময়েও ভারত লড়াই থেকে সরে যায়নি। ৬৪ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে পড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর শট আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক মাউরো।এর কিছুক্ষণ পর রায়ান ও মনবীরের দারুণ বোঝাপড়ায় ফের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল বাড়ান মনবীরকে। পরে মনবীরের ক্রস ফের রায়ানের দিকে। চলতি বলে শট নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।সেই মুহূর্তে যুবভারতীর গ্যালারিতে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছিলএকটি গোল অন্তত প্রাপ্য ভারতের।শেষ মুহূর্তেও গোলের ধাক্কাম্যাচের বাকি সময়ে দুদলই আক্রমণে উঠেছে। ভারত চেষ্টা করেছে ব্যবধান কমানোর, ব্রাজিল খুঁজেছে আরও গোল। শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ দিকে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল।লিনোর শট প্রভসুখন গিলের শরীরের নীচ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।চার গোলের ব্যবধান নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু ম্যাচের পুরো ছবিটা শুধু স্কোরলাইন দিয়ে বোঝা যাবে না। ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ভুল এবং আক্রমণে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের অভাব।তার বিপরীতে ইতিবাচক দিকও কম নয়। বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ভারত ভয় পেয়ে গুটিয়ে থাকেনি। রায়ান, মনবীর, অভিষেক, বিজয়রা বারবার প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে অভিষেকের ভিনিসিয়াসকে সামলানোর চেষ্টা এবং রায়ানের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নজর কেড়েছে।সামনে আরও কঠিন পরীক্ষাব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ হার দিয়ে ভারতের এই পর্ব শেষ হচ্ছে না। বরং সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।যুবভারতীর রাত ভারতের জন্য ফলের দিক থেকে হতাশার হলেও, লড়াইয়ের মানসিকতা পরের ম্যাচের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাতেই পারে। চার গোলের ব্যবধানের আড়ালে তাই থেকে গেল অন্য এক ছবিবিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের হার না মানা লড়াই।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের চেয়ার এবার কাকলির হাতে! দোলার জায়গায় বিজেপি, সংসদে রদবদল ঘিরে তুমুল চর্চা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হাতছাড়া হয়েছে। রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।শনিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরই এই রদবদলের কথা প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী কমিটির নতুন চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলির মধ্যে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী।এই বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন। পরে সংসদে তাঁদের আসনেও পরিবর্তন করা হয়।এ বার সেই বিদ্রোহী শিবিরেরই অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে সংসদীয় কমিটির এই রদবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অর্থাৎ একই রদবদলে তৃণমূল দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হারাল। একটি পদ গেল বিজেপির হাতে, অন্যটি গেল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রীর হাতে।তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদপদ এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাঁদের সাংসদপদ বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ফলে এক দিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়া, অন্য দিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাসব মিলিয়ে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেয়েদের পর ছেলেরাও সোনা! মালয়েশিয়াকে ৫-১ উড়িয়ে ইতিহাস, অলিম্পিকের টিকিটও পাকা ভারতের

৪৪ বছর পর মেয়েদের হকিতে সোনা এসেছিল। এ বার পুরুষদের দলও সেই পথেই ইতিহাস গড়ল। মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকির সোনা ধরে রাখল ভারত। শুধু সোনাই নয়, এই জয়ের সঙ্গে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও অর্জন করল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম একই আসরে ভারতের পুরুষ ও মহিলা হকি দল দুটিই সোনা জিতল। পুরুষ হকিতে পরপর দুবার সোনা জেতার নজিরও এই প্রথম ভারতের।শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে বেশিক্ষণ সেই ব্যবধান থাকেনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবার ভারতকে এগিয়ে দেন যুগরাজ সিং। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই আসে সেই গোল।বিরতির পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল ভারত। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান বাড়ান হার্দিক সিং। এর পর ৫৪ মিনিটে শিলানন্দ লাকরা গোল করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোর ৫-১ করেন হরমনপ্রীত। ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও ভারত তার মধ্যে তিনটি কাজে লাগাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই সোনা নিশ্চিত করে ভারত।হকির পাশাপাশি কুস্তিতেও সোনা এসেছে। পুরুষদের ৫৭ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমন সেহরাওয়াত। এক সময় এগিয়ে থেকেও পরে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় কুস্তিগির। এই বিভাগে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন আমন। অন্য দিকে মহিলাদের ৫৩ কেজিতে রুপো পেয়েছেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। পুরুষদের ৯৭ কেজিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন দীপক পুনিয়া।তিরন্দাজিতেও ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ বিভাগে সোনা জিতেছেন কুমকুম মহোদ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের পর লড়াই ৫-৫ সমতায় শেষ হয়। শুট-অফে নিখুঁত ১০ পয়েন্ট তুলে সোনা নিশ্চিত করেন কুমকুম। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজ তিনি। পুরুষদের রিকার্ভে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নীরজ চৌহান।গলফেও এল ঐতিহাসিক সাফল্য। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে ১৫ আন্ডার ২৬৫ স্কোর করে সোনা জিতেছেন প্রণবী উরস। এশিয়ান গেমসে এই বিভাগে ভারতের প্রথম সোনা এটি। দলগত বিভাগেও রুপো পেয়েছে ভারত।দিনের শেষে ক্রিকেটেও সোনার মুকুট পেল ভারত। পুরুষদের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। অভিষেক শর্মা ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তিলক বর্মা ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে যায়। হাসান নওয়াজ ৫১ বলে ৯৬ রান করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি।এর ফলে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের দুই সোনাই এ বার ভারতের দখলে। মহিলা দলও আগে সোনা জিতেছিল। হকি এবং ক্রিকেটের পাশাপাশি কুস্তি, তিরন্দাজি ও গলফে সাফল্য মিলিয়ে শেষ দিনে ভারতের সোনার সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৮৫টি পদক নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে ভারত। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এস্তেভাঁও-পেদ্রো-লিনোর গোলের ঝড়, তবু ভারতকে নিয়ে কেন আলোচনা? ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুবভারতীর ম্যাচে চমক

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ। ফল অবশ্য ভারতের পক্ষে গেল না। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারাল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এস্তেভাঁও, পেদ্রো এবং স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলোত্তির দল। তবে স্কোরলাইন যতই একপেশে হোক, ভারতের ফুটবলাররা বেশ কিছু সময়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলেছেন এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন।বিশ্ব ক্রমতালিকায় ব্রাজিল পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮ নম্বরে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। ভারতের সামনে ছিল দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার বিরল সুযোগ। শেষ পর্যন্ত হার এলেও ম্যাচের শুরুতে ভারত যথেষ্ট লড়াই করেছে। ব্রাজিল প্রথম গোল পায় ২৮ মিনিটে। এস্তেভাঁওয়ের বাঁ পায়ের শটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে পেদ্রো ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধ শেষ হয় দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই।দ্বিতীয়ার্ধে ভারত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ব্রাজিলের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনো ৫৮ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৪-০ করেন তিনি। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হলেও ভারতের লড়াইয়ের কয়েকটি মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে।ভারতের আক্রমণেও সুযোগ এসেছিল। মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামস গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তাঁরা। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারত আক্রমণে উঠেছে এবং শুধু নিজেদের অর্ধে আটকে থাকেনি।রক্ষণেও আনোয়ার আলি ও আকাশ মিশ্রকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায়। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা থাকলেও ভারত শুরুতে তাঁদের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও একাধিক বার ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকান।এই ম্যাচে ভারতীয় গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলেরও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলাটাই তাঁর কাছে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। ভারতের কোচ খালিদ জামিলের কৌশল নিয়েও ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা ছিল। পানামার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের পর ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর দল কী ভাবে খেলবে, ছিল সেটাই বড় প্রশ্ন।ভারত শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এবং চার গোল হজম করেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও ম্যাচটিকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।ফল ভারতের পক্ষে নয়, সেটাই সত্যি। কিন্তু যুবভারতীর সেই সন্ধ্যায় ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলাররা যে লড়াইয়ের কিছু ছবি রেখে গেলেন, সেটাই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। ০-৪-এর স্কোরলাইন তাই ম্যাচটির পুরো গল্প বলে না।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ককপিটে হামলার পর যাত্রীরাই ধরলেন সহ-পাইলটকে! তারপর তাঁকে ছেড়ে দিতে কেন চাপ এসেছিল?

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। তার পর যাত্রীদের তৎপরতায় আটক হলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। তাঁকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি যাত্রীদের। কিন্তু সেই সময় বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চলছে।ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ককপিটের জরুরি কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।হামলার পর বিমানটি আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তখন কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার দাবি করেছেন, কয়েক জন যাত্রী মিলে হামামকে আটকেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বিমানের অন্য কয়েক জন কর্মী এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ওই যাত্রীরা।এই দাবিই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু যাত্রীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এমন তথ্য এখনও নেই। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই কর্মীরা কেন অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে যাত্রীরা দাবি করছেন, তা তদন্তের বিষয়।এদিকে হামাম আল-হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির সবটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের অতীত এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনায় দ্রুত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং পরে অন্য পাইলটদের বিমান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে বেঁধে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাপ দেওয়ার যে দাবি যাত্রীরা করেছেন, সেটি তদন্তে কতটা সত্যি, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
কলকাতা

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? পুজোর পর কীসের প্রস্তুতি

দিল্লি, মুম্বইয়ের পর এবার কি কলকাতার রাস্তাতেও নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই কর্মসূচির দিনক্ষণ বা স্থান চূড়ান্ত হয়নি।এর আগে নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি বলে দাবি। এবার এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কলকাতায় নতুন করে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।সূত্রের খবর, কলকাতায় প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। কোথায় এবং কবে সভা করা হবে, তা নিয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির তরফে অভিজিৎ দীপকেরা এই বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সূত্রের দাবি।এর মধ্যেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিল্লির পর কলকাতাতেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাহায্যের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম। সংগঠনের এই উদ্যোগকে ঘিরে বামেদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, স্যান্ডো গেঞ্জির আবার বুকপকেট। ওদের দলে কতজন আছে যে সহযোগিতা করবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলন থেকে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসএফআই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। কলকাতায় কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বও কথা বলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির আদৌ কোনও সভা হয় কি না, হলে তাতে কারা যোগ দেন এবং এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কী কর্মসূচি নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বারবার ধসে বন্ধ শিলিগুড়ি-সিকিমের পথ! এবার বদলে যাবে দশ নম্বর জাতীয় সড়ক, তৈরি হবে সুড়ঙ্গ-উঁচু সেতু

বর্ষা এলেই ধস, কখনও মাটি বসে যাওয়া, আবার কখনও যানজটে থমকে যায় পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ দশ নম্বর জাতীয় সড়কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ শুরু হল। রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তার আমূল উন্নয়নের জন্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার প্রকল্পের দরপত্র ডেকেছে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি একাধিক সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দশ নম্বর জাতীয় সড়কের রংপো থেকে রানিপুল অংশটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫.৮৭ কিলোমিটার। বর্তমানে এই রাস্তার একাধিক অংশ বর্ষায় ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন প্রকল্পে বর্তমান রাস্তা দুই লেনে উন্নীত করা হবে। রাস্তার দুপাশে পাকা অংশও রাখা হবে। পাশাপাশি ধসপ্রবণ এবং মাটি বসে যাওয়ার এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এই প্রকল্পে একাধিক সুড়ঙ্গ এবং উঁচু সেতুপথ তৈরির পরিকল্পনা। পাহাড়ের যে অংশগুলিতে রাস্তা বারবার ধসের কবলে পড়ে বা মাটি বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন পরিকাঠামোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। ফলে প্রকল্পটি শুধু রাস্তা চওড়া করার কাজ নয়, বরং গোটা রংপো-রানিপুল পথের পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা।এই প্রকল্পের জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ৬ নভেম্বর থেকে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তা জমা দেওয়া যাবে। ১৭ নভেম্বর দরপত্র খোলার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রয় ও নির্মাণ পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারি নথিতে কাজের সময়সীমা ৪৭৪৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা দীর্ঘদিন ধরেই দশ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই রাস্তা শুধু সিকিম বা কালিম্পংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, পর্যটন, পণ্য পরিবহণ এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।বর্ষায় দশ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে পণ্যবাহী গাড়িসবাইকে তার প্রভাব সামলাতে হয়। সেই কারণে নতুন প্রকল্পে রাস্তার নিরাপত্তা এবং সারা বছর যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি দরপত্রের নথিতে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪০ হাজার ১৮৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্রের কাজের বিবরণে দুই লেনের রাস্তা, পাকা পাশের অংশ, সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধস ও মাটি বসে যাওয়ার প্রবণ এলাকার চিকিৎসার কথা স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত দশ নম্বর জাতীয় সড়কের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। পাহাড়ি পথে ধসের ঝুঁকি কমানো, যান চলাচল আরও মসৃণ করা এবং সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal