রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে স্কুলের সিলেবাস এবং এনসিসি ফেরানোর মতো একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। একই সঙ্গে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শিক্ষক নিয়োগ-সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এদিন তিনি জানান, এসএসসিকে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় ৫ নম্বরের বেশি রাখা যাবে না।
শিক্ষানীতি নিয়েও আগের সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু করা হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, খেলা, মেলা এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতার মতো বিভিন্ন খাতে অর্থ দেওয়া হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তিন বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট আটকে রাখা হয়েছিল।
স্কুলের সিলেবাস নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সিলেবাসে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল। অন্যদিকে স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্বদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেই ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো হবে না কেন? তাঁর বক্তব্য, টাটাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সিলেবাসে এক পাতা লেখা থাকলেও স্বামী প্রণবানন্দকে নিয়ে একটি লাইনও নেই। এই ধরনের বিষয় বদলে স্কুলের সিলেবাসে আরও ভারসাম্য আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিশুদের মনে কোনও ধরনের বিভাজনের বীজ বোনা উচিত নয় বলেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার মাধ্যমে ছোটদের মধ্যে দেশ, সমাজ এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে।
এদিন এনসিসি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে রাজ্যে এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে এনসিসি ফিরিয়ে আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি খেলাধুলার দিকেও আগের সরকার যথেষ্ট নজর দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবশেষে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিশ্চিন্ত থাকার বার্তা দেন তিনি। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে চলা হবে বলেও স্পষ্ট করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অন্যায় হবে না।
- More Stories On :
- CM Suvendu Adhikari
- Education System

