• ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Shoot Out

রাজ্য

সাতসকালে ইসলামপুরে গুলি! স্কুলে যাওয়ার পথেই প্রধান শিক্ষককে নিশানা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

সাতসকালে ইসলামপুরে গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। স্কুলে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হলেন এক প্রধান শিক্ষক। শনিবার সকালে ইসলামপুরের মাদারিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুরের আমবাগান মোড় এলাকায় বাড়ি নজরুল ইসলামের। তাঁর কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই বলেই স্থানীয়দের দাবি। প্রতিদিনের মতো শনিবারও স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।গুলির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন নজরুল ইসলাম। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। হামলার কারণ কী, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কেন প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের দাবি, কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। স্কুলের শিক্ষকরাও একই কথা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষক হিসেবে নজরুল ইসলাম অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন। স্কুলের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কারও কোনও ঝামেলা ছিল বলে তাঁরা জানেন না।এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে নজরুল ইসলাম খুবই ভালো এবং কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন। সবসময় স্কুলের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। এমন একজন মানুষকে কেন গুলি করা হল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।ঘটনাকে ঘিরে ইসলামপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, যে মাদারিপুর এলাকায় এদিন প্রধান শিক্ষককে গুলি করা হয়েছে, তার কাছেই এর আগে একটি হোটেলে এক তৃণমূল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরপর এমন ঘটনায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে শনিবারের হামলার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কলকাতায় রক্তারক্তি! ছাদে মদের আসরেই গুলি, খুন তৃণমূল সমর্থক

অন্ধকার রাতেই কলকাতায় ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটল। তৃণমূল সমর্থক এক যুবককে গুলি করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃতের নাম রাহুল দে, বয়স ৩৬ বছর। এই ঘটনায় জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাহুল দে। রাতে বাড়ির ছাদে বসে কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন এবং মদ্যপান করছিলেন বলে অভিযোগ। হঠাৎ রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ গুলির শব্দ শুনতে পান আশপাশের মানুষ। পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাদে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং রাহুলের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।রাহুলের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কাছেই আহত অবস্থায় পড়েছিলেন জিৎ। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল ও জিৎ একে অপরকে আগে থেকে চিনতেন, তবে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না। জিৎ অতীতে একাধিকবার অসামাজিক কাজের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। একসময় তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করলেও পরে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। এমনকি দল থেকেও তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।সম্প্রতি আবার তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময়ই তিনি রাহুলকে বাড়িতে ডেকে এই আসরের আয়োজন করেন। এর মধ্যেই দুই গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা সেখানে ঢুকে পড়ে এবং ছাদে গিয়ে গুলি চালায়।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সিন্ডিকেট এবং টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরেই এই হামলা। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মার্চ ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোরের অন্ধকারে মাথায় গুলি, রাস্তায় লুটিয়ে মৃত্যু যুবকের—শিউরে উঠল গোলাবাড়ি

বুধবার ভোরে উত্তর হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুন করা হল এক যুবককে। ঘটনাটি কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়, বাস্তবের এই নৃশংস খুনে শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত যুবকের নাম সফিক খান। গুলি চালানোর পুরো ঘটনা এলাকার নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তোলাবাজি না কি পুরনো শত্রুতার জেরে এই হামলা, তা খতিয়ে দেখছে গোলাবাড়ি থানা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের দিকে দুই দুষ্কৃতী সফিকের কাছে আসে। একজন সামনে দাঁড়ায় এবং অন্যজন পিছনে গিয়ে আচমকা বন্দুক বের করে মাথায় গুলি চালায়। যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এরপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং তদন্ত শুরু করে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মৃতের পরিবারের দাবি, পুরনো বিবাদের জেরেই এই হামলা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেন, হারুন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে অতীতে ঝামেলা ছিল এবং তিনিই আর এক দুষ্কৃতীকে নিয়ে এসে গুলি চালিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ জানান, ভোর প্রায় চারটা দশ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। দুই ব্যক্তি এসে সফিককে ডেকে কথা বলতে থাকে। তারপর একজন পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং অন্যজন সামনে থেকে মাথায় পরপর গুলি চালায়। পরে বুকে আরও গুলি করা হয়। গুলির শব্দে সেখানে থাকা কয়েক জন আতঙ্কে দৌড়ে পালিয়ে যান।এই নৃশংস খুনের ঘটনায় গোলাবাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মধ্যরাতে তিলজলায় গুলির শব্দে ত্রস্ত এলাকা, গুরুতর জখম যুবক হাসপাতালে

ব্যক্তিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে খাস কলকাতার তিলজলা এলাকায় মধ্যরাতে গুলিচালনার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, বেনিয়াপুকুর থানার অন্তর্গত তিলজলায় গভীর রাতে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ যুবক মহম্মদ নিয়াজকে গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালর ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় শহরে বেআইনি অস্ত্র প্রবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় মহম্মদ নিয়াজের সঙ্গে মহম্মদ সলমনের বচসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় নিয়াজকে হুমকিও দেওয়া হয়। পরে এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয় এবং নিয়াজ বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু রাত প্রায় একটা নাগাদ কয়েকজন নিয়াজকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে। এরপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নিয়াজের দুই পায়ে মোট তিনটি গুলি লাগে। প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত সলমন স্থানীয় দুষ্কৃতী এবং তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ধ্যায় কয়েকজনকে আড্ডা দিতে দেখা গিয়েছিল এবং তখনই সামান্য বচসা হয়েছিল। গভীর রাতে কয়েকজন বাইকে করে এসে নিয়াজকে ডাকেন। তাঁদের হাতে ব্যাগ ছিল বলেও দাবি। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে স্থানীয়রা বাইরে বেরিয়ে দেখেন অভিযুক্তরা দ্রুত স্কুটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এবং রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নিয়াজ। এরপর স্থানীয়রাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
রাজ্য

জনসভার আগে তাণ্ডব! তৃণমূলের উপর হামলা, “খুনের ছক ছিল”— বিস্ফোরক অভিযোগ

ভাঙড়ে আবারও গুলিবিদ্ধ হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিবেশ। তৃণমূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। ঘটনা উত্তর কাশিপুর থানার কাঠালিয়া সংলগ্ন এলাকায়। আগামী রবিবার শোনপুরে তৃণমূলের ছাত্র-যুব জনসভা রয়েছে। সেই সভার প্রস্তুতির জন্য তৃণমূলের ভোগালী দুনম্বর অঞ্চলের সভাপতি আলিনুর মোল্লা-সহ কয়েকজন নেতা কাঠালিয়া থেকে শোনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখনই আইএসএফের কিছু কর্মী-সমর্থক তাঁদের দেখে গালিগালাজ শুরু করে, এমনটাই অভিযোগ। অভিযোগ আরও, এর পরই হঠাৎ এক রাউন্ড গুলি চলে, যার ফলে মুহূর্তে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উত্তর কাশিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ থাকলেও আইএসএফ এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক অস্বীকার করেছে। এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং পুলিশ টহল দিচ্ছে।তৃণমূল নেতা আলিনুর মোল্লা বলেন, তাঁরা জনসভার প্রস্তুতি দেখতে যাচ্ছিলেন, তখনই আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। তাঁর দাবি, নাটু, ক্ষুদ, সালাউদ্দিন এদের মতো সমাজবিরোধীরা অস্ত্র নিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত এবং নওশাদ সিদ্দিকীর প্ররোচনায় এই হামলা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি জানান, অপরাধীরা ধরা না পড়লে আন্দোলনে নামবেন।অন্যদিকে আইএসএফ নেতা ওহিদুল ইসলাম বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কথায়, তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা এখন উসকানি ও মিথ্যা প্রচারে নামছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

বাবু মণ্ডলকে গুলি করে চুপ করাতে চাওয়া হয়েছিল? বিস্ফোরক অভিযোগ মৃত পরিবেশকর্মীর স্ত্রীর

তৃণমূল নেতা বাবু মণ্ডলকে কেন গুলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নিহত পরিবেশকর্মী তপন দত্তর স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি খুনের উদ্দেশ্য থাকত, তবে মাথায় গুলি না করে কোমরে গুলি করা হল কেন। তাঁর দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল খুন নয়, শুধুমাত্র ভয় দেখানো।গত শুক্রবার বসুকাঠি সাঁপুইপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিমা দত্ত জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর খুনের মামলায় শুরুতে চার্জশিটে বাবু মণ্ডলের নাম ছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাদ পড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নামও। যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরাও পরে ছাড়া পেয়ে যান।সেই সময় সুবিচার ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে প্রতিমা দত্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২২ সালের ৯ জুন আদালতের নির্দেশে CBI তদন্ত শুরু করে। তাঁর দাবি, আগামী মাসেই এই মামলায় চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, তদন্তে গতি আসায় এবং সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাবু মণ্ডলকে গুলি করে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে তিনি কিছু বলতে না পারেন।তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে খুন করার চেষ্টা নয়, শুধু আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, তপন দত্ত খুনের মামলার মূল মাথারাই এই গুলি চালানোর নেপথ্যে রয়েছে।২০১১ সালের ৬ মে বালিতে খুন হয়েছিলেন পরিবেশবিদ তপন দত্ত। তৎকালীন CID-এর চার্জশিটে একাধিক তৃণমূল নেতার নাম ছিল, যার মধ্যে বাবু মণ্ডলও ছিলেন। পরে সেই নাম বাদ পড়ে। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও এখন সিবিআই তদন্তে নতুন গতি এসেছে। আর ঠিক সেই কারণেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

ভোটের মুখে হাওড়ায় ৬ রাউন্ড গুলি! পঞ্চায়েত প্রধান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা

ভোটের মুখে ফের গুলির আতঙ্ক রাজ্যে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার সাঁপুইপড়া বসুকাঠি এলাকায় চাঞ্চল্যকর হামলার শিকার হলেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডল। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁর সঙ্গী অনুপম রানাও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবু মণ্ডল। সেখান থেকে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই ওঁত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই গুলি চালায়। বাইক চালাচ্ছিলেন অনুপম রানা। প্রথমেই গুলি লাগে তাঁর গায়ে। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চলে, তার একাধিকটি লাগে বাবু মণ্ডলের কাঁধ ও পেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের এক জন জানিয়েছেন, প্রধানের বাইকের ঠিক পিছনেই ছিলেন তিনি। হঠাৎই সামনে থেকে নয়, পাশ দিক থেকে গুলি ছোড়ে এক দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু হয়। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় সূত্রে উঠছে আরেকটি তত্ত্বতৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। গত বুধবার রাতেই কসবা এলাকায় এক যুবককে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। বছরখানেক আগেই সেই এলাকাতেই এক কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একই দিনে দিনের আলোতেই মালদাতেও গুলিচালনার ঘটনা সামনে আসে। ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্যের একের পর এক প্রান্তে এভাবে গুলি চলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগে প্রশাসনও।এলাকাবাসীর বক্তব্য, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেনরাস্তায় বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কি এবার আরও বড় আকার নিতে চলেছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

বাক্সবন্দি বন্দুক পরিষ্কার করতে গিয়ে রক্তপাত—এই দম্পতির বয়ান কি বিশ্বাসযোগ্য?

শিবপুরের বিলাসবহুল আবাসনের এক ফ্ল্যাটে মর্মান্তিক ঘটনা। বুধবার সকালে নিজের ঘরে বসে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করছিলেন গোপাল যাদব। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁর পাশে চেয়ারে বসে ছিলেন স্ত্রী পুনম। আচমকা হাত ফসকে বন্দুক থেকে গুলি ছুটে গিয়ে সোজা গিয়ে লাগে পুনমের ঘাড়ে। গুলির শব্দে আবাসনের লোকজন ছুটে আসলেও গোপাল প্রথমেই দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা।গুলিবিদ্ধ পুনমকে তড়িঘড়ি করে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে পুলিশ হাসপাতালেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুনমও বলেন, স্বামী আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করার সময়ই গুলি বেরিয়ে যায়। যদিও এই দম্পতির বয়ান পুলিশের সন্দেহ পুরোপুরি কাটাতে পারেনি। তদন্তকারী অফিসারেরা মনে করছেন, এটা নিছক দুর্ঘটনা, নাকি গোপাল কোনও কারণে স্ত্রীকে খুন করতে চেয়েছিলেনসেই দিকটাই এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গোপালের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে শিবপুর থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাওড়া আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনাটি ঘটার পর গোপাল বন্দুকটি সরিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আগেই পুলিশ ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে। জানা গিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রটি বিহার থেকে এনেছিলেন গোপাল এবং নিজের সঙ্গে অস্ত্র রাখার নেশা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের।এমন প্রশ্ন উঠছেঅভিজাত আবাসনে বসবাস করেও কীভাবে এতদিন ধরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দিব্যি ছিলেন গোপাল? হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই অত্যন্ত ঢিলেঢালা। গেটে মেটাল ডিটেক্টর নেই, নেই কোনও কঠোর তল্লাশি। তাঁর কথায়, মেটাল ডিটেক্টর থাকলে গোপালের অস্ত্র নিয়ে ঢোকাই সম্ভব হত না।এই ঘটনার পর হাওড়া সিটি পুলিশ জানিয়েছে, জেলার সমস্ত আবাসনেই এবার বাধ্যতামূলক করা হবে মেটাল ডিটেক্টর। যাতে কোনও বাসিন্দা, অতিথি কিংবা বাইরের কেউ বেআইনি অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকতে না পারে। শিবপুরের যে আবাসনে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বহু হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি থাকেন। তাঁদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই দ্রুত নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

অভিজাত আবাসনে গুলি—পুলিশের সন্দেহ বাড়িতে থাকা সদস্যদের দিকেও

হাওড়ার শিবপুরে অভিজাত আবাসনের ভিতর ভয়াবহ গুলির ঘটনা। সকালে ঘুম ভাঙতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের হাওয়া। বহুতলের ১৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গৃহবধূ পুনম যাদবকে। তাঁকে দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুলি তাঁর গলা ছুঁয়ে বেরিয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।ঘটনা ঘটে বুধবার সকালে। শিবপুর থানার একেবারে কাছেই এই বিলাসবহুল আবাসন। ছয়টি পৃথক টাওয়ার নিয়ে তৈরি এই আবাসনে উচ্চমানের নিরাপত্তা থাকে। সেখানে কীভাবে বন্দুক হাতে কেউ ঢুকলএই প্রশ্নেই এখন সরগরম গোটা এলাকা। ১৫/ডি ব্লকের ৩৮৭ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন ব্যবসায়ী গোপাল যাদব, তাঁর স্ত্রী পুনম এবং তাঁদের ছোট সন্তান। ঘটনা ঘটার সময় গোপাল যাদবও ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।পুলিশের কাছে সন্দেহের তালিকা এখন লম্বা হচ্ছে। ফ্ল্যাটে ঢুকে কোনও দুষ্কৃতী কি গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেল? না কি পরিবারের মধ্যেই কেউ গুলি চালিয়েছে? নাকি কোনও কারণে পুনম নিজেই নিজের উপর গুলি চালিয়েছেন? ঘটনা এতটাই জটিল যে পুলিশের তদন্ত এখন নানা দিক খতিয়ে দেখছে। কারণ, ১৬ তলায় থাকা একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত ফ্ল্যাটে বাইরের কেউ চুপিচুপি উঠে গিয়ে গুলি চালাবেএমন আশঙ্কা কমই। আবার নিরাপত্তার ফাঁক এতটাই বড় ছিল কি, যাতে একজন দুষ্কৃতী অজান্তে ঢুকে যেতে পারে? গুলি চালানোর পর সে কোথায় মিলিয়ে গেলগ্রাহকরা সেই প্রশ্নেই বেশি আতঙ্কিত।শিবপুর থানার পুলিশ সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, গুলি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে, বাড়ির ভিতরে কারা কোথায় ছিলেনসব তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ। অভিজাত আবাসনে এমন রহস্যজনক শুটআউট নতুন করে নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এলাকায় এখন তীব্র চাঞ্চল্য, আতঙ্ক আর গুজবের ছড়াছড়ি।

নভেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

দুই ভাইকে গাছে বেঁধে ছোট ভাইকে গুলিতে ঝাঁঝরা, চাঁচলের ঘটনায় উত্তাল

দুই ভাইকে পোলের সঙ্গে বেঁধে রেখে, আরেক ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠলো জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ পৌঁছলে তাঁদের ঘিরে চরম বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখেই পুলিশের সামনে চলে তুমুল বিক্ষোভ। মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল থানার জালালপুর গ্রামে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির ছোট ছেলেকে মাথায় গুলি করার পর দেহের বিভিন্ন অংশেও গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হন। মৃত ওই যুবকের পরিবার হামলাকারী গফুর আলী, আহাদ শেখ, খাইরুল শেখ, শাহজাহান আলী সহ তার দলবলের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সহিদুল আলী (৩০)। তিনি পেশায় মুয়াজ্জেম ছিলেন। সহিদুলরা ছিল ছয় ভাই। সে বাড়ির ছোট। পরিবারে তাঁর স্ত্রী এবং এক নাবালক সন্তান রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জমির দখলদারিকে ঘিরে গোলমালের জেরেই এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর দুষ্কৃতীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। মৃতের এক দাদা সামিউল শেখ জানিয়েছেন, তাদের একটি চার বিঘার জমি দখলদারিকে ঘিরেই গফুর আলি ও তার দলবলের সঙ্গেই গোলমাল চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু এদিন অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁদের জমি দখল করতে আসে। সেই সময় তাঁরা বাধা দিলে তাঁদের দুই ভাইকে জমির সামনে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। তারপরেই ছোট ভাই সাইদুল আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সময় কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা একবারের জন্য বাধা দিতে আসেননি। চোখের সামনে ভাইকে গুলি করে দেওয়ার পর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আর তারপরে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।স্থানীয় গ্রামবাসীদের বক্তব্য , সহিদুল আলী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। ওই পরিবারটি কারও সঙ্গে কোন রকম ঝামেলার মধ্যে ছিল না। ওদের একটি জমির দখলদারি নিয়েই মামলা চলছিল। এরপরই এদিন দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যেই ওই পরিবারটির কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে এবং সাইদুলকে গুলি করে খুন করেছে। এই ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় এলে তাদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। চাচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে ঘিরেই গোলমালে সূত্রপাত। তারপরই এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।

আগস্ট ৩০, ২০২৩

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

‘ভারতে আর শান্তি পাই না’, তুমুল বিতর্কের মাঝেই সঞ্জয় দত্তের ইউটার্ন! কী সাফাই দিলেন মুন্নাভাই?

ভারতে আর শান্তি পাই নাশেখর সুমনের অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দত্তের এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের একটি অংশ প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে অভিনেতাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না হতেই এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সঞ্জয়। অভিনেতার দাবি, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পুরো কথোপকথনটাই ছিল আগে থেকে লেখা ও হালকা মেজাজের।শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেছিলেন, ভারতের মানুষ অত্যন্ত ভালো ও অতিথিপরায়ণ। কিন্তু ইদানীং দেশে আগের মতো শান্তি তিনি অনুভব করছেন না। সেই শান্তির সময় যেন দ্রুত ফিরে আসে, শিবের কাছে এমন প্রার্থনা করেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। এই মন্তব্যের একটি অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক।এর পরেই সঞ্জয় দত্ত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের অনুভূতিতে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে অপমান বা অসম্মান করার ইচ্ছাও তাঁর ছিল না বলে জানান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের কথোপকথনটি চিত্রনাট্য মেনেই তৈরি হয়েছিল এবং দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই তা বলা হয়েছিল।সঞ্জয়ের ব্যাখ্যা, তাঁর কথাগুলিকে অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা হয়েছে। মুন্নাভাই ছবির হাস্যরস ও ব্যঙ্গের ধাঁচেই কথাগুলি বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বিশেষ করে গান্ধীগিরি-র ভাবনার মাধ্যমে ভালোবাসা, আন্তরিকতা, একতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই বক্তব্যের মূল ভাবটি হারিয়ে গিয়ে তা অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।বিতর্কের সূত্রপাত মূলত অনুষ্ঠানের সেই অংশ নিয়ে, যেখানে সঞ্জয় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য করেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্যের আরও কিছু অংশও সামনে আসে, যেখানে মুন্নাভাই-এর ভঙ্গিতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং শান্তির বার্তা ছিল। ফলে পুরো কথোপকথনটি কী প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।তবে বিতর্ক থামেনি। মন্তব্যটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অন্য দিকে সঞ্জয়ের বক্তব্য, তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে ছোট করা বা দেশের মানুষকে অসম্মান করা। বরং হাস্যরসের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।ফলে একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন অন্য মোড় নিয়েছে। প্রথমে ভারতে শান্তি নেই মন্তব্য, তার পর সমাজমাধ্যমে সমালোচনা এবং শেষে অভিনেতার চিত্রনাট্য-নির্ভর কথোপকথনের ব্যাখ্যাসঞ্জয় দত্তকে ঘিরে এই বিতর্কে আপাতত নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
দেশ

সর্বসম্মতি না থাকলে এসআইআর বাতিল? জ্ঞানেশ কুমার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের প্রশ্ন ঘিরেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব কমিশনারের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। আইনজীবী বিকাশ সিং আদালতে অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একক ভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই পর্যায়ে আদালত জ্ঞানেশ কুমারকে স্থগিত করার অন্তর্বর্তী আবেদন গ্রহণ করেনি।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের আইনে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কাজের ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই রক্ষাকবচের সাংবিধানিক বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।এই মামলায় আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলাকারীদের তরফে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই মূল আপত্তি জানানো হয়েছে।শুনানিতে ফর্ম-৬-এর পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আসে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মে সাম্প্রতিক সময়ে একটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে সেই পরিবর্তন সরিয়ে নেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে দুই নির্বাচন কমিশনার ওই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।ফর্ম-৬ নিয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, ওই পরিবর্তন কে করেছিলেন। আদালতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, ফর্ম-৬-এ যে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তার জন্য আদালতের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে কী ভাবে এবং কার নির্দেশে পরিবর্তন হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এসআইআর নিয়েও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে থাকে, তা হলে সেই সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এসআইআর ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গিয়েছে বা আদালত তা বাতিল করে দিয়েছেএমন কোনও নির্দেশ এই শুনানিতে দেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নোটিস জারি করে পরবর্তী শুনানির পথ তৈরি হয়েছে।এর আগে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, গত এক বছরে নেওয়া সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পরামর্শ থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অন্য দিকে, প্রকাশিত নথি নিয়ে প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক আপত্তির কথা উঠে এসেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। ফর্ম-৬ পরিবর্তনের বিষয়টি কী ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আদালত কী বলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে মামলাটি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই এখন অপেক্ষা।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ, ইসলামাবাদমুখী মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা!

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের রাজপথে ফের বড় মিছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থকেরা। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি। দলীয় সমর্থকদের নিয়ে মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছনো।ইমরানের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই মিছিল শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই-ইনসাফের আলোচনা কোনও সমাধানে পৌঁছয়নি। এরপরই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মিছিল শুরু করে ইমরানপন্থীরা। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু সমর্থক লাক্কি মারওয়াতে জড়ো হন। মিছিলের সঙ্গে থাকা বহর ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগোচ্ছে।মিছিল আটকাতে প্রশাসনের তরফেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে কন্টেনার দিয়ে। রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।মিছিল ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলেও খবর। কিছু এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইমরানের দলও অভিযোগ করেছে, তাদের বহু সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তবে আটকের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।অন্য দিকে, ইমরানপন্থীরা জানিয়েছে, প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবে না। মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছে ইমরান খানের মুক্তির দাবিকে আরও জোরালো করা। তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা সফল না হওয়াতেই ফের রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লাক্কি মারওয়াত থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, প্রদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও নীতি মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইমরান খানের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থনও জানান তিনি।ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। ইমরান ও তাঁর দল অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ মানে না। ফলে ইমরানের জেলবন্দি থাকা এবং তাঁর মুক্তির দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।এ বার সেই টানাপোড়েনই নতুন করে রাজপথে এসে পড়েছে। লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হওয়া মিছিল কত দূর এগোয়, ইসলামাবাদে পৌঁছতে পারে কি না এবং প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত কতটা বাড়ে, এখন নজর সেদিকেই। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মিছিল নতুন করে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

মমতার পায়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস, এবার কী হবে?

২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে সেই সময়ের একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন, রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির প্রমাণ মেলেনি। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।আইনি নোটিসে মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনও মেডিক্যাল নথি সংগ্রহ করলেও, সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার অধিকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয় না। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিসে সংবিধানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলেও আইনজীবীর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছেএই বিষয়টিকেও বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এই বিতর্কের সূত্রপাত নন্দীগ্রামের পুরনো ঘটনা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ২০২১ সালের এগারো মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের রেডিয়ো ডায়াগনসিস বিভাগের একটি রিপোর্ট দেখান। তাঁর দাবি, সেই রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই নথি দেখিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন পায়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি তদন্তের কথা জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিষয়টি সিআইডির নজরে রয়েছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার অর্থ এই নয় যে ওই সময় কোনও ধরনের চোটই ছিল না। সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে পা ও শরীরের অন্য অংশে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে রিপোর্টের ব্যাখ্যা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখন মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সরকারি দফতরের হাতে থাকলেই তা প্রকাশ্যে আনার অধিকার তৈরি হয় না। সেই কারণেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।অন্য দিকে, তৃণমূলের তরফেও রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যে শাসক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল। আবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২১ সালের পায়ের চোট নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই তদন্তের প্রয়োজন।ফলে নন্দীগ্রামের পাঁচ বছর আগের সেই পায়ের চোটের ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিকে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার দাবি, অন্য দিকে সেই রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে মমতার আইনি পদক্ষেপদুই দিকের প্রশ্নেই এখন নজর। তদন্ত এগোলে পুরনো ঘটনার আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলের পর এবার বিজেপি, রাজ্যসভার টিকিট হাতে কোয়েল! পুরনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সোমবার সকালে দলীয় দফতরে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পরেই রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল জানান, এই দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, কর্মসংস্থান এবং আরও বেশি স্কুল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি নিজের মতো করে সেই দায়িত্ব পালন করতে চান।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। গত কয়েক মাসে বাংলায় উন্নয়নের কাজ দেখে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, সামাজিক মাধ্যমে তিক্ততা বাড়ছে। কাজের সুযোগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করেন তিনি।তবে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের পর সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে। কয়েক মাস আগেই তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। রবিবার বিজেপি তাঁকেই ফের পশ্চিমবঙ্গের ওই আসনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পথবদল আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য দেননি কোয়েল। বরং তিনি জানান, অতীতে তিনি কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলেননি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চান না। রাজনৈতিক মতবদলের পরেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটবেন না বলেই বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।আগামিদিনে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে আরও বেশি দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন কোয়েল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে। ছুটির সময়ে তাঁর মা তাঁকে মিশনারিজ় অব চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন বলেও জানান তিনি। মানুষের জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে সেটাকেই নিজের সাফল্য বলে মনে করবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষও শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, যাঁরা অন্যকে ছোট করে আনন্দ পান, তাঁদের প্রতি তাঁর কোনও রাগ নেই। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে বিষয়টিকে তিনি অন্য ভাবে দেখেন বলেও জানান। কটাক্ষকারীদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।ফলে অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক যাত্রায় আরও একটি বড় মোড় এল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ, তার পর বিজেপিতে যোগ এবং ফের রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়াপরপর এই ঘটনাগুলিই এখন বাংলার রাজনীতিতে কোয়েলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্র তৈরি করেছে। আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

রবিবারের সংঘর্ষের পর সকালেই বদলে গেল এসআরএফটিআই, গেটে গান্ধীর ছবি, ফের দেওয়াল লিখন!

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। রবিবার বিকেলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে বাইরে থেকে ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরাও তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন।রবিবার অজয়নগর থেকে মিছিল করে এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যেরা। সংগঠনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতাকে অসম্মান করা হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই এই মিছিল বলে জানানো হয়। মিছিল এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছনোর পর গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বন্ধ গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের দিকে বাইরে থেকে ইট এবং জলের বোতল ছোড়া হয়। এক জন অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে, মিছিলকারীদের কয়েক জনও আহত হয়েছেন বলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।এই ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকেই এসআরএফটিআইয়ের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। মূল ফটকের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে নতুন করে কোনও উত্তেজনা তৈরি না হয়। রবিবারের ঘটনায় মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তার পরের দিন সকালে পড়ুয়ারা ফের ক্যাম্পাসের গেটে গান্ধীর ছবি টাঙিয়ে দেন।এদিকে, রবিবার পুলিশের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে কিছু লেখা মুছে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে পড়ুয়ারা ফের সেখানে দেওয়াল লিখন করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের কাছেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।এসআরএফটিআইয়ে এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার উত্তেজনা তৈরি হল। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া এবং ওই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এক সপ্তাহ না কাটতেই ফের বাইরের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল।ঘটনার পর এখন মূল নজর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং দুই পক্ষের ওঠানো অভিযোগের তদন্তের দিকে। একের পর এক রবিবারে এসআরএফটিআইয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যাতে আর কোনও সংঘর্ষ না হয়, সেই জন্য নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রামে বড় বদল! আইসি সরিয়ে নতুন আধিকারিক, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, সোমবার নন্দীগ্রাম থানার আইসি বদল করল নির্বাচন কমিশন। এত দিন এই পদে ছিলেন অজয়কুমার মিশ্র। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবিলম্বে এই বদলি কার্যকর করতে হবে। ভোটের ঠিক আগে এই রদবদল ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আইসি বদলের নির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দেবাশিস সরকার এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনস্পেক্টর ইন-চার্জ হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এখন তাঁকেই নন্দীগ্রাম থানার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হল। কমিশন তাঁর যোগদানের রিপোর্টও দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন।নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব অবশ্য নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছিল। সেই নির্বাচনে শুভেন্দু জয়ী হন। পরবর্তী সময়েও নন্দীগ্রাম রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থেকেছে। এবারের উপনির্বাচনেও তাই এই কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এবারের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রচারে উত্তাপ ছিল যথেষ্ট। রবিবার সন্ধ্যায় প্রচারপর্ব শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের আগে সোমবারই আইসি বদলের সিদ্ধান্ত সামনে এল।গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক থানার ওসি ও আইসি বদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি স্তরে রদবদল করা হয়েছিল।তবে এবার ভোটের মাত্র এক দিন আগে নন্দীগ্রামের আইসি বদলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতেও কারণ জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের এই প্রশাসনিক রদবদল নিয়েই এখন জোর চর্চা। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের ভোটে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসির অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী থাকে, সেদিকেই এখন নজর।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

৯/১১-র ছকেই কি হামামির পরিকল্পনা? স্মিতকে সরিয়ে ইজরায়েলে বিমান আছড়ানোর ভয়ঙ্কর নকশা ফাঁস

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ আকাশে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সূত্র ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি শুধু ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেনি, বরং বিমানটিকে ইজরায়েলে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে। এমনকি তার পরিকল্পনার সঙ্গে ৯/১১-র ধাঁচের আত্মঘাতী বিমান হামলার মিল রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।তদন্তকারীদের জেরায় হামামি কী জানিয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সরিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এরপর বিমানটিকে স্বাভাবিক ভাবে তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে বিমানবন্দরের কোনও ভবন বা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।ইতালির সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও দাবি করা হয়েছে, ককপিটে প্রার্থনা করার অছিলায় হামামি কুঠার বের করে স্মিতকে আক্রমণ করে। প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিকে মরুভূমিতে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করারও চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায় যখন বিমানটি মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। এর আগে প্রকাশিত তদন্ত-তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার ফুট পর্যন্ত দ্রুত নেমে গিয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের হস্তক্ষেপে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।তদন্তে হামামি একাই এই পরিকল্পনা করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত হামামির সঙ্গে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর যোগসূত্রের প্রমাণ সামনে আসেনি এবং সে একাই কাজ করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের তদন্তকারী সংস্থা খোঁজখবর করছে।এদিকে আরও একটি দাবি সামনে এসেছে। হামামি নাকি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। জুলাই মাসেও তার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কেন বাতিল হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এমনকি তেল আভিভগামী উড়ানের জন্যই সে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পর হামামির আগের উড়ান-জীবন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওমানের একটি বিমান সংস্থা আগে তাকে উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তবে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এখনও তদন্তাধীন এবং হামামির অতীত সম্পর্কে সব তথ্যের সরকারি নিশ্চিতকরণ হয়নি।গত বুধবারের সেই ঘটনার সময় বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। ককপিটে হামলার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। স্মিতের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলা এবং যাত্রী ও অন্য পাইলটদের দ্রুত হস্তক্ষেপের জেরেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হামামির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য, তার সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না এবং বিমানটি ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলএই প্রশ্নগুলির তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal