• ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

RR

বিদেশ

‘বিমানটাকে ধ্বংস করাই ছিল লক্ষ্য’, জেরায় কী বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি জেরায় জানিয়েছেন, যাত্রী-সহ বিমানটি ধ্বংস করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। একই জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাকি বলেছেন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তদন্তকারীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হামাম নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এমন কথা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি অন্য তথ্য-প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটে ভারতীয় অধিনায়ক স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন সহকারী পাইলট হামাম। বিমানের ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার ব্যবহার করে হামলা করা হয়েছিল বলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।আক্রমণের পরেও স্মিত মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্যদের সাহায্যে হামামকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরে অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে নেন। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ককপিটে এমন ভয়াবহ হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। প্রথম দিকে ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তদন্তে সহকারী পাইলটের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা ধরা পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।এখন তদন্তকারীরা হামামের অতীত, তাঁর মতাদর্শ এবং অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওমানের কর্তৃপক্ষ আগে তাঁর বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বলে তদন্ত-সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তাঁর কথিত উগ্রপন্থী ভাবধারার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।হামামকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েলের তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তাঁর সঙ্গে কোনও বহিরাগত শক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের অংশ।বিমানটির আকস্মিক পতনের ভয়াবহতাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। উড়ান-তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সময় বিমানটি মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। যাত্রী ও বিমানের অন্য কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরে অতিরিক্ত পাইলটদের সহায়তায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা এখন শুধু ককপিটে পাইলটের উপর হামলার তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। বিমানটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, হামামের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তাঁর অতীত সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কতটা তথ্য জানত এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামামের জেরায় উঠে আসা দাবিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
বিদেশ

ককপিটে হামলার পর যাত্রীরাই ধরলেন সহ-পাইলটকে! তারপর তাঁকে ছেড়ে দিতে কেন চাপ এসেছিল?

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। তার পর যাত্রীদের তৎপরতায় আটক হলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। তাঁকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি যাত্রীদের। কিন্তু সেই সময় বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চলছে।ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ককপিটের জরুরি কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।হামলার পর বিমানটি আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তখন কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার দাবি করেছেন, কয়েক জন যাত্রী মিলে হামামকে আটকেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বিমানের অন্য কয়েক জন কর্মী এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ওই যাত্রীরা।এই দাবিই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু যাত্রীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এমন তথ্য এখনও নেই। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই কর্মীরা কেন অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে যাত্রীরা দাবি করছেন, তা তদন্তের বিষয়।এদিকে হামাম আল-হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির সবটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের অতীত এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনায় দ্রুত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং পরে অন্য পাইলটদের বিমান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে বেঁধে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাপ দেওয়ার যে দাবি যাত্রীরা করেছেন, সেটি তদন্তে কতটা সত্যি, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র! বাংলার বুকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিরাট গ্রেফতারি

গাড়ি থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। তবে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কী ধরনের বা তার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে বাগদা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ভোটের পর অবশ্য তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন।২০২৪ সালে বিশ্বজিৎ দাসকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি করা হয়। পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে বিজেপির অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন বিশ্বজিৎ দাস। পরবর্তীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে তিনি দলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে অবস্থান নেন।প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিশ্বজিৎ দাসকে আরও আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল।অন্যদিকে, বনগাঁ পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, বিধায়ক থাকাকালীন বিশ্বজিৎ দাস একাধিক ব্যক্তিকে হেনস্থা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বোমা ও বন্দুকের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ তোলেন তিনি।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং সেটি কীভাবে বিশ্বজিৎ দাসের গাড়িতে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

উৎসবের মরসুমের পুণ্যার্থীদের জন্য জ্যাকপট, তারাপীঠ যাবেন? বিরাট ঘোষণায় ছক্কা হাঁকাল পূর্ব রেল

উৎসবের মরসুমের আগে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকার ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর দিল পূর্ব রেল। দীর্ঘদিনের দাবির পর শিয়ালদহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ব্যারাকপুরে এবার পরীক্ষামূলকভাবে থামবে ১৩১৮৭/১৩১৮৮ শিয়ালদহরামপুরহাটশিয়ালদহ মা তারা এক্সপ্রেস। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে এই নতুন স্টপেজ কার্যকর হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাটগামী ১৩১৮৭ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ব্যারাকপুর স্টেশনে পৌঁছবে। সেখানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেবে।অন্যদিকে, রামপুরহাট থেকে শিয়ালদহগামী ১৩১৮৮ মা তারা এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে ব্যারাকপুরে পৌঁছবে। এক মিনিটের বিরতির পর বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে শিয়ালদহের উদ্দেশে যাত্রা করবে।এই স্টপেজ চালু হওয়ায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি টিটাগড়, খড়দহ, পলতা-সহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন তারাপীঠ বা বীরভূমের অন্যান্য এলাকায় যেতে হলে অনেক যাত্রীকে প্রথমে শিয়ালদহ যেতে হত। কেউ কেউ নৈহাটি বা ব্যান্ডেল হয়ে সংযোগকারী ট্রেনের উপর নির্ভর করতেন। এবার ব্যারাকপুর থেকেই সরাসরি রামপুরহাটগামী ট্রেন ধরার সুযোগ মিলবে।বিশেষ করে তারাপীঠের মা তারার দর্শনে যাওয়া পুণ্যার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা সুবিধাজনক হবে। এতে যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত খরচ, দুটিই কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।রেল সূত্রে খবর, আপাতত যাত্রীদের চাপ এবং টিকিটের চাহিদা পর্যালোচনা করতে পরীক্ষামূলকভাবে এই স্টপেজ চালু করা হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রী সংগঠন এবং নিত্যযাত্রীদের তরফেও রেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির সঙ্গে দূরপাল্লার যোগাযোগ বাড়ানোই এই ধরনের সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যারাকপুরে মা তারা এক্সপ্রেস-এর স্টপেজ চালু হলে প্রতিদিনের যাত্রীদের পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে তারাপীঠগামী যাত্রীদেরও সুবিধা হবে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
রাজ্য

এক রাতেই উল্লাস উপনগরীতে পাঁচ বাড়িতে চুরি! সিসিটিভির সূত্রে বিহারের ৪ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

ফাঁকা বাড়ির রেকি করেই কি অপারেশন? চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত।রাতের অন্ধকারে একের পর এক বাড়িতে হানা। কোথাও নগদ টাকা, কোথাও সোনার গয়নাএক রাতেই বর্ধমানের উল্লাস উপনগরীর পাঁচটি বাড়িতে পরপর চুরির ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছিল আবাসিকদের মধ্যে। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বিহারের চার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুরেন্দর পাওয়ার, মিত আদিবাসী, দীপক কুমার এবং বিকাশ কারে। চারজনই বিহারের ভাগলপুর জেলার হনুমান চক থানা এলাকার বাসিন্দা। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছে।১৫ সেপ্টেম্বরের সেই রাতপুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে উল্লাস উপনগরীর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় পরপর পাঁচটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাচক্রে ওই বাড়িগুলির কয়েকটির বাসিন্দা সেদিন বাড়িতে ছিলেন না।কেউ বেড়াতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগকেই দুষ্কৃতীরা কাজে লাগিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।আবাসিকদের অভিযোগ, পাঁচটি বাড়ির মধ্যে অন্তত দুটি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা।একই রাতে এতগুলি বাড়িতে পরপর চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপনগরীতে।সিসিটিভিতে মোড়া আবাসনে কীভাবে ঢুকল চোর?উল্লাস উপনগরীতে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে। গোটা এলাকাতেই রয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। তারপরেও কীভাবে দুষ্কৃতীরা নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে ঢুকে চুরি করল এবং নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেলএই প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করে আবাসিকদের মধ্যে।চুরির পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে বর্ধমান থানার পুলিশ। প্রথমে যে বাড়িগুলিতে চুরি হয়েছিল, সেগুলির ভিতর ও বাইরে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। দুষ্কৃতীরা কোন পথে ঢুকেছিল এবং কোন রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, তার সূত্র খোঁজা হয়।এরপর তদন্তকারীরা গোটা উল্লাস উপনগরীর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেন।ফুটেজ থেকেই মিলল বড় সূত্রতদন্তকারীদের হাতে শেষ পর্যন্ত আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিহারের চার বাসিন্দাকে চিহ্নিত করে পুলিশ।পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা বাকি রয়েছে।আরও বড় চক্রের খোঁজে পুলিশপুলিশের কাছে এখন মূল প্রশ্নএই চারজনই কি গোটা ঘটনায় জড়িত, নাকি তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ রয়েছে? উল্লাস উপনগরীতে ঢোকার আগে কি এলাকায় রেকি করা হয়েছিল? কোন বাড়িতে বাসিন্দারা নেই, সেই তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছেছিল? নিরাপত্তারক্ষী এবং সিসিটিভির নজর এড়িয়ে কীভাবে অপারেশন চালানো হয়েছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।চুরি যাওয়া বাকি সামগ্রী উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের সন্ধান পেতে ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, উল্লাস উপনগরীর ওই রাতের চুরির নেপথ্যের পুরো ছবিটাও তত পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা! বর্ধমানে ‘জামতাড়া কায়দায়’ কল সেন্টার, গ্রেফতার ৭

ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বর্ধমান শহরের একটি কল সেন্টারের বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় পরিকল্পনা করে চলছিল এই প্রতারণা চক্র। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) NCRP পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চক্রটির হদিশ পায় বর্ধমান থানার পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের কথিত কিংপিন-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গুডস শেড রোডের একটি বিল্ডিংয়ের দোতলায় ওই কল সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। বাইরে থেকে সেটিকে সাধারণ অফিস বলেই মনে হত। এমনকী সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতে অফিসের বাইরে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা থাকত।তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই অফিস থেকেই পূর্ব বর্ধমান-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ফোন করা হত। সহজ শর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হত বলে অভিযোগ। কল সেন্টারে বেশ কয়েকজন যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি। অফিসের ভিতরে ছিল আলাদা কল ডেক্স, ট্রেনিং রুম এবং ডিরেক্টর রুম। পুলিশের দাবি, প্রতারকদের ফোন করার পদ্ধতিতেও ছিল বিশেষ কৌশল। স্মার্টফোনের বদলে ব্যবহার করা হত কিপ্যাড ফোন। ওই ফোনগুলিতে ব্যবহৃত সিম কার্ড একটি ট্রাস্ট বোর্ডের নামে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথমে মহিলা কর্মীদের দিয়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ফোন করা হত। কেউ ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধার, প্যান এবং ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হত। এরপর প্রসেসিং ফি-র নাম করে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হত QR কোড। সেই কোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে ফের টাকা চাওয়া হত বলে পুলিশের অভিযোগ। ধাপে ধাপে একেকজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। অভিযানে ওই অফিস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফোন নম্বরের ডেটাবেস উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়াও ১২টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, চারটি ডেস্কটপ, আটটি মোবাইল ফোন এবং একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শুধু পূর্ব বর্ধমান বা রাজ্যের অন্যান্য জেলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই কায়দায় প্রতারণা চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে বর্ধমান শহরের ওই অফিসটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পুলিশের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অরিৎ কুমার দাস। এই কল সেন্টারের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, উদ্ধার হওয়া বিপুল ফোন নম্বরের ডেটাবেসের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(২য় পর্ব)

প্রথম পর্বের পরঃ তখন আমরা ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি , সবাই নতুন। খুব একটা বন্ধু আমার তখনও ছিলোনা কলেজে। আমি বিক্রম সৃজা ছিলাম তিন বন্ধু আর ঐদিকে ঈশান, স্নেহাশিস আর রাহুল ছিল তিন বন্ধু। এদের মধ্যে ঈশান একটু অন্যরকম ছিল, বদমেজাজি, অহংকারী। আমি বেশ বুঝতে পেরেছিলাম এই দম্ভ ওর নিজের প্রতি প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস থেকে আসে। ক্লাসে পড়া ধরলে আমি সবসময় উত্তর দিতাম, ও কোনোদিনও দিতোনা, একটু কেমনভাবে যেন তাকিয়ে থাকতো যেন মনে মনে আমার এতো পরিশ্রমকে কোনো পাত্তা পর্যন্ত দিচ্ছেনা। আমিও ওতো বেশি ভাবতাম না যতদিন আমি ওর সবচেয়ে রাগী রূপটা দেখেছিলাম। সেদিন ক্লাসে হটাৎ রঞ্জিতের দলবল এসে চড়াও হয় সঞ্জয়ের উপর, কি দোষ না সঞ্জয় ইউনিয়নে গিয়ে সিনিয়রদের নামে কমপ্লেন করে এসেছে এই বলে যে সিনিয়ররা নাকি আমাদের উপর রাগ্গিং করে জেতা মিথ্যা মোটেই ছিলোনা তবু কারোর মুখ খোলার সাহস ছিলোনা। আমরা সবাই ভয়ে চুপচাপ বসেছিলাম আর দেখছিলাম কিভাবে রঞ্জিতদারা ক্লাসে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে সঞ্জয়কে, ওদের মধ্যে দুজন তো চড় পর্যন্ত মেরেছে। একটা সময়ে আমরাই আর এই অপমান নিতে পারছিলাম না ঠিক তখন উদয় হলেন ঈশান। সে আসলো আর শুধু বললো সঞ্জয়কে না ছাড়লে ফল ভালো হবেনা, সিনিয়ররা ওর এই কথায় খুব হেসেছিলো কিন্তু হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কারণ কিছুক্ষনেই ক্লাসে আসে ইউনিয়নের দাদারা যারা এরপর আমাদের সামনেও আমাদের সিনিয়রদের অকথ্য ভাষায় অপমান করে। পরে জানতে পারি যে সেই ফোনটা আসলে ঈশান করেছিল, ওই যথেষ্টই সাহসী আর জেদি ছিল। ওর ওই সাহস আমায় আরো বেশি ওর দিকে টানতো আমিও পাগলের মতো ছুটতাম। তখনও বুঝিনি পরে বুঝেছি, ভুল করেছি আমি।এতদূর বলে সায়নী থামলো, ওর চোখ ডাইনিং এর ওই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে, হয়তো ওখানেই এখনো ঈশান বসে। ওই চোখ ওই মুখ ওই হাসি। স্নেহাও ওর সাথে ঐদিকে তাকালো ভয়ে ভয়ে আর সায়নীকে বললো, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী, আচ্ছা স্নেহা তুই কাওকে চেয়ারে দেখতে পাচ্ছিস না সত্যি?স্নেহা আরো একবার পিছন ফিরে দেখলো, কোই কাওকে তো দেখা যায়না, কিন্তু সায়নীর এই কথাটা ওর মেরুদণ্ডে হিমশীতল স্রোত বয়ে আনে। স্নেহা, কে আছে পিছনে?সায়নী, ঈশান বসে আছে ওই একইভাবে। আমার দিকে তাকিয়ে।স্নেহা সায়নীর কাছে সরে আসে, মনে মনে সে হনুমান চল্লিশা জপ করতে শুরু করেছে আর সায়নীর বাম হাত বিছানার চাদরটাকে মুঠো করে ধরে আছে। হটাৎ ডাইনিং থেকে একটা স্টিলের গ্লাস পড়ার আওয়াজ হলো, দুজনের চমকে উঠে দুজনকে জাপ্টে ধরলো, যখন ভয়ের চরম সীমায় ওরা তখনই ওদের পোষ্য মিনি বেড়াল সুকু নিজের সুন্দর কণ্ঠে বলে উঠলো, মিওয়াওসুকুকে দেখে দুজনেরই ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এলো।অনেক কষ্টে স্নেহা বললো, তুই সত্যিই ওকে দেখতে পাচ্ছিস?সায়নী তখনও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাইনিং এর ওই চেয়ারটার দিকে, বেশ কিছুক্ষন এভাবে কাটার পর অবশেষে যেন সায়নী হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো আর মৃদু স্বরে বললো, ও চলে গেছে।সায়নীর কথা শুনে ভয়ে ভয়ে স্নেহা আবারও খাটে এসে বসলো, আচ্ছা ছেলেটা কি কোনোভাবে..... আর নেই?সায়নী এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলোনা, ওর মুখ থেকে যেন অনেকক্ষন কোনো কথা বেরোলোনা তারপর অবশেষে বললো, ওর মরে যাওয়ার কথা নয়, ওর বেঁচে থাকারই কথা, কি হচ্ছে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা। ওর মতো ছেলে এতো সহজে জীবনের কাছে হার মানতে পারে?স্নেহা, তুই মাথা ঠান্ডা করে পুরো গল্পটা আমায় বল, আগে আমায় এটা জানতে হবে ঠিক কি হয়েছিল ঈশানের সাথে, তোর সাথে, তবে আমি বুঝতে পারবো আমাদের কি করা উচিত এই মুহূর্তে।স্নেহার কথায় সায়নী সায় দিলো আর আবারও বলতে শুরু করলো-ঈশানের প্রতি আমার আকর্ষণ দিন দিন বাড়তে লাগল, ক্রমে সেইদিন এলো যখন আমাদের ফার্স্ট সেমেস্টারের রেজাল্ট এলো আর সবাই জানতো ঈশান প্রথম হবে আর সেটাই হয়। ঈশানের নাম সবার আগে উজ্জ্বল, সেইদিন আমার নামটা ছিল ঠিক ওর পরে, দ্বিতীয় স্থানে। কোনোদিনও আমি প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় হয়নি, সেদিন হয়েছিলাম প্রথমবার আর যার জন্য হয়েছিলাম তাকে আরো জানার ইচ্ছা তীব্র হলো আর ঐদিনই প্রথমবার ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম। ঈশানও দেখলাম আমার এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবে এগিয়ে এলো। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হলো, আমরা দুজন সবসময় একসাথে থাকতাম, সেটা লাইব্রেরি হোক বা ক্লাস বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঈশান থাকতো মেসে, আমি ওর পরিবারের বিষয়ে কোনোদিনও জিজ্ঞেস করিনি, তবে একদিন দেখেছিলাম ওদের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো না আর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলে ও। ওর ধ্যান ধারণা আমাদের মতো নয় ঠিক, ওকে আমি কোনোদিনও বলিনি আমি ওকে ভালোবাসি আর যার বাড়ির এই অবস্থা সে বেশি কি বা করতে পারতো, খুব জোর হলে হয়তো গ্রাম থেকে উঠে শহরে আসতো। কিন্তু আমার বাবা তো শহরে রাজ করছে তাও বহুবছর ধরে, আমাদের ব্যবসা থেকে যা আয় হয় তাতে আমার বাবা ওদের বাড়ি দুবার কিনে বেচে দেবে হয়তো, সেই বাড়ির ছেলের সাথে আর যাই হোক আমার প্রেম হতে পারেনা। আর আমি এই বিষয়ে খুবই বাস্তববাদী, আমি ওই সিনেমার নায়িকাদের মতো অবাস্তব জগতে বাঁচতে পারিনা। আমি সবসময় বন্ধু হয়ে থেকেছি আর সেইসময় আমি দেখতাম ওর মধ্যের অদ্ভুত পরিবর্তন। ওই আমাকে নিজের স্ত্রীর মতো দেখতো যেন, কোনো ছেলে আমায় স্পর্শ করলে তাকে এমন মারতো যে সে দুদিন কলেজে আসতে ভয় পেতো। সেইসময় রাহুল রাজনীতিতে ঢুকেছে, কলেজ রাজনীতিতে ওর দাপুটে উপস্থিতি, আর রাহুলের বন্ধু হওয়ার সূত্রে কারোর সাহস ছিলোনা ঈশানের সাথে শত্রুতা করার আর এই ব্যাপারটার সম্পূর্ণ সুযোগ তুলতো সে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সৃজাও তখন রাহুল বলতে অজ্ঞান আর ঈশানকে ওই নিজের ভাইয়ের মতোই দেখতো তাই আমি ওদের চাইলেও কিছু বলতে পারতাম না।স্নেহা, আচ্ছা তোর সাথে এই ঘটনা কবে থেকে ঘটছে? মানে কবে থেকে তুই ঈশানের এই অশরীরী উপস্থিতি বুঝতে পারছিস?সায়নী একটু ভেবে বললো, বেশিদিন না, মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওর গলার স্বর শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু দেখতে পেতাম না। ভাবতাম মনের ভুল, কিন্তু এখন ওকে আমি সামনেও দেখতে পাই, আর জানিনা এরপর কি হবে। আচ্ছা ওর সাথে কি কিছু খারাপ হয়েছে?স্নেহা, বুঝতে পারছিনা রে, এরকম ঘটনা আমি সিনেমায় দেখেছি, গল্পে পড়েছি কিন্তু আজ সত্যি দেখছি।সায়নী, জানিস একটা সময় এমনই আসে যখন ক্লাসের সবার সাথে ধীরে ধীরে ওই আমার সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়, আমায় দেখলে এমন একটা ব্যবহার করতে শুরু করে যেন আমি ক্লাসে থেকেও নেই, যেন আমি ঈশানের সম্পত্তি যেটার দিকে তাকানো উচিত নয়।স্নেহা, আচ্ছা তাই তোর কোনো পুরোনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই, আমি আগে ভাবতাম তুই পুরোনো মানুষদের কেন এতো এড়িয়ে চলিস এমন কি প্রথম যখন রাহুল এই কোম্পানিতে আসে তুই ওকেও এড়িয়ে চলতিস যতদিন না রাহুল নিজে এসে তোর সাথে কথা বলেছিলো।সায়নী স্নেহার এই কথায় সায় দেয়, বলে, খুব অদ্ভুত লাগতো, বিশেষত রাহুল ঈশানের খুব ভালো বন্ধু ছিল। তাই আমি আরোই এড়িয়ে চলতাম।স্নেহা, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী- ঈশানের ব্যবহার দিনদিন বদলাতে শুরু করলো, আগে ওই অন্যদের মারধর করতো, পরে একই দোষে ওই আমার গায়েও হাত তুলতে শুরু করে, আমি নিজের বাড়িতেও জানাতে ভয় পেতাম এই ভেবে যে যদিও বাবা একবার জানতে পারে তবে ঈশানের সব শেষ করে ছাড়বে। আমি চাইতাম ঈশান নিজের জায়গায় সফল হোক ব্যাস আমার জীবন থেকে দূরে চলে যাক। এইভাবেই সেমিস্টারের পর সেমেস্টার শেষ হতে থাকে আর আমরা শেষের পথে এগোতে থাকি। এইসবের মধ্যে বিক্রমও আমার থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছিলো, একটা সময়ে আমি আর না পেরে ওকে সব জানাই আর ওর সাহায্য চাই। বিক্রম প্রথমে রাজি হয়নি পরে অবশ্য আমার কথা ভেবেই হোক বা যে কারণেই হোক ওই রাজি হয়। আমি শেষ সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরেই ঈশানকে ব্লক করি। ওই আমায় হন্যে হয়ে খুঁজেছিলো তা আমি জানি আর যখন জানতে পারে বিক্রম আর আমি সম্পর্কে আছি তখন ওই বিক্রমের উপরেও একদিন চড়াও হয়েছিল। তারপর আর ওকে দেখিনি, অনেকবার চেষ্টার পর যেন হটাৎ নিঃস্তব্দতা। এদিকে প্লেসমেন্ট সিজন চলে এসেছিলো, আমাদের সবারই মোটামুটি চাকরি লেগে যায় আর আমি ছিলাম ক্লাসের টপার তাই আমি এই কোম্পানিতে খুব সহজেই চলে আসি, অথচ এই কোম্পানিতে আসা নাকি ঈশানের স্বপ্ন ছিল যে স্বপ্ন পূরণ করতে ওই কোনোদিনও এলোই না, কোনো প্লেসমেন্টে বসলোনা। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমায় ভাবিয়েছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয় ঠিক সেরকমই আমার জীবনেও পরিবর্তন আসে। আজ তিন বছর কেটে গেছে, হটাৎ এসব কেন হচ্ছে আমি জানিনা রে সত্যিই জানিনা।সায়নী নিজের গল্প শেষ করলো আর এতক্ষন স্নেহা সব শুনলো, সব শুনে সে বললো, আমার মনে হয় কাল তোর রাহুলের সাথে কথা বলা উচিত, কারণ ঈশানের কি হয়েছে জানলে একমাত্র ওই জানবে আর কেও না।সায়নী, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছি রে কিন্তু ওই কোনো সোজাসুজি উত্তর দেয়নি, কাল আমায় জানতেই হবে যেভাবেই হোক।স্নেহা, কালকেরটা নাহয় কাল দেখা যাবে, তবে আজ আমার আর সাহস হচ্ছেনা, আমরা আজ একসাথেই থাকি বরং।সায়নী, সেটাই বরং ভালো, আমারো খুব একটা ভালো লাগছেনা এইসব কিছু। আচ্ছা স্নেহা তোর কি মনে হয় এটা কি আমার মনের ভুল নাকি সত্যিই কিছু আছে, সত্যিই ও আমায় ভোলেনি?স্নেহা, যাই হোক আজ রাতে আর ভেবে কাজ নেই সায়নী, কারণ যদি তোর দ্বিতীয় কথা সত্যি হয় তবে আমরা কিন্তু বড্ড বিপদের মধ্যে রয়েছি।এরপর আর দুজনে কোনো কথা বলেনি, রাতের ডিনার শেষ করে একসাথেই শুয়ে ঘুমিয়েছে। পরেরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙে সায়নীর সে দেখে আজও স্নেহা তৈরী অফিস যাওয়ার জন্য।স্নেহা বেরোনোর আগে একবার সায়নীর পাশে বসে বললো, কাল রাতের তুই কি ওকে আবারও দেখেছিস?স্নেহার এই কথাটা শুনে সায়নী একটু অবাক হলো তারপর বললো, তুই কি করে জানলি?স্নেহা, স্বপ্নে বারবার ওর নাম বিড়বিড় করছিলি আর বলছিলি...সায়নী, কি বলছিলাম আমি?স্নেহা, সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি কিন্তু মনে হলো ঈশানকে শেষ করে দেবো এরকম কিছু বলছিলি।সায়নীর চোখে জল জমেছে বিন্দু বিন্দু, আর কি করবো, ওকে যে আমি কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না, সবসময় এই চিন্তাটাই মাথায় ঘুরতো কিভাবে ওর গল্প আমার জীবনে শেষ হবে আর দেখ হয়তো ওই চিন্তায় মাথায় কোনো গল্প তৈরী করেছে যেখানে আমারই মনে হচ্ছে ওই বেচে নেই, ভুত হয়ে আমায় তাড়া করছে। আমি সত্যি চাই ও বেঁচে থাকুক ভালো থাকুক।সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি রাহুলের সাথে কথা বলার, তবে সায়নী আজ ঠিকই করে রেখেছে আজ যেভাবেই হোক রাহুলের থেকে ঈশানের খবর জানতেই হবে। লাঞ্চ ব্রেক হলো দুপুর দুটোয়, সায়নী ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ালো ঠিক এমন সময় ওই বুঝতে পারলো ওর পাশে সৌভিকও যোগ দিয়েছে, কি গো কাল থেকে তো তোমার পাত্তাই নেই, কি হয়েছে, শরীর ঠিক আছে?সায়নী বিরক্তির সাথে বললো, সৌভিক প্লিজ আমায় একটু সময় দাও, আমার আশেপাশে এখন ঘুরঘুর করোনা মাথা গরম হয়ে গেলে কি বলে দেবো তার ঠিক থাকবেনা।সৌভিক, আরে সেটাই তো জানতে চাইছি তোমার হয়েছে টা কি, এরকম তো তুমি ছিলে না।সায়নী এবার ঝাঁঝালো স্বরে বললো, ছিলাম না এখন হয়ে গেছি, খুশি? এবার বিদেয় হও। তোমায় এক কথা ঠিক কতবার যে বলতে হয় জানিনা, আর তোমার কাজ নেই? সারাদিন মেসেজের পর মেসেজ করেই যাও, একটু একা থাকতে দাও না, আজব ছেলে তুমি একটা।এই বলে সায়নী আরো দ্রুত গতিতে ক্যান্টিনের দিকে এগোলো আর এদিকে সৌভিক বুঝে উঠতে পারলোনা কি হলো, এই মেয়েটার এই রূপ ও আগে কখনো দেখেনি।দু বছরের সম্পর্ক ওদের, এই দু বছরে সায়নীর থেকে ওই শুধুই ভালোবাসা পেয়েছে, এমন কি যখন দু বছর আগে এমপ্লয়ী অফ দা ইয়ার খেতাব পাচ্ছিলো তখনই প্রথমবার সায়নী এসে ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ওই বছর অনেকেই ভেবেছিলো সায়নীর কর্মদক্ষতায় এই খেতাব ওই পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতাব আসে সৌভিকের কাছে, সৌভিক আশাও করেনি সায়নীর তরফ থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু সায়নীর ওই স্বভাব ওকে সায়নীর প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সামনেই তো বিয়ের কোথাও বলবে ভেবেছিলো, বাড়িতেও জানাবে বলে ঠিক করেছিল আর এইসময় এইরকম ঘটনা সৌভিকের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো।ও আর ক্যান্টিনে খেতে যায়নি, বরং নিজের কেবিনেই গিয়ে বসলো, কিছুক্ষন পর কেবিনে এলো স্নেহা।ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

রাতভর গুলির লড়াই, ভোর হতেই দুই জঙ্গির দেহ! উধমপুরে বড় অভিযান নিরাপত্তাবাহিনীর

জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে রাতভর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘর্ষস্থল থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।উধমপুরের মাজলতা এলাকার জঙ্গলে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর কয়েক দিন ধরেই পাচ্ছিল নিরাপত্তাবাহিনী। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। ব্রাতাল সোহান ও খুবান এলাকার দিকে যৌথবাহিনী ঘিরে তল্লাশি চালায়।অভিযানের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়। জঙ্গিদের দিক থেকে গুলি চালানো হলে পাল্টা জবাব দেয় বাহিনী। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম এলাকা এবং কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও অভিযান চালানো হয় বলে সেনার তরফে জানানো হয়েছে।রাতভর চলা সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ভোরে দুই জঙ্গির দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গিয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।এই যৌথ অভিযানে সেনার হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। অভিযানের পরও এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।নিরাপত্তাবাহিনীর আশঙ্কা, জঙ্গলে আরও কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে সম্ভাব্য গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে।উধমপুরের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁদের কোনও সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

পথ খরচ নিতে গিয়েই ফাঁদে! চার দশক পর কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেতা আকাশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ব্যাগে মাওবাদী সংগঠনের বই, পুস্তিকা এবং কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি পিপলস ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কাজ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।২০০৪ সালে সিপিআই মাওবাদী সংগঠন তৈরি হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন অসীম। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনে তাঁর সক্রিয়তা আগের মতো ছিল না বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর জঙ্গলমহল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন আকাশ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের বাংলায় আসার চেষ্টা করেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে পুলিশের অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের কয়েক জন সদস্য গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক জন আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়। এরপর বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশ দীর্ঘদিন জঙ্গলে থাকার পর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের ব্যথার কারণে প্রায় চার দশক পর তিনি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। জঙ্গলে একটি একে-৪৭ এবং কিছু নথিপত্র রেখে তিনি গাড়িতে করে বাইরে বেরিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।এর পর আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বরং কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জঙ্গলমহলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই পরিকল্পনার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনের জন্য পরিচিত এবং আত্মীয়দের কয়েক জনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখনও জায়গা বদল, কখনও ছদ্মবেশসব রকম ভাবে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।আকাশের স্ত্রীও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনিও মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।আকাশের গ্রেপ্তারের পর বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মাওবাদী দমনে যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি থেকে সংগঠনের বর্তমান বা অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

কেন্দ্রের নজরে ভাট্টি নেটওয়ার্ক, জঙ্গি সংগঠন ঘোষণার নেপথ্যে কী অভিযোগ?

শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার, মাদক পাচার এবং তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নাম এখন বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের প্রথম তফসিলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে যুক্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, সংগঠনটি তরুণ এবং অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্কে টানার চেষ্টা করত। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।কেন্দ্রের দাবি, ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে একাধিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মামলা যুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, অস্ত্র আইন, মাদক সংক্রান্ত আইন এবং বিস্ফোরক আইনের মতো একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে স্বাধীনতা দিবসের আগে এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বড় অভিযান চালানো হয়েছিল। কেন্দ্র জানিয়েছে, ১২ অগস্ট ১৪টি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৫৩ জনকে আটক করা হয়। ওই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলি মিলিয়ে ৮০টির বেশি মামলা এবং ২০০-র বেশি গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।ওই অভিযানে তদন্তকারীরা আইইডি, গ্রেনেড, পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা উদ্ধার করার দাবি করেছিলেন। কিছু গ্রেনেডে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ ছিল বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।কেন্দ্রের আরও দাবি, ভাট্টি নেটওয়ার্কের সদস্যরা পুলিশ, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত জায়গা এবং ধর্মীয় স্থানের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল। নজরদারির জন্য ক্যামেরা বসানোর অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঠেকাতেই ১২ অগস্টের সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছিল বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত হয়েছে। এর আগে রাজ্যে ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কয়েক জনকে গ্রেফতার করার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তদন্তকারীরা নেটওয়ার্কটির যোগাযোগ, নিয়োগের পদ্ধতি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনটি সমাজমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করত। কেন্দ্রের মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

বিমানবন্দরে পৌঁছতেই চারদিক থেকে পুলিশ! বিদেশ পালানোর আগে গ্রেফতার পাকিস্তানি গ্যাঙস্টারের ভাই

বিদেশে পালানোর আগেই কলকাতা বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন বান্টি খান। তিনি পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার প্রিন্স খানের ভাই বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে দুবাই পালানোর পরিকল্পনা ছিল বান্টির। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছনোর আগেই তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যায় ধানবাদ পুলিশ।এর পর কলকাতা পুলিশের সাহায্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। পুলিশ আধিকারিকেরা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ফাঁদ পাতেন। অভিযোগ, বান্টি বিমান ধরার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছতেই তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতের কাছ থেকে জাল পাসপোর্ট, ভিসা-সহ একাধিক নথি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ওই নথি কী ভাবে বান্টির হাতে এল এবং বিদেশে যাওয়ার জন্য সেগুলি ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গ্রেফতারের পর বান্টিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।ধানবাদ পুলিশের দাবি, বান্টি খানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুন এবং অপহরণ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। ধানবাদের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময়েই তাঁর বিদেশে পালানোর পরিকল্পনার খবর আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশে থাকা ভাই প্রিন্স খানের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছিলেন বান্টি। সেই উদ্দেশ্যেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর আগেই তাঁর পরিকল্পনার কথা জানতে পারে পুলিশ। এর পর কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি শুরু করে ধানবাদ পুলিশ।বান্টির পুরনো অপরাধের মামলাও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের একটি রেলস্টেশন থেকে বান্টি এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর পর প্রায় চার বছর জেলে ছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জামিনে মুক্তি পান বান্টি।পুলিশের দাবি, জেল থেকে বেরনোর পর ফের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন বান্টি। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে। এর মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন।ধানবাদ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, বান্টির লক্ষ্য ছিল দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে পৌঁছনো এবং সেখানে থাকা প্রিন্স খানের কাছে যাওয়া। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এখন জাল পাসপোর্ট ও ভিসার উৎস, বিদেশে পালানোর পরিকল্পনায় আর কেউ যুক্ত ছিল কি না এবং বান্টির বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির সঙ্গে নতুন কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

আটটি চেম্বার, প্রেসক্রিপশনে বিদেশি ডিগ্রি! রোগী সেজে পুলিশ যেতেই ধরা পড়লেন ‘ডাক্তার’

সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় একের পর এক চেম্বার খুলে চিকিৎসা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বরূপ আচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা ফি নেওয়া হলেও তিনি আদৌ চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে বিদেশি ডিগ্রির উল্লেখ থাকলেও তদন্তে সেগুলি ভুয়ো বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ঘাসিয়াড়া এলাকায় মোট আটটি চেম্বার খুলেছিলেন বিশ্বরূপ। রোগী পিছু ৮০০ টাকা করে ফি নেওয়া হত বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে এলাকায় তাঁর পরিচিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি এই ভাবেই তিনি বিপুল টাকা উপার্জন করছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন করে চেম্বার খোলেন বিশ্বরূপ। সেই সময় বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। তাঁর পরিচয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বাড়ির মালিকের মনে। এরপরই সোনারপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্তে নেমে পুলিশ অভিনব কৌশল নেয়। সোমবার রাতে রোগীর ছদ্মবেশে বিশ্বরূপের চেম্বারে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। রোগীর মতো করেই তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করা হয়। কয়েক মিনিটের কথোপকথনের পরই পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে জানা গিয়েছে।এরপর বিশ্বরূপকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে থাকা একাধিক ডিগ্রিও ভুয়ো বলে অভিযোগ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এত দিন কী ভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশের আরও প্রশ্ন, বিশ্বরূপ কোথা থেকে এই ভুয়ো ডিগ্রিগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না। ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির সঙ্গে কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার বিশ্বরূপকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আটটি চেম্বারে তাঁর চিকিৎসার নামে কী ধরনের কাজ চলছিল এবং তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

মধ্যমগ্রামে কল সেন্টারে তল্লাশি, বিপুল সিম-মোবাইল উদ্ধার, গ্রেফতার ২৫

মধ্যমগ্রামের দোলতলা সংলগ্ন এলাকায় একটি কল সেন্টারে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হলেন ২৫ জন। ধৃতদের মধ্যে ৭ জন যুবক এবং ১৮ জন যুবতী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার দুপুরে মধ্যমগ্রাম থানা ও সাইবার থানার যৌথ বাহিনী ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে ওই কল সেন্টার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ দোলতলা সংলগ্ন এলাকায় অ্যাসিওর মোটিভেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হানা দেন পুলিশকর্মীরা। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানের সময় অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি মোবাইল ফোন। পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছে শতাধিক সিম কার্ড, একাধিক নথি এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি ঘিরে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৭ জন যুবক ও ১৮ জন যুবতী রয়েছেন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারাসাত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তবে এই কল সেন্টারে ঠিক কী ধরনের কাজ চলত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড এবং মোবাইল ফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কোনও সাইবার অপরাধের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কল সেন্টারের কাজকর্ম এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ব্যবহার সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(১ম পর্ব)

বাইরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি, ঝড়ের তোড়ে ঘরের জানলা দরজার হুরদুর শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাঝরাতে এমন ঘটনায় ঘুমটা ভেঙে গেলো সায়নীর। সায়নী উঠে বসলো, আর বিরক্তির স্বরে বললো, উফ এই স্নেহা এতো দায়িত্ব জ্ঞানহীন না, কতবার বললাম ঘুমানোর আগে ঘরের জানলা দরজা আগে বন্ধ করে যা, না রোজ সবদিকে আমায় খেয়াল রাখতে হবে। সেই সন্ধ্যে থেকে সায়নী ঘুমাচ্ছে, শরীরটা ভালোনা খুব একটা। হটাৎ সে দেখতে পেলো কেও যেন দৌড়ে বেরিয়ে গেলো ওর পাস দিয়ে, সায়নী ভয় পেলো, কি দেখছে সে সেই সন্ধ্যে থেকে। কে আছে এই বাড়িতে ওর আশেপাশে?সায়নী সাহস করে স্নেহার ঘরের দিকে এগোলো, সামনের ডাইনিংটায় সেরকম কিছুই চোখে পড়লোনা। একটু ধাতস্ত হয়ে সে ভাবলো হয়তো অতিরিক্ত কাজের চাপে ওর এই অবস্থা। সে এবার স্নেহার ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো, স্নেহাকে নিচু স্বরেই ডাকলো, এই স্নেহা, ঘুমিয়ে গেছিস? কোনো উত্তর এলোনা, হটাৎ স্নেহার পাশে একটা ছেলেকে দেখলো সায়নী, এই আকস্মিকতায় সে যেন আঁতকে উঠলো, কে এই ছেলেটা আর এই ঘরে এলোইনা বা কখন? কোই তখন তো দেখেনি কাওকে? সায়নী কাঁপা স্বরে জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? এখানে কি চাই? ছেলেটা কোনো জবাব দিলোনা।সায়নী আবারও জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? উত্তর দিন বলছি, নাহলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো। ছেলেটা এখনো কোনো উত্তর দিচ্ছেনা দেখে সায়নী আস্তে আস্তে ছেলেটার দিকে এগোতে থাকলো। অন্ধকারে বিশেষত চেহারাটা বোঝা যাচ্ছেনা। ছেলেটার সামনে এসে সায়নী টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিলো আর সঙ্গে সঙ্গে যে মুখটা সায়নী দেখলো সেটা দেখে সায়নীর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেলো, মাথাটা যেন বনবন করে ঘুরছে, সে কি দেখছে এটা? কার মুখ?সায়নী তারস্বরে চিৎকার করে উঠলো, তুমি এখানে কিভাবে? কি চাই তোমার? চলে যাও বলছি, চলে যাও।ছেলেটা হাসছে, এবার সে উঠে সায়নীর দিকে এগোতে লাগলো আর সায়নী পিছনে, একসময় সায়নীর পিঠ দেয়ালে থেকে গেলো সায়নী দেখলো ছেলেটা আরো এগিয়ে আসছে, একসময় এগিয়ে এসে সায়নীকে জড়িয়ে ধরলো, সায়নী আবারও চিৎকার করে বলে উঠলো, ঈশান ছাড়ো আমায়, দূরে যাও আমার থেকে এই বলে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসলো, তারপরেই সে দেখলো থাপ্পরটা আসলে সে স্নেহাকে মেরেছে, স্নেহা বেচারী থাপ্পড় খেয়ে খানিকটা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারপর বলে, কি হয়েছে কি? এরকম পাগলের মত করছিস কেন? ভুত দেখেছিস নাকি? আজব তো? আর এতো জোরে থাপ্পড় কে মারে। সায়নী, সরি সরি, আমি বুঝতে পারিনি ঠিক কি হলো।স্নেহা, আমি বেশ বুঝতে পারছি। সায়নী, কি বুঝতে পারছিস? স্নেহা, যে তোর মাথাটা একদমই গেছে কাজ করে করে। আর এই ঈশান আবার কে? এর নামতো শুনিনি কোনোদিনও। সায়নী নামটা শুনে একটু যেন অস্বস্তিতে পরে যায় তারপর আবার বলে, না না কেও না, তুই ঠিকই বলেছিস আমারই মাথাটা গেছে হয়তো। সরি রে, তুই ঘুমা। স্নেহা, তুইও ঘুমা আমার পাশে আজকে, তোকে দেখে সুস্থ লাগছেনা, আজ একা থাকতে হবেনা আমার সাথেই থাক। সায়নীর স্নেহার কথাটাই ঠিক লাগে, আজকে ওর সাথে যা হচ্ছে সেটা স্বাভাবিক ওর লাগছেনা তাই কথা না বাড়িয়ে স্নেহার পাশেই শুয়ে পরে।সকালে ঘুম ভাঙতে বেশ দেরি হলো সায়নীর, যখন চোখ খুললো তখন দেখলো স্নেহা অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী।সায়নী, তুই ডাকিসনি আমায়? স্নেহা, ডাকিনি মানে কি? তুই তো কুম্ভকর্ণ হয়ে ঘুমাচ্ছিস, এতবার দেখলাম, অ্যালার্ম বাজলো এতবার কিন্তু মহারানির তো ঘুম ভাঙার কোনো সম্ভবনাই দেখলাম না তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রেডি হয়ে গেলাম। তোর ব্রেকফাস্ট রেডি আছে, খেয়ে অফিস আয় আমি বেরোলাম। এই বলে স্নেহা বেরিয়ে গেলো। সায়নী বিছানা ছেড়ে তৈরী হওয়ার জন্য বাথরুমে গেলো, কালকের রাতের স্মৃতি আবছা হয়ে এসেছে। প্রতিদিনের মতোই আজও সে অফিসে এলো, একটু দেরি হয়েছে বটে তবে বেশি না। এসেই নিজের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করলো।সারাদিনে সেভাবে আর কিছুই মনে হয়নি। দুপুরে লাঞ্চের পর আবারও সেই পুরোনো কথা মনে পড়তে শুরু করলো, নাহ ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত, ঈশান এখন আছে কোথায়? কেমন আছে সে? এইসব ভাবনা যখন জট পাকাছে ঠিক তখনই সামনে এসে বসলো রাহুল। রাহুল সিংহ, এই অফিসেই সিনিয়র পসিশনে আছে আর সায়নীর পুরোনো ক্লাসমেট।রাহুল, কি হলো এতো চুপচাপ? কি ভাবছিস? সায়নী কোনো রাখঢাক না করেই বললো, আচ্ছা ঈশান কথায় রে? রাহুল একটু যেন অবাক হলো তারপর বললো, জানিস না ও কোথায়? সবাই তো জানে, তুইই জানিস না? সায়নী একটু কম্পিত কণ্ঠে বললো, কি জানি না জেতা সবাই জানে? রাহুল, ছাড় যখন জানিস না তখন না জানাই বেটার। আমি উঠলাম আমার একটু কাজ আছে রে। আচ্ছা আমার টিফিনটা তোকে দিয়ে গেলাম শেষ করে দিস প্লিজ নাহলে আবার সৃজা খুব রাগ করে। সায়নী বুঝতে পারলো রাহুল ইচ্ছা করেই কথাটা ঘুরিয়ে দিলো, আর সায়নী খুব ভালো করেই জানে রাহুল কিছু বলতে না চাইলে তাকে দিয়ে বোলানো খুব মুশকিল।কিন্তু রাহুলই একমাত্র ওর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তাই যেভাবেই হোক এর মুখ খোলাতেই হবে, সেটা আজ নাহোক কাল।রাহুল, কি রে আবার কি ভাবতে বসলি? আমি কিন্তু বেরোলাম। সায়নী, আচ্ছা বেশ, শেষ করে দেবো। যাচ্ছিস কোথায়? রাহুল, এখন বলা যাবেনা, বাই। রাহুল বেরিয়ে গেলো, সায়নীও খাওয়ার শেষ করে নিজের কাজে মন দিলো। আজ প্রায় একমাস হলো রাহুল এই কোম্পানিতে এসেছে, প্রথম যেদিন রাহুলকে দেখেছিলো সেদিন ভয়ই লেগেছিলো একটু কিন্তু রাহুলের ব্যবহার ওকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। ছেলেটা কলেজও এরকমই ছিল, ইউনিয়ন লিডার বলে কথা, সবার সাথে ভাব আর বন্ধুদের জন্য ওর প্রাণ হাজির। রাহুল নিজেই ডেকে কথা বলেছিলো, বরং সায়নী ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, তুই কথা বলবি আমার সাথে? রাহুল হেসে বলেছিলো, ছাড় না যা হওয়ার হয়ে গেছে ওটাতো আর ফেরানো সম্ভব নয়। তারপর থেকে লাঞ্চের সময় ওর সাথে বারবার দেখা হতো, রাহুলের একটা বদঅভ্যাস হলো ও নিজের বাড়ির রান্না কোনোদিনও খায়না, ওর স্ত্রী সৃজা হলো সায়নীরই বন্ধু, এখন অবশ্য আর যোগাযোগ নেই বিশেষ। রাহুল প্রতিদিন নিজের লাঞ্চ সায়নীকে দিয়ে বাইরে খেতে চলে যায়, আজকেও একই কাজ করলো। সায়নী মনে মনে একটু হাসলো এই ভেবে যে আজ যদি সৃজার সাথে সম্পর্ক সেইরকম থাকতো ওই নির্ঘাত রাহুলের নামে অভিযোগ জানাতো, তবে সৃজার হাতের খাওয়ার খেতে সায়নীর ভালোই লাগে, সৃজার রান্না এমনি যে এতে শরীর ভালো থাকে।শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই, সন্ধ্যেটাও ঝুপ করে নেমে যায় সাথে শীতল একটা হাওয়া। সায়নী অফিস থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানটায় যায় আর একটা চা বলে, সৌভিক এসে বসে পাশে, কি ম্যাডাম? আজ কাজ শেষ?সায়নী একটু বিরক্তির সাথে বললো, হ্যাঁ তো কি সারারাত থাকবো নাকি? সৌভিক, কি হয়েছে, রেগে আছো মনে হচ্ছে? সায়নী, কেন রেগে থাকতে যাবো কেন আজব তো? সৌভিক, আরে বলোই না, কি হয়েছে? খুব একটা শরীরও ভালো নেই শুনলাম। সায়নী, কে বললো? স্নেহা? সৌভিক, হ্যাঁ স্নেহাই বলেছে, কি হয়েছে বলো এবারে। সায়নী, আমি নিজেই জানিনা তো কি বলবো আর শোনো তোমার যদিও কিছু বলার থাকে তো বলো না হলে আমি চললাম। এই বলে নিজের কাপের চা শেষ করে সে উঠে দাঁড়ালো।সৌভিকও নিজের চায়ের কাপ শেষ করে সায়নীর পিছু নিলো। সায়নী কিছুদূর গিয়ে অটো ডাকলো, অটোচালক থামতেই সায়নীর সাথে সাথে সৌভিকও উঠে বসলো, অটোচালক গাড়িতে স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথে শুরু হলো সায়নীর প্রকোপ।সায়নী, এই কি ব্যাপার কি? তুমি আমার পিছু করছো কেন? সৌভিক, আজব, তোমার পিছু করবোনা তো আর কার করবো? সায়নী, কেন তোমার ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সোহিনীর সাথে তো বেশ লটরপটর চলছে তোমার, কত্ত গায়ে পরে হাসাহাসি, যেন এখনই জড়িয়ে ধরবে। সৌভিক, আরে ওসব কিছু না আর মেয়েটা বড্ডো গায়ে পড়া তুমিতো জানোই। সায়নী, ওই মেয়েটা এখন শুধু গায়ে পড়া আর তুমি যে সেটা নিয়ে কিছু বলোনা কোনো প্রতিরোধ করোনো সে ব্যাপারে কোনো জবাবদিহি আছে তোমার কাছে? সৌভিক, তুমি বেকারই একটা ছোট ব্যাপারকে বড়ো করছো কিন্তু এবারে, তুমি নিজেও জানো আমি এমন কিছুই করিনা যাতে তুমি আমায় এইরকম বলতে পারো।সৌভিক আর সায়নীর বাকবিতন্ডার মাঝেই অটো এসে থামলো সায়নীর আপার্টমেন্টের সামনে। সায়নী আর কথা না বাড়িয়ে অটো থেকে নেমে নিজের আপার্টমেন্টের দিকে পা বাড়াল, এদিকে সৌভিকও বেশ খারাপই পেয়েছে, এভাবে এতো কথা বলে গেলো সায়নী যে এখনো কিরকম একটা লাগছে। প্রথম প্রথম তো সায়নী এমন ছিলোনা, এখন যতদিন যাচ্ছে ততো ওর মধ্যে এইসব সন্দেহপ্রবণতা বাড়ছে আর অফিসের নীতি অনুযায়ী ওরা কোনোভাবেই নিজেদের সম্পর্ক অফিসে জানাতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে কোনো একজনকে তো অফিস ছাড়তেই হবে। এবার সৌভিকের অবস্থা এমন নয় যে এখনই অন্য কোথাও যেতে পারবে। সৌভিক আর মাথা ঘামায় না, বরং নিজের বাড়ির দিকেই এগিয়ে যায়।সায়নী ফ্ল্যাটের চাবি খুলতেই একটা খুব চেনা গলার আওয়াজ শুনলো, বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো, না চাইতেও মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো, ঈশান? সায়নী চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো, না কোথাও ঈশান নেই তবে? সায়নী ফ্ল্যাটের ভিতর ঢুকে এলো, স্নেহা অনেক আগেই ফিরে এসেছে। সায়নী ঘরে ঢুকে চেঞ্জ করে যখন বেরিয়ে এলো তখন দেখলো টেবিলে আলো আঁধারিতে কেও যেন বসে, সায়নীর বুক আবারও কাঁপতে শুরু করলো, কে তুমি? সে কোনো উত্তর দিলোনা শুধু ওর দিকে একটা চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো, আর ইশারায় বললো চা খেতে। সায়নীর যেন নিজের ভিতরের সব প্রতিরোধ শেষ হয়ে গেছে, সে সেই লোকটার সামনে এসে বসলো তারপর আবারও বললো, কি চাই তোমার?এবার আলোয় লোকটার মুখ পরিষ্কার দেখলো সায়নী, সেই শ্যামবর্ণ মুখ, সেই হাসি সেই চোখ, ঈশান দাস।সায়নী, তুমি কেন এভাবে আমার বাড়িতে আসছো? তুমি কি সত্যিই আছো নাকি আমিই ভুল দেখছি? উত্তর দাও ঈশান ঈশান, কেন ভুলে গেলে আমায়? আমায় না তুমি বলতে আমায় বিয়ে করবে তুমি? কোই আমায় ভুলে তো বেশ সুখে আছো। সায়নী, কিন্তু তুমি আগে বলো তুমি এভাবে ঘরের ভিতরে আসছো কিভাবে? ঈশান আমি তোমায় পুলিশে দেবো। ঈশান, কি হয়েছে তোর? এরকম বলছিস কেন? আর এই ঈশান কে? ঈশানের গলাটা কেমন যেন স্নেহার মতোই, হটাৎ সায়নী বুঝলো সামনে ঈশান নয় স্নেহা বসে, কোনো অন্ধকার নেই বরং আলোর মধ্যেই বসে দুজনে।সায়নী এই নভেম্বরে নিজের ঘরে ফ্যানের তলায় বসেও ঘামছে।স্নেহা, এই ঠিক আছিস? কি হয়েছে প্লিজ বলবি? তোকে সুস্থ লাগছেনা কিন্তু। সায়নী, আমি পারছিনা স্নেহা, আমার সত্যিই ভয় করছে, ঈশানকে আমি সব জায়গায় দেখছি, আমার বোধহয় মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ঈশান কোথায় আমি জানিনা। স্নেহা, কে ঈশান সেটা আগে বলবি? সায়নী গ্লাসে রাখা জলটা খায় তারপর স্নেহাকে বলে, আচ্ছা স্নেহা আমি কি তোকে বিশ্বাস করতে পারি? স্নেহা, বিশ্বাস না করার মতো কি আছে? আমিতো সেটাই বুঝছিনা আর আজকাল তুই বড্ডো কিরকম একটা হয়ে গেছিস, আজকাল সবসময় কিরকম একটা করিস। হয়েছে কি তোর সেটা খুলে বললে আমার পক্ষেও ভালোই হয়।সায়নী, কোনোদিনও এমন কাওকে দেখেছিস চোখের সামনে যাকে জীবন্ত লাগে কিন্তু আসলে সে সামনে নেই?এই কথাটা শুনে স্নেহার কেমন যেন অস্বস্তি হলো, কি বলতে চাইছিস? কাকে দেখছিস তুই? সায়নী ডাইনিং থেকে নিজের ঘরে গিয়ে খাটের উপর বসলো।সায়নী নিজের খাটের উপর এসে বসলো আর চারিদিকে বার কয়েক তাকিয়ে দেখলো যদিও কিছু অন্যরকম তার চোখে ধরা পরে। নাহ, সেরকম কিছুই তার চোখে পড়লোনা যা তার সন্দেহ বাড়াতে পারে। এদিকে স্নেহা ক্রমশ উদগ্রীব হয়ে উঠছে এটা জানার জন্য যে সত্যিই কি সায়নী ভুত দেখছে নাকি, স্নেহা সেই ছোটবেলা থেকেই একটু ভুতে ভয় পায়, যদিও সবার সামনে কোনোদিনও প্রকাশ হতে দেয়নি, তবুও ভুতের ব্যাপার এলে স্নেহা সেই জায়গা থেকে দু পা দূরে থাকে। এখানে তার কোনো বুদ্ধি বা যুক্তি খাটেনা।স্নেহাও এসে সায়নীর পাশে বসলো আর ওর উরুতে হাত রেখে বললো, এই সায়নী বল না প্লিজ, কি দেখছিস তুই? সায়নীও ওর দিকে তাকালো, হয়তো ভাবছে বলা ঠিক হবে কিনা, তারপর আর পারলো না নিজেকে সামলাতে, অনেক বড়ো গল্প ধৈর্য লাগবে। স্নেহা, তুই বল না আমি শুনছি, আছি তোর পাশেই।সায়নী বলতে শুরু করলো-ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

রক্ষাকবচ উঠতেই ‘বস’-এর বাড়িতে হানা! অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার সুমিত রায়

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ার পরেই গ্রেপ্তার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের পর সুমিতের খোঁজে তৎপর হয়ে ওঠে সিআইডি এবং এসটিএফ। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।শালবনির জমি-দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত। এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে প্রথমে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত।বুধবার এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে তদন্তকারীদের তরফে সুমিতের আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।তদন্তকারীদের দাবি, গত জুন মাসে সুমিতের একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা হয়েছিল। তাঁর অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা হওয়ার কথাও আদালতে জানানো হয়। এই বিপুল টাকার উৎস নিয়ে তদন্তকারীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন।এর আগে সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছিল। সেই কারণে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং সুমিত কী উত্তর দিয়েছিলেন, তার লিখিত রেকর্ড দেখতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিয়োর লিখিত রেকর্ড জমা দেওয়া হয়।এর পরেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, সুমিতকে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য যথেষ্ট সময় এবং সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ার পর বৃহস্পতিবারই সুমিতের খোঁজে তৎপর হয়ে ওঠে সিআইডি এবং এসটিএফ। তদন্তকারীদের কাছে খবর ছিল, কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে থাকতে পারেন সুমিত। সেই খবরের ভিত্তিতেই বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালানো হয়।জানা গিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে থেকে ডাকাডাকি করার পর তদন্তকারীরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পরে ভবানী ভবনে নিয়ে যায় সিআইডি।এর আগে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল। তবে তখন সুমিতের সন্ধান মেলেনি। এবার রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ার পর ফের সেই বাড়িতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। সুমিতের উপর নজর রাখতে বাড়ির আশপাশেও পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।সুমিতকে গ্রেপ্তারের পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি সুমিতকে তোলাবাজ ভাইপোর এক নম্বর কালেক্টর বলে কটাক্ষ করেন।সুমিতকে ঘিরে তদন্তের ঘটনা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছিল। পরে আচমকাই নিজে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে যান তিনি। সেখানে টানা ১১ দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ থাকায় তখন গ্রেপ্তার করা যায়নি।এবার সেই রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ার পরই গ্রেপ্তার হলেন সুমিত। তাঁকে শুক্রবার মেদিনীপুরের আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 36
  • 37
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আরও সম্পদের সন্ধানে তদন্তে পুলিশ

সরকার বদলের পর থেকে নানা অভিযোগে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত। এবার কাটোয়ায় গ্রেফতার হওয়া নেতার বাড়ি থেকে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্পত্তির হদিশও মিলেছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দুই তৃণমূল নেতা সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী কিভাবে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদের সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, সামন্য বেতনে বেসরকারী একটি মোবাইল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ওই দুই নেতা। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়েই কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সর্বসময়ের সঙ্গী দীগন্ত পালের সঙ্গে বিশেষ সখ্য়তা স্থাপন করে ফেলেন। এরপর সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীর ধনসম্পত্তি বাড়তে বিদ্যুৎ গতিতে। ইতিমধ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দীগন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, এরপরই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেরাচ্ছিল সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী। তবে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুজনই। এখন তাঁদের বেআইনি ধনসম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সুপ্রিয়র বাড়ি থেকে ৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তাঁরা সোনা রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সোনা কোথা থেকে এসেছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদের কাছে দামি চারচাকাও রয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা, সিপিএম নেতার অভিযোগ ওড়ালেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়

সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা করা অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব যাদবপুরে তাঁর বাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙা হয়েছে। তিনি স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে। এই হামলায় বিজেপির মদত আছে বলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন। তবে যাবদপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জয়শ্রীরাম বলে অন্যায় করলেই কি সে বিজেপি হয়ে যায়। তা হতে পারে না। আজ ভোরে তার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়া হয়। বিকাশরঞ্জন বলেন, মদের বোতন ছড়িয়ে আছে। শক্ত কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বাইকে এল, ছবি তুললো। তারপর বলতে থাকল, আমরা মায়ের সন্তান। আমাদের পিছনে লেগেছিস। ওই ব্যক্তির মুখ ঢাকা ছিল। মোটর বাইকের নম্বরও ঢাকা ছিল। একেবারে পরিকল্পনা করে এসেছিল। আমি অনবরত হিন্দু মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলছি তাই এই হামলা। এর পিছনে সর্বরীদেবীর পার্টিদের মদত আছে। বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের এটা কাজ নয়। কোনও দুষ্কৃতীকারীর কাজ। মুখে স্লোগান দিয়ে এই কাজ করে সরকার ও বিজেপির বদনাম করছে। জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে, কোনও অন্যায় কাজ করল তাঁকে বিজেপি বলা যায় না।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ইতি, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রয়াত হলেন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিত নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি জানান, খবরটি সত্যি। তিনি সেই সময় পুনেতে ছিলেন এবং গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের তরফে পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ভারতীয় সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করার পর ১৯৭৮ সালে গমন ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, অগ্নিসাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান, অপরাধ, রাজনীতি থেকে ওয়েলকামএকাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।পরিন্দা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পান নানা পাটেকর। ক্রান্তিবীর-এর জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের জনপ্রিয় ছবি ওয়েলকাম-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিচয় তৈরি করে। চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে পরবর্তী সময়ে ওয়েলকাম ব্যাক ছবিতেও সেই ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে।মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের নটসম্রাট ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ড. প্রকাশ বাবা আমটেদ্য রিয়েল হিরো ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান।শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক ছবিটি পরিচালনা করার পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় ও লেখার কাজও করেন তিনি। অভিনয় ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। নাম ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছেন তিনি।নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হল। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাঁর অভিনীত একাধিক চরিত্র দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোর মুখে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ল ট্রেন ও এসি লোকালের স্টপেজ, যাত্রীস্বার্থে একাধিক উদ্যোগ রেলের

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন একাধিক যাত্রীকেন্দ্রিক পরিচালনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দৈনন্দিন শহরতলির যাতায়াতকে আরও দ্রুত, সুবিধাজনক ও আরামদায়ক করে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিষেবা এবং নতুন স্টপেজ। এর ফলে শহরতলির বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবে।শান্তিপুরকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনে পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি:দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক যাতায়াতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর (STB) ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা ১ জোড়া থেকে বাড়িয়ে ২ জোড়া করা হয়েছে। সকালের UP ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ০৯:৩৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:০৭ ঘণ্টায় কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে পৌঁছাবে। ফেরার DN ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ১০:১৭ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:৪৩ ঘণ্টায় শান্তিপুরে পৌঁছাবে। এর ফলে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং স্থানীয় যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।শিয়ালদহবজবজের মধ্যে গভীর রাতে ইএমইউ পরিষেবা:দেরিতে কর্মস্থল থেকে ফেরা কর্মীদের সুবিধার্থে শিয়ালদহ ডিভিশন পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ (SEALDAH) ও কমাগাটা মারু বজবজ (KBGB)-এর মধ্যে গভীর রাতে একটি শহরতলির পরিষেবা চালু করেছে। DN ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে ২২:৫৫ ঘণ্টায় ছেড়ে ২৩:৪৩ ঘণ্টায় বজবজ পৌঁছাবে। ফেরার UP ট্রেনটি বজবজ থেকে ২৩:৫৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ০০:৪৮ ঘণ্টায় শিয়ালদহে পৌঁছাবে। এর ফলে রাতের শেষভাগেও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য শহরতলির রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ:শহরতলির যাত্রীদের আরও আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ করে দিতে শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনের বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ লোকালের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়া হয়েছে।দৈনিক পরিষেবা (রবিবার ব্যতীত): ট্রেন নং ৩১৮৪৫ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১১:৫৩/১১:৫৪ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৬ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৩:৪০/১৩:৪১ ঘণ্টায় থামবে।রবিবারের বিশেষ সময়সূচি: ট্রেন নং ৩১৮৪৭ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১৩:৫৯/১৪:০০ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৮ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৬:১৫/১৬:১৬ ঘণ্টায় থামবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহের DRM শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, পরিষেবার এই সংযোজনগুলি শহরতলির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, বজবজ সেকশনে নির্দিষ্ট গভীর রাতের যোগাযোগ এবং বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ, দৈনন্দিন যাত্রীদের পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকলের জন্য রেলযাত্রাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক করে তুলতে শিয়ালদহ ডিভিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
রাজনীতি

হুমায়ুন গ্রেফতার, অধীরের অবস্থান! রেজিনগর উপনির্বাচনে দিনভর তপ্ত রাজনীতি, "জিতবে বিজেপিই" - শুভেন্দু

রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। শাসক দলের বিরুদ্ধে বুথ দখল, ভোট লুট এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস। অভিযোগের প্রতিবাদে বহরমপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভও হয়। গ্রেফতার করা হয় আজপ নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে ভোটের দিন সকালেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গ্রেপ্তারি। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ রেজিনগর উপনির্বাচনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। সকালে শক্তিপুরে নিজের বাড়ির কাছের বুথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দেন হুমায়ুন। বুথ থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে কুকুর বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, কুকুরকে কীভাবে মুগুর মেরে শায়েস্তা করতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। প্রয়োজনে পাল্টা অ্যাটাকের কথাও বলেন তিনি।এরপর রেজিনগর পার্টি অফিসে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছে যায় রেজিনগর থানার আইসি। হুমায়ুনকে পার্টি অফিস ছেড়ে চলে যেতে বলা হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পরে আইসির নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোটের দিন এভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করা যায় না, একথা একজন বিধায়কের জানা দরকার বলে জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে আমাদের ব্যবধান অনেকটা বাড়বে। গতবারের থেকে ৫থেকে ৬ গুন তো বাডডবেই। মার্জিন কম হলেও রেজিনগরে আমরা জিতবো। মুসলিম যুবক ও মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, রেজিনগরে নিশ্চুপ সন্ত্রাস ও ভোট লুট চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ বিজেপির ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে এবং কংগ্রেস এজেন্টদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হুমায়ুনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে অধীর বলেন, তাঁকে দিয়ে নাটক করানো হচ্ছে এবং তিনি বিজেপির গেস্ট আর্টিস্ট।মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল ইসলাম চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দিয়ে বুথ দখল করেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। যদিও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বন্যপ্রাণী সপ্তাহে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে ফিটনেস ও পরিবেশ সচেতনতার পাঠ

ফিট ইন্ডিয়া থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপদশরীরচর্চা, কুইজ ও বন্যপ্রাণী পরিচিতির মাধ্যমে দিনভর শিক্ষামূলক কর্মসূচিবর্ধমান: শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, আর পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতাদুই বার্তাকেই সামনে রেখে বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল একাধিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। ফিট ইন্ডিয়া ভাবনায় শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে গিয়ে পরিবেশ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব নন্দীর উদ্যোগে প্রথমে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যালয়ের মাঠে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনে অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কাঠের ডাম্বেল দিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম ও ক্রীড়ামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছোটদের বোঝানো হয়, কীভাবে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে ফিট রাখা যায়।এরপর আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দূরত্বের দৌড়। শেষপর্বে দল তৈরি করে ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয় কাবাডি খেলায়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত মানসিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, ফিটনেস কোনও সাময়িক বিষয় নয়, এটি ধারাবাহিক কর্তব্য। ছোট বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি করতে বিদ্যালয় বিশেষভাবে যত্নশীল।মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতার পাঠঅন্যদিকে, চলতি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সেখানে গিয়ে প্রথমেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশ নেয় পড়ুয়ারা।বিজ্ঞানীরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার কীভাবে জীবজগতের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে সচেতন নাগরিক হিসেবে ছোটদের কী ভূমিকা থাকা উচিত, সেই বিষয়েও দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।এরপর বিভিন্ন বিষয়ের উপর আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সঠিক উত্তর দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পুরস্কারও অর্জন করে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অয়নাংশু পুরস্কার পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানায়।প্রকৃতিকে কাছ থেকে চেনার সুযোগসেমিনার ও কুইজের পর রমনার বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় পড়ুয়াদের। সেখানে সায়েন্স সেন্টারের আধিকারিকরা বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে তাদের পরিচয় করান। প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য, পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।শিক্ষক সামিম মণ্ডলের কথায়, ছোটদের কাছে আজকের শিক্ষামূলক ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত আনন্দের। একইসঙ্গে তারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত সায়েন্স সেন্টারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও অর্জন করে। বন্যপ্রাণী সপ্তাহে সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলার এই প্রচেষ্টা জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ফিটনেস, পরিবেশ সচেতনতা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাকে একসঙ্গে সামনে রেখে দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, হয়ে উঠল বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার এক অভিনব পাঠ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি লিপিবদ্ধ করেন দীপ্ত সুন্দরবাবু।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরে নাম বাদ? এবার ফের ভোটার তালিকায় ওঠার সুযোগ! কী করতে হবে, জানাল কমিশন

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম ফের তোলার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর সিইও দফতর এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর তরফে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা এএসডিডি তালিকায় থাকা কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।অর্থাৎ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লেও কেউ যদি এখনও ভোটার হওয়ার যোগ্য হন, তা হলে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বিএলও-র কাছে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাও রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না দেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে।পাশাপাশি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাও নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুই পথেই আবেদন করার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ এসআইআরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি প্রথম বার ভোটার হতে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্যও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিইও দফতরের প্রকাশিত তথ্যেও এএসডিডি তালিকা এবং বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা দেখে যোগ্য ভোটারদের দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালীন যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, অথচ তাঁরা যোগ্য ভোটার, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।এদিকে বাংলায় বেশ কিছু ভোটারের নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি বা মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ চলছে।তবে নতুন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার শেষ তারিখের কথা মঙ্গলবারের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে, তাঁদের দ্রুত নিজেদের নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় রয়েছে কি না দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর এই নতুন প্রক্রিয়ায় এখন নজর থাকছে পরবর্তী নির্দেশের দিকে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশকে সরানোর দাবি, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ রাহুল-মমতারা! চিঠিতে কী লিখল ইন্ডি জোট?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চাইছে ইন্ডি জোট। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জোটের নেতারা। বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে যে কোনও সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই চিঠির কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলগুলি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইন্ডি জোটের একাধিক নেতা। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়েছে। এর আগে ইন্ডি জোটের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন।রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা, শরদ পওয়ার, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডি জোটের একাধিক দলের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই চিঠি পাঠানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মিছিল মাঝপথে আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ধর্নায় বসেন।মিছিল আটকে দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে গাছের তলায় বসে অবস্থান শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন বিরোধী নেতা সেখানে যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও পরে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।প্রায় নঘণ্টা ধরে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে মিছিলের সময়ও একাধিক বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়েছিল।তবে এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে আনুষ্ঠানিক আবেদন কমিশনে পৌঁছয়নি। ফলে বিরোধীরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য ইন্ডি জোটের আবেদন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠির জবাব কবে আসে এবং রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal