• ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Nepal

রাজ্য

স্ত্রীর উৎকণ্ঠায় আকুল মুকুল পুত্র, ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও এবার সরব শুভ্রাংশু

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও বহু পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। সেই নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এই পরিস্থিতিতে নেপালে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভ্রমণ সংস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় চলো যাই নামে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস। এরপর তিব্বত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে ছিল লাসা নামে একটি চিনা ভ্রমণ সংস্থা।ভ্রমণ সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নশুভ্রাংশুর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং ভ্রমণ সংস্থা নিখোঁজ পর্যটকদের জীবিত না থাকার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। যদিও এই দাবি সত্যি ধরে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।বিশেষ করে সম্রাট ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং লাসা সংস্থার মধ্যে শেষ কী কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। পাশাপাশি যে বাসে নিখোঁজ পর্যটকদের থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাসে থাকা প্রত্যেক পর্যটকের পাসপোর্ট ও ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিনিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে ভারত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দাবি, চিন-তিব্বত সীমান্তে ওই দিন কতজন ভারতীয় পর্যটক ইমিগ্রেশন করেছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। এ বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।শুভ্রাংশুর আশঙ্কা, ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ঘটনাটিকে হয়তো যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর মরশুম সামনে রেখে পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি এড়াতে যাতে ঘটনার প্রকৃত তথ্য কোনওভাবে চাপা না পড়ে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।ডিএনএ পরীক্ষা নিয়েও উদ্বেগনিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিও তুলেছেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষা হলে তা অন্তত দুবার এবং ভারত সরকারের উদ্যোগে করা উচিত। চিন ও নেপালের ব্যবস্থাপনায় ডিএনএ পরীক্ষা হলে প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।এর পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সঠিক সময় নিয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। ভারত, নেপাল না কি তিব্বত সীমান্ত কোন সময় ও কোথায় মূল ঘটনা ঘটেছিল, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। চিনে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।৩২ জনই সুস্থ আছেন, আশাবাদী শুভ্রাংশুসমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্ত্রী-সহ নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটককে নিয়ে আশাবাদী শুভ্রাংশু রায়। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজ ৩২ জনই হয়তো চীন-তিব্বত সীমান্তের কোনও অজানা এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন।নিজের পরিবারের পাশাপাশি নিখোঁজ বাকি পরিবারগুলির কথাও উল্লেখ করে সকলের কাছে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

শেষ বার কথা হয়েছিল ২৫ আগস্ট রাতে, তারপরই নিখোঁজ! শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বড় দাবি শুভ্রাংশুর

নেপালের বিপর্যয়ের পর প্রায় পনেরো দিন কেটে গেলেও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূ এবং শুভ্রাংশুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। তাঁকে নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে শুভ্রাংশুর দাবি, শর্মিষ্ঠা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর কয়েক বার স্বামীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ আগস্ট রাতে শেষ বার শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয়েছিল শর্মিষ্ঠার। তার পরের দিন, ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই হড়পা বানের কারণে নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু আর কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শর্মিষ্ঠার খোঁজে পরিবারের তরফে থানায় যোগাযোগ করা হয়। ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যেই শর্মিষ্ঠার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের মধ্যে আরও বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে শুভ্রাংশুর ফেসবুকের ডিসপ্লে ছবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। দেখা যায়, স্ত্রী শর্মিষ্ঠার সঙ্গে নিজের একটি ছবি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে ছবিটি ছিল সাদা-কালো। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার কোনও খবর না পাওয়ার মধ্যে এমন ছবি কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকে এটিকে অশুভ ইঙ্গিত বলেও মনে করতে থাকেন।এই বিষয়ে শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। কেন শুভ্রাংশু ওই ছবি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলেও জানান।এর পর অবশ্য শুভ্রাংশু আবার তাঁর ডিসপ্লে ছবি বদলে দেন। ফলে শর্মিষ্ঠাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও পরিবারের তরফে এখনও কোনও দুঃসংবাদের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।শুভ্রাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সুস্থ রয়েছেন এবং চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার কারণেই নিখোঁজদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। শর্মিষ্ঠার প্রকৃত অবস্থান কোথায়, তিনি নিরাপদে রয়েছেন কি না এবং কবে তাঁর সন্ধান মিলবে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পরিবার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আচমকা কড়া নিয়ম! বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে লাগবে সরকারি অনুমতি

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বলেন্দ্র শাহর সরকার। সরকারি অনুমতি ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না বিদেশি সাংবাদিকেরা। সেখানে যেতে হলে সরকারি অনুমতিপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিও সঙ্গে রাখতে হবে।নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিদেশি সাংবাদিকদের আগে সরকারি দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সেই আবেদন করতে হবে।আবেদনের সময় সাংবাদিকদের বৈধ ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র-সহ পাসপোর্টের অনুলিপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি যে সংবাদমাধ্যমে তিনি কাজ করেন, সেই সংস্থার সুপারিশপত্রও প্রয়োজন হবে। যে দেশ থেকে সাংবাদিক নেপালে এসেছেন, সেই দেশের দূতাবাস বা বিদেশ মন্ত্রকের সুপারিশপত্রও জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে সাংবাদিক হিসাবে নিজের পরিচয়পত্রও দেখাতে হবে।নেপাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদন খতিয়ে দেখার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ১৫ দিন। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একটি বিশেষ সাহায্যকেন্দ্রও চালু রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।তবে আচমকা বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে এত কড়া নিয়ম কেন জারি করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নেপাল সরকারের তরফে এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফলে নতুন নির্দেশকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে চিনকে ঘিরে। কারণ, যে এলাকাগুলিতে বন্যার খবর সংগ্রহে বিধিনিষেধ জারি হয়েছে, তার একটি বড় অংশ উত্তর নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে। এই কারণে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকেই বিদেশি সাংবাদিকদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে চিনের চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।এর আগে বন্যাবিধ্বস্ত ওই এলাকায় বিদেশি সাহায্য নিয়েও নেপাল সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছিল বলে জানা যায়। পরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এবার বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম জারি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামে বলে জানা গিয়েছে। তার জেরে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার জেরে বহু মানুষ নিখোঁজ এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৪৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান চলতে থাকায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নেপাল সরকারের নতুন নির্দেশিকা তাই নতুন করে নজর কেড়েছে। নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বিদেশ

নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক, নেপালে বাড়ল আশার আলো

কাঠমান্ডু: ভয়াবহ বন্যার জেরে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গে আটকে পড়ার নয় দিন পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ এবং কবীর মহার্জনকে। সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার ভিতরে তাঁদের সন্ধান মেলে। তাঁদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা নতুন করে জোরালো হয়েছে।৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মেকানিক্যাল ফোরম্যান। গত ২৬ অগস্ট ত্রিশুলি উপত্যকায় বন্যা আছড়ে পড়ার সময় অন্য কর্মীদের বেরিয়ে যেতে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি নিজেই আটকে পড়েন। পরবর্তী নয় দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গেই কাটাতে হয় তাঁকে। উদ্ধারকারীদের তিনি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখতে মন্ত্র জপ করতেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।বন্যার সময় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে সাধারণত চার থেকে ছজন কর্মী থাকলেও সেদিন সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাহ। বিপদের খবর পেয়ে তিনি অন্যদের দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু নিজে আর বেরোতে পারেননি। তাঁর কথায়, এত বড় বিপদের সময় অন্যদের ফেলে পালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।উদ্ধার অভিযানও ছিল অত্যন্ত কঠিন। বন্যার স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। পুরনো মানচিত্র, উপগ্রহচিত্র, হেলিকপ্টারের ভিডিয়ো এবং এলাকার বিদ্যুতের খুঁটির অবস্থান দেখে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করেন। এরপর শুরু হয় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ।বিশাল আকারের পাথর সরাতে ব্যবহার করা হয় খননযন্ত্র। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করতে হয়েছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বার করতে পাম্প এবং নিকাশি পথও তৈরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে একজন মানুষ যাতায়াত করতে পারে এমন সরু পথ তৈরি হয়।শুক্রবার ভোরে সুড়ঙ্গের গভীর থেকে উদ্ধারকারীরা ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পান। ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে সাড়া মেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহ এবং মহার্জনের কাছে পৌঁছে যান উদ্ধারকারীরা। একজনকে পিঠে করে এবং অন্যজনকে স্ট্রেচারে করে বাইরে আনা হয়। পরে দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছিলেন না। তবে সাহের আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানা যায়।তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। শুধু আপার ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পেই প্রায় ১১৫ জন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।ত্রিশুলি উপত্যকার অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও চলছে তল্লাশি। উদ্ধারকাজে নেপালের সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও সহযোগিতা করছেন। প্রযুক্তিগত তথ্য আদানপ্রদানের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সুড়ঙ্গের নকশা থেকে নিখোঁজ কর্মীদের ফোন নম্বরবিভিন্ন তথ্য দ্রুত উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।সঞ্জয় সাহ ও কবীর মহার্জনের জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই শুধু দুটি প্রাণ বাঁচানোর সাফল্য নয়, সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা আরও বহু মানুষের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো। উদ্ধারকারীরা এখন এমন একটি অংশের সন্ধান করছেন, যেখানে তুলনামূলক বেশি জায়গা এবং বেঁচে থাকার উপযোগী পরিস্থিতি থাকতে পারে।অন্যদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি। আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের পরিবেশবিদ রাজিশ শ্রেষ্ঠার পরিবারও তাঁর ফেরার আশায় দিন গুনছে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, বাইরে তাকালেই তাঁর মনে হয় ছেলে বুঝি ব্যাগ হাতে বাড়ি ফিরছে। সেই আশাতেই এখনও দিন কাটছে তাঁদের।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
বিদেশ

ভোররাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হল নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে, বড় অভিযানে নতুন সরকার

নেপালে বড় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে ভোররাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও।শুক্রবারই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নেপালের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের সময় হওয়া হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্রেফতারি বলে জানা যাচ্ছে। সেই সময় ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।এরপর মার্চ মাসে জাতীয় নির্বাচন হয়। বহু রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও কেউ ভাবতে পারেনি বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন দল এত বড় জয় পাবে। তরুণ ভোটারদের সমর্থনে তাঁর দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বলেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন।নতুন সরকার গঠনের পরই গত বছরের হিংসা নিয়ে তদন্তের রিপোর্ট কার্যকর করা শুরু হয়েছে। একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওলি গুলিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং তার ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ওলি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও নতুন প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।জানা যাচ্ছে, এই মামলায় আরও কয়েকজন প্রাক্তন আধিকারিককে গ্রেফতার করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ে নেপালে এখন চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মার্চ ২৮, ২০২৬
বিদেশ

জেন জ়ির সমর্থনেই কি ইতিহাস? গণনায় এগিয়ে বলেন্দ্র, বড় ধাক্কা খেতে চলেছেন ওলি

নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে ভোট গণনা। আর গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় বড় চমক দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-কে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলেন্দ্র। সেই জনপ্রিয়তাই এখন ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।ঝাপা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, চুয়াত্তর বছর বয়সি ওলিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বলেন্দ্র। যদি এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।বলেন্দ্র শাহের পরিচয় প্রথমে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কাঠামোগত প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়-এ গবেষণা করছেন। কিছুদিন তিনি টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি-তে যোগ দেন রবি লামিছানে-র নেতৃত্বে। দুই হাজার বাইশ সালে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন।নেপালের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বলেন্দ্র শাহ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেখানে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সেই আন্দোলনের জেরে নেপালের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত হন কে পি শর্মা ওলি। আন্দোলনের সময় একাংশ বিক্ষোভকারী বলেন্দ্র শাহকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী।সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন বলেন্দ্র শাহ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এবার নির্বাচনের ফলাফল যদি তাঁর পক্ষে যায়, তাহলে তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও তুলে ধরতে পারে তাঁর দল।তবে বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি অতীতে একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ভারতের কিছু অঞ্চলকে নেপালের অংশ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। দুই হাজার তেইশ সালের জুন মাসে নিজের কার্যালয়ে নেপালের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন বলেন্দ্র। সেই মানচিত্রে ভারতের কয়েকটি অঞ্চলকে বৃহত্তর নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপালের পরিস্থিতির উপর তারা নজর রাখছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালে শান্তি, অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতাকে ভারত সবসময় সমর্থন করে। নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্য ভারত কাজ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের জন্য মোট দুইশো পঁচাত্তর জন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে একশো পঁয়ষট্টি জন সরাসরি ভোটে এবং একশো দশ জন অনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
রাজ্য

ওলির পতনের পর প্রথম ভোট! কড়া নিরাপত্তায় নেপাল, ৭২ ঘণ্টা বন্ধ পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত

গণবিক্ষোভের জেরে গত নয় সেপ্টেম্বর ক্ষমতা হারিয়েছিল কেপি শর্মা ওলি-র নেতৃত্বাধীন সরকার। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ধীরে ধীরে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। তার পরেই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে আজ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই চলছে ভোট।নির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্ত। শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত বাহাত্তর ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপাল থেকে বহু রোগী প্রতিদিন শিলিগুড়িতে চিকিৎসার জন্য আসেন। আগামী ছয় মার্চ সকাল থেকে সীমান্ত আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।সীমান্ত বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পানিট্যাঙ্কি এলাকার বাণিজ্য অনেকটাই নেপালের ক্রেতাদের উপর নির্ভরশীল। পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, নেপালে স্থায়ী সরকার গঠনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সীমান্তের ব্যবসায়ীরা। কারণ নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ে সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়।সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত থেকে শুধুমাত্র নেপালের নাগরিকরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে দেশে ফিরতে পারছেন। একইভাবে নেপালে আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটক বা শ্রমিকদের ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা চালু রয়েছে।নেপালের নির্বাচনকে সামনে রেখে শিলিগুড়ি মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রেখে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই ভোটের দিকে নজর রয়েছে দুই দেশেই। ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর তার প্রভাব পড়তে পারে সীমান্তবর্তী ভারতের অর্থনীতিতেও।

মার্চ ০৫, ২০২৬
বিদেশ

‘খুনিদের সরকার চাই না!’—চিৎকারে কেঁপে উঠল নেপাল, রাস্তায় তরুণদের সাথে ওলির কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ

নেপালে ফের অশান্ত জেন জি আন্দোলন। গত সেপ্টেম্বরে যে জনবিক্ষোভ ইউএমএলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই আন্দোলনের তরুণেরা আবার পথে নামলেন। আর তাঁদের সামনে দাঁড়াতেই মাঠে নেমে পড়েছেন কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের একাধিক জায়গা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে বৃহস্পতিবার কয়েকটি এলাকায় কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সিমারা চকে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন জেন জি আন্দোলনকারীদের বড় একটি দল। যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ানো পরিবেশের মধ্যেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিমারা বিমানবন্দরের দিকেও ততক্ষণে জমে উঠেছে ভয়ার্ত উত্তেজনা। সেখানে ইউএমএল নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেন জি তরুণদের ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ওলির দলের দুই শীর্ষ নেতামহেশ বসনেট এবং শঙ্কর পোখারেল। দুজনেই সেদিন কাঠমান্ডু থেকে বিমানে সিমারায় পৌঁছান একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন জেন জি-র জেলা সমন্বয়ক সম্রাট উপাধ্যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিমানবন্দরে মহেশ-শঙ্কর জুটি নামতেই জেন জি বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেনখুনিদের সরকার চাই না। আর সেই স্লোগানকে ঘিরেই চোখের পলকে শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়া, ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কিসব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহত হন অন্তত ছয় জন জেন জি কর্মী। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় বাহিনী মোতায়েন করে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে জারি হয় কার্ফু। নেপালে ফের দাঁত-নখ বের করে উঠছে তরুণদের জেন জি আন্দোলনএটা যেন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
বিদেশ

নেপালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে কি অনিশ্চয়তা বাড়ছে? কে পাচ্ছেন দায়িত্ব?

কে পি শর্মা ওলি সরকারের পতনের পর নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা বৃহস্পতিবার আরও তীব্র হয়ে ওঠে। জেনারেল জেডের প্রতিবাদী দলগুলি ক্ষমতার অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কে নেবে তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌডেল জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অচলাবস্থার যে কোনও সমাধান বিদ্যমান সংবিধানের অধীনেই খুঁজে বের করতে হবে।রাষ্ট্রপতির এই অবস্থান নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেলের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে। একদিন আগে, জেনারেল সিগডেল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হিসেবে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন, অনেক বোঝাপড়া এবং জেনারেল জেডের কিছু গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।নেপালের বর্তমান সংবিধান কোনও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হতে বা অবসর গ্রহণের পরে অন্য কোনও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হতে দেয় না। কার্কি ২০১৭ সালের জুনে অবসর গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি পৌডেল বলেন যে বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় সম্ভব এবং এটি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।তাঁর এই দাবিকে অত্যন্ত মেরুকৃত পরিবেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সংবিধান রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমপক্ষে চারটি প্রধান দল - সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র), নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন (ইউএমএল) এবং মাদেশ-কেন্দ্রিক গোষ্ঠী - তার আহ্বানকে সমর্থন করেছে।পৌডেলের এই বক্তব্য জেনারেল সিগডেলের একাধিক জেনারেল জেড গ্রুপ এবং অন্যান্য নেতাদের আলোচনার টেবিলে আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে। যেখানে কোনও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের নেতার নেতৃত্বে নয় এমন একটি সরকার গঠনের সুবিধার্থে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।রাষ্ট্রপতির এই পদক্ষেপ সফল হলে, বিষয়টি সংসদে ফিরে আসবে যেখানে নেপালি কংগ্রেস এবং সিপিএন (ইউএমএল)-এর জোট - দুই দিন আগে অলি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট - সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এটি অলি বা তার মনোনীত প্রার্থীর ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় কারণ তিনি এখনও সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে পদত্যাগ করেননি।সংবিধান এবং সংসদ রক্ষার এই পদক্ষেপ জেনারেল জেড গ্রুপিংয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিভক্তির মধ্যে এসেছে - এর কোনও আনুষ্ঠানিক কাঠামো বা কমান্ডের শৃঙ্খল নেই এবং একাধিক গ্রুপ বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে এগোচ্ছে।বিদ্যমান সংবিধান রক্ষার জন্য ঐক্যের লক্ষণ দেখানো সত্ত্বেও, প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা ২০ জন বিক্ষোভকারীর হত্যা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য দোষারোপের খেলা শুরু করেছেন। অলি এই সহিংসতার জন্য সমাজবিরোধী এবং অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, জেনারেল জেড গ্রুপগুলিতে অনুপ্রবেশ করেছিল। কিন্তু মাওবাদী প্রধান পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড সরাসরি সিপিএন (ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেসের ক্ষমতাসীন জোটের উপর দোষ চাপিয়েছেন। ১৪ মাস আগে যখন আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করি, তখন তারা একসাথে আমার সরকারকে উৎখাত করে, তিনি বলেন।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫
রাজ্য

চোখের চিকিৎসা করতে নেপালে আটকে পড়েছিলেন বর্ধমানের বাসিন্দা, সামাজিক মাধ্যমে আবেদন করতেই .....

বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত পরশি দেশ নেপাল। সরকার উপরে ফেলেছে ওই দেশের জনগণ। সেই দেশেই চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন বাংলার বাসিন্দা সৈয়দ আরজাদ হোসেন ও তাঁর মেয়ে কবিতা খাতুন। পূর্ব বর্ধমানের সরাইটিকর গ্রামের বাড়ি আরজাদের। কিন্তু কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সেই চিন্তায় আকূল হয়ে পড়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরেই সমস্যার সমাধান মেলে। ভারতীয় সেনা, দার্জিলিং এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় আরজাদ হোসেন ও তাঁর মেয়ে দেশে ফিরছেন। এখন দুশ্চিন্তা মুক্ত বর্ধমানের এই পরিবার। পরিবার সূত্রে খবর, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেয়ে কবিতাকে নিয়ে নেপালে যান আরজাদ হোসেন। পরের দিন তাঁরা চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান। তাঁরা যখন নেপালে গিয়েছিলেন তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে বাইরে বেরিয়ে তাঁরা হকচকিয়ে যান। গণ বিক্ষোভে আগুনে পুড়তে দেখেন পাহারী দেশকে। সেই পরিস্থিতি দেখে আরজাদ ও তাঁর মেয়ে সোজা হোটেলে ঢুকে পড়েন। হোটেলেই তাঁরা বন্দি হয়ে পড়েন। নেপালের পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিভাবে বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান।নিরুপায় হয়ে সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন করেন আরজাদ হোসেন। বিষয়টির ওপর নজর দেয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। তাঁরা উদ্যোগী হয় হোসেন পরিবারকে এই দেশে ফিরিয়ে আনতে। তাঁরা ভারতীয় সেনার সঙ্গে যোগাযোগের পরেই সমস্য সমাধানের পথ তৈরি হয়। সেনার তৎপরতায় বৃহস্পতিবার সকালে যোগবানী সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন আরজাদ হেসেন ও তাঁর মেয়ে। এই পরিবারের বক্তব্য ভারতীয় সেনা ও প্রশাসন ছাড়া তাঁরা এখন ফিরতে পারতেন না। স্বস্তি ফিরেছে সরাইটিকরের হোসেন পরিবারে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫
বিদেশ

প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগ, মন্ত্রীদের বাড়িতে আগুন, জ্বলছে প্রতিবেশি নেপাল

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সহিংস হয়ে ওঠার পর মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভূতপূর্ব, গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টিআইএ-র জেনারেল ম্যানেজার হংসরাজ পান্ডে জানিয়েছেন, কোটেশ্বরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন গুজবের মধ্যে টিআইএও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিক্ষোভকারীরা ললিতপুরের সানেপা পাড়ায় নেপালি কংগ্রেস পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এপির প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভকারীরা বালকোটে প্রধানমন্ত্রী ওলি, রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌদেল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। নেপাল সরকার দেশে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার একদিন পরই নতুন করে এই বিক্ষোভের ঢেউ শুরু হয়েছে। জেনারেল-জেডের নেতৃত্বে নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৫
বিদেশ

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণে উত্তাল কাঠমান্ডু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্তে উত্তাল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। সোমবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এদিন ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং আড়াইশোরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।সরকারি নির্দেশে ফেসবুক, এক্স (টুইটার) এবং ইউটিউব-সহ একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এগুলি রাষ্ট্রীয় নিয়মে নিবন্ধিত হয়নি। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।বিক্ষোভকারীরা নিউ বানেশ্বর এলাকায় ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবন ঘেরাও করে। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দাঙ্গা পুলিশকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ৮০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই সাংবাদিকও রয়েছেন। তবে সার্বিকভাবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে ২০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।সোমবার রাতের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও প্রশাসনের আশঙ্কা, মঙ্গলবার ফের বিক্ষোভ হতে পারে। সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে।এদিকে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। তার দাবি, সরকারের সিদ্ধান্তে মন্ত্রীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে হবে।এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে জোটসঙ্গী নেপালি কংগ্রেসের মন্ত্রীরা বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার জেরে জোট সরকারের ভেতরকার টানাপোড়েন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৫
দেশ

পড়শি দেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ৬, দিল্লিসহ উত্তর ভারতেও কম্পন

ভোর রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল। বুধবার ভোরের ভূমিকম্পে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৬.৬। জানা গিয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রতিবেশি দেশে। কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী দিল্লসহ উত্তর ভারতের একাধিক জায়গায়।জানা গিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট থেকে ১৫৮ কিমি উত্তর-পূর্বে। এটা নেপাল সীমান্ত লাগায়ো দোতি জেলা। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে কম্পনের কেন্দ্রস্থল। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ভোর রাত ২.১২ মিনিট নাগাদ দোতিতেই কম্পনের জেরে বাড়ি ভেঙে ৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নেপালের ভূমিকম্পের জেরে কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের একাধিক স্থানে।এই কম্পনের আগে দুবার কম্পন হয়েছে। ওই একই উৎসস্থলে মঙ্গলবার রাত ৯.০৭ -এ রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার কম্পন হয়, তারপর রাত ৯.৫৬ নাগাদ একই কেন্দ্রস্থলে ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নভেম্বর ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

২ ম্যাচের জন্য বিদেশি ডিফেন্ডার!‌ শেষ পর্বে ঘুম ভাঙল এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের‌

সারা বছর ঘুমিয়ে থাকার পর আইএসএলের শেষ পর্বে এসে ঘুম ভেঙেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের! না হলে লিগের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বিদেশি ডিফেন্ডার দলে নেবেন কেন? কোন যুক্তিতে ২ ম্যাচ আগে নতুন ফুটবলার সই করালেন কর্তারা, বোধগম্য নয়।শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জেরবার এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। দল গড়া থেকে শুরু করে, মাঝপথে কোচ বিতরণ, ফুটবলার ছাঁটাই। মাঝে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধেও ফুটবলাররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। আইএসএলে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি এসসি ইস্টবেঙ্গলের। একটা নর্থইস্ট ইউনাইটেড, আর একটা বেঙ্গালুরু এফ সির বিরুদ্ধে। দুম্যাচের জন্য নেপালের তরুণ ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংকে সই করালেন লালহলুদ কর্তারা।নেপালের থ্রি স্টার ক্লাবে খেলতেন ২৪ বছর বয়সী অনন্ত তামাং। নেপালের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে দারুণ নজর কেড়েছিলেন। সেই সুবাদে জায়গা পান জাতীয় দলে। ২০১৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সাফ কাপে ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়। ২০২০ সালে নেপালের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিতও হয়েছিলেন। এখন দেখার বাকি দুটি ম্যাচে তিনি কতটা রক্ষা করতে পারেন লালহলুদ রক্ষণকে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাবের জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পেয়ে খুশি অনন্ত তামাং। লালহলুদ মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসসি ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি দারুণ খুশি। আমার কাছে গর্বের মুহূর্ত। চেষ্টা করব দলকে সবরকম ভাবে সাহায্য করতে।🚨𝐀𝐍𝐍𝐎𝐔𝐍𝐂𝐄𝐌𝐄𝐍𝐓🚨We are happy to announce the signing of Nepal🇳🇵defender Ananta Tamang for the remainder of the season.🗣️I am happy to join SC East Bengal. I look forward to helping the club in every way I can. It is a proud moment for me.#WeAreSCEB pic.twitter.com/aRKzGGwMM6 SC East Bengal (@sc_eastbengal) February 23, 2022আইএসএলে ১৮ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে এসসি ইস্টবেঙ্গলের। মাত্র ১টা ম্যাচে জয় এসেছে। ৭টি ড্র। ১০টিতে হার। ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শেষে রয়েছে। বাকি ২ ম্যাচ জিতলেও খুব বেশি হেরফের হবে না। এই অবস্থায় নতুন বিদেশি ফুটবলার সই করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এতদিন কি কর্তারা ঘুমিয়ে ছিলেন?এদিকে, বুধবার মুম্বই সিটি এফসির কাছে হার একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তিনি মনে করছেন, মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর দল হারার মতো খেলেননি। রিভেরা বলেন, ফুটবলাররা দারুণ খেলেছে। ১ গোলে হারতে হয়েছে। অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম। কাজে লাগাতে পারিনি। পেনাল্টিও পাইনি। এই বার আমাদের প্রাপ্য ছিল না।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজনীতি

Mamata Bannerjee: মুখ্যমন্ত্রীর নেপাল সফরেও ‘না’ বিদেশ মন্ত্রকের!

এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেপাল সফরে না কেন্দ্রের। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নেপাল সফরে ছাড়পত্র দেয়নি বিদেশ মন্ত্রক। ১০ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালে সফরে থাকার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর, কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সফরে রাজি নয় বিদেশ মন্ত্রক।নেপালের শাসকদল নেপালি কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্প্রতি সে দেশে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রী গ্রহণও করেন। এরপরই নেপাল যাত্রার জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয় কেন্দ্রের কাছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ পত্র পাঠান নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট তথা বর্তমানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দুর্বা। নেপালি কংগ্রেসের ন্যাশনাল কনভেনশন রয়েছে ১১ ডিসেম্বর। নেপালে যেতে যেহেতু পাসপোর্ট লাগে না, ভিসাই যথেষ্ট। সে ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় রওনা হতেন। না হলে শনিবার সকালে।সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নবান্নের কাছে সে সংক্রান্ত জবাব এসেছে। জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে নেপালে যেতে পারবেন না মমতা। কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে করোনার সংক্রমণ। শুক্রবার সকালেই এই সফরে না করা হয়েছে। কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বাড়বাড়ন্ত।এর আগে রোম সফরেও অনুমতি দেওয়া হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই সফর সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমনটাই বক্তব্য ছিল বিদেশ মন্ত্রকের। জানা গিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের তরফে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি সে সময় নবান্নে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর এই রোম সফরের দরকার নেই। এর বেশি কোনও ব্যাখ্যা সেখানে দেওয়া হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যারও বিশেষ জায়গা থাকে না। মন্ত্রকের হ্যাঁ বা না যথেষ্ট।

ডিসেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

SAFF Championship : মেসিকে স্পর্শ সুনীলের, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আধিপত্য ভারতের

লিগ পর্বে প্রথম দুটি ম্যাচে ড্র করে একসময় ফাইনালে ওঠাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ দুটি ম্যাচ জিতে ফাইনালের ছাড়পত্র। অবশেষে নেপালকে ৩০ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আধিপত্য বজায় রাখল ভারত। এই নিয়ে ৮ বার চ্যাম্পিয়ন হল। ২০১৫ সালে কেরলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সুনীল ছেত্রিরা। ফাইনালেও গোল করে লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করলেন সুনীল। নেপালের বিরুদ্ধে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাক বলেছিলেন, তাঁর দল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নয়। সুনীল ছেত্রিরা যে সত্যিই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই তার প্রমাণ মিলেছে। লিগ পর্যায়ের মতো এদিনও রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল নেপাল। ওই ম্যাচের না হয় আলাদা উদ্দেশ্য ছিল। ১ পয়েন্ট পেলেই ফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে যেত নেপাল। ফাইনালে তো আর সেই ব্যাপার ছিল না। আসলে নেপাল কোচ আব্দুল্লাহ আলমুতাইরির লক্ষ্য ছিল শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে রক্ষণ শক্ত করে প্রতিআক্রমণভিত্তিক ফুটবল খেলা। রক্ষণে জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন নেপাল কোচ। ফলে বারবার আক্রমণে উঠে গিয়েও তিন কাঠি খুঁজে পাচ্ছিলেন না সুনীল ছেত্রি, মনবীর সিংরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ঝড় তুলেছিল ভারত। ৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও এসেছিল। মহম্মদ ইয়াসিরের দুরপাল্লার শট আংশিক প্রতিহত করেন নেপাল গোলকিপার লিম্বু। ফিরতি বল যায় অনিরুদ্ধ থাপার কাছে। তাঁর শট আবার বাঁচান নেপাল গোলকিপার। ৬ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে গোল করার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। নোয়াং শ্রেষ্ঠা কাজে লাগেতে পারেননি। বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও নেপাল পেনাল্টি বক্সে রক্ষণের ভুলে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন মনবীররা। তবে প্রথমার্ধে সবথেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সুনীল ছেত্রি। ডানদিক থেকে মহম্মদ ইয়াসিরের ভেসে আসা সেন্টার সুবিধাজনক জায়গা থেকেও জালে রাখতে পারেননি সুনীল। তাঁর ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মালদ্বীপের বিরুদ্ধে লিগের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় ফাইনালে রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন না ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাক। তাঁর পরিবর্তে দল পরিচালনা করেন সহকারী কোচ বেঙ্কটেশ। ম্যাচের বিরতিতে তাঁর পেপ টকই বদলে দেয় ভারতীয় দলকে। প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন স্টিম্যাক। তাঁর পরামর্শেই দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ভারত। শুরু থেকেই গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠেন সুনীলরা। মাঝখান দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে কোনও ফায়দা না ওঠায় দুপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন মহম্মদ ইয়াসির, প্রীতম কোটালরা। ফলও পেয়ে যায়।ম্যাচের ৪৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় ভারত। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এসে সেন্টার করেন প্রীতম কোটাল। দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুনীল ছেত্রি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করেন তিনি। দেশের হয়ে দুজনের গোল সংখ্যাই ৮০। এক মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ান সুরেশ সিং। মহম্মদ ইয়াসিরের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে তিনি গোল করেন। ৯০ মিনিটে ভারতের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন সাহাল।

অক্টোবর ১৬, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

রবিবার মেট্টো চলাচল কোন দিকে কতক্ষণ বন্ধ থাকবে? অসুবিধায় না পড়তে এই খবর আগে পড়ুন

রবিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে মেট্রো রেলের এই ঘোষণা জেনে নিন। ওই দিন কয়েকটি স্টেশনের মধ্যে মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কাজের সুবিধার্থে ১৩.০৯.২০২৬ (রবিবার) ব্লু লাইনের গীতাঞ্জলি এবং কবি নজরুল মেট্রো স্টেশনের মধ্যে যান চলাচল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে, ওই দিন সকাল ০৯:০০টা থেকে সন্ধ্যা ১৮:৩০টা পর্যন্ত শহীদ ক্ষুদিরাম এবং মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনের মধ্যে কোনো মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যাবে না।তবে, ওই দিন অর্থাৎ ১৩.০৯.২০২৬ (রবিবার) দক্ষিণেশ্বর এবং মহানায়ক উত্তম কুমার মেট্রো স্টেশনের মধ্যে স্বাভাবিক মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যাবে। রবিবার ব্লু লাইনের সম্পূর্ণ অংশে, অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত স্বাভাবিক মেট্রো পরিষেবা সন্ধ্যা ১৮:৩০টার পর (আনুমানিক) পুনরায় চালু হবে। যাত্রীদের এই অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

পথচারীর মৃত্যুর পর উত্তপ্ত আউসগ্রামের বড়া চৌমাথা, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির যাত্রীদের উপর হামলা, তান্ডবের অভিযোগ

পথ দুর্ঘটনায় এক চাষির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বড়া চৌমাথা। দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ভিতরে থাকা শনিবার দুপুরে বড়া চৌমাথা মোড়ের কাছে দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ভিতরে থাকা তিন পুরুষ যাত্রীকে মারধর এবং এক মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আউশগ্রাম ও ভাতার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বর্ধমান-বোলপুর NH 114 নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বিহার থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল একটি চারচাকা গাড়ি। বড়া চৌমাথা মোড়ের কাছে আচমকাই এক পথচারীকে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। দুর্ঘটনার জেরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় বিনোদ মল্লিক রায় (৩৮)। তিনি বড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় চাষি ছিলেন।ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে তাতে ভাঙচুর চালায়। এরপর গাড়ির যাত্রীদের বাইরে বের করে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। গাড়িতে থাকা মহিলা যাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে বড়া চৌমাথা মোড় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিতে মোট চারজন যাত্রী ছিলেন একজন মহিলা এবং তিনজন পুরুষ। হামলা ও দুর্ঘটনায় তাঁরা আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সকলকেই বর্ধমান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় মৃত বিনোদ মল্লিক রায়ের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিও আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে বর্ধমান-বোলপুর জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর, যাত্রীদের মারধর এবং মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

মোদীর জন্মদিনে ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’, বাংলায় মাসভর জনসংযোগে বিজেপি

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর জুড়ে সেবা সংকল্প অভিযান, বুথে বুথে প্রদীপ প্রজ্বলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারযুব সমাজ ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছনোর বিশেষ পরিকল্পনাপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে বাংলায় কার্যত মাসব্যাপী জনসংযোগ অভিযানে নামতে চলেছে বিজেপি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন। সেই দিন থেকেই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে রাজ্যজুড়ে চলবে সেবা সংকল্প অভিযান। তবে শুধুমাত্র জন্মদিন উদ্যাপন নয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত আরও সক্রিয় করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে খবর।এই অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ আশীর্বাদ কা দিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রদীপ প্রজ্বলনের আবেদন জানানো হবে। বিজেপির ব্যাখ্যায়, এই প্রদীপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে দেশবাসীর সম্মিলিত সংকল্পের প্রতীক। মোদীর দীর্ঘায়ু কামনা করেও প্রদীপ জ্বালানোর আবেদন জানানো হবে।প্রাথমিক ভাবে প্রতি বিধানসভা এলাকায় ২৫ হাজার করে প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের মাধ্যমে ওই প্রদীপগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।প্রদীপের দাম প্রতি পিস ৪ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে। প্রদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রে মোম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০ হাজার করে প্রদীপ জ্বালানো হলে মোট প্রদীপের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ। অর্থাৎ, এই কর্মসূচিতে প্রদীপ বাবদ মোট খরচ হতে পারে প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধায়কদের মাধ্যমে প্রদীপ বিতরণ করে নির্দিষ্ট দিনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।সুবিধাভোগীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে বিজেপিসেবা সংকল্প অভিযান-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির একটি হতে চলেছে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা বুথ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বুথ স্তরের কর্মীরা সেই তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ কা দিয়া প্রজ্বলনের আমন্ত্রণ জানাবেন।শুধু সরাসরি যোগাযোগ নয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হিন্দিতে একটি বিশেষ ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। পরে সেটিকে বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় ভাষায় রূপান্তর করা হবে। বাংলাতেও সেই ভিডিও প্রচার করা হবে। একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে থিম সং এবং সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র।দলের লক্ষ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং মোদী সরকারের সাফল্যের বার্তা সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ, জন্মদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে একদিকে যেমন আবেগ ও শুভেচ্ছার আবহ তৈরি করা হবে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক যোগাযোগও আরও জোরদার করার চেষ্টা থাকবে।নজরে যুব সমাজ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়এবারের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং তাঁদের কাছে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ জনসেবা, তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বিকশিত ভারতের রূপরেখা নিয়ে তথ্য তুলে ধরা হবে। স্কুলস্তরেও থাকছে অঙ্কন ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। এই কর্মসূচিতে শিক্ষা দফতরকেও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দল।এর পাশাপাশি জনসংযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে পথনাটক। কমিউনিটি হল থেকে শুরু করে জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় পথনাটকের আয়োজন করা হবে। মোদীর ২৫ বছরের জনসেবা, বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং দেশের পরিবর্তনের দাবিএই বিষয়গুলিই পথনাটকের মূল বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে।সেবা সেতু শিবিরে সরকারি পরিষেবার বার্তাশুধু প্রচার নয়, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করার জন্য বিধানসভা এলাকার ব্লকস্তরেও সেবা সেতু অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সেবা সেতু নামে শিবির করে যোগ্য নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।যাঁরা এখনও কোনও প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে নথিভুক্ত হননি, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এই শিবিরগুলিকে জনসংযোগের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি।পদযাত্রা থেকে স্বাস্থ্য শিবির, থাকছে একাধিক কর্মসূচিসেবা সংকল্প অভিযান-এর তালিকা আরও দীর্ঘ। রাজ্যজুড়ে পদযাত্রা, বাইক র্যালি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, রক্তদান শিবিরের মতো একাধিক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়েও বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মোদীর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দল ও সরকারকে একইসঙ্গে মাঠে নামিয়ে এত দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি এই প্রথম। ফলে কর্মসূচিকে নিছক জন্মদিন পালন হিসেবে দেখতে নারাজ রাজ্য নেতৃত্ব। বরং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরজুড়ে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বাড়ানোই মূল উদ্দেশ্য।এই গোটা কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ঘোষিত এই সেবা সংকল্প অভিযান শেষ পর্যন্ত কতটা বড় রাজনৈতিক জনসংযোগ কর্মসূচির চেহারা নেয় এবং বুথস্তরে বিজেপির সংগঠনকে কতটা সক্রিয় করতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
দেশ

এক পাশে পুতিন, অন্য পাশে জিনপিং! মাঝখানে মোদী, এক ছবিতেই চমকে দিল ব্রিকস সম্মেলন

দিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন। সেই সম্মেলনের মাঝেই এক ফ্রেমে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। ছবিতে দুই রাষ্ট্রনেতার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোদী। তিন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।শুক্রবার ভারতে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার পর শনিবার সকালে দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই একসঙ্গে দেখা যায় তিন রাষ্ট্রনেতাকে।সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবি ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবিতে দেখা যায়, পুতিন, মোদী এবং জিনপিং হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে একই ছবিতে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও।ছবি ভাগ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দিল্লিতে শুরু হল ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।শনিবার দুপুরে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলনের মূল অধিবেশন। সম্মেলনের শুরুতেই বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।মোদী জানান, আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলির নীতি নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ দিতে ভারত প্রস্তুত। বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই দেশগুলির মতামতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।ব্রিকসের মঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্কারের বিষয়টি আর পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আলোচনা করলেই হবে না, সেই আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফলও সামনে আসা জরুরি। বিশ্ব ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য ব্রিকসের সদস্য দেশগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও মত তাঁর।আগামী কুড়ি বছরের কথা মাথায় রেখে একটি সুস্পষ্ট পথনকশা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। পুতিন ও জিনপিংয়ের সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা পড়ার পর ব্রিকসের মঞ্চ থেকে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
রাজ্য

রোলাহাটুর জঙ্গলে মিলল ২ ইনসাস, ১০৩ রাউন্ড গুলি! আকাশের পুরনো স্কোয়াড ঘিরে তদন্তে বড় মোড়

রোলাহাটু পাহাড়ে দুটি ইনসাস রাইফেল, ১০৩ রাউন্ড গুলি এবং ছটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধারের পর মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের পুরনো স্কোয়াডকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কারা ব্যবহার করত এবং নিরাপত্তাবাহিনীর চাপের সময় সেগুলি কোথায় সরানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সাম্প্রতিক ঝাড়খণ্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারান্ডা জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়ার পর আকাশ তাঁর দলবল নিয়ে দলমা এলাকার দিকে সরে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছজন মাওবাদী থাকার তথ্য সামনে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত রামপ্রসাদ মার্ডি ওরফে সচিন, ১০ লক্ষ টাকার মীতা ওরফে নয়নতারা, পাঁচ লক্ষ টাকার মঙ্গল মাহাতো, দুলক্ষ টাকার মালতি মুর্মু এবং এক লক্ষ টাকার বুলু ওরফে গৌরী। আকাশের মাথায় এক কোটি টাকা পুরস্কার রয়েছে বলে পুলিশি তথ্য।এর পরেই সেই দলে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বাঁকুড়া জেলা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন রামপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী মীতা এবং বুলু ওরফে গৌরী। রামপ্রসাদ একটি একে-৪৭ রাইফেলও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের আগে এই তিনজনই আকাশের সঙ্গে দলমা এলাকায় ছিলেন।তাঁদের জেরা করে আকাশের বর্তমান গতিবিধি এবং তাঁর পুরনো স্কোয়াড সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ফলে আগে চিহ্নিত ছজনের মধ্যে আকাশ ছাড়া আরও দুজন মাওবাদী এখন কোথায় রয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের তালিকায় থাকা মঙ্গল মাহাতো ও মালতি মুর্মুর নাম তদন্তের পরিধিতে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।পূর্ব সিংভূম পুলিশের প্রকাশ করা পোস্টারে আকাশ-সহ ওই ছজনের ছবি এবং তাঁদের মাথায় ঘোষিত পুরস্কারের তথ্য ছিল। তিনজন আত্মসমর্পণ করার পর সেই পুরনো তালিকাই এখন তদন্তকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।অন্য দিকে, রোলাহাটু পাহাড় থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল এলাকার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সারান্ডা থেকে দলমা এবং সেখান থেকে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলপথ পর্যন্ত আকাশের দলের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে নজরদারি চলছে।বিশেষ করে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান-সংলগ্ন জঙ্গল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির উপর নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। রোলাহাটুর পুরনো ডাম্পে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোনও সময়ে আকাশের স্কোয়াড ব্যবহার করেছিল কি না, অথবা নিরাপত্তাবাহিনীর চাপের সময় অস্ত্রগুলি অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে এখনও পর্যন্ত রোলাহাটু থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি ইনসাস সরাসরি আকাশের অস্ত্র বলে চিহ্নিত করার কোনও প্রমাণ নেই বলেই দাবি বাঁকুড়া জেলা পুলিশের। একই ভাবে, আকাশের সঙ্গে বর্তমানে থাকা বলে সন্দেহ করা দুই সদস্যের নামও পুলিশ প্রকাশ করেনি।ফলে তদন্তের কেন্দ্রে এখন তিনটি বিষয়। রোলাহাটুর অস্ত্রভাণ্ডারের উৎস কোথায়, আত্মসমর্পণকারীদের জেরায় আকাশ সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং সারান্ডা থেকে দলমা হয়ে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া সীমান্তের জঙ্গলপথে আকাশের পুরনো নেটওয়ার্কের কোনও যোগাযোগ এখনও সক্রিয় রয়েছে কি না। এই তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
উৎসব

বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন কেন হয় অরন্ধন? মনসা পুজো, উনুন আর ভিজে ভাতের সঙ্গে জড়িয়ে বাংলার প্রাচীন লোকাচার

অরন্ধন কেন? বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? আর কেনই বা এই দিনটিতে দেবী মনসার আরাধনা করা হয়? বাংলার লোকসংস্কৃতির এই পর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রাচীন বিশ্বাস, ঋতু পরিবর্তনের স্মৃতি এবং গ্রামবাংলার হেঁসেলের নিজস্ব সংস্কৃতি।বারো মাসে তেরো পার্বণএই প্রবাদ যেন বাঙালির জীবনযাত্রারই প্রতিচ্ছবি। পুজো-পার্বণের সেই দীর্ঘ তালিকায় বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক আগের দিন বাংলার বহু ঘরে পালিত হয় অরন্ধন বা রান্না পুজো। বিশেষ করে রাঢ়বাংলা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও এই লোকাচার যথেষ্ট জনপ্রিয়।অরন্ধনের আক্ষরিক অর্থই হলরান্না না করা। অর্থাৎ যে দিন বিশ্বকর্মা পুজো, সেদিন হেঁসেলে আগুন জ্বালানো হবে না। তার আগের দিনই রান্না করে রাখতে হবে পরের দিনের সমস্ত খাবার। তাই বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন থেকেই বহু বাঙালি বাড়িতে শুরু হয়ে যায় রীতিমতো রান্নার উৎসব।বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে অরন্ধনের যোগ কোথায়?বিশ্বকর্মা পুজো মূলত কারিগর, শিল্পী, শ্রমজীবী মানুষ এবং কর্মযন্ত্রের আরাধনার দিন। কলকারখানা থেকে গ্যারাজ, দোকান থেকে বাড়ির সেলাই মেশিনকর্মের সঙ্গে যুক্ত নানা সরঞ্জাম এই দিনে পুজো করা হয়। ফলে বহু জায়গায় বিশ্বাস করা হয়, পুজোর দিনে কর্মযন্ত্রকে যেমন বিশ্রাম দেওয়া হয়, তেমনই বিশ্রাম দেওয়া হবে হেঁসেলকেও।তবে অরন্ধনের সঙ্গে শুধু বিশ্বকর্মা পুজোর সম্পর্ক নেই। এর গভীরে রয়েছে দেবী মনসার লোকবিশ্বাস। বাংলার লোকাচারে মনসা দেবী মূলত সাপ ও সর্পদংশনের ভয় থেকে রক্ষা করার দেবী হিসেবে পূজিত। বর্ষার শেষভাগে গ্রামবাংলায় সাপের আনাগোনা বেড়ে যেত। ভাদ্রের শেষ ও আশ্বিনের শুরুর এই সময়টিকে তাই এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখতেন মানুষ।এই বিশ্বাস থেকেই অরন্ধনের দিনে মনসা দেবীর আরাধনার প্রচলন হয়েছে বলে লোকবিশ্বাস।উনুনই মনসার প্রতীক!অরন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবচেয়ে আকর্ষণীয় লোকবিশ্বাসগুলির একটি হল উনুন।বছরের প্রতিটি দিন যে উনুনে পরিবারের জন্য রান্না হয়, অরন্ধনের দিনে সেই উনুনেই আগুন জ্বলে না। বরং বহু পরিবারে উনুন পরিষ্কার করে তার উপর আলপনা দেওয়া হয়। কোথাও মনসা পাতা, শালুক পাতা বা অন্য পবিত্র পাতা দিয়ে সাজিয়ে ঘট বসানো হয়।লোকবিশ্বাসে, সেই উনুনের গর্তকেই দেবী মনসার প্রতীক হিসেবে মানা হয়। তাই সেদিন উনুনে রান্না না করে তারই সামনে দেবীর পুজো করা হয়।অর্থাৎ অরন্ধন শুধু রান্না না করার দিন নয়, বরং যে আগুন ও উনুন সারা বছর সংসারকে ধারণ করে, তাকে এক দিনের জন্য বিশ্রাম ও সম্মান জানানোর লোকাচারও।অরন্ধনের ভোগে কী থাকে?অরন্ধনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই তার বহু পদে সাজানো ভোগ ও খাবারের আয়োজন। অঞ্চলভেদে পদ বদলে যায়, পরিবারের রীতিতেও থাকে পার্থক্য। তবে ভাদ্র সংক্রান্তি বা অরন্ধনের দিনে বাংলার ঘরে ঘরে দেখা যায় নানা ধরনের নিরামিষ ও আমিষ পদ।কচুর শাক এই রান্নার অন্যতম পরিচিত পদ। তার সঙ্গে থাকে নানা শাক, বিভিন্ন রকম ভাজা, ডাল, চালতার ডাল, চালতার টক, কুমড়ো ভাজা, নারকেল ভাজা ইত্যাদি।অনেক বাড়িতে থাকে ইলিশ মাছের নানা পদ। কোথাও ইলিশ ভাজা, কোথাও সর্ষে ইলিশ, আবার কোথাও স্থানীয় রীতি অনুযায়ী অন্য মাছের পদও রান্না করা হয়।এর পাশাপাশি থাকতে পারেমুগ ডাল বা মুসুর ডালচালতার ডালকচুর শাকবিভিন্ন শাকভাজাকুমড়ো ভাজানারকেল ভাজাআলু বা অন্যান্য সবজির ভাজাচালতার টকইলিশ মাছ বা অন্যান্য মাছের পদপান্তা বা ভিজে ভাতবিভিন্ন ধরনের বড়া ও স্থানীয় ভাজাভুজিঅঞ্চলভেদে আরও নানা পদ যোগ হয়। কোথাও অরন্ধনের ভোগে থাকে কলাই ডাল, কোথাও কাঁচকলা, আবার কোথাও বিশেষ কোনও পারিবারিক পদ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।ভিজে ভাতের সঙ্গে কেন এত স্মৃতি?অরন্ধনের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ভিজে ভাত বা পান্তা ভাত। আগের দিন রান্না করা ভাত জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন খাওয়ার রীতি বাংলার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।এর সঙ্গে কচুর শাক, বিভিন্ন ভাজা, ডাল, মাছের পদ কিংবা টকসব মিলিয়ে তৈরি হয় একেবারে অন্যরকম স্বাদের খাবার। আধুনিক রান্নাঘরে যার জায়গা ক্রমশ কমছে, অরন্ধনের দিন সেই পুরনো স্বাদই যেন ফিরে আসে।আগের দিন এত রান্না কেন?অরন্ধনের মূল নিয়মই হলপরের দিন রান্না নয়। তাই আগের দিন সকাল থেকেই বাড়ির মহিলারা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মিলে শুরু করেন রান্নার আয়োজন।একসঙ্গে অনেক পদ রান্না করে রাখা হয়। তারপর মনসা দেবীকে সেই রান্না নিবেদন করা হয়। পুজো শেষ হলে পরিবারের সদস্যরা সেই খাবার প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন।এই কারণেই কোথাও এই উৎসবের নাম রান্না পুজো, কোথাও বুড়ো রান্না, আবার কোথাও আটাশে রান্না বা স্থানীয় অন্য নামে পরিচিত।অরন্ধন আসলে বাংলার হেঁসেলের উৎসবশহুরে জীবনে অরন্ধনের অনেক রীতিই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্যাসের উনুন, ইন্ডাকশন, মাইক্রোওয়েভের যুগে মাটির উনুনে আলপনা দিয়ে পুজো করার দৃশ্য এখন আগের মতো সর্বত্র দেখা যায় না।তবু বাংলার বহু বাড়িতে আজও অরন্ধন মানেই আত্মীয়-স্বজনের সমাগম, পুরনো দিনের রান্না, মাটির উনুন, মনসা দেবীর পুজো এবং পরের দিন রান্নাঘরে আগুন না জ্বালানোর এক অভিনব রীতি।বিশ্বকর্মা পুজোর কর্মযন্ত্র যখন এক দিনের বিশ্রাম পায়, তখন হেঁসেলের উনুনও যেন সেই বিশ্রামের অংশীদার হয়। আর তারই সামনে দেবী মনসার আরাধনা করে বাঙালি মনে রাখে প্রকৃতি, ঋতু পরিবর্তন, সর্পভয় এবং ঘর-সংসারের মঙ্গলকামনার সেই প্রাচীন লোকবিশ্বাসকে।তাই অরন্ধন শুধুমাত্র রান্না না করার দিন নয়। এটি বাংলার লোকসংস্কৃতি, খাদ্যপরম্পরা, দেবী মনসার আরাধনা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা এক অনন্য উৎসব।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
টুকিটাকি

তেঁতুল শুধু টক নয়, পুষ্টির বড় ভাণ্ডার! শিশু থেকে বয়স্ক, কারা কতটা খাবেন?

তেঁতুলের নাম শুনলেই অনেকের জিভে জল চলে আসে। টক, হালকা মিষ্টি এবং নিজস্ব স্বাদের কারণে ভারতীয় রান্নাঘরে দীর্ঘদিন ধরেই তেঁতুলের বিশেষ জায়গা রয়েছে। ডাল থেকে চাটনি, শরবত থেকে আচার, বিভিন্ন পদে তেঁতুল খাবারের স্বাদ বাড়ায়। তবে শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এই ফলের গুরুত্ব রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে খেলে শিশু থেকে প্রবীণ, বিভিন্ন বয়সের মানুষের সুষম খাদ্যতালিকায় তেঁতুল রাখা যেতে পারে।তেঁতুলে রয়েছে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, অল্প পরিমাণ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি-গোষ্ঠীর কিছু উপাদান। পাশাপাশি এতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখতে এবং হজমে সাহায্য করতে পারে। একই কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও কিছুটা উপকার মিলতে পারে। অন্যদিকে, পটাশিয়াম শরীরের স্বাভাবিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ হাড়, পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় প্রয়োজনীয়।আরও পড়ুনঃ এত দিন মুখ বন্ধ, গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন সুমিত? জমি কেলেঙ্কারিতে সামনে আসছে নতুন তথ্যতেঁতুলে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতেও সাহায্য করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে তেঁতুল কোনও রোগের ওষুধ বা অলৌকিক খাদ্য নয়। এর উপকার পেতে হলে সামগ্রিক সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই এটি খাওয়া উচিত।আরও পড়ুনঃ এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, দুই চিকিৎসক! শিশুমৃত্যুর তদন্তে ভুয়ো ডাক্তারি নথির চাঞ্চল্যকর অভিযোগদুই বছরের বেশি বয়সি শিশুদের অল্প পরিমাণে তেঁতুল দেওয়া যেতে পারে। তেঁতুলের শরবত, টক ডাল, সাম্বর, চাটনি, সালাদ কিংবা তেঁতুল ভাত, বিভিন্নভাবেই এটি খাবারে যোগ করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত তেঁতুল খেলে কারও কারও অম্বল বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের তীব্র অ্যাসিডিটি বা পাকস্থলীর আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। খুব টক খাবার ঘন ঘন খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই তেঁতুলের ক্ষেত্রে মূল কথা, স্বাদ ও পুষ্টি পেতে পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

পুজোয় আমিষ নিয়ে বাগেশ্বরের মন্তব্য, এবার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী! বাঙালিদের নিয়ে কী বললেন?

পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর থেকেই এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তার মধ্যেই শনিবার গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়, আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির অজানা নয়।কয়েক দিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় এসেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। সেখানেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, অনেকে পেঁয়াজ খান, মদ্যপান করেন, আবার নিজেদের ধার্মিকও বলেন। এমনকি পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া বন্ধ করার আবেদনও জানান তিনি। আমিষ খান এমন মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাগেশ্বর বাবা। পাখণ্ডী শব্দ ব্যবহার করে তাঁদের ভেকধারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অন্য কেউ কীভাবে নির্দেশ দিতে পারেন। বিতর্কের মধ্যেই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার তিনি কেউ নন। তাঁর আপত্তি বলিপ্রথা নিয়ে। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মণ্ডপে মাছ-মাংস খেতে তিনি বারণ করেছেন বলেও জানান।এই পরিস্থিতিতেই শনিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ পুজোর অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী লিলুয়ায় এসেছিলেন এবং তাঁকে দেখতে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়। আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির জানা। অর্থাৎ পুজোর সময়ে বাঙালির ধর্মীয় আচারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের যে নিজস্ব রীতি রয়েছে, সেই দিকটিই তুলে ধরেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার আমিষ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পাল বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে সমর্থন করেননি বলেই জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন ধর্মীয় মত, বাঙালির সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসএই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই আরও জোরালো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal