• ২২ ফাল্গুন ১৪৩২, শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Final

খেলার দুনিয়া

আর এক ধাপ ফাইনাল! ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডকে হারালেই বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণ ভারতের

আর মাত্র এক ধাপ। বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই আরও একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নেবে ভারত। কিন্তু কাজটা সহজ নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ।দুই দলের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে ভারত। মোট ঊনত্রিশ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে সতেরোটি, ইংল্যান্ড বারোটি। তবে বিশ্বকাপে লড়াই অনেকটাই সমানে সমানে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ভারত এগিয়ে তিন-দুই ব্যবধানে। এর মধ্যে দুবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। দুদলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। আর দুবারই ফল হয়েছে একপেশে।দুই হাজার বাইশ সালের সেমিফাইনাল এখনও ভোলেননি সমর্থকেরা। সেবার ভারতকে দশ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল একশো আটষট্টি রান। কিন্তু কোনও উইকেট না হারিয়েই সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। জস বাটলার করেছিলেন আশি রান, অ্যালেক্স হেলস ছিয়াশি। সেই হার ভারতীয় ক্রিকেটে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।অধিনায়ক রোহিত শর্মা বুঝেছিলেন, ব্যাটিং মানসিকতায় বদল আনতেই হবে। এরপর থেকে ভারত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। তার ফলও মিলেছে। দুই হাজার চব্বিশ সালের সেমিফাইনালে আবার ইংল্যান্ডকে একপেশেভাবে হারায় ভারত। সেবার ইংল্যান্ড হেরেছিল আটষট্টি রানে।তবে বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত নিঃসন্দেহে যুবরাজ সিং-এর ছয় ছক্কা। দুই হাজার সাত সালে তাঁর সেই বিধ্বংসী ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ভারত।এবার আবার সেই ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারলে আরও একবার শিরোপার হাতছানি। সমর্থকদের প্রশ্ন, এবার কোন ক্রিকেটার হবেন নায়ক? বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচেই মিলবে তার উত্তর।

মার্চ ০৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

“কাঁদাবি নাকি পাগল?” সূর্যকে জড়িয়ে সঞ্জুর আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল, বিশ্বকাপে ইতিহাস ভারতীয় দলের

অপরাজিত ৫০ বলে ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ব্যাটের জোরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারতীয় দল। ম্যাচ শেষে আবেগে ভেসে যান সঞ্জু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে জড়িয়ে ধরে বলতে শোনা যায়, কাঁদাবি নাকি পাগল? সেই মুহূর্ত ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।দলকে জেতানোর পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে টুপি খুলে সঞ্জুকে কুর্নিশ জানান সূর্য। উত্তেজনা আর আবেগে ভরা সেই মুহূর্তে সূর্য বলেন, অনেক কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সঞ্জুর ইনিংস যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট।একটা সময় দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সঞ্জুকে ঘিরে। অন্য ব্যাটারের বদলে তাঁকে খেলানো নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনিই হয়ে উঠলেন ভরসা। সূর্য বলেন, তিনি সবসময় বিশ্বাস করেন, যারা পরিশ্রম করে তাদেরই সাফল্য আসে। সঞ্জু যখন দলে নিয়মিত ছিলেন না, তখনও কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গিয়েছেন। ধৈর্যের ফল তিনি পেয়েছেন সঠিক সময়ে।অধিনায়ক আরও জানান, সঞ্জু অনেক উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। নিজের পছন্দের ব্যাটিং জায়গা হারিয়েছেন, অন্য পজিশনে খেলেছেন, দল থেকেও বাদ পড়েছেন। তবুও লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। সাহসীরাই বড় ম্যাচ জেতায়, সঞ্জু সেটাই করে দেখিয়েছেন। তাঁর পরিবারকেও শুভেচ্ছা জানান সূর্য।ম্যাচ জেতার পর মাঠে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান সঞ্জু। পরে ড্রেসিংরুমে গিয়ে নিজের ব্যাটে চুম্বন করেন। বোঝা যাচ্ছিল, ইনিংসটি তাঁর কাছে কতটা বিশেষ। তাঁর ব্যাটেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের অন্যতম বড় রান তাড়া সফল হল।এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ভারত। শেষ চারের লড়াইয়ে ভারতের সামনে ইংল্যান্ড। এখন প্রশ্ন, সঞ্জুর ব্যাট কি আবারও জ্বলে উঠবে সেমিফাইনালের মঞ্চে? ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেদিকেই।

মার্চ ০২, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, জেলায় জেলায় চাঞ্চল্য! কোথায় কত নাম বাদ গেল জানলে চমকে উঠবেন

অবশেষে প্রকাশিত হল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। আপাতত অফলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ডিএম ও বিডিও অফিসে পৌঁছে গিয়েছে হার্ড কপি। ব্লকে ব্লকে বিএলও-দের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সেই তালিকা। তাঁরা তালিকা সংগ্রহ করে বুথের দিকে রওনা দিচ্ছেন। খুব শিগগিরই রাজ্যবাসী বুথে গিয়ে নিজের নাম মিলিয়ে নিতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুইভাবেই তালিকা দেখার সুযোগ থাকবে, তবে এখনও পর্যন্ত অফলাইনেই তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। জেলায় জেলায় বুথে তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে ঠাকুরনগর, সর্বত্র একই ছবি। তালিকা সামনে আসতেই কোথায় কত নাম বাদ গেল, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। কোথাও বিএলও জানাচ্ছেন, নাম বাদ যায়নি। আবার কোথাও অভিযোগ উঠছে, বিএলও-র নিজের নামই অমীমাংসিত তালিকায় চলে গিয়েছে।নন্দীগ্রামের চড়কেন্দ্রমারির এক বুথের বিএলও জানিয়েছেন, তাঁর হাতে যে তালিকা এসেছে তাতে ৯৫৩ জন ভোটারের নাম রয়েছে। খসড়া তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার কোনও বড় পার্থক্য নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন। তবে ২১৯ নম্বর বুথের বিএলও জানিয়েছেন, কিছু নাম বাদ গিয়েছে। যদিও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া অধিকাংশের নাম রয়েছে বলেই তাঁর দাবি। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের এক ব্লকের এক বিএলও অভিযোগ করেছেন, তাঁর নিজের নামই মীমাংসিত তালিকায় নেই। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন, সমস্ত নথি রয়েছে, বানানেও ভুল নেই, পাসপোর্টও আছে। তবু কেন তাঁর নাম বিচারাধীন হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।বাঁকুড়াতেও বুথে বুথে চূড়ান্ত তালিকা টাঙানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ৩ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকায় ১ লাখ ৩২ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। ৭০ নম্বর বুথে বাদ গিয়েছে ৩ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার নাম।উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩১ হাজার ১৬৯ জন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৯৭১ জনের নাম বাদ পড়েছে। ঠাকুরনগরে সবথেকে বেশি নাম আনম্যাপড হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে সেখানে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন বহু বাসিন্দা।কলকাতার উত্তর অংশে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় খসড়া তালিকায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ জনের নাম ছিল। চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে ৭৮ হাজার ৬৫৭ জনের নাম।মুর্শিদাবাদে অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬ লাখ নাম। চূড়ান্ত তালিকায় কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার নাম। পশ্চিম মেদিনীপুরে অমীমাংসিত তালিকায় প্রায় ১ লাখ নাম রয়েছে। নদিয়ায় প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৬০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে এবং অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার নাম।এদিকে এখনও পর্যন্ত অনলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়নি। জানা গিয়েছে, দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে অনলাইনে তালিকা প্রকাশ পেতে। তালিকা প্রকাশ হলে দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যবাসী নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারবেন। ফলে এখন সবার নজর অনলাইনে প্রকাশের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টানা ছ’বার ফাইনালে ভারত, রেকর্ড রান তাড়ায় আফগানিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের দোরগোড়ায় ছোটরা

ভারতীয় ছোটদের ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের আরও এক উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ হল বুধবার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ বার ফাইনালে উঠল ভারত। বিশ্বের আর কোনও দল ছোটদের বিশ্বকাপে এমন নজির গড়তে পারেনি। শুক্রবার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।হারারের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩১০ রান তোলে তারা। ফয়জল শিনোজ়াদার ঝকঝকে ১১০ এবং উজ়াইরুল্লা নিয়াজ়াইয়ের অপরাজিত ১০১ রানের সুবাদে বড় স্কোর দাঁড় করায় আফগান শিবির। তবে সেই রান পাহাড়ও শেষ পর্যন্ত টপকানো গেল ভারতীয় ব্যাটারদের দাপটে।৩১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ভারতের দুই ওপেনার। বিশেষ করে নজর কাড়েন মাত্র ১৪ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশী। ৩৩ বলে ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই ভারতের ইনিংস গতি পায়। বৈভব আউট হওয়ার পর দায়িত্ব সামলান অ্যারন জর্জ এবং অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে।দ্বিতীয় উইকেটে জর্জ-মাত্রের ১১৪ রানের জুটি কার্যত ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। আগের ম্যাচে ব্যর্থ হলেও সেমিফাইনালে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন দুজনেই। অধিনায়ক মাত্রে করেন ৫৯ বলে ৬২ রান। অন্যদিকে অ্যারন জর্জ খেলেন ম্যাচজয়ী শতরান১০৪ বলে ১১৫ রান, যার মধ্যে ছিল ১৫টি চার ও ২টি ছক্কা।ভারতীয় ব্যাটাররা আফগান স্পিন আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন। পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত রান তুলে চাপ তৈরি করে দেয় ভারত। ৪১.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৩১১ রান তুলে নেয় তারা। জর্জ আউট হওয়ার সময় জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। শেষ দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন বিহান মলহোত্র (অপরাজিত ৩৯) ও বেদান্ত ত্রিবেদী।আফগানিস্তানের হয়ে ওমরজ়াই ২টি উইকেট নিলেও রানের গতি আটকাতে পারেননি। ভারতের এই জয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল রান তাড়া হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ক্রিকেটার দুবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে পারে না। তবু প্রতিবার নতুন দল নিয়েই ধারাবাহিক ভাবে ফাইনালে পৌঁছে যাচ্ছে ভারত। ইতিমধ্যেই পাঁচ বার ছোটদের বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। শুক্রবার ষষ্ঠ বারের জন্য ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আয়ুষ মাত্রের দল।এক দিকে যখন ছোটরা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তার আগের দিনই বড়রা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রক্ষার লড়াইয়ে নামবেন। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এ যেন স্বর্ণালী সময়ের আর এক প্রতিচ্ছবি।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মান্ধানার রেকর্ডে কাঁপল বিশ্ব! ফাইনালে কি লেখা হবে নতুন ইতিহাস?

মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম যেন অপেক্ষা করছে ইতিহাসের জন্মের সাক্ষী হওয়ার। গ্যালারিতে ঢেউ তুলছে নীল সাগর। কোটি ভারতবাসীর নিশ্বাস যেন একসঙ্গে আটকে। কারণ, মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য ২৯৯ রান ছুঁড়ে দিয়েছে ভারত। ৩০০-এর দোরগোড়াহাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু যেই দুই ব্যাটারকে দেখার অপেক্ষায় ছিল সমর্থকেরা, সেই স্মৃতি মান্ধানা আর হরমনপ্রীতের ব্যাট আজ বড় কিছু লিখতে পারল না।সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৯ রানের ইনিংসে আগুন ঝরিয়েছিলেন নকআউট কুইন হরমনপ্রীত। আজ ফাইনালে এসে থেমে গেলেন ২০ রানে। দুইটি বাউন্ডারি মারলেও নিজের সেরাটুকু দেখাতে পারলেন না অধিনায়ক। ফ্যানদের আশাহতাশার মিশেল রয়ে গেল মাঠ জুড়ে।তবু ভারতীয় ক্রিকেটের অন্য নক্ষত্র জ্বলল উজ্জ্বল আলোয়। স্মৃতি মান্ধানা ফাইনালে করলেন ৫৮ বলে ৪৫ রানহ্যাঁ, হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া। কিন্তু সেই সঙ্গেই গড়লেন এক বিশাল রেকর্ড। মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক সংস্করণে সর্বাধিক রান করার নজির ভাঙলেন তিনি। মিতালি রাজের ২০১৭ সালের ৪০৯ রানকে টপকে স্মৃতির সংগ্রহ এখন ৪৩৪।মান্ধানাশেফালি জুটি দারুণ ছন্দে এগোচ্ছিল। ১৭তম ওভারেই এল ভাঙন। ক্লোয়ি ট্রায়নের বল তুলে দিয়ে ক্যাচ ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় ওপেনার। আর ৩৮তম ওভারে ফিরে যান হরমনপ্রীত। দুজনই যদি আর কিছুক্ষণ উইকেটে দাঁড়াতে পারতেনস্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ড হয়তো অন্য গল্প বলত।কিন্তু এখনও সব শেষ নয়। ভারতীয় স্পিন, দর্শকদের গর্জন, আর মাঠজুড়ে নীল আকাশএই তিন শক্তি কি এনে দেবে প্রথম নারী বিশ্বকাপ? চোখ রাখল ভারত।আজ রাতেই উত্তর।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

নীলে রাঙা দেশ! বিশ্বকাপফাইনালে শেফালি–ঝড়, ২৯৮ রান তুলে ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারত

ভারতের আকাশ আজ নীলের উৎসবে ঢেকে। নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের মহারণে নামতেই যেন বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আবেগ। সেই বৃষ্টি ধুয়ে দিল শুধু মাটি নয়, যেন দেশের কোটি স্বপ্নকে। কারণ, আজ ইতিহাস লেখা সম্ভব উইমেন ইন ব্লু-র। হরমনপ্রীত কৌরদের কাঁধে ভারতীয় ক্রিকেটের অপূর্ণতা মুছার দায়িত্ব। আর ব্যাট হাতে সেই পথে বড় পদক্ষেপই রাখল ভারত।প্রথমে ব্যাট করে ভারত থামল ২৯৮ রানে। ৭ উইকেট হারিয়ে তোলা এই রানকে কি বিশ্বজয়ের রান বলা যায়? দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের সাহসী ইনিংস, দর্শকদের গর্জন, আর মাঠজুড়ে নীল আবেগসব মিলিয়ে দিনটা ইতিহাসের পাতায় ওঠার অপেক্ষায়।ইনিংসের শুরুতেই স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মার ব্যাটে নজর কাড়া সূচনা। বৃষ্টিভেজা উইকেটে সতর্ক শুরু হলেও শিগগিরই বদলে গেল রঙ। বড় শট, নির্ভয়ে রান রোটেশনদুটিতেই সামনে শেফালি। এক সময় সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পড়লেও শেষে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৮৭ রানে। কী দারুণ ইনিংস! তিন বছর ধরে ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি নেইএ কথা ভুলিয়ে দিলেন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও প্রথমে জায়গা ছিল নাএকেবারে সিনেমার চিত্রনাট্য।স্মৃতি মন্ধানা ৪৫ রানে আউট হন। জেমাইমা রদ্রিগেসের ২৪ রান, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ২০যেখানে সবাই শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, সেখানে দুই ভারতীয় ভরসা দীপ্তি শর্মা ও রিচা ঘোষ সামলালেন ইনিংস। দীপ্তির অর্ধশতরান, আর রিচার দাপুটে ২৪ বলে ৩৪ রানে ভারত ৩০০ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কয়েকটা শট আর সাহসে হয়তো ২৫-৩০ রান আরও বাড়ানো যেতসেটা নিয়েই এখন আলোচনা।এখন প্রশ্ন একটাইএই রান কি যথেষ্ট? স্পিন বোলিং আর দর্শকদের গর্জন কি দেশকে এনে দেবে প্রথম নারী বিশ্বকাপ? দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বলেই দিয়েছিলেন, এই পিচে রান তাড়া সহজ। তাই ম্যাচ এখন পুরোপুরি বোলারদের হাতে।স্টেডিয়ামের শব্দঅর্কেস্ট্রা, নীল পতাকার ঢেউ এবং লক্ষ মুখে একটাই ডাকচলো মেয়েরা! রোহিতবিরাটদের অসম্পূর্ণ গল্প কি এবার মেয়েরাই পূর্ণ করবেন?

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

স্বপ্নভঙ্গের দাগ এখনও টাটকা! ফাইনালের আগে হরমনদের পাশে দাঁড়ালেন কোহলি-বুমরাহ-সূর্য

দুই বছর আগে ঠিক এই মঞ্চেই স্বপ্ন ভেঙেছিল ভারতীয় মহিলাদের। বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে ট্রফি ছোঁয়ার এতটা কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছিল খালি হাতে। সেই ব্যথা এখনও জাগ্রত। তাই ২০২৫এর আরেক মহাযুদ্ধের আগে হরমনপ্রীত কৌরদের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। সেই সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন ভারতীয় পুরুষ দলের তারকারাও। কোহলি, সূর্যকুমার যাদব থেকে শুরু করে জশপ্রীত বুমরাহসবাই একসুরে জানিয়ে দিলেন, ভয় নেই, এগিয়ে যাও।ফাইনাল ম্যাচের আগে BCCIর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেল গৌতম গম্ভীরকে। শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে গম্ভীর বললেন, ভারতীয় ক্রিকেট পরিবার ধন্যবাদ জানাচ্ছে মেয়েদের। তিনি বলেন, ফাইনাল উপভোগ করো, সাহসিকতার সঙ্গে খেলো। ভুল করলেও ভয় পেয়ো না। তোমরা ইতিমধ্যেই দেশকে গর্বিত করেছ। গম্ভীরের বার্তায় স্পষ্টচাপ নয়, আনন্দই দিক নির্দেশ করবে।অন্যদিকে বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবও বার্তা পাঠিয়েছেন। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার জন্য মহিলা দলের প্রশংসা করেছেন তাঁরা। সূর্য বলেছেন, নিজেদের মত করে খেলে যাও, টুর্নামেন্ট জুড়ে তোমরা অসাধারণ খেলেছ। এমনকি জশপ্রীত বুমরাহর কথায়ও একই সুর। অস্ট্রেলিয়া থেকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জীবনে অনেক ফাইনাল আসে না, তাই বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজের সেরাটা দাও। নিজের খেলায় বিশ্বাস রাখো। ফল ঠিকই আসবে।২০১৭তে মিতালি রাজের দল, এরপর ২০২৩এ রোহিত শর্মাদের স্বপ্নভঙ্গভারতীয় পুরুষ ও মহিলা দল দুইই ফাইনালের যন্ত্রণা চেনেন। কিন্তু এবার প্রত্যাশা ভরা চোখে মানুষ অপেক্ষা করছে নতুন ইতিহাসের জন্য। ভারতীয় ক্রিকেটাররাও বিশ্বাস রাখছেন, হরমনপ্রীতস্মৃতিরিচাদের হাতেই এবার বিশ্বজয়ের গল্প লেখা হবে।দেশজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রত্যেক ভারতীয়র মনে একই প্রার্থনাএবার ট্রফি ফিরেই আসুক দেশের মাটিতে।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

নবি মুম্বইয়ে বৃষ্টি, ফাইনাল কি পিছিয়ে যাবে? দুশ্চিন্তায় ক্রিকেটপ্রেমীরা

ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে হরমনপ্রীত কৌরদের ভারত। নবি মুম্বইয়ের মাঠে আজই হওয়ার কথা ছিল বিশ্বজয়ের লড়াই। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এমন উত্তেজনার দিনে ভাগ্য যেন একটু খারাপই খেলল টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে। দুপুর গড়াতেই নামল মৌসুমবহির্ভূত বৃষ্টি, আর সেই সঙ্গে থমকাল মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপের মহারণ।ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্রমাগত বৃষ্টি নামায় টস পর্যন্ত হয়নি। গ্যালারিতে বসা দর্শক থেকে শুরু করে টিভির সামনে বসা ক্রিকেটপ্রেমীরাসবাই এখন শুধু অপেক্ষা করছেন আকাশ পরিষ্কার হওয়ার।এখন প্রশ্ন একটাইযদি বৃষ্টি কমেই না? তবে কি বিশ্বকাপ ফাইনাল মাঠেই নামবে না? ভারতীয় সমর্থকদের মনে তাই উৎকণ্ঠা, আর চোখ ঝুলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ আজই শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হবে। প্রয়োজন হলে দুদলের ওভার কমিয়ে দেওয়া হবে। একই দিনে ফলাফল করতে হলে কমপক্ষে ২০ ওভার করে খেলতেই হবে দুদলকে। যদি বৃষ্টি সেই সুযোগও না দেয়, তবে প্রস্তুত আছে রিজার্ভ ডে।আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার রাখা হয়েছে চূড়ান্ত দিন। যদি আজ ম্যাচ অসম্পূর্ণ থাকে, সেখান থেকেই কাল আবার খেলা শুরু হবে। তবে যদি এক বলও না গড়ায় আজ, সোমবার পুরো ৫০ ওভারের নতুন ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই মুহূর্তে তাই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একটাই আশাআকাশটা একটু পরিষ্কার হোক, আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাক হরমনপ্রীত কৌরদের দাপট। সেমিতে দুরন্ত ফর্মে থাকা রিচা ঘোষ, স্মৃতি মন্ধানা, শেফালিসবাই প্রস্তুত ইতিহাস লেখার জন্য। বাকি শুধু মাঠে নামা।এদিকে স্টেডিয়ামের ছাদেও ঠাসা উত্তেজনা। কেউ মন্ত্রজপ করছেন, কেউ মোবাইলে আবহাওয়া আপডেট দেখছেন, আবার কেউ পতাকা হাতে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের দিনই যদি বৃষ্টি আসে, তা কি মানা যায়? এখন সবই নির্ভর করছে আকাশের দিকে। ভারতীয়দের মনে একটাই স্বপ্নআজ হোক, কাল হোক, কিন্তু হাতে উঠুক সেই সোনার ট্রফি।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ইতিহাস গড়তে নামছে হরমনদের বাহিনী, রিচা ঘোষে বুক বাঁধছে গোটা বাংলা

শুধু পুরুষ ক্রিকেট নয়মেয়েরাও পারে! ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশছোঁয়া। আর মাত্র এক রাতের অপেক্ষা। রবিবারই ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে নামছে হরমনপ্রীত কউররা। শেষ লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। আর গোটা দেশ যেমন উত্তেজনায় ফুটছে, বাংলায় সেই উত্তেজনার কেন্দ্র শিলিগুড়ি। কারণ ফাইনালের মাঠে থাকছেন শহরেরই মেয়ে রিচা ঘোষ।বয়স মাত্র ২২। কিন্তু মন? যেন সহাস্য যোদ্ধা। এই বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে ঝড় তুলেছিলেন রিচামাত্র হাতে গোনা ডেলিভারি পেলে খেলেছিলেন ৯৪ রানের ধ্বংসাত্মক ইনিংস। সেই ম্যাচে ভারত হেরে গেলেও, রিচার ব্যাটে আলোর রেখা দেখেছিল দেশ।সেই তারকার জন্য এখন বুক বেঁধে অপেক্ষা শিলিগুড়ির। শহরের রাস্তায় উত্তেজনা, দেওয়ালে পোস্টার, আর মানুষের মুখে একটাই প্রশ্নরিচা কেমন করবে কাল? শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই বিগ স্ক্রিনে ফাইনাল দেখানোর আয়োজন করে ফেলেছে। শহরের একাধিক জায়গায় লাগানো হচ্ছে ফ্লেক্স, তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ।রিচার পুরনো দিনেও আলো। ২০১৩১৪ সালে বাঘাযতীন ক্লাবের হয়ে খেলতেন সে সময়কার ছোট্ট মেয়ে রিচা। কোচ বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আগের সেই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস মনে করছেন। তাঁর মুখে গর্বওকে প্রথম দিন থেকেই আলাদা লাগত। ব্যাট ধরার ভঙ্গি, শরীরী ভাষা, মনোভাবসবেতেই ছিল বড় খেলোয়াড়ের স্পষ্ট আভাস।একই কথা বলছেন রিচার বন্ধু ও প্রাক্তন সতীর্থ অঙ্কিতা মোহন্তও। তিনি স্মিতহাস্যে বলছেন, রিচা সব সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কারভাবে নেয়। আমাদের সময়ও ও পরামর্শ দিত। এখন দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্যাটে। আগামিকাল ও দেখাবেমেয়েরাও পারে!মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের ক্রিকেট সচিব ভাস্কর দত্ত মজুমদার আরও খোলামেলাআমাদের শহরের মেয়ে! তাই তো গর্ব। কাল গোটা শহর স্ক্রিনের সামনে এক হবে। রিচার জন্য শুভেচ্ছা।এখন শুধু অপেক্ষা ফাইনালের। শিলিগুড়ি, বাংলা আর ভারতসকলেরই চোখ এক ব্যাটে, এক মেয়ের উপর। ইতিহাস রচনার মুহূর্ত কি তাহলে আর কয়েক ঘণ্টা দূরেই?

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

T-20 ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি ভারত, ইংল্যান্ডকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিল রোহিতরা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি টোয়েন্টি ফাইনালে রোহিতদের ভারত। এবার সামনে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ফাইনালের লড়াই জোরদোর হবে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞমহল। ভারতের ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে ৮ বলে ৫ রান করে জসপ্রিত বুমরাহর বলে ফিরে যান ওপেনার ফিল সল্ট। অপর ওপেনার তথা উইকেটকিপার-অধিনায়ক জস বাটলার অক্ষর প্যাটেলের বলে ঋষভ পন্থের হাতে ধরা পড়েন। বাটলার ১৫ বলে ৪টে চার সহযোগে ২৩ রান করেছেন। অক্ষর প্যাটেলের বলে বিনা রানে ফিরে যান জনি বেয়ারস্টো। অক্ষর প্যাটেলের বলে মঈন আলিকে স্ট্যাম্পড করেন ঋষভ পন্থ। ৪ বলে ২ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন সাম কুরান। কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হন হ্যারি ব্রুক। তার আগে ব্রুক ৩টে চার সহযোগে ১৯ বলে ২৫ রান করেছেন। ৫ বলে ১ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন ক্রিস জর্ডান। ২ বলে ২ রান করা আদিল রশিদকে রান আউট করেন সূর্যকুমার যাদব। তার মধ্যেই চেষ্টা করছিলেন জোফ্রা আর্চার। তিনি ১টি চার ও ২টি ছয়-সহ ১৫ বলে ২১ রান করেন। এই সময় জসপ্রিত বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউ হন আর্চার। যার জেরে ১৬.৪ ওভারে ১০ উইকেটে ১০৩ রানে থেমে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস।প্রত্যাশা ছিলই। বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, ভারতের লুকোনো অস্ত্র। তার ওপর গায়ানার স্পিনার সহায়ক পিচ। আর তাতেই কবজির মোচড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামিয়ে দিলেন ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদব। ৪ বলে ২ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন সাম কুরান। কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হন হ্যারি ব্রুক। তার আগে ব্রুক ৩টে চার সহযোগে ১৯ বলে ২৫ রান করেছেন। ৫ বলে ১ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন ক্রিস জর্ডান। কুলদীপ যাদবের বলেই রান নেওয়ার সময় রান আউট হন লিয়াম লিভিংস্টোন। তিনি ১৬ বলে ১১ রান করেছেন।ইংল্যান্ড ১০ ওভার ১ বলে ছয় উইকেট হারিয়েছে। ৮ বলে ৫ রান করে জসপ্রিত বুমরাহর বলে ফিরে গিয়েছেন ওপেনার ফিল সল্ট। অপর ওপেনার তথা উইকেটকিপার-অধিনায়ক জস বাটলার অক্ষর প্যাটেলের বলে ঋষভ পন্থের হাতে ধরা পড়েছেন। বাটলার ১৫ বলে ৪টে চার সহযোগে ২৩ রান করেছেন। অক্ষর প্যাটেলের বলে বিনা রানে ফিরে যান জনি বেয়ারস্টো। অক্ষর প্যাটেলের বলে মঈন আলিকে স্ট্যাম্পড করেন ঋষভ পন্থ। ৪ বলে ২ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন সাম কুরান। কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হন হ্যারি ব্রুক। তার আগে ব্রুক ৩টে চার সহযোগে ১৯ বলে ২৫ রান করেছেন। ৫ বলে ১ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হন ক্রিস জর্ডান।২০ ওভারে ৭ উইকেটে ভারত তুলল ১৭১ রান। সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তিনি ৬টি চার ও ২টি ছয় সহযোগে ওই রান করেন। সহ-অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া করেছেন ১টি চার ও ২টি ছয় সহযোগে ১৩ বলে ২৩ রান। ক্রিস জর্ডানের বলে হার্দিকের ক্যাচ নেন সাম কুরান। হার্দিক আউট হতেই নেমেছিলেন শিবম দুবে। কিন্তু, তিনি প্রথম বলেই বিনা রানে মুখ দেখিয়ে ফিরে যান। জর্ডানের বলে দুবের ক্যাচ নেন জস বাটলার। একটি ছয়-সহ ছয় বলে ১০ রান করে ক্রিস জর্ডানের বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অক্ষর প্যাটেল।

জুন ২৮, ২০২৪
খেলার দুনিয়া

ভারতীয় জার্সির রং গেরুয়া! বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বড় প্রশ্ন মমতার

আগামী রবিবারব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মহাজজ্ঞ। চ্যাম্পিয়ন হতে আর একটি ম্যাচ দূরে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ খেলতে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নামবে রোহিতের নেতৃত্বে ভারতীয় দল। এই অবস্থায় শুক্রবার ভারতীয় দলের জার্সি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পোস্তায় শুক্রবার ব্যবসায়ী সমিতির জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই স্বৈরাচারী মনভাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই রং নিয়ে রাজনীতির বিষয়টি তোলেন তিনি। বলেন, এখন তো সব গেরুয়া বানিয়ে দিচ্ছে।এই প্রসঙ্গেই বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির রঙের বিষয়টি টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আমরা আমাদের ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি ভারতীয় ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হবে। ওদেরও গেরুয়া বানিয়ে দিয়েছে। ওরা যে ড্রেস করে প্র্যাকটিস করে, সেটা গেরুয়া করে দিয়েছে। ওরা তো নীল রংয়ের জার্সি পরে ম্যাচ খেলে।মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন নিয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, উনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, গেরুয়া রং নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রাজ্যবাসীর মাথা হেঁট করে দিচ্ছেন। এবার তো মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকায় কেন গেরুয়া রং ব্যবহার হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।বিশ্বকাপের ম্যাচে এবার ভারতীয় দল চিরাচরিত নীল রঙের জার্সি পড়ে খেলছে। তবে, তাদের প্র্যাকটিস জার্সি ও কিটের রঙ গেরুয়া। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক হয়েছে। কেন হঠাৎ প্র্যাকটিস জার্সি ও কিটের রঙ পাল্টানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই দাবি করেছেন, কেন্দ্রের শাসক দলের প্রভাব ও বিসিসিআই সচিব তথা অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর অঙ্গুলি হেলনেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্র্যাকটিস জার্সি ও কিটের রঙ গেরুয়া হয়েছে।

নভেম্বর ১৭, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

রোডস-গিবসের দেশের খেলোয়াড়দের ফিল্ডিংয়ের দৈনদশায় "চোকার্স" তকমা এবারেও ঘুচলো না।

১৯৯৯-এর বিশ্বকাপ সুপার সিক্সের লড়াইয়ে, অস্ট্রেলিয়া ২৭২ রান তারা করছিল, তখন ক্যাপ্টেন স্টিভ ওয়াঘ ৫৬ রানে ব্যাট করছিলেন। স্টিভ মিড-উইকেটে হার্শেল গিবসকে একটি সহজ সুযোগ দেন। গিবস ক্যাচটি ধরে সেলিব্রেশন করতে গিয়ে বলটি মাটিতে ফেলে দেন। তার পর স্টিভ ওয়াঘ ১২০ রানে অপরাজিত থেকেম্যাচটি জিতে ফেরেন। জানা যায় স্টিভ ওই ওভার শেষে গিবসে বলেছিলেন তুমি ক্যাচ মাটিতে ফেলনি, বিশ্বকাপ তোমার হাত থেকে পড়ে গেল। স্টিভের এই কথাটি-ই সত্য হয়। অস্ট্রেলিয়া ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপ লাভ করে।বড় ম্যাচে চোকার্স তকমা এবারেও গেল না। ২০২৩-র বিশ্বকাপে অনবদ্য শুরু করে সাদামাটা ভাবে বিদায় নেলসন মেন্ডেলার দেশের। ৩ উইকেটে জিতে আমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতের সামনে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার ২১১ রান দেখে যতটা সহজে অস্ট্রেলিয়া জিতে যাবে মনে হচ্ছিল ততটাই কঠিন ভাবে জিততে হল অস্ট্রেলিয়াকে। হাঁটুর ওপর বল না ওঠা ইডেনের পিচ সেমিফাইনালের যোগ্য নয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করেছেন। এই নিয়ে পাচবার সেমিফাইনালে উঠে পাঁচ বারই হারতে হল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।➡️ From 24/4 in the 12th over➡️ To 212 all outDavid Millers 💯 has given the South Africa bowlers something to defend.Read the live match report📝⬇️#CWC23 #SAvAUS https://t.co/qayvEZNW7J ICC (@ICC) November 16, 2023মেঘলা আকাশ, শিরশিরে হাওয়া থা সত্তেও টসে জিতে কেন প্রথম ব্যাটিং নিলেন তার ব্যখা পাওয়া গেল না। তিন তিনটে পেস বোলার থাকা টিম স্বাভাবিক ভাবেই ওই পরিবেশে টসে জিতে প্রথম বোলিং করবে স্টাই প্রত্যাশিত। মাত্র ২১২ রানে শেষ হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ডেভিড মিলারের অনবদ্য ১০১ রান ও হেনরিক ক্লাসেন ৪৭ রান ইনিংস বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে আত্মসমর্পন করল আফ্রিকার সিংহরা।অধিনায়ক বাভুমা শূন্য দিয়ে শুরু, অবসরের ঘোষণা করে বিশ্বকাপ খেলতে এসে কুইন্টন ডিকক সারা প্রতিযোগিতায় দারুণ ফর্মে ব্যার্থ সেমিফাইনালে, করেন মাত্র ৪ রান। ব্যর্থ তিন নম্বরে নামা ভ্যান ডার ডুসেনও, তিনি করেন ৬। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দাপটে ১১.৫ ওভারে ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা।২৪ রানে ৪ উইকেট পরে যাওয়ার পর দলের হাল ধরেন হেনরিখ ক্লাসেন এবং ডেভিড মিলার। পঞ্চম উইকেটের জুটিতে তাঁরা দুজনে যোগ করেন ৯৫ রান। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার মিচেল স্টার্ক, তিনি ৩৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিলেন। হ্যাজলউড -ও খুব ভালো বল করেন, তিনি ১২ রানে ২ উইকেট নিলেন। অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৫১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন। ২১ রানে ২ উইকেট নিলেন ট্র্যাভিড হেড।টি২০ ক্রিকেটের আবির্ভাব হওয়ার পর ৫০ ওভারের ম্যাচে ২১৩ রান খুব-ই সামান্য টার্গেট বলেই মনে করা হয়। এই ২১৩ রান তুলতে যঠেষ্ট-ই বেগ পেতে হল অস্ট্রেলিয়াকে। এক সময় ম্যাচ ৫০-৫০ হয়ে গেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সময় মত ক্যাচ গুলো ধরতে পারলে এই ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতেই পারতো। হল না তার সবচেয়ে বড় কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা আজ কমপক্ষে ৪টি সহজ ক্যাচ ছাড়েন, এই পর্যায়ের খেলায় যা অমার্জনীয় অপরাধ।

নভেম্বর ১৬, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

শেষ ৩০ মিনিট ১০ জনে খেলেই ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন! বাগানিরা "সেই মাঠেই বদলা নিল"!

সবুজ মেরুন ব্রিগেড ডুরান্ডের গ্রুপ লিগে হারের মধুর বদলা নিলো ফাইনালে। চিরশত্রু ইস্টবেঙ্গলের কাছে লিগের ম্যাচে সাড়ে চার বছর অপরাজিত থেকে হারতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। আজ রবিবাসরীয় ফাইনালের ডার্বিতে সেই লাল-হলুদকেই পরাজিত করে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন। এটি মোহনবাগানের ১৭ তম ডুরান্ড খেতাব। ইস্টবেঙ্গলকে টপকে মোহনবাগানই এই খেতাবের সর্বোচ্চ দাবিদার। এত দিন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যৌথ ভাবে ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল মোহনবাগান। টিকেটের চূড়ান্ত অব্যবস্তা, টিকিটের হাহাকার, দীর্ঘদিন পর দুই প্রধান ফাইনালে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী সব মিলিয়ে রবিবারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এক অস্ত্রবিহীন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।সাড়ে চার বছর ধরে টানা আটটি ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে লাল হলুদ ডুরান্ডের লিগ পর্বের ডার্বিতে জয়ের মুখ দেখে সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু সেই জয়ের রেশ কাটতে না কটতেই চিংড়ির কাছে পড়াজিত ইলিশ। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই যে ডার্বির মুকুট লাল হলুদের মাথায় গিয়েছিল তা আবার পাল তোলা নৌকা মশালর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো।ঠিক যেন রূপকথা, জয় মোহনবাগান 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/TNpEi1D1IJ Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023খেলার ৬০ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখেন মোহনবানের অনিরুদ্ধ। লাল হলুদের বাম দিকের মাঝমাঠের প্লেয়ার যেখানে দাঁড়ায় ঠিক সেই জায়গায় ইস্টবেঙ্গালের সিভেরিয়ো একটি উচু বল হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। ঠিক সে সময়-ই আচমকা বলের নাগাল পেতে অনিরুদ্ধ তাঁর ডান পা ওপরে তুললে সিভেরিয়োর মুখে লাগে। অনিচ্ছাকৃত ভুল হলেও ঐ ঘটনাতে মারাত্মক চোট পেতে পারতেন লাল হলুদ খেলোয়াড়। ফুটবলের নিয়মে এটি অমার্জনীয় অপরাধ। রেফারি অনিরুদ্ধকে হলুদ কার্ড দেখান, কিন্তু ওটি তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তখনো খেলার ৩০ মিনিট বাকি। ফলাফল গোলশূন্য, ম্যচের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে। বীনা মেঘে বজ্রপাত হয় বাগান শিবিরে, তখন বাগান গ্যালারীতে শ্মশানের নিস্তব্ধতা।মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র জয়সুচক গোলটি করেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরও ইস্টবেঙ্গল সেইভাবে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে ব্যার্থ হয়। ম্যাচের শেষ আধ ঘণ্টা সেই ভাবে বোঝাই গেলো না যে মোহনবাগান দশ জনে খেলছে। টানা আটটি ডার্বি জেতার পর হেরে গিয়ে আবার ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে যেটুকু সুতো ছেড়েছিল আবার গুটিয়ে নিলো মেরিনার্সরা।প্রথমার্ধে থেকেই দুদলের খেলাই উদ্দেশহীন লেগেছে। কোন আক্রমণ-ই সেইভাবে গোলমুখে দানা বাঁধলো না। দেখা গেলো না গোল লক্ষ করে জোরালো কোন শট। সৃজনশিলতা ও সৃষ্টিশীলতা যেমন ছিলো না তেমনই খেলায় প্রান প্রতিষ্টা করতে ব্যর্থ দুই দল-ই। দুই দলেরই দূর্বলতম জায়গা রক্ষণ। তাই যেকোনো আক্রমণ দেখেই মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হয়ে গেলো। দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি।১৭তম ডুরান্ড জয় 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/REQZe95DAZ Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023এইরকম হাইভোল্টেজ ম্যাচ গোল শুন্য থাকলে যা হওয়া উচিত তাই হচ্ছিল। দুই দলই বলের থেকে বেশী শরীরে ধাক্কা মারা পছন্দ করছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ক্রমশ শারীরিক ফুটবলে পর্যবসিত হয়ে ওঠে। বুমোস, বোরহা, ক্রেসপো তিন তিন জন হলুদ কার্ড দেখে ফেলেন। ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি, হাতাহাতির চুড়ান্ত পরিণতি অনিরুদ্ধ থাপা-র লাল কার্ড। তবে শেষ হাসি সবুজ-মেরুন-ই হাঁসে। দশ জনে হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোহনবাগানের হয়ে জয়সূচক গোল করে যান পেত্রাতোস। অজি তারকার একক প্রচেষ্টার গোলেই শেষমেশ ডার্বি এবং ডুরান্ড জয় পায় বাগান।দশ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও মোহনবাগানকে আক্রমণের রাস্তা থেকে সরে আসতে দেননি কোচ ফেরান্দো। পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে সেই সময় যেকোনও কোচই রক্ষণ বিভাগের খেলোয়াড় নামিয়ে খেলাটার গতি মন্থর করে দিতে চাইবে। বাগান কোচ ফেরান্দো তখন বুমোসের পরিবর্ত হিসাবে কামিংসকে নামান। অন্যদিকে লিস্টন কোলাসোকে নামান আশিক-কে তুলে নিয়ে। ফেরান্দো-র সেই সিদ্ধান্তগুলি কতটা সঠিক ছিলো তার প্রমান মিলে গেলো ১০ জন হবার ১০ মিনিট বাদেই।চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহনবাগান 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/of6f1pSOq2 Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) September 3, 2023খেলার ৭০ মিনিটে গোল পাবার পর মোহনবাগান তাঁদেরকে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে নেন। ১০ জনে খেলেও শেষমেশ ২০ মিনিট তাঁরা কোনও অঘটন ঘটাতে দেননি। লাল হলুদ খেলোয়াররা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও আসল কাজ করতে ব্যর্থ হয়। মোহনবাগানের রক্ষণ ভেদ করতে তাঁরা পারেননি। সেমিফাইনাল ম্যাচ জিতে মোহনবাগানিদের স্লোগান এই মাঠেই বদলা নেব শেষমেশ সত্যি হল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

রবিবারের মহারণে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, "এই মাঠেই বদলা নেব" স্লোগানে মেতেছে মেরিনার্স

১৯ বছর আগে ২০০৪-এ শেষ বারের মত ডুরান্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল কোলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। দুরন্ত ভাবে টুর্নামেন্টে ফিরে আসা ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান রবিবারের ফাইনালের মহারণে মুখোমুখি। গ্রুপ পর্বে লাল-হলুদের কাছে হারের জ্বালা মেটাতে মরীয়া মেরিনার্সের নতুন স্লোগান এই মাঠেই বদলা নেব। সারা মাঠে বাগান সমর্থকদের হাতে এই স্লোগান লেখা প্লাকার্ড কিন্তু লাল-হলুদ শিবিরে শিহরণ তুলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ফিনিক্স পাখির মতো জ্বলে ওঠা ইস্টবেঙ্গলের এখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। বহুদিনের ট্রফির ক্ষরা কাটাবার জন্য মরীয়া লাল-হলুদ শিবির ও।সল্টলেক স্টেডিয়ামে রবিবার আবার একটা ডার্বি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। প্রথম সেমিফাইনালের ইস্টবেঙ্গলের ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মোহনবাগানও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জিতল। গোয়াকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে উঠল তারা। উল্লেখ্য, প্রথম সেমিফাইনালে পাহাড়ি দল নর্থইস্টকে ট্রাইবেকারে পরাজিত করে ইতিমধ্যে ফাইনালে উঠে গেছে ইস্টবেঙ্গল।প্রথমঅর্ধের খেলার ১০ মিনিট সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি সবুজ-মেরুন কে। শুরু থেকেই খেলায় আধিপত্য ছিল গোয়ার। মাঝমাঠ থেকে ছোট ছোট পাস খেলে আক্রমণে উঠছিল তারা। খেলার শুরুতেই দুবার ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ঢুকে পরেও গোল করতে ব্যার্থ হয় গোয়া। বারংবার আক্রমনের ফলে বেসামাল হতে থাকে বাগান রক্ষণ। ফলও পেয়ে যায় গোয়া হাতেনাতে। প্রথমার্ধের ২২ মিনিটের মাথায় নোয়া সাদাউই করা গোলে এগিয়ে যায় তারা। বাগান খেলোয়াড় হুগো বুমোসের মিস পাস ধরে সামনে অরক্ষিত যায়গা পেয়ে টানা দৌড়ে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান গোয়ার নোয়া সাদাউই। বাগানের দুই ডিফেন্ডার হেক্টর ইয়ুস্তে ও শুভাশিস বসু চোখে সেক্ষেত্রে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।খেলার গতির বিরুদ্ধে ৪২ মিনিটে মাথায় ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান। গোয়ার একটি গোলমুখী আক্রমণ প্রতিহত করে প্রতি আক্রমণ থেকে সাহাল আব্দুল সামাদ ডান দিক থেকে বক্সে ঢোকার মুখে তাঁকে অবৈধভাবে বাঁধা দেন গোয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। সামনেই ছিলেন রেফারি, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেননি। যদিও এই গোল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। টিভি রিপ্লেতে দেখে মনে হচ্ছিল গোয়ার ডিফেন্ডার বাশ দিয়েছেন বক্সের বাইরে। সেই একই দাবি গোয়ার ফুটবলারেরা ও অফিসিয়ালরা লাইন্সম্যান ও রেফারির কাছে করেন। কিন্তু রেফারি তাঁদের আবেদনে কর্নপাত করেননি। তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে কামিংস ম্যাচে সমতা ফেরান।দেখা হচ্ছে রবিবার! 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/F223NUyGti Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 31, 2023মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের দলে একটি পরিবর্তন করেন। বুমোসকে তুলে নিয়ে তিনি পরিবর্ত হিসাবে আর্মান্দো সাদিকুকে নামান। এতে বাগানেরর আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরিবর্তনের সাথে সাথে ফল মেলে, খেলায় প্রবলভাবে ফিরে আসে সবুজ ব্রিগেড। ক্রমশ দানা বাঁধতে তাঁদের আক্রমণ। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় বাগান। সন্দেশ জিঙ্ঘনের বক্সের বাইরে মিস পাস করে বসেন, বল পেয়ে যান পরিবর্ত খেলোয়াড় সাদিকু। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে বল জড়িয়ে দেন।গোল খেয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়াতে থাকে গোয়া। গোলের সুযোগও তৈরি হলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় গোয়া। ২-১ এগিয়ে থাকায় এগিয়ে যাওয়ায় ফেরান্দো কিছুটা রক্ষণাত্মক স্টেটেজিতে চলে যান। তিনি ব্রেন্ডন হামিলকে পরিবর্ত হিসাবে নামিয়ে রক্ষণভাগকে আরও আঁটসাঁটও করে দেন। গোয়া যেমন মরিয়া হয়ে গোল শোধ করে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছিল, বাগান তখন চিনের প্রাচীরের মত বজ্র আঁটুনি দিয়ে প্রতিহত করছিলো গোয়ার আক্রমণ। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের আশা, দীর্ঘদিনের ট্রফির ক্ষরা, গ্রুপ পর্বে জয়লাভ সব কিছু মাথায় রেখেও ইতিহাস কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ নিচ্ছে না। এর আগে কোলকাতার এই দুই প্রধান একই গ্রুপে খুব কমবারই ছিল। ১৯৯৩ এ দার্জিলিং গোল্ড কাপে একই গ্রুপে ছিল ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। গ্রুপের খেলায় ইস্টবেঙ্গল ২-১ পরাজিত করে বাগানকে। ফাইনালে বদলা নেয় মোহনবাগান। ট্রাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে নেয় ট্রফি ঘরে তোলে মোহনবাগান। ২০২৩ সালেও তাঁরা একই গ্রুপে! ১৯৩৩-র পুনরাবৃত্তি? না নতুন করে ইতিহাস রচনা? তাকিয়ে আছে খেলাপাগোল বাঙ্গালী।

আগস্ট ৩১, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগান, জিতেও রক্ষণ নিয়ে চিন্তা থেকেই গেলো বাগানের

ডুরান্ড সেমিফাইনালে মোহনবাগান। মুম্বাই সিটি এফসি কে হারিয়ে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। সেমিফাইনালে তাঁরা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন জেসন কামিন্স, মনবীর সিংহ ও আনোয়ার আলি। আগস্টের ৩১ শে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচে খেলবে মোহনবাগান। মুম্বাই সিটি এফসি হয়ে একমাত্র গোলটি করেন হর্হে দিয়াস।মুম্বাই সিটি এফসি প্রতি আক্রমনে বার বার ঝড় তুলে মোহনবাগানের রক্ষণ নিয়ে জোর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা গেলেও, বাগানের রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গেলো। আনোয়ার আলি দলের শেষ গোলটি করলেও তাঁর ভুলে একটি গোল মোহনবাগান খেয়ে যেতেও পারত।Anwar Air Ali 💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/epm7B6BrI3 Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 27, 2023মুম্বাই এফসি বরাবরই মোহনবাগানের কাছে একটা বড় গাঁট। সে জাতীয় লিগ হোক কি আইএসএল বা ডুরান্ড। রবিবার ডুরান্ড কোঃ ফাইনালে যুবভারতী স্টেডিয়ামে খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। খেলার সাত মিনিটের মাথাতেই পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। পেনাল্টি বক্সের ভিতরে কামিন্স মুম্বাই এফসি গোলকিপারকে টপকে গোলে বল ঠেলার মুহুর্তে মুম্বই এফসি গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা তাঁকে অবৈধ ভাবে বাধা দেন। সামনেই ছিলেন রেফারি, কোন বিলম্ব না করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে মোহনবাগানের হয়ে তাঁর তৃতীয় গোলটি করেন অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রাইকার কামিন্স।এগিয়ে যাওয়ার সেলিব্রেশন রেশ কাটতে না কাটতেই ২৮ মিনিটের মাথায় খেলায় সমতা ফেরাই মুম্বই। রক্ষণের ভুলে গোল খেয়ে বসে মোহনবাগান। বক্সের বাঁ দিকে নিজেদের ওয়ান টু ওয়ান পাস খেলে গ্রেগ স্টুয়ার্ট এবং অ্যালবার্ট নগুয়েরা, সেখান থেকে বল ধরে নগুয়েরা বক্সের মাঝামাঝি বল ভাসান। বাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথের বল ধরতে ঝাঁপালে তাঁর হাতে লেগে বল যায় মুম্বাই এফসি-র দিয়াসের কাছে। তিনি চেস্ট ট্রাপ করে বল জালে জড়িয়ে দেন। ফলাফল ১-১ হয়ে যায়।INTO THE SEMIS! 🔥💚️#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন pic.twitter.com/fMkhHX1wWX Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) August 27, 2023মুম্বাই এফসি ১-১ ফলাফল বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। আবার এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কর্নার থেকে ভাসানো বল মুম্বইয় এসসি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিপন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে বল চলে যায় বাগানের হুগো বুমোসের কাছে। তিনি সে বলে ধরে বক্সে ওপর ভাসিয়ে দেন অরক্ষিত অবস্থায় থাকা মনবীরকে। হেডে বল জালে পাঠাতে কোন ভুল করেননি হুগো। এগিয়ে গিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধের শেষের দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যার্থ হয় তাঁরা।দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দুই দলই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায়। মুম্বই এফসি খেলোরাররা মরিয়া হয়ে ওঠে গোল পরিশোধ করার জন্য। কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করে খেলায় সমতা ফেরাতে ব্যার্থ হয় তাঁরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে গোল করে আবার এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এবার গোলদাতা আনোয়ার। মুম্বইয়ের ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দিয়ে ডানদিকের দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন কেরলের ফুটবলার আশিক। বল গোললাইন পেরনোর আগেই ব্যাকপাস বাড়ান একেবারে অরক্ষিত যায়গায় থাকা আনোয়ারকে। নিখুঁত হেডে গোলকিপারকে কোনও সুযোগ না দিয়ে বল জালে পাঠাতে কোনও ভুল করেননি। আনোয়ার গোলটি করলেও এই গোলের ক্ষেত্রে পুর্ণ কৃতিত্ব আশিকের, তাঁর পাঠানো পাশে একেবারে ঠিকানা লেখা ছিলো বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মত।মুম্বাই এফসি গোলের ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা করলেও মোহনবাগানের গোলমুখ খুলতে তাঁরা সমর্থ হয়নি। তাঁদের মরিয়া প্রচেষ্টায় অনেক সময় মুম্বাইয়ের রক্ষণভাগ অরক্ষিত হয়ে উঠছিলো। মোহনবাগান প্রতি-আক্রমণে সাদিকু এবং মনবীর সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

আগস্ট ২৭, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

খেললেন, খেলালেন, গোল করলেন। শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঠে উজার করে দিলেন মেসি

তিনি ফুটবলের রাজকুমার নন, রাজাও নন। তিনি ফুটবলের শিল্পী। পায়ের বলটাকে তুলি ভেবে সবুজ গালিচা তে আপন মনে ছবি আঁকেন। সেই শিল্পী কাতার ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টিতে গোল দিয়ে কোনঠাসা করে দিলেন বিপক্ষকে। আর্জেন্টিনা ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করায় পৌঁছে গেলো বিশ্বকাপের ফাইনালে।এই লাতিন আমেরিকান ফুটবলের দেশটি শেষ তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দুবার ফাইনালে উঠলো। এটি নিয়ে তাঁরা মোট ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিদ্বন্দিতা করবে। আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ তে চাম্পিয়ান এবং ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে রানার-আপ হয়।লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যচের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ গতিতে আক্রমণ শানিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। তাঁদের আক্রমণের ঝাঁজে বেসামাল হয়ে পরে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ। ২২ বছর বয়সী জুলিয়ান আলভারেজ দুটি গোল করেন এবং ৩৪ মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন।পেনাল্টি থেকে গোল করার সাথে সাথে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ১১, যারফলে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে পেছনে ফেলে একজন আর্জেন্টিয়ান হিসাবে তালিকায় একেবারে প্রথম স্থানে নিয়ে যায়। এই ম্যাচটি মেসির ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ছুঁয়ে ফেলেন।আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা উদ্বেগে রেখেছিলো মেসির বাম হ্যামস্ট্রিং-এ চোট, খেলার বিভিন্ন সময়ে ছোট খাটো আঘাত লাগলেও সেরকম কিছু অঘটন ঘটেনি। চোট আঘাতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও তার খেলায় এর কোনও প্রভাব বুঝতে দেননি বিশ্ব ফুটবলের এই শিল্পী। খেলার প্রথম আধঘণ্টা সমানে সমানে টক্কর দেয় ক্রোয়েশিয়া। বেশ কয়েকটি গোলের সুজোগ-ও তাঁরা করে ফেলে। শেষ ১৫ মিনিটে খেলার ছবিটাই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণে নাজেহাল করে তোলে ক্রয়েশিয়াকে। বিশ্বকাপ ছবার সেমিফাইনাল খেলে ছবারই জয়লাভ করে তাঁরা।এখনও পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপে যতগুলো ম্যাচ খেলেছেন এল এন-১০ সব প্রতিপক্ষ-ই তাঁকে জোনাল মার্কিংয়ে রেখেছিল, বাদ যাইনি ক্রোয়েশিয়াও। মেসি পায়ে বল এলেই পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পরছিল তিন থেকে চার জন ফুটবলার। এসব করেও মেসিকে বেশিক্ষণ বন্দি রাখতে পারলেন না ক্রোট রা। বার বার বামদিক ডানদিক করে দিশেহারা করে দিলেন প্রতিপক্ষকে। ম্যচ যত এগোল মেসি সারা মাঠে তার বাম পা টিকে তুলির মত ব্যবহার করে রংবাহারি করে দিলেন সবুজ গালিচা। তিনি রক্ষণ ভাগ চিরে পাস দিয়ে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেন। সতীর্থকে দিয়ে গোল করলেন। নিজে গোল করালেন। শেষ বাঁশি না বাজা অবধি নিজেকে নিঁগড়ে দিলেন। তাঁর শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যেনো সব কিছু বাজি রাখতে তৈরি তিনি।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণে কখন, কোন সময়ে কোয়ার্টার ফাইনালে কোন দল খেলবে, দেখে নিন একনজরে

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আগামী কাল, শুক্রবার( ৯ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টা) থেকে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। এই পর্বে মোট ৮টি দল অংশ নেবে। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে অংশ নেবে ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া। এশিয়া থেকে কোনও দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। যদিও নকআউটে খেলেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র আফ্রিকান দল টিকে রয়েছে, মরোক্কো। পাঁচটি দল ইউরোপের, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড। লাতিন আমেরিকার দুই বড় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্তিনা তো রয়েছে। কোন দিন, কোন সময়ে, কে কার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ খেলবে তার সূচি নিম্নে দেওয়া হল।এক নজরে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচঃ(ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম)প্রথম ম্যাচঃব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া, ৯ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টাদ্বিতীয় ম্যাচঃনেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্তিনা, ১০ ডিসেম্বর, রাত ১২.৩০টাতৃতীয় ম্যাচঃমরক্কো বনাম পর্তুগাল, ১০ ডিসেম্বর, রাত ৮.৩০টাচতুর্থ ম্যাচঃইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্স, ১১ ডিসেম্বর, রাত ১২.৩০টাএবারের বিশ্বকাপে একাধিক তথাকথিত বড় দল অপেক্ষাকৃত সাধারণ দলের কাছে হেরে গিয়েছে। বিদায় নিয়েছে স্পেনের মতো হেভিওয়েট দল। তবে এখনও মেসি, এমবাপে, ক্রিশ্চানো রোনাল্ডোর মতো তারকারা রয়েছে। ফুটবল বোদ্ধাদের নজরে এখন আর কোনও অঘটন ঘটে কিনা সেদিকে। আফ্রিকার একমাত্র দল মরোক্কো আর কোনও বড় দলকে বেগ দেয় কিনা সেটাও দেখার।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে?‌ জটিল অঙ্কের সামনে এটিকে মোহনবাগান

কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আদৌও পূরণ হবে কিনা, এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে উঠে গিয়েছিল প্রশ্ন। ইমামি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে না জিতলে কার্যত ডুরান্ড থেকে বিদায় হয়ে যেত সবুজমেরুণ শিবিরের। ডার্বি জয় কিছুটা হলেও অক্সিজেন দিয়ে গেছে জুয়ান ফেরান্দোর দলকে। ডার্বি জিতলেও এখন শেষ আটে যাওয়া চূড়ান্ত নয় এটিকে মোহনবাগানের। সামনে রয়েছে নানা জটিল অঙ্ক।এই মুহূর্তে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ বির লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। সোমবার রাজস্থান ইউনাইটেডকে ৫১ ব্যবধানে উড়িয়ে গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে মুম্বই সিটি এফসি। ৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭। গ্রুপে তিনটি দলের সামনে এখনও ৭ পয়েন্টে পৌঁছনো সম্ভব। এই তিনটি দল হল এটিকে মোহনবাগান, রাজস্থান ইউনাইটেড ও ইন্ডিয়ান নেভির। তিন দলেরই পয়েন্ট এই মুহূর্তে ৪ করে। গোল পার্থক্যে অবশ্য বাকি দুই দলের থেকে এগিয়ে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। গ্রুপের অন্য দল ইমামি ইস্টবেঙ্গলের ৩ ম্যাচে পয়েন্ট ২। তারা রয়েছে পঞ্চম স্থানে। চারটি দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি। বুধবার এটিকে মোহনবাগান খেলবে ভারতীয় নৌ সেনা দলের বিরুদ্ধে। মুম্বই সিটি এফসির খেলা বাকি ইমামি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। অন্যদিকে রাজস্থান ইউনাইটেড শেষ ম্যাচে খেলবে ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে। এটিকে মোহনবাগান যদি বুধবার ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে জেতে, তাহলে ৭ পয়েন্টে শেষ করবে। রাজস্থান ইউনাইটেড যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতীয় নৌ সেনাকে হারায়, তাহলে তারাও ৭ পয়েন্টে শেষ করবে। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে তখন ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল দেখা হবে। রাজস্থান ইউনাইটেডের কাছে হেরেছিল জুয়ান ফেরান্দোর দল। ফলে বুধবার ভারতীয় নৌ সেনার বিরুদ্ধে জিতলেই হবে না, রাজস্থান ইউনাইটেডভারতীয় নৌ সেনা দলের ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে এটিকে মোহনবাগানকে। বুধবার ভারতীয় নৌ বাহিনীর সঙ্গে ড্র করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ভারতীয় নৌ বাহিনীর কাছে হারতে হবে রাজস্থান ইউনাইটেডকে। এটিকে মোহবাগান ও ভারতীয় নৌ বাহিনীর পয়েন্ট সমান সমান হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য দেখা হবে। আর ভারতীয় নৌ বাহিনীর কাছে হারলে শেষ আটের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে।

আগস্ট ৩০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

আবৃত্তি শিল্পী সংস্থা'-র আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র আবৃত্তি প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে ব্যাপক সাড়া

২৮ শে জুন মঙ্গলবার রবীন্দ্রসদনে আবৃত্তি শিল্পী সংস্থা আয়োজিত আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র আবৃত্তি প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হল। আবৃত্তি নিয়েই আবৃত্তিশিল্পী সংস্থার পথ চলা চুরু ২০১৫ সালে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিশাল ভাবনা চিন্তার চাষ শুরু হয়েছিল বহু আগে থেকেই আগে। সারা বিশ্ব যখন আতিমারির কবলে আটকে পড়েছিল সেই সময় আবৃত্তিশিল্পী সংস্থা অনলাইনের মাধ্যমে শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। ভারত তথা বিশ্বের বহুপ্রান্তীয় সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। সংখ্যাটা ছিল ৪১৬৪ জন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও বহু প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ের শেষে গত ২৮ জুন চূড়ান্ত পর্বে ছিলেন তিনটে বিভাগে মোট ১৯ জন প্রতিযোগী।এদিন চূড়ান্ত পর্বের বিচারকের আসন অলংকৃত করেছিলেন স্বনামধন্য বাচিক শিল্পী প্রণতি ঠাকুর, রত্না মিত্র, সুকুমার ঘোষ। উদ্বোধন করা হয় গাছে জল সিঞ্চন এবং কবিগুরুর বিভিন্ন কথার মালা গাঁথা হয় গাছটিতে। উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী সংস্থার সভাপতি সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, সহ সভাপতি মধুমিতা বসু, কর্ণধার জয়ন্ত ঘোষ এবং বিচারকরা। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই মেন্টরদের সংবর্ধনা দেওয়া হয। এছাড়াও যে সমস্ত প্রতিযোগী সেমিফাইনালে উঠেছিলেন তাঁদেরকেও সংবর্ধিত করা হয়। কবি দিধিতি চক্রবর্তী এবং কবি মনীষা যুগ্ম সম্পাদনায় আবৃত্তি শিল্পী সংস্থার নিজস্ব পত্রিকা কন্ঠকথার তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগ ছিল ক-খ-গ, ক বিভাগে প্রথম হয় তৃষিত চক্রবর্তী (চিত্তরঞ্জন), দ্বিতীয়- পরিযায়ী চ্যাটার্জী (পুরুলিয়া), তৃতীয় - প্রমীতি পন্ডা ( পাটুলী)। খ বিভাগে প্রথম হয় সৃজা রায় ( পুরুলিয়া), দ্বিতীয় - শ্রীপর্ণা সিং (মুর্শিদাবাদ), এবং তৃতীয় -সোমশ্রী দেব ( হুগলি)। গ বিভাগ প্রথম- রীতি সেন(দক্ষিণ দিনাজপুর), দ্বিতীয়- স্বাগতা মির্জা (মুর্শিদাবাদ), তৃতীয়- সুশ্বেতা চক্রবর্তী ( উত্তর ২৪ পরগণা)। অনুষ্ঠানের শেষে সমস্ত প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।এইদিন সংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা ছিল শতাধিক শিল্পীর কন্ঠে হে মোর চিত্ত পূণ্যতীর্থ কবিতাটি। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন থেকে শুরু করে অফলাইনে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং তার গ্রান্ড ফিনালে - এই ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে জয়ন্ত ঘোষের তত্বাবধানে।

জুন ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সেমিফাইনালেই স্বপ্ন শেষ, আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হল বাংলাকে

কোয়ার্টার ফাইনালে ঝাড়খণ্ডের বাধা টপকানোর পর ফাইনালের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলা। ব্যাটারদের দুরন্ত ফর্মই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল বাংলা শিবিরকে। ভেবেছিল মধ্যপ্রদেশের বাধাও অনায়াসে টপকে যাবে। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হল বাংলাকে। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৪ সালে। আলুরে সেমিফাইনালেই শেষ হয়ে গেল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দলের রনজি অভিযান। বাংলাকে ১৭৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল মধ্যপ্রদেশ। তাদের সামনে এবার মুম্বই। জয়ের জন্য ৩৫০ রানের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। চতুর্থ দিনের শেষে বাংলার রান ছিল ৪ উইকেটে ৯৬। পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের শেষ দিনের খেলায় ব্যাঘাত ঘটায় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে মাঠ ভিজে থাকায় খেলা শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের অনেকটাই দেরিতে। দিনের দ্বিতীয় বলেই অনুষ্টুপ মজুমদারের উইকেট তুলে নেন গৌরব যাদব। অনুষ্টুপ মজুমদার ২৬ বলে ৮ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপর শাহবাজ আমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। যদিও দুজনে মিলে জুটিতে ৩৮ রানের বেশি তুলতে পারেননি।চুয়ান্নতম ওভারের প্রথম বলেই অভিমন্যুকে তুলে নেন কুমার কার্তিকেয়। ১৫৭ বলে ৭৮ রান করে বোল্ড হন বাংলার অধিনায়ক। এদিন প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫ হাজার রানের গণ্ডি টপকে গেলেন অভিমন্যু। খেললেন ৭২ ম্যাচ। অভিমন্যু যখন আউট হন বাংলার রান তখন ৬ উইকেটে ১৩৫। ২ ওভার পরেই সায়নশেখর মণ্ডল আউট হন। ৬ বলে মাত্র ১ রান করে তিনি সারাংশ জৈনের বলে এলবিডব্লু হন। ৫৯.২ ওভারে বাংলার অষ্টম উইকেট পড়ে। ১৩ বলে ৫ রান করে আউট হন প্রদীপ্ত প্রামানিক। তিনি কার্তিকেয়র পঞ্চম শিকার। ৬৩.৪ ওভারে আকাশ দীপ (১১ বলে ২০) আউট হন গৌরব যাদবের বলে। বাংলার রান তখন ১৭১। ১ ওভার পরেই মুকেশ কুমারকে (৪ বলে ৪) তুলে নিয়ে বাংলার ইনিংস শেষ করে দেন গৌরব যাদব। ১৭৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার ইনিংস। ৮২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন শাহবাজ আমেদ। ৬৭ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন কুমার কার্তিকেয়া। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট। গৌরব যাদব ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। সারাংশ জৈন নেন ২ উইকেট। ম্যাচের সেরা হয়েছেন হিমাংশু মন্ত্রী।

জুন ১৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ! ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন মমতা, তীব্র চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনকে

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর দুইটায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেখানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মীরা।এই কর্মসূচির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন যে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতেই তিনি পথে নেমেছেন। জানা গিয়েছে, এই ধরনা কর্মসূচিতে তাঁর পাশে থাকবেন সেই সব মানুষ যাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভোটারও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।বঙ্গের এই সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রক্রিয়ার শুনানির শেষ পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগী ভোটারদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান। সেখানে তিনি অভিযোগ জানান এবং সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলেন। তবুও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়নি বলে দাবি তৃণমূলের।তৃণমূল সূত্রের দাবি, বর্তমানে প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে তেষট্টি লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও প্রায় ষাট লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনীতিতে বহুবার দেখা গিয়েছে, যখনই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনও সংকট তৈরি হয়েছে, তখনই তিনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন।ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রায় কুড়ি বছর আগে ধর্মতলার অনশন মঞ্চ থেকেই বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। সেই একই জায়গায় আবারও ধরনায় বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ করা এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি রুখে দেওয়া। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে সেই নির্বাচনের কোনও অর্থ থাকে না। তাঁর অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার পরেও দিল্লির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সব জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবুও বহু মানুষের নাম এখনও তালিকায় নেই। সেই কারণেই বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে তিনি শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসছেন। পাশাপাশি তিনি সকলকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এটি শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি বাংলার সম্মানের প্রশ্ন।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

আকাশ ছুঁয়ে ধেয়ে এল মৃত্যু! যে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রে খামেনির শেষ, সেই প্রযুক্তিই আনছে ভারত

অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন একটি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ব্লু স্প্যারো। এটি একটি বিশেষ ধরনের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। একই ধরনের প্রযুক্তি এখন ভারতও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর জন্য পরীক্ষা ও সংযোজন করছে বলে খবর।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সময় প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে গিয়ে আঘাত হানে সেটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ এবং আক্রমণের ধরন এতটাই জটিল যে সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব।ব্লু স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক সময় মহাকাশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়। কারণ এটি প্রথমে একটি বুস্টার রকেটের সাহায্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় প্রান্তসীমা পর্যন্ত উঠে যায়। তারপর সেখান থেকে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে আবার নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে এটিকে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।এই ক্ষেপণাস্ত্রে জিপিএস ও ইনর্শিয়াল নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এমনকি একটি ভবনের নির্দিষ্ট ঘরকেও লক্ষ্য করে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল এই স্প্যারো পরিবারের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে পরীক্ষা চালানোর জন্য। পরে সেই প্রযুক্তিকেই আরও উন্নত করে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই ভারত নিজেদের বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে রকস ও গোল্ডেন হরাইজন নামে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।রকস ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ব্লু স্প্যারো প্রযুক্তির একটি উন্নত সংস্করণ। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। জিপিএস না থাকলেও এটি নিজস্ব সেন্সর ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।এ ছাড়াও গোল্ডেন হরাইজন নামে একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত না পেরিয়েও শত্রু দেশের অনেক গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।ভারত ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৫ সালে অপারেশন সিন্দুর চলাকালীনও ইসরায়েলি প্রযুক্তির বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কথা সামনে আসে।সেই সময় নির্ভুল লক্ষ্যভেদের জন্য স্পাইস কিট ব্যবহার করা হয়। এগুলির সাহায্যে সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্রে পরিণত করা যায়। এছাড়া হারপি ও হারপ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয় বলে জানা যায়।ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ব্যবস্থাটি আকাশপথে আসা শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি করতে সাহায্য করে।এ ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোন এবং র্যাম্পেজ ক্ষেপণাস্ত্রও বিভিন্ন গভীর আঘাত হানার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা আরও অনেক গুণ বাড়বে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরায়েলের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

ব্রিগেডের মঞ্চে বড় চমক দিতে চলেছেন মোদি! বাংলার জন্য কী ঘোষণা আসতে পারে? জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আগামী শনিবার বড় জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভা থেকেই বড় কোনও ঘোষণা করতে পারেন তিনি বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে দল।দলীয় সূত্রের দাবি, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই বাংলার মানুষের জন্য একটি বড় প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বার্তা দিতে পারেন যা সরাসরি বাংলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে সামনে আসবে। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটি শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, প্রশাসনিক ও উন্নয়নের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই এই ঘোষণাকে ঘিরে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যে নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের প্রচারে গতি আনতে একের পর এক বড় প্রতিশ্রুতি সামনে আনছে। সম্প্রতি এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয়, রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে, আট মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্য সরকারি পদ পূরণ করা হবে এবং যুবকদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই কারণেই ব্রিগেডের সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে যদি বড় কোনও অর্থনৈতিক বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়, তবে তা বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী ঘোষণা করতে চলেছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে ব্রিগেডের সভাকে ঘিরে জল্পনা এবং কৌতূহল দুটোই ক্রমশ বাড়ছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

তেল সংকটের আশঙ্কার মাঝেই বড় স্বস্তি! রাশিয়া থেকে তেল কিনতে ভারতের পথে আর বাধা নেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে তেল সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল আমেরিকা। এর ফলে আপাতত বড় স্বস্তি পেল নয়া দিল্লি।কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দেশে প্রায় পঁচিশ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেল সরবরাহে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে ভারতের প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। কিন্তু আগে রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার শর্তে ভারতের উপর শুল্ক কমিয়েছিল আমেরিকা। সেই কারণে ভারত আদৌ রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।অবশেষে সেই জট কাটল। আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড়পত্র দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই অনুমতি ত্রিশ দিনের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মার্চ থেকে এই সময়সীমা কার্যকর হয়েছে এবং তিন এপ্রিল পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে।আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেনেট সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার জ্বালানি কর্মসূচির ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ত্রিশ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তিনি ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকার কাছ থেকেও তেল কেনা বাড়াবে বলে তারা আশা করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। তবে রাশিয়া ও চিনের তেলবাহী জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।খবরে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় রাশিয়ার প্রায় পঁচানব্বই লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। রাশিয়া আগেই জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ভারত এই তেল ব্যবহার করতে পারে।এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই আলোচনার পর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, এই সংকটের প্রভাব ভারতে খুব বেশি পড়বে না।তারই মধ্যে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে আপাতত তেল সরবরাহ নিয়ে বড় স্বস্তি পেল ভারত। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কত দিন চলবে এবং বিশ্ব বাজারে তেলের দামে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

বড় সিদ্ধান্ত কর্নাটকের! ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য বন্ধ সমাজমাধ্যম, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও সমাজমাধ্যমের প্রভাব ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কর্নাটক সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করেছেন, ষোলো বছরের নিচে কোনও শিশু সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। রাজ্যের বাজেট পেশ করার সময় বিধানসভায় এই ঘোষণা করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ও সমাজমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে পড়াশোনা, আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়ছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, শিশুদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্নাটক দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এর আগে আন্ধ্রপ্রদেশ এবং গোয়া সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছিল। তবে সবচেয়ে আগে কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল কর্নাটক সরকার।রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই রাজ্যেই শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার প্রস্তাব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। গত মাসে সরকার স্কুল ও কলেজে ষোলো বছরের নিচে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার বিষয়েও ভাবনা শুরু করেছিল।মুখ্যমন্ত্রী এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা সমাজমাধ্যম আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, অনেক পড়ুয়া এই কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে এবং মানসিক সমস্যার মুখেও পড়ছে।সরকারের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইলের পর্দায় সময় কাটালে পড়াশোনার ফল খারাপ হতে পারে। আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। পাশাপাশি অজানা ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কাও থাকে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাদক চক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে প্রশাসনের দাবি।বিশ্বের বিভিন্ন দেশও শিশুদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে শুরু করেছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারও ষোলো বছরের নিচে কিশোরদের জন্য একাধিক সমাজমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।কর্নাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সবার।মেটা বিবরণ: শিশুদের মোবাইল ও সমাজমাধ্যম আসক্তি ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত কর্নাটক সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করলেন, ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মার্চ ০৬, ২০২৬
বিদেশ

জেন জ়ির সমর্থনেই কি ইতিহাস? গণনায় এগিয়ে বলেন্দ্র, বড় ধাক্কা খেতে চলেছেন ওলি

নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে ভোট গণনা। আর গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় বড় চমক দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-কে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলেন্দ্র। সেই জনপ্রিয়তাই এখন ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।ঝাপা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, চুয়াত্তর বছর বয়সি ওলিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বলেন্দ্র। যদি এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।বলেন্দ্র শাহের পরিচয় প্রথমে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কাঠামোগত প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়-এ গবেষণা করছেন। কিছুদিন তিনি টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি-তে যোগ দেন রবি লামিছানে-র নেতৃত্বে। দুই হাজার বাইশ সালে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন।নেপালের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বলেন্দ্র শাহ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেখানে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সেই আন্দোলনের জেরে নেপালের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত হন কে পি শর্মা ওলি। আন্দোলনের সময় একাংশ বিক্ষোভকারী বলেন্দ্র শাহকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী।সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন বলেন্দ্র শাহ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এবার নির্বাচনের ফলাফল যদি তাঁর পক্ষে যায়, তাহলে তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও তুলে ধরতে পারে তাঁর দল।তবে বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি অতীতে একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ভারতের কিছু অঞ্চলকে নেপালের অংশ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। দুই হাজার তেইশ সালের জুন মাসে নিজের কার্যালয়ে নেপালের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন বলেন্দ্র। সেই মানচিত্রে ভারতের কয়েকটি অঞ্চলকে বৃহত্তর নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপালের পরিস্থিতির উপর তারা নজর রাখছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালে শান্তি, অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতাকে ভারত সবসময় সমর্থন করে। নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্য ভারত কাজ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের জন্য মোট দুইশো পঁচাত্তর জন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে একশো পঁয়ষট্টি জন সরাসরি ভোটে এবং একশো দশ জন অনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে রাজ্যপাল পদ ছাড়লেন সিভি আনন্দ বোস! বাংলায় আসছেন বিতর্কিত আর এন রবি?

ভোটের আগে হঠাৎই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সি ভি আনন্দ বোস (Bengal Governor)। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বড় দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পোস্টেই উঠে এসেছে বাংলার সম্ভাব্য নতুন রাজ্যপালের নাম (Bengal Governor)।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে আর এন রবি-কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে (Bengal Governor)। তবে এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আগে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।কে এই আর এন রবি, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাঁর পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তিনি উনিশশো ছিয়াত্তর সালের কেরল ক্যাডারের ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক। জন্ম বিহারের পাটনায়, ১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশসেবার লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেন।কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে। তিনি দীর্ঘদিন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-তে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়। পরে তিনি ভারত সরকারের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটি-র চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নাগা শান্তি আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল সমস্যার সমাধানে তিনি ভারত সরকারের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে দেশের উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদেও নিয়োগ করা হয়।পরবর্তীতে তিনি রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল ছিলেন। সেই সময় কিছুদিনের জন্য মেঘালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। এরপর ২০২১ সাল থেকে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে কাজ করছেন।তবে তামিলনাড়ুতে তাঁর সময়কাল বারবার বিতর্কের কেন্দ্রেও এসেছে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এক সময় তাঁকে কেন্দ্রের এজেন্ট বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। পরে রাজ্য সরকার তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও যায়। অভিযোগ ছিল, রাজ্যপাল দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক বিল আটকে রেখেছিলেন।এবার সেই বিতর্কিত রাজ্যপালের নামই ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। তাই আর এন রবি এলে সেই সংঘাত কি আবার নতুন করে শুরু হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।

মার্চ ০৬, ২০২৬
কলকাতা

হরমুজ প্রণালীর টানাপোড়েন, গ্যাস সরবরাহে চাপ! নতুন ডবল সিলিন্ডার আপাতত বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পড়তে শুরু করেছে। ইরান ও ইজরায়েল-এর সংঘাতের মধ্যে নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ কোনও গ্রাহক নতুন করে দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা দেওয়া হবে না।জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যাতে রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, আপাতত তাদের সেই একটি সিলিন্ডার নিয়েই চলতে হবে। গ্যাস ডিলারদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হলে রান্নার গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাকে এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে মনে করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় রান্নার গ্যাসের উৎস অনেক কম এবং মজুতও তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেশের মোট চাহিদার প্রায় আশি থেকে পঁচাশি শতাংশ রান্নার গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর বেশির ভাগই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ত্রিশ দিনের রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ যদি দেরিতে পৌঁছয়, তাহলে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে।এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক মানুষ আগেভাগে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। এতে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে অযথা বেশি সিলিন্ডার মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতেও। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরো ভরে নিচ্ছেন। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, এখনই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তেলের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে।ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়া জানিয়েছেন, এখনও তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে দামের কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর দাবি।মেটা বিবরণ: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি সরবরাহে। নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ তেল সংস্থার, সাধারণ মানুষকে অযথা মজুত না করার পরামর্শ।

মার্চ ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal